Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প157 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দশমীর সন্ধে – সৌভিক চক্রবর্তী

    দশমীর সন্ধে

    এক.

    রোজ ভোর রাতে ঘুম ভেঙে যায় মুনিয়ার৷ জানলা দিয়ে হু হু করে আশ্বিনা বাতাস আসে৷ ঘর ম ম করে ছাতিম ফুলের বাসে৷ মুনিয়ার বুকটাও হু হু করে ওঠে৷

    সোনামন উপুড় হয়ে ঘুমোচ্ছে৷ চাঁদের আলো এসে পড়েছে তার মুখের এক পাশে৷ টলটল করছে মুখখানা৷ মুনিয়ার কান্না পায়৷ সে দরজা খুলে উঠোনে এসে দাঁড়ায়৷ জোছনায় থইথই করে উঠোনটা৷ মুনিয়ার পায়ের শব্দে গোলাঘরের পাশ দিয়ে খড়মড় করে পালায় একটা ভামবেড়াল৷ বোধ হয় হাঁস ধরতে এসেছিল৷ ভামবেড়ালের গায়ে গোবিন্দভোগ চালের গন্ধ৷ মুনিয়ার গা গুলোয়৷ উঠোনের এক পাশে ঝাঁকড়া মতো শিউলি গাছ৷ টুপটাপ ফুল ঝরে পড়ে৷ সদর দরজার তলাটা ক্ষয়ে গেছে বর্ষায়৷ দমকা হাওয়ায় পাল্লাদুটো খটখট করে ওঠে৷ বুড়ো ভঞ্জমামা সারারাত ঘুমোয় না৷ ঘরে বসে খুকখুক করে কাশে৷ সে হাঁক দেয়, ‘কে কে?’

    মুনিয়া বলে, ‘কেউ না৷ আউলা বাতাস৷ ঘুমাও মামা৷’

    ‘তুই ঘুমাসনি? জামাই আসছে বুঝি?’

    ‘নাহ৷’

    ‘কবে আসছে সে? পত্র দেয় তোরে?’

    ‘কবে আসবে বলেনি কিছু৷ তবে আসার তো সময় হয়ে গেছে৷ দেখি কবে আসে৷ তুমি ঘুমাও৷’

    সনাতনের আসার সময় হয়ে গেছে৷ বৃষ্টির ফোঁটায় যখন আর তেজ থাকে না, বাদলমেঘ পালাই পালাই করে, নদীর চরে কাশফুল আসে কেঁপে, ছাতিম শিউলির বাসে বাতাসে মাতলা ভাব ধরে, বারোয়ারিতলায় বাঁশ পড়ে তখন সনাতন আসে৷ গত সাত বছর ধরে তাই হয়ে আসছে৷ মানুষটা আসে রাতেভিতে, শেষ ট্রেনে৷ মাঝরাতে কড়া নড়ে ওঠে দরজায়৷ সনাতন চাপা গলায় ডাকে, ‘মুনিয়া, মুনিয়া জেগে আছ?’

    মুনিয়ার ঘুম ভেঙে যায়৷ কিন্তু তারও আগে উঠে পড়ে বিশু কামলা৷ সে এক গাল হেসে দরজা খোলে৷ তার পরেই দৌড় দেয় ভেতর বাড়িতে৷ ঘরের ভেতর আলো জ্বলে ওঠে৷ বাবা আর মা এসে দাওয়ায় দাঁড়ান৷ বাবা বলেন, ‘সনাতন এলে না কি?’

    সনাতন গিয়ে পায়ের ধুলো নেয়৷

    ‘যাও স্নান করো৷ রান্না বসছে৷’

    টগবগ করে জল ফোটে, তাতে নাচতে থাকে হাঁসের ডিম৷ মুনিয়া হাঁটুতে মাথা গুঁজে বসে থাকে৷ বোন তানিয়া খোঁচা মারে, ‘দিদি রে, জামাইবাবু কী এনেছে তোর জন্যে?’

    ‘জানি না৷ যা তো৷’

    ‘লজ্জাবতী আমার৷’

    মুনিয়া ছুট্টে পালায়৷ এক বছর পরে মানুষটা এসেছে৷ একটা গোটা বছর পরে! বড় আনন্দ, বড় কষ্ট৷ বাবার কোলে লেপ্টে থাকে সোনামন৷ তানিয়া হাত বাড়ায়, ‘সোনামন আয়, ঘুম ঘুম৷’

    সোনামন আর কোত্থাও যাবে না বাবার কোল ছেড়ে৷ সনাতন বলে, ‘মা গো, কেমন আছ?’

    বাবার গালে নাক ঘষে সোনামন, ‘ভাল আছি৷ তুমি কেমন আছ বাবা?

    ‘আমিও ভাল আছি মা৷’

    ‘আর যাবে না তো বাবা?’

    শিশুদের কাছে মিথ্যে বলতে নেই৷ সনাতন চুপ করে থাকে৷ না গিয়ে যে উপায় নেই তার৷

    বিয়ের পরে আজ সাত বছর ধরে মুনিয়া বাপের বাড়িতে রয়েছে৷ সোনামনের বয়স ছ’বছর হতে চলল৷ খুব যত্নেই আছে মুনিয়া আর সোনামন তবু সনাতনের বড় কষ্ট হয়৷ সোনামন ঘুমিয়ে পড়লে সনাতনের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে মুনিয়া বলে, ‘এবার আমাকে নিয়ে চলো৷ এবারই শেষ৷ আর আমি থাকব না এখানে৷’

    ‘আমি তো নিয়ে যেতেই চাই৷ কিন্তু কোথায় রাখব তোমাদের?’

    ‘তুমি যেখানে থাকো সেখানেই থাকব৷’

    ‘সেখানে থাকতে পারবে না মুনিয়া৷ আমায় আর একটু সময় দাও৷ একটু গুছিয়ে নিতে দাও৷’

    ‘তোমার মাথাটা ঠান্ডা হলে তো কবেই গুছিয়ে নিতে পারতে৷ আমার আর দুঃখ থাকত না’, মুনিয়া ফুঁপিয়ে কাঁদে৷ তার চোখের জল এসে পড়ে সনাতনের গালে৷ মানুষের চোখের জলে খুব তাপ, সনাতনের গাল পুড়ে যায়৷

    দুই.

    মুনিয়া ভুল কিছু বলেনি৷ সনাতনের খ্যাপামির কথা এ গাঁয়ের কোলের বাচ্চাটাও জানে৷ সনাতনের বাবা-মাকে যখন একইসঙ্গে কলেরায় নিল সনাতন তখন খুবই ছোট৷ তাকে বাড়িতে এনে তুলেছিলেন মুনিয়ার বাবা গৌরকিশোর৷ সনাতনের বাবা ষষ্ঠীদাস ছিলেন গৌরকিশোরের ব্যবসার পার্টনার৷ তাঁরা দু’জনে মিলে চালের আড়ত খুলেছিলেন গঞ্জের বাজারে৷ সে ব্যবসা আজ ফুলেফেঁপে উঠে একেবারে হইহই কাণ্ড৷ গৌরকিশোর আজও মাঝে মাঝেই মাথা নাড়িয়ে বলেন, ‘ষষ্ঠীদাদা দেখে যেতে পারল না৷ বড় আফশোস, বড় আফশোস৷’

    ছোটবেলাতেই সনাতনের খ্যাপামির লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছিল৷ দেখা গেল, পুজোর বাঁশ পড়লেই সনাতন অন্য মানুষ হয়ে যায়৷ সে তখন কেমন একটা ঘোরের মধ্যে থাকে৷ লেখাপড়া করে না, খায় না, ঘুমোয় না৷ দিনরাত বারোয়ারিতলায় বসে থাকে৷ তাকে জোর করে তুলে আনতে গেলে হাত পা ছুঁড়ে কাঁদে, মাথা খোঁড়ে৷ তার পরে দেখতে দেখতে এসে পড়ে পুজো৷ দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকিরা এসে দাঁড়ায় মুনিয়াদের বাড়ির দরজায়৷ তাদের জলখাবার দেওয়া হয়৷ সব্বার জন্যে একটা করে নতুন গামছা৷ ঘর থেকে ডালায় করে আসে চাল, ডাল, সব্জি, মশলা৷ গাওয়া ঘিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে তারা চালেডালে খিচুড়ি চড়িয়ে দেয়৷ সেই গন্ধে একেবারে উথালিপাথালি করে ওঠে চারপাশ৷

    সনাতন ঘুরঘুর করে ঢাকিদের আশেপাশে৷ তার হাতে ঢাকের কাঠি৷ বোধন হতেই ঢাক বেজে ওঠে ড্যাং কুড়াকুড়, ড্যাং কুড়াকুড়৷ কাঁসর বাজে, কাঁইনানা, কাইনানা৷ সেই সব শব্দ ঢুকে যায় সনাতনের মাথার ভেতরে৷ সে কেবল ছুটে বেড়ায়, এক দণ্ডও যেন বসার উপায় নেই তার৷ ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী দেখতে দেখতে পার হয়ে যায়৷ দশমীর দিন সকাল থেকেই মণ্ডপের এক পাশে ঝিম ধরে বসে থাকে সনাতন আর ভাসানের সময় এলেই দেবীর পা আঁকড়ে ধরে৷ সে কিছুতেই ঠাকুর ভাসান দিতে দেবে না৷ জোর করে সরিয়ে নিয়ে আসা হয় তাকে৷ সে তখন পাগলের মতো কাঁদতে শুরু করে৷ কান্না বড় ছোঁয়াচে৷ মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে যায় গাঁয়ের বাতাসে৷

    একটা বয়স অবধি এসব পাগলামি সবারই কমবেশি থাকে৷ বয়সের নিয়মে কমেও যায় আবার৷ মুনিয়ার সঙ্গে বিয়ের পরে গৌরকিশোর সনাতনকে ডেকে বলেছিলেন, ‘তুমি নিশ্চয়ই জানো তোমার বাবা আর আমি দু’জনে মিলে আড়তের ব্যবসা শুরু করেছিলাম৷ সে সময় বড় গরিব ছিলাম আমরা৷ ঘর বাড়ি, গয়না বাঁধা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম৷ তার কিছুকাল পরেই একদিনের নোটিশে তোমার বাবা মারা যায়৷ ব্যবসার এই বাড়বাড়ন্ত ষষ্ঠীদাদা দেখে যেতে পারেনি৷ এ সবই তোমার জানা কথা তবু আবার বলছি৷’

    সনাতন মাথা নিচু করে শুনছিল৷ গৌরকিশোর বলে যাচ্ছিলেন, ‘হিসেব মতো তুমিও এই ব্যবসার অংশীদার৷ এতদিন ব্যবসার কাজে তুমি আমাকে টুকটাক সাহায্য করেছ৷ কিন্তু এখন তোমার সংসার হয়েছে৷ আমি তোমাকে তোমার বাবার অংশ বুঝিয়ে দিতে চাই৷’

    সনাতন হাত জোড় করে বলেছিল, ‘কাকাবাবু আমি এ বাড়িতে ছেলের মতো মানুষ হয়েছি৷ কোনও দিন অনাদর টের পাইনি৷ তাই এসব ব্যবসার ভাগ বলে আমাকে লজ্জা দেবেন না৷ তা ছাড়া আমি অন্যত্র থাকতে চাই৷’

    সনাতনের বিবেচনায় মনে মনে খুশি হয়েছিলেন গৌরকিশোর৷ জামাই মানুষ বাড়িতে থাকলে ভাল দেখায় না৷ তিনি ভেবেছিলেন কিছুটা দুরে নদীর ধার ঘেঁষে তাঁর যে জমি রয়েছে সেখানেই মুনিয়ার জন্যে নতুন ঘর তুলে দেবেন৷ গঞ্জে একটা নতুন আড়ত খোলার কথা চলছে সেখানে সনাতন বসবে৷ তিনি বলেছিলেন, ‘তা কোথায় থাকবে ভাবছ?’

    ‘শহরে যাব কাকাবাবু৷’

    চমকে উঠেছিলেন গৌরকিশোর, ‘শহরে যাবে? কেন? এখানে কী সমস্যা?’

    ‘সমস্যা কিছুই নেই৷ শহরে যেতে মন চায়৷’

    ‘কী কাজ করবে সেখানে?’

    ‘আপনি তো আমাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন কাকাবাবু৷ কিছু একটা খুঁজে নেব ঠিক৷ বিয়ের পরে আপনার ঘাড়ে বসে আর খাব না৷’

    চিন্তায় পড়ে গেছিলেন গৌরকিশোর, ‘সে তো বুঝলাম কিন্তু শহরে গিয়ে বউ নিয়ে উঠবে কোথায়? একটা থাকার জায়গা ঠিক করি তবে?’

    ‘মুনিয়া এখন কিছুদিন এখানেই থাক৷ আমি একটা কিছু ব্যবস্থা করে তাকে নিয়ে যাব৷’

    হাঁফ ছেড়েছিলেন গৌরকিশোর৷ হাঁফ ছেড়েছিল মুনিয়ার মাও৷ মুনিয়া বড় আদুরে মেয়ে৷ তাকে চোখের আড়াল করতে হবে না, এটাই শান্তি৷

    কান্নাকাটি করলেও ব্যাপারটা মুনিয়ার খারাপ লাগেনি৷ সনাতন তাদের আশ্রিত বলে বিয়ের সময় অনেকে অনেক কটুকাটব্য করেছিল৷ কেউ কেউ বলেছিল, ‘নিশ্চয়ই মেয়ের কোনও দোষ আছে৷ নয়তো ওই হাঘরে পাগলের সঙ্গে বিয়ে দেয়!’

    শহরে যাওয়ার কথা শুনে মুনিয়ার তাই মনে হয়েছিল, সনাতনের মাথাটা বুঝি ঠান্ডা হয়েছে৷ তা ছাড়া বিয়ের পরে নিজের ঘর সংসার করতে কোন মেয়ে না চায়? যাওয়ার সময় মুনিয়ার চিবুক ধরে সনাতন বলেছিল, ‘কেঁদো না মুনিয়া৷ আমি নিয়মিত চিঠি দেব৷ সময় পেলে ঘুরেও যাব৷ তুমিও চিঠি লিখো আমায়৷’

    তিন.

    সনাতন গেছিল জুলাইয়ের শুরুতে৷ কিন্তু সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিশ্বকর্মা পুজোর দিন চারেক আগে সে শুকনো মুখে ফিরে এল৷ মুনিয়াকে বলল, ‘চাকরি ছেড়ে এলাম৷ পুজোয় মোটে দু’দিন ছুটি৷ দেখলাম, সব জায়গায় বাঁশ পড়ে গেছে৷ মনটা বড় উচাটন হল৷’

    বোঝা গেল, বয়স হলেও সনাতনের খ্যাপামি একটুও কমেনি৷ লক্ষ্মীপুজো পার করে ফিরে যাওয়ার সময় মুনিয়ার গা ছুঁয়ে সনাতন দিব্যি দিল, ‘আর কিছুতেই চাকরি ছাড়ব না৷ আশা করি সামনের বার তোমায় নিয়ে যেতে পারব৷’

    পরের বছর অক্টোবরের চার তারিখ সোনামন হল৷ মেয়েকে দেখতে সেই যে সনাতন এল, কালীপুজো পার করেও ফিরল না৷ জানা গেল, সে ফের চাকরি ছেড়ে এসেছে৷ সেবার যাওয়ার আগে সনাতন মুনিয়ার মাথায় হাত দিয়ে দিব্যি দিল, ‘এবার আর কিছুতেই পাগলামি করব না দেখো৷ এখন আমি মেয়ের বাবা৷ কত দায়িত্ব বলো তো৷ পুজো পুজো করে নাচলে হবে!’

    এই নিয়ে আট বছরে পা দেবে সনাতনের ফিরে আসা৷ বারবার চাকরি ছাড়ায় সে কিছুই প্রায় জমিয়ে উঠতে পারেনি৷ লাভের মধ্যে লাভ হয়েছে, লজ্জায় সে বাড়ি আসা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে৷ আগে মানুষটা যাও দু’-তিন মাস অন্তর আসত, গত চার বছর ধরে পুজোর সময় ছাড়া একবারও আসেনি৷ এভাবে থাকা যায়? মানুষটার জন্যে বড্ড মন পোড়ে৷ দিন রাত লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদে মুনিয়া৷ তবে সনাতন প্রতি মাসে চিঠি পাঠায়৷ সঙ্গে কিছু কিছু টাকা৷ সব চিঠির একই বয়ান—

    মুনিয়া,

    এর চেয়ে বেশি টাকা পাঠাতে পারলাম না৷ শহরে ঘর দেখে ফেলেছি৷ আর কটা দিন ধৈর্য ধরো৷ আমি ভাল আছি৷ সোনামন কেমন আছে? চিঠিতে তার কথা বেশি বেশি করে লিখবে৷ টাকাগুলো খরচ কোরো৷ মনে রাখবে এটা তোমার স্বামীর রোজগার৷ তোমার নিজের জিনিস৷ ভাল থেকো৷

    সনাতন,

    সোনামনের মেজাজ এখন দারুণ ভাল৷ সে উঠোনে ঘুরে ঘুরে ‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে’ গাইছে৷ তার বাবা ফিরে এসেছে৷ যদিও খুব কম দেখা হয় তবু বাবা লোকটাকে খুবই পছন্দ করে সোনামন৷ বাবা বাড়ি ফিরলেই তাকে আর পড়তে হয় না৷ সে তখন সারাদিন বাবার কাঁধে চেপে ঘোরে৷ এই সময়টা তাকে কেউই বিশেষ বকে-টকে না৷ বাবার পাশে বসে সে ঠাকুর বানানো দেখে, ‘বাবা৷’

    ‘মাগো৷’

    ‘তুমি ঠাকুর বানাতে পারো?’

    ‘না৷’

    ‘কেন পারো না বাবা?’

    ‘এইটা তো আমি শিখিনি৷’

    ‘না শিখলে ঠাকুর বানানো যায় না?’

    ‘না শিখলে কিছুই বানানো যায় না মা৷ সবই শেখার জিনিস৷ অভ্যাসের জিনিস৷’

    ‘তুমি তা হলে কী পারো বাবা?’

    ‘আমি শুধু তোমায় আদর করতে পারি মা৷ সবই শেখার জিনিস৷ অভ্যাসের জিনিস’৷

    ‘তুমি আদর করা কোথা থেকে শিখেছ?’

    ‘তোমার দাদুর কাছে শিখেছি, দিদিমার কাছে শিখেছি, তোমার মায়ের কাছে শিখেছি, এই গ্রাম, এই গ্রামের জল মাটি হাওয়া আর ওই যে দুগগা ঠাকুর, সবাই মিলে আমায় আদর করতে শিখিয়েছে৷’

    ‘তাই তুমি ভাসানের সময় ঠাকুরকে ধরে কাঁদো?’

    ‘হ্যাঁ গো মা৷’

    ‘আমিও আদর শিখব বাবা৷’

    সনাতন দু’হাত বাড়িয়ে দেয়৷ বাবার গলা ধরে ঝুল খায় সোনামন৷ সে খুবই তৃপ্ত৷ কারণ সে আদর করতে শিখছে৷

    চার.

    সকাল থেকে বারোয়ারিতলায় ঝিম ধরে বসে আছে সনাতন৷ এখন বিকেল, তবু বাবার কাছে যেতে খুব একটা সাহস পাচ্ছে না সোনামন৷ দশমীর দিনটায় বাবা কেমন পাগল পাগল করে৷ বাবা তাকে দেখেছে কিন্তু কাছে ডাকেনি৷ সোনামনের খুব অভিমান হয়েছে৷ সে ঠিক করে ফেলেছে, বাবা ডাকলে সে কিছুতেই কাছে যাবে না৷

    গাঁয়ের মেয়েরা একে একে বারোয়ারিতলায় জমা হচ্ছে৷ তারা লাল পাড় সাদা শাড়ি পরেছে৷ তাদের হাতে বরণডালা৷ ভাসানের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে৷ মুনিয়া বলল, ‘যা তো সোনামন, বাবাকে বল মা ডাকছে৷ এখনই যেন আসে৷ বলবি খুব জরুরি কথা৷’

    দরজাটা ভেজিয়ে এসে সনাতনের মুখোমুখি দাঁড়ায় মুনিয়া, ‘তোমাকে কটা কথা বলার আছে৷’

    ‘এখনই বলতে হবে?’

    ‘হ্যাঁ৷’

    ‘আমার মন ভাল নেই মুনিয়া৷ পরে বললে হয় না?’

    ‘না৷’

    ‘বেশ তবে বলো৷’

    ‘তোমাকে আর শহরে যেতে হবে না৷ প্রতিবার এই এক যন্ত্রণা আমার আর সহ্য হয় না৷ শুধু আমার না, মেয়েটারও তো কষ্ট৷’

    ‘আজ থাক না মুনিয়া৷ কাল বোলো এ কথাগুলো৷’

    ‘যা বলছি শোনো৷ আর শহরে যাওয়ার দরকার নেই৷ আমি কিছুটা জমি কিনে ফেলেছি৷ সেখানে ঘর তুলবে৷ গাঁয়ে একটা প্রাইমারি ইশকুল হচ্ছে, সেখানে চাকরি নাও৷ এই গ্রাম ছেড়ে, গ্রামের পুজো ছেড়ে তুমি থাকতে পারবে না৷ এ রকম ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছো কেন?’

    ‘তুমি জমি কিনেছ? সত্যি? কী ভাবে?’

    ‘সাত বছর ধরে প্রতি মাসে তুমি আমাকে যা টাকা পাঠিয়েছ সেগুলো জমিয়েছি৷ পরিমাণটা নেহাৎ খারাপ দাঁড়ায়নি৷ হ্যাঁ, আরও আগেই জমি কেনা যেত যদি বাবার কাছে চাইতাম৷ বাবা বারবার বলেছে, এখানে সব ব্যবস্থা করে দেবে৷ তোমার কথা ভেবে আমি রাজি হইনি৷ কথাগুলো আজই বলা দরকার ছিল তাই বললাম৷ বউয়ের টাকায় কেনা জমিতে থাকতে তোমার আপত্তি নেই তো?’

    সনাতন মাথা নাড়ে৷ সে কথা বলতে পারছে না৷ তার বুকে একটা হাত রাখে মুনিয়া৷ সনাতন শিউরে ওঠে৷

    প্রতিবারের মতো এবারও জলে ভাসানোর আগে প্রতিমার পা ধরে সনাতন ডুকরে ওঠে৷ তার পরে চিবুকটা ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে, ‘সাবধানে যেও মা গো৷ আবার এসো৷ আমরা অপেক্ষা করব৷’

    সবার চোখে তখন চিকচিক করছে জল৷ এক বছরের জন্যে মেয়ে চলেছে তার শ্বশুর ঘরে৷ বাপের বাড়ির লোকেরা তো কাঁদবেই৷ শুধু সোনামন অবাক হয়ে যায়৷ সে শুনেছে, তার বাবা আর শহরে যাবে না৷ এবার থেকে তাদের সঙ্গেই থাকবে৷ এটা তো খুবই আনন্দের বিষয়৷ তা হলে বাবা এত বেশি বেশি কাঁদছে কেন? সে ভাবে, নাহ, বাবাটাকে নিয়ে পারা যায় না৷ এখন থেকে তো কাছাকাছি থাকবে, খুব শাসন করে দিতে হবে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার
    Next Article অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    সৌভিক চক্রবর্তী

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    January 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }