Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোনালী দুঃখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প158 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোনালী দুঃখ – ১৪

    ১৪

    পিছন ফিরে সেই যে হাঁটতে লাগলো ত্রিস্তান, বহুক্ষণের মধ্যে আর থামলো না। কোথায় চলেছে, কোন দিকে চলেছে, কোনোই খেয়াল নেই। সে যেন রয়েছে একটা ঘোরের মধ্যে, একটা নিশি-পাওয়া মানুষের মতো শুধু এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। কাহারডিন তার জন্য অপেক্ষা করছিল দিনাসের প্রাসাদে। তার কথা ত্রিস্তানের মনেও পড়লো না।

    সারা রাত ধরে হাঁটলো ত্রিস্তান। সর্বক্ষণ তার কানে ভাসছে সোনালির সেই তীব্র উপেক্ষার হা-হা হাসির শব্দ। সেই দৃশ্যের কথা ভেবেই তার শরীর শিউরে উঠতে লাগলো। তার সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে যেন ঝনঝন করে বেজে চলেছে সোনালির সেই হাসি।

    ত্রিস্তানের অঙ্গে তখনও ভিখারীর ছদ্মবেশ, হাতের মুঠোয় তখনও সেই ভিক্ষালব্ধ পয়সা। পরদিন সকালে সে একটি অচেনা নগরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, একজন তীর্থযাত্রী স্নান সেরে বাড়ি ফেরার পথে ত্রিস্তানকে থামিয়ে নিজে থেকেই একটা পয়সা ভিক্ষে দিলেন। তখন ত্রিস্তানের সম্বিৎ ফিরে এলো। আত্মস্থ হয়ে নিজের দিকে তাকিয়ে হাসলো সে। ভিখারীর পোশাকে নিজেকে বেশ ভালোই লাগলো তার। একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে সে বেশ পট ভঙ্গিতে পথচারীদের কাছ থেকে করুণ সুরে ভিক্ষে চাইতে লাগলো। বালকের মতো অল্পক্ষণের মধ্যেই মেতে উঠলো এই খেলায়। কোনো রূপসী নাগরিকা হয়তো তাকে অগ্রাহ্য করে চলে যাচ্ছে ভিক্ষে না দিয়ে, ত্রিস্তান ঠিক তার পিছনে পিছনে বহুদূর ছুটে কাতর সুরে কেঁদে কেঁদে আদায় করে নিচ্ছে ভিক্ষে।

    ছিল সে রাজার কুমার, স্বেচ্ছায় ছেড়ে এসেছে নিজের রাজ্য। সে বিখ্যাত বীর, কালো বর্ম পরে সাদা ঘোড়ায় চেপে যাবার কথা তার, থাকার কথা রাজপ্রাসাদে। অতবড় বীর সে, ইচ্ছে করলে যে-কোনো রাজ্যে গিয়ে এখনও সেনাপতির পদ পেতে পারে। সে রুপালির স্বামী, সে রাজ্যে তার কত সম্মান-কিন্তু ত্রিস্তানের কিছুই ভালো লাগে না। সে অনেক যুদ্ধ করেছে, কিন্তু এখন এই দীন ভিখারী সেজে থাকতেই তার ভালো লাগছে। দেখতে দেখতে তার অঞ্জলি ভরে গেল ভিক্ষের পয়সায়। তারপর ত্রিস্তান একা একা ঘুরতে লাগলো সেই অচেনা শহরে। এখানে সে আগে কখনও আসেনি। বেশ পরিষ্কার, প্রশস্ত এই শহরের রাস্তা, নাগরিকরা বেশ ধনবান মনে হয়

    হাঁটতে হাঁটতে সে একটা বড় উদ্যানের কাছে এসে পৌঁছলো। সেখানে বিরাট উৎসব হচ্ছে। বড়দিনের মেলা। বন্ধ করে ঘুরছে নাগরদোলা, সেখান থেকে ভেসে আসছে কচি শিশুদের কণ্ঠে আনন্দলহরী। এক জায়গায় তীরন্দাজরা লক্ষ্যভেদের পরীক্ষা দিচ্ছে, একটা সদ্য মরা হরিণ দূরে ঝোলানো-কে তার চক্ষু বিদ্ধ করতে পারে। শন্‌শন করে ছুটে যাচ্ছে তীরন্দাজদের তীর। আর একদিকে একটা বিশাল হাতির ওপর একদল মেয়ে পুরুষ হল্লা করছে। ভাল্লুকের পোশাক পরে দুটো লোক দেখাচ্ছে কুস্তীর খেলা। আশেপাশে কয়েকটা সরাবের দোকান, তার একটার সামনে ফুলের মতো ঘাগ্গা উড়িয়ে ক্ল্যারিওনেটের তালে তালে নাচছে একটি বেদেনী। ত্রিস্তান ঘুরে ঘুরে দেখছে।

    এক জায়গায় দেখতে পেল গোল করা বড় ভিড়। এরাও বাজীকর সেখানে পুতুলনাচের খেলা দেখাচ্ছে। বাজীকরের পোশাক অদ্ভুত, একটা সবুজ রঙের আলখাল্লা পরেছে, মাথায় পালকের টুপি। হাতে একটা ডমরু নিয়ে ডিং ডিং করে বাজিয়ে সে চেঁচাচ্ছে, এবার আরম্ভ হবে বড় খেলা, প্রেমের খেলা, আরম্ভ হলো, আরম্ভ হলো প্রেমের খেলা!

    তারপর সে খেলা আরম্ভ করলো। তার সামনে নানারকম পুতুল নাচ শুরু করার সময় সে হেঁকে উঠলো, এ খেরার নাম ‘ত্রিস্তান আর সোনালির খেলা’-একেবারে তাজ্জব কাণ্ড। কিন্তু সত্যি ঘটনা! দেখে যান বাবু মশায়রা-

    খেলার নাম শুনে বিষম চমকে উঠলো ত্রিস্তান। ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। একটা ভিখারী একেবারে পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে দেখে এক সুন্দরী রমণী নাক কুঁচকোলেন।

    বাজীকর একটি পুতুলের সুতোয় টান দিয়ে বললেন, এর নাম ত্রিস্তান-এর মতো সুন্দর, এর মতো বীরপুরুষ আর দুনিয়ায় দুটি নেই। ছেলেবেলায় ওর বাপ-মা মারা যায়…এই দেখুন বাবু-বিবিরা, ত্রিস্তান এখন রাজা মার্ককে প্রণাম করছে। -এইবার ত্রিস্তান যাচ্ছে মোরহল্টের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। লড়ে যা ব্যাটা, লড়ে যা, হ্যাঁ, ঠিক আছে, বহুৎ আচ্ছা, এই দেখুন ত্রিস্তান যুদ্ধে জিতে গেল। সে ছাড়া আর কে জিতবে। এবার সে আয়ার্ল্যান্ডে যাবে ড্রাগনের সঙ্গে লড়াই করতে। সেটা খুব ভারী লড়াই। হ্যাঁ, এইবার…

    এক এক করে বাজীকর দেখিয়ে গেল ত্রিস্তানের জীবনের সব ঘটনা। ড্রাগন হত্যা, সোনালির সঙ্গে দেখা, রাজা মার্কের হয়ে ত্রিস্তানের সঙ্গে সোনালির হাতে হাত দিয়ে বিয়ে, ফিরে এসে রানী সোনালির কাছে তার গোপন অভিসার, ধরা পড়ার সব ঘটনা, বনে পালিয়ে যাওয়া…

    দর্শকরা দেখছে আর ঘন ঘন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছে। ভিখারীবেশী ত্রিস্তান দাঁড়িয়ে আছে চুপ করে। প্রথমটায় বেশ মজা পেয়ে তার হাসি আসছিল, কিন্তু অপরদিকে নিজের জীবনের সব ঘটনা স্বচক্ষে দেখে তার বুকের মধ্যে বহু দীর্ঘশ্বাস জমাট হয়ে গেল।

    রাজা মার্কের হাতে রানী সোনালিকে ফিরিয়ে দিয়ে ত্রিস্তান বঞ্চিত হতভাগ্যের মতো চলে গেল নিরুদ্দেশে-এই পর্যন্ত দেখিয়ে খেলা শেষ করলো বাজীকর। দর্শকরা ত্রিস্তানের দুঃখে সরবে সমবেদনা জানাতে লাগলো। টপাটপ পয়সা পড়লো বাজীকরের সামনে। ক্রমে দর্শকদের ভিড় সরে গেল, বাজীকর যখন পয়সা কুড়োচ্ছে, ত্রিস্তান এগিয়ে এলো তার সামনে। তার হাতের সমস্ত ভিক্ষের পয়সা সে ঢেলে দিল বাজীকরের হাতে। হতচকিত বাজীকর মুখ তুলে তাকাতে, ত্রিস্তান তাকে মৃদুস্বরে জিগ্যেস করলে, বাজীকর, তুমি এর পরের ঘটনা জানো?

    বাজীকর বললো, এর পর আর কি আছে? রানীকে ছেড়ে বিবাগী হয়ে গেল ত্রিস্তান, তারপর সে বোধহয় সন্ন্যাসী হয়ে গেছে, কিংবা মনের দুঃখে মরেই গেছে হয়তো! কেউ আর তার সম্বন্ধে কিছুই জানে না। তুমি জানো নাকি?

    —একটু একটু জানি। আমি তো নানা দেশে ঘুরে বেড়াই, কিছু কিছু শুনেছি। –কি শুনলে? কোথায় আছে সে?

    —বলবো পরে। কিন্তু তুমি বল তো, এ গল্প কি এখানেই শেষ হলে মানায়? আর একটু থাকা উচিত নয়?

    —তা বলা বড় মুশকিল! জীবনে কোনো ঘটনা ঘটে গেলে, তারপরই বলা যায় সেটা গল্পে মানায় কি মানায় না। কিংবা, জীবনের সব ঘটনাই গল্প হতে পারে। কিন্তু, বানানো গল্পের মতো জীবন হয় না।

    —কিন্তু বাজীকর, তোমার কি মনে হয় না, রানীর সঙ্গে ত্রিস্তানের আরেকবার দেখা হওয়া উচিত? শেষবার?

    সবুজ আলখাল্লা আর পালকের টুপি পরা দীর্ঘদেহ বাজীকর এক মুখ দাড়িতে তার চেহারাটা ভয়ঙ্কর, কিন্তু বড় মমতাভরা গলায় সে বললো, আহা, আমি চাই ঐ হতভাগ্যের সঙ্গে রানীর আবার দেখা হোক কিন্তু তা কি আর সম্ভব? ত্রিস্তানের কথা বলতে গিয়ে আমার কান্না পায়। বড় দুঃখী ও লোকটা।

    ত্রিস্তান মাটির দিকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। তারপর সে বললো, বাজীকর, আমাকে তোমার সঙ্গে থাকতে দেবে? আমি তোমার খেলায় সাহায্য করবো।

    বাজীকরের সঙ্গেই থেকে গেল ত্রিস্তান। ওর সঙ্গেই ঘুরে বেড়ায়। বাজীকর যখন নানান খেলার সঙ্গে ত্রিস্তান আর সোনালির খেলা দেখায়- তখন ও নিজেই পুতুলগুলো এগিয়ে দিয়ে দিয়ে, বাজীকরকে সাহায্য করে। বনের মধ্যে যেখানে ত্রিস্তান আর সোনালি কুঁড়েঘর বেঁধে আছে- সেই দৃশ্যটায় ত্রিস্তান পাখির ডাকের অনুকরণে শিস দিয়ে ওঠে। যে গল্প দেখে দর্শকরা চোখের জল ফেলে, সেই গল্পের নায়ক যে ভৃত্যবেশে এখানেই বসে আছে, তা কেউ ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করে না।

    ত্রিস্তানের মন অনেকটা শান্ত হয়ে এসেছে। বাজীকর লোকটা অদ্ভুত ধরনের। রাত্রিবেলা এক তাঁবুতে দুজনে শুয়ে শুয়ে অনেক গল্প করে। বাজীকর তাকে শোনায় বহু অজানা দেশের কথা, সে বলে হিন্দুস্থান নামে নাকি একটা আজব দেশ আছে- যেখানে মানুষ ইচ্ছেমতো রূপ বদলাতে পারে-একটা লোকই দিনের বেলায় মানুষ আর রাত্তিরবেলায় বাঘ হয়ে যায়। সেখানে গাছও কথা বলে। সাধুরা মাটি থেকে এক হাত উঁচুতে উঠে শূন্যে বসে বসে তপস্যা করে। সেখানকার রাজারা প্রত্যেকেই তিনশো-চারশোজন রানীকে বিয়ে করে প্রত্যেক রাতেই রাজার সঙ্গে থাকে একজন নতুন রানী।

    বাজীকর নিজেও অনেক মন্ত্র-তন্ত্র জড়ি-বুটি জান তো। মানুষের চোখের সামনে আঙুল নেড়ে তাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে, তাকে দিয়ে হুকুম মতো যা ইচ্ছে করানোতে সে ছিল ওস্তাদ। তার কাছে একরকম ওষুধ ছিল-সে ওষুধ গায়ে মাখলে মানুষের গায়ের চামড়ার রঙ এক মাসের জন্য বদলে যায়। ত্রিস্তান সেই ওষুধ খানিকটা চেয়ে নিয়েছিল ওর কাছ থেকে।

    বাজীকরের একমাত্র দোষ ছিল, মাঝে মাঝে মদ খেয়ে সে অত্যধিক মাতাল হয়ে পড়তো। সে সময়টা সে হয়ে যেত অন্য মানুষ। তখন যত রকম কুৎসিত গালাগাল, জিনিসপত্র ভাঙা, যে-কোনো লোককে ধরে মারা ছিল তার স্বভাব। বাজীকরের এই অবস্থাটা এক-এক সময় ত্রিস্তানের অসহ্য লাগতো।

    বেশ শান্ত হয়েছিল ত্রিস্তান। হঠাৎ একদিন যেন বন্যার মতো সোনালির কথা তার মনে ফিরে এলো। তার শরীরের সমস্ত রক্ত যেন মুচড়ে মুচড়ে উঠতে লাগলো সোনালির জন্য। কানে ভেসে উঠলো, সোনালির সেই উপহাসের হা হা হাসি। এক রাত্রে তাঁবুর মধ্যে একা শুয়ে থাকতে থাকতে ত্রিস্তানের আবার মনে পড়লো-মন্দিরের যাবার পথে সে সোনালির রথের চাকা ধরে দাঁড়িয়েছিল, খুব কাছ থেকে দেখেছিল তাকে- অথচ একবার ছুঁতে পারেনি, একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেনি। তার বুকটা এক মুহূর্তে শূন্য হয়ে গেল। তার হাত আর বুক, এর মাঝখানে একটা বিশাল শূন্যতা-এখানে সোনালির নরম শরীর থাকার কথা ছিল। ত্রিস্তান ভাবে-তার বেঁচে থেকে আর কি লাভ! সোনালির ঘৃণা দেখবার জন্যও তাকে বেঁচে থাকতে হলো!

    কিন্তু তবু ত্রিস্তান জানে, সোনালিকে ছাড়া তার মরারও উপায় নেই। সে জানে, সোনালি তাকে যতই অবহেলা, অপমান করুক, তবু সোনালির কাছে তাকে বার বার ফিরে যেতে হবে।

    একদিন ত্রিস্তান বাজীকরকে কিছু না বলে আবার বেরিয়ে পড়লো এক বস্ত্রে। পাঁচদিন পাঁচ রাত্রি পর সে এসে পৌঁছলো টিন্টাজেলে। ত্রিস্তান বাজীকরের সেই ওষুধ মেখে নিল সারা গায়ে মুখে। তামাটে রঙের শরীর হয়ে গেল ত্রিস্তানের!

    নগর থেকে লোক আনাগোনা করছে বন্দরে। কেউ কেউ আসছে রাজসভা থেকে। অনেকেরই মুখে রাজার গুণগান! কেউ কেউ আবার বলছে, কিন্তু ভাই, রানীর মুখখানা বড় বিষণ্ণ। কিছুদিন থেকেই দেখছি, রানী কারুর সঙ্গে কথা বলছে না, একটুও হাসছেন না। কি ব্যাপার রে ভাই, রানীর কি অসুখ হয়েছে নাকি?

    রানী! রানীর কথা শুনেই ত্রিস্তান উত্তেজিত হয়ে উঠলো। তখুনি তার ইচ্ছে হলো রানীর সঙ্গে দেখা করতে-সেই দিনের বেলাতেই। তাতে যদি সে ধরা পড়ে, তার মৃত্যু হয়, হোক! তবু রানী জানবে-ত্রিস্তান তার সঙ্গে দেখা করতে এসেই প্রাণ দিয়েছিল।

    ত্রিস্তান একটা ওক গাছের ডাল ভেঙে নিল। তারপর সেটা মাথার ওপর দিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে বিকৃত গলায় হা-রে-রে-রে করে পাগলের মতো ছুটতে লাগলো রাস্তা দিয়ে। রাস্তার ছেলেরা তাকে দেখে মজা পেয়ে ‘এই পাগলা, এই পাগলা’ বলে ঢিল ছুঁড়তে লাগলো। বয়স্করা কৌতুহলে দেখতে লাগলো সেই বদ্ধউন্মাদকে।

    উন্মাদ এসে দাঁড়ালো রাজপুরীর সিংহদ্বারে। সান্ত্রীরা ওকে দেখেই প্রথমে ওর ন্যাড়া মাথায় কয়েকটি চাঁটি মেরে হাতের সুখ করে নিল। তারপর বললে-কি রে পাগলা, এখানে কি চাস?

    পাগল গম্ভীর হয়ে বললো, খবরদার আমার গায়ে হাত তুলো না বলছি। আমি রাজার আত্মীয়! আমি স্বর্গে দেবতাদের বিয়ের নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিলাম। এখন রাজবাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে এসেছি।

    —ওরে বাবা, নেমন্তন্ন খেতে এসেছিল এই রাজবেশে! তার চেয়ে একেবারে দেবতাদের পোশাকই পরে থাক্ না! এই বলে প্রহরীরা চেষ্টা করলো টানাটানি করে ওর পোশাক খুলে উলঙ্গ করে দেবার। উন্মাদ তখন হাস্যকর ভঙ্গিতে লাফাতে লাফাতে মাথার ওপর বনবন করে লাঠিটা ঘোরাতে লাগলো।

    চেঁচামেচি শুনে রাজা খবর নিতে পাঠালেন। তারপর, পাগলের কথা শুনে বললেন, ওকে ডাকো, একটু মজা করা যাক্। রানীও অনেকদিন হাসেননি!

    পাগল ওঁদের সামনে গিয়ে আভূমি প্রণাম করলো, তারপর কণ্ঠস্বর বিকৃত করে বললো, মহারাজকে দেখেই আমার মনটা কেন হু-হু করে। কতদিন আপনাকে দেখিনি।

    রাজা হাসতে হাসতে বললেন, তা কি উদ্দেশ্যে তোমার এখানে আগমন?

    —রানী সোনালির জন্য! মহারাজ, আমার সঙ্গে এক অপূর্ব সুন্দরী রমণীকে এনেছি। তার নাম, হীরামণি। আঃ, কি সুন্দর সে, মহারাজ কি বলবো! আপনি তাকে নিয়ে সোনালিকে আমায় দিয়ে দিন না?

    রাজা আবার হেসে বললেন, তোমার সাধ তো কম নয়। রানীকে নিয়ে তুমি রাখবে কোথায়? তোমার কুঁড়েঘরে?

    —কি বলছেন মহারাজ? আকাশে স্বর্গ আর মেঘের মাঝখানে আমার একটা স্ফুটিকের ঘর আছে। অসংখ্য গোলাপফুলে তার চারদিক ঘেরা। সে ঘর কখনও অন্ধকার হয় না! মহারাজ, রানীকে আমি সেখানে রাখবো।

    সভার সব লোকেরা অট্টহাসি করে উঠলো। রাজা বললেন, লোকটার কথার জোর আছে বটে! উন্মাদ তখন একেবারে ওঁদের পায়ের কাছে এসে বসে, এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে রানী সোনালির দিকে। রাজা আবার জিগ্যোস করলেন, পাগল, আমি না হয় রানীকে দিয়ে দিলুম, কিন্তু তোমার অমন রূপ রানীর পছন্দ হবে কি?

    —সে কি মহারাজ? রানীর জন্য আমি সারাজীবন কত অসাধ্য সাধন করেছি। রানীর জন্যই আজ আমি এরকম পাগল হয়েছি, তা কি রানী জানেন না?

    হাসিতে আবার ফেটে পড়লো সবাই। রাজা হাসির দমকে ফুলতে ফুলতে বললেন, তবে তো তুমি যে-সে লোক নও! তোমার নাম কি?

    উন্মাদ গুগুম্ করে নিজের বুকে কিল মেরে বললো, আমার নাম ত্রিস্তান। জীবনে-মরণে রানীকেই আমি ভালোবাসি।

    অন্য সকলের হাস্যরোলের মধ্যেও রানী সোনালি ও নাম শুনে কেঁপে উঠলেন তার মুখ বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি রাজাকে বললেন, মহারাজ, ভালো লাগছে না, একে বিদায় করে দিন।

    উন্মাদ তখন রানীর পা ছুঁয়ে বললো, রানী, আমাকে চিনতে পারছেন না? সেই যে মোরহল্টের সঙ্গে যুদ্ধে আমি আহত হয়ে মুমূর্ষু হবার পর ভাসতে ভাসতে আপনার দেশে গিয়েছিলাম, আমার হাতে ছিল শুধু বীণা। তখন আপনি আর আপনার মা আমাকে বাঁচিয়েছিলেন। আপনার মনে পড়ে না?

    রানী ঘৃণায় পা সরিয়ে নিয়ে বললেন, এই সভায় এমন কেউ নেই-যে এই জঘন্য লোকটাকে দূর করে দিতে পারে?

    সভাসদরা তখুনি ছুটে এলো। উম্মাদ তখন লাঠি ঘুরিয়ে বললো, খবরদার, খবরদার, আমি বীর ত্রিস্তান। সাবধান! আমার সঙ্গে যুদ্ধ করবে এমন সাহস কার? এই বলেই সে মাটিতে ডিগবাজি খেতে লাগলো। তার অঙ্গভঙ্গি দেখে সভাসদরা ওকে মারার বদলে হেসেই কুটিকুটি। রানী তখন রাজার পোশাক চেপে ধরে বললেন, মহারাজ, আপনি ওকে চলে যেতে বলুন।

    রাজা তবু হাসতে লাগলেন। পাগল আবার বললো, রানী, আমকে চিনতে পারছেন না? সেই যে আমি ড্রাগনটাকে মারলুম? ওর জিভটা কেটে লুকিয়ে রেখেছিলুম মোজার মধ্যে। তারপর অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। হ্যাঁ, তখন একটা বীর ছিলাম বটে! আপনিই তো সেবার আমাকে বাঁচালেন। মনে পড়ে না?

    রানী ক্রুদ্ধভাবে বললেন, এই লোকটা ঐ সব বীরপুরুষের নাম উচ্চারণ করে তাদের অপমান করছে। কোথা থেকে ঐসব শুনে এসে মাতলামি শুরু করেছে এখানে। একটা মাতালের মাতলামি দেখে আমার মোটেই আনন্দ হয় না।

    উন্মাদ তখন হঠাৎ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। বললো, হ্যাঁ, রানী আমি মাতাল। সেই যে সেই এক গ্রীষ্মের বিকেল-সমুদ্রের বুকে-তুমি আর আমি এক সঙ্গে এক পাত্র থেকে মায়াবী আরব পান করেছিলাম-সেই থেকে আমি মাতাল। সারা জীবনের জন্য মাতাল। তোমার নেশা হয়তো কেটে গেছে-কিন্তু আমার নেশা মৃত্যুর আগে কাটবে না।

    পাগল আবার এমন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো-যে সভার সকলের নাম হেসে উপায় নেই। রাজাও হাসতে লাগলেন। রানী একাই সভা ছেড়ে চলে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। রাজা তাকে বসালেন হাত ধরে।

    রাজা বললেন, আমার সভায় বিদূষক নেই। তোমাকে আমার সভাসদ বানাতে হবে দেখছি। রানীকে ভালোবাসা ছাড়া তোমার আর কি কি গুণ আছে, হে?

    পাগল সঙ্গে সঙ্গে চোখ মুছে সোৎসাহে বললো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, মহারাজ, আমার মধ্যে আরও অনেক গুণ আছে। আমি ডিগবাজি খেতে পারি, আকাশে লাফ দিতে পারি, বীণা বাজাতে পারি, যুদ্ধ করতেও পারি। দেখবেন মহারাজ, দেখবেন?

    রাজা বললেন, থাক্, থাক্, আজ থাক্। পরে দেখবো। তুমি এখানেই থেকে যাও বরং।

    সভাভঙ্গ করে রাজা উঠে গেলেন রানীকে নিয়ে। তারপর একটা পাগল কোথায় থাকে না থাকে কে তার খোঁজ রাখে। সে রাজপুরীর সিঁড়ির নিচে, আস্তাবলে পড়ে রইলো। প্রহরীরা তাকে খোঁচাখুঁচি করে আনন্দ পায়।

    নিজের ঘরে ফিরে হু-হু করে কাঁদতে বসলো রানী। আয়ত চক্ষু দুটি রক্তবর্ণ হয়ে গেল। হাতের সোনার কাঁকন দিয়ে নিজের কপালে আঘাত করতে করতে বললেন, আমি ক্রীতদাসী। রানী নই। আমার চেয়ে দুর্ভাগিনী কেউ নেই এ পৃথিবীতে।

    বিরজাকে ডেকে বললেন, বিরজা, তুমি আমাকে একটু বিষ যদি দিতে পারিস আমি তোকে যথাসর্বস্ব দিয়ে যাবো। এ আমার কি অসহ্য জীবন! আজ আমি যা শুনলাম-সে কথা শোনার জন্যও আমাকে বেঁচে থাকতে হলো! যে-কথা ত্রিস্তান আমি আর তুই এই তিনজন ছাড়া কেউই জানে না- আমার সেই প্রিয়তম গোপন কথা-একটা জাদুকর কিংবা মায়াবী কিংবা ভাঁড় এসে সবার সামনে বলছে! জানি না ত্রিস্তান বেঁচে আছে কিনা! আমি তাকে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছি। সে অপমানই সহ্য করে গেছে। সে জানে না- আমার অনুতাপ। কিন্তু কোথা থেকে এই আপদ এসে জুটলো! ত্রিস্তানের নাম উচ্চারণ করে আমার বুক জ্বালিয়ে দিল! ওঃ আর পারি না-

    বিরজা বললো, তুমি একটা সামান্য পাগলকে দেখে এমন বিচলিত হচ্ছো কেন?

    —ওর দিকে তাকালেই আমার ভয় করে। আমার গোপন কথা ও কি করে…

    –রানী, হয়তো ও-ই ত্রিস্তান।

    —অসম্ভব! তুই দেখে আয় কি বিকট চেহারা ওর! ওটা কি মানুষ না জন্তু? তোমার কি মাথা খারাপ বিরজা! – সেই ত্রিস্তান, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরুষ, কন্দর্পকান্তি—তার সঙ্গে তুই ওর তুলনা করছিস! তুইও দূর হয়ে যা আমার চোখের সামনে থেকে।

    —হবে, ও হয়তো ত্রিস্তানের অনুচর। তার কাছ থেকে কোনো খবর এনেছে।

    –তা হলে তুই এখনও দাঁড়িয়ে আছিস কেন এখানে? যা দেখে আয়। ডেকে নিয়ে আয়। যা।

    সিঁড়ির নিচে বসে ছিল উন্মাদ। দূর থেকে বিরজাকে দেখেই আকুলভাবে উঠে দাঁড়িয়ে বললো, বিরজা, আমায় চিনতে পারো না!

    বিরজা ভয়ে পিছিয়ে এসে বললো, একি? তুই আমার নাম জানলি কি করে! সরে যা, অত কাছে আসিন না!

    —বিরজা, তুমিও আমাকে ভুলে গেছ। একদিন নিজের লজ্জা বিসর্জন দিয়ে তুমি বাঁচিয়েছিলে আমাকে আর সোনালিকে। আর আজ-

    —কে তুই? কি করে জানলি এ কথা?

    —বহুদিন থেকে জানি। বিরজা, আমাকে দয়া করো, একবার আমাকে রানীর কাছে নিয়ে যাও। মনে নেই, তোমার সেই লুকনো কলসি থেকে মায়াবী আরব পান করেছিলাম একদিন। সেদিন তুমি বলেছিলে ভালোবাসা মানেই মৃত্যু। আমার আর সোনালির ভালোবাসা আর মৃত্যু একসঙ্গে জড়ানো। বিরজা আমাকে দয়া করো।

    বিরজা ভয়ে কাঁপতে লাগলো! একি দারুণ কথা এই উন্মাদের মুখে! একথা তো ত্রিস্তান ছাড়া আর কারুর পক্ষে কিছুতেই জানা সম্ভব নয়। কিন্তু এই বীভৎস লোকটা কি করে ত্রিস্তান হয়। যদি ত্রিস্তান হয়ও, তাহলে তো টের পেলে প্রহরীরা যে-কোনো মুহূর্তে ওকে খুন করবে।

    বিরজা দ্বিধার মধ্যে দাঁড়িয়ে দুলতে লাগলো। তারপর আর কিছু ঠিক করতে না পেরে-ফিরে এলো রানীর ঘরের দিকে। পাগলও ছুটে এলো তার পিছনে পিছনে তারপর দরজার কাছে রানীকে দাঁড়ানো দেখে-বুক-ফাটা আওয়াজে ‘সোনালি’ বলে চেঁচিয়ে এগিয়ে গেল দু’হাত বাড়িয়ে।

    ভয়ে, ঘৃণায়, কুঁকড়ে সোনালি পিছিয়ে গেলেন দেয়ালের দিকে।

    উন্মাদ তখন থমকে দাঁড়ালো। তারপর দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললো, সোনালির ঘৃণাও আমাকে দেখতে হলো শেষ পর্যন্ত। কোনোদিন ভাবিনি, সে আমাকে দেখে ভয় পেয়ে সরে যাবে। অথচ, সে বলেছিল আমার ডাকে সে কোনোদিন সাড়া দিতে ভুলবে না! সোনালি, ভালোবাসা এত সহজে মরে যায়? নদীতে যখন জল থাকে—সেই জল দু’কূল ছাপিয়ে যায় তখনই তা নদী। আর সব জল শুকিয়ে গিয়ে যখন শুকনো নদীটা পড়ে থাকে তখনও সেটা নদীর আকৃতি। কিন্তু তখন আর সেটা নদী নয়। সোনালি, ভালোবাসাহীন জীবন কি জীবন?

    সোনালির এক পা এক পা করে এগিয়ে এসে বললেন, পাগল, তুমি যেই হও, কেন তুমি আমাকে কষ্ট দিতে এসেছো? কেন তুমি আমাকে অপমান করছো? তুমি যখন এত খবর জানো তখন তুমি নিশ্চয়ই ত্রিস্তানের খবরও জানো। বলো, সে কেমন আছে?

    পাগল ধীর স্বরে বললো, রানী, ত্রিস্তান জীবন্মত। সে বেঁচে আছেও বলতে পারো, অথবা মরে গেছে তাও ভাবতে পারো।

    —কোথায় ত্রিস্তান? সে কোথায়?

    —সোনালি, তুমি তাকে চিনতে পারলে না?

    —না, না, না, তুমি ত্রিস্তান নও! তুমি নও! তোমার প্রমাণ কোথায়? কোথায় সেই সবুজ আংটি? অথবা এ বাড়ির কুকুর হুড়িন, তাকে ডাকি? সে ত্রিস্তান ছাড়া আর কেউ সামনে গেলেই কামড়াতে আসে- সে তোমায় চিনতে পারবে?

    উন্মাদ তখন বিষাদে শান্ত হয়ে বললো, না রানী, কোনো প্রমাণ থাক! হৃদয় যখন হৃদয়কে টানে না তখন আর প্রমাণে কি হবে? তুমি নিজে আমায় চিনতে পারলে না-আর সেই কুকুরের চেনা-তুমি স্বীকার করতে চাও। সোনালি, ভালোবাসা কি শুধু রূপে? আজ আমার বাইরের রূপ দেখে তোমার ঘৃণা? আমি কি শুধু রুপের জন্য তোমায় ভালোবেসেছিলুম? তবে, তোমার বাবা যখন তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন-আমি কেন তখুনি বিয়ে করিনি? আমি তো তখুনি তোমায় নিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে পারতুম। সোনালি, ভালোবাসা চামড়ার নিচে থাকে। ওপরে নয়। সেই ভালোবাসার জন্যই আমি তোমাকে ছাড়া অন্য কোনো নারীকে স্পর্শ করতে পারিনি।

    রানী তখন উন্মাদিনীর মতন নিজের মাথার সোনালি চুল ছিঁড়তে লাগলেন। এক টানে খুলে ফেললেন নিজের পোশাক। তাঁর সাদা পায়রার মতো দুটি বুক গভীর নিঃশ্বাসে দুলতে লাগলো। চোখে জল, কিন্তু বিকৃতভাবে হেসে দু’হাত বাড়িয়ে বললেন, তবে নাও, গ্রহণ করো আমাকে। যদি তুমি ত্রিস্তান হও, আমার এই শরীরটা পিষে দাও তোমার বুকে। যদি তুমি ত্রিস্তান হও, তবে বুঝতে পারবে, তাকে না পেয়ে আমার বুকে কি আগুন জ্বলছে। আমাকে নিয়ে যাও যেখানে ত্রিস্তান একদিন আমাকে নিয়ে যাবে বলেছিলো, সেই দেশে-যেখানে আছে শ্বেতমর্মরের দুর্গ, যার এক হাজার ঘরের জানালা-দরজায় আলো জ্বলে-যেখানে অন্তহীন পাখির গান, যেখান থেকে আর কেউ কখনো ফেরে না। আমাকে নিয়ে যাও-ধরো আমাকে, যদি সত্যিই তুমি ত্রিস্তান হও। কিন্তু সাবধান, যদি তুমি ত্রিস্তান না হও- সাবধান, সাবধান, সে ছাড়া আর কেউ সত্যিকারের আমাকে পায়নি। এসো, তুমি যদি ত্রিস্তান হও, এসো-

    উন্মাদ শান্ত স্বরে বললো, যদি নয়, আমার নাম ধরে ডাকো –

    রানী সেখানে দাঁড়িয়ে দুলতে দুলতে দুলতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। উন্মাদ নিজের জায়গাতেই চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। সে নিচু হয়ে রানীকে ধরতে গেল না। তার মুখ অদ্ভুত উদাসীন। একটু পরেই সোনালির আবার জ্ঞান হলো। লাল, অস্থির চোখ মেলে সেই উন্মাদকে দেখেই বিষম চমকে উঠলেন। সম্পূর্ণ অসংবদ্ধ গলায় চেঁচিয়ে উঠলেন, মায়াবী! জাদুকর! শয়তান! আর একটু হলেই আমাকে ভুলিয়েছিল! কে কোথায় আছ? বাঁচাও! বাঁচাও! প্রহরী! প্রহরী! এ আমাকে খুন করতে এসেছে-এ ত্রিস্তানকে খুন করেছে-আমাকেও মারবে, বাঁচাও, বাঁচাও!

    মুহূর্তে ছুটে এলো প্রহরীরা। সোনালি উন্মাদের দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, একে নিয়ে যাও। মেরে ফেলো, যা ইচ্ছে করো, দূর করে দাও আমার চোখের সামনে থেকে। দূর করে দাও!

    প্রহরীরা সঙ্গে সঙ্গে বেঁধে ফেললো উন্মাদকে। সে একটুও প্রতিবাদ করলো না। ওরা তখুনি টানতে টানতে ওকে নিয়ে এলো দুর্গের বাইরে। প্রচুর লাথি-ঘুষি মেরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে গেল সমুদ্রের পাড়ে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleখুনের রঙ – সম্পাদনা: সমরেশ মজুমদার, অনীশ দেব
    Next Article কালোঘোড়া – সরোজকুমার রায়চৌধুরী

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    চলো দিকশূন্যপুর – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রথম আলো ২ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 4, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    উদাসী রাজকুমার – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    August 3, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুখ অসুখ – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    July 31, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }