Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    উত্তম পুরুষ – রশীদ করীম

    রশীদ করীম এক পাতা গল্প239 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উত্তম পুরুষ – ২৪

    চব্বিশ

    সেদিন কলেজের পর শেখর কিছুতেই ছাড়ল না। তাদের বাড়িতে যেতেই হবে। ক্লাস ছিল মাত্র দুটি। অগত্যা আমরা দু’বন্ধু এনটালীর দিকে হাঁটতে লাগলাম। সামান্য পথ—অন্যমনস্কভাবে গল্প করতে করতে এগুতে লাগলাম। হঠাৎ একটা ট্যাক্সি আমাদের পাশেই আচমকা দাঁড়িয়ে পড়ল।

    আরে সলিল যে।

    —তোরা চললি কোথায়?

    —বিশেষ কোথাও না। আমাদের বাসায়।

    —এই বুঝি তোদের বাড়ি ফেরার সময়? সারা কলকাতা ছুটছে গড়ের মাঠের দিকে, আর তোরা না কি দুটি গাভীর মতো গৃহাভিমুখে! খেলা দেখবি না।

    —খেলা আর কি করে দেখব। পকেটও যে গড়ের মাঠ। টিকিট কাটবার পয়সা দেবে কে? –এই বুঝি তোমাদের সমস্যা! কুছ পরোয়া নেই। সলিল চাটুয্যে এখনো বেঁচে আছে। বস্তুত সলিলের ভোলই গেছে বদলে। সে বরাবরই একটু বাবু গোছের ব্যক্তি ছিল; কিন্তু এখন রীতিমতো সাহেব। প্যান্ট-শার্ট পরনে, হাতের কবজিতে দামি ঘড়ি—গায়ে একটু মাংসও হয়েছে। মানিয়েছেও দিব্যি। ঘন-ঘন রুমাল বের করে শুষ্ক নাসিকা রক্তিম করে তুলছে— প্রতিবারই সুন্দর একটা গন্ধ নাকে এসে ধাক্কা মারছে।

    —তুই এখন কি করিস রে!

    সলিল এক কথায় জবাব দিল।

    —বিজনেস।

    —বিজনেস তো বুঝলাম, কিন্তু কিসের বিজনেস?

    —আগে ট্যাক্সিতে উঠে পড়, তারপর সব বলব।

    সেই যে সলিল স্কুল ছেড়ে চলে গেল, তারপর তার সঙ্গে এই প্রথম দেখা। যুদ্ধ বাধবার পর সে ব্লেড আর পেরেকের কি এক জাতীয় ব্যবসা করে প্রচুর পয়সা করেছে। যুদ্ধের কাছে সলিল অপরিসীম কৃতজ্ঞ। সে দুই হাত তুলে তার ভগবানকে ধন্যবাদ জানায়। তাছাড়া সে চাল ডাল চিনির র‍্যাশন শপও খুলেছে একটা—সেখান থেকেও পয়সা নেহাৎ মন্দ আসে না। মোটের ওপর আজ সলিল একটা মোটা অঙ্কের মালিক। আমরা দুই ছাত্র যেন আরব্য উপন্যাস শুনছি, এমনই অতৃপ্ত আগ্রহে সলিলের জীবনেতিহাস শুনতে লাগলাম। আমি মুগ্ধ কণ্ঠে বললাম : তুই বলিস কি! এতসব নিজের চেষ্টায় করেছিস!

    সলিল একটা সিগারেট ধরালো। তারপর মুখের ভিতর থেকে এক মুখ ধোঁয়া সম্মুখের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে, সে পিছনের গদিতে হেলান দিয়ে আরো একটু আরাম করে বসল। তারপর জবাব দিল :

    —নিজের চেষ্টায়? তুই পাগল হয়েছিস! মা কালীর ইচ্ছা না থাকলে কেউ কিছু করতে পারে না।

    ট্যাক্সি ততক্ষণে গড়ের মাঠ পৌঁছে গেছে।

    মোহামেডান স্পোর্টিং বনাম মোহন বাগানের খেলা। এই খেলাটিতে জিততে পারলেই মোহামেডান স্পোর্টিং চ্যাম্পিয়ন হবে। ট্যাক্সি থেকে নাবতে নাবতে সলিল বললো : আমি কালীর মন্দিরে মানত করেছি, ‘মোহামেডান’ হারলে জোড়া-পাঁঠা বলি দেব।

    আমি অল্প একটু বিস্মিত হয়ে, নেহায়েতই যৎসামান্য বিস্মিত হয়ে সলিলের দিকে একবার তাকালাম। সলিলও এক দ্রুত চলমান মুহূর্তের জন্য বিব্রত হয়ে পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিল। তাড়াতাড়ি বললো : চল রে। একটু পা চালিয়ে চল। টিকিট তো পাওয়া যাবেই না। গেটে জামাইবাবু থাকবেন, তিনিই আমাদের মাঠের ভিতর নিয়ে যাবেন। নে চটপট কর।

    জামাইবাবু মোহন বাগান ক্লাবের কর্তৃপক্ষস্থানীয় ব্যক্তি। তিনি গেটের কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন। এক সময় সুযোগ বুঝে ইশারা করতেই আমরা তিনজন মাঠের ভিতর চলে এলাম।

    যাকে বলে লোকে লোকারণ্য তাই। গ্যালারিগুলোতে তিল ধারণের স্থান নেই। র‍্যামপাটের বাইরে ফোর্ট উইলিয়মের ওপরও জনসমুদ্র। এমনকি মাঠের চারপাশের গাছের ডালপালায় শাখা মৃগের মতো ঝুলতে ঝুলতে খেলা দেখবার মতো উৎসাহী ফুটবলরসিকও অসংখ্য।

    খেলা শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গে মোহামেডান স্পোর্টিং-এর সেন্টার ফরোয়ার্ড পাঁচজন বিপক্ষ খেলোয়াড়কে কাটিয়ে একক চেষ্টায় এক স্বপ্নতুল্য গোল দিয়ে দিলেন। দলেরর সমর্থকদের গগনবিদারি চিৎকার মিলিয়ে যাবার আগেই আর একটা অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেল। রেফারি বললেন : গোল হয় নি! সেন্টার ফরোয়ার্ড, যিনি পাঁচজনকে কাটিয়ে গোল দিলেন, তিনি না কি অফসাইড ছিলেন। সেই রৌদ্রস্নাত অপরাহ্ণে মেঘ-চিহ্ন-হীন আকাশ থেকে বজ্রপাত হলেও দর্শকরা এতটা বিস্মিত হতেন না। তবু এটা রেফারির ‘ডিসিশন’–এবং ফুটবল খেলা না কি স্পোর্টস, সুতরাং সেই বিচারকের সিদ্ধান্তই শিরোধার্য করে আবার খেলা শুরু হলো। অবশ্য শেষ পর্যন্ত মোহামেডান স্পোর্টিং দলই জিতল।

    সলিল শেখরকে বললো :

    —যাই বলিস। এই নেড়েরা কিন্তু খেলা কাকে বলে জানে। আমরা শালা চিংড়ি মাছ খাব, আর বাড়িতে বৌকে ঠ্যাঙাব। আরে বাবা, চিংড়ি খেয়ে ফুটবল মাঠে নাবা যায়।

    সলিল একবার আড় চোখে আমাকেও দেখে নিল! তার চোখের কোণের যতটুকু দৃষ্টিগোচর হলো ততটা যে কারণেই হোক রক্তিম। কিন্তু আমার উপস্থিতি সে এতটুকু গ্রাহ্য করল না, তার এতটুকু মর্যাদা দিল না। দ্রুত পদক্ষেপ করতে করতে শেখরকেই উদ্দেশ করে বললো : এবার চলি ভাই। শালার মনটাই খারাপ করে দিল। এখন পেটে একটু ‘হুইস্কি’ না পড়লে কিছুই ভালো লাগবে না। হ্যাঁ ভালো কথা। শেখর, তোর মা কেমন আছেন?

    —ভালোই।

    —আর চন্দ্রা?

    –সেও ভালো।

    —আচ্ছা এবার আসি। যাব একদিন তোদের বাড়ি। … ট্যাক্সি, ‘উইণ্ডসর—বার’।

    শেখর আমার সঙ্গে চলতে লাগল, তার মাথাটি নত। এক সময় সে অনেকটা অন্যমনস্কের মতো বললো : যাই বলিস। সলিলের মনটা কিন্তু খুব ভালো। এত পয়সা ওদের, কিন্তু এতটুকু দেমাক নেই।

    আমি ভালো-মন্দ কিছুই বললাম না।

    একটু পর শেখর আবার প্রশ্ন করল :

    —কি রে। যাবি না আমাদের বাড়ি?

    –না ভাই। আজ থাক। আর একদিন যাব।

    আমি এবার চৌরঙ্গী ধরে পার্ক স্ট্রিটের দিকে হাঁটতে লাগলাম। মাঠ-ফেরত লোক বন্যার স্রোতের মতো এগিয়ে চলছে। সবার মুখেই খেলার কথা।

    একজন বললো : কিছুতেই ঠেকানো গেল না। শালা রেফারি দ্বিতীয় গোলটাও ডিস-এলাউ করতে পারল না।

    দ্বিতীয়জনের জবাব : আর কত করবে বাবা। একটা জলজ্যান্ত গোল নামঞ্জুর করল। তাছাড়া দিব্যি দেখলাম একটা পেনালটি দিল না। আসল কথা—ওদের সঙ্গে পারা অসম্ভব। সে তুমি যতই চাবিকাঠি ঘুরাও না কেন!

    ততক্ষণে আমি পার্ক স্ট্রিটে পৌঁছে গেছি।

    শ্বেতাঙ্গদের আনাগোনা, উজ্জ্বল বিজলি বাতি, সুন্দর খোলা হাওয়া।

    এতক্ষণে বুকভরে নিশ্বাস নিলাম।

    সেদিন সকালবেলাই শেখরদের বাড়ি এলাম।

    শেখরের বোন তাদের বেড়ায়-ঘেরা বাগানের লাউ গাছগুলো তদারক করছিল। কোমরে তার আঁচল জড়ানো। চওড়া লাল পেড়ে সাদা শাড়িটা আঁটসাঁট করে পরা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছিল। আকাশে ছেঁড়া-ছেঁড়া মেঘ। লম্বা একটা ছুরি নিয়ে সে একটা লাউগাছের দিকে এগিয়ে গেল। মাথার এক রাশ চুল খোঁপা করে জড়ানো। কিছুক্ষণ চেষ্টা করেও সে লাউগাছের নাগাল পেল না। আমি আস্তে এগিয়ে গিয়ে ডালটা নাবিয়ে দিলাম।

    —ওমাঃ আপনি! কখন এলেন?

    —তুমি আমাকে চেন?

    তার ডাগর দুটি সরল চোখের পূর্ণ দৃষ্টি আমার ওপর এসে পড়ল।

    —চিনি না আবার! দাদার এত বড় বন্ধু কেউ নেই। আপনার সাহায্য ছাড়া দাদা পরীক্ষাই দিতে পারত না।

    —তোমার নাম কি?

    —চন্দ্ৰা।

    —তুমিই চন্দ্ৰা?

    —হ্যাঁ। আপনি আমার নাম শুনেছেন না কি।

    নাম শুনেছি, কিন্তু কোথায় শুনেছি সরাসরি বললাম না। বললাম :

    —বাঃ সেদিন যে দেখলাম।

    —তা বটে।

    —তোমার হাতে-পায়ে ময়লা ভরা। যাও ধুয়ে এসো।

    —যাই। অমনি দাদাকেও খবর দিই গে।

    —একটু দাঁড়াও। তুমি পেয়ারা খাও?

    —পেয়ারা? খাই না আবার!

    —খাবে? ভালো ডাঁসা পেয়ারা আছে আমার কাছে!

    চন্দ্ৰা সোৎসাহে হাত বাড়িয়ে দিল, পরক্ষণেই গম্ভীর হয়ে হাত সরিয়ে নিল।

    —না খাব না। আপনি না মুসলমান। মা রাগ করবে। আপনি হাসছেন যে…

    -তোমার কথা শুনে!

    —হাসির কথা বলি নি। আমি সত্যিই খাব না।

    —খাও, কিচ্ছু হবে না। পেয়ারা খেলে জাত যায় না।

    —ঠিক বলছেন?

    —ঠিক বলছি।

    —আচ্ছা তাহলে দিন। কিন্তু খবরদার মাকে বলবেন না।

    —তুমি আগে মুসলমান দেখ নি।

    —বেশি না।

    —তবু কাদের দেখেছ?

    —আমাদের বাড়ির সামনেই যে মাংসের দোকান আছে, সেই দোকানের কসাইকে দেখেছি। আর দেখেছি ঘোড়ার গাড়ির কোচোয়ানকে। তাদের বড্ড ভয় করে। মা সামনে যেতে দেয় না।

    —ভয় কেন করে? ওরা কি করেছে।

    —কিছুই করে নি। কসাই বেচারা তো আমাকে মা বলে ডাকে। তবু আমার মা এমন করে বলে যে আমি কিছুতেই স্বস্তি পাই না।

    —আমিও তো মুসলমান। আমাকে ভয় করে না?

    —বাঃ আপনাকে কেন ভয় করবে?

    —আমিও যে মুসলমান।

    —ধ্যেৎ। আপনাকে একটুও ভয় করে না।

    একটা বেঞ্চির ওপর বসে দু’বন্ধু আলাপ করছিলাম। মাটির ভাঁড়ে আমাদের জন্য চা এলো—ঠোঙায় গরম মুড়ি।

    চন্দ্রা বলে গেল : খাওয়া হয়ে গেলে, দাদা, ভাঁড় আর ঠোঙা বাইরে ফেলে দিয়ে এসো। মা বারবার করে বলে দিয়েছে।

    ছুটির দিন। আমরা যেখানটায় বসেছিলাম তার ঠিক সম্মুখেই রান্নাঘর। সেখানে শেখরের মা রান্না করছিলেন। বেড়া দিয়ে তৈরি রান্নাঘর। আব্রুর বড্ড অভাব। স্থানে স্থানে বেড়া খসে পড়ে গেছে। চট দিয়ে সেই অনাবৃত স্থানগুলো ঢাকবার চেষ্টা করা হয়েছে। রান্নাঘরের পাশেই—একই উঠানের মধ্যে—আর একটি ঘর। সেখানে খালি গায়ে দাঁড়িয়ে এক ভদ্রলোক—মিশমিশে কালো গায়ের রঙ—দাঁতন করছিলেন। তাঁর দুটি চোখে অপরিচ্ছন্ন দৃষ্টি, আর চোখ দুটি রান্নাঘরের দিকে স্থির নিবদ্ধ।

    শেখরই বললো : কালি বাবু লোকটি ভারি বদ।

    —কেন?

    শেখর কোনো জবাব দিল না। কিন্তু বেশ বুঝতে পারছিলাম সে অত্যন্ত অস্বস্তি বোধ করছে। খানিক বাদে সে-ই বললো : ভদ্রলোক ইছাপুরে কাজ করেন। মা রান্নাঘরে এলেই ভদ্রলোক ঐখানটিতে এসে দাঁড়াবেন।

    হঠাৎ শেখরের মা-ও কালি বাবুকে দেখতে পেলেন। তাড়াতাড়ি গায়ে কাপড় টেনে নিয়ে বললেন :

    –শেখর চটটা ভালো করে টেনে দেতো বাবা।

    কালি বাবু ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। দাঁতন করা দাঁতের ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে থুথু চিবুক পর্যন্ত নেবে আসছে। নোংরা চোখ দুটিতে ভরা পিচুটি। কালো ভুঁড়ির ওপর বিন্দু বিন্দু ঘাম।

    আরো একদিনের কথা। চন্দ্রা সেদিনও তেল-মাখানো মুড়ি নিয়ে এলো। কিন্তু সেদিন আর কাগজের ঠোঙায় নয়—কাঁসার বাটিতে।

    —শিগগির খেয়ে ফেল। মা দেখতে পেলে আমায় আস্ত রাখবে না।

    —কি দেখতে পেলে?

    –তোমায় বাটিতে খেতে দিয়েছি।

    —তাহলে এমন কাজ করলে কেন? একটা ছোটখাটো বিপ্লব ঘটাতে চাও?

    —আমার ইচ্ছা। অত বকবক করতে পারি না।

    আমি এক মুঠি মুড়ি তুলে নিয়ে মুখে পুরলাম।

    —সামনের দোকানের কসাইকে দেখলে তোমার ভয় করে—কালি বাবুকে ভয় করে না?

    —ওমা, কসাই আর কাকাবাবু বুঝি এক হলেন।

    —কালি বাবু বুঝি তোমার কাকা?

    —তাবলে সত্যিকার কাকা নন। পাশেই থাকেন, তাই কাকা বলি।

    —তোমার মা বারণ করেন না?

    —কি বারণ করেন না?

    —কালি বাবুর সঙ্গে মিশতে।

    —ও মা, তুমি কি গো! বারণ করবেন কেন? দাও দাও আমি বাটিটা চট করে মেজে আনি।

    চন্দ্রা প্রায় বাটিটা ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দিল। একটু পরই সে ফিরে এলো। কপালে টিপ, তৈল-মসৃণ কেশ খোঁপা করে বাঁধা, গায়ে ফর্সা শাড়ি। নিঃসন্দেহে এক ফুটফুটে মেয়ে।

    —গা ধুয়ে এলাম। তুমি রোজ চান কর না!

    –করি।

    —কর? তোমরা শুনি রোজ চান কর না!

    —এই তোমরাটা কে?

    চন্দ্রা কি একটা উত্তর দিতে উদ্যত হয়েও হঠাৎ অন্য কথা বললো :

    —আজ কখন করবে?

    –করব এক সময়।

    —বাড়ি যাবে না?

    —কেন? তুমি চাও আমি চলে যাই!

    চন্দ্ৰা নত চোখে দাঁড়িয়ে থাকল। আঙুল দিয়ে আঁচল জড়াতে লাগল। ফর্সা মুখের ওপর একটা অন্ধকার ছায়া পড়ল। এইভাবে অনেকটা সময় কেটে গেল। তারপর চন্দ্রাই বললো : হ্যাঁ। তাই চাই। তুমি আসা-যাওয়া কর, পাড়ায় কথা উঠেছে।

    —কথা উঠেছে। কে তুলেছে কথা?

    –কালি কাকা!

    —বেশ, আর আসব না।

    চন্দ্রা মুখ তুলল। তার দুটি চোখ ততক্ষণে সিক্ত হয়ে গেছে। এগিয়ে এসে সে আমার একটি হাত ধরল। বললো :

    —সত্যি এসো না। দাদাই তোমাকে মানা করত; কিন্তু পারে নি। মাও চান না তুমি আস। তাই আমিই বলছি। কি হবে এভাবে এসে।

    —আচ্ছা তাহলে উঠি এবার।

    —একটু দাঁড়াও। জানো আজ রাখী উৎসব। তোমাকে প্রণাম করি।

    চন্দ্রা আমার হাতে একটা রাখী বেঁধে দিল। আমি যার বলে একবার উঠে পড়েও আবার বসে পড়লাম। চন্দ্রাকে পাশে বসিয়ে বললাম : তুমি হুমায়ুন বাদশা আর কর্ণবতীর গল্প জানো?

    —না! কি গল্প।

    —বলি শোনো। কর্ণবতী ছিলেন চিতোরের রানী। বাহাদুর শাহ চিতোর আক্রমণ করতে এগিয়ে এলেন—সঙ্গে হাজার সৈন্য-সামন্ত। কর্ণবতী প্রমাদ গুণলেন। তাঁর এত শক্তি কোথায় দুর্ধর্ষ বাহাদুর শাহকে বাধা দেবেন। তখন অসহায় কর্ণবতী মোগল বাদশাহ হুমায়ুনের কাছে দূত পাঠালেন। আর তার সঙ্গে পাঠিয়ে দিলেন একটা রাখী। হুমায়ুন স্বয়ং সেই মুহূর্তে শের শাহের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। কিন্তু মোগল সম্রাট এক অসহায় নারীর ডাকে সাড়া না দিয়ে পারলেন না। নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কর্ণবতীর পাশে ছুটে এলেন। এই আমার গল্প।

    —এ গল্প না সত্যি।

    —এ ইতিহাস।

    হুমায়ুন কর্ণবতীর পাশে এসে দাঁড়ালেন?

    –বীর মোগল সম্রাট আর্ত নারীর আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পারেন নি।

    —আমার বিপদের দিনে যদি আমি ওমনি করে তোমাকে ডাকি, তুমিও আসবে?

    –আসব। কিন্তু তোমার তো আর রাজ্য নেই। তোমার আবার বিপদ কিসের? চন্দ্রা সে কথার কোনো জবাব দিল না। অন্যমনস্কের মতো বললো : ডাকলে এসো কিন্তু। কথাগুলো যেন বহুদূর থেকে ভেসে এলো।

    .

    মুসলমান ছেলেদের জন্য কতগুলো বৃত্তি ধার্য ছিল। বহুদিনের আন্দোলনের পর মুসলমান ছাত্ররা এই সুবিধাটুকু পেয়েছিল। ম্যাট্রিক পরীক্ষার সার্থক পরীক্ষার্থীদের তালিকায় যোগ্যতা অনুসারে আমার স্থান কোন অতলে ছিল জানি না; কিন্তু কেমন করে যেন এই বিশেষ বৃত্তিগুলোর একটি অর্জন করতে পেরেছিলাম। সেদিন তিন চার মাসের বৃত্তি এক সঙ্গে হাতে আসায় অনেকগুলো টাকা পেলাম।

    কি খেয়াল হলো একটা রিকশা ভাড়া করে চড়ে বসলাম। বৃদ্ধ রিকশাঅলা, কিন্তু কি সুঠাম শরীর।

    —রিকশা টানতে তোমার কষ্ট হয় না।

    আমার অপ্রত্যাশিত প্রশ্নে বৃদ্ধ একটু বিস্মিত হলো; কিন্তু রিকশা টানতে টানতেই বললো : খুব কষ্ট হয় বাবু। কষ্ট আবার হয় না।

    —তাহলে কেন রিকশা টান?

    –পেটের জন্য।

    —আর কিছু করতে পার না?

    —সবখানেই ভিড়। গরিব মানুষ লেখাপড়া করি নি, আর কিইবা করব।

    —তোমার বয়স কত?

    —আমরা জাহেল মানুষ। বয়সের হিসাব রাখি না। তবে বয়স অনেক হবে। তিন কুড়ি তো হবেই।

    —সারা দিনে কত আয় কর?

    সামনে একটা মোটর আসছিল। বৃদ্ধ সন্তর্পণে পাশ কাটিয়ে বাম দিকের গলিতে ঢুকে পড়ল। তারপর বললো : আয় বাবু সাত টাকা হয়।

    —মাসে দু’শ টাকার বেশি রোজগার কর, অবস্থা তোমার ভালোই বলতে হবে।

    —আল্লাহর মর্জি আছি এক রকম। সাত টাকার মধ্যে রিকশার মালিককে তিন টাকা দিতে হয়। তাও চলে যায় মন্দ না।

    —পয়সা-কড়ি কিছু জমাও নি? একটা রিকশা কিনে নিলেই তো পার

    জমাব? বাবু কি যে বলেন। তবে ধারকর্জ করে না হয় কোনোমতে যোগাড় করলাম, কিন্তু গরিব মানুষ আমাদের লাইসেন্স দেবে কে? ওসব বড় লোকরাই পারে।

    ছড়ছড় ঠুনঠুন শব্দ করে রিকশা এগিয়ে চলল। পিচের রাস্তা স্থানে স্থানে গরমে গলে গেছে। মাথার ওপর দাউদাউ করে সূর্য জ্বলছে। নির্বিকার বৃদ্ধ রিকশা কাঁধে করে দৌড়ে চলছে।

    —বাবু একটু দম নিতে দেবেন। এক গেলাস সরবত খেয়ে নি। আমিও সরবতের দোকানের সামনে পাতা বেঞ্চির ওপর বসে পড়লাম।

    —বাড়িতে তোমার কে কে আছে?

    —দুই ছেলে, এক মেয়ে আর বিবি। বড় ছেলে হোটেলে কাবাব তৈরি করে। মাসে দেড়শ টাকা রোজগার করে। ছোট ছেলে স্পোর্টিং দলের টেনিস মাঠে বল কুড়ায়। বকশিশ-টকশিশ নিয়ে সেও পঁচাত্তর একশ’ টাকা কামিয়ে নেয়। মেয়ে আমার দেখতে ভালো। আমাদের পাড়ার খলিফার ছেলের সঙ্গে বিয়ের কথা হচ্ছে।

    —বাঃ। তোমাদের তো দেখি বেশ সুখের সংসার।

    –খোদার শোকর। আছি এক রকম। তবে রিকশা আর টানতে পারি না। বুকে ব্যথা করে। মাঝে মাঝে এত ব্যথা করে রাত্রে শুতে পারি না। আমার ছোট ভাই, সেও রিকশা টানত। মাশাল্লা দেখতেও ছিল ইয়া হাঁট্টা-গোট্টা। হঠাৎ একদিন মুখ থেকে রক্ত উঠল। তিন দিনের মধ্যে সব খতম। ছেলেপুলে হয় নি। ভাইয়ের জেনানা ক’দিন খুব কাঁদল। হালে আবার নিকে করেছে। বলতে গেলে আমিই এক রকম জোর করে নিকে বসিয়ে দিয়েছি। তা আমাকে মুরুব্বির মতো মানেও বটে।

    ততক্ষণে বৃদ্ধ আবার কাঁধে রিকশা তুলে নিয়ে ছুটতে শুরু করে দিয়েছে। আমি বললাম : আবার নিকে করেছে। তাতে দোষ কি!

    —না। দোষ আবার কি। নিকে করলেই কি আর দোষ হয়। আমার এই রিকশাতেই এত তামাশা হতে দেখেছি যে এখন আবার মাথার পিছনেও দুটি চোখ গজিয়েছে, সব দেখতে পাই।

    আউটরাম ঘাটে পৌঁছে গেলাম। পুরো একটি টাকা বের করে বৃদ্ধকে দিয়ে দিলাম।

    রিকশাঅলা তার দুটি অভিজ্ঞ চোখ তুলে এই যেন প্রথম আমাকে ভালো করে দেখল।

    —আট আনা পয়সা আপনি ফেরত নিন।

    —না না। তুমি গোটা টাকাটাই নাও।

    —না বাবু। আপনি আট আনা ফেরত নিন।

    এবার আমি হেসে ফেললাম।

    —তোমরা তো জানি ভাড়া পেয়ে কখনো খুশি হও না। আজ আবার এ কি।

    —বাবু আপনি ছেলে মানুষ বেশি কেন দেবেন?

    তারপর রিকশাঅলাও হেসে ফেলল। বড় সুন্দর সে হাসি। বললো : বাবু হাঙ্গামা কি আপনারাই কম করেন? তিন মাইল পথ রোদে চরকির মতো ঘুরিয়ে নিয়ে চার আনা পয়সা গুঁজে দেন। সব মানুষ কি আর এক রকম। ভালো-মন্দ সবার মধ্যেই আছে।

    হাস্যরত দুটি চোখ দিয়ে বৃদ্ধকে দেখতে লাগলাম।

    —সালাম। চলি।

    বৃদ্ধ আবার কাঁধে রিকশা তুলে নিল। যতক্ষণ না সে গলির মোড়ে অদৃশ্য হলো, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাকে দেখতে লাগলাম।

    হয়তো এই বৃদ্ধই অন্য কোনো সময় তার ন্যায্য ভাড়ার চাইতে বেশি দাবি করবে। সেই অন্যায় দাবি মেনে না নিলে অশোভন বচসা শুরু করে দেবে। হয়তো আমিই তাকে তার প্রাপ্য ভাড়ার চাইতে কম দিতে চেষ্টা করব। তবু আজকের এই মুহূর্তটি বেশ লাগল।

    শিবপুরের টিকিট কেটে বোটানিক্যাল গার্ডেনের জাহাজে উঠে পড়লাম। গার্ডেনে প্রবেশ করবার পর মুহূর্তেই অনেকগুলো পরিচিত মুখ চোখে পড়ল।

    —সেলিনা, অনিমা, মুশতাক এবং আর একটি চতুর্থ মুখ যা চেনা ছিল না। অনিমা আর মুশতাক, প্রায় সমস্বরে এবং কলস্বরে চেঁচিয়ে উঠল : শাকের যে!

    অনিমা এগিয়ে এলো, তার চোখে-মুখে স্মিতহাসি।

    —তোমাকে বহুদিন দেখি নি। রোজই ভাবি খোঁজ করব কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে না। তুমিও তো মাঝে মাঝে খবরটবর নিলে পার।

    অপরিচিত ছেলেটি একটু দূরে দাঁড়িয়েছিল। পরনে সাদা ধবধবে ফিনফিনে ধুতি, গায়ে গিলে করা পাঞ্জাবি, চোখে সানগ্লাস, মাথায় এক ঝাঁকড়া চুল নিখুঁতভাবে ব্যাকব্রাশ করা। এবং চোখেমুখে নম্র বিনীত হাসি।

    —সুনীল রায়, স্কটিশ চার্চে বি.এ পড়ছেন, ফিলজিতে অনার্স। আমরা এক সঙ্গেই বি.এ দেব। আর এর নাম শাকের। খুবই ব্রিলিয়েন্ট ছেলে। এবার আই.এ দেবে।

    —ব্রিলিয়েন্ট ছেলে! কেন আমার দুর্বল ঠ্যাং ধরে টানাটানি করছ।

    —ইংরেজি ইডিয়মের বাংলা পরিভাষা তুমি উদ্ভাবন কর মন্দ না।

    —পরিভাষার আর প্রয়োজন কি, কোদালকে তো কোদালই বলি।

    —হ্যাঁ তা বল বটে, এবং অসুবিধায় পড়লে তোমার বিপদটিকে হাঁসের গায়ের পানির মতোই ঝেড়ে ফেল।

    এবার সকলেই হেসে উঠল। এতক্ষণে সুনীল দু’হাত তুলে আমাকে নমস্কার করল। আমি মনে মনে স্থিরপ্রতিজ্ঞ ছিলাম, যথারীতি সালাম দেব। কিন্তু অনিমা আর সুনীলের দু’জোড়া চোখের সামনে কেমন যেন সঙ্কুচিত হয়ে গেলাম। বিশেষ করে এইমাত্র অনিমা আমার সম্বন্ধে যেসব প্রীতিকর বাক্য উচ্চারণ করল তারপর তার কাছে অপ্রীতিকর হতে পারে এমন কোনো আচরণের কথা ভাবতে পারলেও তা শেষ পর্যন্ত কার্যকরী করতে পারলাম না। অর্থাৎ সত্য কথা বলতে কি, আমারও দুটি হাত যন্ত্রচালিতের মতো নমস্কারের ভঙ্গিতে উঠে এলো।

    সেলিনা ফ্লাওয়ার আইল্যান্ডের পাশে তারের ফেনসিং-এ ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘাটে ভেড়া জাহাজটির চিমনির ওপর তার নজর। চিমনির ঠিক উপরেই একটা ঈগল পাখি উড়ে বেড়াচ্ছিল। অকস্মাৎ জাহাজ ছাড়ার তীব্র সঙ্কেতে চকিত হয়ে অনেক দূরে উড়ে চলে গেল।

    আমরা হাঁটতে লাগলাম।

    হাঁটতে হাঁটতেই অনিমা আবার বললো : সুনীল, তোমাকে কিন্তু শাকেরের সম্পূর্ণ পরিচয় দেওয়া হয় নি। শাকের রীতিমতো ভালো গান করতে পারে—এবং সে মুসলিম লীগের একজন আদর্শ প্রচারক।

    সুনীল বললো : তাই না কি। তারপর আমাকে উদ্দেশ করে যোগ করল : আপনার শেষোক্ত পরিচয়টাই কিন্তু ভয়ানক।

    —ভয়ানক? ভয়ানক কিসে?

    মুশতাক উসখুস করছিল। সে হঠাৎ অসহিষ্ণু কণ্ঠে বলে উঠল—দু’মিনিটও আলাপ হয় নি, এরই মধ্যে রাজনীতি শুরু হয়ে গেল। তার চাইতে চলো আমরা সকলেই কলকাতা ফিরে যাই। একটা ভালো কোনো ছবি দেখলেও হয়।

    অনিমাও সোৎসাহে সায় দিল, কিন্তু পরক্ষণেই বললো : কলকাতায় ফিরে যাবে কি করে শুনি? ডানা তো নেই যে উড়ে যাবে। ফিরবার জাহাজ আবার ক’টার সময় পাব কে জানে!

    মুশতাক আঙুল তুলে আউটরাম-ঘাট অভিমুখী একটি জাহাজের দিকে আমাদের সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল।

    —ঐ জাহাজটি দেখেই প্রস্তাবটি আমার মনে এলো। তাড়াতাড়ি কর। জাহাজ এখুনি ঘাটে ভিড়বে।

    জাহাজে সবাই স্থির হয়ে ভালো করে বসতে-না-বসতেই আবার মুশতাকের কথায় আমাদের সকলের উৎসাহ কমে এলো।

    —চললাম তো দল বেঁধে টিকিট পাব কি না কে জানে। অসহ্য অবস্থা করে তুলেছে এই যুদ্ধ। সিনেমায় যাও টিকিট পাবে না, হাউসফুল। চা খেতে যাও কোথাও বসবার জায়গা পাবে না। ট্রামে ওঠ; পাদানিতে পর্যন্ত ঠ্যাং রাখবার স্থান নেই। এমনকি রাস্তায় চল, ধাক্কা খাবে, ধাক্কা দিয়েছ বলে গলাধাক্কা খাবে। এখন সিনেমায় যাব, টিকিট তো পাবই না, মাঝ থেকে মন-মেজাজই যাবে বিগড়ে।

    অনিমা একটুখানি হেসে উঠে চলে গেল। যাবার আগে বললো :

    —দাঁড়াও দেখি, তোমার মন-মেজাজের দাওয়াই আনতে পারি কি না—একেবারে অব্যর্থ মহৌষধ।

    আবার একটু পরেই ফিরে এলো। তার পিছনে সাত আট বছরের একটি নেপালি ছেলের হাতে একটি ট্রে; ট্রেতে ছোট ছোট গ্লাসে গরম চা, আর লম্বা লম্বা মিঠা বিস্কুট।

    –তোমার ও চা-বিস্কুট খেলে আর দেখতে হবে না, এক্ষুণি কলেরা হবে।

    মুশতাকের মন্তব্য।

    অনিমাও সহাস্যে জবাব দিল, তোমার মাথা হবে।

    –তোমাদের আর কোনো কাজ নেই, কেবল খাই খাই। এই বলে মুশতাক গোটা চারেক

    বিস্কুট আর গেলাস দুই চা ট্রের ওপর থেকে তুলে নিল।

    —এইমাত্র না কলেরার ভয়ে তোমার হাত-পা সব সেঁধিয়ে যাচ্ছিল!

    দু’গাল ভরা বিস্কুটের পাহাড়ের পাশ দিয়ে কোনোমতে এই কথাগুলো বেরিয়ে এলো কলেরা যখন হবেই, তখন এক-আধখানা বিস্কুট খেয়ে কেন মরি, পেট পুরেই খেয়ে নি।

    এই বলে মুশতাক আরো গোটা চারেক বিস্কুট টেনে নিল।

    এতক্ষণে সেলিনা কথা বললো :

    —কি করছ মুশতাক, সব কিছুতেই তোমার বাড়াবাড়ি!

    মুশতাক কোনো জবাব দিল না। তার লম্বা জিহ্বা বের করে ভগ্নিকে সম্ভাষণ করল। জিহ্বায় পুরু হয়ে বিস্কুটের ভগ্নাবশেষ জমে আছে।

    নেপালি বাচ্চাটা জিহ্বার এমন দর্শনীয় ব্যবহার দেখে পুলকে উছলে উঠল। মুশতাক সজোরে ধমকে উঠল। নেপালি সন্তানের হাসি তাতে এতটুকু সংযত হলো না।

    মুশতাক হঠাৎ বালকটির হাত ধরে কাছে টেনে নিল। বললো : শোন্ রে। আর কিছু আছে খাবার? দিবি এনে?

    ছেলেটি তার বিচিত্র মিশ্র ভাষায় কি বললো ঠিক বোঝা গেল না, কিন্তু দৌড়ে চলে গেল। একটু পরেই একটি থালায় বিভিন্ন প্রকার তেলে-ভাজা এনে হাজির করল।

    মুশতাক থালাটি তার কোলের ওপরে টেনে নিয়ে তৎক্ষণাৎ সৎকার্যে মনোনিবেশ করল। বাকি পথটা তার মুখে কোনো কথা ছিল না।

    বস্তুত ছোট স্টিমারটির ইঞ্জিনের শব্দ, আদিগন্ত বিস্তৃত আকাশে নানারকম ছোট-বড় পাখার বিচরণ, নদীর দুই তীরে সবুজ মাঠ, ছোট-বড় গাছ, কলকারখানার চিমনি থেকে উত্থিত ধূম্রকুণ্ডলী এবং সারাদিনের ক্লান্তির সমগ্র প্রভাবে কথা বলতে কারই ভালো লাগছিল না। নদীর পানি কেটে স্টিমার চলেছে, চোখে-মুখে বাতাসের স্পর্শ, এই পরিবেশে নীরবতাই ভালো লাগছিল। পাখির পক্ষ সঞ্চালনের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম কিনা জানি না; কিন্তু শুনতে পাচ্ছিলাম কল্পনা করতে বেশ লাগছিল।

    এক সময় অনিমা বললো :

    —আমার ডান হাতের তালুটা সকাল থেকে চুলকাচ্ছে। ডান হাত চুলকালে কি হয় রে? সেলিনা জবাব দিল :

    —শুনেছি অনেক টাকা আসে।

    অনিমা তবু সন্দিহান হয়ে আবার প্রশ্ন করে : টাকা আসে। না, বিদেশ যেতে হয়।

    —না রে। পা চুলকালে বিদেশ-যাত্রা!

    এবার সুনীল বললো :

    —আমি তো জানি, ডান হাতই হোক আর বাম হাতই হোক, চুলকালে আরটিকেরিয়া, এগজিমা, পাঁচড়া এইসব হয়।

    —তুমি বড্‌ড বেরসিক। দেখ তো আরটিকেরিয়া বা এগজিমার কোনো লক্ষণ দেখতে পাও কি না।

    অনিমা উঠে এলো, সুনীলের দিকে দুটি হাতই প্রসারিত করে দিল। সুনীল দুই হাত দিয়ে অনিমার ডান হাতটি চোখের সামনে টেনে আনল। বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেল।

    সেলিনার চোখে-মুখে হাসি, বললো : সুনীল, লক্ষণগুলো আবিষ্কার করতে সময় বড় বেশি লাগছে না?

    অনিমা এক ঝটকায় তার হাত টেনে নিল। আমাদের পিছনে এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক চুপচাপ গম্ভীর হয়ে বসেছিলেন। তিনি পর্যন্ত হেসে উঠলেন।

    মুশতাক ঠিকই বলেছিল। কোনো সিনেমাতেই টিকিট পাওয়া গেল না।

    অগত্যা যে-যার গৃহাভিমুখে প্রস্থানের সিদ্ধান্ত করলাম। একটা ট্যাক্সিতে উঠবার আগে অনিমা বললো : শাকের আগামী সোমবার আমার জন্মদিন, না এলে কিন্তু ভারি রাগ করব।

    সেলিনার সঙ্গে একটি কথাও হলো না। এমনকি তারা চলে গেল, তবু একটা বিদায় সম্ভাষণ পর্যন্ত না।

    .

    যখন বাড়ি ফিরে এলাম তখন অন্ধকার হয়ে গেছে। কিছুই ভালো লাগছিল না। মনে করেছিলাম, শোবার ঘরে গিয়ে চুপচাপ আরাম করব। সিঁড়ি দিয়ে উঠছি, বাম দিকের অন্ধকার কামরা থেকে মেজ ভাইয়ের ডাক ভেসে এলো : শাকের শুনে যা!

    বহুদিন এই ঘরটায় আসি নি। বিছানার চাদর-বালিশ সবকিছুই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে আছে, আর তেমনি নোংরা ঘরের কোণে একটা সোরাই রাখা আছে, তার মুখটা খোলা, এবং তার চারদিক পানিতে ভেজা। কাছেই একটা গেলাসও ভেঙে পড়ে আছে। ঘরে আলো জ্বালানো হয় নি; কিন্তু খোলা জানালার ভিতর দিয়ে স্ট্রিট ল্যাম্পের আলো ঘরের ভিতরটাও আলোকিত করে দিয়েছে। মেজ ভাইয়ের মুখে এক মুখ দাড়ি, কত দিন যে দাড়ি কামানো হয় নি তার হিসাব নেই।

    —তুই সারাদিন কোথায় থাকিস রে!

    কোনো জবাব দিলাম না।

    —আচ্ছা বোস। এই চেয়ারটায় বসে পড়। না না, ও চেয়ারটায় বসিস না। ওর একটা পা ভাঙা। বিছানার এই কোণটায় বসে পড়

    আমিও তাই করলাম। মেজ ভাই সেইভাবেই বহুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকলেন। তাঁর মুখেও কোনো কথা নেই, আমিও নীরব।

    তুই ‘জুড দি অবস্কিওর’ পড়েছিস?

    —জি না।

    এবার মেজ ভাই রেগে উঠলেন, ভয়ানক রেগে উঠলেন।

    –তোর মতলব বুঝেছি। তুই আমার কাছে বসতে চাস না। আচ্ছা যা। যা বলছি। এক্ষুণি চলে যা।

    আমিও ভয়ে ভয়ে উঠে পড়লাম।

    আশ্চর্য, মেজ ভাই তৎক্ষণাৎ আবার শান্ত হয়ে গেলেন।

    —যা। কিন্তু আসবি আবার মাঝে মাঝে। বড্ড একা একা থাকি রে।

    —একা থাকেন কেন? বাইরে গেলেই তো পারেন।

    —বাইরে যাব? কোথায় শুনি? তুই জানিস, আমার এই কামরাটার বাইরে গোটা দুনিয়াটাই পাগলাখানা। তুই ওসব বুঝবি না। যা…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম
    Next Article চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    Related Articles

    রশীদ করীম

    প্রসন্ন পাষাণ – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    রশীদ করীম

    লাঞ্চ বক্স – রশীদ করীম

    August 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }