Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এক পাতা গল্প215 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আক্রান্ত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    আক্রান্ত

    তিন ডেসিমেল প্লট। মোটামুটি চৌকো। এককোণায় একটু খাঁজ। পৌর নর্দমার পচা জল মাটিকেও পচিয়ে দিয়েছে। তাই ওই ক্ষয়ের দাগ। দিলওয়ার হোসেন ক্ষয়টির দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবছিল। শ্বাস ফেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল সে। বলেছিল ‘এখানটা…’

    ‘সামান্য ব্যাপার।’ হাসুমিয়াঁ দালাল তাকে থামিয়ে দিয়েছিল। ‘ওই দেখুন কত্তো ইট। বাঁধিয়ে ভরাট করে নেবেন। আজকাল এক ইঞ্চি মাটির দাম হিসেব করলে মাথা খারাপ হয়ে যায়।’

    কিন্তু মাথা খারাপ করার আরও একটা জিনিস ছিল। সীমানার কাছে একটা পুরনো ইটের কবর। তার ওপর একটা ডালিম গাছ। কবরটার কথা বলতে গিয়ে দিলওয়ার হোসেন বলে ফেলেছিল, ‘বাঁজা, না ফল ধরে?’ কবরটা ডালিমগাছ হয়ে গিয়েছিল।

    দালাল হেসে কুঁজো। ‘কথাটা আপনিও জানেন মাস্টারসায়েব! সবুরে মেওয়া ফলে। ফলবে। সবকিছুর সিজন আছে।’ সে মক্কেলকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল, যেদিকটাতে দু’ঘরের ছোট্ট বাড়ি। ইটের দেয়াল, অ্যাজবেস্টসের চাল। একটুকরো বারান্দা। ফাটলে শ্যাওলা, অবিশ্বাস্য ঘাস। ‘মেরামত করলেই ফিটফাট নতুন। আসুন, ভেতরটা দেখাই।’ বলে বারান্দায় পৌঁছে মুখে ও গলায় রহস্য এনে ফিসফিস করেছিল। ‘সময়মত ভেঙে দোতলা বানাবেন। মাছের তেলে মাছভাজা, বুঝলেন তো? একতলার আগাম সেলামির টাকায়….আজকাল যা হচ্ছে। সে ভাববেন না। আমি জুটিয়ে দেব।’ সে বুদ্ধিদীপ্ত হাসি হাসছিল। খুব হাসতে পারে হাসুমিয়াঁ। অথবা ঘরবাড়ি জমিজায়গার দালালদের এরকম হাসতে হয়।

    কিন্তু ডালিমগাছটা মাথায় ঢুকে গেল দিলওয়ার হোসেনের। অথবা কবরটাই ওই প্রতীক হয়ে সেঁটে রইল। মালিক এক হিন্দু ভদ্রলোক। কাঠগোলার কারবারি। শহরের এই সম্পত্তি এবং মহল্লাটি মুসলমানের, দুটোই চিন্তাযোগ্য। আর চিন্তাযোগ্য বিষয় একটা কবর।

    তহমিনা বেগমও স্বামীর মত স্কুল টিচার। বাসে চেপে পাঁচ কিলোমিটার দূরে একটা গ্রামের বা গ্রামনগরীর স্কুলে যাতায়াত করে। খুঁটিনাটি জেনে বলল, কবর, তাতে কী? আমাদের বাড়ির উঠোনেই দাদিমার কবর ছিল। পরে পাঁচিল তুলে পার্টিশন করে দিয়েছিল……..ও কিছু না। নিয়ে নাও।’

    ‘তুমি দেখবে না একবার? দিলওয়ার হোসেন একটু অবাক হল।

    ‘দেখার কী আছে?’ সহজভাবে কথাটি বলল তহমিনা বেগম। ‘মাটির যা অবস্থা আজকাল। পা রাখার জায়গা নেই কোথাও।’

    অবিকল দালাল হাসুমিয়াঁর কণ্ঠস্বর। অবশ্য দিলওয়ার হোসেন জানে, তার বউ সব কিছুতে এমন শীতল। সহজে মেনে নেয় সব কিছুই স্কুলে কিছু ঘটলেও। এমনকি, একদা দিদিমণিদের মধ্যে একটা হাতাহাতি বা চুলোচুলির ঘটনাও না হেসে শীতলতার বর্ণনা করেছিল। দিলওয়ার হোসেন ভাবে, হয়ত এ এক ধরনের শক্তি।

    চিন্তিত দিলওয়ার হোসেন একটু পরে বলল, ‘কবরটাতে একটা ডালিমগাছ আছে।’

    ‘ভালই তো!’ তহমিনা বেগম স্কুলের শাড়ি স্বামীর সামনে বদলে নিচ্ছিল। একটা মাত্র ঘর। অন্যায়রকমের ভাড়া। তবু পাওয়া গেছে, সৌভাগ্য। যদিও কিছু গোপন ও অনুচ্চারিত বিধিনিষেধ আছে। বাইরের লোকজন ঢোকানো চলবে না, এবং নিষিদ্ধ মাংস-টাংস। তাছাড়া এক বছরের চুক্তি। বাড়ির মালিকের মেয়ে তহমিনা বেগমের এক কলিগ। সেটাই সূত্র। কলিগটি মালিক মাকে সুপারিশ করেছিল, ‘ওদের যা ভাবছ, মোটেও তা নয়। দেখবে একেবারে আমাদের মতই। কথাবার্তা চালচলন।’ শোনা কথা একটা। তবে বাড়িওয়ালা বৃদ্ধা এই দম্পতিকে দেখে এবং কথাবার্তা বলে আশ্বস্ত হন। দিলওয়ার হোসেন বলেছিল ‘গণ্ডগোলটা কালচারের।’ পরে রমলা একদিন চুপিচুপি প্ররোচনা দেয়, ‘মা ওইরকমই। মিনু, কাবাব খাওয়াবে?’ অর্থাৎ সে ওসব মানে না।….

    দিলওয়ার হোসেন দ্বিধান্বিত হেসে বলল, তোমার দাদিমার কবরটার মত পার্টিশনের আড়ালে রাখা যায়। কিন্তু….

    ‘কিন্তু কী? ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তহমিনা চুলে চিরুনি দিল। ‘কিন্তু টিন্তু নয়। এমন চান্স ছাড়লে আর মাথা ভেঙেও পাবে না।’ সে দ্রুততায় চিরুনি টানছিল, যেন এখনই বাইরে যাবে। কিংবা একটা ছটফটানি।

    ‘না—মানে, কবরটার কথা বলছি।’ দিলওয়ার হোসেন একটা কাগজে স্কেচ করতে থাকল। সে মোটামুটি ছবি আঁকতে জানে। চিত্রকর হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল ছেলেবেলায়। এঁকে বলল, এই দেখ পজিশন।’

    খাটে স্বামীর পাশে বসে স্কেচটা দেখতে দেখতে তহমিনা বেগম আস্তে বলল, ‘পার্টিশন পরে হবে। এখানে অনেকটা স্পেস, দেখছ? একটু গার্ডেনিং করব। বড্ড ইচ্ছে করে, জানো?’

    ‘রাতবিরেতে তুমি ভয় পাবে না তো!’ বউয়ের রঙিন ফুলবাগিচার ওপর একটু ছায়া দিল দিলওয়ার হোসেন। ঈষৎ দুষ্টুমি ছিল।

    কিন্তু তহমিনা বেগম শীতল কণ্ঠস্বরে বলল, ‘মিলাদ দেব। মৌলবি এনে কোরান পড়াব।’

    স্কুল শিক্ষক প্রেমবশে বউকে টানল। ‘কবরে যে আছে, সে যদি আমার মত হয়?’ বলে চুম্বনের চেষ্টা করতেই বাধা পেল। বউ উঠে গিয়ে সুইচ টিপে আলো দিল। চোখ জ্বলে গেল স্কুল শিক্ষকের।

    তহমিনা বেগম ঘরের কোণায় কেরোসিন কুকারের কাছে বসল। ‘চা-টা খেয়ে এখনই হাসুমিয়াঁর বাড়ি যাও। ওকে নিয়ে কাঠগোলায় যাবে। বায়না করতে হলে তাও করে এস।’ এই কথাগুলিতে বিস্ময়কর উত্তাপ ছিল, অপ্রত্যাশিত এবং নতুন। অবশ্য শহরে একটি নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন তার আছে, দিলওয়ার হোসেন জানে।…..

    এ ভাবেই তিন ডেসিমেল মাটি একটি দু’কামরার নিচু ঘর, একটি জীর্ণ কবর, একটি ডালিমগাছ সমেত কেনা হয়ে যায়। শিক্ষক দম্পতি সেখানে এসে ওঠে। অ্যাজবেস্টসের চালের তলায় সমতল কার্ডবোর্ডের মসৃণ সিলিং একটু আধটু ফাটল মেরামত ও রঙের কাজ পোড়ো বাড়িটিকে বাসযোগ্য এবং সুন্দর করে তোলে। মিলাদ মহফিল, টুপি পরা মুসলিমবৃন্দ এবং মাইক্রোফোনে এক বৃদ্ধ মৌলবীর রাতভোর পুরো কোরানপাঠ তাকে প্রচুর আধ্যাত্মিক শুচিতা ও রক্ষাকবচ দিয়েছিল।

    কলিগ রমলাকে এক প্রাকসন্ধ্যায় স্কুল থেকে ফেরার সময় টেনে নিয়ে এল তহমিনা বেগম। তার অঙ্কুরিত ফুল-বাগানটি দেখাল। রমলা কবরটি খুঁজছিল, সে শুনেছিল। ‘মিনা, কবর আছে বলেছিলে?’ সে দেখতে চাইল।

    তার কলিগ দ্বিধাহীন পা বাড়িয়ে বলল, ‘ওই তো!’

    ‘বাঃ!’

    ‘কী?’

    ‘ওই গাছটা!’

    ‘ডালিমগাছ!’ তহমিনা বেগম উজ্জ্বল মুখে বলল, একটি ঘোষণা। ‘এপ্রিলে ফুল ফুটবে। তুমি ডালিমফুল দেখেছ কখনও? অসাধারণ! ফলের কথাও ভাবো!’

    রমলা অবাক হয়ে বলল, ‘গাছটা তো করবে। সেই ডালিম খাওয়া যাবে?’

    হাসল তহমিনা বেগম ‘জানি না! আগে তো ধরুক, তখন দেখা যাবে।’

    ‘আচ্ছা শোনো।’ রমলা নার্ভাস একটু হাসল।’ ‘তোমার—তোমাদের ভয় করে না?’

    ‘কিসের ভয়?’ বলে তহমিনা বেগম ঠিক করল, তার হিন্দু কলিগকে ব্যাপারটা বোঝানো উচিত। ‘মুসলমানদের ভূত-টুত হয় না। কেন জানো? আমরা আত্মাকে বলি রুহ। মৃত্যুর পর রুহ বন্দী থাকে ইল্লিন-সিজ্জিন নামে একটা জায়গায়—কোনও একটা গ্যালাক্সিতে বলতে পারো। সেখানে থাকে। তারপর ডুমস-ডে-তে তাদের রেজারেকশন।

    ‘কিন্তু মামদোভূত ডিকশনারিতে দেখেছি মুসলমানদের প্রেতাত্মা।’

    তার কলিগ খুব হাসতে লাগল। ‘ভুল ধারণা। এক্কেবারে ভুল। আমাদের ভূত হওয়ার চান্সই নেই।’

    ‘তা হলে তোমরা ভূত মানো না বলছ?’ রমলা চার্জ করল। ‘কতজনকে দেখেছি, তারা মুসলমান। ভূত মানে।’

    তহমিনা বেগম সিরিয়াস হলে বলল, ‘ভূতটুত না, জিন। মুসলমানরা জিন মানে।’

    ‘একই কথা।’

    ‘উহুঁ! মানুষ মাটি থেকে তৈরি, আর জিন আগুন থেকে।’ তহমিনা বেগম ব্যাখ্যা করতে থাকল। ‘আসলে কী হয় জানো? মানুষের মতো কোনও-কোনও দুষ্টু জিনও আছে। তারা পৃথিবীতে এসে দুষ্টুমি করে।’

    রমলা সন্দিগ্ধ দৃষ্টে কবরটির দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ধ;েরা যদি তেমন কেউ ওখানে ডেরা পাতে?’

    তহমিনা বেগম জোরে জোরে মাথা নেড়ে বলল, ‘নাঃ। সে তুমি বুঝবে না। ওটা হয় না। কবর শুধু মানুষদের জন্য রিজার্ভ প্লেস।’

    ‘কিন্তু কবরটা কার?’

    ‘জানি না।’ খুব আস্তে কথাটি বলল তার কলিগ। তারপর হাত ধরে টানল। ‘এস, ঘরে গিয়ে বসি। ও এখনই এসে যাবে। আজ কী যেন মিটিং আছে।……’

    কবরটা কার, ওই গোপন ও অস্বস্তিকর অনুসন্ধিৎসা শিক্ষক দম্পতির মনে থেকে গিয়েছিল। মফস্বল শহরের এদিকটায় মুসলিমমহল্লা। কুটিরশিল্পী, রিকশচালক, ঠিকে মজুর, কিছু খুদে দোকানদার, আপিস আদালতের বেয়ারা, ‘মেহনতি জনগণ’ এবং কতিপয় উকিল ও ডাক্তার। যথেচ্ছ বৃক্ষলতার ভেতর ওতপ্রাোত, ঠাসাঠাসি, অসম্বন্ধ বাড়িসকল উঁচু বা নিচু। আর প্রহরে-প্রহরে মাইক্রোফোনে আজান। সব সময় নিঝুম পারিপার্শ্বিক হঠাৎ-হঠাৎ এভাবে গর্জন করে জানিয়ে দেয় একটি জোটবদ্ধ অস্তিত্বের স্বকীয়তা। এদিকে অনুসন্ধিৎসাটি খুব ভেতরে ঘাই মারে। কখনও পুরুষটি কখনও স্ত্রীলোকটি চমকে উঠে তাকায়, ‘কে ছিলে তুমি? পুরুষ না স্ত্রীলোক?’ ডালিমগাছটি শেষ চৈত্রের বাতাসে ছটফট করে। ক্রমে বিন্দু-বিন্দু লালচে ফুলগুলি ফুটতে থাকে। ক্রমে রক্তাক্ত, যন্ত্রণা মনে হয়। কোন কোটি কোটি আলোকবর্ষের দূরত্বে ‘ইল্লিন-সিজ্জিনে’ একটি মানবাত্মা নৈর্ব্যক্তিক হয়ে আছে ধ্বংসের দিন রোজ কেয়ামতের প্রতীক্ষায়, যখন সে নিজস্বতা ফিরে পাবে এবং আবার ব্যক্তি উঠবে! তহমিনা বেগমের এরকম চিন্তা হয়। দিলওয়ার হোসেনের অন্যরকম চিন্তাভাবনা। মানুষটি কি দুঃখী ছিল, যার কবর ফাটিয়ে ওই রক্তাক্ত অভ্যুত্থান? আসলে সে একটু রোমান্টিক। জ্যোৎস্নার রাতে তার খুব আশা হয়, সে কাউকে দেখতে পাবে, পরনে সাদা কাফন। সে কিছুতেই ভয় পাবে না। কাছে গিয়ে বলবে, কে তুমি?

    খালপোলের ওপর এক বিকেলে দেখা হয়ে গেল হাসুমিয়াঁর সঙ্গে। ‘মাস্টার সায়েবের কোনও অসুবিধে হচ্ছে না তো?’ বলে সে কপালে হাত ঠেকাল। মুখে দালালের মধুর হাসি।

    দিলওয়ার হোসেন বলল, ‘খোঁজ নিয়েছিলেন?’

    ‘কিসের?’ বলে সে হাতের একটা ভঙ্গি করল, আশ্বাসের। ‘ভাববেন না। লোক মুখিয়ে আছে। বাজিয়ে দেখে তবে নিয়ে আসব। ইনশাল্লা! দোতালা বাড়ি করিয়ে দেবই। ওপরতলায় থাকবেন। সিনসিনারি দেখবেন।’

    ‘না, না।’ শিক্ষক বিরক্ত হলেন। ‘কবরটার কথা বলছি।’

    দালাল কাঠের সাঁকো মচমচিয়ে হাসতে লাগল। ‘তাই! ও কিছু না। সেই পার্টিশনের সময়কার ব্যাপার! তখন আপনার জন্মই হয়নি। কে এক মিয়াঁসাহেব কালেক্টরিতে চাকরি করতেন। অপশন নিয়ে পাকিস্তানে যান। পরে এসে নারায়ণবাবুর বাবাকে বেচে গেলেন। জোর করে গছিয়ে যাওয়া বলতে পারেন। এ মহল্লায় তখন কেনার লোক নেই। সবাই ভাবছে পপুলেশন-এক্সচেঞ্জ হবে।….না, না। কিছু ভাববেন না।’

    দালাল সিগারেট দিল। দিলওয়ার হোসেন কদাচিৎ খায়। নিল ধোঁয়ার সঙ্গে আস্তে বলল, কিন্তু কবরটা কার?

    হাসুমিয়াঁ প্যান্টের পকেট থেকে রুমাল বের করে নোংরা জলেভরা খালের দিকে নাক ঝাড়ল। মুছে বলল, ‘হঠাৎ গরম পড়ে সর্দি। একটু বৃষ্টি-ফিষ্টি হলে….’ আবার সে শব্দ করে হাসতে লাগল। ‘পার্টিশন করে দেবেন বলেছিলেন। দেননি?’

    ‘না’। বউয়ের চেয়ে শীতল কণ্ঠস্বরে বলল দিলওয়ার হোসেন।

    ‘নতুন বাড়ি উঠলে দেবেন। ক হাত জায়গা ছাড়লে ক্ষতি কী?’ দালাল চোখে একটা ভঙ্গি করল। ‘হিসেব করলে নারায়ণদাকেও ছাড়তে হয়েছে কি না বলুন আপনি? টু পার্সেন্ট লেস। আমারও তাতে কিছু কমিশন লস। হিসেব করুন।’

    অসহিষ্ণু স্কুলশিক্ষক বলল, ‘আহা! কবরটা কার?’

    দালাল অগত্যা সিরিয়াস হল। ‘তা কে বলবে? মহল্লায় খুঁজতে হয় বুড়োটুড়োদের কাছে। তবে বাড়ির উঠোনে কবর। খুব…..খুবই আপনজন ছাড়া…..’ একটু নড়ে উঠল হাসুমিয়াঁ। ‘বরকত ডাক্তার মহল্লার পুরনো লোক। জিজ্ঞেস করবেন তা।’

    বাড়ি ফিরে দিলওয়ার হোসেন দেখল, এক বুড়ি বারান্দার নিচে বসে থালা-হাঁড়ি ধুচ্ছে। মাথার কাপড় টেনে দিল নোংরা হাতে। তা হলে লোক পাওয়া গেছে। তারপর ঘুরেই একটু চমকে উঠল। তহমিনা বেগম কবরের খুব কাছে দাঁড়িয়ে ফুলবতী ডালিমগাছটি দেখছে। ‘ওখানে কী করছ?’—শুনে সে মুখ ফেরাল। মহল্লার গাছপালার ফাঁক গলিয়ে একটি নরম গোলাপি আলোর রেখা পলকে সেই মুখে এসে বিঁধল। যখন সে স্বামীর কাছে ফিরে আসছে, তখন তার স্বামী বুঝতে পারছিল না, চোখদুটি কি ভিজে দেখেছে, না ভুল দেখা?

    তহমিনা বেগম একটু হাসল। গলাটা ঈষৎ ধরা। ‘নানি পাতিয়েছি। তুমিও কিন্তু নানি বলবে। বুড়ো মানুষ। দুবেলা এসে যতটুকু পারে, সাহায্য করবে।’

    মহল্লায় কাজের লোক পাওয়া কঠিন। ঝিয়ের কাজ করতে চায় না। কুটিরশিল্প, নিজেদের ঘরকন্যা এসবেই দম ফেলার নাকি সময় নেই। অথচ একজন কাজের লোকের খুব দরকার হয়েছে ইদানীং। তহমিনা বেগমেক ডাক্তার বলেছেন, ভারী কাজকর্ম যেন না করে। ঝুঁকে কিছু করাও ঠিক নয়। তবু কুকার জ্বেলে চা করল। সুজি ও ডিম ভাজল। দিলওয়ার হোসেন যখন অন্যমনস্ক হাতে সেগুলি মুখে তুলছে, তখন তহমিনা বেগম বলল, ‘নানির কাছে সব শুনলাম, জানো? এক ভদ্রলোক এখানে—’

    ‘জানি। হাসুমিয়াঁ বলছিল। পার্টিশনের সময় বেচে দিয়ে যান নারায়ণবাবুর ‘বাবাকে’।

    ‘ভ্যাট!’ তহমিনা বেগম বলল। ‘গণি উকিলকে। টিনের চালে মরচে ধরেছিল। ফেলে দিয়ে অ্যাজবেস্টস চাপায়। গোডাউন করেছিল। চোরের জায়গা। শেষে নারায়ণবাবুকে বেচেছিল। তাই না নানি?’

    বুড়ি আস্তে বলল, ‘হুঁ। এ মহল্লায় সব খালি জায়গা নারায়ণবাবু কিনেছে। কে জানে কী মাথায় আছে!’

    দিলওয়ার হোসেন বুড়ির দিকে তাকাল ‘কবরটা কার, জানো?’

    ‘সন্ধেবেলা ওসব কথা থাক।’ ‘বুড়ি উঠে দাঁড়াল। সেই মুহূর্তে মাইক্রোফোনে আজানের শব্দ। ‘আল্লারসুলের নাম করো। আমি আসি, নাতনি!’ বলে বুড়ি বেরিয়ে গেল। সম্ভাষণে কোমল আত্মীয়তা ছিল।

    তহমিনা গলায় ভেতরে বলল, ‘বলব। পরে শুনো।’…..

    এ রাতে পাশাপাশি দুটিতে চুপচাপ শুয়ে ছিল। হাতে হাত, আঙ্গুলে আঙ্গুল। নিষ্পন্দ দুটি মানবশরীর। একসময় স্ত্রীলোকটি বলল, ‘শোনো!’ সে কনুই বালিশে রেখে উঁচু হল। ফিসফিসিয়ে বলতে থাকল, ‘যদি আমারও তেমন কিছু হয়….বাচ্চা হতে গিয়ে যদি আমিও অমনি করে…’ সহসা সে পুরুষটির বুকে মুখ গুঁজে দিল। ‘তুমি বলো! কথা দাও! আমাকেও উঠোনে কবর দেবে।’ সে ভালবাসার প্রার্থনায় বা একটি স্বপ্নের ব্যর্থতা আশঙ্কা করে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলো। বারবার বলছিল, ‘কথা দাও, তুমি মুখ ফুটে বলো!’ ‘আমার কবরে অমনি ডালিমগাছ….’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Next Article এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }