Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    সৌভিক চক্রবর্তী এক পাতা গল্প157 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    অর্ধসত্য – সৌভিক চক্রবর্তী

    অর্ধসত্য

    সাইকেলটা স্ট্যান্ড করেই ভাইঝি বলল, আজ একটা হারামিকে এমন চড় মেরেছি না, হারামজাদার পটকা ফেটে গেছে৷

    আমরা হইহই করে উঠলাম, ভাইঝি বোসো বোসো৷ কেউ একজন উঠে বসতে দে না৷ এই নান্টু আর এক রাউন্ড চা দে৷ ভাইঝি বিস্কুট বলব? খাবে না? আচ্ছা তা হলে একটা কেক নাও অন্তত৷

    খাতিরদারি দেখে আশা করি বোঝা যাচ্ছে ভাইঝি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ৷ আমাদের এই আড্ডায় আমরা ভাইঝির জন্য অপেক্ষা করে থাকি৷ ভাইঝি যেদিন আসে নান্টুর বিক্রি বেড়ে যায়৷

    আমাদের এই সান্ধ্যকালীন ঠেকের ঠিকানা নান্টুর চায়ের দোকান৷ নেতাজিনগর মোড় থেকে বাঁ হাতে দুলকিচালে বিশ কদম হাঁটলেই নান্টুর দোকান৷ দোকানের পাশেই একটা ভাঙা বেঞ্চ এবং কয়েকটা চেয়ার জড়ো করে রোজ রাত আটটা-সাড়ে আটটা নাগাদ আমাদের আড্ডা জমে ওঠে৷ সবার আগে চলে আসে স্বপনদা৷ তারপর একে একে বাকিরা৷

    স্বপনদা এসেই নান্টুর ওপর এক চোট হম্বতম্বি করে নেয়৷ তবে এমনি এমনি করে না৷ কারণ আছে৷ অত্যন্ত কুৎসিত চা বানায় নান্টু৷ বাজি রেখে বলতে পারি, সারা কলকাতা শহর ঢুঁড়ে ফেললেও এর থেকে খারাপ চা কোত্থাও পাওয়া যাবে না৷ আর সবচেয়ে দুঃখের কথা হল কুৎসিত চা বানালেও নান্টু সেটা মানতে চায় না৷ সে তার খারাপ চায়ের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দেয় এবং বোঝানোর চেষ্টা করে ওই চা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী৷ তাই আমরা কেউই দু’-এক কাপের বেশি চা খাই না৷ কিন্তু ভাইঝি এলেই সেটা ন’-দশ কাপে গিয়ে দাঁড়ায়৷ নান্টুও তাই ভাইঝিকে আলাদা করে খাতির করে৷

    চায়ে চুমুক দিয়ে ভাইঝি বলল, বুঝলে একেবারে পটকা ফাটিয়ে দিয়েছি৷

    সুমনদা বলল, চড় দিয়ে ফাটালে?

    হ্যাঁ কানচাপাটি৷

    পটকা ফাটার শব্দ পেলে?

    মাইরি৷ পুরো পট করে শব্দ হল৷

    তা ভাল৷ কিন্তু চড় মারলে কেন ভাইঝি?

    ভাইঝি সবিস্তারে ঘটনাটা বলল৷ তার সারসংক্ষেপ হল, ভাইঝি মেট্রো করে তার কোনও এক শাঁসালো ক্লায়েন্টের কাছে যাচ্ছিল৷ ভাইঝি একটা ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করে৷ বড় ক্লায়েন্টের কাছে যাওয়ার সময় সেজেগুজে যাওয়াই দস্তুর৷ তাই সে সদ্য ইস্তিরি করা শার্ট, প্যান্ট আর পালিশ করা ঝকঝকে জুতো পরেছিল৷ পাশে বসে একটা লোক ঢুলছিল আর থেকে থেকেই তার গায়ে পড়ে যাচ্ছিল৷ খুব বিরক্ত হলেও ভাইঝি চুপ করেই ছিল৷ কিন্তু লোকটা যখন তার চকচকে জুতো মাড়িয়ে দিল ভাইঝি আর ধৈর্য রাখতে পারেনি৷ লোকটাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলেছে, এক্ষুনি জুতো পালিশ করে দিন৷ না না কোনও অজুহাত শুনতে চাই না৷

    লোকটা প্রথমে খুব ঘাবড়ে গেছিল৷ তার পর সরি চেয়েছিল এমনকী নিজের রুমালটা ভাইঝির দিকে বাড়িয়ে বলেছিল, ধুলোটা মুছে নিন৷

    কিন্তু ভাইঝি নাছোড়৷ এক্ষুনি তার জুতো পালিশ করে দিতে হবে৷ এই দাবি শুনে মেট্রোর লোকজন হাসাহাসি করাতে ভাইঝির আরও রোখ চেপে গেছে৷ লোকটার কালীঘাট নামার কথা ছিল, ভাইঝি তারা জামা টেনে ধরে নামতে দেয়নি৷ এতে লোকটা ভাইঝিকে চোখ দেখিয়েছে আর তাতেই সে রেগে গিয়ে, আঁখ দিখাতি হ্যায় মাদারজাত, বলে কানচাপাটি দিয়ে লোকটার পটকা ফাটিয়ে দিয়েছে৷

    আমরা ভাইঝির পিঠ চাপড়ে দিলাম৷ গোপাল জিকির দিল, যবতক সুরজ চাঁদ রহেগা… আমরা ধুয়ো দিলাম, ভাইঝি সেন কা নাম রহেগা৷ রঞ্জন দৌড়ে গিয়ে নান্টুর দোকানে বালক ব্রহ্মচারীর ফটোর মালাটা খুলে এনে ভাইঝিকে পরিয়ে দিল৷ স্বপনদা উঠে দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বক্তৃতা শুরু করল, চড় মেরে পটকা ফাটানোর দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল৷ ভাইঝি সেনের বীরত্বে আজ সমস্ত নেতাজিনগরবাসী গর্বিত… ইত্যাদি ইত্যাদি৷ আবেগমথিত হয়ে নান্টু ভাইঝিকে একটা প্রণাম করার তাল করছিল৷ স্বপনদার চোখ দেখে সাহস পেল না৷

    ভাইঝি আমাদের সবাইকে ডবল ডিমের অমলেট এবং আরও এক রাউন্ড চা খাওয়াল৷ ফাঁকতালে ভালই বাণিজ্য করে নিল নান্টু৷

    ভাইঝি চলে যেতেই আমরা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লাম৷ আসলে ভাইঝি যা বলে তার সবটা সত্যি নয়৷ কিছুটা সত্যি আর কিছুটা কল্পনাপ্রসূত৷ এই পটকা ফাটানোর ঘটনাটাই যেমন, ভাইঝি জামা টেনে ধরে লোকটাকে নামতে দেয়নি এই পর্যন্ত সত্যি কিন্তু তার পরেরটা উল্টো৷ বরং লোকটাই রেগে গিয়ে ভাইঝিকে ঝেড়ে একটা থাপ্পড় কষিয়েছে৷ মার খেয়ে ভাইঝি চুপ করে গেছে তার পর ক্লায়েন্টের কাছে না গিয়ে সোজা বাড়ি চলে এসেছে৷ ছেলের গালে পাঁচ আঙুলের দাগ দেখে ভাইঝির মা চেঁচামেচি শুরু করেছিলেন৷ ভাইঝি তাঁকে গলা টিপে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চুপ করিয়েছে৷ ভাইঝিদের পাশের বাড়িতেই রঞ্জনের বোনের বিয়ে হয়েছে৷ ভাইঝির মা দুপুরে তার কাছে আইসব্যাগ চাইতে গেছিলেন৷ বিকেলে ভাগ্নেকে রংপেনসিল কিনে দিতে গিয়ে রঞ্জন তার বোনের কাছ থেকে সবই শুনে এসেছে৷

    প্রথম প্রথম আমরা খুব ক্ষেপে যেতাম৷ ভাইঝি একদিন এসে বলেছিল, আমার মেসোর এত হাই প্রেশার যে প্রেশার মাপতে গিয়ে মেশিনের পাম্পটাই ফেটে গেছে৷ পরে জানা গেল, পাম্পটায় গোলমাল ছিল৷ সেটা সত্যিই ফেটেছে৷ কিন্তু ডাক্তার ভাইঝির মেসোকে লো প্রেশারের ওষুধ দিয়েছে৷

    আমরা বলেছিলাম, গুলবাজটাকে আর আড্ডায় বসতে দেব না৷

    সুমনদা আমাদের ভ্রম সংশোধন করে দিয়েছিল, ওরে ভাইঝি গুল দেয় না৷ ও যা বলে তা সত্য৷ কিন্তু অর্ধসত্য৷ আর ওর কথা শুনে মজা পাস কি পাস না?

    মজা যে পাই তা খুব সত্যি৷ তাই আমরা ভাইঝির অর্ধসত্যগুলোকে মেনে নিতে শুরু করলাম এবং নিজেদের অজান্তেই কখন যেন সেগুলোর ভক্ত হয়ে উঠলাম৷ পরপর দু-তিনদিন ভাইঝির বাণী না শুনলে এখন আমাদের রাতে ঘুম আসতে চায় না৷ তা ছাড়া অর্ধসত্য শুনে অবাক হওয়ার ভান করলে কিংবা বাহবা দিলে অমলেট, কেক এসব তো আছেই৷ মিথ্যে কথা বলব না, অমলেটটা ভালই বানায় নান্টু৷

    একদিন সন্ধেবেলা ভাইঝি হঠাৎ আমাদের সবার হাতে একটা করে কার্ড ধরিয়ে দিল৷ সে একেবারে ঝকঝকে কার্ড৷ খাম খুলে আমরা কার্ডের বয়ান দেখে ভেবলে গেলাম৷ কার্ডে লেখা, প্রজাপতির অভিরুচিতে আমার কনিষ্ঠ পুত্র কল্যাণীয় বিপ্লব সেন বাঁশদ্রোণী নিবাসী শ্রী পরিমল সাহার একমাত্র কন্যা কল্যাণীয়া ঊর্মিলার সহিত শুভ পরিণয়ে আবদ্ধ হবে… পত্রদ্বারা নিমন্ত্রণের ত্রুটি মার্জনা করিবেন৷ বিনীত শ্রী অর্ধেন্দু সেন৷

    আমরা বললাম, কার বিয়ে ভাইঝি?

    অভিমান ভরে ভাইঝি বলল, কার আবার? আমার৷ নাম লেখা আছে দেখতে পাচ্ছ না?

    ভাইঝির ভাল নাম যে বিপ্লব সেটা আমাদের মনে ছিল না৷ মনে থাকবেই বা কী করে? দুনিয়াশুদ্ধু লোক তো বটেই, ভাইঝির বাবা-মা পর্যন্ত তাকে ভাইঝি বলেই ডাকেন৷ এমন একটা ডাকনাম যে সে কোথা থেকে জুটিয়েছিল কে জানে?

    আমরা প্রথমটায় স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম৷ ভাইঝির বিয়ে! ব্যাপারটা যেন বিশ্বাস হতে চাইছিল না৷ তবে চোখের সামনে এমন প্রমাণ দেখে বিশ্বাস না করাও শক্ত৷ আমাদের চুপ করে যেতে দেখে ভাইঝিও খানিক অপ্রতিভ হয়ে পড়েছিল৷ পরিবেশটা হালকা করে দিল রঞ্জন৷ সে ভাইঝির সামনে গিয়ে মুখের কাছে হাত তুলে প্যাঁ প্যাঁ করে সানাই বাজাতে শুরু করল৷ আমরাও হইহই করে উঠলাম৷

    চায়ে চুমুক দিয়ে স্বপনদা বলল, মেয়ে কী করে ভাইঝি?

    বিউটি পার্লারে কাজ করে৷ ট্রেনিং আছে৷

    বাঃ৷ যোগাযোগ হল কী ভাবে?

    কাগজে অ্যাড দেখে৷

    দেনাপাওনা কেমন হচ্ছে?

    তিন লাখ ক্যাশ চেয়েছি৷ আর যা দেবে দেবে, না দেবে না দেবে৷ ওদের খুশি৷ কিন্তু একেবারে কিছু না চাইলে পেয়ে বসবে৷ তাই তিন চাইলাম৷

    কোথাও কিছু নেই আমাদের সবার একসঙ্গে কাশি পেল৷ তিন লাখের গল্পটা অর্ধসত্য৷ এখন আমরা ভাইঝির অর্ধসত্যগুলো বুঝতে পারি৷

    স্বপনদা বলল, সে ভাল করেছ৷ তোমার মতো জুয়েল ছেলে পাচ্ছে৷ না হে তিন লাখটা বড় সস্তা হয়ে গেল৷

    ভাইঝি সস্তার ব্যাপারটায় পাত্তা না দিয়ে বলল, তাও আমার জেঠারা ভাঙচি দিয়েছিল৷ কী বলেছে জানো? বলেছে আমরা না কি তারকাটা৷ এসব শুনে মেয়ে গাঁইগুই করছিল৷ কিন্তু আমার বাবার কম সম্পত্তি বলো? মেয়েমানুষ কি আর গয়নাগাঁটির লোভ ছাড়তে পারে? রাজি হতে বাধ্য৷ তা একবার ঘরে তুলি গাঁইগুই করা বের করে দেব৷ আমাকে তো চেনে না৷ বিষ ঝেড়ে দেব একেবারে৷

    আমরা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম৷ ভাইঝি চলে যাওয়ার পর সুমনদা বলল, অর্ধসত্য৷ যা বলল সেটাও অর্ধসত্য হবে৷ তোরা মিলিয়ে নিস৷ হেনস্থা একজন হবে৷ তবে সেটা ভাইঝি৷ মেয়েটার হাতে ভাইঝির উস্তুমকুস্তুম হচ্ছে এ যেন স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি৷ বিয়ে-থা না করলেই পারত৷ আর যাই হোক ভাইঝি ছেলে ভাল৷ মনটা নরম৷ কষ্ট পাবে৷ যাকগে কী আর করা যাবে? গু যে মানুষ আয়োজন করেই খায় এ তো আমি নিজেকে দিয়েই বুঝি৷ না উঠি, বউয়ের অনেকগুলো ফরমায়েশ আছে৷

    ধুমধাম করে ভাইঝির বিয়ে হয়ে গেল৷ ভাইঝির বউ দেখে আমরা খুবই অবাক হয়ে গেলাম৷ দারুণ সুন্দর বউ৷ বউয়ের পাশে ভাইঝিকে অবিকল কলোবাস বাঁদরের মতো দেখাচ্ছে৷ ভাইঝি এরকম একটা বোমা তুলে ফেলেছে দেখে আমাদের একটু হিংসেই হল৷ ভাইঝি কোঁচা দুলিয়ে তদারক করছিল বটে কিন্তু তাকে দেখে বেশ ক্লান্ত লাগল৷ এমনটা তো হওয়ার কথা নয়৷ ফুলশয্যার সন্ধ্যায় জোয়ান ছেলে তাগড়া ঘোড়ার মতো দৌড়ে বেড়াবে তবেই না৷

    আমি, রঞ্জন আর গোপাল শেষ ব্যাচ পর্যন্ত বসে ছিলাম৷ সব শেষ করে বেরিয়ে আসছি ভাইঝি হঠাৎ পথ আটকে দাঁড়াল, কোথায় চললে সব?

    আমরা তো অবাক, কোথায় চললে মানে? বাড়ি যাচ্ছি৷ তুমি যাও ভাইঝি৷ বউয়ের সঙ্গে গল্পগাছা করো৷

    ভাইঝি ফিসফিস করে আমাকে বলল, চলে যাস না দোস্ত৷ আমার কেমন যেন নার্ভাস লাগছে৷ তুই থেকে যা আমার সঙ্গে৷ ওদেরও থাকতে বল৷ বসে একটু বিড়িটিড়ি খাবি৷ চল না৷

    ফুলশয্যার রাতে নবদম্পতির জন্য সাজানো বিছানার ওপরে বসে বরের বন্ধুরা ফকফক করে বিড়ি খাচ্ছে, দৃশ্যটা যতটাই অবাস্তব ততটাই কুৎসিত৷ পৃথিবীর কোনও সভ্য সমাজ এ জাতীয় ঘটনা অনুমোদন করে না৷ ভাইঝিকে কোনওরকমে বুঝিয়ে আমরা পালিয়ে এলাম৷ ভাইঝির দাম্পত্য জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সেদিন যে আমাদের একটু সংশয় হয়নি তা নয় কিন্তু সুমনদার ভবিষ্যদ্বাণী যে এমন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাবে তা আমরা কল্পনাও করিনি৷

    এর মধ্যে মাস আটেক কেটে গেছে৷ ভাইঝি আমাদের আড্ডায় আসা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে৷ খারাপ লাগলেও মেনে নিয়েছি৷ অমন আগুনের খাপরা বউ ছেড়ে আমাদের শ্রীবদন দেখতে আসার সত্যিই কোনও সঙ্গত কারণ নেই৷ রঞ্জন তার বোনের কাছ থেকে শুনে এসেছে, ভাইঝি বউ অন্তপ্রাণ৷ বউকে না কি ভক্তিশ্রদ্ধাও করে খুব৷

    কিন্তু হঠাৎই একদিন ঝড়ের মতো এসে উপস্থিত হল ভাইঝি৷ সাইকেলটা স্ট্যান্ড করেই বলল, সোজা ঘাড় ধরে বের করে দিয়েছি বুঝলে৷ আমার সঙ্গে চালাকি? দিয়েছি ধুদ্ধুড়ি নেড়ে৷

    অনেকদিন পর খোরাকের গন্ধ পেয়ে আমরা হইহই করে উঠলাম, ভাইঝি বোসো বোসো৷ কেউ একজন উঠে বসতে দে না৷ এই নান্টু আর এক রাউন্ড চা দে৷ ভাইঝি বিস্কুট বলব? খাবে না? আচ্ছা তা হলে একটা কেক নাও অন্তত৷

    চায়ে চুমুক দিয়ে ভাইঝি বলল, একেবারে ঘাড় ধরে বের করে দিয়েছি বুঝলে৷

    সুমনদা বলল, কাকে বের করে দিলে ভাইঝি?

    ভাইঝি বলল, আমার বউকে৷ মেয়েমানুষের রোয়াব ভাইঝি সেন সহ্য করে না৷

    আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেলাম৷ বলে কী ভাইঝি? বউকে বের করে দিয়েছে? গত হপ্তাহেই তো বউয়ের পেছু পেছু একগাদা ব্যাগ হাতে নিয়ে শপিং করে ফিরছিল৷ আমার সঙ্গে দেখা হওয়ায় প্রথমে একটু ঘাবড়ে গেল৷ তার পর না চেনার ভান করে বউকে টপকে হন হন করে হাঁটা দিল৷ ভাইঝির বউই বরং আমাকে দেখে হাসল৷ বলল, কেমন আছেন? আমি আড্ডায় এসে ভাইঝিকে ‘বিপিবিসি’ (বউ পোন্দা ব্যাটাছেলে) বলে কত খিস্তি করলাম৷ নাঃ, ব্যাপারটা ঠিক বিশ্বাসযোগ্য মনে হল না৷ আমি বললাম, এই ভাইঝি ঠিক করে বল কী হয়েছে?

    ভাইঝি ফুঁসে উঠল, ঠিক করে বলার কী আছে? ধরে ফেলেছি একেবারে হাতে নাতে৷ আমার চোখকে ফাঁকি দেওয়া অত সোজা নয়৷ তাই বলি সারাদিন টুকুস টুকুস করে এত হোয়্যাটসঅ্যাপ করার কী আছে? ও মেয়ের চরিত্র ভাল না৷ বিয়ের আগে তিনটে ছেলের সঙ্গে লাভ অ্যাফেয়ার ছিল৷ এখন নতুন কাউকে একটা ধরেছে৷ জানতে পেরে সোজা বের করে দিয়েছি৷ সে এখন বাপের বাড়ি বসে ঘুনঘুন করে কাঁদছে৷ পায়ে ধরে ক্ষমা চাইবে তবে আমি ঘরে তুলব৷ তোমরা সব সাক্ষী রইলে৷ ভাইঝি সেনের সঙ্গে চালাকি করেছ কি মরেছ৷

    বীরদর্পে সাইকেল চালিয়ে চলে যাচ্ছে ভাইঝি৷ কিন্তু তাকে কেমন যেন কুঁজো কুঁজো দেখাচ্ছে৷

    দিনকয়েক পরে ভাইঝির মা সুমনদার কাছে এসে খুব কান্নাকাটি করলেন, ছেলেটার পুরো মাথা খারাপ হয়ে গেছে৷ তোমরা ওকে একটু বোঝাও৷ অফিস-টফিস যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে৷ খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছে৷

    ব্যাপারটা বোঝা গেল, ভাইঝি মোটেও তার বউকে বের করে দেয় নি৷ বউ নিজেই চলে গেছে৷ এমনি এমনি যায়নি৷ যাওয়ার আগে বলে গেছে, ছেলে তারকাটা৷ ছেলে পাগল৷ সারাক্ষণ পেছনে আঠার মতো সেঁটে থাকে৷ মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে বউয়ের মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে কী যেন দেখে৷ তিন-চারবার ঘুম ভেঙে ওই দৃশ্য দেখে বউ খুবই ভয় পেয়ে গেছে৷

    এই পর্যন্ত হলে তাও ঠিক ছিল৷ কিন্তু ভাইঝির বউ এখানেই থেমে থাকেনি৷ সে একেবারে আটঘাট বেঁধেই নেমেছে৷ সে ডিভোর্স চেয়েছে, সঙ্গে খোরপোষশও৷ ভাইঝির বাড়ি থেকে পাল্টা কেস করতে বলেছিল কিন্তু অনেক বুঝিয়েও ভাইঝিকে রাজি করানো যায়নি৷ সে জেদ ধরে বসে আছে, কিছুতেই বউয়ের বিরুদ্ধে কিছু করবে না৷ বউ যা চাইবে দিয়ে দেবে৷

    মাথা নিচু করে ভাইঝি হাঁটছিল৷ আমাকে দেখেই যেন চমকে উঠল৷ আমি হাত ধরে টানলাম, এদিকে আয় কথা আছে৷

    ক্লান্ত গলায় ভাইঝি বলল, বল৷

    রোজ রোজ বউয়ের বিউটিপার্লারের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকিস কেন?

    কই? দাঁড়াই না তো৷

    মিথ্যে কথা বলিস না৷ তোর বউ তো তোর দিকে ফিরেও তাকায় না৷ বেরিয়ে গটগট করে চলে যায়৷ আমি সব শুনেছি৷ তুই যাস কেন? তোর মান-সম্মান নেই?

    ভাইঝি কথা বলে না৷ মাথা নিচু করে থাকে৷ আমি বলি, তুই কেন খোরপোশ দিবি? তুই বরং ওর এগেনস্টে অ্যাডাল্টরির মামলা কর৷

    পারব না রে দোস্ত৷

    কেন?

    ওকে কিছু বলতে গেলেই ওর ঘুমন্ত মুখটার কথা মনে পড়ে৷ ঘুমোলে ওকে বড় সুন্দর লাগে৷ দেখে দেখে আশ মিটত না৷

    আমি খিঁচিয়ে উঠলাম, তাই বলে রাতে উঠে ভূতের মতো তাকিয়ে থাকবি? বেশ করেছে তোকে ছেড়ে চলে গেছে৷

    ভাইঝি একটু গা ঝাড়া দিয়ে বলল, আরে রাগ করেছে৷ রাগ পড়লেই চলে আসবে৷ তোরা সবাই বাড়াবাড়ি করছিস৷

    চলে আসবে তো ডিভোর্স চাইছে কেন রে ছাগল?

    চাচ্ছে চাক না৷ ডিভোর্স দিলে পুরো ছাড়াছাড়ি হবে৷ তখনই তো বুঝবে কী জিনিস হারিয়েছে৷ দেখবি সুড়সুড় করে এসে পায়ে পড়বে৷

    আমি হতাশায় ডুবে গেলাম৷ এ পাগলকে কে বোঝাবে৷ বললাম, চল চা খাই৷

    ভাইঝি হঠাৎ উৎসাহিত হয়ে বলল, তবে আজ একটা দারুণ কাজ করে ফেলেছি৷ কেসটা মোটামুটি সালটে দিয়েছি বলতে পারিস৷

    আবার কী করলি?

    আমার বউ কার সঙ্গে প্রেম করছে জানিস তো?

    না৷ কে?

    ছেলেটা ওদের পাড়াতেই থাকে৷ মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ৷ নাম সুনন্দ৷ আজ তাকে এমন থ্রেট দিয়েছি যে ভয়ে তার বিচি শর্ট হয়ে গেছে৷

    আমি অবাক হতেও ভুলে গেলাম৷ কিছুক্ষণ ভাইঝির মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম৷ আমাকে থতিয়ে যেতে দেখে ভাইঝি যেন খানিক আশ্বস্ত হল৷ আমার সব হিসেব গোলমাল হয়ে যাচ্ছিল৷ তবু তাকে খুশি করার জন্য বললাম, বেশ করেছিস থ্রেট দিয়েছিস৷ বউ তো তোর৷ ঠিক করেছিস৷ ফাটিয়ে দিয়েছিস৷

    ভাইঝি খুশি হয়ে আমাকে জোর করে দু’টো বেগুনি খাওয়াল৷ বেগুনি ঠান্ডা হয়ে গেছিল৷ অম্বলে আমার গলা বুক জ্বলতে লাগল৷

    সুনন্দকে আমি চিনি৷ চিনি বললে কম বলা হয়৷ খুব ভাল করে চিনি৷ সুনন্দের মতো ছেলে হয় না৷ সে পেট চালাতে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ হয়েছে৷ আসলে কিন্তু শিল্পী৷ দারুণ ছবি আঁকে৷ যেমন সুন্দর দেখতে, তেমন সুন্দর স্বভাব৷ অ্যাকাডেমিতে একটা একজিবিশনে গিয়ে আলাপ হয়েছিল৷ তখনই সে বলেছিল, দাদা আমি আপনাদের বাড়ির কাছেই থাকি৷ বাঁশদ্রোণীতে৷ একদিন আসুন না৷ ছবি দেখাব৷

    ছবি দেখতে গেছিলাম৷ খুব ভাল রঙের ব্যবহার৷ আমার কিছু চেনাশোনা ছিল৷ ওর একটা সোলো একজিবিশনের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম৷ খুব খুশি হয়েছিল সুনন্দ৷ নিয়মিত যোগাযোগ না থাকলেও সে মাঝে মাঝেই আমাকে ফোন করে৷ সুনন্দর মতো একটা ছেলে কেন ভাইঝির বউয়ের পাল্লায় পড়ল এটা ভেবে আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম৷

    বাড়ি ফিরেই ফোন করলাম সুনন্দকে, তুমি ভাইঝিকে চেনো?

    আগে চিনতাম না দাদা৷ দিন কয়েক হল চিনেছি৷

    তুমি পুরো ব্যাপারটা জানো তো?

    জানি দাদা৷

    তা হলে?

    লোকটা শুনেছি পাগল৷ তা ছাড়া আমি সত্যিই খুব ভালবেসে ফেলেছি ঊর্মিলাকে৷ আমার খারাপ লাগছে না তা নয়৷ কিন্তু কী করব বলুন তো?

    তোমার কী মনে হয় ভাইঝি পাগল?

    হ্যাঁ দাদা৷ আজকেই সন্ধেবেলা আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল৷

    শুনলাম৷ তোমাকে থ্রেট করেছে?

    কই না তো৷ আমি তো ভেবেছিলাম থ্রেট দিতেই এসেছে৷ কিন্তু রাস্তার একপাশে নিয়ে গিয়ে আমাকে বলল, ঊর্মিলা চিংড়ি মাছ দিয়ে কচুর লতি খেতে ভালবাসে৷ আর পার্শে মাছ৷ তার পর আমার হাত দু’টো ধরে বলল, ওর খেয়াল রেখো৷ ঠিক মতো যত্নআত্তি কোরো৷ একে পাগল ছাড়া কী বলব বলুন?

    আমি চুপ করে রইলাম৷ সুনন্দ বলল, ডিভোর্সের ঝামেলা মিটে গেলে আমি ঊর্মিলাকে বিয়ে করব৷ আপনি কিছু মনে করেননি তো? আমি জানাব আপনাকে৷ আসতে হবে কিন্তু৷

    এর মধ্যে আরও বছর খানেক কেটে গেছে৷ ভাইঝির ডিভোর্স হয়ে গেছে৷ ভাইঝির মন মেজাজ এখন আগের থেকে অনেক ভাল৷ প্রায় নিয়মিতই আড্ডায় আসছে এবং মাঝে মধ্যেই কিছু অর্ধসত্য বলে আমাদের মনোরঞ্জন করছে৷ কিন্তু হঠাৎই একদিন একটা কাণ্ড হল৷ আমরা নান্টুর কুৎসিত চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলাম তখনই সুনন্দ ফোন করে জানাল, সামনের মাসে ওর আর ঊর্মিলার বিয়ে৷ খবরটা পেয়ে আমি সবাইকে জানালাম৷ ভেবেছিলাম, ভাইঝি ব্যাপারটাকে সহজ ভাবে নেবে কিন্তু বিয়ের কথাটা শুনেই ভাইঝির চোখ-মুখের চেহারা বদলে গেল৷ সে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে আমার দিকে ঘোলাটে চোখে তাকিয়ে বলল, ও বিয়ে করছে?

    ভাইঝির হাবভাব দেখে আমরা সবাই খুব ঘাবড়ে গেলাম৷ সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বোমার মতো ফেটে পড়ল, বিয়ে করবে? কিছু বলি না বলে খুব মজা পেয়ে গেছে তাই না? ওই বিয়ে আমি হতে দেব না৷ কিছুতেই হতে দেব না৷

    সুমনদা ভাইঝিকে ধরে বলল, শান্ত হও৷ শান্ত হও৷ মাথা ঠান্ডা করো৷

    সুমনদাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে ভাইঝি বলল, এখনও সে ভাইঝি সেনকে চেনেনি৷ আমি তোমাদের বলে রাখলাম, বিয়ে আমি ভেস্তে দেব৷ দশতলা থেকে রাস্তার ওপর আছাড় দিয়ে পড়ব৷ আছাড় খেয়ে সুইসাইড করব৷ এই দ্যাখো এই ভাবে পড়ব৷

    ভাইঝি রাস্তায় শুয়ে পড়ল৷ শুয়ে শুয়েই চিৎকার করতে লাগল, এই দ্যাখো ডান পা এই ভাবে বেঁকে যাবে৷ ডান হাতটা ঢুকে যাবে বুকের তলায়৷ মাথা ফেটে ঘিলু বেরিয়ে আসবে৷ গ্যালগ্যালে রক্ত মাখা ঘিলু৷ প্যান্টে হাগা হয়ে যাবে৷ রক্ত হাগা হবে৷ আর একটা চোখ ছিটকে বেরিয়ে যাবে৷ কিন্তু সেটা কেউ খুঁজে পাবে না৷ কুত্তায় নিয়ে পালাবে৷ তখন ওকে খবর দিও৷ ও আসবে৷ নির্ঘাৎ আসবে৷ এসে কাঁদতে কাঁদতে পাগল হয়ে যাবে৷ পাগলকে তখন কে বিয়ে করবে? বের করছি ওর বিয়ে করা৷

    ভাইঝি হাঁপাতে লাগল৷ তার ঠোঁটের কষে রাস্তার ধুলো লেগেছে৷ তাকে কোনও মতে তুলে বসিয়ে চোখে, মুখে, মাথায় জল দিলাম৷ স্বপনদা হাওয়া করতে শুরু করল৷ কিছুক্ষণ পর ভাইঝি ধাতস্থ হল৷

    সুমনদা বলল, ভাইঝি ঠিক আছ?

    ভাইঝি মাথা নাড়ল৷ তার পর বলল, সরি৷ হঠাৎ মাথা গরম হয়ে গেছিল৷ কিছু মনে কোরো না তোমরা৷

    সুমনদা বলল, যা রঞ্জন ভাইঝিকে বাড়ি অবধি ছেড়ে দিয়ে আয়৷

    ভাইঝির পাগলামোর দৃশ্যটা মনে পড়ে গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল৷ বদ্ধ পাগল না হলে কেউ নিজের মৃত্যু ওরকম ভাবে অভিনয় করে দেখায়? বাপরে বাপ৷ আর কী সব বলছিল! কী ভয়ানক দৃশ্য! কী ভয়ানক অভিশাপ! ভালই করেছে বউটা পালিয়েছে৷ আমি ভয়ে ভয়ে বললাম, সুমনদা কিছু হবে না তো?

    সুমনদা বলল, ছাড় তো৷ ভাইঝি রাম ভীতু৷ এতক্ষণে দেখ ডাল আর বেগুনভাজা দিয়ে ভাত খেয়ে ঘুম দিচ্ছে৷ আর দশতলা বাড়ি পাচ্ছে কোথায়? ওদের বাড়িটা তো আড়াইতলা৷ শোন যারা বলে সুইসাইড করব তারা কখনওই করে না৷ ও সব বলে কয়ে করার জিনিস নয়৷

    নিশ্চিন্ত হয়ে বাড়ি চলে এলাম৷

    রাত দেড়টা নাগাদ লেখালিখি শেষ করে শুতে যাব রঞ্জন ফোন করল, শিগগিরি আয়৷ ভাইঝি সুইসাইড করেছে৷ ওদের বাড়ির পাশের অ্যাপার্টমেন্টের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছে৷

    আমার হাত পা কাঁপতে লাগল৷ কোনওমতে জামাটা গায়ে চড়িয়ে রাস্তায় নেমে এলাম৷ কীভাবে ভাইঝির বাড়ি অবধি পৌঁছেছি মনে নেই৷ ততক্ষণে বেশ ভিড় জমে গেছে৷ কয়েকজন খুব কাঁদছে৷ ভিড় সরিয়ে দেখলাম, ভাইঝি উপুড় হয়ে পড়ে আছে৷ তার ডান পা বেঁকে গেছে৷ উপুড় হয়ে পড়ায় একটা হাত বুকের তলায় ঢুকে গেছে৷ মাথাটা ডান কাত হয়ে ফেটেছে৷ রক্তমাখা ঘিলু ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তা জুড়ে৷ প্যান্টটা নোংরা হয়ে গেছে৷ আর একটা চোখ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷ মাথাটা ফাটার ধাক্কায় চোখটা ছিটকে পড়েছিল বাইরে৷ একটা কুকুর মুখে নিয়ে পালিয়েছে৷ অ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ান কুকুরটাকে ধাওয়া করছিল৷ ধরতে পারেনি৷

    ভাইঝির বউকে খবর দেওয়া হল৷ শেষ কথাটা অনেকটা ঠিকঠিক বললেও সবটা মেলাতে পারল না ভাইঝি৷ সেই অর্ধসত্যই হল৷ খবরটা শুনে ফোন কেটে দিল ঊর্মিলা৷

    ঊর্মিলা আসেনি৷ ভাইঝির জন্য কেঁদেছিল কি না তাও জানা নেই৷ তবে সুনন্দ এসেছিল৷ ডেথ সার্টিফিকেট থেকে পোস্টমর্টেম সারাদিন আমাদের সঙ্গে ছিল৷ সৎকার হয়ে যাওয়ার পরও শ্মশানে বসে রইল চুপচাপ৷ আমি বললাম, যা হওয়ার হয়ে গেছে সুনন্দ৷ বাড়ি চলো৷

    সুনন্দ বলল, আপনারা যান দাদা৷ আমার ভাল লাগছে না৷ আমি একটু বসি৷ পরে যাব৷

    দেখলাম তার চোখে টলটল করছে জল৷ বড় মায়া হল ছেলেটার জন্য৷

    দশ-বারো দিন পর খবর পেলাম সুনন্দ বদ্ধ উন্মাদ হয়ে গেছে৷ তাকে একটা ঘরে আটকে রাখা হয়েছে৷ আমি দেখতে গেলাম৷ ঘরের জানালা খোলা ছিল৷ দেখলাম, খালি গায়ে একটা বারমুডা পরে মেঝেতে বসে ছবি আঁকছে সুনন্দ৷ এ ক’দিনে অনেকটা রোগা হয়ে গেছে৷ দাড়ি বেড়েছে৷ চোখ দু’টো অস্বাভাবিক রকমের জ্বলজ্বল করছে৷ বড় সুন্দর দেখাচ্ছে তাকে৷ আমি কয়েকবার ডাকলাম, সে সাড়া দিল না৷ দেখলাম, সারা ঘর জুড়ে সে ছবি এঁকেছে৷

    সবই কুকুরের ছবি৷ কুকুরগুলো দৌড়ে পালাচ্ছে৷ তাদের সবার মুখে একটা করে মানুষের চোখ৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার
    Next Article অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    Related Articles

    সৌভিক চক্রবর্তী

    নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র ৩ – সৌভিক চক্রবর্তী

    January 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }