Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এক পাতা গল্প215 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    লালীর জন্য – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    লালীর জন্য

    ‘এই ঝোপে লালীর মড়াটা আটকে ছিল।’

    দয়াময় এমন করে বলায় আমার খুব খারাপ লাগল। মড়া না বলে শুধু লালী বললেই পারতেন! যারা মরে যায়, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে না পারলেও ঘেন্না থাকা উচিত কি? ধরা যাক, লোকটা বা মেয়েটা কিংবা কেউ হাড়জ্বালানী বদমাস ছিল—কিন্তু মরার পর তো আর কিছু করারই রইল না।

    আর মৃত্যু, আজও এক রহস্য। মরে গিয়ে কী ঘটে? কেউ ফিরে এসে তো বলার উপায় নেই। অন্তত মৃত্যুর এই রহস্যময়তার খাতিরেও লালী একটা মূল্য দাবি করতে পারে। বিশেষ করে নিজের বাবারই কাছে। ওর বাবা দয়াময় অবশ্য বরাবর নিষ্ঠুর মানুষ বলে প্রসিদ্ধ। কথায় কথায় চাষীদের বেদম ঠ্যাঙান। লালীকেও সারাজীবন ঠেঙিয়ে গেছেন। লালী বলত—এটা বাবার একটা ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স থেকে হয়েছে। সত্যি করে কেউ তো এ পৃথিবীতে দয়াময় থাকতে পারে না।

    আমি ঝোপটা খুঁটিয়ে দেখছি লক্ষ করে দয়াময় ফের বললেন—সেই বন্যায় সব উপড়ে ভেসে গিয়েছিল, শুধু একটা বাদে। চিনতে পারছ, এটা একটা শ্যাওড়া ঝোপ? খুব শক্ত শেকড়-বাকড়।

    ভাগ্যিস শক্ত এবং উপড়ে যায়নি, তাহলে লালী এই নদী বেয়ে সোজা গঙ্গায় পড়ত। তবে, গঙ্গায় পড়লে লালীর ভালই হত—সব পাপ ঘুচে মোক্ষ পেত তার আত্মা। একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ল আমার। কেন কে জানে, তার পরমুহূর্তেই চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। বললুম—তারপর কী হল?

    দয়াময় একটু বাঁকা হেসে বললেন—তারপর কী হয়?

    —মানে, ওকে কী অবস্থায় পেয়েছিলেন?

    দয়াময় ঝোপটা দেখতে দেখতে বললেন—শকুন বসতে পারেনি, জল ছিল। তবে দুটো শেয়াল ওর নাড়িভুঁড়ি খাচ্ছিল। আর একটা দাঁড়কাক স্তনে ঠোঁট ঠুকরে লাং বের করছিল। আরও শুনবে?

    —জ্যাঠামশাই কি আমার ওপর রাগ করেছেন?

    দয়াময় নিষ্ঠুর হেসে উঠলেন—কেন? তোমাদের আজকালকার ছেলে ছোকরাদের বোঝাই দায়—এত সেন্টিমেন্টাল। এস, তোমাদের জমিটা দেখিয়ে দিই।

    দয়াময়ের কাঁধে এবার বন্দুকটা উঠল। পা বাড়ালেন। কাঁধে কার্তুজের ঝোলাটা নড়ে উঠল। আমার কিন্তু পা ডুবে গেছে শক্ত পলির তলায়, শেকড় গজাচ্ছে, এবং সেই সব সাদা বিন্দু বিন্দু শেকড়ের আঁকুর ভ্রূকুটির মতন আমার শরীর থেকে পৃথিবীর গভীরতা লক্ষ করতে চায়। খুব স্পষ্টভাবে অনুভব করছিলুম এটা।

    দয়াময় ঘুরে বললেন—কী হল?

    —কিছু না। বেচারী লালীর কথা মনে পড়ছে!

    দয়াময় ফের হাসলেন—তুমি বরাবর ব্রডমাইণ্ডেড আর মডার্ন। জানি। কিন্তু আমি প্রিমিটিভ ধরনের মানুষ। মেয়ের প্রেমিকদের….

    বাধা দিয়ে বললুম—ছিঃ! কী বলছেন?

    —মাঝে মাঝে আমি খুব সরল হয়ে যাই, অমিত! একে সেই প্রিমিটিভ সরলতা বলতে পারো। দেখ, ও যখন বেঁচে ছিল—তোমার বাবার কাছে কথাটা তুলেছিলুম। অরবিন্দ বলেছিল, তা কী করে হয়? এখন অমিত পড়াশোনা করছে। তা ছাড়া, বিয়ের বয়সও তো হয়নি। হুম! তোমার বাবা আরও বলেছিলেন, অমিতের অনেক অ্যামবিসন আছে!

    —জ্যাঠামশাই, প্লীজ! ওসব ভুলে যান।

    —ভুলেছিলুম তো। তুমি আবার মনে করিয়ে দিলে। চলো, এগোনো যাক।

    —আজ থাক বরং। জমি তো উঠে পালাচ্ছে না। কাল যাব বরং।

    দয়াময় আমার দিকে কেমন দৃষ্টে তাকিয়ে বললেন—ও, আচ্ছা! তাহলে তুমি বসে-বসে অশ্রুপাত করো। আমি বরং দেখি দুএকটা তিতির পাই নাকি।

    বলেই উনি বড় বড় পা ফেলে চলে গেলেন। বিশাল ওই মানুষ, পায়ে গামবুট, কাঁধে বন্দুক ও কার্তুজের ঝোলা, মাথায় টুপি। বাঁয়ে ঘুরে চরে নামলেন। কিছুক্ষণ নদীর তলায় হারিয়ে রইলেন। তারপর ওপারে বাঁধে বিরাট আকাশের গায়ে তাঁকে আবার দেখতে পেলুম। অমন একলা ওঁকে কখনও এর আগে মনে হয়নি। এখন একটু ভয় হল। চারদিকে ওঁর শত্রু। এভাবে একটা বন্দুক নিয়ে কি আত্মরক্ষা করতে পারবেন? এলাকায় তিনজন জোতদার ইতিমধ্যে খুন হয়েছে। উনিও যে-কোনও সময় খুন হতে পারেন। তখন লালীর মা বলবেন, অমিতই ষড়যন্ত্র করে ওঁকে মাঠে নিয়ে গিয়েছিল। পুলিস বলবে, তাই তো! হঠাৎ এই ছোকরা আচমকা শহর থেকে বাবার সম্পত্তি দেখার ছলে গ্রামে এল এবং..

    বুক ঢিপঢিপ করে উঠল। তারপর বাঁ চোখের কোণ দিয়ে যেন লালীকেই দেখতে পেলুম। —কী অমিত, কেমন আছ?

    —তুমি ভাল আছ তো লালী? মৃত্যুর পর জায়গাটা কেমন বল তো? প্রেমিক পেয়েছ কি এখানকার মতো? কথায়-কথায় তাদের সঙ্গে কি শুয়েপড়া এখনও সহজ? লালী, আমি কিন্তু সেদিক থেকে এখনও ব্যর্থ।

    —তুমি যে ভীতু! মেয়েদের দিকে চোখ তুলে কথা বলতেই পারো না। অথচ, তোমার সারা দেহে তীব্র কামনা পোকার মতন কিলবিল করে। অমিত তোমাকে তাই পোশাক খুলতে বলেছিলুম, মনে পড়ছে তো? ওই ওখানটায় জলের মধ্যে ভাসতে ভাসতে তুমি আবিষ্কার করেছিলে আমি উলঙ্গ, আর বলেছিলে—এ কী লালী! তোমার শাড়ি কোথায়? আমি বলেছিলুম—কেড়ে নিয়েছে। তুমি চেঁচিয়ে উঠেছিলে—কে? কে? তখনই বৃষ্টি আর বাতাস বেড়ে গেল। আমার জবাব তুমি শুনতে পেলে না!

    —কী বলেছিলে লালী?

    —বলেছিলুম, যে কাড়বার সেই কেড়েছে। এতদিনে আমার সম্পূর্ণতা। এবার তাই ভেসে গেলুম। বিদায়, অমিত! বিদায়!

    —আর বলেছিলে, হাসতে হাসতে বলেছিলে, তুমিও প্যাণ্টটা খুলে ফেল। পারিনি। আমার সাঁতার দিতে অসুবিধা হচ্ছিল। তবু জলের তলায় সভ্যতাকে বাঁচাতে চাইলুম!

    —অথচ……..

    —অথচ কি লালী?

    —অথচ পোশাক খুলে ফেললেই কত সহজেই মানুষ সম্পূর্ণতা পায়।

    —সে কী লালী, সম্পূর্ণতাটা কী?

    —তার নাম স্বাধীনতা।….

    স্বাধীনতা! আমার চোয়াল আবার শক্ত হয়ে উঠল। লালী খুব ছেলেবেলা থেকেই তাহলে আমাকে এই স্বাধীনতার দিকে ডেকেছিল! তখন বুঝতুম না। পরেও কোনদিন বুঝিনি! নাটাকাঁটা কুঁচফল শ্যাওড়া-ঝোপের গুহায় ছায়ায় নির্জনে শুয়ে পড়ার মানে আরেক জন্মের দিকে লক্ষ্মীন্দরের মতো ভেসে যাওয়া—শিয়রে বেহুলা। জানতুম না। পদ্ম-শালুক-ফোটা ঝিলের জলে সেই স্বাধীনতার ডাক ছিল। চৈত্রের নির্জন মাঠে সেই স্বাধীনতার হাওয়া ছিল। নদীর চড়ায় জ্যোৎস্নায় গা এলিয়ে পড়ে থাকত সেই সোনালী রূপোলী স্বাধীনতা। কী বোকা ছিলাম এতদিন!

    আমি ভালবাসতুম ব্রিজে শব্দকারী রেলগাড়ি, গলায় নীল রুমাল জড়ানো, দাড়িওলা ফায়ারম্যান, পাহাড়ের চূড়ার ওদিকে ব্লাস্ট ফার্নেসের ছটা, সবুজ ল্যাণ্ডমাস্টার গাড়ি, রাতের আকাশে এরোপ্লেন আর গালিভারস ট্রাভেল এক খণ্ড। ভালবাসতুম পুরনো কালের সাহিত্য, কিংবা পিকাসো আর দালির ছবি। রবিঠাকুরের কবিতা হেনরি মুরের ভাস্কর্য। ক্লাসিকে-রোমাণ্টিকে মাখামাখি এক বিরাট সভ্যতাকে জানতুম শ্রেয় ও প্রেয়। সভ্যতার কয়েক হাজার বছর আমার মগজে ঢুকে পড়েছিল।

    আর লালী ভালবাসত কুঁচ ফল, বিষাক্ত ধুঁদুল, লালপোকা নীলপোকা নির্জন বালিয়াড়ির পাখি, জ্যোৎস্না রাতে পরীর নাচ মাঠের বিশালতা।

    দুইয়ে কোন মিল ছিল না। আমি শহর থেকে নিয়ে যেতুম জাঁ পল সাত্রের অস্তিত্বমূলক গল্প। লালী কুড়িয়ে আনত মাঠের নিঃসঙ্গচাষা ইবাজ সেখের রূপকথা। লালী গাইত প্রাচীন লোকসঙ্গীত, আমি আওড়াতুম আধুনিক কবিতা। কোনও মিল ছিল না, কোনও মিল!

    অথচ লালীকে দয়াময় লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন। ক’বছর দিব্যি আধুনিক মেয়ে সেজে সে মফঃস্বল শহরের কলেজে বাসে যাতায়াত করত।

    একদা লালী নদীর ধারে জামবনে আমাকে বলেছিল—তোর সঙ্গে একটা ভারি দরকারি কথা আছে, অমিত।

    বলেছিলুম—কী কথা রে? এক্ষুনি বল না।

    হঠাৎ চাপা গলায় ও বলেছিল—এখন বলা যাবে না। বলব’খন।

    এই ছিল লালীর স্বভাব। কৌতূহলকে ফুটিয়ে দিয়েই নিঃশব্দে হেসে চলে যেত। তখন তাকে মনে হত সবে ফুল ফুটবে এমন টানটান শাখা-প্রশাখার উত্তেজনা দিয়ে সে চলে যাচ্ছে। এবং তার ওই না-বলা কথাটা আমাকে তার-পর কতদিন উত্যক্ত করেছিল বলার নয়। ভাবতুম—কী কথা বলবে লালী? কোনো গুরুতর শরীর-বিষয়ক, নাকি তার আর সব উদ্ভট কথামালার অন্তর্গত? সে কি বলবে তার হাঁটুর নিচে আঁকুর গজাচ্ছে উদ্ভিদের? তার শরীরে কোথাও ফুল ফোটবার ষড়যন্ত্র চলেছে সেই গূঢ় খবর জানাবে?

    মাঝে মাঝে ওকে দেখতুম কত সহজে মিশে যাচ্ছে উদ্ভিদের রাজ্যে। জড়িয়ে পড়ছে দুর্বোধ্য প্রাকৃতিক সব খেলাধুলায়। কেন যে চলতে চলতে রাস্তা ছেড়ে নেমে গেল মাঠে এবং দৌড়ুতে শুরু করল দিগন্তের দিকে, বুঝতেই পারতুম না।

    ওর কাছে ছিল গভীর অথৈ কোন জলজগতের খবর, যেখানে মানুষেরা মৃত্যুর পর ঝিনুক হয়ে যায়। ও শোনাত, পাহাড়ের ওপর কোথায় আছে ডাকিনীর গুহা, যেখানে ঘণ্টা বাজলেই পৃথিবীতে রাত্রি আসে।

    লালী একদিন বলেছিল, গ্রামের এই নদীর চড়ায় দেবদূত নেমেছিল। কেমন তার চেহারা? তাও সে বর্ণনা করেছিল। গলার রেশমি রুমাল, নীল চোখ, হলুদ দুই ডানা কাঁধে, লাল টুকটুকে ঠোঁট। আর সেই দেবদূত লালীকে কী একটা ভাল খবর দিয়েই কেটে পড়েছিল। এ খবরটা অনেক পরে বলেছিল লালী। রাঙা বউদির অর্থাৎ দয়াময়ের ভাইপো সুধাকান্ত—যে সেটেলমেণ্টের বড় অফিসার, তার বউয়ের ছেলে হবে।

    এই সুধাকান্ত সারাক্ষণ আমাকে লালীর ব্যাপারে সন্দেহ করত। সে সেই বন্যার পর শহরে চলে গেছে। আর সে গ্রামে আসবে না। কারণ, লালীকে পাহারা দেবার দরকার ফুরিয়ে গেছে। লালীকে সভ্যতার দিকে টানতে তারই কারচুপি ছিল। দয়াময়কে ফুঁসলে বদলে ফেলেছিল। অথচ দয়াময়ের ইচ্ছে ছিল, লালীকে তিনি খাঁটি মেয়েজোতদার করে ছাড়বেন। অল্পস্বল্প লেখাপড়াই সেজন্য যথেষ্ট।

    দেখতে দেখতে লালী বড় হল। কিন্তু তবু তার ওই বন্যতা গেল না। সভ্যতাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে সে ঘুরে বেড়াত বিষাক্ত ধুঁদুল, লালপোকা, নীলপোকা, পাখি, প্রজাপতি, কুঁচফলের পৃথিবীতে। আমাদের এই পাড়াগাঁর পাশে কাঁচা রাস্তাটায় ইতিমধ্যে পিচ পড়েছিল। মাঠে বিশাল ফ্রেমে টাঙানো হয়েছিল বিদ্যুতের ভারী তার। ফ্রেমের গায়ে লাল ফলকে সাদা মড়ার মাথা ও দুটো আড়াআড়ি হাড় আঁকা ছিল। তাতে নাকি লেখা ছিলঃ সভ্যতা। অতএব সাবধান!

    অবশ্য এ কথা লালীর। আমি পড়তুম : এগারো হাজার ভোল্ট সাবধান। ও পড়ে বলত—সভ্যতা। অতএব সাবধান।

    একদিন লালী বলেছিল—কেন আমার পিছনে ঘুরঘুর করিস বল তো?

    তখন সে নদীর ধারের বাঁধে যেতে যেতে হঠাৎ জঙ্গলে ঢুকে পড়েছিল। আমি তার পিছু ছাড়িনি। জারুল গাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে সে আমাকে ওই প্রশ্ন করেছিল। জবাবে চোখ বুজে বলে ফেলেছিলাম—আমি তোকে চাই, লালী।

    লালী বাঁকা ঠোঁটে হেসে বলেছিল—সে আবার কী রে?

    —না লালী। বল কেমন করে তোকে পাব?

    —আমাকে পেতে হলে তোকে দেউড় বাঁশের জঙ্গল পেরোতে হবে।

    —তার মানে?

    লালী বলেছিল—ওটা আমার শর্ত। ওই বাঁওড়ের মুখে কাঁটাভরা বাঁশের জঙ্গল আছে, ওটার পূর্বধারে তোর জন্য অপেক্ষা করব। তুই পশ্চিম থেকে ঢুকবি। পেরিয়ে গেলেই আমাকে পেয়ে যাবি।

    —বেশ, তাই হবে।

    অস্থির হয়ে বাঁওড়ের দিকে হেঁটে গিয়েছিলুম। কথামতো লালী পুবে চলে গেল। আমি গেলুম পশ্চিমে। তারপর সে এক অনাছিষ্টি কাণ্ড। হাঁটু না ভাঁজ করে বাঁশবনটায় ঢোকা যায় না। কোথাও বুকে হাঁটতেও হল। চার পাশে শুধু থরে থরে তীক্ষ্ণ কাঁটা। কেটে ছড়ে একাকার হল কপাল, চিবুক, হাতের তালু। জামাপ্যাণ্ট ছিঁড়ল। স্যাঁতসেঁতে মাটির কালো রসে সব বিচ্ছিরি হয়ে গেল। তারপর যত এগোই, তত শরীর শিউরে ওঠে। এ কোথায় চলে এসেছি? হাল্কা নীলচে অন্ধকার এক জগতে—যেখানে সরীসৃপদের রাজত্ব। পোকামাকড় ব্যাঙ খরগোশ জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে আমাকে দেখছে। সাপের খোলস, ছত্রাক, শ্যাওলা আমার বুকের তলায় জমে উঠছে। মাকড়সার ঝুল আমার সারা মুখে জড়িয়ে গেছে। দেখতে দেখতে ক্রমশ বদলে যাচ্ছি নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। মাঝে মাঝে ঠাণ্ডা—অতি ঠাণ্ডা সবুজ সাপ ছুঁয়ে চলে যাচ্ছে কোথায়। আমি বদলাচ্ছি। নিজেকে দেখতে পাচ্ছি এক হলদে ধূসর নীল লালে বিচিত্র এক গিরগিটি, সারা গায়ে শিহরণের কাঁটা শক্ত আর খসখসে। ভাঙা ডিমের খোলস মাড়িয়ে আমি কোথায় চলেছি, কোন আদিমতম পৃথিবীর দিকে? ক্রমশ আমার পোশাক অসম্ভব ভারি হয়ে এল। ছায়া হতে থাকল ঘনতর। তারপর অন্ধকারে বুকে হেঁটে যেতে যেতে, রক্ত ঝরার তীক্ষ্ণ যন্ত্রণা পেতে পেতে, চিৎকার করে উঠেছিলুম—লালী! লালী! মনে হল, কোথাও লালীর খিলখিল হাসি শোনা গেল। তারপর সে আমার নাম ধরে ডাকতে লাগল। শব্দটা অনুমান করে এগোলুম। তবু অন্ধকার শেষ হল না। কতক্ষণ কেটে গেল। সময়ের অস্তিত্ব বলতে কিছু আর রইল না। সেই গভীর প্রাকৃতিক অন্ধকারে পথ হারিয়ে আমি ক্রমশ অবশ হয়ে পড়লুম।….

    সেবার লালী খবর দিয়ে লোকজন এনে আমাকে খুঁজে বের করেছিল। উদ্ধার করার পর সবাই প্রশ্ন করেছিল—কেন ওখানে ঢুকতে গেলে তুমি? কোন যুক্তিপূর্ণ জবাব দিতে পারিনি। লালীর ব্যাপারে আমাদের প্রচলিত যুক্তির বালাই থাকতে পারে না। শুধু বলেছিলুম—এমনি।

    এবং এই ছিল লালীর স্বভাব।

    সেই ‘দরকারী কথার’ ব্যাপারটাই ধরা যাক না কেন! আমার কৈশোর থেকে যৌবন সে ওই না-বলা কথাটার জোরে বিভ্রান্ত করে রেখেছিল। তারপর তো কলেজে পড়তে গেলুম। মাঝে মাঝে ছুটিতে গ্রামে আসতুম। লালী যেমন ছিল তেমনি।

    সময় হুহু করে চলে যাচ্ছিল। প্রতিশ্রুতি থাক বা না থাক, লালীকে আমার চাই-ই এই গূঢ় প্রতিজ্ঞায় তবু স্থির থেকে গেলুম। তারপর এক পুজোর ছুটিতে গ্রামে আসার পরই হঠাৎ নদীর বাঁধ ভেঙে প্রচণ্ড বন্যা শুরু হল।

    বৃষ্টি পড়ছিল ক’দিন থেকে। নদীর জল ব্রিজের কাছে বিপদ-সীমা পেরিয়ে যাচ্ছিল। তারপর এক শেষ-রাতে গ্রামে জল ঢুকতে থাকল। সে এক ভয়ঙ্কর দিন এল গ্রামের। ঘরবাড়ি ধসে পড়ল। পালিত পশু-পাখিরা ভেসে গেল। কিছু মানুষও বেপাত্তা হয়ে গেল। আমাদের মাটির বাড়িটা ধসে গেলে পরিবারের সবাই দয়াময়ের একতলার ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিল। বন্যা এলে দয়াময় তাঁর নিষ্ঠুরতাকে কদিনের জন্যে ছুটি দিয়েছিলেন।

    তখন বিকেল। রিলিফের নৌকো আসতে শুরু করেছে। দয়াময়ের এক-তলা চার পাঁচটা ইটের ঘরের ছাদ থেকে আশ্রিতরা নৌকোয় চলে যাছে। আমি লালীকেই খুঁজছি। কোথায় গেল সে?

    দয়াময় ক’বার জিজ্ঞেস করলেন—লালীকে দেখেছো অমিত?

    —না তো!

    —আশ্চর্য! সকাল থেকে তার পাত্তা নেই। শুনলুম বাঁধের দিকে গিয়েছিল—খুব খোঁজা হল, পাওয়া গেল না।

    —তাহলে আপনার ফ্যামিলির সঙ্গে নৌকোয় চলে গেছে।

    দয়াময় মাথা নাড়লেন—নাঃ!

    লালী বাঁধের দিকে যাচ্ছিল? আমার মধ্যে একটা তীব্র উত্তেজনা জাগল। এক ফাঁকে নিচে নামলুম। কেউ আমাকে কোন প্রশ্নও করল না—কোথায় যাচ্ছি। প্রশ্ন করার এটা সময় নয়।

    উঠোনের জল এক-বুক। তীব্র স্রোত ঘুরপাক খাচ্ছে। বেরিয়ে যেতেই রাস্তায় জল বেড়ে গেল। সাঁতার কাটার অভ্যাস ছিল ছেলেবেলা থেকে। নদীর বাঁধের দিকে এগিয়ে গেলুম। চিতসাঁতার দিচ্ছিলুম। স্রোতের সপক্ষে ভেসে যেতে যেতে যখন একটা নিচু জায়গায় পৌঁছলুম, টের পেলুম, বাঁধের এই অংশটাই যা টিকে আছে। জায়গাটা আন্দাজ কুড়ি ফুট-বাই-ছ ফুট এবং লম্বাটে, তার গায়ে অনেক জড়াজড়ি গাছ। তার নিচে ঝোপগুলো ডুবে গেছে। দ্রুত সন্ধ্যা আসছিল। আমি উথাল-পাথাল জলের শব্দের ওপর তীব্র-তীব্র কিছু শব্দ ছুঁড়ে দিলুম—লালী! লালী!

    পরক্ষণেই খুব কাছে সাড়া পাওয়া গেল—আছি।

    আশ্চর্য! লালী আমার খুব কাছেই একটা হিজল গাছের ছড়ানো ডালে পা ঝুলিয়ে বসে রয়েছে। ভিজে শাড়িটা গায়ে জড়ানো। শেষ আলোয় ওকে দেখে মনে হল এক প্রাগৈতিহাসিক কোন সত্তা—হয়তো প্রাণী নয়, অন্যকিছু—মানুষের ভাষায় বর্ণনা দেওয়া যায় না।

    —লালী! ওখানে কী করছ?

    লালী হাত তুলে ডাকল।—চলে এস অমিত।

    শশব্যস্তে গাছে ডঠে যেই তার দিকে এগিয়েছি, ও লাফ দিয়ে জলে পড়ল। মুহূর্তের ঝোঁকে আমিও ঝাঁপ দিলুম। ও দ্রুত এগোচ্ছিল। ওকে অনুসরণ করলুম। আর সেই সময় আবার বৃষ্টি নামল। আরও ধূসর হয়ে গেল সব কিছু। তবু মরিয়া হয়ে ওকে অনুসরণ করতে থাকলুম। ডাকলুম—লালী! এই লালী।

    লালী বার বার সাড়া দিয়ে গেল।

    স্রোতে ভাসতে ভাসতে হঠাৎ হাতে কী একটা শক্ত ঠেকল। অমনি সেটা ধরলুম। মনে হল একটা প্রকাণ্ড লোহার রেলিং। সেটার ওপর পা রেখে উঠে বসলুম। তারপর শুনলুম লালীর কণ্ঠস্বর।—অমিত!

    —লালী!

    লালীকে রেলিঙের অন্যপ্রান্ত দিয়ে উঠত দেখলুম। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে সন্ধ্যার আবছায়ায় ওকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে কাছে এসে বলল—সাঁকোটা উপড়ে গেছে দেখছ? এখানে এসে আটকেছে!

    আমরা পাশাপাশি বসে আছি, হঠাৎ লালী বলে উঠল—এই অমিত, আজ তোমাকে সেই পুরনো কথাটা বলব।

    আমি ওকে দু হাতে জড়িয়ে ধরেই প্রচণ্ড অবাক হয়ে বললুম—একি লালী! তোমার কাপড়চোপড় কোথায় গেল?

    —সাঁতার দেওয়া যায় না। তাই ফেলে দিয়েছি। তুমিও সব ফেলে দাও।

    সেই রাতে পৃথিবী আমাদের দুজনকে শোবার মতো একটুও জায়গা দেয়নি। তা পেলে আমরা দুটি প্রাচীন সরীসৃপের মতো অন্ধ ভালবাসায় ঘনীভূত হতে পারতুম।

    আমরা সেই রেলিঙে অতিকষ্টে বসে থাকলুম—অনেক অনেকক্ষণ। কথা খুঁজলুম। এবং এক অদ্ভুত বন্য গন্ধে আমাদের শরীরের ভিতরে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় কিছু ফুল ফুটল। নাকি আমাদের দুই সভ্যতাবর্জিত নগ্ন শরীর থেকে অজস্র আঁকুর গজাল শেকড়বাকড়ের ষড়যন্ত্রে? তাই তখন দরকার ছিল একটুকরো মাটি। অথচ কোথাও তখন মাটি নেই।

    এক সময় বললুম—লালী, তোমার সেই কথাটা?

    —হ্যাঁ, কথা।

    বলে সে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর খুব আস্তে বলল—কথাটা হয়তো ফুরিয়ে গেছে। নেই আর।

    —লালী, হেঁয়ালি করো না!

    হঠাৎ সে হেসে উঠল। কথাটা ফুরিয়েছে। তবু কথা আরো থাকে, অমিত। সে কথা শুনতে হলে আরো দূরে যেতে হবে। চলে এস!

    সে তক্ষুণি অন্ধকারে বৃষ্টির মধ্যে ঝাঁপ দিল জলে। চেঁচিয়ে উঠলুম—লালী!

    লালীর ডাক শোনা গেল।—চলে এস!

    অসম্ভব। এই দুর্যোগে আর ঝাঁপ দেওয়ার সাধ্য আমার নেই। পারলুম না। কাকুতি মিনতি করে ওকে ডাকতে থাকলুম। ও শুধু দূর থেকে দূরে যেতে যেতে বলল—চলে এস!

    আমি রাগ উত্তেজনা দুঃখে অস্থির হয়ে বসে থাকলুম। ওই ডাকে সাড়া দিয়ে এগোবার সাহস আর শক্তিও আমার ছিল না।….

    এখন বুঝতে পারি, ওই ছিল লালীর মুখে স্বাধীনতার ডাক। যে স্বাধীনতায় অতিক্রান্ত হয় দিনরাত্রি, সূর্য ওঠে, চাঁদ জ্যোৎস্না দেয়, এই ব্রহ্মাণ্ড চলে যেতে থাকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরের ভেগা নক্ষত্রের দিকে, বুদ্বুদের মতো প্রসারিত হয় স্পেস, সময় হয়ে ওঠে গতিবান—আর যে স্বাধীনতায় মাটি ফুঁড়ে উদ্ভিদ আসে, ফুল ফোটে, প্রাণীরা জন্ম নেয়, লালী সেই খাঁটি স্বাধীনতাকে জেনেছিল। তার দিকে চলে যাচ্ছিল আমৃত্যু। ওই যাওয়াই তার জীবন।

    হায়, সেই স্বাধীনতার ডাক কেউ শোনে, কেউ জানে—অনেকে শোনে না, অনেকেই জানে না! জন্মের পরই ইতিহাস চোখে পরিয়ে দেয় সভ্যতার ঠুলি।

    লালী ছিল আমারই স্বাধীনতার টান। আমি ভাসতে পারিনি। সভ্যতায় আছি। পোশাকে কার্পেটে ফুলদানিতে, পিকাসো রবিঠাকুরে।

    —এই ঝোপে লালীর মড়াটা আটকে ছিল।

    যেন দয়াময় আবার খুব পাশ থেকে কথা বলে উঠলেন। আবার আমি ঝোপটা দেখতে থাকলুম। দেখলুম, কালো বিষ-পিঁপড়ে, লালপোকা, মাকড়সার জাল, ছত্রাক, সাপের খোলস, শ্যাওলা, ভাঙা ডিম, গিরগিটি, সবুজ সাপের ছায়াধূসর স্যাঁতসেঁতে উর্বর পৃথিবীতে আলুথাল চুলে লালী শুয়ে আছে। ভাঁড়ুলে গাছের নিটোল গুঁড়ির মতো খয়েরি দুই উরু, ‘শঙ্খের মতন করুণ যোনি’, তার ধূসর দুই স্তনের বোঁটায় হাজার-লক্ষ বছরের মানুষের শৈশব জটিল হরফে লেখা। ফিসফিস করে ডাকলুম—লালী!

    আর বাঁধের দিকে পরপর দু’বার শব্দ হল। চমকে উঠে দেখলুম, দয়াময় উড়ন্ত পাখির ঝাঁক লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়েছেন। ঝাঁকটা ভয় পেয়ে আমার মাথার ওপর এসে পড়তেই আমিও ভয়ে মাথা নাড়ালুম। তারপর আড়চোখে দেখি দয়াময় এদিকে বন্দুক তুলছেন। পাখিগুলো দূরে চলে গেল। কাঠ হয়ে বসে আছি। তারপর দয়াময়ের জুতোর শব্দ হল।—এখনও বসে আছ, দেখছি!

    —না। ফিরব। আপনি এরই মধ্যে ফিরলেন যে?

    —ফিরলুম। তোমাকে একথা কথা বলতে বাকি ছিল।

    —বলুন।

    —নদীর ধারে সবজিচাষ করত একটা লোক। ওই ওখানটায়। তোমার মনে পড়ে?

    —হ্যাঁ। গণেশ রাজবংশী। সে নাকি জ্যোৎস্নায় চরে পরী নামতে দেখেছিল। তার ছেলেকে মনে পড়ে?

    —খুব। কী যেন নাম ছিল—

    —সীতু।

    —হ্যাঁ, সীতু। পাঠশালায় আমাদের সঙ্গে পড়েছিল।

    দয়মায় ঘোঁত ঘোঁত করে হাসলেন।—সে রাতে লালী কোথায় যাচ্ছিল জানো? সীতুর কাছে।

    আমার সারা শরীর শিউরে উঠল। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলুম ওঁর মুখের দিকে।

    —সীতুরা থাকত ওখানেই। আর লালী তাদের খবর নিতে যাচ্ছিল। তাছাড়া আর কী বলব?

    —কেন?

    —বুঝতে পারছ না কেন? দয়াময় জ্বলে উঠলেন। কয়েক মুহূর্ত চাপা শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ হল। তারপর বললেন—খুব ছেলেবেলা থেকে এটা চলছিল—একটুও তলিয়ে ভাবি নি। ওই শুওরের বাচ্চাটা লালীকে নষ্ট করেছিল। লালীকে সে……

    অনেক কষ্ট পাচ্ছেন দয়াময়, তাই কথা আটকে গেল। চোখমুখ লাল হয়ে গেল। হাঁফাতে হাঁফাতে আবার বললেন—পরে গণেশ বলেছিল আমাকে। লালী বন্যার রাতে ওদের কুঁড়েয় যায়। তখন ছোঁড়াটা ছিল না। রিলিফের নৌকো ডাকতে গিয়েছিল গ্রামের দিকে। ওর বাবা গাছের ডালে বসেছিল। অন্ধকারেও ওর চোখে কিছু এড়ায়নি। ও লালীকে টের পেয়েছিল। খুব বকাবকিও করেছিল। কেন এই দুর্যোগে এভাবে এসেছে? তারপর ভদ্রলোকের মেয়ে হয়ে এ কি সর্বনেশে কীর্তি। তারপর—ঘোড়ার মতো মুখ তুলে হাসলেন দয়াময়।

    —তারপর?

    —তারপর লালী আবার ভেসে যায়। বুড়ো আর ওকে দেখতে পায়নি।

    —তাহলে পথে এই ঝোপের মধ্যে…

    কথা কেড়ে দয়াময় বললেন—কী ঘটেছিল আমি জানি না। হয়তো কাপড়ে আটকে গিয়েছিল।

    —না। ও সম্পূর্ণ উলঙ্গ ছিল তখন।

    দয়াময় আমার দিকে নিষ্পলক চোখে তাকালেন।

    —আমার সঙ্গে সন্ধ্যায় ওর দেখা হয়। তারপর ও সাঁতার কেটে ওদিকে চলে গিয়েছিল।

    —তুমি জানো, সীতু ছোঁড়াটাকে কী শাস্তি দিয়েছি?

    —খুন করেছেন?

    —এই ঝোপের তলায় মাটির অনেক নিচে তাকে লালীর জন্যে অপেক্ষা করতে পাঠিয়েছি।

    —আর গণেশবুড়ো?

    —তাকে বাঁচিয়ে রেখেছি। মাঝে মাঝে তার কাছে যাই, লালীর কথা শুনতে। লালীর আরেকটা জীবন ছিল। ও জানত, আমি জানতুম না।

    —আমি একবার যাব বুড়োর কাছে।

    —যেও। তবে কষ্ট পাবে। আমি বাবা। হয়তো কষ্ট পাই। হয়তো কষ্ট পেতেই যাই। তুমি কি কষ্ট পেতে চাইবে লালীর জন্য? তোমাকে তো ও ভালই বাসে নি!

    বলে দয়াময় কেমন একটু হাসলেন। তারপর কিছু না বলে হনহন করে মাঠের দিকে এগোতে থাকলেন।

    তা হলে সীতুর জন্যই লালী…..আমার গলায় কী আটকে গেল। তাই নিয়ে গণেশ রাজবংশীর কুঁড়েঘরটার দিকে চললুম। আমি লালীর অন্য জীবনের কথা শুনব, যা আমার আজও শোনা হয়নি। সবুজ তেজী উদ্ভিদের ভেতরে এখন বুড়ো চাষা হাঁটু দুমড়ে বসে আছে। আমাকে দেখলে বেরিয়ে এসে ভিজে ধুলোয় ধূসর শরীর ছায়ায় এলিয়ে রেখে ফ্যাকাসে চোখে পৃথিবীর একটা পুরানো গল্প শুরু করবে। সেই গল্পের কোন শেষ নেই। কারণ সেই গল্প লালী নামে এক মেয়ের—যে স্বাধীনতা জেনেছিল।…….

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Next Article এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }