Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    অর্পিতা সরকার এক পাতা গল্প321 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সেই টেলিফোন – অর্পিতা সরকার

    সেই টেলিফোন

    তোমার এই নেশাটা কবে ছাড়বে, বলবে? বুঝলাম তোমার কোনো এক দাদুর দাদু চন্দ্রপুরের জমিদার ছিলেন, সেই সূত্রে তোমার ধমনীতেও বইছে খাঁটি জমিদারের রক্ত। তারপরেও আমি হাত জোড় করে রিকোয়েস্ট করছি, এসব পুরোনো মান্ধাতার আমলের জিনিস কেনা তুমি বন্ধ কর। নিজেকে কেমন যেন মোঘল হারেমের বন্ধ রানী রানী মনে হয় ইদানীং।

    উমাকান্ত চৌধুরী চন্দনকাঠের টেবিলের ওপর চায়ের কাপটা রাখতে রাখতে বললেন, কেন গিন্নি, নিজেকে রানী ভাবতে তোমার কিসের এত সমস্যা বলবে? দেখো, তুমি একই সাথে দুরকম ফ্লেভার পাচ্ছ। এক- চারিদিকে মোঘল আমলের সব দুষ্প্রাপ্য আসবাবপত্র আর অন্য দিকে আমার হৃদয়ের একেশ্বরী। আমি এমন একজন পুরুষ যার ধমনীতে বাইজি নাচ দেখার ইতিহাস সুরক্ষিত আছে, তা সত্ত্বেও আমি সেই পুরুষ যে তার ত্রিশ বছরের বিবাহিত স্ত্রীর মুখাবয়ব ছাড়া আর কিছুই পরিদর্শন করল না। সত্যি করে বলত কমলা, গর্ব হয় না? অহংকার হয় না নিজের প্রতি?

    কমলাদেবী ঝাঁঝিয়ে উঠে বললেন, না হয় না। এই অ্যান্টিক জিনিসের ধুলো আজ থেকে জয়ন্তী ঝাড়বে না বলে দিয়েছে। বলেছে, এর এত খাঁজ, এত কারুকার্য, যে ওর একঘণ্টা সময় বেশি লাগে। তাই আমাকেই ঝাড়তে হবে এসব মোঘল আমলের, ইংরেজ আমলের জিনিসপত্রকে।

    উমাকান্তবাবু একটু চিন্তিত মুখে বললেন, তাহলে তো বড় সমস্যার কথা। আমি গত কালকেই একটা ঝাড় কিনব ঠিক করে ফেলেছি পার্ক স্ট্রিটের একটা পুরোনো দোকান থেকে। ঝাড়টা নাকি আমাদের অযোধ্যার নবাব সুজা-উদদৌলার খাস রানীমহলে ব্যবহার করা হত। হাতফেরত হতে হতে এসে পৌঁছেছে ও দোকানে। ভাবলাম তোমার ঘরে টাঙিয়ে দেব, তুমিই আমার হৃদয়ের রানী বলে কথা। আমি এসব জিনিসের কদর করি বলেই দত্তপাড়ার বটুকবাবু খবরটা দিলেন। কমলাদেবী চোখ পাকিয়ে বললেন, আমি ঢাকুরিয়ার ফ্ল্যাটে গিয়ে উঠব, এই বলে দিলাম!

    উমাকান্ত চৌধুরী পেশায় ডাক্তার। সারাটা জীবনে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছেন, তখন কোনো শখ বা নেশার বশবর্তী হবার সুযোগ পাননি। এই ষাট বছরে এসে রোগী দেখা কমিয়েছেন আর নতুন নেশায় পেয়েছে তাকে। বহু পুরোনো ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্বলিত জিনিসপত্র সংগ্রহ করা। মোঘল আমল থেকে ইংরেজ আমল যাবতীয় পুরোনো জিনিসে এখন ওনার বাড়ির দোতলাটা ভর্তি হয়ে গেছে। কমলাদেবী ওনার সুযোগ্য স্ত্রী ছিলেন বলেই এমন বায়ুগ্রস্ত মানুষের সাথে ত্রিশটা বছর কাটিয়ে দিলেন। রাত নেই, দিন নেই আগে পাগলের মতো রোগী দেখে বেড়াতেন, ইদানীং বয়েস বাড়ার সাথে সাথে বাড়ির চেম্বার আর নিজস্ব নার্সিং হোমের বাইরে কোথাও যাবেন না সিদ্ধান্ত শুনে একটু খুশিই হয়েছিলেন কমলাদেবী। যাক বুড়ো বয়েসে অন্তত দুজনে একসাথে থাকতে পারবেন। বেশ কয়েকটা জায়গায় বেড়াতে যাবার প্ল্যানও করে রেখেছেন। কিন্তু গত দুবছর ধরে এ বাড়িতে মেহগনি, আবলুস আরও কীসব নাম না জানা কাঠের জিনিসের আবির্ভাব ঘটছে দেখে জীবনে বিরক্তি এসে গেছে ওনার। এই পাগলা মানুষটা কী আর বদলাবে না!

    সায়ন্তনী ওদের একমাত্র সন্তান। বাপের মতো সেও ডাক্তারিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। সেও এখন হবু ডাক্তার। দুটো সন্তান গর্ভে নষ্ট হয়ে যাবার পরে কমলাদেবীর কোলে এসেছিল সায়ন্তনী, তাই মেয়েকে বড্ড আগলে রাখতে চান উনি। কিন্তু বাপের রক্ত যাবে কোথায়? মেয়েটাও যেন কেমন উদাসীন টাইপের। এদের নিয়ে কমলা আর পেরে ওঠে না।

    মেয়ের নেশা বিভিন্ন অর্কিডের আর বাপের এসব কিম্ভূত টাইপের আসবাবের।

    দুজনের চাপে কমলাদেবী স্যান্ডউইচ হয়ে যায় আরকি!

    স্ত্রীর রক্তচক্ষুর দিকে তাকিয়ে উমাকান্তবাবু বললেন, তবে ঝাড়টা বরং থাক। আমি একটা টেবিল দেখেছি যেটা নাকি একজন বাংলার জমিদারের কাছারি ঘরে থাকত। সিরাজ-উদদৌলার সঙ্গেও ওই জমিদারের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল। ভেবে দেখো কমলা ওই টেবিলে বসে আমাদের সিরাজ কত গোপন মন্ত্রণা করেছেন। কারণ মুর্শিদাবাদের ইতিহাস বলছে, ওই নগণ্য জমিদারের সাথে সিরাজের মাঝরাতেও অনেক গোপন শলাপরামর্শ হত। যদিও পুরোটাই শোনা কথা, তবে কী করে যেন ওই টেবিলে বাংলার নবাবের একটা অবয়ব কেউ এঁকেছিল নখ দিয়ে। যেদিন থেকে টেবিলটা দেখেছি সেদিন থেকে আমার বড্ড ইন্টারেস্টিং লেগেছে। শুনলাম নাকি গোরস্থান থেকে ওই টেবিল উদ্ধার করেছিল কোনো এক কাঠ ব্যবসায়ী।

    কমলাদেবী কিছু বলার আগেই দেখল সায়ন্তনী গটমট করে ঘরে ঢুকল, চোখ দুটো অসম্ভব রকমের লাল। দেখেই মনে হচ্ছে বেশ খানিকক্ষণ কেঁদেছে।

    কমলাদেবী বললেন, কী হয়েছে রে? কাঁদছিস নাকি? চোখে কিছু পড়েছে?

    সায়ন্তনী মায়ের দিকে আলগোছে তাকিয়ে বলল, আমি ঘরে যাচ্ছি, একটু ঘুমাতে হবে। খুব টায়ার্ড লাগছে।

    উমাকান্তবাবু মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, টেক রেস্ট। ডাক্তারদের মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে। ভেঙে পড়লে চলবে না।

    বেশ কয়েকদিন ধরেই সায়ন্তনী একটু কম কথা বলছে বাড়িতে। নির্দিষ্ট সময়ে হসপিটালে বেরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু মুখটা যেন আষাঢ়ের প্রথম দিবসের মতোই থমথমে। কমলাদেবী স্বামীকে দু-কথা শোনালেও মেয়েকে একটু সমঝে চলেন। মেয়ে এমনিতেই একটু গম্ভীর প্রকৃতির। আর পাঁচটা অল্পবয়সি মেয়ের মতো উচ্ছল নয়। নিজের চারিদিকে যেন একটা বৃত্ত এঁকে রাখে, ওর ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেই বৃত্তে প্রবেশের ক্ষমতা কারোর নেই।

    যথারীতি উমাকান্তবাবুর তদারকিতে সকাল সকাল মুর্শিদাবাদের সেই ঐতিহ্যবাহী টেবিল ঢুকল কমলাদেবীর ড্রয়িংরুমের দক্ষিণ কোণে। সঙ্গে একটা অদ্ভুত দেখতে টেলিফোন। মুঠোফোনের যুগে এমন টেলিফোন কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। বেশ বড়সর একটা বক্সের আকারে কাঠের একটা ফোন। তাতে শীলনোড়ার মতো বড় একটা হ্যান্ডেল। ওটা কানে তুলে ফোন করতে হয়। দেখেই কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছিল কমলাদেবীর। ও বরাবরই একটু ছিমছাম মানুষ। হালকা, ফুলকা ফার্নিচার পছন্দ, কিন্তু কপাল করে এমন একটা মানুষকে নিয়ে ঘর করছে যে আবার এসব কিম্ভূত দর্শন জিনিস পছন্দ করে। ইদানীং বলে বলে হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

    টেবিলের ওপরেই সেই বিকট দর্শন টেলিফোনটিও জায়গা পেল। উমাকান্তবাবু বেশ গর্বের সাথে বললেন, সম্ভবত কলকাতার প্রথম টেলিফোন বুঝলে গিন্নি! সালটা লেখা আছে দেখো গো।

    এটাকে কানেক্ট করব বুঝলে বাড়িতে, ল্যান্ডফোনের একটা আলাদা গাম্ভীর্য আছে। কমলাদেবী মনে মনে হাসলেন। যে ল্যান্ডফোনটা উমাকান্ত জোর করে ড্রয়িংরুমে রেখে দিয়েছেন সেখানা দিনে একবারও বাজে কিনা তাই জানা নেই! সেইজন্য ওই ফোনটা যে জীবিত আছে সেটাই ভুলতে বসেছেন উনি। মিস্ত্রি ডাকা হল, ল্যান্ডফোনের স্টাইলিশ রিসিভারটা বদলে ওই কাঠের বক্স টাইপ রিসিভারটা রাখা হল। মিস্ত্রির সারাদিনের পরিশ্রমে যদিও বা ফোনটা জীবন ফিরে পেল তবুও তার রিংটোনটা কেমন যেন ভয়ানক। মনে হয় যেন কোনো মানুষের গলা চেপে ধরা রয়েছে, আর সে চেঁচাচ্ছে। এমনি খনখনে শব্দে বেজে উঠল সম্ভবত কলকাতার প্রথম টেলিফোন! বাড়িটা দিনদিন চিড়িয়াখানা হয়ে যাচ্ছে যেন।

    মেয়েটা কেমন গম্ভীর, কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে না। এদিকে বাবার সেদিকে হুঁস নেই, সে আছে এসব পুরোনো জিনিসের গন্ধে মেতে, কমলার হয়েছে যত জ্বালা।

    সায়ন্তনী বাড়িতে ঢুকেই বলল, ও মাই গড, এতো হ্যামিলটন সাহেবের বাড়ির মতো ফোন। আমি একটা জার্নালে দেখেছিলাম, হ্যামিলটন সাহেবের বাড়িতে এমন একটা টেলিফোন ছিল। মেয়ের মুখে অনেকদিন পরে একটু হাসি দেখেই বোধহয় কমলাদেবী একটা টাওয়েল নিয়ে নতুন আসা টেবিল আর টেলিফোনটিকে একবার মুছে দিলেন।

    সায়ন্তনী নিজের মোবাইল বের করে বাড়ির ল্যান্ড নম্বর ডায়াল করতেই খনখনে স্বরে বেজে উঠল ফোনটা।

    সায়ন্তনী বলল, বেশ একটা অন্যরকম না বাবা সাউন্ডটা?

    উমাকান্ত বললেন, আসলে কী বলত, ভিতরের কলকব্জায় বহুদিন তেল পড়েনি, তাই ক্যাচর ক্যাচর আওয়াজ হচ্ছে বুঝলি! দুদিন বাজুক তারপর দেখবি মিষ্টি আওয়াজ বেরোচ্ছে। তাছাড়া তারবিহীন অব্যবহৃত জিনিস হলে যা হয়। এখনও যে কানেক্ট করা গেছে এই ঢের হয়েছে।

    টেবিলে হুবহু সিরাজের মুখায়বয় দেখে মেয়ে বেশ উল্লসিত হয়ে বলল, এটা সত্যি? মানে টেবিলটা ওই টাইমের ? নাকি পরে নকল করা হয়েছে বলতো?

    উমাকান্তবাবু বললেন, জানিনা রে, তবে মনে হয় না লোকটা মিথ্যে বলছে। তাছাড়া বার্নিশের আগেই বোধহয় আঁকা হয়েছিল, নখ দিয়ে নয় কোনো ধারালো জিনিস দিয়ে হয়তো।

    মনটা এমনিই কদিন ধরে বিষণ্ণ হয়ে আছে সায়ন্তনীর। ওর থেকে দু বছরের সিনিয়র আকাশ রায়ের সাথে ওর প্রেমটা হয়েছিল মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন। ওদের সম্পর্কে কোনো খাদ ছিল না। কিন্তু কদিন আগেই একটা খবর শুনে থেকে ওর মনটা খারাপ হয়েছিল। আকাশ নাকি একজন মৃতপ্রায় পেশেন্টকে অপারেশন টেবিলে না তুলে আগে পেমেন্ট ক্লিয়ার করতে বলেছে। সায়ন্তনীর আদর্শ ওর বাবা, বড়লোক পেশেন্টের কাছ থেকে যেমন বাবা সঠিক ফিজ নিয়েছে, তেমন গরিব রোগীকে অনেক সময় বিনামূল্যেও ট্রিটমেন্ট দিয়েছে। তাই ওর কাছে ডাক্তার শব্দের মানে একটা আদর্শ। সেখানে আকাশ এরকম করেছে শুনেই ভালোবাসা নামক অনুভূতিটা কঁকিয়ে কেঁদে উঠেছিল। এমন তো ছিল না আকাশ, হঠাৎ কী এমন হল যে ও এতটা পাল্টে গেল! তাও অন্যের কথা বিশ্বাস না করেই আকাশকে কল করেছিল সায়ন্তনী, আকাশ বেশ অহংকারের সাথেই বলেছে, শোনো সায়ন্তনী এই মুহূর্তে আমার যা ডিম্যান্ড তাতে এটুকু আমি ডিজার্ভ করি। আগাম পেমেন্ট না করলে আমি পেশেন্টকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাব না। এটা আমার নিজস্ব রুলস। আমি চুরি ডাকাতি তো করছি না, নিজের পরিশ্রমের অর্থ নিচ্ছি। সায়ন্তনী বলতে গিয়েছিল, তোমার এই দেরির জন্য যদি কোনো পেশেন্ট মারা যায় তখন কী করবে? আকাশ বলেছিল, সেটা আমার দায়িত্ব নয়, পেশেন্টপার্টি যদি দেরি করে পেমেন্ট করে, তাহলে তার রোগীর দায়িত্ব আমার নয়।

    মনটা ভেঙে গিয়েছিল সায়ন্তনীর। নিজের আদর্শ আর ভালোবাসার মধ্যে চলছিল একটা মারাত্মক দ্বন্দ্ব। কাকে জেতাবে বুঝতে পারছিল না! আকাশের নামে ইদানীং বেশ কিছু ফিসফাস কানেও এসেছে ওর। একজন নার্সের সাথে নামও জড়িয়েছে ওর। যদিও সায়ন্তনী জানে, এসব পার্ট অফ হিজ জব। ভালো ডক্টর হলে তার নামে কিছু স্ক্যান্ডাল ছড়ায় অন্যরা। যদিও আকাশ বলেছে, চন্দ্রিমা একজন সিনসিয়র নার্স, তাই আমি ও.টিতে ওকে চাই। এমন সন্দেহবাতিক মন নিয়ে সায়ন্তনী কীভাবে ভালোবাসবে আকাশকে? আকাশের মুখটা ভার হয়েছিল সেদিন। সায়ন্তনীরও চোখের কোণে জলের রেখা ফুটেছিল। এটুকু বুঝেছিল, আকাশ আর যাই করুক ওকেই ভালোবাসে।

    ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল মধ্যরাত। এপাশ ওপাশ করেও ঘুম আসছিল না ওর। বারবার ওদের মেডিকেল পড়ার, প্রেমে পড়ার দিনগুলো মনে পড়ছিল ওর। কষ্টে বুকটা মুচড়ে উঠছিল যেন। আকাশ বোধহয় অভিমান করেছে ওর ওপরে। এতদিনের ভালোবাসাকে সন্দেহ করা একেবারেই অনুচিত হয়েছে। প্রফেসনালি ও হয়তো সায়ন্তনীর মতো নয়, কিন্তু ভালো তো বাসে। ওকে এভাবে সন্দেহ করাটা অত্যন্ত অন্যায় হয়েছে সায়ন্তনীর।

    মোবাইলটা হাতে নিয়ে এই মাঝরাতেই ফোন করতে চেষ্টা করল আকাশকে। কিন্তু ওর ফোনের সিগন্যাল নেই। মহা মুশকিল, দুটো সিমেই নো সিগন্যাল দেখাচ্ছে।

    এখুনি আকাশকে কল করে সরি বলতে হবে সায়ন্তনীকে। গোটা বাড়ি নিদ্রারত।

    সিঁড়ি দিয়ে চুপিচুপি নেমে এল নীচের ড্রয়িংরুমে। বাবার কেনা বিশাল টেলিফোনের রিসিভারটা তুলে নিল হাতে।

    তখনকার দিনের মানুষের গায়ে বেশ শক্তি ছিল, নাহলে এই ফোন হাতে নিয়ে বেশিক্ষণ কথা বলা সত্যিই দুস্কর, একটু পরেই হাতে ব্যথা করবে নিশ্চিত। যদিও ফোনটা দেখতে ভারী সুন্দর। একটা গরিমা আছে এর সারা শরীরে।

    ফোনটা তুলে আঙুল দিয়ে ডায়াল করল আকাশের নম্বরটা। শেষ ডিজিট ডায়াল করার আগেই কেউ একজন যেন কানের কাছে বলে উঠল, ভালোবাসা মানে প্রবঞ্চনা। সব ভুল, সবাই প্রবঞ্চনা করে।

    সায়ন্তনী পিছন ফিরে তাকাল, ড্রয়িংরুমের নরম নীলচে আলোয় দেখতে পেল, ওর ধারে কাছে কেউ নেই।

    আবার মন দিল ফোনে, আবারও একই স্বরে কেউ যেন কানের কাছে কেঁদে উঠে বলল, আমি তোমায় ভালোবাসি, আমায় ছেড়ে যেও না….

    ভয়ে হাত, পা শিরশির করে উঠল সায়ন্তনীর। কেউ কোথাও নেই, ফোনটাও আকাশকে করা হয়নি এখনও, তাহলে কে বলছে এভাবে কথা! সায়ন্তনী ফোনটা রেখে দিল রিসিভারের হ্যান্ডেলে। আবার তুলে দেখল, যান্ত্রিক একটা শব্দ হচ্ছে যেমন হয়। আকাশের নম্বরটা যেমনি ডায়াল করতে গেল অমনি কেউ বলে উঠল, ভালোবাসা আপেক্ষিক, ভালোবাসা মায়াময়, ভালোবাসা প্রবঞ্চনা করে।

    শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমেল স্রোত বয়ে গেল সায়ন্তনীর। ফোনটা নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে ও চলে এল নিজের ঘরে।

    সকালেও আড়চোখে বেশ কয়েকবার তাকাল ফোনটার দিকে। কিন্তু সাহস করে হাত দিল না, বাবা,মাকে কিছু না বলাই ভালো। হয়তো এই কদিন ধরে মনখারাপ আর ভুলভাল চিন্তার প্রতিফলন ওটা। আকাশকে নিয়ে ভাবতে ভাবতেই এমন সব চিন্তা মাথায় এসেছিল ওর। ডাক্তার হয়ে এসব অলৌকিক বিষয়ে তো বিশ্বাস করা যায় না!

    হসপিটাল থেকে লাঞ্চ ব্রেকে কল করল আকাশকে। যথারীতি কেজো গলায় বলল, ও.টি.তে ঢুকছি, পরে কথা বলব। আকাশের গলার স্বরে কোনো নরম আবরণ নেই। প্রায় দিন সাতেক কথা হয়নি ওদের, তাতেও কোনো বিরহযন্ত্রণার লেশ মাত্র নেই। আগে কোনো কারণে দিন দুই কথা না হলেই আকাশ অভিমান করত, গলায় থাকত ভালোবাসা আর অভিমানের মিশেল। কখনো সায়ন্তনীর রাগ ভাঙানোর আদুরে প্রয়াস। আজ সেসব যেন কেমন উবে গেছে মনে হল, হয়তো কাজের প্রেসারে। অথবা সায়ন্তনীর বলা কথাতে একটু বেশিই আঘাত পেয়েছে। সম্পর্কটাকে ঠিক করতে হবে সায়ন্তনীকেই। তারপর ধীরে ধীরে বোঝাতে হবে আকাশকে, একজন ডাক্তারের প্রায়োরিটি কী হওয়া উচিত! ও ভুল করছে বোঝাতে হবে ওকে। ও বললে নিশ্চয়ই আকাশ শুনবে, নিজের ভালোবাসার ওপরে এটুকু বিশ্বাস সায়ন্তনীর আছে।

    আজও অদ্ভুত ভাবে রাতে বাড়ি ফিরে ফোন করতে গিয়ে দেখল সিগন্যাল নেই ফোনে। এটা আবার নতুন উৎপাত শুরু হয়েছে। যেমনি নিজের রুমে ঢুকছে মোবাইলের সিগন্যাল ভোকাট্টা হয়ে যাচ্ছে, কিছুতেই ফিরছে না। ফোনটা যেন আচমকা ডেড হয়ে যাচ্ছে ওর।

    ওই ফোনটার কথা মনে হতেই গাটা শিরশির করে উঠল ওর, কিন্তু কেমন যেন একটা সম্মোহনী নেশায় ও সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল ড্রয়িংরুমের ফোনটার সামনে।

    অন্ধকারেও পিতলের ফলকে লেখা ১৮৮২ সালটা ঝকঝক করে উঠল। একটা লম্বা দণ্ডের ওপরে কাঠ আর পিতলের কাজ করা টেলিফোন। বাবা হয়তো ঠিকই বলেছে, ওই সময়ে কলকাতায় হাতে গুনে কয়েকজনের বাড়িতেই টেলিফোন নামক যন্ত্রটি ছিল। কী যেন বলা হত, দূরভাষ। টেলিফোনের নীচের দিকে একটা ড্রয়ার মতো জায়গা, ওখানে বোধহয় টেলিফোন ডিরেক্টরি রাখা হত। সায়ন্তনী নেশাগ্রস্তের মতো তুলে নিল ফোনটা। আবারও ফিসফিস করে কথা শুনতে পেল, বিশ্বাস করতে নেই, ওরা প্রবঞ্চক। ভালোবাসা প্রবঞ্চনা করে। শরৎবিহারী রোডের শুভেচ্ছা অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট নম্বর টেন। কথা থেমে গেল, আবারও যান্ত্রিক আওয়াজ।

    ড্রয়িংরুমের লাইটটা জ্বালাল সায়ন্তনী। ফোনটার সামনের চেয়ারে স্থির হয়ে বসল। ওর হাত, পা ঘামছে তবুও কিছুতেই ও পালিয়ে যেতে পারছে না টেলিফোনটার সামনে থেকে। পা দুটো যেন কেউ শক্ত করে ধরে রেখেছে। গলাটা শুকিয়ে কাঠ, একটা টুঁ শব্দ বেরোচ্ছে না সেখান থেকে। আচমকা টেলিফোনের নীচের ড্রয়ারটা খুলে ফেলল ও। বাবা বলছিল সেদিন নাকি মিস্ত্রিও অনেক চেষ্টা করে পারেনি নীচের এই ড্রয়ারটা খুলতে। সায়ন্তনী অনায়াসেই খুলে ফেলল ড্রয়ারটা। হাত ভরে দিতেই দেখল ভিতরে আরও একটা ছোট্ট খাপ রয়েছে, একটা কাগজের খাম বের করল ও সেখান থেকে। এত বছর আগের টেলিফোনের ড্রয়ার থেকে খাম পেয়ে একটু অবাকই লাগছে ওর। খামটা খুলতেই বেরিয়ে এল একটা সাদাকালো ছবি। ছবিটা প্রায় জ্বলে গেছে। তবুও যেটুকু দেখা যাচ্ছে তাতে একটা মিষ্টি মেয়ের মুখ দেখা যাচ্ছে, পাশেই দাঁড়িয়ে আছে লম্বা ঝুলপির একটি ছেলে। মেয়েটার চোখে একরাশ লজ্জা, ছেলেটার ঠোঁটে চটুল হাসির রেখা, সরু গোঁফে ধূর্ততা স্পষ্ট।

    খামের মধ্যে থেকে বেরোলো হলদে হয়ে যাওয়া কিছু চিঠি।

    চিঠিটা সাধুভাষায় লেখা, যার সারমর্ম হল..

    আমি চলে যাচ্ছি এ পৃথিবী ছেড়ে। তোমার অবহেলা আর বঞ্চনা সহ্যের ক্ষমতা ভগবান আমায় দেননি। আজ বুঝতে পারলাম, ভালোবাসার আরেক নাম প্রবঞ্চনা।

    রাখী শুধু তোমাকেই পেতে চেয়েছিল আপন করে, আজ নিজের চোখে দেখলাম তোমার শয্যা সঙ্গিনীকে। বেঁচে থাকার সমস্ত ইচ্ছা আমার মৃত। স্বপ্নগুলোকে সঙ্গে নিয়েই চললাম। এই টেলিফোনে কত মধ্যরাতে কথা বলেছি তোমার সাথে, আকাশের তারারা যখন ঘুমিয়ে পড়েছে তখন স্বপ্ন সাজিয়েছি তোমার সাথে।

    এই টেলিফোন আর কখনো কথা বলবে না, এর মজবুত তারটা একটু পরেই আমার গলায় জড়ানো থাকবে। কাল সকালে সবাই আবিষ্কার করবে আমার মৃত নিথর শরীর। আমার ব্যারিস্টার বাবাও কোনো আইনি ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে পারবে না আমাকে। ভালোবাসা আপেক্ষিক, ভালোবাসা প্রবঞ্চনাময়। সূর্যশেখর আমি চললাম।

    আরও কিছু চিঠিতে সূর্যশেখর আর রাখীর ভালোবাসার গোপন কথা নথিবদ্ধ করা আছে।

    সায়ন্তনী নিজেও খেয়াল করেনি কখন ওই অজানা রাখী নামক মহিলার জন্য ওর চোখ দুটো সজল হয়ে উঠেছিল।

    চিঠিতে পড়ল ওর একফোঁটা জল। কেউ যেন পরম তৃপ্তি পেল।

    ফোনটা কানে তুলে সায়ন্তনী বলল, বলো রাখী, কিছু বলতে চাও আমায়?

    রাখী ফিসফিস করে বলল, শরৎ রোডে যাও, সব জানতে পারবে।

    আমার ছবি আর চিঠিগুলো ফেলে দিও জলে।

    সায়ন্তনী চিঠির খামটা নিয়ে উঠে গেল নিজের ঘরে। ঘামে ওর জামা ভিজে গেছে। এটা কি সত্যি! নাকি ওর দুর্বল মস্তিষ্কের কোনো কল্পনা। কিন্তু চিঠিগুলো তো সত্যি!

    সম্ভবত ফোনটা যাদের বাড়িতে এসেছিল সেটা ১৮৮২ সাল হলেও রাখী ওই সময়ের মেয়ে নয়। ওর চিঠির কোণে লেখাও আছে ১৯৬২ সাল। হতেই পারে রাখীর কোনো পূর্বপুরুষের ছিল এই ফোনটা। অ্যান্টিক জিনিস বলেই হয়তো রয়ে গিয়েছিল ওদের বাড়িতে। হয়তো ওর মৃত্যুর পরে মালিক ফোনটা বিক্রি করে দেয়। কারণ এই টেলিফোনের তারেই সুইসাইড করেছিল রাখী।

    রাখীর বলা অ্যাড্রেসে গেলে কী দেখবে সায়ন্তনী, কেন এসব বলল রাখী ওকে!

    গা ছমছমে একটা ভয় কাজ করছিল ওর। কদিনের মধ্যেই যেন কীসব ঘটে গেল ওর জীবনে। সারারাত নির্ঘুম বসে থেকে ভোরবেলাতেই নিজের গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে গেল সায়ন্তনী, একা যাবে না আকাশকে সঙ্গে নেওয়া উচিত সেটাই ভাবতে ভাবতে গাড়িতে স্টার্ট দিল ও। কিন্তু সায়ন্তনী জানে আকাশ এসব কথাতে বিশ্বাস তো করবেই না বরং বলবে যত সব পাগলের কাণ্ড। তার থেকে একবার নিজেই ঘুরে আসুক তারপর নাহয় ডাকবে আকাশকে।

    রাখীর বলে দেওয়া অ্যাড্রেসে পৌঁছে দেখল সত্যিই থার্ড ফ্লোরে দশ নম্বর বলে একটা ফ্ল্যাট আছে ওই কমপ্লেক্সে।

    কোনো কিছু না ভেবেই একটা ঘোরের মধ্যে বেলটা প্রেস করল সায়ন্তনী। বার দুয়েক বাজানোর পরে ঘুম চোখে যে মানুষটা দরজা খুলল তাকে এখানে দেখবে কল্পনাও করতে পারেনি ও। আকাশদের বাড়িতে বার দুই গেছেও সায়ন্তনী। আকাশ আর ও একটা ফ্ল্যাটও বুক করেছিল ভবিষ্যতের জন্য, যদিও সেটা পেতে এখনও বছর খানেক দেরি আছে। কিন্তু এই ফ্ল্যাটটা কার? আকাশ এখানে কী করছে?

    সায়ন্তনীকে দেখে ভূত দেখার মতো চমকে উঠল আকাশ। সায়ন্তনী ওকে ঠেলেই প্রায় জোর করে ঢুকে পড়ল ফ্ল্যাটের ভিতরে। বেডরুমে তখনও শুয়ে রয়েছে চন্দ্রিমা নামের মেয়েটা। সায়ন্তনী মেয়েটাকে দিন দুই দেখেছিল আগে।

    আকাশ বলতে এসেছিল, ইটস এন অ্যাক্সিডেন্ট, আই রিয়েলি লাভ ইউ সায়ন্তনী। চন্দ্রিমাকে আমি বিয়ে করব না, বিশ্বাস করো।

    সায়ন্তনী একটু হেসে বলল, কেন বিয়ে করবে না আকাশ? চন্দ্রিমা মিডিওকার ফ্যামিলির মেয়ে বলে? নাকি ডক্টর নয় বলে?

    আমায় কেন বিয়ে করতে চাও, আমি বিখ্যাত ডক্টর উমাকান্ত চৌধুরীর মেয়ে বলে? নাকি আমি নিজে একজন ডক্টর বলে? আমাকে বিয়ে করলে বোধহয় তোমার স্ট্যাটাসটা ঠিকমতো মেন্টেইন হবে, তাই না?

    আকাশ লোভ বড় বিষম বস্তু। মানুষকে বদলে দেয়। লোভ বোধহয় আমার চেনা সেই আকাশকে বদলে দিয়েছে।

    ভেবেছিলাম MBBS পাশ করে MS করব। এখন ভাবনাটা বদলে ফেললাম, ভাবছি মানুষের মন পড়ার ডাক্তার হব। সাইক্রিয়াটিস্ট হবো। মুখোশ পরা মানুষগুলোর মনটাকে চিনতে চাই।

    আকাশের সামনে থেকে চলে এলো সায়ন্তনী। আর একমুহূর্তও থাকতে ইচ্ছে করছে না প্রবঞ্চকটার সামনে।

    গাড়িটায় স্টার্ট দিতেই চোখে পড়ল রাখীর চিঠির খামটা।

    রাখী বলেছিল জলে ফেলে দিতে। সায়ন্তনীর ইচ্ছে করছিল না চিঠিগুলো ফেলে দিতে। তাই আবারও টেলিফোনের নীচের গোপন ড্রয়ারে ভরে দিল চিঠিগুলো। রাখী থাকুক ওই ফোনের মধ্যেই। যখন খুব একলা লাগবে ওর তখন মধ্যরাতে গল্প করবে রাখীর সাথে। ভালোবাসায় প্রবঞ্চিত হওয়ার পরে কেন ও সুইসাইড করল, কেন সব ভুলে নিজেকে ভালোবাসতে পারল না জিজ্ঞেস করবে রাখীকে। রাখীকে দেখিয়ে দেবে, একজন চলে গেলেই নিজের মূল্যবান জীবনটা ব্যর্থ হয়ে যায় না। বাবার মতো স্বনামধন্য ডাক্তার হয়ে ও প্রমাণ করে দেবে, আঘাতও নিতে পারে সায়ন্তনী। রাখীর মতো হেরে যায় না।

    রাখী টেলিফোনের ভিতর থেকে দেখুক জেতা কার নাম।

    সায়ন্তনী নিজের ঘরে ঢুকে আকাশের যাবতীয় স্মৃতি ছিঁড়ে ফেলে দিল ডাস্টবিনে।

    আজ থেকে আকাশ মৃত ওর কাছে।

    মধ্যরাতে আবার ফোনটা কানে নিয়ে সায়ন্তনী বলল, থ্যাংক ইউ রাখী, তুমি আমার দৃষ্টি স্বচ্ছ করতে সাহায্য করেছ। তবে আমি তোমার মতো হেরে যাব না, পালিয়ে যাব না জীবন থেকে।

    রাখী ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে বলল, জানো আমি মারা যাবার পরে আমার বাবা, মা, বোন সবাই খুব কেঁদেছিল আমি দেখেছিলাম। কিন্তু সূর্যশেখরের চোখে একটু জল দেখতে চেয়েছিলাম, পাইনি। তখন মনে হয়েছিল, ভুল করলাম, নিজের লোকদের ছেড়ে চলে গিয়ে বড্ড ভুল করলাম।

    সায়ন্তনী বলল, রাখী তুমি আমার বন্ধু হবে?

    রাখী ফিসফিস করে বলল, আমি মারা যাবার পরে ফোনটা আমার বাবা বিক্রি করে দিয়েছিল। এটা আমার দাদুর বাবার আমলের টেলিফোন। অনেক পুরোনো জিনিসের সাথে পড়েছিল ফোনটা একটা গোডাউনে।

    কতদিন কারোর গলা শুনতে পাইনি। বন্ধু হব তোমার।

    মা ওপরের বারান্দা থেকেই জোরে বলল, কিরে এত রাতে কার সাথে কথা বলছিস এখানে? নীচে কী করছিস?

    মায়ের চোখে সন্দেহের ঘনঘটা দেখেই সায়ন্তনী চুপ করে গেল।

    সায়ন্তনী ফোনটা রেখে দিয়ে বলল, আবার কাল কথা হবে, শুনব তোমার সব কথা। আর তুমি দেখবে আমার জেতার লড়াইটা। রাখী বলল, তুমি পারবে, নিশ্চয়ই পারবে। তুমি যে আমার মতো বোকা নও। রাখীর শেষ কথাটা কান্নার মতো শোনাল সায়ন্তনীর।

    ধীর পায়ে নিজের ঘরে এসে বসল ও।

    বইপত্র খুলে পড়াশোনায় মন দিল।

    আকাশের মুখটা মাঝে মাঝেই দৃষ্টিপথে বাধা সৃষ্টি করেছিল, ঠিক তখনই নিজের মনটাকে শক্ত করে আবার শুরু করেছিল সায়ন্তনী। জিততে ওকে হবেই।

    সায়ন্তনী খেয়ালও করেনি কখন যে বাবা ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, ডাক্তারদের আরও কঠিন হতে হয়, অল্পে ভেঙে পড়তে নেই। আমার বিশ্বাস, তুই আকাশকে ভুলে নিজের জীবনটা গড়ে নিতে পারবি।

    সায়ন্তনী অবাক হয়ে তাকাল বাবার দিকে, বাবারা কী অন্তর্যামী হয়, নাকি সন্তানের সবটুকু কষ্ট টের পায় আগাম! বাবা ওর একটা হাত শক্ত করে ধরে বলল, প্রমাণ করে দে তুই উমাকান্ত চৌধুরীর মেয়ে, প্রমাণ করে দে ডাক্তারি একটা নোবেল প্রফেশন।

    পরদিন সায়ন্তনী হসপিটালে ব্যস্ত ছিল সারাদিন। বাড়ি ফিরল তখন প্রায় এগারোটা। ড্রয়িংরুমে ঢুকেই চোখে পড়ল, ফোনটা নেই, তার মানে রাখী নেই?

    সায়ন্তনী মাকে ডেকে বলল, বাবা কী ফোনটা অন্য কোনো ঘরে সিফট করেছে? বেশ তো ছিল এখানে।

    মা নরম গলায় বলল, মেয়েটা যে বড় দুঃখী রে, আর কতদিন বন্ধ থাকবে এই ফোনের ভিতরে। সবগুলো চিঠি আমিও পড়েছি রে। ওর গলাটাও শুনেছি, তাই ভোরে গিয়ে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে এলাম ওকে। আজ বাড়িতে একটা নারায়ণ পুজো দেব ভাবছি।

    বহুদিন পরে খুব কাছের বন্ধু হারানোর বেদনা অনুভব করল সায়ন্তনী। বুকের বাঁদিকে সযত্নে জমিয়ে রাখল কষ্টটুকু। এই কষ্টটা ব্রেকআপের নয়, রাখীর মতো একজন দুঃখী মেয়ের জন্য। মনে মনে বলল, ভালোবাসা সবাইকে প্রবঞ্চনা করে না রাখী, বিশ্বাস হারিও না। পরজন্ম বলে যদি সত্যিই কিছু থাকে তাহলে তুমি নিশ্চয়ই নিষ্পাপ ভালোবাসা পাবে রাখী। যে ভালোবাসা হাসতে শেখায়, বিশ্বাস করতে শেখায়, ভরসা করতে শেখায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    Related Articles

    অর্পিতা সরকার

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    মন আয়নায় মেঘ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    অর্পিতা সরকার

    প্রিয় পঁচিশ – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Our Picks

    অপেক্ষার বারোমাস – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026

    শ্মশানকোকিলের ডাক – সৌভিক চক্রবর্তী

    May 1, 2026

    এসো না অসময়ে – অর্পিতা সরকার

    May 1, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }