Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প321 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    দীর্ঘ প্রতীক্ষা – অর্পিতা সরকার

    দীর্ঘ প্রতীক্ষা

    সুজাতা যেদিন মা হয়েছিল সেদিন ওর বয়েস মাত্র সাত বছর। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতেই ওর মা ওকে একটা ছোট্ট পুতুল ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল, তুই মেলা থেকে চোখ নাড়া পুতুল কিনতে চেয়েছিলিস না? এই নে, আজ থেকে একে নিয়ে খেলবি। মা তার মানে ওর জন্য পুতুল কিনতেই দিন পাঁচেক বাড়িতে ছিল না। তবে যে কাকিমা বলেছিল, তোর ভাই হবে, তোকে আর তোর মা আদর করবে না। ইস, কাকিমা শুধু ফালতু কথা বলে। মা ওকে কত ভালোবাসে, ওর পুতুল কিনতেই মা বাইরে গিয়েছিল। সুজাতা অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখেছিল ফুটফুটে পুতুলটার দিকে। একমাথা কালো কুচকুচে চুল, লালচে ঠোঁট, আঙুলগুলো অবধি নড়ছে। সুজাতার পুতুলের সংসারে সবচেয়ে সুন্দরী হল মেঘমালা। যার নীলচে চোখ, মেমদের মতো গাউন পরানো। ওর পাত্র খুঁজতে খুঁজতে সুজাতা হয়রান হয়ে গিয়েছিল। এমনকী সুজাতার কাকার মেয়ে শোভনার ছেলের সঙ্গেও বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু শোভনা বিয়েতে বরপণ হিসাবে চেয়েছিল ওর একমাত্র ঘোড়ার গাড়িটা। তাই মেঘমালার আর বিয়ে দেওয়া হয়ে ওঠেনি।

    বিয়ে ব্যাপারটা সুজাতার ভারী মিষ্টি লাগে। কী সুন্দর বেনারসি পরে, গয়না পরে সাজে। মাথায় থাকে ফুলের মুকুট। সবাই কত কী ভালো ভালো খায়, তাই বিয়েটা ওর খুব পছন্দের। দিনরাত পুতুলের বিয়ে দেয় ও। বাবা বলেছে, খুব তাড়াতাড়ি সুজাতারও নাকি বিয়ে দিয়ে দেবে। বেশ মজা হবে। ও বরকে কত কী রান্না করে দেবে। বালি দিয়ে ভাত রাঁধবে, পাতার তরকারি করবে, হাজার কাজ থাকবে তখন ওর। কোলের পুতুলটাকে বসাতে যেতেই মা হা হা করে উঠে বলেছিল, এখুনি নয় সুজি, আর দুদিন পরে বসবে ও। মনখারাপ হয়ে গিয়েছিল ওর। শোয়া আর ট্যা ট্যা করে কাঁদা বরকে কী বিয়ের পিঁড়িতে বসানো যায় নাকি? ভেবেছিল আজই শোভনাকে নিমন্ত্রণ করবে মেঘমালার বিয়েতে। আরেকটা কারণেও মনখারাপ হয়েছিল, বাড়িতে যেই আসছে সেই এমন চোখ নাড়া, কাঁদা পুতুলটাকে দেখে বলছে, কিরে সুজি, তোর ভাই কেমন আছে? তোকে দিদি বলে ডাকছে? কী মুশকিল রে বাবা। দিদি কেন বলবে, ওকে তো মা বলে ডাকবে ওর পুতুল। বিরক্ত হচ্ছিল মনে মনে। মায়ের পেটের দিকে তাকিয়ে দেখছিল, কদিন আগেই বেশ বড় মতো ছিল, এখন আর নেই। তাহলে কী এরাই সত্যি বলছে, এটা মায়ের পেটের মধ্যে ছিল? এ সত্যিকারের মানুষ? ধুর, এত ভেবে লাভ নেই। এটা সুজাতার পুতুল। আর সুজাতার ছেলে। সেদিন থেকে প্লাবনের মা হয়েছিল সুজাতা। প্লাবন যেদিন বসতে শিখেছিল সেদিনই তড়িঘড়ি ওর বিয়ে দিয়ে দিয়েছিল মেঘমালার সঙ্গে। বাবা সেদিন, লুচি, তরকারি, মিষ্টির ব্যবস্থা করেছিল মেয়ের আবদারে।

    প্লাবন বড় হচ্ছিল। বুদ্ধিও বাড়ছিল সুজাতার। ধীরে ধীরে ও বুঝতে শিখেছিল প্লাবন পুতুল হলেও ওর মানুষের মতো প্রাণ আছে। যখন তখন ওর চুল আঁচড়াতে গেলে, জামা পরাতে গেলে ও ভীষণ রেগে যায়। তবে সুজাতার ইচ্ছে মতোই ওকে প্লাবন দিদি না ডেকে মাম্মাম বলে ডাকে। ছোট্ট প্লাবনকে দিনরাত ঘিরে থাকে সুজাতা। প্লাবনও মায়ের থেকে বেশি দশ বছরের দিদির কাছে থাকতে ভালোবাসে। বছর তিনেকের প্লাবন যখন কেঁদে গোটা বাড়ি মাথায় তুলে ফেলে, যখন কেউ ওকে ভোলাতে পারে না তখন একমাত্র ভরসা সুজাতা। মা বলে, প্লাবন তো আমার থেকে বেশি সুজির কোল চিনেছে। নিজের স্কুল আর পড়াশোনার অতিরিক্ত সময় সুজাতার কাটে ওই জীবন্ত পুতুলটাকে নিয়ে। সে যখন মাম্মাম বলে ডাকে মনে হয় যেন সব ভুলে যাবে সুজাতা।

    কী হল রে সুজি, সকাল থেকে ঘরের কাজগুলো না সেরে এখনও বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছিস? তোরা ভাই-বোন মিলে কী আমাকেই খাটিয়ে মারবি? ওদিকে রিক্তাকে দেখে আয়। তোর থেকে কত ছোট। কেমন গুছিয়ে সংসার করছে দেখ।

    অন্যমনস্ক সুজাতার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল, সংসার…সেটা তো ও সেই সাত বছর বয়স থেকেই সামলাচ্ছে। প্লাবনের জন্মের পর থেকেই মা ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। প্লাবনের যখন মাত্র চার বছর বয়স, তখনই মায়ের ওভারিতে ক্যানসার ধরা পড়ল। অপারেশন হল, ট্রিটমেন্ট হল, কিন্তু মাকে বাঁচানো গেল না। এগারো বছরের সুজাতার হাতে সংসারের দায়িত্ব দিয়ে মা চলে গেল। আত্মীয়স্বজনরা সকলেই বলল, দুটো ছেলে মেয়ে নিয়ে অরূপ একা একা কী করবে? বিয়ে করা আবশ্যক। বাবা নিমরাজি হয়ে সুজাতা আর প্লাবনের মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়েটা করেই নিল।

    সুজাতার বারোতে নতুন মা ঢুকল বাড়িতে। কী সুন্দর দেখতে সেই মাকে। ঠিক যেন দুর্গা প্রতিমার মতো। সুজাতার খুব ইচ্ছে করত নতুন মাকে একটু ছুঁয়ে দেখে। কিন্তু ভয়ে কখনো মায়ের আঁচল ধরেনি ও। চোখের নিমেষে বদলে যাচ্ছিল বাবা। সুজি আর প্লাবন কিছু বলতে গেলেই বলত, উফ এত বিরক্ত করিস না তো। নতুন মাকে দিনরাত জ্বালাস না। সুজাতার সেই বাবাটা যে বলত, মেয়েটা আমার বড় লক্ষ্মী সেও কেমন যেন পাল্টে গেল। দুঃখ নেই সুজাতার, ওর সেই ছোট্ট পুতুলটা এখন বেশ বড় হয়েছে। দিদি কাঁদলে চোখের জল মুছিয়ে দিতে শিখেছে। প্লাবনই ছিল ওর আনন্দের একমাত্র উৎস।

    আবারও ঘর থেকে ডাক দিল মা, কিরে সুজি তোর আজ হল কী? দুটো আনাজ কাটতে যে বেলা গড়িয়ে দিবি?

    আজ সুজির অনেক কিছু হয়েছে। তাই তো কেবল ফিরে যাচ্ছে ফেলে আসা দিনে। নেড়ে ঘেঁটে দেখে নিচ্ছে ওর বিয়াল্লিশের জীবনটাকে। আয়নার সামনে দাঁড়ালে এখন দেখতে পায় হাঁসের পায়ের ছাপ পড়ছে চোখের নীচে। ঝুলপিতে সিলভার লাইন তর্জনী উঠিয়ে বলছে, বয়েস আর নদীর জল কোনোটাই বাঁধ দিয়ে আটকে রাখা যায় না। এতগুলো বছরের দেওয়া নেওয়ার হিসেবটা নিজের কাছে পরিষ্কার রাখা খুব জরুরি। ফুলকপিটা কাটতে কাটতেই ভাবছিল সুজাতা, শীতের দিনে মা ফুলকপির শিঙাড়া করত। সুজাতার খুব প্রিয় ছিল। নতুন মা আসার পরই সুজাতা বুঝতে পেরেছিল, ছোট বলে যদিওবা প্লাবন একটু আধটু আদর পায়, ওর কপালে একটা বড় শূন্য। মাধ্যমিকের পর থেকেই অদ্ভুতভাবে গোটা সংসারের দায়িত্বটা এসে পড়ল ওর ওপরে।

    নতুন মা মানে কমলিনীদেবী মুখ মিষ্টি হলেও নিজের ব্যাপারে খুব সচেতন ছিল। বাবার সরকারি চাকরি হলেও ঠিকে ঝি ছাড়া আর কোনো কাজের লোক ছিল না বাড়িতে। কমলিনীদেবী প্রথম দিন থেকেই সুজাতাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ওর দায়িত্ব। প্লাবনকে স্নান করানো, খাওয়ানো সব ওর কাজ। মাধ্যমিকের পর সকালের চা, নিজেদের জামাকাপড় কাচা এগুলোও ওর ভাগেই এসে পড়েছিল। কারণ কমলিনী তখন সন্তানসম্ভবা ছিলেন। প্লাবনের দায়িত্ব, সংসারের কাজকর্ম সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বেশ অসুবিধাই হচ্ছিল সুজাতার। ওর কিশোরীবেলাটা কেমন যেন খুব তাড়াতাড়ি ছুটে চলল প্রাপ্তবয়স্কের দিকে। কলমের গাছের মতো, দ্রুত ফল দেওয়ার শর্তেই যেন বাগানে স্থান দেওয়া হয় ওদের। ফলনে দেরি হলেই বাড়ির কর্তা বেশ বিরক্ত মুখে বলেন, কলমের গাছেও যদি এত দেরিতে ফল হয় তাহলে আর যাই কোথায়? তেমনিই মাত্র পনেরোতেই সকলে আশা করছিল সুজাতা প্রাপ্তবয়স্কা হয়ে যাক। শুধু দায়িত্ব শব্দের বানান নয়, দায়িত্ব শব্দের অর্থও বুঝে যাক। সুজাতা প্রাণপণ চেষ্টা করছিল বড় হওয়ার। নিখুঁতভাবে সকলের মন রাখার। ওর কোনো কাজে যেন কোনো ত্রুটি না থাকে সেই চেষ্টায় প্রাণপাত করত ও। তারপরেও দিনের শেষে সকলের মুখে বিরক্তি। বাবা বলত, অনেক তো বড় হলি সুজি, এখনও পারলি না?

    কমলিনীদেবী ব্যঙ্গাত্মক হেসে বলত, অলস মায়ের মেয়েরা বোধহয় এমনই হয়।

    ওর আবারও একটা বোন হল। রিক্তা। এবারে আর বোনটাকে পুতুল বলে গুলিয়ে ফেলেনি সুজি। প্লাবন আর রিক্তার নামের আগে ছোট শব্দটা সবাই বসাতো। শুধু সুজাতার নামের আগে কখনো বাচ্চা মেয়ে শব্দটার উপস্থিতি টের পেল না কেউই। প্লাবনের স্কুলের টিফিন গোছানো, রিক্তার কান্না ভোলানো, বাবার অফিস টাইমে রুমাল-ব্যাগ গুছিয়ে দিয়ে স্কুলে ছুটত সুজাতা। সাইকেলের প্যাডেলে জোরে জোরে চাপ দিয়েও পৌঁছাতে পারত না নির্দিষ্ট সময়ে। রোজই ক্লাস টিচার এক দফা অপমান করে ঢুকতে দিতেন।

    এরই মধ্যে কবে যে সুজাতার গুণমুগ্ধ তৈরি হয়েছিল ও জানতেই পারেনি। ওর ব্যস্ত সময়ের চাপে বসন্তের প্রবেশ ও টেরই পায়নি। হঠাৎই একদিন খেয়াল করেছিল, রানীদিঘির ধারে স্কুলের ঠিক বাঁদিকের গলিতে একটা ছেলে রোজ দাঁড়িয়ে থাকে। ও স্কুলে ঢুকে গেলেই সেও চলে যায়। সুজাতার কাছের বান্ধবী অনুরাধা বলেছিল, ওই দ্যাখ, তুই আসবি বলে তমালদা কখন থেকে ওয়েট করছে। তুই স্কুলে ঢুকে যাবি আর তমালদাও চলে যাবে কলেজে। বিস্মিত হয়েছিল সুজাতা! ওর জন্য অপেক্ষা করে, কেন কী দরকার ওকে? প্রয়োজন ছাড়া তো সুজিকে কেউ ডাকে না। বাবা, নতুন মা, ভাই, বোন এমনকী ওদের কাজের মাসি পর্যন্ত সুজিকে ডাকে কোনো না কোনো প্রয়োজনে। বিনাপ্রয়োজনে কেউ তো ওকে মনেই করে না।

    অনুরাধাকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন রে আমায় কী প্রয়োজন ওই ছেলেটার? অনুরাধা বিরক্ত মুখে বলেছিল, তুই ক্লাস টুয়েলভে পড়িস না টুতে? তমালদা তোকে ভালোবাসে। আমাকে বলেছে। আমাদের পাশের পাড়াতেই তো বাড়ি। দারুণ ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট।

    নরম দাড়ি আর টিশার্টের মাঝে সংকোচ মাখানো চাউনিটা আড়চোখে দেখেছিল সুজাতা।

    তারপর থেকে রোজ দেখত ওর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটাকে। এইচ এস শেষে একদিন তমালের সাইকেলটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এসেছিল ওর দিকে। ভয়ে আধমরা হয়ে দাঁড়িয়েছিল সুজাতা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অনুরাধার হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছিল। তমাল সামনে দাঁড়িয়ে নিঃসংকোচে বলেছিল, অনু তুই একটু ওদিকে যা ওর সঙ্গে আমার একটা কথা আছে। সুজাতার হাতের মুঠো আলগা করে সরে গিয়েছিল অনু। মাটির দিকে তাকিয়ে ধুলোকনা গুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল ও। তমালের গলাও সেই প্রথম শুনেছিল সুজাতা। আমি কেন রোজ কলেজ যাওয়ার আগে তোমাদের স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকি সেটা নিশ্চয়ই অনুর কাছ থেকে শুনেছো। তাই আর দ্বিতীয়বার বললাম না। অন্যের হবার আগে প্লিজ একবার আমায় জানিও। তোমার অপেক্ষায় থাকব। সুজাতা কাঁপা গলায় বলেছিল, বাবা জানতে পারলে খুব বকবে, পড়াশোনা ছাড়িয়ে দেবে। তমাল দীর্ঘশ্বাস গোপন করে বলেছিল, কেউ জানবে না। শুধু তুমি জানলে একজন তোমার প্রতীক্ষায় থাকবে। নিজের পায়ে শক্ত করে দাঁড়িয়ে তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেবে। যদি বিশ্বাস করো তাহলে হাত ধরবে।

    তমাল চলে গিয়েছিল। একটা নরম স্নিগ্ধ বসন্ত বাতাস ঘিরে ধরেছিল সুজাতাকে। গলার কাছে জমাট বাঁধছিল অনেকটা না পাওয়ার কষ্ট আর একটুরো প্রাপ্তির সুখ। ওকেও কেউ ভালোবাসতে পারে, ওর জন্য কেউ অপেক্ষা করতে পারে এটাই তো কল্পনাতীত।

    সাইকেলের প্যাডেলে জোরে প্রেশার না দিয়েও সেদিন যেন উড়ছিল সুজাতা। দমকা হাওয়ার মতোই যৌবন ওর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বলেছিল, তুমি তোমার সুন্দরী পুতুল মেঘমালা নও, তুমি তোমার মেম পুতুল রুশা নও তবুও একজন আছে যে চিনিয়ে দিল তুমি অনন্যা।

    বাড়ি ফিরেছিল ঈষৎ গোলাপি হয়ে যাওয়া মনটা নিয়ে। ফিরেই দেখেছিল হুলুস্থুল কাণ্ড। রিক্তার গায়ে প্রবল জ্বর। বাবা অফিসে, প্লাবন কাঁদছে, মা একা ওকে কোলে নিয়ে ঘরে বাইরে করছে।

    স্কুল ড্রেস না ছেড়েই রিক্তাকে কোলে নিয়ে ছুটেছিল অমিয় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তারবাবু বলেছিলেন, বুকে সর্দি বসে নিমোনিয়া। নেবুলাইজড করতে হবে। নার্সিং হোমে ভর্তি করতে হবে। রিক্তাকে নার্সিং হোমে ভর্তি করে বাড়ি ফিরেছিল সুজাতা। মা আর বাবা ততক্ষণে রেডি হয়েছিল বেরোবে বলে। ওকে দেখেই মা প্রায় চিৎকার করে বলেছিল, কোথায় মেরে দিয়ে এলি রিক্তাকে? নিজের বোন নয় বলে এই সুযোগে ওকে মেরে দিবি?

    বুকের ভিতরটা ভেঙে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল সদ্য আঠেরোর মেয়েটার। বাবা এসে গালে সপাটে একটা চড় মেরে বলেছিল, এত হিংসা তোর মনে? তোর মা বলত বটে খেতে বসে তুই রিক্তার পাতের দিকে তাকিয়ে দেখিস তোকে কম দেওয়া হল কিনা, কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনি। অসুস্থ মেয়েটাকে কোথায় ফেলে দিয়ে এলি তুই?

    বিধস্ত গলায় সুজাতা বলেছিল, নিরাময় নার্সিং হোমে ভর্তি করেছি। অমিয়বাবু ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। টাকা লাগবে, আর রাতে মাকে ওর সঙ্গে থাকতে হবে। তাই বাড়ি এসেছিলাম এগুলো বলতে।

    বাবা আর মা বাবার বাইকে চেপে ছুটেছিল নিরাময়ে। নিজের বিছানায় শুয়ে অনেকক্ষণ কেঁদেছিল সুজাতা। বুঝেছিল ভালোবাসা বলে কিছু হয় না। সবটুকুর নাম প্রয়োজন।

    প্লাবন এসে ওর গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল, মাম্মাম, কাঁদিস না, আমি থাকব তোর সঙ্গে।

    গরম সর্ষের তেলের মধ্যে ফুলকপিগুলো ছেড়ে দিতেই চড়বড় আওয়াজে তীব্র প্রতিবাদ জানাল। এই প্রতিবাদটুকুও কখনো জানাতে পারেনি সুজাতা। কেবল মনে হয়েছে ওর জন্য যদি কেউ কষ্ট পায়, থাক। কষ্ট, যন্ত্রণা, দুঃখরাও যেন নিশ্চিন্তে বসবাস শুরু করেছিল সুজাতার অন্তরের অন্তঃস্থলে। ওরা হয়তো বুঝেছিল, এখান থেকে ওদের কোনোদিনই উৎখাত করতে পারবে না কেউ। আনন্দের প্রবেশ নিষিদ্ধ এ দুয়ারে।

    কলেজে ভর্তি হবার পর থেকেই শুরু হয়েছিল নতুন অশান্তি। মা দিনরাত বলেই যেত, এত পড়ে ও করবে কী? ঘরের কাজ করুক। তবুও জেদ ধরেই সুজাতা বলেছিল, ঘরের কাজ করেই আমি কলেজ যাব। বেশিরভাগ দিন ঠিক কলেজ বেরোনোর আগেই মা ইচ্ছে করে ওকে সময়সাপেক্ষ কাজ দিত। কোনোমতে কলেজ আর টিউশন চালাচ্ছিল ও। প্লাবন পড়াশোনায় খুবই ভালো ছিল। আর ছেলে বলেই হয়তো বাবা-মা দুজনেই ওকে পড়ানোর ব্যাপারে কার্পণ্য করেনি।

    তমালের চোখের করুণ চাউনিকে উপেক্ষা করেই নির্দয়ভাবে সুজাতা বলেছিল, প্লিজ আমায় ভুলে যাও, অযথা সময় নষ্ট করো না। আমি ভালোবাসতে পারব না। আমার কাছে ভালোবাসা বলতে আমার ভাই প্লাবন। বাকি সব ভীষণ কেজো প্রয়োজন। তাই অপেক্ষা করো না। তমাল তখন সদ্য চাকরি জয়েন করেছে। বলেছিল, তাও, তুমি সময় নাও সুজাতা। আমি অপেক্ষা করব।

    কিরে, তরকারিটা হল? প্লাবন টেবিলে এসে বসে আছে তো? ওকে তো অফিসে যেতে হবে। কত কাজ ওর অফিসে। তাছাড়া রূপালীও তো যাবে অফিসে।

    প্লাবন আর রূপালী একই সঙ্গে বেরোয় অফিসে। দুজনে একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। সেখান থেকেই ওদের প্রেম আর বিয়ে। প্লাবনের বিয়ের আগের দিনও ওর প্রিয় মাম্মাম জানতে পারেনি যে ও বিয়ে করতে যাচ্ছে। আচমকাই রূপালীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছিল ও। পরিষ্কার জানিয়েছিল ওরা রেজিস্ট্রিটা করে নিয়েছে পার্টি থ্রো করবে কদিন পরে। মা, বাবা বোধহয় জানত। তাই মা একটুও অবাক না হয়ে রূপালীকে বরণ করেছিল।

    অপলক তাকিয়ে ছিল সুজাতা। মেঘমালার মতোই সুন্দরী রূপালী। কিন্তু সেদিন ও নিজে দাঁড়িয়ে বিয়ে দিয়েছিল ওদের। প্লাবন এসে স্পষ্ট গলায় বলেছিল, তোকে জানানো হয়নি রে মাম্মাম, হঠাৎই হয়ে গেল। মুখে হাসি টেনে সুজাতা বলেছিল, ভারী মিষ্টি বউ হয়েছে তোর। চিরকালের সংসারী সুজাতা গুছিয়ে দিয়েছিল ভাইয়ের ঘরদোর।

    প্লাবন আর রূপালীকে গরম ভাত, ফুলকপির তরকারি, মাছের ঝাল সাজিয়ে দিয়ে রান্নাঘরে যেতে যেতে বলে গেল, তোদের আর কিছু লাগলে বলিস। অন্যদিন ওদের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকে সুজাতা। রান্নাঘরে ঢুকতে ঢুকতেই শুনতে পেল, মা বলছে, ভূতে পেয়েছে নাকি রে তোর দিদিকে? সকাল থেকেই দেখছি কাজে মন নেই।

    না নেই মন সুজাতার কাজে। আজ শুধুই ফিরে দেখতে চায় ও জীবনটাকে।

    বহুদিন অপেক্ষা করছিল তমাল ওর জন্য।

    রিক্তার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে। মা-বাবাই সুপাত্র দেখে বিয়ে দিয়েছিল রিক্তার। সুজাতার বিয়ের কথা কেউ তোলেনি। সুজাতা শুধু একটা কথাই শুনত, ও ছাড়া নাকি সংসার অচল। ও নাকি ওদের সংসারের খুঁটি। বাবা বলত, সুজির বিয়ে হলে এ সংসার অচল হয়ে যাবে। কমলিনীদেবীও মুখে না বললেও এটাই বিশ্বাস করত, সুজি ছাড়া তার দুদণ্ড চলবে না। প্লাবন ওকে জড়িয়ে ধরে বলত, মাম্মাম তুই যেন অন্য বাড়িতে চলে যাস না, তাহলে আমি কী করে বাঁচব। অফিস থেকে ফিরে তোকে না দেখলে চলে। ওর ইঞ্জিনিয়ার ভাই ওকে আবদার করে বলত, তুই হলি আমার ধ্রুবতারা। তোকে ছাড়া আমি দিকভ্রষ্ট। রিক্তার বিয়ের পরে তমালের মুখোমুখি হয়েছিল সুজাতা। তমাল বলেছিল, আর কত বছর প্রতীক্ষা করব তোমার? তোমার থেকে কত ছোট বোনের বিয়ে হয়ে গেল, আর তুমি?

    সুজাতা নির্দ্বিধায় বলেছিল, আমি ছাড়া আমার সংসার অচল তমাল। তুমি সংসার পাতো।

    মাস পাঁচেক পরে শুনেছিল তমালের বিয়ে।

    আর সকলের মতো কালীমন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল সুজাতা, তমালের বউ দেখবে বলে।

    ঠিক ওর মেম পুতুলটার মতো বউ হয়েছে তমালের। চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল তমালের সাজানো সংসার। যেমন ও ছোটবেলায় গুছিয়ে সংসার পাততো তেমনই।

    ”একজন আছে ওর অপেক্ষায়” এই অনুভূতিটুকুকে বিসর্জন দিয়েছিল রানীদীঘির জলে। রং চটে যাওয়া সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিয়ে ছুটেছিল টিউশনি পড়াতে। রেবতীদের বাড়িতে গোটা ছয়েক ছেলেমেয়েকে পড়াতো ও। বাবার রিটায়ারমেন্টের পরে নিজের হাত খরচটুকু জুটিয়ে নেবার জন্যই শুরু করেছিল টিউশনি। এখন এইটুকুই যেন ওর মুক্ত বাতাস। যেখানে তমাল দাঁড়িয়ে থাকত ওই রাস্তাটা দিয়ে রেবতীদের বাড়িতে গেলে একটু বেশি সময় লাগে, তবুও সুজাতা ওই রাস্তাটাই বেছে নেয়। ঠিক ওইখানে দাঁড়িয়ে খুব জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলে, তমাল ক্ষমা করো। আমার পরিবার যে আমায় ছাড়া একেবারে অচল, ওদের ছেড়ে যাই কী করে। বড্ড স্বার্থপর লাগবে নিজেকে।

    দিদি আরেকটু তরকারি দিও তো। রুপালির গলা শুনে কড়াই থেকে একটি তরকারি বাটিতে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল সুজাতা। ওর দিকে তাকিয়ে প্লাবন বলল, কী ব্যাপার তোর? হঠাৎ এত মনমরা? চিন্তা নেই ভাবনা নেই, তোর মনখারাপ দেখলে সত্যিই অবাক লাগে জানিস?

    সেই কচি কচি হাতের ছোঁয়াটা নিজের গলার কাছে আরেকবার অনুভব করার চেষ্টা করল সুজাতা।

    অনেক চেষ্টা করেও বৃথা হল। রূপালি বলল, আসলে দিদির তো তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নেই, তাই অলস মস্তিস্ক, সেই জন্যই মনখারাপ লাগে। তুমি এক কাজ করো দিদি, আমার ঘরের দুটো আলমারি গুছিয়ে রেখো, দেখো নানারকম পোশাক দেখতে দেখতে তোমার মন ভালো হয়ে যাবে। প্লাবন হেসে বলল, রুপালির এই একটা গুন জানো মা, ও সকলের কথা ভাবে। মা সিরিয়ালের রিক্যাপ দেখতে দেখতেই বলল, রূপা আমাদের লক্ষ্মী মেয়ে। রিক্তাও বলে, দাদার একটা গুণী বউ হয়েছে।

    প্লাবন আর রূপালি বেরিয়ে গেল গাড়ি করে।

    সুজাতারা আর মধ্যবিত্ত নেই। দোতলা বাড়ি হয়েছে, গাড়ি হয়েছে। ভাই আর ভাইয়ের বউ এই জন্যই মা-বাবার কাছে বড্ড কাছের।

    তমালের বউকে সুজাতা দেখেছিল দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন। এক গা গয়না পরে চওড়া হেসে ঘুরছিল তমালের সঙ্গে। না ওকে তমাল দেখতে পায়নি। মুহূর্তের জন্য তমালের বউয়ের মুখটা সরিয়ে দিয়ে নিজের মুখ বসিয়ে লজ্জায় লাল হয়েছিল।

    পরক্ষণেই বাস্তবের মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল ওর ক্ষণিকের কল্পনা।

    ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল রিক্তার, প্লাবনও বেশ বড়সড় গেট টুগেদার দিয়েছিল লজে। সবকিছুর ব্যবস্থাপনায় অবশ্যই ছিল সুজাতা। সে যে বড্ড দামি, সকলের তাকে প্রয়োজন। আত্মীয়রা সকলে এসে বলত, তোমাদের বড় মেয়ের যেন দশটা হাত। মা দুর্গার মতো সামলাচ্ছে সব। গর্বে বুক ভরে যেত ওর। সমস্তটুকু নিখুঁত করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ত। দায়িত্ববান মেয়ে হবার লড়াইয়ে জেতার আকুল প্রচেষ্টা ছিল সুজাতার। এভাবেই চলতে চলতে কবে যে ও বিয়াল্লিশের দোর গোড়ায় পৌঁছে গেল নিজেও জানে না। রিক্তার একটা ছেলে হয়েছে। বাবা-মা নাতির গল্পে মশগুল। রুপালি আর প্লাবনের বিয়েরও হয়ে গেল বছর পাঁচেক। রূপালী বলে, ওই তো আমার সন্তানকে মানুষ করবে দিদিভাই। আমি তো অফিসে যাব। দিদিভাইই ভরসা। প্লাবন মুচকি হেসে বলে, মামাম্ম, দুই প্রজন্মকে মানুষ করবি তুই।

    সুজাতা সেই সাত বছর বয়সে প্রথম মা হয়েছিল, আবারও হয়তো এই বয়সে মা হবে সুজাতা, ভাইয়ের সন্তানের মা।

    আবার একটা কচি হাত ওকে জড়িয়ে ধরবে। এই সুখেই কাটছিল দিন। ইদানীং রাতে ওর ঘুম হয় না ভালো। ঘরের মধ্যে কেমন একটা দমবন্ধ লাগে।

    বাইরের বারান্দায় এসে দাঁড়ায় মধ্যরাতে।

    মাসখানেক আগেও বারান্দায় দাঁড়িয়েছিল সুজাতা। রুপালি বেশ জোরে জোরেই বলছে, আমি দেখেছি দিদি আমাদের ঘরে আড়ি পাতে। বোঝো না কেন, বিয়ে হয়নি, সেক্সসুয়াল চাহিদা যাবে কোথায়? এগুলো আসলে মানসিক রোগ বুঝলে। তবে এখন যেন আবার দিদির পাত্র খুঁজতে যেও না। দিদির বিয়ে হয়ে গেলে আমার ছেলে মেয়ে মানুষ থেকে বাকি যাবতীয় প্ল্যান ভেস্তে যাবে। মা তো দিনরাত বাতের ব্যথায় শুয়েই থাকে। দিদি আছে বলেই চলে সংসারটা স্মুদলি। তবে আমি বলছি শোনো, দিদির কিন্তু সমস্যা আছে। আমি দু-দিন জানালা খুলতে গিয়ে দেখেছি দিদি বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে ভূতের মতো। তখনই বুঝলাম, কান পাতে। আমি একটা পত্রিকাতে পড়ছিলাম, এই বয়সে নাকি এসব প্রবলেম হয়। প্লাবন বলল, তাহলে জানালাগুলো ভালো করে বন্ধ করে এসি চালিয়ে দিও।

    তাড়াতাড়ি নিজের ঘরের দিকে ছুটছিল সুজাতা। এসব কী বলছে ওর ভাই, ভাইয়ের বউ। ওর যদি শারীরিক চাহিদা তৈরিই হয়ে থাকে কখনো সেইজন্য ভাইয়ের ঘরে কান পাতবে? ওরা ওকে এত নিকৃষ্ট ভাবে!

    বাবা,মায়ের ঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়েও শুনতে পেল দুজনে সুখ দুঃখের গল্প করছে। নিঃস্ব রিক্ত বিছানায় একা শুয়ে ভাবল, দিনের শেষে ও একা, বড্ড একা।

    মোবাইলটা খুলে সেদিনই ম্যাট্রিমনি সাইটে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল, একলা মনের সঙ্গী চাই। বয়েস বিয়াল্লিশ। ঘোর সংসারী। কেউ কোনো দিন সুন্দরী বলেনি, একমাত্র আয়না ছাড়া। শারীরিক তাগিদে নয়, মনের সঙ্গী চাই।

    বেশ কয়েকজন যোগাযোগ করলেও সুজাতার ভালো লাগেনি তাদের। কিন্তু বছর পঁয়তাল্লিশের রঞ্জনকে ওর মন্দ লাগেনি। স্ট্রেইট কথা বলেন ভদ্রলোক। প্রথমেই বললেন, আমি ডিভোর্সি। আমার ওয়াইফ আমার নামে চার্জ এনেছিল আমি নাকি তাকে মারধর করি। যদিও আমি নিজে কোনোদিন তার গায়ে হাত তুলিনি। আমার ওয়াইফ আরও চার্জ এনেছিল, আমি নাকি তার স্ত্রীধন হাতিয়ে নিয়েছি। যদিও আমি বিনাপণে, সব খরচ করে বিয়ে করে এনেছিলাম তাকে, তবুও এগুলো আমার নামের আগে বসানো হয়েছিল। এরপরেও যদি বিশ্বাস করেন, তাহলে সঙ্গী হতে রাজি। আমি একজন ব্যাংকার। একলাই থাকি ফ্ল্যাটে। দিনশেষে বড্ড একলা লাগে। চট করে কারোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে উঠতে পারি না।

    সুজাতার বেশ লেগেছিল রঞ্জনের এই পরিষ্কার মুখোশবিহীন কথাগুলো। বাবা,মা, প্লাবন, রূপালির মুখোশের আড়ালের মুখটা দেখতে দেখতে কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল এ সংসারে ওর জায়গাটা। দুলে উঠেছিল ভালো মেয়ে হয়ে থাকার আপ্রাণ প্রচেষ্টাটা। তাই দিন সাতেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে ও, রঞ্জনের সঙ্গেই কাটাবে বাকি জীবনটুকু। এর থেকে আর কী খারাপ হবে?

    এ সংসারে ও কাজের লোক বই তো নয়।

    আজকেই ওদের রেজিস্ট্রির দিন। তাই সকাল থেকেই অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছে ও। স্মৃতির পাতা উল্টে বারবার মিলিয়ে নিতে চাইছে জমা-খরচের হিসেবটুকু।

    হালকা গোলাপি রঙের বাঁধনি প্রিন্টের পিওর সিল্কটা পরে খুব অল্প একটু প্রসাধন সেরে বেরোনোর মুখেই মা বলল, বিকেলে ফিরে এসে লিস্ট করে দিবি। রিক্তা আসছে। কতদিন পরে আসবে বলত মেয়েটা। কী কী বাজার থেকে আনতে হবে টাকা নিয়ে নিয়ে আসবি। বাবার স্পন্ডেলাইটিসটা বেড়েছে বোধহয়। তুইই বাজারটা করে আনিস।

    খুব শান্ত গলায় সুজাতা বলেছিল, আমার ফিরতে দেরি হবে। ওর মুখে কোনোরকম না শুনতে যে এবাড়ির মানুষ অভ্যস্ত নয় সেটা ও বেশ বুঝতে পেরেছে। সঙ্গে সঙ্গে বাবা ঘর থেকে বলেছিল, কেন কী রাজকার্য করতে চললে তুমি? ওই তিনহাজার টাকার টিউশনি না পড়ালেও এ সংসার আটকে থাকবে না। বহুদিন তো বলেছি, প্লাবনের কাছ থেকে তিনহাজার চেয়ে নিও। আমার পেনশনের টাকা থেকেও দিতে পারি কিন্তু ওটা আমাদের ওষুধপত্র কিনতেই চলে যায়।

    সুজাতা এই প্রথম আবার শান্ত গলায় বলল, প্লাবন ফিরলে ওকে বলো ও বাজার করে আনবে। মা যেন আকাশ থেকে পড়ল, কী বললে? প্লাবন বাজারে যাবে! অত বড় পোস্টে চাকরি করে, সারাদিন খেটে এসে বাজারে যাবে? অদ্ভুত ভাবনা তোর সুজি।

    সুজাতা বুঝেছিল, ওরা সকলের না শুনতে অভ্যস্ত হলেও সুজাতার মুখের না শুনতে মোটেই অভ্যস্ত নয়।

    রঞ্জনের সঙ্গে এটা ওর দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথম সাক্ষাৎ করেছিল স্টেশনে। খুব কম সময়ই ছিল সুজাতা। একটু ভয় ভয়ই করছিল। এভাবে এই বয়সে কারোর সঙ্গে আলাপচারিতা করলে যদি কেউ কিছু ভাবে, কেউ যদি বলে সুজাতা খারাপ মেয়ে! তাই দুর্ভাবনাতেই বেশিক্ষণ দাঁড়ায়নি সুজাতা। রঞ্জন হেসে বলেছিল, ভয় পাচ্ছেন? যে মানুষটার সঙ্গে সারাজীবন কাটাবেন তাকে চিনে নেবেন না? যদি আমার আগের ওয়াইফের আনা অ্যালিগেশনগুলো সত্যি হয়, ভয় করছে না আপনার? সুজাতা শান্ত গলায় বলেছিল, যার কিছুই নেই তার আর হারাবার ভয় কিসের? উত্তাল সমুদ্রের মাঝে ডিঙিতে চেপে যাওয়াও যা, জাহাজে চেপেও তাই। ভাগ্যের দোহাই দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। তাই এক-আধঘণ্টা বেশি দেখে কী মানুষ চেনা যায়? যাকে সেই সাত বছর বয়স থেকে মানুষ করলাম তাকেই চিনলাম না। জন্মদাতা পিতাকেই বুঝলাম না। মা ডেকেও যাকে কোনোদিন আপন করতে পারলাম না, বোনকে ভালোবেসেও দিদি হতে পারলাম না, সেখানে সম্পূর্ণ অপরিচিত একজন মানুষকে চিনে নেব মাত্র একঘণ্টায়? এত দুঃসাহস কী আমার আছে? রঞ্জন আলগোছে বলেছিল, বড্ড ভালো লাগল আপনাকে। অকপট বলেই। বহুবছর মুখোশ পরা মানুষের সঙ্গে সংসার করেছি, ডিভোর্সের পরে তিনবছর শুধু আত্মবিশ্লেষণ করেছি, ভুলটা কোথায় ছিল? তারপর বুঝলাম, মিসম্যাচ ছিলাম। মনে হচ্ছে আপনার আর আমার জুটিটা ক্লিক করে যাবে। সুজাতা হেসে বলেছিল, দেন ট্রাই। বললাম না, আমার হারানোর কিছু নেই। আত্মার টান নামক অলীক কিছুর পিছনে ছুটতে ছুটতে আমি ভীষণরকমের ক্লান্ত। একটু বিশ্রাম চাই, একজন নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হলেই চলবে।

    আরেকটা কথা, আমি যদি হোমসার্ভিস করি ফুডের, তাহলে আপনার অসুবিধা নেই তো? বেশ কিছু টাকা জমিয়েছি, ভেবেছিলাম একটা বিজনেস স্টার্ট করব। লোকে আমার হাতের ঘরোয়া রান্না খেয়ে বলে, মন্দ নয়। সেই ভরসাতেই শুরু করব। রঞ্জন হেসে বলেছিল, আপনার জীবনটা শুধুই আপনার, সেখানে কয়েক দণ্ড সময় দেবেন আমায়, ব্যস, বাকি আপনার।

    কী হল, এত দেরি হল যে তোমার? অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি। হালকা হেসে সুজাতা বলল, আজকেও ওই বাড়ির প্রয়োজনটুকু মিটিয়ে দিয়ে এলাম। আগামীকাল যেন শূন্যতাটুকু উপলব্ধি করে। বিয়াল্লিশ বছরের পরিশ্রমের এটুকু মূল্য তো দাবি করে মন, তাই না? রঞ্জন অপলক তাকিয়ে বলল, আমরা অকারণে অসাধারণের পিছনে ছুটে মরি। অথচ নিতান্ত সাধারণের মধ্যে কত কোহিনুর লুকিয়ে আছে তাকিয়েও দেখি না। যখন দেখতে পাই তখন জীবনের অনেকগুলো বসন্ত শুধু বিবাদ করেই কেটে যায়। যাকগে শেষটুকুকেই আগলে রাখার চেষ্টা করি। সুজাতা বলল, কাচকে কোহিনুর ভাবছ না তো? রঞ্জন হেসে বলল, সেটা তো জহুরি বলবে।

    রেজিস্ট্রিটা মিটতেই সুজাতা বলল, চলো বাড়িতে দেখা করে তারপর যাবো নতুন সংসারে। আর কয়েকটা জিনিস নেবার আছে আমার। একটা ব্যাগে কিছু জামাকাপড় আছে। এছাড়া আমার মেঘমালা আর মেমপুতুলটাকে নিয়ে নেব সঙ্গে। আমার বহু রাত জাগার সঙ্গী ওরা। ওদের কাছেই জমা রাখতাম যন্ত্রণার ঝুলিটা।

    রঞ্জন বলল, তোমার বাবা-মা তো জানেন না, যদি অপমান করেন? সুজাতা মুচকি হেসে বলল, কোহিনুরের জন্য একটু সহ্য করে নিও।

    বাড়িতে পা দিয়েই দেখল ওকে নিয়েই আলোচনা চলছে। এখনও কেন বাড়ি ফেরেনি ও! প্লাবন আর রুপালি বিরক্ত মুখে বলল, এই ফিরেছি অফিস থেকে, চা না খেয়ে কী বিয়াল্লিশের দিদিকে খুঁজতে যাব? দিদির তো আর প্রেম করার বয়েস নেই, যে কারোর সঙ্গে পালিয়ে যাবে! গেছে হয়তো কোথাও, চলে আসবে এখুনি। যাওয়ার জায়গা আর তো নেই।

    সুজাতার সিঁথিতে সিঁদুর দেখে চমকে উঠল বাবা। অদ্ভুত গলায় মা বলল, কী সর্বনাশ হল! এসব কী? প্লাবন আফসোসের গলায় বলল, সম্মান বলে কিছু রইলো না।

    সুজাতা আলতো করে বলল, আমার বাবাও আমার বয়েসেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন, আমার ভাইও আমায় না জানিয়েই আচমকা বিয়ে করে বাড়ি ঢুকেছিল, আমিও জাস্ট ওদের ফলো করলাম মাত্র। রঞ্জন বাবা-মাকে প্রণাম করতে গেলে ওরা বিরক্তিতে সরে গেল। সুজাতা নিজের ঘর থেকে ওর ব্যাগ আর পুতুলের সংসার গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে এল। মা কাতর গলায় বলল, তুই যে বিয়ে করবি আগে বললে একটা সবসময়ের কাজের মেয়ের ব্যবস্থা করতাম, এখন বিশ্বাসী মেয়ে কোথায় পাই? রূপালী চিন্তান্বিত স্বরে বলল, আজকেই টেস্ট করেছি, আমি কনসিভ করেছি, এখন কী হবে? প্লাবন বলল, অভাবটা কী হচ্ছিল এই বাড়িতে তোর? বাবা অসন্তোষের গলায় বলল, আমার যাবতীয় কাজ এখন করবে কে? এমন বিনানোটিশে চলে যাওয়ার মানে কী?

    সুজাতা বলল, এই তো এটুকুই প্রাপ্তি আমার। তোমাদের প্রয়োজনটুকু থাকতে থাকতে বিদায় নিলাম।

    রঞ্জন গাড়িতে উঠেই ওর হাতটা ধরে বলল, মেঘমালা আর মেমকে আমায় দাও, আমি ওদের মায়ের কষ্টটুকু চেয়ে নিই ওদের কাছ থেকে।

    সুজাতার শুকনো চোখে জল ডাকল অনেক দিন পরে। বুকের মধ্যে একটা একটা করে দরজা খুলে যাচ্ছে, ভিতরে জমাট হয়ে থাকা যন্ত্রণার পাহাড়ে বহু বছর পরে একটু আনন্দের বাতাস বইলো।

    রানীদিঘি, স্কুল, পুরোনো স্মৃতি পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে সুজাতা। রঞ্জনের গাড়ির এফ এম এ বাজছে…

    অলস মেঘলা মন
    আমার আবছা ঘরের কোণ
    চেয়ে রইতো, ছুঁতে চাইতো
    তুমি আসবে আর কখন
    শ্রান্ত ঘুঘুর ডাক
    ধুলো মাখা বইয়ের তাক
    যেন বলছে, বলে চলছে
    থাক অপেক্ষাতেই থাক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }