Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাশা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. সায়েন্স অলিম্পিয়াড

    ১৩. সায়েন্স অলিম্পিয়াড

    কলেজের মেয়েটি একটু অবাক হয়ে রাশার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর বলল, “তুমি এখানে কী করছ?”

    “আমি সায়েন্স অলিম্পিয়াডে এসেছি।”

    “সায়েন্স অলিম্পিয়াডে?” কলেজের মেয়েটি অবাক হয়ে তার বান্ধবীর দিকে তাকিয়ে বলল, “বাচ্চাদেরও একটা অলিম্পিয়াড হচ্ছে নাকি?”

    “জানি না তো। একটাই তো অলিম্পিয়াড।”

    কলেজের মেয়েটি রাশাকে জিজ্ঞেস করল, “তুমি কীসে পড়?”

    “ক্লাস এইটে?”

    “ক্লাস এইটে পড়লে তুমি অলিম্পয়াডে কেমন করে চান্স পেলে? অলিম্পিয়াডের সব প্রশ্ন তো ইন্টারমিডিয়েট লেভেলের!”

    ঝকঝকে চেহারার একটা মেয়ে হি হি করে হেসে বলল, “বুঝিস না? বাড়িতে একজন ইন্টারমিডিয়েট ইউনিভার্সিটির থাকলেই তো হয়! অঙ্ক করে দেবে–পাঠিয়ে দেবে!”

    “কিন্তু তাহলে এখানে এসে ধরা খাবে না?”

    ঝকঝকে চেহারার মেয়েটা বলল, “ধরা মনে করলেই ধরা! একটু দুই নম্বরি করে মাগনা ঢাকা থেকে বেড়িয়ে যেতে পারলে ক্ষতি কী?”

    রাশার কানটা একটু লাল হয়ে উঠল, কিন্তু সে কিছু বলল না। ঝকঝকে চেহারার মেয়েটা রাশার দিকে তাকিয়ে বলল, “আপু, তুমি কাজটা কিন্তু ঠিক করলে না!”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “এখন মনে হচ্ছে হয়তো ঠিক করলাম না।”

    “বড় মানুষদের দিয়ে অঙ্কগুলো করিয়ে”

    “উঁহু। আমি সেটার কথা বলছি না।”

    “তাহলে কোনটার কথা বলছ?”

    “এখানে আসার কথাটা বলছি। মনে হচ্ছে এখানে এসে ঠিক করলাম, যদি কোনোভাবে আপনারা জানতে পারেন যে অঙ্কগুলো আমি নিজেই করেছি তাহলে না জেনে আমাকে এই খারাপ কথাগুলো বলছেন সেটা চিন্তা করে আপনাদের খারাপ লাগবে না?”

    কলেজের মেয়েগুলো হঠাৎ করে চুপ করে গেল।

    .

    রাশাকে হেডমাস্টার নিজেই নিয়ে এসেছেন। মেয়েদের এই হোস্টেলে তুলে দিয়ে তিনি উধাও হয়ে গেছেন। কাল অলিম্পিয়াডে থাকতেও পারেন নাও থাকতে পারেন। পরশু দিন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের পর রাশাকে নিয়ে ফিরে যাবেন। রাশাকে বলেছেন ঢাকায় তার নানা কাজকর্ম আছে, সেগুলো করতে করতেই সময় চলে যাবে। রাশা আপত্তি করেনি, তার রাতে ঘুমানোর জায়গা আছে, খাওয়ার জায়গা আছে। তাকে এখান থেকে বাসে করে নিয়ে যাবে আবার ফিরিয়ে দিয়ে যাবে কাজেই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

    রাতে মেয়েদের হোস্টেলে ঘুমানোর আগে আগে সে আবিষ্কার করল হোস্টেলের আলোগুলো অসম্ভব তীব্র, রীতিমতো চোখে লাগে। গ্রামে রাতের বেলা কুপি বাতি না হয় হ্যারিকেনের আলোতে থাকতে থাকতে তার চোখ এখন ইলেকট্রিক বাল্বের প্রখর আলো সহ্য করতে পারছে না। কী আশ্চর্য!

    রাশা খুব ভোরবেলা প্রস্তুত হয়ে নিল, ঢাকার বাইরে থেকে যারা এসেছে তাদের বেশির ভাগই আত্মীয়স্বজনের বাসায় উঠেছে। তাই হোস্টেলের মেয়ে খুব বেশি নেই। সাত সকালে সে গোসল করেছে, কাপড় পরেছে, ক্যান্টিনে নাস্তা করেছে তারপর নিচে এসে বসে আছে। তার ভেতরে একটা ভয়, যদি তাকে এখানে ফেলে রেখে বাস চলে যায় তখন কী হবে?

    ঠিক নয়টার সময় বাস এলো, তাকে ফেলে রেখে যেতে পারল না, সে সবার আগে বাসে গিয়ে উঠে বসল। বাসটা তাদের সায়েন্স অলিম্পিয়াড ভেনুতে নিয়ে গেল, বিশাল একটা মাঠ, সেখানে বিশাল একটা প্যান্ডেল। প্যান্ডেলের এক পাশে বড় স্টেজ, পিছনে চকচকে ডিজিটাল ব্যানার। একপাশে রেজিস্ট্রেশনের জায়গা সেখানে ছেলেমেয়েরা লাইন ধরে রেজিস্ট্রেশন করছে। সবাই কলেজের বড় বড় ছেলেমেয়ে। তার বয়সী ছেলেমেয়ে খুব কম। রাশাও লাইনে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিল, সেখান থেকে গলায় ঝুলিয়ে নেয়ার জন্যে তার নাম লেখা একটা কার্ড দেয়া হলো, সাথে সায়েন্স অলিম্পিয়াডের নিয়ম-কানুন লেখা কিছু কাগজপত্র আর হাতখরচ আর ভাড়ার টাকা। একপাশে ফ্রি নুডল খাওয়াচ্ছে সেখানে ছেলেমেয়েদের খুব ভিড়।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হতে এখনো প্রায় আধঘণ্টা বাকি, রাশা মোটামুটি উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন হঠাৎ করে সে জাহানারা ম্যাডামকে দেখতে পেল। রাশা ছুটে ম্যাডামের কাছে গিয়ে প্রায় চিৎকার করে বলল, “ম্যাডাম! ম্যাডাম!”

    জাহানারা ম্যাডাম ঘুরে তাকালেন, রাশাকে দেখে তার এক মুহূর্ত সময় লাগল চিনতে, প্রথমে তার চোখে বিস্ময়, তারপর সেখানে আনন্দের ছাপ পড়ল! রাশাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “রাশা! তুমি? এই অলিম্পিয়াডে?”

    “জি ম্যাডাম!”

    “তুমি না মাত্র ক্লাশ এইটে পড়। এটা তো কলেজের কম্পিটিশন!”

    “মনে নাই আপনি আমাকে কতগুলো বই পাঠিয়েছেন বসে বসে সেগুলো পড়েছি তো”।

    জাহানারা ম্যাডামের মুখে বিশাল একটা হাসি ফুটে উঠল, “তুমি সেগুলো পড়েছ?”

    “পুরোটা শেষ হয় নাই।”

    “এখনই শেষ হবে কেমন করে? তোমার বয়সে শুরু করাই তো কঠিন!”

    “সবকিছু বুঝি না, মাঝে মাঝে ডি ওয়াই ভাগ ডি এক্স লেখে–”

    “ক্যালকুলাস। ওটাকে ক্যালকুলাস বলে।”

    “ওটা জানি না তো তাই একটু ঝামেলা হয়।”

    “আর ঝামেলা হবে না, আমি তোমাকে ফ্যান্টাস্টিক একটা ক্যালকুলাস বই কিনে দেব।” জাহানারা ম্যাডাম রাশার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “আমি কখনো চিন্তা করিনি তুমি সত্যি সত্যি সিরিয়াসলি ওই বইগুলো পড়বে

    “আসলে বর্ষাকালে যা বৃষ্টি আপনি চিন্তা করতে পারবেন না। চারিদিকে পানি, ঘর থেকে বের হওয়া যায় না! তখন ঘরে বসে বসে পড়েছি। কুপি বাতি জ্বালিয়ে-”

    “ইলেকট্রিসিটি নাই?”

    “কিছু নাই।”

    “কিন্তু রাশা তোমাকে দেখে কিন্তু খুব ফ্রেস লাগছে, গায়ের রংটা একটু পোড়া পোড়া। কিন্তু খুব ফ্রেশ লাগছে। তেজি তেজি ভাব!”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “জি ম্যাডাম, তেজি না হলে পারতামই না। বর্ষার সময় নৌকা করে স্কুলে যাই। নিজেরাই নৌকা বেয়ে যাই!”

    জাহানারা ম্যাডাম অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন, “তুমি নৌকা বাইতে পারো?”

    “আরো অনেক কিছু পারি ম্যাডাম!”

    “কী কী পারো?”

    “সাঁতার দিতে পারি। গাছে উঠতে পারি। একটু একটু রান্না করতে পারি। স্যারদের মার খেতে পারি। ঝগড়া করতে পারি–”

    জাহানারা মমি হাসতে হাসতে বললেন, “তোমার স্কুলটা কেমন?”

    রাশা গলা নামিয়ে বলল, “খুব খারাপ। লেখাপড়া হয় না। স্যার ম্যাডামরা কিছু জানেন না, পড়াতেও পারেন না–সব নিজেরা নিজেরা পড়তে হয়।

    “সেটা একদিক দিয়ে ভালো, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়বে।”

    রাশা এদিক-সেদিক তাকিয়ে বলল, “আমাদের ক্লাসের কেউ আসে নাই?”

    “না। কলেজ সেকশনের কয়েকজন এসেছে।”

    “তাদেরকে তো আমি চিনব না।”

    “না চিনবে না।”

    জাহানারা ম্যাডাম রাশাকে প্রায় ধরে রেখে তার দিকে তাকিয়ে থাকলেন, একসময় ইতস্তত করে বললেন, “তোমাকে কি তোমার আম্মুর কথা জিজ্ঞেস করব রাশা?”

    রাশা জোর করে একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, “জিজ্ঞেস না করলেই ভালো ম্যাডাম।”

    “ঠিক আছে তাহলে জিজ্ঞেস করব না।”

    “আম্মু অস্ট্রেলিয়া থেকে মাঝে মাঝে ভিউকার্ড পাঠান।”

    “ও।” জাহানারা ম্যাডাম একটু থেমে বললেন, “আর তোমার নানি?”

    “নানি খুব ভালো আছেন। আমার নানি খুব সুইট।”

    “গুড! সবার জীবনে এক-দুইজন সুইট মানুষ থাকতে হয়।” রাশা একটু হেসে বলল, “আমার বন্ধুরাও সুইট।”

    “চমৎকার! দ্যাটস ওয়ান্ডারফুল-” জাহানারা ম্যাডাম আরো কিছু বলতে চাইছিলেন কিন্তু ঠিক তখন মাইকে ঘোষণা করে সবাইকে তাদের জায়গায় বসতে বলা হলো, এক্ষুণি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। জাহানারা ম্যাডাম তখন রাশাকে নিয়ে প্যান্ডেলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন।

    রাশা ভেবেছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে লম্বা, একজনের পর একজন বক্তৃতা দিতে থাকবে, সে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু সেরকম কিছুই হলো না, কয়েকজন ছেলেমেয়ে মিলে আমার সোনার বাংলা গান গাইল, তারপর কয়েকজন একটা খোলা জায়গায় এসে দাঁড়ায়, একটা ব্যানারের ওপর অনেকগুলো গ্যাস বেলুন বেঁধে রাখা হয়েছে, সেটা ছেড়ে দেয়া হলো, একটা ঝাঁকড়া আমগাছের গা ঘেঁষে সেটা আকাশে উড়ে গেল, সবাই তখন জোরে জোরে হাততালি দিতে থাকে।

    মাইকে তখন সবাইকে নিজেদের রুমে যেতে বলা হলো, কত রেজিস্ট্রেশন নম্বর কোথায় বসবে সেটা মাইকে বলে দিতে লাগল, কিন্তু কেউ সেটা শুনল না, সবাই নিজের মতো করে নিজেদের রুম খুঁজে বের করতে শুরু করে দিল।

    রাশাও নিজের রুমটা খুঁজে বের করল, তার সিট পড়েছে দোতলায় বেঞ্চের এক কোনায়, ঠিক জানালার পাশে। দেখেই তার মনটা ভালো হয়ে যায়। জানালা দিয়ে নিচে একটা গলির মতো জায়গা দেখা যাচ্ছে, দুইপাশে ছোট ছোট টিনের ঘর। গলিতে একটা কমবয়সী মা ছোট একটা বাচ্চাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রাশা গভীর মনোযোগ দিয়ে কমবয়সী মার্টিকে লক্ষ করে, একজন মানুষ যখন জানে না তখন তাকে এভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে লক্ষ করা মনে হয় অনুচিত কাজ। কিন্তু রাশা সেই অনুচিত কাজটি গভীর মনোযোগ দিয়ে করতে থাকল।

    একসময় কিছু মানুষ এসে তাদের কিছু সাধারণ কথাবার্তা বলল, তারপর কী করা যাবে আর কী করা যাবে না সেই বিষয়ে কিছু উপদেশ দিল। তখন টং করে কোথায় জানি একটা ঘণ্টা পড়ল সাথে সাথে তাদের প্রশ্ন আর খাতা দিয়ে দেয়া হলো।

    রাশা প্রশ্নটা মন দিয়ে পড়ে অবাক হয়ে গেল, ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য, কিন্তু তার কাছে মনে হতে থাকে সে সবকয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। রাশা সোজা হয়ে বসে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে শুরু করে।

    যারা প্রশ্নগুলো করেছে তারা নিশ্চয়ই অসম্ভব বুদ্ধিমান, প্রশ্নগুলো এমনভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে গেছে যে কেউ যদি সত্যি সত্যি বিষয়টা বুঝে না থাকে কোনোভাবেই তার উত্তর দিতে পারবে না। শেষের প্রশ্ন দুটো সবচেয়ে মজার, প্রশ্নের শুরুতে নতুন একটা জিনিস তাদের শেখানো হয়েছে তারপর যেটা শেখানো হয়েছে সেটা থেকে প্রশ্ন করা হয়েছে। সুপারনোভার বিস্ফোরণ কিভাবে হয় সে জানত না, এই প্রশ্ন পড়ে সেটা শিখেছে। শুধু যে শিখেছে তা নয়–সেটার একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। আরেকটা প্রশ্ন প্রোটিন নিয়ে, প্রথমে কেমন করে প্রোটিন তৈরি হয় সেটা বোঝানো হয়েছে, তারপর অ্যামিনো এসিড সম্পর্কে বলা আছে, সবশেষে কয়েকটা জিনের কোড, কোনটা প্রোটিন খুঁজে বের করতে হবে এমন মজার প্রশ্ন যে রাশা মুগ্ধ হয়ে গেল।

    একসময় পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা পড়ল, পরিদর্শকরা খাতা নিতে আসছে। রাশা লক্ষ করল সে খাতার উপরে তার নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে ভুলে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি করে তার নাম লিখল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখল, নিচে স্কুলের নাম লিখতে হবে। আহাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় লিখতে গিয়ে রাশা থেমে যায়, এই খাতাটাতে সে কেমন করে একটা রাজাকারের নাম লিখবে, যেই রাজাকার তার নানাকে মেরেছে! রাশা কিছুক্ষণ চিন্তা করে স্কুলের নামটা না লিখেই তার কলমটা বন্ধ করল, সে তার এই হাত দিয়ে তার খাতায় একটা রাজাকারের নাম লিখতে পারবে না। তাছাড়া স্কুলের নামটা নিশ্চয়ই এত গুরুত্বপূর্ণ না, রেজিস্ট্রেশন নম্বরটা থেকেই সব কিছু বের করে ফেলতে পারবে।

    রাশা ক্লাসঘর থেকে বের হয়ে আসতে থাকে, তার ঠিক সামনে দিয়ে দুজন হেঁটে যাচ্ছে, তাদের কথা শুনতে পেল। একজন বলল, “প্রশ্নের কোনো মাথামুণ্ডু নাই!”

    অন্যজন বলল, “মানুষগুলোর আক্কেল বলে কিছু নাই! প্রশ্নের মাঝে আমাদের জ্ঞান দেয়ার চেষ্টা করেছে। দেখেছিস?”

    “আরে বাবা, কার এত সময় আছে বসে বসে পড়ার? কী জিজ্ঞেস করার আছে ঝটপট জিজ্ঞেস কর, উত্তর দিই।”

    “এই রকম পাগলামির মাঝে আমি আর নাই। খালি খালি সময় নষ্ট।”

    “তুই কয়টা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিস?”

    “পাঁচটা। তিনটা হলেও হতে পারে–অন্যগুলো বুঝিই নাই। তুই?”

    “আমি ছয়টা। আমারও এক অবস্থা–প্রথম তিনটা মনে হয় হবে। অন্যগুলো জানি না।”

    রাশা শুনতে পেল, দুইজন তারপর সায়েন্স অলিম্পিয়াডের আয়োজকদের মুখ খারাপ করে গালাগাল করতে থাকে।

    রাশা পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আসা ছেলেমেয়েদের ভেতর একটু হাঁটাহাঁটি করে দেখল, কান পেতে শোনার চেষ্টা করল কে কী বলছে। রাশা বেশ অবাক হয়ে আবিষ্কার করল যে বেশিরভাগ ছেলেমেয়ের ধারণী প্রশ্নটা খুবই খারাপ হয়েছে, তাদের ভাষায় রীতিমতো “আউল ফাউল” প্রশ্ন।

    মাঠের এক কোনায় সবাইকে লাঞ্চের প্যাকেট দিচ্ছে, রাশা লাইনে দাঁড়িয়ে লাঞ্চের প্যাকেটটা নিয়ে মাঠের এক কোনায় খেতে বসে। হঠাৎ করে তার একটু মন খারাপ হয়ে যায়। এখানে যারা এসেছে সবাই একজনের সাথে আরেকজন তা নাহলে কয়েকজন মিলে গল্প করছে। অনেকের বাবা-মা এসেছে, অনেকের স্যার-ম্যাডামরা এসেছেন, তারা মিলে গল্প করতে করতে খাচ্ছে। শুধু সে একা, মাঠের এক কোনায় বসে খাচ্ছে। একা একা খাওয়া কী মন খারাপ করা একটা ব্যাপার–এর মাঝেই মনে হয় একধরনের দুঃখী দুঃখী ভাব আছে। রাশা সেই দুঃখী দুঃখী ভাব নিয়ে খেতে থাকে, তেল জবজবে খানিকটা বিরিয়ানি, একটা সেদ্ধ ডিম আর মোরগের শুকনো একটা রান, কী ভয়ঙ্কর খাবার!

    বিকেলের দিকে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল, ভালো ভালো কয়েকজন শিল্পী গান গেয়ে শোনাল, একটা নাচের অনুষ্ঠান, সবার শেষে ছোট একটা নাটক। রাশা অনেক দিন পর এরকম একটা অনুষ্ঠান দেখছে, আগের স্কুলে তারা নিজেরাই কতবার এরকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে তার বুক থেকে একটা ছোট দীর্ঘশ্বাস বের হয়ে আসে। প্রায় সাথে সাথেই রাশা ভুরু কুঁচকে ভাবল, মন খারাপ হলে মানুষ দীর্ঘশ্বাস কেন ফেলে? দীর্ঘশ্বাস হচ্ছে ফুসফুঁসের ভেতর আটকে থাকা সব বাতাস জোর করে বের করে দেয়া শুধু মন খারাপ হলে এটা করে, অন্যসময় কেন করে না? রাশা ভাবতে ভাবতে অন্যমনস্ক হয়ে গেল।

    সন্ধেবেলা বাসে করে তাদের মেয়েদের হোস্টেলে নিয়ে যাওয়া হলো, সকালে যে কয়জন ছিল এখন তারাও নেই। পুরো বাসে তারা মাত্র তিনজন। ঢাকা শহরে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব নেই সেরকম মানুষ খুব কম। এই বাসে বসে থাকা তিনজন হচ্ছে এরকম তিনজন হতভাগী! রাশা চোখের কোনা দিয়ে এই হতভাগীদের দেখল, চেহারা দেখেই বোঝা যায় মফস্বল থেকে এসেছে, তাদের মাঝে ঢাকা শহরের মেয়েদের মতো চকচকে ভাবটা নেই।

    রাতে ক্যান্টিনে খেতে বসে রাশা অন্য দুটি মেয়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করল, কিন্তু আবিষ্কার করল মেয়ে দুটো কথা বলতে খুব আগ্রহী নয়, তাদের ভেতর কী নিয়ে যেন একটা ভয় ভয় ভাব!

    পরদিন সকালে ছাত্রছাত্রীদের জন্যে প্রশ্নোত্তর পর্ব। মঞ্চে কিছু বুড়ো বুড়ো মানুষ বসেছে, দেখেই রাশা বিশাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। বুড়ো মানুষেরা কেন যেন একটু বেশি কথা বলে, এই মানুষগুলোও নিশ্চয়ই বকবক করে কানের পোকা নাড়িয়ে দেবে। তারপরেও রাশা একটু আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকল কে কী প্রশ্ন করে আর তার উত্তরে বুড়ো বুড়ো মানুষেরা কী বলে সেটা শোনার জন্যে।

    প্রথম প্রশ্নটা হলো মহাকাশে মানুষ কেন ভরশূন্য হয়। একজন প্রশ্নটার উত্তর দিলেন অনেক ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে, কী বললেন কিছু বোঝা গেল না। কোনো মানুষ যখন একটা প্রশ্নের উত্তর ঠিক করে জানে না তখন এভাবে উত্তর দেয়। স্টেজে যারা বসেছিলেন তার মাঝে একজনের মনে হলো উত্তরটা পছন্দ হলো না, সেই মানুষটা তখন মাইক নিয়ে প্রশ্নটার উত্তর দেয়া শুরু করলেন। এই মানুষটার উৎসাহ অনেক বেশি কাজেই এমনভাবে কথা বলতে লাগলেন যে কথা আর শেষ হয় না! একসময় শেষ হলো তখন একটি মেয়ে প্রশ্ন করল, পৃথিবীর কেন্দ্রে মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ শূন্য কেন? তারা যে ফর্মুলা শিখে এসেছে সেটা ব্যবহার করলে তো অসীম হওয়ার কথা।

    রাশা একটু সোজা হয়ে বসল, এই প্রশ্নটার উত্তর সে নিজে অনেক কষ্ট করে বের করেছে, সে দেখতে চায় তার উত্তরটার সাথে মিলে কিনা। স্টেজে বসে থাকা মানুষগুলো বড় বড় বিজ্ঞানী, সবকিছুই জানে কিন্তু বোঝাতে পারে না! রাশা দেখল তারা কয়েকভাবে ব্যাখ্যা করল কিন্তু কেউ ঠিক করে বুঝতে পারল না! এরপরের প্রশ্নটা ছিল বিবর্তন নিয়ে, স্টেজে কমবয়সী একজন মহিলা খুব সুন্দর করে উত্তরটা দিলেন। এরপরে যে প্রশ্ন করতে দাঁড়াল সে প্রশ্ন না করে বিজ্ঞান এবং ধর্মের সাথে সম্পর্ক নিয়ে ছোটখাটো একটা বক্তৃতা দিয়ে ফেলল। স্টেজে বসে থাকা বুড়ো মানুষটা মাথা নেড়ে বলল, “ধর্মের মূল হচ্ছে বিশ্বাস আর বিজ্ঞানের মূল হচ্ছে যুক্তিতর্ক। দুটো ভিন্ন ভিন্ন ধারার জ্ঞান। তাই ধর্ম দিয়ে বিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে হয় না আবার বিজ্ঞান দিয়ে ধর্ম ব্যাখ্যা করতে হয় না!”

    যে প্রশ্নটা করেছিল সে কঠিন মুখে আবার তর্ক করে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু স্টেজে বসে থাকা বুড়ো মানুষটা তাকে সুযোগ না দিয়ে আরেকজনের কাছে চলে গেল। এবারের প্রশ্নটা ছিল বিগ ব্যাং নিয়ে, প্রশ্নটা ছিল সুন্দর, উত্তরটাও দেয়া হলো সুন্দর করে। রাশারও একটা প্রশ্ন ছিল, জাহানারা ম্যাডাম তাকে বিজ্ঞানের যে বইটা দিয়েছেন সেখানে কোয়ান্টাম মেকানিক্স বলে বিচিত্র একটা বিজ্ঞানের কথা বলা আছে, সেখানে ওয়েভ ফাংশন বলে আরো বিচিত্র একটা কথা আছে, সেটা নিয়ে সে প্রশ্ন করতে চাইছিল। প্রথম প্রথম খুব বেশি ছেলেমেয়ে প্রশ্ন করছিল না, তখন হাত তুললে তাকে নিশ্চয়ই প্রশ্ন করার সুযোগ দেয়া হতো। এখন সবাই হাত তুলে বসে আছে, সবাই কিছু না কিছু জিজ্ঞেস করতে চায়। তাই রাশা আর চেষ্টা করল না চেয়ারে হেলান দিয়ে চুপচাপ বসে রইল।

    প্রশ্নোত্তর পর্ব যখন শেষের দিকে সেছে তখন রাশা কমবয়সী একটা মেয়ে একটা কাগজ নিয়ে স্টেজে এস বুড়ো মানুষদের একজনের সাথে একটু কথা বলে তার কাছ থেকে মাইক্রোফোনটা হাতে নিয়ে বলল, আমরা একটা মেয়েকে খুঁজছি। সে যেন এক্ষুণি আমার অফিসে চলে আসে। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর হচ্ছে দুই হাজার তিনশ সাতাশ। আর তার নাম হচ্ছে–মেয়েটা নামটা দেখার জন্যে কাগটার দিকে তাকাল। রাশা ততক্ষণে উঠে দাঁড়িয়েছে। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দুই হাজার তিনশ সাতাশ, আর সত্যি তখন মেয়েটি মাইক্রোফোনে তার নাম ধরে ডাকল।

    রাশা একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়, এত হাজার হাজার ছেলেমেয়ের ভেতরে তাকে আলাদা করে কেন ডাকছে। কোনো একটা সমস্য নিশ্বয়ই। হয়েছে, কিন্তু কী সমস্যা? তবে একটা জিনিষ অনুমান করা যাচ্ছে।

    অফিম্পিয়াডের অঙ্কগুলো মনে হয় ঠিক হয়েছে, তা নাহলে আলাদা করে তাকে ডাকবে কেন? রাশার একই সাথে একধরনের আনন্দ আবার অন্য ধরনের ভয় হতে থাকে।

    .

    কমবয়সী মেয়েটির পিছু পিছু রাশা যেতে থাকে। মেয়েটা বলল, “আমার নাম মিমি। আমি সায়েন্স অলিম্পিয়াডের কো-অর্ডিনেটর।”

    রাশা জিজ্ঞেস করল, “মিমি আপু, আমাকে কেন ডেকেছেন?”

    “আমি ঠিক জানি না, পরীক্ষার কন্ট্রোলার খবর পাঠিয়েছে! চলো গিয়ে দেখি।”

    রাশা মিমি নামের মেয়েটার পিছনে পিছনে একটা তিনতলা বিল্ডিংয়ের সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে একটা রুমে গিয়ে ঢুকল। সেই রুমে খিটখিটে ধরনের একটা মানুষ বসে আছে, রাশাকে দেখে চশমার উপর দিয়ে তার দিকে তাকাল, তারপর খসখসে গলায় বলল, “তুমি সেই মেয়ে?”

    রাশা যেহেতু আগে-পিছে কিছু জানে না তাই কোনো কথা না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

    মানুষটা খসখসে গলায় বলল, “পরীক্ষা তো খুবই ভালো দিয়েছ, একেবার ফার্স্ট কিন্তু এত কেয়ারলেস হলে কেমন করে হবে?”

    রাশা জিজ্ঞেস করল, “কেয়ারলেস?”।

    “হ্যাঁ। খাতায় নাম লিখেহু, রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখেছ, স্কুলের নাম লেখ নাই।” মানুষটি রাশাকে তার খাতাটা দেখিয়ে বলল, “এই দেখছ না, এখানে বড় বড় করে লেখা আছে স্কুলের নাম লিখতে হবে?”

    রাশা কিছু বলল না। খিটখিটে মানুষটা বলল, “পরীক্ষার নিয়মে স্পষ্ট বলা আছে ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে কিংবা সব তথ্য না দিলে খাতা ক্যান্সেল হয়ে যাবে! বুঝলে মেয়ে আমি ইচ্ছে করলে তোমার খাতা ক্যান্সেল করে দিতে পারতাম। বুঝেছ?”

    রাশা মাথা নেড়ে বলল যে সে বুঝেছে। খিটখিটে মানুষটা বলল, “কিন্তু তুমি এইটুকুন মেয়ে পরীক্ষায় এত ভালো করেছ খাতা ক্যান্সেল করি কেমন করে? তাই তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছি। নাও স্কুলের নাম লেখ। ফিউচারে এরকম কেয়ারলেস হবে না।”

    রাশা ইতস্তত করে বলল, “আসলে আমি কেয়ারলেস হইনি। আমি আসলে ইচ্ছা করে স্কুলের নামটা লিখি নাই।”

    খিটখিটে মানুষটার মুখটা হঠাৎ কঠিন হয়ে গেল, সরু চোখে বাশার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি তাহলে কেয়ারলেস না, তুমি হচ্ছ আইন অমান্যকারী! নিয়ম কানুনের প্রতি তোমার কোনো সম্মান নেই–”

    “না, না, তা নয়।” রাশা একটু ব্যস্ত হয়ে বলল, “আসলে আমার স্কুলটার নাম একটা রাজাকারের নামে। খাতায় রাজাকারের নামটা লিখতে ইচ্ছে করে না তো–”

    মানুষটার মুখটা এবারে কেমন যেন থমথমে হয়ে গেল। সে রাশার খাতাটা টেবিলে রেখে সোজা হয়ে বসে রাশার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি কী বলেছ?”

    “বলেছি যে স্কুলটার নাম একটা রাজাকারের নামে, সেই নামটা লিখতে ইচ্ছে করে না।”

    “রাজাকার?”

    “জি।”

    “তোমার বয়স কত?”

    “চৌদ্দ।”

    “তোমার বয়স চৌদ্দ আর এই বয়সে তুমি রাজাকার মুক্তিযুদ্ধের পলিটিক্সে ঢুকে গেছ?”

    “ঠিক পলিটিক্স না–”

    মানুষটা ধমক দিয়ে রাশাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “আমি কী বলি শোনো। এই দেশে রাজাকার-মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে অনেক পলিটিক্স হয়েছে, আর না। বুঝেছ? যে জিনিস দেখ নাই সেই জিনিস নিয়ে কথা বলবা না।”

    “কিন্তু—”

    মানুষটা ক্রুদ্ধ মুখে বলল, “বড় বড় লম্বা লম্বা কথা অনেক শুনেছি। আমার বয়স তো কম হয় নাই। লম্বা লম্বা কথা বললে সেই লম্বা কথা এক সময়ে গিলতে হয়। তুমি এখন যেভাবে গিলবে।”

    মানুষটা কী বোঝাতে চাইছে রাশা অনুমান করতে পারল, তারপরও সে বলল, “আপনি কী বলছেন আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।”

    “তুমি ঠিকই বুঝতে পারছ আমি কী বলছি। খুব বড় গলায় বলেছ, রাজাকারের নাম লিখতে ইচ্ছা করে না! এখন ফার্স্ট প্রাইজটার জন্যে তুমি এসে ঠিকই রাজাকারের নাম লিখবে। যদি না লেখো তাহলে আমি তোমার খাতা ক্যান্সেল করে দেব।”

    এতক্ষণ মিমি নামের মেয়েটা চুপচাপ দাঁড়িয়েছিল, এবারে সে একটু অস্থির হয়ে বলল, “স্যার আমি ওর রেজিস্ট্রেশন ফর্ম খুঁজে বের করে স্কুলের নামটা নিয়ে আসি স্যার। আমি লিখে দিই—”

    খিটখিটে মানুষটা চিৎকার করে বলল, “না! এই মেয়ের নিজের লিখতে হবে। তাকে শিখতে হবে থুথু ফেলা সোজা। সেই থুথু চেটে খাওয়া কঠিন।”

    রাশার মনে হলো তার মাথার ভেতরে বুঝি আগুন ধরে গেছে। মনে হলো সে পরিষ্কার করে কিছু চিন্তা করতে পারছে না তার নানি যখন দুই মাথা চেপে ধরে বিড়বিড় করে বলেন, মাথাটা মনে হয় আউলে গেছে তখন তার মনে হয় ঠিক এরকম লাগে!

    “লেখো।” খিটখিটে মানুষটা খাতাটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “রাজাকারের নামে দেওয়া তোমার স্কুলের নাম লেখো।”

    ব্লাশী বলল, “আমি লিখব না।”

    মানুষটা মনে হয় চমকে উঠল, বলল, “কী বললে?”

    “আমি বলেছি, আমি আমার খাতায় কোনো রাজাকারের নাম লিখব না।”

    মানুষটা মনে হলো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না। কিছুক্ষণ চেষ্টা করে বলল, “তুমি তোমার স্কুলের নাম লিখবে না?”

    “তাহলে আমি তোমার খাতা ক্যান্সেল করে দেব। সবচেয়ে বেশি মার্কস পেয়েও তুমি কোনো পুরস্কার পাবে না।”

    “জানি?”

    “তারপরেও তুমি তোমার খাতায় তোমার স্কুলের নাম লিখবে না?”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “না। আমি থুথু ফেলেছি, সেই গুথু আমি চেটে খাব না।”

    খিটখিটে মানুষটা দাঁতে দাঁত ঘষে বলল, “বেয়াদব মেয়ে।” কিছুক্ষণ হিংস্র চোখে সে রাশার দিকে তাকিয়ে রইল তারপর চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, “তুমি আমাকে চেনো না! আমি তোমাকে ভয় দেখানোর জন্যে কোনো কথা বলি নাই, আমি সত্যি সত্যি তোমার খাতা ক্যান্সেল করব। এই দেখো—”

    মানুষটি টেবিল থেকে একটা লাল মার্কার হাতে তুলে নেয়, তখন মিমি নামের মেয়েটা ছুটে এসে রাশার খাতাটা আড়াল করার চেষ্টা করল, কাতর গলায় বলল, “প্লিজ স্যার। প্লিজ! ওর খাতাটা ক্যান্সেল করবেন না–আমাকে পাঁচটা মিনিট সময় দেন আমি ওর স্কুলের নাম নিয়ে আসছি! প্লিজ!”

    খিটখিটে মানুষটি প্রায় ধাক্কা দিয়ে মিমিকে সরিয়ে দিয়ে রাশার খাতার ওপর লাল কালিতে বড় বড় করে ইংরেজিতে লিখল ক্যান্সেল! তারপর খাতাটা ছুঁড়ে দিয়ে রাশার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি এবারে যেতে পারো। যদি আমাকে জিজ্ঞেস করো তাহলে বলব, ইচ্ছে হলে জাহান্নামেও যেতে পারো।”

    রাশা ঘর থেকে শান্ত মুখে বের হয়ে এলো, সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তার চোখ দিয়ে পানি বের হতে থাকে। কাঁদবে না, সে কিছুতেই কাদবে না প্রতিজ্ঞা করেও সে নিচে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঝরঝর করে কাঁদতে থাকে। বিল্ডিংয়ের একটা বড় পিলারের আড়ালে দাঁড়িয়ে সে অনেক কষ্টে নিজের কান্না থামানোর চেষ্টা করল, কিন্তু কিছুতেই থামাতে পারল না, সে দুই হাতে মুখ ঢেকে ফুলে ফুলে কাঁদতে লাগল, কেউ দেখে ফেললে সেটা ভারি লজ্জার ব্যাপার হবে।

    রাশা অনেক কষ্ট করে নিজেকে শান্ত করল, তারপর বের হয়ে এলো। এখন আর এখানে থাকার কোনো অর্থ নেই। সত্যি কথা বলতে কী যখন পুরস্কার দেয়া হবে তখন যখন ফাস্ট প্রাইজ দেয়া হবে তখন মনে হয় দুঃখে তার বুকটা একেবারে ফেটে যাবে। সে তখন কেমন করে সেই দৃশ্য সহ্য করবে? রাশা টের পায় তার ভেতরে ভয়ঙ্কর একধরনের রাগ ফুঁসে উঠছে, অনেক কষ্ট করে সে নিজেকে শান্ত করল।

    হেডস্যার বলেছেন এখানে থাকতে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শেষে তাকে এখান থেকে নিয়ে যাবেন। তাই তাকে এখানে থাকতেই হবে। একটা কাজ করা যায়, সে এখন এখান থেকে বের হয়ে যাবে, যখন পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ হবে তখন সে ফিরে আসবে। অনুষ্ঠান শেষ হবে বিকেল পাঁচটায়, ফিরে আসবে তারপর।

    রাশা হেঁটে হেঁটে গেট খুলে বের হয়ে গেল। বাইরে ব্যস্ত রাস্তা, বড় বড় বাস-ট্রাক গাড়ি যাচ্ছে। রাশা ফুটপাথ ধরে হাঁটতে থাকে, ফুটপাথে নানারকম দোকানপাট। একটা বড় ওভারব্রিজ, ওভারব্রিজের নিচে ছোট একটা খুপচিতে একটা আস্ত পরিবার থাকে। ছোট একটা বাচ্চা হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াচ্ছে। চার-পাঁচ বছরের একটা বাচ্চা রাস্তার কাছে দাঁড়িয়ে আছে, তার নাক ঘষে বড় বড় বাস যাচ্ছে, বাচ্চাটির কোনো ভয়ডর নেই। রাশা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল, তারপর আবার হাঁটতে শুরু করল। ফুটপাথে একজন নানা রকম বই বিক্রি করছে, রাশা খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বইগুলো দেখল। একটু পরে সে আবিষ্কার করল আসলে সে শুধু তাকিয়ে আছে, কিছু দেখছে না। তার এত অস্থির লাগছে যে সে কিছুতেই নিজেকে শান্ত করতে পারছে না। মনে হচ্ছে লাফিয়ে একটা চলন্ত বাসের নিচে চাপা পড়ে যায়।

    “না, আমি পাগলামো করব না।” রাশ নিজেকে বোঝাল, “আমি যেটা করেছি, ঠিকই করেছি। আমি বলেছিলাম আমি রাজাকারের নাম লিখব না, আমি নাম লিখি নাই। যে রাজাকার আমার নানাকে খুন করেছে, আমি মরে গেলেও তার নাম লিখব না। আমার নানা ছিলেন মুক্তিযাদ্ধা, আমি নানার সম্মানের জন্যে ফাইট করেছি। কেউ এই ফাইটের কথা জানবে না। না জানলে নাই–আমি তো জানব!” রাশা বিড়বিড় করে বলল, “আমি জানব। আমি জানব। আমি জানব।”

    রাশা ইতস্তত হাঁটে, একটা বাসস্ট্যান্ডে অনেক মানুষ বসে ছিলো একটা বাস আসতেই সবাই বাসে উঠে যেতেই বাসস্ট্যান্ড খালি হয়ে গেল। রাশা তখন চুপচাপ বাসস্ট্যান্ডে বসে থাকে। বেঞ্চের অন্যপাশে একটা পাগল বসে আছে, তার খোঁচা খোঁচা দাড়ি, চোখগুলো লাল, দাঁতগুলো হলুদ। পাগল মানুষটা রাশার দিকে তাকিয়ে এমনভাবে হাসল, যেন সে কত দিনের পরিচিত। রাশা দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে রাস্তার দিক তাকিয়ে থাকে।

    পাঁচটা বাজার পরও রাশা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, তারপর সে হেঁটে গণিত অলিম্পিয়াডের মাঠের দিকে রওনা দিল। এতক্ষণে নিশ্চয়ই পুরস্কার দেয়া হয়ে গেছে। তার যে ফার্স্ট প্রাইজটা পাওয়ার কথা ছিল সেটা অন্য একজন নিয়ে নিচ্ছে তাকে নিশ্চয়ই এখন আর সেই দৃশ্যটা দেখতে হবে না।

    সায়েন্স অলিম্পিয়াডের মাঠের কাছে এসে রাশা গেট খুলে ভেতরে ঢুকল, সে ভেবেছিল দেখবে পুরো মাঠ ফাঁকা, কিন্তু অবাক হয়ে দেখল প্যান্ডেল বোঝাই মানুষ। রাশা আরেকটু এগিয়ে গেল তখন দেখতে পেল একটা মানুষ বক্তৃতা দিতে উঠেছে। নিশ্চয়ই শেষ বক্তৃতা, রাশা নিজেকে বুঝিয়ে আরেকটু এগিয়ে গেল। অনেক মানুষ, বসার জায়গা বলতে গেলে নেই, একটু সামনে একটা চেয়ার ফাঁকা, রাশা সেখানে গিয়ে বসল। পাশে তাকিয়ে দেখে হোস্টেলে প্রথম দিন দেখতে পাওয়া ঝকঝকে চেহারার মেয়েটি, যে মেয়েটি সন্দেহ করেছিল যে সে বড় কোনো মানুষকে দিয়ে অঙ্কগুলো করিয়ে পাঠিয়েছে। রাশা অস্বস্তিবোধ করতে থাকে, কিন্তু কিছু করার নেই। মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, “তুমি এখন এসেছ?”

    “না। আগেই এসেছিলাম একটু বাইরে গিয়েছিলাম।”

    “ও।“

    রাশা ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করল, “প্রাইজ দিয়ে দিয়েছে তো, তাই না?”

    “না। এখনো দেয়নি।”

    রাশা চমকে উঠল, “এখনো দেয়নি?”

    “নাহ্। সবাই লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিচ্ছে।”

    “এখনো প্রাইজ দেয়নি?”

    “এক্ষুণি দেবে, ঐ যে দেখো প্রাইজ আনছে।”

    রাশা দেখল স্টেজে টেবিলের ওপর অনেকগুলো মেডেল এনে রাখা হচ্ছে। একটি মেয়ে হাতে কিছু কাগজপত্র নিয়ে স্টেজে উঠে ব্যস্তভাবে অন্য একজনের সাথে কথা বলছে। রাশার বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল, তার লাফ দিয়ে উঠে ছুটে পালিয়ে যাবার ইচ্ছে করছিল কিন্তু সে উঠতে পারল না। এখন আর উঠে পালিয়ে যাবার উপায় নেই। যে দৃশ্যটা দেখার জন্যে সে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এখন তাকে বসে সেই দৃশ্যটি দেখতে হবে। সে ঘুরে ঘুরে সেই দৃশ্যটি দেখার জন্যেই ফিরে এসেছে। খোদা এত নিষ্ঠুর কেন কে জানে! রাশ মাথা নিচু করে বসে রইল।

    মেয়েটি মাইকে একজন একজন করে নাম ডাকতে থাকে, যার নাম ডাকা হয়েছে সে আনন্দে চিৎকার করে নাচতে নাচতে স্টেজে যায়। আধা পাকা চুল, মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি, খোঁচা খোঁচা গোঁফ একজন মানুষ পুরস্কার দিতে থাকে। এই মানুষটা নিশ্চয়ই একজন মন্ত্রী হবে, সে শুনেছিল পুরস্কার দেয়ার জন্য একজন মন্ত্রী আসবেন।

    বারোজনকে সেকেন্ড রানারআপ পুরস্কার দেয়া হলো। তারপর আরো বারোজন পেল রানারআপ পুরস্কার। শেষে ছয়জন পেল চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার। যারা পুরস্কার পেয়েছে তাদের বেশিরভাগই ছেলে, হাতেগোনা। অল্প কয়জন মাত্র মেয়ে। যতটুকু যন্ত্রণা হবে বলে ভেবেছিল রাশা আবিষ্কার করল তার ততটুকু যন্ত্রণা হলো না, ভেতরটা কেমন যেন ভোঁতা হয়ে আছে, মনে হচ্ছে কিছুই টের পাচ্ছে না। সে নিঃশব্দে বসে আছে, এক্ষুণি অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে ঘোষণা করা হবে তখন সবার সাথে সাথে সে উঠে দাঁড়াবে তারপর হেঁটে চলে যাবে। কিন্তু ঘোষণাটি করা হলো না আর রাশা ভেতরে ভেতরে অধৈর্য হয়ে বসে রইল।

    পাশে বসে থাকা ঝকঝকে চেহারার মেয়েটা বলল, “কিছু একটা ঘাপলা হয়েছে।”

    রাশা মাথা তুলে তাকাল, “কী ঘাপলা?”

    “ঐ দেখো। একটা মেয়ে হাতে একটা কাগজ নিয়ে চেঁচামেচি করছে। সবাই তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।”

    রাশা চোখ তুলে তাকাল, মিমি নামের মেয়েটা হাতে একটা খাতা নিয়ে কথা বলছে, অন্যেরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। রাশা সাথে সাথে বুঝে গেল কী হয়েছে, মিমির হাতে যে খাতাটা, সেটা হচ্ছে তার পরীক্ষার খাতা, সে এই খাতাটা নিয়ে স্টেজে চলে এসেছে, সবাইকে নিশ্চয়ই বলছে যে একটা খুব বড় অবিচার করা হয়েছে। হঠাৎ করে রাশার দুই চোখে পানি চলে এলো।

    মন্ত্রী চেঁচামেচি শুনে খুব বিরক্ত হলেন মনে হলো, হাত দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেন মিমিকে তার কাছে পাঠাতে। মিমি মন্ত্রীকে খাতাটা দেখাল, হাত-পা নেড়ে উত্তেজিতভাবে কিছু বলল, মন্ত্রীও খাতাটা দেখলেন তারপর মাথা নাড়লেন। বুড়ো মানুষগুলোও মন্ত্রীর কাছে চলে এসেছে, তারাও কিছু একটা বোঝাচ্ছে, মন্ত্রী মনে হয় তাদের কথাও শুনলেন, তারপরে মাথা নাড়লেন।

    পাশে বসে থাকা মেয়েটা বলল, “কী হচ্ছে বলে মনে হয়?”

    রাশা বলল, “একটা খাতা পাওয়া গেছে যেখানে একজন অনেক মার্কস পেয়েছে কিন্তু তাকে কোনো পুরস্কার দেয় নাই।”

    “তুমি কেমন করে জানো?”

    “জানি না। আন্দাজ করছি।”

    রাশা দেখল হঠাৎ মন্ত্রী উঠে দাঁড়ালেন, হাতে মাইকটা নিয়ে বললেন, “আমি একটা ছোট ঘোষণা দিতে চাই। এই যে আজকে সায়েন্স অলিম্পিয়াড হলো, দেশের বড় বড় বৈজ্ঞানিক, প্রফেসর মিলে সেটা আয়োজন করেছেন, তাদের নিয়ম-কানুনমতো খাতা দেখা হয়েছে পুরস্কার দেয়া হয়েছে। তারা সবাই জ্ঞানী-গুণী মানুষ, আমার থেকে অনেক বেশি লেখাপড়া জানেন, তারা যেভাবে এটা করেছেন সেভাবেই সবকিছু হয়েছে।”

    মন্ত্রী রাশার খাতাটা দেখিয়ে বললেন, “এখন আমার কাছে একটা খাতা এসেছে, অলিম্পিয়াডের নিয়ম-কানুন মানে নাই দেখে এই খাতাটা বাতিল হয়েছে। ঠিকই আছে–আমার কিছু বলার নাই। তবে যে জিনিসটা খুবই ইন্টারেস্টিং সেটা হচ্ছে, এইটা যার খাতা সেই মেয়েটা সবচেয়ে বেশি মার্কস পেয়েছে। সবার চেয়ে বেশি।”

    প্যান্ডেলের নিচে বসে থাকা সবাই বিস্ময়ের মতো শব্দ করল!

    মন্ত্রী বললেন, “সায়েন্স অলিম্পিয়াড কমিটি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমি সেটাকে পুরোপুরি সম্মান দেখাচ্ছি, যে খাতাটা বাতিল সেটা বাতিলই থাকুক। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এই মেয়েটাকে একটা পুরস্কার দিতে চাই। আপনারা কী বলেন?”

    সামনে বসে থাকা হাজার খানেক ছেলেমেয়ে আর তাদের বাবা-মা চিৎকার করে বলল, “পুরস্কার! পুরস্কার!”

    মন্ত্রী বলল, “তাহলে মা তুমি আসো!” মন্ত্রী খাতাটা দেখে রাশার নামটা পড়লেন।

    প্যান্ডেলের নিচে বসে থাকা হাজার খানেক ছেলেমেয়ে, তাদের বাবা-মা আর শিক্ষকেরা নিশ্বাস বন্ধ করে মানুষটিকে দেখার জন্যে বসে রইল।

    রাশা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে বসে রইল, তার চোখে পানি এসে গিয়েছে, সে সাবধানে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ দুটো মুছে নিল। তারপর সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার পাশে বসে থাকা ঝকঝকে চেহারার মেয়েটির মনে হলো একটা হার্ট অ্যাটাক হলো, চিৎকার করে বলল, “তুমি?”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “হ্যাঁ।”

    মেয়েটার তখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, আবার জিজ্ঞেস করল, “সত্যি?”

    “হ্যাঁ সত্যি!”

    তখন মেয়েটি একটা গগনবিদারি চিৎকার দিল যেন রাশা নয় আসলে তাকেই স্টেজে ডাকা হচ্ছে। সে লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল তারপর রাশাকে জাপটে ধরে প্রায় কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার করতে করতে স্টেজের দিকে ছুটতে থাকে। রাশা অপ্রস্তুত হয়ে মেয়েটার কবল থেকে ছোটার চেষ্টা করল কিন্তু মেয়েটি তাকে ছাড়ল না, একেবারে স্টেজের সামনে তাকে নামিয়ে দিয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে লাগল। দৃশ্যটি দেখার জন্যে প্যান্ডেলের প্রায় সবাই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। এবার তারা বসতে শুরু করে।

    মন্ত্রী রাশার হাত ধরে স্টেজে নিয়ে এসে বললেন, “মা, আমি তোমাকে একটা পুরস্কার দিতে চাই। তুমি বলো কী পুরস্কার চাও।”

    মন্ত্রী মাইক্রোফোনটা রাশার মুখে ধরলেন, রাশা বলল, “আমি আমার পুরস্কার পেয়ে গেছি। এই যে আপনি আমাকে এখানে ডেকে এনেছেন এটাই আমার পুরস্কার।”

    “তারপরেও তোমাকে একটা পুরস্কার দিতে চাই। বলো।”

    “আপনি আমার মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে দেন।”

    সামনে যারা বসেছিল কোনো একটা কারণে সবাই আনন্দে চিৎকার করে উঠল। মন্ত্রী বলল, “অবশ্যই মা, অবশ্যই আমি তোমার মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে দেব।”

    রাশা দেখল বুড়ো বুড়ো প্রফেসর মন্ত্রীর পিছনে এসে ভিড় করে উসখুস করছে। একজন গলা উঁচিয়ে বলল, “স্যার আসলে একটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়ে গেছে, আমরা আসলে মেয়েটাকে একটা স্পেশাল প্রাইজ দিতে চাই।”

    মন্ত্রী মহোদয় হাত দিয়ে পুরো ব্যাপারটি উড়িয়ে দিয়ে বললেন, “কোনো প্রয়োজন নাই! এই মেয়েটি আপনাদের পুরস্কার ছাড়াই অনেকদূর যাবে বলে মনে হচ্ছে!”

    বুড়ো প্রফেসর বলল, “কিন্তু স্যার–”

    মন্ত্রী হাত নেড়ে বুড়ো প্রফেসরকে বাতিল করে দিয়ে রাশার দিকে তাকালেন, বললেন, “মা, আমি একটা জিনিস বুঝতে পারছি না। তুমি এইটুকুন বাচ্চা মেয়ে এই রকম কঠিন কঠিন অঙ্ক করে ফেল, কিন্তু খাতার উপরে স্কুলের নাম লিখতে ভুলে গেলে এটা কী রকম কথা?”

    রাশা বলল, “আমি ভুলি নাই।”

    “তাহলে?”

    “আমি ইচ্ছা করে লিখি নাই।”

    “কেন?”

    “আমাদের স্কুলের নামটা একটা রাজাকারের নামে। আমার নানা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, এই রাজাকার আমার নানাকে মেরেছে। আমি মরে গেলেও কোথাও এই রাজাকারের নাম লিখব না।”

    মন্ত্রী কেমন যেন একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে রাশার দিকে তাকিয়ে থাকলেন, এতক্ষণ হাতের মাইক্রোফোনে কথা বলছিলেন, এখন মাইক্রোফোনটা টেবিলে রেখে রাশাকে কাছে টেনে নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, “মা, আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধা। সেভেন্টি ওয়ানে আমার অনেক বন্ধু মারা গেছে। রাজাকাররা মেরেছে–আমি মূর্খ মানুষ, লেখাপড়া করি নাই। আমার বন্ধুরা সব ট্যালেন্টেড ছেলে ছিল, বেঁচে থাকলে আজকে কত বড় বড় মানুষ হতো!”

    মন্ত্রী রাশার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “মা, আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, একসপ্তাহের মাঝে আমি তোমার স্কুলের নাম বদলে দেব। রাজাকারের নাম সরিয়ে একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম দিব। এই স্কুলের সবচেয়ে কাছাকাছি এলাকায় শহীদ হয়েছে সে রকম একজন মুক্তিযোদ্ধার নামে। ঠিক আছে?”

    মন্ত্রী এমনভাবে রাশাকে জিজ্ঞেস করলেন, যেন তার কথার উপরেই সবকিছু নির্ভর করছে।

    রাশা বলল, “ঠিক আছে। আপনাকে থ্যাংকু। অনেক থ্যাংকু।” তারপর কাজটা ঠিক হবে কি না বুঝতে পারল না তারপরও করে ফেলল, মন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল, “আমার মনে আর কোনো দুঃখ নাই?”

    স্টেজে যারা উপস্থিত ছিল, সামনে যারা বসে আছে তারা সবাই বুঝতে চাইছিল ঠিক কী হচ্ছে। মন্ত্রী তাই মাইকটা হাতে নিয়ে বললেন, “আমি এই মায়ের কাছে ছোট একটা ওয়াদা করেছি। তার স্কুলের নামটা আমি বদলে দিব। সেই নামটা দেয়া হবে একটী শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে। আমার এই ছোট মা তখন বুক ফুলিয়ে সবার কাছে তার স্কুলের নামটা বলতে পারবে।”

    .

    স্টেজ থেকে নামার পর অনেকগুলো টেলিভিশন ক্যামেরা রাশাকে ঘিরে ধরল, রাশা দেখল তাদের হেডস্যার সবাইকে ঠেলে রাশার পিছনে দাঁড়িয়ে গেলেন। একজন সাংবাদিক জিজ্ঞেস করল, “তুমি যে সবচেয়ে ভালো করেও সায়েন্স অলিম্পিয়াডে পুরস্কার পেলে না সে জন্যে তোমার কি মন খারাপ হয়েছে?”

    রাশা মাথা নাড়ল, “না একটুও মন খারাপ হয়নি। আমার স্কুলে আর রাজাকারের নাম থাকবে না এইটা আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।”

    হেডস্যারকে কেউ কিছু জিজ্ঞেস করেনি কিন্তু তিনি নিজে থেকে যোগ করলেন, “আমাদের স্কুলের নাম নিয়ে একটু সমস্যা আছে কথা সত্যি কিন্তু স্কুলটা খুব হাইফাই। তিরিশটা কম্পিউটার আছে। আমি হচ্ছি হেডমাস্টার কফিলউদ্দিন বি.এড।”

    সাংবাদিকরা রাশাকে ঘিরে তাকে প্রশ্ন করতে লাগল, রাশা চেষ্টা করল শান্তভাবে উত্তর দিতে। মাঝে মাঝে তার একটু নার্ভাস লাগছিল, কিন্তু সে লক্ষ করল কাছেই জাহানারা ম্যাডাম দাঁড়িয়ে আছেন, তার পাশে মিমি। এই দুজনকে দেখেই তার সাহস বেড়ে গেল, সে তখন বেশ গুছিয়েই সব প্রশ্নের উত্তর দিল।

    সাংবাদিকরা চলে যাবার পর রাশা ছুটে গিয়ে মিমির হাত ধরে বলল, “মিমি আপু! আপনাকে যে আমি কিভাবে থ্যাংকু দিব! ইস!”

    মিমি হি হি করে হেসে বলল, “আচ্ছা শিক্ষা হয়েছে শামসু মিয়ার।”

    “শামসু মিয়াটা কে?

    “ঐ যে তোমার খাতা ক্যান্সেল করে দিল। ব্যাটা রাজাকারের বাচ্চা রাজাকার। এখন চাকরি চলে যাবে দেখো। কত বড় সাহস।”

    জাহানারা ম্যাডাম রাশাকে বুকে জড়িয়ে বললেন, “বুঝলে রাশা, তোমাকে দেখে গর্বে আমার বুক ফুলে যাচ্ছে। তোমার মতোন দুই-একজন ছাত্রী পেলেই আমাদের জীবনটা কমপ্লিট হয়।”

    হেডমাস্টার বললেন, “রাশা আসলে আমাদের স্কুলের ছাত্রী। আমি হচ্ছি হেডমাস্টার। আমাদের স্কুলের নামটা নিয়ে একটু সমস্যা আছে কথা সত্যি। কিন্তু স্কুল ভালো। কম্পিউটারই আছে তিরিশটা। বি.এস.সি. শিক্ষক তিনজন। আমার নাম কফিলউদ্দিন বি,এড।”

    জাহানারা ম্যাডাম হাসলেন, বললেন, “আপনার স্কুল নিশ্চয়ই খুব ভালো, তা না হলে এরকম ছাত্রী কোথা থেকে তৈরি হয়?”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপ-রূপালী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article রাতুলের রাত রাতুলের দিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }