Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প122 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. গোকুল ত্যাগ করে

    ২

    গোকুল ত্যাগ করে চলে এসেছে নন্দ আর তার আত্মীয়, পরিজন, প্রতিবেশী। বৃন্দাবনে গড়ে উঠেছে নতুন আভীরপল্লি। কংসের চেলাচামুণ্ডা ও সৈন্যদের উপদ্রবও কমেছে অনেকটা। যে-সন্দেহের বশে কংস শিশুনিধনে মেতেছিল, হয়তো সে সন্দেহ দূর হয়ে গেছে তার মন থেকে। তাই এখন অন্যান্য দুরাচারে মন দিয়েছে।

    একটু বড় হয়েছে কানু। এখন সে নিজেই একা মাঝে মাঝে বাড়ির বাইরে ছুটে যায়। দেখতে পেলেই যশোমতী ছুটে গিয়ে তাকে ধরে আনে। বড় দুরন্ত ছেলে হয়েছে সে। তাকে শাসন করাও যায় না। তাকে বকুনি দিলে, এমনকী মারলেও সে কাঁদে না, ঝরঝরিয়ে হাসে কিংবা এমন মুখভঙ্গি করে যে শাসনকারীরও হাসি এসে যায়। বাড়িতে তার জন্য ক্ষীর-ননি কিছুই জমিয়ে রাখার উপায় নেই। সে তো নিজে যত খুশি খেতেই পারে, সে সম্পর্কে কোনও কার্পণ্য নেই যশোমতীর, তবু ফেলে-ছড়িয়ে নষ্ট করার দিকেই ছেলের ঝোঁক। দুপুরে যখন যশোমতী ঘুমিয়ে থাকে, তখন কানু পাড়ার এক দঙ্গল শিশুকে জড়ো করে মায়ের সব হাঁড়ি-কলসি হাতড়ায়, কোনওটা ভাঙে, ক্ষীর-ননিতে মাখামাখি করে হাত-মুখ। একদিন এমন নরম, এমন স্নেহময়ী যশোমতীও এমন রেগে গিয়েছিলেন যে কানুর দু’হাত বেঁধে রেখেছিলেন দুটো গাছের সঙ্গে। তাও ছেলে মুক্তি পাবার জন্য কান্না জোড়েনি।

    নন্দ কানুকে কোনও দিন বকে না। ছেলে আর মায়ের খুনসুটি সে কৌতুকের চোখে দেখে। সে এখন অনেক নিশ্চিন্ত।

    ঘোষপাড়ার মধ্যে নন্দর অবস্থা অতি সাধারণ। তার চেয়ে ক্ষমতাবান ও সঙ্গতিসম্পন্ন গোপ আরও অনেকে আছে। তবু নন্দর ধীর স্বভাব ও সহজ সততার জন্য অনেকেই তাকে মান্য করে। নন্দর খুব একটা উচ্চাকাঙক্ষাও নেই জীবনে। সেবাপরায়ণা স্ত্রী ও সুকুমার পুত্রকে নিয়ে তার যে ছোট্ট পরিবার, তাতেই সে খুব তৃপ্ত।

    একদিন নন্দ গেল ব্ৰজপুরীতে বেড়াতে। প্রকাণ্ড একটা দিঘির সামনে বৃষভানু রাজার প্রাসাদ। সিংহদ্বারের দু’ পাশে দুটি মঙ্গলঘট বসানো। সে ঘট দু’টি এমন চকচক করে যে সকলে বলে সোনার। এ-রাজপ্রাসাদের দ্বারীরা প্রসন্নবদন, তারা কঠোর ভাবে কারওকে দূরে ঠেলে দেয় না।

    রাজা বৃষভানু নন্দকে খুব সমাদর করলেন। তাকে এনে বসালেন একেবারে অন্দরমহলে। পুরনো বন্ধুর মতো আরম্ভ করলেন সুখ-দুঃখের গল্প। এলেন রানি কলাবতী। এই প্রাসাদে শান্তি ও পরিতৃপ্তির একটা স্নিগ্ধ গন্ধ পাওয়া যায়। অলক্ষ্মী এদিককার ছায়া মাড়াতেও ভয় পেয়েছে।

    এক সময় রাধা এসে বসল বাবা-মায়ের পাশে। তাকে দেখে নন্দর চোখ জুড়িয়ে গেল। এমন মেয়ে যাদের থাকে, সেই বাপ-মায়ের কত আনন্দ। শুধু আনন্দ? দুশ্চিন্তাও থাকে না?

    রাধা এখন বারো বছরের কিশোরী। আয়ত চোখ দুটির ওপর স্নিগ্ধ ছায়া ফেলেছে ঘন পল্লব। চম্পক বর্ণ আরও ফেটে পড়েছে। পিঠ ছেয়ে আছে মেঘবর্ণ চুল। মুক্তাপাঁতির মতো ঝকঝকে দাঁত।

    রাধার কাছে রাজা বৃষভানু নন্দর পরিচয় দিতে যেতেই নন্দ বলল, ওকে তো আমি চিনি! একদিন বনের পথে দেখে ছিলাম। ওর টানেই তো এলাম। কী মা, আমাকে মনে নেই?

    রাধা ঠিক মনে করতে পারল না।

    নন্দ মনে করিয়ে দিল, সেই যে সেদিন খুব বৃষ্টি হয়েছিল, আমার সঙ্গে ছিল আমার ছেলে, খুব ছোট্ট।

    তখন মনে পড়ল রাধার। ছেলেটিকে মনে আছে, কী সুন্দর চোখ! নন্দ রাধার এত প্রশংসা করতে লাগল যে লজ্জায় সে একেবারে নুয়ে পড়ল।

    বেশিক্ষণ বসল না রাধা। দূর থেকে রাই, রাই বলে ডাকতে ডাকতে এল তার সখীরা। এখন মালা গাঁথার সময়। একটু পরেই সন্ধ্যারতি শুরু হবে, তার জন্য মেয়েরা মালা গাঁথবে।

    রাধা উঠে যাবার পর নন্দ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আহা, এমন সোনার পুত্তলি, সে-ও কোথায় চলে যাবে!

    বৃষভানু চকিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কেন, কেন, এ-কথা বলছ কেন?

    নন্দ বলল, রাজা, আপনার মেয়ে বয়স্থা হয়েছে, এবার তো তাকে পাত্রস্থ করতেই হবে!

    বৃষভানু বললেন, তা ঠিক, ইদানীং আমি এবং রানিও এ-সম্পর্কে চিন্তা করছি। কিন্তু যোগ্য পাত্র কই?

    আপনার মেয়ের যোগ্য পাত্র সত্যিই দুর্লভ। মেয়ে যেন সাক্ষাৎ লক্ষ্মী। একমাত্র স্বয়ং নারায়ণের হাতেই একে সমর্পণ করা যায়।

    রানি কলাবতী দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, তা ভাবলে তো চলে না। কন্যারত্ন বেশি দিন পিতা-মাতার সংসারে থাকবে এটাই বিধান। আপনার কাছে কোনও সৎপাত্রের সন্ধান আছে নাকি?

    আপনার মতন রাজার মেয়ের সঙ্গে…

    বৃষভানু বাধা দিয়ে হেসে বললেন, আমি আর রাজা কোথায়! ছোটখাটো একটা জমিদারি আছে, লোকে আদর করে রাজা বলে।

    আমাদের কাছে আপনি রাজাই।

    কলাবতী বললেন, যাই বলো বাপু, আমি কিন্তু আমার মেয়ের সঙ্গে কোনও রাজপুত্রেরই বিয়ে দেব।

    রাজকন্যার সঙ্গে রাজপুত্রের বিয়ে হওয়াই প্রথা। আপনারা কি কংসের কোনও ছেলের সঙ্গে শ্রীমতী রাধার বিয়ে দেওয়ার কথা ভেবেছেন?

    বৃষভানু তৎক্ষণাৎ দৃঢ় স্বরে বললেন, না।

    নন্দর মুখে একটা কৃতজ্ঞ ভাব ফুটে উঠল। স্বস্তির সঙ্গে সে বলল, রাজা, এ আপনারই যোগ্য উত্তর দিয়েছেন। অত্যাচারী কংসের সঙ্গে যদি আপনি বৈবাহিক সম্পর্ক পাতাতেন, তা হলে শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ আপনাকেও সামাজিক ভাবে বর্জন করত। এখন যারা আপনাকে শুল্ক দেয় না, তারাও আপনাকে শ্রদ্ধা করে। সেই শ্রদ্ধার আসন আপনি হারাতেন!

    বৃষভানু বললেন, সে প্রশ্নই ওঠে না। জেনেশুনে আমার মেয়েকে আমি কোনও রক্তলোলুপ শ্বশুরের পরিবারে পাঠাতে পারি না।

    সেই জন্যই তো বলছিলাম, এই সোনার পুত্তলি কত দূরে চলে যাবে কে জানে! কাছাকাছি আর রাজ্য কিংবা রাজপুত্র কই?

    কলাবতী বললেন, আর্যাবর্তে কি রাজপুত্রের অভাব?

    নন্দ বলল, কংসের আত্মীয় জরাসন্ধও মহাপ্রতাপশালী রাজা। যদি তাঁর কোনও ছেলের সঙ্গে সম্বন্ধ করতে চান—

    বৃষভানু আবার দৃঢ় ভাবে বললেন, না। আপনার সন্ধানে আর কোনও রাজপুত্র নেই?

    আমি অনেক দিন তীর্থ ভ্রমণে যাই না, অন্য দেশের সংবাদ রাখি না।

    রানি কলাবতী তাঁর স্বামীকে বললেন, তুমি নানা দিকে দূত পাঠিয়ে সন্ধান নাও। আর বেশি দিন অপেক্ষা করা চলে না।

    হঠাৎ নন্দর চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। সে কলাবতীর উদ্দেশে বলল, রানি, আমি আপনাদের বিয়েতে ঘটকালি পূজা না করে সে জলস্পর্শ করে না…

    .

    রাজা ও রানি সমস্বরে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলেটি কে? ছেলেটি কে?

    নন্দ বলল, আমার স্ত্রী যশোমতীর সম্পর্কে ভাই হয় ছেলেটি। তার নাম আয়ান। ঘোষপাড়ার সবাই তাকে খুব ভালোবাসে।

    রাজা বৃষভানু হঠাৎ উৎকট গম্ভীর হয়ে গেলেন। রানি কলাবতী মুখ ফেরালেন অন্য দিকে।

    নন্দ জানত, এমনটি হবে। রাজদুহিতার সঙ্গে কি সামান্য গোয়ালার বিয়ে হয়? কিন্তু সে রকমও তো হয়েছে কখনও কখনও। মহাবল দক্ষরাজার মেয়েরও তো বিয়ে হয়েছিল শ্মশানচারী শিবের সঙ্গে। রূপে-গুণে আয়ান কোনও রাজার ছেলের চেয়ে কম কীসে? যদি ভাগ্যে থাকে সেও একদিন রাজা হবে।

    কিছুক্ষণ নিঃশব্দে রাজা বৃষভানু তাকিয়ে রইলেন অলিন্দের বাইরে। তারপর একটি বড় নিশ্বাস ফেলে বললেন, দিঘির জলে আর একটুও রোদুরের আলো নেই। এবার আমার পূজাগৃহে যাবার সময় হল।

    অর্থাৎ এবার নন্দকে উঠে পড়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। রানি কলাবতীও গাত্রোত্থান করে বললেন, আমিও যাই, এখনই নাপতেনি আসবে আলতা পরাতে।

    নন্দ বুঝেও বুঝল না। বলল, একদিন আয়ানকে ডাকি তা হলে? ছেলেটিকে একবার দেখলে—

    রানি তাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বললেন, আরও দু’-চারটি পাত্র দেখুন, হঠাৎ এক কথায় তো বিয়ে হয় না। পাঁচ জায়গায় দেখতে হয়—

    রানিমা, আমি আর একটি কথা বলে যাই। মেয়েকে সৎপাত্রে দেওয়াই পিতা-মাতার দায়িত্ব। অনেক রাজপুত্রও কুলাঙ্গার হয়। আমাদের আয়ানের ঠিকুজি দেখে একজন মস্ত গণকঠাকুর একবার বলে-ছিলেন, এ-ছেলের একদিন রাজকন্যা লাভ হবে। সেটা মনে পড়ল বলেই সম্বন্ধের কথা বললাম। কে জানে, হয়তো আপনার মেয়ের সঙ্গেই ওই ছেলের নিয়তি বাঁধা আছে। নিয়তি তো কেউ খণ্ডাতে পারে না। আপনারও সুবিধে হবে, মেয়ে কাছাকাছি থাকবে, যখন ইচ্ছে তাকে দেখবেন, যখন ইচ্ছে তাকে বাড়িতে আনবেন। মেয়ের ঠিকুজিটা অন্তত একবার মেলান ওর সঙ্গে।

    বৃষভানু বললেন, আচ্ছা দেখি!

    রাজপুরী থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে নন্দ দেখল, মন্দিরের সিঁড়িতে বসে রাধা তখনও তার সখীদের সঙ্গে মালা গাঁথছে। আবার চক্ষু ভরে দেখল নন্দ। কী রূপ! এই মেয়ে একাই ব্ৰজ-বৃন্দাবন আলো করে রাখবে। একে কি দূরে কোথাও পাঠানো যায়?

    বৃষভানু রাজার পুরী পার হয়ে আসবার পর একটি বেশ বড় মাঠ। মাঠটির মাঝখান দিয়ে রথচক্রের দাগে দাগে একটা পথ তৈরি হয়ে গেছে। একটি মাত্র বড় গাছ রয়েছে সেখানে। মাঝে মাঝে সেখানে কোনও সাধু-সন্ন্যাসী আস্তানা গাড়ে। কাছেই একটা ডোবা। অনেকে বলে ওই ডোবার জল খেলে হজম শক্তি বাড়ে। নন্দ এক আঁচলা জল খেয়ে নিল।

    বাড়িতে এসে নন্দ মহা উৎসাহের সঙ্গে যশোমতীকে বলল, জানো, আজ একটা বিয়ের সম্বন্ধ করে এলাম। উঃ, কত বড় ধুমধাম যে হবে!

    যশোমতী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, কার সঙ্গে কার বিয়ে? তোমার কি ঘটকালির নেশা ধরল নাকি?

    তোমার ভাই আয়ান, তার সঙ্গে বৃষভানু রাজার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছি।

    যশোমতী গালে হাত দিয়ে বললেন, ওমা, সেকী কথা! তোমার যেমন কাণ্ড! আগে আমাকে একটু জিজ্ঞেস করবে তো!

    কেন, কেন, কী হয়েছে? আমাদের গয়লাপাড়ায় একজন রাজকন্যা আসবে, আমাদের কত বড় সৌভাগ্য!

    কিন্তু আয়ান যে বিয়েই করবে না প্রতিজ্ঞা করেছে! সে বলেছে, সারা জীবন ব্রহ্মচারী হয়ে থাকবে।

    নন্দ এবার হো হো করে হেসে ফেলল। হাসতে হাসতে বলল, যুবাবয়সে অনেকেই প্রথম প্রথম ওই কথা বলে। বৃষভানু রাজার মেয়েকে তো দেখোনি! ঠিক যেন একটি হিরের ফুল। তাকে দেখলেই আয়ানের মাথা ঘুরে যাবে!

    যশোমতী তবু চিন্তিত ভাবে বলল, না গো না! আয়ানের একেবারে ধনুর্ভঙ্গ পণ। বড় গোঁয়ার ছেলে। এর আগে কত ভালো ভালো ঘরের মেয়ের সঙ্গে তার সম্বন্ধ করা হয়েছে, কিন্তু বিয়ের কথা শুনলেই সে রেগে যায়।

    নন্দ এবার একটু রেগে উঠে বলল, তোমার যেমন মেয়েছেলের বুদ্ধি! অন্য অন্য মেয়ের সঙ্গে রাধার তুলনা? রাধার সঙ্গে যদি বিয়ে হয়, তা হলে সেটা আয়ানের সাত পুরুষের ভাগ্যি! এখনও ওঁরা রাজি হবেন কি না ঠিক নেই!

    যশোমতী তবু মুখে আশঙ্কা নিয়ে বলল, তা যাই বলো, শুধু শুধু তোমার কেন এর মধ্যে মাথা গলানো! আয়ান এসে আমাদের ওপর রাগারাগি করবে!

    সত্যি তাই হল। দিন দু’-এক পরেই দুপুরবেলা পা দুপদুপিয়ে আয়ান এসে হাজির এ-বাড়িতে। মুখে তার গনগনে রাগ।

    অন্যরা যখন গোকুল ছেড়ে বৃন্দাবনে চলে আসে, তখন আয়ান আসেনি। তার অনেক বড় বাড়ি, বিশাল বাথান, সে-সবের মায়া ত্যাগ করে চলে আসা সম্ভব নয়। তার সঙ্গে সঙ্গে দু’-চারজন তার অনুচরও সেখানেই থেকে গেছে। এখনও গোকুলে একটি গোপপল্লি রয়ে গেছে। আশেপাশের বেশ কয়েকটা গ্রামের মানুষ আয়ানকে এক ডাকে চেনে।

    উঠোনে ধুলোবালি নিয়ে খেলা করছিল কানু। তাকে এক ধমক দিয়ে আয়ান বলল, এই কী করছিস! ওঠ! সারা গায়ে ধুলো মেখেছে একেবারে! তোর বাবা কোথায়? তোর বাবাকে ডাক। তুই আমাকে চিনিস? আমি তোর এক মামা হই। বাবাকে গিয়ে বল, আয়ানমামা এসেছে!

    গলার আওয়াজ শুনে নন্দ আর যশোমতী এর মধ্যেই বেরিয়ে এসেছে। নন্দ কৌতুক করে বলল, আরে, আরে, বড় কুটুম যে! হঠাৎ পথ ভুলে নাকি? তোমার মতন ব্যস্ত মানুষ যে আমাদের বাড়িতে পায়ের ধুলো দিয়েছে—

    আয়ান বলল, আপনার সঙ্গে একটা দরকারি কথা বলতে এসেছি!

    তা তো বলবেই। আগে এসো, বসো, পান-তামাক খাও! তারপর তো কথা হবে। আগে থেকেই অত রাগ রাগ ভাব কেন?

    যশোমতী ঘরের দাওয়ায় আসন পেতে দিল দু’টি। নন্দ আয়ানকে পাশে বসিয়ে বলল, তোমার শরীর-মন সব ভালো তো! পিতামাতার মঙ্গল তো? ধেনুগুলি যথেষ্ট দুগ্ধবতী আছে তো?

    আয়ান সেসব কথায় না গিয়ে সরাসরি বলল, আপনি আমাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছেন কেন, হঠাৎ?

    নন্দ অতি নিরীহ সেজে বলল, কেন, কেন, কী হয়েছে? আমি তোমাকে বিপদে ফেলব, একি হতে পারে?

    তা হলে দু’দিন ধরে অনবরত বৃষভানু রাজার কাছ থেকে লোক আসছে কেন আমার কাছে? একবার এসে আমার ঠিকুজি চাইছে, একবার এসে আমাকে রাজবাড়িতে নিয়ে যেতে চাইছে, এসব কী?

    তা হলে তো মনে হচ্ছে, তোমার ভাগ্যটা খুলেছে। রাজার পছন্দ হয়েছে তোমাকে। এতে রাগের কী আছে?

    আমি রাজারাজড়ার সঙ্গে মেলামেশা পছন্দ করি না।

    নন্দ মুচকি হেসে বলল, বাবাজীবন, রাজারাজড়াদের পছন্দ না হলেও রাজকন্যাকে তো পছন্দ হতে পারে! তুমি বৃষভানুর কন্যা রাধাকে কি দেখেছ সম্প্রতি?

    আয়ান আবার রেগে উঠে বলল, আমি ঠিকই বুঝেছিলাম, এ-সব আপনারই কীর্তি। লোকমুখে শুনেছি, আপনিই কয়েক দিন আগে ব্রজপুরীতে গিয়েছিলেন। রাজার কানে কিছু মন্তর দিয়ে এসেছেন! আমাকে এর মধ্যে জড়ালেন কেন? আমি নিজের বিষয়কর্ম নিয়ে পরিবৃত আছি—

    শোনো আয়ান, শ্রীমতী রাধার সঙ্গে তোমার পরিণয় হলে তোমার সংসারে আরও শ্রীবৃদ্ধি হবে!

    আমি চাই না সেসব। আপনিও শুনুন, যদি সম্বন্ধ পাতাতেই আপনার সাধ যায়, তা হলে বৃন্দাবনে-গোকুলে আরও অনেক সমর্থ ছেলে আছে, তাদের কারওর কথা ভাবুন, আমাকে নিষ্কৃতি দিন। দিদি, তোমার পতিটিকে নিবৃত্ত করো না!

    যশোমতী বলল, আমি বাপু কিছু বলিনি। বারণই করেছিলাম—

    নন্দ বলল, বৃন্দাবন-গোকুলে তোমার মতন আর কে আছে আয়ান? তুমিই তো রূপে-গুণে সবার সেরা! তুমি ছাড়া আর কেউ তো শ্রীমতী রাধার যোগ্য হতে পারে না!

    প্রশংসা শুনে একটু মুখের ভাব বদলাল আয়ানের। তবু সে বলল, আমার বিয়ে করার অসুবিধে আছে।

    কীসের অসুবিধে? ব্যবস্থাপত্তর সব আমরাই করব!

    সে-কথা নয়। বিবাহে আমার রুচি কিংবা বাসনা কিছুই নেই।

    সে-কথা কি বললে চলে। সংসারধর্ম সকলকেই করতে হয়। এ তো আর যেমন-তেমন বিয়ে নয়, ঘর আলো করে রাজকন্যা আসবে—

    আমি মহামায়ার পূজারী, সংসারধর্ম আমার না-করলেও চলে

    ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখো। আর একটা কথা বলি। রাজা কংসের বিষ নজর আছে আমাদের ওপরে। এখন আবার রাজা বৃষভানুকেও চটানো ঠিক হবে না। বরং, ব্ৰজের রাজার সঙ্গে আমাদের একটা কুটুম্বিতা হলে রাজা কংসও আর আমাদের ওপর অত্যাচার করতে চাইবে না সহসা। এসব দিকও তো ভাবতে হয়, গোষ্ঠীস্বার্থের জন্য তুমি যদি…

    অন্যের স্বার্থের কথা ভেবে আমাকে বিয়ে করতে হবে নাকি?

    আয়ান, তোমার ওপর আমাদের অনেক ভরসা! রাজা কংস আমাদের বিরোধী। রাজা বৃষভানুকেও চটানো আমাদের পক্ষে মোটেই ঠিক হবে না!

    বিষণ্ণ মুখে আয়ান বলল, অগ্রজাপতি, আপনি সত্যিই আমাকে দারুণ চিন্তায় ফেলে দিলেন!

    গোয়ালঘরের কাছ থেকে একটা বাঁশির আওয়াজ ভেসে আসছিল, সেদিকে হঠাৎ খেয়াল করে আয়ান জিজ্ঞেস করল, কে বাঁশি বাজায়?

    নন্দ বলল, আমাদের ছেলে কানু বাজাচ্ছে! ক’দিন ধরেই দেখছি, রাখাল ছেলেদের কাছ থেকে একটা আড়বাঁশি জোগাড় করে খুব ফুঁ ফাঁ দিচ্ছে।

    সপ্রশংস ভাবে আয়ান বলল, বাঃ, এর মধ্যেই বেশ মিষ্টি সুরটা তুলেছে তো!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article তালাশ – শাহীন আখতার

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }