Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাশা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. পাত্রী যখন সানজিদা

    ০৯. পাত্রী যখন সানজিদা

    রাশা আর গ্রামের অন্য ছেলেমেয়েরা আজ একটু সকাল সকাল স্কুলে চলে এসেছে। প্রতিদিনই সবাই দলবেঁধে আসে, অনেকগুলো ছেলেমেয়ে তাই দেখা যায় কোনোদিন কারো ভাত খাওয়া হয়নি, কারো ইংরেজি খাতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, কারো প্যান্টের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বোতামটা গেছে ছিঁড়ে, এক্ষুণি সেখানে বোতাম সেলাই করতে হবে। আবার কোনো কোনোদিন দেখা যায় কেউ মন ঠিক করতে পারছে না সে আজকে স্কুলে যাবে কি যাবে না–সব মিলিয়ে প্রতিদিনই অনেক সময় নষ্ট হয়, তাই বেশ আগে থেকেই স্কুলে যাওয়ার কাজ শুরু করতে হয়। আজকে কিভাবে কিভাবে জানি কারো দেরি হয়নি, তাই যখন স্কুলে এসেছে তখন স্কুলে আর কেউ পৌঁছায়নি, স্কুলের দপ্তরি মাত্র ক্লাসঘর খুলছে।

    রাশা তখন বারান্দায় পা ছড়িয়ে বসেছে আর ঠিক তখন ঢ্যাঙ্গা মতন একটা ছেলেকে ইতস্তত এদিক-সেদিক তাকিয়ে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। গ্রামের ছেলে চেহারায় তার স্পষ্ট ছাপ আছে। ছেলেটা ইতিউতি তাকিয়ে একটু এগিয়ে এসে জিতুকে জিজ্ঞেস করল, “ক্লাস এইট কোনখানে?”

    জিতু হাত দিয়ে ক্লাস এইট দেখানোর চেষ্টা করে।

    তখন রাশা জিজ্ঞেস করল, “কেন? ক্লাস এইটের কী হয়েছে?”

    “একটা চিঠি।”

    “চিঠি? কে দিয়েছে চিঠি?”

    ছেলেটা এদিক-সেদিক তাকাল, তারপর গলা নামিয়ে বলল, “সানজিদা।”

    “দেখি! আমি ক্লাস এইটে পড়ি।”

    “সত্যি?”

    “হ্যাঁ সত্যি।”

    “গোপনীয় চিঠি সানজিদা বলেছে ক্লাস এইটে দিতে। একটা মেয়ের নাম বলেছিল খাসা না মাসা

     

     

    রাশা মুখ শক্ত করে বলল, “রাশা?”

    “হ্যাঁ। হ্যাঁ, রাশা।”

    “আমি রাশা। দেখি চিঠিটা।”

    ছেলেটা আবার এদিক-সেদিক তাকাল তারপর তার বুক পকেট থেকে একটা ভাঁজ করা কাগজ বের করে রাশার হাতে দিল। কাগজে লেখা :

    “আমার খুব বিপদ। আজকে দুপুরবেলা
    আমাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেবে।
    তোমরা যদি আমাকে উদ্ধার না করো তাহলে
    আমাকে গলায় দড়ি দিয়ে মরতে হবে।

     

     

    -সানজিদা”

    রাশা দুইবার চিঠিটা পড়ল, তারপর ফিসফিস করে বলল, “সর্বনাশ!” জয়নব পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”

    “আমাদের সানজিদাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।”

    জয়নব একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “সবসময় এই এক ঘটনা। দেখিস একদিন আমাকেও জোর করে বিয়ে দিয়ে দিবে।”

    “কক্ষণো না। আঠারো বছর হওয়ার আগে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যায়। এইটা বেআইনি।”

    জয়নব বাঁকা করে হাসল, “তোর এই বেআইনি ঘটনার খবরটা কে জানছে?”

    “আমরা জানাব।”

     

     

    “কাকে জানাবি?”

    “পুলিশকে।”

    “পুলিশের তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নাই। তোর কথা শুনে যাবে বিয়ে থামাতে।”

    কথাটা সত্যি। পুলিশ তার কথায় বিয়ে থামাতে যাবে বলে মনে হয়। রাশা দাঁত কামড়ে চিন্তা করছিল তখন ঢ্যাঙ্গা ছেলেটা বলল, “আমি যাই।”

    “কোথায়?”

    “বাড়িতে। লুকিয়ে এসেছি, না গেলে সন্দেহ করবে।”

    “তুমি সানজিদার কী হও?”

     

     

    “ভাই। মামাতো ভাই।”

    “সানজিদার কী অবস্থা?”

    “খারাপ। কান্নাকাটি করছে। তাই ঘরের ভেতর দরজা বন্ধ করে আটকে রেখেছে।”

    রাশা একটা নিশ্বাস ফেলল, “যে ছেলের সাথে বিয়ে দেবে, সেই ছেলে কী করে?”

    “ছেলে? ছেলের সাথে বিয়ে দেবে নাকি। বিয়ে দেবে একটা বড় মানুষের সাথে।”

    “একই কথা।” রাশা অধৈর্য হয়ে বলল, “কী করে সেই লোক?”

    “কিছু করে না। জমিজিরাত আছে।”

    রাশা ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলল, বলল, “লেখাপড়া?”

     

     

    ছেলেটা হাসার চেষ্টা করল, “লেখাপড়া? গ্রামের মানুষ লেখাপড়া করে কী করবে?”

    “লেখাপড়া নাই কাজকর্ম নাই কিন্তু বিয়ে করার শখ?”

    ছেলেটা উদাসমুখে বলল, “বিয়ে করার শখ তো সবারই থাকে!”

    রাশা কোনো কথা না বলে ছেলেটার দিকে কটমট করে তাকাল, তখন ছেলেটা বলল, “আমি যাই।”

    “দাঁড়াও, দাঁড়াও, সানজিদার বাড়ি কোথায় বলে যাও। কতদূর?”

    “কাছেই। গোকুলপুর গ্রামে। বাবার নাম মাহতাব হোসেন। গিয়ে জিজ্ঞেস করলে বলে দেবে।”

    “গ্রামের নাম কী বললে, গোকুলপুর?”

    “না, গোকুলপুর।”

     

     

    “তাই তো বললাম, গোকুলপুর।”

    “উঁহু। তুমি বলেছ গোকুলপুর। আসলে নাম হচ্ছে গোকুলপুর।”

    রাশা ভালো করে লক্ষ করেও তার আর এই ছেলের গোকুলপুরের উচ্চারণের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে পেল না। সে তাই হাল ছেড়ে দিয়ে বলল, “কেমন করে যেতে হয়?

    “বাজারটা পার হয়ে দক্ষিণ দিকে যাবে।”

    “আমি উত্তর-দক্ষিণ বুঝি না। ডানদিক না বামদিক বলো–”

    ছেলেটাকে একটু বিভ্রান্ত দেখা গেল, রাশা যেরকম উত্তর-দক্ষিণ বুঝে না এই ছেলেটা সেরকম ডান-বাম বুঝে না। খানিকক্ষণ চিন্তা করে বলল, “পুব দিক থেকে এলে বাম দিকে। আর পশ্চিম দিক থেকে এলে ডান দিকে।”

    রাশা অধৈর্য হয়ে বলল, “পুব-পশ্চিম তো আমি জানি না!”

     

     

    ছেলেটাও অধৈর্য হয়ে বলল, “বাজারের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করো সুখনকান্দি কোনদিকে–”

    “একটু আগে না বললে গোকুলপুর। এখন সুখনকান্দি কেন বলছ?”

    “সুখনকান্দির পুব দিকে হচ্ছে গোকুলপুর।”

    রাশা হাল ছেড়ে দিল, বলল, “তুমি একটু দাঁড়াও। আমি তোমার সাথে যাব।”

    জয়নব ভুরু কুঁচকে বলল, “তুই যাবি? এখন?”

    “যেতে হবে না? অবশ্যই যেতে হবে।”

    “গিয়ে কী করবি?”

    “গিয়ে বলব সানজিদাকে বিয়ে দিতে পারবে না। আঠারো বছরের আগে কোনো মেয়েকে বিয়ে দেওয়া বেআইনি।”

     

     

    “তুই ভাবছিস সানজিদার বাপ-চাচারা তোর কথা শুনবে?”

    “কেন শুনবে না?”

    “আয়নাতে কোনোদিন তুই নিজেকে দেখেছিস?”

    “কেন দেখব না? একশবার দেখেছি।”

    “দেখিস নাই। দেখলে তুই জানতি তুই হচ্ছিস পুঁচকি একটা মানুষ। তার ওপর মেয়েমানুষ। তোর কথা কেউ শুনবে না।”

    “শব্দটা হচ্ছে পুঁচকে। পুঁচকি না। তা ছাড়া মানুষ, মেয়ে মানুষে কিছু আসে যায় না। সত্যি কথা যে কেউ বলতে পারে, ছোট-বড় পুরুষ-মেয়ে কিছুতে কিছু আসে যায় না।”

    “ঠিক আছে। যা, যখন সানজিদার বাপ-চাচা তোকে দৌড়িয়ে দেবে তখন আমাকে দোষ দিস না।”

     

     

    “আমি কি একা যাব নাকি?”

    “কাকে নিয়ে যাবি?”

    “তোকে।”

    “আমাকে?”

    “হ্যাঁ, চল যাই।”

    জয়নব কিছুক্ষণ রাশার দিকে তাকিয়ে হতাশভাবে মাথা নাড়ল। তারপর বলল, “তোর সাথে থেকে আমি যে কোনদিন কী বিপদে পড়ব, খোদাই জানে।

    রাশ বলল, “চল আমরা দুইজন গিয়ে সানজিদার বাসাটা আগে চিনে আসি। তারপর ক্লাসের সব ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাড়িটা ঘেরাও করব। মানববন্ধন করব। অনশন করব।”

     

     

    জয়নব বলল, “তুই গ্রামের মানুষকে চিনিস না!”

    “না চিনলে নাই। আয় যাই।”

    জিতু বলল, “আমিও যাব।”

    রাশা বলল, “না, তুই এখন থাক। যখন পুরো ক্লাস নিয়ে যাব তখন তুই যাবি। আমি আমাদের ক্লাসের ছেলেমেয়েদের জন্যে একটা চিঠি লিখে যাচ্ছি, ছেলেমেয়েরা এলে তুই দিয়ে দিস। আমরা যাব, বাড়িটা চিনেই চলে আসব। আমাদের বই-খাতা রেখে যাচ্ছি, তুই দেখে রাখিস।”

    রাশা তার ক্লাসের ছেলেমেয়েদের একটা চিঠি লিখে সেটা জিতুর হাতে দিল। জিতু একটু মন খারাপ করে সেই চিঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, রাশা তখন জয়নবকে নিয়ে ঢ্যাঙ্গা ছেলেটার সাথে রওনা দিল। জয়নব বিড়বিড় করে বলল, “যদি কোনোভাবে বাড়িতে খবর পায় আমি স্কুল পালিয়ে তোর সাথে আদাড়ে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি তাহলে আমার কপালে দুঃখ আছে।”

     

     

    “দুঃখ থাকলে থাকবে। আমরা যাচ্ছি সানজিদাকে রক্ষা করতে। সে লিখেছে তাকে উদ্ধার করতে না পারলে গলায় দড়ি দিবে মনে আছে?”

    জয়নব মাথা নাড়ল, বলল, “তা ঠিক।”

    ঢ্যাঙ্গা ছেলেটার সাথে রওনা দিয়ে একটু পরেই রাশা বুঝতে পারল কাজটা তারা বুদ্ধিমানের মতোই করেছে। ছেলেটা এমন বিচিত্র সব রাস্তা ঘাট দিয়ে যেতে লাগল যে রাশা বুঝতে পারল সে কোনোদিন একা একা এখানে আসতে পারত না। ছেলেটা বলেছিল বাড়িটা কাছেই, কিন্তু রাশার বোঝা উচিত ছিল গ্রামের মানুষের কাছে কাছে কিংবা দূরে শব্দগুলোর কোনো অর্থ নেই। হেঁটে হেঁটে যেখানে যাওয়া সম্ভব সেটাই হচ্ছে কাছে।

    শেষ পর্যন্ত যখন তারা সানজিদার বাড়িতে পৌঁছল তখন রাশা আর জয়নব দুজনেই ঘেমে-নেয়ে উঠেছে। ঢ্যাঙ্গা ছেলেটা বলল, “বরযাত্রী চলে এসেছে মনে হয়।”

    রাশ চমকে উঠে বলল, “বরযাত্রী চলে এসেছে? সানজিদা যে বলল দুপুরে? এখন তো সকাল।”

    জয়নব বলল, “গ্রামের মানুষের কাছে সকাল-দুপুর এক ব্যাপার। তাদের কাছে পার্থক্য শুধু দুইটা, দিন আর রাত।”

    “সর্বনাশ। এখন যদি জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়?”

    জয়নব কোনো কথা বলল না, মুখ শক্ত করে রাশার দিকে তাকাল। রাশা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চিন্তা করল, তারপর একটা নিশ্বাস ফেলে ঢ্যাঙ্গা ছেলেটাকে বলল, “তুমি কি আমাকে সানজিদার বাপের কাছে নিয়ে যাবে?”

    ছেলেটা বলল, “মাথা খারাপ? আমার ঘাড়ে দুইটা মাথা? আমি তোমাদের কারো কাছে নিতে পারব না। তোমরা নিজেরা যার কাছে যেতে চাঁও যাও।”

    রাশা বলল, “তাহলে অন্তত একটা জিনিস করো।”

    “কী?”

    “কাউকে বলো না আমরা সানজিদার স্কুল থেকে এসেছি। ঠিক আছে?”

    “ঠিক আছে।”

    রাশা জয়নবকে বলল, “চল যাই।”

    “দাঁড়া।”

    “কী হলো?”

    “তিনবার কুলহু আল্লা পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে দিই।”

    জয়নব তিনবার কুলহু আল্লা পড়ে প্রথমে নিজের বুকে তারপর রাশার বুকে ফুঁ দিল। তারপর দুজন সানজিদার বাড়িতে গিয়ে ঢুকল।

    বিয়ে বাড়িতে আরো অনেক হইচই হয়, আরো অনেক আনন্দের ছাপ থাকে। এখানে আনন্দের ছাপ নেই, মানুষজন একটু গম্ভীর মুখে ঘোরাঘুরি করছে। খুব বেশি মানুষ নেই, ছোট বাচ্চারা সেজেগুজে ছোটাছুটি করছে সেরকম দেখা গেল না। রাশা এবং জয়নব যে বাইরে থেকে এসেছে সেটা কেউ ধরতে পারল না, দুপক্ষই ধরে নিল তারা অন্যপক্ষের।

    ভিতরে ঢুকেই তারা বরযাত্রীর দলটাকে আবিষ্কার করল। যে মানুষটা বিয়ে করতে এসেছে সে যক্ষ্মা রোগীর মতো শুকনো, গাল ভেঙে ঢুকে গেছে। গায়ের রঙ বিবর্ণ। একটা সিল্কের পাঞ্জাবি পরে এসেছে, মাথায় পাগড়ির বদলে একটা টুপি। গলায় একটা মালা, কোরবানির সময় কোরবানির গরুর গলায় এরকম মালা দেয়, রাশা এর আগে কখনো মানুষকে এরকম মালা পরতে দেখেনি। কিছু নানা বয়সী মানুষ ঘরে গম্ভীর মুখে বসে আছে।

    উঠানে কয়েকটা চেয়ার সেখানে কয়েকজন বয়স্ক মানুষ নিচু গলায় কথা বলছে, মুখ দেখে মনে হয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। রাশা কাছাকাছি গিয়ে মানুষগুলোর কথী শোনার চেষ্টা করল, ধুরন্ধর টাইপের একজন বলল, “মোটরসাইকেল ছাড়া কী রকম হয়? আজকাল কি দেখেছেন মোটরসাইকেল ছাড়া কেউ বিয়ে দেয়?”

    বয়স্ক একজন মানুষ, মনে হয় সানজিদার বাবা, ভীত মুখে বললেন, “মোটরসাইকেল আমি কোথা থেকে দেব। গরিব মানুষ–”

    “আপনি গরিব মানুষ মানলাম, কিন্তু আমাদের ছেলে গ্রামের মাঝে একজন সম্মানী মানুষ। সে যখন বউ নিয়ে যাবে, তখন দশজন জিজ্ঞেস করবে শ্বশুরবাড়ি থেকে কী দিল? তখন আমরা কী বলব? হ্যাঁ?”

    “কিন্তু সেইরকম তো কথা ছিল না। যখন বিয়ের আলাপ হয় তখন আপনারা বলেছেন কোনোরকম দেয়া-থোয়া নাই। সুন্দর একটা বউ হলেই হবে। আমার মেয়ে ফুলের মতন সুন্দর—”

    ধুরন্ধর মানুষটা বলল, “আরে, সুন্দর না হলে কি আমরা এই বাড়িতে আসি—”

    রাশার মনে হলো মানুষটার টুঁটি চেপে ধরে, কিন্তু সে টুঁটি চেপে ধরল! সেখান থেকে সরে এলো। এরকম নির্লজ্জভাবে কেউ কথা বলতে পারে সে কখনো কল্পনাও করেনি। এতক্ষণ তার মাঝে একটু দুশ্চিন্তা ছিল, এখন তার সাথে যোগ হলো রাগ। মোটামুটি সে ঠিক করে ফেলেছে, যা হয় হবে সে কিছু একটা করে ফেলবে আজ।

    জয়নব বাড়ির ভেতর থেকে ঘুরে এসেছে, রাশা জিজ্ঞেস করল, “দেখেছিস সানজিদাকে?”

    “না। একটা ঘরের ভিতর বন্ধ করে রেখেছে।”

    রাশা কোনো কথা না বলে একটা নিশ্বাস ফেলল।

    জয়নব জিজ্ঞেস করল, “কী করবি ঠিক করেছিস?”

    রাশা মাথা নাড়ল, “এখনো ঠিক করি নাই।”

    “জামাইকে গিয়ে সোজাসুজি বলে দেখলে হয়। বলবি, মেয়ের বয়স মাত্র চৌদ্দ। চৌদ্দ বছরের মেয়েকে বিয়ে করা বেআইনি। একটু ভয় দেখা।”

    “কিভাবে ভয় দেখাব?”

    “বল যদি বিয়ে করে তাহলে আমরা পুলিশকে খবর দিব। এস.পি. ডি.সি. আমাদের পরিচিত। মনে নাই তুই যখন কম্পিউটারে রাজ্জাক স্যারের ছবি দেখালি-”

    রাশার চোখ হঠাৎ চকচক করে উঠে, সে ফিসফিস করে বলল, “আমার মাথায় একটা আইডিয়া এসেছে।”

    “কী আইডিয়া?”

    “আমার একটা মোবাইল ফোন দরকার।”

    জয়নবের মুখের আলো দপ করে নিভে গেল। বলল, “মোবাইল ফোন এখন কোথায় পাব?”

    “সত্যিকারের মোবাইল ফোন না হলেও হবে। খেলনা হলেও হবে।”

    “খেলনা মোবাইল ফোনই আমি কোথায় পাব?”

    “দেখতে মোবাইল ফোনের মতো কোনো কিছু হলেও হবে।”

    “কেন? কী করবি আগে শুনি।”

    “আমি ভান করব মোবাইল ফোনে কথা বলছি। ঐ যে শুটকা জামাইটা দেখছিস, তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে কথা বলব।”

    “তাকে শুনিয়ে শুনিয়ে কী বলবি?”

    “এমন ভান করব যেন আমি পুলিশকে ফোন করে বলছি যে এখানে আঠারো বছরের কম বয়সের একটা মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে আর সে জন্যে তারা যেন তাকে ধরতে আসে, এই সব।”

    জয়নব কিছুক্ষণ চিন্তা করে মাথা নাড়ল, বলল, “মন্দ না বুদ্ধিটা। মনে হয় কাজ করতেও পারে। ভয় দেখাতে হবে শুটকা জামাইকে। কিন্তু—”

    “কিন্তু কী?”

    “কিন্তু জামাইকে শোনাবি কেমন করে?”

    “জামাইটা ঐ জানালার কাছে বসেছে না? আমি জানালার ঐ পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে জোরে জোরে কথা বলব যেন শুনতে পায়।”

    “কিন্তু ঐ পাশে কি দাঁড়ানোর জায়গা আছে? ঝোঁপঝাড়-”

    “ঝোঁপঝাড়ই তো ভালো।”

    জয়নব বলল, “না শুনলে তো হবে না–যেভাবে হোক কথাগুলো শোনাতে হবে।”

    “হ্যাঁ। লিকলিকে জামাইয়ের নামটা আগে জেনে নিই, জোরে জোরে কয়েকবার নামটা বলব, তাহলেই মানুষটার কৌতূহল হবে। শুনতে চাইবে কে তার নাম বলছে।”

    জয়নব মাথা নাড়ল, বলল, “ঠিক বলেছিস।”

    “এখন দরকার, একটা মোবাইল ফোন না হলে মোবাইল ফোনের মতো দেখতে কোনো জিনিস।”

    রাশা আর জয়নব তখন চারপাশে খুঁজতে থাকে। ঠিক তখন একজন মানুষ সিগারেট ধরানোর জন্যে পকেট থেকে একটা ম্যাচের বাক্স বের করে ফস করে একটা কাঠি জ্বালিয়ে খালি বাক্সটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়। মানুষটা এগিয়ে যাবার পর জয়নব ম্যাচের বাক্সটা তুলে এনে বলল, “এই যে নে তোর মোবাইল ফোন।”

    “ম্যাচের বাক্স?”

    “হ্যাঁ, এমনভাবে ধরবি যে শুধু উপরের অংশটা যেন দেখতে পায়, নিচে কী আছে কেউ জানবে না।”

    রাশা একটু সরে গিয়ে ম্যাচের বাক্সটা একটু খুলে সেটাকে মোবাইল ফোনের মতো ধরে একটু প্রাকটিস করল, কেউ যদি না জানে তাহলে ভাবতে পারে যে সে আসলেই মোবাইল ফোনে কথা বলছে। রাশা জয়নবের দিকে তাকিয়ে বলল, “যা এবারে তুই জামাইয়ের নামটা জেনে আয়।”

    জয়নব চলে গেল, কয়েক মিনিট পর ফিরে এসে বলল, “শুটকো জামাইয়ের নাম রজব আলী। বাবার নাম-”

    “থাক বাবার নামের দরকার নাই, আমি পরে উল্টোপাল্টা করে ফেলব। রজব আলী। নাম হওয়া উচিত ছিল গজব আলী।”

    রাশা জয়নবের দিকে তাকিয়ে বলল, “ঠিক আছে। আমি এখন যাচ্ছি। আমাকে আবার কুলহু আল্লাহ্ পড়ে ফুঁ দে।”

    জয়নব আবার কুলহু আল্লাহ পড়ে রাশার বুকে ফুঁ দিল।

    .

    রাশা ঘরটার পেছনে ঝোঁপঝাড়ের ভেতর দিয়ে হেঁটে জানালার নিচে দাঁড়াল। ঠিক জানালার নিচে দাঁড়িয়েছে কিনা বোঝার চেষ্টা করতেই উপর থেকে রজব আলী স্বয়ং গলা খাকারি দিয়ে থুথু ফেলল, একটুর জন্যে রাশা বেঁচে গেল আরেকটু হলে তার মাথায় পড়ত।

    রাশা ম্যাচের খালি বাক্সটা মোবাইল ফোনের মতো করে ধরে গলা উচিয়ে বলল, “রজব আলী, রজব আলী, বললাম তো নাম রজব আলী।”

    রাশা সরাসরি তাকাল না, কিন্তু তার মনে হলো কাজ হয়েছে। সুতি সত্যি রজব আলী নিজের নাম শুনে জানালায় উঁকি দিয়েছে। রাশা না দেখার ভান করে বলল, “হ্যাঁ। আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট সিওর সানজিদার বয়স আঠারো থেকে কম। সানজিদা আমার সাথে পড়ে আমি জানি।”

    রাশা এবারে কিছুক্ষণ শোনার ভান করল, তারপর বলল, “দেখেন, আমি লুকিয়ে লুকিয়ে একটা চিপা থেকে ফোন করছি, আমার হাতে সময় নাই, আপনি বরং এস.পি, সাহেবকে দেন। এসপি, সাহেব আমাদের স্কুলে এসেছিলেন, তখন একটা ঘটনা ঘটেছিল সেই থেকে এস.পি, সাহেব আর ডি.সি. সাহেব আমাকে খুব ভালো করে চিনেন। আপনি বলেন রাশা কথা বলতে চায়। রা-শা।”

    রাশা এবারে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, ফোনটা এস.পি, সাহেবকে দিতে যতক্ষণ সময় লাগার কথা ততক্ষণ সময় দিয়ে সে এবারে এস.পি. সাহেবের সাথে কথা বলার অভিনয় করতে থাকে, “মালিকুম।” একটু বিরতি, তারপর হাসি হাসি মুখে, “জি জি ভালো আছি। আমরা সবাই ভালো আছি।” একটু বিরতি তারপর হঠাৎ খুবই গম্ভীর গলায়, “আপনি যখন আমাদের স্কুলে এসেছিলেন, তখন মনে আছে আমার সাথে সুন্দর একটা মেয়ে ছিল, সানজিদা? সেই মেয়েটাকে তার বাবা-মা জোর করে একটা মানুষের সাথে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। আমাদের দেশে আইন আছে না আঠারো বছরের কম হলে বিয়ে দেওয়া যাবে না? তাহলে?”

    রাশা এবারে কিছুক্ষণ শোনার ভান করল, হুঁ-হ্যাঁ করল তারপর উত্তেজিত গলায় বলল, “খুবই ভালো হয় তাহলে! খুবই ভালো হয়। সবাইকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাবে? হাতে হ্যান্ডকাফ দিয়ে কোমরে দড়ি? ইস! কী মজা হবে! কখন আসবে পুলিশ?”

    কিছুক্ষণ আবার শোনার ভান করল, তারপর বলল, “আধাঘণ্টার মাঝে? গুড!” একটু বিরতি, তারপর, “না না আমি কাউকে বলব না। ওরা কেউ জানতে পারবে না। তারপর হঠাৎ মনে পড়েছে সেরকম ভান করে বলল, “স্যার, স্যার আপনি কি সাথে কোনো সাংবাদিক পাঠাতে পারবেন? তাহলে যখন অ্যারেস্ট করে তখন ছবি তুলতে পারত। পত্রিকায় ছাপা হতো, নাবালিকা বিবাহ করিতে গিয়ে জামাই গ্রেপ্তার।” রাশ তখন হি হি করে অনেকক্ষণ হাসল।

    সে একবারও উপর দিকে তাকাল না কিন্তু চোখের কোনা দিয়ে বুঝতে পারল সেখানে রজব আলী দাঁড়িয়ে সবকিছু শুনছে যা যা বলা দরকার সব সে বলে দিয়েছে এখন আর রজব আলীকে কিছু শোনানো দরকার নেই। কাজেই সে ফোনে কথা বলার ভঙ্গি করে হেঁটে হেঁটে একটু সরে এলো। তার খুব ইচ্ছে করছিল একবার চোখ তুলে তাকিয়ে দেখে রজব আলী মানুষটার মুখের ভাব কেমন হয়েছে কিন্তু সে কোনো ঝুঁকি নিল না।

    কিছুক্ষণের মাঝে জয়নব এসে রাশার সাথে যোগ দিয়ে হাত-পা নেড়ে চোখ উপরে তুলে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, রাশা থামাল, বলল, “জয়নব, খবরদার বেশি খুশি হবি না। খুবই নরমাল ভাব দেখা–এখন কিন্তু আমাকে অনেকে লক্ষ করবে। আমার সাথে সাথে তাকেও।”

    জয়নব তখন বাড়াবাড়ি খুশির ভঙ্গিটা চেপে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, “কী মজা হয়েছে তুই চিন্তা করতে পারবি না।”

    “কেন? কী হয়েছে?”

    “তোর কথা শুনে গজব আলীর মনে হয় ভয়ে কাপড় নষ্ট হয়ে গেছে। ভিতরে হইচই শুরু হয়ে গেছে। ফিসফিস করে শুধু কথা বলে একজন আরেকজনের সাথে!”

    রাশা মুখ টিপে বলল, “এখন আরেকটা কাজ বাকি।”

    “কী?”

    “ভিতরে গিয়ে গুজব ছড়িয়ে দিতে হবে রাস্তার মোড়ে অনেক পুলিশ দেখা গেছে।”

    “কিভাবে ছড়াবি?”

    “খুবই সোজা, খালি কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করব, পুলিশ কেন আসছে?”

    জয়নব চোখ কপালে তুলে রাশাকে একটা ধাক্কা দিয়ে বলল, “ইস! তুই যা পাজি! তোর মাথায় যা ফিচলি বুদ্ধি।”

    “শব্দটা ফিচলি না। শব্দটা ফিচলে।”

    রাশা আর জয়নব এবার বাড়ির উঠানে গিয়ে প্রথম যে মানুষটাকে পেল তাকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা আপনি কি জানেন, পুলিশ কেন আসছে?”

    মানুষটা অবাক হয়ে বলল, “পুলিশ? পুলিশ কেন আসবে?”

    “আমি জানি না, তাই আপনাকে জিজ্ঞেস করলাম।”

    “কোথায় পুলিশ?”

    “ঐ রাস্তার মোড়ে। তাই তো বলল।”

    “কে বলল?”

    রাশা ঠোঁট উল্টে বলল, “ঐ যে একজন, চিনি না আমি!”

    মানুষটাও মাথা নেড়ে হেঁটে চলে গেল, তখন তারা একটু সামনে গিয়ে বুড়োমতন একজনকে জিজ্ঞেস করল, “চাচা, এখানে কী কিছু হয়েছে?”

    “না তো। কিছু হয়নি।”

    “তাহলে পুলিশ কেন আসছে?”

    “পুলিশ আসছে নাকি?”

    “আমি তো জানি না–” বলে রাশা হেঁটে চলে গেল।

    .

    কয়েক মিনিটের ভেতর পুরো বাড়িতে গুজব রটে গেল যে পুলিশ আসছে, শুধু যে আসছে তা নয়, কয়েকজন বলল, তারা পুলিশকে দেখেও ফেলেছে। তারপর যা একটা মজা হলো সেটা দেখার মতো! রজব আলী তার গলা থেকে মালা খুলে, টুপি পকেটে ভরে কোনোমতে তার স্যান্ডেল পরে রীতিমতো দৌড়। সাথে সাথে বুড়ো আধবুড়ো যারা আছে তারাও।

    রাশা দেখল সানজিদার বাবা অবাক হয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?”

    মানুষটা মুখ খিঁচিয়ে বলল, “আপনারা মানুষ খুব খারাপ, বিয়ে করাতে ডেকে এনে পুলিশ খবর দেন!”

    সানজিদার বাবা চোখ কপালে তুলে বললেন, “আমরা? আমরা পুলিশ কখন খবর দিলাম?”

    মানুষটার সেটা ব্যাখ্যা করার সময় নাই, কোনোমতে পায়ে স্যান্ডেল পরে ছুটতে থাকে।

    রাশা আর জয়নব কোনোমতে হাসি চেপে রজব আলীর পিছনে পিছনে ছুটতে থাকে, চিৎকার করে ডাকে, “দুলাভাই! দুলাভাই?”

    মানুষটা পিছনে ফিরে রাশাকে দেখে আঁতকে ওঠে। রাশা মিষ্টি করে বলল, “আপনারা চলে যাচ্ছেন কেন? বসেন। একটুক্ষণ বসেন। প্লিজ!”।

    মানুষটা হাত তুলে রাশাকে দেখিয়ে বলল, “তু-তু-তুমি। তু-তু-তুমি!”

    “আমি কী?”

    “ম-মনে করেছ আমি কি-কিছু জানি না। আমি সব জানি।”

    “কী জানেন?”

    রজব আলী সেটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করল না। রাস্তা ছেড়ে মাঠের মাঝখান দিয়ে ছুটতে লাগল।

    বাড়ির সামনে সবাই অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, এখনো কেউ বুঝতে পারছে না কী হয়েছে। সানজিদার বাবা হতভম্বের মতো এদিক-সেদিক তাকিয়ে বললেন, “কী হয়েছে? আমি এখনো বুঝতে পারছি না।”

    একজন বলল, “পুলিশ আসছে, পুলিশ আসছে বলে সবাই ছুটতে লাগল।”

    “কিন্তু পুলিশ আসলে তাদের সমস্যা কী? তারা কী চোর না ডাকাত?”

    যারা হাজির ছিল তারা কেউ এর উত্তর দিতে পারল না, তখন রাশা বলল, “আসলে চাচা, চুরি-ভাকাতি অপরাধ, আবার আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়ে বিয়ে করাও অপরাধ। মনে হয় সেই জন্যে!”

    সানজিদার বাবা চোখ বড় বড় করে রাশার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি কে?”

    “আমি সানজিদার সাথে পড়ি।”

    “তুমি কখন এসেছ?”

    “সানজিদার বিয়ের খবর শুনেই স্কুল থেকে ছুটতে ছুটতে চলে এসেছি।”

    সানজিদার বাবার হঠাৎ কী যেন সন্দেহ হলো, জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার নাম কি?”

    “আমার নাম রাশা।”

    সানজিদার বাবার চোখ বড় বড় হয়ে গেল, বললেন, “তুমি সেই মেয়ে, তোমাদের এক মাস্টারের চাকরি গিয়েছে তাকে তুমি ধরিয়ে দিয়েছ?”

    রাশা ঠিক বুঝতে পারল না সানজিদার বাবা এটা প্রশংসা হিসেবে বলছেন নাকি অভিযোগ করে বলছেন। তাই সে ইতস্তত করে বলল, “আমি আসলে কিছু করি নাই। ডিসি সাহেব এসপি সাহেব ছিলেন, তারা খুব রাগ করলেন—”

    হঠাৎ করে সানজিদার বাবা কিছু একটা অনুমান করলেন, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে রাশার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুমি কী পুলিশ খবর দিয়েছ?”

    “জি না আমি পুলিশকে কিছু বলি নাই।” একটু ইতস্তত করে বলল, “তবে—”

    “তবে কী?”

    “বরপক্ষ মনে করেছে আমি বলেছি। তাতেই যা ভয় পেয়েছে।”

    সানজিদার বাবা বিস্ফারিত চোখে রাশার দিকে তাকিয়ে রইলেন, তাকে দেখে মনে হতে লাগল, নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি রাগবেন না হাসবেন বুঝতে পারছিলেন না, কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন

    তখন রাশা বলল, “চাচা, ভালোই হয়েছে বর পার্টি ভেগে গেছে!”

    “কী বললে? ভালো হয়েছে?”

    “জি চাচা। কমবয়সী মেয়ের বিয়ে দিলে অনেক ঝামেলা। আপনিও বিপদে পড়তেন।”

    সানজিদার বাৰা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে রাশার দিকে তাকিয়েছিলেন, তার এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না যে এইটুকুন একটা মেয়ে তাকে বড় মানুষের মতো উপদেশ দিচ্ছে। তিনি রেগে উঠার চেষ্টা করছিলেন, তখন রাশা বলল, “চাচা, আপনি যাই বলেন, জামাইটাকে আমার একদম পছন্দ হয় নাই। গাল ভাঙা, শুকনা দেখে মনে হয় যক্ষ্মারোগী। ভালো করে কথাও বলতে পারে না, মনে হয় তোতলা! আমাদের সানজিদার বিয়ে হবে স্মার্ট একটা ছেলের সাথে। ডাক্তার না হলে ইঞ্জিনিয়ার না হলে পাইলট। আমরা সবাই গেট ধরব–এক লক্ষ টাকার এক পয়সা কম দিলে আমরা গেট ছাড়ব না!”

    “কত বললে? এক লক্ষ টাকা?”

    “জি। সানজিদার জামাইয়ের কাছে এক লক্ষ টাকা হবে হাতের ময়লা!”

    “হাতের ময়লা?”

    “জি চাচা। সানজিদা এত সুন্দর তার সাথে এইরকম ভুসভুসা জামাই মানায় না চাচা।”

    আশেপাশে যারা দাঁড়িয়েছিলেন তাদের একজন মাথা নেড়ে বলল, “কথাটা ঠিক। জামাইয়ের চেহারাটা জানি কেমন।”

    আরেকজন বলল, “শুধু জামাই কেন? জামাইয়ের বাপের চেহারাও তো খাটাশের মতো।”

    “শুধু চেহারা খাটাশের মতো না, স্বভাব-চরিত্রও জানি কেমন? আগে কথা বলেছে যে দেয়া-থোয়া লাগবে না, এখন বলে মোটরসাইকেল না দিলে বিয়া হবে না! কী ছোটলোক।”

    সানজিদার বাবা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “মনে হয় আল্লাহ্ যেটা করেন ভালোর জন্যেই করেন।”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “জি চাচা সেইটা সত্যি কথা।”

    সানজিদার বাবা মাথা ঘুরিয়ে রাশার দিকে তাকালেন, রাশা বলল, “চাচা, আমি কি সানজিদার সাথে একটু দেখা করতে পারি?”

    “যাও। ভিতরে যাও।”

    “চাচা, আরেকটা কথা চাচা।”

    “কী কথা?”

    কালকে থেকে সানজিদাকে আবার স্কুলে পাঠাবেন। প্লিজ। সে লেখাপড়ায় এত ভালো!”

    সানজিদার বাবা কিছুক্ষণ রাশার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, “ঠিক আছে।”

    সানজিদাকে একটা লাল শাড়ি পরানো হয়েছে, রাশাকে দেখে তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। রাশা বলল, “এই মেয়ে, কাঁদছিস কেন বোকার মতো? তোর জামাই ভেগে গেছে, তোর আর চিন্তা নাই।” তারপর তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তোকে যা সুন্দর লাগছে। আমি ছেলে হলে নির্ঘাত তোকে বিয়ে করতাম!”

    বয়স্ক একজন মহিলা মাথায় থাবা দিয়ে বললেন, “এত রান্নাবান্না হয়েছে, এতো খাবার এখন কী করব?” রাশা মাথা ঘুরিয়ে বলল, “সেটা নিয়ে আপনি চিন্তা করবেন না খালাম্মা। আমাদের ক্লাসের সব ছেলেমেয়ে চলে আসবে! অনশন করতে এসে পেট ভরে খেয়ে যাবে! হি হি হি…”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপ-রূপালী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article রাতুলের রাত রাতুলের দিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }