Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাশা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. সবার সাথে পরিচয়

    ০৪. সবার সাথে পরিচয়

    রাশার ঘুম ভাঙল খুব ভোরে, বাইরে তখনো ভোরের আলো ফুটে ওঠেনি। শুয়ে থেকেই সে শুনতে পেল নানি উঠোন ঝাট দিচ্ছেন। এত সকালে কেন উঠান ঝাট দিতে হবে রাশা বুঝতে পারে না। সে বিছানা থেকে উঠে দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়, নানি তাকে দেখে ঝাঁট দেয়া বন্ধ করে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন, “তুই এত সকালে ঘুম থেকে উঠেছিস কেন?”

    “ঘুম ভেঙে গেল। তুমি এত সকালে উঠান ঝাট দিচ্ছ কেন?”

    “জানি না।”

    “জানো না?”

    “নাই। কিছু একটা না করলে সময় কাটে না, তাই কাজকর্ম করি।”

    “আমাকে দাও ঝাঁটাটা, আমি উঠানটা ঝাড় দিই।” নানি হাসলেন, বললেন, “তোকে উঠান ঝাট দিতে হবে না।”

    “আমি পারব নানি।”

    “আমি জানি তুই পারবি। না পারার কী আছে?”

    “তাহলে?”

    “আমার মাথা আউলাঝাউলা, তাই আমি এরকম উল্টাপাল্টা কাজ করি। তুই কেন করবি?”

    রাশা বারান্দা থেকে নেমে বলল, “তাহলে কী করব বলো।”

    “কিছু একটা যদি করতেই চাস, তাহলে মোরগ আর হাঁসের ঘরের দরজাগুলো খুলে দে।

    রাশা তখন উঠানের এক কোনায় হাঁস-মোরগের ঘরের দরজাটা খুলে দিল, সাথে সাথে কক কক শব্দ করে প্রথমে মোরগ-মুরগি তাদের পিছু পিছু থপথপ করে হাঁসগুলো বের হয়ে এলো। মুরগিটা বারকয়েক ডানা ঝাঁপটিয়ে শব্দ করতে থাকে তখন বাচ্চাগুলো কিচিমিচি শব্দ করে তার মাকে ঘিরে ধরে। কী মজার একটা দৃশ্য!

    নানি বললেন, “ভিতরে ডিম আছে না দেখ দেখি।”

    রাশা মাথা নিচু করে তাকিয়ে দেখে সত্যি সত্যি সেখানে দুটি ডিম। সে হাত দিয়ে ডিম দুটি বের করে এনে বলে, “কী আশ্চর্য!”

    “কোন জিনিসটা আশ্চর্য?”

    “এই যে ডিম! আমি ধরেই নিয়েছিলাম ডিম ফ্রিজের ভিতরে পাওয়া যায়! ভুলেই গিয়েছিলাম যে আসলে হাঁস-মুরগি ডিম পাড়ে।”

    “হাত-মুখ ধুয়ে আয় তোকে ডিম ভাজি করে দিই। নাস্তা করবি।”

    .

    একটু বেলা হতেই গ্রামের বউ-ঝিরা আসতে শুরু করল, সবাই রাশাকে একনজর দেখতে চায়। যে মেয়েটির বাবা-মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে এবং যার মা তাকে গ্রামের বাড়িতে পাগলি নানির কাছে ফেলে রেখে চলে গেছে সেই মেয়েটি দেখতে কেমন সেটা জানার জন্য সবার মাঝেই কৌতূহল। রাশা প্রথমে কিছুক্ষণ কাঠ হয়ে বসে থাকে কিন্তু কিছুক্ষণের মাঝেই তার কাছে পুরো ব্যাপারটা অসহ্য মনে হতে থাকে। খুব মাথা ধরেছে বলে সে একসময় বাড়ির ভেতরে ঢুকে বিছানায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে রইল।

    বউ-ঝিরা হতাশ হয়ে চলে যাবার পর নানি এসে রাশার মাথার কাছে বসলেন, কপালে হাত রেখে বললেন, “শরীরটা কি বেশি খারাপ লাগছে?”

    রাশা উঠে বসল, বলল, “না, নানি। আমার শরীর ঠিকই আছে কিন্তু এই যে মানুষজন আমাকে দেখতে আসছে, আমি সেটা সহ্য করতে পারছি না।”

    নানি বললেন, “ও।”

    “আমি কী আজগুবি একটা জন্তু যে মানুষ আমাকে দেখতে আসবে?”

    নানি একটু হাসলেন, বললেন, “এই গ্রামের মানুষের কাছে তুই আসলেই আজগুবি একটা জন্তু।”

    “থ্যাংক ইউ নানি!”

    “আমি বলি কী–তুই নিজেই গ্রামটা ঘুরে আয়। সবার সাথে পরিচয় করে আয়। তাহলে কেউ তোকে আর বিরক্ত করবে না।”

    “আমি? আমি নিজে?”

    নানি মাথা নাড়লেন, “হ্যাঁ।”

    “তুমি আমার সাথে যাবে?”

    “নাহ্!” নানি মাথা নাড়লেন, “আমি পাগলছাগল মানুষ, আমার ঘর থেকে বের হতে ভালো লাগে না।”

    “তাহলে? আমি তো কিছুই চিনি না।”

    এই সমস্যাটা সমাধান করার জন্যেই মনে হলো ঠিক এই সময় জিতু ঘরের ভেতর উঁকি দিল, উদ্বিগ্ন মুখে বলল, “রাশপুর নাকি শরীর খারাপ। কলেরা?”

    রাশা চোখ কপালে তুলে বলল, “কলেরা? আমার?”

    জিতু ঘরে ঢুকে বলল, “হ্যাঁ। জোবেদা ফুপু তোমাকে দেখতে আসছিলেন, তোমার শরীর খারাপ সেই জন্যে দেখতে পারেন নাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে। ফুপু বললেন, জানি না, মনে হয় কলেরা।

    শহরের মানুষ গ্রামে আসলেই পেটে অসুখ হয়। কলেরা হয়।”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “না। আমার কলেরা হয় নাই।”

    “তাহলে কী হয়েছে?”

    “কিছুই হয় নাই।”

    “কিন্তু–“

    রাশা জিতুকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “জিতু মিয়া তুমি একটা কাজ করতে পারবে?”

    “পারব না কেন? একশবার পারব।”

    রাশা ভুরু কুঁচকে বলল, “কাজটা কী না শুনেই যে বলে দিলে পরব? আমি যদি এখন বলি আমাকে ঘাড়ে করে বাজারে নিয়ে যেতে হবে?”

    জিতু দাঁত বের করে হেসে বলল, “আজিব! তুমি আজিব!”

    রাশা হাল ছেড়ে দিয়ে বলল, “আমি এখন এই গ্রামটা ঘুরে ঘুরে দেখব। সবার বাড়িতে বেড়াতে যাব। তুমি আমাকে নিয়ে যাবে?”

    জিতুর চোখ দুটো আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল, হাতে কিল মেরে বলল, “সবার আগে আমাদের বাড়ি।”

    রাশা বলল, “সেটা দেখা যাবে!”

    জিতুকে নিয়ে বের হওয়ার পর রাশা বুঝতে পারল এ কাজের জন্যে জিতু থেকে ভালো আর কেউ হতে পারে না। সে যে শুধু এই গ্রামের সব মানুষকে চিনে তা নয়, গরু-ছাগল-ভেড়া এমন কি গাছগুলোকেও চিনে। সে যে শুধু কোন মানুষ কী রকম সেটা বলতে পারে তা নয়, কোন গরু ছাগলের কী রকম মেজাজ সেটাও বলতে পারে। বাড়ি থেকে বের হয়েই সে দূরে একটা গরুকে দেখিয়ে বলল, “ঐ যে কালো গাইটা দেখছ, খবরদার ঐটার ধারেকাছে যাবা না।”

    রাশা জানতে চাইল “কেন?”

    “এই গাইটা পাগল। কাছে গেলেই ঢুঁস দিবে।”

    “পাগল কেমন করে হলো?”

    “সেইটা জানি না। অমাবস্যার রাত্রে ছাড়া পেয়ে একবার শুশানঘাটে ঢুকে গিয়েছিল, মনে হয় সেই থেকে পাগল।”

    রাশা এই ব্যাখ্যাটার কোনো ব্যাখ্যা চাইল না। জিতু হাঁটতে হাঁটতে একটা ঝাঁপড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বলল, “রাত্রিবেলা কখনো এই গাছের নিচ দিয়ে হাঁটবা না।”

    “কেন?”

    “এইটা শ্যাওড়াগাছ। এই গাছে ভূত আছে।”

    “কী করে ভূতে?”

    “রাত্রিবেলা কেউ নিচে দিয়ে গেলে তার শরীরে পেশাব করে দেয়।”

    ভূতদের নিশ্চয়ই কাজকর্ম থাকে, তারপরেও শুধু মানুষের ওপর পেশাব করার জন্যে শ্যাওড়াগাছে কেন বসে থাকতে হয় রাশা সেটা বুঝতে পারল না। কিন্তু রাশা সেটা নিয়ে জিতুর সাথে তর্ক করল না, এতক্ষণে সে বুঝে গিয়েছে জিতুর সব কথাতেই ভূত-প্রেত জিন-পরীর গন্ধ থাকে।

    প্রথমে তারা যে বাড়িটাতে গেল তার সামনে একটা বড় উঠোন, আর সেখানে ধান বিছিয়ে শুকানো হচ্ছে। ধান খাবার জন্য কিছু পাখি ওড়াউড়ি করছে; কমবয়সী একটা মেয়ে একটা বাঁশের কঞ্চি হাতে নিয়ে সেগুলোকে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। জিতু মেয়েটাকে বলল, “শিউলী দেখ তোদের বাড়িতে কোন অতিথকে নিয়ে এসেছি।”

    রাশা গলা নামিয়ে বলল, “শব্দটা অতিথ না, অতিথি।” জিতু শুদ্ধ শব্দ বলায় কোনো উৎসাহ দেখাল না, গলা উঁচিয়ে বলল, “সফুরা খালা, আপনার বাড়িতে বিদেশি অতিথ নিয়ে আসছি।”

    রাশা কেমন করে বিদেশি অতিথি হলো সে বুঝতে পারল না। দেখা গেল বাড়ির চারপাশ থেকে পিলপিল করে নানা আকারের মানুষজন বের হয়ে এলো। বিদেশি অতিথিটা কে সবাই জানে এবং সবারই তাকে দেখার একটা কৌতূহল আছে। কেউ কিছু বলার আগেই রাশা বলল, “আমি তো আগে কখনো এই গ্রামে আসি নাই, কারো সাথে পরিচয় নাই। তাই জিতু মিয়াকে নিয়ে বের হয়েছি সবার সাথে পরিচয় করতে।”।

    বয়স্ক একজন মহিলা রাশার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “খুব ভালো করেছ মা। আমরা খালি তোমাদের কথা শুনি। কোনোদিন দেখি নাই। আজকে দেখলাম, দেখে আমাদের বুকটা ভরে গেল।”

    রাশা একটু অবাক হয়ে বয়স্কা মহিলাটার মুখের দিকে তাকাল, তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে কথাটা শুধু বলার জন্যে বলেনি, সত্যি সত্যি বলেছে। সত্যি রাশাকে দেখে তার বুকটা ভরে গেছে। তাকে চেনে না, জানে না, কোনোদিন দেখেনি কিন্তু তার পরেও তাকে দেখে এই সাদাসিধে বয়স্কা মহিলার বুকটা ভরে গেছে। কী আশ্চর্য। ঠিক কী কারণ জানা নেই, রাশার চোখের কোনায় হঠাৎ একটু পানি চিকচিক করে ওঠে। সেটা গোপন করে সে সহজ গলায় বলল, “আমি তো এখন নতুন এসেছি, আপনাদের কাউকেই চিনি না! আস্তে আস্তে পরিচয় হবে।”

    আরেকজন এসে তার গায়ে হাত বুলিয়ে বলল, “তুমি কি আসলেই এখানে থাকবে নাকি আমাদের ভেতর মায়া জাগিয়ে চলে যাবে?”

    রাশা বলল, “আসলেই থাকব।”

    ছোট একটা মেয়ে হাততালি দিয়ে বলল, “কী মজা!”

    মধ্যবয়স্কা মহিলাটা বলল, “এই, জলচৌকিটা এনে দে। মেয়েটা বসুক।”

    রাশা বলল, “আজকে বসব না। গ্রামের সব বাড়িতে যাব তো তাই দেরি করব না। আরেক দিন এসে বসব।”

    “তাই বলে তুমি খালি মুখে চলে যাবে নাকি? কিছু একটা খেতে হবে।”

    রাশা বলল, “না-না-না, কিছু খাব না।”

    মহিলা মাথা নাড়লেন, “কিছু একটা খেতে হবে।”

    রাশা মহিলার হাত স্পর্শ করল, বলল, ‘বিশ্বাস করেন, আমি খেয়ে বের হয়েছি। আরেক দিন খাব।”

    “ঠিক আছে তাহলে একটা ডাব খেয়ে যাও। ডাবের পানি খেতে তো আর পেটে জায়গা থাকতে হয় না।”

    মহিলাটি একটা শুকনো কালো ছেলেকে ডেকে বললেন, “এই মতি। তাড়াতাড়ি কয়টা ডাব পাড় দেখি।”

    মতি নামের শুকনো টিংটিংয়ে ছেলেটা সাথে সাথে তার লুঙ্গি মালকোচা মেরে পরে কোথা থেকে একটা ধারালো দা এনে পিছনে গুঁজে নিল। তারপর উঠানের কয়েকটা নারকেল গাছের দিকে তাকিয়ে একটাকে বেছে নিয়ে সেটা বেয়ে তরতর করে উঠে যেতে লাগল। রাশা হাঁ করে তাকিয়ে থাকে, এরকমভাবে কেউ যে নারকেল গাছে উঠে যেতে পারে সেটা সে নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করত না। দেখে মনে হচ্ছে মতি নামের ছেলেটা বুঝি মানুষ না, যেন সে একটা টিকটিকি!

    রাশা নিশ্বাস আটকে বলল, “হায় খোদা! যদি পড়ে যায়?”

    ছোট মেয়েটা বলল, “পড়বে না! মতি বান্দরের বাচ্চার মতো গাছে উঠে। এক গাছ থেকে আরেক গাছে লাফ দিতে পারে।”

    রাশা বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে থেকে বলল, “সর্বনাশ!”

    মতি সত্যি সত্যি একটা বানরের মতো নারকেল গাছের উপরে উঠে যায়, পিছন থেকে দা-টা বের করে দক্ষ হাতে কোপ দিয়ে দুটি ডাব কেটে নেয়, তারপর যেভাবে উঠেছিল ঠিক সেভাবে তরতর করে নেমে এলো। তাকে দেখে মনে হয় শুকনো মাটিতে হাঁটাহাঁটি করার থেকে গাছ বেয়ে উঠা এবং নমা তার জন্যে সহজ।

    মতি ডাবটার পেছন দিকটা কেটে একটা ছোট ফুটো করে সেটা রাশার হাতে তুলে দিল। রাশা জিজ্ঞেস করল, “কেমন করে খাব?”

    “মুখে লাগিয়ে!”

    “সত্যি?”

    মতি নামের শুকনো কালো ছেলেটা তার ঝকঝকে সাদা দাঁত বের করে হেসে বলল, “সত্যি!”

    রাশ ডাবটা তার মুখে লাগিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করল, যতটুকু তার মুখের ভেতর গেল তার থেকে অনেক বেশি তার গাল বেয়ে গড়িয়ে গলা-বুক ভিজিয়ে দিল। সেই দৃশ্য দেখে ছোট বাচ্চাগুলো আনন্দে হি হি করে হেসে গড়াগড়ি খেতে থাকে। এত অল্পে মানুষকে এত আনন্দ দেয়া যায় রাশা আগে কোনোদিন টের পায়নি।

    বহুদিন আগে রাশার যখন চিকেন পক্স হয়েছিল তখন তার কিছুদিন জোর করে ডাবের পানি খেতে হয়েছিল, তার কাছে মনে হয়েছিল এটা আঁশটে গন্ধের বিস্বাদ একটা তরল। কিন্তু গাছ থেকে পেড়ে আনা এই ডাবটার পানি মিষ্টি এবং সুস্বাদু। গন্ধটাও সুন্দর। রাশা শখ করে খানিকটা খেয়ে বলল, “আর পারছি না।”

    মধ্যবয়সী মহিলাটি বললেন, “জিতু তুই খেয়ে ফেল।”

    জিতু কোনো আপত্তি না করে সাথে সাথে রাশার হাত থেকে নিয়ে ডাটা মুখে লাগিয়ে ঢকঢক করে খেতে শুরু করল।

    বিদায় নিয়ে আসার সময় রাশা হঠাৎ থেমে গেল। পাশের মাটির একটা ঘরের বারান্দায় পেট মোটা একটা বাচ্চা পা ছড়িয়ে বসে আছে, তার শরীরে কোনো কাপড় নেই। সামনে মাটিতে কিছু মুড়ি ছড়ানো, সে গভীর মনোযোগ দিয়ে মাটি থেকে তুলে তুলে একটা একটা করে মুড়ি খাচ্ছে। কাছাকাছি একটা শালিক পাখি মুড়িতে ভাগ বসানোর চেষ্টা করছে। বাচ্চাটা একটু অসতর্ক হলেই শালিক পাখিটা ছুটে এসে একটা-দুইটা মুড়ি খেয়ে নিচ্ছে।

    রাশা যখন অবাক হয়ে এই দৃশ্যটি দেখছে তখন জিতু জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে রাশাপু?”

    “এই বাচ্চাটা কার?”

    কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা একজন কমবয়সী মেয়ে বলল, “আমার।”

    “মাটি থেকে মুড়ি তুলে খাচ্ছে ওর তো অসুখ করবে।”

    মেয়েটা একটু বিব্রতভাবে হেসে বলল, “করবে না। ওর অভ্যাস আছে।”

    রাশা বলল, “কিন্তু এইটা তো খুব খারাপ অভ্যাস! মাটিতে কত রোগ জীবাণু। আমাদের স্কুলে একটা মাইক্রোস্কোপ আছে, আমাদের স্যার দেখিয়েছিলেন, জীবাণুরা গিজগিজ করছে। ওকে একটা বাটিতে না হয় থালায় করে দিন।”

    মেয়েটি একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, “থালা বাটিতে দিলে তাড়াতাড়ি খেয়ে ফেলে। মাটিতে ছিটিয়ে দিলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে অনেকক্ষণ ধরে খায়।”

    রাশা থতমত খেয়ে গেল। একটু ইতস্তত করে বলল, “কিন্তু মাটি থেকে তুলে খেলে তো অসুখ হবে।”

    “একটু-আধটু অসুখ হলে কী হয়? সবারই হয়।”

    রাশা অবাক হয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল, কী বিচিত্র একটা যুক্তি! সে অবশ্যি এত সহজে মেয়েটার যুক্তি মেনে নিল না, মাটি থেকে মুড়িগুলো সরিয়ে একটা বাটিতে মুড়ি দিতে তাকে বাধ্য করে ছাড়ল। মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা হাজির ছিল তারা সবাই ধরে নিল পুরো ব্যাপারটা হচ্ছে শহরের একটা মেয়ের ছেলেমানুষি কাজকারবার। তারা হাসি হাসি মুখে ব্যাপারটা দেখল যেন একটা নাটক দেখছে, কিন্তু তার কথাটাকে কেউ কোনো গুরুত্ব দিল বলে মনে হলো না।

    .

    গ্রাম ঘুরে দেখার জন্যে বের হয়ে রাশা প্রথম বাড়িটাতে এসেছিল শুধু জিতুকে নিয়ে, এখান থেকে যখন বের হলো তখন তার সাথে যোগ দিল মতি এবং আরো দুটি কমবয়সী বাচ্চা।

    পরের বাড়িটাতে গিয়ে সে আবিষ্কার করে সেখানে কিভাবে কিভাবে যেন খবর চলে গেছে যে সে আসছে, এবং সবাই তার জন্যে অপেক্ষা করছে। এখানেও মোটামুটি একই ব্যাপার ঘটল, সবাই রাশাকে এমনভাবে ঘিরে ধরল যেন সে ভিনদেশি রাজকন্যা, ভুল করে একটা গ্রাম ঘরে চলে এসেছে। এ বাড়িতেও তাকে একটা জলচৌকিতে বসানো হলো এবং একটা থালায় করে তার জন্যে নারকেলের নাড় আর চিড়ে ভাজা আনা হলো। রাশা খাবে না, খাবে না বলে আপত্তি জানালেও তাকে একটা নাড় আর খানিকটা চিড়া খেতে হলো। সে এর মাঝে টের পেতে শুরু করেছে এখানে খাওয়া ব্যাপারটার সাথে খিদে কিংবা খাওয়ার ইচ্ছের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা একটা সামাজিক ব্যাপার, সে যদি না খায় তাহলে সবাই মন খারাপ করে ফেলে।

    রাশা এই গ্রামের মানুষদের আন্তরিক ভালোবাসাটুকু বুঝতে পারে, কিন্তু একই সাথে তাদের নিষ্ঠুরতাটুকু বুঝতে পারে না। যখন সে নারকেলের নাড়টাতে কামড় দিয়েছে, তখন একজন জিজ্ঞেস করল, “তোমার বাবা তোমার মাকে ছেড়ে দিয়ে নাকি লন্ডন চলে গেছে?”

    রাশা বিষম খেতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “লন্ডন না, কানাড়া।”

    “সেইটা কোথায়?”

    “আমেরিকার কাছে।”

    “তোমার বাবা আবার বিয়ে করেছে?”

    রাশা মাথা নাড়ল।

    মহিলাটি জিজ্ঞেস করল, “তোমার মা?”

    রাশা হতবাক হয়ে মহিলাটির দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর আবিষ্কার করল সে বলছে, “হ্যাঁ। করেছে।”

    “তোমার সৎ বাপ কী করে?”

    “আমি জানি না। আমি তাকে দেখি নাই।”

    মহিলাটি আরো কিছু জিজ্ঞেস করতে যাচ্ছিল তখন ঠিক তার বয়সী একটা মেয়ে বাধা দিল, বলল, “মা, তুমি রাশাকে শান্তিমতো একটু খেতেও দিবা না? একটু খেতে বসেছে তখন হাজারটা প্রশ্ন।

    মহিলাটি তখন থতমত খেয়ে থেমে গেল। রাশা কৃতজ্ঞ চোখে মেয়েটার দিকে তাকাল, শুকনো ছিপছিপে তার বয়সী একটা মেয়ে।

    যখন সে বিদায় নিয়ে বের হচ্ছে তখন মেয়েটি তার সাথে সাথে বের হয়ে এলো। বাড়ির বাইরে এসে মেয়েটি তার হাত ধরে বলল, “তুমি কিছু মনে করো নাই তো?”

    মেয়েটি কী নিয়ে কথা বলছে রাশা বুঝতে পারল, তারপরেও সে না বোঝার ভান করে জিজ্ঞেস করল, “কী নিয়ে কিছু মনে করি নাই?”

    “এই যে আমার মা-ফুপু তোমাকে তোমার মায়ের কথা জিজ্ঞেস করে, তোমার বাবার কথা জিজ্ঞেস করে।”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “না, কিছু মনে করি নাই।”

    মেয়েটা মুখ শক্ত করে বলল, “কারো কোনো আক্কেল নাই। কখন কাকে কী জিজ্ঞেস করা যায় কেউ জানে না। এত বড় হয়েছে কিন্তু কারো বুদ্ধি হয় নাই। সবাই বাচ্চা মানুষের মতো।”

    মেয়েটার রাগ রাগ কথাগুলো শুনে রাশা হেসে ফেলল, এই গ্রামে অন্তত একজন মানুষ আছে যার খানিকটা কাণ্ডজ্ঞান আছে। রাশা জিজ্ঞেস করল, “তোমার নাম কী?”

    “জয়নব।”

    “তুমি কী পড়?”

    “ক্লাস সেভেনে উঠেছি টেনে টুনে।”

    রাশা বলল, “আমি এইটে। তুমি কোন স্কুলে পড়?”

    “স্কুলটার নাম আহাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়।”

    “কতদূর এখান থেকে?”

    “অনেক দূর। তিন মাইলের কম না। এখন তবু যাওয়া যায়। বর্ষার পানি নামলে আর যাওয়া যায় না।”

    “স্কুলটা কী রকম?”

    জয়নব হাসার চেষ্টা করে বলল, “গ্রামের স্কুল যেরকম হয়। কোনো লেখাপড়া হয় না। ক্লাস হয় না। স্যারের কাছে প্রাইভেট না পড়লে স্যারেরা পরীক্ষায় নম্বর দেয় না।”

    “ও।”

    “কোনোমতে স্কুল যাই। কতদিন লেখাপড়া করতে পারব জানি না।”

    “কেন?”

    “এতদূরে স্কুল, বাবা-মা যেতে দিতে চায় না। বলে মেয়েমানুষ লেখাপড়া করে কী করবে? বিয়ে করার পর তো রান্নাবান্না করেই জীবন কাটাতে হবে।”

    প্রতিবাদ করে কিছু একটা বলতে গিয়ে রাশা থেমে গেল। বলল, “ও।”

    জয়নব রাশার সাথে হাঁটতে হাঁটতে বলল, “আমি তোমার সাথে আসি?”

    রাশা খুশি হয়ে বলল, “হ্যাঁ আসো।”

    .

    রাশা সেদিন পুরো গ্রামটা ঘুরে শেষ করতে পারল না, তবে যে কয়টা বাড়িতে গেল জয়নব তাকে সেখানে দুটো জিনিস থেকে রক্ষা করল। কেউ তাকে তার বাবা-মায়ের বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করতে পারল না, কেউ তাকে কিছু জোর করে খাওয়াতেও পারল না।

    সন্ধ্যাবেলা রাশা যখন নানি বাড়ি ফিরে এলোসে আবিষ্কার করল, এই গ্রামে তার মন খুলে কথা বলার অন্তত একজন মানুষ হয়েছে। মানুষটি জয়নব।

    .

    রাশা পরের দিন গ্রামের অন্যান্য বাড়ি ঘুরে এলো। সাথে ছিল জয়নব, মাঝপথে জিতুও এসে যোগ দিল। গ্রাম ঘুরে ঘুরে রাশা কিছু মজার জিনিস জানতে পারল, যেমন প্রত্যেক গ্রামে একটা পাগল থাকে, যে পাগলকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হয় এবং যে ছাড়া পেলে তুলকালাম কাণ্ড করে ফেলে। এই গ্রামে সেরকম একজন পাগল আছে তার নাম নূরা পাগলা। তারা দূর থেকে নূরা পাগলাকে দেখল, দড়ি দিয়ে একটা খেজুর গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। গায়ে নোংরা কাপড়, মুখে দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল, সে বিড়বিড় করে কথা বলছে, যখন রাশা আর জয়নবকে দেখল তখন দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে তাদেরকে একটু ভয় দেখাল।

    প্রত্যেক গ্রামে একটা চোরও থাকে, এই গ্রামের চোরের নাম মাকিদ আলী কিন্তু সবাই তাকে ডাকে মাক্কু চোরা। গভীর রাতে সে নাকি সারা গায়ে তেল মেখে চুরি করতে বের হয়। নিজের গ্রামের জন্যে তার মায়া আছে তাই সে এখানে চুরি করে না। দূরে দূরে চুরি করতে যায়। তবে আশেপাশে দশ গ্রামে কোনো চুরি হলেই পুলিশ এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। সেটা তার জন্যে একটা যন্ত্রণা। মাক্কু চোরা দেখতে কেমন জিতুকে একটু জিজ্ঞেস করতেই জিতু তাদের নিয়ে মাক্কু চোরার বাড়িতে ঢুকে গেল। দাওয়ায় বসে খুবই শুকনো একটা মানুষ বিড়ি টানতে টানতে বাঁশের চাই দিয়ে একটা খলুই বানাচ্ছে, সে-ই নাকি মাক্কু চোরা। তাদের দেখে মাক্কু চোরা সন্দেহের চোখে তাকাল, জিতু বলল, “মাক্কু চাচা, বিদেশি অতিথ আসছে তাই সবার বাড়ি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।”

    মাক্কু চোরা বলল, “ও।”

    “এর বাবা লন্ডন থাকে।”

    তথ্যে ভুল আছে কিন্তু রাশা শুদ্ধ করে দেবার চেষ্টা করল না। মাক্কু চোরী বলল, “ও।”

    “মাস্টারবাড়ির নাতনি।”

    “ও।“

    “নাম হচ্ছে রাশা। শহরে থাকে তো সে জন্যে নাম ইটিস মিটিস।”

    মাক্কু চোরা বিড়িতে টান দিয়ে বলল, “ও।”

    জিতু আলাপ চালিয়ে যাবার জন্যে এর পরে কী বলত কে জানে কিন্তু তখন বাড়ির ভেতর থেকে একেবারে পরীর মতো সুন্দর একটা বউ বের হয়ে এল, রাশা তার জীবনে এত সুন্দর একটা মেয়ে দেখেনি। জিতু বলল, “চাচি বিদেশি অতিথ নিয়ে আসছিলাম।”

    পরীর মতো সুন্দর বউটা বলল, “অতিথকে গরিবের বাড়ি আনছ, বসতে দিব কোথায়?”

    রাশা বলল, “না, না–বসতে হবে না। আমরা এখন যাই। অনেক জায়গায় যেতে হবে তো।”

    রাশা জয়নব আর জিতুকে নিয়ে হেঁটে হেঁটে চলে যেতে যেতে একবার পিছন ফিরে তাকাল, পরীর মতো সুন্দর বউটি ঘরের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। রাশা নিশ্বাস আটকে রেখে ফিসফিস করে বলল, “ইশ! কী সুন্দর বউ!”

    জয়নব বলল, “হ্যাঁ। খুব সুন্দর।”

    “একজন চোর মানুষ কেমন করে এত সুন্দর একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে?”

    “জানি না।”

    “বউটা তার হাজবেন্ডকে চুরি করতে না করে না?”

    জানি না। বউয়ের কথা কেউ কি কোনোদিন শোনে?”

    .

    সব গ্রামে যেরকম একটা পাগল আর একটা চোর থাকে ঠিক সেরকম কিছু অপদার্থ মানুষও থাকে। এই অপদার্থ মানুষগুলোর একজনের সাথে ওদের রাস্তায় দেখা হয়ে গেল। তার পরনে চোঙ্গা প্যান্ট, ক্যান্ট ক্যাটে লাল রঙের টি-শার্ট আর চোখে কালো চশমা। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিল। রাশা, জয়নব আর জিতুকে দেখে সে ঘুরে তাকাল, জিতু আর জয়নব তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল তখন মানুষটা তাদের থামাল, জিজ্ঞেস করল, “কে জিতু নাকি? সাথে এইটা কে?”

    রাশাপু! মাস্টারবাড়ির নাতনি।”

    “ও।“

    “ঢাকা থেকে আসছে।”

    “ঢাকা থেকে এই গেরামে আসছে? এই গাঁও-গেরামে মানুষ থাকে নাকি? ইলেকট্রিসিটি নাই। টেলিভিশন নাই।”

    রাশা কোনো কথা বলল না। মানুষটা বলল, “আর এখানে থাকব না।” জিতু জানতে চাইল, “কই যাবেন?”

    “বিদেশ। পাসপোর্ট হয়ে গেছে।”

    “কোনদিন যাবেন?”

    “তারিখ ঠিক হয় নাই। দুবাই চলে যাব। বিশাল জায়গা। টাকা পয়সার ছড়াছড়ি, খালি ধরব আর পকেটে ভরব।” মানুষটা কেমন করে টাকা ধরে পকেটে ভরবে সেটা অভিনয় করে দেখাল।

    জয়নৰ বলল, “আমরা যাই।”

    তারপর রাশার হাত ধরে টেনে হাঁটতে থাকে। মানুষটা পিছন থেকে বলল, “বাবারে সালাম দিও। নতুন ওসি সাহেবকে নিয়ে একদিন তোমাদের বাড়িতে আসব।”

    রাশা নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, “কে মানুষটা?”

    “ফালতু মজিদ। এই গ্রামে দুইজন মজিদ, একজনের বাজারে একটা দোকান আছে। সে হচ্ছে আসল মজিদ। আর এ হচ্ছে ফালতু মজিদ। কোনো কামকাজ করে না, খালি বড় বড় কথা বলে!”

    রাশা মুখ টিপে হাসল, বলল, “লোকটার পোশাক দেখছ? একেবারে জোকার!”

    “হ্যাঁ। সবসময় পকেট থেকে চিরুনি বের করে চুল আঁচড়াচ্ছে।”

    .

    গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে তিনজন হেঁটে যেতে যেতে হঠাৎ জয়নব থেমে গেল। রাশা দেখল একটা পুকুরের পাশে একটা বড় গাছ, সেই গাছে হেলান দিয়ে একজন বয়স্ক মানুষ খুব মনোযোগ দিয়ে একটা বই পড়ছে। মানুষটা নিশ্চয়ই চোখে ভালো দেখতে পায় না। তাই বইটা চোখের খুব কাছে নিয়ে ধরেছে। তিনজন কথা বলতে বলতে আসছে সেটা শুনেও মানুষটা মুখ তুলে তাকাল না। জয়নব আর জিতু তখন কাছাকাছি গিয়ে বলল, “মালেকুম চাচাজি।”

    মানুষটা মুখ তুলে তাকাল, মাথায় পাকা চুল, চোখে চশমা, বলল, “ওয়ালাইকুম সালাম জয়নব বেটি। ওয়ালাইকুম সালাম জিতু মিয়া। তোমাদের সাথে এই মেয়েটি কে?”

    জয়নব বলল, “মাস্টারবাড়ির নাতনি।”

    জিতু যোগ করল, “রাশাপু।”

    মানুষটা তখন সোজা হয়ে বসে, বইয়ের পৃষ্ঠা ভঁজ করে রাখল, বলল, “তুমি আজিজ মাস্টারের নাতনি? একটু কাছে আসো, তোমাকে ভালো করে দেখি।”

    রাশা একটু এগিয়ে যায়, মানুষটা তার হাত ধরে সামনে বসিয়ে তাকে ভালো করে দেখল, তার মুখ কেমন একটা নরম হাসিতে ভরে যায়, তোমার চেহারায় আজিজ ভাই সাহেবের ছাড় আছে।

    রাশা ঠিক কী করবে বুঝতে পারল না। ইতস্তত করে বলল, আপনি আমার নাকে চিনতেন?

    মানুষটি একটা হাসল, বলল, চিনতাম বললে কম বলা হবে। তোমার নানা আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন! বুঝেছ? দুইজন মানুষের সাথে পৃথিবীর সবচেয়ে খাঁটি বন্ধুত্ব হয় কখন জানো? যখন দুইজন পাশাপাশি যুদ্ধ করে। তোমার নানা আর আমি একসাথে যুদ্ধ করেছি। তোমার নানা চিল আমাদের কামন্ডার।

    মানুষটি পুকুরের পানির দিকে তাকিয়ে তার চশমা খুলে শার্টের কোনা দিয়ে মুছে বলল, তোমার নানা ধরা পড়ার পর যখন তাকে ধরে নিয়ে গেল, বুঝলে মেয়ে, আমাদের মনে হলে আমাদের সব শেষ হয়ে গেল। ইস!

    রাশা একটু বিস্ময় নিয়ে এই বয়স্ক মানুটির দিকে তাকিয়ে রাইল, হঠাৎ করে সে বুঝতে পারল সে আসলে তার নানা কেমন মানুষ ছিলেন, কিভাবে মারা গিয়েছিলেন সে তার কিছুই জানে না।

    মানুষটি একটা নিশ্বাস ফেলে অন্যমনস্কভাবে বললত, আজিজ ভাই সাহেবকে আমি না করেছিলাম। বলেছিলাম এখন যাবেন না। তোমার মায়ের মাত্র জন্ম হয়েছে, দেখার জন্যে পাগল হয়ে গেল। এসে ধরা পড়ল। ভাবীর ওপর সেটা যে কী একটা ধাক্কা–আহারে! মানুষটা রাতারাতি অ্যাবনরমাল হয়ে গেল।

    রাশা কিছুই জানে না, তার খুব জানার ইচ্ছে করছিল, কিন্তু সে একটাও প্রশ্ন করল না। চুপ করে মানুষটার সামনে বসে রইল। মানুষটা বলল, সেই দেশের জন্যে তোমর নানা জান দিয়েছিল সেই দেখটাও বেঁচে আছি, চিন্তা করলে মাঝে মাঝে খুব অপরাধী লাগে।

    রাশা বলল, “অপরাধী লাগবে কেন?”

    “লাগার কথা না। কিন্তু অপরাধী লাগে। কী করব?” মানুষটা গলার স্বর পাল্টে বলল, “যাও মা। কোথায় যাচ্ছিলে যাও। বুড়ো মানুষ তো তোমাদের বয়সী মানুষ দেখলেই কথা বলতে ইচ্ছা করে। আর তুমি হচ্ছ-”

    “রাশা।”

    “হ্যাঁ। রাশা। তুমি হচ্ছ আজিজ ভাই সাহেবের নাতনি। তার মানে তুমি আমারও নাতনি। আমি হচ্ছি তোমার সালাম না।

    “সালাম নানা?”

    “হ্যাঁ। আজিজ নানার বন্ধু সালাম নানা।” মানুষটি রাশার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “আমি বুড়ো মানুষ নানা ডাকা ঠিক আছে। আজিজ ভাইয়ের সাথে কিন্তু নানা কথাটা যায় না। যখন শহীদ হয়েছে তখন তার বয়স তেইশ না হয় চব্বিশ। হাট্টাকাট্টা জোয়ান। কী সুন্দর রাজপুত্রের মতো চেহারা। কুচকুচে কালো চুল, যুদ্ধের সময় দাড়ি কাটতে পারে নাই বলে চে গুয়েভারার মতো দাড়ি। সে তো আমার মতো বুড়ো হয় নাই। তাকে কিন্তু

    তুমি নানা ডাকবে না।”

    “তাহলে কী ডাকব?”

    “ভাই ডাকবে। আজিজ ভাই।”

    মানুষটি গাছে হেলান দিয়ে ভারী চশমার ভেতর দিয়ে রাশার দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে রইলেন।

    সালাম নানার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসার সময় রাশা লক্ষ করল, গাছে দুটি ক্রাচ হেলান দিয়ে রাখা আছে। কাঠের ক্রাচ, অনেক ব্যবহারে মসৃণ হয়ে আছে। তার মানে সালাম নানার পা নেই।

    জয়নব বলল, “সালাম চাচা, আমাদের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধের সময় পায়ে গুলি খেয়েছিলেন, তাই পা কেটে ফেলেছে। ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটেন।”

    রাশা বলল, “ও।”

    “আমাদের গ্রামে দুইজন মুক্তিযোদ্ধা। একজন তোমার নানা–”

    “আমার ভাই।”

    জয়নব হাসল, বলল, “হ্যাঁ, তোমার ভাই, শহীদ। আরেকজন আমাদের সালাম চাচা।”

    “এই গ্রামে কোনো রাজাকার নাই?”

    “না। কোনো রাজাকার নাই। পাশের গ্রামে আছে।”

    “কী নাম?”

    “আহাদ আলী।”

    রাশা নামটা যেন কোথায় শুনেছে কিন্তু ঠিক মনে করতে পারল না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপ-রূপালী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article রাতুলের রাত রাতুলের দিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }