Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    আট কুঠুরি নয় দরজা – সমরেশ মজুমদার

    সমরেশ মজুমদার এক পাতা গল্প412 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. লোকটা মূর্খ

    সাত

    লোকটা মূর্খ। এবং অতিবড় মূর্খ না হলে কেউ ওই বাংলোয় যায় না, গিয়ে টেলিফোন ধরে না। ভার্গিস বিড়বিড় করলেন। এখন মধ্যরাত। বিছানায় শুয়ে খবরটা পাওয়ামাত্র সোমের মুখটাকে মনে করলেন তিনি। লোকটার আর বাঁচার পথ খোলা রইল না। কিন্তু তিনি চাননি ও এত চটজলদি ধরা পড়ুক। অনেকসময় বোকারাও ফস্‌ করে ঠিকঠাক কাজ করে ফেলে। চিতাটাকে যদি সোম ধরতে পারত—! কিন্তু আর দেরি করা উচিত হবে না। খবরটা বোর্ডের কাছে পৌঁছাবেই। ভার্গিস তাঁর দ্বিতীয় সহকারী কমিশনারকে ফোন করলেন, ‘ঠিক এই মুহূর্তে তুমি কি করছ?’

    সহকারী কমিশনার সন্ত্রস্ত হয়ে ঘুমন্ত স্ত্রীর দিকে তাকাল, ‘ইয়ে, কিছু না স্যার।’

    ‘গুড। বাবু বসন্তলালের বাংলোটার কথা মনে আছে? ম্যাডাম যেখানে বিশ্রাম নিতে যান!’

    ‘হ্যাঁ স্যার।’

    ‘সেখানে সোম গিয়েছে। ভোরের আগেই ওকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে এসো।’ লাইন কেটে দিলেন ভার্গিস। একটা ব্যাপার তাঁকে বেশ স্বস্তি দিচ্ছিল। তাঁর গোয়েন্দাবিভাগ যে যথেষ্ট সক্রিয় তা আর একবার প্রমাণিত হল। নানা জায়গায় ঢুঁ মারতে মারতে ওরা ওই বাংলোয় ফোন করেছিল। একটা গলা পায় অথচ গলাটা অশিক্ষিত কেয়ারটেকারের নয়। ওদের সন্দেহ হয়। কিছুক্ষণ পরে তারা অপারেটারকে ফোন করে জানতে পারে সোম ওখানে আছে। এই মূর্খ তাঁকে সরিয়ে সি পি হতে চেয়েছিল। নিজের পরিচয় কেউ অপারেটারকে দেয়!

    ভার্গিসের খুব ইচ্ছে হচ্ছিল সোমকে যে ধরা যাচ্ছে তা মিনিস্টারকে ফোন করে জানিয়ে দিতে। কিন্তু এত রাত্রে সেটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। তাঁর ঘুম আসছিল না। কালকের দিনটা হাতে আছে। উপায় না থাকলে তিনি সমস্ত শহরটাতে চিরুনি তল্লাশি করতেন। ভার্গিস বিছানা থেকে নেমে ওভারকোট পরে নিলেন। সার্ভিস রিভলভারটাকে একবার পরীক্ষা করে ইন্টারকমে হুকুম করলেন জিপ তৈরি রাখার জন্যে। তারপর জানলায় গিয়ে দাঁড়ালেন। ঘুমন্ত শহরের অনেকটাই এখান থেকে দেখা যাচ্ছে। অদ্ভুত শান্ত হয়ে আছে শহরটা। আসলে এটা ভান। কয়েকবছরে অজস্র গুলি চলেছে, বদমাসগুলোকে তিনি যেমন মেরেছেন তাঁর বাহিনীর লোকও কিছু মরেছে। এবার বেশ কিছুদিন ওরা চুপচাপ। ওই আকাশলাল আর তার তিন সঙ্গীকে ফাঁসিতে লটকালেই চিরকালের জন্যে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে ওদের লড়াইয়ের চেষ্টা। অথচ এই ছোট্ট কাজটাই করা যাচ্ছে না।

    ভার্গিস চুরুট ধরালেন। ওরা শাসনব্যবস্থা পাল্টাতে চায়। বোর্ড এবং তাঁদের নিয়োগ করা মন্ত্রিপরিষদের ওপর ওদের আস্থা নেই। স্বৈরাচারী শাসক বলে মনে করে জনগণবিপ্লবের ডাক দিয়েছে ওরা। ভার্গিসকে এসব করতে হচ্ছে যেহেতু তিনি নিজেকে একজন বিশ্বস্ত সৈনিক বলে মনে করেন। মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন আসে, কার প্রতি তিনি বিশ্বস্ত? যারা ক্ষমতায় আছে না এই দেশের প্রতি! উত্তরটা বড় গোলমেলে।

    ভার্গিস বেরিয়ে এলেন। ফিনফিনে জ্যোৎস্নায় তাঁর জিপ সেপাইদের স্যালুট অবজ্ঞা। করে পথে নামল। এই মুহূর্তে ড্রাইভার গন্তব্য জানার জন্যে অপেক্ষা করছে বুঝে তিনি আদেশ দিলেন, ধীরে ধীরে শহরের সব রাস্তায় পাক খাও। কোথাও দাঁড়াবে না আমি না বললে।’

    জিপের পেছনে তাঁর দুজন দেহরক্ষী অস্ত্র নিয়ে বসে। আর কাউকে সঙ্গে নেননি তিনি। মাঝরাতে এইরকম ঘুরে বেড়ানো পাগলামি হতে পারে কিন্তু তাঁর যে ঘুম আসছিল না। তাছাড়া কে বলতে পারে নির্জন রাজপথে ঘোরার সময় কোনও ক্লু তিনি পেয়েও যেতে পারেন।

    ভার্গিস দেখলেন ফুটপাথে বেশ কিছু মানুষ মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। উৎসবের জন্যে আগে ভাগে এসে পড়েছে এরা। পকেটে টাকা নেই যে হোটেলে থাকবে। এদের মধ্যে আকাশলাল যদি শুয়ে থাকে তাহলে তিনি ধরবেন কি করে! উৎসবটা আর হওয়ার সময় পেল না! তিনি বাঁ দিকের ফুটপাথ ঘেঁসে গাড়ি দাঁড় করাতে বললেন। জিপ দাঁড়াল। ভার্গিস দেহরক্ষীদের বললেন, ‘ওই আটজন ঘুমন্ত মানুষকে তুলে নিয়ে এসো এখানে।’

    দেহরক্ষীরা কঠোরভাবে আদেশ পালন করল। আচমকা ঘুম ভাঙা আটজন দেহাতি মানুষ কাঁপতে কাঁপতে জিপের পাশে এসে দাঁড়াল। এদের অনেকেই চাদর মুড়ি দিয়ে থাকায় ভার্গিস আদেশ করলেন সেগুলো খুলে ফেলতে। তারপর জোরালো টর্চের আলোয় একে একে মুখগুলো পরীক্ষা করলেন। আটনম্বর লোকটার নজর তাঁর ভাল লাগল না। টর্চের আলো ওর মুখ থেকে না সরিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোর নাম?’

    ‘হুজুর।’

    ‘নাম বল?’

    ‘ফাগুলাল।’ চিঁচিঁ করে জবাব দিল লোকটা।

    ‘কোথায় থাকিস?’

    ‘ওরেগাঁও।’

    ‘আকাশলাল তোর কে হয়?’

    ‘কৌন?’

    ‘আকাশলালের নাম শুনিসনি?’

    ‘না। আমাদের গ্রামে কেউ নেই।’

    ভার্গিস দেহরক্ষীকে হুকুম করল আকাশলালের ছবি দেখাতে। দেওয়ালে লটকানো পোস্টারটাকে দেহরক্ষী খুলে নিয়ে এসে লোকটার সামনে ধরল। ভার্গিস জিজ্ঞাসা করলেন, ‘চিনিস?’

    বোকার মত মাথা নাড়ল লোকটা, না।

    দেহরক্ষীদের উঠে আসতে ইশারা করে চালককে জিপ ছাড়ার নির্দেশ দিলেন তিনি। এই এক ঘটনা সব জায়গায় ঘটছে। কোনও শালা ওকে চেনে না। কথাটা যে মিথ্যে তা শিশুও বলে দেবে। কিন্তু মিথ্যেটা প্রমাণ করা যাচ্ছে না। জিপ চলছিল সাধারণ গতিতে এ পথ থেকে ও পথে। এত রাত্রে কোনও গাড়ি নজরে পড়ছিল না। পাহাড়ি শহরে সময় গাড়ি চলার কথাও নয়। ঘুরতে ঘুরতে তিনি চাঁদি হিলসের রাস্তায় চলে এলেন। এবং তখনই তাঁর নজরে পড়ল ফুটপাথে এক বৃদ্ধা চিৎকার করে কাঁদছে। বৃদ্ধার পাশে একটি শরীর শুয়ে আছে। হয়তো ওর কেউ মরে গেছে। এই ধরনের সাধারণ শোকের দৃশ্যে না যাওয়াই ভাল কিন্তু তাঁর কানে এল চিৎকারের মধ্যে পুলিশ শব্দটা বেশ কয়েকবার উচ্চারণ করল বৃদ্ধা। পুলিশকে গালিগালাজ করছে যেন। তিনি জিপ থামিয়ে নেমে পড়লেন। খানিকদূরে জনাচারেক মানুষ উবু হয়ে বসে শোক দেখছিল। পুলিশ দেখে তারা সরে পড়ার চেষ্টা করতেই ভার্গিস ধমকালেন, ‘কেউ যাবে না। দাঁড়াও!’

    লোকগুলো দাঁড়িয়ে গেল। একদম চোখের সামনে পুলিশ দেখে বৃদ্ধা হকচকিয়ে চুপ মেরে গেল। ভার্গিস তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে মরেছে?’

    ‘আমার ছেলে। একটাই ছেলেকে মেরে ফেলল।’ বৃদ্ধা ককিয়ে উঠল।

    ‘কে মেরেছে?’

    বৃদ্ধা জবাব না দিয়ে ফোঁপাতে লাগল।

    ‘কে মেরেছে বল তার শাস্তি হবে।’

    হাউহাউ করে কাঁদল বৃদ্ধা, ‘পুলিশ মেরেছে।’

    ‘পুলিশ!’ এটা আশা করেননি ভার্গিস। তাঁর কাছে তেমন কোনও রিপোর্টও নেই। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘পুলিশ তোমার ছেলেকে কেন মারল?’

    ‘ও টাকার লোভে পুলিশের কাছে গিয়েছিল। পুলিশ ওকে খুব পিটল। তবু ছেলে হাঁটতে হাঁটতে ফিরে এল। বললাম হাসপাতালে যেতে। গেল না। বলল, হাসপাতালে গেলে পুলিশ আবার মারবে। তারপর সন্ধেবেলায় শুয়ে শুয়ে হঠাৎ মুখ থেকে রক্ত তুলল। তুলতে তুলতে মরে গেল।’

    ‘কারা ওকে টাকার লোভ দেখিয়েছিল?’ ভার্গিস গন্ধ পেলেন।

    ‘জানি না হুজুর। বলেছিল পুলিশকে একটা খবর দিতে যেতে হবে।’

    ‘ওর মুখ থেকে চাদর সরাও।’

    বৃদ্ধা কাঁপা হাতে চাদরটা সরালে ভার্গিস টর্চের আলো ফেললেন। হ্যাঁ, এই লোক। এই লোকটাকে খুঁজে বের করতে বলেছিলেন তিনি সোমকে। সোম গিয়ে বসে আছে বাবু বসন্তলালের বাংলোয় আর এই লোকটা ফুটপাথে মরে পড়ে আছে। নিশ্চয়ই ধোলাইয়ের সময় পেটের কিছু জখম হয়েছিল! এই লোকটার কাছ থেকে কোনও খবর পাওয়া যাবে না। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ও মরে যাওয়ার পর কেউ দেখতে এসেছিল?’

    ‘হুজুর, পুলিশের হাতে মার খেয়ে মরেছে শুনলে কেউ কাছে আসে?’

    ‘আঃ। পুলিশের হাতে মরেছে বলছ কেন? ও তো দিব্যি হেঁটে ফিরে এসেছিল। ঠিক আছে। আমার লোক আসছে। ওর মৃতদেহ ভাল করে সৎকার করে দেবে।’ ভার্গিস জিপের দিকে ফিরে চললেন। দেহরক্ষীরা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর ব্যাপারে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ইশারায় তাদের ছেড়ে দিতে বললেন। তাঁর মনমেজাজ খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। একটা ভাল ক্লু হাতছাড়া হয়ে গেল। ওয়ারলেসে তিনি মৃতদেহ সরাবার হুকুম জানিয়ে দিলেন।

    ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে ছিল আকাশলাল। এই দুটো রাত তার পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক্তার বলেছেন কোনও রকমে টেনসনের মধ্যে থাকা ওর স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক হবে। কথাটা শুনে হেসেছিল সে। তারপর সহকর্মীদের অনুরোধে ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে ছিল।

    সন্ধের পরেই খবরটা এসেছিল। যে মানুষটিকে ডেভিড পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠিয়েছিল সে মারা গিয়েছে। লোকটা সাধারণ মানুষ, খুব গরিব, ফুটপাথে বাস করত। কিন্তু তাকে যখন বলা হয়েছিল এটা আকাশলালের কাজ তখন সে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়েছিল যেতে। যদিও এখন অনেকে বলছে সে টাকার লোভে অতবড় ঝুঁকি নিয়েছিল কিন্তু কথাটা যে সত্যি নয় তা মানুষের জানা উচিত। কিন্তু এই খবরটা আকাশলালকে জানাতে গিয়েও জানাতে পারেনি ডেভিড। মানুষটার টেনসন আরও বাড়বে। সে এবং হায়দার আলোচনা করেছিল এই অবস্থায় লোকটির দেহ কোন্ মর্যাদায় সৎকার করা সম্ভব। ঠিক হয়েছিল ভোর রাত্রে কয়েকজন কর্মী যাবে শববাহক হিসেবে। কারণ মধ্যরাত্রে রাজপথ নিরাপদ নয়। অথচ মাঝরাতের পর খবরটা এল। স্বয়ং পুলিশ কমিশনার লোকটির মৃতদেহ আবিষ্কার করেছেন এবং তাঁর নির্দেশে পুলিশ সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। ব্যাপারটা তাদের হতাশ করেছিল। মৃতদেহ দেখে সাধারণ মানুষ যাতে সরকারের ওপর আরও ক্রুদ্ধ না হতে পারে তার ব্যবস্থা করেছেন সি পি।

    ডেভিড সিগারেট ধরাল। এখন চব্বিশ ঘন্টায় চার ঘন্টা ঘুমানো অভ্যেস হয়ে গেছে। কয়েকবছর ধরে এই জীবন। সে, হায়দার আকাশলাল অথবা যারা মরে গেছে ইতিমধ্যে তাদের প্রত্যেকের জীবনে এই শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার দগদগে ঘায়ের মত রস ঝরিয়েছে। এর বদলা নেবার জন্যে তিলতিল করে তারা তৈরি হয়েও শেষপর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়ছে বারংবার। এইবার শেষবার। কিন্তু লোকটাকে রক্ষা করার দায়িত্ব তার নেওয়া উচিত ছিল। এখনও এই ঘর থেকে না বেরিয়েও শহরের যে-কোনও জায়গায় যা কিছু করার ক্ষমতা তাদের আছে। আকাশলাল নিশ্চয়ই তার কাছে কৈফিয়ত চাইবে। নিজের কাছেও তো সে কোনও কৈফিয়ত দিতে পারছে না।

    টেলিফোন বাজল। ডেভিড সময় দিল কিছুটা। এই রাত্রে কেউ চট করে রিসিভার তোলে না। টেলিফোনটা সাতবার আওয়াজ করার পর সে রিসিভার তুলল, ‘হ্যালো!’

    ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক। তিননম্বর চেকপোস্ট থেকে বলছি। এইমাত্র লাল মারুতি চেকপোস্ট পার হয়ে গেল।’ লোকটা দ্রুত বলে ফেলল।

    ‘এত রাত্রে। ঠিক আছে।’ রিসিভার নামিয়ে রাখল ডেভিড। সে ঘড়ির দিকে তাকাল। আর আধ ঘন্টার মধ্যে গাড়িটা শহরে ঢুকছে। লোকটার সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব হায়দারের। ডেভিড উঠল। পাশের ঘরে হায়দার লম্বা কৌচে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। আকাশলালের একটা লাইন মনে পড়ল, ‘ঘুম, তুমি আমার খুব প্রিয়, কিন্তু আমার হাতে সময় নেই তোমায় সঙ্গ দেবার।’ ডেভিড হায়দারকে তুলল। যতই ঘুমে আচ্ছন্ন থাকুক এক ডাকে উঠে পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়ে গেছে। ডেভিড তাকে টেলিফোনটার কথা বলল। হায়দার ঘড়ি দেখল। এখন রাত সাড়ে তিনটে। ভোর হতে বেশি দেরি নেই। তিন নম্বর চেকপোস্ট দিয়ে যখন আসছে তখন সহজেই ওদের খুঁজে নেওয়া যায়।

    হায়দার বলল, ‘লোকটাকে আমাদের দরকার। এত রাত্রে শহরে ঢুকলে পুলিশের হাতে পড়বে।’

    ডেভিড মাথা নাড়ল, ‘তা ঠিক, কিন্তু পুলিশ ওদের কি করবে?’

    ‘ওদের মানে?’

    ‘তোমার মনে নেই, ওর সঙ্গে একজন মহিলা আছে। যদি স্বামী স্ত্রী হয় তাহলে এক দিক দিয়ে ভালই। পুলিশ বিশ্বাস করবে ওরা নিরীহ আগন্তুক।’

    ‘তাছাড়া ওদের কাছে নিশ্চয়ই পরিচয়পত্র আছে। ওরা এই রাজ্যের নাগরিক নয়। অতএব কিছু করার আগে পুলিশ ভাববে কিন্তু আমি চাইছিলাম না ওরা একটুও নাজেহাল হোক। এইসব লোক বিগড়ে গেলে পরে কাজ করতে অসুবিধে হয়।’

    ‘কি করতে চাও? ওকে তো জানানো হয়েছে কোথায় ওর ঘর বুক করা হয়েছে। নিশ্চয়ই সেখানেই উঠবে এখন। আগামীকাল যোগাযোগ করলেই হয়।’

    ‘ঠিক তাই। কিন্তু তার আগে দেখা দরকার ও সেই ঘরে পৌঁছাচ্ছে কি না। আমি একটু ঘুরে আসছি।’ হায়দার দ্রুত সাজবদল করতে বসল। মিনিট তিনেকের মধ্যেই তার চেহারা একজন দেহাতি মানুষ যে শহরে উৎসব দেখতে এসেছে তেমন চেহারা নিয়ে নিল। ডেভিড আপত্তি করল না। এ ব্যাপারে তার নিজের ওপর আস্থা না থাকলেও হায়দারের ওপর ভালভাবে আছে।

    এই বাড়িটা অদ্ভুত। নীচে গোটা তিনেক ডিপার্টমেন্টাল শপ। তাদের পাশ দিয়ে ওপরে ওঠার যে সিঁড়ি তা দিয়ে দোতলায় পৌঁছানো যায়। সেখানে তিনজন বৃদ্ধ যাজক থাকেন। এঁরা তেমন নড়াচড়া করতে পারেন না। চাকরই সব কাজ করে দেয়। মাঝে মাঝে জানলায় যাজকদের দেখা যায়। দোতলায় পাঁচটি ঘর। প্রতিবেশীরা কৌতূহলী হয়ে প্রথম প্রথম এখানে এসেছিল। কিন্তু বৃদ্ধদের একঘেয়ে বিরক্তিকর কথাবার্তায় আয় এদিকে আসার কথা ভাবেনি। এই তিনজন বৃদ্ধ মানুষকে সামনে রেখে ডেভিডদের আপাত আশ্রয়। বাড়িটার পেছন দিকে একটা ঘোরানো সিঁড়ি দিয়েই যাতায়াত। ওদিকে কারও নজর পড়ার উপায় নেই। কারণ সেখানে একটা সিনেমা হলের বিশাল পাঁচিল রয়েছে। এই তিন বৃদ্ধ আকাশলালকে স্নেহ করেন, তার জন্যে প্রার্থনা জানান কিন্তু একই বাড়িতে থেকেও কখনও দেখা করেন না।

    হায়দার রাস্তায় নেমে দেখে নিল দুদিক। পুলিশের গাড়ির কোনও চিহ্ন নেই। মাইনে করা লোকেরা যতই টহল মারুক শেষরাত্রে হাই তুলবেই। সে দ্রুত পা চালাল। দলে তাকে এই হাঁটার ধরনের জন্যে খরগোস বলে ডাকে কেউ কেউ। শেষপর্যন্ত সে সেই রাস্তায় পৌঁছাল যেখানে মানুষজন ফুটপাথেই মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছে। এখন চারপাশে বেশ কুয়াশা। দূরে জিপের আলো দেখতে পেয়ে সে চট করে ফুটপাথে অন্যান্যদের পাশে শুয়ে পড়ল। জিপটা খুব ধীরে ধীরে আসছে। এত ধীরে যে দরজা খুলে ওঠা যায়। কুয়াশা থাকায় আরোহীদের দেখা যাচ্ছে না। যদিও অনুমান করতে কোনও অসুবিধে হবার কথা নয়। জিপটা বাঁদিকে বাঁক নিতেই উল্টো দিক থেকে আর একটা গাড়ির আলো দেখা গেল। জিপটা সরে এল মাঝ রাস্তায়।

    গাড়ির ব্যাপারস্যাপার স্বজনের চেয়ে সোম ভাল জানেন, প্রথম দিকে এমনটা মনে হয়েছিল। স্বজন গাড়ি চাল্লাচ্ছিল সাবধানে। পাশে সোম বসে, পেছনে পৃথা। গাড়িটা শব্দ করছে খুব কিন্তু অন্য কোনও ঝামেলা পাকাচ্ছে না। পেট্রলের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল না। যদিও দরজার চেহারা খুব হাস্যকর। সোম জিজ্ঞাসা করল, ‘আপনারা উৎসব দেখতে যাচ্ছেন?’

    ‘উৎসব? কিসের উৎসব?’

    ‘ওঃ। আপনারা এমন সময়ে এখানে এসেছেন যে সময়টার জন্যে পাহাড়ের মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকে। ছোট ছোট গ্রাম থেকেও মানুষ ছুটে আসে শহরে। দিনটা পরশু।’

    ‘কোনও ধর্মীয় ব্যাপার?’

    ‘ব্যাপারটা ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এখন।’ সোম স্বজনকে ভাল করে দেখল, ‘তাহলে এমনি আসা হচ্ছে? টুরিস্ট?’

    ‘হ্যাঁ। বেড়াতে এসে কাজ করা আমি একদম পছন্দ করি না।’ ‘পেছন থেকে পৃথা বলল।

    ‘ভাল। খুব ভাল। কিন্তু উঠবেন কোথায় তা ঠিক করেছেন। এখন খুব ভিড় শহরে।’

    ‘ওরা ঠিক করে রেখেছে।’ স্বজন উত্তর দিল।

    ‘কারা?’

    ‘যাদের আমন্ত্রণে আমি এসেছি।’ স্বজন হাসল।

    ‘আমরা সেখানে উঠব না। উঠলেই ওরা তোমাকে দিয়ে কাজ করাবে।’ পৃথা প্রচণ্ড আপত্তি জানাল, আচ্ছা, আপনার জানাশোনা ভালো হোটেল আছে?’

    সোম হাসল, ‘বিস্তর। আমি বললে ওরা নতজানু হয়ে ঘর দেবে, পয়সা নেবে না।’

    ‘সে কি? কেন?’ পৃথা অবাক।

    ‘এখানে পুলিশের বড়কর্তার গুডবুকে সবাই থাকতে চায়। অবশ্য আমি আর পুলিশের কোনও কর্তাই নই। খবরটা পেয়ে গেলে ওরা পাত্তা দেবে না বলেই মনে হয়।’

    স্বজন তাকাল, ‘আলাপ হবার সময় এই কথাটা একবার বলেছিলেন। ব্যাপারটা কি?’

    ‘আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে একদল মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ করতে চাইছে। অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের নেতাকে ধরা যাচ্ছে না। প্রচুর টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা সত্ত্বেও জনসাধারণ তাকে ধরিয়ে দিচ্ছে না। এই লোকটার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে আমি বোকা বনেছি বলে আমাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একদিনের মধ্যে লোকটাকে খুঁজে বের না করতে পারলে আমার রক্ষে নেই।’ করুণ হয়ে গেল সোমের গলার স্বর।

    ‘ফাঁদটা কি ছিল?’

    সোম অল্পকথায় ঘটনাটা বলল। শুধু নিজের টাকার প্রতি লোভপ্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল।

    পৃথা বলল, ‘এসব জানলে এখানে আসতাম না। যে-কোনও সময় গোলমাল হতে পারে।’

    ‘উৎসবের সময় কিছু হবে না।’ সোম বলল।

    ‘আপনি লোকটাকে খুঁজে পাবেন?’ স্বজন জিজ্ঞাসা করল।

    ‘খড়ের গাদায় সুচ খোঁজার মত অবস্থা। আপনি কিসের ডাক্তার?’

    ‘কেন?’

    ‘এই যে বললেন কারা আপনাকে নেমন্তন্ন করে আনছে!’ কথা বলতে বলতে নাক টানল সোম, ‘পেট্রলের গন্ধ পাচ্ছি। দাঁড়ান তো একটু।’

    দাঁড়াল স্বজন। ওপাশের দরজা দিয়ে নামা যাবে না। স্বজন নেমে দাঁড়ালে সেদিক দিয়ে নেমে এল সোম। পেট্রল আবার লিক করছে। পৃথাকে নামিয়ে সিট তুলে পেট্রল ট্যাঙ্কের তলায় হাত ঢুকিয়ে আরও কিছুক্ষণ মেরামতির চেষ্টা করল সোম। তারপর বলল, ‘যা তেল আছে আপনারা শহরে পৌঁছে যেতে পারবেন।’

    ‘আপনি?’ স্বজন জিজ্ঞাসা করল।

    ‘এরপর আপনার গাড়িতে গেলে ভার্গিস আমাকে ছিঁড়ে খাবে।’

    ‘ভার্গিস কে?’

    ‘যাকে কেউ কখনও হাসতে দ্যাখেনি। আমাদের কমিশনার।’

    ‘আপনি তো শহরেই ফিরবেন?’

    ‘হ্যাঁ। শহরে ঢুকতে হলেই একটা চেকপোস্ট পড়বে। ওরা দেখুক আমি চাই না।’

    ‘তাহলে আপনার সঙ্গে দেখা হচ্ছে না?’

    ‘শহরে যখন থাকছেন তখন দেখা হয়ে যাবেই।’

    স্বজন গাড়ি চালু করে বলল, ‘লোকটা ভালই।’

    ‘ওপর-চালাক।’‘ পৃথা মন্তব্য করল।

    এরপর ওরা তিন নম্বর চেকপোস্টে পৌঁছাল। পরিচয়পত্র দেখিয়ে ছাড়া পেয়ে জোরে গাড়ি ছুটাতে গিয়েও পারা যাচ্ছিল না কুয়াশার জন্যে। যত ওপর উঠছে তত কুয়াশা বাড়ছে। শেষপর্যন্ত শহরের আলো চোখে পড়ল। ঢোকার মুখেই পুলিশের একপ্রস্ত জেরার সামনে পড়তে হল। পৃথার কথা মনে রেখে স্বজন নিজেদের পরিচয় দিল টুরিস্ট হিসেবেই। পথে গাড়ি খারাপ হওয়ায় দেরি হয়ে গেছে।

    শহরটা ঘুমাচ্ছে। দুপাশের ঘুমন্ত বাড়িঘরদোর মন্দ নয়। রাস্তায় একটা মানুষ দেখা যাচ্ছে না যাকে জিজ্ঞাসা করা যায়। হঠাৎ দূরে একটা জিপের আলো দেখা গেল। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে জিপটা হঠাৎ মাঝরাস্তায় চলে গেল আটকে দেওয়ার ভঙ্গিতে। স্বজন অবাক হল। সে ইঞ্জিন বন্ধ করতে ভরসা পাচ্ছিল না। যে-কোনও মুহূর্তেই গাড়ি অচল হয়ে যাবে। দরজা খুলে সে এগিয়ে গেল জিপের দিকে। কাছে আসতেই তার নজরে এল এক বিশালদেহী পুলিশ অফিসার তার বুক লক্ষ করে রিভলভার ধরে রেখেছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার
    Next Article ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    Related Articles

    সমরেশ মজুমদার

    চব্বিশ ঘণ্টার ঈশ্বর – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    ছোটগল্প – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    উত্তরাধিকার – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    গর্ভধারিণী – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    কইতে কথা বাধে – সমরেশ মজুমদার (অসম্পূর্ণ)

    December 4, 2025
    সমরেশ মজুমদার

    সাতকাহন ১ – সমরেশ মজুমদার

    December 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }