Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    রশীদ করীম এক পাতা গল্প239 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তম পুরুষ – ৩০

    তিরিশ

    আম্মা ঠিকই বলেছিলেন। নিহার ভাবি দু’দিনেই একেবারে আপন করে নিলেন। আমার এমন এক আশ্চর্য সুন্দর লক্ষ্মী ভাবি আছেন এই কথা আমাকে আগে কেউ কখনো বলে নি মনে করে আমার ভারি অবাক লাগল।

    কেবল স্বামী-স্ত্রীর সংসার। ছেলেপুলে হয় নি। বিয়ে হয়েছে বছর সাতেক। জমির ভাই কাঠের ব্যবসা করেন। অবস্থা রীতিমতো সচ্ছল। আমি ঘুম থেকে উঠবার আগেই তিনি বেরিয়ে পড়েন এবং রাত্রে আমি বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়বার পর তিনি ফিরে আসেন। তাঁর সাথে দেখা-সাক্ষাৎই বড় একটা হয় না। ঘুম থেকে চোখ খুলতেই রোজ দেখি, নিহার ভাবি এক পেয়ালা গরম চা হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকছেন। স্নান সারা, লম্বা ভেজা চুল পিঠের ওপর ছড়ানো, সারা মুখে প্রসন্ন হাসি, এবং হাতে গরম চা। সুতরাং অল্প দিনেই ভাবির সঙ্গে ভাব হয়ে গেল।

    —আচ্ছা ভাবি, আপনি কি করে বুঝতে পারেন, আমি এই সময়টাই উঠব। রোজ তো আর একই সময় উঠি না। গরম চায়ের বাটি নিয়ে ঠিক সময় কি করে পৌঁছে যান?

    —আমি যে হাত গুনতে জানি।

    —না, ঠাট্টা নয়। সত্যি বলুন।

    —পাগলা ছেলে! তুমি কি মনে কর আমি এইমাত্র এলাম। এর আগে কতবার এসে এসে ফিরে গেছি, প্রতিবারই দেখি খোকা ঘুমিয়ে আছে।

    —প্রতিবারই চা নিয়ে এসেছেন?

    —তা বই কি। আমি চা-বাগানের মালিক কি না!

    —তাহলে?

    —একবার এসে দেখি বাবু বেহুঁশ হয়ে নাক ডাকছেন। তখন জেনে যাই, তোমার রাত ভোর হতে অনেক বাকি আছে। তারপর এসে দেখি পাশ ফিরেছ। তখন বুঝে নি, মাঝে একবার নড়েছে। তারপর দেখি, অন্য পাশে মাথার ওপর হাত রেখে চোখ বন্ধ করে পড়ে আছ, পায়ের কাছ থেকে চাদরটা সরে গেছে। তখন বুঝতে পারি, তোমার ঘুম পাতলা হয়ে এসেছে। তারপর দেখি, চোখ দুটি বোজাই আছে; কিন্তু পা-টা যেন একটু একটু নড়ছে। তখন বুঝতে পারি, খোকা, এইবার উঠবে। তখন আমি চা তৈরি করতে যাই।

    —আপনি কি সারাক্ষণ এই করেন? আপনার অন্য কাজ নেই?

    কিই-বা আর কাজ।

    অজান্তেই ভাবি যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।

    আমিই আবার বলি : সত্যি আপনি আমার জন্য অনেক করেছেন। মাঝে মাঝে মনে হয় চলে যাই, আপনাদের কষ্ট দিচ্ছি!

    এমন ব্যগ্র হয়ে ভাবি আমার হাত দুটি চেপে ধরলেন যে আমি অবাক হয়ে তাকিয়েই থাকি।

    —দোহাই তোমার। এই কথাটি মুখে এনো না।

    তারপর চায়ের শূন্য পেয়ালাটা হাতে করে নিয়ে ভাবি ফিরে যান। একটু পরে আবার ফিরে আসেন। হাসতে হাসতে বলেন : আমার কেবলই ভয় হয় তুমি মামানির কাছে গিয়ে আমার বদনাম করবে, বলবে তোমার কোনো খেয়ালই করতে পারি নি। সত্যি, গরিবের বাড়িতে তোমার খু-উ-ব কষ্ট হচ্ছে।

    —আপনি জানেন কথাটা কত মিথ্যা! আর গরিব বড়লোকের কথা বলছেন! আমাদের অবস্থার কথা তো ভালো করেই জানেন। নিহার ভাবি তেমনি হাসতে হাসতে বললেন : আমাদের যা কিছু আছে তোমাকে তার ভাগ দিয়ে যাব। না, ঠাট্টা নয়। আমাদের আর কে আছে বলো। আমার থাকবার মধ্যে আছে এক বোন। তার সঙ্গে তোমার বিয়ে হলে কিন্তু আমি বড় খুশি হই। তুমি মনে করছ, আমার বোন আমারই মতো জংলি? তা কিন্তু মোটেই নয়। সে দার্জিলিং-এর স্কুলে পড়ে। দেখতেও খুব সুন্দর। মেয়েটি এমনিতেও খুব ভালো। নিজের বোন বলে বলছি না। বিয়ে করবে তাকে?

    —পাগল না কি? আমার চাল নেই চুলো নেই, বিয়ে করব কি?

    –কিচ্ছু লাগবে না। আমাদের মেলা আছে। তোমাকে কিছুই করতে হবে না। তোমার মতো ছেলে পেলে আমরা এক্ষুণি বিয়ে দি।

    —খুব তো দাতা সাজছেন। আজ না হয় আপনাদের টাকা ভোগ করবার কেউ নেই। হতে কতক্ষণ?

    —থাক সে কথা।

    ভাবি উঠে চলে গেলেন।

    এইভাবেই দিনের পর দিন গড়িয়ে যেতে লাগল।

    .

    আর এক দিনের কথা।

    সেদিন নিহার ভাবি বললেন : তুমি একটু বোসো। আমি কাজ সেরে এই আসছি।

    মুখে একটা গান পুরে নিহার ভাবি উঠে চলে গেলেন।

    পাশ থেকে বালিশটা টেনে নিয়ে বিছানার ওপর গা এলিয়ে দিলাম। পাশেই কোনো বাড়িতে রেডিওতে গান হচ্ছে। শরতের নীল আকাশ গরাদহীন গবাক্ষ জুড়ে ফ্রেমে আঁটা ছবির মতো ঝুলছে। বালিশটাকে আঁকড়ে ধরে বিছানার ওপর এইভাবে পড়ে থাকতে বেশ লাগছে। মাঝে মাঝে বাতাস শরীর স্পর্শ করে যায়; তখন কেন জানি সবকিছু ফাঁকা মনে হয়।

    ওদিকে রান্নাঘরে খুন্তি নাড়ার শব্দ হয়। চচ্চড়ি বা সেই জাতীয় কিছু একটা রান্না হচ্ছে। তেল-হলুদের গন্ধ নাকের কাছাকাছি এসে ফিরে ফিরে যায়। হাতের চুড়ির আওয়াজ নুড়ির মতো বাজতে থাকে।

    —ওমা! তুমি যে শুয়েই পড়লে। অনেকক্ষণ বসিয়ে রেখেছি, তাই না!

    –কোথায় আর অনেকক্ষণ! এই তো গেলেন!

    —নাও নাও খেয়ে নাও। কটা গরম মাছ ভেজে আনলাম। বেশ লাগবে।

    —বেশ লাগছে। নুন একটু বেশি হয়েছে।

    —ভালোই তো! নেমকহারামি করতে পারবে না।

    নিহার ভাবিও বিছানার ওপর বসে পড়লেন। মাথার চুল খোলা। কপালে নাকে আর দুই গালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। কাঁধের ওপর থেকে আঁচল টেনে এনে ঘাম মুছলেন। উদ্যত হাতের নিচেও ঘাম।

    —এতও ঘামতে পারেন আপনি।

    —আর বোলো না ভাই। যা মুটিয়ে যাচ্ছি। ঘামব না!

    —যাঃ মোটা আর কোথায়!

    —ওমা। মোটা নয়, তুমি বল কি!

    এই বলে নিহার ভাবি তাঁর দুই হাত এগিয়ে দিলেন। পুষ্ট দুটি বাহুর ওপর থেকে আঁচল সরিয়ে দিলেন।

    —তাও বলবে মোটা না। দেখ দিকি।

    আমি সে কথার কোনো জবাব দিই না। দৃষ্টি নত করে নি। নিহার ভাবি অনেকটা আপন মনেই বলে গেলেন : মুটিয়ে যাব, তাতে আর আশ্চর্য কি! বয়স তো আর কম হলো না।

    এই বলে নিহার ভাবি উঠে গিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালেন। ঘাড়ে কপালে আর গলার ওপর ময়লা জমে আছে। ময়লার আর দোষ কি। উনুনের কাছে বসে সারাদিন কাজ করলে খাঁজে খাঁজে ময়লা তো জমবেই। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিহার ভাবি ঘষে ঘষে গায়ের ময়লা তুলতে লাগলেন।

    —দেখো দিকি, কি ময়লাটাই না জমেছে।

    এই বলে তিনি এগিয়ে এলেন। মাথাটা উঁচু করে সারসের মতো লম্বা গলাটা আরো লম্বা করলেন। ঘষে ঘষে গলাটিকে লাল করে ফেলেছেন।

    —এবার চলি। বেলা হয়ে গেছে। অনেক কাজ পড়ে আছে।

    কিন্তু ঠিক তক্ষুণি উঠে গেলেন না।

    ইস্। এক্কেবারে যে ভিজে গেছ। এই ঝড়-বাদলের মধ্যে বেরুতে আছে। -বেরুতেই হলো। রেডিওতে স্ক্রিপ্ট দিয়ে এলাম।

    —স্ক্রিপ্ট? কিসের স্ক্রিপ্ট?

    —আজ রাত্রে রেডিওতে একটা গল্প পড়ব।

    —ওমা, তুমি গল্প লেখ না কি। কৈ আমাকে তো কখনো বল নি!

    —বলবার মতো কিছু নয়। ফ্যাসি-বিরোধী গল্প—জাপানি অত্যাচারের কাহিনী!

    নিহার ভাবি ততক্ষণে একটা পরিষ্কার তোয়ালে নিয়ে এসেছেন। দুই হাত দিয়ে আমার মাথা মুছতে মুছতে বললেন : তোমার পেটে অনেক বিদ্যে আছে। আমাকে কিছুই জানতে দাও না। মূর্খ মানুষ! আমি বুঝিই-বা কি।

    মাথার চুল যখন মরুভূমির মতো শুষ্ক করে ফেলেছেন, তখন ক্ষান্ত হয়ে তোয়ালেটা আমার হাতে গুঁজে দিয়ে নিহার ভাবি বললেন : নাও নাও মাথাটা ভালো করে মুছে ফেল। এক্ষুণি সর্দি-কাশি শুরু হয়ে যাবে। আর এই লুঙ্গিটা পরে নাও।

    —লুঙ্গি আমি পরি না।

    —বাবুয়ানা পরে করো। এখন জান তো বাঁচাও। আমি ভুলে তোমার সব কটা পাজামা ধোপার বাড়ি দিয়ে দিয়েছি। বোসো। আমি এক্ষুণি গরম চা করে আনছি।

    শুধু চা নয়। পাঁপর ভাজা আর গরম দালপুরিও এলো।

    —এই অসময়ে এত সমারোহ করে দালপুরী খাওয়াচ্ছেন। ভাত খেতে দেবেন কবে? —আজ কপালে ভাত নেই। মুখপোড়া বাবুর্চি বাজার থেকে গরুর গোস্ত নিয়ে এসেছে, তাতে আবার পোকা ভরা। হতভাগা আমাকে জানতেও দেয় নি। দিব্যি চুলোয় চড়িয়ে দিয়েছিল।

    —দালপুরিটা কিন্তু একদম গরম। এইমাত্র করলেন?

    —আজ্ঞে হ্যাঁ। আমি জানতাম কি না, তুমি এক্ষুণি এসে পড়বে।

    —যাঃ, তাও বুঝি কখনো হয়!

    —হয় হয় খুব হয়। তুমি ছাই জান। ভালোবাসার পাত্র এলে মন বুঝতে পারে।

    —কি যে বলেন! আমার লজ্জা করে।

    —লজ্জা করে! সে কি গো!

    নিহার ভাবি হেসেই আকুল।

    হাসতে হাসতে যাকে বলে একেবারে খুন! এমন করে কেউ হাসে। মাথার কাপড় কোথায় খসে পড়ল ঠিক নেই, ব্লাউজের বোতাম খোলা সে সম্পর্কে কোনো হুঁশ নেই, কেবল ঢেউয়ের মতো ফুলে ফুলে হাসলেই হলো।

    —অমন পাগলের মতো হাসছেন কেন?

    হাসব না। তোমার কথা শুনলে যে মরামানুষও হেসে উঠবে।

    এমন সময় বাইরে কড়া নাড়ার শব্দ শোনা গেল।

    —দাঁড়াও দিকি বাবু। লোক এসেছে। তোমার ভাইয়ের খাবার পাঠাতে হবে।

    নিহার ভাবি খানিক বাদেই ফিরে এলেন। বললেন : যাও তো সোনা আমার। একটু সাজগোজ করে এসো।

    —এই অসময়ে সাজতে যাব কোন দুঃখে?

    —দুঃখে নয় রে পাগল, সুখে। আমি তোমার সঙ্গে পালাব।

    —আমি খুব রাজি। কোথায় যেতে চান?

    –নিউ মার্কেটে। কেনাকাটা করবার আছে।

    —খাবেন না?

    —আজ বাইরে কোনো হোটেলে চপ-কাটলেট খাব চলো। বেশ মজা হবে, তাই না!

    —হ্যাঁ চলুন। আমি খুব রাজি।

    —একটু অপেক্ষা করো, আমি ব্লাউজটা বদলে আসি। ঘামে কেমন ভিজে গেছে, একবার দেখেছ।

    —দেখেছি।

    পটপট করে ব্লাউজের বোতামগুলো খুলতে খুলতে নিহার ভাবি পাশের ঘরে কাপড় ছাড়তে চলে গেলেন। আমিও বাক্স থেকে প্যান্ট বের করবার জন্য অন্যদিকে চলে গেলাম।

    মিনিট পাঁচেক পরই নিহার ভাবি আবার বেরিয়ে এলেন।

    ঐ যাঃ দেখেছ। কি ভুলো মন! ফর্সা ব্লাউজ বের করতেই ভুলে গেছি।

    নিহার ভাবি কোনোমতে গায়ের ওপর আঁচল জড়িয়ে বেরিয়ে এসেছেন।

    —হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখছ কি? এসো এসো বাক্সটা ধরে নাবাও।

    দু’জনে ধরাধরি করে বাক্সটা নাবালাম। তাড়াতাড়িতে মাথা ঠোকাঠুকি হয়ে গেল।

    —মাথা তো নয়, পাথর। এসো, আর একবার মাথা ঠুকে দাও। নইলে শিং বেরুবে। এই বলে একটু হেসে তিনি আবার পাশের ঘরে চলে গেলেন।

    সাজগোজ করতে অবশ্য তাঁর সময় বেশি লাগে না। নিহার ভাবি অল্প পরই তৈরি হয়ে ফিরে এলেন। নিহার ভাবি সম্পর্কে সবচাইতে লক্ষ্য করবার বিষয় তাঁর সাজ-পোশাক। বাড়িতে থাকলে ব্লাউজ প্রায় পরতেনই না। এমনকি অনেক সময় পেটিকোটটা পর্যন্ত গায়ে রাখতেন না। আর সত্য কথা বলতে কি, লক্ষ্য করতামও। এ সম্বন্ধে কিছু বললে তিনি হেসে জবাব দিতেন : “আমরা বাপু গাঁয়ের মানুষ। বিয়ের পরই শহরে এসেছি। এখনো পুরোপুরি শহুরে হাত পারি নি। অত সব কাপড়-চোপড়ের বালাই হাঁফ ধরিয়ে দেয়। তাছাড়া বাড়িতে কেই-বা আছে!’ যদি বলতাম : “কেন, আমি!” দুটি বড় বড় চোখ তুলে ভাবি একবার আমার দিকে তাকাতেন। যেন আমার কথাটা ভালো করে কানেই যায় নি। অথবা গেলেও, আমার বক্তব্য যেন তাঁর বোধগম্যই হচ্ছে না। তারপর শুধু বলতেন “তুমি!” আবার সেই হাসি। দুর্নিবার অপ্রতিরোধ্য হাসি। বস্তুত ভাবি বিয়ের আগে পর্যন্ত গ্রামেই ছিলেন। তার কথাবার্তায় পাকা বুদ্ধির পরিচয় থাকত, এমনকি একটা শিক্ষিত মনের স্বাক্ষর থাকত। তিনি কতদূর লেখাপড়া করেছেন সে কথা কোনোদিনই জিজ্ঞাসা করি নি। অথচ তাঁর আচরণ মোটের ওপর শালীন, রুচিসম্মত, যদিচ মাঝে মাঝে দুটি একটি কথা বা আচরণে গ্রামের মেয়েটি হঠাৎ উঁকি দিয়ে যেত।

    তৈরি হয়ে এসে নিহার ভাবি কৌতুকভরে প্রশ্ন করলেন : “বল দেখি আমার সাজ-সজ্জা কেমন হয়েছে?”

    তাঁর পরনে বগল পর্যন্ত কাটা চোলি; পেটের উপরের এবং কণ্ঠির নিচের মেদ অনেকটাই দেখা যায়। তাই আমিও বললাম : আপনার সাজ শয্যারই উপযোগী

    —চোপ ফাজিল কোথাকার। দিনে দিনে লায়েক হয়ে উঠেছ। কান মলে লাল করে দেব।

    টালীগঞ্জের এক সুদূর প্রান্ত থেকে কলকাতা এলে আমরা বলতাম, শহরে যাচ্ছি। সেই শহর কলকাতায় এলাম। ট্রামে ভাবি অনর্গল কথা বলে চললেন। এমন বকবক করতে কাউকে শুনি নি। নিজের মনের আনন্দে কথা বলে চলেছেন। ঐ গাছটার নাম কি, ঐ ট্রামটা কোন দিকে যাবে, ঐ মেমটার পরনে ওটা কি, ইত্যাকার অবিরাম প্রশ্ন, এবং থেকে থেকে, “উঃ বড্ড খিদে পেয়েছে” এই কাতরোক্তি শুনে শুনে আমি অস্থির হয়ে গেলাম। এক সময় আমি প্রায় ধমকের সুরেই বললাম : আঃ থামুন তো! আপনি বড্ড বকবক করেন।

    নিহার ভাবি মুখ ম্লান করে নীরব হলেন।

    হোটেলে প্রবেশ করবার আগে আমরা ওয়াসেল মোল্লার দোকানে এলাম—ভাবিরই প্রয়োজনে।

    —দেখতো, এই কামিজটা তোমার পছন্দ হয়?

    —ভালোই তো! ভাইকে মানাবে ভালো।

    —ভাইয়ের জন্য তোমাকে মাথা ঘামাতে হবে না। তোমার পছন্দ কিনা, তা বলো!

    —হ্যাঁ, পছন্দ!

    ভাবি তৎক্ষণাৎ কামিজটা কিনে নিলেন।

    —এই কামিজটা গায়ে দিয়ে রেডিও স্টেশনে যেও। ফর্সা মানুষ, বেশ মানাবে।

    —বারে, আমি এটা নিতে যাব কেন?

    —কেন, নিলে কি মানীর মান যাবে?

    —যাবেই তো! আমি পুরুষ! বরঞ্চ আমিই আপনাকে দেব।

    —দেখ, এই হাটসুদ্ধ লোকের মধ্যে তুমি আমাকে হাসিও না বাপু!

    তারপর নিহার ভাবি আমাকে একবার আপাদমস্তক দেখে নিয়ে সত্যিই হাসতে শুরু করে দিলেন।

    —ওরে আমার পুরুষ রে! দেখে আর বাঁচিনে।

    রিজেন্ট—রেস্টুরেন্টের একটা কেবিন বেছে নিয়ে আমরা আহার শুরু করে দিলাম। এক সময় ভাবি বললেন : বেয়ারাটাকে বলতো, এক বোতল টোমাটো সস নিয়ে আসবে।

    —এক বোতল তো শেষ করলেন। আর কি দেবে!

    —বাছা তুমি বলেই তো দেখ। দেবে না তো কি! পয়সাটা গুণে নেবে না?

    পর্দার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ওয়েটার আমাদের তর্ক শুনছিল। সে কোনো কথা না বলে একটু হেসে চলে গেল। মিনিটখানেক বাদেই এক বোতল টোমাটো সস নিয়ে ফিরে এলো।

    —দেখলে তো, দিলে কি না!

    —আপনি কিন্তু বড্‌ড বেশি খাচ্ছেন।

    —অমন নজর দিও না। তুমিও খাও না।

    এই বলে তিনি চিকেন কাটলেটটা নিজের পাত থেকে তুলে আমার পাতে ঢেলে দিলেন।

    আমি ব্যস্ত হয়ে দু’হাত দিয়ে তাঁর দুটি হাত চেপে ধরে বললাম :

    —ও কি করছেন! দোহাই আপনার। ওটা পেটে গেলে আর বাঁচতেই হবে না!

    —মরণ অত সহজে হয় না। চটপট খেয়ে নাও। আরো কাজ আছে।

    —কিছুতেই পারব না।

    —মাথা খাও ওটুকু খেয়ে নাও।

    ওয়েটার বিল নিয়ে এলো। বকশিশ পেল। মিটিমিটি হাসতে লাগল।

    —লোকটা ওভাবে হাসছে কেন? ব্যাটা ভাবল কি!

    —কি জানি, জিগ্যেস করব?

    —চোপ!

    নিহার ভাবি হঠাৎ আবার গম্ভীর হয়ে গেলেন। যেন আপন মনেই বলে গেলেন : আমাদের দেশটা এমন কেন বলতো?

    —কেমন কেন?

    ছেলে আর মেয়েকে হেসে দুটি কথা বলতে দেখলেই যা তা মনে করে বসে। ওয়েটারটার কথাই ধরো না। তোমাকে আমাকে দেখে মুখ-পোড়া ওয়েটার কিভাবে হাসছিল। আমি বয়সে কত বড় তাও!

    বহুক্ষণ নীরবেই পথ চললাম। নীরবতা ভঙ্গ হলো আমারই প্রশ্নে :

    —আচ্ছা ভাবি আপনার বয়স কত?

    —বয়স? বোকা ছেলে। মেয়েদের বয়স জিগ্যেস করতে নেই। এ তো তোমাদের শহরেরই শিক্ষা।

    হঠাৎ সেলিনার কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল একদিন তাকেও এই প্রশ্ন করেছিলাম; আর আশ্চর্য, এই জবাবই পেয়েছিলাম।

    অন্যমনস্কের মতোই বললাম : যে মেয়ের যৌবন গেছে সেই বয়স গোপন করে। আপনি তো আর বুড়ি নন।

    —যে মেয়ের কি গেছে?

    —যৌবন।

    —তোমার মুখে যৌবন শব্দটি শুনে আমার যা হাসি পায়। সে যাই হোক, আমাকে কি মনে করো? ছুঁড়ি?

    —অন্তত বুড়ি নয়!

    —বয়স কত হলো জানো? তেত্রিশ!

    —তেত্রিশ? আশ্চর্য!

    —তুমি কি মনে করেছিলে?

    —তেইশ কি চব্বিশ!

    —সত্যি?

    —সত্যি।

    –তেইশ ছিলাম দশ বছর আগে। তোমার বয়সটা কত হলো শুনি?

    —আমার? বিশ হবে।

    –এবার পরীক্ষায় তোমাকে ফার্স্ট হতে হবে কিন্তু।

    —ওরে বাবা, একেবারে ফার্স্ট! তা না হয় একটা কিছু হওয়া যাবে; কিন্তু হঠাৎ পরীক্ষার কথা এলো কোথা থেকে?

    —মানুষের মন! কোথা থেকে কোথা যায়। ওর আর হঠাৎ বলে কিছু নেই। এমনিই মনে এলো। একবার বেরিয়েছি যখন তখন চলো একটা সিনেমা দেখে আসি। শহরে তো বড় একটা আসা হয় না।

    —তা বেশ চলুন। আমার কাছে কিন্তু পয়সা নেই।

    —থাক। তোমার আর পয়সা থেকে কাজ নেই।

    ছবি শুরু হয়ে গেছে অল্পক্ষণ হলো। আঁধারে কোনোমতে দেখে দেখে সন্তর্পণে আসনের দিকে এগিয়ে গেলাম, অনেকগুলো লোকের আসন পার হয়ে স্বস্থানে আসতে হলো।

    ভাবি গজরাতে লাগলেন।

    —দেশের লোকগুলো এমন বাঁদর। দেখছে মেয়েমানুষ আঁধারে এগুচ্ছে। পা-টাও একটু সরাবে না। যেন কোল পেতে বসে আছে।

    চেয়ারের একই হাতলের ওপর দু’জনের হাত। যাকে বলে লোমহর্ষক, ছবিটা সেই জাতের। উভয়েরই অত্যন্ত দ্রুত উত্তেজিত শ্বাস পড়ছিল। নিহার ভাবির তপ্ত নিশ্বাস আমার হাত স্পর্শ করে যাচ্ছিল। আমি অনেকটা কাঠ হয়ে বসেছিলাম। একটু আগেই নিহার ভাবি বলেছিলেন, মানুষের মন, কখন কোন দিকে যায় আগে থেকে বুঝবার উপায় নেই। দেখলাম সত্যিই তাই। এই সময় আমার মনের মতিগতি লক্ষ্য করে আমারও সেই কথাই মনে হলো। নিহার ভাবি আনমনে ছবি দেখছেন। বিস্ময় আর কৌতূহলভরা দুটি চোখ পর্দার ওপর। ছবির গল্প সত্যই ভয়াবহ। হলসুদ্ধ লোক অধীর উৎকণ্ঠায় চঞ্চল উদ্গ্রীব। দৈত্যটি যখন সকলের অলক্ষ্যে পাশের জানালা দিয়ে একাকী প্রসাধনরতা তরুণীর কক্ষে প্রবেশ করল, তখন দর্শকদের মধ্যে একটা চিৎকার পড়ে গেল। বহু আগে থেকেই নিহার ভাবির নিশ্বাসের উত্থান- পতন বড্ড দ্রুত হচ্ছিল। এবার তিনিও সভয়ে চিৎকার করে সবেগে আমার দুটি হাত তাঁর মুঠির মধ্যে পুরলেন, যেন, এই বিপদের মুহূর্তে তাঁর একটা অবলম্বন আবশ্যক। একেবারে তাঁর কোলের ওপর আমার হাত লতার মতো নেবে এলো। তখনো নিহার ভাবির বুক ধড়ফড় করছিল, তারই আন্দোলন ছাড়া আমার হাতে আর কোনো স্পন্দন ছিল না। একটু পরই ছবি শেষ হলো।

    –ইস! একেবারে আঁধার হয়ে গেছে। এবার পালাই।

    —আমাকে তো রেডিও স্টেশন যেতে হবে। আপনি একা যেতে পারবেন?

    —তুমি হাসালে। আমি কি একা চলাফেরা করি না?

    —তাহলে আমি আসি I

    —আচ্ছা ভাই এসো। ভালো কথা, ফিরবার সময় তোমার ভাইয়ের জন্য এক জোড়া ‘সামার কুল’ গেঞ্জি নিয়ে এসো। ভুলে যেও না। তখন তাড়াতাড়িতে কিনতে ভুলে গেলাম। এই নাও টাকা।

    —রেডিও থেকে ফিরতে রাত হবে। অত রাতে আবার গেঞ্জি কিনতে যাব?

    —রাত হোক। এটুকু কষ্ট তোমাকে করতেই হবে ভাই।

    নিহার ভাবি একটা ট্যাক্সিতে উঠে পড়লেন।

    আমি গোপনে ট্যাক্সির নম্বর টুকে রাখলাম। কিছুই বলা যায় না। যা দিনকাল।

    .

    ফিরতে আমার রাত হয়ে গেল। এসে দেখি জমির ভাই ফিরেছেন। অন্যদিনের তুলনায় বেশ সকালই ফিরেছেন। নিহার ভাবি আমাকে দেখেও কিছু বললেন না। তাঁর মুখ ভার ভার। ভাত বাড়া ছিল। নীরবে খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকালে উঠে দেখি পাশের টেবিলে চা ঢাকা আছে, কিন্তু অন্য দিনের মতো নিহার ভাবি উপস্থিত নেই। আমি হাত-মুখ ধুয়ে শুধু এক পেয়ালা চা খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। রেডিও থেকে চেক পেয়েছি, সেটাও ভাঙাতে হবে।

    আবার যখন বাড়ি ফিরলাম তখন দুপুর হতে চলেছে।

    —সকালে না বলে না কয়ে কোথায় নিরুদ্দেশ হয়েছিলে? এদিকে আমি সারাটা সকাল না খেয়ে বসে আছি।

    —কাজ ছিল।

    —কি হাতি-ঘোড়া কাজ ছিল শুনি? একবার বলে গেলে কি ক্ষতিটা হতো!

    নিহার ভাবি সত্যিই রেগে আছেন।

    আমার দুটি হাত পিছনের দিকে লুকানো দেখে বললেন :

    —তোমার হাতে কি?

    —বলুন দেখি!

    —তোমার ভাইয়ের গেঞ্জি।

    –উঁহু! হলো না!

    এবার নিহার ভাবি রীতিমতো অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন :

    —গেঞ্জি আন নি। এত করে তোমাকে বলে দিলাম।

    —এনেছি, কিন্তু আরো জিনিস আছে।

    —তাই বলো।

    আর কি জিনিস আছে সে সম্বন্ধে নিহার ভাবি কোনো কৌতূহল দেখালেন না। বস্তুত গত রাত থেকেই তাঁর ব্যবহারটা একটু ভিন্ন রকম। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই কোনো মনোমালিন্য হয়েছে। তাই অনুমান করে আমি আর সে সম্বন্ধ কোনো প্রশ্ন তুললাম না। বিস্ময়ে আর কৌতূহলে নিহার ভাবিকে একেবারে হতবাক করে দেব, মনে মনে এই রকম একটা পরিকল্পনা আর প্রত্যাশা ছিল; কিন্তু তার কোনো রকম লক্ষণই দেখতে না পেয়ে আমি বড়ই দমে গেলাম। একটু পর নিহার ভাবিই বললেন : আজ শরীরটা ভালো নেই। পেট খারাপ!

    –পেটে আবার হলো কি?

    —পেটে আবার হবে কি! কাল তুমি যেভাবে নজর লাগাচ্ছিলে। তারপর কোনো মানুষের পেট ভালো থাকতে পারে!

    —যত দোষ আমার নজরের! আর আপনি যে বসে অতটা গিললেন, সে কিছু নয়?

    —অতটা আর কোথায় গিললাম? ওতো রোজই খাই। আমি বাপু মেম সাহেব নই। সারাদিন গতর খাটাই, পেট পুরে না খেলে আমার চলে না। কাগজের মোড়কটায় কি আছে এবার খুলে দেখাও দিকি চটপট।

    —আমার বয়ে গেছে। যার গরজ সেই খুলে দেখুক।

    কাগজের মোড়কটা অবগুণ্ঠিত বিস্ময়ের প্রতীকের মতো সেইভাবেই বিছানার ওপর পড়ে থাকল।

    শেষ পর্যন্ত নিহার ভাবিই হার মানলেন।

    —ওমা! কি সুন্দর কাপড়! কার জন্য এনেছ গো?

    —কার জন্য আবার। আপনার জন্য।

    —সে কি। আমি নিতে যাব কেন?

    —কেন? নিলে কি মানীর মান যাবে?

    এবার দু’জনেই হেসে ফেললাম।

    —কাপড় তো আনলে। টাকা পেলে কোথায়?

    —কেন? কাল না রেডিওতে ‘টক’ ছিল। বিশটা টাকা পেলাম। আপনার জন্য ব্লাউজের ‘ছিট’ নিয়ে এলাম।

    —খুব কাজ করেছ। এভাবে টাকা নষ্ট করতে আছে।

    —আমি কত সাধ করে নিয়ে এলাম। আপনি এতটুকু খুশি হলেন না।

    —খুশি হই নি? খুব খুশি হয়েছি।

    তারপর একটু হেসে যোগ করলেন : মেয়েদের একটু নখরা করতে হয়। তা না হলে ভালো দেখায় না; কিন্তু আমি ভাবছি, এই টাকা দিয়ে তুমি কত কাজের জিনিস কিনতে পারতে।

    —আবার নখরা। এও তো একটা কাজ।

    নিহার ভাবি ব্লাউজের ছিটটা হাতে নিয়ে আয়নার সামনে এগিয়ে এলেন।

    —কাপড়টা এনেছ খুব সুন্দর। কিন্তু বড্ড ছোট। এতে ব্লাউজ হবে কি না কে জানে!

    —হবে না!

    –কোনোমতে করতেই হবে। তুমি যখন এনেছ। আমি নিজেই ছাঁটব আর সেলাই করব। না হয় পেট আর বুক খালিই থাকবে। কেমন? পছন্দ তো?

    আমি সে কথার কোনো জবাব দিলাম না। বললাম : দোকানদার যে বললো হবে।

    –দোকানদার আমাকে দেখল কোথায়?

    —বারে, যেখান থেকে শার্ট কিনেছিলাম, সেখান থেকেই তো কিনে আনলাম।

    —ওঃ তাই বলো; কিন্তু দোকানদার ব্যাটা আর কতটা দেখতে পায় বলো!

    —তা বটে!

    —নিহার ভাবি মুচকে মুচকে হাসতে লাগলেন। আবার বললেন : বাহারের ব্লাউজ হবে। পেট আর বুক অর্ধেক খোলাই থাকবে।

    —তা আর মন্দ হবে কি।

    —দূর ফাজিল কোথাকার।

    এবার বেশ কিছুটা সময় উভয়েই নীরব থাকলাম। নিহার ভাবি কিন্তু ঘুরে-ফিরে ব্লাউজ পিসটা নাড়তে লাগলেন। তারপর তিনিই বললেন : তোমার চোখ আছে। এই রঙটা আমাকে মানাবে বেশ, তাই না?

    —তা মানাবে; কিন্তু ব্লাউজ জিনিসটাই আমার পছন্দ নয়।

    —ওমা কেন?

    —তা না হলে আরো মানাত।

    —আবার!

    এরপর তিনি উঠে গেলেন। একটা বাসনে ভাত-তরকারি এবং একটি গেলাসে পানি নিয়ে তিনি আবার উপস্থিত হলেন।

    —নাও খাও!

    —আপনি খাবেন না।

    –না। আমি গা ধুয়ে তারপর যা হোক একটু কিছু মুখে দেব। হঠাৎ জানালা দিয়ে রাস্তার ওপর কি একটা দেখতে পেয়ে নিহার ভাবি চেঁচিয়ে ডাক দিলেন : জলদি এদিকে এসো। একটা মজা দেখতে পাবে।

    তাড়াতাড়ি জানালার ধারে এসে দেখলাম পাশের বাড়ির ষোল সতের বছরের মেয়েটি ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে ছুটতে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করছে।

    —মেয়েটা ওভাবে ছুটছে কেন?

    —ওর নিশ্চয়ই জোরে পায়খানা লেগেছে। বলেই নিহার ভাবি খিলখিল করে হেসে উঠলেন।

    —আপনি মাঝে মাঝে এমন বদ-রসিকতা করেন।

    নিহার ভাবির মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। তাঁর দু’গালে হঠাৎ কে যেন চড় মেরেছে।

    মুখে ভাত পুরে যথাসম্ভব গম্ভীর হতে চেষ্টা করলাম; কিন্তু কিছুতেই পারলাম না। হঠাৎ উদ্দাম হাসির চোটে মুখের ভাত প্রায় ছিটকে পড়বার উপক্রম হলো।

    —হঠাৎ তোমার আবার হলো কি!

    —আমার হাসি আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠল। কোনোমতে বললাম : তা মেয়েটার রকমসকম দেখে মনে হয়, আপনি যা বললেন, তাহলেও হতে পারে।

    এবার আর নিহার ভাবি কোনো শাসন মানলেন না। হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লেন। এইভাবে একটি একটি করে দিনও গড়িয়ে যেতে লাগল।

    .

    চিঠি এসেছে, আম্মা-আব্বা সকলেই কলকাতা ফিরে আসবেন। আব্বা অসুস্থ। আমাকে ঢাকা যেতে হবে, তারপর তাঁদের সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যে আব্বা মাদারীপুর থেকে ঢাকা বদলি হয়েছেন। চার দিন পরই আমি ঢাকা যাচ্ছি।

    নিহার ভাবির অনর্গল কথা আর অবিরাম হাসির উৎস যেন শুকিয়ে গেছে। শীতের অপরাহ্ণের মতো এক প্রকার বিধুরতা তাঁর চোখ-মুখ গতিবিধি কাজকর্ম সব কিছুতেই আচ্ছন্ন করে আছে।

    সেদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ কালো চুলে তেল মাখাতে মাখাতে তিনি বললেন : তোমাকে পেয়ে আমি বেঁচে গিয়েছিলাম।

    —কি রকম।

    —এই নির্বান্ধব পাড়ায় নিঃসঙ্গ জীবন যে কিভাবে কাটত আমিই জানি।

    —লোকজনের সঙ্গে আলাপ হয়েই যাবে।

    —তা যাবে।

    তিনি আর কিছু বললেন না। তাঁর চোখ দুটি সজল হয়ে এলো। আমারও। আমি বললাম : এখানকার এ ক’টি দিন আমি কোনোদিনই ভুলব না।

    নিহার ভাবি এ কথার কোনো জবাব দিলেন না। বললেন : যাই এবার। গা ধুয়ে আসি।

    কাঁধে তোয়ালে আর পাট করা ধোয়া শাড়ি ফেলে তিনি গোসলখানায় প্রবেশ করলেন।

    আমার মনটাও ভারি খারাপ হয়ে গেল। নিহার ভাবি সমস্ত মন-প্রাণ দিয়ে আমার যত্ন করেছেন। অত বড় হৃদয়ও হয় না। সত্য কথা বলতে কি এতটা যত্ন কোনোদিনই পাই নি। বসবার ঘরে একটি চেয়ারে লম্বা হয়ে এইসবই ভাবছিলাম। এক সময় টেলিফোন করবার জন্য জানালার ধারে উঠে এলাম। সেখানেই একটা ছোট্ট টেবিলের ওপর টেলিফোন রাখা আছে।

    এমন সময় দেখি নিহার ভাবিও গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসছেন। পরনে একটি মাত্র শাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। বোধ করি কাপড় ধুচ্ছিলেন, শাড়ি স্থানে স্থানে ভেজা। চুল খোলা। দু’হাতে সাবানের ফেনা।

    –আবার বেরিয়ে আসতে হলো। ময়লা তোয়ালেটা ধোব, নিতে ভুলে গেছি।

    আমি যেখানে দাঁড়িয়ে টেলিফোনটা হাতে তুলে নিয়েছিলাম, তিনিও তার বিপরীত পার্শ্বে দুই হাত দিয়ে গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে পড়লেন।

    —কাকে টেলিফোন করছ?

    মুহূর্তকাল জবাবের জন্য অপেক্ষা করে তিনি আবার তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। কোথায় যে টেলিফোন করব মনে করেছিলাম, ভুলে গেলাম।

    .

    দুপুরবেলা খাওয়া-দাওয়া সেরে বিছানার ওপর একটু গড়িয়ে না নিলে নিহার ভাবির শরীর ভালো থাকে না। সেদিনও তিনি বিছানায় গা এলিয়ে বিশ্রাম করছিলেন।

    প্রকাণ্ড বিছানা। আমি পাশে এসে দাঁড়ালাম। শয্যাশায়িনীর বেশবাস অবিন্যস্ত।

    —শোবে ভাই, শোও না। পাশে অনেক জায়গা আছে।

    আমিও পাশের বালিশটায় মাথা রেখে বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ঘুম কি কিছুতেই আসতে চায়! পাশে নিহার ভাবি পাশ ফিরে শুয়ে আছেন। মাঝখানে বেশ ব্যবধান। এবার তিনি আবার আমার দিকে পাশ ফিরলেন। আমার কিছুতেই ঘুম আসছিল না। দ্রুত নিশ্বাসের তালে তালে নিহার ভাবির বক্ষ ওঠানামা করছিল। নিহার ভাবি চোখ বন্ধ করে পড়ে আছেন, বোধ করি ঘুমিয়েই পড়েছেন।

    আমি হঠাৎ বিছানার ওপর উঠে বসলাম। ততোধিক অকস্মাৎ শক্ত করে তাঁর হাত চেপে ধরলাম। নিহার ভাবি বিশ্বের বিস্ময়-ভরা দুটি তন্দ্রাজড়িত চোখ তুলে আমার দিকে তাকালেন। যেন দুঃস্বপ্ন দেখছেন, এমনই ভীত চকিত সন্ত্রস্ত এবং সর্বোপরি বিস্ময়াহত চোখ আমার দিকে তাকিয়ে থাকল। আমাকে যেন তিনি চেনেন না—এই প্রথম দেখছেন।

    একটি নিমেষ মাত্র। ধড়ফড় করে তিনি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লেন। যে দুটি হাত দিয়ে তাঁর হাত ধরেছিলাম, প্রবল বেগে সেটি দূরে সরিয়ে দিয়ে তিনি উঠে বসলেন। এক মুহূর্তের জন্য তিনি বিহ্বল হয়ে গেলেন। তারপর দুটি হাত দিয়ে দ্রুত সর্বাঙ্গ ভালো করে ঢেকে নিলেন, মাথায় ঘোমটা তুলে দিলেন, তারপর উঠে চলে গেলেন। যাবার আগে কেবল বললেন : তোমার মনে এই ছিল?

    তাঁর কণ্ঠে যে কি ছিল আমি আজও বোঝাতে পারব না। বিস্ময় না বিরক্তি না বেদনা না তিরস্কার—না কি সব কিছুরই একটা মিশ্রিত ব্যঞ্জনা কে বলবে।

    এরপর আরো তিনদিন সেখানে ছিলাম; কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও নিহার ভাবির দেখা পাই নি।

    চতুর্থ দিন সকালে চলে যাব। বাইরে ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। ভালো করে তখন ও ফর্সা হয় নি। গাড়িতে সামান্য মালপত্র যা ছিল, তোলা হয়ে গেছে। আমি দরজার পাশে দাঁড়িয়ে আছি, যাবার আগে একটিবার কি নিহার ভাবি সামনে আসবেন না। একটিবার!

    জমির ভাইও পাশে এসে দাঁড়ালেন। আমরা উভয়েই বহুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলাম, নিহার ভাবির অপেক্ষায়; কিন্তু তবু তাঁর দেখা নেই।

    —নিহার! একটিবার বাইরে এসো। শাকের যাচ্ছে যে।… আসলে কি জান শাকের। আসতে চায় না কেঁদে ফেলবে বলে। তুমি জান না; কিন্তু আমি জানি, তোমাকে মায়ের পেটের ভাইয়ের চাইতেও ভালোবাসে।

    এতক্ষণে দরজার কাছে ছায়া পড়ল। দেখলাম, নিহার ভাবি।

    পরনে মোটা শাড়ি, মাথার ঘোমটায় কপালের অর্ধেকটা ঢাকা, গায়েরর পুরাহাতা ব্লাউজের আস্তিন হাতের কব্জি পর্যন্ত লম্বা। একেবারে গলা পর্যন্ত বোতাম লাগানো।

    আমি এখনো যা করি নি আজ তাই করলাম।

    এগিয়ে গিয়ে নত হয়ে পা ছুঁয়ে কদমবুসি করলাম। আমার চোখের এক ফোঁটা অশ্রু তাঁর পায়ের পাতার ওপর গড়িয়ে পড়ল। মুখ ফুটে যা বলতে পারলাম না, এক ফোঁটা অশ্রু তাই বলে দিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম
    Next Article চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    Related Articles

    রশীদ করীম

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    রশীদ করীম

    লাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }