Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প158 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোনালী দুঃখ – ১৩

    ১৩

    নব দম্পতির দিন যে কত দুঃখে কাটছে কেউ জানে না। সকলে ভাবে, আহা ওদের কি সুন্দর মানিয়েছে! যেন কোন জোড়া স্বর্গের হংস-হংসী। অথচ, প্রত্যেক দিন ওরা এক ঘরে, এক শয্যায় শোয়, শুয়ে দুজনেই কাঠ হয়ে পরে থাকে। সখীরা যখন হাসাহাসি করে ওঁর রাত্রের গল্প বলার জন্য-তখন রুপালি বুকের চাপা কান্না গোপন করেন, বইতে পড়া সমস্ত গল্প ওদের বানিয়ে বলেন। সকলে ভাবে, ত্রিস্তানের মতো স্বামী পেয়েছে, রাজকুমারীর জীবন ধন্য।

    একদিন রাজপুরীর সকলে শিকারে বেরিয়েছে। রুপালিও এসেছেন। ঘোড়ায় চড়ে চলেছে সকলে। বনের মধ্যে এক জায়গায় বৃষ্টির জল জমেছে। রুপালির ঘোড়া সেই জলের ওপর দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ জল ছিটকে এসে ওর পোশাক ভিজিয়ে দিল। খল খল্ করে হেসে উঠলেন রুপালি। ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে এনে আবার সেই জলের ওপর দিয়ে গেলেন—এরার জল ছিটকে এসে পোশাকের নিচে ওঁর উরু পর্যন্ত ভিজিয়ে দিল। হা-হা করে অনেকক্ষণ হাসতে লাগলেন রাজকুমারী। কি রকম অস্বাভাবিক সেই হাসি। বারবার রাজকুমারী ফিরে আসতে লাগলেন সেই জলের ওপর। ঘোড়ার পায়ের ধাক্কায় জল ছিটকে এসে ভিজিয়ে দিতে লাগলো রুপালির অর্ধেক শরীর। রাজকুমারী হাসতে লাগলেন উন্মাদের মতো। সকলেই অবাক। তখন যুবরাজ কাহারডিন নিজের ঘোড়া রুপালির পাশে এসে জিগ্যেস করলেন, ও কি বোন, তুই এত হাসছিস কেন?

    —কি মজার, কি মজার জিনিস দাদা।

    —এতে কিসের মজা?

    —আমি জলের সাহস দেখে অবাক হচ্ছি। মহাবীর ত্রিস্তানও আজ পর্যন্ত যেখানে হাত ছোঁয়াতে সাহস পায়নি, এই সামান্য জলের কি সাহস, সে-ই আমার ঊরু পর্যন্ত ছুঁয়ে যাচ্ছে। মজার না দাদা? হা-হা-হা-হাসতে হাসতে রাজকুমারী ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন।

    কাহারডিন তখন অবাক হয়ে ওকে জিগ্যেস করলেন, তোর কিসের দুঃখ বল্?

    রাজকুমারী চোখের জল মুছে বললেন, না, কিছু না। ও এমনি।

    তখন কাহারডিন খুব জোরাজুরি করার পর রাজকুমারী খুলে বললেন সব কথা। এক বছরেরও বেশি হয়ে গেল-তাঁর অমন রূপবান গুণবান স্বামী তাঁকে একদিনের জন্য ছুঁয়েও দেখেননি।

    এই কথা শুনে উৎকট গম্ভীর মুখে কাহারডিন এলো ত্রিস্তানের পাশে। তাকে আড়ালে ডেকে বললে, ত্রিস্তান, তুমি আমাদের পরিবারের সকলকে অপমান করছো। তুমি রুপালিকে ঘৃণা করেও তাকে বিয়ে করেছো। এখন তাকে করছো চূড়ান্ত অবহেলা। এ অপমান আমি সহ্য করবো না। আমি তোমাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে আহ্বান করছি। তাতে আমি মরবো জানি-তবু আমি এ অপমান সইবো না।

    ত্রিস্তান ক্লিষ্টভাবে বললো, জানতুম এ রকমই হবে। আমারই দোষ। কিন্তু যুবরাজ, তুমি যদি আমার এ দুর্ভাগা জীবনের কথা শোনো, হয়তো তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে।

    ঘোড়া থেকে নেমে ওরা বসলো একটা গাছের নিচে। ত্রিস্তান একে একে বলে গেল তার সমস্ত জীবনের কথা। তার বাল্যকাল, অভিশপ্ত যৌবন, তার সর্বনাশা ভালোবাসা, বনবাস, তার উদাসীন ভ্রাম্যমান জীবন। তারপর বললো, রাজকুমার, সোনালি হয়তো আমাকে ভুলে গেছে! কিন্তু আমি ওকে ভুলতে পারি না যে! আমার নিদ্রায়-জাগরণে প্রতি মুহূর্তে সোনালি। মুহূর্তের ভুলে আমি তোমার নিষ্পাপ বোনকে বিয়ে করে, সারাজীবন পাপের ভাগী হয়েছি। মৃত্যু ছাড়া আমার আর মুক্তি নেই।

    অবাক বিস্ময়ে কাহারডিন এ কাহিনী শুনলেন। যেন এক রূপকথা! সেই রূপকথার নায়ক তার সামনে বসে আছে। তারপর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে কাহারডিন বললে, ত্রিস্তান, একটিমাত্র উপায় আছে। চলো, তুমি আর আমি দুজনে লুকিয়ে কর্নওয়ালে যাই। গিয়ে দেখি, সত্যি রানী সোনালি তোমাকে ভুলে গেছে কিনা। যদি সত্যিই তিনি তোমাকে ভুলে গিয়ে সুখে থাকেন- তাহলে ফিরে এসে আমার বোনকে গ্রহণ করতে আপত্তি থাকা তোমার উচিত নয়।

    ত্রিস্তান চুপ করে রইলো। কাহারডিন আবার বললে, ত্রিস্তান, আমি সারা জীবন তোমার বন্ধু হতে চাই।

    ত্রিস্তান বললো, সারাটা জীবন তো আমার একজন বন্ধু খুঁজতে খুঁজতেই কেটে গেল। আমার সত্যিকারের বন্ধু ছিলেন গুরু গরভেনাল। তারপর এই তোমাকে পেলাম। চলো, আমরা কর্নওয়ালে যাই।

    তীর্থযাত্রার নাম করে ত্রিস্তান আর কাহারডিন একটা জাহাজ সাজিয়ে বেরিয়ে পড়লো। অনুকূল হাওয়ায় জাহাজ এসে পৌঁছুলো কর্নওয়ালের সীমান্তে। ত্রিস্তান বললো, এ রাজ্যে নামা আমার পক্ষে বিপজ্জনক। চলো, লিডানের জমিদার দিনাসের কাছে যাই। তিনি আমাদের খুব ভালোবাসতেন।

    একদিন ভোর রাত্রে ওরা এসে উপস্থিত হলো দিনাসের প্রাসাদে। দিনাস একটু গম্ভীরভাবে ওদের প্রাসাদে অভ্যর্থনা করলেন। যথোচিত আহার ও পোশাক দিলেন। তারপর তিনি থমথমে মুখে বললেন, ত্রিস্তান তুমি আবার কেন এদেশে এসেছো? তোমার ও সোনালির মধ্যে যে সত্যিকারের তীব্র ভালোবাসা ছিল তাকে আমি সম্মান করতুম। কিন্তু, তুমি সে ভালোবাসার তো সম্মান রাখোনি। আমি শুনতে পেয়েছি, তুমি বিয়ে করেছো। তোমার সম্বন্ধে আর আমার শ্রদ্ধা নেই।

    ত্রিস্তান দিনাসের পা জড়িয়ে ধরে বললো, আপনার তুলনা নেই। আমি বিয়ে করেছি ঠিকই, কিন্তু সে আমার মুহূর্তের ভুল। দিনাস, আমি একটা দিনের জন্যেও আমার স্ত্রীকে স্পর্শ করিনি, সোনালি ছাড়া এক মুহূর্তও আমি অন্য কারুকে মনে স্থান দেইনি। এই কাহারডিন আমার স্ত্রীর ভাই, ও সাক্ষী আছে। ওকে জিগ্যেস করে দেখুন। দিনাস, আপনি বলুন, সোনালি কেমন আছে? সে কি আমাকে ভুলে গেছে? আমি শুনেছি, সে আমাকে ভুলে সুখে আছে?

    দিনাস বললেন, ত্রিস্তান, বাইরে থেকে কতটুকু দেখা যায়! আমি জানি, সে প্রত্যেকদিন তোমার জন্যে গোপনে কাঁদে। আমি চোখে দেখলে চিনতে পারি। কিন্তু বাইরে তাকে সুখের ভান করতে হয়। সে তো তোমারই জন্য। নইলে তোমাকে লোকে আবার বদনাম দেবে। তার দুঃখ অনেক বেশি। কিন্তু ত্রিস্তান, তুমি আবার কেন এসেছো? তোমাদের মিলন তো অসম্ভব। তুমি নিজেই তো তাকে তুলে দিয়ে গেছ রাজার হাতে। তোমার দাবী শেষ হয়ে গেছে। আবার তবে কেন এসেছো রাজার শান্তি বিঘ্ন করতে।

    চোখের জলে দিনাসের পা ভিজিয়ে ত্রিস্তান বললো, একবার, শুধু একবার আমি ওর সঙ্গে দেখা করে যাবো। শুধু একবার দুটো মুখের কথা শুনে যাবো। আপনি ব্যবস্থা করে দিন। আমি একটি বার দেখা করেই চলে যাবো।

    ত্রিস্তান সেই সবুজ পাথরের আংটিটা দিনাসের হাতে পরিয়ে দিল। দিনাস চলে গেলেন। সেদিনই বিকেলবেলা টিন্টাজেল দুর্গে। রাজা আর রানী তখন পাশা খেলছিলেন। দিনাসকে দেখে রাজা বললেন, বলো দিনাস। খেলাটা শেষ হয়ে যাক্। তারপর আবার পাশার চাল দিতে লাগলেন। দিনাস রানীর সঙ্গে আলাদা কথা বলার কোনো সুযোগই পেলেন না। শুধু রানীকে একবার খেলার চাল দেখিয়ে দেবার জন্য হাতটা বাড়ালেন। হাতে সেই আংটি। আংটি দেখেই দারুণ চমকে উঠলেন সোনালি। জিজ্ঞাসু চোখে তাকালের দিনাসের দিকে। দিনাস চোখেই সম্মতি জানালেন যে, ত্রিস্তান এসেছে। তারপর রাজা মুহূর্তের জন্য একবার উঠে বাথরুমে যেতেই দিনাস জিগ্যেস করলেন, রানী তুমি দেখা করবে ত্রিস্তানের সঙ্গে?

    সোনালি বললেন, দিনাস, ত্রিস্তানের ডাক এলে আমি রাজপুরীর এক হাজার দেওয়াল ভেঙেও বেরিয়ে যাবো। কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না।

    রাজা আবার ফিরে এলেন, তারপর দিনাসকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন সভাগৃহে। রানী কিভাবে দেখা করবেন, কখন-কিছুই শোনা হলো না।

    দিনাস ফিরে এসে ত্রিস্তানকে সব বললেন। আর একটা খবরও দিলেন, দু’দিন পর রাজা আর রানী টিন্টাজেল দুর্গ ছেড়ে পাহাড়ের মাথায় গ্রীষ্মাবাসে যাবেন। সে কথা শুনে সেদিনই ত্রিস্তান গ্রীস্মাবাসে যাবার পথের ধারে জঙ্গলের মধ্যে লুকিয়ে বসে রইলো। সঙ্গে কাহারডিন। দুজনেই সশস্ত্র।

    বিরাট শোভাযাত্রা বেরুলো রাজা ও রানীর সঙ্গে। প্রথমে বাদকবৃন্দ। তারপর প্রহরীর দল। তারপর পাত্রমিত্রদের সঙ্গে রাজার বিশাল রথ। পরে ছোট ছোট রথে রাজপুরীর মেয়েরা। একটি সুন্দরী মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাহারডিন বললো, ঐ তো রানী?

    ত্রিস্তান হেসে বললো, না, ও তো রানীর দাসী!

    —তবে ঐ যে সাদা পোশাক পরা পরীর মতো, ঐ নিশ্চয়ই রানী? সত্যি, কি রূপ!

    —না, না, ও তো রানীর সখী বিরজা!

    তারপর একটি স্বর্ণমণ্ডিত রথে এলেন সোনালি। কি রূপের দ্যুতি তাঁর। এতদিনে একটুও ম্লান হয়নি। হুজুর, চাঁদের কি বয়েস বাড়ে? না, চাঁদ কোনো বছর কম সুন্দর হয়ে যায়! রানী সোনালির রূপ পূর্ণচন্দ্রের মতো অমলিন জ্যোৎস্নাময়।

    রানীর রথ যখন ঝোপের পাশ দিয়ে যাচ্ছে, তখন মিষ্টি পাখির ডাক ভেসে উঠলো। যেন পর পর সুর মিলিয়ে দোয়েল, বুলবুলি, চাতক পাখি ডেকে উঠেছে। মিষ্টি অথচ কি করুণ সেই সুর। রানী সঙ্গে সঙ্গে চিনতে পারলেন, এ ডাক ত্রিস্তানের। এ ডাক বিরহের ডাক। পৃথিবীর একটিমাত্র পাখির পক্ষেই এমন ডাক সম্ভব।

    রানী রথ একটু থামাতে বললেন। তারপর উচ্চস্বরে বললেন, বনের পাখি, তোমার গান শুনে আমার মন ভরে যাচ্ছে। আমি পাহাড় চূড়ায় গ্রীষ্মাবাসে যাচ্ছি। তুমি সেখানে এসে আমায় গান শোনাবে? বনের পাখি তুমি আমাকে ছেড়ে যেও না। এই দারুণ গ্রীষ্মে তোমার গান আমায় শান্তি দেবে। তুমি এসো ঠিক।

    রথ আবার চলতে লাগলো। শোভাযাত্রা শেষ হয়ে গেলে ওরা দুজনে আবার ফিরে এলো দিনাসের প্রাসাদে।

    ত্রিস্তান গোপনে গ্রীষ্মাবাসে যাবার জন্য তৈরি হতে লাগলো।

    এদিকে ঘটল আরেক ঘটনা। রাজা মার্ক প্রায় বৃদ্ধ হয়েছেন বলেই সুযোগ পেয়ে কয়েকজন নাইট রানীর পাশাপাশি এসে ঘরঘর করে-যদি রানীর কিছু কৃপা পাওয়া যায়! রানী কারুকে গ্রাহ্য করেন না। সেদিন গ্রীষ্মাবাসে পৌঁছুবার পর, একজন নাইট একটু আড়াল পেয়ে রানীর কাছে এসে ভালো মানুষের মতো মুখ করে বললো, সত্যি, আমাদের এমন সুন্দরী রানীর জন্যই রাজ্যের এত শ্রীবৃদ্ধি! রাজা মিথ্যাই রানীকে সন্দেহ করেছিলেন। এই তো, রানী কেমন সুখে আছেন এখানে! আর ত্রিস্তানও অন্য মেয়েকে বিয়ে করে সুখে আছে বিদেশে।

    —মিথ্যে কথা! ত্রিস্তান বিয়ে করেনি! রানী বলে উঠলেন।

    —বাঃ, রানী আপনি জানেন না? সকলেই তো জানে। ত্রিস্তান ব্রিটানির রাজকুমারী রুপালিকে বিয়ে করেছে।

    রানী তখনই উঠে নিজের ঘরে চলে এলেন। শরীরের পোশাকের ভারও যেন অসহ্য লাগলো এমন জ্বালা। ছটফট করে কয়েক প্রস্থ পোশাক খুলে ফেললেন। আয়নার সামনে দাঁড়ালেন একবার। তারপর হঠাৎ দু’হাতে মুখ ঢেকে হু-হু করে কেঁদে ফেললেন। অনেকক্ষণ ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদলেন। তারপর ভাবলেন, আমি কেন কাঁদছি! আমি তো চেয়েই ছিলাম, ত্রিস্তান সুখী হোক! কিন্তু তাহলে সে আবার আমার কাছে এসেছে কেন? আমাকে নিয়ে খেলা করতে চায়? না, না, ত্রিস্তানের বিয়ে হয়নি। মিথ্যে কথা! হে ঈশ্বর, এ খবর শোনার আগেই আমার মৃত্যু হলো না কেন? এত দীর্ঘ জীবন আমার কি প্রয়োজন? মুখে যাই বলি, ত্রিস্তানের বিয়ে করা যে আমি সহ্য করতে পারবো না, ঈশ্বর, তুমি তা জানো। কিন্তু আমিও তো স্বামীর ঘর করছি। সে দোষ কি আমার? ত্রিস্তানেরই। ও আমাকে নিজে বিয়ে করতে পারতো তার বদলে প্রভুভক্তির জন্যে সেই প্রথমবারই কেন রাজার হাতে তুলে দিল? কেন? ত্রিস্তান এমন বিশ্বাসঘাতক! ওঃ ভগবান!

    রানী তখন ডাকলের সখী বিরজাকে। বললেন, সখী তুই আমাকে বিষ দে। আমি আর পারি না, আমার বুক জ্বলে যাচ্ছে!

    বিরজা সব শুনে ঈষৎ হাস্যে বললো, রানী, একি ছলনা তোমার? তুমিও তো স্বামী পেয়েছো, রাজরানী হয়েছো, আর সেই হতভাগ্য একটি স্ত্রী পেতে পারে না!

    দৃপ্ত ভঙ্গিতে সোনালি বললেন, আমাকে স্বার্থপর বলিস আর যাই বলিস, আমি পারবো না, পারবো না, ত্রিস্তানের পাশে অন্য কোনো মেয়েকে আমি সহ্য করতে পারবো না। তুই আমাকে বিষ দে।

    বিরজা তখন বললেন, আচ্ছা, আগে দেখা যাক খবরটা সত্যি কিনা। ত্রিস্তান তো দিনাসের বাড়িতে লুকিয়ে আছে। ওখানে পেরিনিসকে পাঠানো যাক না। বিরজা ডাকলো বিশ্বাসী অনুচর পেরিনিসকে!

    রানী জ্বলন্ত চোখে তাকে বললেন, পেরিনিস, তুই নিজে শুনে আয় ত্রিস্তানের বিয়ের খবর সত্যি কিনা। যদি সত্যি হয় বলিস, সে যেন এ রাজ্যের সীমানাতে আর না আসে। কোনোদিন আর আমার সঙ্গে দেখা করবার চেষ্টা না করে। যদি করে, আমি নিজে ওকে প্রহরী দিয়ে ধরিয়ে দেবো। নিজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওর মৃত্যু দেখবো!

    পেরিনিসকে দেখেই ত্রিস্তান বুকে জড়িয়ে ধরলো। বললো, বন্ধু, বলো বলো, রানী কি খবর পাঠিয়েছে, কোথায় সে আমার সঙ্গে দেখা করবে?

    পেরিনিস বললো, ত্রিস্তান একথা কি সত্যি যে আপনি বিয়ে করেছেন? যদি হয়, তবে রানী আর কোনদিন আপনার সঙ্গে দেখা করবেন না!

    —এ কি কথা বলছো পেরিনিস? রানী কি জানে না যে তাকে ছাড়া আর কোনো নারীকে কোনোদিনই আমার পক্ষে ভালোবাসা অসম্ভব? আমরা দুজনে যে একসঙ্গে সেই তীব্র সুরা পান করেছিলাম! হ্যাঁ, একথা সত্যি, আমার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু সে তো মুহূর্তের ভুলে! আমি আজও সোনালির প্রতি অবিশ্বাসী হইনি। আমি আজও তাকে ছাড়া অন্য কোনো নারীকে স্পর্শ করিনি। পেরিনিস, তুমি আবার যাও, গিয়ে রানীকে জিজ্ঞেস করে এসো, কখন আমি রানীর সঙ্গে দেখা করতে পারবো। একবার ও আমাকে দেখলেই সব বুঝবে! খবর নিয়ে তুমি আবার ফিরে এসো পেরিনিস। আমি তোমার জন্য প্রতীক্ষায় থাকবো!

    কিন্তু পেরিনিস আর ফিরে এলো না। রানী যে মুহূর্তে শুনলেন ত্রিস্তানের বিয়ের খবর সত্যি, সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গিয়ে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে দিলেন। বললেন, তোমরা সব যাও। আমি কারুর মুখ দেখতে চাই না! আমি আর কোনোদিন আয়নাতেও নিজের মুখ দেখবো না!

    ত্রিস্তান বৃথাই ক’দিন গোপনে ঘুরলো রানীর গ্রীষ্মাবাসের চারিদিকে। রানীর সঙ্গে দেখা হবার কোনো উপায় নেই। তখন ত্রিস্তান বেপরোয়া হয়ে গেল। সে ঠিক করলো দেখা করবেই। শুনতে পেল পরের দিন রানী যাবেন মা মেরীর মন্দিরে প্রার্থনা জানাতে। ত্রিস্তান ভিখারী সেজে মন্দিরের পথে দাঁড়িয়ে রইলো।

    পথের লোক সত্যিকারের ভিখারী ভেবে ত্রিস্তানের হাতে ভিক্ষে দিয়ে যাচ্ছে। ত্রিস্তান নুয়ে নুয়ে সবার কাছ থেকেই ভিক্ষে নিচ্ছে। তারপর এলো রানীর রথ-সঙ্গে বহু দাস-দাসী ও এক ডজন প্রহরী। ভিখারী ছুটে এসে রথের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, রানী, আমাকে একবার দয়া করো!

    সোনালি সেই ভিখারীর কুৎসিত ছদ্মবেশ সত্ত্বেও, উন্নত দেহ ও মুখের রেখা দেখেই ত্রিস্তানকে চিনতে পারলেন। চিনতে পারলেন ত্রিস্তানের কণ্ঠস্বর। কিন্তু ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নিলেন। ভিখারী রথের আরও সামনে এসে বললো, রানী, একবার, শুধু একবার দয়া করো!

    রানী মুখ কুঞ্চিত করে বললেন, চালাও রথ।

    ভিখারী তখন রথের চাকা ধরে বললো, রানী একবার আমার অবস্থা দেখো! আমি সত্যিই ভিখারী হয়েছি। আমাকে তুমি সামান্য দয়া করলে, তোমার কিছুই ক্ষতি হবে না-কিন্তু আমার সারা জীবনটা ভরে যাবে। রানী, মাত্র একবার জীবনের শেষবার-

    সোনালি প্রহরীদের বললেন, সরিয়ে দাও লোকটাকে। সঙ্গে সঙ্গে পনের কুড়িটা সবল হাত ভিখারীকে চেপে ধরলো। তারপর হিঁচড়ে ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যেতে লাগলো ওকে। ভিখারী সেখান থেকেই করুণ, আর্ত গলায় চেঁচাতে লাগলো, রানী, দয়া করো, দয়া করো, একবার-

    রানী হা-হা করে হেসে উঠে বললেন, দয়া চাইবার স্পর্ধা কতখানি। আবার হাসতে লাগলেন হা-হা করে। রানীর সেই হাসির শব্দ প্রতিধ্বনিত হলো মন্দিরের দ্বার পর্যন্ত। সেই হাসির শব্দে মন্দিরের ঘণ্টাগুলোও যেন দুলে উঠে ঠুং ঠুং করে বাজতে লাগলো। হাসির শব্দে ভয় পেয়ে উড়ে গেল ডানা ঝটপটিয়ে এক ঝাঁক পায়রা। আশেপাশের লোকেরা সেই হাসি শুনে একটা শব্দও উচ্চারণ করতে ভুলে গেল। ভিখারী মুখ তুলে কিছুক্ষণ দেখলো সেই হাসি, রানীর গর্বোদ্ধত মুখ-তারপর সে ধীর পদক্ষেপে পিছন ফিরে চলে গেল।

    সেই রকম হাসতে হাসতেই রানী মন্দিরের সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলেন। কয়েক ধাপ ওঠার পরেই শরীর দুলে উঠলো তাঁর। শূন্যে কিছু যেন একটা আঁকড়ে ধরার ব্যর্থ চেষ্টা করে রানী সোনালি ঝুপ করে সেই মন্দিরের সিঁড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুনের রঙ – সম্পাদনা: সমরেশ মজুমদার, অনীশ দেব
    Next Article কালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }