Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প157 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হিরেগাছ – সৌভিক চক্রবর্তী

    হিরেগাছ

    আমাদের গ্রামটা ছবির মতো সুন্দর৷ গ্রামের নাম লেবো৷ মাসাইতে লেবো শব্দের মানে হল, জঙ্গলে যার জন্ম৷ একদম ঠিক কথা, পাহাড়ের ওপর জঙ্গলে ঘেরা আমাদের গ্রাম৷ পাহাড়টা কিন্তু খুব উঁচু না৷ এর চেয়ে ঢের উঁচু পাহাড় আমি দেখেছি৷ তবু এই পাহাড়টার নাম কইনেত, মানে সবার চেয়ে লম্বা! কেন কে জানে! কইনেতের সব চেয়ে উঁচু পাথরটার ওপর দাঁড়ালে চোখে পড়ে একটা বিশাল সাদা পাহাড়ের চুড়ো৷ পাহাড় বলা ভুল, ওটা পর্বত৷ সারা বছর সেখানে বরফ জমে থাকে৷ দাদু বলেছে, ওর নাম কিলিমাঞ্জারো৷ পেছনে ফিরলেও আর একটা পাহাড়৷ ওই পাহাড়ের নাম ওল দইনো লেঙ্গাই, মানে ঈশ্বরের পাহাড়৷ ওটা আগুনপাহাড়৷ তাই মাঝে মাঝেই পাগলা হয়ে যায় ওল দইনো লেঙ্গাই৷ তখন তার পেটের ভেতর থেকে গলগল করে বেরিয়ে আসে কমলা রঙের লাভা৷ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়৷ যদিও সেই আগুনের নদী আমাদের গ্রাম পর্যন্ত আসে না, তবু ঈশ্বরের পাহাড় খেপে উঠলে আমরা সবাই হাঁটু মুড়ে প্রার্থনা করতে বসি৷

    আমরা মাসাই৷ মাসাইরা খুব ভাল যুদ্ধ করতে পারে৷ তবে আমাদের গ্রামের লোকেরা এখন আর যুদ্ধ করে না৷ আমরা পাহাড়ের ঢালে চাষ করি, জঙ্গল থেকে শুকনো কাঠ, পাতা, মধু আর লাক্ষা নিয়ে আসি৷ সে সব নিয়ে সপ্তাহে একদিন করে আমরা মালাম্বো যাই৷ মালাম্বোয় হাট বসে৷ আমাদের গ্রামটা বড়ই একটেরে তাই সব চেয়ে কাছের শহর মালাম্বো যেতে পায়ে হেঁটে পাক্কা দু’দিন সময় লাগে৷ দাদু বলেছে, মালাম্বোর পূর্বে সেরেঙ্গাটির জঙ্গল আর পশ্চিমে বিশাল নাত্রোন হ্রদ৷ আমি আর দাদু নাত্রোনের কাছ অবধি গেছি কিন্তু সেরেঙ্গাটি যাইনি কখনও৷ বড় হলে যাব৷ আমার নাম সিরোঙ্কা৷ সিরোঙ্কা মানে পবিত্র৷ আমার মা-বাবা নেই৷ আমি দাদুর সঙ্গে থাকি৷ দাদু লেবো গ্রামের মোড়ল৷ দাদুর নাম লেমাইয়া, মানে ঈশ্বরের আশীর্বাদধন্য৷

    স্বপ্নের মতো দিন কাটছিল৷ সারাটা দিন আমি পাহাড়ে, জঙ্গলে টইটই করে বেড়াতাম৷ সন্ধে হলেই মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে দাদুকে গোল করে ঘিরে বসে পড়ত গ্রামের সবাই৷ দাদু তখন গল্প বলত৷ যুদ্ধের গল্প, ভূতের গল্প, রাজপুত্র-রাজকন্যার গল্প, আরও কত কী৷ দাদুর কোলের মধ্যে গুটিসুটি মেরে শুয়ে গল্প শুনতে শুনতে কখন যে আমি ঘুমিয়ে পড়তাম৷ বড় আরাম৷ কিন্তু হঠাৎ একদিন সব ওলটপালট হয়ে গেল৷ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমরা ঘরছাড়া হয়ে গেলাম৷

    *****

    আসল কফি বিন থেকে তৈরি কফি একটু চটচটে হয়৷ খাওয়ার সময় জিভে জড়িয়ে জড়িয়ে যায়৷ সিন্থেটিক কফিতে এই মজাটা থাকে না৷ কফিটা খেতে ভালই লাগছে তবু ভুরু কুঁচকে কফিমগে চুমুক দিচ্ছিলেন মিস্টার ওয়েনার৷ সকালের এই সময়টা তাঁর একা থাকতে ভাল লাগে৷ সকালবেলা হল চিন্তার জন্য প্রশস্ত সময়৷ সকালবেলা কিছু ভাবলে পরে সেটা কাজে লাগাতে সুবিধে হয় কিন্তু এখানে আসার পর থেকে এক মুহূর্তের জন্যেও একা থাকতে পারছেন না তিনি৷ সারাক্ষণ নানা রকমের ঝামেলা লেগেই রয়েছে৷

    পাহাড়ের ওপরে একটা হোটেল বানানোর ইচ্ছে তাঁর বহু দিনের৷ বছর দশেক আগে একবার সেরেঙ্গাটি বেড়াতে এসেছিলেন৷ তখনই এক বন্ধু তাঁকে আইডিয়াটা দিয়েছিল৷ এক সন্ধের আড্ডায় সে কথায় কথায় বলেছিল, ‘ইদানীং তানজানিয়ার এই অঞ্চলটায় প্রচুর পর্যটক আসে কিন্তু থাকার মতো তেমন ভাল হোটেল নেই৷ সবই মধ্যবিত্তদের জন্যে৷ বড়লোকেদের জন্যেও একটা হোটেল থাকা দরকার৷’

    সোজা হয়ে বসেছিলেন মিস্টার ওয়েনার৷ বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘তোমার কি মনে হয় সত্যি এমন একটা হোটেল দরকার?’

    ‘অবশ্যই দরকার৷’

    ‘বেশ তা হলে হোটেলটা আমিই বানাব৷’

    ‘তুমি কি সিরিয়াস?’

    ‘আমাকে কোনও দিন তুমি ফালতু কথা বলতে শুনেছ?’

    ‘না৷’

    পাহাড়ের ওপর জঙ্গলে ঘেরা ‘পৃথিবীর নির্জনতম সাততারা হোটেল’ বানানোর জন্য জলের মতো পয়সা খরচ করছেন মার্কিন শিল্পপতি ফ্রেডরিক ওয়েনার৷ কিন্তু মাত্র কয়েকটা অসভ্য জংলির জন্য কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন৷ তানজানিয়া গভর্নমেন্ট হোটেল বানানোর জন্য কইনেত নামের এই পাহাড়টাই বেছে দিয়েছিল৷ তারা বলেনি যে পাহাড়ের ওপর জঙ্গলের মধ্যে লুকনো একটা গ্রাম আছে৷ শুধু তারাই নয়, তিনি যাদের রেইকি করতে পাঠিয়েছিলেন ফিরে এসে তারাও কিছু বলেনি৷ সবাই আসলে ফাঁকিবাজ৷ সব কটাকে গুলি করে মারতে পারলে শান্তি হত৷ আর জংলিগুলোও তেমন জেদি আর বোকা৷ টাকার লোভ দেখানো হয়েছে, পিটিয়ে পিঠের চামড়া তুলে দেওয়া হয়েছে, ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে তা সত্ত্বেও পাহাড়ের নীচে দল বেঁধে বসে আছে৷ কিছুতেই নড়ছে না৷ ‘আরে বাবা তোদের তো আর এমনি এমনি চলে যেতে বলা হচ্ছে না, রীতিমতো টাকা দেওয়া হচ্ছে৷ তা হলে তোরা যাবি না কেন? কী মধু রয়েছে এই নির্জন জঙ্গলে? শহরে গেলে কত রকমের কাজ পাওয়া যায়৷ সে সব করবে না, জংলি হয়ে থাকবে৷ যত অপদার্থের দল৷’ মিস্টার ওয়েনার বিরক্ত হন৷ এ বার এই ছবি মিডিয়ার কাছে পৌঁছে গেলে তখন আর এক অশান্তি হবে৷ তিনি হাঁক দিলেন, ‘রিকার্ডো৷’

    রিকার্ডো তাঁর ম্যানেজার৷ সে কাছেপিঠেই ছিল৷ ছুটে এসে দাঁড়াল, ‘ইয়েস স্যার৷’

    ‘ওদের সঙ্গে আর কথা বলেছ?’

    ‘হ্যাঁ স্যার বলেছি৷ ওরা কোনও কথা শুনতে চাইছে না৷ বলছে, প্রাণ থাকতে কইনেত পাহাড় ছেড়ে কোথাও যাবে না৷’

    ‘বেশ৷ তা হলে এ বার আমাকে প্রাণ নিয়েই টানাটানি করতে হবে৷ অনেক সুযোগ দিয়েছি, বাবা বাছা করেছি৷ কিন্তু আর না৷ ওদের বলে দাও, সাত দিনের মধ্যে এলাকা ফাঁকা না করলে আমি মেশিনগান নামাতে বাধ্য হব৷ কয়েকটা ডার্টি জংলি মরলে আমার কিস্যু এসে যাবে না৷ বডিগুলো নাত্রোনের জলে ফেলে দেব৷ কাকপক্ষীও জানতে পারবে না৷ বুঝেছ?’

    ‘ইয়েস স্যার৷’

    *****

    যে গাছগুলো কাটা হবে সেগুলোর গায়ে আগের দিন সাদা রঙের দাগ দেওয়া হয়৷ প্রতি বর্গমিটার হিসেব করে পাহাড়ের ওপর জঙ্গল পরিষ্কার করতে হচ্ছে৷ বিরাট বিরাট গাছকাটা করাত আর বুলডোজার সারাদিন সারারাত কাজ করে চলেছে৷ গাছ বলি ছাড়া সভ্যতা গড়া সম্ভব না৷ শ্রমিকেরা এন্তার ছোট হরিণ আর বুনো শুয়োর শিকার করছে৷ পাখিগুলোর অবস্থা তো আরও খারাপ৷ এত পাখি এখানের গাছে যে একটা গুলি করলেই দশটা পাখি মরে৷ একটা গুলিতে আর বাকিগুলো ভয়ে৷ আগুন জ্বালিয়ে সেই সব মাংসের কাবাব করা হচ্ছে৷ টিনের খাবারে এখনও হাত দিতে হয়নি৷ দিতে হবে বলে মনেও হয় না৷

    রিকার্ডোর বাড়ি পর্তুগালের ফঞ্চল শহরে৷ বড় সুন্দর শহর৷ তাদের বাড়িটাও সুন্দর৷ চারদিকে প্রচুর গাছগাছালি৷ রিকার্ডোর বাবার বাগানের শখ৷ নিজে হাতে ফুল ফোটান তিনি৷ ছোটবেলায় ছুটির দিনে বাবার পাশে বসে গাছের পরিচর্যা করত রিকার্ডো৷ আর এখন সে গাছ কাটার তদারক করে৷ বড় বড় গাছগুলো যখন সশব্দে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে তার বুকটা মুচড়ে ওঠে৷ কিন্তু কিছু করার নেই৷ এটা তার চাকরি৷ জীবনে উন্নতি করতে গেলে আবেগ ব্যাপারটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই ভাল৷ নয়তো অনেক সমস্যা হয়৷

    একা একাই জঙ্গলের মধ্যে হেঁটে বেড়াচ্ছিল রিকার্ডো৷ হঠাৎই একটা চিৎকার শুনে থমকে গেল৷ সে দেখল, একটা বাচ্চার হাত ধরে একটা বুড়োলোক দাগ দেওয়া গাছগুলোর সামনে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে আর মুখচোখ বিকৃত করে চিৎকার করছে, ‘সঙের মতো দাঁড়িয়ে আছে দেখো নুলোর দল৷ হাত নেই, পা নেই নুলো কোথাকার৷ চোখ নেই কানা অন্ধ৷ কথাও তো কইতে পারিস না৷ তোরা বোবা৷ তোদের দেখি আর গা পিত্তি জ্বলে যায়৷ কোন কাজে লাগিস অপদার্থগুলো? কোন কাজে? মর মর৷ বাজ পড়ে মর৷ জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যা নিষ্কম্মার দল৷’

    রিকার্ডো কিছু কিছু মাসাই ভাষা বোঝে৷ সে অবাক হয়ে গেল, বুড়োটা কি পাগল? গাছেদের যে কেউ গালাগালি দিতে পারে এটা তার ধারণায় ছিল না৷ সে একজন মাসাই গার্ডকে ডেকে পাঠাল৷ গার্ড এসে সেলাম দিয়ে দাঁড়াল৷ রিকার্ডো বলল, ‘বুড়োটাকে চেন?’

    ‘হ্যাঁ স্যার৷ এই গ্রামটার মোড়ল৷ ওর নাম লেমাইয়া৷’

    ‘এখানে ঢুকতে দিয়েছ কেন?’

    ‘ও কিছু করে না স্যার৷ শুধু কাঁদে৷ বুড়োমানুষ তাই আটকাইনি৷’

    ‘কাঁদছে কোথায়? ও তো গাছেদের গালাগাল দিচ্ছে!’

    ‘হ্যাঁ স্যার৷ এর পর কাঁদবে৷’

    ‘গাছেদের গালাগাল দিচ্ছে কেন? গাছেরা ওর কী ক্ষতি করেছে?’

    ‘গাছগুলো তো কাটা পড়বে স্যার ও তাই আগে থেকেই গাছগুলোকে এত গালাগাল দিচ্ছে যাতে ওরা লজ্জা পায়৷ লজ্জায় যেন ওদের মরে যেতে ইচ্ছে করে৷ তা হলে যখন ওদের কাটা হবে তখন ততটাও কষ্ট পাবে না ওরা৷’

    স্তম্ভিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে রিকার্ডো৷ সে শুনতে পাচ্ছে, বুড়ো কাঁদছে৷ ভীষণ কাঁদছে৷

    *****

    দাদুকে কাঁদতে দেখলে আমারও কান্না পায়৷ যেদিন থেকে ওরা আমাদের গ্রামটা দখল করেছে সেদিন থেকে দাদু সারাক্ষণ কাঁদছে৷ আমাদের গ্রামটাকে বিদেশিরা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে৷ দেখে বোঝার উপায় নেই যে কয়েকদিন আগে এখানে একটা আস্ত গ্রাম ছিল৷

    আমরা সবাই কইনেতের নীচের উপত্যকায় দল বেঁধে বসে আছি৷ বিদেশিদের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি নেই আমাদের৷ ওদের কাছে অনেক বন্দুক আছে৷ আমাদের তো সেসব নেই৷ তবু দাদু বলেছে, দেহে যতক্ষণ প্রাণ আছে আমরা আমাদের নিজেদের জায়গা ছেড়ে নড়ব না৷ এই জঙ্গল আমাদের৷ এই পাহাড় আমাদের৷ বিদেশিদের মধ্যে একটা লালমুখো মোটা সাহেব আছে৷ সবাই তার কথা শোনে৷ সেই সাহেবটাই যত নষ্টের গোড়া৷ আমি তির ধনুক নিয়ে তৈরি হয়ে আছি৷ বাগে পেলেই ওর চোখে তির ছুড়ব৷

    বিদেশিরা আমাদের পাহাড়ের ওপর উঠতে নিষেধ করেছিল৷ কিন্তু দাদু শোনেনি, রোজ পাহাড়ে উঠে আসে৷ প্রথমে গাছগুলোকে বকে তার পর হাউমাউ করে কাঁদে৷ আমি আর কী করি, দাদুর সঙ্গে সঙ্গে থাকি৷

    দাদু আজও কাঁদছিল৷ আমি একটা পাথরের ওপর বসেছিলাম৷ হঠাৎ আমার পায়ে কুট করে কী যেন কামড়াল৷ উফ! এ তো পিঁপড়ে৷ সার বেঁধে চলেছে৷ এত পিঁপড়ে আমি জীবনে দেখিনি৷ কোথায় চলেছে ওরা? আমি দাদুকে ডাকলাম, ‘দাদু দ্যাখো দ্যাখো৷ কত পিঁপড়ে!’

    পিঁপড়ের সারিটাকে দেখে দাদু হঠাৎ সোজা হয়ে বসল৷ কিছুক্ষণ মন দিয়ে ভুরু কুঁচকে পিঁপড়ের সারিটার দিকে তাকিয়ে রইল তার পর চোখ মুছে বলল, ‘আয় তো দাদু৷’

    ‘কোথায় যাব?’

    ‘আয় না দেখি, পিঁপড়েগুলো কোথা থেকে আসছে৷’

    আমি আর দাদু পিঁপড়ের সারিটার পাশ দিয়ে হাঁটছি৷ অনেকক্ষণ ধরে হাঁটছি৷ গাছপালা আর পাথর টপকে টপকে আমরা অনেকটা পথ চলে এসেছি কিন্তু এখনও পিঁপড়ের সারির উৎসটা চোখে পড়েনি৷ জঙ্গল এখানে বেশ গভীর৷ এটা পাহাড়ের পেছন দিক৷ এ দিকে আমি আগে কখনও আসিনি৷

    হঠাৎ আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল দাদু৷ সামনেই পাথরের খাঁজে একটা ছোট্ট গাছ৷ পাম গাছের মতো দেখতে৷ একটা না, পর পর অনেকগুলো আছে৷ ছোট ছোট সাদা ফুল ধরেছে তাতে৷ দাদু দাঁড়িয়ে পড়েছে৷ একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে গাছগুলোর দিকে৷ দাদুর চোখ চকচক করছে খুশিতে৷ কী যে হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না৷ দাদু গাছগুলোর দিকে এগিয়ে গেল৷ একগোছা ফুল তুলে নিল হাতে তার পর আচমকা হেসে উঠল৷ অনেক দিন পর দাদুকে হাসতে দেখলাম৷

    ‘ও দাদু কী হল? হাসছ কেন?’

    দাদু আমার হাত ধরে টানল, ‘পরে বলব৷ তুই এখন পা চালিয়ে চল দিকি৷ আমাদের যেতে হবে৷’

    ‘পিঁপড়ে খুঁজবে না আর?’

    ‘না আর দরকার নেই৷ তুই চল৷’

    ‘কেন? চলো না খুঁজি৷’

    ‘বকাস না আমায়৷ বড় জ্বালাস তুই৷’

    ‘কোথায় যাব দাদু?’

    দাদু উত্তর দিচ্ছে না৷ আপন মনে হাসছে৷

    *****

    কড়া রোদ উঠেছে কিন্তু গাছের শামিয়ানা থাকায় সেই রোদ চামড়ায় বিঁধছে না৷ একটা বড় ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে শুয়েছিলেন মিস্টার ওয়েনার৷ তাঁর মুখের ওপর হ্যাট চাপা দেওয়া৷ শুয়ে শুয়ে তিনি হোটেলটার কথা ভাবছিলেন, বড় সুন্দর হবে হোটেলটা৷ পাহাড়ের ওপর আদিম জঙ্গলের মধ্যে এক টুকরো সভ্যতা৷ সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখে পড়বে কিলিমাঞ্জারোর চূড়া৷ দেখা যাবে লেক নাত্রোনের সুনীল জলরাশি৷ আর ওল দইনো লেঙ্গাই খেপে উঠলে তো কথাই নেই৷ নিরাপদ দূরত্বে বসে দেখা যাবে আগ্নেয়গিরির শোভা৷ সেই সময় হোটেলের ভাড়া পাঁচ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া যাবে৷ ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়৷

    জংলিদের গ্রামটা আছে বলে প্রথমে তিনি রাগ করেছিলেন, কিন্তু পরে ভেবে দেখেছেন, এটা থাকায় একটা বড় সুবিধা হয়েছে৷ বেশ কিছুটা জায়গা ওরা আগে থেকেই বসবাসের উপযুক্ত করে রেখেছে৷ অনেকটা খাটনি বেঁচে যাবে৷

    হঠাৎই ছুটতে ছুটতে এল রিকার্ডো৷ সে এখনও হাঁফাচ্ছে৷

    মিস্টার ওয়েনার উঠে বসলেন, ‘কী ব্যাপার রিকার্ডো? এনিথিং রং?’

    ‘স্যার ওরা চলে যাচ্ছে৷’

    লাফিয়ে উঠলেন ওয়েনার, ‘চলে যাচ্ছে? হোয়াট আ গুড নিউজ৷ কই দেখি৷’

    দল বেঁধে পাহাড়ের নীচ থেকে চলে যাচ্ছে লেবো গ্রামের বাসিন্দারা৷ তারা ডেরাডন্ডা তুলে নিয়েছে৷ ওয়েনার উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘প্রাণের ভয় একেই বলে৷ তোমায় বলেছিলাম না রিকার্ডো৷ দেখলে তো, মেশিনগানের কথা শুনেই সুড়সুড় করে পালাচ্ছে অসভ্য জংলিগুলো৷ আমার সঙ্গে লাগতে এসেছিল৷ হাঃ হাঃ৷ গুড জব রিকার্ডো৷ ভেরি গুড জব৷ তুমি আর দেরি কোরো না৷ আজই প্লেন ধরো, নিউইয়র্ক চলে যাও৷ অনেক কাজ পড়ে আছে৷’

    জিপে করে এয়ারপোর্টের পথে যেতে যেতে রিকার্ডো ভাবছিল, কী এমন ঘটল যাতে হঠাৎ করে চলে গেল গ্রামবাসীরা! সে তো ওদের মেশিনগানের ভয় দেখায়নি৷

    দাদু সবাইকে তাড়া দিচ্ছে৷ আজকের মধ্যেই আমাদের কইনেত পাহাড় থেকে অনেকটা দূরে চলে যেতে হবে৷ এত দিনের ঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছি৷ আমার মন খারাপ৷ দাদু কিন্তু দারুণ খুশি৷ সে মাথায় গুঁজেছে পাহাড় থেকে তুলে আনা ফুলগুলো৷ আনন্দে সে ছোটদের মতো লাফাচ্ছে৷ আমাদের দলের বাকিরাও খুশি৷ এত দিন যারা মনমরা হয়ে ছিল তারাই এখন গান গাইছে৷ শুধু আমরা ছোটরাই বোকার মতো হাঁটছি৷ আমাদের কেউ কিছু বলছে না৷ আমার রাগ ধরে গেল৷ আমি দাদুর লাঠিটা টেনে ধরলাম৷ বললাম, ‘দাদু, তুমি কি বলবে আমরা কোথায় যাচ্ছি? যদি না বলো আমি আর তোমার সঙ্গে যাব না৷’

    আমার রাগ দেখে দাদু হো হো করে হেসে উঠল৷ বলল, ‘রাগ করিস কেন দাদু? বলব তো৷ সবুর কর না৷’

    ‘না এখনই বলো৷’

    ‘বেশ বেশ৷ আপাতত আমরা মালাম্বো যাচ্ছি৷ তার পর অন্য কোথাও৷’

    ‘আমরা চলে যাচ্ছি কেন দাদু? তোমার মন খারাপ হচ্ছে না?’

    ‘হচ্ছে তো৷ কিন্তু কিছু করার নেই৷ যাঁর ঘরে বাস তিনিই যদি বলেন উঠে যাও তখন তো আর তর্ক চলে না৷ আমরা তো আর ঘরের মালিক নই বাপ৷’

    ‘আমরা মালিক নই তো মালিক কে? ওই বদমাইশ সাহেবটা বুঝি?’

    ‘না রে বাপ, ওই পোড়ারমুখোটা মালিক হতে যাবে কোন দুঃখে? ও তো একটা ভুঁইফোঁড় দালাল৷ পয়সার জোরে আমাদের ঘর দখল করেছে৷ কিন্তু এ বার ঘরের আসল মালিক বলে দিয়েছেন, যেতে হবে৷ তাই যাচ্ছি৷’

    দাদুর কথাগুলো আমার মাথার ওপর দিয়ে গেল৷ আমি বললাম, ‘কী বলছ দাদু? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না৷’

    দাদু আমায় নিয়ে পথের ধারে বসল৷ বলল, ‘দাঁড়া তোকে বুঝিয়ে বলি তবে৷ তোর মনে আছে পাহাড়ের ওপর নতুন একটা গাছ দেখেছিলাম আমরা?’

    ‘হ্যাঁ মনে আছে৷ এই তো সেদিনের কথা৷’

    ‘ওটা হল হিরেগাছ৷’

    ‘হিরেগাছ?’

    ‘হ্যাঁ৷ আমাদের কইনেত পাহাড়ের তলায় হিরে আছে৷ অনেক হিরে৷’

    আমার চোখ গোলগোল হয়ে গেল, ‘তার মানে? ওরা হোটেল বানানোর নামে হিরের খনি বানাচ্ছে?’

    ‘না রে দাদু, ওরা জানেই না এই পাহাড়ের নীচে হিরের খনি আছে৷ অবশ্য জেনেও কোনও লাভ নেই৷ ঘরের মালিক নারাজ হয়েছেন৷ ও হিরে কারও ভোগে লাগবে না৷ হিরে কোথায় পাওয়া যায় জানিস?’

    ‘না৷’

    ‘অনেক কাল আগে আমি হিরের খনিতে কাজ করতাম৷ সেখানেই এক সাহেব আমাকে শিখিয়েছিল, আগ্নেয়গিরির যে জ্বালামুখ তার থেকে অনেক শাখা প্রশাখা বেরোয়৷ সেগুলোকে বলে কিম্বার্লাইট পাইপ৷ হিরে জন্মায় শুধু কিম্বার্লাইট পাইপেই৷ আর কোত্থাও না৷ আর ওই যে পামের মতো গাছগুলো, ওরা চিনিয়ে দেয় মাটির তলায় কোথায় আছে সেই অমূল্য পাইপ৷ তাই ওদের নাম হিরেগাছ৷ বুঝলি?’

    ‘হুঁ৷ কিন্তু এর সঙ্গে আমাদের চলে যাওয়ার কী সম্পর্ক?’

    ‘নীচে হিরে থাকার মানে হল, আমাদের কইনেত আসলে আগুনপাহাড়৷ সে এতদিন ঘুমিয়ে ছিল তাই আমরা টের পাইনি৷ ওই পিঁপড়ের দল বুঝিয়ে দিয়েছে যে পাহাড় জাগছে৷ তাই ওরা দল বেঁধে পালাচ্ছে৷ জীবজন্তুরা প্রকৃতির খেয়াল বুঝতে পারে৷ মানুষ পারে না৷ কেন পারে না বল তো?’

    ‘জানি না৷’

    ‘প্রকৃতি হল আমাদের ঘরের মালিক৷ সে দয়া করে থাকতে দেয় বলে আমরা থাকি৷ সে লোভ জিনিসটা একেবারে পছন্দ করে না, কিন্তু মানুষ বড় লোভী জাত৷ তাই প্রকৃতি তার মন্ত্রগুপ্তি লোভী মানুষকে দেয়নি, জীবজন্তুকে দিয়েছে৷ ওই সাহেবটা বেশি লোভ করে প্রকৃতিকে চটিয়ে দিয়েছে৷ তার সাজা হবে৷ কঠিন সাজা৷’

    দাদুর কথা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ মাটি কেঁপে উঠল৷ তার পরই ভয়ানক শব্দে কানে তালা ধরে গেল৷ অসংখ্য পাখি ভয় পেয়ে এক সঙ্গে ডেকে উঠল৷ চমকে উঠে আমরা দেখলাম, আকাশটা ধোঁয়ায় ধোঁয়া হয়ে গেছে৷ কইনেতের চুড়োটা আর নেই৷ তার বদলে সেখান থেকে নেমে আসছে আগুনের নদী৷ কী তার রং! বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না সেদিকে৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার
    Next Article অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    সৌভিক চক্রবর্তী

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    January 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }