Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাশা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. নৌকায় নৌকায়

    ১১. নৌকায় নৌকায়

    জিতু মিয়া নৌকাটাতে হাত দিয়ে বলল, “আলকাতরা শুকিয়ে গেছে।”

    মতি নৌকাতে হাত না দিয়েই বলল, “শুকায় নাই। আলকাতরা মোটেও শুকায় নাই। আলকাতরা এত সহজে শুকায় না।”

    রাশা বলল, “যথেষ্ট শুকিয়েছে, এখন পানিতে নামাই। নৌকা টেস্টিং করি।”

    মতি বলল, “আলকাতরা না শুকালে নৌকাতে পানি উঠবে।”

    রাশা বলল, “নৌকাতে আমরা একটা বাটি রাখব, পানি উঠলে পানি সেঁচব।”

    জয়নব বলল, “কাঁচা আলকাতরা শরীরে লেগে যাবে। জামা-কাপড়ে লেগে যাবে।”

    রাশা বলল, “শরীরে একটু আলকাতরা লাগলে কিছু হয় না।”

    জিতু বলল, “কেরোসিন দিলেই আলকাতরা উঠে যায়।”

    রাশা বলল, “হ্যাঁ, কেরোসিন দিলেই আলকাতরা উঠে যায়।”

    জয়নব বলল, “তার মানে তুই নৌকায় উঠবিই?”

    রাশা দাঁত বের করে হাসল, বলল, “হ্যা! আমার আর ধৈর্য হচ্ছে না। চল।”

    কাজেই চারজনের ছোট দলটা নৌকাটাকে ঠেলে খালের পানিতে নামিয়ে ফেলল। গৌরাঙ্গ ঘরামি নৌকার সাথে দুইটা বৈঠা তৈরি করে দিয়েছেন। মতি দুটো লম্বা বাঁশ নিয়ে এলো লগি হিসেবে ব্যবহার করার জন্যে। জিতু খুঁজে একটা ছোট প্লাস্টিকের বালতি নিয়ে এলো নৌকায় পানি সেঁচার জন্যে।

    নানি খালের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন, দেখলেন একজন একজন করে নৌকায় উঠে বসল। মতি বৈঠা হাতে নিয়ে পিছনে বসেছে, তারপর ধাক্কা দিয়ে নৌকাটাকে খালের মাঝামাঝি নিয়ে আসে। নৌকাটা একবার ঘুরে যেতে যাচ্ছিল, মতি বৈঠা দিয়ে নৌকাটাকে থামায় তারপর সামনের দিকে বেয়ে নিতে থাকে। রাশা আনন্দে হাত নেড়ে চিৎকার করে বলল, “ফ্যান্টাস্টিক!”

    আনন্দে রাশা দাঁড়িয়ে যেতেই নৌকাটা দুলে উঠল, সাথে সাথে সে আবার বসে পড়ে। মতি বলল, “নৌকার মাঝে দাঁড়ালেই বিপদ!”

    রাশা বলল, “তাই তো দেখছি।”

    মতি বৈঠা দিয়ে নৌকাটাকে বেয়ে নিয়ে যেতে থাকে, রাশা আগ্রহ নিয়ে দেখে, কাজটাকে তার মোটেও কঠিন মনে হলো না, বৈঠাটা তাকে দিলে সেও নিশ্চয়ই পারবে। পানিতে ডুবিয়ে সামনে থেকে পিছনে টেনে আনা, সেটা না পারার কী আছে? রাশা বলল, “মতি! আমাকে বৈঠাটা দিবি? আমি একটু চালাই।”

    “তুমি আগে নৌকা বেয়েছ?”

    “নাহ। তাতে কী হয়েছে, মোটেও কঠিন মনে হচ্ছে না।”

    “দেখে কোনো কাজ কঠিন মনে হয়? সাইকেল চালানো দেখে কি কঠিন মনে হয়? কিন্তু যে চালানো জানে না সে চেষ্টা করলে কী রকম আছাড় খায় তুমি জানো?”

    “তা ঠিক।”

    “খালটা তো সরু, এইখানে ঠিক করে না বাইলে ডানে-বাঁয়ে লেগে যাবে। আরেকটু সামনে গিয়ে জলা জায়গায় পড়ব সেইখানে চারিদিকে পানি। তুমি সেইখানে চালিও যেদিকেই যাও সমস্যা নাই।”

    “কিন্তু তোকে দেখে আমার যে লোভ হচ্ছে।”

    মতি তার ঝকঝকে সাদা দাঁত বের করে হাসল। বলল, “আরেকটা বৈঠা আছে সেইটা দিয়ে বাইতে থাকে, তাহলে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাব।”

    রাশ তখন আরেকটা বৈঠা নিয়ে বাইতে থাকে, নৌকাটা ঘুরে যেতে যাচ্ছিল, মতি পিছনে বসে সোজা করে রাখল। দুজনে মিলে বৈঠা বাওয়ার কারণে নৌকাটা এবার আরেকটু জোরে ছুটতে থাকে।

    জয়নব বলল, “আলকাতরা শুকানোর আগে নৌকাটা নামিয়েছি। এখন দেখেছ কী হচ্ছে?”

    রাশা জিজ্ঞেস করল, “কী হচ্ছে?”

    “নৌকাতে পানি উঠছে।”

    সত্যি সত্যি ধীরে ধীরে নৌকার নিচে পানি জমতে শুরু করেছে। রাশ বলল, “বসে আছিস কেন? পানি সেঁচতে শুরু কর।”

    কাজেই জয়নব আর জিতু পানি সেঁচতে লাগল।

    .

    কিছুক্ষণের মাঝেই খালটা একটা জলা জায়গার সাথে এসে মিশে গেল। শুকনোর সময় চারপাশে ধানক্ষেত থাকে তার মাঝ দিয়ে খালটী আলাদা করে বোঝা যায়, এখন চারিদিকে পানি, কোথায় খাল আর কোথায় ধানক্ষেত বোঝার কোনো উপায় নেই। মাঝে মাঝে পানি থেকে গাছ বের হয়ে এসেছে, কোথাও কোথাও ঝোঁপঝাড়ের মাথা দেখা যাচ্ছে তাই বোঝা যায় পানি খুব বেশি গভীর নয়। পানি ঝকঝকে পরিষ্কার, নিচে তাকালেও পানিতে ডুবে থাকা ক্ষেত মাটি চোখে পড়ে।

    রাশা বলল, “মতি, এবারে আমাকে দে, আমি নৌকা বাই।”

    মতি বলল, “ঠিক আছে, আমি সরে যাই, তুমি এসে বসো।”

    মতি সরে গেল, রাশা এসে তার জায়গায় বসল, নৌকাটা একটু বিপজ্জনকভাবে দুলে উঠল, কিন্তু তারা দুজনে মিলে সেটা সামলে নেয়।

    রাশা বৈঠা হাতে নিয়ে নৌকাটা বাইতে শুরু করে–কী আশ্চর্য, সত্যি সত্যি নৌকাটা এগিয়ে যেতে থাকে! বেশ খানিক দূর গিয়ে রাশা সবার দিকে তাকাল, বলল, “দেখলি?”

    কোনো একটা কারণে তখন জয়নব আর জিতু হেসে কুটি কুটি হচ্ছে, মতির মুখ দেখে মনে হলো তারও হাসি পাচ্ছে, কিন্তু সে ভদ্রতা করে হাসছে না। রাশা একটু অবাক হয়ে বলল, “কী হলো, তোরা হাসছিস কেন?”

    জিতু বলল, “তোমার নৌকা চালানো দেখে!”

    “আমার নৌকা চালানোতে হাসির ব্যাপারটা কোন জায়গায়।”

    “তুমি কি জানো, তুমি এক জায়গায় ঘুরছ!”

    “আমি? এক জায়গায় ঘুরছি?”

    “হ্যাঁ।”

    রাশা এবার একটু সামনে তাকাল এবং আবিষ্কার করল সত্যি সত্যি নৌকাটা সামনে যাচ্ছে না, এটা এক জায়গায় ঘুরে যাচ্ছে।

    রাশা বলল, “কী আশ্চর্য! মতি, তুই যখন বৈঠা চালাস তখন দেখি নৌকাটা সোজা যায়। আমি চালালে ঘুরে যাচ্ছে। ব্যাপারটা কি?”

    মতি হাসল, “এই জিনিসটাই শিখতে হবে। এইটাই হচ্ছে নৌকা চালানো! এমনভাবে বৈঠা চালাবে যেন তুমি চাইলে নৌকাটা সোজা যাবে, চাইলে ডান দিকে যাবে, আবার চাইলে বাম দিকে যাবে।”

    রাশা বলল, “দেখে মনে হয় কত সোজা, কিন্তু কাজটা তো দেখি কঠিন!”

    মতি বলল, “যতক্ষণ না জানো ততক্ষণ কঠিন। যখন জানবে তখন দেখবে কাজটা পানির মতো সোজা!”

    রাশা তখন মুখ শক্ত করে নৌকা চালানো শিখতে শুরু করল, তার মুখ দেখে মনে হতে থাকে, এর ওপরেই বুঝি তার জীবন-মরণ নির্ভর করছে!

    .

    রাত্রিবেলা রাশা আর নানি খেতে বসেছে, রাশা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করল, “নানি, তুমি কোনোদিন নৌকা চালিয়েছ?”।

    নানি চোখ কপালে তুলে বললেন, “আমি কোন দুঃখে নৌকা চালাতে যাব? একটু পরে জিজ্ঞেস করবি, নানি তুমি কোনোদিন রিকশা চালিয়েছ?”

    রাশা হাসল, বলল, “না সেটা জিজ্ঞেস করব না।”

    “না করলেই ভালো।”

    “বুঝলে নানি, তোমার দেখে মনে হবে নৌকা চালানো বুঝি খুব সোজা। আসলে এত সোজা না, তুমি যদি ঠিক করে বৈঠা না বাইতে পার তাহলে নৌকাটা এক জায়গায় ঘুরতে থাকবে।”

    “তোর ব্যাপারস্যাপার আমি খুব ভালো বুঝি না। স্কুলে যাবার জন্যে একটা নৌকা দরকার সেটা না হয় বুঝলাম। সেই নৌকা তোর কেন বাইতে হবে?”

    “আমি একা বাইব কে বলেছে, সবাই বাইব।”

    “এই যে ঢ্যাং চ্যাং করে একশ রকম কাজ করে বেড়াস, কোনদিন যে কোন বিপদে পড়বি খোদাই জানে।”

    রাশা কিছুক্ষণ চোখের কোনা দিয়ে তার নানিকে দেখল, তারপর আস্তে আস্তে বলল, “ননি।”

    “কী হলো?”

    “আমি যে এইরকম উল্টাপাল্টা কাজ করি, তুমি কি সে জন্যে আমার ওপরে বিরক্ত হও!”

    নানি হাসলেন, বললেন, “ধুর বোকা মেয়ে, বিরক্ত হব কেন?” একটু থেমে বললেন, “আসলে কী হয়েছে জানিস?”

    “কী হয়েছে নানি?”

    “এই যে তুই আমার সাথে থাকিস, দিন-রাত পাগলামি করিস, আমার সাথে বকবক করিস, আমার সময়টা তখন কেটে যায়। আগে মনে হতো সময়টা হচ্ছে একটা বোঝা, কিছু একটা চিন্তা করলেই মনে হতো মাথাটা বুঝি আউলে যাচ্ছে। এখন আর হয় না। প্রায় প্রত্যেক দিন আমি শান্তিতে ঘুমাই!”

    রাশা তার ঝোল মাখা হাত দিয়ে নানিকে জড়িয়ে ধরে বলল, “সত্যি নানি? তোমার এখন শান্তিতে ঘুম হয়?”

    “হ্যাঁ। গত রাতে আমি তোর নানাকে স্বপ্নে দেখলাম। আগে যখনই স্বপ্ন দেখেছি মনে হচ্ছে তোর নানাকে কেউ অত্যাচার করছে, গুলি করছে, চিৎকার করছে, আমি লাফ দিয়ে উঠে সারারাত বসে থেকেছি। ভয়ে চোখ বন্ধ করতে পারিনি।”

    রাশা কিছু না বলে নানির দিকে তাকিয়ে রইল। নানি বললেন, “গত রাতে প্রথমবার তোর নানাকে স্বপ্নে দেখলাম, ধবধবে সাদা একটা কাপড় পরে এসেছে, মুখে একটু একটু হাসি। আমাকে জিজ্ঞেস করল, কী জোবেদা! নাতনিকে পেয়ে আমাকে ভুলে গেছ! আমি বললাম, ওমা! এটা কী বলছ? তোমাকে আমি ভুলব কেমন করে? তোমার শরীরটা ভালো? তোমার নানা বলল, হ্যাঁ ভালো। আমাকে বলল, এক গ্লাস পানি দেবে বউ। আমি কলসি থেকে ঢেলে পানি দিলাম, সে এক চুমুক করে খায় আর আমার দিকে তাকিয়ে হাসে! তারপর ঘুম ভাঙল, দেখি ঘরের মাঝে কী সুন্দর ফুলের গন্ধ। বুঝলি রাশা, বুকের ভিতরটা একবারে ভরে গেল আমার।” নানি রাশার দিকে তাকিয়ে হাসলেন কিন্তু তার চোখ থেকে দুই ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল।

    পরদিন অস্ট্রেলিয়া থেকে রাখার একটা চিঠি এলো। বিদেশি চিঠি তাই পিয়নকে বখশিশ দিতে হলো, রাশার চিঠিটা খুলতে ভয় হচ্ছিল, তারপরেও তাকে খুলতে হলো। চিঠির ভেতরে একটা কার্ড, একটা মাঠের মাঝে অনেকগুলো ক্যাঙারুর ছবি! সাথে আম্মুর লেখা একটা চিঠি, সেই চিঠিতে অস্ট্রেলিয়ার নানারকম বর্ণনা। দোকানগুলো কত সুন্দর, সেখানে কতরকম জিনিস পাওয়া যায়। রাস্তাঘাট কত পরিষ্কার, মানুষজন কত দ্র–এইসব নানা কথা লেখা। বাংলাদেশে এখন গরম কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় এখন শীতকাল সেটাও লেখা আছে। তার বাইরে কোনো কথা নেই। নিজের সম্পর্কেও নেই, রাশার সম্পর্কেও নেই। এটি যেন কোনো মেয়ের কাছে লেখা তার মায়ের চিঠি নয়, এটি যেন খবরের কাগজে লেখা একজন মানুষের চিঠি!

    চিঠিটা পড়ে রাশার যেটুকু না মন খারাপ হলো তার থেকে অনেক বেশি লজ্জা হলো। কার জন্যে লজ্জা সেটা সে বুঝতে পারল না।

    .

    নৌকার ব্যবস্থা হওয়ার পর সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে স্কুলে যেতে শুরু করেছে। নৌকাতে কেউ বসে থাকে না, হয় বৈঠা বাইছে না হয় লগি দিয়ে ঠেলাঠেলি করছে। কাজেই ছোট নৌকাটা রীতিমতো বাইচের নৌকার মতো ছুটে যায়। শুধু তাই নয় নদীতে ওঠার পর নদীর একটা বাঁক মাঝে মাঝে শর্টকাট মেরে দেয়া হয়। নদীতীরে নৌকা চালানোর মতো যথেষ্ট পানি নেই, সেখানে হাঁটুপানি এবং কাদা, সেই অংশটাতে নৌকা থেকে নেমে ধাক্কা দিয়ে সেটাকে শুকনোর ওপর দিয়ে ঠেলে আবার নদীতে নামিয়ে দেয়া হয়। স্কুলে পৌঁছানোর পর তাদের গা, হাত, পা কাদা এবং পানিতে মাখামাখি থাকে, বই-খাতা ভিজে জবজবে হয়ে থাকে কিন্তু সেসব নিয়ে কেউ-ই খুব বেশি মাথা ঘামায় বলে মনে হয় না! বেশ চলে যাচ্ছে দিন। স্কুলে কম্পিউটার ল্যাবটা তৈরি হয়েছে, টেবিল-চেয়ার বসানো হয়েছে, এখন যে কোনোদিন কম্পিউটারগুলো চলে আসবে। রাশা খোঁজ নিয়ে জেনেছে চিঠি চালাচালি হচ্ছে।

    দেখতে দেখতে বর্ষাকাল চলে এসেছে। প্রথম প্রথম বৃষ্টি হতো ছাড়াছাড়াভাবে। আজকাল একেবারে নিয়মিত বৃষ্টি হয়। আর সে কী বৃষ্টি, রাশা হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। টিনের ছাদে যখন ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ে তার চাইতে সুন্দর কোনো শব্দ পৃথিবীতে হতে পারে কিনা রাশার জানা নেই। চারপাশের গাছপালাগুলো ঘন সবুজ। পাতাগুলো সতেজ আর পুরুষ্ট। যেদিকেই তাকায় মনে হয় মাটি ফেটে সবুজ লকলকে গাছ বের হয়ে আসবে। গাছগুলো যেন গাছ নয়, যেন এরা জীবন্ত প্রাণী। সামনের খাল পানিতে ভরে গেছে, সেখানে এখন রীতিমতো স্রোত, পানি খলখল শব্দ করে বয়ে যায়। সামনে তাকালে দেখা যায় আগে যেখানে মাঠ ছিল সৰ পানিতে ডুবে আছে, দেখে মনে হয় যেন একটা সমুদ্রের মাঝে নানি বাড়িটা ছোট একটা দ্বীপ।

    যে জায়গা পানিতে ডোবেনি সেখানে কাদা। প্যাঁচপ্যাঁচে আঠালো কাদা, অনেক চেষ্টা করেও রাশা এই কাদাতে অভ্যস্ত হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে দিয়ে সে বাড়ির ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে। বাইরে যখন ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ে তখন সে জানালার কাছে বসে বৃষ্টি দেখতে দেখতে লেখাপড়া করে। জাহানারা ম্যাডাম তাকে যে বইগুলো পাঠিয়েছিলেন সে সেগুলো মাঝে মাঝে উল্টেপাল্টে দেখেছে। এখন সে সেগুলো পড়তে শুরু করেছে। প্রথম প্রথম একটু কঠিন লেগেছে, যখন সে ঠিক করে মনোযোগ দিয়েছে হঠাৎ করে সে একটা অন্যরকম মজা পেতে শুরু করেছে। গণিতের ভেতর যে এত বিচিত্র ব্যাপার লুকিয়ে ছিল সে জানত না। তার কাছে সবচেয়ে অবাক লাগছে পদার্থবিজ্ঞান, আইনস্টাইন তার স্পেশাল রিলেটিভিটি দিয়ে সময়ের এমন সব বিচিত্র ব্যাপার ঘটিয়ে ফেলেছেন যে সে পড়ে হতবাক হয়ে যায়। পড়েও তার বিশ্বাস হয় না, মানুষ যেভাবে ডিটেকটিভ বই পড়ে রাশা সেভাবে তার বিজ্ঞানের বইগুলো পড়ছে।

    নানি তাকে দেখেন আর মাথা নেড়ে বলেন, “তোর রকমসকম বুঝি! একজন মানুষ দিন নাই রাত নাই মাথা গুঁজে পড়ে কেমন করে? এমন যদি হতো যে পরীক্ষা আছে তাহলেও বুঝতে পারতাম।”

    রাশা বলে, “নানি তুমি আমার কাছে বসো। আমি তোমাকে স্পেশাল রিলেটিভিটি বোঝাই, তুমি অবাক হয়ে যাবে।”

    নানি বললেন, “রক্ষা কর আমাকে অনেক কষ্ট করে মাথাটা একটু ঠিক করেছি। তুই এখন আবার পুরোটা আউলে দিবি?”

    .

    এর মাঝে একদিন একটা মজার ঘটনা ঘটল। ঘরে বসে ঘাড় খুঁজে গুঁজে লেখাপড়া করতে করতে একদিন রাশা আবিষ্কার করে তার সব খাতা শেষ হয়ে গেছে। বাজারে যাওয়া এখন সোজা কথা নয়, সে মতিকে কিছু টাকা দিয়ে বলল, কেউ যদি বাজারে যায় তাহলে তার জন্য যেন কয়টা খাতা কিনে নিয়ে আসে।

    দুইদিন পর মতি চারটা খাতা এনে দিল। খবরের কাগজ দিয় মুড়ে সুন্দর করে বেঁধে-হেঁদে দিয়েছে। রাশা বাধন খুলে খাতাগুলো বের করল, খবরের কাগজটা ফেলে দিতে গিয়ে হঠাৎ সে থেমে যায়, সেখানে খুব পরিচিত একটা ছবি। একজন থুরথুরে বুড়ো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, তার মাথার উপর দিয়ে রকেট উড়ে যাচ্ছে, রকেটের মানুষটি কমবয়সী। থিওরি অব রিলেটিভিটি বর্ণনা করতে হলেই দুই ভাইয়ের এই কাহিনীটা থাকে, এক ভাই রকেটে করে ঘুরেফিরে এসে দেখে অন্য ভাই থুরথুরে বুড়ো হয়ে গেছে। রাশা আগ্রহ নিয়ে লেখাটি পড়ল, খবরের কাগজের বিজ্ঞানের পাতায় কোনো একজন থিওরি অব রিলেটিভিটি নিয়ে লিখেছে, রাশা পুরোটা পড়ল, বেশ ভালোই লিখেছে। যে লিখেছে সে কঠিন জিনিস সোজা করে লিখতে পারে!

    রাশা খবরের কাগজটা উল্টায়, অন্য পৃষ্ঠায় খবরের কাগজের কোনায় বড় বড় করে লেখা, “সায়েন্স অলিম্পিয়াড” নিচে বিজ্ঞানের দশটি প্রশ্ন। এই দশটি প্রশ্নের উত্তর লিখে পাঠাতে হবে, যারা শুদ্ধ উত্তর দেবে তাদের নিয়ে ঢাকায় একটা জাতীয় অলিম্পিয়াড হবে। তবে ছাত্র বা ছাত্রীরা প্রশ্নের উত্তরগুলো নিজে দিয়েছে সেটা স্কুলের হেডমাস্টারকে সত্যায়িত করে দিতে হবে। প্রশ্নের উত্তর দিতে একসপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছিল, খবরের কাগজটি তিনদিনের পুরনো, উত্তর পাঠানোর জন্যে আর মাত্র চারদিন সময় বাকি আছে।

    রাশা খবরের কাগজটা নিয়ে তার বিছানায় বসে পড়ে। প্রথম তিনটার উত্তর পানির মতো সোজা। পরের তিনটার উত্তরটা কেমন করে বের করতে হবে সে জানে তবে সে জন্যে তাকে কাগজ-কলম নিয়ে বসতে হবে। পরের চারটার উত্তর কী হবে সে সাথে সাথে বুঝতে পারল না। চিন্তা করতে হবে।

    রাশা পেন্সিলটা কামড়াতে কামড়াতে চিন্তা করতে থাকে।

    খেতে খেতে নানি জিজ্ঞেস করলেন, “কী এত চিন্তা করিস রাশা?”

    “একটা মানুষ রকেটে করে মহাকাশে গেছে সেখান থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার সময়—”

    “তোর খেতে খেতে এটা চিন্তা করতে হবে?”

    রাশা নানির দিকে তাকিয়ে বোকার মতো একটু হাসল, বলল, “মাথার মাঝে ঢুকে গেছে, বের করতে পারছি না।”

    “বের করে ফেল। না হলে আমার মতো অবস্থা হবে। মাথা আউলে যাবে।”

    রাশা হি হি করে হাসল, কিন্তু মাথা থেকে বের করতে পারল না, চিন্তা করতেই থাকল। খেতে খেতে সে এটা চিন্তা করল, খাওয়ার পর বাসনপত্র তুলে নানিকে সাহায্য করার সময় সেটা চিন্তা করল, দাঁত মাজার সময় চিন্তা করল, বিছানায় শুয়ে শুয়ে সে চিন্তা করল, ঠিক যখন চোখে ঘুম নেমে আসছে তখন হঠাৎ সে তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে বসল! সমস্যাটা কেমন করে করতে হবে বিদ্যুৎ ঝলকের মতো হঠাৎ করে সেটা সে বুঝতে পেরেছে। তখনই বাতি জ্বালিয়ে কাগজ-কলম নিয়ে বসে বসে তার অঙ্কটা করার ইচ্ছে করছিল কিন্তু সে করল না। নানি নিচে গুটিসুটি মেরে ঘুমাচ্ছেন, সে এখন বাতি জ্বালালে নানি উঠে পড়বেন। আগে নানি সারা রাত শুয়ে ছটফট করতেন, আজকাল শাস্তিতে ঘুমান, রাশা তাই তাকে একটুও ডিস্টার্ব করতে চায় না!

    পরের পুরো দিনটা রাশা ভেবে ভেবে আরো দুটো অঙ্ক করে ফেলল, এখন বাকি আছে মাত্র একটা সেটা সে কিছুতেই করতে পারল না। যতবার চেষ্টা করেছে ততবার আটকে গেছে, তার কাছে মনে হছে নতুন একধরনের গণিত না জানলে সে মনে হয় এটা করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত সে হাল ছেড়ে দিয়েছে, এখন পর্যন্ত যে কয়টা করতে পেরেছে সেগুলোই সে লিখে পাঠিয়ে দিবে। এটা বাজার থেকে কুরিয়ার করে পাঠাতে হবে, পাঠানোর আগে হেডমাস্টারের একটা সাইন নিতে হবে। হাতে মোটেই সময় নেই।

    সকাল থেকে ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছে, স্কুল বন্ধ তাই হেডমাস্টারকে তার বাসায় গিয়ে ধরতে হবে। এখন যদি রওনা দেয় তাহলে সবকিছু শেষ করে সন্ধে হওয়ার আগে ফিরে আসতে পারবে, তাই রাশা আর দেরি করল না, তখন তখনই বের হয়ে গেল।

    জয়নব তার খালার বাড়ি গিয়েছে, মতির কোনো হদিস নেই, জিতুর জ্বর–কাঁথা মুড়ি দিয়ে কে কে করছে। রাশা এই গ্রামের আরো কিছু বাচ্চাকাচ্চাকে চিনে কিন্তু তাদের কাউকেই খুঁজে পেল না, যার অর্থ তার একাই যেতে হবে। সেটা এমন কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়, স্কুল যখন খোলা ছিল তখন সে এক-দুইবার একা একা নৌকা চালিয়ে গিয়েছে।

    রাশা তাই একটা পলিথিনের ব্যাগের ভেতর তার কাগজপত্রগুলো ভরে নৌকা করে রওনা দিল। খালটা পার হয়ে সে বিলে এসে পড়ল, বিলের মাঝামাঝি দিয়ে পাড়ি দিয়ে ছোট নদীটাতে হাজির হলো। বর্ষায় পানিতে ছোট নদীটা অবশ্য এখন আর ছোট নেই বেশ ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। নদীর তীর ঘেঁষে রাশা তার ছোট নৌকাটা বেয়ে নিয়ে যায়। ব্রিজের কাছাকাছি এসে সে নদীটা পাড়ি দিয়ে অন্য পারে আসে, বাজারের গোড়ায় নৌকাগুলো থাকে, সেখানে সেটাকে বেঁধে ওপরে উঠে আসে। এই ঘাটে তাদের পরিচিত মাঝি আছে, কাজেই কেউ তার এই ছোট নৌকা নিয়ে চলে যাবে সেরকম আশঙ্কা নেই।

    রাশা ভিজে চুপসে গেছে কিন্তু আজকাল সে এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। আগে সে জানত বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর হয়, এখানে এসে সে আবিষ্কার করেছে সেটা একেবারেই বাজে কথা। একজন মানুষ যতক্ষণ খুশি বৃষ্টির পানিতে ভিজতে পারে, তাতে কিছুই হয় না! এই দেশের বেশির ভাগ মানুষ বৃষ্টির পানিতে ভিজে ভিজে কাজ করে, সে জন্যে কারো জ্বর উঠে না, কারো শরীর খারাপ হয় না।

    রাশা তাদের হেডমাস্টারের বাসায় এলো, বাসাটা সে চিনে কিন্তু আগে আসেনি! ভয় ছিল গিয়ে দেখবে হেডমাস্টার বাসায় নেই, তখন একটা মহাঝামেলা হয়ে যাবে, কিন্তু সে হেডমাস্টারকে পেয়ে গেল।

    রাশাকে দেখে হেডমাস্টার চোখ কপালে তুলে বললেন, “সে কী? তুমি এরকম ভিজে ভিজে কোথা থেকে আসছ? কী ব্যাপার?”

    রাশ হেডস্যারকে পুরো ব্যাপারটা বোঝাল, হেডস্যার পরিষ্কার বুঝতে পারলেন বলে মনে হলো না। খানিকক্ষণ মুখ হাঁ করে থেকে বললেন, “তুমি এই অঙ্কগুলো করে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে আমার কাছে নিয়া আসছ আমাকে দিয়ে সাইন করানোর জন্যে?”

    “জি স্যার।”

    “তাহলে কী হবে?”

    “তাহলে আমি যাদের কাছে পাঠাব তারা বুঝবে যে আসলে আমিই সেগুলো করেছি, অন্য কেউ আমাকে করে দেয় নাই।”

    “তাতে লাভ?”

    “যারা করতে পারবে তাদের ডেকে একটা অলিম্পিয়াড হবে। সায়েন্স অলিম্পিয়াড। বিজ্ঞানের অলিম্পিয়াড!”

    “সেটা কী জিনিস?”

    রাশা মাথা চুলকাল, “আমি ঠিক জানি না স্যার।”

    “তুমি ঠিক জানো না?”

    “না স্যার।”

    “না জেনেই তুমি এইসব করছ?”

    “আমার মনে হয় একটা পরীক্ষার মতো কিছু হবে।” হেডমাস্টার ভুরু কুঁচকালেন, “বৃত্তি পরীক্ষা?”

    “হতে পারে স্যার। বৃত্তি পরীক্ষার মতো কিছু একটা হতে পারে।”

    হেডমাস্টার তখন কাগজগুলোতে সাইন করে দিলেন। তার বাসাতেই সিল ছিল, সাইনের নিচে সিলও মেরে দিলেন। রাশ হেডমাস্টারের বাসা থেকে বের হয়ে একটা কুরিয়ারের দোকানে গেল, সেটা যেন কালকেই পৌঁছে দেয় সেটা নিয়ে খানিকক্ষণ অনুরোধ করে সে খবরের কাগজের ঠিকানায় তার অঙ্কগুলো কুরিয়ার করে দিল।

    সেখান থেকে বের হয়ে সে একটা দোকান থেকে তার নানির জন্যে একটা নারকেল তেলের ছোট বোতল কিনল। নিজের জন্যে কিনল আরো কয়েকটা খাতা আর দুইটা বলপয়েন্ট কলম। তার নানি কারণে-কারণে তাঁর মাথায় নারকেল তেল মাখেন, নানির ধারণা মাথায় নারকেল তেল মাখলে মাথা ঠাণ্ডা থাকে। তাই সুযোগ পেলেই রাশা নানির জন্যে নারকেল তেল কিনে নিয়ে যায়।

    খাতা, কলম আর নারকেল তেলের বোতলটা নিয়ে সে তার নৌকায় বসে বাড়িতে রওনা দেয়। ব্রিজের কাছাকাছি এসে নদীটা পার হয়ে তীর ঘেঁষে সে নৌকা বাইতে থাকে। এতক্ষণ ঝিরঝির করে বৃষ্টি হচ্ছিল, এখন ঝমঝম করে বৃষ্টি হতে থাকে। নদীর পানিতে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো একটা বিচিত্র শব্দ তৈরি করছে। রাশা দ্রুত বৈঠা টানতে থাকে, নদীর তীরে তীরে ছোট ছোট গ্রাম, সেখানে মানুষজন থাকে। যখন সে বিলের মাঝে ঢুকবে তখন সেখানে কোনো জনমানুষ থাকে না। পুরো বিলটা আড়াআড়িভাবে পার হতে হবে, জিতু যখন থাকে তখন সারাক্ষণই সে এই বিল নিয়ে বিচিত্র সব ভৌতিক ইতিহাস বলতে থাকে। রাশা মোটেও সেগুলো বিশ্বাস করে না কিন্তু এই মুহূর্তে তার সবগুলো গল্প মনে পড়ে গেল। ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে, তার মাঝে রাশা ছোট খালটা দিয়ে বিলের মাঝে এসে ঢুকল। যতদূর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। বৃষ্টির জন্যে ভালো করে দেখা যাচ্ছে না, এখন সে জানে কোনদিকে যেতে হবে, একটু পর যখন কোনোদিক তীর দেখা যাবে না তখন সে কেমন করে বুঝবে কোনদিকে যাবে? যদি এই বিলে সে হারিয়ে যায়? যদি অন্ধকার নেমে আসে? যদি এই বিল থেকে সে আর কোনোদিন বের হতে না পারে? রাশার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ধক করে ওঠে।

    আড়াআড়ি বিলটা পার হতে হবে, রাশা যতটুকু সম্ভব সোজা নৌকা চালিয়ে নিতে থাকে। সে চেষ্টা করে যেন নৌকার মাথাটা ডানে-বাঁয়ে ঘুরে যায়। তাহলে জনমানবহীন এই নির্জন বিলটাতে সে আটকা পড়ে যাবে। যদি বৃষ্টি না থাকত তাহলে দূরে গ্রামগুলো দেখা যেত, কোনো সমস্যা হতো না।

    ঠিক এরকম সময় সে ঝুনঝুন একটা শব্দ শুনল, মনে হলো কেউ যেন নূপুর পায়ে নাচছে, রাশা ভয়ানক চমকে উঠেছিল, ঠিক তখন সে দেখল কিছু একটা ভেসে ভেসে তার দিকে আসছে। চার কোনায় চারটা লাল পতাকা, ভেতরের অংশটা রঙিন কাপড় দিয়ে ঘিরে রাখা। রাশা কৌতূহলী হয়ে তাকাল, চোখ থেকে বৃষ্টির পানি সরিয়ে ভালো করে দেখে বুঝল এটা আসলে একটা ভেলা। ভেলায় কেউ নেই কিন্তু সেটা সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এর মাঝে নিশ্চয়ই ঘণ্টা বেঁধে রাখা হয়েছে, বাতাসে সেগুলো ঝুনঝুন শব্দ করে নড়ছে।

    রাশা তার নৌকাটা ভেলাষ্টার কাছে নিয়ে যায়, ভেলাটাকে ধরে সে উপরে তাকাল এবং সাথে সাথে ভয়ঙ্কর আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল। ভেলার উপর একটা মেয়ের মৃতদেহ। রাশা এর আগে কখনো একটা মৃতদেহ দেখেনি, কিন্তু তবু তার বুঝতে একটুও দেরি হলো না যে এটা একটা মৃতদেই। মেয়েটিকে সুন্দর কাপড় পরে সাজিয়ে দেয়া হয়েছিল বৃষ্টির পানিতে সব ভেসে গেছে। মেয়েটার চোখ অল্প একটু খোলা, মুখের, ফাঁক দিয়ে দাঁতগুলো দেখা যাচ্ছে। মনে হয় এক্ষুণি উঠে বসবে। রাশা ভেলাটাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নৌকাটাকে প্রাণপণে বাইতে শুরু করে কিন্তু সে অবাক হয়ে লক্ষ করল ভেলাটা তার নৌকার পিছু পিছু আসতে শুরু করেছে। রাশা ভয়াবহ আতঙ্কে কাঁপতে থাকে, তার মনে হতে থাকে এক্ষুণি বুঝি মৃতদেহটা ভেলার মাঝে উঠে দাঁড়াবে, তারপর মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে খলখল করে হাসতে শুরু করবে। কিংবা খপ করে তার নৌকাটা ধরে ফেলবে, তারপর তার নৌকায় উঠে বসবে। রাশা জানে একটা মৃতদেহ কখনোই সেটা করতে পারবে না কিন্তু তারপরেও একধরনের অবর্ণনীয় ভয়ে সে থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে সমস্ত শক্তি দিয়ে নৌকাটা বাইতে থাকে।

    তার পিছনে তাকাতে ভয় হচ্ছিল, সে শুনতে পেল ঘণ্টার ঝুনঝুন শব্দটা আস্তে আস্তে কমতে কমতে মিলিয়ে গেল। তখন সে ভয়ে ভয়ে পিছনের দিকে তাকাল, দেখল বহুদুরে ভেলাটি ভাসতে ভাসতে যাচ্ছে! কী আশ্চর্য। কী ভয়ঙ্কর।

    রাত্রিবেলা রাশা আজ তার নানিকে ধরে ঘুমাতে গেল। নানি তার গায়ে-মুখে আয়াতুল কুরসি পড়ে ফুঁ দিয়ে বললেন, “তোকে নিয়ে মাঝে মাঝে চিন্তাতেই পড়ে যাই রে।”

    রাশ মাথা নাড়ল, বলল, “ঠিকই বলেছ নানি। আমিও মাঝে মাঝে আমাকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে যাই!”

    “তোর একা একা এই বিল পাড়ি দেয়ার দরকারটা কী পড়েছিল?”

    “আমি একা একা যেতে চাচ্ছিলাম না, কাউকে পেলাম না তাই একাই গেলাম।”

    “আর যাবি না।”

    “ঠিক আছে নানি। আর যাব না।”

    “পৃথিবীতে কত রকম বিপদ হতে পারে।”

    “নানি, একটা মরা মানুষ আর কী করবে?”

    “আমি মরা মানুষকে ভয় পাই না। আমি ভয় পাই জ্যান্ত মানুষকে। পৃথিবীতে কত বজ্জাত মানুষ আছে তুই জানিস?”

    “একটু একটু জানি।”

    “কাজেই সাবধান থাকবি।”

    “থাক নানি।”

    রাশা একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “নানি।”

    “কী হলো?”

    “ঐ মেয়েটাকে ভেলায় করে ভাসিয়ে দিয়েছে কেন?”

    “মেয়েটাকে নিশ্চয়ই সাপে কামড়েছে। সাপে কামড়ালে এভাবে ভেলায় করে মরা মানুষটাকে ভাসিয়ে দেয়।”

    “কেন নানি?”

    “তারা বিশ্বাস করে মরা মানুষটা ভেলায় করে সাপের ওঝার বাড়ির ঘাটে এসে লাগে। ওঝা তখন মানুষটাকে বাঁচিয়ে তোলে।”

    “এটা কেমন করে হবে? মরা মানুষ কী বাঁচতে পারে?”

    নানি একটা নিশ্বাস ফেলে বললেন, “পারার কথা না। তবু আপন মানুষেরা এটা বিশ্বাস করতে চায়। মৃত্যুকে কেউ মেনে নিতে পারে না। কেউ না।”

    নানি হঠাৎ চুপ করে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।

    .

    গভীর রাতে রাশা চমকে ঘুম থেকে জেগে উঠল। তার মনে হলো, ভেলার মাঝে ভেসে থাকা মেয়েটি উঠে তার হাত ধরে টানছে, বলছে, “আমায় ফেলে চলে এসেছিস কেন? আয় আমার সাথে। আয়।”

    রাশা নানিকে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে শুয়ে রইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপ-রূপালী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article রাতুলের রাত রাতুলের দিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }