Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    মেয়েদের ব্রতকথা – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    লেখক এক পাতা গল্প184 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    যমপুকুর ব্রতকথা

    এক ছিল বুড়ি। তার ছিল এক ছেলে আর এক মেয়ে। মেয়েটির বিয়ে হয়েছিল—আর কারও সঙ্গে নয়—একেবারে সাক্ষাৎ যমরাজের সঙ্গে। শ্বশুরবাড়ি তার যমপুরী। যমরাজ সেই যে তাকে বিয়ে করে নিয়ে গেলেন, আর মর্ত্যে বাপের বাড়ি পাঠালেন না।

    বুড়িকে কে আর মেয়ের মতো যত্নআত্তি করে? বুড়ি তাই ছেলের বিয়ে দিয়ে টুকটুকে বউ ঘরে আনলে। যেমন সুন্দরী বউ, তেমনি তার মিষ্টি স্বভাব। রাতদিন প্রাণপাত করে বউ শাশুড়ির সেবা করে। সংসারের কাজেকর্মেও বউ যেন দশভুজা। কুটোগাছটি নড়তে পায় না।

    দেখতে দেখতে কার্তিক মাস এসে পড়ল। উঠোনের মাঝখানে পুকুর করে বউ বসল পুজোয়। তাই না দেখে শাশুড়ির মনে জাগল সন্দেহ—বউ বুঝি কি তুকতাক করতে বসেছে। ভাবলে মনে মনে—তাই যদি না হবে তবে কী গুণে কাক, চিল অবধি বউ-এর এমন বশ হয়েছে। বাজখাঁই গলায় হাঁকলে তখন বুড়ি, ‘ওলো, ও পোড়ারমুখী, কী হচ্ছে ও? কী হিল বিলচ্ছিস, কী বিড় বিড়চ্ছিস, শুনি? বলি আমায় খাবি, না আমার মেয়েকে খাবি? বল দেখি, লা পোড়ারমুখী ডাইনি?’

    বউ উত্তর দিলে, ‘মা যমপুকুর ব্রত করছি।’

    যমপুকুর ব্রত! জন্মেও শোনেনি বুড়ি সে কথা। রেগে আগুন তেলে বেগুন বুড়ি ছুট্টে এসে বউকে মারলে এক লাথি, দিলে ছাই-পাঁশ দিয়ে পুকুর বুঁজিয়ে, ধমক দিয়ে বললে, ‘খবরদার’! ফের যদি দেখি তবে তোরই একদিন কি আমারই একদিন।’

    হাপুস নয়নে কেঁদে যমরাজকে সাক্ষী মেনে বউ বললে, ‘হে ধর্মরাজ! তুমি সাক্ষী রইলে—আমি এক বছর যমপুকুর ব্রত করলুম।’

    এমনি করে দিন যায়। দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আবার আসে কার্তিক মাস। বউ কী করে? শাশুড়ির ভয়ে পুকুর পাড়ে গিয়ে ছোট্ট পুকুর কাটে; কলাগাছের আড়ালে লুকিয়ে বসে সেখানে করে যমপুকুর ব্রত। একটি একটি করে শেষ হয়ে আসতে থাকে কার্তিক মাসের দিনগুলো।

    বুড়ির মাথায় বুঝি টনক নড়ে। একদিন বউকে ডেকে সাড়া না পেয়ে লাঠিগাছায় ভর দিতে দিতে বুড়ি এসে হাজির হয় পুকুরপাড়ে। সেখানে এসে দেখে বউ কলাগাছের আড়ালে বসে কী যেন করছে একমনে। সন্দেহ জাগে বুড়ির মনে। কিছু না বলে চুপি চুপি গিয়ে বউ-এর পেছনে লাঠি ভর দিয়ে দাঁড়ায় বুড়ি; দেখে—বউ মন্ত্র পড়ে কাক, বক, চিল, কত কীসের পায়ে ফুল দিচ্ছে। সব দেখে শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে বুড়ি, হাঁক দিয়ে বলে, ‘হ্যাঁ লা, সর্বনাশী! হচ্ছে কী ও সব? কী হিল বিলচ্ছিস? কী বিড় বিড়চ্ছিস? বলি—আমায় খাবি, না আমার ছেলেকে খাবি?’

    ভয়ে ভয়ে মুখ তুলে বউ বলে, ‘কিচ্ছু নয়, মা, যমপুকুর ব্রত করছি।’

    আরও রেগে যায় বুড়ি। বউকে মারে লাথি; জঞ্জাল দিয়ে, থুতু ফেলে পুকুর বুঁজিয়ে দেয়। তারপর রাগে গরগর করতে করতে লাঠি ঠুকতে ঠুকতে ফিরে আসে ঘরে।

    হাপুস নয়নে কাঁদতে কাঁদতে মাথা খুঁড়ে যমরাজকে ডেকে বলে বউ, ‘হে ধর্মরাজ। সাক্ষী রইলে তুমি—এই দুবছর আমি যমপুকুর ব্রত করলুম।’

    এইভাবে কাটতে থাকে দিন। দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আশ্বিন গিয়ে ফের আসে কার্তিক মাস। বউ এবার লুকিয়ে হেঁসেলে উনুনের পাশে বসে যমপুকুর ব্রত করতে লাগল। কার্তিক মাসও শেষ হয় হয়, আর মোটে কটা দিন বাকি, এমন সময় একদিন বুড়ি সব দেখতে পেয়ে বউকে এই মারে তো এই মারে! তারপর অকথ্য কুকথ্য বলতে বলতে লাথি মেরে পুকুর ভেঙে বুঁজিয়ে দেয়।

    তিন তিন বছর এই অলক্ষুণে কান্ড! বউ-এর চোখের জল আর বাঁধ মানে না। হাপুস নয়নে কাঁদতে কাঁদতে গলায় আঁচল জড়িয়ে জোড়হাত করে বউ বলে, ‘হে ধর্মরাজ! তুমি সাক্ষী রইলে—আমি তিন বছর যমপুকুর ব্রত করলুম।’

    এমনি করে দেখতে দেখতে সেবছরও গেল কেটে; আবার এল কার্তিক মাস। নির্জন জায়গা খুঁজে বাড়ির পেছন দিকে ছাইগাদার ধারে এসে বউ পুকুর করলে সেখানে বসে করতে লাগল যমপুকুর ব্রত।

    কার্তিক মাসের সঙ্গে সঙ্গে বুড়ির মাথায়ও টনক নড়েছে। বাড়ির চারদিক খুঁজে দেখলে বুড়ি—না:, এবার কোথাও আর পুকুর হয়নি। হয়নি যাক, বাঁচা গেছে! স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললে বুড়ি। কিন্তু তবুও কেন মনের খুঁতখুতুনি যায় না? অবাক হয়ে ভাবে বুড়ি, আর মনে মনে শাপশাপান্ত করে বউ-এর উদ্দেশ্যে।

    মাস শেষ হতে আর একদিন মোটে বাকি। হঠাৎ বুড়ির চোখে পড়ল বউ ফুল, জল নিয়ে চলেছে কোথায়। চুপি চুপি তার পেছু নিলে বুড়ি; এসে দেখলে বউ ছাইগাদার ধারে বসে পুকুর করে পুজো করছে।

    আর যায় কোথা! লাঠি ঠকঠক করতে করতে তেড়ে এসে বউকে মারলে এক লাথি, শুরু করে দিলে বউ-এর বাপ-মা তুলে গালাগাল, লাথি মেরে পুকুর ভেঙে ছাই দিয়ে তা বুঁজিয়ে দিয়ে রাগে গজর গজর করতে করতে ফিরে এল ঘরে।

    বুড়ো হাড়ের কী তেজ! বেদম লেগেছিল বউ-এর। যন্ত্রণায় কাতরে উঠে কাঁদতে কাঁদতে পুকুর ভাসিয়ে দিলে বউ বেচারা। অনেকক্ষণ কাঁদবার পর উঠে বসে গলায় আঁচল দিয়ে কাতরসুরে বললে বউ, ‘হে ধর্মরাজ! সাক্ষী রইলে তুমি—চার বছর যমপুকুর ব্রত করে আজ ব্রত উদযাপন করলুম আমি।’

    তারপর নমস্কার করে গায়ের মাথার ছাই ঝেড়ে ফেলে আস্তে আস্তে ঘরে ফিরে এল সে। দুঃখকষ্টের মধ্যে দিয়ে এইভাবে হল তার ব্রত উদযাপন।

    তারপর একে একে কেটে গেল কয়েকটা বছর। বুড়িকে ধরলে কঠিন রোগে। বেটা আর বেটার বউ-এর সেবাশুশ্রূষার তিলমাত্র বিরাম নেই। খবর পেয়ে যমপুরী থেকে মেয়েও এসেছে ছুটে। রাতদিন চলছে ঝাড়-ফুঁক, টোটকা-টাটকা। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না—একদিন দুপুরবেলা বুড়ি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে চলে গেল।

    বাড়িময় উঠল কান্নার রোল। পাড়াপড়শিরা সব ছুটে এল। সবাই বোঝাতে লাগল—‘উপযুক্ত বয়সে গেছেন, সেজন্যে শোক করতে নেই; এখন পরলোকে তাঁর তৃপ্তির জন্যে শ্রাদ্ধ শান্তির ব্যবস্থা করো।’

    এক মায়ের এক ছেলে, ঘটা করে মায়ের শ্রাদ্ধ করলে। এক মায়ের এক মেয়ে, মায়ের শ্রাদ্ধশান্তির পর শ্বশুরবাড়িতে ফিরে গেল। তবুও বেটার বউ-এর চোখের জল বাঁধ মানে না। কেন তা ধি সে নিজেই জানে?

    মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যমপুরী। সেখানে গিয়ে পৌঁছুতেই যমরাজ তাকে ডেকে বললেন, ‘দেখো, তোমার মায়ের অসুখের সময় অনেক দিন তুমি মর্ত্যে তোমার বাপের বাড়িতে ছিলে; তাই এখন দিন কতক যমপুরীর দক্ষিণ দুয়োরের দিকে যেও না,—আর তিনদিকে আগের মতোই স্বচ্ছন্দে বেড়িয়ে বেড়িয়ো, তাতে কোনও বাধা নেই।’

    বুড়ির মেয়ে যমরাজের বউ এ কথা শুনে ঘাড় তুলে একবার স্বামীর চোখে চোখে চাইলে, তারপর চোখ ফিরিয়ে নিয়ে মাটির দিকে চেয়ে আস্তে করে একবার মাথা নাড়লে—সায় দিলে, কী দিলে না ঠিক বুঝতে পারা গেল না।

    এমনি করে দু-চার দিন কেটে গেল। বুড়ির মেয়ের মনে থেকে থেকে জাগতে লাগল সেই একই প্রশ্ন—যমরাজ কেন দক্ষিণ দুয়োরের দিকে যেতে বারণ করলেন। শেষে আর কৌতূহল দমন করতে পারল না সে,—একদিন লুকিয়ে দেখতে পেল কী আছে যমপুরীর দক্ষিণ দুয়োরের দিকে।

    তখন বিকেলবেলা। বুড়ির মেয়ে যমরাজের বউ যেই না যমপুরীর দক্ষিণ দুয়োর পার হয়েছে অমনি তার চোখে পড়ল এক ভীষণ নোঙরা কৃমিকুন্ড, কানে এল সেখানকার লক্ষ লক্ষ পাপীর বুকফাটা কান্না আর কাতর আর্তনাদ! শিউরে উঠে তাড়াতাড়ি সেখান থেকে সরে যাবে সে এমন সময় থমকে দাঁড়াল সে চেনা গলার আওয়াজ পেয়ে। স্পষ্ট শুনতে পেল তার মা তার ভাইয়ের নাম ধরে চেঁচিয়ে বলছে, ‘ওরে, আমায় বাঁচা! এ নরককুন্ডে পচে মরছি আমি! বাঁচা, আমায় বাঁচা! আর কখখনো এমন কাজ করব না।’

    ভালো করে নিরীখ করে দেখলে বুড়ির মেয়ে—কাতারে কাতারে পাপী হাবুডুবু খাচ্ছে সেই ভয়ানক নরককুন্ডের মধ্যে। কাৎরে কাৎরে ডাকছে এই ভাবে, আর ঠিক তার পরমুহূর্তেই ভীমের মতো জোয়ানমর্দ যত যমদূতের ডাঙস খেয়ে তলিয়ে যাচ্ছে সে নরককুন্ডের তলায়! আবার খাবি খেয়ে যেই না মাথা তুলে চেঁচিয়েছে অমনি যমদূতেরা তাদের মাথায় দুম করে মেরেছে ডাঙস, আর অমনি তলিয়ে যাচ্ছে ডাঙস খেয়ে। একতিল বিরাম নেই এই ওঠা-নামার, একতিল বিরাম নেই তাদের কাৎরানির!

    এই ভয়ানক কান্ড দেখেশুনে হাত-পা পেটের মধ্যে সেঁধুলো বুড়ির মেয়ের। মায়ের জন্যে প্রাণ করতে লাগল আকুলি বিকুলি। কোনোরকম পা টেনে টেনে চলতে চলতে ফিরে এল সে যমপুরীর ভেতর। বিছানায় শুয়ে ছটফট করে কাটাল সারারাত।

    পরদিন দুপুরবেলা যমরাজ যখন খেতে বসেছেন তখন আস্তে আস্তে এসে গলায় আঁচল দিয়ে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে যোড়হাতে সামনে দাঁড়াল সে। বউ-এর চোখে জল দেখে যমরাজ অভয় দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন তাকে, ‘তোমার চোখে জল কেন? কী দুঃখ তোমার, নির্ভয়ে বলো আমায়।’

    ধরা গলায় ধীরে ধীরে নিবেদন করলে সে স্বামীর পায়ে, ‘তোমার পায়ে অপরাধিনী আমি। আমায় ক্ষমা করো। তুমি আমায় দক্ষিণ দুয়োরের দিকে যেতে বারণ করেছিলে। তাইতেই বুঝি কৌতূহল বাঁধ মানল না আমার, সেখানে গেলুম আমি। গিয়ে যা দেখলুম তা বলতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে আমার! দেখলুম দূতেরা সব আমার মায়ের মাথায় ডাঙস মেরে মেরে বারবার তাঁকে ডুবিয়ে দিচ্ছে নরককুন্ডের মধ্যে, আর পর মুহূর্তেই খাবি খেয়ে মা আমার মাথা উঁচিয়ে কাৎরে চেঁচাচ্ছেন—‘ওরে, আমায় বাঁচা বাপধন! আর কখনো এমন পাপ করব না।’ দয়া করে আমায় বলে দাও কী করলে এ নরকযন্ত্রণা থেকে উদ্ধার পাবেন আমার মা। বলে দাও গো, পায়ে পড়ি তোমার।’ বলতে বলতে ডুকরে কেঁদে উঠল বুড়ির মেয়ে যমরাজের বউ।

    বউয়ের কান্নায় নরম হয়ে পড়লেন যমরাজ। ভেবেচিন্তে বললেন, ‘তোমার মা আমার শাশুড়ি। তাঁকে নরক যন্ত্রণা দেওয়া কি আমার সাধ? কিন্তু কী করি? আমি যে ধর্মরাজ। ধর্মের বিধির একচুল এদিক ওদিক করি সে সাধ্য আমার নেই। তোমার মা তাঁর পাপের ফলভোগ করছেন।’

    বউ জিজ্ঞেস করলে, ‘পাপের ফলভোগ থেকে উদ্ধারের উপায় কী?’

    যমরাজ বললেন, ‘উপায়? উপায় হচ্ছে পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠান।’

    বউ জিজ্ঞেস করলে, ‘কোন পুণ্যকর্মের অনুষ্ঠানে মা উদ্ধার পাবেন বলে দাও। যত কঠিনই হোক আমি তা করবই।’

    যমরাজ বললেন, ‘দেখো, তোমার বউ ঠাকরুণ বিয়ের কনে হয়ে এসে বছর বছর যমপুকুর ব্রত করতেন, আর তোমার মা তাঁকে লাথি মেরে গালাগাল করে থুতু, জঞ্জাল—এসব ফেলে যমপুকুর বুঁজিয়ে দিতেন, ব্রত করে দিতেন লন্ডভন্ড। সেই পাপে তাঁর এই সাজা।’

    এ কথা শুনে বউ স্বামীর পা জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘একটা কিছু উপায় তোমায় করতেই হবে, নইলে এ মুখ আর তোমায় দেখাব না।’

    যমরাজ তখন ভেবেচিন্তে বললেন, ‘দেখো, তোমার বউ-ঠাকরুণ যদি তোমার মায়ের নামে সঙ্কল্প করে যমপুকুর ব্রত করেন তবেই তোমার মায়ের উদ্ধার হবে। কিন্তু তোমার মা মিছিমিছি তাঁকে যে কষ্ট দিয়েছেন তাতে তিনি কি তোমার মায়ের নামে সঙ্কল্প করে ব্রত করতে রাজি হবেন? দেখো চেষ্টা করে।’

    এ কথা শুনে বুড়ির মেয়ের বড়ো ভাবনা হল—বউ-ঠাকরুণ যদি রাজি না হয়!

    তার মনের কথা আঁচ করে যমরাজ বললেন, ‘দেখো, একটা উপায় হতে পারে। তুমি বাপের বাড়ি গিয়ে বউ-ঠাকরুণের সেবাশুশ্রূষা করে তাঁর সঙ্গে খুব ভাব জমিয়ে বসো। তিনি এখন পোয়াতি। দশমাসে প্রসব-বেদনা হলে তাঁকে যমপুকুর ব্রত করতে বলবে। তাতে তিনি রাজি হবেন মনে হয়।’

    খানিকটা আশ্বস্ত হল বুড়ির মেয়ে যমরাজের বউ। পরক্ষণেই আবার মনে উদয় হলো এক ভাবনা। জিগ্যেস করলে সে স্বামীকে, ‘কিন্তু আমার যত্ন-আত্তিতেও যদি বউ-ঠাকরুণ রাজি না হয়? যে জ্বালা জ্বালিয়েছে তাকে মা!’

    যমরাজ বললেন, ‘সেজন্যে ভেবো না। প্রসব-বেদনা উঠলেই আমি গিয়ে বউ-ঠাকরুণকে ভর করে থাকব; ব্রত শেষ না হওয়া অবধি তাঁর পেটের ছেলে বার হবে না। তিনি ব্রত শুরু করলেই তোমার মা নরককুন্ড ছেড়ে উঠতে থাকবেন, ব্রত শেষ হলেই তাঁর উদ্ধার পূর্ণ হবে, আর সঙ্গে সঙ্গে বউ-ঠাকরুণের কোল-আলো-করা চাঁদপানা ছেলে হবে।’

    এ কথায় সম্পূর্ণ আশ্বস্ত হয়ে বুড়ির মেয়ে যমরাজের বউ শুভক্ষণ দেখে বাপের বাড়ি যাত্রা করলে। সেখানে এসে ভাইকে সে বললে, ‘বউ-ঠাকরুণ একা মানুষ, তায় পোয়াতি; তাই এলুম তোমাদের দেখাশুনো করতে।’ তারপর সংসারের ভার নিজের হাতে নিয়ে, বউকে সে খুব যত্ন-আত্তি করতে লাগল। বউকে আর নিজ হাতে কুটোগাছটিও নড়াতে হয় না, সব কাজই করে ননদ। ননদের যত্নে বউ ভারি খুশি হল।

    পাঁচ মাস পড়তেই ননদ দিলে বউয়ের কাঁচা সাধ, আট মাসেতে দিলে ভাজা সাধ, তারপর নয় মাসেতে খুব ধূমধাম করে পঞ্চামৃত সাধ দিলে।

    দশমাস দশদিনে বউয়ের প্রসব-বেদনা দেখা দিল। এতদিনে ননদ পাড়লে তাঁর কাছে আসল কথা। তাকে খুব আদর করে বললে, ‘দেখ, বউ, তুই মার নামে সঙ্কল্প করে চারটি যমপুকুর কর।’

    ননদের কথায় বউ মুখ ভার করে বললে, ‘মা গো মা, ফের যমপুকুর করব! তুমি তো জানো না, ঠাকুরঝি, যমপুকুর করার জন্যে কী কষ্ট আমায় দিয়ে গেছেন মা। সে কি ভোলবার জিনিস, ঠাকুরঝি? মর্মে মর্মে গাঁথা হয়ে গেছে সে সব—চিরজন্মের মতো। যখনই ব্রত করতে বসতুম, মা এসে থুথু দিয়ে, জঞ্জাল দিয়ে…’

    তাড়াতাড়ি বউয়ের মুখ চাপা দিয়ে ননদ বললে, ‘সব জানি, বউ, সব জানি। কিন্তু যা হবার তা হয়ে গেছে, তা নিয়ে কথা বাড়িয়ে লাভ কী বল? মা তো আর ইহলোকে নাই। এখন যদি তুই…’

    ননদের কথা শেষ করতে দেয় না বউ। মুখ ঘুরিয়ে বলে, ‘তা হয় না, ঠাকুরঝি।’

    অনেক সাধ্যসাধনা করে বুড়ির মেয়ে, কিন্তু বউয়ের সেই এককথা—‘তা হয় না, ঠাকুরঝি।’

    দু-চোখে অন্ধকার দেখে বুড়ির মেয়ে, মনে মনে স্মরণ করে স্বামীকে। টনক নড়ে যমরাজের। হঠাৎ ব্যথা ওঠে বউয়ের, দেখতে দেখতে আসতে শুরু করে জোর ব্যথার পর জোর ব্যথা, তবু ছেলে বেরোয় না পেট থেকে, ব্যথায় কাঁদতে থাকে বউ। ননদ বলে, ‘তুই যমপুকুর কর, বউ; এক্ষুণি ছেলে হবে।’

    যমপুকুর! রাগে মুখ ঘুরিয়ে নেয় বউ, তেজ করে বলে, ‘কখখনো নয়, প্রাণ গেলেও নয়।’

    ব্যথা বেড়েই চলে। ধাক্কায় ধাক্কায় ব্যথা, জোর জোর ব্যথা। মুষড়ে পড়তে থাকে বউ। ‘যমপুকুর কর, বউ! যমপুকুর কর,’—বারবার বলতে থাকে ননদ। শুনেই রাগে মুখ ঘোরায় বউ, ফের ককিয়ে ওঠে ব্যথার ধাক্কায়। ‘মিছে কেন কষ্ট পাচ্ছিস, বউ?’—বুঝিয়ে বলে ননদ, ‘পুজো কর, এক্ষুণি খালাস হবি, এক্ষুনি ছেলে হবে।’

    যন্ত্রণায় কাটা ছাগলের মতো ছটফট করছে তখন বউ। ননদের কথায় এবার ধড়মড় করে উঠে পড়ে, তাড়াতাড়ি উঠোনে এসে করে চারটে পুকুর, শাশুড়ির নামে করে যমপুকুর ব্রত।

    যেমনি ব্রত শেষ হয় অমনি আসে যেন এক জোর ধাক্কা, ইনিয়ে বিনিয়ে যায় বউয়ের সারাশরীর, চাঁদের মতো কোল আলো করা ছেলে হয় বউয়ের, সুখের আবেশে ঘুমের পাহাড় ভেঙে পড়ে তার চোখদুটিতে, তারই মধ্যে কানে আসতে থাকে ছেলের ওঁয়া ওঁয়া কান্নার মধুর রব।

    এদিকে নরককুন্ড থেকে বউয়ের শাশুড়িও পায় মুক্তি, মর্ত্যের দিকে চাইতেই চোখ পড়ে তার নাতির মুখেরপরে, নাতির মুখ দেখে হাসতে হাসতে স্বর্গে উঠে যায় বুড়ি।

    উলু দিয়ে ওঠে বুড়ির মেয়ে যমরাজের বউ।

    পাড়াপড়শিরা সব আসে ছুটে। ছেলে দেখে পঞ্চমুখে করতে থাকে সুখ্যাতি।

    প্রাণপাত করে বউয়ের সেবা করে ননদ। দেখতে দেখতে এসে পড়ে ষষ্ঠীপুজোর দিন। ঘটা করে হয় ষষ্ঠীপুজো। দাদা-বউদিকে প্রণাম করে বুড়ির মেয়ে ফিরে যায় তার শ্বশুরবাড়ি।

    তাই কথায় বলে যমপুকুর ব্রত করলে যমের তাড়না সইতে হয় না; শ্বশুর-শাশুড়ি জল পায়, হাসতে হাসতে স্বর্গে যায়।

    যমপুকুর ব্রতকথা সমাপ্ত।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসোনার হরিণ নেই – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    Next Article রাধার চোখে আগুন – আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    আশাপূর্ণা দেবী

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026
    Our Picks

    আদিবাসী লোককথা : ২য় খণ্ড – দিব্যজ্যোতি মজুমদার

    April 27, 2026

    বৈদ্যুতিক চুল্লি – শঙ্কর চ্যাটার্জী

    April 27, 2026

    সিদ্ধিগঞ্জের মোকাম – মিহির সেনগুপ্ত

    April 27, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }