Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প122 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৭. হেঁটে আসতে লাগল রাধা

    ৭

    সন্ধ্যা হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। ধুলোভরা গ্রাম্য পথ ভিজিয়ে দিচ্ছে জ্যোৎস্না। চার দিক সুনসান। তার মধ্যে ভিজে শাড়ি-পরা, মাথায় ভিজে চুল নিয়ে হেঁটে আসতে লাগল রাধা। একা। তার পায়ের শব্দও শোনা যায় না।

    গোকুলের পথ দিয়ে এই সময় কোনও নারী একা যায় না। রাধার নিজের কাছে নিজেকেই অপরিচিত মনে হয়। রাত্রির পথ তো সে কখনও চোখে দেখেনি। কোনও কোনও বাড়ি থেকে চেনা নারীকণ্ঠ শুনে তার আরও বিস্ময় জাগে। দু-একজন সখী আগেই ফিরে গেল কী করে? রাধা জানে না, বুড়ো মাঝি একটু পরেই তার নৌকো নিয়ে হাজির হয়েছিল ওপারে। সে বেচারির নৌকোর দড়ি খুলে কে যেন মাঝনদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল। অতি কষ্টে সেই নৌকো উদ্ধার করে এসে পৌঁছোতে তার দেরি হয়।

    চিন্তামগ্ন ভাবে রাধা এসে দাঁড়াল বাড়ির সামনে। চার দিকে কাঠের প্রাচীর-ঘেরা বাড়ি। ভেতরে প্রশস্ত চত্বর, সেখানে তখনও কাজ চলছে। পাঁচ-সাতটা বড় উনুনে ঘি জ্বাল দেওয়া চলছে, তার তদা‌রকি করছে স্বয়ং আয়ান ঘোষ।

    রাধা যখন বাড়ির মধ্যে ঢুকল, কাঠের দরজায় ক্যাঁচকোঁচ শব্দ হতেই আয়ান চোখ তুলে তাকাল। রাধার দিকে সে নির্নিমেষে তাকিয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত, কিন্তু একটি কথাও বলল না। অবনতমুখী রাধা পায়ে পায়ে চলে গেল ভেতরে।

    এক ঘর থেকে তার ননদিনী বেরিয়ে এসে চমকে উঠে বলল, ওমা! এতক্ষণ কোথায় ছিলি, বউ?

    রাধা উত্তর দিল না।

    ননদিনী তার পথ জুড়ে দাঁড়িয়ে বলল, একী, সারা গা ভেজা, মাথা-ভরতি জল—এই সন্ধেবেলা কোথায় ডুব দিতে গিয়েছিলি?

    রাধা ব্যথাময় দু’টি চোখ তুলল। যদি কোনওক্রমে নিষ্কৃতি পাওয়া যেত। যদি কিছু সময়ের জন্যও তাকে একলা থাকতে দিত এইসময়।

    রাধার একটা হাত ধরে ননদিনী আবার আঁতকে উঠল। হাতের সোনার কঙ্কণ কোথায়? গলার হার কই? পায়ের মলও তো নেই। দেখি কোমর দেখি! এটাও তো নেই। কোথায় গেল সব? তোকে ডাকাতে ধরেছিল নাকি?

    আচ্ছন্ন গলায় রাধা বলল, হ্যাঁ, ডাকাত!

    অ্যাঁ? কে? কোথায়? বল বল, এক্ষুনি দাদাকে ডাকছি। দেখি, কোন ডাকাতের সাহস আছে আয়ান ঘোষের ঘরণীর গায়ে হাত দেয়।

    না, না, ডাকাত নয়, ডাকাত নয়!

    তবে কে? চোর!

    হ্যাঁ, চোর, না, তঞ্চক। না তাও নয়।

    তবে কে?

    ঝড়। খুব ঝড় উঠেছিল তো!

    কখন ঝড় উঠল? আজ তো ঝড় ওঠেনি। ঝড়ে বুঝি গায়ের গয়না খুলে নিয়ে যায়!

    না। ঝড়ও নয়। বলছি! আগে কাপড় বদলে নিই!

    রাধার সঙ্গে সঙ্গে ননদিনীও এসে ঢুকল তার ঘরে। দড়িতে মেলা শুকনো জামাকাপড় সেই আগে তুলে নিল নিজের হাতে। রাধার কৈফিয়ত না-শুনে দেবে না। তারপর বলল, আগে ঠিক করে বল কী হয়েছে? কোনও ভয় নেই। আমি দাদাকে বলব না—

    রাধা বলল, একটা নীল কমল…

    অ্যাঁ?

    নৌকোয় করে আসছিলাম, একসময় দেখি যে জলে একটা নীলকমল ভাসছে। কী সুন্দর তার রূপ, এমন আর আগে দেখিনি। হাত বাড়িয়ে যেই সেটা ধরতে যাই, অমনি সেটা সরে যায়। একটু যেই বেশি ঝুঁকেছি, অমনি আমার গলা থেকে হারটা খসে গেল। সেটা তোলার জন্য জলে ঝাঁপিয়ে পড়লাম—

    কী সর্বনেশে কথা! তারপর?

    তখন দেখি, সেই পদ্মের মৃণালে একটা সাপ জড়ানো। ভয় পেয়ে সেটা ছেড়ে দিলাম। তারপর সোনার হারের সঙ্গে আমিও ডুবতে লাগলাম। ডুবতে ডুবতে চলে গেলাম একেবারে নীচে, সেখানে দেখি জোড়াসন করে এক কিশোর বসে আছে। সে দেবতা না দানব, আমি জানি না। তাকে দেখে ভয় করে, আবার ভয়ও করে না। আমাকে দেখে সে অদ্ভুত ভাবে হেসে বলল, তোমাকে আমি মারতেও পারি, বাঁচাতেও পারি। আমি হাত জোড় করে বললাম, আমাকে বাঁচিয়ে দিন। সে বলল, তা হলে তোমার যথাসর্বস্ব আমাকে দাও! তাই দিলাম! একে একে আমার সব অলংকার খুলে…

    আর কিছু দিসনি তো?

    আমার আর কী আছে? দেখো না, আমার সর্ব অঙ্গে রিক্ততা ছাড়া এখন আর কি কিছু আছে?

    বড় বাঁচা বেঁচে গেছিস তো আজ। শুনেছি জলের তলায় অনেক রকম অপদেবতা থাকে…তাকে দেখতে কেমন?

    ঠিক যেন নতুন বর্ষার এক টুকরো মেঘ।

    জলের মধ্যে মেঘ? তা হলে তুই দেখলি কী করে?

    ভয় পেয়ে যখন চোখ বুজেছিলাম, তখন আরও ভালো করে দেখতে পাচ্ছিলাম।

    ওমা, একী সাঙ্ঘাতিক কথা! শুনে আমারই যে বুক কাঁপছে, বউ! যাক বেঁচে গেছিস, এই ঢের। গয়নাগাঁটি গেছে যাক, তোর গয়নার অভাব কী?

    এই রোমহর্ষক ঘটনার বিষয়ে ননদিনী আরও বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চালাল। তারপর রাধাকে পোশাক বদলাবার জন্য একা রেখে বেরিয়ে গেল বাইরে।

    তখন রাধা দরজায় আগল দিয়ে কাঁদতে বসল। তাকে এখন অনেক কান্না কাঁদতে হবে। দুঃখের কান্না, সুখের কান্না। এরপর রাধা আর সহজে বাড়ির বাইরে বেরোতে চায় না। শরীর খারাপের অজুহাত দেয়। একা একা গবাক্ষের ধারে বসে থাকে। কেউ তার অন্তরের ব্যথা বোঝে না। কেউ তাকে ডাকলেও তার কানে আসে না। তার আহারে রুচি নেই। সাজসজ্জায় মন নেই। একটা গেরুয়া গেরুয়া শাড়িতে তাকে যোগিনীর মতন দেখায়। কখনও সে বেণীবন্ধন খুলে নিজের চুলের দিকে তাকিয়ে থাকে, কখনও তার চোখ চলে যায় আকাশের মেঘের পানে, আর অমনি দীর্ঘশ্বাস পড়ে। তাদের পোষা ভবন-শিখী দু’টি যখন খেলা করে, তখন রাধার দৃষ্টি স্থির হয়ে থাকে শুধু তাদের কণ্ঠের ওপর। ময়ূরকণ্ঠী রং দেখলেই বুঝি তার বুক কাঁপে।

    .

    এ-বাড়িতে একটা খুব বুড়ি স্ত্রীলোক থাকে। তার সঙ্গে কার যে কী সম্পর্ক তা বলা দুষ্কর। সবাই তাকে বুড়িমা বলে ডাকে। মানুষটি বড় স্নেহপ্রবণা। বিয়ের পর থেকেই রাধা তার কাছে অনেক সুখ-দুঃখের কথা বলে।

    সেই বুড়ি একদিন এসে বলল, ওলো নাতনি, তোর কী হয়েছে বল তো?

    রাধা উত্তর দিতে পারে না। তার নয়নে জল, কষ্ঠে বাষ্প এসে যায়।

    বুড়ি রাধার গা ছুঁয়ে বলল, ক’দিন ধরেই দেখছি, তুই ভালো করে খাস না, আমার কাছে চুল বাঁধতেও আসিস না! এই কদিনেই কী ছিরি হয়েছে দেখ তো! আগে তুই ছিলি একটা সোনার ফুল, এখন হয়েছিস দড়ি! কেন এমন করছিস, মা!

    রাধা বুড়িমাকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে ফেলে।

    বুড়ি পরম স্নেহে তার পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়। আস্তে আস্তে বলে, তুই কি আমাকেও কাঁদাবি! জানিস না, আমি চোখের জল সইতে পারি না। তোর কী হয়েছে, আমাকে বল না!

    বুড়িমা, আমার মরণ হয় না!

    যুবতী মেয়ের তো দু’রকম মরণ আছে। তার মধ্যে এই মরণ তো খুব সুখের। দেখি, দেখি, মুখটা তোল দেখি তুই কোন মরণে মরেছিস?

    রাধা আরও বেশি করে মুখ লুকোয়।

    বুড়িমা জোর করে রাধাকে স্নানে পাঠায়। রাধা কিছুই খেতে চায় না, বুড়িমা জোর করে তার মুখে অন্ন তুলে দেয়। একদৃষ্টে চেয়ে থাকে রাধার মুখের দিকে। তার চোখ দিয়ে ঝরে পড়ে বহুকালের পুরনো স্নেহ। এক সময় বুড়িমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে রাধাকে বলে, নাতনি, তোর দুঃখ আমি বুঝি। বৃষ্টি ছাড়া যেমন চাতকের তৃষ্ণা আর কেউ মেটাতে পারবে না, তেমনি তোর দুঃখও বুঝি একজনই ঘোচাতে পারে। সে কে? সে কোথায়?

    একদিন বৃন্দা আর ললিতা এল এ-বাড়িতে বেড়াতে। রাধার শুকনো মুখ, স্থির দৃষ্টি আর রাঙা বাস দেখে তারাও খুব চকিত হয়ে গেল।

    দুই সখী রাধার দু’ পাশে বসে ব্যাকুল হয়ে অনেক প্রশ্ন করতে লাগল। রাধা সহজে মুখ খুলতে চায় না।

    তখন ললিতা একটু রেগে গিয়ে বলল, তোকে আর হাটের পথে দেখি না, খেয়াঘাটে দেখি না,—কোথাও দেখি না। তুই কি আর আমাদের সঙ্গে দেখা করবিই না ঠিক করেছিস?

    রাধা বলল, না, আমি আর কোথাও যাব না। আমি আর কোনও দিন হাটে যাব না, খেয়া পারে যাব না! আমার ভয় করে!

    কীসের ভয়?

    মানুষের চোখের ভয়, মানুষের কথার ভয়!

    তা হলে তুই অন্তত স্নানের ঘাটেও আয়! আমরা কত দিন কদমতলায় তোর জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করি।

    রাধা কেঁপে উঠে বলল, না, না আমি কদমতলাতেও আর যাব না কোনও দিন।

    ললিতা বলল, ভয়ে যেন তোর মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে! কেন কদমতলায় কি বাঘ এসেছে নাকি?

    বৃন্দা বলল, হুঁ, কদমতলায় প্রায়ই একটা কালো রঙের বাঘ এসে বসে থাকে দেখছি আজকাল!

    ললিতা বলল, খেয়াঘাটে সেই বাঘটাই আবার নতুন নেয়ে সেজে আসে!

    বৃন্দা বলল, সেই তো আবার হাটের পথে দানী সেজে বসে। অবশ্য আমাদের সে কিছু বলে না। শুধু এক শিকারের দিকেই তার লোভ।

    রাধা বলল, থাক থাক সে-কথা থাক!

    বৃন্দা বলল, রাই, তুই মরেছিস বুঝি?

    ললিতা বলল, না, না, রাই কিছু করেনি, সেই ছোঁড়াটাই তো জ্বালায়! সেদিন থেকে দেখছি, ছোঁড়াটা এসে জোর করে রাইয়ের ভার বইতে চায়। রোদ লেগে রাইয়ের সোনার অঙ্গ পুড়ে যাবে বলে মাথার ওপর সে এসে ছাতা ধরে, মুখে তাম্বুল গুঁজে দেয়, সেদিন থেকেই বুঝেছি, ছোঁড়া একেবার মজেছে। আমাদের তো কেউ কোনও দিন এমন করেনি! তোকেই শুধু সে কেন এত জ্বালায়?

    বৃন্দা তাকে ধমক দিয়ে বলল, তুই থাম ললিতা, তুই কী বুঝিস? এক হাতে কখনও তালি বাজে না। রাইয়ের অবস্থা দেখছিস না! কানুর কথা তোলামাত্র ওর চোখের তারা ঘন ঘন কাঁপছে! দীর্ঘশ্বাস পড়ল ক’বার! দেখ না, ওর গায়ের তাপ কতখানি বেড়েছে। যেন ওর দেহপিঞ্জরটা এখানে পড়ে আছে, প্রাণপাখি চলে গেছে অন্য কাকে খুঁজতে।

    ললিতা বলল, সই, আমাদের রাধাকে অমন করে বকিসনি। রাই কোনও দিন আন-পানে তাকায়নি, কোনও দিন একবারও মুখ তুলে কথা বলেনি। কুলের মান রাখতে রাখতেই ও তো এতদিন কাটাল।

    বৃন্দা বলল, সে যাই বলিস, এবার কিন্তু রাই মরেছে! যেদিন সেই কালো ছোঁড়া নৌকোয় তুলে নিয়ে গেল সইকে, সেদিনই বুঝেছি সই এবার ডুবল।

    ললিতা বলল, বালাই ষাট, আমাদের সই ডুববে কেন? আমরা তাকে বাঁচাব।

    বৃন্দা হেসে ফেলে বলল, ললিতে, তুই তো সে-ডোবার স্বাদ জানিস না, তুই কী বুঝবি? সে-ডোবা থেকে কেউ বাঁচতে চায় না!

    রাধাকে নীরব দেখে বৃন্দা এবার ফিসফিস করে বলল, সই, তোকে একটা কথা বলি! সে-ছেলেটাও কম যন্ত্রণা পাচ্ছে না। ক’দিন ধরে দেখছি, যেন একেবারে পাগল হয়ে গেছে। মাথার চুলে চুড়ো বাঁধে না, অন্য রাখালদের সঙ্গে ধেনু চরাতে যায় না। সকাল নেই, রাত নেই, মাঠেঘাটে গড়াগড়ি খায়, কখনও একমনে বাঁশি বাজাতে বাজাতে দণ্ড প্রহর পার করে দেয়। আমাদের দেখলেই সে ছুটে আসে, মুখের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকে যেন আমরা কিছু বলব। বুঝি, সে তোর কথাই শুনতে চায়। আহা, বড় কষ্ট হয় আজকাল ছেলেটাকে দেখলে।

    মাটিতে নখ দিয়ে দাগ কাটতে কাটতে রাধা বলল, আমার পিতৃকুল, শ্বশুরকুল—দু’য়েরই সুনাম আছে। এতদিন আমি সেই দুকূল নির্মল রেখেছি, আমার কষ্টের কথা কাউকে বলিনি। এখন আমি কী করি বল তো? আমি নিজেকে কত কঠিন করে রেখেছি তাই বাইরে যাই না! অথচ ঘরকে মনে হয় অরণ্য। চন্দনও আমার উত্তপ্ত বোধ হয়। এখন আমি কী করি তোরা বলে দে?

    বৃন্দা বলল, এ বড় কঠিন প্রশ্ন! কানাইকে আমরাও যেন নতুন করে দেখছি। আগে ওকে ভাবতুম উটকো ছোঁড়া। হঠাৎ কী রকম যেন বদলে গেল? ওই নবজলধর কান্তি, কপাট বুক, করিশুণ্ডের মতন হাত, গলায় গুঞ্জা ফুলের মালা—এমন পুরুষ আর কে কবে দেখেছে? ওর ওই দৃষ্টির বিদ্যুৎ তোকে ছুঁয়েছে, তোর বুঝি আর উপায় নেই!

    রাধা বলল, আমি মনে-প্রাণে চাই, ওর সঙ্গে যেন আর আমার দেখা না হয়! যদি দেখা হয়, তবুও যেন প্রণয় অনেক দূরে থাকে। আর যদি প্রণয়ই হয়, তবে সখী তোদের বলি, আমার মতন আর কারওর যেন বিচ্ছেদ না হয়! এর কী অসহ্য জ্বালা, তোদের বোঝাতে পারব না। আর যদি বিচ্ছেদই হয় তবে যেন আর দেহ ধরতে হয় না। এর চেয়ে মরণ অনেক অনেক সুখের। সখি, আমাকে এমন কোনও ওষুধ দিতে পারিস যাতে আমার যৌবন জীর্ণ হয়ে যায়?

    বৃন্দা বলল, এই মেরেছে! আমরা এলাম তোকে বকুনি দিতে, তার বদলে তুই-ই যে আমাদের কঠিন প্যাঁচে ফেলতে চাইছিস! না বাবা, উঠি! চল ললিতা।

    ললিতা সরল বিস্ময়ে বলল, এ কেমন প্রণয় যাতে মানুষ মরতে চায়?

    যার জন্য এই প্রণয়, তাকেই যদি না-পাওয়া যায়, তা হলে বাঁচতে কার ভালো লাগে?

    কেন তাকে পাওয়া যাবে না? কানু ছোঁড়া তো মুখিয়ে আছে!

    বৃন্দা আবার ললিতাকে ধমক দিয়ে বলল, তুই থাম তো, তোর আর বুদ্ধিসুদ্ধি হল না। রাধা পরের ঘরের বউ, তার প্রণয় যে শরীরের রোগ-ব্যাধির মতন লোকের চোখে পড়ে যাবে! সে যে দারুণ জ্বালা। সেই জ্বালার কাছে প্রণয়ের মতন কোমল কুসুমটি কি বাঁচে?

    দুয়ারের কাছে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে বৃন্দা দেখল, রাধা মূৰ্ছিতার মতন দেওয়ালে ঠেসান দিয়ে বসে আছে। সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর প্রবোধ দেবার সুরে বলল, সখি, যৌবনকে বিড়ম্বিত করিসনি। কাল থেকে আবার হাটের পথে আয়। আবার আমরা একসঙ্গে গান গাইব, যমুনায় জলকেলি করব, ফুলবাড়িতে চয়ন করতে যাব। কানু যদি কাছাকাছি থাকে তো থাক না। চোখের দেখায় তো দোষ নেই। শুধু একবার চোখের দেখাতেও তো অনেক সুখ!

    চোখ বন্ধ রেখে রাধা শান্ত অথচ দৃঢ় স্বরে বলল, না। আমি যাব না। আমি আর কোনও দিন যাব না!

    বৃন্দা আর ললিতা বেরিয়ে গিয়ে বনপথ ধরল। তাদের অনেকটা দূরে যেতে হবে। দু’জনেই গম্ভীর। রাধা তাদের প্রাণের সই। রাধার কষ্ট দেখে তাদেরও কষ্টের অবধি নেই। আজকাল রাধা সঙ্গে থাকে না বলে তাদের পথ দীর্ঘ মনে হয়। কথায় কথায় আর কৌতুক উচ্ছল হয়ে ওঠে না।

    যমুনার ধারে ধারে সরু পথ। হঠাৎ এক জায়গায় একটা গাছের ডাল থেকে কানু লাফিয়ে পড়ল তাদের সামনে। ব্যাকুল ভাবে জিজ্ঞেস করল, ললিতা, বৃন্দা, তোমরা রাধাকে দেখতে গিয়েছিলে? সে কেমন আছে?

    গোপিনী দু’জন প্রথমটা চমকে উঠেছিল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বৃন্দা বলল, সে ভালো আছে। কিন্তু আমার সখীর খোঁজে তোমার কাজ কী!

    কানু বলল, তার কাছে আমার একটা মূল্যবান জিনিস জমা আছে, তাই খোঁজ নিচ্ছিলাম?

    রাধা আবার তোমার কী জিনিস নিয়েছে?

    একটা মুক্তাফল, নদীর ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম, তাই আমি ওর হাতে—

    ললিতা বলল, বুঝেছি! এসব হচ্ছে ঠ্যাকারের কথা! আমাদের সখীর আর কাজ নেই, সে ওর জিনিস নিতে গেছে! সে রাজনন্দিনী, সে কিনা বাঁদরের হাত থেকে মুক্তো নিতে যাবে?

    কানু তবু বলল, কেন, তোমরা ওর বুকের কাছে সেই মুক্তাফল দুলতে দেখোনি!

    না দেখিনি! আমরা দেখলাম, সে নিজের জ্বালায় জ্বলছে। চন্দন তার কাছে বিষতুল্য। পবন যেন হুতাশন। সে চাঁদকে সূর্য মনে করছে। কানু, আমাদের সখী এখন জীবন্ত-মরা, তুমি তাকে আর দগ্ধ কোরো না।

    বৃন্দা-ললিতা আবার হাঁটতে শুরু করতেই কানু তাদের পেছন পেছন এসে অনুনয়বিনয় করতে লাগল, বলো, বলো, রাধার কথা আর একটু বলো—

    এক সময় বৃন্দা পেছন ফিরে মুখঝামটা দিয়ে বলল, আ মরণ! আমাদের বুঝি তাড়া নেই, আমাদের বুঝি কলঙ্কের ভয় নেই? সে তো মরতে বসেছে, কালাচাঁদ, তুমিও মরো!

    কানু তাদের বারণ মানে না। ভিখারির মতন অনুনয়বিনয় করতে করতে অনেকক্ষণ ওদের পেছন পেছন যায়।

    সন্ধ্যার সমস্ত কাজকর্ম সেরে তারপর আয়ান পুজোর ঘরে ঢোকে। সেখানে সে প্রত্যেক দিনই অনেকক্ষণ থাকে। কালীর পুজো সেরে বেরোতে বেরোতে তার মধ্যরাত্রি পেরিয়ে যায়। রাধা তখন নিজের খাটে ঘুমিয়ে থাকে। আয়ান এসে একবার স্ত্রীর শয্যার পাশে দাঁড়ায়।

    রাধার চুলগুলি খোলা, ওষ্ঠে একটা পাণ্ডু রেখা, ঘুমন্ত অবস্থাতেও তার কপালটা একটু কুঁচকে গেছে, সেখানে দুঃখের ছায়া। ক্ষীণ চাঁদের আলো এসে পড়েছে তার বরতনুতে। রাধার সূক্ষ্ম নেত বস্ত্রের আঁচল মিশে গেছে সেই জ্যোৎস্নায়।

    ডান হাত বাড়িয়ে আয়ান একবার আলতো ভাবে স্ত্রীর ললাট স্পর্শ করল। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে এ-ঘর ছেড়ে চলে গেল অন্য ঘরে নিজের শয্যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article তালাশ – শাহীন আখতার

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }