Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাশা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. গৌরাঙ্গ ঘরামি

    ১০. গৌরাঙ্গ ঘরামি

    সকালবেলা জিতু দেখা করতে এলো, তার মুখে এগাল-গাল জোড়া হাসি। রাশাকে দেখে বলল, “কাজ হয়েছে!”

    “কী কাজ?”

    “রাস্তা ডুবে গেছে।”

    “কোন রাস্তা?”

    “স্কুলে যাবার রাস্তা। আর স্কুলে যেতে হবে না।” জিতুর মুখের হাসি আরো বিস্তৃত হলো।

    “সর্বনাশ! তাহলে কী হবে?”

    “কী আর হবে। আমরা বাড়িতে বসে থাকব।”

    “কি স্কুলে না গেলে কেমন করে হবে? মনে নাই আমাদের কম্পিউটারের ল্যাবরেটরিটা মাত্র তৈরি হলো। এখন কম্পিউটার ডেলিভারি দেবে?”

    জিতুর মনে আছে, কিন্তু স্কুলে যেতে না হওয়ার আনন্দ অন্য সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে। রাশা জিতুর কথা পুরোপুরি বিশ্বাস না করে নিজে একটু খোঁজখবর নিল। সত্যি সত্যি স্কুলের রাস্তা জায়গায় জায়গায় ডুবে গেছে। জায়গায় জায়গায় হাঁটুপানি, জুতো হাতে নিয়ে চলে যাওয়া যায়। কয়দিন পর পানি আরো বাড়বে, বুকপানি গলাপানি হয়ে যেতে পারে। রাশা একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। জয়নবের সাথে সেটা নিয়ে কথা হচ্ছিল, তখন জয়নব বলল, “দরকার হচ্ছে নৌকা।”

    “নৌকা?”

    “হ্যাঁ। নৌকা করে যাওয়া ছাড়া আর কোনো গতি নাই।”

    “নৌকা কোথায় পাব?”

    “গ্রামের মানুষের নৌকা আছে, ভাড়া করবি, যাবি।”

     

     

    “প্রতিদিন নৌকা ভাড়া করতে হবে?”

    “এ ছাড়া আর রাস্তা কী?”

    মতি কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ছিল, সে বলল, “আমাদের নিজেদের একটা নৌকা থাকলে আমরা নৌকা বেয়ে চলে যেতাম!”

    রাশা ভুরু কুঁচকে বলল, “তুই নৌকা বাইতে পারিস?”

    মতি কোনো কথা না বলে হাসল, কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “তুমি ভাত খেতে পারো?” তখন সে যেভাবে হাসে সেই হাসি।

    রাশা বলল, “তাহলে আমরা একটা নৌকা জোগাড় করি না কেন?”

    জয়নব বলল, “কোত্থেকে জোগাড় করবে?”

     

     

    রাশা মাথা চুলকাল, বলল, “সেইটা তো জানি না।”

    .

    রাত্রিবেলা সে নানিকে জিজ্ঞেস করল, “নানি, নৌকা কোথায় পাওয়া যায় তুমি জানো?”

    “নৌকা? নদীতে, খালে-বিলে।”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “না, না সেই কথা বলছি না। আমাদের স্কুলে যাবার জন্যে একটা নৌকা দরকার। সেই নৌকাটা কোথায় পাব?”

    নানি মাথা চুলকালেন, বললেন, “তোর নানার একটা ছোট নৌকা ছিল, সে তো অনেক আগে। কোথায় গেছে তাও জানি না। খালে ডুবে ছিল হয়তো, ভেঙেচুরে ভেসে গেছে “

    রাশা বলল, “ইস! নানি, কেন তুমি নৌকাটাকে ভেঙেচুরে ভেসে যেতে দিলে?”

     

     

    নানি হাসলেন, বললেন, “কতদিন আগের কথা, সেই নৌকা কি আর এতদিন থাকত? নৌকা সারতে হয়, বছর বছর মেরামত করতে হয়, আলকাতরা দিতে হয়।”

    “তাহলে এখন কী করি নানি?”

    “এই গ্রামে ঘুরে দেখ। হয়তো কারো ছোট নৌকা আছে, তোদের ব্যবহার করতে দেবে।”

    রাশা পরদিন জয়নব, জিতু আর মতিকে নিয়ে ঘুরতে বের হলো। রাশা একটু অবাক হয়ে আবিষ্কার করল গ্রামের অনেকেরই ছোটখাটো নৌকা আছে। যাদের নৌকা নাই তাদের অনেকেরই ডোঙ্গা নামে নৌকার মতো একটা জিনিস আছে। তালগাছের মাঝে গর্ত করে এই ডোঙ্গা তৈরি করা হয়, একজন মানুষ বসে সেটাকে বেয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু রাশাদের দিয়ে দেয়ার মতো বাড়তি একটা নৌকা কারো নেই। চারজন একটু হতাশ হয়ে ফিরে আসছিল, কিভাবে সমস্যাটা মেটানো যায় সেটা নিয়ে জোর আলোচনা হচ্ছে, তখন জিতু বলল, “আমরা কলাগাছ দিয়ে একটা ভেলা বানাতে পারি।”

     

     

    “ভেলা?”

    “হ্যাঁ। সেই ভেলায় করে আমরা স্কুলে যেতে পারি।”

    মতি কম কথার মানুষ, সে কোনো কথা না বলে হাসার ভঙ্গি করল। জিতু রেগে বলল, “কী হলো, তুমি হাস কেন?”

    “তোর কথা শুনে।”

    “আমার কোন কথাটা হাসির?”

    “যদি কলাগাছের ভেলা দিয়ে স্কুলে যেতে হয় তাহলে দিনে দুইটা করে ভেলা বানাতে হবে। যাওয়ার জন্যে একটা আসার জন্যে আরেকটা! এই দশ গ্রামের যত কলাগাছ আছে সব কেটে ফেলতে হবে!”

    জিতু চিৎকার করে বলল, “কেন দশ গ্রামের কলাগাছ কাটতে হবে? কেন কাটতে হবে?”

     

     

    ঠিক তখন শুনল, কে জানি বলছে, “কী ব্যাপার তোমরা কী কাটাকাটি করতে চাইছ?”

    তারা তাকিয়ে দেখে গাছে হেলান দিয়ে সালাম নানা বসে আছেন। হাতে একটা বই, মনে হয় চোখের খুব কাছে ধরে বইটা পড়ছিলেন, তাদের চেঁচামেচি শুনে এখন তাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।

    চারজনই দাঁড়িয়ে গিয়ে সালাম দিল। সালাম নানা বললেন, “কী ব্যাপার, তোমরা এই সকালে কী কাটাকাটি করতে চাইছ?”

    রাশা হাসল, “আমাদের জিতু মিয়া কলাগাছ কেটে ভেলা তৈরি করতে চাচ্ছে।”

    “ভেলা? কলাগাছের ভেলা?” রাশা একটু গিয়ে সালাম নানার কাছে বসে পড়ে–তার দেখাদেখি অন্যেরাও। সালাম নানার ক্রাচ দুটো পাশে শুইয়ে রাখা ছিল, জিতু সাবধানে সেগুলো একবার ছুঁয়ে দেখল। রাশা বলল, “আসলে আমরা নৌকা খুঁজতে বের হয়েছিলাম। নৌকা পাই নাই তাই জিতু বলল কলাগাছ দিয়ে ভেলা বানাবে।”

     

     

    “নৌকা! নৌকা কী জন্যে?”

    “রাস্তা ডুবে গেছে, তাই স্কুল যেতে পারছি না। একটা নৌকা হলে স্কুলে যাওয়া যেত সে জন্যে।”

    সালাম নানা এবারে একটু ঘুরে চারজনের এই ছোট দলটার দিকে ভালো করে তাকালেন, তারপর মাথা নেড়ে বললেন, “তার মানে মজা করার জন্যে নৌকা খুঁজছ না? রীতিমতো স্কুলে গিয়ে লেখাপড়া করার জন্যে নৌকা খুঁজছ?”

    “জি নানা।” রাশা মাথা নাড়ল, তার দেখাদেখি অন্যেরাও।

    “হুম।” নানা এবার চশমা খুলে শার্টের কোনা দিয়ে চশমাটা মুছে বললেন, “এরকম একটা মহৎ কাজে আমাদের তো সাহায্য করা দরকার। কী বলো?”

    রাশার চোখ বড় বড় হয়ে গেল, “আপনার নৌকা আছে নানা? আছে?”

    “নাই। কিন্তু তাতে কী আছে? আমি তোমাদের নৌকা জোগাড় করে দেব!”

     

     

    “সত্যি? সত্যি?” রাশার চোখ-মুখ আনন্দে ঝলমল করতে থাকে।

    “হ্যাঁ, সত্যি।”

    “কোথা থেকে জোগাড় করবেন?”

    “বাংলাদেশে নৌকা জোগাড় করা কোনো ব্যাপার নাকি? সারা দেশটাই তো চলে নৌকা দিয়ে। যুদ্ধের সময় আমরা সবসময়ে নৌকার ওপর ছিলাম। যুদ্ধের সময় আধঘণ্টার নোটিশে পাঁচ-দশটা নৌকা জোগাড় করেছি আর এখন শাস্তির সময় বাচ্চাদের স্কুলে যাবার জন্য নৌকা জোগাড় করতে পারব না? কী মনে করো তুমি আমাকে?”

    জয়নব মাথা নাড়ল, “পারবেন নানা। আপনি চাইলেই পারবেন।

    জিতু জানতে চাইল, “নৌকাটা কি আপনি কিনবেন?”

    “কেন তো সোজা! তার থেকেও বেশি কিছু করব।”

     

     

    “কী করবেন, বলেন না, নানা!” রাশা অনুনয় করল, “প্লিজ!”

    নানা আবার চোখ থেকে চশমা খুলে সেটা মুছলেন, তারপর চোখে লাগিয়ে বললেন, “আমার একজন বন্ধু আছে, নাম হচ্ছে গৌরাঙ্গ। সে হচ্ছে ঘরামি। সে নৌকা বানায়। বহুদিন তার সাথে যোগাযোগ নাই। কয়দিন থেকে ভাবছিলাম তার একটু খোঁজ নিই। এখন তোমাদের অছিলায় তার সাথে যোগাযোগ করার একটা সুযোগ হলো, তাকে বল আসতে। গল্পগুজব করবে, তোমাদের একটা নৌকা বানিয়ে দেবে।”

    রাশা আনন্দে হাততালি দিল, “বানিয়ে দেবে। আমাদের চোখের সামনে?”

    “হ্যাঁ। তোমাদের চোখের সামনে।“

    “কয়দিন লাগবে নানা?”

    “সকালে শুরু করলে সূর্য ডোবার আগে সে একটা নৌকা বানাতে পারে। এখন অবশ্যি বয়স হয়েছে, এখন একদিনে পারবে কি না জানি না।”

     

     

    জিতু বলল, “আমরা সবাই সাহায্য করব।”

    “তাহলে মনে হয় একমাস লেগে যাবে।”

    সালাম নানার কথায় সবাই হি হি করে হাসতে লাগল, জয়নব বলল, “আপনি ঠিকই বলেছেন নানা। জিতু হাত দিলেই সর্বনাশ–তখন একদিনের কাজ শেষ হতে একমাস লাগবে।”

    রাশা জিজ্ঞেস করল, “নানা আপনার বন্ধুকে কবে খবর দিবেন?”

    “আজকেই দিব।”

    “কবে থেকে বানাবেন?”

    “কাঠ কিনতে হবে, গজাল, শিরিষ, আলকাতরা এইসব কিনতে হবে, জোগাড়যন্ত্রে একটু সময় লাগবে। মনে করো পরশু না হলে তার পরের দিন।”

     

     

    “কোথায় বানাবেন, নানা?”

    “তোমার নানাবাড়িতে। সামনে খাল আছে, খালের পাড়ে তৈরি করে খালে ভাসিয়ে দেয়া হবে।”

    রাশা আবার হাততালি দিল, “কী মজা হবে।”

    সালাম নানা হাসলেন, বললেন, “হ্যাঁ। অনেক মজা হবে।”

    সালাম নানার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চারজন বাড়ির দিকে রওনা দেয়, কয়েক পা অগ্রসর হয়ে রাশা থেমে গেল, অন্যদের বলল, “তোরা হাঁটতে থাক, আমি সালাম নানার কাছ থেকে একটা জিনিস জেনে আসি।”

    রাশা দৌড়ে আবার সালাম নানার কাছে এসে বলল, “নানা।”

    “বলো।”

     

     

    “নৌকার জন্যে কাঠ, আলকাতরা এসব তো কিনতে হবে। তার জন্যে তো একটু টাকা লাগবে। আর আপনার বন্ধুকে তো নৌকা তৈরি করার জন্যে একটু মজুরি দিতে হবে। আমি বলছিলাম কী-”

    “কী বলছিলে?”

    “আমার মা যাবার সময় আমাকে কিছু টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন। স্কুলে ভর্তি হবার সময় একটু টাকা খরচ হয়েছে। বাকি টাকাটা আছে। যদি কাঠ কিনতে টাকা লাগে—”

    “কাঠ কিনতে টাকা লাগবে না। আমার বাড়িতে অনেক কাঠ পড়ে আছে। গজাল, আলকাতরা, শিরিষ এইসবের জন্যে এমন কিছু খরচ নাই। বাকি থাকল গৌরাঙ্গের মজুরি?”

    “জি নানা।”

    “আমি তোমাকে বলেছি গৌরাঙ্গ আমার খুব ভালো বন্ধু। প্রাণের বন্ধু। তোমার নানা যেরকম আমার প্রাণের বন্ধু ছিলেন সেরকম। বন্ধুর কাছে সব রকম আবদার করা যায়, কিন্তু বন্ধুকে কখনো মজুরি দিতে হয় না। সেইটা খুব লজ্জা–”

    “ও আচ্ছা!” রাশা একটু লজ্জা পেয়ে যায়, “আমি আসলে বুঝতে পারি নাই। আপনারা একসাথে যুদ্ধ করেছিলেন?”

    “হ্যাঁ। আমি, তোমার নানা, গৌরাঙ্গ আমরা সব একসাথে যুদ্ধ করেছিলাম। এখন একজন শিক্ষিত মানুষ আর নৌকার মিস্ত্রি বন্ধু হতে পারবে না। যুদ্ধের সময় হয়েছিল। স্কুলের মাস্টার আর কুলি, ইউনিভার্সিটির ছাত্র আর পকেটমার সব একজন আরেকজনের বন্ধু ছিল। বুঝেছ?”

    “জি বুঝেছি।”

    “যাও তাহলে। তোমার বন্ধুরা অপেক্ষা করছে।”

    রাশা উঠে দাঁড়াল, বলল, “নানা।”

    “বলো।”

    “আমার নানিকে আমি নানার কথা জিজ্ঞেস করতে পারি না, জিজ্ঞেস করলেই নানি জানি কেমন হয়ে যান। আপনি কি কোনো একদিন আমাকে একটু বলবেন কী হয়েছিল?”

    সালাম নানা কিছুক্ষণ রাশার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর একটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, “বলব? নিশ্চয় বলব।”

    .

    সালাম নানার বন্ধু গৌরাঙ্গ ঘরামি দেখতে যেরকম হবে বলে রাশা ভেবেছিল দেখা গেল মানুষটা দেখতে ঠিক সেরকম। হালকা-পাতলা, শুকনো, মাথায় কাঁচা-পাকা চুল, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। মুখে বয়সের চিহ্ন কিন্তু চোখ দুটি সজীব, একেবারে বাচ্চাদের মতো। সালাম নানা আর গৌরাঙ্গ দুজন পাশাপাশি বসে অনেকক্ষণ গল্প করলেন, পুরানো বন্ধুদের খোঁজ নিলেন। অনেকে মারা গিয়েছে তাদের কথা বলে নিশ্বাস ফেললেন, যারা বেঁচে আছে তারা কে কেমন আছে সেটা নিয়ে গল্প করলেন। নানি বাড়ির ভেতর থেকে চা বানিয়ে পাঠালেন। সালাম নানা আর গৌরাঙ্গ বসে বসে চা খেলেন, তারপরে গৌরাঙ্গ ঘরামি কাজ শুরু করলেন।

    রাশা মুগ্ধ হয়ে তার হাতের কাজ দেখতে লাগল। সালাম নানা আগেই কাঠগুলো মাপমতো কেটে রেখেছিলেন, গৌরাঙ্গ ঘরামি সেগুলো ব্ল্যাদা দিয়ে একটু সমান করে নিলেন। তারপর মাপজোখ করে কেটে সাইজ করলেন। কানের ওপর একটা ছোট পেন্সিল গুঁজে রাখা আছে সেটা দিয়ে কাঠের ওপর লাইন টানলেন, করাত দিয়ে সেই লাইন ধরে কাটলেন। তারপর কাঠগুলো ঠুকে ঠুকে একটার সাথে আরেকটা লাগালেন, রাশা খুব মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থেকেও বুঝতে পারল না নৌকার কোন অংশটা তৈরি হচ্ছে।

    দুপুরে নানি খাবারের আয়োজন করেছিলেন, সবাই বসে তখন খেয়ে নিল। রাশা ভেবেছিল গৌরাঙ্গ ঘরামি এত পরিশ্রম করেছেন নিশ্চয়ই ভালো করে খাবেন, কিন্তু আসলে বলতে গেলে কিছুই খেলেন না। এত কম খেয়ে মানুষ কেমন করে এত কাজ করে কে জানে। খেয়ে একটুও বিশ্রাম না নিয়ে আবার কাজ শুরু করলেন। সালাম নানা আর গৌরাঙ্গ ঘরামি দুজন এত বন্ধু, সারাক্ষণই এটা-ওটা নিয়ে গল্প করছেন কিন্তু মজার ব্যাপার হলো গৌরাঙ্গ ঘরামি যখন কাজ শুরু করেন তখন একটা কথাও বলেন না, মুখ যেন সেলাই করে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

    বিকেলবেলা রাশা একটু একটু করে নৌকার আকারটা ধরতে পারল, দুই পাশের দুটি অংশ তৈরি করা হয়েছে। মাপজোখ করে গৌরাঙ্গ চাচা সন্তুষ্ট হলেন বলে মনে হলো, তখন দুই পাশের দুই অংশ একত্রে জুড়ে দিলেন, নৌকার মতো হলো সত্যি কিন্তু অত্যন্ত সরু একটা নৌকা! এত সরু নৌকায় তারা কেমন করে বসবে? কিন্তু রাশা কিছু জিজ্ঞেস করল না। ব্যাপারটা মনে হয় ছবি আঁকার মতো, ছবি আঁকার মাঝামাঝি সময়ে ছবির মাথামুণ্ডু কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু যখন শেষ হয়ে আসে তখন সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যায়।

    রাশার ধারণী সত্যি! নৌকার দুই পাশের দুটি অংশ জোড়া দেয়ার পর গৌরাঙ্গ ঘরামি সেটা উল্টো করলেন, তারপর বাঁশের টুকরো দিয়ে সেটাকে ফাঁক করে মাঝখানে এক টুকরো কাঠের পাটাতন লাগালেন, তখন হঠাৎ করে রাশার কাছে পুরো নৌকাটার আকার স্পষ্ট হয়ে গেল! সে হাততালি দিয়ে বলল, “কী সুন্দর!”

    গৌরাঙ্গ ঘরামি রাশার দিকে তাকিয়ে একটু হাসলেন, কিছু বললেন না। পাটাতনের কাঠগুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন। রাশার নিজের চোখকে বিশ্বাস হলো না যখন দেখল সত্যি সত্যি সন্ধের আগে পুরো নৌকাটা তৈরি হয়ে গেছে! কী সুন্দর একটা নৌকা, দেখে মনে হয় একজন আর্টিস্ট একটা ভাস্কর্য তৈরি করেছে।

    সালাম নানা এমন ভান করতে লাগলেন যেন গৌরাঙ্গ ঘরামি না, সালাম নানাই নৌকাটা তৈরি করেছেন। বুকে থাবা দিয়ে বললেন, “আমি তোমাদের বলেছিলাম না আমার বন্ধু একদিনে একটা নৌকা বানাতে পারে! বলেছিলাম কিনা?”

    রাশা বলল, “আপনি বলেছিলেন না, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নাই, আমি ভেবেছিলাম আপনার বন্ধু তো সেই জন্যে আপনি বাড়িয়েচাড়িয়ে বলেছিলেন।”

    “আমি মোটেই বাড়িয়েচাড়িয়ে বলি নাই! আমার বন্ধু একদিনে একটা নৌকা বানাতে পারে, একমাস সময় দিলে একটা জাহাজ বানিয়ে ফেলতে পারবে! তাই না রে গৌরাঙ্গ?”

    গৌরাঙ্গ ঘরামি খুক খুক করে হাসল, বলল, “তারপরে তুমি বলবা তিন মাসে একটা উড়োজাহাজ বানাতে পারবে!”

    “পারবেই তো। তোমাকে উড়োজাহাজ বানাতে শেখালে তুমি উড়োজাহাজও বানাতে পারতে!”

    “ভালো হয়েছে কেউ শিখায় নাই, তাহলে এই নৌকা আর তৈরি হতো না।

    রাশা বলল, “গৌরাঙ্গ নানা, থ্যাংকু। আপনাকে অনেক থ্যাংকু।”

    গৌরাঙ্গ ঘরামি বললেন, “এখনই থ্যাংকু দিও না সোনা। নৌকাটা মা তৈরি হয়েছে, আসল কাজই বাকি আছে।”

    “আসল কাজ কী?”

    “ফুটোফাটা বন্ধ করতে হবে, আলকাতরা মারতে হবে সেই আলকাতরা শুকাতে হবে তারপর তুমি নৌকা পানিতে নামাবে।”

    রাশা নৌকাটার মসৃণ গায়ে হাত দিয়ে বলল, “এখন নৌকাটার কী সুন্দর রং! আলকাতরা দিলে তো কালো হয়ে যাবে!”

    “সেই কালো রং আরো সুন্দর হবে দেখো! কুচকুচে কালো পানকৌড়ির মতো। কালো রং খারাপ কে বলেছে? তোমার সালাম নানাকে জিজ্ঞেস করে দেখো

    “কী জিজ্ঞেস করব?”

    “তার চুল যে পেকে সাদা হয়েছে সে জন্যে খুশি হয়েছে নাকি যখন কালো ছিল তখন খুশি ছিল?”

    রাশা হি হি করে হাসল এবং অন্য সবাই সেই হাসিতে যোগ দিল।

    গৌরাঙ্গ ঘরামি তার যন্ত্রপাতি একটা ব্যাগে ভরে বলল, “আজকে এই পর্যন্তই। কালকে আলো হলে, আলকাতরা মারব।”

    নানি রাতের বেলাতেও খেয়ে যেতে বলেছিলেন, সালাম নানা রাজি হলেন না। গৌরাঙ্গ ঘরামি তার বাড়িতে খাবে, রাত কাটাবে, দুজনের নাকি অনেক গল্প বাকি আছে।

    রাশা দেখল সালাম নানা তার ক্রাচে ভর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, গৌরাঙ্গ ঘরামি তার ব্যাগটা ঘাড়ে ঝুলিয়ে হাঁটছে। সালাম নানা কী একটা বললেন তখন দুজনেই একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে হি হি করে হাসতে লাগলেন, একজন আরেকজনের পেটে গুতো মারতে লাগলেন–যেন দুটি বাচ্চা মানুষ।

    .

    পরের দিন সকালবেলাই সালাম নানা তার বন্ধু গৌরাঙ্গ ঘরামিকে নিয়ে চলে এলেন। রাশা, জয়নব, জিতু মিয়া, মতি আরো বাচ্চা-কাচ্চা আগে থেকেই বসে আছে–কখন নৌকাটা শেষ হবে, কখন সেটাকে পানিতে নামানো হবে। গৌরাঙ্গ ঘরামি নৌকাটাকে সোজা করে তার ফুটোফাটাগুলো বুজিয়ে দিতে লাগলেন। নৌকা বানানোর সময় গৌরাঙ্গ ঘরামি একটা কথাও বলেননি, আজকে সেরকম না। কাজ করতে করতে কথা বলছেন, মাঝে মাঝে কাজ থামিয়েও কথা বলছেন। রাশা তাই একসময় বলল, “যুদ্ধের একটা গল্প বলেন না, নানা।”

    তখন দুজনেই কথা থামিয়ে রাশার দিকে তাকালেন, সালাম নানা বললেন, “যুদ্ধের গল্প শুনতে চাও?”

    “জি নানা।”

    জিতু হাতে কিল দিয়ে বলল, “ফাটাফাটি গল্প!”

    সালাম নানা গৌরাঙ্গ ঘরামির দিকে তাকিয়ে বললেন, “কোনটা বলি গৌরাঙ্গ?”

    “ঐ যে তুমি আর আমি বাঘাই নদীতে অ্যামবুশ করলাম সেইটা বলো।”

    সালাম নানা মাথা নাড়লেন, “হ্যাঁ, এই গল্পটা খারাপ না! শোনো তাহলে!”

    সালাম নানা খানিকক্ষণ চিন্তা করলেন, তারপর শুরু করলেন, “এইটা হচ্ছে যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়। যুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন আমরা যুদ্ধের য’ও জানি না। বলতে পারো রাইফেল কোনদিক সোজা কোনদিক উল্টা সেইটাও জানি না। গ্রেনেড কী খাওয়ার জিনিস নাকি ছুঁড়ে মারার জিনিস সেইটা পর্যন্ত জানি না। যাই হোক আস্তে আস্তে ধাক্কা খেয়েটয়ে আমরা একটু একটু যুদ্ধ করতে শিখেছি। দেখি পাকিস্তানি মিলিটারির গুলিতে যেরকম আমরা মরি ঠিক সেরকম আমাদের গুলি কোনোমতে তাদের গায়ে লাগাতে পারলে তারাও মরে। তাহলে আর ভয়টা কী? তাদের সাইজ বড় তাদের কাছে হাজার রকম অস্ত্রপাতি, তাদের জামা-জুতো ভালো, আমরা পিচ্চি পিচ্চি প্রায় বাচ্চাকাচ্চা মানুষ, অস্ত্রপাতি কম, জামা-জুতোর তো প্রশ্নই নাই। বেশিরভাগ লুঙ্গি পরে থাকে খালি পা! কিন্তু সমস্যা তো নাই, সুযোগ বুঝে খালি গুলি করা। দেশটা আমার, দেশের মানুষও আমাদের-তারা বাইরের মানুষ কোথায় গিয়ে লুকাবে?”

    “আস্তে আস্তে আমাদের সাহস গেল বেড়ে। খোঁজখবর রাখি কোথাও যাচ্ছে–আসছে, খবর পেলেই অ্যামিবুশ করি। যখন বর্ষা নেমেছে তখন একটু সমস্যা! ঝড়ের বেগে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারি না। নৌকা করে যেতে হয়। পাকিস্তানি মিলিটারিদেরও সমস্যা, তারাও যেতে পারে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষ, পানির মাঝে বড় হয়েছি, পানি দেখে ভয় পাই না। ঐ ব্যাটারা পানি দেখে ভয়ে কাঁপে, সাঁতার জানে না হাঁটুপানিতেই ডুবে মরে এমন অবস্থা!”

    “যাই হোক, আমরা তখন এই এলাকাটাতে এসেছি, আশেপাশে কয়েকটা বড় অপারেশন করেছি। দুইটা ব্রিজ উড়িয়ে দিয়েছি। রাস্তায় মিলিটারির একটা জিপ উড়িয়ে দিয়েছি। মিলিটারিরা তখন মনে হলো আমাদের শায়েস্তা করবে। হেড কোয়ার্টার থেকে প্রায় দুইশ পাঞ্জাবি মিলিটারি এসেছে। তারা নদীর ঐ পারে আমরা নদীর এই পারে।”

    “এর আগে আমরা কখনোই মিলিটারিদের সামনাসামনি আমাদের আক্রমণ করতে দেই নাই। আমরা সবসময় লুকিয়ে তাদের অ্যামবুশ করেছি। এইবার আমরা ভাবলাম সামনাসামনি একটু যুদ্ধ করি। আমরা নদীর পাড়ে বাংকার করে বসে থাকব তারা যদি আমাদের আক্রমণ করতে চায় নদী পার হয়ে আসতে হবে, নদী পার হবার সময় আমরা তাদের ছ্যাড়াব্যাড়া করে দেব। আমরা তাই নদীর পাড়ে পজিশন নিয়ে বসে থাকলাম। নদীর ঐ পারেও আমাদের লোক আছে তারা খোঁজখবর দিচ্ছে। সকালবেলা খোঁজ পেলাম তারা অনেক রকম অস্ত্রপাতি নিয়ে রওনা দিয়েছে।”

    “আমরা অপেক্ষা করছি, কখন তারা আসবে, নদী পার হবে কিন্তু তারা তো আর আসে না। তখন হঠাৎ একজন স্কাউট দৌড়াতে দৌড়াতে হাজির হলো, এসে বলল, মিলিটারিরা দুই ভাগে ভাগ হয়েছে, একভাগ নদীর এই পারে অন্যভাগ নদীর ঐ পারে। তারপর তারা নদীর তীর ধরে আসছে। বদমাইশের বাচ্চাগুলি নদী পার হয়েছে ঠিকই কিন্তু অনেক উজানে যেখানে আমরা আশেপাশে নাই! ব্যাটারা হচ্ছে প্রফেশনাল, যুদ্ধের বইপত্র পড়েছে, সেখানে নিশ্চয়ই কোথায় নদী পার হতে হয়, কেমন করে নদী পার হতে হয়–এইসব শেখায়। আমরা তো আর সেইসব জানি না!”

    “যাই হোক, স্কাউটের মুখে খবর পেয়ে আমাদের আক্কেল গুড়ুম। আমাদের কমান্ডার হচ্ছেন রাশার নানা, আজিজ মাস্টার, আমরা আজিজ ভাই ডাকি। আজিজ ভাই খুব ঠাণ্ডা মাথার মানুষ, একটু সময় চিন্তা করে বললেন, আমাদের বিশ-পঁচিশজন মুক্তিযোদ্ধা কয়েকশ পাকিস্তানি মিলিটারির সাথে যুদ্ধ করতে পারব না। সবাই মারা পড়ব। তাই তার চেষ্টাও করব না, কাজেই এক্ষুণি সরে পড়তে হবে। যদি সরে পড়তে পারি ভালো। যদি দেখি পারছি না তাহলে কয়েকজনের একটা ছোট দল লাইট মেশিনগান নিয়ে রাস্তার পাশে বসে যাবে, পাকিস্তানিদের আটকে রাখবে যতক্ষণ পর্যন্ত না সবাই সরে পড়তে পারছে।”

    “এইটুকু বলে আজিজ ভাই থামলেন, তারপর বললেন, আমার দুইজন ভলান্টিয়ার দরকার। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন? আজিজ ভাই বললেন, ব্যাটাদের একটা শিক্ষা দিতে চাই। আমি বললাম, কী শিক্ষা? আজিজ ভাই বললেন, তারা নদী পার হয়ে এই পারে এসেছে না? আবার তো ঐ পারে যেতে হবে। যখন ঐ পারে যাবে তখন নৌকাগুলি ডুবিয়ে দিতে হবে। তাই দুজনকে ঐ কচুরিপানায় লুকিয়ে থাকতে হবে! অস্ত্রসহ।”

    রাশা এই সময়ে জিজ্ঞেস করল, “পানিতে ডুবে গেলে অস্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে না?”

    “না। বেশিদিন ডুবিয়ে রাখলে জং ধরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ব্যারেলে কাদা ঢুকলেও সমস্যা! এমনিতে পানিতে ভিজে গেলে, কিছুক্ষণ ডুবে থাকলে কোনো সমস্যা নাই। যাই হোক আমি আর গৌরাঙ্গ, আমরা দুইজন বললাম, আমরা থাকব। দুইটা রাইফেল নিয়ে আমরা কচুরিপানায় লুকিয়ে থাকলাম, অন্যেরা চলে গেল।”

    “কিছুক্ষণের ভেতর শুনতে পাই নদীর দুই পার দিয়ে মিলিটারি যাচ্ছে। ব্যাটাদের জানের ভয় আছে, এদিক-সেদিক তাকায়, আস্তে আস্তে হাঁটে, ফাঁকা গুলি করে। কচুরিপানার দিকেও একঝাঁক গুলি করল, কপাল ভালো আমরা বেঁচে গেলাম।”

    “যাই হোক আমরা নিশ্বাস বন্ধ করে শুধু নাকটা ভাসিয়ে বসে আছি, টের পাচ্ছি শরীরে. জেঁক ধরেছে। ব্যাটাদের মনে হলো ঈদ, এরকম ফ্রেশ রক্ত কতদিন খায় নাই! রক্ত খেয়ে ঢোল হয়ে নিজেরাই খসে পড়ছে। কান খাড়া রেখে শোনার চেষ্টা করি কোনো বড় ধরনের গোলাগুলির শব্দ শোনা যায় নাকি, শোনা গেল না। তার মানে সবাই নিরাপদে সরে পড়তে পেরেছে। আজিজ ভাই বুদ্ধি করে ছোট একটা খাল পার হয়ে গেছে, খালের উপর বাঁশের সাঁকো গুলি করে ভেঙে দিয়ে গেছে, নৌকাগুলো ডুবিয়ে দিয়ে গেছে–তাই এত সহজে পিছু নিতে পারে নাই।”

    “যাই হোক বিকেলের দিকে টের পেলাম মিলিটারিগুলো ফিরে আসছে, ব্যাটাদের মনে খুব ফুর্তি। তাদের ধারণা তারা সব মুক্তিবাহিনীকে ভাগিয়ে দিয়ে এসেছে। আমরা কচুরিপানায় ডুবে থেকে শুনতে পাচ্ছি শালা মুক্তি বলে একেবারে যা তা ভাষায় গালাগাল করছে। আমাদের সাহস নাই, যুদ্ধ করার ক্ষমতা নাই, আমরা ইন্ডিয়ার দালাল এই রকম আজেবাজে কথা। শুনে আমাদের আরো রাগ চেপে গেল, আজকে ব্যাটাদের একটা শিক্ষা দিতেই হবে। আমাদের সাহস আছে কি নেই সেইটা আজকে তাদের জন্মের মতো বুঝিয়ে দেব।”

    “ওরা যখন নদী পার হয়েছিল তখন সেটা তারা করেছিল খুব সাবধানে, যেখানে আমরা নাই সেইখানে। এখন তারা ধরেই নিয়েছে আমরা কোথাও নাই, তাই তাদের ভয়েরও কিছু নাই। তারা যেভাবে খুশি যেখানে খুশি নদী পার হতে পারবে। তাই তারা ঠিক করল তারা এখন কাছাকাছি এখান দিয়েই নদী পার হয়ে যাবে। হাঁকডাক দিয়ে নৌকা জড়ো করে বদমাইশগুলি নদী পার হতে শুরু করল। আমরা বুঝতে পারলাম এইটাই সুযোগ।”

    “আমরা তাদের শান্তিমতো নদী পার হতে দিলাম। যতক্ষণ এই পারে পাকিস্তানি মিলিটারি থাকল আমরা কিছু করলাম না। যখন শেষ মিলিটারিটাও নৌকায় উঠে রওনা দিল আমরা মাথার মাঝে কচুরিপানা লাগিয়ে ভেসে ভেসে কাছাকাছি এলাম। আমি আর গৌরাঙ্গ দুই দিকে সরে গেলাম। অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন ঠিক মাঝনদীতে পৌঁছায়। যখন পৌঁছল, তখন আমরা দুইজন দুই দিক থেকে গুলি করতে শুরু করলাম।” ব্যাস। মজা শুরু হয়ে গেল। গুলি শব্দ শুনেই বাঙালি মাঝিরা নৌকা ফেলে পানিতে লাফ দিয়েছে। সাথে সাথে নৌকা চক্কর খেতে শুরু করেছে। গাদাদাদি করে মিলিটারি উঠেছিল, সেগুলো নৌকার ওপর লাফঝাঁপ দিতে লাগল, কেউ কেউ আমাদের গুলি করার চেষ্টা করল। নৌকা গেল কাত হয়ে, কিছু বোঝার আগেই মিলিটারিগুলো পানিতে হাবুডুবু খেতে লাগল, একটাও সাঁতার জানে না, সবগুলি মার্বেলের মতো ডুবে যেতে লাগল।

    নদীর জন্য অন্য পারে মিলিটারিগুলি পজিশন নিয়ে গুলি করার চেষ্টা কলল, আমার রেঞ্জের বাইরে, মাথায় কচুরিপানা নিয়ে যেভাবে ভেসে উঠেছিলাম আবার ডুবে গেছি, আমার পাবে কোথায়? পানির নিচে ডুবসাঁতার দিয়ে সরে গেছি, নিরাপদ জায়গায় গিয়ে দেখি নদীতে যে কয়টা নৌকা ছিল তার নোনোটার চিহ্ন নাই, একটা শুধু উল্টো হয়ে ভেসে যাচ্ছে। দুইটা পাকিস্তানি মিলিটারি কোনোমতে সেটা ধরে ভেসে থেকে গলা ফাটিয়ে চেঁচাচ্ছে। আমরা ইচ্ছা করলে ঐ দুটোকে শেষ করে দিতে পারতাম, কিন্তু কেন জানি মায়া হলে। জান বাঁচাবার জন্যে যখন কেউ চিৎকার করে তখন। তারে মারা যায় না। আমারা ঐ দুইটাকে ছেড়ে দিলাম।

    জিতু জিজ্ঞেস করল, কয়টা পাকিস্তানি মরেছিল, নানা?

    সঠিক সংখ্যা তো জানি না–তিনটা নৌকা, বিশ থেকে ত্রিশজন তো হবেই।

    গৌরাঙ্গ ঘরামি মাথা নেড়ে বললেন, “আরো বেশি হবে। বড় বড় নৌকা ছিল, অনেকগুলি করে উঠেছিল, মনে নাই?”

    জিতু হাতে কিল দিয়ে বলল, “উচিত শিক্ষা হয়েছে। জন্মের শিক্ষা হয়েছে।”

    সালাম নানা মাথা নাড়লেন, বললেন, “হ্যাঁ। তাদের খুব বড় একটা শিক্ষা হয়েছিল। কিন্তু—”

    সালাম নানা কথা বলতে শুরু করে থেমে গেলেন, রাশা জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু কী?”

    সালাম নানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “দুইদিন পরে আরো অনেক মিলিটারি এসে আশেপাশের সব গ্রাম জ্বালিয়ে মানুষ মেরে একবারে ভয়ঙ্কর অবস্থা করেছিল। বুঝলি জিতু তাই বলছিলাম যুদ্ধ খুব খারাপ জিনিস। আমাদের কোনো উপায় ছিল না, তাই যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু এই দেশের মানুষের যেন আর কোনোদিন যুদ্ধ করতে না হয়। কোনোদিন না! বুঝেছিস?”

    জিতু মাথা নাড়ল, তার সাথে অন্যেরাও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপ-রূপালী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article রাতুলের রাত রাতুলের দিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }