Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এক পাতা গল্প215 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রানীরঘাটের বৃত্তান্ত – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    রানীরঘাটের বৃত্তান্ত

    সে অনেক বছর আগের কথা।…

    নদীর ওপারে এক শহর, এপারে এক ঘাট। তার নাম রানীরঘাট। নদীর নাম ভাগীরথী। লোকেরা বলে মাগঙ্গা। মাগঙ্গার কোলে ছোট্ট মেয়ের মত রানীরঘাট হেসেখেলে দিন কাটায়। গাঁয়ের মেয়ের চোখে শহরে ঘোর লাগা ভাবটুকুও চোখে না পড়ে পারে না। কিন্তু ওই আলতো ঘোরটুকুই ছিল তখন, আর কিছু না।

    একটা বাসস্ট্যাণ্ড ছিল। কয়েকটা ছোটোখাট দোকান ছিল। রিকশ খান পাঁচেক। এক সময় ঘোড়ার গাড়িও ছিল। সারাদিন বাইরের মানুষের ভিড়ে হইচই বড় বেশি। তারপর সন্ধ্যা হতে না হতে ভিড় কমে যায়। শেষ বাস ছেড়ে যায় সাড়ে সাতটাতেই। বাঁশবনে শেয়াল ডাকে। তক্ষক ডাকে। পেঁচা ডাকে শিমুল গাছে। নিঃঝুম রাতে ঘাটের ধারে আটচালায় একটা লণ্ঠন। কাদের চাপা গলায় গপ্পসপ্প। আর মাঝে মাঝে ঘাটের ইজারাদার চৌবেজির চেরা গলায় হাঁক—শম্ভুয়া—আ—আ! শেষ খেয়া ফিরতে হয়ত দেরি করছে।

    সেবার শীতে জেলাবোর্ডের সেন্সারে বাবুরা এসে আধঘণ্টাতেই রানীরঘাটের গণনা শেষ করে ফেলেছিলেন। রোদে দাঁড়িয়ে মাটির ভাঁড়ে চা খেতে খেতে একজন হঠাৎ তামাশা করে বললেন—আরে, ওই পাগলীটা যে রয়ে গেল! লিখে নাও।

    আটচালার ধারে বসে পাগলীটা তখন যাকে দেখছে, চেঁচাচ্ছে—ও বাবারা! ওগো বাবারা! সবাইকে ওর বাবা বলা অভ্যেস! কিন্তু বাবা বলে ডাকছে কেন, কী বলতে চায়, বোঝা যায় না। ভিক্ষে দিলেও তো ছুঁড়ে গায়ে ফেলে দেয়।

    পাশের তেলেভাজার দোকান থেকে ময়রাবুড়ী ফিক করে হেসে বলল—তা লিখে নেবেন তো নিন বাবুরা। লিখুন, সুরেশ্বরী। লোকে বলে সুরিখেপী! সেও তো একটা মানুষ বটে। রানীরঘাটে সাত বছর আছে। সবার নাম লিখলেন, ওর কেন লিখলেন না?

    প্রথমবাবু বললেন—আর কে আছে ওর?

    —আবার কে থাকবে? যে যা দয়া করে দেয়, খায়। আটচালাতে ঘুমোয়।

    দ্বিতীয়বাবু দেখছিলেন সুরিখেপীকে। ভুরু কুঁচকে চাপা গলায় বললেন—মেয়েটা মনে হচ্ছে প্রেগন্যাণ্ট! স্ট্রেঞ্জ!

    প্রথমবাবু হেসে ফেললেন—ভাগ! তুমি তো ব্যাচেলার। কিসে বুঝলে?

    —এসব বুঝতে বিয়ে করা লাগে না। দেখ না, জাস্ট লুক অ্যাট দ্য থিং।

    সুরিখেপী ছেঁড়া নোংরা শাড়িটা সামলাতে পারে না। অথচ মাথায় ঘোমটাটি থাকা চাই-ই। প্রথমবাবু দেখলেন। অবাক হয়ে বললেন—সত্যি তো! মানুষ মাইরি এখনও জানোয়ার।

    ময়রাবুড়ী ব্যাপারটা লক্ষ্য করে ভারি গম্ভীর হল। গোমড়ামুখে বলল—মা-গঙ্গার চোখের সামনে এই পাপ। সইবে ভেবেছেন? দেখুন না কী হয় পেলয়কাণ্ড! রানীরঘাট ভেসে যাবে। ধুয়েমুছে যাবে। বেঁচে থাকলে দেখে যাব।

    দ্বিতীয়বাবু হো হো করে হেসে বললেন—ও বুড়ীমা, কী করে দেখবে? তুমিও তো ভেসে যাবে!

    বুড়ী বিকৃত মুখে গরম তেলে বেগুনি ছাড়ল। চড়চড় করে আওয়াজ হতে থাকল। কনুই গড়িয়ে জলের ফোঁটা পড়েছে বুঝি। বাবুর কথার জবাব দিল না। পাপের শাস্তি নিজের হাতে দিচ্ছে যে।

    প্রথমবাবু চায়ের ভাঁড় ছুঁড়ে ফেলল আকন্দের ঝোপে। পা বাড়িয়ে আবার রসিকতা করল।—তাহলে লিখতে হলে দুটো নামই লেখ। সুরেশ্বরী না কী বলল যেন, আর তার পেটে যেটা আছে।

    —ছেলে হবে, না মেয়ে হবে তার ঠিক নেই। দ্বিতীয়বাবু সিগারেট ধরিয়ে পা বাড়ালেন।

    —একটা কমন নাম দেওয়া যাক।

    —মাথায় আসছে না।

    —অজস্র আছে, অজস্র। শোন বলছি। ঊষা, পার্বতী, রেণু, উমা…আঙুল গুণতে গুণতে প্রথমবাবু বললেন। ক’টা হল? দাঁড়াও, আরও বলছি। রমা।…

    সুরি পাগলী চেঁচিয়ে উঠল—বাবারা! ও বাবারা! ওগো বাবারা!

    ঘাটের ধারে উঁচু পাড়ে ঘাটের ইজারাদার চৌবেজির গদি। পূর্ণিয়ার লোক। এ ঘাটে আছেন চৌদা বরষ। যখন এসেছিলেন, তখন চুল ছিল কুচকুচে কালো। এখন অর্ধেক পেকে গেছে। ফি-সাল জষ্ঠি মাসের সংক্রান্তিতে গঙ্গাপুজোর মেলার দিন ন্যাড়া হন। ময়না পোষার শখ খুব। খাঁচাটা সামনে ঝুলছে। রাম নাম শেখান সকাল সন্ধ্যা। নিজে পড়েন তুলসীদাসের রামচরিতমানস। কালেক্টরিতে এ বছর একইশ হাজার রুপেয়া গুনে দিয়ে ঘাট জিতেছেন। আনা-আনা পারানি। তবে বিলাঞ্চলের যুবতী মেছুনীদের বেলা আনাকড়ি নয়, রাতের জলের ফসল ঝকঝকে রাইখয়রা মাছ। চৌবেজি মাছও খান, মাংসও খান। খৈনি ডলেন, গড়গড়াও টানেন। গদীতে কোলে তাকিয়ে নিয়ে বসে ভাঙা উচ্চারণে গানও গেয়ে ওঠেন—’কেমনে ও গঙ্গা হোবো পার/হামি জানে না সাঁতার।’ মাছের গন্ধ লাগা বেলুন-বেলুন বুক খিলখিল হাসিতে ফুলে ওঠে, দুলে ওঠে। —ওত্তা হাসো মাৎ রি! ফাট যায়গা!

    —ঘাটোয়ারিবাবু না ঘাটের মড়া! কোথায় শিখলে এমন গান! আ ছি ছি।

    আর ফচকেমির সময় নেই। শম্ভু মাঝি ডাক দিয়েছে—এ অষ্টসখী রাধিকে সুন্দরীরা।…

    ওদিকে ডাক দিয়েছে ইসমাইল ড্রাইভারের বাসও। হর্নের ভ্যাঁক ভ্যাঁক আওয়াজ চলে যাচ্ছে নদী পেরিয়ে ওপারের ঘাটে।—পুরন্দরপুর মনসুরগঞ্জে বিনোটি মহিমাপুর। ছেড়ে গেল, ছেড়ে গেল। সবুজ বাসের ভেতরে লোক, বাইরে লোক, ওপরে লোক। অলীক ফলন্ত বৃক্ষ হেলতে দুলতে যাবে। রাস্তা মহা ফক্করবাজ।

    —বাবারা! ওগো বাবারা! ও বাবারা! সুরিখেপী মাটিতে থাপ্পড় মেরে সেই হাত কপালে আনে। আমার মাটিতে থাপ্পড়। ধুলোয় কপাল ধূসর।

    ময়রাবুড়ী চেঁচায়—চুপ! চুপ! গলায় দোব গরম তেল ঢেলে! লজ্জা করে না বড় গলা করে চেঁচাতে? তখন কোথায় ছিল এ গলা? চিহরিপোকার (শ্রীহরি) কামড় খেয়ে বোবা হয়েছিল?

    মাঘের শেষে রানীরঘাটে শিমুলের ডালপালায় যেন হাজার অলীক বনমোরগ উড়ে এসে বসেছে। লাল লাল ঝুঁটি। ফাল্গুনে তাদের সাদা পালক উড়ে পড়ে মাগঙ্গার বুকে। স্বচ্ছ কালো জল বালির চরে মাথা কুটে কুটে পথ প্রার্থনা করে। যেতে পায় কী পায় না! শ্যাওলায় ঠোঁট ঘষে বেড়ায় মৌরালার ঝাঁক। প্রতিমার খড়বাঁশের টাট উল্টে গেছে যে স্রোতে, তা এখন স্মৃতি এবং পরবর্তী প্রতীক্ষা। মড়াখেকো দাঁড়কাক এসে সেই টাটে বসে সবাইকে খেতে ডাকে—খা খা! ময়রাবুড়ী তাই শুনে বলে—ওই ঘাটের মড়াটাকে খা। এ ঘাটে অনেক মড়া। কোন মড়ার কথা বলে দাঁড়কাক জানে না। সুরিখেপীকে বুড়ী এনেছে চান করাতে। বুড়ীর হাতে কঞ্চি। কঞ্চিটা নাচাতে নাচাতে বলে—ভালমানুষের বেটি হবি তো বস। বসে পড় জলে। তাই বলে ওকে ছোঁবে না বুড়ী। নিজে-নিজেই চান করতে হবে সুরিখেপীকে। তাই আবার স্নান। পা ছড়িয়ে আঘাটার জলে বসে কপাল থেকে জলের দিকে এবং জলের দিক থেকে কপালে হাত।—বাবারা! ওগো বাবারা! জল বলে ধুলোমাখা কপাল ধুয়ে যায়, এটাই এখন সুবিধে। বুড়ী বলে—হাতখানা বুকে দে লো, বুকে দে। বাবারা বলে বুকে দে দিকিনি।

    শীতটা চলে গেল। গ্রীষ্ম এল। ঘাটের ধারে আকন্দঝাড়ে ফুল ফুটল। ঘাটোয়ারিজি গঙ্গাপুজোর দিন ন্যাড়া হলেন। আটচালায় সুরিখেপীকে আড়চোখে দেখে দয়া করে ভাত পাঠিয়ে দিলেন। এবছর অচানক দশ হাজার টাকা বেড়ে গেছে ইজারার দর। তাই বলে চৌবেজি রানীরঘাট ছাড়বেন না। বুড়ো হয়ে মরবেন, তখন কেউ গদি দখল করুক। বড় মায়া বসে গেছে রানীরঘাটে।

    বর্ষায় এক রাতে তুলকালাম বৃষ্টি। তার মধ্যে সুরিখেপীর বাচ্চা হল আটচালায়। কজন দূর গাঁয়ের গাড়োয়ান গরুমোষের গাড়ি নিয়ে এসে আটকে পড়েছিল। তারাই বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ছুটোছুটি করে অবশেষে ময়রাবুড়ীকেই পেল। মানুষের জন্মটা ওইসব গেঁয়ো গাঁড়লদের কাছে নিশ্চয়ই খুব দামি। তারা একটা হারিকেন দিল পর্যন্ত। আটচালার কোণটাও কাপড় টাঙিয়ে ঘিরে দিল। মেয়েমানুষের আর্তনাদ শুনে তাদের হৃদয় গলে যাচ্ছিল। বৃষ্টি না থাকলে তারা এ সময় দূরে সরে থাকত। মানুষের জন্ম তাদের কাছে বড় পবিত্র ঘটনা। তারা একে সম্মান দিতে চাইছিল। কিন্তু বৃষ্টি! আর বুঝি সময় ছিল না বর্ষাবার। তারা বর্ষার বাপান্ত করছিল।

    ময়রাবুড়ী বলল—আগুন চাই যে এখন। দেখ দিকি, এ অসময়ে গুখেকোর বেটি এ কী করে বসল!

    গাড়োয়ানরা ঘাটোয়ারিবাবুর গদি থেকে শুকনো লকড়ি এনে দিল। একটু পরে শোনে, ওঁয়া ওঁয়া কান্নাকাটির মধ্যে বুড়ী হেসে-হেসে আদর করছে—এ রাঙা টুকটুক কোত্থেকে এল রে! এ ভাঙাঘরে চাঁদের হাট কোন মুখপোড়া বসালে রে! একে আমি কোথায় রাখব রে! আহা হা, যেমন নাক তেমনি চোখ। যেমন মুখের গড়ন, তেমনি রঙ। ওরে ছোঁড়া, এ মুখ তুই কোথায় পেলিরে?…..

    সে এক দীর্ঘ পদ্য, ছড়ার সুরে গায়। রানীরঘাটে সকাল হতে না হতে সুখবর পড়ল ছড়িয়ে। তখনও ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের নামগন্ধ নেই কোথাও। রানীরঘাটের স্থায়ী জনসংখ্যা বাড়ল, এই যথেষ্ট। প্রসূতিকে কড়া চা খাইয়ে-খাইয়ে ঢোল করার অবস্থা। ময়রাবুড়ী চোখ পাকিয়ে কপট ধমকায়। বাসের লোক রিকশর লোক, আর যতসব উটকো লোকের ঝামেলা সে ছাড়া আর কে সামলাবে? সে আঁতুড় আগলে দাঁড়িয়ে বলে—কী দেখার আছে? অ্যাঁ? কারও মা-বোন বিয়োইনি?

    সেন্সাস বাবুদ্বয় অনেকগুলো নাম আওড়ে গিয়েছিল। রানীরঘাট নিল না। আদর করে নাম নিল ফালতু। আসলে এতকাল যেন কাজের মত কাজ, কিংবা খেলার মত একটা চমৎকার খেলা পাচ্ছিল না কেউ। এতদিনে পেল। পেল তো এমনভাবে পেল যে হুজুগের মাত্রাটা গেল বেড়ে। ছোকরা কণ্ডাক্টররাই লিড নিল। চাঁদার লিস্টিতে প্রথম নাম চৌবেজির। পাঁচ টাকা। দ্বিতীয় নাম ইসমাইল ড্রাইভার। দু’টাকা। ঘাটে ফিস্টি হবে। সুরিখেপীর ব্যাটার জামাপেণ্টুল কিনতে হবে। একখানা নতুন শাড়িই বা কেন কেনা হবে না? এ প্রস্তাব শম্ভু মাঝির। আর সেইদিনই দৈবাৎ এসে পড়েছে একটা নাটুকে দল। লোকে বলে আলকাপ দল। ছেলেটা মেয়ে সেজে নাচে গায়। বেঁটে লোকটা সঙ দিয়ে লোক হাসায়। ঘাটের পিছনের চত্বরে ত্রিপল টাঙিয়ে আসর হল। ঘাটবাবুর হ্যাজাক জ্বলল। রানীরঘাটে এ ছিল উৎসবের রাত। আর তখনও রানীরঘাটে ব্রিজ হয়নি। বিদ্যুৎ আসেনি। মাইক বাজত না। দূর উত্তরে ফরাক্কায় ফিডার ক্যানেলটাও খোঁড়া হয়নি। দেশ দু’টুকরো হয়নি! কত কী হয়নি। সে অনেক বছর আগের কথা।….

    সুরিখেপীর চেহারা আহামরি ছিল না। মুখটা ছিল গোলগাল, সরু বেঁটে নাক, নিচের ঠোঁটটা একটু পুরু। গতরটা ছিল থলথলে প্রচুর মাংসে ভরা। ময়রাবুড়ী বলত—সাতশো শ্যালশকুনেও খেয়ে শেষ করতে পারবে না। শুধু দেখবার মত জিনিস ছিল তার চুল। কী চুল কী চুল! ছেলে হওয়ার পাঁচদিনের দিন, আঁতুড় থেকে যেদিন বেরোয়, সেই পাঁচোটে’র দিন কঞ্চি তাড়না করে মমতাময়ী বুড়ী তাকে নাইয়ে আনে এবং গড়গড় করে এক বাটি নারকোল তেল ঢেলে দেয় চুলে। সেই একবার তেল। ফলটা হল কী আটচালার ধুলো-ধাসড় মেখে পুরোটা গিয়েছিল জট পাকিয়ে। জটার প্রতি লোকের ভক্তি আছে। পরে যখন রানীরঘাটওলারা সুরিখেপীর জন্যে বাসস্ট্যান্ডের পিছনে একটা ছফুট-চারফুট-সাতফুট মাপের খুপড়ি বানিয়ে দিয়েছিল, সুরি বাচ্চা কোলে নিয়ে সেখানে বসে বাবাদের ডাকাডাকি করত, আর ধর্মভীরু দেহাতি মেয়েরা পয়সা ছুঁড়ে দিত! পয়সাগুলো সুরি পাল্টা ছুঁড়ে ফেলবেই। সেই পয়সা ঘাটেরই কেউ না কেউ কুড়িয়ে জোর করে ওর আঁচলে গেরো বেঁধে রাখবেই। তাতে আপত্তি ছিল না সুরির। কিছুতেই আপত্তি ছিল না। পরে গঙ্গাপুজোর আগেরদিন ময়রাবুড়ী চুপি চুপি একদলা সিঁদুর ঢেলে দিয়ে এল সিঁথিতে। চেহারাটা খুব খুলে গেল মেয়েটার। টুকটুক করে তাকিয়ে দেখে বলল, আহা! শাঁখানোয়াখান হলে কী মানান মানাত পোড়ারমুখীকে! ব্যস, খবর গেল শম্ভু মাঝির কাছে। ওপারে ঘাটের ওপর শাঁখাপট্টি। তাও জুটে গেল। ময়রাবুড়ী খুপরির সামনে কোমরে দু’হাত রেখে কতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে দেখল। দেখে দেখে সাধ আর মেটে না। ছেলেপুলের মায়ের যা যা দরকার, তা নইলে চলে? দেখ তো মুখপুড়ীকে এখন কেমন মানিয়েছে। ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে বুড়ী দৌড়ে যায় দোকানের দিকে। রানীরঘাটে পাখপাখালি যত, তত কুকুরবেড়াল। তার ওপর কড়াইতে তেল ধোঁয়াচ্ছে।…..

    সেবার গঙ্গাপুজোর দিন সন্ধ্যেবেলা খুব কালবোশেখি হল। বিষ্টি হল। বাইরের লোকেদের খোয়ারের হল একশেষ। কিন্তু রানীরঘাটে গজিয়ে গেল এক দেবী। আবার কে? ওই সুরীখেপী। সে ‘খেপী মা’ হয়ে গেল। লোকে তার কাছে জ্ঞাতব্য তথ্য আদায় করতে চায়। খেপী মার শুধু ওই এক কথা—ওগো বাবারা! ও বাবারা! আর ডানহাত কপাল থেকে মাটিতে, মাটি থেকে কপালে! রাতদুপুরে নিঝুম রানীরঘাটে হঠাৎ শোনা যায়—ওগো বাবারা! ও বাবারা!

    কিন্তু এত যে যত্নআত্যি লক্ষ্য, তার তলায় তলায় আরেক তরঙ্গ বইছিল রানীরঘাটে। কাজটা কার হতে পারে? পাপ হোক, পুণ্য হোক, ভাল বা মন্দ হোক, এ একটা ঘটনাই বটে। কে সে? জানোয়ার হোক, মানুষ হোক—দৈবাৎ মতি টলেছিল, কিন্তু কার? নানা ফিকিরে বাচ্চাটার মুখ দেখা হয়, ফিরে এসে রানীরঘাটে মুখ খুঁজে মেলাবার চেষ্টা চলে। মেলে না। চৌবেজি ঘাটোয়ারির নামটাও উঠেছিল। টেকেনি। অত সাফসুতরো মানুষ। গদির সাদা চাদরে এককণা ময়লা পড়তে দেন না। দু’বেলা স্নান আহ্নিক করেন। খালি গায়ে ধবধবে সাদা পৈতে থেকে জ্যোতি ঠিকরে পড়ে। নোংরা দুর্গন্ধ এক নারীশরীরে কোন দুঃখে সুখ খুঁজতে যাবেন? তার ওপর লাখপতি লোক। ইচ্ছে করলেই ওপারের অলিগলি খুঁজে সুন্দরী সংগ্রহ করাটা ডালরোটি খাওয়ার সামিল। কেউ বলেছিল, ইসমাইল ড্রাইভারই বা! যা মদ-তাড়ি খায় লোকটা। রাতের দিকেই ঘটেছে। হিসেবমত আশ্বিন মাসেই বটে। সে-আশ্বিনে প্রায়ই রাতে ঝড়বৃষ্টি হত। কিন্তু মনে পড়ল, তখন ইসমাইল অ্যাকসিডেণ্ট করে অনেকদিন হাসপাতালে ছিল।

    এইভাবে জনাদশেক প্রজননক্ষম পুরুষ মানুষ, যারা কিনা ঘাটেরই বাসিন্দা এবং বয়স পনের থেকে পঁয়ষট্টির মধ্যে, সবাইকে যাচাই করে-করে বাদ দেওয়া হল। অতএব দায়িত্বটা বাইরের লোকের ঘাড়েই ফেলতে হয়। আশ্বিনে তো ঝড়জল গেছে। বারোমাসই ওই আটচালায় রাতের আশ্রয় নেয় কত জায়গার পথিকজন, গাড়োয়ান, ভিখিরি, ফকির, সন্ন্যাসী—কত রকম মানুষ। কার মাথায় কটকট করে ‘চিহরিপোকা’ কামড়েছিল! শেষঅবধি হাল ছেড়ে দেওয়া হল। ও পোকা বিষম পোকা। কামড়ালে উত্তর-পুব জ্ঞানগম্যি থাকে না।

    আর দিন যায় রাত আসে। রাত যায়, দিন। মাস যায়, বছর। ঢ্যাঙা শিমুলে অলীক লালঝুঁটি মোরগের ঝাঁক আসতে ভোলে না। ঘাটোয়ারিজির ময়না কবীরের দোঁহার একটি শব্দ পেরিয়ে যেতে যেতে হিমশিম খায়। ঘাটোয়ারিজির বাকি চুল সাদা হয়ে ওঠে। খেপীমায়ের ‘থানে’ পয়সা পড়ে এবং চুরিও যায়। এক শীতে ময়রাবুড়ীও গঙ্গা পায়। খেপী চেঁচায়—বাবারা! ওগো বাবারা! ও বাবারা!

    ফালতু তখন গুটগুট করে হাঁটতে শিখেছে। আর রানীরঘাটের সবাই তার বাবা। আধো আধো বুলিতে ছোঁড়াটা কাপড় ধরে টানে—বাবা! বাবা! ব্যাপারী, দালাল, ফড়ে, মামলাবাজ, গাড়োয়ান আর বাবু—সবাইকে বাবা ডাক। চৌবেজির উঁচু গদির ধারে দাঁড়িয়ে ছোট্ট নোংরা হাত বাড়িয়ে ডেকে ওঠে—বাবা! চৌবেজি হাসতে হাসতে ধমকান—ভাগ! ভাগ! তাই বলে কেউ ওর গায়ে হাত তুললেই হয়েছে! সারা রানীরঘাট এসে ঝাঁপিয়ে পড়বে।

    দেখতে দেখতে ফালতু বড় হল। আবার এক গঙ্গাপুজোর মেলার দিন খুব জলঝড় এল। সেই রাতে সুরিখেপী আচমকা বমি কাপড়ে-চোপড়ে করে ভোররাতে ঠান্ডা আর নীলবর্ণ হয়ে মারা পড়ল। মায়ের গুয়েমুতে ছোঁড়াটা বেহদ্দ ঘুমোচ্ছিল। বাঁশবনে বাঁশ কেটে খাঠুলি বানানো হল। ওপাশের শ্মশানে খেপীমা পুড়ল। রানীরঘাটে সেও একটা দিনের মত ছিল। আবার চাঁদা তুলে ফিস্টি। আবার এক আসর গান। শেয়ালমারার ষষ্ঠীপদ কেত্তুনে নিখরচায় গেয়ে গেল। ফালতুকে কেউ যদি শুধোয়—তোর মা কোথায় রে? ফালতু শ্মশানের দিকটায় তুলে ছড়া গায়—হো হো! কেপী গেচে পুলতে/ছসেল পতোল তুলতে!’ অর্থাৎ কী হাসির কথা! খেপী গেছে পুড়তে, ছসের পটোল তুলতে। কে শেখাল? শম্ভু মাঝিই বা। সে বড় রসিক মানুষ। নয়ত দিনদুপুরে মাঝ গঙ্গায় লগি ঠেলতে ঠেলতে কেউ গায়—’এ ভরা গাঙমে চেকন জোসনা ডুব দিয়ে পার হবি লো সই/সই লো—ও—ও—ও?’

    হাফপেন্টুল পরা উদোম-গা ফালতু ভালরকম বুলি ফুটলে বাসের মাথায় উঠে চ্যাঁচায়—চলে এস! আভি ছোড় দেগা! জলদি ছোড় দে গা!

    আর এর ফলটা হল এই যে, সে গতি চিনল। গতিকে ভালবাসল। ইসমাইলের বাসেই তার জীবনটা জড়িয়ে গেল দেখতে-দেখতে। পুরন্দরপুর মনসুরগঞ্জো বিনোটি মহিমাপুর। কখনও ইসমাইলের সঙ্গে গঙ্গা পেরিয়ে শহর। শহরে ইসমাইলের বাড়ি। তার বউ ফালতুর ইতিহাস জানে। দেখলেই মুখটা গম্ভীর করে। জল চাইলে ফুটো এনামেলের গেলাসে জল দেয়। ছিঘেন্নার চূড়ান্তই করে। ইসমাইল কাঁচুমাচু হাসে খালি। কী বলবে? অথচ ছোঁড়াটা খুব কাজের। পাকাচুল তোলে। ফরমাস খাটে। নিজের ছেলেরা ইস্কুলে পড়ে। তারা যেন এ হারামি ড্রাইভারী কাজের ত্রিসীমানা না ঘেঁষে! হাতে স্টিয়ারিং এলে দুনিয়াটা পয়মাল হয়ে যায়, কে বুঝবে? থিতু হয়ে বসা যায় না ঘরে। শয়তানের চাক্কা ঘোরে সারাক্ষণ এই শরীরে। থামতে দিলে তো? আর শয়তান তোমাকে শেষঅবধি জাহান্নামের দিকেই চলেছে, টের পেয়েও কিছু করার নেই তোমার।…….

    কতকাল পরে রানীরঘাটে আরেক শীতে আবার এসেছেন সেন্সারের বাবুরা। এ বাবুরা সেই তাঁরা নন। এঁরা সরকারি বড় সেন্সাসের লোক। এ রানীরঘাটও সে রানীরঘাট নয়। তিনটে বাসরুট এসে মিলেছে ঘাটে। দোকানপাট বেড়েছে। বিদ্যুৎ এসেছে। শ্মশানঘাটের ওপাশে ব্রিজ গড়ে উঠছে। চৌবেজি ঘাটোয়ারির এই শেষ ইজারা। খাঁচার ময়নাটাও গেছে মরে। আর পাখি পোষেন না। তক্তপোশের তলায় ঘুণ ধরা খাঁচাটার কী অবস্থা কেউ জানে না। সেন্সারের বাবুরা ঘুরে-ঘুরে লোক গুনছিলেন। পোষা জীবজন্তুর হিসেবও নিচ্ছিলেন। আরও কত কী তথ্য। লোকসংখ্যা সতের থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে বাহান্ন। নেহাত পেটেরটা বাদ দিয়ে ধরলে। লোকেরা ব্রিজের দিকেই সরে যাবার তালে ছিল। কিন্তু গিয়ে করবেটা কী? নেহাত ঘর বেঁধে থাকাই হবে। উঁচু পুলের ওপর দিয়ে বাসবোঝাই লোকজন সোজা গিয়ে ওপারে নামবে। এখানে কোথাও আর রাস্তা আগলে দাঁড়াবার সাধ্যি নেই। রানীরঘাট হিম হয়ে ঝিম মেরে গেছে। নিশ্চিত মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে সময় গোনা! নেহাত ভিটের মায়ায় কেউ কেউ থেকে যাবে। সেন্সারের বাবুরা টের পেলেন, এ বাহান্ন আবার সতেরয় নামবে, কিংবা আরও নেমে সাতে ঠেকলেও অবাক হবার কিছু নেই। যারা দোকানদারি করতেই এখানে ঘর বেঁধেছে, তারা ওপারে নতুন বাসস্ট্যান্ডের কাছে দু’চার হাত জমির জন্যে মাথা ভাঙছে।

    অথচ বাইরে-বাইরে এই মৃত্যুযন্ত্রণা বোঝার উপায় নেই। তেল ফুরোবার আগে সলতে পুড়ছে হু হু করে। রানীরঘাট ভিড় হল্লাজেল্লায় চঞ্চল। মোটর অফিসের টেবিলে শেষ সংখ্যা বসিয়ে সেন্সারের বাবুরা নেমে এলেন চায়ের দোকানে, যেখানে আগের সেন্সারের দুই বাবু চা খেয়েছিলেন। ওপরে একটুকরো টিনে লেখা : অন্নপূর্ণা টি স্টল। বাঁকাচোরা হরফ। তার তলায় লেখা প্রাো : জগন্নাথ—পদবি ধুয়ে গেছে। চা বানাচ্ছে ষোল-সতের বছর বয়সের একটি মেয়ে। শ্যামলা ছিপছিপে গড়ন। দেখতে মন্দ না। ভেতরে দরমাবাতার দেয়াল ঘেঁষে একটা বেঞ্চের কোণায় বসে চা খাচ্ছে এক নবীন যুবক। মাথায় ঝাকড়-মাকড় চুল। সরু চিকন গোঁফ। তামাটে রঙ। শক্তসমর্থ চেহারা। তার পরনে তোবড়ানো খাঁকি ফুলপ্যান্ট, আর খয়েরি শার্টের ওপর হাতকাটা সোয়েটার। বাঁহাতে স্টিলের বালা। ভারি অমায়িক তার হাবভাব।

    তার দিকে ঘুরে জগন্নাথের মেয়ে টুকটুকি হাসল।—ও ফালতুদা তোমার নাম লিখিয়ে দাওনি বাবুদের?

    সেন্সাসবাবুদ্বয় বেঞ্চে বসেছেন। ফালতু ভুরু কুঁচকে বলল—কিসের নাম?

    হাসতে হাসতে টুকটুকি বলল—ওর নাম লিখুন! ও যে বাদ পড়ে গেল!

    প্রথমবাবু বললেন—তুমি বুঝি এখানেই থাকো?

    ফালতু নিস্পৃহ ভঙ্গীতে ঘাড় নেড়ে সিগারেট ধরাল। পানুটি কি এখানে? বত্রিশ কিলোমিটার রাস্তা ঠেঙিয়ে বাস নিয়ে এসেছে একটু আগে। পথে দুবার বিগড়েছিল। ঠেলতে হয়েছে। মালিককে বললে বলেন, আর ক’টা দিন চালিয়ে নে বাবা। নতুন গাড়ি আসছে। ইসমাইলকে বুড়ো করেছে এ গাড়ি। সেই গাড়ি ফালতুকেও বুড়ো করবে।

    দ্বিতীয়বাবু কাগজপত্র বের করেছেন ব্যাগ থেকে।—কেউ তো বলেনি তোমার কথা! হুঁ নামটা বলো ভাই।

    ফালতু হেসে বলল—কী হবে?

    প্রথমবাবু বোঝাতে শুরু করলেন। টুকটুকিও বলল—ভয় নেই বাবা! কেউ ধরে নিয়ে যাবে না। আমারও নাম লিখে নিয়েছে। নেননি বাবু? বলুন তো একবার।

    একটু পরে কাঁচুমাচু মুখে ফালতু রাজি হল।—লিখুন তাহলে। ফালতুই লিখুন।

    —ফালতু! হাসলেন উভয় বাবুই। ওটা নিশ্চই ডাকনাম? আসল নাম বল।

    মেয়েটা হেসে খুন হল। চায়ে দুধ ঢালতে গিয়ে উনুনে পড়ে গন্ধে উঠল। ফালতু গোঁ ধরে বলল—আসল নকল জানি না সার, ফালতু আমার নাম। লিখতে হয় লিখুন, নয় বাদ দিন।

    —বেশ, ফালতু। হুঁ বয়স?

    —বিশ-পঁচিশ হবে।

    আবার হাসি উঠল অন্নপূর্ণা টি স্টলে।—বিশ, না পঁচিশ?

    —যা মনে হয় লিখুন! ফালতু বিরক্ত হয়ে বলল।

    —মাঝামাঝি লিখছি। বাইশ। কেমন? জাতি কী ভাই?

    একটু চুপ করে থাকার পর ফালতু বলল—হিন্দুই লিখুন।

    —বাবার নাম?

    হঠাৎ বজ্রাঘাত। জগন্নাথ মেকদারের হাসিখুশি মেয়েটা শক্ত হয়ে গেল। আড়চোখের বাঁকানো দৃষ্টি ফালতুর গায়ে গিয়ে পড়ছে। হঠাৎ রানীরঘাট নিঃঝুম। ঝড়ের আগে যখন পাতাটিও গাছে নড়ে না। খালি বাজ পড়ার শব্দ।

    —বল ভাই!

    ফালতু বেঞ্চের কোণায় সিগারেট ঘষটে নেভাল। তারপর বলল—মায়ের নাম লিখুন সুরিখেপী। তাহলেই হবে।

    তীব্র প্রতিবাদ করে উঠল জগন্নাথ মেকদারের মেয়ে।—না। সুরেশ্বরী লিখুন। বাবা বলত খেপীমার নাম সুরেশ্বরী। উইখানে থাকত—মাথায় জটা! আমি দেখিনি। বাবা দেখেছে। ঘাটের কত লোক দেখেছে। গঙ্গাপুজোর সময় নাকি ভর হত। লোকেরা মানত করত।…..

    সবাই গম্ভীর। তারপর আস্তে বললেন দ্বিতীয়বাবু—হুঁ, অজ্ঞাত। এবার বল, বাড়িতে কে আছে। কখানা ঘর। পোষা জীবজন্তু আছে কি না। বাড়ির গার্জেন থাকলে তার নাম কী….

    প্রথমবাবু বললেন—ট্রেন চালিও না। একে একে জিগ্যেস করো।

    ফালতু উঠে দাঁড়াল। বলল—বাড়িটাড়ি নেই। থাকি মোটরআপিসে। তারপর চলে গেল।

    বাবুরা চা খাচ্ছেন। তখন গঙ্গার নেয়ে হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে মেয়ের বাবা জগন্নাথ এসে গেল। কোমরে বরাবর বাত। এখন শরীর দু’ভাঁজ হয়ে গেছে। কোমর থেকে মাথা অব্দি মাটির সমান্তরাল। তাই হাঁটলে হাত দুটো উড়ন্ত শকুনের ডানার মত দুপাশে ছটপট করে। এখন একহাতে ঘটি। ঘটিতে গঙ্গাজল। মাধ্যাকর্ষণের নিয়মে সেই হাতটা ঝুলে স্বাভাবিক হয়েছিল। কিন্তু ঘটি রাখতেই আবার যে-কে সেই। সেন্সাসের বাবুদের চা খেতে দেখে খুশি হল। টুকটুকি ঠোঁটের কোণায় হেসে বলল—ফালতুদার নাম লিখে নিয়েছে বাবা। আমিই বললুম তো লিখতে। বাদ পড়ে যেত কেমন!

    জগন্নাথ হাসল।—তোর যেন দিদির স্বভাব। বুঝলেন স্যার? সেবারে আপনারা আসেননি। অন্য দুজন এসেছিলেন। আপনাদের চেয়ে বয়স অনেক কম। দিদি থাকত ওই যে ভিটে দেখছেন, ওখানে। ওই ফালতুর মায়ের নাম লিখিয়েছিল। খুব ভালবাসত মেয়েটাকে!

    কথার কথা হিসেবে প্রথমবাবু বললেন—কাকে?

    —সুরিখেপীকে। মানে ফালতুর মা। জগন্নাথ রোদে দাঁড়িয়ে পুঁথি খুলল। পুঁথিতে অল্পবিস্তর রঙ চড়বেই। তাই—কোন জাত না কোন জাত মানামানি নেই। দিদি ঘাটে ফেলে মেয়েটাকে রগড়াত। কী ভাল না বাসত স্যার! ঘাটের অনেকে জানে। দেখেছেও, যারা ছিল তখন। আমার দিদি মুরুক্ষু মেয়ে হলে কী হবে, প্রাণটা ছিল বড়। ফালতুর জন্মের রাতে কী বিষ্টি কী মেঘ! পেলয়ঙ্কর চলছে। তার মধ্যে দিদি কাঠ রে আগুন রে সেঁকা রে পোড়া রে, আপনার মশাই লণ্ঠন রে করে রানীরঘাটের এ-মুড়ো ও-মুড়ো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে! আজকাল আর অমন মানুষ হয় না স্যার! তো ফালতু এখন মানুষ হয়েছে। এ লাইনে খুব পাকা ড্রাইভার। ও জানেই না এসব কথা। কে ওর চোখে কাজল পরিয়ে, গায়ে তেল মাখিয়ে রোদে বসে থাকত জিগ্যেস করুন, বলতে পারবে না।

    সেন্সারের বাবুদ্বয়ের অত সময় নেই। শহরে শিক্ষকতা করেন। স্কুলের সময় হয়ে গেল। উঠে গেলেন পয়সা দিয়ে। জগন্নাথ একটু বেজারই হল। এক সময় সুরিখেপীর বাচ্চা হওয়ার ব্যাপারটা রানীরঘাটের মনমেজাজ চাঙ্গা রাখত। কার না মনে পড়ে সে-সব দিন? ফিস্টি। গানের আসর। সুরিখেপীর ঘর গড়ার দিন কত হইচই স্ফুর্তি। যে আসছে, সেই হাত লাগাচ্ছে। জগন্নাথ কত কাপ চা খাইয়েছিল হিসেব নেই। আজকাল সবাই কেমন যেন হয়ে গেছে। ফালতু তখন মোটেই ফালতু ছিল না। এখন ফালতু তো বটে, মানুষই যেন ফালতু হয়ে গেছে। ঘাটোয়ারিজি একটা লাল হাপপেন্টুল দিয়ে ফালতুকে বলেছিলেন—যেদিন বাবা বলা ছাড়বি, সেদিন থেকে রোজ একপো করে রসগোল্লা। ফালতু ছাড়তেই পারেনি। ও বাবা, তোমার পাখিটা দাও না! ও বাবা, আমি খৈনি খাব। ও বাবা, দুটো পয়সা দাও। হুঁ, ফুক্কুরে লোকেরা শিখিয়ে দিত ছোঁড়াটাকে। ঘাটোয়ারিজিকে নাকাল করে ছাড়ত। শুধু ঘাটোয়ারিজি কেন, জগন্নাথের ওপরও লেলিয়ে দিত না? একবার অশ্বিনী দারোগা এসেছেন ঘাটে। কে লেলিয়ে দিয়েছে ফালতুকে। ফালতু দারোগাবাবুর হাফপেন্টুল খামচে ধরে বলে—ও বাবা, সাইকেল চাপব। বাবা, সাইকেল চাপব! দারোগাবাবু বললেন—এটা সেই পাগলীর বাচ্চাটা না? আহা! রানীরঘাটে সে এক দিনকাল ছিল! দুঁদে দারোগা হো হো করে হেসে সাইকেলের রডে চাপিয়ে সত্যি একচক্কর ঘুরিয়ে দিলেন! নামিয়ে দুআনা পয়সাও দিলেন। বললেন—কী রে ছোঁড়া? আমার সঙ্গে যাবি? আমার বাড়িতে থাকবি। লেখাপড়া শেখাব। অ্যাঁ? যাবি?

    সেদিন ফালতু গেলে ভালই করত। রানীরঘাটের লোকগুলো যেন ছোঁড়াটার মায়ায় পড়ে গিয়েছিল। ও গেলে যেন ঘাট ফাঁকা হয়ে যাবে। এক ফাঁকে শম্ভু মাঝি ডাকল—আয় রে! লৌকোয় চাপবি! ফালতু চলে সঙ্গে সঙ্গে। দারোগাবাবু সাইকেলে চেপে গেলেন আসামী ধরতে কনকপাড়া গোপগাঁ।…..

    তবে ছোঁড়াটার লোভ ছিল না কিছুতে। দিদি একখানা বেগনি হাতে দিলে তো প্রায় সারাদিন ধরে তাই কুচ কুচ করে দাঁতে কেটে খাবে। দিদি ওদের মা-ব্যাটার মত যত্ন করত! এখন ভাবলে অবাক লাগে। কেন এমন করত দিদি? কেন কেন করতে করতে জগন্নাথের শীতটা গেল বেড়ে। তোবড়ানো মুখে ঠোঁট দুটো কাঁপতে থাকল।

    —বাবা, আমি আসছি।

    জগন্নাথ তাকায় মেয়ের দিকে।—নাও! মাথায় পোকা কামড়াল! খদ্দেরপাতি আসবে-টাসবে।

    —তুমি দেখ না ততক্ষণ! মরতে তো যাচ্ছি না!

    লম্বা পা ফেলে টুকটুকি বাসস্ট্যান্ডের ওপাশে চলে গেল। মা-মরা মেয়ে নিজের জোরে বড় হয়েছে। বাড়টা বড্ড বেশি। ঘাটসুদ্ধু লোক তার কুটুম্ব। মামা খুড়ো কাকা মামী খুড়ি কাকিমা, দাদা বউদি, আরও কত রকম সম্পর্ক মানুষের থাকে।

    বাস সিন্ডিকেটের লক্ষ বাবু ডাকেন—ও টুকটুকি কোথা যাচ্ছিস? টুকটুকি সোজা বলবে—আপনার কনে খুঁজতে দাদামশাই! লক্ষ্মণবাবু দাড়ি চুলকে বলবেন—ওরে, ওরে! তুইই তো আমার কনে। টুকটুকি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলবে—আমার বর যে ঠিক হয়ে আছে দাদামশাই। আহা, আগে বলতে হয়।

    আর ওই চৌবেজি। ওকে দেখলেই খৈনি ডলতে ডলতে—’কেমনে হোবো এ গঙ্গা পার/হামি জানে না সাঁতার।’

    ঘাটোয়ারিজির লোটা হাতে শিমুলতলায় দাঁড়িয়েছিলেন। কানে পৈতে জড়ানো। হাতমাটি করা হয়ে গেছে। মোছা হয়নি। নির্মীয়মাণ ব্রিজ দেখছেন। দেখতে দেখতে ঘুরলেন ডাইনে বাঁশবনের দিকে। আকন্দ ও সাঁইবাবলার ঝাড়ের পিছনে জগন্নাথের মেয়েটা দাঁড়িয়ে আছে। হাতমুখ নেড়ে কথা বলছে কার সঙ্গে। একটু সরলে ঘাটোয়ারিজি অবাক। ওটা ফালতু না? চোখের নজর ইদানীং কমেছে। তাহলেও চিনতে ভুল হল না। হেঁড়ে গলা কাঁপা-কাপা সুরে গেয়ে উঠলেন—’কেমনে হোবো এ গঙ্গা পার….’ টুকটুকি হনহন করে চলে গেল গঙ্গার আঘাটায়। ফালতু একটু দাঁড়িয়ে থাকার পর বাস অফিসের দিকে হাঁটল। চৌবেজি খুব হাসলেন। কতক্ষণ আপনমনে হাসলেন। হাসার পর গম্ভীর হয়ে গেলেন। মন খারাপ হয়ে গেল।

    —টুকটুকি! ও রী টুকটুকী! শুন, শুন! ইধার আ।

    —বলো ঘাটোয়ারিজি। যা বলার ঝটপট বল, আমার শোনার সময় নেই।

    —আ রী বৈঠবি, তব তো বোলবে।

    —হুঁ, বসলুম, বল।

    —হাঁ, রী। এত্তো কী ফুসুর-ফাসুর কোরে বেড়াস ফালতুর সঙ্গে?

    টুকটুকি মুঠো পাকিয়ে চেঁচিয়ে উঠল—মারব! তারপর কান্নার ভান করে—হুুঁ, মাগো! এবং আবার মুঠো তুলে—মারব!

    চৌবেজী নির্লজ্জের মতো ফিসফিস করলেন—সাচ বলছি রী বেটি। বাত তো শুন।

    —শুনব না! চিলচ্যাঁচানি চেঁচাল জগন্নাথের মেয়ে।

    —পাগলী বেটি! বোল বিভা করবি তো বোল হামাকে। হামি লাগিয়ে দেবে! চৌবেজি চাপা স্বরে বলতে থাকলেন। আরী! হামি তো ঘাট ছেড়ে চলেই যাব। তোদের বিভা দেখে যাই। এত্তোকাল ঘাটে থেকে বুঢ়া হোয়ে গেল। হামার বহৎ সুখ হোবে, বেটি! বহৎ ধুমধাড়াক্কা লাগিয়ে দেব।

    টুকটুকি ভেংচি কেটে পালিয়ে গেল। তারপর থেকে তারও মন খারাপ। চৌবেজিকে দেখলে সেখান থেকে কেটে পড়ে। জগন্নাথ তাকে ওপারে শহরে পাঠালে সে আঘাটায় জল ভেঙে চলে যায়। শীত যত যায়, জল তত শুকোয়। বালির চড়ায় মাথা কোটে। ওদিকে ঘাটের সামনে বারোমাস দহ। ফালতুকে বিয়ে করলে ঘাটোয়ারিজির কেন সুখ হবে, টুকটুকি বোঝে না। শীত ফুরিয়ে বসন্ত এল। রানীরঘাটের বনভূমি সাধ্যমতো সাজাল। এবার নিষ্পত্র ঢ্যাঙা শিমুল শ্মশানে দাঁড়িয়ে রইল কিংবদন্তীর সেই রাহুচন্ডাল। ভাগীরথীর বুকে ঘূর্ণি ঘুরে বেড়ায়। ভূতেরা নাইকুন্ডল খোঁজে আপন-আপন। নাইতে গিয়ে টুকটুকি চেঁচায়—গরু খা, গরু খা, গরু খা! সেই সময় একদিন শম্ভু মাঝি থপথপ করে হেঁটে ফালতুর কাছে এল।

    —কেমন আছিস বাপ ফালতু?

    খাতির করে সিগ্রেট দিয়ে ফালতু বলল—ভাল আছি শম্ভুকাকা। তুমি ভাল তো?

    রানীরঘাটের সবচেয়ে বড় আর বুড়ো শিরীষগাছের তলায় ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল শম্ভু মাঝি। —বাপ ফালতু রে!

    —বল কাকা!

    শম্ভু মাঝি হঠাৎ গামছার খুঁটে চোখ মুখে বলল—জোয়ান হয়েছ। বড় হয়েছ। ভাল রোজগারপতি করছ।

    —তা করছি কাকা! ফালতু অকৃতজ্ঞ নয়। রানীরঘাটের এসব লোকই তাকে মানুষ করেছে, সে জানে। সবাইকে শ্রদ্ধাভক্তি করে চলে।

    এবারে বিয়েটিয়ে করে ফেলো বাপ। আর কদিন আছি? ঘাটও তো উঠে যাচ্ছে। তোমার বিয়েটা দেখেই যাই!

    ফালতু হাসল। —আমাকে কে মেয়ে দেবে শম্ভুকাকা?

    বুড়ো ঘাটমাঝি তার গায়ে হাত বুলোতে থাকল। লগিধরা কড়া-পড়া হাত। লোলচর্ম বহু। গোঁফ ছাপিয়ে জল ঝরছে। কী স্নেহে কোন মায়ায় কাঁদে এতদিন বাদে, কে বলতে পারে সে গুহ্য কথা? —যদি ইচ্ছে কর, জগাইকে বলি। লজ্জা করে কী হবে? ঘাটে তো সবাই জেনেছে, তোমাদের বড্ড মনামনি ভাব। বুড়ো ঘাটমাঝি ফ্যাঁচ করে নাকই ঝেড়ে ফেলল, এমন আবেগ এসেছে!

    ফালতু হো হো করে হেসে উঠল।—ধ্যাৎ। আমাকে কেন মেয়ে দেবে? কাকার আবার কথা!

    শম্ভু গম্ভীর হয়ে বলল—দেবে। দিয়ে বর্তে যাবে। আমরা ঘাটসুদ্ধ গিয়ে ধরব। ঘাটোয়ারিজি বলেছেন, সবাই মিলে ফালতুর বিয়ে দেব। খরচ যা লাগে তিন ভাগ ওনার। খুব ধুমধাম হবে বইকি।…..

    সেদিনই একটু রাত গড়ালে চৌবেজির গদীতে সভা বসেছে। পুরনো লোকেরা সবাই এল। জগন্নাথকেও ডাকা হল। সে-বেচারা কিছুই জানে না। দু হাত দু পাশে ছড়িয়ে শকুনের ডানার মতো ঝটপট করতে করতে কুঁজো হয়ে এল। এসেই অবাক। তার খাতিরটা বড্ড বেশি করা হচ্ছে। ধরাধরি করে তাকে উঁচু গদীতে উঠিয়ে দিল লোকেরা। মদন কন্ডাক্টর এখন চুলপাকার দলে। ফালতুর ব্যাপারে সেই বরাবর লিড নিয়েছে। এবারও নিল। চৌবেজির দিকে তাকিয়ে বলল—তাহলে কথাটা উঠুক খাঁটোয়ারিজি! সবাই সায় দিয়ে বলল, হ্যাঁ, হ্যাঁ। চৌবেজি বললে—জরুর!

    মদন শুরু করল। ফালতুর মা সুরিখেপী থেকেই শুরু করল। ফালতুকে মানুষ করার ইতিবৃত্তি, ফালতু চালচলন, ইসমাইল ড্রাইভারের স্নেহ (আহা, এখন সে বেঁচে থাকলে কত খুশি হত, এবং কয়েকটি জিভের চুকচুক শব্দ, মাথা নাড়িয়ে দুঃখ প্রকাশ), খুঁটিনাটি ঘটনা, অশ্বিনী দারোগার আহ্বান (খুব হাসির রোল পড়ে গেল এইতে), ফালতুর দুষ্টুমি—আধঘণ্টারও বেশি। তার সঙ্গে রানীরঘাটেরও নানা ঘটনা জুড়ে দেওয়া হল চারপাশ থেকে। ব্রিজও এল। রানীরঘাটের অনিবার্য মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠল। (দীর্ঘশ্বাস ও নীরবতা) তারপর জগন্নাথের দিদি—যাকে সবাই বলত ময়রামাসি, তার কথা—এ পাপে রানীরঘাট একদিন ভেসে যাবে! তাই যাচ্ছে। আগের দিনের মানুষেরা যা বলত, ফলে যেত!

    এই সময় চৌবেজি মানুষের লোভকেই দায়ী করলেন। তুলসীদাস আওড়ে বললেন—’সেবক সুখ চহ মান ভিখারী/বাসনী ধন সুভ গতি বিভিচারী/লোভী জুন চহ চার গুমানী/নভ দুহি দুধ চহত এ প্রাণী।’ মানুষ আকাশ দুহে দুধ চায়! হায়রে লোভ!

    জগন্নাথ খুব মাথা নাড়ল। মদন কন্ডাক্টর বলল—তো কথা হচ্ছে, ময়রামাসির কাছে শোনা কথা, (স্রেফ মিথ্যে কিন্তু) সুরিখেপী মাসির আগের চেনাজানা ছিল। মাসির স্বজাতিরই মেয়ে। স্বামীর অত্যাচারে….

    এ পর্যন্ত শুনেই জগন্নাথ জোরে মাথা নেড়ে বলল—না! না!

    শম্ভু মাঝি একটু তফাতে মাটিতে বসে ছিল। বলল—আহা, বলতেই দাও জগাইদা।

    মদন একটু হেসে বলল—মাসি আমাকে বলেছিল। সত্যমিথ্যে সেই জানত। আমি যা শুনেছি বলছি। আর স্বজাতি না হলে অমন সেবাযত্ন করত? বলুন সবাই! না কি ঘাটোয়ারিজি? বলুন।

    সবাই শোরগোল তুলে বলল—ঠিক ঠিক। বেজাত হলে অমন করবে কেন?

    জগন্নাথ গতিক বুঝে গুম হয়ে বলল—হলেও হতে পারে তাহলে।

    মদন বলল—আমরা রানীরঘাটওয়ালারা ছেলেটাকে মানুষ করেছি। এখন লায়েক হয়েছে। ভাল কামাচ্ছে। লাইনের নামকরা ড্রাইভার। না হয় লেখাপড়াটাই ভুল করে আমরা শেখাইনি। তাতে কী? যে বিদ্যে ধরেছে, তাই বা মন্দ কী! বইপড়াও বিদ্যা, গাড়ি চালানোও বিদ্যা।

    সবাই সায় দিয়ে বললে—একশোবার একশোবার।

    মদন বলল—এখন তাহলে ওর একটা বিয়ে দেওয়া দরকার। ওর মা-বাবা নেই তো কী হয়েছে। আমারই ওর মা-বাবা। আমরাই ওর বিয়ে দেব। চৌবেজি আপনাকে তিন ভাগ খরচ দিতে হবে। বাকি এক ভাগ আমরা দেব। কী বলো জগাইদা?

    আগে থেকে সাজানো ব্যাপার। জগন্নাথ না জেনে বলল—নিশ্চয় দেব।

    এবার মদন আচমকা পর্দা তুলল।—ফালতুর স্বজাতের কনে রানীরঘাটেই আছে—উপযুক্ত কনে। মদন হেসে বলল। না কী চৌবেজি?

    —জরুর।

    মদন গলা ঝেড়ে বলল—আমরা সবাই জানি। সকালসন্ধে দেখছি ওদের দুটিতে খুব ভাব-ভালোবাসা। আমরা এখন বাকিটুকু ছেড়ে দিলুম কনের বাপের হাতে।….বলেই সে চতুর হেসে জগন্নাথের কাঁধে ডান হাতটা রেখে সহাস্যে বলে উঠল—বলো জগাইদা!

    আর যায় কোথায়? কুঁজো বুড়ো নড়বড় করে প্রায় ঝাঁপ দিলে নিচে। তোবড়ানো মুখখানা যতটা পারে ভয়ঙ্কর করে চেরা গলায় চেঁচিয়ে উঠল—ন্না! আবার ডানা ঝটপট করে গদীর দিকে ঘুরে গর্জন করল। —না! কক্ষনো না!

    শোরগোল শুরু হল। সবাই ওকে বোঝাতে চায়। জগন্নাথের চারদিকে ঘিরে দাঁড়ায়। কাকুতিমিনতি কতরকম। সাধ্যসাধনা। জগন্নাথ দু হাতে মুখ ঢেকে হাউমাউ করে কেঁদে মাথাটা দুপাশে জোর দোলাতে বলল—না না না! না না না! না না না….

    বুড়ো মানুষ অমন করে কাঁদলে বড্ড খারাপ লাগে। যেন জবাই করা হচ্ছে ওকে। অদ্ভুত লোক তো! দেখব কী দিয়ে বর জোটে মেয়ের।…..

    তখন ফরাক্কার ফিডার ক্যানেল খোঁড়া হয়নি। বসন্তের শুরুতেই ভাগীরথীর জল শুকিয়ে যেত। জ্যোৎস্নারাতে বালির চড়ায় বসে যুবক-যুবতীদের চমৎকার প্রেম জমত। ওপারে শহরে বিদ্যুৎ, এপারে রানীরঘাটে বিদ্যুৎ—ভাগীরথীর গর্ভে সে আলো পৌঁছয় না। জ্যোৎস্নাটা ভালই খেলে। রানীরঘাটের নিচে অবশ্যি কিছুটা দহ। দক্ষিণে শ্মশানের ওদিকটায় প্রায় সবই শুকনো, একখানে সেই মাথা কুটতে থাকা জল ঝিলমিল করে বয়ে যায়। ফুরফুরে বাতাসে গা শিরশির করে। দুটিতে বসে অনুচ্চ স্বরে কথা বলছিল।

    —ঘাটে কিসের মিটিঙ ডেকেছে। গেলে না যে?

    —আমাকে ডাকেইনি।

    —ডাকবে আবার কী? তুমি ঘাটের লোক নও?

    —নাঃ। আমি ফালতু।

    —শোন, তুমি এবারে একটা নাম নাও। ভাল নাম।

    —তুমিই দাও না একটা নাম।

    —নেবে?

    —হুঁউ।

    —আগে জানলে ওই গুণতিবাবুদের কাছে….আচ্ছা, ওরা আর লোক গুণতে আসবে না?

    —কে জানে? কী নাম দিচ্ছ, দাও আগে।

    —দিচ্ছি। নতুন বাসমোটর কবে আসবে তোমার?

    —ব্রিজ খুলুক। কেন?

    —প্রথম—একেবারে প্রথম পেসেঞ্জার আমি। ভাড়া দেব না কিন্তু। চাপাবে?

    —হুঁউ।

    —তখন থাকবে কোথায়?

    —ওপারে নতুন আপিস হচ্ছে না? সেখানে। আমার থাকার ঘরও হচ্ছে।

    কিছুক্ষণ চুপচাপ। একটু পরে আবার—বাবা ওখানে জায়গাই পেল না। লক্ষণ দাদামশাইকে বলতে বলেছিল বাবা। বলেছি তো। সে কথা নেই, শুধু দেখলেই ফক্কুরি করে। তুমি বলবে একবার?

    —বড় মুখ করে বললে যখন বলব।

    আবার কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর—গুণতিবাবুদের কাছে তুমি বাবার নাম বললে না। আমার খুব খারাপ লাগছিল, জান? যা হোক একটা বলতেই পারতে! কী ভাবল ওরা?

    —কী ভাববে? বয়ে গেল।

    —যাঃ বাবা না থাকলে চলে? বাবা না থাকলে….

    —কী?

    —আমার লজ্জা করছে। তুমি হয়ত রেগে কাঁই হয়ে যাবে।

    —না, না। বলই না!

    —থাক। তোমার বাবার কথা জানতে ইচ্ছে করে না?

    জোরে মাথা দোলাল এবং জ্যোৎস্নামাখা বালিতে আঁচড় কাটতে থাকল প্রেমিক যুবক। গায়ে ছায়া ফেলে উড়ে গেল একঝাঁক রাতের পাখি। শ্মশানের বাঁশবনে শেয়াল ডেকে উঠল। তার একটু পরে কী একটা শব্দ হল কোথায়। তারপর প্রেমিকা তরুণী উঠে দাঁড়াল ঝটপট। অস্ফুট স্বরে বলল—কে যেন আসছে! আমি যাচ্ছি! এদিকেই আসছে যেন। যাচ্ছি!

    ডানা থাকলে উড়ে যেত এভাবে চলে গেল, যেন পা বালি ছোঁয় না। নিঃশব্দে। ফালতু উঠল একটু পরে। সিগারেট ধরাল। আলো দেখেই আওয়াজ এল—কে ওখানে?

    ফালতু লম্বা পায়ে এগিয়ে গিয়ে বলল—জগাইকাকা নাকি? আমি ফালতু।

    —টুকটুকি কই? হাঁড়ির ভেতর থেকে জগন্নাথ কথা বলল যেন।

    একটু দ্বিধা হল। তারপর সেটুকু ঝেড়ে ফেলে বলল কী হয়েছে জগাই কাকা?

    জগন্নাথ একটা অদ্ভুত ব্যবহার করল। সে খপ করে ফালতুর হাত দুটো ধরে ফেলল। তারপর মরণকালের ঘড়ঘড় শ্বাসকষ্টের আওয়াজ তুলে বলে উঠল—ফালতু, বাবা! তোর হাত দুটো ধরে বলছি রে, নিশুতি কাল। মা গঙ্গার বুকে দাঁড়িয়ে বলছি। ঘাটওলারা ষড়যন্ত্র করেছে, জোর করে তোর সঙ্গে আমার টুকটুকির বিয়ে দেবে। ফালতু রে! আবার বলছি, মা গঙ্গার বুকে দাঁড়িয়ে আছি—ওরে, তোরা ভাইবোন রে! আমি মহা পাপী রে! টুকটুকি আর তুই ভাইবোন—তোদের বিয়ে হয় না রে…..

    এক ঝটকায় ফালতু হাত ছাড়িয়ে নিল।

    —আমি বলছি বাবা। নিচে মা গঙ্গা, আমি বলছি আমার পাপের কথা।

    ফালতু হুঙ্কার দিতে গিয়ে সামলে নিল। সে জানে, সে দুঃখী। লোকের করুণায় বেঁচেছিল। জোর দেখাতে গিয়ে হঠাৎ মনে পড়ে যায়। অমনি চুপসে যায়। আস্তে বলল—হতে পারে তুমি লম্পট। হতে পারে বইকি। আমার মা আটচালায় থাকত আর তোমরা রানীরঘাটওলারা….থাক সে কথা। এখন বয়েস হয়েছে তো। বুঝতে পারি সব। কেন আমাকে মানুষ করা, সবই বুঝি।

    জগন্নাথ ফ্যাঁচ করে নাক ঝেড়ে পাছায় হাত মোছে। ক্র্যাঁও ক্র্যাঁও করে কুডাক ডাকতে ডাকতে একটা পেঁচা উড়ে যায় শ্মশানের পাশে শিমুল গাছটার দিকে। কোত্থেকে একটা সাদা কুকুর এসে একটু দাঁড়িয়ে একবার কেঁউ করে ডেকেই চুপ করে যায়। লেজ নাড়ে। জ্যোৎস্নায় নিজের ছায়া শোঁকে একবার।

    ফালতু আবার বলতে থাকে—আজ পারুলিয়ার নতুন রুটে গাড়ি খারাপ হয়েছিল। মিস্ত্রি ডাকতে পাঠালুম। মাথায় টুপিপরা, সাদা দাড়ি মুখে, এক মুসলমান হাজিসায়েব এল। চিনলেও চিনবে। ইব্রাহিম হাজি নাম বলল।

    ভাঙা গলায় জগন্নাথ বলে—হ্যাঁ। ডাকাত ছিল। পরে তীর্থ করে হাজি হয়েছে। খুব চিনি বাবা, কে না চেনে! খুনের মামলায় জেল হয়েছিল যাবজ্জীবন। তাও জানি।

    —কথায়-কথায় বলল, ঘাটে এক পাগলী থাকত—সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে? বললুম, মারা গেছে। আমি তারই ছেলে। শুনেই লোকটা আমাকে জড়িয়ে ধরল। তুমি তারই ছেলে বাবা? আমি তো অবাক। এমন কেন করছে লোকটা? তারপর কিছুতেই আসতে দেবে না। প্যাসেঞ্জার আছে গাড়ি ভর্তি। শোনে না। মিষ্টির দোকানে নিয়ে গেল। বলে—আবার ব্যাটাকে পেট ভরে রসগোল্লা খাইয়ে দাও। আমার কেমন যেন লাগল। আমি খেতে পারলুম না। সে আমাকে ছাড়বে না। জড়িয়ে ধরে টানাটানি। বলে, আশ্বিন মাসে ঝড়জলের রাতে…..

    এ পর্যন্ত শুনেই জগন্নাথ বলল—হ্যাঁ, হ্যাঁ। রাতটুকু ওপারে মোক্তারবাবুর বাড়িতে লুকিয়ে থেকে পরদিন আদালতে হাজির হত। অত রাতে তখন খেয়া বন্ধ। শম্ভু গাঁজা খেয়ে মড়া। এদিকে ঝড়জল। ইব্রাহিম আমাকে জায়গা চাইল। খুনী ফেরারকে জেনেশুনে জায়গা দিতে পারলুম না। বললুম, আটচালায় গিয়ে থাক বরং।

    ফালতু সিগারেট ছুঁড়ে ফেলল জোরে। সাদা কুকুরটা দৌড়ে গিয়ে শুঁকল এবং ছ্যাঁকা খেয়ে ফোৎ ফোৎ করে নাক ঝাড়তে থাকল। —এতকাল পরে ওর খেয়াল হল সুরিখেপীর কথা। ফালতু দম-আটকানো গলায় বলে উঠল।—ওই ছাতুখোর ঘাটোয়ারি! ওই মাতাল মদন কন্ডাক্টার! আবার দেখি জগাইকাকা তুমি! তুমি আরও এককাঠি সরেস। কী না টুকটুকি আর আমি ভাইবোন। এবার ফালতু গর্জন কিংবা হাহাকার করে উঠল। —কী বাবা দেখাচ্ছ আমাকে সবাই মিলে? রানীরঘাটের মড়াখেকো শেয়ালকুকুরগুলো ফালতুকে বাবা দেখাচ্ছে। আমার বাবার দরকার নেই। হুঁ, বাবা দেখাচ্ছে শালারা! আরে, আমার হাতে যে স্টিয়ারিং ধরে দিয়েছে, সেই আমার বাবা।……

    ময়রা মাসি বলেছিল—এ মহাপাপ সইবে না। রানীরঘাট ভেসে যাবে। শেষ অবধি তাই ফলে গেছে। এখন ভাগীরথীর ওপর বিশাল ব্রিজ হয়েছে। ফরাক্কার ফিডার খাল থেকে জল আসছে। বারো মাস নদী কূলে-কূলে ভরা। সেই কাকের চোখের মতো স্বচ্ছ কাজল জল আর নেই। শ্যাওলার গা ঘষে বেড়ানো রূপসী মৌরালার ঝাঁকও আর দেখা যায় না। রোদে-জ্যোৎস্নায় বুকের তলার রূপোলি বালুকণাও আর অলীক মুক্তোর ঝিলিক দেয় না। চৌবেজির গদী, আটচালা, জগন্নাথের অন্নপূর্ণা টি স্টল জুড়ে আকন্দ সাঁইবাবলা কালকাসুন্দে আর বনতুলসীর জঙ্গল। সুরিখেপীর ‘থানে’, বাস স্ট্যান্ডের চত্বরে, হরেকরঙা গাঁদা ফুলের ঝাড়। এক সাধু এসে আশ্রম খুলেছেন। পিচের রাস্তায় কবে কারা ধানচাষ করেই ফেলবে। বিদ্যুতের শালকাঠের খুঁটি যে যা পেরেছে, উপড়ে নিয়ে গেছে। শুধু ঘাট আর শ্মশানের মাঝামাঝি জায়গায় সেই রাহুচণ্ডাল শিমুলটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে। এখনও মাঘ মাসে সে মাথায় লাল পট্টি জড়াতে ভুল করে না।……

    ওই একটু দূরে ষাটসত্তর ফুট উঁচু পুলের ওপর দিয়ে ঝকঝকে এক রূপোলি বাস যাচ্ছে পুরন্দরপুর মনসুরগঞ্জো বিনোটি মহিমাপুর। ড্রাইভারটি মধ্যবয়সী। সারা পথ দুধারে যত গ্রাম আছে, যত মানুষ আছে সবার কাছে তার মোটরগাড়ি সময় জানিয়ে দেয়। খেতের মুনিশ বলে ওঠে, ফালতুর গাড়ি গেল। নাস্তা এল কই? স্ল্যাবে ধানশুকোতে দেওয়া চাষীবউ, ঘুঁটেকুড়ুনী মেয়েটা, খুঁটি ও দুরমুষ হাতে গাইগরু বাঁধতে আসা বুড়ি—কার সঙ্গে না কথা বলে যাবে সে! গাড়ির গতি কমিয়ে বলে যাবে—বোনটি ভাল আছ তো? ও বুড়ীমা, কাল দেখিনি কেন? ও বউঠান, মাছ রেখ তো চাট্টিখানি—ফেরার সময় নিয়ে যাব। ওরা বলবে—ফালতুদার খবর ভাল তো? বাবা ফালতু, দুটো মাথাধরার বড়ি এনে দিস বাবা, আমার সোনার বাবা! বিনোটির মাস্টারমশাই স্কুল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে বলবেন—ফালতু! প্রেসক্রিপশানটা নিয়ে যা বাবা! এই নে টাকা। বেশি লাগলে দিস, দোব’খন।

    ফালতু এখনও ফালতু নামেই থেকে গেছে। যে তাকে নতুন নাম দিতে চেয়েছিল, রানীরঘাটের জগন্নাথের মেয়েটা, তার মত নির্বোধ আর কেই বা ছিল! বাপ যেই না বলা, তোরা ভাইবোন—হতভাগী আপন দাদার সঙ্গে জ্যোৎস্না রাতে মা গঙ্গার বুকে শুয়েছে, এই তীব্র পাপবোধে মাথার ঠিক রাখতে পারেনি। বিষাক্ত করবী ফল, কেউ বলে ধুতরো, শিলে বেটে গিলে ফেলেছিল। বাপ কোন মতলবে কী বলেছে বুঝবি তো তলিয়ে!

    এই সব কথা ভাবতে ভাবতে ফালতুর রাগ হয়। স্পিড বাড়ায়। পৃথিবীকে চাকার তলায় মাড়িয়ে শোধ নেয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Next Article এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }