Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    রাশা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল এক পাতা গল্প245 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৮. মটকু মিয়া এবং অন্যেরা

    ০৮. মটকু মিয়া এবং অন্যেরা

    পুকুর ঘাটের একপাশে বুকপানিতে রাশা দাঁড়িয়ে আছে, অন্যপাশে জয়নব। জয়নব রাশাকে সাঁতার শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছে, গত কয়েকদিন থেকে তার প্র্যাকটিস চলছে।

    জয়নব বলল, “মাথাটা ডুবিয়ে তুই আমার কাছে চলে আয়।”

    রাশা বলল, “বলা খুব সোজা। মাথা ডুবিয়ে চলে আসব কিভাবে? মাথা ডোবালে নাকে-মুখে-চোখে পানি ঢুকে যাবে না?”

    জয়নব বলল, “না যাবে না। মাথা ডুবিয়ে সাঁতার শেখা সবচেয়ে সোজা। যখন শিখে যাবি তখন আস্তে আস্তে মাথাটা পানি থেকে বের করা শিখবি। আয়, চলে আয়।”

    রাশা বলল, “ভয় করে।”

    জয়নব বলল, “ভয়ের কী আছে? আমি আছি না? আয়।”

    রাশা বলল, “তবু ভয় করে।”

    জয়নব বলল, “তুই হচ্ছিস একটা ভীতুর ডিম! ঠিক আছে আমি কাছে আসছি, আমি তোকে ধরে রাখছি, এখন আয়।”

    রাশা জয়নবকে ধরে হাত-পা ছুঁড়ে অনেক পানি ছিটিয়ে সাঁতার দেয়ার চেষ্টা করল, তার ফলে যেটা ঘটল সেটাকে আর যাই হোক সাঁতার দেয়া বলে না।

    এ রকম সময় জিতু এসে হাজির, সে খানিকক্ষণ মনোযোগ দিয়ে রাশার হাত-পা ছুঁড়ে সাঁতার দেয়ার চেষ্টাটা দেখল, তারপর হি হি করে হাসতে শুরু করল। রাশা তার পানি ছিটানো বন্ধ করে বলল, “কী হয়েছে? তুই এরকম দাঁত কেলিয়ে হাসছিস কেন?”

    “তুমি যদি এইভাবে আরো কয়দিন সাঁতার শেখার চেষ্টা করো তাহলে পুকুরের সব পানি পাড়ে উঠে যাবে।”

    “ঢং করবি না। তুই যখন প্রথম সাঁতার শিখেছিলি তখন তুইও নিশ্চয়ই এইভাবে সাঁতার শিখেছিলি।”

    জিতু মিয়া মাথা নাড়ল, বলল, “উঁহু আমি সাঁতার শিখেছি এক ঘণ্টায়।”

    “মিছে কথা বলবি না। মানুষ একঘন্টায় সাঁতার শিখতেই পারে না।”

    “আমি শিখেছিলাম।”

    “কিভাবে?”

    “আমার বাবা আমাকে ধরে পানিতে ফেলে দিয়েছিল।”

    “কী করেছিল?”

    “পানিতে ফেলে দিয়েছিল।”

    রাশা চোখ কপালে তুলে বলল, “তুই সাঁতার জানিস না আর তোর বাবা তোকে পানিতে ফেলে দিল?”

    “হ্যাঁ।”

    “তারপর?”

    “আমি পানি খেতে খেতে ডুবে গেলাম। যখন মরে যাচ্ছি তখন বাবা ঘাড় ধরে ওপরে তুলেছে। একটু নিশ্বাস নিয়ে যখন ঠিক হয়েছি, তখন আবার পানিতে ফেলে দিল।”

    “সত্যি?”

    “হ্যাঁ। আমি তখন জান বাঁচানোর জন্যে কোনোমতে ভাসার চেষ্টা করি–যখন পারি না ভুবে যাই, নাকে দিয়ে মুখে দিয়ে পানি ঢোকে তখন বাবা ঘাড় ধরে টেনে তোলে। নিশ্বাস নেবার জন্যে একটু সময় দেয়। দুই একবার নিশ্বাস নেবার পর আবার পানিতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।”

    “খবরদার মিছে কথা বলবি না।”

    “খোদার কসম, মিছা কথা না। এইভাবে কয়েকবার করার পর ভেসে থাকা শিখে গেলাম। একঘন্টার মাঝে।”

    রাশা বুক থেকে একটা নিশ্বাস বের করে দিয়ে বলল, “কী সর্বনাশ! তোর বাবার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করা উচিত ছিল।”

    জিতু হি হি করে হেসে বলল, “রাশাপু তুমি আজিব! এক্কেবারে আজিব।”

    রাশা বলল, “ঠিক আছে আমি আজিব হলে আজিব। তুই আমাকে ডিস্টার্ব করবি না।”

    জিতু খানিকক্ষণ রাশার সাঁতার শেখার কসরত দেখে হতাশভাবে মাথা নেড়ে জয়নবকে বলল, “জয়নব বুবু তুমি রাশাপুকে সাঁতার শেখাতে পারবে না। আমার কাছে দাও, আমি শিখিয়ে দিই।”

    রাশ জিজ্ঞেস করল, “তুই কেমন করে শিখাবি?”

    “ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দিব। রাশাপু একটু পানি খেয়েটেয়ে সাঁতার দিয়ে পাড়ে উঠবে।”

    রাশা চিৎকার করে উঠল, “জিতু, তোকে আমি খুন করে ফেলব। এক্কেবারে খুন করে ফেলব। খবরদার আমার কাছে আসবি না। আমার একশ মাইলের ভিতরে তুই আসবি না।”

    জিতু রাশার আতঙ্কটা উপভোগ করে হি হি করে খানিকক্ষণ হাসিল তারপর নিজের শার্ট খুলে পুকুর ঘাটে রেখে ঝপাং করে একটা লাফ দিয়ে পানিতে পড়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। অনেকক্ষণ পর ভুস করে পুকুরের মাঝামাঝি সে ভেসে ওঠে। দেখে মনে হয় সে যে পানিতে আছে সেটা তার মনেই নেই। হাত-পা কিছু না নাড়িয়ে পানিতে সে শুয়ে থাকতে পারে, কে জানে মনে হয় ঘুমিয়েও যেতে পারে। রাশা জিতুর দিকে হিংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

    অনেকবার অনেকভাবে চেষ্টা করেও রাশা যখন কোনোভাবেই ভেসে থাকতে পারল না, যখন সে প্রায় সাঁতার শেখার আশা ছেড়েই দিল ঠিক তখন সে হঠাৎ করে খানিকটা জায়গা পানিতে ভেসে চলে এলো। জয়নব খুশি হয়ে বলল, “এই তো হয়ে গেছে! তোর আর কোনো চিন্তা নাই! তুই এইবারে সাঁতার শিখে যাবি।”

    রাশা চোখ বড় বড় করে বলল, “সত্যি?”

    “সত্যি!”

    জয়নবের কথা সত্যি বের হলো। গত কয়েকদিন রাশা কতবার কতভাবে ভাসার চেষ্টা করেছে, পারেনি, এখন হঠাৎ করে সে ভেসে থাকতে পারছে। ব্যাপারটা কিভাবে সম্ভব রাশা কিছুতেই বুঝতে পারল না, একটা মানুষ একসময় ভেসে থাকতে পারে না, পানিতে ছেড়ে দিলে মারবেলের মতো ডুবে যায়। সেই মানুষটাই আবার একসময় পানিতে ভেসে থাকতে পারে তাকে তখন চেষ্টা করেও ডোবানো যায় না! জিতুকে দেখেছে শরীরের একটা আঙুলও না নাড়িয়ে সে পানিতে ভেসে থাকে!

    পরের কয়েকদিন রাশাকে পানি থেকে সহজে তোলা গেল না। পানিতে ডুবে থাকতে থাকতে তার আঙুলগুলি হয়ে যেত শুকনো কিশমিশের মতো, যখন পানি থেকে শেষ পর্যন্ত সে উঠত তখন তার চোখ হতো টকটকে লাল এবং তার চারপাশের সবকিছু কেমন যেন ধোঁয়া ধোঁয়া দেখাত। আজকাল যখন সে খেতে বসে তখন আবিষ্কার করে তার খিদে পায় রাক্ষসের মতো, পিঁড়িতে বসে সে একগাদা ভাত খেয়ে ফেলে! প্রথম যখন সে এখানে এসেছিল তার গায়ের রং ছিল ইটের নিচে চাপা পড়ে থাকা ঘাসের মতো বর্ণহীন ফর্সা, এখন তার গায়ের রং হয়েছে তামাটে বাদামি। সেখানে বিচিত্র একধরনের সজীবতা, রাশা নিজেকে দেখে নিজেই কেমন অবাক হয়ে যায়। তিন মাইল হেঁটে স্কুলে যায়, তিন মাইল হেঁটে ফিরে আসে, সাঁতরে পুকুর এপার-ওপার করতে পারে অবলীলায়। নিজের ভেতরে সে কেমন যেন শক্তি অনুভব করে। দৈহিক একধরনের শক্তি। যে শক্তি তার আগে কখনো ছিল না।

    সাঁতার শেখার পর রাশা গাছে ওঠা শেখায় মন দিল। এখানে তার ওস্তাদের দায়িত্ব পালন করল মতি। রাশা আবিষ্কার করল গাছে চড়তে শেখা সাঁতার শেখার মতো এত কঠিন না। কাজটা অনেক সহজ, গাছে চড়ার জন্যে দরকার খানিকটা সাহস আর অনেকখানি আত্মবিশ্বাস। জয়নব রাশাকে সাঁতার শিখিয়েছে অনেক আগ্রহ করে কিন্তু দেখা গেল তার গাছে চড়ার ব্যাপারে জয়নবের আগ্রহ অনেক কম। রাশা যখন পেয়ারা গাছ, আমগাহু চড়া শেষ করে একটা নারকেল গাছে চড়া শেখার চেষ্টা করতে লাগল, তখন জয়নব তাকে বাধা দিল। বলল, “দেখ রাশা, এটা কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।”

    “কোনটা?”

    “এই যে নারকেল গাছে ওঠা শেখার চেষ্টা করছিস।”

    “কেন? এটা বাড়াবাড়ি কেন?”

    “সবকিছুর একটা নিয়ম আছে। কিছু কিছু কাজ হচ্ছে পুরুষ মানুষের, কিছু কিছু কাজ মেয়ে মানুষের।”

    রাশা মাথা নাড়ল, বলল, “এটা সত্যি না। যে কাজ পুরুষ মানুষ করতে পারে, সেই কাজ মেয়ে মানুষেও পারে।”

    “ঠিক আছে তুই তাহলে একজন মেয়ে মানুষকে বল দাড়ি কামাতে।”

    রাশা মুখ শক্ত করে বলল, “সেটা অন্য জিনিস। মেয়েদের দাড়ি না উঠলে সেটা কামাবে কেমন করে?”

    “মোটও অন্য জিনিস না। কিছু কিছু জিনিস মেয়েদের করা ঠিক না। মেয়েদের নারকেল গাছে ওঠা ঠিক না।”

    “কেন?”

    “তুই চিন্তা করে দেখ, বানরের মতো তুই নারকেল গাছে উঠছিস, পী বাঁকিয়ে গাছটাকে খিমচে ধরে রাখছিস, দৃশ্যটা কী সুন্দর হলো? মোটেও সুন্দর দৃশ্য না। দৃশ্যটা জঘন্য!”

    রাশা এত সহজে হাল ছেড়ে দেয়ার মানুষ না, কিন্তু জয়নব তখন অন্য একটা কায়দা করল। সে রাশার ওস্তাদ মতিকে ভয় দেখিয়ে বলল, মতি যদি রাশাকে নারকেল গাছে ওঠার তালিম দেয় তাহলে জয়নব তার ঠ্যাং ভেঙে দেবে! জয়নব চুপচাপ মানুষ কিন্তু তার পরিচিতরা তাকে বেশ সমীহ করে চলে। তাই মতি পিছিয়ে গেল, রাশার আর নারকেল গাছে চড়া শেখা হলো না।

    মতি তাকে নারকেল গাছে চড়া না শেখালেও অন্য একটি জিনিস শেখাল সেটা হচ্ছে পাখি ধরার ফাঁদ দিয়ে বক ধরা। ফাঁদটা সে তৈরি করে নিজে। এক-দেড় হাত লম্বা একটা গাছের ডাল কেটে নেয় যেটা সামনে দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। ডালের একমাথায় সাইকেলের একটা স্পেক গেঁথে নেয়। স্পোকের মাথায় শক্ত সুতোয় একটু ফাঁস লাগানো থাকে, পাখির খাবার জন্যে কিছু একটা রাখা হয়, বক যখন সেখানে ঠোকর দেয় সাথে সাথে তার গলায় ফাসটা আটকে যায়। পাখির এই ফাঁদের সবকিছুই রাশা খুব আগ্রহ নিয়ে দেখেছে, কিন্তু যখন তার খাবারটা দেখল তার গা গুলিয়ে এলো। সেখানে রাখা হয়েছে জীবন্ত এবং পুরুষ্ট একটা তেলাপোকা!

    মতির সাথে সাথে রাশা ধানক্ষেতে গিয়ে ফাঁদ পেতে এসেছে তারপর দূরে একটা বটগাছের ছায়ায় বসে অপেক্ষা করেছে। মতি বলেছে বক ধরা খুব সহজ নয়, দুই-চারদিনে হয়তো একটা বক ধরা পড়বে, কিন্তু রাশার কপাল ভালো প্রথম দিনেই একটা বক ধরা পড়ল। ফঁদে আটকে পড়ে বকটা যখন ছট ফট করছে তখন মতির সাথে সাথে রাশা ছুটে গিয়েছে, গলা থেকে ফস খুলে মতি শক্ত করে বকটাকে ধরে রেখে রাশাকে বলল, “রাশবু, বক থেকে খুব সাবধান।”

    “কেন?”

    “বক কিন্তু ঠোকর দিয়ে তোমার চোখ গেলে দেবে।”

    মতির হাতে বকটাকে দেখে এত শান্তশিষ্ট আর নিরীহ মনে হচ্ছিল যে রাশার বিশ্বাসই হচ্ছিল না এই বক ঠোকর দিয়ে কারো চোখ গেলে দিতে পারে। তারপরেও সে সাবধানে থাকল! মতি তাকে বকটা দিয়ে এটাকে পোষার জন্যে কী করতে হবে, দুই বেলা কখন কী খাওয়াতে হবে সবকিছু বলে দিল।

    রাশা বকটাকে বাড়ি এনে একটা ঝাঁপির নিচে আটকে রাখল। মতির উপদেশমতো সে তাকে খেতে দিয়েছে কিন্তু বুকটা সেই খাবার ছুঁয়েই দেখল না। সারাক্ষণ সে ঋপির ভেতরে অস্থিরভাবে এক মাথা থেকে আরেক মাথায় হেঁটে বেড়াতে লাগল। পারবে না জেনেও বকটা বারবার বের হয়ে যাবার চেষ্টা করে। মানুষের যখন মন খারাপ হয় তখন তার মুখ দেখে বোঝা যায় পাখিদের বেলায় সেরকম কিছু নেই। বকটার চোখ-মুখ দেখে বোঝার কোনো উপায়ই নেই যে তার মন খারাপ, কিন্তু সারাক্ষণ তার হাঁটাহাঁটি দেখে বোঝা যাচ্ছে তার মনটা খুব খারাপ। হয়তো এই বকটা মা বক, তার বাচ্চাদের রেখে তাদের জন্যে খাবার নিতে এসেছিল। হয়তো এখন তার বাচ্চারা মায়ের জন্যে অপেক্ষা করছে, মা আর আসছে না। ব্যাপারটা চিন্তা করে রাশার কেমন জানি মন খারাপ হয়ে গেল। বিকেলবেলা সে ঝাঁপির ভেতর হাত ঢুকিয়ে বকটাকে বের করে এনে গায়ে হাত বুলিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তোকে আমি ছেড়ে দিচ্ছি, তুই তোর বাচ্চাদের কাছে যা। যাবার সময় দুইটা টেংরা মাছ ধরে নিয়ে যাস। ঠিক আছে? আর শোন, একটু ভদ্র ব্যবহার করা শিখবি। ঠোকর দিয়ে মানুষের চোখ গেলে দেওয়া এইটা আবার কী রকম অভ্যাস। আর যদি এটা শুনি তাহলে কিন্তু ভালো হবে না–”

    তারপর রাশা বকটাকে উপরের দিকে ছুঁড়ে দিল, সাথে সাথে সেটা ডানা ঝাঁপটিয়ে উঠে যায়, মাথার উপরে একটা চক্কর দিয়ে সেটা ধানক্ষেতের দিকে উড়ে গেল। রাশার স্পষ্ট মনে হলো সেটা তার মাথার উপর চক্কর দিয়েছে তাকে থ্যাংকু বলার জন্যে।

    .

    রাশা জিতুর কাছ থেকে শিখল কেমন করে ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে হয়। মাছ ধরার জন্যে দরকার টোপ আর জিতুর মতে মাছের সবচেয়ে পছন্দের টোপ হচ্ছে কেঁচো। শুনেই রাশার গা ঘিন ঘিন করে উঠল, কিন্তু তার পরেও সে জিতুর পিছে পিছে গেল। সঁতসেঁতে জায়গায় ছোট ছোট যে মাটির টিবি সেগুলো নাকি কেঁচোর পেট থেকে বের হয়েছে। একটা কোদাল দিয়ে সেরকম একটা জায়গায় কোপ দিতেই অসংখ্য ছোট-বড় মাঝারি কেঁচো কিলবিল করে বের হয়ে এলো। একটা কচু পাতায় খানিকটা মাটি রেখে তার মাঝে জিতু কয়েকটা পুরুষ্ট কেঁচো এনে ছেড়ে দেয়। তারপর দুটো ছিপ আর মাছ রাখার জন্যে একটু চোপড়া নিয়ে সে রাশাকে নিয়ে বের হয়ে গেল। গ্রামের এক কোনায় গাছগাছালি দিয়ে ঢাকা একটা মজা পুকুরে এসে জিতু ছিপ ফেলল। ছিপের বড়শিতে টোপ লাগানোর বিষয়টি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। জিতু নখ দিয়ে ঘামচি মেরে কেঁচোর খানিকটা ছিঁড়ে নেয় তারপর সেটা বড়শিতে গেঁথে ফেলে। রাশা অবাক হয়ে দেখে যে অংশটা ছিঁড়ে বড়শিতে লাগানো হয়েছে আর যে অংশটা রয়ে গেছে দুটোই কিলবিল করে নড়ছে। কী আশ্চর্য! কী ঘেন্না!

    ছিপ ফেলে রাশা ফাতনার দিকে তাকিয়ে রইল। একটু পর হঠাৎ সেটা টুকটুক করে নড়তে থাকে। জিতু বলল, “মাছ ঠোকরাচ্ছে।”

    “তুলব?”

    “না–না–এখনই না। যখন ফাতনা ডুবে যাবে তখন।” রাশা অপেক্ষা করতে থাকে কিন্তু ফাতনা আর ডোবে না। শেষে ছিপটা তুলে দেখে মাছ টোপটা খেয়ে চলে গেছে! জিতু বলল, “মাছদের অনেক বুদ্ধি! খুব সাবধানে শুধু টোপটা খায়, বড়শিটা গিলে না।”

    রাশা বলল, “এখন কী করব?”

    “নূতন করে টোপ লাগাও।”

    “আমি?”

    “নয়তো কে? মাছ ধরতে এসেছ তুমি আর টোপ লাগাবে আরেকজন?” রাশা জীবনে কখনো কল্পনা করে নি যে সে নখ দিয়ে লাল রঙের পুরুষ্ট একটা কেঁচোকে ছিঁড়ে ফেলবে। সেটা তার হাতে কিলবিল করতে থাকবে এবং সে চিৎকার না দিয়ে শান্তভাবে ভেঁড়া অংশটা বড়শিতে গেঁথে ফেলবে। কিন্তু সে সেটাই করল এবং সেটা করার সময় সে ঘেন্নায় বমি পর্যন্ত করে দিল না।

    দ্বিতীয়বার ছিপটা ফেলার কিছুক্ষণের ভেতরেই ফাতনাটা নড়তে থাকে তারপর হঠাৎ সেটা ডুবে গেল, সাথে সাথে রাশা টান মেরে ছিপটা তুলে ধরে! আর কী আশ্চর্য ছিপের মাথায় কুচকুচে কালো রঙের ভয়ঙ্কর একটা মাছ কিলবিল কিলবিল করছে।

    জিতু আনন্দে চিৎকার করে উঠল, “ইস! কত বড় মাগুর মাছ।”

    “এইটা মাগুর মাছ? দেখে তো সাপের ভাতিজা মনে হচ্ছে।“

    “ধুর। সাপের ভাতিজা কেন হবে? এটা মাগুর মাছ। মাগুর মাছ খেতে খুব মজা।”

    মাগুর মাছটা ছটফট করতে থাকে, জিতু মুখ থেকে বড়শিটা খুলে খলুইয়ের ভেতর রেখে দেয়। রাশা অবাক হয়ে মাছটার দিকে তাকিয়ে থাকে–তার জীবনের প্রথম ধরা একটি মাছ। কুতকুতে দুটি চোখে সেই মাছ তার দিকে তাকিয়ে আছে। রাশা বলল, “আমার কী মনে হয় জানিস?”

    “কী?”

    “এটা আসলে মাছ না।”

    “এটা তাহলে কী?”

    “এটা আসলে একটা রাজকন্যা।”

    “রাজকন্যা?”

    “হ্যাঁ। একজন সন্ন্যাসী অভিশাপ দিয়ে এটাকে মাগুর মাছ বানিয়ে ফেলে এই পুকুরের নিচে রেখে গেছে।”

    জিতু মিয়ার চোখে পরিষ্কার একটা ভয়ের ছাপ পড়ল, সে শুকনো গলায় বলল, “তোমার তাই মনে হচ্ছে?”

    “হ্যাঁ। দেখছিস না কেমন করে তাকাচ্ছে। পরিষ্কার মনে হচ্ছে বলতে চাইছে আমাকে ছেড়ে দাও, পিজ ছেড়ে দাও। যখন আমার অভিসাপ কেটে যাবে তখন আমি আবার রাজকন্যা হয়ে যাব। কিন্তু যদি কেটেকুটে খেয়ে ফেল তাহলে আর রাজকন্যা হতে পারব না।

    রাশা এমন করে গলার মাঝে আবেগ দিয়ে কথাটা বলল যে জিতু বিভ্রান্ত হয়ে গেল। বলল, তাহলে কী করব? ছেড়ে দেব?

    রাজেই রাশা আর জিতু অভিশপ্ত রাজকন্যাকে আবার মজা পুকুরটাতে ছেড়ে দিল। এতে অবশ্যি একটা লাভ হলো, ফিরে এলে জিতু যখনই এই মাগুর মাছটার গল্প করছিল তখন হাত দিয়ে সেটা কত বড় দেখানোর সময় তার আর কোনো বাধা-নিষধ থাকল না। কার সাথে গল্প করছে তার ওপর নির্ভর করে সে মাছটার সাইজটাও বড় থেকে বড় করতে লাগল।

    রাশা যে শুধু গাছে চড়া শিখল, সাঁতার শিখল, কক আর মাছ ধরা শিখল না নয়, সে গ্রামের গাছগাছালিও চিনতে শিখল। এ ব্যাপারে তার নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষক নেই–সবাই কম বেশি তার শিক্ষক। যেমন নানি হঠাৎ করে পুকুর পাড় থেকে কোনো একধরনের লতাপাড়া ভেঙে এনে বেঁধে ফেলেন সেগুলো নাকি কলমি শাক। কিংবা জয়নব ছোট ছোট একধরনের গাছ তার সারা ফুল আর ফল দেখিয়ে বলে, এই গাছ থেকে খুব সাবধান। এটা হচ্ছে ধুতুরা গাছ। ধুতুরার সবকিছু হচ্ছে বিষ।

    রাশা গাছটা আরো করে চিনে রাখে, বলে যদি কখনো মরে যেতে চাই তাহলে এই গাছের ফল খেলেই হবে?

    জয়নব মাথা নেড়ে বলে, ছিঃ! এরকম বলে না। তুই মরে যেতে চাইবি কেন?

    জিতু খুন নিরীহ ছোট একটা গাছ দেখিয়ে বলে, এই যে, এইটে হচ্ছে চুতরা গাছ। বুঝলে রাশাপু তুমি যদি কাউকে একটা শিক্ষা দিতে চাও তাহলে এই গাছটা নিয়ে তার ঘাড়ের মাঝে লাগিয়ে দিবে। তাহলে সে বুঝবে মজা।”

    “কী মজা?”

    “চুলকাতে চুলকাতে তার বারটা বেজে যাবে।” দৃশ্যটা কল্পনা করে জিতুর নিশ্চয়ই অনেক আনন্দ হলো কারণ তার চোখে-মুখে আনন্দের একটা আভা ফুটে উঠল।

    রাশা ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “অরি আমি যে গাছটা হাত দিয়ে ধরব তখন আমার হাত চুলকাবে না?”

    “সাবধানে ধরবে। গাছের গোড়ায় ধরবে তাহলে চুলকাবে না। পাতাটা যেন হাতে না লাগে খুব সাবধান।”

    এরকম অসংখ্য বিষয়ে রাশার জ্ঞান বাড়তে থাকে, সব জ্ঞানই যে তার জীবনে কাজে লাগবে তা নয় কিন্তু কোনো জ্ঞান তো আর ফেলে দেয়া যায় না! সে চাইছে কি না চাইছে তাতে কিছু আসে যায় না। হাজার রকমের প্রয়োজনীয় আর অপ্রয়োজনীয় জ্ঞান তার মাথার ভেতরে এসে জমা হতে থাকে।

    শুধু রাশার মাঝে যে জ্ঞান জমা হতে থাকে তা নয় সে নিজেও কিছু কিছু জ্ঞান অন্যদের মাঝে বিতরণ করল। যেমন ধরা যাক, জেঁকের ব্যাপারটা।

    একদিন স্কুল থেকে আসছে, রাশার মনে হলো তার পায়ের কাছে একটু চুলকাচ্ছে, পা দিয়ে সেখানে একটু ঘষা দিয়ে সে হাঁটতে থাকে। যখন বাড়ির কাছাকাছি এসেছে তখন হঠাৎ মতি চিৎকার করে বলল, “রাশা বুবু। দাঁড়াও।”

    রাশা ভয় পেয়ে বলল, “কী হয়েছে?”

    “জোক।”

    “জোক?” রাশা এবারে জোরে চিৎকার করে বলল, “কোথায়?”

    “তোমার পায়ে।”

    রাশা তখন আতঙ্কে লাফাতে থাকে, কী করবে বুঝতে পারে না। মতি বলল, “নড়বে না, তুমি নড়বে না।”

    রাশার প্রায় হার্টফেল করার অবস্থা, কিন্তু তারপরেও সে স্থির হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল, তখন যে কয়জন ছিল সবাই তার ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ল। রাশা দেখল কালোমতন তেলতেলে পিছলে একটা জিনিস তার গোড়ালিতে কামড়ে ধরে আছে। মতি সেটাকে টেনে ছোটানোর চেষ্টা করল, জিনিসটা রবারের মতন যতই টানা হয় ততই লম্বা হয় কিন্তু ছোটানো যায় না। কয়েকবার চেষ্টা করার পর শেষ পর্যন্ত সেটা ছুটে এলো। জোকটাকে মাটিতে ফেলে মতি পা দিয়ে সেটাকে পিষে ফেলতে যাচ্ছিল, রাশা তাকে থামাল, বলল, “দাঁড়া দাঁড়া।

    “কী হয়েছে?”

    “জোঁকটাকে মারিস না।”

    “কেন?”

    “কাজ আছে আমার।”

    “কী কাজ?”

    রাশা তার পায়ের গোড়াল্টিা দেখল, যেখানে জোকটা ধরেছে সেখান থেকে রক্ত বের হচ্ছে, সে জানে কিছুক্ষণ রক্ত বের হবে। ইন্টারনেটে সে পড়েছিল জোকের লালায় ব্যথানাশক জিনিস থাকে সেই জন্যে সে একটুও ব্যথা পায়নি, প্রথম যখন ধরছে তখন শুধু একটু চুলকিয়েছে। জোকের লালায় আরো একটা জিনিস থাকে যেটা দিয়ে সে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। সে জন্যে জোক এত নিশ্চিন্ত আরামে রক্ত খেতে পারে।

    রক্ত খেয়ে সেঁকটা মোটা ঢোলের মতো হয়েছে এখন সে ধীরে ধীরে সরে যেতে চেষ্টা করল। রাশা বলল, “এই জোকটাকে ধরে নিতে হবে।”

    “কী করবি।”

    “পালব।”

    জয়নব বলল, “পালবি? ছিঃ!”

    রাশা বলল, “জোক হচ্ছে একটা অসাধারণ জিনিস। আমি বইয়ে পড়েছি একটা জোক যদি ভালো করে একবার রক্ত খেতে পারে তাহলে পরে টানা দুই বছর সে কিছু না খেয়ে থাকতে পারে।”

    “যাহ।”

    “সত্যি কথা। আমার তো মনে হয় এই ব্যাটা বদমাইশটা ভালো করেই আমার রক্ত খেয়েছে, এখন দেখি এইটা কত দিন না খেয়ে থাকতে পারে।”

    জিতুর চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল, বলল, “তুমি সত্যি এটা পালবে?”

    “হ্যাঁ। একটা বোতলের মাঝে পানি রেখে ছেড়ে দেব, দেখিস এটা কমপক্ষে একবছর বেঁচে থাকবে। তা ছাড়া আরো একটা জিনিস হবে।”

    “কী হবে?”

    “জোঁক বাতাসের চাপ বুঝতে পারে। ঝড় আসার আগে আগে দেখবি জোক পানি থেকে বের হয়ে আসবে।”

    “যাহ।”

    রাশা বলল, “সত্যি কথা। আমি ইন্টারনেটে পড়েছি।”

    .

    কাজেই জেঁকটাকে খুব সাবধানে বাড়ি এনে একটা প্লাস্টিকের বোতলে পানি ভরে সেখানে ছেড়ে দেয়া হলো। সেঁকটা বেশ আনন্দেই সেখানে ঘোরাঘুরি করতে লাগল।

    রাশা বলল, “এই জোকটার একটা নাম দিতে হবে।”

    “কী নাম দেবে?” জিতু মিয়ার চোখ আনন্দে চকচক করতে থাকে।

    “তোরা বল।”

    “তোমার রক্ত খেয়েছে, তাই এটার নাম দাও রক্তখেকো।”

    “উঁহু। এটা বেশি কঠিন নাম, সোজা দেখে একটা নাম দে।”

    “রক্ত খেয়ে যেমন ভোটকা হয়েছে। তাহলে এটার নাম দাও ভোটকা মিয়া। না হয় মটকু মিয়া।”

    রাশা বলল, “ মটকু মিয়া নামটা ভালো। মটকু মিয়া নামটাই দেয়া যাক। কী বলিস?”

    সবাই মাথা নেড়ে রাজি হয়ে গেল।

    নানি অবশ্যি মটকু মিয়াকে দেখে নাক-মুখ কুঁচকে বললেন, “জোঁক? বোতলের ভিতরে জোঁক? রাশা তোর কি ঘেন্না বলে কিছু নাই?”

    “নানি এটার নাম হচ্ছে মটকু মিয়া।”

    “জোঁকের আবার নামও আছে?”

    “হ্যাঁ নানি। আমার রক্ত খেয়ে মোটা হয়েছে তাই মটকু মিয়া।”

    “তুই আর কী কী রাখবি, আগের থেকে শুনে রাখি। সাপ, ব্যাঙ, বিছা?”

    “না নানি, আর কিছু রাখব না। এই জোকটা আসলে হচ্ছে ব্যারোমিটার। যদি দেখো এটা পানি থেকে বের হয়ে উপরে উঠে যায় তাহলে বুঝবে সেদিন ঝড় হবে।”

    নানি মাথা নাড়লেন, বললেন, “ঝড় হবে কি হবে না সেটা দেখার জন্যে তোর জোককে দেখতে হবে না। আকাশের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে।”

    গ্রামে এমন কোনো মানুষ নেই কিংবা এমন কোনো গরু-ছাগল নেই যাকে সেঁক কামড়ায়নি, কাজেই জোঁক নিয়ে কারো আলাদা কৌতূহল থাকার কথা নয়, তারপরও মটকু মিয়া এখানকার সবার মাঝে জনপ্রিয় হয়ে গেল। এদিকে কেউ এলেই মটকু মিয়াকে একনজর দেখে যায়। মটকু মিয়া নিরিবিলি পানিতে গুটিশুটি মেরে শুয়ে বসে থাকে, তাকে ঘিরে যে অনেক উত্তেজনা সেটা সে জানেও না।

    তবে মটকু মিয়া রাশার সম্মানটা নষ্ট করল না। একদিন দুপুরবেলা খুব গরম, কেমন যেন দম আটকানো একটা পরিবেশ। নানি বললেন, “দিনটা ভালো লাগছে না।”

    রাশা বলল, “কেন নানি? দিনটা ভালো লাগছে না কেন?”

    “ঝড় হবে মনে হয়।”

    রাশা তখন তার মটকু মিয়াকে নিয়ে আসে, সত্যি সত্যি সেটা পানি থেকে বের হয়ে উপরে উঠে এসেছে। রাশা বলল, “নানি! তুমি ঠিকই বলেছ। এই দেখো মটকু মিয়া পানি থেকে বের হয়ে এসেছে। মনে হয় আজকে আসলেই ঝড় হবে।”

    আসলেই কিছুক্ষণের মাঝে আকাশের এক কোনায় এক টুকরো কালো মেঘ দেখা গেল, তারপর দেখতে দেখতে পুরো আকাশ কালো হয়ে উঠল। রাশা নিশ্বাস বন্ধ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে, সে কখনো এমন কুচকুচে কালো এমন ক্রুদ্ধ আর এমন ভয়ঙ্কর আকাশ দেখেনি। কিছুক্ষণের মাঝে আকাশ চিরে বিদ্যুৎ ঝলকে উঠতে থাকে, সাথে সাথে মেঘের গুরুগম্ভীর গর্জন। প্রথমে এতটুকু বাতাস নেই, তারপর হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা দমকা হাওয়া এলো, গাছের পাতা, খড়কুটো উড়তে থাকে, ধুলায় চারিদিক ঢেকে যায়। গরু-বাছুর গলা ছেড়ে ডাকতে ডাকতে ছুটতে থাকে, পাখি তার স্বরে শব্দ করতে করতে উড়তে থাকে! রাশা বাইরে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে ছিল, বাতাসের ঝাঁপটার জন্যে পরিচিত মাঠঘাট, গাছপালা সবকিছুকে কী বিচিত্র দেখাচ্ছে, মনে হচ্ছে তাকে বুঝি বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যাবে।

    নানি চিৎকার করে ডাকলেন, “রাশ ভিতরে আয়। এক্ষুণি ঝড় শুরু হবে।”

    “আমি বাইরে থাকি নানি? বৃষ্টিতে ভিজি?” নানি অবাক হয়ে রাশার দিকে তাকালেন, জিজ্ঞেস করলেন, “কী বললি?”

    “বলেছি বৃষ্টিতে ভিজি?”

    নানি কয়েক মুহূর্ত রাশার দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর বললেন, “ঠিক আছে।”

    রাশা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রইল, প্রথমে বড় বড় কয়েকটা পানির ফোঁটা পড়ল, তারপর আরো কয়েকটা, তারপর আরো কয়েকটা। তারপর ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়তে লাগল। রাশা তার দুই হাত দুদিকে ছড়িয়ে মুখ উপরে তুলে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে নাচতে থাকে। তার মনে হয় সে বুঝি কোনো এক জঙ্গলের আদিম একজন মানুষ, তার চারপাশে কেউ নেই, শুধু পশুপাখি, গাছপালা আর বনলতা। সেখানে সে নাচছে তার সাথে সাথে নাচছে বনের সব পশু, সব পাখি, সব গাছপালা! রাশা প্রথমে বিড়বিড় করে তারপর জোরে জোরে চেঁচিয়ে গাইতে লাগল :

    “মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে
    তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ তাতা থৈ থৈ।
    তারি সঙ্গে কী মৃদঙ্গে সদা বাজে
    তাতা থৈ থৈ তাতা থৈ থৈ তাতা থৈ থৈ।”

    রাশা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে নাচতে নাচতে গাইতে থাকে তখন হঠাৎ শুনল কে যেন ডাকছে, “রাশাপু রাশাপু—”

    রাশা ঘুরে তাকাল, জিতু, মতি, জয়নব আরো অন্য বাচ্চারাও ভিজতে ভিজতে চলে এসেছে। রাশা আনন্দে হেসে ফেলল, “কী মজা দেখেছিস?

    বৃষ্টির প্রচণ্ড শব্দে কেউ কারো কথা শুনতে পাচ্ছে না কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। সবাই আনন্দে লাফাতে থাকে, নাচতে থাকে, গাইতে থাকে, সে গানের যেন কোনো শুরু নেই, কোনো শেষ নেই।

    নানি ঘরের দাওয়ায় বসে বাইরে তাকিয়ে রইলেন। প্রায় চল্লিশ বছর আগে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। তার স্বামীও এভাবে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে গান গাইত। যেদিন রাজাকারেরা তাকে ধরে নিয়েছিল সেদিন ঠিক এভাবে বৃষ্টি হচ্ছিল।

    নানি লক্ষ করেন তার হাতটা থরথর করে কাঁপছে। সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যেতে চায়, সবকিছু কেমন যেন অস্পষ্ট হয়ে আসতে চায়। তার মাঝেও নানি স্থির হয়ে বসে থাকতে চান।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরূপ-রূপালী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    Next Article রাতুলের রাত রাতুলের দিন – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    Related Articles

    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    ছোটগল্প – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সাদাসিধে কথা – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    মেকু কাহিনী – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    আমার বন্ধু রাশেদ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    সায়েন্স ফিকশান সমগ্র ১ – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    টুনটুনি ও ছোটাচ্চু – মুহম্মদ জাফর ইকবাল

    November 19, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }