Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    রশীদ করীম এক পাতা গল্প239 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তম পুরুষ – ১০

    দশ

    কোনো কোনোদিন স্কুলে যাবার বা স্কুল থেকে ফিরবার পথে দেখি মুশতাকদের বাসার সামনে তাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। অমনি একটা সুস্থ সুন্দর হাসিখুশিভরা জীবনের ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বড় ইচ্ছে হয়, একবার ভিতরে যাই; পরক্ষণেই দ্বিগুণ নিরুৎসাহে মন ভরে যায়।

    একদিন গড়ের মাঠে ফুটবল খেলতে গেছি। অনেকক্ষণ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে- রাস্তায় এক হাঁটু পানি জমে গেছে। ‘বোম্বে ক্রাউন’ রেস্টুরেন্টের ছাদের নিচে দাঁড়িয়ে আছি—কবে বৃষ্টি ধরবে, বাড়ি যাব।

    এমন সময় চোখের সামনে বিদ্যুৎ চমকাবার মতো করে মুশতাকদের হলদে রঙের শেভ্ গাড়িটা আমারই চোখের সামনে এসে দাঁড়াল।

    সেলিনা, আর একটি মেয়ে এবং মুশতাক একের পর এক গাড়ি থেকে নাবল। সন্তর্পণে পানির ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে, বর্ষণের বিরুদ্ধে অশেষ নালিশ প্রকাশ করতে করতে কলহাস্যে মুখরিত আর সিক্ত-সাজ সম্পর্কে বিচলিত হয়ে তারা তিনজন ফুটপাতের ওপর নেবে এলো। মুশতাক এলো সবার পিছনে, তার চোখেমুখে সেই পরিচিত দুষ্টুমিভরা হাসি। ফুটপাতের এক কোণে বর্ষার পানি জমে এক ক্ষুদ্র জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। মুশতাক সজোরে সেই স্থানটুকুর ওপর পদাঘাত করতেই সেলিনার শাড়ি আরো ভিজে গেল। সেলিনা সাপের মতো ফণা তুলেই যেন ওঝা দেখে দৃষ্টি নত করে নিল—এক কোণে দণ্ডায়মান আমাকে দেখে একেবারে স্থির হয়ে গেল।

    শত চেষ্টা সত্ত্বেও সেলিনার শাড়ি-ব্লাউজ প্রায় সবটুকুই ভিজে গেছে। মাথার চুলে আর চোখের পল্লবে বর্ষার পানি শিশিরের মতো টলমল করছে। সেলিনাকে দেখলেই এখন আমার ভয় হয়। তাই আমিও অনেকটা বজ্রাহতের মতোই দাঁড়িয়ে থাকলাম। সেলিনার পা দু’খানাও যেন কিছুক্ষণ নড়ল না। এমন সময় মুশতাকও আমাকে আবিষ্কার করল।

    —কি রে শাকের তুই যে! এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস?

    মুশতাকের প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে যাব এমন সময় শুনতে পেলাম সেলিনা দ্বিতীয় মেয়েটিকে বলছে :

    —মুশতাক’স বি-এফ—বেস্ট ফ্রেন্ড।

    তার ঠোঁটের বাঁকা হাসিটুকুও দৃষ্টি এড়াল না।

    সুতরাং জবাবে কিছুই বলতে পারলাম না, বলবার প্রবৃত্তি হলো না।

    এবার মুশতাক ঘাড় ধরে সজোরে আমাকে নাড়া দিয়ে বললো :

    –দাঁড়িয়ে ভাবছিস কি। চল ভিতরে চল—ব্রেন কাটলেট খাওয়া যাবে।

    আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। পকেটে একটি পয়সাও নেই—ব্রেন কাটলেট খাব কি। কিন্তু সত্য কথা বলতে কি, একটু আগেই ব্রেন কাটলেটের ভেসে আসা গন্ধ মনটিকে আনচান করে দিচ্ছিল। বর্ষণ মুখরিত সন্ধ্যায় ঠাণ্ডা হাওয়া সেই ইচ্ছেটিকে শাসন-না-মানা ঝড়ের মতোই দুর্দমনীয় করে তুলছিল। অথচ এই মুহূর্তে ব্রেন কাটলেট খাবার প্রস্তাবে আমি ক্ষেপে উঠলাম। বিচিত্র মানব মনের গতি। বিচিত্রতর দরিদ্র-সন্তানের মনস্তত্ত্ব। বহির্বিশ্বে বেড়ে উঠবার সব পথ রুদ্ধপ্রায় দেখে অন্তর্লোকে তার পরিণতিটা কত দ্রুতই না আসে। মুশতাক বয়সে আমার চাইতে কতটুকুই আর ছোট, তবু সে আমার কাছে শিশু মাত্র।

    যাই হোক এবার আমি যে জবাব দিলাম তা যেমন অপ্রত্যাশিত, তেমনি রূঢ়।

    —আমি ভাই তোমাদের মতো বড়লোক নই। কাটলেট খাবার পয়সা আমার নেই।

    —আহা, তোকে পয়সা খরচ করতে বলছে কে?

    —তাহলে কি তোর কাছ থেকে ভিক্ষে নেব?

    এবার মুশতাকও রেগে উঠল।

    —তুই তো আচ্ছা কথা বলিস! বন্ধুর কাছ থেকে কেউ ভিক্ষে নেয়? তাছাড়া তোকে যদি আমি একদিন খাওয়াই, তাতেই কি তোর মান যাবে?

    —না ভাই তুই যা।

    —তা কিছুতেই হয় না।

    এই বলে মুশতাক জোর করে একটা পাঁচ টাকার নোট আমার পকেটে গুঁজে দিল।

    একটা কেবিনে সেলিনা আর তার বান্ধবী মুখোমুখি বসে ছিল। মুশতাক কোনো কথা না বলে সেই মেয়েটির পাশে গিয়ে বসে পড়ল। আমিও মুহূর্তকাল চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকলাম। সেলিনা একবার দুটি চোখ তুলে—চোখ তো নয় যেন করাত—মুশতাকের দিকে তাকালো। মুশতাকের দুটি চোখ তখন টেবিলক্লথটির সূচিকার্যের নৈপুণ্য পর্যবেক্ষণে নিযুক্ত। সেলিনা নীরবে একটু সরে বসে জায়গা করে দিল। আমি সেলিনার পাশে গিয়ে বসলাম—যেন ফাঁসির মঞ্চের ওপর এগিয়ে এলাম।

    এবার মুশতাক আমাদের পরিচয় করিয়ে দিল :

    —বুবুর বন্ধু অনিমা। আমার বন্ধু শাকের।

    অনিমা হাত তুলে নমস্কার করল। আমি আরো একটু আড়ষ্ট হয়ে বসলাম। সেলিনা আর অনিমা দৃষ্টি বিনিময় করল।

    বাইরে তখনো তেমনি বৃষ্টি পড়ছে, এ বৃষ্টি যে কোনোদিনই থামবে তা মনে হয় না। টিনের ছাতে জানালার শার্ষিতে, নালার পানিতে, ফিটন গাড়ির চামড়ায়, পথে-মাঠে দালানের দেয়ালে বৃষ্টির আছাড় খাওয়ার অবিরাম শব্দ ছাড়া আর কোনো দিকে কোনো শব্দ নেই। কালো পিচের রাস্তার ওপর এমন তীক্ষ্ণ ধারায় বৃষ্টি পড়ছিল যেন কড়াইয়ের ওপর খই ফুটছে।

    কেবিনের ভিতরে আমরা চারিটি প্রাণী চুপচাপ বসে কাটলেটের জন্য অপেক্ষা করছি। কারো মুখে কথা নেই।

    এক সময় কাটলেট এলো, মনে হলো এক যুগ পরে।

    নীরবে আহার চলল। ছুরিকাঁটার শব্দ, তাছাড়া কারো মুখে কোনো রা নেই। খাবার সময় কেবল আমার মুখ দিয়েই এক রকম বিশ্রী আওয়াজ বেরুতে লাগল। অন্য তিনজন কেমন নিঃশব্দে খেয়ে চলেছে। শুধু কি তাই। কেমন ধীর মন্থর গতি; খাওয়াটা যেন এক বেদনাদায়ক কর্তব্য।

    কেবিনের ভিতর এক অস্বাভাবিক নীরবতা বিরাজ করতে লাগল। সবাই কাটলেটের সদ্ব্যবহার করতে ব্যস্ত, নিশ্চয়ই এইটেই নীরবতার কারণ। অথচ এই নীরবতা কেন যেন আমাকে পীড়ন করতে লাগল। আমরা চারজনই এক সঙ্গে বসে খাচ্ছি; যা কিছু ঘটছে চারজনেরই চোখের সামনে ঘটছে। অথচ অপর তিনজনের ভাবভঙ্গি দেখে আমার কেবলই মনে হতে লাগল, এমন কিছু ঘটেছে, বা ঘটছে, যা শুধু ওরা তিনজনই জানে। সে এমনই এক রহস্য যা চতুর্থজনকে জানানো যায় না। আমার এই অস্বস্তিকর আশঙ্কার হেতু কি তখনো বুঝি নি। তবে একটা কথা আমার মনে হচ্ছিল। আমি যেভাবে ছুরি আর কাঁটা চালনা করছিলাম, সেটাকে ঠিক স্বচ্ছন্দ বলা যায় না।

    এমন সময় যেন ভূত দেখেছি সেইভাবে চমকে উঠলাম।

    হঠাৎ চোখে পড়ল আমার সঙ্গী িতিনজন ডান হাতে ছুরি আর বাম হাতে কাঁটা ধরে আহার করছে।

    আর আমি?

    সে মর্মান্তিক কথা মনে হলে আজও আমার শরীরের লোম খাড়া হয়ে ওঠে।

    আমার বাম হাতে ছুরি আর ডান হাতে কাঁটা।

    সময়ের গতি যেন থেমে গেছে।

    আমি মুহূর্তকাল নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকলাম।

    তারপর মাথা নত করে ছুরি আর কাঁটাকে হস্তান্তরিত করলাম। আমার সঙ্গী তিনজনের তিন জোড়া পা অসোয়াস্তিতে শান্ত নীরে বুদ্বুদের মতো একবার নড়ে উঠল। তারা তিনজন অলক্ষ্যে দৃষ্টি বিনিময়ের চেষ্টা করল; কিন্তু তখন আমার চোখ-কান অস্বাভাবিক রকম সজাগ। কিছুই দৃষ্টি এড়ালো না।

    কথাটা মনে হলে আজও আমার কান গরম হয়ে ওঠে। অথচ, আশ্চর্য—এই এতদিন পরও ডান হাতে কাঁটা আর বাম হাতে ছুরি ধরে আহার করতে পারলেই আমি অপেক্ষাকৃত সহজে আহার করি।

    ওয়েটার বিল নিয়ে এলো। আমি দ্রুতবেগে পকেট থেকে পাঁচ টাকার নোট বের করে তশতরির ওপর রাখলাম। দ্রুততর বেগে নেবে এলো অনিমার হাত, তশতরির ওপর রাখা আমার হাতের ওপর!

    —না, না তুমি নয়। আমি দেব।

    সেলিনা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। বললো :

    —চলো চলো বিল দেয়া হয়ে গেছে।

    —এ তোমার ভারি অন্যায় কিন্তু।

    অনিমা তিরস্কার করে উঠল

    অনিমা আর সেলিনার মধ্যে বাক্য-বিনিময় হচ্ছে, তারই এক ফাঁকে মুশতাক আমার দিকে তাকিয়ে হঠাৎ একটা চোখ টিপল! তার অর্থ এই : ওরাই পয়সা দিক না। তুই অত ব্যস্ত হচ্ছিস কেন।

    আমি কিছু বললাম না। কি-ই-বা বলব! সেলিনা, অনিমা আর মুশতাক বিল দেয়া-নেয়া নিয়ে বচসা করতে পারে; কিন্তু বিল তারা তিনজনের মধ্যে আর যেই দিক, আমার যে দেবার প্রশ্নই উঠতে পারে না, এটা তারা ধরেই নিয়েছে। তার কারণ কি এই যে, আমি তাদের স্বল্প- পরিচিত? না কি, তার চাইতেও সূক্ষ্ম কোনো কারণ ছিল? তার কারণ কি এই নয় যে, যে বৃষ্টি ধরবার অপেক্ষায় আমাকে বাড়ি থেকে বহু দূরে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেই বর্ষণের শুভক্ষণেই ওরা তিনজন হঠাৎ লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে, গৃহের উষ্ণ কোণ ত্যাগ করেছে, মোটর গাড়ি বের করতে বলেছে, তারপর সোজা ‘বোম্বে-ক্রাউনে’ উপস্থিত হয়েছে?

    আমার তখন যে বয়স সেই বয়সে এমন তলিয়ে চিন্তা করবার মতো বুদ্ধির পরিণতি থাকার কথা নয়। কিন্তু কতগুলো সামাজিক অভ্যাস, রীতি-নীতি, আদব-কায়দার পিছনে এমন-ধারা অনুচ্চারিত কতগুলো কারণই কাজ করতে থাকে। এতো ভালোই যে রীতি-নীতিগুলো এই কার্য-কারণের সূত্র ধরেই অগ্রসর হয়। তবু সেদিন বড্ড কষ্ট পেয়েছিলাম। না হয় আমার পকেটের পাঁচটি টাকাও আমার নিজের নয়, তবু আমাকে বিল শোধ করতে দিলে কি আর এমন ক্ষতি হতো। ওদের তিনজনের সঙ্গে কোনো একখানে তো তাহলে সমতুল্যতা দাবি করতে পারতাম।

    আমি যখন এই চিন্তারই সূত্র ধরে সম্পূর্ণ অন্যমনস্ক হয়ে গেছি সেই সময় সেলিনা বললো :

    —অনিমা চলো আজ রাত্রে তুমি আমাদের বাড়ি থাকবে।

    —আমার কোনোই আপত্তি নেই। কিন্তু মাকে রাজি করবার দায়িত্ব তোমার।

    —আচ্ছা আমারই।

    —শাকের, তুইও চল।

    মুশতাক এবার আমাকে নিমন্ত্রণ করল। সেলিনা তার বন্ধুকে নিমন্ত্রণ করলে মুশতাকই-বা তার বন্ধুকে ডাকবে না কেন? মুশতাকের বহু কার্যকলাপের পিছনে এমনই এক সাম্য-নীতি কাজ করত।

    যাই হোক, মুশতাকের প্রস্তাব সম্পর্কে হাঁ না কিছু বলবার আগেই অনিমাও অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে যোগ করল :

    –বেশ হবে। তুমিও চলো না।

    কেবল সেলিনা কোনো কথাই বললো না।

    আমরা সবাই গাড়িতে গিয়ে বসলাম। সবার আগে আমি ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসলাম।

    গাড়ি চলল ভবানীপুর, অনিমাদের বাড়ি। তারপর যাবে বালীগঞ্জ, আমাদের বাড়ি। তারপর বেনিয়া পুকুর, মুশতাকদের বাড়ি।

    বৃষ্টি তখন থেমেছে; কিন্তু আকাশে ক্ষণে ক্ষণে মেঘ তখনো গর্জন করছে। মোটর গাড়ির আর্শির ওপর কখনো কখনো বিদ্যুতের আলো টর্চের মতো এসে পড়ে। তখনই আকাশে ছেঁড়া ছেঁড়া বড় বড় মেঘ এদিক থেকে ওদিকে সরে যাচ্ছে দেখা যায়। ঠাণ্ডা হাওয়া দিতে থাকে।

    গাড়ি চলল এ-পথ সে-পথ পেরিয়ে। কারো মুখে কথা নেই। একবার কেবল ড্রাইভার আমাকে উদ্দেশ করে বললো :–বাবু। আপনার পা-টা একটু সরিয়ে নিন। গাড়িতে কাদা লাগছে।

    আমি আজ্ঞা পালন করলাম। গাড়ি আগের মতোই ছুটতে লাগল।

    একটা বাগানঅলা বাড়ির মধ্যে ঢুকে গাড়ি বারান্দার নিচে এসেই থেমে পড়ল।

    অনিমা গাড়ি থেকে নাবতে নাবতে বললো :

    —তোমরা সবাই নাবো।

    সেলিনা তাড়াতাড়ি প্রতিবাদ করে বললো :

    —না চলো, আমি একাই যাই। সবাই নাবলে আবার দেরি হয়ে যাবে।

    একটু পরই তারা ফিরে এলো।

    আবার গাড়ি ছুটল। একটু পরই আমাদের বাড়ির দরজা।

    অনিমা দরজা খুলে নাবতে যাচ্ছিল।

    —চলো শাকের, তোমার মায়ের সাথে আলাপ করে আসি।

    —আলাপ করবি আর একদিন পোড়ারমুখী, এখন থাম।

    কি কারণে জানি না সেলিনা অনিমাকে বিরত করল। আমিও এই প্রথম সেলিনার প্রতি এক প্রকার কৃতজ্ঞতা বোধ করতে লাগলাম।

    কেবল মুশতাক আমার সঙ্গে নেবে এলো।

    আম্মা একটি অন্ধকার কোণে চুপচাপ বসেছিলেন। আমাকে দেখেই বলে উঠলেন

    —কোথায় ছিলি এতক্ষণ?

    কণ্ঠ অপ্ৰসন্ন।

    জবাব দিল মুশতাক।

    —আমাদের সঙ্গে ছিল। চাচি, শাকের আজ রাতে আমাদের বাড়ি থাকবে। আম্মা মুশতাকের কথার কোনো জবাব দিলেন না। একবার শূন্য দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালেন মাত্র। তারপর আমার হাত ধরে পাশের ঘরে নিয়ে এলেন। জিগ্যেস করলেন :

    —আলমারি থেকে দুটো টাকা নিয়েছিস?

    আমার গলা কেঁপে উঠল, তবু বললাম :

    —কৈ, না তো!

    —আচ্ছা যা!

    আম্মার গা গরম। নিশ্চয়ই তাঁর গায়ে জ্বর আছে।

    আমি তবু নড়ি না।

    আম্মা আবার বলেন :

    —ওষুধের জন্য টাকা দুটো রেখেছিলাম।

    আমি আর দাঁড়াই না। তাড়াতাড়ি মুশতাকের সঙ্গে বেরিয়ে আসি। সেলিনার প্রতি ডবল কৃতজ্ঞতা বোধ করি। ভাগ্যিস, অনিমাকে নাবতে দেয় নি।

    বেশ রাত হয়েছে। করপোরেশনের বৈদ্যুতিক আলোক-স্তম্ভটির ঠিক নিচেই গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টি তখন থেমে গেছে। শুধু আকাশের বুকে বড় বড় মেঘ তখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    সেলিনা আর অনিমা গাড়ির মধ্যে বসে আছে। আলো-অন্ধকারে তাদের ইহলোকের প্রাণী বলেই মনে হচ্ছে না। চারদিকের পরিবেশ কেমন যেন অশরীরী অলৌকিক।

    এবার আমরা মুশতাকদের বাড়ি পৌঁছলাম।

    মুশতাকের আম্মা বললেন :

    —অনেক দিন আস নি। অসুখ-বিসুখ করে নি তো বাবা।

    আমি কোনো জবাব দিই না।

    বাথরুমের দরজায় ঠেস দিয়ে সেলিনা দাঁড়িয়েছিল। তার চুল বৃষ্টির পানিতে ভেজা—কাঁধে তোয়ালে। এখুনি গা ধুতে যাবে।

    মুশতাকের আম্মা আবার বললেন :

    —আজ এখানেই খেয়ে যাবে।

    মুশতাক তাড়াতাড়ি জবাব দিল :

    –খেয়ে যাবে কি আম্মা! শাকের যে আজ রাত্রে এখানেই থাকবে।

    অনিমাও যোগ দিল :

    —আমিও যে থাকব বলেই এসেছি, মাসিমা।

    —ওমা। তাই না কি। তা তোমরা দুষ্টু ছেলেমেয়েরা বাইরে থেকে কি ষড়যন্ত্র করে এসেছ, না বললে আমি কি করে জানব বলো মা।

    এবার আমার দিকে ফিরে বললেন :

    —আমি চললাম রান্নার ব্যবস্থা করতে। দুষ্টু ছেলে তুমি চলে যেও না সেদিনের মতো। এবার আমিও বললাম :

    —না চাচি। আমি যাব না।

    সেলিনা তখনো দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনছিল। কখন এক সময়

    খোঁপা খুলে দিয়েছে। চুলগুলো হাঁটু পর্যন্ত নেবে এসে যেন পা ধরে কিসের জন্য সাধাসাধি করছে।

    অনিমা বললো :

    —সেলিনা, আমার হাতে ক্যামেরা থাকলে এখনি তোর ছবি তুলে নিতাম।

    —কেন রে?

    —কেন রে! তা কি আর আপনি জানেন!

    এবার সেলিনা একটুখানি হেসে গোসলখানার দরজা বন্ধ করল।

    আমরা সবাই বৈঠকখানায় এসে বসলাম।

    সেলিনাও একটু পরেই গোসল করে বেরিয়ে এলো।

    মুশতাকের পরনে জিপ-লাগানো লাল রঙের স্পোর্টস্ শার্ট আর সাদা হাফ প্যান্ট। ভারি স্মার্ট লাগছিল। আমি পরে আছি সাদা রঙের বিবর্ণ নোংরা হ্যাফ প্যান্ট আর একটা ময়লা হাফ শার্ট। আমার ঢ্যাঙা পায়ের লোমগুলো সজারুর গায়ের লোমের মতোই বিসদৃশ ঠেকছিল। আমি আবার মনের মধ্যে সেই পুরাতন অসোয়াস্তি বোধ করতে লাগলাম।

    সেলিনা মুশতাকের দিকে তাকিয়ে একবার মুচকি হাসল। সে হাসির অর্থ আমি বুঝলাম না।

    কথা বলছি, এমন সময় সেলিনার দৃষ্টি অনুসরণ করে আমার দৃষ্টি আমারই দুটি পায়ের ওপর এসে স্থির হলো। হাফ প্যান্টের নিচে হাঁটু থেকে পা পর্যন্ত সবটাই খোলা; আমার পায়ের সজারুর মতো লোমগুলো যেন সকলের গায়ে বিঁধছিল। সবচাইতে বেশি আমার নিজের গায়ে। সেলিনা একবার সেইদিকে দেখল, একবার মুশতাকের দিকে। মুশতাকের পরনেও হাফ প্যান্ট; কিন্তু কেমন করে যেন হাফ প্যান্ট তাকে দিব্যি মানিয়ে যেত।

    সেলিনার চোখের দৃষ্টি দেখে মুশতাক পর্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে গেল। সেও একবার আমার লোমশ পা দুটির দিকে চকিতে তাকিয়ে নিয়ে গম্ভীর হয়ে বসে থাকল।

    আর আমি?

    আমার সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল আমারই হতভাগ্য পদযুগলের ওপর। এই দুটি পা-কে নিয়ে কি করি, কোথায় লুকাই, সেই অসহায় চিন্তায় আমার মাথা ভার হয়ে থাকল। মনে হতে লাগল, এমন একজোড়া বিসদৃশ পদার্থ সৃষ্টি না করলে খোদার লোকসানটা কি হতো। আর সৃষ্টি যদি করাই হলো একটু সুন্দর সুডৌল আর সুশ্রী করে তৈরি করলেই-বা কার কি ক্ষতি হতো। সেই এক নিমেষের লজ্জা থেকে বাঁচবার জন্য জীবনের অবশিষ্ট সময়টা পদবিহীন হয়ে থাকতেও আমি সানন্দে রাজি হয়ে যেতাম। কিন্তু দুটি জলজ্যান্ত পা-কে—তা সে যতোই লোমশ আর বিসদৃশ হোক তো আর ইচ্ছে করলেই পকেটে পুরে ফেলতে পারি না এবং সত্যি সত্যিই আর লোপাটও করে দেয়া যায় না। কারণ, আমার পদমর্যাদা না হয় নাই থাক কিন্তু পদ-চালনার প্রয়োজন তো আর দশজনের চাইতে কিছু কম ছিল না। বরং কিছু বেশিই ছিল।

    ঝকঝকে পরিষ্কার মেঝে, দেয়ালে কত রকমের ছবি, সৌখিন আসবাবপত্র, কোথাও এতটুকু বালুকণা পর্যন্ত চোখে পড়বার উপায় নেই। সেইখানেই আমি হাফ প্যান্ট পরে পায়ের ওপর পা তুলে বসে আছি। হাঁটুর ভাঁজের কাছে কাদা-মাখা পানি টলটল করছে, গোড়ালির কাছে এক চাকলা কাদা। খোদার দুনিয়ায় এতদিকে এত সুন্দর জিনিস থাকতে সেলিনার চোখ বারবার সেই কাদাটুকুর ওপর এসে পড়ছে। অথবা এসে পড়ছে বলেই আমার মনে হচ্ছে।

    মুশতাক আমার হাত ধরে টেনে তুলল।

    —তুই গোসলখানায় ঢুকে পড়। আমি কাপড় এনে দিচ্ছি।

    আমি প্রতিবাদ না করে দুটি অবাঞ্ছিত পরিস্থিতির মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম অবাঞ্ছিতটাই বেছে নিলাম। চিড়িয়াখানার জানোয়ারের মতো কৌতূহল আর কৌতুকের বস্তু না হয়ে, পরের পোশাক পরে বাবু হওয়াও ভালো। অন্তত আমি তাই ঠিক করলাম।

    এক সময় চাচি এসে বললেন :

    —তোমরা সব করছ কি। খাবার হতে কিন্তু দেরি আছে। বরং তোমরা এখন এক পেয়ালা করে চা খাও।

    অনিমা সোৎসাহে সায় দিল।

    আমি ইতিমধ্যে গোসল করে মুশতাকের দেয়া সাজে সজ্জিত হয়ে তৈরি হয়ে নিয়েছি।

    কথার অভাব ঘটলেই অনিমা একটা কিছু বলে, বা একটা কোনো প্রস্তাব করে কামরার নীরবতা দূর করছিল; কিন্তু এভাবে কাঁহাতক আলাপ চলতে পারে? তাই এক সময় সে-ই প্রস্তাব করল :

    —এসো, ক্যারাম খেলা যাক।

    মুশতাক চট করে রাজি হয়ে গেল; কিন্তু সেলিনা কোনো কথাই বললো না। অনিমা জবরদস্তি করে তাকে টেনে চাটাইয়ের ওপর বসিয়ে দিল।

    প্রথমবার আমি আর অনিমা পার্টনার হলাম; কিন্তু হেরে গেলাম।

    অনিমা খেলে ভালোই। এমনকি ‘টাচ্’ আর ‘রিবাউন্ডের’ মারগুলো জবরদস্ত মারে। কিন্তু তার এক দোষ শেষের দিকে যারপরনাই নার্ভাস হয়ে যায়। হয়তো এক কঠিন অবস্থা থেকে নিজেকে উদ্ধার করে ধীরে ধীরে ময়দান সাফ করে আনল, তারপর যে মুহূর্তে বোর্ড অবধারিত আমাদের মনে হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ই তার হাত দুটি ফাঁসির আসামির মতো কাঁপতে থাকে। এইভাবে জেতা খেলা আমরা হেরে যাই।

    খেলা শেষ হলে অনিমা দুঃখ করে বললো :

    —কিছু মনে করো না ভাই, আমার দোষেই হেরে গেলে।

    সত্যিই তাকে দেখে মনে হচ্ছিল তার পরিতাপের সীমা-পরিসীমা নেই। ক্যারাম খেলায় তো হারে নি, তার হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল, জীবনের শেষ খেলাতেই বুঝি তার বাজিমাত হয়ে গেছে! সে অনবরত খুনখুন করছিল।

    বস্তুত এমনটিই হয়। বিশেষ করে প্রথম যৌবনের সেই সন্ধিক্ষণে তো নিশ্চয় এমনটিই হয়। খেলাই বল, পড়াই বল, যা কিছুতেই প্রতিযোগিতার একটা ভাব আছে, সেখানে একাগ্র চেষ্টার পর আশাহত হলে বুকটাই ভেঙে যায়। সেদিন অনিমার নৈরাশ্য মাত্রাতিরিক্ত মনে হচ্ছিল। আজ কেবল তা স্বাভাবিক নয়, সমীচীন মনে হচ্ছে। জীবনটা গোড়া থেকেই তার কাছে এক দুর্লভ বস্তু। সে সর্বতোভাবেই জীবনটার সদ্ব্যবহার করতে চায়। জীবনের কোনো ক্ষেত্রেই সে পরাজিত হতে চায় না। তার নিষ্ঠা আছে, সে তার নিষ্ঠার পুরস্কার চায়। কেনই-বা চাইবে না?

    যাই হোক, দার্শনিক তত্ত্ব আলোচনা এ আখ্যায়িকার উদ্দেশ্য নয়। সুতরাং যেখান থেকে সরে এসেছি সেখানেই ফিরে যাই।

    দ্বিতীয়বার খেলতে বসলাম। এবার পার্টনার হলাম আমি আর মুশতাক। অনিমা আর সেলিনা। বলা বাহুল্য, আমাদেরই জিতবার কথা।

    কিন্তু বেশ বুঝতে পারছিলাম, মুশতাক ফাজলামি করছে বেশি, খেলছে কম! আমি একার চেষ্টায় কতদূর এগিয়ে নিয়ে যাব? একক চেষ্টায় আর যে খেলাতেই জেতা যাক না কেন, কোনো ‘ডাবস্‌’ খেলায়, বিশেষ করে ক্যারামের ডাবল্স্ খেলায় বিশেষ সুবিধা করা যায় না।

    ‘বেসের’ একটা সহজ মার যখন মুশতাক গুবলেট করে দিলো, আমি তখন রীতিমতো রেগে উঠলাম।

    মুশতাক হাসতে হাসতে জবাব দিলো :

    —তুই ভাবছিস কি। ওরা যখন বিশ করবে, তখন আমরা খেলা শুরু করব। মেয়েদের একটু গ্রেস দিতে হয়।

    হলোও তাই। অনিমা-সেলিনার নম্বর যখন বিশ, আমাদের তখনো শূন্য।

    এইবার মুশতাক খেলা শুরু করল। সে কি খেলা! ক্যারাম খেলা যে এত দর্শনীয় হতে পারে চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না। কত সব অকল্পনীয়, অদৃশ্যপূর্ব, অনবদ্য মার। মুশতাকের সরু সরু আঙুলগুলো যেন খেলছে না, সেতারের তার নাড়ছে। দুটি গুটির মাঝ দিয়ে, তিনটির মাথার ওপর দিয়ে, চারটির পাশ দিয়ে, যতসব সম্ভব-অসম্ভব কোণ থেকে, সে কি এক একটা মার। মুশতাকের মতো খেলোয়াড়ের হাতে ক্যরাম খেলা শিল্পের পর্যায়ে পড়ে।

    কিন্তু মেয়েরাও অত সহজে হাল ছাড়বার পাত্রী নয়। যে সুবিধা তারা একবার পেয়ে গেছে সে সুবিধা তারা হেলায় হারাবে না।

    হারল না। তারাই জিতল। আমরা চব্বিশ পর্যন্ত এগিয়ে এসেছিলাম।

    তৃতীয় খেলায় আমি আর সেলিনা পার্টনার।

    এতক্ষণের ফলাফল; আমি দুটোই হেরেছি, সেলিনা দুটোই জিতেছে, অনিমা আর মুশতাক একটি জিতেছে।

    এইবার তৃতীয় আর শেষ খেলা।

    মুশতাক অনিমাকে ভরসা দিয়ে বললো :

    —তুমি ভেব না। এবার আমরাই জিতব।

    কিন্তু উত্তর এলো অনিমার কাছ থেকে নয়, সেলিনার কাছ থেকে। সে বললো :

    —তাতে আমারও সন্দেহ নেই। ‘ডাবলস্ খেলার’ তো এই বিপদ।

    সেলিনা কখনোই তার ভাইয়ের সঙ্গে একমত হয় না, বিশেষ করে যেখানে তাদের পরস্পরের শ্রেষ্ঠত্বটাই প্রতিপাদ্য সেখানে তো কিছুতেই নয়। কিন্তু আজ সে অপ্রত্যাশিতভাবে একমত হলো।

    আচ্ছা। তাহলে সেলিনার আশঙ্কা এই যে আমারই খেলার দোষে হেরে যাবে।

    আমিও রুমাল মুখে পুরলাম।

    মুশতাক আমার এই অভ্যাসের কথা জানে। কিন্তু সে এই সঙ্কেত সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে বললো :

    —শাকের, তোর রুমাল পকেটেই রাখ। এ খেলা তোকে জিততে দেব না।

    আমি সে-কথার কোনো জবাব দিলাম না। কিন্তু রুমাল মুখ থেকে সরিয়েও নিলাম না। ক্যারাম খেলায় মুশতাক অনন্য তা একশ’বার মানি। তবু মনে মনে বললাম : দেখাই যাক না। অধ্যবসায়ের যদি কোনো মূল্য থাকে, তো আজ আমাকে সেই মূল্য পেতে হবে।

    এমন অবস্থায় খেলতে বসা আর কিছু নয়, নিজের স্নায়ুর ওপর জুলুম করা। সেলিনা প্রথম দুটি খেলাতেই জিতেছে, তৃতীয় ও শেষ খেলাতেও সে জিততেই চায়। অথচ আমাকে পার্টনার দেখে সে আগে থেকেই হার মেনে বসে আছে! মুশতাকও আগে থেকেই ঘোষণা করেছে, সে আমাকে জিততে দেবে না। অবস্থা যখন এই, তখন খেলতে বসা স্নায়ুর ওপর জুলুম ছাড়া আর কি।

    এমন একাগ্র নিষ্ঠা আর মনোযোগের সঙ্গে জীবনে অন্য কোনোদিন অন্য কোনো কাজ আমি করেছি কি না সন্দেহ, সেদিন ক্যারাম যেভাবে খেলেছিলাম। কেবল মারগুলো পরিপাটি হলেই ক্যারাম খেলায় জেতা যায় না। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণীর খেলায় হাতের চাইতে বুদ্ধির খেলাই বেশি। নিজের দুটি গুটি সহজেই ফেলতে পারি; কিন্তু তাহলে প্রতিপক্ষের তিনটি গুটির পথ সাফ হয়ে যায়। তাই নিজের একটি গুটি স্থানান্তরিত করে বিপক্ষ দলের অনেকগুলো গুটির পথ রোধ করে দিই। ধীরে ধীরে যেন পা টিপে টিপে শত্রুর শিবিরের দিকে এগুতে থাকি। শত্রুও সেইভাবে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তার জাল বিস্তার করতে থাকে।

    এইভাবে অনেকক্ষণ ধরে আমাদের খেলা চলতে থাকল। খেলার গতি ঘড়ির পেণ্ডুলামের মতো কখনো এদিক, কখনো ওদিক।

    শেষ ‘বোর্ডে’ তখন ফলাফল : মুশতাকদের নম্বর আঠাশ, আমাদের তেইশ, কিন্তু ‘রেড’ আমরাই ‘পট’ করেছি। অর্থাৎ যে-দল এই ‘বোর্ড” জিতবে, খেলাও তারাই জিতবে।

    আমার ডান দিকের পকেটের ঠিক মুখের সামনে দুটি কালো গুটি। মুশতাকদের গুটি। কালো গুটি দুটির মাঝখানের আধ ইঞ্চিরও কম ব্যবধান আর সেই ফাঁকটুকুর কাছ ঘেঁষে আছে, আমাদের একটি সাদা গুটি, আমাদের শেষ গুটি। ‘বোর্ডে’ তখন মোট তিনটি গুটি, দুটি মুশতাকদের, একটি আমাদের।

    পকেটের মুখের সামনে বটে, কিন্তু এত কাছে নয় যে ‘বেস’ থেকে মেরে ফেলবার চেষ্টা করতে পারি। একমাত্র উপায় যদি রিবাউন্ডে’ ফেলতে পারি। সে বলতে গেলে এক অসাধ্য ব্যাপার। ‘রিবাউন্ড’ মারলে আমাদের সাদা গুটি না পড়ে মুশতাকদের দুটি কালো গুটির একটি পড়ে যাবার সম্ভাবনাই বেশি। অথচ সেই চেষ্টাই আমাকে করতে হবে।

    মারটি অতিশয় দুরূহ সন্দেহ নেই। কিন্তু গুটিটি ‘পট’ করতে পারলে আমরা ‘গেম’ জিতে যাব। কারণ ইতিপূর্বেই আমরা তেইশ করেছি এবং এবারো আমরাই ‘রেড’ পট করেছি। কিন্তু সাদা গুটিটা ফেলতে না পারলে খেলায় জিতে যাবে মুশতাক-অনিমা। কেবল যে মুশতাকের দম্ভই সত্য হবে তাই নয়, সেলিনার আশঙ্কাও যথার্থ প্রমাণিত হবে।

    আমি যদি আমার গুটি ফেলতে না পারি তাহলে আমার ডান পাশে মুশতাক সহজেই তাদের কালো গুটি দুটি ফেলে দেবে। তাদের কালো গুটি দুটি মুশতাকের বেসের কাছে পাকা ফলের মতো টপ করে ঝুড়ির মধ্যে পড়বারই অপেক্ষা করছে।

    সবাই নিশ্বাস বন্ধ করে দেখছে, অপেক্ষা করছে, আমি কি করি। অনিমার চোখ-মুখ পাথরে খোদাই করা মূর্তির মতোই নিথর ভাবলেশহীন। সেলিনার মুখে ঝড়ের পূর্ব-মুহূর্তের সঙ্কেত— কপালে ফোঁটা ফোঁটা ঘাম। বুঝতে পারছিলাম, অসহ্য প্রতীক্ষায় তার শরীর কাঁপছে।

    এমনকি মুশতাকও উৎসুক।

    আর বলা বাহুল্য, আমার মনের অবস্থাটাও তখন ঈর্ষা করবার মতো নয়।

    আমার সমস্যা এই : কালো গুটি দুটির মাঝখানে ফাঁক বড় কম। প্রথমত মারতে হবে রিবাউন্ড। রিবাউন্ড মারে কালো গুটি দুটিকে দু’দিকে সরিয়ে দিয়ে তারই মাঝ দিয়ে সাদা গুটিটিকে গলিয়ে দিতে হবে। বড় সহজ কাজ নয়।

    সহজই হোক আর কঠিনই হোক, পারি আর না পারি, চেষ্টা তো করতে হবে।

    দাঁত দিয়ে রুমালটি ভালো করে চেপে ধরলাম। ‘স্ট্রাইকারটাকে’ একেবারে বামদিকে সরিয়ে আনলাম। তারপর আল্লাহর নাম নিয়ে লাগালাম এক ‘রিবাউন্ড’ মার। স্ট্রাইকারটি আমাদের সাদা গুটিটির ঠিক মাথার ওপর বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল। কালো গুটি দুটি তারই ধাক্কায় সসম্মানে দু’দিকে সরে গেল, আমাদের সাদা গুটিটি রাজার মতো সমারোহ আর মর্যাদায় গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেল।

    মুশতাকের গলার ভিতর থেকে ঝাঁপ দিয়ে বেরিয়ে এলো দুটি কথা :

    —ওয়ান্ডারফুল শট্।

    এইবার আমি রুমাল পকেটে পুরলাম।

    এক ঢিলে দুই পাখি মারলাম। মুশতাকের দম্ভ আর সেলিনার আশঙ্কা দুই-ই মিথ্যা প্রমাণিত হলো।

    এতক্ষণে সেলিনা হাত-পা ছেড়ে আরাম করে বসল।

    এই সময় চাচি এসে বললেন :

    —চলো চলো শিগগির। খাবার তৈরি।

    যেতে যেতে অনিমা মুশতাককে উদ্দেশ করে বললো :

    –তোমার ওভার-কনফিডেন্সের জন্য তুমি হার।

    কথাটি ঠিক। মুশতাক আর অনিমা পর্দা তুলে বেরিয়ে গেল।

    তাদের পিছনে সেলিনা। সবার শেষে আমি।

    সেলিনা পর্দার কাছে এসে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর সোজা আমার দিকে তাকিয়ে বললো :

    –থ্যাঙ্কস্।

    তারপর পর্দা তুলে চলে গেল।

    তার হাতের চুড়ি আর পর্দার রিঙ এক সঙ্গে বেজে উঠল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম
    Next Article চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    Related Articles

    রশীদ করীম

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    রশীদ করীম

    লাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }