Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    স্বপ্নময় চক্রবর্তী এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চতুষ্পাঠী – ১৭

    সতের

    আগরতলা থেকে চিঠি লিখেছিল হেরম্ব চট্টোপাধ্যায়।

    কলিকাতায় তোমা ভিন্ন আমার আত্মীয় বলিতে আর কে আছে? চিকিৎসার প্রয়োজনে নিতান্ত দিনকয়েক কলিকাতায় থাকিতে হইবে…

    হেরম্বর চিঠি পেলেন বহুদিন পর। জগদীশের মৃত্যুর খবর শুনে একটা লিখেছিল। আর এই।

    হেরম্ব যে আসছে এই কথাটা এখনো অঞ্জলিকে জানাননি অনঙ্গমোহন। হেরম্ব নীলকমলেরই ছাত্র। একইসঙ্গে পড়াশোনা করেছে। অনঙ্গমোহনের সঙ্গেই ব্যাকরণ পড়েছে, একইসঙ্গে সাঁতার কেটে শাপলা তুলেছে, নোনাফল পেড়েছে। ছ’বছর ছিল অনঙ্গমোহনের বাড়িতে, দেশের বাড়িতে।

    ছটা বছর, কৈশোর আর প্রথম যৌবনের ছ-টা বছর তো সোনার বছর। ঐ সুবর্ণকাল, হেরম্বর সঙ্গেই কেটেছে। সেই হেরম্ব আসবে। নীলকমল গ্রীষ্মকালে বেলের শরবৎ পছন্দ করতেন। কণ্টকময় বিল্ববৃক্ষ থেকে কে বেল পেড়ে আনবে তার প্রতিযোগিতা চলত। বেলকাঁটায় শরীর বিদ্ধ হত। ‘কে বেল পাড়ল আইজ’? নীলকমলের ঐ প্রশ্নে অধিকাংশ দিন হেরম্ব বলত—আঁই হাড়ছি আচাইয্যাদ্যাব। হেরম্ব আসবে। শেষ এসেছিল বছর দশেক আগে। শ্রীক্ষেত্র থেকে তীর্থ করে আসার পর তিন দিন ছিল একসঙ্গে। ভালই কেটেছিল তিনটে দিন। এখন ওর বড় বেশি পঞ্জিকা-সর্বস্বতা। দাড়ি কামানোটাও পঞ্জিকা মেনে করছিল হেরম্ব। বসনটাও গৈরিক।

    দেশ ভাগ হবার পর বেশ কিছুদিন পূর্ব পাকিস্তানেই ছিল হেরম্ব। তারপর ত্রিপুরার আগরতলায় যায়। ত্রিপুরার একটি ইস্কুলে পণ্ডিতের চাকরিও জুটিয়েছিল হেরম্ব। হেরম্ব আসবে।

    অঞ্জলিকে কী করে বলবেন এখন? রেশনে যা চাল দেয় দুই দিন মাত্ৰ চলে। বাইরে চালের দাম দুই টাকা বারো আনা—তিন টাকা। ঘরে চাল নাই গমের দামও বেড়েছে। যবের আটা কিঞ্চিৎ সস্তা। অতিথিকে তো আটা খাওয়ানো যায় না। অনেকটা শ্বাসগ্রহণ করলেন অনঙ্গমোহন। প্রাণায়ামে এর নাম পূরক। বেশ কিছুক্ষণ শ্বাসবায়ু আটকে রাখলেন। কী বলবেন, বুঝতে পারছেন না। কুম্ভক। হঠাৎ হড়হড় করে বলে দিলেন বৌমা, হেরম্ব আসবে হেরম্ব, আমার বাইল্যবন্ধু। কালই আসবে, থাকবে ক’দিন। বলেই সরসর করে সরীসৃপের মতো বারান্দা পেরিয়ে রাস্তায় নেমে গেলেন। চললেন হরি ঘোষ স্ট্রিট।

    বিলু ছিল ঘরে। অঞ্জলি হঠাৎ ছুটে এসে ওর বইপত্র বন্ধ করেছিল। ঠোঙাই বানা বিলু, রিকশা চালা, মোট ব’ তুই। আর আমি রাস্তায় নাইম্যা যাই—তোর দাদুর শখ মিটাইতে গেলে এইসব ছাড়া উপায় নেই। অসীম গেছে, আবার হেরম্ব না কে যেন আসবে। আমার আর ভাল্লাগে না। আমি ঐ মাড়োয়ারি বাড়ি কাজ নেব। আজই যশবাবুর কাছে চললাম।

    ক’দিন আগে অঞ্জলি বলেছিল বিলুকে, একটা অঙ্কের মাস্টার দ্যাখ। ক্লাস নাইনে উইঠ্যা, সাইনস্ পড়বি। সব ভাল ছেলেরা সাইনস্ পড়ে। সাইনস্ পইড়া চাকরি পায়। চাকরি কইরা তুই সোনা, আমারে সুখ দিবি। বিলু বলেছিল, তিরিশ টাকার কম তো প্রাইভেট হয় না মা। অঞ্জলি বলেছিল, সেই ভার আমার। আমি দিমু তোরে মাস্টারের ব্যাতন। তুই পড়। শিখাদের ঘরে অঞ্জলি যে ক’মাস রান্না করেছে তিরিশ টাকা করে পেত। এখন সে কাজটাও নেই। যশবাবু এসেছিলেন মাঝে দু’দিন। বলেছেন-ঐ টিন কারখানার মালিক অঞ্জলিকে একটা কাজ দেবেন। মালিকের বাড়িতে। অঞ্জলি যখন টিন কারখানায় কাজ করতো, বিলু দু’একদিন গিয়েছিল ওখানে। দেখেছে, ওর মা ওখানে টেবিলে টেবিলে জল দেয়, চা দেয়। চিঠিতে আঠা মারে। স্ট্যাম্প লাগায়।

    এখন মালিকের বাড়িতে কী কাজ করবে মা? বিলু জিজ্ঞাসা করল। রান্নার?

    —রান্নার ক্যান? মালিকের বাড়িতেই তো প্লাস্টিকের কারখানা হইছে শোনলাম। যশবাবু কইল। যশবাবু ঐখানে কাজ করে।

    থাক। তোমায় যেতে হবে না মা। বিলু বলল। অঞ্জলি বলল যাইতে কি চাই আমি? সাধ কইরা যাই? তোর দাদু যা লাগাইছে। তোর মামার বাড়িই যাওন ভাল ছিল আমার। তোর বাপ মরার পর যখন চাকরি পাইলাম, তোর মামা কতবার কইছিল দিদি, বিলু-স্বপ্নারে লইয়া চইল্যা আয় আমার কাছে, শুধু ঐ বুড়ার মুখের দিকে চাইয়া আমি যাই নাই তখন।

    বিলু কিছু বলে না, চুপ করে থাকে। বিলু শুনল ট্রাংক খোলার শব্দ। ট্রাংক বন্ধ করার ঝনাৎ। ন্যাপথলিনের গন্ধ। ছাপা শাড়িটা পড়ল মা।

    —আমি মাড়োয়ারি বাড়ি যাই।

    —তুমি যেও না মা।

    —আমি ঠিক কইরা ফালাইছি।

    অঞ্জলি চলে যাবার পর আবার ট্রাংকটা খোলে বিলু। ট্রাংকের মধ্যে বাবার খাকি জামা, ধুতি, মায়ের কাপড়, কাঁসার থালা…। ডুবুরি হয়ে যায় বিলু। সারা গায়ে মাখে গঙ্গামাটির মতো স্মৃতি। তারপর ট্রাংকের গভীরে ডুব দিয়ে বার করে আনে ছোট্ট বাক্সটা।

    আংটি।

    আংটিতে খোদাই করা ‘বিপ্লব’। বিক্রি করে দিয়ে পঁচাশি টাকা পায়। ঊনচল্লিশ টাকা দিয়ে পনের কিলো চাল কিনল বিলু। ঐ চাল নিয়ে যখন ফিরছিল, তখন বিলুর মনে হচ্ছিল—চাল নয়, গিরিগোবর্ধন ধারণ করেছে ও।

    সন্ধে হল। অঞ্জলি ফিরল না তখনো। স্বপ্না ঠাকুর প্রদীপ জ্বালিয়েছে, দুয়ারে জলের ছিটে দিচ্ছে। অনঙ্গমোহন ফিরলেন। বিলু ছুটে গিয়ে অনঙ্গমোহনের হাত ধরে। বলে দেখবে এসো…দেয়াল ঘেঁষে লাগানো চাল রাখার টিনের মুখটা কটাস্ করে খুলে দেয়। অনঙ্গমোহন দেখেন, টইটুম্বুর টিন। দেখেন বর্ষার বেত্রবতী নদী। কনককান্তিমদালস্য। পীনস্তনী। টিনের ভিতরে দু’হাত ঢুকিয়ে দেন সম্ভোগ। সম্ভোগের পর অনঙ্গমোহনের চোখ উৎসুক। কে আনল চাউল? বিলু বলল ‘চুপ’। মাকে বোলো, তুমিই এনেছ।

    —অর্থাৎ?

    —মানে চালটা আমি এনেছি। কিন্তু মাকে বোলো তুমিই এনেছ।

    —তুই কী কইরা আনলি?

    —ধারে। তুমি ঐ সরকারি বৃত্তি পেলে শোধ দেবে।

    —আমি মিথ্যা কমু?

    —বিলু অনঙ্গমোহনের কাছে মুখ নিয়ে বলে, কও না একটু।

    অনঙ্গমোহন বললেন, পারুম না।

    বিলু বলল—প্লিজ-দাদু।

    উঁহু।

    তাহলে আমি যা বলার বলব। তুমি শুধু চুপ করে থেকো।

    হে ঈশ্বর। কী বিচিত্র তোমার লীলা। তুমি রৌদ্রের দাবদাহ দাও, ছায়াও তোমার দান, ব্যাধি-রোগ সবই দিছ তুমি সঙ্গে সঙ্গে দিছ গুল্ম ও ওষধি। কী নরম তালশাঁস দিছ গরমের বিকালে। বিলুকে মনে মনে জড়িয়ে ধরেন অনঙ্গমোহন।

    সেই রাতে বেশ গুমোট ছিল। দক্ষিণের ঐ জানালা ছিল হাওয়াহীন। অসীম চলে যাবার পর বিলু অনঙ্গমোহনের সঙ্গে শোয়। বিলুর বার বার ঘুম ভেঙে যাচ্ছিল বাতাসের আরামে। কারণ, অনঙ্গমোহন হাওয়া করছিলেন তালপাতার পাখায়। বিলু বার বার বলছিল-থাক দাদু থাক। কিন্তু অনঙ্গমোহন বার বার হাওয়া করছিলেন। তখন বিলু ভাবছিল, পাখাটা কেড়ে নেবে। তারপর এক সময় পাখা থেমে গেলে বিলু চুপি চুপি পাখাটা সরিয়ে নিল। তারপর ঘুমোল। কিছুক্ষণ পর ঘুম ভেঙে গেলে বিলু পাখাটা হাতড়ে নেয়। অনঙ্গমোহনের দিকে পাখাটা হেলিয়ে বাতাস করতে গিয়ে টের পায়, বিছানা শূন্য। কলঘরে গেছে বোধহয়। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পরেও যখন এল না, বিলু উঠল। দেখল, সিঁড়ির দরজা খোলা। সদর খোলা।

    .

    অনঙ্গমোহনের ঘুম হচ্ছিল না। ঘুম থেকে উঠে গিয়েছিলেন। শেষ রাত্রেই ওঠেন তিনি রোজ। গঙ্গায় যান। স্নান-আহ্নিক করেন। কিন্তু আজ অনেক আগেই উঠে চটের ব্যাগটা টেনে নিলেন। রাস্তায় বেরুলেন। চাঁদ তখন পশ্চিমে অনেকটা হেলেছে। অনঙ্গমোহন চটের ব্যাগটা নিয়ে এগোতে লাগলেন। ব্যাগের মধ্যে একটা লোহার শলাকা।

    গতকাল বাইরে থেকে ফিরে অঞ্জলি বড় মনমরা ছিল। টিন ভর্তি চাল দেখেও উচ্ছ্বাস দেখায়নি। রাত্রে অঞ্জলি শুনল-চাল যেভাবে ধারে জোগাড় হয়েছে ঐভাবে কিছু কয়লা জোগাড় হয় না? আমি চাকরি নিয়েছি, শোধ করে দেব।

    কয়লা? অনঙ্গমোহনের তখনই ঐ পোড়া কয়লার পাহাড়টার কথা মনে হয়। ভোরবেলা ভিড় হবার আগেই কিছু কয়লার টুকরো কি জোগাড় হয় না? চিৎপুর ইয়ার্ডে যাবার সময় ব্যোমকালীতলা পড়ে। কালীমন্দিরের কোলাপসি গেট বন্ধ। ঐ বন্ধ দরজায় অনঙ্গমোহন মাথা ঠেকান, ঝং শব্দ হয়।

    মা কালী। তুমি নাকি চোরদের সহায়, ডাকাতদের সহায়?…আমার ও সহায় হও। তারপর ঐ বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন আরও কিছুক্ষণ। বলেন, হে ভগবন্—তুমি রূপ-বিবর্জিত, কিন্তু আমি তোমার রূপ কল্পনা করছি। তুমি বাক্যের অতীত, কিন্তু আমি স্তুতি দ্বারা তোমার অনির্বচনীয়তা নষ্ট করি। তুমি সর্বব্যাপী। তবু আমি মন্দিরের সামনে দাঁড়াই। আমার এই বিকলতা ক্ষমা কর। ক্ষন্তব্যো জগদীশ তদ্বিকলতা দোষম্। চললেন অনঙ্গমোহন পোড়া কয়লার পাহাড়ে। হাতে ব্যাগ, শিক, চৌর্যবৃত্তি? ক্ষন্তব্যো জগদীশ তদ্বিকলতা দোষম।

    হেরম্ব এসে গেল। সঙ্গে ওর বড় ছেলে। হেরম্ব লাল রঙের বসন পরেছে, তান্ত্রিকদের মতো। মুখে দাড়ি। অনঙ্গমোহনকে জড়িয়ে ধরল। হেরম্বর গায়ে জ্বর।

    হেরম্বকে অনেকদিন পর পেয়ে অনঙ্গমোহন খুশি। এরোপ্লেনে এসেছে হেরম্ব।

    হেরম্ব তোমার কী অসুখ?

    হেরম্ব ঠোঁট উল্টে হাতটা উপরে তুলে ধরে। ভীষণ ভগ্নগলায় বলেন—ঈশ্বর জানেন। ওর ছেলে বলল, বাবার কথা বলতে কষ্ট। অথচ কত গল্প করবেন ভেবেছিলেন অনঙ্গমোহন। পুরনো দিনের গল্প। সেই জল-ঝাঁপ? খেজুররস পাড়া, নতুন বৌকে ভূতের ভয় দেখানো…মনে আছে হেরম্ব ভাই, টোলের ছাত্ররা কিরকম খেলাইত তোরে? কলাপের ঐ সূত্রটা মিলাইয়া মিলাইয়া তোরে কী কইত?

    হেড়ম্বের বৌ হিড়িম্বা।

    পঞ্চমে পঞ্চমাংস্তুতীয়ান্নবা।

    অনঙ্গমোহন জিজ্ঞাসা করল, তোমার কী কষ্ট হেরম্ব? কী অসুখ?

    হেরম্ব গলায় হাত দিয়ে দেখালেন। দেখালেন-সাদা দাড়ির ভিতরে, গলা থেকে ঝুলে পড়েছে আতার মতো একটা মাংসপিণ্ড। ভাঙা, কর্কশ গলায় হেরম্ব বললেন—বাঁচুম না…

    হেরম্বের ছেলে বলল—খায় না, জ্বর, বমি। ত্রিপুরায় সব কিছু হয়ে গেছে। তারপর অনঙ্গমোহনকে একটু দূরে নিয়ে গিয়ে বলল—এবারে খুড়ামশয়, শেষ চেষ্টা। হাসপাতালে ভর্তি করামু। ক্যানসার হাসপাতালে।

    হেরম্ব স্বপাকি। ওর জন্য আলাদা উনুন ধরাতে হল। আলাদা একটা হাঁড়ি।

    হেরম্বর ছেলে বলল—আমি এখানে খামু না। আমি আমার মামাশ্বশুরের বাড়ি যাই। বাবা দুই দিন এখানেই থাক। এই সামান্য দুটা ভাত খায়। একসিদ্ধ ভাত। তবে আজ পটলটা বাদ। তৃতীয়া কিনা। দু’মুঠো ভাত ও খেতে পারল না হেরম্ব। বমি বমি পাচ্ছিল। দুটো দিন কেটে গেল। হেরম্বের ছেলে একবার করে এসে খোঁজ নিয়ে যেত শুধু। সারাদিন বাইরে বাইরে—ওর বাবাকে ভর্তির চেষ্টায় ব্যস্ত।

    হেরম্বর সঙ্গে বিশেষ কথাবার্তাও হল না অনঙ্গমোহনের। শুধু জানলেন— এখন তিন ছেলেই চাকরি করে। দুই ছেলে বিবাহিত। নিজের বাড়ি। বাড়িতে ছোটখাটো একটা কালীমন্দির রয়েছে। রেডিও আছে। গ্রামাফোনও। গ্রামাফোনে শ্যামাসঙ্গীত বাজে। তবে তো সুখের সংসার—অনঙ্গমোহন বলেছিল। কারণ ‘সুখী গৃহকোণে শোভে গ্রামোফোন’ ঠোঙার কাগজে প্রায়ই দেখেন তিনি।

    হেরম্ব বলেছিল, হ। সুখেরই সংসার, সুখেরই দিন। সেইজন্যই তো আরও কটা দিন বাঁচতে ইচ্ছে করে অনঙ্গভাই।

    একটু কথা বললেই হেরম্বর হাঁপ ধরে। শুয়েই থাকেন সারাদিন। জেগে থাকলে মালা জপ করেন। গায়ত্রী জপ করেন। গায়ত্রী জীবন বর্ধন করে। ধরে ধরে বাথরুমে নিয়ে যান অনঙ্গমোহন। গরম জল, বাতাস করা, এটা ওটা রুগী সেবা তো কম নয়। স্বপ্নাও অনেক করে। মাঝে মাঝে বিলুও হাতের থেকে টেনে নেয় পাখা।

    অঞ্জলি বেরুচ্ছে। অঞ্জলি কারুর দিকে না তাকিয়ে বলল—যাচ্ছি। চাকরি। আজ থিকা। অনঙ্গমোহন কারুর দিকে না তাকিয়ে মিনমিন করে বলল, দুর্গা দুর্গা।

    হেরম্ব জিজ্ঞাসা করেছিল, কামদেবপুর কোথায়? ওখানে নাকি দৈব ওষুধ পাওয়া যায়। সেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না। একবার বলল, হরিদ্বার যেতে পারলে হয়তো অসুখ ভাল হয়ে যেত। ওখানে নাকি একজন সাধু আছেন…

    অনঙ্গমোহন কয়েকদিন সুমিতার সঙ্গে দেখা করেননি। দু’দিন রোগী-সঙ্গ করে একটু মুক্ত বায়ুর জন্য অস্থির হয়ে উঠেছিলেন। তিনি স্বপ্নাকে বললেন, তুই এই দাদুটাকে দেখ। আমি ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আসছি।

    ভীষণ সুখবর শুনলেন অনঙ্গমোহন। ললিত মিত্র কথা দিয়েছেন। দিনও প্রায় স্থির। পাকা কথাটা দেওয়া হয়নি শুধু অনঙ্গমোহনের অপেক্ষায়

    ললিত মিত্র যেদিন স-স্ত্রীক দেখতে এসেছিলেন, অনঙ্গমোহনও সেদিন উপস্থিত ছিলেন। দু’একটা কথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন ললিতমোহন। যেমন মৃচ্ছকটিক কার রচনা কিংবা শিশুপাল বধ সিলেবাসে আছে কি না, বলেছিলেন অভিনয় পারবে তো? রেডিওতে সংস্কৃত নাটক করি আমরা।

    ওঁর স্ত্রী বলেছিলেন, কী আর বলব। সদ্বংশের মেয়ে। ছেলেকে দেখো। ওটাই প্রায় কথা দিয়ে দেওয়া। তবু ললিতবাবু বলেছিলেন, ছেলে আসার কথা আছে। ও একবার দেখুক।

    তা ঐ নাবিক ছেলেটি এসে পড়েছে। পাত্রী দেখতে আসেনি। বাবা-মা’র পছন্দ, আর কিছু বলার নেই। সুতরাং বিবাহ স্থির। অত্যন্ত আনন্দ হচ্ছিল অনঙ্গমোহনের। যেন একশো ছাত্র টোলে ভর্তি হল। অনঙ্গমোহন বাড়ির দিকে ছুটলেন। ট্রামের ঘণ্টায় ঝুমঝুমি বাজে, কলকাতার ভিড়ে করতালি, রিকশাওয়ালার ঘণ্টাধ্বনিতে আনন্দ সমারোহ, মোটর হর্নে শুভ শঙ্খধ্বনি। আনন্দ আনন্দোব্রহ্ম।

    আনন্দদ্ধোব খল্বিমনি ভূতানি জায়ন্তে। আনন্দের জাতানি জীবন্তি… চু কিত কিত চু কিত। বাড়ি আসেন। শুভ সংবাদ।

    ঘরের দরজা বন্ধ। ধাক্কা দিতেই খুলে যায়। দরজা খুলতেই বজ্ৰাহত হন অনঙ্গমোহন। স্বপ্নাকে আঁকড়ে ধরে আছে হেরম্ব। স্বপ্না বিমূঢ়া-বালা। হেরম্বের গলায় রুদ্রাক্ষ মালা দোলে, মুখে লালা। হাতির তাবিজ-মাদুলি কাঁপে। স্বপ্নাকে লেপ্টে ধরে আছে হেরম্ব। স্বপ্নার একটা হাত খামছে ধরছে হাওয়া।

    অনঙ্গমোহন নিজের গালে ঠাস ঠাস করে চড় মারলেন।

    হেরম্ব বলে ঐ সব কিছু নয়, শুন অনঙ্গ, ঐসব কিছু নয়, আমি শুধুমাত্র বাঁচার জন্য…

    অনঙ্গমোহন বললেন, গর্ভস্রাব…

    হেরম্ব মিন মিন করে—শুন অনঙ্গ, ষোড়শী সান্নিধ্যে দেহ নীরোগ হয়। তন্ত্রামৃত সুধায় আছে। চরক সংহিতায় আছে। অষ্টাবক্র সংহিতাতেও আছে, নবযৌবনা প্রাণকরাণি। চাণক্যশ্লোকে আছে, সদ্যোমাংস নবান্নঞ্চ বালা স্ত্রী ক্ষীর ভোজনম…

    আবার সংস্কৃত মারাও, অনঙ্গমোহন জ্বলে ওঠেন।

    হেরম্ব বলে, শুধু বাঁচার লাইগ্যা…আর কিছু নয়। শাস্ত্রে আছে…

    —তোমার শাস্ত্রের পায়ুমেহন করি আমি…এই বলেই দেয়ালের পাশে বইয়ের তাকে লাথি মারলেন তিনি। ছিটকে পড়ল কাব্য চন্দ্রসুধা—নৈষধ চরিত—কাদম্বরী। তক্ষুণি আবার গিয়ে তুলে নিলেন। চাদরে মুছলেন। ছিঁড়ে যাওয়া পাতাটিকে শুশ্রূষা করলেন অনঙ্গমোহন। হাত বুলোলেন। বাছা, সংস্কৃত ভাষা। তোর দোষ কী। আমরাই অধম। ভাষার সঙ্গে আচার আমরাই যুক্ত করেছি। এটা আমাদেরই বিফলতা। সংস্কৃত বইগুলির গায়ে হাত বুলান অনঙ্গমোহন। আসলে স্বপ্নার গায়েই হাত বুলোচ্ছিলেন। স্বপ্না কাঁদছিল। যৌবন বড় অরক্ষিত এই সংসারে। শাস্ত্রও রেহাই দেয় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তম পুরুষ – রশীদ করীম
    Next Article শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রজতশুভ্র মজুমদার
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026
    Our Picks

    ইতি স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    September 5, 2026

    অশ্বত্থামা হত – ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    September 5, 2026

    ঈশ্বরপুরের প্রেমকথা – দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য

    September 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }