Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাশা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. একটি গহীন গ্রাম

    ০২. একটি গহীন গ্রাম

    রাস্তার পাশে রিকশা-ভ্যানটা থামিয়ে রিকশাওয়ালা নেমে গামছা দিয়ে মুখ মুছে বলল, “আর সামনে যাবে না। বাকিটা হেঁটে যেতে হবে।”

    আম্মু অন্যমনস্কভাবে বললেন, “হেঁটে যেতে হবে?”

    “জে।” মাঝবয়সী রিকশাওয়ালা সামনের কাঁচা রাস্তাটা দেখিয়ে বলল, “বর্ষার সময় সব পানিতে ডুবে যায় তখন নৌকা করে যাওয়া যায়।”

    আম্মু বললেন, “ও।” বহুদিন পর আম্মু এখানে এসেছেন। আজকাল যেখানেই কিছুদিন পরে যান গিয়ে জায়গাটা চিনতে পারেন না। ফাঁকা একটা জায়গা বাড়িঘরে ঘিঞ্জি হয়ে যায়। এই এলাকাটার কোনো পরিবর্তন হয়নি, সেই ছোট থাকতে যে রকম দেখেছিলেন এখনো সে রকমই আছে।

    রাশ রিকশা-ভ্যানে পা তুলে বসেছিল, এবারে নেমে পড়ে। গতরাতে তারা রওনা দিয়েছে, সারারাত ট্রেনে কেটেছে, সকালে নেমে বাস ধরেছে। বাসের পর স্কুটার তারপর রিকশা-ভ্যান। বাকিটা হেঁটে যেতে হবে। রাশা অন্যমনস্কভাবে চারপাশে তাকাল কিন্তু খুব ভালো করে কিছু দেখল বলে মনে হয় না। একটু আগে জলার ধারে একটা গাছের ওপর একটা মাছরাঙা পাখি বসেছিল, এত সুন্দর রঙিন পাখি সে জীবনে কখনোই দেখেনি, কিন্তু তারপরেও পাখিটা দেখে তার ভেতরে কোনো আনন্দ হলো না। আসলে তার ভেতরটা এখন মনে হয় মরে গেছে, আনন্দ বা দুঃখ কোনো অনুভূতিই হচ্ছে না। মনে হচ্ছে চারপাশে যেটা ঘটছে তার পুরোটাই একটা দুঃস্বপ্ন। মনে হচ্ছে এক্ষুণি তার ঘুম ভেঙে যাবে আর ঘুম থেকে উঠে দেখবে সে তার ঘরে কম্পিউটারের সামনে বসে আছে। রাশা জানে এটা দুঃস্বপ্ন নয় এটা সত্যি, তাই সম্পূর্ণ অপরিচিত একধরনের দুঃখ, হতাশা আর আতঙ্কে বুকের ভেতরটা অসাড় হয়ে আছে।

    আম্মু রিকশা-ভ্যান থেকে নেমে রাশাকে বললেন, “নেমে আয় মা। হেঁটে যেতে হবে। পারবি না?”

    রাশা কোনো কথা না বলে মাথা নেড়ে জানাল যে সে পারবে। রিকশাওয়ালা ভ্যান থেকে আম্মুর ছোট ব্যাগ আর রাশার বড় স্যুটকেসটা নামাল। এই স্যুটকেসের মাঝে তার বাকি জীবনটা কাটানোর জন্যে যা যা লাগবে সেটা আঁটানো হয়েছে। আম্মু বারবার বলেছেন, “যা যা লাগবে সব নিয়ে নে মা। আর তো নিতে পারবি না।” রাশা তখন খুব চিন্তা ভাবনা করেনি। অনেকটা অন্যমনস্কভাবে হাতের কাছে যা পেয়েছে স্যুটকেসে ভরেছে। সে তখনো বিশ্বাস করেনি যে সত্যি সত্যি এটা ঘটছে। স্যুটকেসের মাঝে তার কিছু জামা-কাপড় আছে, কিছু বই। তার কম্পিউটারটা আনতে পারলে হতো, কিন্তু আম্মু বলেছেন তারা যেখানে যাচ্ছে তার আশেপাশে কোথাও ইলেকট্রিসিটি নেই। তা ছাড়া এত বড় একটা কম্পিউটার, সেটা আনবে কেমন করে? এই স্যুটকেসটা আনতেই কত ঝামেলা হয়েছে।

    রাশা রিকশা-ভ্যান থেকে টেনে স্যুটকেসটা নামাল। নিচে চাকা লাগানো আছে, রাস্তা ভালো হলে টেনে নেয়া যেত। কাদামাটির এই কাঁচা রাস্তায় কেমন করে নেবে সে জানে না।

    আম্মু রিকশাওয়ালাকে বললেন, “আমি কিন্তু আজকেই ফিরে যাব। মনে আছে তো?”

    মানুষটা মাথা নাড়ল, বলল, “জে মনে আছে।”

    আম্মু রাশার স্যুটকেসটা দেখিয়ে বললেন, “এই সুটকেসটা পৌঁছে দিতে হবে। কাউকে পাওয়া যাবে?”

    মানুষটা বলল, “আমি পৌঁছে দেব।”

    “রিকশা-ভ্যান? কেউ নিয়ে যাবে না তো?

    “এইখানে কারো বাড়িতে রেখে যাব। কেউ নিবে না। এই গাঁও গেরামে সবাই সবাইরে চিনে।”

    কিছুক্ষণের মাঝেই তিনজনের এই ছোট দলটা এগিয়ে যেতে থাকে, সামনে রাখার স্যুটকেস মাথায় রিকশাওয়ালা, তার পিছনে আম্মু সবার পিছনে রাশা। আম্মু মাঝে মাঝে থেমে রাশার সাথে একটা-দুইটা কথা বলার চেষ্টা করেছেন কিন্তু রাশা হুঁ-হ্যাঁ ছাড়া আর কিছু বলেনি, তাই আলাপ বেশি দূর এগুতে পারেনি।

    গ্রামের কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে রাশা দুই পাশে তাকাচ্ছিল। যদি স্কুলের সব ছেলেমেয়েকে নিয়ে এখানে পিকনিক করতে আসত তাহলে এতক্ষণে চারপাশের ক্ষেত, মাঠ, খাল, গাছপালা, গরু, ছাগল, পাখি এসব দেখে সবাই উচ্ছ্বাসিত হয়ে উঠত। সবাই মিলে মাঠে দৌগাদৌড়ি করত, খালের পানিতে লাফঝাঁপ দিত, গরুর বাছুরকে ধরে ছবি তুলত। এখন সবকিছুকে মনে হচ্ছে পুরোপুরি অর্থহীন। মেঠোপথে মানুষজন খুব বেশি নেই, হঠাৎ হঠাৎ এক-দুইজনকে দেখা যায়। তারা তখন কৌতূহলী হয়ে তাদের দিকে মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাকায়। রাশাও একবার ঘুরে একটা মেয়ের দিকে তাকাল, আট-নয় বছরের শুকনো লিকলিকে একটা মেয়ে, কুচকুচে কালো গায়ের রং মাথায় লাল চুল রুক্ষ–বাতাসে উড়ছে, খালি গা, শুধু একটা বেড় প্যান্ট পরে আছে। হাতে একটা চিকন বাঁশেল কঞ্চি, সেটা হাতে নিয়ে উদাস মুখে সে একটা ক্রুদ্ধ চোখে দেখে রাশার ভয়ে বুক কেঁপে উঠে, কিন্তু এই লিকলিকে ছোট মেয়েটির বুকে কোনো ভয়ডর নেই, রাশা। আবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। একটা বড় বটগাছের নিচে দাঁড়িয়ে আম্মু বললেন, ঐ যে তালগাছটা দেখছিস সেটা হচ্ছে তোর নানু বাড়ি। রাশা কোনো কথা বলল না। আম্মু বললেন, আগে দুইটা তাল গাছ ছিল, একটা বাজ পড়ে পুড়ে গেছে।

    .

    রাশা এবারেও কোনো কথা বলল না, তাকিয়ে কল্পনা করার চেষ্টা করল, দুটো তালগাছ হলে সেটা কেমন দেখাত। ধীরে ধীরে রাস্তাটা আরো সরু হয়ে গেলে, একেবারে শেষে একটা বাঁশের সাঁকো পার হতে হলো। আম্মু তার স্যান্ডেল দুটো খুলে হাতে নিয়ে নিলেন, রাশা জুতো পরেই পার হয়ে গেল। কিছু ঝোঁপঝাড় পার হয়ে একটা বিবর্ণ টিনের ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আম্মু বললেন, “এইটা তোর নানু বাড়ি।”

    রাশ চোখ তুলে তাকাল। টেলিভিশনে মাঝে মাঝে যখন কোনো গ্রাম গঞ্জের খবর দেখায় তখন সে খবরের মাঝে এরকম বাড়ির ছবি দেখেছে, এই প্রথমবার সত্যি সত্যি দেখল। বাইরের টিনের ঘরের পাশ দিয়ে আম্মু ভেতরে ঢুকলেন, মাঝখানে খালি একটা উঠান, তার দুই পাশে দুইটা ঘর। একটা ঘরের টিনের ছাদ অন্যটার খড়ের ছাউনি। মাঝখানের উঠানটুকু বড় আর তকতকে পরিষ্কার। কোথাও কোনো জনমানুষ নেই, শুধু একটা মুরগি তার ছানাদের নিয়ে খুঁটে খুঁটে খাচ্ছিল। তাদের দেখে মুরগিটা কঁক কঁক করে একটা সতর্ক শব্দ করল, অমনি সবগুলো ছানা ছুটে এসে মুরগির তলায় আশ্রয় নিল। তাদের দেখে যখন বুঝতে পারল কোনো বিপদ নেই তখন আবার সবগুলো আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যেতে থাকে।

    রিকশাওয়ালা মানুষটি তার মাথা থেকে স্যুটকেসটা উঠানে নামিয়ে রেখে গামছা দিয়ে তার মুখ-গলা মুছতে থাকে। আম্মু এদিক-সেদিক তাকিয়ে ডাকলেন, “মা।”

    কেউ উত্তর দিল না। আম্মু তখন টিনের ঘরের সামনে গিয়ে দরজাটি ধাক্কা দিলেন, দরজাটি সাথে সাথে খুলে গেল। আম্মু ভেতরে ঢুকে একটু পরে বের হয়ে বললেন, “ভিতরে কেউ নাই।”

    রাশা কোনো কথা বলল না। আম্মু বললেন, “আয় বাড়ির পিছনে যাই। বাড়ির পিছনে পুকুর ঘাটে আছে কিনা দেখি।”

    আম্মু টিনের ঘরের পাশ দিয়ে বাড়ির পিছনের দিকে রওনা দিলেন। রাশা অপেক্ষা করবে নাকি পিছনে পিছনে যাবে ঠিক বুঝতে পারছিল না, শেষে আম্মুর পিছনে পিছনেই গেল। বাড়ির পিছনে অনেক গাছপালা, বড় বড় বাঁশঝাড়। তার নিচে শুকনো পাতা মাড়িয়ে রাশা আম্মুর পিছনে পিছনে যেতে থাকে। সামনে একটা বড় পুকুর, পুকুরের কালো পানি টলটল করছে। পুকুরের পাশে ছায়াঢাকা একটা পুকুর ঘাট। রাশা দেখল সেই পুকুরঘাটে হেলান দিয়ে গুটিশুটি মেরে একজন মহিলা বসে আছেন, মহিলা পুকুরের পানির দিকে তাকিয়ে আছেন তাই তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না।

    আম্মু ডাকলেন, “মা।”

    মহিলাটি পিছনে ঘুরে না তাকিয়ে বললেন, “কে?”

    “আমি মা। আমি নীলু।”

    রাশার মায়ের নাম নীলু, বহুদিন তাকে এই নামে কেউ ডাকে না। পুকুর ঘাটে বসে থাকা মহিলাটা একবারও পিছন দিকে না তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “সাথে কে?”

    “আমার মেয়ে। রাশা।”

    কথা বলতে বলতে আম্মু তার মায়ের পাশে দাঁড়ালেন কিন্তু তার মা একবারও মাথা ঘুরিয়ে মেয়েকে দেখার চেষ্টা করলেন না। শীতল গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “তোর পাগলি, মাথা খারাপ মায়ের কাছে কেন এসেছিস?”

    আম্মু থতমত খেয়ে গেলেন, আমতা আমতা করে বললেন, “না, মানে ইয়ে আসলে-”

    “এত বছর পার হয়ে গেল কখনো একবারও খবর নিলি না। এখন হঠাৎ করে একেবারে মেয়েকে নিয়ে চলে এসেছিস। ব্যাপারটা কী?”

    আম্মু ইতস্তুত করে বললেন, “আমি আসলে একটু দেশের বাইরে যাব অস্ট্রেলিয়াতে। রাশাকে–মানে আমার মেয়েকে কোথায় রেখে যাব ঠিক করতে পারছিলাম না। তাই ভাবলাম তোমার কাছে রেখে যাই।”

    “কত দিনের জন্যে যাচ্ছিস?”

    “মানে, আসলে বেশ কিছুদিন, মানে হয়েছে কী”

    “আরেকজনকে বিয়ে করেছিস?”

    আম্মুর মুখটা বিবর্ণ হয়ে গেল, মাথা নিচু করে বললেন, “হ্যাঁ।”

    “জামাই তোর মেয়েকে নিবে না?”

    আম্মু কোনো কথা না বলে চুপ করে রইলেন।

    “তাই মেয়েটাকে এখানে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছিস? এর চাইতে মেয়েটার গলাটা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিলি না কেন? তোর মেয়ে এই গাঁও-গেরামে কিভাবে থাকবে?”

    আম্মু বললেন, “আসলে মা তুমি ঠিক বুঝতে পারছ না। আমার কোনো উপায় ছিল না–”

    “আমার মাথাটা আউলাঝাউলা সেই কথা সত্যি। আমি পাগল মানুষ সেইটাও সত্যি কিন্তু আমি তো বেকুব না নীলু! তুই তোর মেয়ের এত বড় সর্বনাশ কেন করতে যাচ্ছিস?”

    “আমি সর্বনাশ করতে যাচ্ছি না মা–আমি একটু গুছিয়ে নিয়ে–”

    রাশা দেখল তার নানি হঠাৎ করে হাত তুলে তার আম্মুকে থামিয়ে দিলেন, বললেন, “আমার নাতনি কই? আমি কপাল পোড়া মেয়েটাকে একবার দেখি।”

    তার নানি তখন ধীরে ধীরে মাথা ঘুরিয়ে পিছন দিকে তাকালেন, এই প্রথম রাশা তার মাথা খারাপ পাগলি নানিকে দেখতে পেল। তার নানি দেখতে কেমন হবেন সেটা সে গত কয়েক দিনে অনেকবার কল্পনা করেছে। সাদা শণের মতো রুক্ষ চুল, তোবড়ানো গাল, মুখে বয়সের বলিরেখা, কোটরাগত লাল ক্রুদ্ধ চোখ—-কিন্তু সে অবাক হয়ে দেখল তার নানির চেহারায় বয়সের কোনো ছাপ নেই, দেখে মনে হয় তার মায়ের বড় বোন। চুলে অল্প একটু পাক ধরেছে, রোদে পোড়া চেহারা, তার মাঝে শুধু জ্বলজ্বলে তীব্র এক জোড়া চোখ। রাশার মনে হলো সেই চোখ দিয়ে তার নানি তাকে এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেললেন।

    নানি কিছুক্ষণ রাশার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন, তারপর হাত নেড়ে ডাকলেন, বললেন, “আয়। কাছে আয়।”

    রাশা ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেল, নানি হাত দিয়ে তাকে ধরলেন, তারপর কাছে টেনে নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “আমি জানতাম তুই আসবি। তাই আমি সেজেগুজে তোর জন্যে অপেক্ষা করছি।”

    রাশা অবাক হয়ে তার নানির দিকে তাকাল, বলল, “কী বললে?”

    “বলেছি যে আমি তোর জন্যে অপেক্ষা করছি। আমি জানতাম তুই আজকে আসবি।”

    “কেমন করে জানতে?”

    “আমি তো পাগল মানুষ, মাথার ঠিক নাই। উল্টাপাল্টা জিনিস মাথায় আসে। আজকে সকালবেলা মাথায় এসেছে তুই আসবি। সেই জন্যে ট্রাঙ্ক থেকে এই শাড়িটা বের করে পরেছি।”

    রাশা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তার এই মাথা খারাপ নানির দিকে তাকিয়ে রইল। নানি মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন, “তুই আমার কথা বিশ্বাস করলি না? ঠিক আছে তোর হাতটা খোল—”

    রাশা তার হাতটা খুলল। নানি তার মুঠি খুলে কিছু একটা বের করে তার হাতে দিয়ে তার মুঠি বন্ধ করে বললেন, “এই যে–তোকে দেয়ার জন্যে এইটা আমি হাতে নিয়ে বসে আছি। এখন তোকে দিলাম।”

    “এইটা কী?”

    “আমার মা আমাকে দিয়েছিল। আমার মা পেয়েছিল তার মায়ের কাছে। তার মা পেয়েছিল তার মায়ের কাছ থেকে।”

    রাশা আবার কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এইটা কী?”

    “একটা মাদুলি।”

    “কী হয় এইটা দিয়ে?”

    “কাছে আয় তোকে কানাকানি বলি।” রাশা তার মাথাটা এগিয়ে দেয়, তার নানি রাশার থুতনিটা ধরে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “পাক সাফ পবিত্র হয়ে এই মাদুলিটা হাতে নিয়ে তুই যেটা চাইবি সেটাই পাবি।”

    “সেটাই পাব?”

    “হ্যাঁ। কিন্তু সবকিছু চাইতে হয় না। যেটা পাওয়া যায় না সেটা চাইতে হয় না। সেইটা চাইলে মাদুলির গুণ নষ্ট হয়ে যায়। আমার হাতে গুণ নষ্ট হয়ে গেছে। আমি চাইলে আর পাই না। তুই পাবি।”

    “তুমি কিভাবে গুণ নষ্ট করেছ?”

    “নীলুর বাপের জানটা ফেরত চেয়েছিলাম সেই জন্যে গুণ নষ্ট হয়েছে। মওত হয়ে গেলে জান ফেরত চাইতে হয় না–”

    আম্মু বললেন, “মা, তুমি এখন এইসব কথা রাশাকে কেন বলছ?”

    নানি বললেন, “ইচ্ছে হয়েছে বলেছি। তাতে তোর কী? তুই তোর মেয়েকে আমার কাছে ফেলে যাচ্ছিস কেন? আমি কি বলেছিলাম তোকে ফেলে যেতে?”

    “না, মানে, রাশা ছোট মানুষ, তোমার এইসব কথা যদি বিশ্বাস করে ফেলে—”

    “বিশ্বাস করবে না কেন? আমি কি মিথ্যা কথা বলেছি?”

    আম্মু চুপ করে গেলেন। নানি রাশার মাথাটা আবার নিজের কাছে টেনে এনে ফিসফিস করে বললেন, “আমি এই মাদুলিটা তোর মাকে দিই নাই। তোর জন্য রেখেছি।”

    “কেন?”

    আম্মু যেন শুনতে না পান সেভাবে গলা নামিয়ে বললেন, “তোর আম্মু এইটার যোগ্য না। এটা রাখতে হলে যোগ্যতা থাকতে হয়।”

    “আমার যোগ্যতা আছে?”

    “আছে।”

    রাশা তার নানির চোখের দিকে তাকাল তখন নানি একটু হাসলেন, তার কঠিন মুখটা হঠাৎ কেমন যেন নরম হয়ে উঠল।

    রাশা শক্ত করে মাদুলিটা ধরে চোখ বন্ধ করে মনে মনে বলল, “খোদা তুমি আমাকে বাঁচাও, প্লিজ খোদা–আমি খুব বিপদে আছি!”

    .

    উঠানের একপাশে আম্মু রাশার হাত ধরে ভেউ ভেউ করে কেঁদে ফেললেন, বললেন, “রাশা মা তুই আমাকে মাফ করে দিস।”

    রাশা কোনো কথা বলল না। আম্মু বললেন, “মা-ই মনে হয় ঠিক বলেছেন। তোর গলাটা কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিলেই মনে হয় বেশি ভালো

    রাশা এবারেও কোনো কথা বলল না। আম্মু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কঁদিতে বললেন, “আমি একটু গুছিয়ে নিয়ে তোকে নিতে আসব। খোদার কসম।”

    রাশা চোখের পানি আটকে মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে।”

    আম্মু তখন তার ব্যাগ থেকে একটা মোটা খাম বের করে রাশার হাতে দিয়ে বললেন, “নে। এটা রাখ।”

    “এটা কী?”

    “কিছু টাকা। বেশি দিতে পারি নাই। দশ হাজার টাকা আছে। তোর কাছে রাখ। লুকিয়ে রাখিস, কাউকে জানতে দিস না।”

    রাশা বলল, “আমি টাকা দিয়ে কী করব?”

    “তোর লাগবে! সাথে রাখ। নে মা।”

    রাশা প্যাকেটটা হাতে নিল। আম্মু তখন চোখ মুছে বললেন, “আর শোন।

    “তোর নানির উল্টাপাল্টা কথা বিশ্বাস করিস না। মাথা খারাপ মানুষ, অনেক উল্টাপাল্টা কথা বলে।”

    রাশা কোনো কথা বলল না। আম্মু বললেন, “সেভেন্টি ওয়ানে যখন বাবাকে মেরে ফেলল তখন থেকে আস্তে আস্তে মাথা খারাপ হয়ে গেল।”

    রাশা বলল, “ও।”

    “মাথা খারাপ মানুষ তো, একটু মানিয়ে চলিস।”

    “চলব।”

    আম্মু তখন রাশাকে জড়িয়ে ধরলেন, খানিকক্ষণ ধরে রাখলেন, তারপর ছেড়ে দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি যাই?”

    “যাও।”

    “কিছু একটা বল।”

    “কী বলব?”

    “কিছু বলবি না তোর মাকে?”

    “আমার জন্য চিন্তা করো না। আমার ব্যবস্থা আমি করে নেব আম্মু।”

    রাশা চাইছিল না তবুও তার মুখে কেমন যেন একটা হাসি ফুটে উঠল। সেই হাসিতে কোনো আনন্দ নেই, সেই হাসিতে গভীর বিষাদ। আম্মু অবাক হয়ে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর ঘুরে হেঁটে হেঁটে চলে যেতে লাগলেন।

    রাশা টিনের ঘরের বারান্দায় বসে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। মুরগি তার ছানাগুলোকে নিয়ে এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছানাগুলো তার মায়ের আশেপাশে থাকে, ছানাগুলো জানে তাদের মা সবসময় তাদের দেখেশুনে রাখবে, বিপদ থেকে রক্ষা করবে। রাশা তাকিয়ে দেখল, তার মা তাকে একটা গহীন গ্রামে তার মাথা খারাপ নানির কাছে ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

    সে দুই হাতে তার মুখ ঢেকে ফেলে। বিড়বিড় করে বলল, “কাঁদব না। আমি কাঁদব না। কিছুতেই কাঁদব না।”

    তারপরেও সে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপ-রূপালী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article রাতুলের রাত রাতুলের দিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }