Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    স্বপ্নময় চক্রবর্তী এক পাতা গল্প230 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    চতুষ্পাঠী – ৫

    পাঁচ

    উপনয়নের পর ডিম খেতে পাচ্ছে না বিলু। পেঁয়াজ রসুন ডিম এসব তো নিষেধই, বাইরের কিছু কিনে খেতেও নিষেধ করে দিয়েছেন অনঙ্গমোহন। বাজারে কিছুদিন ধরে চালের টানাটানি। রেশনে চালের বরাদ্দ কমিয়ে গম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাড়িতে রুটি হচ্ছে। প্রফুল্ল সেন বলছেন, গম খান। চাল কম খান। অনঙ্গমোহন রুটি খেতে চান না। খৈ এবং গুড়সমেত কাঁসার থালায় আজকাল বড় তীব্র ঠং শব্দ শোনেন অনঙ্গমোহন। বিলু বেশ ভালো কায়দায় রুটি খায়। একটা শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে রুটিতে মাখিয়ে নেয়, সঙ্গে একটু সরষের তেল এবং নুন। গরম গরম খেতে হেভি লাগে। রুটির সঙ্গে তরকারি খেতে নিষেধ করেন অনঙ্গমোহন। সিদ্ধ ব্যঞ্জন লবণ প্রয়োগে উচ্ছিষ্ট হয়।

    আজ রান্নাঘরে সস্প্যানে ভাতের ফ্যানের উপর ডিমের খোলা ভাসছে। তাহলে আজও মামলেট হয়েছিল। বিলুর মা সাড়ে ন’টার সময় কাজে চলে যায়, তখন রান্নাঘরে তরকারির খোসা ছড়ানো থাকে, শিলনোড়ায় শুকনো মশলা, কখনো ভাতের ফ্যানের উপর ভেসে থাকে ডিমের খোলা। অবশ্যই হাঁসের। মুরগির ডিম ঢোকে না। স্বপ্নার মরনিং স্কুল। স্বপ্না স্কুল থেকে এসে রান্নাঘর পরিষ্কার করে, অনঙ্গমোহনকে খেতে দেয়। এখন ঢাকা উঠিয়ে বিলু দেখল মামলেট রাখা আছে, একাকী, অনাথ। অন্য সব ডাল-তরকারি থেকে বিচ্ছিন্ন। আলাদা করে ঢাকা দেওয়া, অন্য ডাল-তরকারিতে যাতে স্পৰ্শদোষ না লাগে। মামলেটটার থেকে বেরিয়ে আসছে লঙ্কার কুঁচির সবুজ আভাস। আহা ডিম। কেন যে পৈতা হল।

    অনঙ্গমোহন তাঁর টোল খুলে বসেছেন। তিনটি মাদুর গোটানো থাকে বারান্দায়। বারান্দাটা ঘরেরই লাগোয়া এবং বারান্দার দক্ষিণ দিকে একটি জানালা আছে। দক্ষিণের জানালার তলায় জেলেপাড়ার বস্তি। চারিদিক ঘেরা কিন্তু আচ্ছাদনহীন কলঘর, দোতলার বারান্দার দক্ষিণের জানালা দিয়ে দেখা যায়। চৈত্রে, যখন দক্ষিণ দিক থেকে হু হু করে হাওয়া আসে, তখন ঐ দক্ষিণের জানালার শিক ধরে শিখার বাবা গান করেন, আজি দখিন দুয়ার খোলা—ঐ জায়গাটা এখন পূর্ণচন্দ্র চতুষ্পাঠী। বারান্দাটার এই অংশটুকু লাল সিমেন্ট করা। মসৃণ। শিখা ও স্বপ্না এক্কা-দোক্কা খেলত, এখন খেলে না। এখানে একটা ছোট্ট গর্ত আছে, ওটা পিল। ওখানে গুলি খেলা যায়। বিলু ও অসীম গুলি খেলে। জায়গাটা এখন এই মুহূর্তে পূর্ণচন্দ্ৰ চতুষ্পাঠী। অনঙ্গমোহন বসেছেন একটি আসনে। মাদুরে সুমিতা ও ডাক্তারবাবু। মেঝেতে বসে আছে অসীম। অনঙ্গমোহন বললেন, পঞ্চমে পঞ্চমাংস্কৃতীয়ান্নবা—এটাই হইল সূত্র। বুঝলানি অসীম। অসীম মাথা চুলকোল। অসীম ব্যাকরণের আদ্য পড়ছে। ডাক্তারবাবুও তাই। সুমিতা কাব্যের আদ্য-মধ্য পাস করেছে। উপাধি দেবে। উপাধি পাস করলেই কাব্যতীর্থ হয়ে যাবে সুমিতা। সুমিতা অনঙ্গমোহনের গৌরব। অসীম ও ডাক্তারকে বিদায় করে সুমিতাকে নিয়ে বসবেন অনঙ্গমোহন। অনঙ্গমোহন বললেন—বর্গপ্রথমাঃ পদান্তাঃ পঞ্চমে পরে পঞ্চমান্যপদান্তে তৃতীয়ান্নবা। অর্থাৎ বর্গের পঞ্চম বর্ণ পরে থাকিলে পদান্তে স্থিত বর্গের প্রথম বৰ্ণ স্থানে সেই বর্গের পঞ্চম অথবা তৃতীয় বর্ণ হয়। যথা বাক্যুক্ত মতি এখানে ক হইল প্রথম বর্ণ। আর পঞ্চমবর্ণ ঙ। তা হলে গিয়া বাঙমতী। তারপর তৃতীয় বর্ণ অর্থাৎ গ্ হইয়া বাগ্মতী হইল। তাইলে বাক্যুক্ত মতি সমান সমান বাগ্মতী। সেইরূপ প্রাকযুক্ত কথন সমান সমান প্রাগকথন। ক স্থানে গ। সংস্কৃত এইরূপ সূত্ৰ-বদ্ধ ভাষা। নড়চড় হইবার উপায় নাই।

    ডাক্তারবাবু জিজ্ঞাসা করলেন—পণ্ডিতমশাই, আমরা যে বলি, কাগের ডিম, বগের ডিম। এখানে ক স্থলে গ হয় কেন?

    সুমিতা অনঙ্গমোহনের দিকে মুখ টিপে হাসল। অনঙ্গ সুমিত্রার ভ্রূভঙ্গি প্রত্যক্ষ করে বললেন—অপৃষ্ঠ বহুভাষাতে।

    অনঙ্গমোহন বললেন-তোমরা ভ্রান্তিবশত কাকরে কও কাগ। বকরে বগ। দ্বিপ্রহর শব্দাগত দুপুররে তোমরা কও দুকুর, পিপড়ারে কও পিমড়ে। এইসব ভ্ৰম।

    পণ্ডিতমশাই কিছু মনে করবেন না। আমনারাও কিছু ভুল উচ্চারণ করেন। টাকাকে বলেন টাহা। এই ‘আমনারা’ মানে কী বলতে চাইছে এই ডাক্তার ছাত্র, অনঙ্গমোহন বুঝে নেন। আমনারা মানে বাঙালরা।

    একটা ঘটনা মনে পড়ে যায় অকস্মাৎ। তখন সদ্য কলকাতা এসেছেন অনঙ্গমোহন। অনন্তনাথ জ্যোতিভূষণের বাড়িতে রয়েছেন। এক পণ্ডিত- নিমন্ত্রণে তারকেশ্বর পাঠালেন অনন্তনাথ। ট্রেনে বসেছিলেন। জানালা দিয়ে কয়লার গুঁড়ো আসছিল। ধুতি এবং নামাবলীতে কুঁচি-কুঁচি কয়লার গুড়ো ভেসে এসে পড়ছিল। পাশে বসে কথা বলছিল দু’জন মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক। বলছিলেন, তেভাগার ঝামেলি মিট্‌মিটন্তি হল নে, অছতো আবার আরেকটা আইন আসছে। আবদুল্লা রসুল আর ভূপালপাণ্ডা খুব নাফাচ্ছে। আর একজন বলল, চাষে আর কিছু থাকবেনি। দিনকে দিন খরচ বাড়ছে অছতো ফসলের ভাগ ওদেরকেই দিতে হবে। অরাজক। অন্যজন, ট্যাক্সো দিচ্ছি আমরা অছতো চেল্লাচ্ছে নাঙল যার জমি তার। অনঙ্গমোহনের সামনে বসে ছিল একটি যুবা। হাতে একই বই—মৃদু মৃদু হাসছিল। পরনে ফুলপ্যান্ট ও জামা। হঠাৎ বলল—এই রেল কোম্পানির অবস্থাটাই দেখুন না। কয়লা ওড়াচ্ছে, অছতো ট্রেনের জানালা নামানো যায় না, অছতো আবার ভাড়া বাড়ল। অনঙ্গমোহনকে লক্ষ করলেন সেই মধ্যবয়সী দুজন পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকাল। একজন বলে উঠল, খুব তো ড্রেস লাগিয়েচ। ফুলপ্যান্টালুন গলিয়েচ। অছতো ভদ্রতা শেখনি।

    মনে মনে রসিক যুবকটিকে তারিফ করেছিলেন তিনি।

    সেই দিনই তারকেশ্বরে আর এক ঘটনা। ফলারের সময় পরিবেশনকারীকে অনঙ্গমোহন বললেন, দধির সঙ্গে কিঞ্চিৎ চিড়া দেও। পরিবেশনকারী বলল— চিড়া কি আবার, বলুন চিড়ে। একটু পরে অনঙ্গমোহন বললেন, সামান্য গুড়ে দেও। একথা শুনে সে হেসে উঠল। একজন ভাটপাড়ার পণ্ডিত টিপ্পনী কাটল, ‘বাঙালা যদি মনুষা, হরিহরি, প্রেতাস্তদাকিদৃশ্য।’

    অনঙ্গমোহন পরবর্তী সূত্রে চলে যান। বলেন, সন্ধিবৃত্তি দ্রুত শেষ কর। আরও অনেক পড়া আছে। অসীম উশখুশ করে। বলে ইস্কুল যাব। অনঙ্গমোহন বলেন, আর একটা সূত্র। বর্গপ্রথমেভাঃ শকারঃ স্বরযবর পরচ্ছ… কাশতে থাকেন অনঙ্গমোহন। অসীম উঠে পালায়। ডাক্তার জীবন মজুমদার জিজ্ঞাসা করলেন—রাত্রে বাড়ে? কপাল ঘামে? জল পিপাসা কেমন? কাশির দমকের মধ্যেই অনঙ্গমোহন হাত বাড়িয়ে বললেন, থামো। থামো। জীবন মজুমদার হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। ‘হোমিওপ্যাথিক অমৃত’ নামে একটি বই লিখেছেন তিনি। সহজ হোমিও চিকিৎসা। ছড়ার ছন্দে বিরচিত। কাশির দমক থামলে অনঙ্গমোহন বললেন, আগে সূত্রটি শেষ করি, পরে তোমার প্রশ্নাদির উত্তর। তোমার হোমিও প্রশ্ন বড় দীর্ঘ প্রলম্বিত হয়। বৰ্গপ্রথমেভ্য শকার…জীবন ডাক্তার বললেন—কিন্তু অসীম ভাই যে নেই…। অনঙ্গমোহন দেখলেন অসীম পালিয়েছে। তিনি কপালে মৃদু চপেটাঘাত করলেন। সুমিতাকে বললেন, আমার এরকমই অদৃষ্ট। দেখ দেখি, গুরুগৃহে থাইক্যা ও কেমন গুরুর অবাধ্য হয়…। ঝনঝনায়তে। সুমিতা বলল, অসীমভাইকে নিয়ে বড় বেশি উচ্চাশা আপনার, কিছু মনে করবেন না।

    এই চতুষ্পাঠীতে ছাত্ররা পরস্পরকে ভাই বলে সম্বোধন করে। অনঙ্গমোহনের এই রকমই নির্দেশ। অনঙ্গমোহনের পিতার চতুষ্পাঠীতেও এরকমই নিয়ম চালু ছিল। বয়স নির্বিশেষে সব ছাত্রই পরস্পরের ভাই। মাধবভাই, আশুভাই, শশাঙ্কভাই, এমনকি রশিদভাই। গুরুকুলের এমনই নিয়ম। এক গুরুর দীক্ষিতরা যেমন পরস্পরের গুরুভাই। তেমনই একই আচার্যের ছাত্ররা পরস্পরের গুরুভাই। এই প্রাচীন নিয়ম এখনো চালু রাখতে চান অনঙ্গমোহন।

    জীবন ডাক্তার বেশ আন্তরিকতার সঙ্গেই বললেন, কদিন ধরে এরকম কাশি হচ্ছে পণ্ডিতমশাই? পণ্ডিতমশাই ডাকটা খুব একটা পছন্দসই নয় অনঙ্গমোহনের। সুমিতা যখন আচার্যদেব বলে ডাকে তখন হৃদয় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে অনঙ্গমোহনের।

    কাশি কি শুকনো?

    কাশির সঙ্গে গয়ের ওঠে, গয়ের?

    এই ছাত্রটিকে একেবারেই অপছন্দ অনঙ্গমোহনের। অথচ বলতে পারেন না, তোমার মতো ছাত্রের দরকার নেই আমার। কারণ পাঁচজন ছাত্র না দেখাতে পারলে সরকারি সাহায্য পাওয়া যায় না। এই জীবন ডাক্তার যদি পুনঃপুন অকৃতকার্য হয় এবং সেইসঙ্গে অধ্যবসায় বজায় রাখে তবে সে এই টোলের একটি স্থায়ী ছাত্র হিসাবে বহুদিন পাঁচজনের একজন থাকতে পারে। এ কারণেই জীবন ডাক্তারকে রুষ্ট করেন না অনঙ্গমোহন, বরং তুষ্টই করেন।

    জিভটা দেখান তো পণ্ডিতমশাই।

    অনঙ্গমোহন জিহ্বা প্রদর্শন করলেন।

    জীবন ডাক্তারের তিন দিনের ওষুধ দু’টাকা। জেলেপাড়ার মোড়ে তার চেম্বার, খুব ভিড়। অনঙ্গমোহনও তারই শরণাপন্ন। জীবন ডাক্তার একদিন সাদা সাদা গুঁড়োর মধ্যে একফোঁটা ওষুধ ফেলে বললেন—ঝুঝলেন পণ্ডিতমশাই, এ হচ্ছে অ্যাটমিক ওষুধ। অ্যাটমিক অ্যাকশন। সংস্কৃতে শুনেছি সব আছে। অ্যাটমের কথা আছে?

    অ্যাটম? মানে অণু-পরমাণু? অনঙ্গমোহন মাথা ঝাঁকিয়ে বলেছিলেন, নিশ্চয় আছে। সবই আছে। সংস্কৃত ভাষা হইল হীরার খনিবিশেষ। এর মধ্যে থিক্যা সব সংগ্রহ কইরা নিতে হয়। জীবন ডাক্তার বললেন—বুঝলেন পণ্ডিতমশাই, সংস্কৃতটা শিখে নিতে পারলে হোমিওপ্যাথি নিয়ে একটা রিসার্চ করা যেত। এই দেখুন না, মহেন্দ্রবাবুর হোমিওপ্যাথির বইয়ের ফার্স্ট পেজে কী লেখা আছে—সমঃ সমং শময়তি। ল্যাটিনে হল সিমিলিয়া সিমিলিবাস কিউরেন্টাম। আচ্ছা, সংস্কৃতে অ্যাটম, মানে অণু-পরমাণু সম্পর্কে কি বলা আছে? অনঙ্গমোহন বলেন—আছে, আছে, প্রচুর আছে। অণু আর পরমাণু এই শব্দ দুটোই তো সংস্কৃত।

    এইভাবেই শুরু হয়েছিল জীবন ডাক্তারের সংস্কৃত প্রেম। আজ চার মাস যাবৎ অনঙ্গমোহনের টোলে যাওয়া আসা। শোনা যায়, এর আগে জীবন ডাক্তার কাজী সব্যসাচীর কাছে চার মাস আবৃত্তিচর্চা করেছিলেন, মনোহর আইচের কাছে ব্যায়াম শিক্ষা নিয়েছিলেন আড়াই মাস।

    মিষ্টি পছন্দ না নুন? ও হ্যাঁ, সে তো আমি জানিই, মিষ্টি পছন্দ।

    —দিনে বাড়ে না রাত্রে বাড়ে?

    তেমন কিছু নয় জীবন। ঔষধ না হলেও চলবে। সামান্য অনিয়ম হয়েছিল। রোজই গঙ্গাস্নান করি, গত পরশুদিন কলের জলে স্নান করেছিলাম।

    —অসুখ অবহেলা করবেন না পণ্ডিতমশাই। সামান্য একদিন অসামান্য হয়। ছোট ছোট বালুকণা বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ, সাগর অতল। বলুন পণ্ডিতমশাই, রাত্রে বাড়ে?

    রাত্রেই বাড়ে মনে হয়।

    ওঃ পেয়ে গেছি। স্পঞ্জিয়া থার্টি।

    দমকে দমকে কাশি রাত্রে বৃদ্ধি হয়।

    স্পঞ্জিয়া থার্টি দিলে আরাম নিশ্চয়।

    আমার হোমিওপ্যাথিক অমৃত বইতে লিখে রেখেচি আমি।

    বিলু রান্নাঘরে ঢুকে ঢাকনা উঠিয়ে দেখে নেয় কী কী রান্না হয়েছে। দেখলে চারটে আলুর গোল্লা, ডাল, আর একটু দূরে অন্য বাটিতে ঢাকা মামলেট। একটা থালায় নটেশাক কুঁচি করা আছে। বোঝাই যাচ্ছে, রান্না করার সময় পায়নি মা। ডিমের মামলেটটা একটু খুঁটে নেয় বিলু। পাপ হল? ধুর। আত্মাকে কষ্ট দিতে নেই। চম্পা কেবিনে আলুর দম কুড়ি পয়সা প্লেট, ডিমের ওমলেট চল্লিশ পয়সা। ওমলেট না মামলেট? বাড়িতে বলে মামলেট, দোকানে লেখা থাকে ওমলেট। খুঁটে নেয়া ঐ ডিমের টুকরো মুখের মধ্যে চালান করে দেয় বিলু। জলে ভরে ওঠে মুখ। আহা, ময়ূরপঙ্খী ভিড়িয়ে দিয়ে সেথায়, রেখে এলাম তারে…সাত সাগর আর তের নদীর পারে। ফটাফট তেল মেখে নিল বিলু। আজ খেলা আছে, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল। বিলু মোহনবাগান। জার্নেল সিং, রহমন, অরুময়, চুনী গোস্বামী…। ট্রানজিস্টরটা ইস্কুলে নিয়ে যাবে বিলু।

    স্বপ্না এসে গেছে স্কুল থেকে। সাদা ফ্রক, সামনের দিকে ঝালর। স্বপ্না হাত-মুখ ধুয়েই রান্নাঘরে যায় এবং সোজা সেই বিচ্ছিন্ন বাটিটার ঢাকনা তোলে, খপ করে তুলে নেয় ডিমের টুকরোটা। বিলুর মুখের সামনে আরতির মতো ঘোরায়। বিলু বলে, এক চড় মারব। স্বপ্না ডিমটা দাঁত দিয়ে কাটে।

    বিলু আর স্বপ্নাকে দু’পাশে বসিয়ে অঞ্জলি ভাত খাইয়ে দিত। একটা ডিমের চারভাগের এক ভাগ থাকত থালাটার পাশে। ডাল দিয়ে মাখা ভাত। মায়ের হাত শুধু ডিমটাকে ছুঁয়ে স্বপ্নার মুখে চলে যেত, আর বিলুর মুখে যখন যেত তাতে লেগে থাকত ডিমের শাঁস, ডিমের কুচি, ডিমের গন্ধ। স্বপ্না মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করত। বলতো, আমায় তুমি রান্নাবাটি খেলার মতো মিছিমিছি ডিম দাও, আর ভাইরে দাও সত্যি সত্যি ডিম। অঞ্জলি বলত, থাম। ভ্যানর ভ্যানর করলে একটুও দিমু না। তুই মেয়ে না?

    অসীম খেলে এল, পায়ে কাদা। খালধারের যুগোস্লাভ সাহেবদের বল কুড়িয়ে দেবার খেলা। ওরা একটা টেনিস কোর্ট করেছে। ওরা খেলে।

    বিলু অসীম আরও সব অনেকে আছে, যারা বল কুড়িয়ে দেয়। ওরা মাঝে মাঝে বলে মোসিসো ও কে চান্দা, কিংবা বলে পিচকোমাতে…। যুগোস্লাভ সাহেবরা সল্টলেকে মাটি ফেলেছে। গঙ্গায় বড় বড় মাটি কাটার জাহাজ। ঐ জাহাজ থেকে জল মিশিয়ে গঙ্গার মাটি পাইপে করে যাচ্ছে লবণ হ্রদে। লাল রঙের ঐ মোটা পাইপের মধ্যে শিরশির, শিরশির। লবণ হ্রদ ভরাট হয়ে চলেছে। অসীম সিঁড়ি দিয়ে উঠছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বলছে নরঃ নরৌ নরাঃ। বেঞ্চির উপর দাঁড়া। ফলম ফলে ফলানি, বেঞ্চির উপর দাঁড়াবনি।

    স্কুল স্ট্রাইক। ছনি মনি গেটে দাঁড়িয়ে আছে, ঢুকতে দিচ্ছে না কাউকে। ছনি মনি দুই ভাই যমজ। হেভি মোটা। চাঁদিদা বক্তৃতা দিচ্ছে—ট্রামে বাসের ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ ট্রাম-শ্রমিকরাও পথে নেমেছেন। ট্রাম-শ্রমিকরা ধর্মঘট করছেন। গতকাল ছাত্র মিছিলের উপর পুলিস লাঠি চালিয়েছে নৃশংসভাবে। বিলু এখন কী করবে? বাড়ি যাবে না। স্কুলের দু’তিনজন আজ ম্যাটিনি শোয়ে সিনেমায় যাবে। স্কুলের পাঁচিলে পোস্টার মারা তিন দেবীয়া। ব্র্যাকেটে বড় হাতের এ। দেবানন্দ, নন্দা, কল্পনা, সিমি। বিলু এখন বাড়ি যাবে না। কোথায় যাবে বিলু? কয়েকটা ছেলে চলল খেলার মাঠে। র‍্যামপার্ট থেকে খেলা দেখবে। বিলু যাবে না। ওর নতুন ট্রানজিস্টার। ট্রানজিস্টারে রিলে শুনবে বিলু। আজ মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের খেলা।

    নেতাজি বয়েজ ক্লাবের সামনের দেয়ালে খবর কাগজ সাঁটা। বিলু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে খবর কাগজ পড়ে। বসিরহাটের গ্রামে ক্ষুধার্ত নর-নারী কর্তৃক চাউলের লরি লুঠ। মঙ্গল গ্রহের ছবি পাঠাচ্ছে ম্যারিনা। আমেরিকা আরও পঞ্চাশ হাজার সেনা পাঠাল ভিয়েতনামে। সামনে দাঁড়িয়ে আছে অসীম। অসীম অন্য ইস্কুলে পড়ে। অসীমের স্কুলেও স্ট্রাইক। অসীম খবর কাগজের এক জায়গায় আঙুল তুলে দেখাল। ঐ দ্যাখ বিলু, বিলু দেখল জন্ম নিরোধে লুপ লাগান। লুপ আবার কী?

    অসীম খিক খিক করে হাসল। রহস্যের হাসি।

    অসীম খুব বাজে বাজে কথা বলে। বলে ব্যাটাছেলে আর মেয়েদের নিয়ে। বিলু বিশ্বাস করেনি। কী সব বিচ্ছিরি কথা। কিন্তু সেদিন যে ইস্কুলে পরাগ মিলন পড়াল, পুংকেশর আর গর্ভকেশর। পুংকেশর যদি গর্ভমুণ্ডের মধ্যে পতিত হয় তবে বীজ তৈরি হয়। এসব তবে কী? গাছেদেরও তো প্রাণ আছে। ফুলেদেরও।

    অসীম আবার বলল, বিলু, তুই একটা মদন। চ সিনেমায় যাই। বিলু বলল, পয়সা? অসীম বলল, হলের সামনে চ, শোকেসে ছবি দেখব। জ্যান্ত সিনেমার মরা ছবি। পয়সা লাগে না।

    পাঁচমাথার মোড় পেরিয়ে বিলু আর অসীম হাতিবাগানের দিকে যায়। চিত্রা সিনেমায় ‘হকিকত’। সৈন্যের পোশাক পরা একজন দাঁড়িয়ে আছে আর একটা মেয়ে কাঁদছে। দর্পণায় ‘জিদ্দি’। একটা মেয়ে নাচছে। অসীম বলল, আশা পারেখ। আর ঐ দ্যাখ জয় মুখার্জি। লাইন পড়ে গেছে। পঁয়ষট্টি পয়সার লাইনে লোক দাঁড়িয়ে গেছে। মিনার হলে ‘আকাশ কুসুম’। লোকজন নেই। ফাঁকা। অসীম বলল, বাজে বই। রাধা হলে ‘জয়া’। ঘোমটা পরা সন্ধ্যা রায়।

    ঘোমটা পরা বৌটি কে সরে এল দ্রুত? মা না? রাস্তা পার হচ্ছে মা। পিছনে যশকাকু। মা দ্রুত পার হয়ে গেল রাস্তা। যশকাকু বলছে, ‘কী হল কী হল’? মা এখন এখানে কেন? মা কি অফিসে যায়নি? মায়ের অফিসও কি স্ট্রাইক? যশকাকু মা’র কাঁধে হাত দিয়ে কী যেন বলতে চায়। মা ঝটকায় সরে যায়। অসীম তখনো রবিবার মর্নিং শো-এর ইংরাজি সিনেমার ছবি দেখতে তন্ময় হয়। ‘মা’ বলে চিৎকার করে ডাকবার জন্য অনেকটা শ্বাসবায়ু গ্রহণ করে বিলু। কিন্তু নিঃশব্দে ছেড়ে দেয় সে বাতাস। সে বাতাসের রঙ যেন কিছুটা কালো। আহ্নিকের সময় প্রণায়াম যেমন। বায়ু গ্রহণ কইরা সে বায়ু কিছুক্ষণ ধারণ করবা। সেই বায়ু ধীরে ধীরে ছাড়বা, আর মনে মনে কল্পনা করবা—এই বায়ুর রঙ কৃষ্ণ বর্ণ। অন্তরের যা কিছু কালিমা এই বায়ুর সহিত নির্গত হইতাছে। দাদু বলেছিল।

    অসীম বলল, এবার কোথায় যাবি বিলু?

    বিলু বলল, বাড়ি যাব।

    দেশবন্ধু পার্কে চল।

    কেন?

    কত দিন ঘাস দেখি না। গাছ দেখি না।

    আমি বাড়ি যাব। বিলু বলল।

    অশোকনগরে না, আমাদের বাড়ির পিছনে একটা বড় কদমগাছ আছে। বর্ষাকালে ফুলে ফুলে ভইরা যায়। গাছতলায় কী সুগন্ধ। দেশবন্ধু পার্কে কদমগাছ আছে। অসীম বলল।

    আমার কদমগাছে দরকার নেই।

    বস্তুত বিলু কদমগাছ ও কদমফুল ঠিকঠাক চেনেই না। কদমফুল সম্পর্কে বিলুর যেটুকু ধারণা হয়েছে তা হল, বিরামের দোকান থেকে। বাঁধানো ছবিতে গোপিনীর বস্ত্রহরণ।

    সর্বস্ব হারায়ে বালা হরিনাম স্মরে।
    কদম্বের ডালে বসি হরিলীলা করে।

    গাছে ঝুলছে ডেক্রন, ট্রিংকল, শিখাদের যেমন ঝোলে, আর গাছের ডালে গোল গোল বলের মতো হলুদ হলুদ ফুল।

    —চ বিলু, কুমারটুলি যাই।

    -কেন?

    —ঠাকুর গড়া দেখি চ। খুব ভাললাগে আমার

    —এখন আবার কী ঠাকুর।

    —কিছু না কিছু আছেই।

    —না, যাব না।

    -তা হলে গঙ্গার ধারে চ।

    —না।

    —তা হলে কোথায় যাব?

    কী বলবে বিলু? এখন কোথাও যাবার জায়গা নেই বিলুদের। কোনো কাজ নেই, কোনো উদ্দেশ্য নেই।

    শেষ পর্যন্ত বিলু একা একা বাড়ি ফিরে আসে।

    মোহনবাগান এক গোলে জিতে গেল। তেমন আনন্দ হল না। অসীম মৌলিক আর সীতেশ দাসকে ঢুকতেই দিল না জার্নেল সিং। চুনী কি কাটাল, তবু বিলুর যেন কিচ্ছু ভাল লাগছে না।

    সন্ধের আগেই অঞ্জলি এল। চুল বেয়ে জল পড়ছে। ছাতাটা মেলে দিয়ে ঘরের কোণাটায় রাখল। অনঙ্গমোহন একটা জলচৌকির উপরে কিছু একটা লিখছিলেন। কাগজটা খোলাই রেখে অন্য একটা বই থেকে কিছু একটা খুঁজছিলেন। ছাতা থেকে ঐ খোলা কাগজের উপর জল পড়ল। সমীপেষুর মুর্ধন্য-ষ-এর উপর জলের ফোঁটা পড়ল। আনন্দবাজারের ‘আ’ গেল লেপ্টে। তখন অনঙ্গমোহন ইটা কি করলা ইটা কি করলা করতে করতে ছাতাটার গায়ে ধাক্কা মারেন। দুর্বল ছাতাটা উল্টে যায়, ডাঁটিটা উপরের দিকে। অঞ্জলি কিছু বলে না। অন্যদিন হলে এ নিয়ে একটা ছোটখাটো ঝগড়া শুরু হয়ে যেত। অঞ্জলি ছাতাটা সরিয়ে রাখে। বিলু একাকী জানালার ধারে বসে ছিল। বটের পাতাগুলি জানালার শিকের কাছাকাছি এসে গেছে। বৃষ্টিধোয়া পাতাগুলি উজ্জ্বল সবুজ। বিলু ওর মায়ের দিকে সোজাসুজি তাকাল না। অনঙ্গমোহন তাঁর লেখা কাগজটার দিকে তাকালেন। বিলুকে বললেন, দেখছ নি, ইশ। আবার লিখতে হইব। তারপর গলাটা একটু নামিয়ে প্রায় স্বগতোক্তির মতো বলেন—কিছু তো কওন যাইব না।

    অন্যদিন অফিস থেকে ফিরে অঞ্জলি যা যা করতে হয়, আজ তাই তাই করছিল না। তক্তপোশের কোণায় মাথাটা কিছুক্ষণ টিপে ধরে বসে ছিল। অঞ্জলি এলে অনঙ্গমোহন চা পান। আজ সে রকম লক্ষণ দেখতে না পেয়ে বিলুকে বললেন—একটা চিঠি লিখতাছিলাম আনন্দবাজারে। শুন।

    সম্পাদক সমীপেষু। দীর্ঘদিন যাবৎ লক্ষ্য করিতেছি যে, আপনারা বাঙ্গালা ভাষা লইয়া কদাচার করিতেছেন। সন্ধি সমাস প্রত্যয় ইত্যাদির মূল সূত্রগুলি মান্য করিতেছেন না, যথেচ্ছ বানান লিখিতেছেন। গতকল্য ভাণ্ডারকে লিখিলেন ভান্ডার। অজ্ঞান না লিখিয়া অগ্‌গান লিখিলেন। চঞ্চলের স্থলে চনচল, লন্ডনকে লনডন ইত্যদি। কোমলমতি বালকদিগের মনে ইহার বিরূপ প্রতিক্রিয়া হইবে সন্দেহ নাই।

    আপনারা আপনাদের পত্রিকায় কথ্যভাষার প্রয়োগ করিতেছেন। তপোবনে, বনোমধ্যে দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে বল্কল পরিহিতাবস্থায় দেখিয়া পুলকিত হইয়া বলিয়াছিলেন, কিমিব হি মধুরাণা মণ্ডনং নাকৃতীনাম। কিন্তু পরবর্তীকালে শকুন্তলা যখন রাজঅন্তঃপুরে ছিলেন, দুষ্মন্ত তাহাকে বল্কল পরিতে দেন নাই। বল্কলে স্বাভাবিক শোভা প্রকাশ পায় সত্যকথা, কিন্তু তাহাতে মর্যাদা হানি হয়।

    অঞ্জলি বিলুর সামনে এসে দাঁড়াল। বিলু একবার মায়ের মুখের দিকে তাকিয়েই মুখ নামিয়ে নিল। অঞ্জলি বিলুর মাথায় একবার হাত দিল। সামান্য বিলি কেটে দিল চুলে। তারপর বলল, আজ একবছর হল। চাকরির।

    বিলু ওর মায়ের মুখের দিকে পরিপূর্ণ তাকাল একবার।

    অঞ্জলির মুখে মেঘ।

    অঞ্জলি বলল, দশ টাকা মায়না বাড়ল।

    মাইনে বাড়লে কেউ কাঁদে নাকি? অথচ মায়ের চোখের কোণায় টলটল করছে ওটা জল না? লালুভুলু বইতে অনেকদিন পর লালু আর ভুলুর দেখা হলে ওরা দুজনে দুজনকে জড়িয়ে ধরে কী কান্না। খুব আনন্দ হলেও তো মানুষ কাঁদে।

    —মাইনে বাড়াতে তোমার খুব আনন্দ হয়েছে, না মা?

    ঠিক তক্ষুণি হু হু কেঁদে ওঠে অঞ্জলি। অনঙ্গমোহনের চিঠির উপরে, অন্তঃপুরের বিসর্গটার উপর টপ করে একফোঁটা জল পড়ে যায়। অঞ্জলি ঘর ছেড়ে চলে যায় দ্রুত। ব্যাপারটা কেন এরকম হল বিলু কিছুই বুঝতে পারে না। অনঙ্গমোহন ধ্যাবড়ানো বিসর্গর অশ্রুবারি নিজের চাদরে শুষে নেন। বিসর্গটার মধ্যেই কেমন যেন দুঃখ জড়ানো থাকে—বিলু মাঝে মাঝেই ভাবে। দুঃখ শব্দটার মাঝখানে বিসর্গটা যেন চোখের দু-ফোঁটা জল।

    চা নিয়ে এল অঞ্জলি। পরিপূর্ণ বিধবা নারী। অফিসে যাবার হাল্কা ছাপা শাড়িটা পরিবর্তন করে নিয়ে থান চাপিয়ে নিয়েছে। সর্বাঙ্গ ঢাকা কাপড়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে একটা হাত, তাতে চায়ের কাপ। চায়ের প্রথম চুমুকটা দিতে এখনো ইতস্তত করেন অনঙ্গমোহন। বাড়িতে চা ঢুকুক অনঙ্গমোহন পছন্দ করতেন না। আমার নাম চা, আমি ম্যালেরিয়া দূর করি ইত্যাদি বিজ্ঞাপনেও ভজেননি অনঙ্গমোহন। জগদীশের মৃত্যুর পর তাই শ্যালক বোবাঠাকুরই তাঁকে চা খেতে অনুরোধ করেছিলেন মূলত খিদে মারার প্রয়োজনে। বাবা আপনার চা, এই উচ্চারণ এবং মেঝেতে কাপটি রাখবার শব্দের মধ্যে এক আশ্চর্য বিষাদ টের পান অনঙ্গমোহন। উনি জিজ্ঞাসা করলেন, কিছু হয়েছে বৌমা? অঞ্জলি বলে, কী আবার হবে। এক বছর হল চাকরির। দশ টাকা মাইনে বাড়ল। আপনার সুবিধে হল আর একটু। আপনার এই টোলে আর একটা কাউকে ধরে নিয়ে আসুন। ছাত্র বাড়ান।

    অঞ্জলি বিলুকে একটা টাকা দেয়। বলে যা বিলু, সন্দেশ নিয়ে আয়, সন্দেশ। বাড়ির সবাইকে সন্দেশ খাওয়াই। অন্য কিছু আনিস না, সন্দেশই। সন্দেশ নাকি উঠে যাবে শুনছি। একটু থেমে অঞ্জলি বলে, অফিসেও আজ সন্দেশ খাইয়েছি। হাতিবাগানে এসেছিলাম মিষ্টি কিনতে। বুঝলি বিলু, সবাই এমন করে ধরল যে, সন্দেশ উঠে যাচ্ছে সন্দেশ খাওয়াও, সন্দেশ খাওয়াও…হঠাৎ যেন হালকা হয়ে উঠল বিলুর মনটা। যেন হঠাৎ ওড়া আনন্দবাতাসে এঁটো শালপাতা নেচে ওঠে গলির রাস্তায়। বিলু বলল, ও, বুঝেছি মা, বুঝেছি, তুমি হাতিবাগানে মিষ্টি কিনতে গিয়েছিলে তখন।

    ও, তুই দেখেছিলি? তুই কেন গিয়েছিলি হাতিবাগান?

    —এমনি। ইস্কুল স্ট্রাইক। অসীম বলল, চ ঘুরে আসি।

    -কোথায় কী মিষ্টি পাওয়া যায় আমি তার কী চিনি ক? তাই যশবাবু সঙ্গে আসল।

    চু যাব চরণে যাব রাক্ষসটার মাথা খাব, চু যাব চরণে যাব রাক্ষসটার মাথা খাব…বিলু ধায়

    খগেনের দোকানে বেগুনি ভাজছে। আঃ, কী গন্ধ বাতাসে। বেগুনিগুলো গরম তেলের মধ্যে কী হুড়োহুড়ি লাগিয়েছে যেন ইস্কুলের টিপিনবেলা। কতদিন এসব খায়নি বিলু। পৈতের পর এক বছর বাইরের জিনিস খাওয়া মানা। স্কুলে যেদিন গৌরের কাছ থেকে দশ নয়ার ঘুগনি নিয়ে যাচ্ছিল, পণ্ডিত স্যার দেখেই বলেছিলেন, এই যে বিপ্লব, অনঙ্গপণ্ডিতের নাতি, তোমারও এই অবস্থা? এইসব অখাদ্য খাও? সেদিন উপনয়ন হয়েছে না? একটাকায় আটখানা সন্দেশ হয়, তবে কি একজনের দুটো করে? কিন্তু ওরা তো পাঁচজন। দাদু, মা, স্বপ্না, বিলু আর অসীম। তা হলে কী করে কুলোবে? তবে কি অসীমকে দেবে না মা? তাহলে আবার তো সেদিনের মতো হবে। মাছ কম ছিল বলে অসীমকে দেয়নি অঞ্জলি, স্বপ্না আর বিলুকে দিয়েছিল, অনঙ্গমোহন এর পরদিন অনুগ্রহণ করেননি। তাহলে হয়তো মা-ই খাবে না। বিলু ভাবে। মা তো অফিসেই খেয়েছে। বরং নাই খাক। বিলু খাবে না। সন্দেশ দেখলেই সেই বাবার কথা মনে পড়ে। হাত থেকে সন্দেশ পড়ে যাওয়া মনে পড়ে। কিন্তু খাব না বললেই কি অঞ্জলি শুনবে? তার চেয়ে অন্য এক কাজ করা যাক। বিলু মনে মনে অন্য বুদ্ধি করে। ও বেগুনি খাবে চার আনার। আর বারো আনার বোঁদে। ছটা সন্দেশের পরিবর্তে বোঁদে হলে ভাল। নিয়ে যাবে। বাড়িতে বলবে, ওর ভাগেরটা ও দোকানেই খেয়ে এসেছে। টেস্ট করে দেখতে হয় না বুঝি, জিনিসটা ভাল কি না? বিরামের দোকানে অনেক বাঁধানো ছবি আছে। নরকের শাস্তির ছবিতে পরস্ত্রী রমণের আর পরপুরুষ গমনের শাস্তি দুটো সবচেয়ে অসভ্য। অসীম বোধহয় ঠিকই বলে। কিন্তু মিথ্যা করার শাস্তিটাও কম কী? জিভ টেনে ধরে ছুরি দিয়ে কেটে দিচ্ছে। জীবনে কম মিথ্যে বলেনি বিলু, আজ একটু পরেই আর একটা মিথ্যা কথা বলবে। সমস্ত মিথ্যা কথাগুলো একসঙ্গে হয়ে শাস্তি হয়। সব গ্যাস। ফালতু। এসব কিসু নেই। স্বর্গ, নরক কিসু নেই। ঠাকুরও কি আছে? ভগবান?

    বিলুর বাবার অসুখের সময় কতবার ভগবানকে ডেকেছে বিলু তার ঠিক নেই। মহাদেব কৃষ্ণ, বাগবাজার ঘাটের জগন্নাথ, শেতলা, কাউকে বাদ রাখেনি। শেষে যখন হিক্কা শুরু হল, তখন ব্যোমকালী তলায় গিয়ে মা কালীকে সোজাসুজি এবং স্পষ্টভাবে বলে দিল, দেখ মা কালী, তুমি আমার বাবাকে বাঁচিয়ে দাও। যদি বাবা বেঁচে যায়, তাহলে বুঝব আছ, তুমি সত্য। আর যদি বাবা মরে যায় তাহলে তুমি নেই।

    বিরামের দোকান থেকে সন্দেশ কিনে খগেনের দোকানে আসে। চার আনায় পাঁচটা বেগুনি। খগেনের দোকানে তখনো বেগুনি ভাজা চলছে। বিলু ফুটন্ত তেলে বেগুনির লীলাখেলা দেখে। খগেনের কর্মচারী ওর নিজস্ব বাংলায় বলল, তবে পণ্ডিতমশাইয়ের নাতি অছন্তি না?

    বিলু মাথা নাড়ায়।

    তাংকর দেহটা কেমতি আছে ম?

    দেহটা?

    শরীরটা। সকালবেড়ে গঙ্গায় আমরা একসঙ্গে স্নান করি। আমিও ব্ৰাহ্মণ অছি না? তমার দাদু দু’দিন আসে নাহি।

    —ঠিকই বলেছেন। দাদুর একটু জ্বর জ্বর ছিল।

    —সেই আমি ভাবথিলি। তমার পিতামহটা বড় পণ্ডিত ম।

    বিলু চুপ করে থাকে।

    তোমার উপনয়ন হল না দুই মাস পূর্বে?

    হ্যাঁ।

    ভল ভল। তোমরা বড় ব্রাহ্মণ বংশ।

    বিলু চুপ করে থাকে।

    এখন কি নিবে?

    বেগুনি। পাঁচটা।

    কে খাবে?

    বিলু চুপ করে থাকে। সত্যিই তো, কে খাবে বেগুনি? বিলুর দাদু তো মহাপণ্ডিত, দোকানের ভাজাভুজি খান না। বিলুর মা তো ব্রাহ্মণ বিধবা, আর বিলুর তো উপনয়ন হয়েছে।

    বিলু বলল, দিদি খাবে আর দিদির বন্ধু।

    পাঁচটা বেগুনি আছে ঠোঙায়। এখানে খাওয়া চলবে না। রাস্তায় খেতে খেতে যাবে। খুব সাবধানে খেতে হবে যেন চেনা কেউ দেখে না ফেলে।

    দাদু আসছে না? দাদুই তো। তাড়াতাড়ি বেগুনির ঠোঙাটা পকেটে ঢোকাল বিলু। ওর উরুতে তাপ লাগছে। দ্রুত পা চালাল বিলু। অনঙ্গমোহন সামনে এসে পড়েছেন। বিলু পাশ কাটিয়ে এগোতে গেল। অনঙ্গমোহন বললেন—বিলু, অসীমরে দেখছস? বিলু মাথা নাড়ায়। অনঙ্গমোহন বলেন, কুষ্মাণ্ডটা এখনও আসে নাই ঘরে। বিলু এগোয়। অনঙ্গমোহন ডাকেন বিলুরে, বিলু দাঁড়া। তারপর গলাটা নামিয়ে বলেন, সন্দেশ অসীমের জন্যও রাখিস। আমি একটু দেইখ্যা আসি, নচ্ছারটা গেছে কোথায়। বোধহয় সাহেবদের লগে খেলতাছে। বিলু বাড়িতে ঢুকল। সিঁড়ির মুখেই কলঘর। কলঘরে ঢুকেই ছিটকিনি বন্ধ করল বিলু।

    পরদিন সকালবেলায় বাড়িতে হুলুস্থুল কাণ্ড। শিখার বাবা চেঁচামিচি শুরু করে দিয়েছে—আমি যত বলি কলঘর চাবি দেওয়া থাক, চাবি দেওয়া থাক, আমার কথা কেউ শোনে না এখনও। বস্তির ছোটলোকগুলো যখন-তখন বাথরুমে ঢোকে, নোংরা করে যায়। এখন কী কেলেঙ্কারি কাণ্ড। পণ্ডিতমশাই তো গঙ্গা নাইতে যান, আর অন্য একজন তো চ্যানই করে না, এদিকে আমার তো আপিস আছে, সাড়ে নটায় বেরুতে হবে।

    অনঙ্গমোহন ততক্ষণে গঙ্গাস্নান সেরে নামাবলী গায়ে আহ্নিকে বসেছিলেন, শিখার বাবা এসে বলল, পণ্ডিতমশাই, বাথরুমের চৌবাচ্চায় বস্তির কোনো ছেলে হেগে রেখে গ্যাচে, এখন ব্যবস্থা করুন।

    অনঙ্গমোহন জলশুদ্ধি আসনশুদ্ধি করে সব শন্ন আপ ধন্বন্যাঃ শুরু করেছিলেন, ঠিক সেই সময় সব শুনে মন্ত্র থামালেন।

    ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ কলে জল আসে। শিখার বাবার বহুদিনের অভ্যেস, ভোরে উঠে সদ্য আসা কলের জলে দাঁত মেজে নেন। তারপর কলের জলে বসে স্নান করে নেন। তার একটা ছড়া আছে, বলেন মাঝে মাঝে।

    গঙ্গায় নায় পাপীতাপী
    পুকুরে নায় চোর
    কলের জলে চ্যান করে যে
    তার বহু পুণ্যের জোর।

    স্নান সেরে চৌবাচ্চার পাইপটা কলের মুখে লাগিয়ে দেন। আজ পাইপটা লাগাতে গিয়ে দেখলেন এই ব্যাপার।

    বিলু চুপ করে ছিল। একদম চুপচাপ। বিলু সাতেও নেই পাঁচেও নেই। অসীম বোধহয় জমাদার ডাকতে চলে গেছে। বিলু বই খুলে বসল। টোলের বই। বিলুও গত মাসে অনঙ্গমোহনের টোলে ভর্তি হয়ে গেছে। সকালবেলায় আধঘণ্টা টোলের পড়া করে নিয়ে স্কুলের পড়া করে। বিলু খাতা খুলে অত্র চতুর্দশাদৌ স্বরাঃ, এইসব পড়ছে। অনঙ্গমোহন আবার আহ্নিক শুরু করেছেন, বিলু পড়ছে তেষাং…দ্বৌ…তেষাং দ্বৌ তেষায় দাবনোস্য সাবর্ণ। অনঙ্গমোহন ছিপকাষায় ঠং শব্দ করে বিলুর দিকে চোখ পাকালেন। ভুল পড় ক্যান, ঠিক কইরা পড়। তেষায় দ্বৌ দ্বারন্যোন্যস্য সার্বনৌ। বিলু ঠিক পড়বে কি। বিলুর কি মনে আছে? মন কি থাকতে পারে এ খাতায়? ওসব যে কার কীর্তি বিলু কি জানে না?

    গতকাল বেগুনি নিয়ে কলঘরে ঢুকেছিল বিলু। পকেট থেকে বার করেছিল ঠোঙাটা। বেগুনি তখনো যথেষ্ট গরম ছিল। একটা বার করে কামড়াল। একটু ফুঁ দিল। ধোয়াময় হাওয়া বের হল। হাওয়ায় সুগন্ধ। একটু একটু করে খাচ্ছিল বিলু। যেন শেষ না হয়ে যায়। এমন সময় কলঘরে করাঘাত।

    কে?

    অনঙ্গমোহনের কণ্ঠস্বর। আমি। একটু খোল। পদপ্রক্ষালন কইরা যাই।

    বিলু, তৎক্ষণাৎ বাকি বেগুনি চারটে চৌবাচ্চার জলে ফেলে দেয়। তারপর মুখের অর্ধচর্বিত বাকিটা জল দিয়ে গিলে নেয়। দরজা খোলে।

    অসীমরে পাইছি। বেশ গর্বের সঙ্গেই বলেন, ঐ গোরা সাহেবগুলির সঙ্গে ক্রীড়া করতাছিল। বিলু বোঁদের ঠোঙাটা নিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। অনঙ্গমোহন বলেছিলেন—তুই এতক্ষণ কী করতাছিলি? বিলু সিঁড়ি দিয়ে উঠে যেতে যেতে বলেছিল—মুখ হাত ধুচ্ছিলাম।

    কলঘরে এমনিতেই আলো কম থাকে, ছোট একটা জানালা। জমাদার জিজ্ঞাসা করল, টর্চ আছে? শিখার বাবার টর্চ ছিল। জমাদারের হাতে কেন দেবে টর্চ? তাই চুপ করে ছিল। জমাদার ভাল করে চৌবাচ্চাটা দেখল। চৌবাচ্চার জল প্রায় শেষ। তলার দিকে যা ভাসছে তা ভাল করে দেখে বলল, লাগতা হায়, টাট্টি উদ্ভি নেহি হায়। চৌবাচ্চার তলায় গোঁজা ন্যাকড়া টেনে জল বার করে দিল, তারপর তলা থেকে বার করে আনল ফুলেফেঁপে থাকা চারটি বেগুনি।

    অঞ্জলির সে কী হাসি। বিলুকে জড়িয়ে ধরল চুপি চুপি। অনেকদিন, অনেক অনেক দিন পর। বলল দুষ্টু ছেলে।

    মায়েরা কী করে সব বোঝে?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleউত্তম পুরুষ – রশীদ করীম
    Next Article শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026
    Our Picks

    ঘটনার ঘনঘটা – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    শেষ দেখা হয়নি – নীললোহিত (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)

    August 5, 2026

    চতুষ্পাঠী – স্বপ্নময় চক্রবর্তী

    August 5, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }