Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ : সাহিত্যের সেরা গল্প

    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ এক পাতা গল্প215 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আমি ও বিপাশা – সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ

    আমি ও বিপাশা

    মেয়েটির দিকে অবাক হয়ে চেয়েছিলাম কতক্ষণ। খুব চেনা লাগছিল, অথচ সাহস করে জিগ্যেস করতে পারিনি। তবে অবাক হবার কারণ, নির্জন নদীর ধারে সভ্যতা খুব কদাচিৎ দেখা যায়—যদিও খানিকদূরে একটা হাইওয়ে, বিশাল ব্রিজ আর উঁচু উঁচু বিদ্যুতবাহী ফ্রেম রয়েছে।

    শরতে এই নদী এখন বেগবতী। কাশ ফুল ফোটা দুই পাড়ও ভারি চঞ্চল। বাঁধের জামগাছটার ছায়ায় দাঁড়িয়ে মেয়েটির মুখোমুখি হতেই চিনলুম।—বিয়াস নাকি? কখন এলে?

    সে প্রথমটা একটু হকচকিয়ে পড়েছিল। পরমুহূর্তে চিনতে পেরে হেসে উঠল।—পারুদা! আমরা কাল এসেছি। তোমার শাটলেজও এসেছেন। দেখা হয়নি?

    —না তো? কেমন আছ সব? বাবা-মা ভাল আছেন? সামাজিক প্রাণীর পক্ষে এসব বলার রীতি আছে বলেই অনর্গল কিছুক্ষণ বলে গেলুম!

    সে ভুরু নাচিয়ে বলল—কিন্তু বিয়াস নামটা এখনও আপনার মনে আছে দেখছি।

    —আছে। কত কী মনে আছে।

    —যেমন?

    —শুনবে? বলে গলার স্বর একটু চাপা করলুম। এক খরার দুপুরে ওই জামবনে তোমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলুম। তারপর কী ভীষণ কাণ্ড হল। তুমি মাছের মতো ছটফট করছিলে। অথচ সে যেন সুখ তোমার।

    তার মুখ রাঙা হয়ে গেল শুনতে শুনতে। মুখ ঘুরিয়ে শুধু বলল—যাঃ!

    —লজ্জা পাবার কী আছে? সে বিয়াস তো আর তুমি এখন নও। রীতিমতো বিপাশা চৌধুরী!

    বিপাশা হঠাৎ যেন সামলে নিল। তার সভ্যতাময় সপ্রতিভ চেহারায় হাসতে হাসতে বলল—আর দাদাও এখন শতদ্রু চাউড্রি হয়ে গেছেন জানেন তো?

    —বল কী!

    হবে না আবার? ওড়িশার একটা প্রজেক্টের বড়কর্তা হয়েছেন।

    —জানতুম শতদ্রু উন্নতি করবে।

    একটা মেটুলি ঝোপের পাতা ছিঁড়ে বিপাশা বলল—উন্নতি না হাতি! তোমার মনে নেই পারুদা, দাদা বলতেন—এয়ারফোর্সের পাইলট হবো? আকাশে আকাশে ঘুরব। আর নিচে নামবই না। মাটির ওপর গুলিগোলা বোমা ছুঁড়ে পৃথিবীর বারোটা বাজাব।

    —হ্যাঁ, শতদ্রুদা তাই বলত বটে। তখন যেন তোমার বাবার সঙ্গে তোমার জ্যাঠার একটা মামলা চলছিল।

    বিপাশা শান্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল—হঠাৎ এখানে কোত্থেকে হাজির হলেন? জানেন—আপনাদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েছিলুম এসেই। শুনলাম…

    —শুনলে পারু মানুষ খুন করে ফেরারী হয়েছে?

    বিপাশা চমকে উঠল। —যাঃ তা কেন বলবে? বলল—নেই। ব্যস।

    —বলল নেই—আর হঠাৎ এই সকালে আমাকে নদীর ধারে দেখতে পেলে। এতে তোমার কিছু অবাক লাগছে না?

    বিপাশা সরল মুখে বলল—না তো!

    —আমার চেহারায় কিছু টের পাচ্ছ না?

    সে আমাকে কয়েক মুহূর্তে খুঁটিয়ে দেখে নিয়ে বলল—নাঃ!

    —আমার ময়লা শার্ট, ভিজে ধুতি, খালি পা, লাল রুক্ষ চোখ দেখেও কিছু আঁচ করতে পারছ না?

    বিপাশা এবার সন্দিগ্ধ স্বরে বলল—কিছু বুঝতে পারছি না পারুদা।

    —বিপাশা, তুমি কি গ্রাম থেকে হেঁটে এতটা পথ এসেছ?

    —না গাড়িতে। ওই যে ব্রিজে আমার গাড়ি।

    —তুমি নিজে ড্রাইভ করো?

    —উঁহু।

    —বিপাশা, তোমার পরণের ওটাকে কী বলে যেন। বেলবটস?

    বিপাশা একটু অপ্রতিভ হল। —হঠাৎ আমার পোশাক নিয়ে পড়লেন কেন? নিজের কথা বলুন।

    —বিপাশা, তুমি সভ্যতার অন্তর্গত!

    —ইস! আপনি যেন নন!

    —আচ্ছা বিপাশা, তবু কেন তোমার এখানে আসতে ইচ্ছে করল? এখানে তো শুধু কাশফুল, নদীর ঘোলা জল, পাঁক, জঙ্গল, পোকামাকড়। …বিপাশা! সরে দাঁড়াও। ঝোপে একটা লাউডগা সাপ!

    বিপাশা চমকে সরে এল। —কই? কোথায়?

    ওকে দেখিয়ে দিলুম। তারপর বললুম—ভীষণ বন্যা হল তো! সব পোকামাকড় এসে বাঁধের ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নিয়েছিল। এখনও ফিরে যায়নি যে যার এলাকায়। এমন কি শামুকগুলো এখানেই ডিম পেড়েছিল। আর…

    —আপনি ওভাবে কথা বলবেন না পারুদা! কেমন ভয় করে।

    —তবু তুমি এখানে এসেছ!

    —বা রে! ছেলেবেলার চেনা সব জায়গা। মনে পড়ছিল, তাই এলুম। …ও কী! ওদিকে কোথায় যাচ্ছেন?

    —চুপ। লুকোচ্ছি। ব্রিজে পুলিশ যাচ্ছে।

    বিপাশা ব্রিজটা দেখে নিয়ে বলল—ওরা সাইকেলে কোথাও যাচ্ছে। কিন্তু ওদের দেখে লুকোচ্ছেন কেন?

    —বললুম না, ফেরারী আসামী, মানুষ খুন করেছি।

    —তুমি…আপনি কি নকশাল, পারুদা?

    —উঁহু। আমি কোন দলের মানুষ নই। পৃথিবীকে বদলানো দুঃসাধ্য।

    সকৌতুকে বিপাশা বলল—ভাল। কাকে খুন করেছেন?

    —শোননি? গ্রামে কেউ বলেনি?

    —নাঃ। কেউ বলেনি। খুন-টুন করলে নিশ্চয় বলত।

    —বিপাশা!

    —উঁ?

    —তুমি চলে যাও এখান থেকে। তোমাকে দেখে আমার ভীষণ লোভ হচ্ছে।

    বিপাশা প্রায় হইচই করে বলল—এই! আপনি এখনও বড্ড অসভ্যতা করতে পারেন, সত্যি। যা ছিলেন, তাই একেবারে। যাঃ!

    —বিপাশা, তুমি এত সুন্দর হয়ে উঠেছ!

    —মেরে ফেলব পারুদা! একেবারে খুন করে ফেলব কিন্তু। বাজে কথা বলবেন না।

    এগিয়ে গিয়ে ওর একটা হাত ধরলুম।—বিপাশা, চলো না ঐ জাম বনটায় গিয়ে কথা বলি। এখানে দাঁড়ানো নিরাপদ নয়। চলো না!

    বিপাশা অনিচ্ছাসত্বেও পা বাড়াল। যেতে যেতে ব্রিজে নিজের গাড়ীটা একবার দেখে নিল। টের পাচ্ছিলুম যে ও খুব সতর্কভাবে হাঁটছে। ইচ্ছা-অনিচ্ছার দ্বন্দ্বে চঞ্চল হয়েছে। তবু আমাকে এড়াতে পারছে না। কারণ, আমি ওর ছেলেবেলার এক ভয়ঙ্কর দিন। অন্তত বিগত সময়ের তের বছর বয়সের মেয়ের জীবনের একটি অমোঘ সত্য। আর ও যা অনুভূতিপ্রবণ মেয়ে! নিজের রক্তকে যে একবার বুঝেছে, তার মুক্তি নেই।

    বাঁধটা নদীর পাশাপাশি ঘুরে জামবনে ঢুকেছে। এই জঙ্গলটা সিকি মাইল একটানা চলেছে। এক সময় দুপাশে বিশাল খড়ের জঙ্গল ছিল। এখন আবাদ হয়েছে। সবুজ ধানের মাঠ। অবশ্য সদ্য বন্যার গাঢ় ঘোলাটে জল নেমে গিয়ে সবুজ রঙটা হলদে দেখাচ্ছে। ভাগ্যিস শিগগির বন্যার জল নেমে গেল। তাই মাঠটার বিশেষ ক্ষতি হয়নি। কয়েকটি দিনের রোদেই ধান গাছগুলো আবার সামলে নিয়ে মাথা তুলেছে। কোথাও কোথাও একটুকরো পোড়ো জমির ওপর বাবলাবন। সেখানে দূরে, গয়লারা একদঙ্গল গরু মোষ নিয়ে গেছে। বাবলাফল পেড়ে খাওয়াচ্ছে প্রাণীগুলোকে। কোথাও কোন ধানের ক্ষেতে একটা চাষী হাঁটু দুমড়ে আগাছা ওপড়াচ্ছে। দূরে গাছপালার পায়ে ধোঁওয়াটে ভাব—কুয়াশার! শিশির শুকিয়ে যাবার পর ঘাসফড়িং লালপোকা নীলপোকারা দলে দলে বেরিয়ে পড়েছে। মাকড়সার জালগুলো এখন শুকনো। কোথাও সাপ দেখতে পেয়ে শালিক আর ফিঙ্গে পাখির ঝাঁক তুমুল চেঁচামেচি করছে। জামবনে ঢোকার পর ঘন ছায়া এসে আমাদের ঢাকল এবং আমরা দাঁড়িয়ে গেলুম।

    বিপাশা সব দেখতে দেখতে বলল—এখানে কোথাও একটা বটগাছ ছিল যেন?

    —সেটা কবে উপড়ে গিয়েছিল। তোমার জ্যাঠামশাই তার কাঠ বেচে অনেক টাকা পেয়েছিলেন! অবশ্য তোমার বাবার হিস্যেও ছিল।

    বিপাশা হাসল।—দায় পড়েছে বাবার! সম্পত্তির লোভ থাকলে গ্রাম ছেড়ে যেতেনই না।

    —তা ঠিক। তবে তুমি তখন ছোট ছিলে, জানো না। তোমার জ্যাঠার অত্যাচারেই চলে যান কলকাতা। তোমার মামাই প্ররোচিত করেন, জানতুম। মামা বেঁচে আছেন তো?

    —ভীষণ বেঁচে আছেন। এখন তো পাড়ার কাউন্সিলার। রাজনীতির পাণ্ডা। নিউজ পেপারে ওঁর অনেক কীর্তির কথা পেতে পারেন—এখনও।

    —খবরের কাগজ কতদিন পড়া হয় না। বনে জঙ্গলে লুকিয়ে বেড়াচ্ছি।

    —যাঃ! ফের বাজে কথা।

    —সত্যি বিপাশা, আমি খুনী আসামী।

    —মেরে ফেলব পারুদা। আপনি করবে মানুষ খুন? ইস! …আচ্ছা পারুদা ফ্লাডের জল এই উঁচু জায়গাটা নিশ্চয় ডোবাতে পারে না?

    —না। কেন?

    জানেন? আমার হঠাৎ হঠাৎ ভারি ইচ্ছে করত—নদীর ধারে একটা বাংলো মতো বাড়ি থাকলে কী ভালো লাগত! অবশ্যি, ঘাটশীলা আর নেতারহাটে বাবা দুটো কটেজ কিনেছেন।

    আমরা মাঝে মাঝে সেখানে গিয়ে থাকি। পাহাড়, পাহাড়, আর পাহাড়! অপূর্ব লাগে! তুমি গেছ কখনও নেতারহাট?

    —না।

    —এই! আবার তুমি এমন করে তাকাচ্ছ, পারুদা!

    —আমাকে ‘তুমি’ বলছ, বিপাশা! সেই ছেলেবেলার মতো!

    সে জিভ কাটল। —সরি! স্লিপ অফ টাং!

    —তোমার অবচেতনা থেকে তের বছরের বিপাশা উঠে আসতে চেয়েছে। তুমি তাকে বাধা দিও না।

    —কই দিচ্ছি?…বিপাশা সোৎসাহে বলে উঠল।—তাই তো এবার পুজোয় বাবার পিছনে লেগে লেগে গাঁয়ে নিয়ে এলুম। জানো, সারারাত ঘুমোইনি। শুধু ভেবেছি, কখন সকাল হবে—কখন নদীর ধারে যাবো!

    —আশ্চর্য! তোমাকে সভ্যতা এতটুকু বদলাতে পারে নি!

    —না, তা বললে ভুল হবে। পেরেছে বইকি। প্রায় সবটাই পেরেছে। এ একটা জাস্ট কৌতূহল বলতে পারেন। প্রিমিটিভ ব্যাপারগুলোর প্রতি কৌতূহল। সভ্যতা মাঝে মাঝে পিছু ফিরে তাকায়।

    ওকে খুব সিরিয়াস মনে হল। বললুম—হুঁ। বলে যাও।

    —কৌতূহল কী? শুধু স্মৃতির টানে একবার হাত বুলিয়ে দেখতে আসা —কতটা কী বদলেছে। তার মানে—কতটা এগোতে পেরেছি এবং ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি।

    —কোথায় দাঁড়িয়ে আছ, বিপাশা?

    —কে জানে। কিছু বুঝতে পারছি না।

    —বিপাশা, তোমাকে আমি ওই গাছটার তলায় এক খরার দুপুরে….

    এবার যেন লজ্জায় রাঙা হল না। তবু বাধা দিল।—আমি ভাবিই নি যে আপনি ট্রেচারি করবেন। তা না হলে কি একলা আসতুম? ইস! কি ভয় না পেয়েছিলুম!

    —আর কিছু যন্ত্রণাও।

    সে মুখ ঘুরিয়ে বলল—হ্যাঁ। প্রথম কুমারীত্বের স্থলন। খুব কেঁদেছিলুম।

    —আনলাকি তেরো! নাকি লাকি থারটিন!

    —আপনি কী সাংঘাতিক ছেলে না ছিলেন! ভাগ্যিস, পালিয়ে গিয়েছিলুম।

    —আবার আপনি বলছ?

    —এ্যাঁ? সরি।…..জানেন—সরি, জানো পারুদা, যার হাতে কুমারীত্ব যায়—তামে মেয়েরা সারাজীবন মনে রাখে? না—সে ভাবে নয়, ইন দা সেন্স, যন্ত্রণায়—কতকটা গোপন পাপ কিংবা অসুখের ক্ষতচিহ্ন যেমন।

    —তোমার সাথে পাপ করেছি সেই তো আমার পুণ্য!

    —কী বললেন, কী বললেন?

    —তোমার সাথে পাপ করেছি, সেই তো আমার পুণ্য!

    —বাঃ! কার লাইনটা?

    —নাম বললে তুমি চিনবে কি? তুমি তো হ্যারাল্ড রবিন্স পড়ো।

    —মোটেও না। আমি বাংলা বই পড়ি। পারুদা, তুমি কবিতা লেখনা আর?

    —না।…. বিপাশা, আমার ভীষণ লোভ জাগছে।

    অন্যমনস্ক ভাবে সে বলল—কিসের?

    —তোমাকে এখানে আবার একলা পেয়ে—সাতবছর পরে।

    সে হঠাৎ জ্বলে উঠল। মুখ ঘুরিয়ে তীব্র দৃষ্টে তাকাল। বলল—তোমার লজ্জা করবে না? এখন তো তুমি বয়স্ক মানুষ! আমিও। সেন্স এবং রেশপনশিবিলিটি দুজনেরই প্রচণ্ড থাকা উচিত।

    —তোমার কাছে আমার লজ্জা নেই। আর দায়িত্বজ্ঞান! আমি নির্বিকার—প্রকৃতির মধ্যে আছি, তাই।

    মুখ ঘুরিয়ে নিল সে অন্যদিকে। তার নাসারন্ধ্র কাঁপছিল। ঠোঁটও। দীর্ঘ তিন মিনিট সে চুপ করে থাকল। আমিও, চুপচাপ তাকে লক্ষ্য করলুম—। তারপর বললুম—শুনেছি, মেয়েরা যাকে ভালোবাসে না, তাদের শরীর দিতে পারে না। ভাবে, শরীরই তাদের সব। পুরুষেরা তা কোনদিন ভাবে নি। আজও ভাবে না। অবশ্য মেয়েদের সন্তান ধারণ করতে হয়—সেটাই যা রিস্ক। প্রকৃতির রক্ষাকবচ। তবে আজকাল—প্রকৃতির নিয়মকে ফাঁকি দিতে মানুষ পারে। সভ্যতা মানেই তো তাই।

    —তুমি আমার সব সুখ নষ্ট করে দিলে, পারুদা।

    —কাঁদছ কেন? এতে কান্নার কি আছে?

    —কেন? সেক্স ছাড়া কি আর কিছু পেলে না এখানে?

    —তুমি কান্না থামাও, বিপাশা! আমার অসহ্য লাগছে!

    —তুমি আজও তেমনি জানোয়ার! ব্রুট! কাওয়ার্ড! যাও, আমি তোমার কাছে থাকব না।

    সে পা বাড়াল। আমি তার সামনে দাঁড়ালুম।—যেও না বিপাশা।

    —গায়ের জোরে আজ আমাকে পাবে না! সরে দাঁড়াও।

    —না।

    —আমি চেঁচাব। লোক ডাকব।

    —তোমার মুখ চেপে ধরব।

    —তুমি এত অভদ্র আর নীচ হয়ে গেছ? ছিঃ!

    —বিপাশা! আমি নিজেকে থামাতে পারছি না। কারণ, তুমি আমার ছিলে একদিন—আজ আবার আমার হাতেই এসেছ।

    —না, না। আপনি সরুন।

    ওর দু কাঁধে হাত রাখলুম। ছাড়বার চেষ্টা করল। পারল না। দৃষ্টি মাটির দিকে রেখে হাঁফাতে হাঁফাতে বলল—এখনও বলছি, ছেড়ে দিন। বাঁদরামি করবেন না।

    তারপর আচমকা আমার গালে চড় মারল। সঙ্গে সঙ্গে মনে হল প্রকৃতিতে একটা তুমুল হইচই পড়ে গেলে। লক্ষ লক্ষ পাখি, প্রজাপতি, ঘাসফড়িং, লাল-পোকা চঞ্চল হল। নীচে নদীর পাড় ভাঙল প্রচণ্ড শব্দে। একটা হাওয়া এসে পড়ল শনশন করে। দূরে মোষের ডাক শুনতে পেলাম—আঁ-ক, আঁক? আমার আদিম অবচেতন শ্রুতির তারে আরও হাজার হাজার শব্দপুঞ্জ প্রতিধবনিত হল। সারা শরীরে চোখ ফুটল। আমার দিকে তাকিয়ে অনেক কিছু টের পেতে পেতে বিপাশা অব্যক্ত বিস্ময়ে বোবা হয়ে গেল। তারও ঠোঁট কাঁপতে থাকল। আমাকে সে দেখেছিল : একটা ঘনডালপালাওলা হিজল গাছ; পাতায় পাতায় পাখির গু পোকামাকড় আর জড়িয়ে থাকা সবুজ সাপ, খসখসে ধূসর গুঁড়ি—পলির হলুদ দাগে বিকীর্ণ—শিসের মতো চিরোল ফুলে প্রজাপতি উড়ছিল। এই গাছ বছরের পর বছর কোন গূঢ় প্রতীক্ষায় বেঁচে থেকেছে। মাটির তলায় শেকড়বাকড় শেকলের মতো তাকে বেঁধে ফেলেছে—তবু, হায়, বন্য আদিম বৃক্ষ, একটা কিছু ঘটবে বলে দাঁড়িয়ে আছে এবং দাঁড়িয়েই আছে :…

    পরস্পর তাকিয়ে ছিলুম কতক্ষণ। তারপর বিপাশা নড়ে উঠল। কোত্থেকে একটা রুমাল বের করে চোখ মুছে বলল—দাদা আসছেন।

    ঘুরে দেখলুম, গ্রামের বাঘা জোতদার সাবির আলির সঙ্গে বাঁধের পথে শতদ্রু আসছে। সাবির শতদ্রুর আগে আগে কথা বলতে বলতে আসছে। ওর হাতে একটা বন্দুক। শয়তানটা এই সময়ে মনিবের ছেলেকে শিকারে নিয়ে আসছে। কী করব, ভেবে পেলুম না।

    শতদ্রুদাকে আমি শাটলেজদা বলতুম। বয়সে আমার চেয়ে অন্তত আট বছরের বড়। খুব ইচ্ছে করছিল তুমুল চেঁচিয়ে বলি—শাটলেজদা। আমি এখানে আছি। কিন্তু সঙ্গে ওই আপদ।

    বিপাশা হাসতে হাসতে বলল—ওকী? লুকোচ্ছ যে আবার?

    আশ্চর্য। কত সহজে ও হাসতে পারল। আমি ঠোঁটে আঙুল রেখে বললুম —চুপ। বলোনা যে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে।

    একটু তফাতে ঘন ঝোপের আড়ালে গিয়ে দেখতে থাকলুম, কত সহজে মেয়েরা পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। বিপাশা কোত্থেকে একটা ভিউফাউণ্ডার বের করল। চোখে রেখে ওপারের দূর মাঠে কী দেখতে থাকল। তারপর কথা বলতে বলতে এসে পড়ল লোক দুটি। শতদ্রুদা কী মারাত্মক ভোল ফিরিয়েছে। চেনাই যায় না। চুলে পাক ধরেছে দেখে অবাক হলুম। চমৎকার পোশাক পরেছে। স্বাস্থ্যে সভ্যতার রঙ জ্বলজ্বল করছে। শয়তান জোতদারটাও প্যাণ্ট বুশশার্ট পরেছে। মোটর সাইকেলেই এসেছে নিশ্চয়।

    —হুঁ। গাড়ি দেখেই বুঝেছি, দিদি এখানে আছেন।…সাবির বলল।

    শতদ্রু বলল—শিকারে যাবি তো চলে আয় বিয়াস!

    বিয়াস! আমার দেওয়া নামটা এখনও ওরা চালু রেখেছে। গায়ে কাঁটা দিল।

    সাবির বলল—এমন করে একাদোকা আসবেন না দিদি। জায়গাটা ভাল নয়।

    বিপাশা কোন জবাব দিল না।

    শতদ্রু বলল—সব জঙ্গল খতম দেখছি। ওই জমিগুলো কাদের সাবিরদা?

    —আপনারা থাকলে আপনাদেরই হত। এখন আপনার জ্যাঠার—স্বনামে বেনামে। আমারও খানিকটা আছে। তবে ফসল ফলানোর রিস্ক আছে। বাঁধ ভাঙলেই তো গেল। দিদি, আসুন। হরিয়াল মারব দেখবেন।

    বিপাশা বলল—না।

    শতদ্রু বলল—তাহলে চলে যা। গাড়ি চুরি হয়ে যাবে।

    বিপাশা দাঁড়িয়েই থাকল। কথা বলতে বলতে ওরা দুজনে চলে গেল। গাছপালার আড়ালে ওরা অদৃশ্য হলে বেরিয়ে এলুম। —এখনও দাঁড়িয়ে আছ, কেন বিপাশা?

    —তোমার লাস্ট সিন যে বাকি।

    —হুঁ। কিন্তু আমি মেক আপ মুছে ফেলেছি। পোশাক ফেলে দিয়েছি।

    —তুমি কি কোনদিনই স্বাভাবিক হবে না পারুদা?

    —আমি ভীষণ স্বাভাবিক। বরং তুমিই অস্বাভাবিক। আমাকে চড় মেরেছ।

    —এস, গালে হাত বুলিয়ে দিই।

    —থাক, তুমি চলে যাও বিপাশা।

    —তুমি কোথায় যাবে?

    —অজ্ঞাতবাসে। পরিচয়হীন দুর্গমতায়।

    —আবার হেঁয়ালি করছ?

    ঠিক এসময় আমাদের পিছনে শুকনো পাতার খসখস শব্দ হল। কার পায়ের চাপে একটা কাঠি ভাঙল। ঘুরে দেখি, একটা কাঠকুড়োনি মেয়ে। সে হাঁ করে তাকিয়ে বিপাশাকে দেখছিল।

    বিপাশাও তাকে দেখছিল। মেয়েটি কাছে এসে বলে উঠল—বাবুদিদি, ইখেনে কী করছেন গো?

    —দাঁড়িয়ে আছি।

    —কার সঙ্গে কথা বলছিলেন যেন?

    —এই যে এঁর সঙ্গে। কেন?

    —কার সঙ্গে?

    —এই তো। পারুদার সঙ্গে

    —পারু… মেয়েটির চোখ বড় হয়ে উঠল। পারুবাবু! ও বাবুদিদি, কী বলছেন গো? পারুবাবু যে এই হিজলগাছে গলায় দড়ি দিয়ে মরেছিল! শোনেন নি?

    আমি হাসবার চেষ্টা করলুম। পারলুম না। দেখলুম, বিপাশার ঠোঁট কাঁপছে আবার। হিজলগাছটার দিকে তাকিয়ে আছে নিষ্পলক। তার পা দুটো কাঁপছে, তাও দেখলুম। পার্থিব জড়তার বিপুল চাপে ওর চেতনার কালো স্নিগ্ধ নদী আঁটো হয়ে যাচ্ছে।

    —হ্যাঁ গো। বিশ্বেস না হয়, জিগ্যেস করবেন। গত বছর এমনি মাসে বাড়ীতে ঝগড়া আর খুনোখুনি করে এসে আত্মহত্যে করেছিল। খুব দেমাকি লোক ছিল যে। বউয়ের সঙ্গে বনত না। দিনরাত অনাছিষ্টি কাণ্ড চলত। শেষ অবধি মনের দুঃখে বউকে খুন করে নিজের প্রাণটা নিলে।…ওকী বাবুদিদি, আপনার কি হল?

    হো হো করে হেসে ফেললুম। কিন্তু আশ্চর্য, আমার হাসি আর মানুষের ভাষা পেল না। সে হাসি বাতাস হল। গাছপালা দুলে উঠল। কিছু হলুদ পাতা ঝর ঝর করে খসে পড়ল। নদীতে আবার পাড় ধসল। লক্ষ লক্ষ পোকামাকড় চঞ্চল হল।

    আর বিপাশা টলতে টলতে গাছটা আঁকড়ে ধরল। বিড়বিড় করে বলল—আমি জানতুম! আমি জানতুম! তবু ভুল হয়।

    —বাবুদিদি, আপনাকে ধরব?

    —না। তুমি যাও।

    —আপনি শিগগির বাড়ী যান গো!

    —যাচ্ছি। তুমি যাও, চলে যাও তো এখান থেকে!

    মেয়েটি তবু দাঁড়িয়ে রইল। আর বিপাশা হু হু করে নির্লজ্জের মতো কাঁদতে থাকল। তার কুমারীত্বের স্খলন ঘটেছিল এই বনে। আর সেই ঘটনার নায়কটিকে তার মনে জীবিত রেখেছিল। খুনী যেমন খুনের জায়গায় অনিবার্য অবচেতন টানে ফিরে আসে, আসতেই হয়—তেমনি ও এসেছে—আমিও যেমন এসেছিলুম। কিন্তু, এতক্ষণ পরে ওই কাঠকুড়োনি জংলী মেয়েটা আমাকে আবার মৃতদের চিরকালের অতীতে ঠেলে দিল।

    বিপাশার অশ্রু আমি নিলুম সারা গায়ে। আমার ডালপালা আর শিসের মতো ফুল সুখে দুলতে লাগল। আমার শ্বাসপ্রশ্বাসে বিপাশার চুল উড়তে থাকল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসন্দীপন চট্টোপাধ্যায় : সাহিত্যের সেরা গল্প
    Next Article এবং কালরাত্রি ২ – মনোজ সেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026
    Our Picks

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    May 15, 2026

    মৃত পেঁচাদের গান – সায়ক আমান

    May 15, 2026

    এড়ানো যায় না – সায়ন্তনী পূততুন্ড

    May 15, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }