Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প122 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. কে বাঁশি বাজায়

    ৮

    কে বাঁশি বাজায়, বড়ায়ি, ওই কালিন্দী নদীর কূলে? বুড়িমা, এই গোকুলের গোষ্ঠে কে অমন বাঁশি বাজায়? আজ যে আমার শরীর বড় আকুল, মন যে বড় ব্যাকুল হয়ে পড়ছে। ওই বাঁশির শব্দে আমার রান্না সব এলেমেলো হয়ে গেল। বুড়িমা, কে ওই বাঁশি বাজায় আমি জানি না, তবু কেন ইচ্ছে হচ্ছে ছুটে গিয়ে তার পায়ে আমি মাথা কুটি? সে তো চিত্তের হরিষে বাঁশি বাজাচ্ছে, কিন্তু তার কাছে আমি কোন দোষ করেছি?

    বুড়িমা অবাক হয়ে চেয়ে রইলেন রাধার মুখের দিকে। এক সময় বললেন, ও কী, তুই কাঁদছিস কেন মা? এমন মিষ্টি বাঁশির সুর, তা শুনে কেউ কাঁদে?

    ও তো আমাকে কষ্ট দেবার জন্যই অমন সুস্বরে বাঁশি বাজাচ্ছে।

    ও তো নন্দের নন্দন কানু। ক’দিন ধরেই ওকে দেখছি এদিকে। অমন বাঁশি শুনলে পিঞ্জরের শুকপাখিও উড়ে যেতে পারে!

    আমি তো পাখি নই যে উড়ে যাব তার ঠাঁই। মেদিনী বিদীর্ণ হলে আমি তার মধ্যে লুকোতাম।

    তোর দুঃখ আমি বুঝেছি মা।

    বুড়িমা, যখন বন পোড়ে তখন জগজ্জন তা দেখতে পায়। কিন্তু আমার মন পুড়ছে যেন কুমোরের পোয়ান।

    বুড়িমা হা-হা করে উঠল, ও কী, তুই জল ছাড়াই হাঁড়িতে চাল চাপাচ্ছিস কী? একটু আগে দেখলাম, তুই নিমের ঝোলে লেবু টিপে দিলি!

    রাধা বলল, আমি আর পারি না! আর পারি না! আর পারি না যে!

    ক’দিন ধরে রাধা নিজেকে সামলেসুমলে উঠে বসেছিল। চুল আঁচড়ে, শাড়ি বদলে সে মন দিয়েছিল সংসারধর্মে। কিন্তু আজ আবার সন্ধ্যার পর রান্নাঘরে বসে ওই খ্যাপা বাঁশির সুর শুনে তার সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। রান্নায় আর কিছুতেই মনঃসংযোগ করতে পারল না। বাঁশির সুর তাকে যেমন উতলা করে, তেমনই হঠাৎ বাঁশি থেমে গেলে সে চাতকের মতো অধীর হয়ে পড়ে।

    সে বাঁশি বেজেই চলল, বেজেই চলল। ও কি বাড়ি যাবে না? ওর ক্ষুধা-তৃষ্ণা নেই? ও কি পাগল হয়েছে আজ? রাধা ঘরে থাকতে পারে না, বাইরে আসে। বাইরে থাকতে পারে না, ঘরে আসে আবার। ভাত রান্না করতে গিয়ে সে নুন ফুরিয়ে ফেলল, ডাল বেঁধে সে ফেন গালতে গেল। বুড়িমা তাকে সরিয়ে দিয়ে বলল, তুই সর দেখি, যা ঘরে গিয়ে শুয়ে থাক। রান্না করতে হবে না তোকে। আমি সব দেখছি।

    রাত যখন নিশুতি, সবাই খেয়েদেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে, রাধা তখনও জেগে। তখনও দূরে কোথাও সেই বাঁশি বেজেই চলেছে। এখন সেই বাঁশির সুর আরও তীক্ষ্ণ, আরও করুণ। এক সময় রাধার সব সংযম বন্যার তোড়ে মাটির বাঁধের মতন ভেঙে গেল।

    চুপি চুপি শয্যা ছেড়ে উঠে এল রাধা। পায়ের নূপুর আর কটিভূষণ খুলে ফেলল। পরে নিল একটা নীল রঙের শাড়ি। তারপর গুরুজন, দুর্জনের ভয় কিছুই না মেনে বেরিয়ে পড়ল পথে।

    রাধার সঙ্গে শত্রুতা করার জন্যই যেন সে-রাতে মস্ত বড় চাঁদ উঠেছে। চাঁদ যেন আঁধার রূপ মদিরা পান করে আজ বেশি পরিমাণে স্ফূর্তি প্রবণ। চারদিকে ফটফট করছে নীল জ্যোৎস্না। রাধার শরীর ও বসন যেন মিশে গেল সেই জ্যোৎস্নায়।

    চৈত্র মাসের ছোট রাত, কখন ফুরিয়ে যাবে তার ঠিক নেই। রাত্রির এখন কত প্রহর রাধা তা জানে না। তাই রাধা পথ দিয়ে দ্রুত চলতে যায়। কিন্তু চিত্ত এত অস্থির যে পথের দিকে চোখ নেই। বার বার তৃণাঙ্কুর ফোটে পায়। বেশি জোরে যেতে গিয়ে মাঝে মাঝে পদস্খলিত হয়ে পড়ে যায়, তখন মনে হয় যেন জালে-বদ্ধ হরিণী। আবার ছটফটিয়ে উঠে পড়ে। রাধার এখন শরম-ভরম বোধ নেই।

    বাঁশির শব্দ অনুসরণ করে করে বনের মধ্যে ছুটতে ছুটতে রাধা এক সময় দেখতে পেল বংশীবাদককে। গাছের ডালপালা কেটে মাটিতে বিছিয়ে কানু একটু শয্যা তৈরি করেছে। তার ওপর অজস্র ফুল ছড়ানো।

    .

    প্রথম কিছুক্ষণ পরম্পর দৃষ্টিবদ্ধ হয়ে রইল। কেউ একটা কথাও বলল না। যেন কত দিন, কত মাস, কত বর্ষ পার হয়ে গেল। দুই চোখের মাঝখানে যেন এক সেতু। দু’জনে তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে আছে। হঠাৎ বাতাস উঠল, গাছের শাখা দুলল, সেই শব্দে ওদের ঘোর ভাঙল। তারপর দু’জনেই ছুটে এসে যখন আলিঙ্গনাবদ্ধ হল, তখন মনে হল, মেঘের ওপর একটি বিদ্যুৎরেখা স্থির হয়ে গেছে।

    একটু বাদেই আলিঙ্গনমুক্ত হয়ে রাধা ভাবল, কেন এলাম? এ যে না-ফেরার পথ!

    কানু ভাবল, আমি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত যার ধ্যান করছি, এ কি সে? এ যে তার চেয়েও বেশি। এত রূপ তো আমি চক্ষে ধারণ করতে পারিনি! ত্রিবেণী জলসঙ্গমে শতযজ্ঞ অনুষ্ঠান করে যে বহু ভাগ্য অর্জন করে, সেই তো এমন রমণীকে পাবার অধিকারী। আমি কি একে পাব? এ আমার আঙুলের ফাঁক দিয়ে অলীক হয়ে চলে যাবে না তো!

    রাধা আস্তে আস্তে বলল, হে নির্দয় কানু, কেন আমাকে এমন ভাবে পাগল করলে? আমাকে কলঙ্ক সাগরে ডুবিয়ে তোমার কী লাভ?

    কানু বলল, তুমি ডুববে না, আমরা দু’জনেই আনন্দ বারিধিতে ভাসব! কিন্তু তুমি কেন আমায় এত দিন দূরে সরিয়ে রেখেছ? আমি যে আর পারছিলাম না! দেখো আমার কপাল কত জ্বরতপ্ত?

    কানু নিজের মাথাটা ঝুঁকিয়ে দিল, কিন্তু লজ্জাবশত রাধা তা স্পর্শ করল না। কানু তখন হাঁটু গেড়ে বসে, দেবীর সামনে ভক্তের মতন ভঙ্গিতে বলল, সুন্দরী রাধা, তুমি সরোবরময়ী। তোমার দেহের লাবণ্যই তোমার জল, কুন্তলদাম যেন তার শৈবাল, তোমার বদন একটি পদ্ম, তোমার নয়ন দুটি নীলকান্ত মণি, নাসিকা যেন স্রোতে-ভাসা তিলফুল; তোমার দুই গালে মহুয়া ফুলের আভা। তোমার হাসিতে লোধ্ররেণু…রাধা, তুমি তো এখনও একবারও হাসোনি।

    রূপবর্ণনায় ও স্তুতিতে রাধার মুখ অরুণবর্ণ। সে ঈষৎ পাশ ফিরে প্রস্তরমূর্তির মতন স্থির।

    কানু বলল, পায়ের কাছে একটি কীট এলেও মানুষ তার দিকে দেখে। আমি কি কীটের চেয়েও অধম? বলো, বলো, বলো—

    রাধা অস্পষ্ট গলায় বলল, এই ভয়াল রাত্তিরে গৃহশাসন অগ্রাহ্য করে আমি ছুটে এসেছি, কানু, সে কি কোনও কীটাণুকীটের জন্য? কানু, তুমি আমার ইহকাল কেড়ে নিয়েছ!

    কানুর মুখ উল্লাসে উদ্‌ভাসিত হয়ে গেল। অত্যন্ত বেশি আনন্দ যেন কষ্টের রূপ ধরল, সে মাথা ঝাঁকিয়ে আঃ আঃ আঃ শব্দ করতে লাগল। তারপর বলল, তুমি যখন কিঞ্চিৎমাত্রও কথা বলো, তখন তোমার দন্তরুচি ঠিক কৌমুদীর মতন বিকশিত হয়। যেন একটা আলো ফোটে, এক নিমেষে অতিশয় আঁধারও দূর হয়ে যায়! প্রতীক্ষায় প্রতীক্ষায় অধৈর্য হয়ে আমার শরীর যেন জ্বরে পুড়ে যাচ্ছিল, এমন সময় তুমি এলে স্নিগ্ধ সরোবরের মতন। তোমার বাহুই যেন মৃণাল, করতল রক্তপদ্ম। তোমার স্তনদ্বয় কনক-কলস, নাভিতে ঈষৎ প্রস্ফুটিত শালুক। তোমার ত্রিবলী যেন ঘাটের স্বর্ণ-সোপান, শোভিত জঘনে স্বর্ণপাট—

    রাধার মনে হল, কেন একটু চুলটা বেঁধে আসেনি, কেন নয়নে কাজল দেয়নি একটু, কেন কুঙ্কুম-চন্দনে একটু শরীর-প্রসাধন করেনি! পরক্ষণেই এ-চিন্তার জন্য লজ্জা জাগল তার মনে। কিন্তু তার অঙ্গ থরথর করে কাঁপছে। তার কুচ-যুগের ওপর সূক্ষ্ম বসনও যেন গুরুভার বোধ হচ্ছে। তার শরীর যেন তার নিজের বশে নেই আর। তার এত দিনের নারীজীবনে এমনটি দশা আর হয়নি কখনও।

    কানু এবার রাধার হাত ধরে পাতার শয্যার ওপর বসাল। রাধা লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে রইল অন্য দিকে। কিন্তু মন মানে না। চোখ চকিতে ফিরে ফিরে আসে কানুর দিকে। তার শরীর যেন অয়স্কান্তমণি দিয়ে গড়া। গলায় বাঁধুলি ফুলের মালা। তার ত্বক যেন কালো রঙের দর্পণ। তার দেহের গড়ন সুঠাম-বলিষ্ঠ, একটুও রুক্ষতা নেই। সবচেয়ে বেশি পাগল করে তার মুখ। ভ্রমর-কৃষ্ণ চোখ দু’টি সদা চঞ্চল।

    কানু জিজ্ঞেস করল, কেন তোমায় আর যমুনার ঘাটে দেখি না? কেন তুমি আর কদমতলায় স্নান করতেও আসো না? আমি কি এতই বিষ যে আমাকে তোমার চোখে দেখতেও ইচ্ছে করে না?

    রাধা উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল। কিন্তু একটু পরেই তার অনুতাপ হল। কানুর এত ব্যগ্রতাকে সে কী করে প্রতিহত করতে পারে?

    সে মুখ ফিরিয়ে উত্তর দিল, যদি বলি করে না, তবে সেটা হবে অতি বড় মিথ্যে। সেই মিথ্যেটাই তো আমি আমার মনকে বোঝাতে চাই। কিন্তু মানুষের মনই একমাত্র জায়গা, যেখানে মিথ্যের কোনও স্থান নেই।

    অনেক দিন তুমি বাড়ি থেকে বেরোওনি। মাত্র তিনদিন আগে একবার তুমি সখীদের সঙ্গে বেরিয়ে ছিলে, সে-দিনও তুমি আমাকে দেখতে পাওনি। কিন্তু তার আগেই নৌকো বিহারে আমরা পরস্পরকে জেনেছি। তবু তুমি আমাকে ভিনগাঁয়ীর মতন অবহেলা করলে?

    দেখেছিলাম তো সেদিন।

    আমার সঙ্গে কথা বলেনি।

    কানু, তুমি কি লোকসমাজে আমার কলঙ্ক প্রকট করতে চাও?

    সেদিন তুমি দেখেছিলে, তোমার অবহেলায় অস্থির হয়ে আমি থাকতে পারিনি। আমি একটা পদ্মকোরকে চুম্বন রেখেছিলাম!

    তাও দেখেছি।

    তাতেও আমি নিবৃত্ত হইনি। আমি একটি অবনত দাড়িম্ব লতিকার সুবর্তুল ফলে হাত বুলিয়ে ছিলাম। তাতেও হয়নি! আমি তখন অশোকপল্লবে দংশন করেছিলাম, দেখেছিলে?

    সেই দেখে আমি এত অস্থির হয়ে পড়েছিলাম যে মনে হয়েছিল সখীদের সমক্ষেই মূৰ্ছিতা হয়ে পড়ব! কানু, আমার শরীর কাঁপছিল, সারা গায়ে স্বেদ বইছিল, তুমি অনেক দূরে ছিলে, তবু আমি লোকসমক্ষে কলঙ্কিনী হয়েছিলাম! তাই আর এক দণ্ডও সেখানে থাকিনি। চলে এসেছিলাম বাড়িতে। সেই দিনই আবার ঠিক করেছিলাম, আর আমি বাড়ির বাইরে যাব না। পিঞ্জরেই আমার স্থান।

    আজ তুমি এসেছ।

    এসেছি?

    রাধা, তুমি আমার কাছে এসেছ, আজ তুমি স্বয়মাগতা।

    আমার চোখে ঘোর লাগছে। কানু, আমার এ কী হল? আমি নিজেই জানি না, আমি কখন এলাম, কী করে এলাম। এ স্বপ্ন নয় তো!

    না, স্বপ্ন নয়। এই যে অনুভব করে দেখো আমার হাত।

    হ্যাঁ কানু, এ তোমার হাত।

    দাও, রাধা, সেই পদ্মকোরক, সেই দাড়িম্বের সুবর্তুল ফল, আর অশোকপল্লব।

    তুমি বনের মধ্যে খুঁজে দেখো, ওই সবই আবার পাবে!

    এত হাতের কাছে সব থাকতে আমি খুঁজতে যাব কেন!

    রাধা তক্ষুনি কানুর হাত ছাড়িয়ে উঠে দৌড় লাগাল। কানু তিন লম্ফে গিয়ে তাকে ধরল। কিন্তু বলপ্রয়োগ করল না, কাতর ভাবে বলল, তুমি যদি দয়া না করো, তা হলে আমি তোমার পায়ে মাথা দিয়ে শুয়ে থাকব—

    রাধা সসংকোচে নিজের পা ঢেকে বলল, না, না, না—

    কানু বলল, বুঝেছি, তোমার ও শারদ শশীর তুল্য মুখ তুমি আমাকে ছুঁতে দেবে না। তবে থাক, তোমার পায়ের নখে যে কতগুলো চাঁদ পড়ে আছে, সেগুলিতেই আমি ওষ্ঠ স্পর্শ করব—

    রাধা বলল, না, কানু, আমার পায়ের নখে লেগে আছে পথের ধুলো আর কাদা!

    ধুলো আর কাদাই যার প্রাপ্য, সে আর বেশি কী পাবে?

    না, কানু, তোমার জন্যই তো আমার সব!

    কী বললে?

    আমি এতকাল ছিলাম যেন একটা পাথরের মূর্তি, তুমি এসে ছুঁয়ে দিলে বলেই তো আমি প্রাণ পেলাম। অথচ সেই আমিই কী মূঢ়া দেখো, তোমার কাছে আসতেও আমার লজ্জা? কানু, তুমিই তো আমার সব।

    রাধা, তুমিই আমার জীবন, তুমিই আমার ভূষণ। এই ভবজলধিতে তুমিই আমার একমাত্র রত্ন। তুমি সযত্নে আমার হৃদয়ে থাকো।

    রাধা নিজেই এবার অত্যন্ত ব্রীড়ার সঙ্গে বসে পড়ে কানুর দুই করতলের মধ্যে তার ঈষৎ স্বেদযুক্ত কম্পিত মুখখানি বন্দি হতে দিল।

    সেই মুখে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে কানু বলল, আঃ! রাধার বুকের সূক্ষ্ম বসন সরিয়ে কানু সেখানে মাথা রেখে আবার বলল, আঃ! সেই স্বরে গভীর তৃপ্তি। যেন বহু কাল পরে ঘর-ছাড়া এক বালক গৃহে ফিরেছে!

    …তারপর তরল তিমির যেন প্রচ্ছন্ন করে দিল চন্দ্র ও সূর্য। মেঘের মধ্যে হারিয়ে গেল তড়িৎলতা। চতুর্দিকে ছেট্‌কাতে লাগল ফুল, যেন আকাশ থেকে ঝরছে তারা। অম্বরও খসে পড়ল। পাহাড়চূড়া বিমর্দিত হল, মেদিনী দুলতে লাগল। সমীরণ উষ্ণ ও খর বেগে বইতে লাগল, পাখির চিৎকারের মতন কিছু শোনা গেল, এবং শেষে প্রলয় পয়োধি জলে সব ডুবে গেল।…

    রাধার যখন ঘুম ভাঙল, তখন ভোরের আলো ফুটে উঠছে। ঝটিতি উঠে বসেই ভাবল, আমি কোথায়? চোখ রগড়ে ভালো করে দেখল, সে এক নিবিড় বন, গাছে গাছে পাখির কাকলি, পাতায় ফাঁকে ফাঁকে হিরের কুচির মতন রোদের ঝিকিমিকি। পাশে ঘুমিয়ে আছে কানু, পরিশ্রান্ত তবু প্রশান্ত তার মুখ।

    রাধা ভেবেছিল, সে বুঝি শুয়ে আছে অমরাবতীতে! এক চঞ্চল মেঘ তাকে নিয়ে গিয়েছিল সেখানে। কিন্তু এ যে চেনা অরণ্য। অদূরেই তাদের বাড়ি। দিনের আলোর মধ্যে সেখানে ফিরবে কী করে?

    তবু তো ফিরতেই হবে। রাধা ধড়মড় করে উঠে দাঁড়াল। কানুকে একবার ডাকবে ভেবেও জাগাল না। ও ঘুমোক, ওর স্বপ্ন ভাঙিয়ে লাভ কী?

    রাধা প্রায় ছুটেই চলল। বন ছাড়িয়ে সে যখন পল্লিতে এসে পড়ল, তখন সেখানে অনেকেই উঠে পড়েছে। কেউ উঠোনে জল-ছড়া দিচ্ছে। কেউ চ্যাঁ-চ্যাঁ শব্দে দুধ দুইতে বসেছে গোয়ালঘরে। কেউ নিমগাছের ডাল ভাঙছে।

    রাধা জানে না, তার মুখ কানুর চোখের কাজলে মাখামাখি। নিপীড়িত ফুলের রস ছোপ ছোপ হয়ে লেগে আছে তার গায়। তার বসন দোমড়ানো। অনেকেই অবাক হয়ে তাকে দেখছে আর ভাবছে, ওই যে আয়ান ঘোষের ঘরণী সুন্দরী রাধা ছুটে চলেছে। কিন্তু এই সাতসকালে সে কোথায়ই বা গিয়েছিল, কোথা থেকেই বা ফিরছে?

    বাড়ির দোরগোড়ায় রাধা ধরা পড়ে গেল ননদিনীর কাছে। ননদিনীর চোখ বড় খরশান। সে রাধাকে দেখে প্রায় আঁতকে উঠে বলল, ওমা, কোথায় মরতে গিয়েছিলি!

    রাধা বলল, মরতেই গিয়েছিলাম, তবু এমন কপাল, আবার বেঁচেই ফিরে আসতে হল।

    দিনের পর রাত আসে, আবার দিন। এই ভাবে সময় যায়। কিন্তু রাধার কাছে দিনরাত্রি এখন সব সমান হয়ে গেছে। কখন কানুর সঙ্গে দেখা হবে, সেটাই একমাত্র চিন্তা। দেখা হয়, দুপুরে, বিকেলে বা মধ্যরাত্রে, তার কোনও ঠিক নেই। রাধা এখন আবার নিয়মিত স্নানের ঘাটে কিংবা হাটের পথে যায়। যদি দূর থেকে কানুকে এক পলকের জন্যও দেখতে পায়। কানুর পীত রঙের বসনের সামান্য আভাসও চোখে পড়ে, অমনি তার শরীর কম্পিত হয়, দৃষ্টি হয়ে যায় স্থির, কপালে দেখা দেয় পুলক-স্বেদ। শুধু দেখাতেই যখন এত আনন্দ, তখন নিভৃতে নিবিড় করে পাওয়ার আনন্দ যেন সহ্যেরও অতীত। যেন মৃত্যুর মতন। এই আনন্দ যে পায়নি, সে জানল না একই জীবনে বার বার মৃত্যুর স্বাদ কী রকম। তার চেয়ে বড় আনন্দ বার বার করে বেঁচে ওঠায়।

    যখন কানুর দেখা পায় না, যখন তার বাঁশির সুরও শোনা যায় না, তখন রাধার মনে হয় পৃথিবীতে শুধু আঁধারও যেন কঠিন পদার্থ, তার একটা শক্ত দেওয়াল উঠেছে চারদিকে। রাধা সেই দেওয়াল ভেঙে বেরিয়ে যায়। এমনকী সে ছুটে যায় গোষ্ঠে, অন্য রাখালদের দিকে চেয়ে থাকে, চোখের পলক পড়ে না, তখন তার সমস্ত শরীরটাই জিজ্ঞাসু।

    সখীরা বলে, রাই, তুই কি শেষে পাগলিনী হবি?

    যেন পাগলিনী হতে তার বাকি আছে? কখনও সে তমাল গাছকে কানু বলে ভুল করে। কখনও স্নান করতে নেমে যমুনার নীল জলকে এমন ভাবে আদর করে কিংবা সেই জলে মুখ রেখে সে এমন মধুরসবাক্য বলে যেন সে কানুর সঙ্গেই আছে!

    এদিকে কানুরও সেই একই অবস্থা। এ এমনই এক তৃষ্ণা, যা প্রতি দিনই বাড়ে এবং বেড়েই চলে। এবং যতই বাড়ুক এর আকৃতি কখনও বিরাট বা বেঢপ হয় না। এই তৃষ্ণার কোনও ক্ষয়কারী শক্তি নেই, তাই মনপ্রাণ এমন মাতিয়ে রাখে। এক বেলা দেখা না হলেই বেঁচে থাকার আর যা-কিছু সরঞ্জাম, সব তুচ্ছ হয়ে যায়। রাধা যখন কানুকে দেখতে পায় না তখন আসলে কানু দিগভ্রান্ত হয়ে অন্য কোথাও রাধাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    সখারা বলে, কানু, তুই শুধু এক জনের জন্য আমাদের সবাইকে ছাড়লি! কিন্তু আমরা তোকে ছাড়ব না।

    এখন রাধার সখীরা এবং কানুর সখারাই ওদের দু’জনের জন্য দূতিয়ালি করে। নিজেরাই তৈরি করেছে নানা রকম সংকেত। খবর পৌঁছোতে আর দেরি হয় না।

    সে রকম কোনও কোনও রাতে ওদের দেখা হয় অরণ্যের মধ্যে সেই নিভৃত কুঞ্জে। রাধা সেদিন চুলে ধূপের গন্ধ দিয়ে সুন্দর করে খোঁপা বাঁধে। যদিও জানে, একটু পরেই সব চুল আলুলায়িত হয়ে যাবে। প্রথমে একটা গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরে, তার ওপর একটা অতি সূক্ষ্ম লাল রঙের রেশমি বস্ত্র জড়িয়ে নেয়—যাতে লালের মধ্য থেকে নীলের আভা ফুটে বেরোয়। সখীরাই এই ভাবে সাজিয়ে দেয় তাকে। বনপথে ছুটে যেতে যেতে সেই বস্ত্র যে একটু পরেই ছিঁড়ে যাবে সখীরা তা জানে না! কোনও সখী তাকে শিখিয়ে দেয়, শোন রাই, আগেই গিয়ে কানুর কাছে আত্মসমর্পণ করবি নে! মেয়েদের একটু গুমর থাকা ভালো। আগে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকবি, কানুকে দিয়ে পায়ে ধরে সাধাবি! বক্রবাক্য বলে তাকে চটিয়ে দিবি, বুঝলি? রাধা শান্ত মেয়ের মতন মাথা নেড়ে বলে, আচ্ছা!

    কিন্তু যখন সে কানুর কাছে ছুটে যায়, তখন আর এসব কিছুই মনে থাকে না। কানুর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে, তুমি আমায় নাও। তুমিই আমার জীবনসর্বস্ব! অন্য মানুষের কত কী থাকে, কিন্তু আমার তো তুমি ছাড়া আর কিছু নেই!

    কানু বলে, রাধা, আমি তোমার কাছ থেকে সব নিই, নিজে ধনী হব বলে! আমি তো নিঃস্ব, তোমার কাছ থেকে না নিলে আমি ধনী হব কী করে? আর ধনী না হলে তোমায় কী দেব? আমি যে তোমাকেই সব দিতে চাই!

    এক সময় রাধা আর কানুর যেন একই শরীর হয়ে যায়। একই রকম ব্যথা-বেদনা-আনন্দ। রাধার স্তনে কানুর দাঁত ও নখরে যখন একটা রক্তের ফুল ফুটে ওঠে, রাধা নিজেই তার সৌন্দর্যে মোহাভিভূত হয়ে যায়। কখন রাত কেটে যায় কেউ টের পায় না।

    রাধার বাড়িতে এখন ননদিনীর কঠিন প্রহরা। রাধা সম্পর্কে নানা রকম কানাঘুষা সে শুনেছে, নিজেরও সন্দেহ এখন পাকা—সব সময় তক্কে তক্কে থাকে হাতেনাতে ধরে ফেলার জন্য। কিন্তু বুড়িমা আড়াল করে রাখে রাধাকে। রাধার সখীরা এবং রাখালরা মিলেও ননদিনীর চক্ষে ধুলো দেয় বার বার।

    এক মাঝরাত্রে ননদিনীর ঘুম ভেঙে গেল। কী যেন শোনার চেষ্টা করল কান পেতে। কোনও শব্দ নেই, এমনকী ঝিঁঝির ডাক বা মর্মরধ্বনি পর্যন্ত স্তব্ধ। এই স্তব্ধতাটাই যেন সন্দেহজনক। সন্ধ্যাবেলা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত দূরে কোথায় যেন বাঁশি বাজছিল একটানা। এখন সেই বাঁশিও থেমে গেছে কেন?

    ধড়মড় করে উঠে সে চলে এল রাধার ঘরে। শূন্য শয্যা। তার ওপর লম্বা হয়ে পড়েছে চাঁদের আলো, দেখে মানুষ বলে ভ্রম হয়। ননদিনী হাত দিয়ে সেই শূন্যতা স্পর্শ করে দেখল। রাধার গায়ের অলংকারগুলি কেন খুলে রাখা আছে বিছানায়? সে ‘দাদা’ ‘দাদা’ বলে চেঁচিয়ে আয়ানের ঘরের দোরে ধাক্কা মারল। নিশ্চিন্ত নিদ্রায় নিমগ্ন ছিল আয়ান। কোনও দিন এই ভাবে কেউ ডেকে তার ঘুমের ব্যাঘাত করেনি। আয়ান দরজা খুলে বাইরে আসবার পর তার বোন বলল, তোমায় বলেছিলাম না? আজ মিলিয়ে দেখো!

    এর আগেই ক’দিন ধরে ননদিনী তার দাদার কাছে রাধা সম্পর্কে লাগানিভাঙানি দিতে গিয়েছিল। আয়ান বিশেষ কান দেয়নি। আজ এত রাত্রে বোনের এতখানি গরজ দেখে সে আর উড়িয়ে দিতে পারল না। প্রথমে সারা বাড়ি তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেখল। রাধা সত্যিই কোথাও নেই।

    তখন আয়ান জিজ্ঞেস করল, সে কোথায় গেছে, তুই জানিস?

    ননদিনী বলল, শুনেছি ওরা বনের মধ্যে একটা রমণকুঞ্জ বানিয়েছে! লোকে বলে, আমি তাতে বিশ্বাস করিনি।—

    কোথায়? চল।

    পদপাতে ভূমি কাঁপিয়ে আয়ান চলল বনের দিকে। তার এক হাতে খড়্গ। অবারিত জ্যোৎস্নায় আয়ানের দীর্ঘ শরীরের দীর্ঘতর ছায়া পড়েছে পথে। তার ছোট বোন দৌড়ে দৌড়ে এসেও তার সঙ্গে তাল রাখতে পারছে না।

    খানিকটা গিয়ে আয়ান থমকে দাঁড়াল, কুঁচকে গেল ভুরু। যদি সত্যিই দেখা হয়ে যায়? যদি সত্যিই চোখের সামনে প্রমাণিত হয়ে যায় যে রাধা কলঙ্কিনী? না, না, থাক। লোকের মুখে শোনা এক কথা আর নিজের চোখে দেখা অন্য জিনিস। চোখে দেখার পর আয়ান কী করবে?

    .

    দাদা, থামলে কেন? আরও যে অনেকটা দূর!

    বোনের কথায় আয়ান আবার চলতে শুরু করে। বোনকে সে কী বোঝাবে তা ভেবে পায় না। রাধার বিয়ের সময়কার মুখখানা তার মনে পড়ে। স্বর্ণময়ী কিশোরীর অপাপবিদ্ধা মুখ, প্রথম দিন সেই মুখ দেখে আয়ানের কষ্ট হয়েছিল। আজও বুকটা টনটন করে। ওই মেয়ের যোগ্য সমাদর কি সে করতে পেরেছে? কিছুই পারেনি।

    বনের মধ্যে আলো-ছায়ার আঁকিবুকি। পায়ের চাপে শুকনো পাতা ভাঙার শব্দ হয়—হঠাৎ ভয় পেয়ে ডেকে ওঠে দুটো-একটা রাতপাখি। আয়ান আবার একবার থেমে গিয়ে বলে, আর যাব না!

    বোন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, কেন দাদা, আর তো বেশি দূর নেই।

    আয়ান বলল, থাক। এ শুধু মরীচিকার পেছনে ছোটা।

    না, দাদা, আমি ঠিক জানি।

    আয়ান বোনকে এক ধমক দিয়ে বলল, বিশ্বসুন্ধু লোক বললেও আমি রাধাকে অবিশ্বাস করি না।

    যদি নিজের চোখে দেখো?

    দেখব না!

    আমি বলছি তুমি ঠিক দেখতে পাবে। আর একটু চলল…

    দেখব না!

    তার মানে? তুমি ইচ্ছে করেই দেখতে চাও না?

    না, না চল—

    আরও একটু দূর যাবার পর আয়ানের বোন আঙুল তুলে দেখাল, ওই যে পর পর কয়েকটা কদম্ব গাছ, ডালপালা দিয়ে বেঁধে মাঝখানটা ঘিরে রাখা হয়েছে, ঠিক যেন একটা ঘর দেখছ, আমি তবে ঠিকই শুনে ছিলাম—একটু একটু শব্দও শোনা যাচ্ছে—

    আয়ান কঠোর ভাবে বলল, তুই এখানে দাঁড়া, তোকে আর একটুও যেতে হবে না!

    আয়ান মন্থর পায়ে হেঁটে গেল সেই ঝোপের দিকে। বার বার মনে মনে আওড়াতে লাগল, সব যেন মিথ্যে হয়!

    ঝোপের কাছে এসে পাতার ফাঁক দিয়ে দেখবার চেষ্টা করল। বেশি চেষ্টা করতে হল না, অচিরেই দেখা গেল।

    একটি কদম গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক জন মানুষ। নবীন মেঘের মতন গায়ের রং। একটি পীতরঙের উত্তরীয় জড়ানো। মাথায় চুল চূড়া করে বাঁধা। তার মুখখানা ভালো দেখা যায় না, তার একটি হাত সামনে বাড়ানো। সেই হাতখানাই যেন বিশ্বের সেরা শিল্পীর গড়া। যেমন কোমল তেমনি দৃঢ়। সেই পুরুষের পায়ের কাছে বসে আছে রাধা।

    রাধার মাথার চুল খোলা, আঁচল বিস্রস্ত, পুরুষের পা জড়িয়ে ধরে আছে সে ব্যাকুল মিনতির ভঙ্গিতে, মুখখানা ওপরের দিকে তোলা, কুরঙ্গিনীর মতন চোখ দু’টি সেই পুরুষের মুখে স্থির।

    আয়ানের প্রথমেই মনে হল, এরকম অপরূপ দৃশ্য সে জীবনে দেখেনি। সে তো সারা জীবনটা শুধু বিষয়কৰ্ম বা পুজোআচ্চা করেই কাটাল। সে তো জানতেই পারেনি, মানুষ কখনও মানুষের দিকেও অমন করে চায়! এই রাধা তার এতদিনের চেনা, কিন্তু এখন যেন একেবারে অচেনা হয়ে গেছে।

    মনে হয় ওদের দু’জনের যেন বাহ্যজ্ঞান নেই। আয়ান বা অন্য কেউ যে এসেছে কাছাকাছি, সে-দিকে কোনও হুঁশই নেই—শুধু সেই বিভোর দৃষ্টিতে পরস্পরের দিকে চেয়ে দেখা। আয়ান অপেক্ষা করল, ওদের মুখ থেকে কথা শোনবার জন্য। আশ্চর্য, মুহূর্ত পল কেটে যায়, ওরা একটাও কথা বলে না। একটু নড়ে না পর্যন্ত!

    আয়ানের গা ছমছম করে উঠল। সম্পূর্ণ ব্যাপারটাই অলৌকিক নয় তো? এই নিঝুম মধ্য রাত, জ্যোৎস্নাময় অরণ্য, তার মধ্যে নিথর নির্বাক দুই মূর্তি। প্রাণবন্ত যে তাতে কোনও সন্দেহ নেই; আয়ান ওদের ত্বকের চিক্বণতা পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছে, কিন্তু এমন স্পন্দনহীন, শব্দহীন হয়ে স্থির হয়ে আছে কেন? পুরুষটি কি তার হাত বাড়িয়ে অভয় দিচ্ছে রাধাকে? কিন্তু রাধার চোখে তো ভয়ের চিহ্নমাত্র নেই। রয়েছে আকূতি। সব মিলিয়ে যেন এক পবিত্র সৌন্দর্য।

    আয়ানের খড়্গসমেত হাত ওপরে উঠল না। রাধাকে সে ডাকতেও পারল না। পায়ে পায়ে পিছিয়ে এল। খানিকটা পরে সে উলটো দিকে ফিরে গতিবেগ বাড়াল।

    তার বোন তাকে প্রায় ঘোরগ্রস্ত অবস্থায় ছুটতে দেখে ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করল, কী হল? কী দেখলে দাদা?

    আয়ান বলল, কিছুই দেখিনি! চল।

    যত জোরে এসেছিল, তার চেয়েও বেশি গতিবেগে আয়ান ফিরে গেল বাড়িতে। সোজা গিয়ে ঢুকল তার পুজোর ঘরে। কালীমূর্তির সামনে জোড়াসনে বসল চোখ বুজে। তবু তার বন্ধ চোখ দিয়েও টপ টপ করে গড়িয়ে পড়তে লাগল জল। সারা রাত ধরে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    Next Article তালাশ – শাহীন আখতার

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক জীবন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সেই সময় ১ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 11, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বুকের মধ্যে আগুন – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    বিশেষ দ্রষ্টব্য – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    কৈশোর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    অর্ধেক মানবী – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 10, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Our Picks

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026

    তালাশ – শাহীন আখতার

    August 12, 2026

    রাধাকৃষ্ণ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }