Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    প্রফেসর সোম – কৌশিক সামন্ত

    কৌশিক সামন্ত এক পাতা গল্প192 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আয়নায় কাকে দেখা যায় – কৌশিক সামন্ত

    “চিরটাকাল আমাকে ঠিক এইভাবে ভালোবেসে যাবে?”

    “এর থেকেও বেশি করে ভালবাসবো।”

    “আমি যদি দূরে কোথাও চলে যাই, আর যদি ফিরে না আসি?”

    “ফিরবেনা বললেই হল, আমি ফিরিয়ে আনবই, আর তা ছাড়া তোমাকে যেতে দিচ্ছে কে, এইভাবে বুকের মধ্যে লুকিয়ে রেখে দেব তোমাকে।”

    মেরির আদুল শরীরটা নিজের বুকের মধ্যে শক্ত করে চেপে ধরে মরিস। পাহাড়ের গা বেয়ে লাল সূর্যটা সবে তখন ঝিলের জলে একটু একটু করে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছে, তার রক্তিম আভায় গোটা ঝিলটা চকচক করছে, যেন একটা বিশাল লাল আয়না, মুগ্ধ দৃষ্টিতে এই গোটা ব্যাপারটা প্রতক্ষ্য করে চলেছে তারা।

    “মিথ্যুক একটা, তোমার যত বড় বড় কথা সব মুখেই, তাহলে যাচ্ছ কেন আমাকে ছেড়ে?”

    “তুমি তো জানো মেরি, দেশের হয়ে যুদ্ধে যাওয়াটা আমার ছেলেবেলার স্বপ্ন, বাবারও শেষ ইচ্ছে এটাই ছিল।”

    “তাহলে দেশকেই ভালোবাসো, আমাকে আর ভালোবাসার দরকার নেই, আমি আর তোমার কে।”

    “অবুঝ হয়ো না মেরি, এইতো কদিনের ব্যাপার আমি যাব আর চলে আসব, আর এবারে এসেই প্রথম কাজ তোমাকে বিয়ে করে একদম নিজের করে নেওয়া, যাতে এই লুকোচুরি খেলা আর চালাতে না হয়।”

    “যাও যাও অনেক হয়েছে, এখন ছাড়ো আমাকে স্নান করতে হবে, নইলে

    মা সব ধরে ফেলবেন।”

    মৃদু হেসে নিজের আলিঙ্গনটা হালকা করে দেয় মরিস, মেরি উঠে পড়ে, ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে থাকে সেই ঝিলের দিকে।

    অবাক চোখে মরিস দেখতে থাকে সেই জলকেলি, মেরির গোটা শরীরে সেই লালের আভা, তার খোলা চুল থেকে একটু একটু করে চুঁইয়ে পড়ছে লাল, তার খোলা পিঠে, উন্মুক্ত কটিদেশে, তারপর হারিয়ে যাচ্ছে তার সুউচ্চ নিতম্বের গভীরে, নাহ এই নারীকে ছাড়া এক মুহূর্ত তার পক্ষে থাকা সম্ভব নয় বুঝতে পারে মরিস।

    আচমকা দুটো কালো লোমশ হাত জল ভেদ করে বেরিয়ে এসে জড়িয়ে ধরে মেরিকে, চিৎকার করে ওঠে সে। লাল জলের সে আয়না, দুটো শরীরের তোলপাড়ে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যেতে থাকে।

    এক মুহূর্তের জন্য স্থবির হয়ে যায় মরিস, বুঝে উঠতে পারেনা সে কি করবে, হুঁশ যখন ফেরে তখন সবেগে দৌড়ে যায়, কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরী হয়ে গেছে।

    মেরি কিম্বা সেই কালো দুটো হাত কাউকেই আর খুঁজে পায়না সে। পাগলের মত চিৎকার করতে করতে জল তোলপাড় করতে থাকে মরিস। মেরির রক্ত মিশে ঝিলের জলটা যেন আরও গাঢ় লাল হয়ে ওঠে।

    “স্যার আপনার স্টপেজ, শুনছেন আপনার স্টপেজ এসে গেছে।”

    ধঢ়ফড় করে উঠে বসে মরিস, উফ কি ঘুমটাই না সে ঘুমিয়ে পড়েছিল, আরেকটু হলেই সব গণ্ডগোল হয়ে যেত, ভাগ্যিস সেনাবাহিনীর পোশাকটা ছিল বলে, এখনও এ দেশের লোকেরা ভেটেরানদের বেশ সম্মান দেয় তাই।

    একরাশ ধুলো উড়িয়ে বাসটা চলে গেল। কাঁধের ব্যাগটা নামিয়ে, একটা সিগারেট ধরিয়ে নেয় মরিস। উফফ এখনও সারা শরীর তার যেন কাঁপছে, কি ভয়ংকর একটা স্বপ্ন, একটু মাথাটা ঠাণ্ডা করতে হবে।

    পকেট থেকে মেরির হাতে লেখা চিঠিটা বের করে সে, ১৫ দিন আগের লেখা। মেরি একটা নতুন চাকরি নিয়েছে, এখানকারই কোনও একজন লেডি রোজমণ্ড এর বাড়িতে।

    আর তাই মেরিকে না জানিয়েই, আর্মি ক্যাম্প থেকে সোজা এখানে চলে এসেছে, মেরিকে সারপ্রাইজ দেবে সে। বুকপকেটে রাখা আংটির কৌটটা একবার দেখে নেয় মরিস, নাহ সব ঠিকই আছে।

    .

    দুই

    “নতুন মেয়েটা কেমন?”

    “কাজে কর্মে বেশ ভালোই, বেশ শক্তপোক্ত, একটু স্লো, তবে বললে সব কাজই সেরে রাখে।”

    “আমি কাজের কথা বলিনি টোরি। এতদিনের পর আশা করি আর নতুন করে বলে দিতে হবে না আমি কি ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে থাকি।”

    “মাফ করবেন লেডি রোজমণ্ড আমার বুঝতে ভুল হয়েছিল, আমি সব দেখে খোঁজ নিয়েই তবেই মোনা কে কাজে নিয়েছি।”

    “সে তো তুমি আগেরবারও ঠিক একই কথা বলেছিলে, কিন্তু কি ফল হল? শুধু একথা জেনে রেখো এবারে কোনও গণ্ডগোল হলে তিনি কিন্তু তোমাকে আর ছেড়ে কথা বলবেন না, আমারও কিছু করার থাকবেনা। আর হ্যাঁ, সব যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে তো তুমি জানই, তুমি কিছু কম লাভবান হবেনা।

    “জানি ম্যাডাম, আপনি কিছু ভাববেন না, এবারে আর কোনও গণ্ডগোল হবেনা।

    “না হলেই ভালো, খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে ওঠেন লেডি রোজমণ্ড।

    আজ এত বছর বুড়ির দেখাশোনা সে করে আসছে, কিন্তু তবুও আজও লেডি রোজমণ্ডের ঐ হাসির শব্দে বুকের রক্ত জল হয়ে যায় টোরির, আমতা আমতা করে বিদায় নিয়ে সেই অন্ধকার ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। ঠিক এইসময় বাইরে থেকে একটা গোলমালের শব্দ শোনা যায়।

    “সুপ্রভাত, আমার নাম মরিস, মেরিকে একটু ডেকে দেবেন, ওর সাথে একটু দেখা করতে চাই।

    “সুপ্রভাত, কিন্তু এই নামে তো এখানে কেউ থাকেনা।”

    “কিন্তু ও আমাকে চিঠি লিখেছিল যে এখানেই কাজ করে।”

    “আপনার বোধহয় কোথাও ভুল হচ্ছে।”

    “নাহ আমার কোনও ভুল হচ্ছেনা, এটাই লেডি রোজমণ্ডের বাড়িতো?”

    “হ্যাঁ, সেটা ঠিক কিন্তু মেরি নামে তো কেউ এখানে থাকেনা।”

    “কী হয়েছে মোনা, উনি কে,” মিস টোরির ডাকে হুঁশ ফেরে মোনার “ম্যাডাম, উনি মিঃ মরিস, মেরি নামে কাউকে খুঁজছেন এখানে, বলছেন কাজ করে, কিন্তু এখানে মেরি বলে তো কেউ….”

    “ঠিক আছে তুমি যাও, আমি ওনার সাথে কথা বলছি,” মিস টোরি দরজার কাছে এগিয়ে আসেন, মোনা চলে যায়।

    “বলুন মিঃ মরিস আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি।”

    “আমি এখানে মেরির সাথে দেখা করতে এসেছি, কিন্তু উনি বলছেন যে মেরি নামে কেউ থাকেনা।”

    “আসলে ও নতুন কাজে ঢুকেছে তাই জানেনা, হ্যাঁ মেরি এখানে আগে কাজ করত।”

    “করত মানে? এখন নেই।”

    “নাহ ও কাজ ছেড়ে চলে গেছে।”

    “অসম্ভব ওর ১৫ দিন আগের চিঠি আমার কাছে আছে, কিছু হলে ও আমাকে জানাত নিশ্চয়ই।”

    “আপনাকে মিথ্যে বলে তো আমাদের লাভ নেই মরিস, আপনি মেরির বাড়িতে গিয়ে দেখুন নিশ্চয় ও সেখানে ফিরে গেছে।”

    “বেশ, তাহলে আমি যাচ্ছি এখনকার মত, কিন্তু মেরিকে যদি ওর বাড়িতে না পাই, তাহলে আমি কিন্তু আবার ফিরে আসব আর সেটা কিন্তু একা নয়।”

    “অবশ্যই আসবেন, মোনা উনি চলে গেলে দরজাটা বন্ধ করে দিও।” খাকি রঙের ফৌজি ঝোলাটা কাঁধে ফেলে মরিস হাঁটা দেয়, তার মনে তখন চিন্তার ঝড় উঠেছে।

    “মিস টোরি, যদি কিছু মনে না করেন, আপনার কাছে কিছু প্রশ্ন ছিল,” দরজা বন্ধ করতে করতে প্রশ্ন করে করে মোনা।

    “প্রশ্ন করা তোমার কাজ নয় মোনা, সে জন্য তোমাকে এত মাইনে দেওয়া হয়না কিন্তু।”

    “নাহ মানে, আমার আগে যে ছিল, মেরি, তাকে কেন ছাড়িয়ে দিলেন যদি বলেন, মানে কাজের কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে, সেটা জানলে আমি নিজেকেও শুধরে নিতে পারি।”

    “কাজে ত্রুটি থাকলে তোমাকে সেটা তৎক্ষনাত জানিয়ে দেওয়া হবে, এ নিয়ে তুমি ভেবোনা, যাও নিজের কাজে যাও।”

    মোনা মাথা নীচু করে চলে যায়, মিস টোরির চোখে যে অদ্ভুত হাসিমাখা ঝিলিক খেলে যায় তখন, সেটা তার নজরে পড়েনা।

    .

    তিন

    এই বাড়ির সবাই বেশ ভালো, বুড়ো দারোয়ান, মালী, রাঁধুনি মহিলা, সব্বাই। তবে দারোয়ান বাদে সবাই রাতে বাড়ি ফিরে যায়, থেকে যায় শুধু মিস টোরী, আর মোনা নিজে।

    আজ সাত দিন তার এই নতুন বাড়িতে কাজ হয়ে গেল, কিন্তু যার এই বাড়ি, সেই লেডি রেজমন্ডকে অবশ্য সে এখনও নিজে চোখে দেখেনি, উনি নিজের ঘর থেকে নাকি বেরোন না, ওনার সব কাজ কর্ম মিস টোরি নিজে হাতে করে। ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত লাগলেও, মোনা মাথা ঘামায়নি, মনিবের ব্যাপারে অযথা কৌতূহল দেখিয়ে তার লাভ কি, যেখানে এত অল্প পরিশ্রমের কাজে এত বেশি মাইনে পাওয়া যাচ্ছে। রোজ কি করতে হবে মিস টোরি সেটা

    সকালে মোনাকে বলে দেন।

    “মোনা আজ তোমাকে একটা কাজ করতে হবে।”

    “বলুন ম্যাডাম।”

    “দোতলায় যে ছবিগুলো আছে সেগুলো সবকটা নামিয়ে সুন্দর করে পরিষ্কার করতে হবে।”

    রোজ রোজ এক রুপো-কাঁসার বাসন পরিষ্কার করতে করতে মোনার হাঁফ ধরে গেছিল, আজ বেশ একটা নতুন কাজ পাওয়া গেছে, সে এক বালতি পরিষ্কার জল আর একটা ঝাড়ন নিয়ে দোতলায় পৌঁছে যায়।

    ছবিগুলো দেখে মুগ্ধ হয়ে যায় সে, সার বেঁধে দেওয়াল জুড়ে সব সম্ভ্রান্ত মহিলাদের ছবি, তাঁদের রুপের ঝলকে চোখ যেন ঝলসে যাচ্ছে।

    অদ্ভুত, এই বাড়িতে কি কোনোদিন কোনও পুরুষ বাস করেনি, মোনা ভাবতে থাকে, এই ছবিগুলোর মধ্যে লেডি রোজমণ্ডই বা কোনটা।

    দেখতে দেখতে সবকটা ছবিই পরিস্কার করা হয়ে যায়, দোতলার একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছে যায় সে। দোতলার প্রায় সব ঘরেই তালা দেওয়া, এই একটা ঘর বাদে, একদম শেষপ্রান্তের ঘরটা।

    দরজাটা অল্প খোলা, সেইটুকু দিয়ে যা একটু আলো ঢুকছে, ভেতরটা বেশ চাপা অন্ধকার।

    ভেতরে ঢুকবো? দেখব কী আছে? মিস টোরিকে না বলে কী ঢোকা উচিৎ হবে? চার পাঁচ ভাবতে ভাবতে ঢুকে পড়ে মোনা।

    নিকষ কালো অন্ধকার ভেতরটা, হাতড়ে হাতড়ে একটা দেওয়াল খুঁজে পায় সে, হঠাৎ কিসে যেন একটা ঠোক্কর খায় মোনা, পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নেয়, চোখটা অন্ধকারে সইয়ে নিয়ে দেখতে থাকে জিনিষটাকে।

    একটা বড় আয়না দেখতে পায় সে, কিন্তু ঠিক সাধারন আয়নার মত নয়, কিরকম যেন ঘোলাটে, কিচ্ছু পরিষ্কার করে দেখা যায়না।

    অদ্ভুত তো, এরকম জিনিষ আগে দেখিনি, একটা ‘জানলা খুলেদি, আলোতে যদি কিছু বোঝা যায়, মোনা ভাবে।

    “ওতে কি দেখছ বাছা?” হঠাৎ ঘরের কোন থেকে একটা খ্যানখ্যানে স্বর ভেসে আসে।

    ঘটনার আকস্মিকতায় চমকে ওঠে মোনা, ঘরের কোনের দিকে চোখ চলে যায় তার, দেখতে পায়, একটা খাটের মধ্যে থেকে একটু একটু করে নড়তে নড়তে এগিয়ে আসছে একটা প্রায় কুন্ডলী পাকানো কালো ছায়া।

    “ওমা, ভয় পেলে নাকি বাছা, তা বললে না তো, আয়নাটায় কিছু দেখতে পেলে কিনা? একরাশ সাদা চুল, মুখের চামড়া ঝুলে পড়ছে, ফাঁকা ফাঁকা হলদেটে দাঁত নিয়ে ঠিক আগের মতই খ্যানখ্যান করে হাসতে থাকে লেডি রেজমণ্ড।

    .

    চার

    ঠকঠক করে কেঁপে চলেছে মোনা। একাজটা একেবারেই অনুচিত হচ্ছে সেটা সে জানে, কিন্তু লেডি রেজমন্ডের কুঁকড়ে যাওয়া শরীরটা আর ঐ অজস্র বলিরেখায় ভর্তি মুখটা এত ভয়ংকর দেখাচ্ছে অন্ধকারে, সে নিজেকে কিছুতেই

    সামলাতে পারছেনা।

    “বলি এই মেয়ে, অত ভয় পেলে আমার বাড়িতে কাজ করবে কী করে শুনি?” লেডি রেজমন্ডের গলার স্বরে এবার যেন কিছুটা অভিমান ঝরে পড়ে।

    “নাহ ম্যাডাম, আসলে অন্ধকারে আচমকা ভয় পেয়ে গেছলাম,” নিজেকে

    সামলে নেয় মোনা।

    “অন্ধকার? তা বেশ, আমার তো অন্ধকারটাই জীবন বাছা, আমি আছি কীভাবে?”

    এ প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেনা মোনা।

    “তা কই বললেনা তো, ঐ আয়নায় তুমি কী দেখতে পেয়েছ?”

    “আজ্ঞে বিশেষ কিছুই দেখা যাচ্ছেনা, শুধু নিজের ছায়াটা অস্পষ্টভাবে বোধহয় একটুখানি,” আমতা আমতা করে জবাব দেয় মোনা।

    “আর কিছুই দেখতে পাওনি?” লেডি রেজমন্ডের গলায় যেন খানিকটা হতাশা।

    “নাহ ম্যাডাম।”

    “বেশ আমাকে ধরে একটু বিছানাটায় শুইয়ে দাও, বয়স হয়েছে তো চোখে ভালো দেখিনা।”

    অবাক হয়ে যায় মোনা, একটু আগেও সে দেখেছে, বুড়ি কীভাবে নিঃশব্দে খাট থেকে নেমে এসে তার ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছিল। যাকগে মনিব বলে কথা, সে লেডি রেজমন্ডকে ধরে এনে খাটের উপরে শুইয়ে দেয়। বুড়ির কুঁকড়ে যাওয়া শরীর হলে কি হয়, অসম্ভব ভারী, এই শীতের মরসুমেও মোনা ঘেমে যেতে থাকে।

    “তুমি এবারে আসতে পারো বাছা, পরে দরকার হলে টোরিকে দিয়ে ডাকিয়ে নেব।”

    মাথা নেড়ে সেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসে মোনা, উফফ কি ভয়ংকর বুড়ির পাল্লায়ই না পড়েছিলাম, মনে মনে ভাবে সে। কিন্তু ঐ ঘষা কাঁচের আয়নাটা নিয়ে বুড়ির যে এত আদিখ্যেতা কিসের, এটা তার কিছুতেই মাথায় আসছেনা। যাকগে বড়লোকদের যত অদ্ভুত খেয়াল, ও নিয়ে তার মাথা ঘামিয়েও লাভ নেই, মাসের শেষে মোটা মাইনেটাই আসল।

    মোনা চলে যেতেই দেখা যায় একটা কালো ছায়া ধীরে ধীরে লেডি

    রেজমন্ডের ঘরে প্রবেশ করছে।

    “কি বুঝলেন ম্যাডাম?”

    “বুঝলাম তোমার চোখের জোর আছে আগের মতই।”

    “কিন্তু ও তো আয়নায় কিছুই দেখতে পাচ্ছেনা।”

    “আজ পায়নি কাল পাবে, সময় দিতে হবে, সময়।”

    “বেশ আপনি যখন বলছেন তাই হবে।”

    “চিন্তা করোনা টোরি, তোমার ভাগ তুমি পাবে। হিসেবটা মনে আছে তো, তোমার এক আমার কিন্তু তিন,” বলেই খ্যাঁক খ্যাঁক করে আবার রক্তজল করা শব্দে হাসতে থাকেন লেডি রেজমণ্ড।

    .

    পাঁচ

    দেখতে দেখতে বেশ অনেকদিন কেটে গেছে, মাঝে কদিন ছুটি নিয়ে মোনা নিজের দেশের বাড়ি থেকে ঘুরেও এসেছে। মোটা মাইনের পরিমাণ তো ছিলই তাছাড়াও ছিল মিস টোরির পাঠানো বিভিন্ন উপঢৌকন, বাড়ির লোকও খুব খুশি। বাড়ির লোকের খুশিতেই খুশি মোনা, ওঁদের জন্যই তো এতদূরে দাঁত কামড়ে পড়ে থাকা।

    অবশ্য প্রথম প্রথম যে অস্বস্তিগুলো কাজ করত এ বাড়িতে কাজ করার সময়, তার অনেকটাই মোনা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে। মিস টোরি নয়, সে নিজেই এখন বুড়ি রেজমন্ডের দেখাশোনা করে। প্রথমদিন বুড়িকে যতটা ভয়ংকর লেগেছিল এখন সে কথা ভাবলে, নিজের বোকামির জন্য বেশ হাসিই পায় মোনার। বুড়ি মানুষ বেশ ভালো, গপ্প গুজব করে, তার বাড়ির লোকের খবর নেয়, নিজের যৌবনের রসালো গল্প শোনায়, আর মাঝে-সাঝেই এটা সেটা উপহার দেয়, সেটা খাওয়ার জিনিষ হোক, দামী পোশাক হোক কিম্বা সমুদ্রের নুড়িপাথর। তবে হ্যাঁ, রোজ নিয়ম করে বুড়ি সেই এক প্রশ্নটা কিন্তু করেই যায়, কোনও ক্লান্তি নেই বুড়ির অন্তত এই একটা ব্যাপারে।

    আর মোনাও সেই একই উত্তর দিয়ে যায়, “নাহ ম্যাডাম, নিজের অস্পষ্ট ছায়া ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা ওখানে।”

    ।আজকেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি, সে যখন বুড়ির গা হাত-পা মুছে দিয়ে পোশাক বদলে দিচ্ছিল, বুড়ি রেজমন্ড আবার জিজ্ঞেস করে উঠল।

    “কি মোনা, আজকে তুমি আয়নাটায় কী দেখতে পাচ্ছ?”

    “আজকেও শুধু আমারই মুখটা অস্পষ্টভাবে… আরে ওটা কী?” কথা শেষ করতে গিয়েও আটকে যায় মোনা, কি যেন একটা কালো মত জিনিষ ঘুরে বেড়াচ্ছে আয়না জুড়ে, কোনও পোকা টোকা ঢুকে পড়েছে নাকি, কিন্তু তা কি করে সম্ভব। ঘষা কাঁচ বলে স্পষ্টভাবে কিছু দেখা যায়না, তাই সে এগিয়ে যায় আয়নাটার দিকে, ঝুকে পড়ে ভালোভাবে দেখতে থাকে।

    “কী, কী দেখতে পাচ্ছ শিগগির বল আমাকে

    শিউরে ওঠে মোনা, সেই প্রথম দিনের মত বুড়ি কখন যে নিঃশব্দে এগিয়ে এসে তার ঘাড়ের কাছে হিমশীতল নিঃশ্বাস ফেলেছে সে বুঝতে পারেনি।

    “ঠিক স্পষ্টভাবে কিছু দেখতে পাচ্ছিনা ম্যাডাম, কিন্তু কি একটা কালো জিনিষ যেন ঘুরছে,” আমতা আমতা করে জবাব দেয় মোনা।

    “তুমি এখন আসতে পারো মোনা, টোরিকে আমার ঘরে আসতে বলো এখুনি।”

    “কিন্তু ম্যাডাম আপনার পোশাক পরানো এখনও বাকী আছে যে।’ “সেটা নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবেনা, যেটা বললাম সেটা কর।” মোনা বেরিয়ে যায়, যাওয়ার পথে মিস টোরিকে সব বলে যায়।

    অদ্ভুত মানুষ কিন্তু এই বুড়ি রেজমন্ড, কিরকম এই ঠাণ্ডার মধ্যে উলঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়ে খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসছে দেখো, ভাবতে থাকে মোনা। কিন্তু ঐ আয়নাতে সে আজ ওটা কি দেখতে পেলো, কই এতদিন তো তার চোখে কিছু পড়েনি, কে জানে বাবা বড়লোকদের রকমসকম সে এখনও ঠিক বুঝে উঠতে পারেনা।

    “এস টোরি, আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি আমি, উফফ কতদিন ধরে যে এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করে আছি।”

    “ম্যাডাম আপনি পোষাক পরে নিন, আপনার ঠাণ্ডা লেগে যাবে।”

    “আমার আর কিচ্ছু লাগবেনা টোরি, আনন্দ করো আনন্দ, এই ভাঙ্গাচোরা শরীর আর নয়, নতুন নতুন শরীর।”

    “তাহলে আজকেই কি?”

    “মূর্খ, এতগুলো বছর এক জিনিষ দেখে আসছ, তাও ভুল হয়ে যাচ্ছে? আজ নয়, কাল হ্যালুইন, কাল রাতেই সব হবে। একটা কথা মনে রেখো টোরি, এবারে আগেরবারের মত ভুল হলে তিনি কিন্তু আর তোমাকে ছেড়ে দেবেন না, আমিও কিচ্ছু করতে পারবনা।”

    “মাফ করবেন ম্যাডাম, আমি কথা দিচ্ছি এবারে আর কোনও ভুল হবেনা, আমি সব ঠিক করে রাখব।”

    “সেটাই যেন হয়, মনে রেখ তিনি খুশি হলেই কিন্তু আমি ৩০ তুমি ১০, উফফ আবার নতুন জীবন, নতুন রক্ত নতুন চামড়া…।”

    এবারে শুধু একা লেডি রেজমণ্ড নন, মিস টোরিকেও অনেকদিন পর প্রাণ খুলে হাসতে দেখা যায়।

    .

    ছয়

    আজ হ্যালুইন, গ্রামের বাড়িতে থাকলে সবাই মিলে কত আনন্দ উৎসব করত, কত রঙ বেরঙের ক্যান্ডি, ভাই বোনদের সাথে মিলে কত কিম্ভূত-কিমাকার পোষাক বানাত, কিন্তু নাহ এখানে আর সেসব কোথায়, থাকার মধ্যে এই বিরাট একটা খাঁখাঁ একটা বাড়ি, বুড়ো দারোয়ানটা বাদে সবাই চলে গেছে তাদের যার যার দেশের বাড়িতে, শুধু যেতে পারেনি সে, মোনা নিজে

    যেতে দেওয়া হয়নি বলা ভালো, অনেক অনুরোধ সে করেছিল, কিন্তু ঐ শুকনো বুড়ি আর তার চামচা টোরি, কিছুতেই আজ ছুটি দিলো না, বলেছে আজ নয় কাল যেতে, আজ নাকি গোটা দোতলাটা ঝাড়পোঁছ করতে হবে।

    মেনে নিয়েছে মোনা, মেনে নেওয়া ছাড়া তার আর করারই বা কি আছে, ওনারা মনিব, মাইনে দেন যে।

    সারাদিন একটানা কাজ করে, বিকেলের দিকে স্নানঘরে ঢুকল মোনা। গোটা বাড়িটায় এই একটা জায়গা তার বড্ড আপন মনে হয়, একবার ঢুকে পড়ে দরজাটা বন্ধ করে দিলেই ব্যাস, তার নিজস্ব একটা গোটা পৃথিবী যেন। সেখানে কেউ তাকে বকবেনা, কিছু বলবেনা, বারন করবেনা, সবথেকে বড় কথা, কেউ নজরে রাখবেনা, বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারবে।

    স্নানঘরের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পোশাক খুলতে শুরু করে মোনা। প্রথম প্রথম এত বড় আয়নার সামনে দাঁড়াতে বড্ড লজ্জা লাগত তার। কিন্তু এখন ঐ আয়নাকেই তার বড্ড আপন মনে হয়। আয়নার চোখে চোখ রেখে সে দেখতে থাকে তার ইউনিফর্মের আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকা যৌবনের গোপন বিভাজিকাগুলোকে, কবে তার শরীরে যে যৌবনের পূর্ন জোয়ার এসে গেছে, তার খেয়াল সে রাখেনি। একটা সুউচ্চ বুক ভেদ করে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে, সে তো কুৎসিত নয়, বরং বেশ সুন্দরীই বলা যায়, কোনও রাজকুমার কি কোনোদিনও আসবেনা, এই নরকপুরী থেকে, এই দুঃখ-দৈন্যের জীবন থেকে উদ্ধার করতে? কে জানে, এক ফোঁটা গরম জলে বেরিয়ে আসে মোনার চোখ থেকে।

    ধীর পায়ে সে বাথটবের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে, ঐ বাথটবের ঠাণ্ডা জলের বলিষ্ঠ আলিঙ্গনেই সে পরম শান্তি পায়, তার কামনা বাসনাগুলো সব যেন পূর্নতা খুঁজে পায় ঐ জলে।

    হঠাৎ মাথাটা কেমন জানি ঘুরে যায় মোনার, কি হল তার শরীরে তো রোগ-জ্বালা নেই বললেই চলে, তবে আজ কি হল। ঘোলাটে দৃষ্টিতে মোনা চারপাশটা দেখতে থাকে, আয়নার দিকেও চোখ পড়ে তার… ও কি ওখানেও কি যেন একটা কালো মত জিনিষ সজোরে ঘুরছে না? কি করবে সে চিৎকার করে কাউকে ডাকবে, নাকি উঠে গিয়ে নিজে একবার দরজাটা খোলার চেষ্টা করবে।

    কিন্তু নাহ, কোনওটাই সে আর করতে পারেনা, তার আদুল শরীরটা থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, জ্ঞান হারায় মোনা

    কিছুক্ষন পরে দেখা যায় স্নানঘরের দরজাটা বাইরে থেকে খুলতে শুরু করেছে, দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে আসে মিস টোরি। মোনার নগ্ন শরীরটাকে পাঁজাকোলা করে অবলীলায় তুলে ফেলেন তিনি, তারপর সিঁড়ি দিয়ে সোজা দোতলার দিকে উঠতে থাকেন।

    .

    সাত

    “আজ ৩৫ বছর ধরে অপেক্ষা করে আছি প্রভু এই দিনটার জন্য। আপনার কথা মত ১৭টি বলিদান সম্পন্ন করেছি, আজ ১৮ নম্বরের পালা, এই দান গ্রহণ করুন আপনি, তুষ্ট হোন প্রভু, জেগে উঠুন আপনি।

    -অ্যাক্তা নন ভার্বা এড হনারাম এড ইনফিনিটাম….

    -এতগুলো বছর ধরে যে অপরিসীম বিপদের ঝুঁকি নিয়ে আপনার সেবা করে চলেছি প্রভু, করুনা করুন আমার উপর, শুধু ৩০ বছর কমানো নয়, আমাকে পূর্ণ যৌবন দান করুন প্রভু, জেগে উঠুন আপনি।

    -এন্তে বেলিয়াম, আন্দ্রে এস্ত ফাসেরে…

    -পূর্ণরূপ ধারণ করুন প্রভু, এই পৃথিবীতে আপনাকেই অন্ধকারের শাসন কায়েম করতে হবে, আর আপনার সেই সংগ্রামে আমাকেও আপনার দাস করে নিন প্রভু, জেগে উঠুন আপনি।

    -ক্রিয়েতো এক্সো নিহিলো, প্যাতার ফ্যামিলিয়াস …”

    কানে একটানা ভেসে আসছে কিছু অদ্ভুত ল্যাটিন শব্দ, জ্ঞান ফিরে আসে মোনার। মাথাটা এখনও ভার হয়ে আছে তার, আর চোখের দৃষ্টিও ঘোলাটে।

    ঘরের অন্ধকারে চোখ সইয়ে নিয়ে সে দেখতে পায়, সে এখন লেডি রেজমন্ডের ঘরে। ঐ তো আয়নাটার সামনে বুড়ি একটা কালো জোব্বা পড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, একটা বই মুখের সামনে ধরে ল্যাটিন ভাষায় কি যেন বলে চলেছে, আর ঘরের একটা কোনে চোখ বুঝে হাঁটু গেঁড়ে যে বসে রয়েছে, সেটা মিস টোরি।

    ধীরে ধীরে তার সব মনে পড়তে থাকে, চিৎকার করে সে উঠে পালাতে চায়, কিন্তু পারেনা। বুঝতে পারে, সম্পূর্ন উলঙ্গ অবস্থায় তাকে একটা ত্রিভুজ আকৃতির কাঠের কাঠামোর সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

    সে চিৎকার করে, কাঁদে, গালাগাল দেয়, দেহের শেষ শক্তিবিন্দুটাকেও কাজে লাগায়, হাতের ছাল-চামড়া উঠে রক্ত বেরতে শুরু করে, কিন্তু নাহ সে বন্ধন আর আলগা হয়না।

    “তুমি মিছেই চেষ্টা করছ বাছা, আমরা তোমার কোনও ক্ষতি করবনা,” হিসহিসিয়ে বলে ওঠেন বুড়ি রেজমণ্ড।

    “আমাকে এভাবে ধরে রেখেছেন কেন, ছেড়ে দিন, আমি বাড়ি চলে যাবো, এখানে আর থাকবোনা।”

    “ছেড়ে তো তোমাকে দেবই, কিন্তু এখন না উনি তোমাকে ওনার শিষমহলের রানী করে নেবেন তার পর।”

    “আমাকে ক্ষমা করে দিন কোনও ভুল হয়ে থাকলে। আমার বাড়িতে ছোটো ছোটো ভাইবোন আছে বুড়ি মা আছে, আমি ছাড়া ওদের আর নেউ নেই, আমাকে যেতে দিন।”

    “আহ, কোথায় আমি তোমাকে অমরত্ব দেব বলছি, আর তুমি সামান্য পার্থিব বন্ধন নিয়ে কান্না-কাটি করছ, বাড়ির লোকদের নিয়ে ভেবনা, অনেক অনেক টাকা আমি ওঁদের পাঠিয়ে দেব, তুমি শুধু আত্মবলিদানের জন্য প্রস্তুত হও। শুরুতে একটু কষ্ট হবে আর তারপর দেখবে কি শান্তি আর শান্তি, দেখবে আমাদের ঈশ্বর কি বিরাট, ক্রাইস্টের মত দূর্বল নন, কি অসীম তাঁর ক্ষমতা, ইনজেন্স পোতেন্স, ক্রিয়েতো এক্সো নিহিলো, প্যাতার ফ্যামিলিয়াস …”

    “টোরি যাও, আমার প্রার্থনা শেষ, তোমার কাজটা এবারে সম্পন্ন করো,” নির্দেশ দেন লেডি রেজমণ্ড।

    মোনা দেখতে পায় মিস টোরি ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে তার দিকে, তার হাতে ধরা একটা পুরানো দিনের ছুরি। মোমবাতির আলোয়, সেই ছুরির ধার যেন প্রতিফলিত হতে থাকে মিস টোরির দুই চোখে।

    চোখ বন্ধ করে ফেলে মোনা, কীভাবে এই বিপদ থেকে সে উদ্ধার পাবে, সে আর ভাবতে পারছেনা, তার শরীর আর দিচ্ছেনা, হাঁটুগুলোতে আর বল নেই, এভাবে বাঁধা না থাকলে সে কখন বোধহয় হুমড়ি খেয়ে পড়ে যেত পড়ে যেত।

    নিজের শরীরের উপর দুটো হাতের স্পর্শ পায় মোনা, অস্বাভাবিক ধরনের ঠাণ্ডা সে হাতগুলো, শিউরে ওঠে মোনা। অস্থিরবভাবে হাত দুটো ঘুরে চলছে তার গোটা শরীর জুড়ে, হঠাৎ তারা থেমে যায়, অজানা আশঙ্কায় স্তব্ধ হয়ে যায় মোনা।

    হঠাৎ কে যেন এক ঝটকায় তার একগাছা মাথার চুল উপড়ে নেয়, যন্ত্রণায় ককিয়ে ওঠে সে। চোখ খুলতে বাধ্য হয় মোনা, দেখে তার ছেঁড়া চুলের গাছাটা হাতে ধরে পাগলের মত হেসে চলেছে মিস টোরি।

    সেইভাবে হাসতে হাসতেই মিস টোরি তার অন্য হাতে ধরা ছুরিটা আমূল বিধিয়ে দেয় মোনার উরুতে, ফিনকি দিয়ে রক্তের ধারা নেমে আসে, মোনার মনে হয় যে তার প্রাণবায়ু বেরিয়ে যেতে আর বেশি বাকী নেই বোধহয়। একটা ছোট পাত্রে সেই চুইয়ে পড়া রক্ত ধরতে থাকে মিস টোরি।

    “ব্যাস ব্যাস ওতেই হবে, ওগুলো নিয়ে এসো আমার কাছে টোরি,” হুঙ্কার ছাড়েন বুড়ি রেজমণ্ড।

    টোরির হাত থেকে চুলের গোছা আর রক্তের পাত্রটা প্রায় ছিনিয়ে নেন তিনি, তারপর সেই চুলের গোছাটা পাত্রের রক্তের মধ্যে চুবিয়ে নিয়ে একটু একটু করে মুছতে থাকেন সেই কালো আয়নটা।

    কি অদ্ভুত ব্যাপার, সেই ঘষা কাঁচ একটু একটু করে পরিষ্কার হতে থাকে, যেন একটা সম্পূর্ন নতুন আয়না, বিস্ফারিত চোখে সেই দৃশ্যটা দেখতে থাকে মোনা।

    তার অবাক হওয়ার তখনও কিছুটা বাকী ছিল। আয়নাটা যত পরিষ্কার হতে থাকে, সে দেখতে পায় যে কালো জিনিষটাকে আগে পোকা বলে ভুল করেছিল সে, সেটা ক্রমশ একটা মানুষের কায়ার আকার নিচ্ছে, অবশ্য সেটাকে ঠিক সম্পূর্ণ মানুষ বলা চলেনা।

    “এক্সার্জ এ মরতুইস, এক্সার্জ এ মরতুইস, নিদ্রা থেকে জেগে উঠুন প্রভু,” লেডি রেজমণ্ড আর মিস টোরি দুজনকেই দেখা যায় মাটিতে হাঁটু গেঁড়ে বসে মাথা নীচু করে মাতালের মত চিৎকার করে করে চলেছেন।

    ধীরে ধীরে আয়নায় কায়াটা সম্পূর্ণ হয়, উফফ কি ভয়ংকর সেই মূর্তি, সে ভগবান শয়তান নাকি সেটা মানুষ, তা মোনা বুঝতে পারেনা, শুধু বুঝতে পারে সে চাইলেও চোখ ফিরিয়ে নিতে পারছেনা সেই মূর্তিমান বিভীষিকার দিক থেকে। মোনার চোখ দুটো স্থির হয়ে যায় সেই কায়ার চোখের উপর, কি তীব্র তৃষ্ণা সে দৃষ্টিতে, তার সারা শরীর যেন ঝলসে যেতে থাকে।

    হঠাৎ একটা কালো রোমশ হাত বেরিয়ে আসে সেই আয়না থেকে, মোনার শরীরকে স্পর্শ করে সেই হাত। একসাথে যেন হাজার হাজার ছুঁচ তার শরীরে প্রবেশ করেছে, মৃত্যুযন্ত্রণায় চিৎকার করে ওঠে মোনা। বাচ্চাদের মত আনন্দে হাততালি দিয়ে লাফাতে থাকেন লেডি রেজমন্ড।

    মোনার মাথার চুলগুলো সাদা হয়ে যেতে থাকে, তার টানটান যৌবন একটু একটু করে জীর্ন হতে থাকে, চামড়া কুঁচকাতে শুরু করে, তার সমস্ত প্রাণরস একটু একটু করে চুষে খেতে থাকে সেই ক্ষুধার্ত কায়া।

    হঠাৎ একটা প্রচণ্ড আওয়াজ হয় ঘরের দরজায়, কে যেন চরম আক্রশে লাথির পর লাথি মারছে। দড়াম করে পাল্লা দুটো খুলে যায়, দেখা যায় রক্তমাখা বন্দুকহাতে এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে, সেই মরিস।

    “আমি বলেছিলাম না, আমি ফিরে আসব, তোদের শয়তানীর খেলা আজই শেষ করব চিরতরে, তোদের পাপের শাস্তি ঈশ্বর নয়, আমিই দেব,” দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে মরিস।

    কিছুক্ষনের জন্য হকচকিয়ে যান লেডি রেজমণ্ড, বুঝে উঠতে পারেননা কি করবেন, কিছু ভাবার আগেই দেখেন মিস টোরি চিৎকার করে হাতের ছুরিটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে মরিসের ওপর।

    একটা গুলির শব্দ, একটা তীব্র আর্তনাদ, কাটা মুরগীর মত মিস টোরির শরীরটা একপাশে ছিটকে পড়ে কাঁপতে থাকে।

    আবার একটা গুলির শব্দ, ঝনঝন করে ভেঙে পড়ে সেই আয়নাটা। “নাহহহহ,” চিৎকার করে লেডি রেজমন্ড সেই ভাঙ্গা কাচগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে।

    মরিস এগিয়ে যায়, তার গায়ের ওভারকোর্টটা খুলে জড়িয়ে দেয় মোনার গায়ে, তারপর তার শরীরের বাঁধনগুলো একটার পর একটা করে খুলতে থাকে।

    .

    আট

    “আচ্ছা আয়নায় কাকে দেখা যায় বলো তো?”

    “অ্যাঁ, এটা আবার কিরকম প্রশ্ন, যে দেখে তাকেই দেখা যায়, আমতা আমতা করে জবাব দিই আমি।”

    শনিবারের সন্ধ্যে হতে না হতেই, নিয়ম-মাফিক নতুন গল্পের সন্ধানে চলে এসছিলাম প্রফেসর সোমের বাড়ি। ঢুকে সবে জমিয়ে বসেছি, আর প্রফেসরের এই উৎকট প্রশ্নবান।

    “শুধু কী তাই কৌশিক? শুধু কী নিজেকেই দেখা যায়?”

    “ইয়ে, মানে ফোকাসের মধ্যে যা যা পড়ে সবই দেখা যাবে, মানে যেগুলো আলো প্রতিফলিত করতে পারে আরকি।”

    “বেশ, আচ্ছা প্রজেরিয়া সম্বন্ধে কী জানো?

    “প্রজেরিয়া মানে সেই অসুখটা, যেটায় খুব কম বয়সেই বার্ধক্য এসে যায় সেইটে?”

    “একজাক্টলি, ঠিক ধরেছ।”

    “বলছি, আয়না, প্রতিফলন, প্রজেরিয়া, রিলশানটা কিন্তু ঠিক ধরতে পারছিনা স্যার।”

    “পারবে পারবে, আগে এক কাপ করে কড়া কফি হয়ে যাক।

    প্রফেসর উঠে গেলেন কফির কথা বলতে, আর আমিও নড়েচড়ে বসলুম একটা নতুন গল্পের আশায়।

    “আমি তখন ডরসেটে চার্চের একটা মেডিকেল ক্যাম্পে কাজ করছি বুঝলে, সেখানেই এক চিকিৎসক ভদ্রলোকের সাথে হঠাৎ করে বেশ আলাপ জমে ওঠে,” কফির কাপটা রাখতে রাখতে বললেন প্রফেসর।

    “কথায় কথায় উনি জানতে চান আমার ভিনদেশী হয়েও এভাবে চার্চে পড়ে থাকার কারন ইত্যাদি। প্রথমে ভেবেছিলাম আমার প্রফেশানটা শুনে খুব হাসাহাসি করবেন উনি, কারন হাজার হোক মেডিকেল সাইন্সের লোক, কিন্তু দেখলাম পুরো উল্টো।”

    “কী দেখলেন প্রফেসর,” আমি প্রশ্ন করি।

    “দেখলাম হাসিখুশি মানুষটা হঠাৎ করে বেশ গম্ভীর হয়ে গেলেন, তারপর আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে ধীরে ধীরে বললেন, উনি আমাকে কিছু গোপণীয় কথা বলতে চান, আমি যেন ওনার সাথে ওনার বাড়িতে যাই।”

    “আপনি গেলেন?”

    “সাধারানত কোনও অপরিচিত লোকের বাড়ি আমি যেতে চাইনা, কিন্তু ভদ্রলোকের এই হঠাৎ রুপান্তর আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছিল, তাই এবারে যেতে বাধ্যই হলাম বুঝলে। ক্যাম্প থেকে মাইল খানেক দূরে ছিল ডাক্তার মর্সের বাড়িটা। বাড়িতে পৌঁছানোর পর, উনি আমাকে একটা ফোটো আল্যবাম দেখালেন আর এক অদ্ভুত কাহিনি শোনালেন।”

    .

    নয়

    উফ, যাক শেষমেষ মা ঘুমিয়েছে, বাবা রোজ সকালে যা পইপই করে সাবধান করে দিয়ে যায়, সে তো ভেবেছিল আজ আর বেরতেই পারবেনা। পা টিপে টিপে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে জেনি, দুপুরে এই সময়টা তাকে একবার বেরতে হবেই, উফ নইলে দম বন্ধ হয়ে আসে তার।

    এই হ্যালুইনের মাসটা এলেই, শুধু তার মা বাবাই নয়, গোটা গ্রামটাই যেন বদলে যায়। ঘরের সব আয়নাগুলো ফেলে দেওয়া হয়, জানলা দরজার কাঁচগুলোও ঢেকে দেওয়া যায়, এমনকি চকচকে বাসনগুলো পর্যন্ত কাপড়ে মুড়ে দেওয়া হয়। হাসিখুশি প্রাণচঞ্চল গ্রামটা যেন মুহূর্তের মধ্যে শ্মশানের নীরবতায় রুপান্তরিত হয়। আর ছোটদের ওপর এসে পড়ে নানা বিধি নিষেধের পশরা।

    বাইরে একা একা তো দূরের কথা, একেবারেই বেরনো বন্ধ, কোনওরকম ভাবে কোনও কাচ কিম্বা আয়নায় মুখ দেখা যাবে না, ধারে কাছেই যাওয়া যাবে না ইত্যাদি।

    কেন যাওয়া যাবে না, এই প্রশ্নের উত্তরে শুধু বকুনিই জুটেছে, জেনির একদম ভালো লাগেনা, সারাদিন এই বদ্ধ ঘরে বসে থাকতে, সে যতই খেলনার জিনিস দিয়ে বাবা-মা তাকে ভোলাতে চাক না কেন। যদিও জেনির সব বন্ধুবান্ধব এই ব্যাপারটা মেনে নিয়েছে, তারা ঘরেই বসে থাকে হ্যালুইনের এই মাসটা।

    ওরা সব এক একটা মস্ত বোকা, মনে মনে ভাবে জেনি, ব্যাস আর সদর দরজাটা খোলার অপেক্ষা, তারপরেই মুক্ত পৃথিবী

    বদ্ধপুরী থেকে বেরিয়ে আসে জেনি, তারপর এক দৌড়ে বামুন পাহাড়ের চূড়াতে, যেখানে রামধনু খেলে যায়। বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে নেয় সে, হাতে মাত্র সময় মিনিট দশেক, তার মধ্যেই ফিরতে হবে, নইলে মা জেগে যাবে, আর মা জেগে গেলেই ব্যাস।

    বামুন পাহাড়ের চূড়ায় থাকা দীঘিটা তার সবথেকে প্রিয় জায়গা, শীতের শুরুতে একটু একটু করে জমতে থাকে সেটা, রোজ এসে সে দেখে টলটলে জল ভর্তি দীঘিটা কিভাবে একটু একটু করে তুষারের কবলে চলে যাচ্ছে।

    আজও সে একইভাবে দেখছিল, দীঘির জলে ঝুঁকে পড়ে, একমনে। হঠাৎ, দীঘির শান্ত জল তোলপাড় করে কি যেন একটা দূর থেকে সজোরে তার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। জেনি আপ্রাণ চেষ্টা করে পাড় থেকে এক ঝটকায় দূরে সরে আসতে, কিন্তু কৌতূহল একটা বড্ড বাজে জিনিস, সে পারেনা। আর তখনই ঘটে যায় সর্বনাশটা। দুটো কালো রোমশ হাত জল ভেদ করে উঠে আসে, আর জড়িয়ে ধরে জেনির মুখটা, আতঙ্কে সে চিৎকার করে ওঠে।

    “কী হয়েছে মা, ঘুমের মধ্যে চিৎকার এত করছিস… নাহহহ, কী সর্বনাশ ওর মাথার কাছে আয়নাটা কে রেখেছিল, সব শেষ হয়ে গেছে।”

    ধড়ফড় করে উঠে বসতে চায় জেনি, কিন্তু পারেনা তার সারা শরীরে অসংখ্য সূচ ফোটানোর যন্ত্রণা, মাথাটা অসম্ভব ভারী হয়ে আছে, শুধু এটা বুঝতে পারে সে একটা ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন দেখছিল, কিন্তু তার স্বপ্ন দেখার জন্য মা এত চিৎকার করে কাঁদছে কেন, নাহ তার মাথা আর কাজ করছেনা। আপ্রাণ চেষ্টা করে সে পাশ ফেরার চেষ্টা করতে থাকে, আর তখনই চোখে পড়ে তার পাশে রাখা বড় আয়নাটা, ওকি আয়নায় তো তার মুখ তো দেখা যাচ্ছেনা, ওখানে ঐ বুড়ি মানুষটাই বা কে, নাহ আর সে ভাবতে পারেনা, সারা শরীরটা থরথর করে কাঁপতে থাকে জেনির, সে জ্ঞান হারায়।

    .

    দশ

    “যদিও আমার এ বিষয়ে খুব বেশি আইডিয়া নেই, তবু খালি চোখে দেখে তো মনে হচ্ছে সব প্রজেরিয়া পেসেন্ট,” প্রফেসর সোম বললেন।

    “এক্সক্টলি সোম, তুমি ঠিক ধরেছে, বাই দা ওয়ে তোমাকে নাম ধরে ডাকলাম বলে আবার কিছু মনে করলে না তো?” মর্স প্রশ্ন করলেন।

    “একেবারেই নয়, আমি আপনার বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় দুটোতেই বেশ ছোট, তাই নাম ধরে ডাকলে আমার ভালোই লাগবে,” প্রফেসর সোম মাথা নাড়ালেন।

    “বেশ তবে তুমি করেই বলছি, আচ্ছা এই অ্যালবামের ছবিগুলোতে কোনও বিশেষত্ব তোমার নজরে পড়ছে কী?”

    “আজ্ঞে সেভাবে তো কিছু বুঝতে পারছিনা, তবে প্রতিটা রোগীর আশেপাশের পরিবেশ সব এক ধরনের, আচ্ছা এটা কি কোনও রোগীদের ক্যাম্প জাতীয় কিছু?”

    “জানতাম তোমার এটা চোখ এড়াবেনা। নাহ এটা কোনও ক্যাম্প বা ডায়গানোসিস সেন্টার নয়। এদের মধ্যে একটাই মিল এরা সব এক গ্রাম থেকে এবং প্রত্যেকেই মেয়ে।”

    “মানে? ঠিক বুঝলাম না।” প্রফেসর সোম বিস্মিত হন।

    “কয়েকবছর আগে একবার এক গ্রামে মেডিকেল ক্যাম্প করতে গিয়ে আমি এক অদ্ভুত ঘটনার সম্মুখীন হই বুঝলে সোম, যে ঘটনা আমার এত বছরের অভিজ্ঞতা, মেডিক্যাল সাইন্সের লজিক সব কিছুকে এক নিমেষে গুলিয়ে দিয়েছিল।”

    “বেশ তো আমাকে খুলে বলুন না, যদিও আমার ক্ষমতা খুবই সীমিত, তবু দেখি কোনও আলোকপাত করতে পারি কিনা।”

    “হ্যাঁ, সেই জন্যই তোমাকে এত দূর ডেকে নিয়ে এলাম। জানো সেই গ্রামে বেসিকেলি কুষ্ঠ রোগীদের জন্য ক্যাম্প করতে গেছিলাম আমরা, তো হঠাৎ একদিন এক ব্যাক্তি এসে আমার হাত পা ধরে টানাটানি করতে থাকে, সে প্রায় পাগলের মত অবস্থা, তার মেয়ে নাকি রাতারাতি বুড়িয়ে গেছে, আমাকে সারিয়ে দিতে হবে।

    “তারপর?”

    “আমি সেই ব্যাক্তির সাথে ওনার বাড়ি যাই, গিয়ে ওনার মেয়েকে দেখি, আপাতচক্ষে প্রজেরিয়া কেসই মনে হল, কিন্তু?”

    “কিন্তু?”

    “উনি যেটা বললেন যে রাতারাতি এই ঘটনাটা ঘটেছে, যেটা মেডিকেল সাইন্সের থিয়োরি সাপোর্ট করেনা। আর সব থেকে অবাক ঘটনা কী জানো?”

    “কী?”

    “ওদের প্রতিবেশিরাও ওটাকে সাপোর্ট করল, এটা নাকি এই গ্রামের অভিশাপ, অনেক বছর আগে লেডি রোজমণ্ড নামে এক ডাইনী বুড়ি নাকি এই গ্রামেই বাস করত। সে নাকি জোয়ান মেয়ে ধরে এনে তাদের বয়স চুরি করে আজীবন যৌবন ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছিল, লোকচক্ষুর আড়ালে তার এই ব্যাবসা ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ এক যুদ্ধ ফেরত সৈনিক তার এই কার্যকলাপ ধরে ফেলে, তার বাগদত্তাও নাকি বুড়ির এই জঘন্য পরিকল্পনার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছিল। যাইহোক সেই যুবক সৈনিক গ্রামবাসীদের সাহায্য নিয়ে বুড়িকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। ঘটনার আকস্মিকতায়, গ্রামবাসীরা বুড়ির প্রাসাদসম বাড়িটাকে বাইরে থেকে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন নাকি সেই লেডি রোজমণ্ড তার শাগরেদরা আর সেই সৈনিকও ঘরের মধ্যেই ছিল, সবাই আগুনে পুড়ে মারা যায়। আর তারপর থেকেই নাকি শুরু হয় বুড়ির অভিশাপ।”

    “কীরকম অভিশাপ?”

    “এই প্রতি ৫ বছর অন্তর নাকি হ্যালুইনের দিনে কোনও কোনও যুবতী মেয়ে নাকি তার জীবনের বছর গুলো হারিয়ে ফেলে আয়নায় মুখ দেখে ফেললে, তাই ওরা শুধু হ্যালুইনের দিনটাই নয় পুরো হ্যালুইনের মাসটাই সব আয়না কাঁচ ইত্যাদি ঢেকে রাখে প্রিকশান হিসাবে, কিন্তু শত নিরাপত্তা স্বত্বেও কেউ কেউ ভুল করেই ফেলে আর তার মাশুল দিতে হয় তাকে, যেমন এই ব্যাক্তির মেয়েটা দিচ্ছে।”

    “ভারী অদ্ভুত তো, বললেন প্রফেসর সোম।”

    “হ্যাঁ সোম, আমারও বিশ্বাস করতে খুব অসুবিধা হয়েছিল, কিন্তু সারা গ্রাম জুড়ে আরও অনেককে খুঁজে পেলাম। নর্মাল চিকিৎসা প্রণালীর প্রয়োগ ছাড়া আর আমার কিছু করার ছিলনা সেই সময়ে, আমি ফিরে এসেছিলাম অনেক মনে অনেক প্রশ্ন নিয়ে।”

    “তা আপনি আমার কাছে কী আশা করছেন?”

    “তোমার সাথে পরিচয় হওয়ার পর আমার মনে হয়েছে এর থেকে যোগ্য লোক আমি আর পাবনা। তুমি যাবে আমার সাথে সেই গ্রামে একবার, যদি কোনও সমাধান খুঁজে পাও, কারন বিজ্ঞানের লোক হিসাবে আমার পক্ষে এই ঘটনাটা মেনে নেওয়া বড্ড মুশকিল।”

    “বেশ তো, আমার কোনও আপত্তি নেই, কারন এই অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাটাই আমার পেশা, তবে হ্যাঁ আমাকে কিছুদিন সময় দিন, চার্চের সাথে কথা বলতে হবে। আর কদিন বাদেই হ্যালুইনও আসতে চলেছে, ঐ সময়ই যাওয়া হোক।”

    “তাহলে ঐ কথাই থাকলো, তুমি আমাকে বলে দিও সময়টা, আমি হাসপাতাল থেকে আগ্রিম ছুটি নিয়ে নেব, আর তারপর বেড়িয়ে পড়ব, ডাঃ মর্সের মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল।”

    .

    এগারো

    “আপনি গেলেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

    “হ্যাঁ, যাবোনা কেন কৌশিক, আমি তো এইসব সুযোগের অপেক্ষাতেই থাকতাম।” বললেন প্রফেসর।

    “দাঁড়াও একটু গলা ভিজিয়ে নিই, অনেকক্ষণ বকে বকে গলা বসে গেছে।”

    “সেই গ্রামে গিয়ে কী দেখলেন?”

    “গ্রাম দেখার আগে বলি কিভাবে সেই গ্রামে গেলাম, উফ কি পান্ডববর্জিত সেই জায়গা, টানা দুদিন ট্রেন, ঘোড়ার গাড়ী ইত্যাদি করে সেখানে পৌঁছালাম অবশেষে। চারিদিকে পাহাড় ঘেরা মাঝে একটা মালভূমির মত জায়গা আর সেখানেই গড়ে উঠেছে গ্রামটা, সব মিলিয়ে ৫০-৬০ ঘর হবে, সবারই প্রায় ফার্ম হাউস, সব চাষ আবাদ করা মানুষ, সবাই সবাইকে চেনে, এত ছবির মত সুন্দর গ্রামকে দেখলে বাইরে থেকে দেখলে বোঝাই যায়না এরা ভিতরে ভিতরে এরকম একটা অসুখের বীজ বয়ে নিয়ে চলছে। ডাক্তার মর্স আগেই টেলিগ্রাম করে দিয়েছিলেন সেই ব্যাক্তিটিকে। আমরা সোজা ওনার বাড়িতেই গিয়ে উঠলাম। ভদ্রলোকের নাম জন স্যামুয়েল।”

    “ওনাকে আপনাদের আসার আসল উদেশ্যটা জানিয়েছিলেন।”

    “হ্যাঁ, টেলিগ্রামে ডাক্তার মর্স সবই জানিয়েছিলেন। জন খুব খুশিই হয়েছিল আমাদের আসায়, কারন সামনেই হ্যালুইন, আবার কার সর্বনাশ ঘটবে কে জানে, জনের আর একটা মেয়েও আছে, তাই সে চায় একজনের সাথে যা সর্বনাশ হয়েছে হয়েছে, আর কারোর কোনও মেয়ের সাথে যেন এরকম না হয়। আমি আশ্বস্ত করলাম ওনাকে।”

    “আর ওনার আগের সেই মেয়েটা, যাকে ডাক্তার মর্স দেখতে এসেছিলেন?”

    “ওহ তোমাকে বলা হয়নি, সে বেশ কদিন আগে মারা গেছিল শুনলাম, আসলে এই সমস্ত রোগীদের লাইফ স্প্যান খুব অল্প হয়, তার ওপর এই অজ পাড়াগাঁয়ে উপযুক্ত ওষুধ-পথ্যের অভাব ব্যাপারটাকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করে দেয় আরকি। তবে জন ভেঙে পড়েনি দেখলাম, ছোট মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়েই তার জগৎ এখন। জনের ছোট মেয়ের নাম ছিল রুবি, খুব মিষ্টি একটা মেয়ে।”

    “গ্রামে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেলেন?”

    “শুধু দরজা জানলার কাঁচগুলো কাগজ-কাপড় দিয়ে ঢাকা ছাড়া আর কিছু তেমন চোখে পড়েনি।”

    এই কেস সলভ করতে গেলে প্রথমেই আমার দরকার ছিল এই গ্রামের ইতিহাস খুব ভালোভাবে জানা। জনের কাছে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম এক বুড়ো কাঠমিস্ত্রীর কথা, সে নাকি লেডি রোজমণ্ডকে নিজের চোখে দেখেছে। আমি ডাক্তার মর্স আর জন বেরিয়ে পড়লাম তার বাড়ির দিকে।

    “বুড়োর কাছ থেকে কিছু জানতে পারলেন?”

    “বিশেষ কিছুই না, আসলে বয়সের ভারে জীর্ন একটা মানুষ, খুব ছোটবেলায় লেডি রোজমণ্ডকে দেখেছে কয়েকবার। উনি যখন দেখেছিলেন তখন লেডি রেজমন্ড পূর্ন যুবতী, কি নাকি তার রুপের ঝলক, পরের দিকে বুড়িকে নাকি বাইরে দেখাই যেতনা। আর এই অভিশাপটাকে উনি সত্যি বলেই মানেন, সেদিন লেডি রোজমণ্ডের প্রাসাদ জ্বালানোর দিন যে সমস্ত গ্রামবাসীর হাত ছিল, শুধু তাদের পরিবারের লোকদের ওপরই নাকি অভিশাপটা আছে ইত্যাদি।”

    “তাহলে তো কাজের ইনফর্মেশান কিছুই পেলেন না?”

    “একেবারেই না সেটা বলা ভুল। সারা গ্রাম তন্ন তন্ন করে খুজেও লেডি রেজমন্ডের কোনও ছবি আমরা পাইনি, তবে বুড়ো কাঠ মিস্ত্রীটা একটা দারুণ তথ্য আমাকে দিয়েছিল।”

    “কি সেটা?”

    “গ্রামের বাকী সব মেয়েদের চুল কালো হলেও, লেডি রোজমণ্ডের চুল ছিল সাদা পাটের মত, মানে ব্লন্ড আর কি। এরপরে আমরা গেলাম লেডি রোজমণ্ডের সেই প্রাসাদ দেখতে যেটা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। জন নিজেই আমাদের সেখানে নিয়ে যায় কিন্তু উনি ওখানে আর দাঁড়াতে রাজি হননি। জনকে বিদায় জানিয়ে আমি আর ডাক্তারবাবু থেকে যাই ওখানে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকি সেই অভিশপ্ত মহলকে। আগুন আর সময়, উভয়ের থাবায় জর্জরিত একটা অট্টালিকা, বড় বড় বুনো গাছে অধিকাংশই ঢেকে গেছে বুঝলে…”

    .

    বারো

    “কী দেখছেন এত মন দিয়ে মহাশয়? এই পাষানপুরীতে এত বছর পরে আর দেখার কী থাকতে পারে?”

    লেডি রোজমণ্ডের পুড়ে যাওয়া মহল দেখতে মশগুল প্রফেসর সোম আর ডাক্তার মর্স, হঠাৎ পেছন থেকে আসা জলদগম্ভীর স্বরে চমকে ওঠেন তাঁরা। এক বয়স্ক ব্যাক্তি আর এক অল্পবয়সী মহিলাকে দেখা যায়, এদিকেই এগিয়ে আসছে।

    “কিছুইনা, আমরা টুরিস্ট কালকেই এসেছি এই গ্রামে, তাই দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখছিলাম, প্রফেসর সোম সামাল দিলেন।”

    “এই গ্রামে আবার দর্শনীয় স্থান? তাও আবার বুড়ি রোজমণ্ডের পোড়া মহলে, হাসালেন মশাই। ওহো কথায় কথায় দেখুন আমার পরিচয় দিতেই ভুলে গেছি, আমি শ্যাম স্মিথ, এই গ্রামেই থাকি, আর এই আমার মেয়ে মার্থা। পাহাড়ের ওপাশটাই আমার বাড়ি, আপনারা তো টুরিস্ট মানুষ, আসুন না একদিন আমার বাড়ি, বেশ জমিয়ে গল্প করা যাবে।”

    “নিশ্চয় নিশ্চয় যাবো একদিন, ডাক্তার মর্স হেসে উত্তর দিলেন, আমরা আছি তো বেশ কদিন।”

    “তা আপনারা উঠেছেন কোথায়?”

    “জন স্যামুয়েলের বাড়ি।”

    “ওহ আপনারা জনের বাড়ি উঠেছেন, ওকে বলবেন আমার কথা, খুব ভালো করে চেনে, যাকগে আজকের মত বিদায় নিচ্ছি, আপনারা ঘুরুন।”

    মিস্টার স্মিথ আর তাঁর মেয়ে নমস্কার জানিয়ে চলে যায়।

    “খেয়াল করে দেখেছ সোম, ভদ্রলোকের মেয়ে কিন্তু অপূর্ব সুন্দরী, ডাক্তার মর্স মুচকি হাসেন।”

    “তা করেছি বটে, তবে আপনি একটা জিনিস খেয়াল করেছেন কী?”

    “কী বলোতো?”

    “মার্থার চুলগুলো পাটের মত সাদা কিন্তু।” প্রফেসর সোম উত্তর দেন।

    “অ্যাঁ, তাই নাকি, এহে তা তো খেয়াল করিনি।”

    “সে যাকগে, এখন চলুন গৃহকর্তার বাড়িতে ফেরা যাক, পথ তো খুঁজে

    খুঁজে যেতে হবে, এদিকে সন্ধ্যেও হয়ে এল বেশ।”

    “হ্যাঁ ঠিক বলেছ, চলো চলো।”

    প্রফেসর সোম আর ডাক্তার মর্স জনের বাড়ির দিকে পা চালান।

    .

    তেরো

    “সেদিন রাতে ডিনার টেবিলে জনের কাছ থেকে একটা অদ্ভুত জিনিস জানতে পারি বুঝলে কৌশিক।”

    “কী জিনিষ?” আমি প্রশ্ন করি

    “জন জানায় যে, শ্যাম স্মিথ এই গ্রামে অনেকদিন ধরেই আছেন, শুরুতে উনি আর ওনার মা এই গ্রামে এসেছিলেন। ভদ্রলোক বোধহয় যুদ্ধের সময় সরকারী স্পাইয়ের কাজ করতেন, কারন এখানে আসা অবধি ওকে কোনও কাজ করতে দেখেননি তারা, প্রচুর টাকা পয়সা নিয়ে এসেছিলেন বোঝাই যায়। সেই টাকাই সুদে খাটানো ওনার ব্যাবসা বটে, তবে ওনার মত সহৃদয় ব্যাক্তি এই গ্রামে আর দুটি নেই, যখনই কেউ আপদে বিপদে পড়ে, উনি তার পাশে গিয়ে দাঁড়ান, অকাতরে সাহায্য করেন ইত্যাদি।”

    “আর ওনার মেয়েটা?”

    “হ্যাঁ বলছি, আমি জনকে প্রশ্ন করি ওনার মেয়ের ব্যাপারে। জন বলে মেয়েটি ওনার নিজের মেয়ে নয়, ভদ্রলোক সারাজীবন বিয়ে থা করেননি, এক বুড়ি মা ছাড়া তাঁর আর কেউ ছিলনা, মা মারা যাওয়ার পর উনি প্রায় পাগলের মত হয়ে গেছিলেন, গ্রাম ছেড়ে বেশ অনেকদিনের জন্য বাইরে চলে গেছিলেন, ফিরেছিলেন ঐ মেয়েটিকে শহর থেকে দত্তক নিয়ে।”

    “সেই কারনেই বোধহয় গ্রামের আর সব মেয়ের থেকে মার্থার চুলের রঙ আলাদা।”

    “হুম এক্সাক্টলি। যাইহোক সেদিন রাতে একটা ঘটনা ঘটে বুঝলে।”

    “কি?”

    “আমার আর ডাক্তার মর্সের শোওয়ার জন্য দোতলার কোনের দিকের একটা ঘরে শোয়ার ব্যাবস্থা করা হয়েছি। সেই ঘর লাগোয়া একটা ঝুল বারান্দা ছিল। আমরা যখন রাতে আলোচনা করছিলাম, তখন হঠাৎ আমার মনে হয় ক যেন বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনছে। আমি দৌড়ে বাইরে যাই, কিন্তু কাউকে দেখতে পাইনি। আমার এতটা ভুল হওয়ার কথা নয়, স্পষ্ট দেখেছি এক নারীর ছায়া কে নড়া চড়া করতে। যাকগে, ডাক্তার সাহেবকে বলতে উনি হেসেই উড়িয়ে দেন। কিন্তু আমি একটা জিনিস বুঝতে পেরে যাই।”

    “কী প্রফেসর?”

    “আমাদের হাতে আর সময় বেশি নেই, খুব তাড়াতাড়ি কিছু একটা করতে হবে। নইলে সামনে ভয়ঙ্কর বিপদ আসতে চলেছে। আমি ডাক্তার মর্সকে বলে বেরিয়ে পড়লাম সেই রাতেই।”

    “কোথায়?”

    “দুয়ে দুয়ে একটা চার করার ব্যাপার ছিল, জানতাম এতে বিশাল বিপদ কিংবা বদনাম হতে পারে, কিন্তু রিস্কটা আমাকে নিতেই হত, ডাক্তার মর্স তো আমাকে কিছুতেই ছাড়বেন না। আমিও নাছোড়বান্দা, যে হারে নজরদারী আরম্ভ হয়েছে দেরি হলে সব প্রমাণ লোপাট হয়ে যেতে পারে। ওনাকে অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে, চোরের মত পা টিপে টিপে বাড়ি থেকে বের হলাম, আর সঙ্গে নিলাম আমার টুল বক্সটা। ওকে বলে গেলাম যে কাল ভোরের মধ্যে যদি আমি না ফিরি তাহলে চার্চে যেন একটা খবর দেওয়া হয়, পুলিশের ঝামেলা করার দরকার নেই, বাকি কাজটা ওনারাই করে দেবেন। আমি অন্ধকারে পবিত্র পিতাকে স্মরণ করে বেরিয়ে পড়লাম, যদিও আগেই রাস্তাটা চিনে রেখেছিলাম, তবু রাতের বেলা সবই অন্যরকম লাগে।”

    “কিন্তু গেলেনটা কোথায়?”

    “গ্রামের কবরখানায়, লোকাল চার্চকে আগেই বলে রেখেছিলাম, ওরা সব ব্যাবস্থা করে রেখেছিল। কাজে নেমে পড়লাম জলদি।”

    “কিসের ব্যাবস্থা? কী কাজ? আমার কিছুই মাথায় ঢুকছেনা প্রফেসর, আমি

    প্রশ্ন করতে বাধ্য হলাম।”

    “বুঝবে সব বুঝবে, ধৈর্য ধরো কৌশিক। তা যাইহোক, যেটা খুঁজছিলাম সেটা পেয়ে গেলাম ওখানে, দেখতে দেখতে সকালও হয়ে এল, আমি জনের বাড়ির দিকে ছুট লাগালাম ডাক্তার মর্সকে খুশির খবরটা দিতে, কিন্তু পৌঁছে দেখি চরম বিপদ ঘটে গেছে।”

    “কী বিপদ?”

    “গিয়ে শুনলাম মর্স নাকি ভোর হতেই আমার খোঁজে বেরিয়ে গেছে, এখনও ফেরেনি। আমার মাথায় বাজ পড়ল, ইস এত বড় ভুলটা আমি কি করে করে বসলাম, ওনাকে একা ছাড়া আমার একদম উচিৎ হয়নি। নিজের গালে দুটো চড় মারতে ইচ্ছে করল। যাইহোক যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, আর সময় নষ্ট করা উচিৎ হবেনা। জনও আমার সাথে আসতে চাইছিল, আমি বারণ করলাম, আর বললাম চার্চে সব বলা আছে, ওনাদের নিয়ে জন যেন শ্যা স্মিথের বাড়িতে পৌঁছে যায়। এই কথায় জন বেশ অবাক হয়, উনি নাবি কিছুক্ষন আগেই দেখেছেন, স্মিথ সাহেব আর ওনার মেয়ে ঘোড়ার গাড়ি হাঁকিয়ে শহরের দিকে চলে গেছেন। আর কথা না বাড়িয়ে আমি যা জন কে যা বলছি সেটাই করতে বলে পথ নির্দেশ জেনে নিয়ে দৌড় দিলাম শ্যাম স্মিথের বাড়ির দিকে।

    “গিয়ে কী দেখলেন?”

    “দেখলাম সত্যিই বাড়িতে কেউ নেই, বাইরে থেকে তালা দেওয়া। কিন্তু নাহ, আমার হিসাব অনুযায়ী এটাতো হতে পারেনা, আর শুধু অনুমানই নয়, কাল রাতে প্রমাণও পেয়েছি। সদর দরজায় তালায় বেশ কয়েকবার সজোরে পাথরের বাড়ি দিলাম, তালা খসে পড়ল। আমিও ঢুকে পড়লাম ঘরের ভিতর, কিন্তু নাহ এদিক সেদিক দেখেও কোনও অস্বাভাবিকতা তো চোখে পড়লনা, তবে সত্যিই কি আমার হিসেবে কোথাও বড় ভুল হয়ে গেল, আর সেই ভুলের মাশুল দেবেন ডাক্তার বাবু? আরে ওটা কি কোনের দিকে?”

    “কি দেখতে পেলেন?”

    “কি দেখতে পেলাম জানিনা, তবে হঠাৎ মাথার পেছনে তীব্র বেদনা অনুভব করলাম, জ্ঞান হারানোর আগে এটুকু বুঝলাম কেউ একটা ভারি জিনিস দিয়ে মাথার পেছনে জোরে বাড়ি মারল।

    .

    চোদ্দ

    ঝপাশ!

    মুখে একরাশ ঠান্ডা জলের ঝাপটা এসে পড়ে প্রফেসর সোমের, জ্ঞান ফিরে আসে তাঁর। ধড়ফড় করে উঠে বসতে যান তিনি, কিন্তু পারেন না, নিজেকে একটা পাথরের খুঁটির সাথে পিঠমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় পান। ঘাড় ঘুরিয়ে চারিদিক দেখতে থাকেন তিনি, সম্ভবত একটা গুহার ভেতর জায়গাটা, আলো-আধারি একটা স্যাতস্যাতে পরিবেশ।

    “গুড মর্নিং মিস্টার সোম, কি নামটা ঠিক বললাম তো?”

    “একদম, কোনও ভুল নেই, ঠিক যেমন আপনাদের খেলাটায় কোনও ভুল ছিলনা, কি ঠিক বললাম তো মিস্টার স্মিথ।”

    হো হো করে হেসে উঠলেন শ্যাম স্মিথ।

    “তুমি যে এত তাড়াতাড়ি গোটা ব্যাপারটা ধরে ফেলবে আমরা বুঝতে পারিনি। হ্যাটস অফ টু ইয়োর ইমাজিনেশন।”

    “ইউ আর ওয়েলকাম, কিন্তু এবারে তো আপনাদের এই খেলাটা বন্ধ করতে হবে।”

    “কে বন্ধ করবে? তুমি? নাকি এই মেরুদন্ডবিহীন গ্রামবাসীরা? চিবিয়ে চিবিয়ে বলে উঠলেন শ্যাম স্মিথ।”

    “আমি এদিকে আসার আগে চার্চকে সব জানিয়ে এসেছি, ওরা খোঁজ করতে এলো বলে।”

    “হাসালে তুমি, প্রথমত এই জায়গা কেউ খুঁজে পাবেনা, দ্বিতীয়ত সবাই দেখেছে আমি আর আমার মেয়ে সকাল বেলাই শহরে বেরিয়ে গেছি।”

    “এবার অন্তত লেডি রেজমণ্ডকে মেয়ে বলাটা ছাড়ুন।”

    “চোপ!” শ্যাম স্মিথের হুঙ্কার প্রতিধ্বনিত হতে থাকে পাথরের দেওয়ালে। দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে উনি বলে চলেন।

    “অনেক, অনেক জানার ইচ্ছা না তোমার? তাই আমার মায়ের কবরটা খুঁড়ে লাশটা না পেয়েই দুয়ে দুয়ে চার করে নিলে? এসো আজই তোমার জ্ঞানপিপাসা চিরকালের মত মিটিয়ে দিচ্ছি।”

    “হ্যাঁ আমিই সেই ফৌজি মরিস, যে লেডি রেজমন্ডকে হাতে নাতে ধরে ফেলেছিল, আবার আমিই সেই ফৌজি মরিস যে বুড়িকে আর তার একটুকরো ভাঙ্গা আয়নাকে জনগনের হাত থেকে আজ ৩০ বছর ধরে রক্ষাও করে চলেছি।”

    “কিন্ত কেন? আমি তো যতদূর শুনেছিলাম, লেডি রেজমণ্ড আপনার বাগদত্তাকে তার ঐ বয়সখেকো আয়নার কাছে উৎসর্গ করে দিয়েছিল, তবে কেন আপনি আবার সেই নোংরা খেলাতেই মেটে উঠলেন?” প্রফেসর সোম প্রশ্ন করলেন।

    “কেন? কারন জানতে চাইছ? এবারে বৃদ্ধকে কিছুটা আনমনা দেখালো। কারন আমি প্রচন্ড ভালবাসতাম মেরিকে, বোধহয় নিজের প্রাণের থেকেও বেশি। তাই সেই রাতে ঐ শয়তান বুড়িটাকে শেষ ঘুম পাড়ানোর জন্য যখন আমার বন্দুকটা তুলেছিলাম, ও বলেছিল আমার মেরিকে ও আবার ফিরিয়ে দিতে পারে, যদি আমি আয়না দেবতাকে তুষ্ট করি। ওর কথা মানা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না, কারন মেরিকে আমায় ফিরে পেতে হবেই। আর তারপর থেকেই একটা করে বাচ্চা মেয়েকে তুলে এনে বছরের পর বছর ওর সাধনায় যোগান দিয়ে গেছি, ওর আয়না দেবতাকে তুষ্ট করে গেছি, বুড়ি রেজমণ্ড আবার পূর্ন যৌবন পেয়ে গেছে। আর আজ সাধনার অন্তিম প্রহর উপস্থিত, আজ আয়না দেবতা আমাকে আমার মেরিকে ফিরিয়ে দেবে। সবই ঠিকঠাক চলছিল, মাঝখান দিয়ে তোমরা এসে বাগড়া দিলে। আমার কিন্তু তোমাদের সাথে কোনও ব্যাক্তিগত শত্রুতা নেই, কিন্তু আমার আর মেরির মাঝখানে যে এসে দাঁড়াবে তার পরিণতি হবে তোমার ঐ ডাক্তারবাবুর মতই।”

    “কি করেছেন আপনি ডাক্তারবাবুর সাথে।” চিৎকার করে ওঠেন প্রফেসর সোম।

    “ঐ দেখো, এখনও হয়ত তোমার বন্ধুর শ্বাস পড়ছে।” ডানদিকে ইশারা করে দেখালেন মিস্টার স্মিথ।

    ডাক্তার মর্সের উপুড় হয়ে পড়ে থাকা দেহটা দেখতে পান প্রফেসর সোম।

    ইশ, কি ভীষণ একটা ভুল তিনি করে বসলেন, আর সেই ভুলের মাশুল দিতে হল ডাক্তার সাহেবকে, হায় ঈশ্বর, গলা ছেড়ে চিৎকার করতে ইচ্ছে কার তাঁর, কিন্তু গলা দিয়ে একটা আওয়াজও বের হলনা, বড্ড অসহায় আজ প্রফেসর সোম।

    “এইবারেই শুরু হবে শেষের খেলা, হিসহিসিয়ে বলে উঠলেন শ্যাম স্মিথ।”

    “লেডি রেজমণ্ড সেদিনও আপনাকে ভুল বুঝিয়েছিল আর আজও বোঝাচ্ছে মিঃ স্মিথ, আয়না দেবতা কেনও স্বয়ং পরম পিতাও আপনার বান্ধবীকে ফিরিয়ে আনতে পারবেনা, এইসব পোর্টাল গুলো একমুখী হয়, যার প্রবেশ আছে কিন্তু বের হওয়ার কোনও রাস্তাই নেই, বুড়ি রেজমন্ড নিজের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আপনার ভালোবাসার তাসটাকে খেলেছে… আহ!”

    কথাটা শেষ করতে পারলেন না প্রফেসর, মুখে একটা শক্ত বুটের বাড়ি এসে পড়ল।

    “অনেক অনেক কথা তুই বলে ফেলেছিস, অনেক কিছু জেনে ফেলেছিস, আর একটু অপেক্ষা কর আয়না দেবতা তোর সব তেষ্টা মিটিয়ে দেবে।”

    প্রফেসর সোমের সামনে এসে দাঁড়ালো মার্থা ওরফে লেডি রেজমণ্ড, তার এক হাতে ধরা ছিল একটা ভাঙ্গা আয়নার টুকরো আর একটা পুরানো বাঁধানো বই।

    “আর সময় নষ্ট করা ঠিক হবেনা মরিস, ওকে নিয়ে এসো, আমি পূজোতে বসব।”

    বাধ্য ছেলের মত মাথা নাড়েন মিঃ স্মিথ, আর হন্তদন্ত হয়ে কোথায় একটা চলে যান। ফিরে আসেন পাঁজাকোলা করে একটা বেহুঁশ কমবয়সী মেয়েকে নিয়ে।

    এইবারে এই বেচারীর পালা, বুঝতে পারেন প্রফেসর, কিন্তু আজ তাঁর কিছুই করার নেই, কারন এই বাঁধন ছেড়ার মত শক্তি তাঁর অবশিষ্ট নেই, চার্চ কিংবা গ্রামের কেউ না এলে, আর বোধহয় মুক্তি নেই এই পাষাণপুরী থেকে।

    মার্থা আয়নাটাকে একটা উঁচু জায়গায় রাখলো, তারপর সেই বইটা খুলে কিছু দুর্বোধ্য মন্ত্র আউড়ে যেতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর শ্যাম স্মিথকে সে চোখের ইশারা করে কি যেন একটা বলল।

    মিস্টার স্মিথ তাঁর হাতে ধরা ছুরিটাকে আমূল বিঁধিয়ে দিলেন মেয়েটার পেটে, ফিনকি দিয়ে রক্তের ধারা নেমে এলো। পাগলের মত দু’হাতে সেই রক্ত মাখতে লাগলেন তিনি, তারপর এগিয়ে গেলেন আয়নার দিকে। পরম মমতায় আয়নায় বোলাতে লাগলেন সেই কাঁচা রক্তমাখা হাতদুটো।

    আরে, ওকি আয়না থেকে একটা কালো ধোঁয়ার কুন্ডলী বেরিয়ে আসতে থাকলো, ধীরে ধীরে সেটা যেন একটা মানুষের অবয়ব নিচ্ছে, কিন্তু কি বিশাল, মার্থা আর শ্যাম দুজনেই মাটিতে চোখ বুঝে হাঁটুতে মাথা নিচু করে বসে আছে, পাগলের মত কি যেন বিড়বিড় করে যাচ্ছে, এই সবটাই নীরব দর্শক হয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিলনা প্রফেসর সোমের।

    .

    পনেরো

    “জীবনে এত অসহায় কোনদিনও ফিল করিনি বুঝলে কৌশিক, যে নারকীয় দৃশ্য আমার সামনে ঘটে চলছিল, চোখ বুজে পরম পিতার কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া আমি কিছুই করতে পারিনি সেদিন, কিন্তু হঠাৎ…”

    “হঠাৎ? আমি প্রশ্ন করলাম।”

    “দেখলাম আমার শরীরের বাঁধুনি গুলো আসতে আসতে হাল্কা হয়ে আসছে, আমি ভাবলাম ডাক্তার মর্সের বুঝি জ্ঞান ফিরে এলো, কিন্তু নাহ, দেখলাম…”

    “কি দেখলেন?”

    “দেখলাম অবিনাশ, চুপিচুপি আমার বাঁধনগুলো খুলে দিচ্ছে হাসিমুখে। “মানে? অবিনাশ মানে আপনার সেই প্যারালাইজড হওয়া বন্ধু, সে সেখানে কি করে এলো, আর বাঁধন খুললোই বা কিভাবে?”

    “সব প্রশ্নের উত্তর পাবে এ গল্পের শেষে। ঐ পরিস্থিতিতে আমার ওদিকে মাথা ঘামানোর মত পরিস্থিতি ছিলোনা কৌশিক, কে আমার বাঁধন খুলে দিচ্ছে সেটা অবিনাশ হোক কিম্বা পরমপিতা।”

    হাতের বাঁধনটা আলগা হতেই, আমি পকেটে থাকা জেরুজালেমের পবিত্র বালি আর তেলের মিশ্রন ভরা বোতলটা ছুঁড়ে মারলাম, সেই অভিশপ্ত আয়নার টুকরোটাকে লক্ষ্য করে। একটা বিকটা শব্দ করে সেটা টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। আর সেই সঙ্গে আগুন ধরে গেল সেই ধোঁয়ার কুন্ডলীটাতেও। আর্তনাদ করে উঠল মার্থা, তার রূপ রঙ যৌবন একটু একটু করে খসে পড়তে থাকল, ধীরে ধীরে সেই আগের জরাগ্রস্থ বুড়ি রেজমণ্ডে রুপান্তরিত হয়ে গেল সে।

    “আর শ্যাম স্মিথ?”

    “শ্যাম স্মিথকে আমি আর খুঁজে পাইনি, সে যে বুকফাটা আর্তনাদ করতে করতে পাগলের মত দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন আর আমি তাকে দেখিনি কোনোদিন, জানিনা মেরির জন্য মরিসের সন্ধান কোনোদিন শেষ হয়েছিল কিনা।”

    “ডাক্তার মর্স কিম্বা সেই মেয়েটা? আর বুড়ি রেজমন্ডেরই বা কি হল?”

    “ডাক্তার মর্স আর সেই মেয়েটাকে বাঁচাতে পেরেছিলাম, গ্রামবাসীরা অকাতরে সেবা করেছিল ওদের। আর বুড়ি রেজমন্ড, তার গোটা শরীরটা একটা চামড়া আর হাড়ের কুন্ডলীতে পরিণত হয়ে গেছিল, আমাকে আর কিছুই করতে হয়নি।”

    “আচ্ছা এবারে বলুন অবিনাশ বাবু কিভাবে হঠাৎ ওখানে গেলেন? কিভাবে এটা পসিবল?”

    “তোমার মনে আছে গ্লুমি সানডের গল্প বলার সময় আমি বলেছিলাম, আমি যখন দোতলার জানলা দিয়ে বাইরে লাফিয়ে পড়তে যাচ্ছি, তখন এক বাঙালী গলা আমাকে আটকেছিল, সেটাই ছিল অবিনাশই, শুধু একবার নয় বহুবার ও আমার প্রাণ বাঁচিয়েছে ভায়া। মায়াকাননের সেই ঘটনার পর শরীরটা অবশ হয়ে যাওয়ার পর, ও দৈহিক ক্ষমতা হারালেও বিশেষ কিছু ক্ষমতা ডেভেলপ করেছিল নিজের মধ্যে, যার ফলস্বরুপ এইভাবে ও নিজেকে প্রকাশ করতে পারে।

    “একটু খুলে বলুন না প্লিজ।”

    “এর জন্য অ্যাস্ট্রাল প্রজেকশান সম্বন্ধে ভালো করে জানতে হবে, তবে আজ আর নয় আজ অনেক রাত্রি হয়ে গেছে তুমি বাড়ি যাও। তবে শুধু এটা জেনে রেখো অবিনাশের শরীরটা দোতলার ঘরের বিছানাতে পড়ে রইলেও, ও কিন্তু আমাদের এই গল্প জমিয়ে শুনছে।” বলেই হো হো করে হেসে উঠলেন প্রফেসর সোম।

    আর ঠিক তখনই আমি যেন আমার কাঁধের উপর আলতো করে একটা মৃদু টোকা অনুভব করলাম, কে যেন ডাকলো পেছন থেকে, ফিরে তাকালাম। কিন্তু নাহ, কেউ নেই তো সেখানে…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত
    Next Article মন্দ মেয়ের উপাখ্যান – সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার

    Related Articles

    কৌশিক সামন্ত

    মেলানকোলির রাত – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    কৌশিক সামন্ত

    প্রফেসর সোম আবার! – কৌশিক সামন্ত

    April 25, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }