Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    স্বপ্নময় চক্রবর্তী এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চতুষ্পাঠী – ২

    দুই

    বিলু মাঝে মাঝেই ভাবত, এখনও ভাবে, এইমাত্র যেমন ভাবল ওর বাবার মৃত্যুর জন্য ও নিজেই দায়ী। বাবাকে খাইয়েছে ও বিষ সন্দেশ।

    যে বাড়িতে বিলুরা থাকে, সেই বাড়িটা অন্তত দেড়শো বছরের পুরনো খোপে খোপে গোলা পায়রারা থাকে, গলা ফুলিয়ে বকম বকম করে। রাস্তা থেকে সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। আঠাশটা সিঁড়ি। প্রথম দশটা সিঁড়ির পর একটা বাঁক, তারপর সিঁড়ি, আবার দশটা। সিঁড়ির বাঁকগুলোতে সিঁড়িটা কিছুটা চওড়া হয়, ওখানে কয়লার ড্রাম রাখা নিয়ে শিখার মায়ের সঙ্গে বিলুর মায়ের কী ঝগড়া। বেশ করেছি রাখব। আমরা বিনা ভাড়ায় থাকি নাকি, আমরা সবাই ভাড়া দি। জানা আছে জানা আছে তিন মাসের ভাড়া কার বাকি…এই রকম কথাবার্তা হয় ঝগড়া হলে। এখন সিঁড়ির দুটো বাঁকে দুটো কয়লার ড্রাম। বিলুদের আর শিখাদের। শিখাদের সঙ্গে কথা বন্ধ ছিল অনেকদিন। শিখার বাবা গান জানেন। হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইতে পারেন। শাড়ি পরা মেয়েরা এসে গান শিখে যায়। ওরা খবর কাগজ রাখে। যখন ঝগড়া ছিল না তখন বিলু ওদের ঘরে গিয়ে মাঝে মাঝে খবর কাগজ পড়ে আসত; নেহরুর পর কে? পাকিস্তান হইতে পুনরায় উদ্বাস্তু আগমন। নেতাজি জীবিত আছেন। ফুল আপনার ভাগ্য বলিয়া দিবে। শিখার বাবা খুব নেতাজি ভক্ত ছিলেন। বলতেন শৌলমারীর সাধুই নেতাজি। নেতাজি যখন আত্মপ্রকাশ করবেন তখন জওহরলাল গদি ছেড়ে পালাবে। শিখার বাবা নেতাজির জন্মদিনে বারান্দায় নেতাজির ছবি একটা চেয়ারে বসিয়ে মালা দিতেন, ধূপ জ্বালাতেন আর বেলা বারোটা নাগাদ শাঁখ বাজাতেন। গাঁদা ফুলের ঝিরিঝিরি পাপড়ি দিয়ে লিখতেন জয়তু নেতাজি। তেইশে জানুয়ারির দুপুরে শাঁখ বাজানো হলে শিখার বাবা ছাত্রীদের নিয়ে গাইতেন—কতকাল আর কতকাল বল মা…ভারতের বীর ছেলে/নেতাজীকে বিদায় দিলে/মা গো বল কবে শীতল হবে…। মরুতীর্থ হিংলাজের ‘পথের ক্লান্তি ভুলে’ গানটির সুরে গাইতেন শিখার বাবা। শিখা আর বিজুও গাইত। ঐ গানটারই এক জায়গায় ছিল—চীনের এই আক্রমণে/দেশমাতার ব্যথা মনে/তুমি এসে ভারতের কালিমা ঘুচাও।

    শিখার বাবা খুব সুখী লোক ছিলেন। অফিসে যাবার সময় শিখার মা দুগ্‌গা দুগ্‌গা বলে একটা পান গুঁজে দিতেন হাতে। তখন শিখার বাবা পানটা মুখে দেবার আগে এমন করে হাসতেন যেন টাইম কলে জল এল। একদিন সিঁড়ির বাঁকটায়, যেখানে কয়লার ড্রাম ঐখানে চুমু খেতে দেখেছিল বিলু, বিলুর হাতে তখন ঘুড়ি। মুখপোড়া ঘুড়ি। বিলু দ্রুত উঠে গিয়েছিল উপরে। শিখার মায়ের চাপা গলায় বিলু ‘মুখপোড়া’ কথাটা শুনেছিল। ওটা ঘুড়িকে বলেছিল না বিলুকেই, এখনো জানে না বিলু। একদিন মনে হচ্ছে, সেই অফিসে যাবার সময়, শিখার বাবা বলেছিল, ‘যাই’, শিখার মা বলল—যাই বলতে নেই, ‘আসি’। শিখার বাবা তখন কি সুন্দর গেয়ে উঠল, সখী যাই যাই বলো না। বিলু তখন কলঘরে একা।

    শিখারা খুব সুখী। ওদের বাবাও খুব সুখী। এখানে ওরা দুটো ঘর নিয়ে থাকে। ওখানে ওদের একটা দেশ আছে। দেশ থেকে পেয়ারা আসে, আমসত্ত্ব, জয়নগরের মোয়া। ছুটিতে ওরা দেশে যায়। জয়নগর মজিলপুর। বিলুদের কোনো দেশের বাড়ি নেই। বিলুর ঠাকুরদা দেশ ছেড়ে চলে এসেছিল। শিখাদের দেশ আছে। দেশের বাড়ি। শিখার বাবার গলায় গান ছিল। শিখার বাবা গান গাইত, শিখা বিজুরাও ওদের বাবার কাছে গান শিখত। ‘ওরে আর দেরি নয় ধরগো তোরা’, ‘আগুনের পরশমণি’, তারপর, ‘এই মণিহার আমার নাহি সাজে’—এইসব। বিলুর দিদি স্বপ্নাও কয়েকটা গান শিখে নিয়েছিল। স্বপ্না যদি গাইত, শিখা বলত, লজ্জা করে না আমাদের গান গাইছিস…স্বপ্নাও ওর দাদুকে নালিশ করলে অনঙ্গমোহন বলতেন রবিবাবুর গান গাও ক্যান? ডি এল রায় গাইবা, হেমচন্দ্র-নবীন সেন গাইবা। আর বিলুর মা বলত—রবীন্দ্রনাথ কারোর বাপের নাকি? রবীন্দ্রনাথ সবার।

    বিলুর বাবার এমন কোনো জুতো ছিল না, যা পরে হাঁটলে মসমস শব্দ হয়। শিখার বাবার ছিল পাম্পসু জুতো, মোকাসিন জুতো। বিলুর বাবার ছিল নিরীহ চটি।

    একবার বিলুর বাবা একজোড়া চটি নিয়ে এসে বললেন দেখ, দেখ, কেমন অদ্ভুত এক চটি। সর্বদা কেমন গদির উপর দিয়া হাঁটতাছি। বিলু পরে নাম জেনেছিল হাওয়াই চটি। আর যে প্যাকেটে চটিটা এনেছিল বিলুর বাবা, সেই প্যাকেটটাও ছিল অদ্ভুত। পাতলা ফিনফিনে, কাগজও নয়, আবার কাপড়ও নয়। ভিতরে জিনিস রাখলে কি সুন্দর দেখা যায়, আবার জলও ঢোকে না। বিলু নিতে চেয়েছিল ওটা, ওর বাবা দেয়নি। ওর বাবা টিফিনের বাক্স ওটা দিয়ে মুড়ে নিয়ে যাবে।

    বিলুর বাবা জগদীশ সকাল আটটার সময় বেরিয়ে যেত বাড়ি থেকে, সন্ধ্যের সময় ফিরত। আবার বেরিয়ে রাত ন’টার আগে ফিরত না। এটা ছিল টিউশনি আর আগেরটা চাকরি। মাঝখানে এসে কিছু খেয়ে যেত বিলুর বাবা। চিঁড়ে খেত। চিঁড়ে ভেজা, চিনি বা আখের গুড় দিয়ে। দৈবাৎ নারকোল। অর্ধেক নারকোলের দাম চার আনা। চার আনায় দুটো বড় বড় সন্দেশ হয়। বিলুর বাবা কোনো রকমে চিঁড়ে-গুড় খেয়েই টিউশনিতে চলে যেত।

    শিখার বাবা অফিস থেকে ফিরে সন্দেশ খেতেন দুটো। রুটি কিংবা পরোটা আলুভাজা। ফটিকের দোকান থেকে কাঁসার বাটি করে সাদা ফকফকে ডালডা ঘি কিনে নিত শিখা। আর বিরামের সন্দেশ। শিখাদের দেশ ছিল। দেশের জমির ধান ছিল। ঝুলবারান্দার দড়িতে ঝুলত শিখা আর বিজুর বাহারি জামা, জাহাজ ছাপ জামা, পাখি ছাপ জামা, ট্রিংকলের ডেক্রনের। বিলুর দিদি স্বপ্নার রঙ ওঠা জামার পাশে হিল হিল করত শিখার জামা—এবার পুজোয় আমায় একটা ভাল জামা দেবে তো, ট্রিংকলের জামা? স্বপ্না এরকম কথা বললে ওর বাবা স্বপ্নার মাথায় হাত দিয়ে বলত, হ্যাঁ দেবো দেবো। এই হ্যাঁ দেবো দেবো-র উচ্চারণ ভঙ্গি ও স্বরক্ষেপণের মধ্যে বিলু ওর বাবার অসহায় ভাবটা বুঝতে পারত। মিথ্যে বলার মধ্যে যে একটা অপরাধবোধ থাকে, সেটা বেশ স্পষ্ট ছিল। রেডিওর ব্যাপারেও এটা বুঝেছে বিলু।

    শিখার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হলেও বৃহস্পতিবার নাগাদ আবার কথাবার্তা শুরু দিতে চেষ্টা করত বিলুর মা। কারণটা শুক্রবারের রেডিওর নাটক। সবার গলা চিনতে পারে বিলুর মা। প্রমোদ গাঙ্গুলি, প্রেমাংশু বসু, মঞ্জু দে, মেনকা দেবী, পাহাড়ী সান্যাল-সব্বাইয়ের। সমস্ত কাজপত্র গুছিয়ে রাত আটটা বাজার পাঁচ মিনিট আগে শিখাদের ঘরে গুটি গুটি হাজির হয়ে যেত বিলুর মা। যদি সে রকম অবস্থা সৃষ্টি করতে অক্ষম হত বিলুর মা, বারান্দায় শিখাদের ঘরের পাশটাতে গিয়ে বসত। শিখার মা একদিন রেডিওর ভল্যুম কমিয়ে দিয়েছিল। সে দিন রাত্রে বিলুর ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। বিলুর মা ফুঁপিয়ে কাঁদছিল, বলছিল—পারবে না, পারবে না একটা রেডিও কিনে দিতে! শাড়ি নয়, গয়না নয়, একটা রেডিও। দীর্ঘশ্বাস সমেত হ্যাঁ, দেবো দেবো, শুনেছিল বিলু বাবার মুখে। খবর কাগজে পুজোর আগে আগে পৃষ্ঠাজুড়ে বাটার জুতোর ছবি বের হয় আর রেডিওর ছবি। ছবির পাশে দাম। টেলিরাড সোনেটা ২৭০ টাকা, মারফি প্রিমিয়াম ২৮০ টাকা। নেতাজি এলেই দেশের সব কিছু ভাল হয়ে যাবে। নেতাজি এলে রেডিওর দামও কমে যাবে? ইশ্।…যেন নেতাজি আসেন, তাড়াতাড়ি এসে যান। বিলু সিরিয়াসলি ভাবত।

    একদিন রাত্রে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল বিলুর। বিলুর মা বলছিল—দরকার নাই। ওগো দরকার নাই, রেডিওর দরকার নাই আমার। তুমি তোমার শরীলটা আগে দেখ। বিলু চোখ খুলে তাকিয়েছিল তখন। হলদেটে ম্যাদামারা একটা কম পাওয়ারের বাল্‌বের আলোয় দেখেছিল মায়ের আঁচল ঝুলে পড়েছে। একটা পাখা দিয়ে বাতাস করছে বাবার মাথায়। মেঝেতে পড়ে আছে বমি। বিলু হুড়মুড় করে উঠে পড়ে। বিলুর বাবা আবার উদ্গার তোলে। শব্দ করে বমি করে আবার। স্বপ্না তখনো ঘুমোচ্ছে। শুলেই ঘুম স্বপ্নার, কোনো হুঁশ নেই।

    এমন সময় দরজায় টোকা পড়ে।

    জগদীশ, ও জগদীশ। বমি করছিস? বমির শব্দ শুনি…অনঙ্গমোহন দরজায় টোকা দেন। বৌমা, ও বৌমা, দরজাটা খোলো।

    অঞ্জলি বলে, ঢং। বুড়ার ঢং।

    জগদীশ বলে, দরজাটা খুলে দাও।

    বুড়া করবোটা কী?

    খোলো বলতাছি। খুইল্যা দাও।

    অঞ্জলি ঘোমটাটা লাগিয়ে নেয় এবং গজগজ করতে থাকে, সারাদিন কেবল গবৌ গাবৌ আর অং বং চং। পণ্ডিতি। এদিকে মানুষটা শ্যাষ হইয়া গেল। তার উপরে একটা আত্মীয় জুটাইছেন। খিল খুলতে গেলে যতটা জোরে শব্দ হওয়া উচিত, তার চেয়ে অনেক বেশি জোরে খিল খোলার শব্দ হল। অনঙ্গমোহন ঘরে ঢুকে ছড়ানো বমির দিকে চেয়ে থাকেন। তারপর বলেন বায়ু। বায়ু চড়া। পিত্ত প্রবল।

    হবে না? এতগুলোর ভাতের জোগাড় করতে হয় না?

    অনঙ্গমোহন অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে থাকেন।

    জানেন, আরও একটা টিউশনি নিছে? আজ বাড়ি আসারও সময় হয় নাই, খালি প্যাটে গ্যাস হয় না?

    বিকালে সামান্য কিছু হলেও আহার করা উচিত। এক মুষ্ঠি চিড়া দিয়া…

    থাক। হইছে।

    জগদীশ কটমট করে তার স্ত্রীর দিকে তাকায়। অঞ্জলি আরও বেশি উত্তেজিত হয় তখন। বলে এর মধ্যে আবার অসীমরে জুটাইছেন উনি। কাণ্ডজ্ঞানটা কী?

    অনঙ্গমোহন বলেন, মুখরা হয়ো না বৌমা

    মুখ বুইজ্যা তো এতদিন ছিলাম। আর তো পারা যায় না। দ্যাখেন না মানুষটার কী অবস্থা, চোখের পাতা কি খাইছেন?

    অনঙ্গমোহন একটা দীর্ঘশ্বাস ফ্যালেন। বলেন ঝনঝনায়তে। বলেই চলে যান তাঁর বারান্দার মাদুরে। বিড়বিড় করে বলেন—শান্ত পাত্রী। পাত্রী খুবই শান্ত। এই নমুনা। ঝনঝনায়তে। ‘ঝনঝনায়তে’ কথাটা প্রায়ই বলেন অনঙ্গমোহন, এটা একটা তাঁর প্রিয় অলঙ্কার। এর মানেটা বিলু জানে। একটা সংস্কৃত শ্লোক আছে, যেটা বিলু জানে না, তার মানেটা হল—অতসী ফুল বড় চমৎকার, সোনার মতো রঙ। ভাবলাম এত সুন্দর ফুল যখন, না জানি কত ভাল ফল হবে। এই ভেবে গাছে জল ঢাললাম, যত্ন করলাম। তারপর যখন ফল হল, দেখি কেবলই ঝনঝন করে। আর কিছু নয়।

    অনঙ্গমোহন বারান্দায় ঘুমোন। অনঙ্গমোহন আর অসীম। অসীম হল বোবাঠাকুরের ছেলে। অনঙ্গমোহনের শ্যালকপুত্র। অনঙ্গমোহনের টোলে অসীম পড়ে। অসীম বিলুর কাকা হয় সম্পর্কে, যদিও বয়সে বছর দুইয়ের মাত্র বড়।

    হাতমুখ ধুয়ে জগদীশ শুয়ে পড়ে। দুটো বিছানা হয় ঘরে। একটা তক্তপোশের উপরে আর একটা তলায়। তক্তপোশে বিলু আর বাবা শোয়। মেঝেতে, স্বপ্না আর অঞ্জলি।

    জবুথুবু বিলুকে অঞ্জলি বলে, তুই আজ তোর দিদির পাশে শো। তোর বাবার শরীল খারাপ।

    ঘুম জড়ানো চোখে ওর বাবার দিকে একবার তাকাল বিলু। লজ্জা করল তাকাতে। ধুতে গিয়ে হাত ফসকে পড়ে যাওয়া কাচের গেলাসের টুকরোগুলোর দিকে যেরকম অপরাধীর মতো তাকিয়ে থাকেন মা, ওরকম তাকাল বিলু। বিলুর মনে হল বাবার কষ্টের জন্য ও নিজেও দায়ী। ও কেন ঝপঝপ করে এতটা লম্বা হয়ে যাচ্ছে, কেন এত খিদে পায় বিলুর। কী করবে বিলু?

    বিলু গুটি গুটি মশারির ভেতরে শুতে যায়। গামছার মশারি, গামছা সেলাই করে তৈরি হয়েছে এই মশারি। অনঙ্গমোহন মাঝে মাঝেই গামছা পান। যদিও যজমানি করেন না অনঙ্গমোহন, তবু মাঝে মাঝে কেউ বিপদে পড়ে ডেকে নিলে যেতে হয়। কিন্তু ব্রাহ্মণ ভোজন, পণ্ডিত নিমন্ত্রণ, গীতাপাঠ এইসব ব্যাপারে অনঙ্গমোহন খুশি মনেই যান। গীতাপাঠ করলে একটি গীতা দান করার নিয়ম তো আছেই, একটি রেকাবিতে গীতা রেখে তারপর একটা আচ্ছাদন দেওয়া হয়, প্রায়শ সেটা একটা ছোটমোট গামছা। পণ্ডিত নিমন্ত্রণে ভোজন দক্ষিণার সঙ্গে গামছাও পাওয়া যায় অনেক সময়। এই সমস্ত ‘গামছা সংগ্রহ’ সেলাই করে মশারি বানিয়েছে অঞ্জলি। ঐ মশারিটা দেখলেই বিলুর ‘হও ধরমেতে ধীর হও করমেতে বীর’ কবিতাটা মনে পড়ে গোবিন্দবাবু বাংলার স্যার কবিতাটা পড়াতে গিয়ে প্রথমেই বলেন—ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি। বিভেদের মধ্যে ঐক্য। ওই কবিতাটার মধ্যে আছে না, নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান, বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান। মশারিতে লাল গামছা আছে, হলুদ গামছা আছে, লাল হলুদের ডোরা আছে, লাল সবুজের ডোরা আছে, পাতলা আছে, খাপি আছে, সব নিয়ে এই মশারি, হাওয়া ঢোকে না। হাওয়া ঢোকে না তাই এই মশারি মায়ের আর স্বপ্নার। কারণ ওরা মেয়েছেলে। আর যে মশারি আসল মশারি, ফুটো ফুটো মশারি, হাওয়া ঢোকে, সেটায় বিলু শোয়, বিলুর বাবা শোয়। কারণ ওরা ব্যাটাছেলে।

    স্বপ্না ঘুমিয়ে আছে। কী গভীর ঘুম ওর। স্বপ্নার বালিশের তলায় গোঁজা ছিল ওর ব্রেসিয়ার। বালিশ সরে যেতে বেরিয়ে পড়েছে। উঃ দিদি, তুই বডিজ পরিস?

    ইশ্, কত রকমের খরচ বাবার। বিলু জানালা দিয়ে বাইরে তাকায়। জানালার সামনেই বটগাছ। চাঁদের আলো পাতার গায়ে পড়েছে, লাল লাল বটফলের গায়ে পড়েছে। দিদির শরীরের সান্নিধ্য থেকে সরে মশারির গায়ে গায়ে লেগে শুয়ে পড়ে। বালিশ নেই, ভাঁজ করা কাঁথা। মা এইখানে শোয়। মায়ের বালিশ নেই। মশারির প্রায় গায়ে গায়ে লেগে শুয়ে থাকে বিলু। মশারির পাশেই জানালা। লাল গামছার ভিতর দিয়ে চাঁদের আলো পাওয়া বটফুল রহস্যময় দেখায়। আর একবার ওয়াক্ তোলে বিলুর বাবা। বিলুর মনে হয় ওরও কিছু করার ছিল।

    যে বাড়িটায় বিলুরা থাকে সেটা দোতলা। এক তলায় একটা কালির কল। কালির বড়ি তৈরি হয়। সে এক আশ্চর্য ব্যাপার। মেশিনের ওপরের ফাঁদল দিয়ে একটা গুঁড়ো গুঁড়ো জিনিস ছেড়ে দেয় আর মেশিনের মুখ দিয়ে টপটপ করে পড়ে কালির বড়ি। ঐ কালির বড়ি জলে গুলে দিলে দোয়াতের কালি তৈরি হয়। নিবের কলমে ঐ কালি দিয়ে লেখা যায়। অনঙ্গমোহন এখনো নিবের কলমে লেখেন। কালির কারখানার মালিক বনমালী সাহা অত্যন্ত ভাল মানুষ। অনঙ্গমোহনকে বলে রেখেছেন—পণ্ডিতমশাই, আপনার দরকার হলে কালির বড়ি চেয়ে নিয়ে যাবেন। অনঙ্গমোহন এই কালিই ব্যবহার করেন। পি এম বাগচীর চেয়েও ভাল কালি। গরম জল দিয়ে খুব সুন্দর কালি তৈরি হয়।

    তবে যত ভালই হোক না কেন, অনঙ্গমোহনের পিতার তৈরি কালির কাছে কিছুই নয়। অনঙ্গমোহনের পিতারও ছিল চতুষ্পাঠী। কাব্য ব্যাকরণ ছাড়াও স্মৃতিতীর্থ ছিলেন তিনি আর নানারকম ক্রিয়াকর্মের বিধান দিতে হত। নিজেই তৈরি করতেন সেই কালি।

    ভুষা ত্রিফলা, বকুলের ছালা
    ছাগ দুগ্ধে করি মেলা
    তাহাতে হরিতকী ঘষি,
    ছিঁড়ে পত্র, না উঠে মসী।

    এখানে, কালির কলে কালি তৈরি হয় এক অদ্ভুত নিয়মে। লম্বা ত্রিপল বিছিয়ে সাদা সাদা একটা পাউডার ফেলা হয়। ঠিক ময়দার মতো দেখতে। এটার নাম ডেক্সট্রিন। এটা নাকি আলু থেকে তৈরি হয়। শুকনো আলুর গুঁড়ো। একটা ড্রামে রঙ গোলা হয়। কালো রঙ, লাল রঙ, নীল রঙ, সবুজ রঙ। ঐ সাদা রঙগুলো, রঙ গোলা জল দিয়ে মাখা হয়। মেখে মেখে দলা করা হয়, ঠিক ময়দা মাখার মতো। এবার ঐ রঙিন মণ্ড শুকোতে দেওয়া হয় ছাদে। শুকিয়ে কড়কড়ে হয়ে যায়। তারপর ঐ কড়কড়ে শক্ত দলাগুলো মুগুর দিয়ে পেটানো হয়। পিটিয়ে ছোট ছোট খণ্ড করা হয়। ঐ খণ্ডগুলো একটা মেশিনে দিয়ে দিলে মিহি গুঁড়ো হয়ে যায়। এবার কালি তৈরির আসল মেশিনের উপরে খাড়া করা ফাঁদলের মধ্যে ঐ গুঁড়ো ফেলে দিলে মেশিনের মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে কালির বড়ি। ব্ল্যাক নাইট কালি, কিং কালি, মাধুরী কালি…মাধুরী কালি হল লাল, বড় বড়। মাধুরী কালি যে কৌটোয় ভরা হয়, সেই কৌটোয় একটা মেয়েমানুষের ছবি, মেয়েটির হাতে একটা কালির বড়ি, বড়িটা ছুঁয়ে রেখেছে ঠোঁটে। কারখানার হেড কারিগর অনিল ব্যাপারটা খোলসা করে দিয়েছিল অনঙ্গমোহনকে। এটা লিপিস্টিক দাদু, লিপিস্টিক। সস্তার লিপিস্টিক। জল লাগিয়ে ঠোঁটে ঘষে দিলেই লাল। বিহারে যায়, উড়িষ্যা যায়। তাই আমরা লাল কালির বড়িতে গোলাপের সেন্ট মেশাই, শুঁকে দেখুন…।

    বিলু মাঝে মাঝে একা একা থাকলে কালির কলে মেশিনের খেলা দেখে। একটা মোটর ঘুরছে, তার সঙ্গে বেল্ট লাগানো, চারটে মেশিন চলছে তাতে। গুঁড়োগুলো ডাইসের মধ্যে পড়ছে। ডাইসের ওপর, একটা ভারী লোহার চাপ পড়ছে। এই যে যন্ত্রের শব্দগুলো, তার মধ্যেও একটা তাল, ছন্দ আছে, আর মেশিনের মুখ দিয়ে টুপুর টুপুর কালির বড়ি বেরুচ্ছে। একটা ড্রামে পড়ছে। বিলু একদিন একমুঠো কালির বড়ি সাট্ করে প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে নেয়।

    ঝুলনে তো পুতুল সাজায়, রাধাকৃষ্ণ দোলে। কালো রঙের রাস্তা হয়, সবুজ মাঠ হয়। রঙ করা কাঠের গুঁড়ো বিক্রি করে ন্যাড়াদা, ঝুলনের আগে আগে। বিশ্বকর্মা পুজোর আগে আগে যেমন সুতো আর ঘুড়ি, কালীপুজোর আগে আগে বাজি। রথের সময় পাঁপড়-ভাজা।

    তখন পাঁপড়-ভাজা বিক্রি করছিল ন্যাড়াদা। বিলু গুটি গুটি ন্যাড়াদার কাছে আসে। ন্যাড়াদা বলে কি রে, পাঁপড় খাবি? বিলু বলে উঁহু।

    তবে?

    এমনি।

    পাঁপড় ভাজা দেখচিস?

    হুঁ।

    কোনো কাজই ইয়ে নয়। ডিগনিটি অব লেবার এসে পড়েছিস?—পড়িসনি তো, পড়বি। ভেরি ইম্পোর্টান্ট। পি কে দে সরকারের বইতে আছে। আমি তো সব করি। আই কম ফেল, তাতে কী হয়েছে। বাঁচার জন্য স্ট্রাগেল করছি।

    তখন বিলুর পকেটে হাত। হাতে একমুঠো কালির বড়ি।

    বিলু বলল—ন্যাড়াদা, আমিও স্ট্রাগেল করছি। বাঁচার জন্য।

    তা তো করতেই হবে। তোরা তো বাঙাল, সব ছেড়েটেড়ে এধারে এসেছিস, একে চাকরি নেই। তাতে আবার তোরা ভাগ বসাচ্ছিস। বিধান রায় তো স্টেটবাসে সব বাঙালদেরই চাকরি করে দিলেন। ফুটপাতের হকারদের দ্যাখ এইট্টি পার্সেন্ট বাঙাল। আমিও তাই ভাবলুম বাঙালরা যদি এরকম ফাইট করতে পারে আমরাও পারব না কেন। স্ট্রাগেল ছাড়া উপায় নেই। যখন যা ডিমান্ড তাই বিকিরি করছি।

    আমিও একটা জিনিস বিক্রি করব ন্যাড়াদা। কিনবে? তোমার দরকার হবে ন্যাড়াদা, সামনে ঝুলন। পকেট থেকে মুঠোটা বার করে বিলু। লজ্জামুঠি খুলে যায়। ন্যাড়াদা সোজা তাকায় বিলুর চোখের দিকে।

    ঝাড়ামাল?

    বিলুর মুখ নিচু।

    দিয়ে যা। কিং বড়ি খুব ভাল। ক’টা আছে?

    একমুঠো।

    ক’টা? গুনে ফ্যাল।

    বিলু গুনছিল। হরি সাহার বাড়ির রেলিং, নিমগাছ, নিমগাছের ডালে বসা কাক, ল্যাম্পপোস্ট, পোস্টের বাল্ব সবাই গুনগুনিয়ে দুয়ো দিচ্ছে। বিলু বলল, তেইশটা।

    টুয়েনটি থ্রি ইন্টু থ্রি ইজিকাল্ট সিক্সটি নাইন। তোমাকে ষাট পয়সা দিচ্ছি। হাত পেতে পয়সা নেবার সময় বিলু দেখল ওর বাঁ হাতের চেটো সবুজ হয়ে গেছে। হাত ঘেমে ছিল বুঝি?

    কিছু লাল আর কালো দিয়ে যাস পরে।

    বিলু ঘাড় নাড়তে পারছিল না, যে ঘাড় নাড়ায় সম্মতি প্রকাশ করা যায়।

    আরে লজ্জা কী? স্ট্রাগেল, স্ট্রাগেল।

    .

    প্রেশার খুব কম।

    জগদীশ আর জি কর হাসপাতালের আউটডোর থেকে ফিরে এসে বলল। আর কী বলল ডাক্তার। অঞ্জলির ব্যস্ত প্রশ্ন।

    —মাছ, মাংস, ডিম, সন্দেশ…

    -আর?

    —পেট খালি রাখা চলবে না। মাঝে মাঝে বিস্কুট।

    —ওষুধ?

    —না।

    —যাক।

    ওষুধ লাগবে না জেনে অঞ্জলি ‘যাক’ শব্দ করে নিশ্চিন্ত হল দেখে জগদীশ হাসল। বলল, মাছ-মাংসের দাম কি টনিকের চেয়ে কম? বিলু দেখল, বাবার হাতের প্রেসক্রিপশনের কাগজটা ক্রমশ দলিত হচ্ছে বাবার মুঠোর মধ্যে। পিষ্ট হচ্ছে। একটা গোলা পাকিয়ে গেল ক্রমশ।

    .

    দু’আনা দামের দুটো সন্দেশ কিনল বিলু। সন্দেশ কিনে ঘরে ফিরছে। শালপাতায় কাঠি ফুঁড়ে একটা ঠোঙা আর একটা শালপাতার কাঠি ফুঁড়িয়ে ঠোঙাটা ঢাকা দেওয়া আছে। বিলুর বাঁ হাত ঠোঙার ওপরে, আর ডান হাতটা তলায়। খুব সাবধানে নিয়ে যাচ্ছে বিলু। দামী জিনিস নিয়ে যাচ্ছে বিলু। ভাল করে নিয়ে যাচ্ছে, চারদিক তাকাতে তাকাতে। আকাশে তাকাল। চিল আছে কি না দেখল। বিরামের দোকান থেকে জিলিপি আনছিল সেদিন, একটা চিল ছোঁ মেরে নিয়ে গিয়েছিল। এখন আকাশে চিল নেই, মেঘ। কালচে মেঘ। বৃষ্টি আসবে। শিখা যাচ্ছে বিরামের দোকানে ওর বাবার জন্য সন্দেশ আনতে। বিলু বাঁ হাতটা সরিয়ে নিল, যেন ঠোঙাটার পরিপূর্ণ অবয়ব দেখা যায়। দেখ শিখা দেখ, আমিও বাবার জন্য সন্দেশ নিয়ে যাচ্ছি। জগদীশ, জগদীশ কাঁচকলা ভাতে দিস এবার? দ্যাখ, বিলু মানে বিপ্লব ভট্টাচার্য ওর বাবার জন্য সন্দেশ নিয়ে যাচ্ছে।

    সামনেই সুরকির মিল। ঝুড়ি ঝুড়ি ইটের টুকরো ফেলে দিচ্ছে একটা বিরাট জাঁতার মধ্যে। কী প্রচণ্ড শব্দ! ইটের টুকরোগুলো ক্রমশ কেমন গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। গুঁড়ো হতে কী আনন্দ হয়। জাঁতার মধ্যে ইটের টুকরোগুলোর কেন যে এত উচ্ছ্বাস। কাঁপছে, নাচছে, লম্ফ দিচ্ছে।

    বিলু একবার ঠোঙাটার গন্ধ শোঁকে। শালপাতার গন্ধ পায়। শালপাতার গন্ধের মধ্যে একটা কি যে ভাল ব্যাপার আছে ঠিক বোঝানো যায় না। শালপাতায় লেগে থাকা কচুরির ছোলার ডাল জিভ দিয়ে চেটে পরিষ্কার করার সময় বিলু দেখেছে ঐ ছোলার ডালের অবশেষ শালপাতার সঙ্গে মিশে গিয়ে কি অদ্ভুত ব্যান্ডপার্টির সুর তৈরি করে। আলুকাবলির পরেও শালপাতা চেটেছে বিলু, কিংবা ফুচকার খাট্টাখানি খাবার সময়েও। এখন শালপাতা সমেত সন্দেশটার গন্ধ পেতে চেষ্টা করল।

    বিলুর দাদু সন্দেশ আনেন বছরে দুবার তো বটেই, দারুণ সন্দেশ। দাদু ক’দিন আগে থাকতেই বলতে থাকেন—অমুক দিন জ্যোতিষ সম্রাটের বাড়ি পণ্ডিত নিমন্তন্ন। অনঙ্গমোহন ধুতি-ঢাকা পিতলের রেকাবি ও একবাক্স সন্দেশ নিয়ে হাসতে হাসতে ঢুকে বলেন—অনন্ত জ্যোতিভূষণের তুলনা হয় না। তার পিতার বাৎসরিক শ্রাদ্ধে কোনো কৃপণতা নেই। কে করে আজকালকার দিনে? বৌমা—সন্দেশ।

    গন্ধ পেতে চেষ্টা করে বিলু। ঘ্রাণ নেয়। বিলু তারপর কাঠিটা খোলে। আচ্ছাদনী শালপাতাটা সামান্য ফাঁক করে। দ্যাখে একজোড়া সন্দেশ কেমন আদরের দুলালী হয়ে বসে আছে এবং তখনই দ্যাখে সন্দেশের গায়ে মণি-মাণিক্যের মতো লেগে রয়েছে গোলাপী আভার কিশমিশ। টুসটুসে কিশমিশ। বিলু ভাবল খাই? কিশমিশ দুটো খাই? পাতাটার ঢাকনা সরিয়ে যেই না কিশমিশ খুঁটতে গেল বিলু, ওমনি কানের পাশ দিয়ে সাঁই করে নেমে এল একটা চিল। ছোঁ মারল বটে, কিন্তু পাতার ঠোঙাটা ছিনতাই করতে পারল না। সন্দেশদুটো রাস্তায় পড়ে গেল। এক পলক তাকিয়ে দেখল ঐ আহত যমজ সন্দেশদের। তারপর পিছনে তাকাল। শিখা-টিখা নেই রাস্তায়। দ্রুত তুলে নিল তারপর। খুব ভাল ছেলে হয়ে বিলু বাড়িতে ঢোকে। কলঘরটা একতলায়, ঠিক সিঁড়িটা পাশেই। কলঘর বন্ধ করে দিল বিলু। অল্প আলোয় সন্দেশ দুটোকে ভাল করে পরীক্ষা করতে লাগল বিলু। সামান্য ধুলো লেগে আছে মনে হল। জামাটা দিয়ে মুছে নিল। একটা সন্দেশ মাঝখান দিয়ে ফেটে গেছে। দু হাত দিয়ে জোড়া লাগাল। এবারে কী করবে বিলু? রাস্তায় পড়ে যাওয়া সন্দেশ কি ওর বাবাকে দেবে? নাকি নিজে খেয়ে নেবে অথবা ফেলে দেবে? আবার ভাল করে পরখ করল সন্দেশ দুটোকে। ধুলোবালি দেখতে পেল না তেমন। ধুলোবালি না থাক জীবাণু তো আছে, জীবাণু তো আর চোখে দেখা যায় না। কিন্তু জীবাণু যে কেবলমাত্র রাস্তার ধুলোতেই থাকবে তা তো নয়, কালবৈশাখী ঝড়ে জানালা দিয়ে আসা যে ধুলো সেটা কি রাস্তার ধুলো নয়? গঙ্গার জলে তো জীবাণু ভর্তি। দাদু আর বাবা যে সন্ধ্যা-আহ্নিক করার সময় গঙ্গার জল আচমন করে তাতে বুঝি জীবাণু যায় না? আর ধুলো-বালি তো সবসময় উড়ছে। দোকানের মুড়িতে, গুড়ে, কিসে নয়? সব কিছুতেই ধুলো পড়ছে। আর বিকেল বেলা যখন বটগাছের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে রোদ্দুরের ফোকাস আলো ঘরের ভেতরে এসে পড়ে, তখন বিলু দেখেছে গুঁড়ি, গুঁড়ি, গুঁড়ি বিন্দুর চেয়েও ছোট কত সূক্ষ্ম ধুলো-বালি উড়ছে। কিছু হবে না, এই সন্দেশ বাবা খেলে কিচ্ছু হবে না। খাল-ব্রিজের তলায় থাকা ভিখিরিরা তো নর্দমার থেকেও খুঁটে খায়, কই ওদের কি কিচ্ছু হচ্ছে?

    সন্দেশ দুটো ঠোঙায় বসিয়ে কাঠি গেঁথে নিয়ে ওর মায়ের কাছে যায় বিলু। মা তখন কুলোয় খৈ নিয়ে ধান বাছছিলেন। অনঙ্গমোহন রাত্রে দুধ-খৈ খান। মায়ের কপাল কুঁচকে ছিল, বিরক্তির রেখা। বিলু ওর মায়ের কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে কিছুটা সংকোচে বলল, মা বাবার জন্য সন্দেশ এনেছি দুটো। বিলুর মায়ের কপালের কুঞ্চন মসৃণ হয়ে গেল হঠাৎ। এবারে বিস্ময়। তাই নাকি?

    এবার ক’দিন আনব।

    পয়সা?

    কুড়িয়ে পেয়েছি।

    জগদীশের ধুম জ্বর। সঙ্গে পিঠের ব্যথা। হোমিওপ্যাথি বই খুলে লক্ষণ মিলিয়ে ওষুধ খেল জগদীশ। কমল না। অঞ্জলি বলল প্রকাশবাবুকে ডাকি? প্রকাশবাবু এম-বি। চার টাকা ভিজিট নেন। জগদীশ বলল আর একটা দিন দেখি। অঞ্জলি তবু ডাক্তার ডাকল। প্রকাশবাবু বড় রসিক লোক। হা হা করে হাসেন। জগদীশকে দেখে আজ খুব একটা মজার কথা বললেন না, বললেন, মনে হচ্ছে কিড্‌নিতেই ব্যথা। পেচ্ছাপ পরীক্ষা করাও, রক্ত পরীক্ষা করাও।

    দুদিন পর হাত-পা ফুলে গেল। বুকে কফ ঘড়ঘড় করে। অঞ্জলি লক্ষ্মীর ঘট ভেঙে ফেলেছে। প্রকাশবাবুর কোনো ওষুধই কাজে আসছে না। প্রকাশবাবু বলেন, অমল রায়কে ডাকো। অমলবাবু বিলেত ফেরত। বত্রিশ টাকা ভিজিট নেন।

    অনঙ্গমোহনকে অঞ্জলি বলে বাবা, আপনার কাছে কোনো টাকা-পয়সা আছে?

    অনঙ্গমোহন খুবই অপ্রস্তুতে পড়েন। আর মাস দুয়েক পর হলে কিছু দিতে পারতেন। তাঁর টোলের জন্য সরকারি সাহায্য পান তিনি। ঐ টাকা আলাদা তহবিলে রাখেন না কখনো। ঐ টাকার আলাদা হিসেবও রাখেন না। জগদীশ যে টাকা এনে তাঁর হাতে দিত, তার মধ্যে মিলিয়ে দিতেন। এখন বৌমার টাকার সঙ্গে মিশিয়ে রাখেন। সরু তিরতিরে নদী যখন গাঙে পড়ে, নদী ভাবে ঐ বিশাল জলরাশির মধ্যে আমার দেওয়া জলও রয়েছে। এইভাবেই খলু সংসারে জড়িয়ে আছেন অনঙ্গমোহন।

    ট্রাংক খুললেন অনঙ্গমোহন। যত্নে রাখা রিফিউজি সার্টিফিকেট, দেশের বাড়ির জমির পরচা, পূর্ণচন্দ্র চতুষ্পাঠীর অনুমোদনের চিঠি, বিদ্যোৎসাহদায়িনী সমাজ কর্তৃক প্রদত্ত প্রশস্তিপত্র, বিসম্যাগ ট্যাবলেট, এসিনার কৌটো, ইলেকট্রিক লোশনের শিশি, মাধুরী কালির খালি কৌটো। ঐ-কৌটো খুলে পঞ্চম জর্জের আমলের টাকা চারটি ছাড়া সিকি আধুলি টাকা মিলে ছেচল্লিশ টাকা গুনলেন অনঙ্গমোহন। ছ’টি টাকা রেখে চল্লিশটি টাকা একটা রুমালে বাঁধলেন। অঞ্জলিকে বললেন, নাও বৌমা।

    জগদীশের সর্বাঙ্গে ব্যথা। বমি। জ্বর। বুকে কফ। অমল রায় রিপোর্ট দেখলেন, সারা শরীরে স্টেথো চাপলেন। প্রকাশবাবুকে বললেন, মিসটেরিয়াস।

    বিলু বুঝতে পারল ডাক্তারবাবুরা রোগটাই ধরতে পারছে না। একটা বিচ্ছিরি ধরনের জীবাণু ঢুকেছে শরীরে। অমল রায়ের ওষুধেও কাজ হচ্ছিল না। হাত-পা আরও ফুলে গেল। জগদীশ হাতের ইশারায় বিলুকে কাছে ডাকলেন, বিলুর হাতটা চেপে ধরলেন। অনেক কষ্টে বললেন, বিলু আমায় বাঁচা। আমায় বাঁচা। বিলুর চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করে। নিজেকে আঁচড়ে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত করে ফেলতে ইচ্ছে করে। উঃ বাবা, কেন আমি রাস্তায় পড়ে যাওয়া সন্দেশ তুলে খাইয়েছিলাম। চোখের কোণায় জল টলটল করছে। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ঐ জলের ফোঁটাকে টানছে। চোখের কোণা থেকে বিচ্যুত হলেই ঐ জল পড়বে বাবার বুকে। বিলু আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে—জল যেন চোখের কোণেই রয়ে যায়। নিউটন, নিউটন গো…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তম পুরুষ – রশীদ করীম
    Next Article শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }