Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেয়েদের ব্রতকথা – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প184 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রতকথা

    পুরাকালে আমাদের দেশে অশ্বপতি নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর সুশাসনে প্রজারা তাঁকে পিতার মতো ভক্তি করত। কিন্তু রাজার মনে সুখ ছিল না। তিনি ছিলেন নি:সন্তান।

    অবশেষে একদিন সন্তান-কামনায় তিনি রাজ্য ছেড়ে বনে গিয়ে সাবিত্রী দেবীর আরাধনায় প্রবৃত্ত হলেন। দীর্ঘ আঠারো বৎসর ধরে চলল তাঁর কঠোর তপস্যা। তখন দেবীর কৃপা হল। দেহজ্যোতিতে অন্ধকার বনভূমি আলোকিত করে রাজার সম্মুখে আবির্ভূতা হয়ে তিনি তাঁকে বর প্রার্থনা করতে বললেন। রাজা করজোড়ে দেবীকে তাঁর মনোবাসনা নিবেদন করতে, দেবী বললেন, ‘তথাস্তু। ভগবান ব্রহ্মদেবের আদেশে সত্বরই তোমার এক অলৌকিক রূপলাবণ্যময়ী কন্যাসন্তান লাভ হবে।’

    ‘তাই হোক!’ বলে দেবীকে প্রণাম করে মাথা তুলতেই রাজা দেখেন দেবী কখন অন্তর্দ্ধান করেছেন।

    প্রফুল্লচিত্তে রাজা আবার রাজধানীতে ফিরে এলেন। তারপর বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাটরানি মালবীর কোল আলো করে এল একটি মেয়ে। ঊষার মতো তার রূপের ছটা। রাজ্যময় আনন্দ-উৎসব পড়ে গেল। সাবিত্রীদেবীর বরে কন্যাসন্তান লাভ হয়েছে বলে রাজা-রানি আদর করে নাম রাখলেন তার সাবিত্রী।

    বহু আরাধনার এই একটিমাত্র সন্তান। আদরে যত্নে দিনদিন শশিকলার মতো বাড়তে লাগল সে। ক্রমে শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে এসে পদার্পণ করলে সাবিত্রী। পূর্ণিমার চাঁদও ম্লান হয়ে যায় তার রূপের ছটায়। কন্যার বিয়ের জন্যে স্বয়ংবর-সভা ডাকলেন রাজা। দেশ-দেশান্তর থেকে এলেন তরুণ রাজা আর রাজকুমারগণ। কিন্তু সাবিত্রীর দিকে চোখ তুলে চাইতেই তাঁদের সব চোখ ঝলসে যায় তার রূপের ছটায়। মনে হয় সদ্য স্বর্গ থেকে নেমে এলেন বুঝি কোনো দেবী। করজোড়ে ‘মা’ বলে নমস্কার করে তাড়াতাড়ি সরে পড়েন তাঁরা সবাই।

    দুশ্চিন্তায় মুষড়ে পড়তে থাকেন রাজা অশ্বপতি আর রানি মালবী। এত রূপ, এমন গুণ, তাই কি শেষে হল মেয়ের কাল?

    দিনের পর দিন গড়িয়ে চলে। প্রভাতসূর্যের রশ্মিমালার মতো ঝলমল করে যেন প্রহরে প্রহরে বেড়ে উঠতে থাকে সাবিত্রীর রূপ। যৌবনে এসে পদার্পণ করেন তিনি। দেবর্ষি নারদ এসে রাজাকে পরামর্শ দেন, ‘মহারাজ! দেবকন্যার মতো আপনার এ মেয়ে। তাকেই দিন মনমতো স্বামী খুঁজে নেবার অধিকার। প্রেরণ করুন মেয়েকে দেশভ্রমণে।’

    তাই হয়। রাজ্যময় পড়ে যায় ‘সাজ সাজ’ রব। দাসদাসী, লোকজন সঙ্গে করে একদিন শুভক্ষণে গৃহদেবতা ও পিতামাতার চরণ বন্দনা করে দেশভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন সাবিত্রী।

    কত নগর, কত জনপদ ভ্রমণ করেন তিনি, করেন কত তীর্থ পর্যটন। যেখান দিয়ে চলে যায় তাঁর রথ, করজোড়ে তাঁর উদ্দেশ্যে নমস্কার করে সরে যায় যত পথের লোক—এমনি তাঁর রূপবৈভব, এমনি তাঁর মহিমময় গাম্ভীর্য।

    এমনি করে চলতে চলতে একদিন তিনি এলেন এক তপোবনে। মহারাজ দ্যুমৎসেন রাজ্যহারা হয়ে অন্ধ অবস্থায় মহিষী শৈব্যা আর পুত্র সত্যবানকে নিয়ে তাপসজীবন যাপন করছিলেন সেখানে। তরুণ সূর্যের মতো ভাস্বর সত্যবান। তাঁরই সঙ্গে চার চোখের মিলন হল সাবিত্রীর। মনে মনে তাঁকে পতিত্বে বরণ করলেন তিনি।

    আর দেশভ্রমণের প্রয়োজন কী? গৃহে ফেরার আদেশ দিলেন সাবিত্রী সঙ্গের লোকজন সবাইকে।

    নয়নের নিধি একমাত্র কন্যা ফিরে এসেছে ঘরে। রাজা-রানির আনন্দ আর ধরে না। তবুও মনে জাগে সংশয়,—অভীষ্ট সিদ্ধ হয়েছে তো? এমন সময় সংবাদ এল দেবর্ষি নারদ মহারাজ অশ্বপতির সাক্ষাৎপ্রার্থী।

    ত্রস্তব্যস্ত হয়ে রাজসভায় ছুটে এসে পাদ্যঅর্ঘ্য দানে দেবর্ষিকে অভ্যর্থনা করলেন রাজা। যথারীতি কুশল প্রশ্নাদির পর সাবিত্রীর কথা জিজ্ঞেস করলেন দেবর্ষি। মহারাজ অশ্বপতি অন্তঃপুরে সংবাদ প্রেরণ করতেই, সাবিত্রী এসে পিতা ও দেবর্ষির পাদবন্দনা করে নতমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। আশীর্বাদের পালা সাঙ্গ হল। সংশয়াতুর কন্ঠে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন রাজা, ‘অভীষ্ট সিদ্ধ হয়েছে, মা?’

    মনে মনে লজ্জায় মরে গিয়ে নতমুখে উত্তর দিলেন সাবিত্রী, ‘হ্যাঁ, বাবা।’

    আশায় উদবেলিত হয়ে উঠল রাজার প্রাণ। ‘তাঁর পরিচয়?’—সানন্দে প্রশ্ন করলেন তিনি মেয়েকে।

    তেমনি নতমুখেই অতি ধীরে ধীরে বলতে লাগলেন সাবিত্রী, ‘মহারাজ দ্যুমৎসেনের পুত্র সত্যবান। কুমারের যখন শৈশবকাল তখনই শত্রুকতৃক বিতাড়িত হয়ে, আজ প্রায় এই বিশ বছর যাবৎ অন্ধ অবস্থায় মহিষী ও কুমারের সঙ্গে তপোবনবাসী হয়ে আছেন মহারাজ দ্যুমৎসেন…

    ‘আ-হা-হা!’ —সাবিত্রীর কথা শেষ না হতেই খেদোক্তি বেরিয়ে এল দেবর্ষি নারদের কন্ঠ থেকে।

    চমকিত হয়ে সভাজন সবাই চোখ তুলে চাইলেন নারদের দিকে। সেদিকে ভ্রূক্ষেপ না করে রাজার দিকে চেয়ে বলতে লাগলেন নারদ, ‘মহারাজ! মহা ভুল করেছেন মা সাবিত্রী আমার।’

    ‘কেন?’—জিজ্ঞেস করলেন রাজা, ‘কুমার সত্যবান কি বিজ্ঞ ও বীরপুরুষ নন? হৃদয়বান ও রূপবান নন কি তিনি?’

    ‘সকল রকম সদগুণেই বিভূষিত তিনি’—উত্তর দিলে দেবর্ষি নারদ, ‘রূপবানও বটেন—তরুণ সূর্যের মতো। কোথায় তাঁর সমকক্ষ ক্ষত্রিয়কুমার এই মর্ত্যলোকে? কিন্তু স্বল্প তাঁর পরমায়ু; আজ থেকে ঠিক বৎসরকাল পূর্ণ হলেই কালপূর্ণ হবে তাঁর।’

    হতাশায় প্রায় আর্তনাদ করে উঠলেন রাজা অশ্বপতি। ‘অপর কোনো তরুণকে পতিত্বে বরণ করো তুমি, মা আমার।’—কাতরকন্ঠে উপদেশ দিলেন তিনি কন্যাকে।

    এ কথায় সংকোচের বাঁধ কেটে গেল সাবিত্রীর। নম্র অথচ দৃঢ়কন্ঠেপ্রত্যুত্তর দিলেন তিনি, ‘বাবা, ‘দিলুম’ কথাটা লোকে শুধু একবারই বলে। যা দিলুম তা আর কখনও ফিরিয়ে নিতে পারিনে—লোভেও নয়, ভয়েও নয়। নারী একবারই হৃদয় দান করে থাকে। পতিই নারীর একমাত্র গতি। এ দান আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।’

    সাবিত্রীর মুখে সতীধর্মের মাহাত্ম্য শুনে দেবর্ষি নারদ পরম পরিতুষ্ট হয়ে এ বিয়েতে মত দিয়ে তাঁকে আশীর্বাদ করে চলে গেলেন। তারপর শুভদিনে রাজা অশ্বপতি তপোবনে গিয়ে ধূমধাম করে সত্যবানকে কন্যাদান করে চোখের জল মুছতে মুছতে ফিরে এলেন নিজ রাজধানীতে।

    রাজকন্যার বেশ খুলে ফেলে তপোবনবাসিনী সাবিত্রী ধরলেন তাপসীর বেশ। বসন-ভূষণ সব বিলিয়ে দিলেন তাপসকন্যা আর তাপসবধূদের মধ্যে। শ্বশুর, শাশুড়ি, আর স্বামীর সেবায় সম্পূর্ণভাবে নিজেকে উৎসর্গ করে দিলেন তিনি। ‘বৎসরকাল পূর্ণ হলেই কালপূর্ণ হবে তাঁর’ —দেবর্ষির এই কথা অনুক্ষণ তাঁর হৃদয়ের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে বেজে বেজে ফিরতে লাগল নীরব শোকের মূর্চ্ছনার মতো। মনের ভয় তবুও মনেই রইল চাপা। সারাক্ষণ শুধু তাঁর এক চিন্তা— কী করে হবে এ নির্মম বিধিলিপির খন্ডন!

    কতটুকু সময় আর একটি বৎসর! দিনের পর দিন গড়িয়ে চলতে চলতে প্রায় পূর্ণ হয়ে এল কালচক্রের আবর্তন। আর তিনটি দিন মোটে বাকি। শ্বশুর-শাশুড়ির অনুমতি নিয়ে ত্রিযামা ব্রত গ্রহণ করলেন সাবিত্রী। তৃতীয় দিনের দিন যথারীতি সমিধ আহরণের জন্যে পিতামাতার অনুমতি নিয়ে বনগমনের উদ্যোগ করলেন সত্যবান। সাবিত্রীর পণ এক মুহূর্তও সেদিন চোখের আড়াল করবেন না তিনি স্বামীকে। তিনিও চাইলেন সঙ্গে যেতে। তাঁর উপবাস-খিন্ন দেহলতার দিকে চেয়ে সস্নেহে তাঁকে নিবৃত্ত করতে চাইলেন সত্যবান। কিন্তু সাবিত্রীর আগ্রহাতিশয্যে তাঁর শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে স্বামীর সঙ্গে বন-গমনের অনুমতি দিলেন। কী জানি কোথা থেকে আচম্বিতে এসে দেখা দেয় কোন ঘোর বিপদ! তাই স্বামীর একেবারে পাশ ঘেঁষে দুর্গম বনপথে পথ চলতে লাগলেন সাবিত্রী। তাঁর ব্রতশুদ্ধ দেহপ্রভায় উজ্জ্বল হয়ে উঠল বনপথ।

    ক্রমে গভীর অরণ্যে এসে উপনীত হলেন দুজনে। সেখানে সাবিত্রীকে নীচে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে, কুঠার হাতে বড়ো একটা গাছে গিয়ে উঠলেন সত্যবান। শুরু হল কাঠ কাটা। নীচে দাঁড়িয়ে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলেন সাবিত্রী কর্মরত স্বামীর দিকে। হঠাৎ মাথার মধ্যে যন্ত্রণা বোধ হল সত্যবানের। দেখতে দেখতে বেড়ে চলল সে যন্ত্রণা। নিরুপায় হয়ে শেষে অতি কষ্টে গাছ বেয়ে নীচে নেমে পড়লেন তিনি। পা টলছিল তখন সত্যবানের। ছুটে গিয়ে তাঁকে ধরে ফেললেন সাবিত্রী। তারপর আসনপিঁড়ি হয়ে বসে সত্যবানকে শুইয়ে দিয়ে সযত্নে কোলের পরে টেনে নিলেন তাঁর মাথা। সঙ্গে সঙ্গেই অচৈতন্য হয়ে পড়লেন সত্যবান। নিরুপায়ের মতো আকাশের দিকে চোখ তুলে চাইতে গিয়েই সাবিত্রী দেখেন, সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন স্বয়ং যমরাজ!

    ‘ভদ্রে! আমি যম,’—সাবিত্রীর মুখে কোনও কথা ফোটবার আগেই বললেন যমরাজ, ‘মরণের অধিপতি আমি। নিয়ে যেতে এসেছি তোমার স্বামীকে। ছেড়ে দাও তাঁকে।’

    ব্রতশুদ্ধা সাবিত্রীর আজ যমরাজকেও কোনও ভয় নেই। করজোড়ে জিজ্ঞেস করলেন তিনি, ‘ধর্মরাজ! আপনি স্বয়ং এসেছেন আমার স্বামীকে নিয়ে যেতে?’

    যমরাজ বললেন, ‘সত্যবানের মতো পবিত্রাত্মাকে আমার দূতেরা স্পর্শ করতে পারে না। তাই আমি নিজেই এসেছি।’

    এই বলে যমরাজ সত্যবানের দেহ থেকে অঙ্গুষ্ঠ পরিমাণ তাঁর আত্মাকে বার করে এনে তাকে পাশবদ্ধ করলেন, তারপর চলতে লাগলেন দক্ষিণদিকে।

    সাবিত্রীও চলতে লাগলেন তাঁর পিছু পিছু। কিছুদূর অগ্রসর হয়ে যমরাজ পিছু ফিরে বললেন সাবিত্রীকে, ‘ভদ্রে! গৃহে ফিরে যাও। আমাকে অনুসরণ করে কোনও ফল নেই।’

    করজোড়ে নিবেদন করলেন সাবিত্রী, ‘ধর্মরাজ! শাস্ত্রবাক্য এই যে, একত্রে সপ্তপদ গমন করলে পরস্পরের মধ্যে মৈত্রী হয়। আমাকে তাই আপনার মিত্র বলে গণনা করতে হবে। মিত্রবাক্য ধীরভাবে শ্রবণ করা কর্তব্য। সুতরাং আমার কথা শ্রবণ করুন। নারীর কর্তব্য স্বামীর অনুগমন করা। আপনার আর আমার মধ্যে যখন মৈত্রী ঘটেছে তখন আপনার পক্ষে আমাকে আমার কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হবার উপদেশ দান করা ধর্মসংগত কাজ হবে না।’

    সাবিত্রীর কথায় পরম প্রীতিলাভ করে যম বললেন, ‘মা, তোমার মতো ধর্মজ্ঞান মরজগতে সুদুর্লভ। তোমার কথায় আমি পরম প্রীতিলাভ করেছি। একমাত্র তোমার স্বামী সত্যবানের জীবন ছাড়া আর যে বর তোমার ইচ্ছা তুমি গ্রহণ করতে পারো।’

    যমরাজের কথায় কথঞ্চিৎ আশ্বস্ত হয়ে সাবিত্রী বললেন, ‘আমার শ্বশুর ঠাকুর বৃদ্ধ বয়সে অন্ধ হয়ে বড়োই কষ্টে কালযাপন করছেন। আপনি যদি আমার প্রতি প্রসন্ন হয়ে থাকেন তবে এই বর দিন যে, তিনি যেন তাঁর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান।’

    ‘তথাস্তু’ বলে যমরাজ আবার দক্ষিণদিকে অগ্রসর হতে লাগলেন। কিছুদূর গিয়েই পিছন ফিরে তিনি দেখেন সাবিত্রী তাঁর অনুসরণ করছেন। তাঁর দিকে চেয়ে তিনি তখন বললেন, ‘তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছো, মা। এবার ঘরে ফিরে যাও।’

    সাবিত্রী বললেন, ‘ভগবান! স্বামী সঙ্গে পথ-পর্যটনে সতী নারীর ক্লান্তি কোথায়? তিনি যেখানে যাচ্ছেন আমিও তাঁর সঙ্গে সঙ্গে সেখানেই যাচ্ছি। এই তো নারীধর্ম, ধর্মরাজ।’

    এ কথায় যমরাজ আরও প্রসন্ন হয়ে বললেন, ‘মা, তোমার স্বামীর জীবন ছাড়া আর যে বর তুমি চাইবে তাই আমি দেব। তুমি বর প্রার্থনা করো।’

    সাবিত্রী বললেন, ‘আমার শ্বশুর ঠাকুর বৃদ্ধবয়সে রাজ্যহারা হয়ে বড়োই কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তিনি যেন তাঁর হৃতরাজ্য ফিরে পান।’

    ‘তথাস্তু’ বলে যমরাজ আবার যমপুরীর পথ ধরলেন। কিন্তু সাবিত্রী তাঁর অনুসরণে বিরত হলেন না। যমরাজ তখন সত্যবানের জীবন ছাড়া তাঁকে অন্য যে-কোনও বর প্রার্থনা করতে বললেন। সাবিত্রী বললেন, ‘আমার পিতা অপুত্রক। আপনার বরে তাঁর যেন শতপুত্র লাভ হয়।’

    ‘তথাস্তু’ বলে যমরাজ আবার যমপুরীর দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন। কিন্তু কিছুদূর গিয়েই ফিরে দেখেন সাবিত্রী আগের মতোই তাঁর অনুসরণ করে চলেছেন। তিনি সাবিত্রীকে বললেন, ‘মা, এবার গৃহে ফিরে যাও।’

    সাবিত্রী বললেন, ‘ধর্মরাজ! শাস্ত্রে বলে স্বামীহীন গৃহ শ্মশানতুল্য। স্বামীই স্ত্রীর গৃহ। আমি সেই স্বামীর সঙ্গে সঙ্গেই চলেছি। আপনি সাক্ষাৎ ধর্ম। আমি সেই ধর্মেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলেছি। স্বামীসঙ্গ এবং ধর্মসঙ্গ ত্যাগ করে, সাক্ষাৎ ধর্ম আপনি, আমাকে বলছেন স্বামীহীন শ্মশান-গৃহে ফিরে যেতে?’

    সাবিত্রীর কথায় প্রসন্ন হয়ে যমরাজ তাঁকে তাঁর স্বামীর জীবন ছাড়া অন্য যে-কোনও বর প্রার্থনা করতে বললেন। করজোড়ে সাবিত্রী তখন নিবেদন করলেন, ‘ধর্মরাজ! আপনার বরে আমার স্বামীর ঔরসে আমি যেন শতপুত্রের জননী হতে পারি।’

    ‘তথাস্তু’ বলে পুনরায় যমরাজ যমপুরীর পথ ধরলেন। তবুও সাবিত্রী তাঁর সঙ্গ পরিত্যাগ করলেন না। কিছুদূর গিয়ে যমরাজ তাঁর দিকে ফিরে বললেন, ‘আর কেন আমায় অনুসরণ করছ, মা? এবার গৃহে ফিরে যাও স্বামীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা কর গে।’

    করজোড়ে সাবিত্রী বললেন, ‘সে কী কথা, ধর্মরাজ। আপনাতেও কি মিথ্যা সম্ভবে? আমার স্বামীর জীবন ভিক্ষা না দিলে কী করে তাঁর ঔরসে আমার গর্ভে শতপুত্র জন্মগ্রহণ করবে, ধর্মরাজ?

    তাই তো! সাবিত্রীর কথায় যেন চমকে উঠলেন যমরাজ নিজেই। ধর্মের স্খলন কি কখনও সম্ভবপর! ‘তবে তাই হোক!’—বলে যমরাজ সত্যবানের আত্মাকে পাশমুক্ত করে দিয়ে বললেন, ‘মা, এই আমি তোমায় তোমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিলুম। তোমার সতীধর্মের তেজঃপ্রভাবে আজ সাক্ষাৎ ধর্মও তোমার কাছে পরাভূত। আমার বরে তোমরা দুজনে চারশো বছর পরমায়ু লাভ করে সুখে শান্তিতে তোমাদের মর্ত্যলোকের জীবনযাত্রা নির্বাহ করবে। এবার গৃহে ফিরে যাও, মা।’

    এই বলে প্রফুল্লচিত্তে যমরাজ অন্তর্ধান করলেন। সাবিত্রী ত্বরিতপদে ফিরে চললেন যেখানে গভীর বনের মধ্যে পড়ে ছিল সত্যবানের শবদেহ। সেখানে এসেই সযত্নে আবার তিনি কোলের পরে টেনে নিয়ে বসলেন সত্যবানের মাথা। অল্পক্ষণের মধ্যেই সত্যবানের জ্ঞান ফিরে এল। চোখ মেলে তিনি চেয়ে দেখেন—নিশীথ রাতের অন্ধকারে আবৃত হয়ে পড়েছে বনস্থলী। তারই মধ্যে অপলক বিদ্যুৎশিখার মতো তাঁর শিয়রে জেগে রয়েছেন উপবাস-খিন্না সতী সাবিত্রী।

    ‘উঃ কী ঘুম ঘুমিয়েছি আমি!’—অস্ফুষ্ট স্বরে বললেন সত্যবান; ‘জাগাওনি কেন আমায়? অন্ধকার হয়ে গেছে কখন চারধার।’ অন্ধকারের কথার সঙ্গে সঙ্গে কী যেন মনে পড়ল তাঁর; দুর্বল দেহে খেলে গেল আতঙ্কের শিহরণ; বলতে লাগলেন তিনি মুখ ফুটে, ‘উঃ, কী এক দুঃস্বপ্ন দেখছিলুম এতক্ষণ! কে এক আদিত্যবর্ণ শ্যামকান্ত মহাপুরুষ, পরিধানে তাঁর রক্ত পট্টবসন, কর্ণে কুন্ডল, বাহুতে বলয় ও অঙ্গদ, মস্তকে মণিমন্ডিত স্বর্ণমুকুট, হস্তে পাশ, আমায় বন্দী করে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি দক্ষিণ দিকে। আর তুমি, মণিহারা ফণীর মতো চলেছ তাঁর পিছু-পিছু। সত্যি? না, শুধু স্বপ্ন? বলো তো আমায় ঠিক করে। কে তিনি মহাপুরুষ?’

    ‘তিনি আমাদের পরম বন্ধু’—বলে তাঁর উদ্দেশ্যে করজোড়ে প্রণতি জানালেন সাবিত্রী। তারপর স্বামীর দিকে চেয়ে বললেন, ‘অনেক রাত হয়ে গেছে, প্রিয়তম। কী জানি কত কী ভেবে ভেবে সারা হচ্ছেন সবাই তপোবনে। এসো আমার কাঁধে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে চলো গৃহপানে কাল প্রত্যুষে সব কথা খুলে বলব তোমায়।’

    সংক্ষেপে এই হল সাবিত্রী ব্রতকথা। বলা বাহুল্য ধর্মরাজ যমের সব কটি বরই অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়ে উঠেছিল।

    জ্যৈষ্ঠ মাসে কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে উপবাস করে যে নারী বটবৃক্ষমূলে সাবিত্রীর পুজো করে, সে কখনও বিধবা হয় না।

    এই পুজোয় পাঁচ রঙের গুঁড়ো (পঞ্চবর্ণ গুঁড়িকা) দিয়ে মন্ডল এঁকে, তার মধ্যে ঘট স্থাপন করতে হয়। তাছাড়া পুঁততে হয় বটগাছের ডাল; তাতে থাকা চাই পাতা।

    এসব ছাড়া সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রতপালনে আরও অনেক রকমের আয়োজন দরকার। সেজন্যে পুরোহিত ডেকে সব বিধিব্যবস্থা করতে হয়।

    পুজো শেষ হলে পর সতী-শিরোমণি সাবিত্রীকে স্মরণ করে এই স্বস্তিবাচন উচ্চারণ করতে হয়:

    এ তিন ভুবনে তুমি সতী পতিব্রতা।
    পবিত্র হইবে লোক শুনি তব কথা।।
    বিশেষ করিলে ব্রত চতুর্দশী দিনে।
    পাইলে এ চারি বর তাহার কারণে।।

    সাবিত্রী চতুর্দশী ব্রতকথা সমাপ্ত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনার হরিণ নেই – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    Next Article রাধার চোখে আগুন – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }