Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এক পাতা গল্প215 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শূন্যের খেলা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    শূন্যের খেলা

    প্লেন এরোড্রামের মাটি ছোঁওয়ামাত্র আমাকে ভুলে গিয়েছিল নন্দিনী মিত্তির। হুড়মুড় করে বেরিয়ে প্রায় দৌড়ুতে দৌড়ুতে নিজের লোকজনের ভিড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। প্রথমে বিস্ময়, পরে চাপা ক্ষোভে গরগর করতে করতে দেখছিলাম রঙীন প্রজাপতির মত ওদের গাড়িটা বাঁক ঘুরে গাছপালার আড়ালে মিলিয়ে গেল।

    ক্লান্ত হতাশ, আর ক্ষুব্ধ আমি—একবার ভাবলাম, ত্বরিতে একটা ট্যাক্সি ডেকে নিই—পরে ঠিক করলাম, হাঁটতে-হাঁটতে যাওয়াই স্বাস্থ্যের পক্ষে এখন মঙ্গল হবে। নন্দিনী যে এমনি করে হঠাৎ কেটে পড়বে, ভাবতেও পারিনি। তার এ অভদ্রতার কোন তুলনা হয় না। অন্তত একবার মামুলী ভদ্রতার খাতিরে ‘তাহলে চলি’ও বলতে পারত! বলল না তো!

    যত রাগ গিয়ে পড়ল বৌদির ওপর। আসবার দিন সক্কালে জানিয়েছিল, গৌহাটি থেকে প্লেনে যাবার পথে এক আশ্চর্য সঙ্গিনী জুটিয়ে দিচ্ছে—আমার হয়ত ভালোই লাগবে তাতে। নন্দিনী মিত্রের মত ছটফট মেয়ের ক্ষেত্রে এই এসকর্ট দরকার হতে পারে। মুখ টিপে হেসেছিল বৌদি। সেই প্রথাসিদ্ধ হাসি—যার সরল অর্থ : সাবধান, এগারো হাজার ভোল্ট! সেই হাসির জবাবে বলেছিলাম, প্লেনে সে-সুযোগ কম। নেহাৎ চোখে-চোখে বড়জোর দু-চারটে ঝিলিক! ওতে আমার মত ক্রনিক ব্যাচেলারের চামড়া বেঁধে না। একেবারে শক-প্রুফ হয়ে গেছি এখন।

    শুনে বৌদি বলেছিল, রোসো। এক্ষুনি এসে পড়ছে। দেখলেই ভিরমি খাবে।

    ভিরমি অবশ্য খাইনি। মনে মনে ভয় পেয়েছিলাম একটুখানি। ঘোড়ার লেজের মত চুলের ছাঁদ আর বিশেষ করে হাতাকাটা লাল ব্লাউস দেখলে আমার অবস্থা হয় দেবর্ষি নারদের মত—হাতে ভরা তেলের পাত্র আর মুখে ঈশ্বরের নাম। দুদিক সামলাতে বড় বিব্রত হওয়া। তার ওপর ওই পক্ষীকণ্ঠশোভন অনর্গল কণ্ঠ-কাকলী। বাড়ি থেকে গাড়ি করে এরোড্রোমে আসবার পথটুকুতেই কয়েকশো কথা কয়ে দিচ্ছিল নন্দিনী। সেসব কথায় শুধু ভূগোলের বৃত্তান্ত। পাহাড়, নদী বন জঙ্গল, তারপর প্রত্নতত্ব, পরিশেষে জলবায়ু-আবহাওয়ার খবর। আমি কী জানি, তার চেয়ে সে কী জানে, তাই নিয়েই আধঘণ্টা পথ কেটে গেল। মুখ খুলবার বিশেষ সুযোগই পেলাম না। তবে মনকে বলেছিলাম, ধৈর্য ধরো—পৃথিবীতে কতকিছু অসম্ভব সম্ভব হয়ে যাচ্ছে, তো এই সামান্য একটুখানি মন দেওয়া-নেওয়ার ব্যাপার!

    প্লেন ছাড়তে কিছু দেরী ছিল। এয়ার-অফিসের কান্টিনে দুজনে দুটো কোকোকোলা নিয়েছিলাম। দোমড়ানো নলটা সোজা করতে গিয়ে হঠাৎ খিলখিল করে হেসে উঠেছিল নন্দিনী। বলেছিলাম, হাসলেন যে?

    জবাবে ফের এক দমক হাসির আবর্ত। আমার মন থেকে আবর্জনা যতটা বাইরে গেল, বাইরের খড়কুটো এসে জমল তারও বেশি। দমে গিয়ে আর মুখ খুলিনি। আমার চেহারা বা পোশাক-আশাকে কি কিছু হাস্যকর ব্যাপার চোখে পড়েছে ওর। প্লেনে ওঠা অব্দি মনটা কুটকুট করছিল। তারপর প্লেন মাটিছাড়া হতেই গা শিরশির করে ওঠা, বেশ কিছুটা ঝাঁকুনি, কিছু দোলা—এসবের ফলে তখনকার মত নন্দিনীর দিকে কিছুক্ষণ আর মনোযোগ ছিল না। চূড়ান্ত উচ্চতায় প্লেন স্থির হয়ে চলতে থাকলে আড়চোখে দেখলাম, সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

    এতে ধরে নিয়েছিলাম, তাহলে নন্দিনীর মন ছুঁতে পেরেছি সম্ভবত। এরপর সব যা-যা হওয়া উচিত, তাই নিয়ে মনে মনে ঘটনা সাজিয়ে ফেলছিলাম। দমদম পৌঁছনোর পর উভয়ের ডায়ালগ হওয়া উচিত নিম্নরূপ :

    নন্দিনী। কী চমৎকার না লাগছিল! অনেকদিন মনে থাকবে।

    আমি। আমারও।

    নন্দিনী। কই আপনার ঠিকানাটা দিন তো!

    আমি। বারে! আপনারটা?

    ন। সে হচ্ছে। আপনারটা আগে চাই। এই নিন কলম।

    আ। উঁহু। আগে আপনারটা দিন।

    ন। উ: কী সাংঘাতিক মানুষ রে বাবা! নিন, লিখুন। কিসে লিখছেন? আমার কিন্তু অটোগ্রাফ বই।

    আ। ইস, কত সব প্রখ্যাত লোকের সই নিয়েছেন।

    না। (কেড়ে নিয়ে) উঁহু… দেখতে মানা।

    এরপর হঠাৎ নন্দিনীর মৃদু টান। …ওকি, ট্যাকসি করুন। পায়ে হেঁটে যাবো নাকি? অত সোজা নয় মশাই, আগে আমায় পৌঁছে দিয়ে তারপর আপনার ছুটি।

    আ। চিরকালের ছুটি নয়তো?

    ন। (ভ্রূভঙ্গী করে মুখ ফিরিয়ে) জানি নে যান!

    নাঃ এসব কিছুই ঘটল না। আমার দিকে আর চোখ তুলে তাকাল না পর্যন্ত। নিজেদের গাড়ি চেপে উধাও হয়ে গেল সে। কী নেমকহারাম মেয়ে!

    দোটানায় দুলতে দুলতে হাঁটছিলাম একা। নিজের অসম্ভব নির্বুদ্ধিতার প্রতি ধিক্কার দিচ্ছিলাম। কে একটা নন্দিনী মিত্তির—বৌদির মাসতুতো বোনের বন্ধু—তার এসকর্টের কোন দরকারই ছিল না। একা প্লেনপথে অন্ধও বাড়ি ফিরতে পারে। শুধু বৌদি ওই ‘জুটিয়ে দেওয়া’ ব্যাপারটা এনে আমার মুণ্ডু ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তার প্রথাসিদ্ধ হাসিটুকু এমন সর্বনাশ করে বসবে কে জানত!

    অনেক ছোটখাটো ব্যাপারে অনেক সময় মানুষের রাগ হয়। কিন্তু মন তো বহতা নদী—একসময় সবই ভেসে হারিয়ে যায় বিস্মৃতির সাগরে। আশ্চর্যের কথা, নন্দিনীর সেই চলে যাওয়ার ঘটনাটা কিছুতেই ভুলতে পারলাম না। সারা মন দিনের পর দিন বিস্বাদে ভরে উঠতে লাগল। দেখা পেলেই তার সেই অভদ্রতার উল্লেখ করে দুটো কড়া কথা শুনিয়ে না দিলে এ জ্বালার শেষ হবে না।

    কিন্তু ঠিকানা তো জানিনে! বৌদি হয়ত জানে। ঠিকানা চেয়ে পাঠালে সে আবার কত কী সব ভেবে বসবে হয়ত। তাই সে পথে গেলাম না।

    কাজকর্মের ফাঁকে ফাঁকে নন্দিনীকে আমি খুঁজছিলাম সবখানে। যদি হঠাৎ কোথাও দেখা হয়ে যায়। হয়ে যেতেও তো পারে। এ শহর এক আজব শহর। কত অ-ধরাকে ধরিয়ে দেয়, আবার কত ধরার জিনিস অ-ধরা করে তোলে। ছেলেবেলার এক প্রিয় বন্ধু সনাতনকে চৌরঙ্গীর মোড়ে দূর থেকে দেখে যেতে-যেতে সে ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছিল। আবার সবচেয়ে শত্রুকে যতই এড়িয়ে থাকবার চেষ্টা করেছি, সবিস্ময়ে দেখেছি—একই বাসের একই হাতলে ধরে গায়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছি তার।

    একদিন রাসবিহারী এভেন্যুর কাছে পিছনফেরা একটি মেয়েকে দেখে তার সঙ্গে ঘুরপথে কালীঘাট অব্দি হেঁটে গিয়ে পরে আবিষ্কার করলাম, সে নন্দিনী নয়। এরকম ভুল প্রায়ই হচ্ছিল। বিশেষ করে ঘোড়ার লেজওয়ালা মাথা আর হাত-কাটা লাল ব্লাউস দেখলে মাথায় জেদ চেপে যাচ্ছিল। এমনি করে কতদিন নন্দিনী মিত্রকে খুঁজে ব্যর্থ হলাম! তাকে না-বলা কটু কথাগুলো কেবল আমাকেই বিস্বাদে ঝাঁঝে বিষিয়ে তুলতে লাগল। তবু যখনই ফাঁক পাই, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। এটা অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেল একরকম।

    অবশেষে এক সন্ধ্যায় এতদিন পরে নন্দিনী মিত্রকে আবিষ্কার করলাম। গড়ের মাঠের একপ্রান্তে ঝোপের আড়ালে খুব ঘনিষ্ঠভাবে একটি যুবকের সঙ্গে বসে ছিল সে। একা থাকলে কী হত বলতে পারব না—সঙ্গে ওই নর্দমা-প্যান্ট থাকায় রাগে শরীর জ্বলে উঠল আমার। নির্জন ঝোপঝাড়ে সন্ধেবেলা বেশ চলেছে তাহলে!

    কিন্তু, নন্দিনীকে আর যাই ভাবি এত সাধারণ মেয়ে বলে আদৌ ভাবতে পারিনি কোনদিন! ওই বাজে মস্তানপ্রকৃতির ছেলেটির সঙ্গে এইভাবে সে প্রেম করবে, কল্পনাও করিনি। যাই করুক সে—তার স্থান কিন্তু উঁচুতেই দিয়েছিলাম। ও ছিল আসলে আমার এক অ-ধরা। ওকে ধরবার খেলায় মনও কি চুপিচুপি জীবনের ভিন্ন এক স্বাদ টের পাচ্ছিল না? যখনই ওকে ভেবেছি—দেখেছি, চিরকালের সেই প্রেমিকাদের একজন। অজস্র ভালোবাসার আলো মিলে গড়েছে এক জ্যোতির্বলয়। ওকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। তার ছটায়ও আকাশের পরীদের মত সুন্দর আর পবিত্র! হয়ত কড়া কথা শোনাতে গিয়ে বলে বসতাম, দুষ্টু মেয়ে, সেদিন অমন করে পালিয়ে গেলে কেন বলতো? আমায় কষ্ট দিয়ে কী সুখ পেয়েছ তুমি! নয়ত শুধু মুখ টিপে হেসে বলতাম, মিস মিত্র, মনে পড়ে না?…যদি জবাব পেতাম : বলুন তো কী, বলতাম—কেন, সেই কয়েকটি ঘণ্টার আকাশযাত্রা, যখন ইচ্ছে করছিল যদি উধাও হয়ে যাই অনন্ত শূন্যের মাঝে কোন নীল কবোস্ব নক্ষত্রের দিকে, আর (প্লেনের পাইলট বাদে) আর সব যাত্রী হঠাৎ কর্পূরের মত উবে গেছে আমার ভালবাসার যাদুমন্ত্রের বিপুল চাপে, মাত্র আমরা দুজন যাত্রী!…মিস মিত্র কি ভয় পেয়েছিলেন? পাননি। আস্বস্ত হলাম তাহলে। দেখুন, ব্যাপারটা সামান্য, হয়ত তুচ্ছ—তবু ওই ইচ্ছেটা যেহেতু আকাশের ওপর জেগে উঠেছিল, ওর মহত্ব আপনি অস্বীকার করতে পারেন না! মাটিতে পা দিলে অবশ্য সবই উদ্ভট বা বাজে লাগে। কারণ, মাটি খুব নোংরা জিনিস দিয়ে তৈরী।

    নন্দিনী ছিল আমার কাছে ভালবাসার এক বিশুদ্ধ প্রতীক। আর সে এখন এক মস্তানের নর্দমাপ্যান্টে শরীর এলিয়ে তার কুৎসিত মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। পাতা-ডালপালার ফাঁক দিয়ে যে আলোর কুচি ওর মুখে পড়েছে, তাতেই চিনতে পারলাম। সেই মুখ, সেই সরু নাক, চাপা চোখের টানা ভুরু, সুন্দর চিবুক। পাকা শশার মত মুক্ত বাহু পাপ-পুণ্যের মাঝামাঝি লোভনীয় সাঁকোর মত আলো-অন্ধকারে দুলছে। দেখতে দেখতে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেল। ঘৃণায় ক্ষোভে রাগে অস্থির হয়ে দ্রুত কাছে গেলাম। প্রথমেই ছেলেটিকেই বলে বসলাম, কী দাদা, খুব যে…

    ছেলেটি লাফ দিয়ে উঠল। পরক্ষণেই ঝাঁপিয়ে পড়ল হাতের মুঠো পাকিয়ে। চোয়ালে প্রচণ্ড ঘা খেয়ে ছিটকে পড়লাম। মেয়েটি চিৎকার করছিল, পুলিশ, পুলিশ! তারপর আর উঠে দাঁড়ানোর ফুরসুৎ পাওয়া গেল না। কোত্থেকে কারা সব দুদ্দাড় দৌড়ে আসছিল। এসেই ভীষণভাবে মারতে থাকল আমাকে। একসময় আর কিছু টেরই পেলাম না।

    হাসপাতাল থেকে মেজদা ছাড়িয়ে এনেছিলেন। তাঁর তদ্বিরে আর পুলিশের হাঙ্গামায় পড়তে হয়নি। বেশ কিছুদিন বাড়ি বসে থেকে শরীরটা সারিয়ে নিচ্ছিলাম। পৃথিবীকে বিস্বাদে ভরিয়ে দিল নন্দিনী এমনি করে। কেবল মানুষের নিষ্ঠুরতার কথা ভাবতে ভাবতে মাথা খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। প্রতিটি মানুষকে খুন করতে ইচ্ছে করছিল। পেন্সিল-কাটা ছুরিটা দিয়ে জানালার চৌকাঠ পেঁচিয়ে কেটে মানুষের গলাকাটার শোধ তুলি। শূন্যে ঘুরিয়ে তাক করে ছুঁড়ে মারি নন্দিনী মিত্রের দিকে—ছুঁড়েই চমকে উঠে দৌড়ে যাই। কুড়িয়ে নিয়ে মনে মনে বলি, কিছু মনে করো না। এ আমার শূন্যের খেলা।

    পাগল হয়ে যাচ্ছি না তো! এবং এই ভয়ে অবশেষে বাড়ি থেকে বেরোতেই হল। গড়িয়াহাটের মোড়ে হঠাৎ ফের দেখা পেয়ে গেলাম নন্দিনীর। আমি কাছে যাবার আগেই দোতলা বাসে চেপে বসল। দৌড়ে চলন্ত বাসটার দিকে এগিয়ে হাতল খুঁজতে গিয়ে পড়ে গেলাম নীচে। জোর বাঁচা বলতে হয়। কিন্তু উঠে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। বাঁ পায়ে ভীষণ যন্ত্রণা হচ্ছে। কারা ধরাধরি করে নিয়ে গেল পাশের ডিসপেন্সারিতে। টিপে দেখে ডাক্তার বললেন, কমপাউন্ড ফ্র্যাকচার!

    ব্যাস! ফের হাসপাতাল। ফের আরও কয়েকটা মাস। বেরিয়ে দেখি, আগের মত আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটা যাবে না। একটু খোঁড়াতেই হবে।

    নন্দিনী আমার সর্বনাশ করে গেছে টের পেতে এতদিন লেগে গেল। ক্রমশ সে আমাকে আরো জঘন্যভাবে নীচে নামিয়ে দিচ্ছে আর নিজে বেশ দূরে বোতাম টিপে চলছে। সার্কাসের খেলোয়াড় হতে চেয়েছিল যে, সে হয়ে গেল নিতান্ত লোক-হাসানে ভাঁড় মাত্র। নন্দিনীর শূন্যের খেলাটাই জমেছে—আমি হেরেছি। ক্রমশ সে আমাকে পাতালের দিকে নিয়ে চলেছে—যেখানেই সম্ভবত নরকের স্থান। আমাকে দিয়ে আরও কত জঘন্য কাজ সে করাবে হয়ত।

    এর মধ্যে একদিন হঠাৎ দেখা হয়ে গেল সুব্রতর সঙ্গে। সুব্রত আমার বাল্যবন্ধু। থাকে নৈহাটিতে। একথা-ওকথার পর সে জানাল, সম্প্রতি বিয়ে করেছে। আমার ঠিকানা জানা না থাকায় জানাতে পারেনি।

    সুব্রত বলল, সামনের রোববার আয় আমার ওখানে। বৌ দেখে আসবি।

    শুধু বললাম, দেখি।

    সুব্রত চমকে উঠে বলল, আরে, আরে। তুই খোঁড়াচ্ছিস যে! কী ব্যাপার?

    বাস থেকে পড়ে গিয়েছিলাম।

    গ্রহের ফের। কোন ভালো জ্যোতিষীর কাছে যা। তোর চেহারাটাও খুব খারাপ দেখাচ্ছে।…হ্যাঁ রে, প্রেমে-ট্রেমে পড়িসনি তো?

    সুব্রত হেসে উঠল। কিন্তু এবার আমার চমকানোর পালা। আমার চেহারায় কি প্রেমে পড়ার কোন চিহ্ন ফুটে উঠেছে চর্ম রোগের মত। দাড়ি অবশ্য একদিন অন্তর কাটি। আজ ছিল কাটবার দিন। বেশ পরিচ্ছন্ন কাপড়চোপড় গায়ে চড়িয়েছি। তবু ও কী দেখল আমার মধ্যে। সুব্রতকে বরাবর বুদ্ধিমান আর হিসেবী বলে জানি। আমি বললাম, কী বলিস! এ-ভূতের মত কুচ্ছিত চেহারা নিয়ে প্রেম করার আশা কোথায়?

    সুব্রত ধমকাল। …থাম, থাম। ওটা ব্যজস্তুতি। ওরকম কন্দর্পকান্তি থাকলে আমি…যাকগে। তাহলে সামনের রোববার যাচ্ছিস। কেমন? কখন যাবি? সকালে, না বিকেলে?

    বিকেলেই যাবো!

    মনের মেজাজ বোঝা কঠিন। রোববারের বিকেলে নৈহাটির মত জায়গায় গিয়ে সুব্রতর মত গেরস্থ সাধারণ চরিত্রের ছেলের বৌ দেখবার তাগিদ আদৌ ছিল না। কিন্তু কিসে কী হয়ে যায়। সুব্রত আমার চেহারার প্রশংসা করেছিল—কথাটা অনেকদিন ভোলা গেল না। আমি জানি, আমি কন্দর্পকান্তি নই; তবু এই মানসিক অবস্থায় সুব্রতর ওই ছোট্ট কথাটুকু সুড়সুড়ি দিচ্ছিল সম্ভবত। কথামত ওর ওখানে গেলাম রোববার বিকেলে।

    গঙ্গার ধারে বেশ চমৎকার জায়গায় বাড়ি করেছে সুব্রত। বরাবর ওকে অধ্যবসায়ী ছেলে বলে জানতাম। পৈতৃক ছোট্ট একটা ব্যবসা ছিল। সেটাকে কামধেনুতে রূপান্তরিত করেছে প্রচুর সাধনায়। ওর উদ্যমের প্রতি ঈর্ষাবোধ হচ্ছিল। দিন-রাত্তির এত সব স্থূল কাজকর্মের বোঝা যাকে বইতে হয়, তার অবশ্য আমার মত উটকো মনোবেদনার ব্যাধি না থাকাই সম্ভব। নিষ্কর্মাদের পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এক ঝক্কিকার।

    ওর বাইরের ঘরে যখন অপেক্ষা করছি, তখন পর্দার ওদিকে একটা চাপা কলগুঞ্জন, তারপর মৃদু ধ্বস্তাধ্বস্তি, শেষে ধমকের ফিসফিস শোনা গেল। কাকে যেন টানাটানি করছে সুব্রত, সে ভারী অবাধ্য। ব্যাপার কী?

    একটু পরেই সুব্রত এল পর্দা তুলে। ওর মুখটা কেমন থমথমে আর লাল—অপ্রস্তুত হাসি হেসে বলল, বোস, বোস। তোর খারাপ লাগছে না তো?

    বললাম, না, না। খারাপ লাগবে কেন?

    সুব্রত মুখোমুখি একটা চেয়ার টেনে বসল। তারপর তার ঘরবাড়ি ব্যবসা-পত্তরের কথা বলতে লাগল। ইতিহাস বর্ণনার ফাঁকে ফাঁকে সে আড়চোখে একবার করে অন্তরমহলের পর্দাঢাকা দরজার দিকে সতৃষ্ণ চোখে তাকাচ্ছিল।

    দুম করে বলে ফেললাম, তোর বৌ কোথায়? আলাপ করিয়ে দিলিনে যে!

    সুব্রত নীরস মুখে বলল, আসছে এক্ষুনি। মেয়েদের তো জানিস, অতিথি এলে যা সব করেটরে।…

    আমি উঠে দাঁড়ালাম।…চল, ভিতরে গিয়েই আলাপ করে আসি। আপত্তি নেই তো?

    সুব্রত হঠাৎ উৎসাহী হয়ে উঠল।… সেই ভালো। যা মুখচোরা মেয়ে, লজ্জায় একাকার। মাইরি, এসব ব্যাপারে ও একটু…যাকে বলে, ভীষণ ইয়ে…

    আরও কী বলছিল সুব্রত। ওদিকে ভিতরে ঢুকেই আমি কাঠ। নন্দিনী, হ্যাঁ নন্দিনীই তো, পলকে লাল বেনারসীর ঘোমটা ছ’ ইঞ্চি ঝুলিয়ে পাশ ফিরে দাঁড়িয়েছে! একটু নীচু টেবিলে চায়ের কাপ খাবারের প্লেট রয়েছে। সম্ভবত কাপে চা ঢালছিল—একটা কাপের পুরোটা ভরতিও হয়নি—আমাকে দেখামাত্র চমকে উঠে হাত তুলে নিয়েছে। পিছন ফিরেছে।

    সুব্রতর মত সাধারণ গেরস্থ ছেলের সঙ্গে নন্দিনীর বিয়ে হয়েছে! আপাতদৃষ্টে এটা যত বিষম দৃশ্যই বোধ হোক, এর কারণ আমি অনেকখানিই জানি। চরিত্রভ্রষ্টা মেয়েকে বাধ্য হয়ে এমনি সাদাসিধে জায়গায় গছাতে হয়েছে—নৈলে হালে পানি পেত না ওর বাবা। তাছাড়া আর কোন অর্থ হয় না এ বিয়ের।

    সুব্রত ততক্ষণে ওকে টানাটানি করে আমার সামনে দাঁড় করানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। মুখটা একটুখানি দেখলাম ফের। নন্দিনীই তো! তবু নামটা যতক্ষণ না জানছি, আশ্বস্ত হওয়া কঠিন। এক ফাঁকে বললাম, দেখুন, ওসব লজ্জাটজ্জা করার কোন মানে হয় না—আমাকে তো ভালই চেনেন…

    সুব্রত বলল, বলিস কী রে! তুই ওকে চিনিস!

    বললাম, চিনি মানে—একদিন পথে আসতে-আসতে আলাপ।

    তাই বল। সুব্রত ফ্যাঁচ করে হাসল।…তাহলে তো নন্দা, তুমি খুব অপমান করছ ওকে।

    আমি বললাম, ওকে অবিশ্যি নন্দিনী বলেই জানতাম।

    সুব্রত অবাক হয়ে বৌর উদ্দেশ্যে বলল, হ্যাঁ গো, তোমার আবার নন্দিনী নাম ছিল নাকি? বেশ মজার ব্যাপার তো!

    নন্দিনীর মৃদু আওয়াজ শুনলাম। সেটা হ্যাঁ বা না, কিংবা অন্য কিছু, তা বোঝা গেল না। মনে হল, বেচারা ভীষণ ঘাবড়ে গেছে। কাঁপছে হয়ত। খুব প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে ভেবে আমার যা আনন্দ হচ্ছিল বলার নয়। এবার যথেষ্ট হয়েছে। ওকে কিছুক্ষণ একলা থাকতে দেওয়া ভালো। আমরা বেরিয়ে বসবার ঘরে এলাম। নন্দিনীর ঘোমটা পূর্ববৎ রয়েছে—কোনরকমে এ ঘরে ভরা ট্রেটা পৌঁছে দিয়েই কেটে পড়ল। গড়ের মাঠের সেই সাংঘাতিক কাণ্ড নিয়ে ওকে ব্ল্যাকমেল করব ভেবে হয়ত খুব ভয় পেয়ে গিয়েছে।

    কিছুক্ষণ পরে কিন্তু হঠাৎ আমার মনটা বিস্বাদে ভরে উঠল। নন্দিনী তাহলে ফাঁকি দিয়ে হাতের নাগালের বাইরে চলে গেল! আর কিছু বলা যাবে না— শোনানো যাবে না কোন বড় কথা। সেজন্যেও হয়ত নয়—আমি টের পাচ্ছিলাম, এতদিন পরে স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম যে আমি নন্দিনীর প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম এটাই আসল কথা।

    নিজের প্রতি রাগে ক্ষোভে অস্থির হয়ে একটা অছিলা দেখিয়ে কেটে পড়লাম তক্ষুনি। সুব্রত নিরাশ হয়ে বলল, খুব জরুরী কাজ যখন বলছিস, তখন আর আটকাবো না। ফের একদিন আয়। আসবি তো?

    আমি বললাম, আসবো।

    ফেরার পর যতবার মনে পড়ছিল যে নন্দিনী আমার হাতছাড়া হয়ে গেছে চিরকালের মত—তত আমি উত্তেজিত হয়ে উঠছিলাম! এবং সেইসব জাতীয় উদ্ভট আচরণের মূলে ছিল নন্দিনীর প্রতি আমার অন্ধ প্রেম—এই সত্যটুকু বিষের মত পুরনো ক্ষতে সংক্রামিত হয়ে আমার জ্বালা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। না, নন্দিনীকে আমি জীবনে সুখী হতে দেব না!

    ঝোঁকের বশে সুব্রতকে একটা চিঠি লিখে বসলাম। চিঠিতে নন্দিনীর গড়ের মাঠের সেই গোপন প্রেমচর্চার কাহিনীটুকু সবিস্তারে জানিয়ে দিলাম। সুব্রত এতে ক্ষেপে যাবে নিশ্চয়। কী ভাবে নেবে—সেটা অবশ্য অনুমান করা কঠিন আপাতত। কিন্তু নন্দিনীকে বলবে এবং নন্দিনী মনে মনে শিউরে উঠবে। আমাকে মনে পড়বে। গৌহাটী থেকে প্লেনে আসবার কথা—তারপর হঠাৎ কোন কথা না বলে চলে যাওয়ার ঘটনা—সবই ও বিশ্লেষণ করতে চেষ্টা করবে।

    চিঠি পেয়েই সুব্রত হাঁফাতে হাঁফাতে হাজির।…আরে, তুই কীসব মাথামুণ্ডু লিখেছিস!

    দৃশ্যটা উপভোগ করছিলাম। কোন জবাব দিলাম না।

    সুব্রত বলল, গড়ের মাঠে ওর বেড়ানোর চান্স কিছুতেই থাকতে পারে না। ও তো গ্রামের মেয়ে।

    চমকে উঠে বললাম, গ্রামের মেয়ে মানে?

    সুব্রত বলল, হ্যাঁ। কুতুবপুরের মেয়ে। তিনকুলে কেউ নেই। মামার বাড়ি মানুষ হয়েছে। তোকে বলতে লজ্জা নেই—সামান্য লেখাপড়া জানে মাত্র। তবে বুঝতেই তো পারছিস, ওর স্বাস্থ্য-টাস্থ্য বা চেহারা বেশ ইয়ে—তাই পছন্দ হয়ে গেল।

    রাগে চেঁচিয়ে উঠলাম।…ব্লাফ দিস নে সুব্রত। ওর মুখের প্রত্যেকটি রেখা আমার চেনা। কোনমতে ভুল হতে পারে না। গৌহাটি থেকে প্লেনে ওকে সঙ্গে করে দমদম আসছিলাম—তারপর…

    সুব্রত হাসতে হাসতে ফেটে পড়ল।…মাথায় জল ঢাল খানিক। প্লেনে আসছিল নন্দা—হি…হিহিহি…তারপর হাসি থামিয়ে বলল, তোর চোখের ভুল। আসলে সেই মেয়েটিকেই তোর একটুও মনে নেই।

    মনে নেই? আমার সারা শরীর হিম হয়ে গেল। নিঃসাড় হয়ে কিছুক্ষণ ব্যাপারটা ভাবতে চেষ্টা করলাম। সুব্রত একটা গোপন চাবি—যা এযাবৎকাল আমার হাত এড়িয়ে যাচ্ছিল, হঠাৎ টিপে দিয়েছে! আরে তাই তো! তাই তো! কয়েক ঘণ্টার দেখা মুখ—আমার কি সত্যি সত্যি মনে থাকা সম্ভব? নন্দিনীর মুখ বলে যে সুন্দর উজ্জ্বল মুখখানি আমি এতদিন যত্ন করে ধরে রেখেছি, তা আমারই বানানো নয়ত? দাদার বিয়ে হয়েছে আজ চার বছরেরও বেশি, থাকে গৌহাটিতে—সেই বৌদির মুখও তো স্পষ্ট মনে পড়ে না! মাঝে মাঝে মনে করতে চেষ্টা করি—মনে পড়ে আবার পড়েও না! মাঝে মাঝে যাদের সঙ্গে দেখা হয়—তাদের মুখও স্পষ্ট মনে থাকে না অনেক সময়। শুধু দেখা হলেই যা চেনা যায় এইমাত্র। নন্দিনীকে আমি কতক্ষণই বা দেখেছি!

    আর ভুল মুখের বা ভুল চেহারার পিছনে ধাওয়া করা হাস্যকর। কিন্তু পুরনো ব্যথাটা থেকেই গেল। একবার মাত্র দেখা হলেই যেন সব নিরাময় হয়ে যাবে।

    এর কিছুদিন পরে দাদাবৌদি এসে গেল। নির্জন বাড়ি আনন্দে ভরে উঠল! একথা ওকথার পর এক ফাঁকে বৌদিকে বলে বসলাম, আচ্ছা বৌদি, সেই মেয়েটির খবর কী?

    বৌদি বলল, কোন মেয়েটি? তুমি এখনও মেয়েদের খবর রাখতে ভোলনি দেখছি। ভেবেছিলাম, ক্রনিক ব্যাচেলারদের নারীপুরুষ ভেদজ্ঞান থাকে না। তোমার আবার কী হল?

    বললাম, ঠাট্টা নয়। তোমার সেই অদ্ভুত মেয়েটির খবর জানতে চাচ্ছি। বেশ ভালো সঙ্গিনী জুটিয়ে দিয়েছিলে! বাপস!

    বৌদি হাসল।…নন্দিনীর কথা বলছ? কেন, কী করেছিল ও?

    কিছু না। যা বকবক করছিল সারা পথ!

    ও একটু খামখেয়ালী মেয়ে। বৌদি চোখ টিপে ফের বলল—তারপর বুঝি আর পাত্তা দেয়নি?

    বাজে বকো না।

    বুঝেছি। ওর কাছে পাত্তা পাওয়া কঠিন। চেষ্টা করেছিলে নাকি?

    দায় পড়েছে! এবার আমি ফেটে পড়লাম।…ওরকম অভদ্র মেয়ে আমি কোথাও দেখিনি কিন্তু। দমদমে নেমেই কোন কথা না বলে নিজেদের গাড়িতে কেটে পড়ল! মামুলী ভদ্রতারও বালাই নেই।…

    সব শুনে বৌদি একটু চুপ করে থেকে বলল, তাই নাকি! এতসব কাণ্ড হয়ে গেছে! কিচ্ছু জানাওনি তো! আমরা শুনেছিলাম, বাস থেকে পড়ে এ্যাকসিডেন্ট করেছ। কী আপদ!

    বৌদি কেমন দমে গিয়েছিল যেন। বললাম, ওর ঠিকানাটা আমার ভারী দরকার।

    ঠিকানাও দেয়নি বুঝি?

    না।

    ঠিকানা আমার কাছে আছে। কিন্তু যে এমন অভদ্র, তার ঠিকানা নিয়ে কী করবে? গাল দিয়ে আসবে নাকি?

    ঠিক তাই।

    বৌদি হাসতে হাসতে বাকসো খুঁজে একটা গানের খাতা আনল। তার কোন কোনায় একটা ঠিকানা লেখা রয়েছে। টুকে নিলাম তক্ষুনি। বৌদি বলল, সেই ভালো। ঝগড়া করে এসো। কিন্তু দেখো, ফের মাথা খারাপ না হয়ে যায়! একখানা পা গেছে, ফের আর একখানা না খুইয়ে বসো আবার।

    মার্চের সুন্দর সকালে হাল্কা মনে, এতদিন পরে, সত্যিকার নন্দিনীর কাছে পৌঁছতে যাচ্ছিলাম। কিছুদূর এসে হঠাৎ মনে হল, কে যেন পিছন থেকে পা দুটোকে টেনে ধরছে ক্রমশ। বাড়ির কাছাকাছি গিয়ে আর পা তুলতে পারলাম না সামনের দিকে। কী দরকার! কেন ক্ষোভ, কেন কটুকথা বলার এত সাধ! ক্ষণিকের এক সঙ্গিনী মেয়ে—আমাকে কী ভেবেছিলে, সম্মান না অপমান করেছিল, তা নিয়ে মাথাব্যথার কোন অর্থ হয় না। তার ওই অভদ্রতাটুকুর মূল্যে এদিকে আমি এতগুলো দিন কত কীসব বিচিত্র জিনিস কিনে বসে আছি—সে তো কম নয়!

    শুধু একটা তীব্র কৌতূহল শেষঅব্দি থেকে যায়। সত্যিকার নন্দিনীর চেহারাটা কেমন ছিল? পা তোলার চেষ্টা করলাম। নাঃ, থাক। যা স্বপ্নে আছে, মায়ায় আছে, তা স্বপ্নে বা মায়ায় থাক—বাস্তবের রক্ত-মাংসে তা মিলিয়ে নিতে গিয়ে আবার কী ক্ষতি করে বসব কি না কে জানে। ক্ষণিকের দেখা একখানি মুখ অজস্র মুখের পিছনে আমাকে টেনে নিয়ে বেড়িয়েছে, অস্থির করেছে,—তা খুঁজে পাওয়া গেলেই তো সব খেলার শেষ। অ-ধরাকে ধরতে পারলেই যা ছিল, সব হারিয়ে কাঙাল হওয়া। নন্দিনীর ঠিকানাটা ছিঁড়ে ফেললাম। ফিরে এলাম আস্তে আস্তে। সারাজীবন ধরে ভিড়ের মাঝে কোন মেয়ের মুখ দেখে নন্দিনী বলে চমকে ওঠার স্বাদ আমি বারবার পেতে চাই।…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Next Article এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }