Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ৩ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    July 14, 2026

    অথ রম্যকথা – অনন্যা পাল

    July 14, 2026

    অদ্ভুতুড়ে সিরিজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    July 13, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অপারেশন কোডেক্স : ডান্স অফ দ্য ডেভিল – রণদীপ নন্দী

    রণদীপ নন্দী এক পাতা গল্প221 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    (২) দ্য হোলি সিটি

    (২) দ্য হোলি সিটি

    সেপ্টেম্বর, ১৩০৭। জেরুসালেম:

    রাত্রি নেমেছে। চাঁদের রুপোলি আলো ধূসর পাথুরে রাস্তায় পথ হারাচ্ছে। লিও দৌড়োনো থামিয়ে মাথার উপর কালো আকাশের এককোণে বিরাজমান দ্যুতিময় চাঁদের খণ্ডটার দিকে তাকাল। প্রায় গোলাকার আকৃতিটা যেন একপাশে ঈষৎ চাপা। পূর্ণিমা অনতিদূর। লিও রাস্তার এককোণে নতজানু হয়ে বসে পড়ে দ্রুত শ্বাস নিতে থাকে। ভোরের আলো ফোটার আগেই তাকে খবরটা পৌঁছে দিতে হবে গ্র্যান্ডমাস্টারের কাছে। নইলে ঘটে যাবে চরম অনর্থ। সে কথা মনে পড়তেই আতঙ্কের হিমেল স্পর্শ যেন স্থবির করে দেয় লিওকে। মনে হয়, একটা অশুভ কালো কুয়াশার চাদরে যেন সে বন্দি হয়ে পড়ছে ক্রমশ। এক মায়াবী ক্লান্তি এসে গ্রাস করছে ওকে ধীরে ধীরে। পা দুটো যেন কেউ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে, ঠিক যেমন বিশালকায় মহিরুহ তার শিকড় মাটির গভীরে রোপণ করে অবলীলায়, ঠিক তেমনই ওর পা দুটো যেন নিশ্চল হয়ে প্রোথিত এই মায়াবী শহরের চন্দ্রালোকিত রাস্তায়। কিন্তু আজ থামলে চলবে না। বিশ্রামের বিলাসিতা আজকের জন্য মুলতুবি থাক। সমস্ত সৃষ্টির সামনে মহাবিপদ আসন্ন। অবসন্ন শরীরের সমস্ত শক্তিটুকু একত্রিত করে ফেব উঠে দাঁড়ায় লিও। মাথা নীচু করে দুই হাত দুই হাঁটুর ওপর রেখে মুহূর্তকাল বিশ্রাম নিয়ে নেয়, তারপর আবার পূর্ণ উদ্যমে নিজের অভীষ্ট গন্তব্য অভিমুখে ছুটে চলে শুনশান রাস্তা ধরে।

    .

    পবিত্র শহরের একদম প্রাণকেন্দ্রে দৈত্যবৎ মাথা উঁচু করে দণ্ডায়মান এক বিশাল দুর্গ। চারপাশে উঁচু দুর্ভেদ্য প্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত সেই দুর্গ দুর্ধর্ষ নাইটস টেম্পলারদের সদর দপ্তর। দুর্গের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে লম্বা করিডর। মেঝেতে পশুর চামড়ার পুরু কার্পেট পাতা। দু-পাশে পাথরের উঁচু দেওয়ালে নাইটস টেম্পলারদের প্রতীক পবিত্র ক্রুশ চিহ্ন খোদাই করা। সামান্য তফাতে দেওয়ালে লোহার আংটা থেকে ঝুলন্ত খাপে জ্বলন্ত মশাল রাখা রয়েছে। দুর্গের অভ্যন্তরের নিকষকালো অন্ধকার সেই আলোয় সম্পূর্ণ প্রশমিত হয়ে উঠতে পারেনি। তবে ওই টিমটিমে হলুদ আলোয় দুর্গের ভিতরের সরু অলিগলি ধরে এগিয়ে যেতে অসুবিধে হচ্ছে না জর্জের। অবশ্যই এর একটা কারণ হল জন্মাবধি জর্জ এখানেই মানুষ। সে যখন খুব ছোট, একটা জ্বলন্ত কুটির থেকে তাকে উদ্ধার করেন টেম্পলারদের পূর্বতন জেনারেল অলিভার। তাদের গ্রামের দখল নেওয়ার পর গ্রামের কুটিরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয় সুলতানের সেনাবাহিনী। অতর্কিত আক্রমণের খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে সেই বর্বরদের হাত থেকে অধিকাংশ গ্রামবাসীকেই উদ্ধার করেন টেম্পলাররা। কিন্তু ছোট্ট জর্জের ভাগ্য সেইদিন সুপ্রসন্ন ছিল না। ধিকিধিকি আগুনে জ্বলতে-থাকা পর্ণকুটির থেকে পিতৃমাতৃহীন অসহায় শিশুটাকে পরম মমতায় কোলে তুলে নেন অলিভার। অতঃপর সে এখানেই মানুষ। এরাই তার পরিবার। কৈশোরের বাধা কাটিয়ে যৌবন এলে সে-ও তুলে নেবে টেম্পলারদের পবিত্র ক্রুশ অঙ্কিত তলোয়ার, বর্ম। শামিল হবে পবিত্র ক্রুশের সম্মানরক্ষার্থে তুর্কি সুলতানের বিশাল সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে তিনশো বছর ধরে চলে-আসা রক্তক্ষয়ী ক্রুসেডে।

    জর্জের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে বারবার পিছিয়ে পড়ছে লিও। দু-পাশে দুর্গের মসৃণ ধূসর পাথরের দেওয়াল সোজা উঠে গিয়ে মাথার উপরে অন্ধকারে মিশেছে। নিবুনিবু মশালের ক্ষীণ আলো দুর্গের উঁচু ছাদ অবধি পৌঁছোয় না। মাথার ওপর জমাট বাঁধা কালচে অন্ধকারকে খোলা কালো আকাশ বলে ভ্রম হচ্ছে। বেশ কিছু অলিগলি পেরিয়ে এসে একটা চওড়া দালান, চারপাশে মোটা মোটা থাম, উঁচু খিলান। সবশেষে একটা বিশাল দরজা। চওড়া কাঠের পাল্লায় অপূর্ব সূক্ষ্ম কারুকার্য। তাতে খোদাই-করা ধাতব ক্রুশ চিহ্ন মশালের লালচে আলোয় চকচক করছে। জর্জ দরজার সামনে এসে ইশারায় অপেক্ষা করতে জানায়। এটা টেম্পলারদের প্রার্থনাকক্ষ। প্রার্থনা চলাকালীন কাউকে বিরক্ত করা এখানে অমার্জনীয় অপরাধ। কিন্তু লিওর অপেক্ষা করার মতো ধৈর্য নেই, সে উত্তেজনায় মাটিতে জুতো ঠুকতে থাকে অস্থিরভাবে, মুখে একরাশ উৎকণ্ঠা। নিস্তব্ধ কামরায় সেই সামান্য ঠুকঠুক আওয়াজও বড় শ্রুতিকটু। জর্জ ভৎসনার দৃষ্টিতে তাকায় লিওর দিকে। লিও অপ্রস্তুতভাবে সামান্য হাসে, জর্জ প্রত্যুত্তর না দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেয়। অবশেষে প্রার্থনাকক্ষের দরজা খুলে যায়। মুহূর্তে করিডর ভরে যায় ঝিম-ধরানো অপূর্ব এক সুগন্ধে। ভিতর থেকে তিনবার ঢংঢং শব্দে সুরেলা ঘণ্টাধ্বনি শোনা যায়। এক দুই তিন… একে একে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতে থাকেন নাইটরা। সব শেষে বেরিয়ে আসেন গ্র্যান্ডমাস্টার জ্যাক ডে মোলে। শীর্ণ দীর্ঘকায় চেহারা। শ্বেতশুভ্র দাড়ি, তীক্ষ্ণ নাক, প্রশস্ত কপাল। চেহারায় বার্ধক্য থাবা বসালেও চোখের মণি অসম্ভবরকম স্থির, গভীর, বুদ্ধিদীপ্ত। সমস্ত মুখমণ্ডল জুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি খেলা করে বেড়ায়। পরনে শ্বেতবস্ত্রে অনাড়ম্বরতা স্পষ্ট। অবশ্য নাইটস টেম্পলার পবিত্র চার্চের পরেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা ধনী প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তার অধীনে থাকা নাইটরা অসম্ভবরকম অনাড়ম্বর এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপন করেন। তাঁরা তাঁদের জীবন সমর্পণ করেছেন পবিত্র খ্রিস্টধর্মের রক্ষার্থে। শৌখিনতা, বিলাসিতা, প্রেম, প্ৰণয়—সবকিছু তাঁরা ত্যাগ করেছেন এক লহমায়। ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই পবিত্র শহরে আগত তীর্থযাত্রীদের সুরক্ষার নিমিত্তে আজ থেকে তিনশো বছর আগে তৈরি হওয়া এই সামরিক বাহিনী আজ সমস্ত বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে অবলীলায়। তারা অপরাজেয়, দুর্জয়, দুর্দম। তারা কোনও সিংহাসনকে কর দিতে বাধ্য নয়, এমনকি পবিত্র চার্চ ছাড়া অন্য কাউকে তাদের কৃতকর্মের কৈফিয়ত দিতেও বাধ্য নয়।

    লিওকে দেখে স্মিত হাসলেন জ্যাক। ফ্রান্সের রাজকোষাগারের প্রধান হিসাবরক্ষক রাফায়েলের সহকারী এই ছেলেটা জ্যাকের বিশেষ স্নেহধন্য। ফ্রান্সের রাজকোষের নিয়মিত বার্ষিক ব্যয়ের সিংহভাগই আসে টেম্পলারদের থেকে নেওয়া ঋণের অর্থে। সেই সূত্রে টেম্পলারদের সদর দপ্তর এই টেম্পল মাউন্টে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে লিওর। কিন্তু আজ সূর্যোদয়ের পূর্বে লিওকে বিনা পরিকল্পনায় এইভাবে ছুটে আসতে দেখে বৃদ্ধ কিঞ্চিৎ বিস্মিত হলেন। তিনি মহাজ্ঞানী। মানুষকে একঝলক দেখে তার মন পড়ে নিতে পারেন অবলীলায়। লিওর মনের মধ্যে বয়ে চলা উদবেগ এবং উৎকণ্ঠার ঝড় তার শরীরী পরিভাষায় স্পষ্ট। মুখমণ্ডলের প্রত্যেকটা অভিব্যক্তিতে ফুটে উঠছে উত্তেজনা। বৃদ্ধ চোখের ইশারায় একটু দূরে রাখা দুটো নীচু আসনের একটাতে লিওকে বসতে বললেন। অন্যটাতে নিজে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে স্থির অথচ দৃঢ় কণ্ঠে লিওকে প্রশ্ন করলেন, “কী ব্যাপার, লিও? এই অসময়ে তুমি! বড্ড বিধ্বস্ত লাগছে তোমায়।”

    “সর্বনাশ উপস্থিত, মহামান্য। রাজকোষের সঞ্চয় তলানিতে এসে ঠেকেছে। আপনাদের থেকে নেওয়া ঋণ শোধ করার সামর্থ্য রাজার আর নেই। এখন তার দৃষ্টি এসে পড়েছে আপনাদের বৈভবের ওপর। তাই কৌশলে আপনাদের মিথ্যা অপবাদে অভিযুক্ত করে আপনাদের গৌরব কালিমালিপ্ত করে টেম্পলারের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্রূর পরিকল্পনা করছেন তিনি।” একনিশ্বাসে এতগুলো কথা বলে হাঁপাতে লাগল লিও।

    “বিগত তিনশো বছরে কম রাজা, কম সুলতান চেষ্টা করেননি টেম্পলারকে ভেঙে গুঁড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে। কিন্তু আমরা সেইসব আক্রমণ প্রতিহত করে এসেছি সফলতার সঙ্গে। প্রত্যেকটি আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে আমাদের ভিত্তি। আরও মজবুত হয়েছে আমাদের সংকল্প। তা ছাড়া পবিত্র ঈশ্বর আমাদের ওপর প্রসন্ন, চার্চের আশিস রয়েছে আমাদের মাথায়।”

    এত দূর বলে সামান্য বিরতি নিলেন বৃদ্ধ। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “তুমি আজকের দিনটি এখানেই বিশ্রাম নাও। আর সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকো, অশুভ শক্তি যতই মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক, শুভশক্তির কাছে তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।”

    প্রার্থনাকক্ষ বামদিকে ছেড়ে লম্বা করিডর ধরে খানিকটা এগিয়ে নিজের কক্ষে প্রবেশ করলেন জ্যাক। নিতান্তই ছোট কক্ষ। অতি সামান্য কিছু আসবাব। দরজা দিয়ে ঢুকেই ডানদিকে একটা খাট, তাতে জীর্ণ হয়ে আসা একখণ্ড কাপড় পাতা। খাটের লাগোয়া একটা নীচু টেবিল, আর একটা আসন। টেবিলের ওপর বেশ কিছু পুথি, দরকারি-অদরকারি কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ঘরের অন্য প্রান্তে একটা লোহার তোরঙ্গ, তাতে পিতলের সূক্ষ্ম কাজ। নিজকক্ষে প্রবেশ করেই সেই নীচু আসনে উপবিষ্ট হলেন জ্যাক। টেম্পলারদের গ্র্যান্ডমাস্টারদের মধ্যে তিনিই সর্বকালের সেরা — এ কথা একবাক্যে স্বীকার করে তাবৎ বিশ্ব। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি নিজের স্নায়ু সামান্যতম শিথিল হতে দেননি। কিন্তু আজ তাঁকে ভীষণ চিন্তিত, ভীষণ উৎকণ্ঠিত দেখাচ্ছে। লিওকে আশ্বস্ত করার জন্য তিনি মুখে যা-ই বলে থাকুন-না কেন, তিনি জানেন বাইরের শতসহস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ করা অপেক্ষা অন্তর্বর্তী আঘাত প্রতিহত করা শতগুণে কঠিন।

    কিছুক্ষণ পরে কক্ষে প্রবেশ করেন আন্দ্রে, নাইট টেম্পলারদের বর্তমান জেনারেল। দোর্দণ্ডপ্রতাপ যোদ্ধা, জ্যাকের অতীব বিশ্বস্ত। পিছনে পদশব্দ পেয়ে ফিরে তাকান বৃদ্ধ। আন্দ্রেকে চোখের ইশারায় দরজা বন্ধ করতে বলেন। আন্দ্রে ভিতর থেকে দরজার আগল লাগিয়ে জ্যাকের সামনে এসে বসেন। বৃদ্ধ নিশ্চুপ। আন্দ্রে বেশ কিছুক্ষণ বৃদ্ধের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার পর গলার স্বর খাদে নামিয়ে প্রশ্ন করেন, “কী ব্যাপার, মাননীয়? আপনাকে বড় বিব্রত দেখাচ্ছে!”

    জ্যাক উত্তর দেন না। শুধু মৃদু হাসেন। সে হাসি নিষ্প্রাণ, উদবেগপূর্ণ। বেশ কিছুটা বিরতি নিয়ে কতকটা স্বগতোক্তির স্বরে বলেন, “আমাদের গৌরবের দিন বোধহয় আজ ফুরিয়ে এসেছে, আন্দ্রে। রাজা চতুর্থ ফিলিপ আমাদের বিরুদ্ধে সর্বনাশা চক্রান্তে লিপ্ত। আমি কালই রওনা হচ্ছি প্যারিসের অভিমুখে। ওখানে আমাদের কার্যালয়ের সমস্ত নাইটের সামনে সমূহ বিপদ আসন্ন। এই সময় আমার প্রধান কর্তব্য হতে চলেছে সেখানে ফিরে গিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো। এই বিষয়ে একবার মহামান্য পোপের সঙ্গে আলোচনা করা অত্যাবশ্যক। অবশ্য সত্যিই জানি না, আমি আবার এই পবিত্র শহরে ফিরে আসতে পারব কি না। জানি না কী ভয়ংকর পরিণাম, কী দুঃসহ পরিণতি নেমে আসতে চলেছে নাইটস টেম্পলারদের ওপর। জানি না আজ থেকে হাজার বছর পর মানুষ আদৌ জানবে কি না এতগুলো মানুষের নিঃস্বার্থ ত্যাগস্বীকারের গল্প। তাদের জীবন, তাদের ভালোবাসা, সংসার, সুখস্বাচ্ছন্দ্য সবকিছু ত্যাগ করে পবিত্র ঈশ্বরের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার মহান ব্রত। হয়তো ইতিহাসের পাতা থেকে ছিঁড়ে ফেলা হবে সেসব তথ্য। কিংবা হয়তো মানুষের মনে রোপণ করা হবে কোনও মিথ্যে ইতিহাস। হয়তো টেম্পলারদের বিকৃত কালিমালিপ্ত কাহিনি মানুষের মুখে মুখে ফিরবে। হয়তো ভবিষ্যৎ তাদের চিনবে নির্মম হৃদয়হীন শয়তানের প্রতিভূ হিসেবে। তবু লড়াই এখনও অনেক বাকি। আমি কথা দিচ্ছি, আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দুটুকুও নাইট টেম্পলারদের গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখতে লড়ে যাবে। তবু যদি শেষরক্ষা না হয়, তাই আজ তোমাকে একটা দায়িত্ব দিয়ে যেতে চাই। আমি জানি, এই সমগ্র মহাবিশ্বে সে গুরুদায়িত্ব পালন করার মতো ক্ষমতা একমাত্র তোমারই রয়েছে।”

    উৎসুক দৃষ্টিতে গ্র্যান্ডমাস্টারের দিকে তাকান আন্দ্রে। কী সেই গুরুদায়িত্ব! ইশারায় তাঁকে অনুসরণ করতে বলে নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন জ্যাক। বেরিয়েই লম্বা বারান্দা। সেই বারান্দা পেরোলে ডান হাতে ঠিক তিনটে ঘরের পর টেম্পল মাউন্ট-এর সেই বিখ্যাত গ্রন্থাগার। কথিত আছে, সমগ্র ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যে এত বড় এবং দুর্লভ, দুষ্প্রাপ্য সব পুথির সংগ্রহশালা আর দ্বিতীয়টি নেই। গ্রন্থাগারে তখন একাধিক ছাত্র অধ্যয়নে নিমগ্ন। মাননীয় গ্র্যান্ডমাস্টার এবং জেনারেলকে ঢুকতে দেখে তারা সমবেতভাবে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করে। জেনারেল আন্দ্রে ইশারায় তাদের গ্রন্থাগার ত্যাগ করার আদেশ দেন। গ্রন্থাগার জনশূন্য হওয়ার পর জ্যাক উঁচু উঁচু আলমারির গোলকধাঁধা পেরিয়ে উত্তর-পূর্বদিকে এগিয়ে চলেন একটা নির্দিষ্ট দেওয়াল লক্ষ করে। দেওয়াল জুড়ে বিশাল আলমারি। তাতে থরে থরে সাজানো দুষ্প্রাপ্য সব পুথি। বৃদ্ধ নীচু হয়ে বসে পড়ে ডানদিকের একদম নীচের তাকে পুথিগুলি একে একে সরিয়ে ফেলতে শুরু করেন। আস্তে আস্তে পিছনে পাথরের দেওয়াল দেখা যায়। দেওয়ালে ছোট ছোট বর্গাকার পাথরের গাঁথনির মাঝে সরু খাঁজ। সেই খাঁজের ওপর আঙুল বুলিয়ে যেন কিছু খুঁজে চলেছেন জ্যাক। অবশেষে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় এসে আঙুল বোলানো থামিয়ে নখের সামান্য আঁচড়ে পাথরের খাঁজে জমে-থাকা আলগা মাটি সরিয়ে ফেলেন। দুটো বর্গাকার পাথরের খাঁজে একটা সরু ছিদ্র। মাথা নীচু করে গলায় পরে-থাকা রুপোর ক্রুশটা হার সমেত খুলে হাতে নিয়ে সেটা মাথায় ঠেকিয়ে অস্পষ্ট স্বরে প্রার্থনা সেরে পবিত্র ক্রুশটাতে চুম্বন করেন বৃদ্ধ। তারপর ক্রুশটার সরু লম্বা দিকটা কতকটা চাবির মতো ঢুকিয়ে দেন ওই ছিদ্রে। এইবার সামান্য চাপ প্রয়োগ করতেই একটা ধাতব যান্ত্রিক আওয়াজ শোনা যায়। পরমুহূর্তে গুরুগম্ভীর শব্দ করে ওই বর্গাকার পাথরের টুকরোগুলো দেয়ালের ভেতরদিকে ক্রমশ ঢুকে গিয়ে একটা গহ্বর সৃষ্টি করে। সেই গহ্বরে হাত ঢুকিয়ে জ্যাক বের করে আনেন একটি বিশালাকৃতি পুথি এবং একটা ছোট্ট ধাতব বাক্স প্রথমেই বাক্সটা খুলতে দেখা যায় তার ভিতরে শায়িত রয়েছে বিঘতখানেক দৈর্ঘ্যের একটা পেরেক। পেরেকটা হাতে নিয়ে শ্রদ্ধাভরে মাথায় ঠেকিয়ে দু-হাত প্রসারিত করে আন্দ্রের সামনে তুলে ধরেন বৃদ্ধ। আন্দ্রে সেটাকে চিনতে পারেন এক লহমায়। এই সেই পবিত্র পেরেক, যেটা স্বয়ং জিশুখ্রিস্ট ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার সময় তাঁর চরণে প্রোথিত হয়েছিল। পেরেকটা এর আগেও অনেকবার দেখেছেন আন্দ্রে। প্রত্যেক বছর বার্ষিক অনুষ্ঠানের সময় যখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে নতুন নাইট নিয়োগ করা হয়, গ্র্যান্ডমাস্টার এই পেরেকটা জনসমক্ষে আনেন। সেইদিন সারাদিন প্রার্থনাকক্ষে সেটা রাখা থাকে। নব্যনিযুক্ত নাইটরা ওই পবিত্র পেরেক ছুঁয়ে খ্রিস্টধর্ম এবং সেই ধর্মের অনুসারীদের রক্ষাকর্তা রূপে শপথ নেয়। অবশেষে অনুষ্ঠানের পর গ্র্যান্ডমাস্টার পেরেকটা আবার গোপন জায়গায় সযত্নে তুলে রাখেন। শুধুমাত্র গ্র্যান্ডমাস্টার ছাড়া আর কারও অধিকার নেই এই পবিত্র পেরেকের সন্ধান জানার। কিন্তু পুথিটা আন্দ্রের কাছে একেবারেই অচেনা। তাই সেদিকেই একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকেন আন্দ্রে। লম্বায় প্রায় তিন ফুট, প্রস্থেও ফুট দেড়েকের কম নয়। এত বড় পুথি তিনি এর আগে সচরাচর দেখেননি। পশুর চামড়ার বাঁধাই, তার উপর ছোট ছোট ধাতব টুকরোর অপূর্ব কারুকার্য। একটা একটা করে পৃষ্ঠা ওলটাতে থাকেন আন্দ্রে। রঙিন বড় হরফে লেখা, মাঝে মাঝে অপূর্ব সব অলংকরণ। পৃষ্ঠায় হাত বুলিয়েই আন্দ্রে বোঝেন, পৃষ্ঠাগুলো তৈরি হয়েছে গাধার চামড়া থেকে। কয়েকটা পৃষ্ঠা ওলটানোর পরেই এক জায়গায় এসে ভীষণ চমকে স্থবির হয়ে যান আন্দ্রে। ভয়ে, আকস্মিকতায় তাঁর দমবন্ধ হয়ে আসে। কম্পিত কণ্ঠে বৃদ্ধের দিকে তাকিয়ে তিনি বলে ওঠেন, “মাননীয়, আমি যা ভাবছি, এটা কি তা-ই?”

    স্মিত হাসেন বৃদ্ধ। বলেন, “হ্যাঁ। এই সেই অভিশপ্ত পুথি, যা ভুল মানুষের হাতে পড়লে ঘটে যেতে পারে অনর্থ। কথিত আছে, হারমান নামক এক সন্ন্যাসী কোনও কারণে একবার রাজার বিরাগভাজন হওয়ায়, রাজা সেই সন্ন্যাসীকে দুই দেওয়ালের মাঝে জীবন্ত বন্দি করার আদেশ দেন। সে বড় ভয়ানক শাস্তি। বন্ধ দেওয়ালের ভিতর আলো, বাতাস এবং খাদ্যাভাবে তিলে তিলে মৃত্যুবরণ করার মতো যন্ত্রণাদায়ক পরিণতি বড় কমই আছে। নিরুপায় সন্ন্যাসী রাজার কাছে আবেদন করেন যে, তাঁর প্রাণের বিনিময়ে তিনি তাঁর সমস্ত প্রজ্ঞা একরাতের মধ্যে একটামাত্র পুথিতে লিপিবদ্ধ করে রাজার কাছে নিবেদন করবেন। কিন্তু পুথি লেখা শুরু করার সামান্যকাল পরেই হারমান উপলব্ধি করেন যে তাঁর গভীর প্রজ্ঞা একটামাত্র পুস্তকে একরাতের মধ্যে লিপিবদ্ধ করা কার্যত অসম্ভব। অবশেষে নিরুপায় হারমান সাহায্য চান স্বয়ং শয়তানের কাছে। শয়তান হারমানের প্রার্থনায় সারা দিয়ে সশরীরে নেমে আসেন পৃথিবীতে, এবং একটা মাত্র রাতেই রচিত হয় এই পুথি যা বিশ্বের দরবারে শয়তানের বাইবেল রূপে খ্যাত। কিছুকাল পূর্বে টেম্পলাররা জীবনের বাজি রেখে এই পুথিটি উদ্ধার করেন। এইবার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, কেন এই মহাদায়িত্ব আমি তোমাকেই সঁপতে চাইছি। এই পুথি এবং এই পবিত্র পেরেক এখন থেকে তোমার হেপাজতে রইল।”

    উত্তর দেন না আন্দ্রে। নির্বাক দৃষ্টি নিবদ্ধ সামনে খোলা পুথিটার দিকে। মুখ রক্তশূন্য, অভিব্যক্তিতে আতঙ্ক আর বিস্ময়ের মিশেল। খোলা পুথির এক পৃষ্ঠায় আঁকা পবিত্র জেরুসালেম শহর, অন্য পৃষ্ঠায় আঁকা উনিশ ইঞ্চি লম্বা শয়তানের অবয়ব। মাথার দু-পাশে উদ্যত শিং, হাতে-পায়ে চারটে করে আঙুলে তীক্ষ্ণ নখর, মুখের ভিতর থেকে বেরিয়ে-আসা লম্বা দুটো জিহ্বা লাল রক্তে রঞ্জিত। পরনে সিংহের চামড়ার তৈরি পোশাক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবিশ্বাসঘাতকের সন্ধানে – অভীক দত্ত
    Next Article শব্দ পড়ে টাপুর টুপুর – নবনীতা দেবসেন
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ৩ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    July 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ৩ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    July 14, 2026
    Our Picks

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ৩ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    July 14, 2026

    অথ রম্যকথা – অনন্যা পাল

    July 14, 2026

    অদ্ভুতুড়ে সিরিজ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    July 13, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }