Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প122 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. কংসের খুড়তুতো বোন দেবকী

    ৩

    রাজা কংসের এক খুড়তুতো বোনের নাম দেবকী। তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে বসুদেবের। কংস বিয়ের পরও বোনকে কাছ-ছাড়া করেনি। ভগ্নীপতিকে ঘরজামাই করে রেখেছে। রাজপ্রাসাদে নয় অবশ্য, কারাগারে, সেখানে দেবকী-বসুদেবের যত্নআত্তির কোনও অভাব নেই, অনেকগুলি রক্ষী তাদের দেখাশুনো করে। কিন্তু কারাগারের বাইরে এক পা-ও যেতে পারে না।

    দেবকী ছাড়াও বসুদেবের আর এক স্ত্রী আছে, তার নাম রোহিণী। একমাত্র পুত্রকে নিলে রোহিণী থাকে আভীরপল্লিতে। স্বামী-সঙ্গ-বঞ্চিতা রোহিণী বড় একটা কারওর সঙ্গে মেশেন না। তাঁর দুঃখ নিয়ে তিনি একলা ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছেন বছরের পর বছর।

    একদিন সেই রোহিণী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে এলেন যশোমতীর বাড়িতে। রোহিণীর ছেলেটির ফুটফুটে ফরসা রং, চেহারায় বেশ একটা নাদুসনুদুস ভাব। চলেও খানিকটা হেলেদুলে। এমনিতে সে বেশ হাসিখুশি ধরনের। কিন্তু হঠাৎ একবার রেগে উঠলে তাকে আর সামলানো যায় না। তার এখন বছর তেরো বয়স।

    সেই সময় গোরুগুলোকে মাঠে চরাতে নিয়ে যাবার জন্য গোয়াল থেকে বার করছিল কানু। মশা তাড়াবার জন্য গোয়ালঘরে ধুনো দেওয়া হয়েছিল, সেই ধুনোর ধোঁয়ার মধ্যে কানু যেন একেবারে মিশে রয়েছে।

    কানু এখন দ্বাদশবর্ষীয় কিশোর। হাত-পা রীতিমতন সবল। শ্রাবণ মাসের মেঘের মতন গায়ের রং, মাথায় ঝাঁকড়া ঝাঁকড়া চুল। কপাট বুক, খাঁজ-কাটা কোমর, বয়সের তুলনায় তাকে দেখায় অনেক বড়। সে আগে দুরন্ত ছিল, এখন দুর্দান্ত হয়েছে। তাকে নিয়ে যশোমতীর সব সময় ভয়।

    যশোমতী সপুত্র রোহিণীকে দেখে একটু অবাক হয়েছে। রোহিণী তো কখনও কারওর বাড়িতে আসে না। রোহিণী রোগা হয়ে গেছে অনেক, মাথার চুলগুলোতে জট বেধে গেছে, কেমন যেন তপঃক্লিষ্ট চেহারা।

    যশোমতী কানুর জন্য জলখাবারের পুঁটলি বেঁধে দিচ্ছিল, রোহিণীকে দেখে আসন পেতে দেবার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠল।

    গোরুগুলো নিয়ে কানু বেরিয়ে আসার পর রোহিণী তাকে ডেকে বললেন, বাছা, এদিকে একটু শুনে যাও তো!

    কানু কাছে আসতে রোহিণী স্নেহের সঙ্গে তার মস্তক আঘ্রাণ করলেন। তারপর নিজের ছেলের দিকে দেখিয়ে বললেন, বাছা কানু, ইটি তোমার বড় ভাই হয়, একে প্রণাম করো!

    কানু আর যশোমতী দু’জনেই অবাক। বৃন্দাবনের সব বালকই সবার ভাইয়ের মতন। এতে নতুন কিছু নেই। তবে রোহিণীর কথার মধ্যে কেমন যেন একটা হুকুমের সুর আছে।

    যাই হোক, মাতৃসমা এক নারী আদেশ করেছেন বলে কানু ঢিপ করে একটা প্রণাম সেরে ফেলল।

    রোহিণী আবার বললেন, আজ থেকে যখন তোমরা গোষ্ঠে ধেনু চরাতে যাবে, তখন একেও সঙ্গে নিয়ে যাবে!

    বিস্ময় ভেঙে যশোমতী বলল, বাঃ কী সুন্দর ছেলেটি তোমার দিদি! কনকচাঁপার মতন গায়ের রং, মুখখানি যেন চাঁদের টুকরো। স্বয়ং চাঁদ যেন এসে জন্ম নিয়েছে তোমার ঘরে। কী নাম তোমার ছেলের?

    রোহিণী বললেন, এর নাম সঙ্কর্ষণ। ডাকনামও আছে দুটো। কেউ বলে বলরাম, কেউ বলে বলাই।

    যশোমতী বলল, বাঃ, বলাই নামটাই তো সুন্দর। আমার কানুর সঙ্গে বেশ মিলে যাবে। কানাই আর বলাই! আমার ছেলে জন্মাবার কয়েকদিন পরেই তো গর্গ সাধু এসে উপস্থিত! গর্গ সাধুকে চেনো তো দিদি? আমি ভাবলাম যাক, ভালোই হল। সাধুবাবাকে বললাম, আমার ছেলের একটা নামকরণ করে দাও। সাধু অমনি বললেন, নাম রাখো শ্রীকৃষ্ণ। আমরা তো এমন নাম আগে কক্ষনও শুনিনি। ছেলের গায়ের রং একটু ময়লা, তা বলে নামও সেই রকম রাখতে হবে? যাই হোক, সাধুর কথা তো আর ফেলতে পারি না! কিন্তু অত খটমট নাম তো সব সময় উচ্চারণ করা যায় না, তাই আমরা বলি কানাই, কখনও বলি কানু।

    .

    রোহিণী ভূমির দিকে চক্ষু রেখে বললেন, আমি জানি, গর্গমুনি আমার ছেলেরও নামকরণ করে গেছেন। কিন্তু বোন, গর্গমুনি তোমাকে আর কিছু বলেননি?

    যশোমতী থতমত খেয়ে বলল, না তো! মানে সাধু তো অনেক কথাই বলে ছিলেন, উনি বেশি কথা বলতে ভালো বাসেন, তুমি কোন কথাটা বলছ দিদি?

    রোহিণী উত্তর দেবার আগেই হইহই করে উপস্থিত হল ছেলের দঙ্গল। যে-যার বাড়ির গোরু নিয়ে এসেছে মাঠে চরাবার জন্য। তারা চেঁচামেচি জুড়ে দিল, এই কানু, যাবি না? আয়! সূয্যি যে মাথায় চড়ল! কানু চঞ্চল হয়ে গোরুগুলির দড়ির বাঁধন খুলে দিয়ে বলল, মা, যাই? খাবারের পুঁটলি কই, দাও!

    রোহিণী তাঁর ছেলেকে বললেন, বলাই তুমিও সঙ্গে যাও! ছোটভাইকে চোখে চোখে রাখবে।

    বলাইয়ের হাত ধরে ছুটতে ছুটতে বেরিয়ে গেল কানু। যশোমতীর চোখে শঙ্কার ছায়া। প্রতি দিনই ছেলে বাইরে যাবার সময় তাঁর এই রকম ভয় হয়। অতি দুরন্ত ছেলে, তায় বাইরে আবার শোনা যাচ্ছে নাকি কালীদহে মস্ত বড় একটা অজগর সাপ এসেছে।

    যশোমতী ছুটে গেল উঠোনের বেড়ার ধারে। কাতর গলায় বলল, কানু, সাবধানে থাকবি কিন্তু! তুই ধেনুগুলোর আগে আগে কিছুতেই যাবি না! ওরে পরানের পরান নীলমণি, আমার শপথ রইল, মনে থাকে যেন! পথে অনেক তৃণাঙ্কুর আছে, দেখে দেখে যাস কিন্তু। আর কারু নামে যে বড় ধেনুটা আছে, সেটা খেপে গেলে তুই যেন তার শিং ধরে থামাতে যাস না! মনে থাকে যেন! মাঠে গিয়ে গাছের ছায়ায় বসবি, গায়ে বেশি রোদ্দুর লাগাসনি, তা হলে আমারও গা পুড়ে যাবে!

    কানু অতি শান্ত ছেলের মতো জননীর প্রতিটি অনুরোধের উত্তরেই বলতে লাগল, আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা, আচ্ছা।

    মেঠো পথে ধুলো উড়িয়ে ধেনুর পাল নিয়ে ছেলেরা চলে গেল দৃষ্টির আড়ালে।

    যশোমতী আবার আস্তে আস্তে ফিরে এল আঙিনার কাছে। যোগাসনের ভঙ্গিতে মেরুঁদাড়া সোজা করে বসে আছেন রোহিণী। চোখের দৃষ্টি তীব্র। দেখেই কী রকম যেন গা ছমছম করে যশোমতীর। ঘরের মধ্যে গিয়ে একটা কাঁসার রেকাবিতে কয়েকটা মিষ্টি সাজিয়ে, পাথরের গেলাসে জল ভরে এনে রোহিণীর সামনে রাখল। তারপর বিনীত ভাবে বলল, দিদি, তুমি গর্গসাধুর কথায় কী বলছিলে?

    রোহিণী বললেন, যাক, তিনি যখন কিছু বলেননি, তখন এখন আর বলার দরকার নেই।

    কী কথা দিদি, কোনও গোপন কথা?

    সময় হলে জানবে!

    রোহিণী দিদি, হঠাৎ এতদিন বাদে তুমি আমাদের বাড়িতে এলে, তোমার ছেলেকে বললে কানুর দাদা— এর মানে কী? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

    রোহিণী একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন যশোমতীর দিকে। তারপর ধমক দেবার সুরে জিজ্ঞেস করলেন, কিছুই জানো না?

    যশোমতী থরথরিয়ে উত্তর দিল, না, কিছুই বুঝলাম না। এর মধ্যে কি কোনও গুহ্য কথা আছে? আমার ভয় করছে, এই দেখো, আমার বুক কাঁপছে। কত বিপদ-আপদ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছি ছেলেকে—

    রোহিণী এবার একটু নরম হলেন। যশোমতীর বাহু স্পর্শ করে বললেন, ভয় নেই বোন! তুমি, আমি, আরও অনেকে একটি খুব বড় কার্যসাধনের নিমিত্ত হয়ে আছি। আমি ভেবেছিলাম, তুমি তার কিছু কিছু জানো। জানো না যখন, তখন এখন আর জেনে কাজ নেই। জানালে, তোমার অবস্থাও আমার মতন হবে, এমনি শুকনো কাঠ হয়ে যাবে। তার চেয়ে, তুমি রসে-বশেই থাকো। তোমার স্নেহসুধা উছলে দাও! সেই চরম সময় তো একদিন আসবেই—

    এদিকে গোপপল্লি ছাড়াতে-না-ছাড়াতেই কানু নিজমূর্তি ধরল। গায়ের উড়নিটা জড়িয়ে বাঁধল কোমরে। সেখানে ছোরার মতন গুঁজে নিল তার আড়বাঁশিটা। তারপর কারু নামে যে বিশাল বলীবর্দটি ধারালো শিং নিয়ে, মাথা নেড়ে নেড়ে, কান লটপটিয়ে আগে আগে যাচ্ছে, সেটির শিং চেপে ধরে লাফিয়ে তার পিঠে চড়ে বসল কানু। জিভ উলটিয়ে চেঁচিয়ে উঠল, ইঃ! ইঃ-রে-রে-রে-রে—

    বলীবর্দটির পেটে হাঁটুর চাপ দিতেই সেটা জোর কদমে দৌড়োল। অন্যদের ছাড়িয়ে এগিয়ে গেল অনেকখানি। অন্য রাখালরা চেঁচাতে লাগল। যাসনে, যাসনে, ওরে কানু, যাসনে— । কে শোনে কার কথা।

    একেবারে যমুনার ধারে একটা উঁচু ঢিবির সামনে এসে থামল কানু। লাফ দিয়ে নীচে নামল। অন্যরা এখন অনেক পেছনে পড়ে আছে। অদূরেই ঘন সবূজ তৃণভূমি। সেই তৃণভূমির গা ঘেঁষেই ভাঙছে ছলাৎ ছলাৎ শব্দে যমুনার ছোট ছোট ঢেউ। ঢিবিটার ওপরে উঠলে দেখা যায়, ডান পাশে, খানিকটা দূরে বড় কদমগাছটার নীচে খেয়াঘাট। আজ বুঝি হাটবার, তাই খেয়াঘাটে এখন বেশ ভিড়, মাথায় পসরা নিয়ে গোপিনীরা দাঁড়িয়ে আছে পার হবার অপেক্ষায়।

    অন্য রাখালরা এসে পৌঁছোবার পর গোরুগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হল ঘাসবনে। যার যার জলখাবারের পুঁটুলি সব জড়ো করে রাখা হল এক কদমতরুর তলায়। যমুনায় নেমে ওরা হাত-মুখ ধুল। তারপর সুদাম বলল, আজ কী খেলা হবে রে?

    এক এক দিন এক এক রকম খেলা জমে। কোনও দিন দেব-দৈত্যি, কোনও দিন গজ-কচ্ছপ, কোনও দিন শুম্ভ-নিশুম্ভ, কোনও দিন নাগযজ্ঞ। শ্রীদাম বলল, আজ ভাই রাজা-প্রজা খেলা হোক। এই খেলাটায় মারামারি নেই। অন্য দিন আমি বড্ড মার খাই!

    সুবল বলল, ঠিক আছে, সেই খেলাই হোক। আমি তবে রাজা হব।

    কানু তাকে এক ধাক্কা দিয়ে বলল, যা রে! তোর তো চেহারাই প্রজার মতন, তুই কী করে রাজা হবি?

    মধুমঙ্গল বলল, তা হলে কে রাজা হবে?

    কানু নিজের বুক বাজিয়ে বলল, আমি! তা ছাড়া আবার কে?

    সবাই হইহই করে উঠল। অনেক জনের অনেক রকম কথা, ঠিক বোঝা যায় না। সুবল চেঁচিয়ে বলল, না ভাই, কানু কেন রোজ রোজ রাজা হবে? আমরা বুঝি বানের জলে ভেসে এসেছি? কানু কি আমার মতন ভেলকি দেখাতে পারে? সে কি আমার মতন নানা রকম সাজতে পারে?

    কানু তার উদ্দেশে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল, তা হলে তুমি বহুরূপী সেজে রথের মেলায় ভেলকি দেখাও গে! রাজা সাজার অত শখ কেন? যে সবাইকে জয় করে, সেই রাজা হয়!

    আহা, তুই যেন আমাদের সবাইকে জয় করে বসে আছিস আর কী!

    কানু আবার নিজের বুকে গুম গুম করে কিল মেরে বলল, কোন প্রতিযোগিতায় কে আমার সঙ্গে জিততে পারে, আয় দেখি!

    রাখাল বালকদের মধ্যে অংশুমানকেই সবচেয়ে লম্বা-চওড়া দেখায়। তার পাশে দাঁড়ানো মধুমঙ্গলের পেটটি কিছু নাদা হলেও গায়ে বেশ শক্তি। নবাগত বলরামের শক্তি যে কতখানি তা কেউ জানে না!

    কোমরে গোঁজা আড়বাঁশিটা হাতে নিয়ে কানু বলল, আমি এটাকে যমুনায় ছুড়ে দেব, দেখি কে এটা আগে তুলে আনতে পারে!

    বাঁশিটা সজোরে ছুড়ে দিল কানু, সেটা অনেকখানি দূরে গিয়ে ঝপ করে জলের মধ্যে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ল পাঁচ-সাত জন রাখাল বালক।

    যদিও এদের মধ্যে কানুই সবচেয়ে ভালো সাঁতার জানে, তবু সাবধানের মার নেই। যাতে হঠাৎ কেউ তার থেকে আগে-না চলে যায়, সেইজন্যে সে ডুবো সাঁতারে গিয়ে শ্রীদামের পা ধরে টান লাগাল, মধুমঙ্গলের ঘাড় ধরে চুবুনি খাইয়ে দিল। তারপর বাঁশিটা নিয়ে সগর্বে ফিরে এল সবার আগে!

    সুবল বলল, আচ্ছা দেখি, এই কদমবৃক্ষটির একেবারে মগডালে সবচে আগে কে উঠতে পারে?

    কথা শেষ হতে-না-হতেই ছেলেরা লাফিয়ে উঠে গাছের ডাল ধরল। কানু তো সকলের আগে উঠবেই, তবু সাবধানের মার নেই। সুদাম কানুর থেকে একটা উঁচু ডালে পা দিতেই কানু সে ডালটায় হাত দিয়ে ধরে এমন ঝাঁকুনি লাগাল যে সুদাম বেচারা পা পিছলে পড়ে যেতে যেতে কোনওক্রমে নীচের ডালটা ধরে জীবন বাঁচাল। আর অংশুমান গায়ের জোরে কানুকে ঠেলে ওপরে ওঠার চেষ্টা করতেই কানু একটা লাল-পিঁপড়ের বাসা ভেঙে ছেড়ে দিল তার গায়। তারপর হাসতে হাসতে সে গিয়ে মগডালে উঠে বসল।

    তাতেও শান্তি নেই। সেইখান থেকে কানু চেঁচিয়ে বলল, এবার যে-যেখানে আছি সেখান থেকে এক লাফ দিয়ে মাটিতে নামতে হবে, কে কে পারবে?

    এ-কথায় সব রাখালই শিউরে উঠল। এত উঁচু থেকে লাফালে হাত-পা ভাঙবে নিশ্চিত। কানু বসে আছে সবচেয়ে উঁচুতে। তার মুখেই এই প্রস্তাব।

    কানু বলল, আমি গুনছি—চন্দ্র, পক্ষ, নেত্র, চতুর্বেদ।

    তারপর সত্যি সে লাফ দিল। সে একাই শুধু। ঘন পাতাওয়ালা কদম গাছের ডালপালায় গুঁতো খেতে খেতে সে নীচে পড়তে লাগল।

    তবু ভাগ্য যে নীচের মাটি বৃষ্টি-ভেজা নরম ছিল। কানু সেখানে ধপ করে পড়ার পর সবাই ছুটে এল তার কাছে। বলরাম এসে কানুর মাথাটা কোলে তুলে নিল। কিন্তু কানু মিটিমিটি হাসছে। তার লাগেনি।

    অন্য দুটো খেলায় কানু কৌশল করে জিতেছে বলে যদিও কারওর কারওর প্রতিবাদ করার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু এরপর কেউ আর মুখে রা কাড়ল না। এবার সবাই বুঝে গেছে যে, অন্তত সাহসে কানুই সবার সেরা।

    বলরাম গম্ভীর ভাবে বলল, কা-ক্কানুই রাজা হ-বে!

    সব রাখালরা চোখাচোখি করল। এতক্ষণে তারা ধরতে পেরেছে, বলরাম কেন এত কম কথা বলে। সে একটু তোতলা।

    উঁচু ঢিবিটার ওপর এক জায়গায় আরও কিছু মাটি ফেলে সিংহাসন বানানো হল। সেখানে বসানো হল কানুকে।

    মধুমঙ্গল বলল, আমাদের রাজার মুকুট কোথায়?

    সুবল বলল, আমি বানিয়ে দিচ্ছি।

    সুবল হাতের কাজ বেশ ভালো জানে। ছদ্মবেশ ধারণেও বেশ ওস্তাদ। অল্পক্ষণের মধ্যেই সে লতাপাতা পাকিয়ে তার সঙ্গে কদমফুল জুড়ে বেশ একটা মুকুট বানিয়ে ফেলল।

    কিন্তু সেটা পছন্দ হল না কানুর। সে বলল, আমার ময়ূরের পালকের মুকুট চাই।

    যমুনা তীরে ময়ূরের পালকের অভাব কী? একটু জঙ্গলের মধ্যে খুঁজে কয়েকটা টাটকা পালক নিয়ে এল সুবল। সেগুলোকে গোল করে, লতার বাঁধন দিয়ে বেশ একটা মজবুত ধরনের মুকুট তৈরি হয়ে গেল।

    সুবল যখন সেটা কানুর মাথায় পরাচ্ছে, তখন কানু আস্তে আস্তে বলল, খুব ছোটবেলায় একজন আমার মাথায় এ রকম একটা ময়ূর পালকের মুকুট পরিয়ে দিয়েছিল।

    কে?

    কী জানি! তার নাম মনে নেই, মুখ মনে নেই। শুধু মনে আছে তার হাত দু’খানির কথা, আর গায়ের গন্ধ।

    কী রকম হাত?

    তোর মতন এ রকম কেঠো কেঠো আর শক্ত নয়। কী সুন্দর নরম আর রাঙা রাঙা। ঠিক যেন করমচার মতন। আর গায়ের গন্ধে যেন চন্দনের সুবাস। মনে হয় যেন সেই গন্ধ আমার কতকালের চেনা। যেন আমার আগের জন্ম, তারও আগের জন্মে ওই গন্ধ পেয়েছি।

    আহা রে কানু, তোর যে দেখছি চক্ষু বুজে আসছে!

    সঙ্গে সঙ্গে কানু পূর্ণ চোখ মেলে কটমট করে তাকিয়ে বলল, এবার আমি হুকুম জারি করছি, সবাই মন দিয়ে শোনো! প্রজারা, সবাই দেখে এসো, আমাদের গোষ্ঠরাজ্যে কোনও শত্রু ঢুকেছে কিনা! আগে দক্ষিণ দিকে যাও।

    সব রাখাল বালক ছুটল দক্ষিণ দিকে।

    একটু পরে তারা ফিরে এসে দেখে কানু দিব্যি খাবারের পুঁটলি খুলে সিংহাসনে বসে খাওয়ায় মন দিয়েছে! তাদের দেখে কানু আবার হুকুম দিল, দক্ষিণ দেখে এসেছ? এবার উত্তর দিকে যাও। সবাই যাবে।

    রাখালরা উত্তর দিকও ঘুরে এসে দেখল, কানু তখনও খাচ্ছে। নিজের পুঁটুলি ছাড়াও আরও তিন-চার জনের খাবার শেষ করেছে। তা দেখে হইহই করে উঠল সবাই। কানু হাসতে হাসতে বলল, তোরা আর একটু দেরি করতে পারলি নে? তা হলে সব ক’টা পুঁটুলি শেষ করতাম!

    সুবল বলল, এবার তুই সত্যিই খাঁটি রাজা হয়েছিস রে কানু! প্রজার অন্ন মেরে রাজা নিজের পেট মোটা করে!

    কানু বলল, তোদের বিপদ-আপদ হলে আমিই তো লড়াই করব। তাই আমার গায়ের জোর করে নিচ্ছি।

    এমন সময় ঘাসবনের দূর প্রান্তে একটা বিশ্রী হ্যাঁক্কো-হ্যাঁক্কো-হাঁক্কো ধরনের কলরব শোনা গেল। সকলে উৎকর্ণ হল এবং বুঝতে দেরি হল না।

    এদিকে মাঝে মাঝে বুনো গাধার খুব উৎপাত হয়। এদের বড় বড় দাঁত, গায়েও খুব জোর। গোরু বা মানুষ সামনে যাকেই পায় অমনি ঢুঁসো মারে আর শক্ত পায়ের চাঁট দেয়। গোরুগুলো বড্ড ভয় পায় এদের।

    রাখালরা চেঁচিয়ে বলল, রাজামশাই, ওই তো শত্রু এসেছে। ওই তো শত্রু!

    কানু লাফ দিয়ে উঠে একটা গাছের ডাল ভেঙে নিতে গেল।

    তার আগেই বলরাম বলল, তু-তুই থাক কানু, আমি দেখছি!

    বলরাম তিরবেগে ছুটে গেল ঘাসবনের মধ্যে। তারপরেই দেখা গেল সে একটা বুনো গাধার দু’ পা ধরে মাথার ওপর তুলে বনবন করে ঘোরাচ্ছে। অতবড় একটা প্রাণীকে ও রকম ভাবে উঁচু করে তোলা—সকলে স্তম্ভিত হয়ে দেখল বলরামের কতখানি গায়ের জোর। বলরাম গাধাটাকে কয়েক পাক ঘুরিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল জলের মধ্যে।।

    তখন কানুও সদলবলে ছুটে গেল। শুরু হল ঘাসবনের মধ্যে এক খণ্ড যুদ্ধ। গোঁয়ার গাধাগুলো শুধু সামনেই এগিয়ে আসে, সহজে পিছু হটতে জানে না। কানু লাঠির বাড়ি মেরে মেরে তাদের ক্ষতবিক্ষত করে দিতে লাগল। অন্য রাখালরাও তাদের পাচনবাড়ি দিয়ে পেটাতে লাগল ধপাধপ শব্দে। শেষ পর্যন্ত গাধাগুলো রণে ভঙ্গ দিল, বলরাম ও কানুর হাতে প্রাণও দিয়ে গেল কয়েকটি।

    পরিশ্রান্ত রাখালরা আবার ফিরে এল ঢিবিটার কাছে। যেটুকু খাবার অবশিষ্ট ছিল, ভাগ করে খেতে বসল সবাই। কানু এই অবসরে তার বাঁশিতে ফুঁ দিল। সত্যি বড় মিষ্টি সুর তুলতে শিখেছে ছেলেটা, সারাদিন সে যত দুরন্তপনাই করুক, সন্ধ্যাবেলা শ্মশানের ধারে এক সাধুর কাছে ঠিক নিয়মিত সে বাঁশি শিখতে যায়। তার সুরের লহরী ছড়িয়ে পড়ছে বহু দূর পর্যন্ত। এমনকী তার বাড়িতে যশোমতীর কানে গিয়েও পৌঁছোয়। সেই বাঁশির শব্দ শুনে মা যশোমতী খানিকটা নিশ্চিন্ত বোধ করে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article তালাশ – শাহীন আখতার

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }