Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    August 11, 2026

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    সাদাত হোসাইন এক পাতা গল্প480 Mins Read0
    ⤷

    অর্ধবৃত্ত – ১

    ১

    ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সাথে দমকা হাওয়া। বারান্দায় একটা উইন্ডচাইম দুলছে। উইন্ডচাইমের টুংটাং শব্দে মুনিয়ার ঘুম ভেঙে গেল। একবার পাশ ফিরে তাকাল সে। জাফর ঘুমাচ্ছে। ঘুমানোর আগে বারান্দার দরজাটাও বন্ধ করতে ভুলে গেছে জাফর। এখন এই মাঝরাতে উঠে গিয়ে মুনিয়াকেই দরজা বন্ধ করতে হবে।

    ‘জাফর?’ মুনিয়া ডাকল।

    জাফর সাড়া দিল না। সামান্য গোঙানির মতো শব্দ করল কেবল। সাথে মৃদু নাকও ডাকছে সে। মুনিয়া বালিশের পাশ থেকে মোবাইল ফোনটা নিল। যা আশঙ্কা করেছিল তা-ই। ঊনিশটা মিসড কল! সে জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। মাঝরাত। সোডিয়াম লাইটের আলোয় নিঃসঙ্গ একা এক শহর। এই সময়ের সোডিয়াম লাইটের আলোটা অদ্ভুত। সবকিছু কেমন অপার্থিব মনে হয়। বিভ্রমাত্মক মনে হয়। মনে হয়, এই যেন হুট করে চোখের সামনে দেখা দৃশ্যটা এখুনি কোথাও মিলিয়ে যাবে। তারপর রয়ে যাবে অনন্ত শূন্যতা। সুতীব্র হাহাকার।

    মুনিয়া আলগোছে বিছানা ছেড়ে নামল। খুব সাবধানে, সতর্ক পা ফেলে সে বারান্দার দরজাটার কাছে এসে দাঁড়াল। এক পশলা শীতল বাতাস এসে ঝাপটা মেরে গেল তার চোখে মুখে। রাস্তার ঠিক উল্টোপাশেই একটা ল্যাম্পপোস্ট। ল্যাম্পপোস্টের নিচে একটা ছায়ামূর্তি। ছায়ামূর্তির মুখ দেখা যাচ্ছে না। কিন্তু মুনিয়া জানে, রাফি দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে কবিতার খাতা। এই মাঝরাতে সে মুনিয়াকে কবিতা না শুনিয়ে যাবে না। মুনিয়া বুঝতে পারছে না, তার কি আনন্দিত হওয়া উচিত? না বিরক্ত? রাফি কম করে হলেও তার চেয়ে আঠারো বছরের ছোট। বেশিও হতে পারে। ঋদ্ধির বান্ধবীর বড় ভাই সে। ইউনিভার্সিটিতে ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। আর মুনিয়া ইউনিভার্সিটি শেষ করেছে সতেরো বছরেরও বেশি!

    একবার মুখ ফিরিয়ে ঘুমন্ত স্বামীকে দেখে নিল মুনিয়া। জাফর এখন বাঁ কাত হয়ে ঘুমাচ্ছে। গভীর শ্বাস ফেলছে সে। বাকি রাতে ভূমিকম্প হয়ে গেলেও আর জেগে ওঠার সম্ভাবনা নেই তার। পাশের ঘরেই ঘুমাচ্ছে ঋদ্ধি। তাদের একমাত্র সন্তান। গতকালই ঋদ্ধির তেরোতম জন্মদিন গেল। আজ চৌদ্দতে পড়েছে সে। সারা দিন হৈহুল্লা করে তাই সন্ধ্যা নামতেই ঘুমিয়ে পড়েছে। বারান্দার জানালা দিয়ে ঋদ্ধিকে দেখা যাচ্ছে। এলোমেলো ভঙ্গিতে ঘুমিয়ে আছে সে। গায়ের টিশার্ট সরে গেছে। মেয়েটাকে খানিক সতর্ক করার প্রয়োজন অনুভব করল মুনিয়া। এই সেদিন কাপড়ের পুটলির ভেতর থেকে পিটপিট করে তাকানো মেয়েটা চোখের পলকে বড় হয়ে গেল। আচ্ছা, সে নিজেও কি বুড়িয়ে যাচ্ছে?

    একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলতে গিয়েও সামলে নিল মুনিয়া। তার কেন যেন মনে হলো এই যে রাতের হাওয়া, এই হাওয়ার পুরোটাই এই শহরের মানুষের দীর্ঘশ্বাসে পরিপূর্ণ। এত এত দীর্ঘশ্বাসের ভিড়ে নিজের দীর্ঘশ্বাসটুকু সে আর হারিয়ে ফেলতে চায় না।

    রাফি ফোন করছে। সে এখন আরাম করে রাস্তার ওপাশে ল্যাম্পপোস্টের নিচে ফুটপাতে বসেছে। বৃষ্টি কমে এসেছে। রাফির সামনে হাঁটুর ওপর কবিতার খাতাটা খোলা। বাঁ হাতে সিগারেট। এতদূর থেকে সোডিয়াম লাইটের আলোয় তার পাঞ্জাবির রংটা বোঝা যাচ্ছে না। মুনিয়া ফোনটা ধরল। তবে কোনো কথা বলল না। কেবল কানের সাথে আলতো করে চেপে রাখল। রাফি ভরাট গলায় কবিতা পড়লো,

    ‘আমি একদিন নিখোঁজ হবো, উধাও হবো রাত প্রহরে,
    সড়ক বাতির আবছা আলোয়, খুঁজবে না কেউ এই শহরে।
    ভাববে না কেউ, কাঁপবে না কেউ, কাঁদবে না কেউ একলা একা,
    এই শহরের দেয়ালগুলোয়, প্রেমহীনতার গল্প লেখা।’

    রাফি এখন তাকে একের পর এক কবিতা শোনাবে। মুনিয়া একটা শব্দও বলবে না। কবিতা শোনানো শেষে রাফি খানিক চুপচাপ বসে থাকবে। মুনিয়া দীর্ঘ এক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফোনটা রেখে দেবে। ওই দীর্ঘশ্বাসের শব্দটুকুতে কী আছে, কে জানে! তবে ওটুকু বুকে নিয়েই ঘুমুতে যাবে রাফি।

    কিন্তু আজ প্রথম কবিতার পরই রাফিকে থামাল মুনিয়া। সে ফিসফিস করে বলল, ‘তুমি ঋদ্ধিকে অতো গিফট দিতে গেলে কেন?’

    ‘ওর জন্মদিন তাই।’

    ‘জন্মদিন বলেই অত গিফট দিতে হবে? সবাইকেই দাও?’

    ‘উম্মম, শুধু যে জন্মদিন সে জন্যই নয়।’

    ‘তাহলে?’

    ‘ও তো রথির বন্ধুও।’

    ‘কিন্তু…।’

    ‘কিন্তু কী?’

    ‘ঋদ্ধি বড় হচ্ছে। ওরও একটা ভালো লাগা-মন্দ লাগা তৈরি হচ্ছে।’

    ‘তাতো হবেই। আমাদের সবারই আছে। কেন? ওর গিফট পছন্দ হয়নি?’

    ‘উহু, তা না। তুমি বুঝতে পারছো না।’

    ‘কী বুঝতে পারছি না?’

    কিছু একটা বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিল মুনিয়া। চেপে রাখা দীর্ঘশ্বাসটা শেষ অবধি হাওয়ায় ছড়িয়ে দিল সে। মিশে গেল আর সকল দীর্ঘশ্বাসের সাথে। শহুরে হাহাকারে পরিপূর্ণ হাওয়ার সাথে। সেই হাওয়ায় নিজের হাহাকারটুকুকে আর আলাদা করতে পারল না মুনিয়া।

    .

    ঋদ্ধির ঘরে ঢুকল মুনিয়া। তার বুকের কাছে উঠে আসা টিশার্টটা টেনেটুনে ঠিক করে দিল। বেঘোরে ঘুমুচ্ছে মেয়েটা। একটা পাতলা চাদর টেনে দিল গায়ে। সবাই বলে ঋদ্ধি দেখতে হুবহু মুনিয়ার মতো হয়েছে। কিন্তু মুনিয়ার কেবল মনে হয়, ঋদ্ধি তাদের কারো মতোই হয়নি। সে হয়েছে তার নিজের মতোই। কী যেন একটা রয়েছে তার। সহসা চোখ ফেরানো যায় না। এমনিতেই কৈশোরে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য থাকে মেয়েদের। একটা নরম মায়া। একটা মিষ্টি অনুভব। সবচেয়ে সুন্দর হয় চোখ। দীঘির স্বচ্ছ জলের মতো টলটলে। আর হাসি, পাতার ফাঁক গলে আসা ভোরের আলোর মতো। কী স্নিগ্ধ, কী মায়াময়!

    মুনিয়া তাকিয়ে রইল দীর্ঘ সময়। একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে তার। এই অনুভবের উৎসটুকু সে জানে, কিন্তু ইচ্ছে করেই বুঝতে চায় না। তার কেবল মনে হয় একটা বিভৎস জটিল সমীকরণের মধ্যে পড়ে যাচ্ছে সে। এই সমীকরণ থেকে তার মুক্তি চাই।

    ঋদ্ধির মাথার কাছে খোলা একটা নোটবুক। নোটবুকের পাতা ওল্টানো। সেই ওল্টানো পাতায় স্পষ্টাক্ষরে লেখা, ‘আমার সত্যি সত্যি একটা কবিতা লাগবে রাফি ভাইয়া। তুমি আমায় অমন একটা কবিতা লিখে দেবে, মাকে যেমন দাও।’

    নোটবুকটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল মুনিয়া। তার কেমন লাগছে। শরীরজুড়ে একটা ঝিমঝিম ভাব। একটা অব্যক্ত অস্থিরতা। সবাই বলে, মেয়েরা অনেক কিছুই আগেভাগে টের পেয়ে যায়। তবে সবাই যেটা বলে না তা হলো, মায়েরা তারও আগেই সবকিছু টের পেয়ে যায়। বিশেষ করে সন্তানের ক্ষেত্রে।

    রাফির প্রতি ঋদ্ধির এই হঠাৎ হঠাৎ অভিমান, এই হঠাৎ হঠাৎ আবদার চোখ এড়ায়নি মুনিয়ার। রাফি অবশ্য ঋদ্ধিকে একটা কবিতা লিখেও দিয়েছিল, কিন্তু সেই কবিতা ঋদ্ধির পছন্দ হয়নি। এই নিয়ে সে মন খারাপ করে বসেছিল সেদিন। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে মুনিয়াকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘আমাকে কি এখনো ছোট লাগে মা?’

    ‘তুইতো ছোটই।’

    ‘আমি ছোট?’

    ‘নয়তো কী?’

    ঋদ্ধি দুম করে বলে বসল, ‘তুমি কী জানো, আমাদের ক্লাসের বেশির ভাগ মেয়েরই বয়ফ্রেন্ড আছে? আর ছেলেগুলো তাদের চেয়ে কত বড় তোমার ধারণাই নেই!’

    মুনিয়া এতটা আশা করেনি। সে ঋদ্ধির সাথে কখনোই কোনোকিছু আড়াল রাখতে চায়নি। কিন্তু তাই বলে এতটাও আশা করেনি। মুনিয়া গম্ভীর মুখে বলল, ‘বয়সের আগে কোনো কিছু করলেই কেউ বড় হয়ে যায় না।’

    ঋদ্ধি ঠোঁট উল্টে বলল, ‘আমি কিছু বললেই কেবল বয়সের কথা ওঠাও। যেন আমারই কেবল…’

    মুনিয়া আরো গম্ভীর হয়ে গেল। সে ঋদ্ধিকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট বয়স থাকে, সময় থাকে। আর সব বয়সেরই একটা আলাদা সৌন্দর্যও আছে। তোমার দাদি যদি এখন এই সত্তর বছর বয়সে এসে ঠোঁটে টকটকে লাল লিপস্টিক দিয়ে, আঁটোসাঁটো জিন্স আর টিশার্ট পরে ঘুরতে বের হয়, তোমার তা দেখতে ভালো লাগবে?’

    ঋদ্ধি আর কথা বাড়ায়নি। সে জানে মায়ের সাথে সে যুক্তিতে পারবে না। তবে সেদিন ঋদ্ধি ঘুমিয়ে গেলে লুকিয়ে লুকিয়ে তার স্কুলের ব্যাগটা খুলেছিল মুনিয়া। ঋদ্ধির নোটবুকে রাফির হাতে লেখা কবিতা

    ‘একদিন ছুঁয়ে দাও, আকাশের সীমানা,
    ইচ্ছের ডানা মেলে, দেখে নাও কী মানা!
    তারপর উড়ে যাও, দূরে যাও সীমাহীন,
    ঋদ্ধির স্বপ্নই, হোক আগামীর দিন।’

    নিচে সুন্দর করে অটোগ্রাফও দিয়ে দিয়েছে রাফি। কিন্তু এই কবিতা ঋদ্ধির পছন্দ হয়নি। সে এমন কবিতা চায়নি। সে চেয়েছিল অন্যরকম কবিতা। খুব আগ্রহ নিয়েই সে খাতাটা খুলেছিল। কিন্তু লাইন চারটি পড়ে ভেজা তুলোর মতো মিইয়ে গিয়েছিল সে। এমন মন খারাপ তার বহুকাল হয়নি। তীব্র মন খারাপ নিয়েই দীর্ঘ সময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল ঋদ্ধি। তাকে নিয়ে রাফি এমন শিশুসুলভ কবিতা লিখতে পারে, এটা সে ভাবতেও পারেনি। নিজেকে এতটা ছোট হিসেবে মেনেও নিতে পারছিল না সে।

    .

    মুনিয়া ফোঁস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ঋদ্ধির নোটবুকটা কাছে টেনে নিল সে। ঋদ্ধির লেখা শেষ লাইনটা যেন আলপিনের মতো বুকে বিঁধছে তার, ‘তুমি আমায় অমন একটা কবিতা লিখে দেবে, মাকে যেমন দাও।’

    .

    সে রাতে মুনিয়ার আর ঘুম হলো না। সারারাত একা একা বারান্দায় বসে রইল সে। মাঝে মাঝে কেবল উইন্ডচাইমের মৃদু টুংটাং শব্দ তাকে সঙ্গ দিয়ে গেল। মোহাম্মদপুরের এই পুরনো আমলের তিনতলা বাড়িটা অবশ্য জেগে ওঠে তারও আগে। ফজরের আজানের সাথে সাথেই দোতলা থেকে মুনিয়ার শ্বশুর আফজাল আহমেদের গলা খাঁকাড়ির শব্দ পাওয়া যায়। তিনি ঘুম থেকে উঠেই গরম পানিতে বিকট শব্দে গড়গড়া করতে থাকেন। এ কারণে তার স্ত্রী মছিদা বেগমকে ঘুম থেকে উঠতে হয় তারও আগে। উঠে তার জন্য ধোয়া পরিষ্কার লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি প্রস্তুত রাখতে হয়। পানি গরম করতে হয়। এমন পতিব্রতা স্ত্রী আর দেখেনি মুনিয়া।

    প্রায় পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবন তার শ্বশুর-শাশুড়ির। এখনো কী অবলীলায় স্বামীর সকল যন্ত্রণা সহ্য করে যাচ্ছেন মছিদা বেগম! আর আফজাল আহমেদও অদ্ভুত এক মানুষ। সারাক্ষণ স্ত্রীর সঙ্গে তার খটোমটো লেগেই থাকে। দেখলে মনে হবে জগতে মছিদা বেগমের চেয়ে বিরক্তিকর প্রাণী তার কাছে আর দ্বিতীয়টি নেই। কিন্তু এই মছিদা বেগমকে ছাড়া একটা মুহূর্তও তিনি থাকতে পারেন না। চোখের সামনে থেকে এক মুহূর্তের জন্যও মছিদা বেগম আড়াল হলেই যেন তার দম বন্ধ হয়ে আসে। চিৎকার চেঁচামেচি করে বাড়ি মাথায় তোলেন তখন।

    .

    বিষয়টা যে মছিদা বেগম বোঝেন না, তা নয়। আর বোঝেন বলেই আফজাল আহমেদ যতই রাগারাগি করুন না কেন, যতই পান থেকে চুন খসলেই মেজাজ দেখান না কেন, বিষয়টাকে খুব একটা পাত্তা দেন না মছিদা বেগম। আফজাল আহমেদ যেন তার কাছে একগুঁয়ে, খামখেয়ালি এক শিশু। যেন তার রাগ, ক্ষোভ, অভিযোগ, চিৎকার চেঁচামেচিকে তেমন একটা গুরুত্ব দেয়ার কিছু নেই!

    .

    আফজাল আহমেদ আর মছিদা বেগমের এই সম্পর্কটা খুব ভাবায় মুনিয়াকে। মানুষ কতদিন কাউকে ভালোবাসতে পারে? একটানা গভীরভাবে অনুভব করতে পারে? কিংবা ভালোবাসাহীন সম্পর্ক কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারে? একটা সময় পরে সম্পর্ক কি কেবলই অভ্যাস হয়ে যায়? নাকি একসাথে থাকতে থাকতে অভ্যস্ততা থেকে একটা মায়াও পড়ে যায় পরস্পরের প্রতি? একটা নির্ভরতা তৈরি হয়?

    .

    আচ্ছা, এই যে মায়া, নির্ভরতা, এই যে বছরের পর বছর একসাথে থেকে যাওয়া, এর কোথাও কি তাহলে ভালোবাসা থাকে না? কিন্তু মানুষ যে বলে, মায়া আর ভালোবাসা এক নয়! আসলেই কি তাই? মছিদা বেগম আর আফজাল আহমেদের এই অর্ধশত বছরের দাম্পত্য জীবনের রহস্য এই এতদিনেও তাই বুঝে উঠতে পারেনি মুনিয়া। কিংবা হয়তো অবচেতনেই বুঝতেও চায় না।

    .

    কিন্তু বুঝতে পারলে তাদের সম্পর্কটাও কি এমন হতো? মুনিয়া দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। সে কি কখনো মছিদা বেগম হতে পারবে? কিংবা জাফর কখনো আফজাল আহমেদ?

    .

    নিচে আফজাল আহমেদের ভরাট গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। তিনি তার ছোট ছেলে দিপুকে ডাকছেন। রোজই ডাকেন। আফজাল আহমেদের খুব ইচ্ছে তার চার ছেলে রোজ তার সাথে ফজরের নামাজ পড়তে যাবে মসজিদে। তারপর তারা বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করবেন। এই সময়ে তিনি ছেলেদের সাথে গুটুরগুটুর করে গল্প করবেন। সংসার, বাড়ি-ঘর নিয়ে নানান প্লান-পরিকল্পনা করবেন। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠে না। এই বিশাল একান্নবর্তী পরিবারে দৃশ্যত তার স্ত্রী মছিদা বেগম ছাড়া আর কেউই তার কথায় খুব একটা গুরুত্ব দেয় না।

    আফজাল আহমেদের বড় সংসার। চার ছেলে দুই মেয়ে। বড় মেয়ে লাইজু সপরিবারে থাকেন আমেরিকা। তার বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। লাইজুর পিঠাপিঠিই আশফাক। তারপর যথাক্রমে জাফর, রুবেল, সেলিনা আর দিপু। তবে এত এত মানুষের মধ্যেও কীভাবে কীভাবে যেন এই পরিবারের কর্ত্রী হয়ে উঠেছেন মুনিয়া। মুনিয়া এ বাড়ির মেজো বউ। সে একটা নামকরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তার সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থান যেমন ভালো, তেমনি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আর ব্যক্তিত্বও প্রখর। ফলে না চাইতেও খুব দ্রুতই এ বাড়ির সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছে সে।

    .

    বড় বউ হাফসার দীর্ঘ দিনের আথ্রাইটিস। তিনি সহসা বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। এ সংসারে অনেকটাই উহ্য হয়ে আছেন তিনি। উহ্য হয়ে আছেন বড় ছেলে আশফাক আহমেদও। আশফাক আহমেদ টাঙ্গাইল-গাজীপুরের দিকে নুরুন্নবী চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ নামে এক বেসরকারি কলেজের বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক। তার সাথে এ বাড়ির কারোই খুব একটা দেখা সাক্ষাৎ ঘটে না। তাদের দুই মেয়ে। বড় মেয়ে নাবিলার বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে নাদিয়া এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে। আর কারো সাথে আশফাকের খুব একটা যোগাযোগ না থাকলেও নাদিয়ার সাথে তার মাঝেমধ্যেই যোগাযোগ হয়। তিনি গভীর রাতে চুপিচুপি বাড়ি ফিরলে নাদিয়াকে আগে ফোন করে বলেন, ‘গেটটা খোলার ব্যবস্থা করতে পারবি মা?

    নাদিয়া বলে, ‘পারব।’

    ‘রাতে কিছু খাইনি। একটু খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবি?’

    ‘পারব।’

    ‘তরকারি কী আছে? আচ্ছা, এতরাতে ফ্রিজের ঠাণ্ডা তরকারি খেতে ভালো লাগবে না। একটা ডিম ভেজে দিতে পারবি?’

    ‘পারব।’

    ‘সাথে দুটো মরিচ ভেজে দিস।’

    ‘আচ্ছা।’

    বাবা কখনো না বললেও নাদিয়া জানে, আর সবার চেয়ে বাবা তাকে একটু বেশিই ভালোবাসেন। আশফাক অবশ্য মুখচোরা স্বভাবের মানুষ। খুব একটা কথা বলেন না। তবে যতটুকু যা বলেন তা ওই নাদিয়ার সাথেই। বিষয়টা নাদিয়া উপভোগও করে। বাবাকে যখনই কারো দরকার পড়ে, ছুটে আসে নাদিয়ার কাছে। যেন নাদিয়া কোনো গোপন জায়গায় বাবাকে লুকিয়ে রেখেছে। বাবার জন্য এক ধরনের মায়াও হয় নাদিয়ার। আশফাক সেই অর্থে সংসারে খুব একটা পয়সাপাতি দিতে পারেন না। সংসারে মূল উপার্জন মেজো ছেলে জাফরেরই। তার আর মুনিয়ার আয়েই মূলত সংসার চলে। আশফাককে অবশ্য তার দুই মেয়ের পড়াশোনা আর স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হতো। যদিও বড় মেয়ে নাবিলার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে তার চাপ কিছুটা কমেছে। আমেরিকা প্রবাসী বড় বোন লাইজু অবশ্য কখনো সখনো এটা সেটা পাঠিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করতেন। তাকে তার ছোট বোন সেলিনাকেও মাঝেমধ্যে দেখতে হয়। মাস ছয়েক হয় সেলিনার ডিভোর্স হয়েছে।

    .

    মুনিয়া বারান্দা থেকে উঠল। এখন ঋদ্ধিকে ঘুম থেকে তুলে নিজেরও তৈরি হতে হবে। তারপর সাড়ে সাতটার মধ্যে পৌছে যেতে হবে স্কুলে। মুনিয়া যেই স্কুলে পড়ায়, তার নাম টুমরো’স গ্লোরি। সুবিধার মধ্যে এই যে ঋদ্ধি তার স্কুলেই পড়ে। ফলে তাকে স্কুলে আনা-নেয়া নিয়ে আলাদা কোনো ঝামেলা নেই। আজ সপ্তাহের শেষ দিন। সবচেয়ে বেশি কাজ থাকে এই দিনই। মুনিয়া চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল। ভোরের ঠাণ্ডা শিরশিরে হাওয়ায় খানিকটা কেঁপে উঠল সে। তবুও হাওয়াটা বেশ ভালো লাগছে তার।

    .

    সে ঋদ্ধিকে ঘুম থেকে তুলে নিজে সময় নিয়ে গোসলটা সেরে নিল। রাতজাগা ক্লান্তি অনেকটাই জলের একটানা শব্দে ধুয়ে গেল যেন। তারপর বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক কাপ গরম চা। মুনিয়ার মনে হলো শরীরটা ভোরের হাওয়ার মতোই ফুরফুরে লাগছে। তবে রেলিংয়ের ওপর থেকে চায়ের কাপটা সরাতে গিয়ে তার চোখ আটকে গেল রাস্তার ওপাশে ফুটপাতের গা ঘেঁষে দাঁড়ানো দেয়ালটাতে। যেখানে গতরাতে দাঁড়িয়েছিল রাফি। সাদা চুনকাম করা দেয়ালে এই ভোরের আলোতেও ঝলমল করছে লাল অক্ষরে লেখা চার লাইনের কবিতা। কবিতাটা গতরাতেই তাকে শুনিয়েছিল রাফি।

    ‘আমি একদিন নিখোঁজ হবো, উধাও হবো রাত প্রহরে,
    সড়ক বাতির আবছা আলোয়,খুঁজবে না কেউ এই শহরে।
    ভাববে না কেউ, কাঁপবে না কেউ, কাঁদবে না কেউ একলা একা
    এই শহরের দেয়ালগুলোয়, প্রেমহীনতার গল্প লেখা।’

    মুনিয়া ভীষণ চমকে গেল। হয়তো বিরক্তও হলো। এসব কখন লিখল রাফি? কেউ দেখলে কী ভাববে! ছেলেটাকে নিয়ে আর পারে না সে। ক্ষ্যাপাটে, বুনো, খামখেয়ালি এক বাউন্ডুলে। কে জানে, হয়তো এসব কারণেই এমন যুক্তিহীন, সমীকরণহীন অসম বয়সের এই সম্পর্কে অবচেতনেই জড়িয়ে পড়েছে সে। হয়তো রাফির এমন পাগলামি, এমন অনুনমেয় অথচ সর্বগ্রাসী আচরণই তাকে মুগ্ধ করেছে।

    বিরক্ত কিংবা উদ্বিগ্ন হতে গিয়েও মুনিয়া আবিষ্কার করল, দেয়ালের ওই লেখাটা তার ভেতরে এক অদ্ভুত, অব্যাখ্যেয় আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে। সেই আনন্দ ক্রমশই তার শরীর ও মনকে ঘোরগ্রস্ত করে ফেলছে। অনেক চেষ্টা করেও এই ঘোর থেকে সে বের হতে পারছে না। আগেও পারেনি। কে জানে, হয়তো কখনোই পারবে না।

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআলথুসার – মাসরুর আরেফিন
    Next Article সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026
    Our Picks

    সর্বনাশিনী – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    August 11, 2026

    অর্ধবৃত্ত – সাদাত হোসাইন

    August 11, 2026

    আলথুসার – মাসরুর আরেফিন

    August 10, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }