Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    তৌফির হাসান উর রাকিব এক পাতা গল্প380 Mins Read0
    ⤶

    নিতাই ফকির – তৌফির হাসান উর রাকিব

    নিতাই ফকির

    এক

    শেষ বিকেলের রাঙা আলোর পরতে-পরতে বিষাদ মাখানো। শঙ্খ নদীর শান্ত জলের ওপর পাতলা একখানা চাদরের মতই ছড়িয়ে আছে সে লালচে আভা।

    নীড়ে ফিরতে শুরু করেছে বুনো পাখির ঝাঁক। পদ্মপাতার আড়ালে-আবডালে লুকিয়ে থাকা ব্যাঙের দলের কোলাহলও খানিকটা থিতিয়ে এসেছে।

    গাছের সবুজ পাতার শরীর ছুঁয়ে বয়ে চলা বাতাসে কীসের যেন চাপা হাহাকার। কান পেতে শোনা যায় না বটে, তবে দিব্যি অনুভব করা যায়।

    এমন পরিবেশে মানুষের নিজেকে বড্ড ক্ষুদ্র মনে হয়, উদাস-উদাস লাগে। প্রকৃতির সীমাহীন রহস্যময়তা তাকে বিমোহিত করে, বিরক্ত করে না।

    কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে রেগে বোম হয়ে আছে নিতাই ফকির; মেজাজ পুরোপুরি খিঁচড়ে আছে তার। অবশ্য এজন্য তাকে খুব একটা দোষ দেয়ারও উপায় নেই; পেট খালি থাকলে কারই বা মন ভাল থাকে?

    আজ দু’দিন হতে চলল উদরে কোন দানাপানি পড়েনি তার। সহসা কিছু জোগাতে পারবে, তেমন কোন সম্ভাবনাও চোখে পড়ছে না। মেজাজ তিরিক্ষি না হয়ে উপায় কী?

    চম্পকনগর হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম। মুসলমান পরিবার প্রায় নেই বললেই চলে। জনপদের পাশ দিয়ে বয়ে চলা শঙ্খ নদীতে মাছ ধরে তিন বেলার আহার জোগায় কয়েক ঘর জেলে পরিবার; বাকি সবাই কৃষিকাজ করে। কারও নিজের জমি আছে, কেউবা বর্গা চাষি।

    তবে অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্য না থাকলেও, গ্রামবাসীদের কেউই তেমন অসুখী নয়। যেখানে প্রত্যাশা রুম, সেখানে অতৃপ্তির কালো ছায়াও কদাচিৎই চোখে পড়ে।

    গাঁয়ের শেষ মাথায়, যেখানে শঙ্খ নদী বাঁক নিয়ে হারিয়ে গেছে দূর দিগন্তে; পাশাপাশি হাতে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছে দুটো প্রকাণ্ড তালগাছ। জায়গাটা বেশ উঁচু, ভরা বর্ষাতেও ডোবে না। জোড়া গাছের গোড়া থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত সবুজ গালিচার মত বিছিয়ে আছে কচি দূর্বাঘাস। ঝোপঝাড়ের লেশমাত্রও নেই কোথাও।

    মাথায় পাকা তাল পড়ে অক্কা পাওয়ার আশঙ্কাটুকু আমলে না নিলে, জায়গাটা হাত-পা ছড়িয়ে বসে গল্প করার জন্য পুরোপুরি আদর্শ। তবুও চম্পকনগরের লোকেরা নিতান্ত ঠেকায় না পড়লে, ও পথ মাড়ায় না।

    জায়গাটাকে ভয় পায় ওরা; ভীষণ ভয়।

    বুড়োরা বলে, মাঝরাতে অশরীরীদের হাট বসে ওখানটায়। অতীতে বেশ কয়েকবারই রাতের বেলায় ওখানে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে গাঁয়ের লোক। স্বভাবতই তালতলাটার বদনাম রটে গেছে। অতি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে বেঘোরে জান খোয়ানোর কোন মানে হয় না। তাই এড়িয়ে চলার পন্থাটুকু বেছে নিতে কসুর করেনি চম্পকনগরের মানুষজন।

    তবে অন্য সবাই ঢিবিটা থেকে দূরে-দূরে থাকলেও, একজন থাকেনি; নিতাই ফকির! এক সন্ধ্যায়, ভূতের ভয়ে জবুথুবু সবার চক্ষু চড়কগাছ করে দিয়ে, অভিশপ্ত তালতলাটাতেই গিয়ে আবাস গেড়েছে ক্ষ্যাপা লোকটা!

    উন্মাদটা কে, কোত্থেকে এসেছে; কেউই জানে না। নিজের সম্পর্কে কোন কিছুই খোলসা করে বলেনি সে। উৎসুক জনতার হাজারো প্রশ্নের জবাবে নিজের নামটাই কেবল বিরক্তভরা কণ্ঠে বয়ান করেছে সে; নিতাই।

    সঙ্গে ‘ফকির’ পদবীটা লোকে স্বপ্রণোদিত হয়েই জুড়ে দিয়েছে; নিতাইয়ের মতামতের ধার ধারেনি। নিতাইও কখনও এর প্রতিবাদ করেনি, বিনাবাক্যব্যয়ে মেনে নিয়েছে। অবশ্য তার এহেন নামকরণের পিছনে তার চেহারা-সুরত আর কিম্ভূতকিমাকার পোশাক-আশাকের যে একটা বিশেষ ভূমিকা ছিল, তা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    তারপর কালে-কালে শঙ্খ নদীতে গড়িয়ে গেছে অনেকখানি জল। চম্পকনগরের বাসিন্দাদের কাছেও ধীরে-ধীরে খোলতাই হয়েছে নিতাই ফকিরের স্বরূপ। পাগলাটে লোকটা যে আদতে কত শক্তিশালী একজন গুণিন; অদ্ভুত বেশভূষার আড়ালে কতটা ভয়ঙ্কর ক্ষমতা রাখে, সেসব বুঝতে আর বাকি নেই কারও।

    নিতাই ফকির এমন একজন মানুষ, যাকে উৎসব-পার্বণে নিমন্ত্রণ করা হয় না ঠিকই, কিন্তু বিপদে পড়া মাত্রই তার কথা স্মরণ করা হয়।

    বাড়ি বন্ধ করা থেকে শুরু করে বদ নজর কাটানো, এসব কাজে হরহামেশাই তার ডাক পড়ে। আর আলগা বাতাস কিংবা জিনে ধরা রোগীর কথা তো বলাই বাহুল্য।

    মানুষের রকমারি মুশকিল আসানে সর্বদা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও, অজ্ঞাত কারণে কেউই খুব একটা পছন্দ করে না তাকে। এড়িয়ে চলে; ভয় পায়। তার কাছে ঘেঁষার কিংবা তাকে ঘাঁটানোর সাহস করে না কেউ। লোকটার মধ্যে অশুভ কী যেন একটা আছে। একশো হাত দূর থেকেও যেটা স্পষ্ট ঠাহর করা যায়।

    অস্তগামী সূর্যের দিকে তাকিয়ে বিড়-বিড় করে কাকে যেন অভিসম্পাত করল নিতাই ফকির। গলা খাঁকারি দিয়ে একদলা থুতু ফেলল দোরগোড়ায়। তারপর কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে ধপ্ করে বসে পড়ল স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে। আলো ভাল লাগে না তার, সে ভালবাসে অন্ধকার।

    ছোট্ট খুপরি ঘরটায় আসবাবপত্রের কোন বালাই নেই। মেঝেতে জরাজীর্ণ একখানা চাটাই আর ঘরময় ছড়িয়ে থাকা কিম্ভূতকিমাকার কিছু জিনিসপত্র; সম্পত্তি বলতে কেবল এই-ই আছে নিতাই ফকিরের।

    চারপাশে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নড়বড়ে চারটে বাঁশের বেড়া। ওদের যে কোন একটা বয়সের ভারে হাল ছেড়ে দিলেই যে হুড়মুড় করে মাটিতে লুটিয়ে পড়বে সব ক’টা, সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপও নেই ঘরের মালিকের।

    চালার ছনগুলোর দশাও তথৈবচ; আর কতদিন টিকবে খোদা মালুম! মাঝারি আকারের একটা ঝড়েও যে চালাসুদ্ধ উড়ে যাবে ঘরটা, এহেন বাজি ধরার লোকের অভাব হবে না চম্পকনগরে।

    হাত বাড়িয়ে তেল চিটচিটে ঝোলাটা কাছে টেনে নিল নিতাই; ইতিকর্তব্য ঠিক করে ফেলেছে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে, আঙুল বাঁকা করতেই হয়। কী আর করা?

    আবারও নিচু স্বরে বার কয়েক খিস্তি করল সে; রাগে ব্রহ্মতালু জ্বলছে তার। ভূত-প্রেতের দল সব গেল কোথায়? ওরা দলবেঁধে তল্লাট ছেড়ে পালালে তো তার অন্নসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে!

    ঝোলাটা থেকে ছোটমতন একটা খুলি বেরোল। খুলিটা মানুষের না, বিড়ালের। লোকের ধারণা, কালো বিড়ালের ভিতরে অতিপ্রাকৃত কোন ব্যাপার রয়েছে। একারণেই কালো বিড়ালকে ভয়ানক অশুভ মনে করা হয়।

    তবে নিতাই জানে, প্রেতলোকে সংযোগ স্থাপনের জন্য বিড়ালের খুলি ভীষণ উপকারী হলেও, রঙের কোন প্রভেদ নেই এখানে। সাদা-কালো-বাদামী, যে কোন রঙের বিড়াল দিয়েই দিব্যি কাজ চালিয়ে নেয়া যায়।

    তবে জন্মান্ধ বিড়ালের ব্যাপারটা পুরোপুরি আলাদা। অন্যদের তুলনায় এই বিড়ালদের ক্ষমতা অনেক বেশি। যে কোন গুণিনের কাছেই তাই বাড়তি কদর পায় একটা জন্মান্ধ বিড়াল!

    খুলিটা সামনে রেখে শিরদাঁড়া সোজা করে পদ্মাসনে বসল নিতাই ফকির। ঝোলা ঘেঁটে সবুজ রঙের ছোট একটা শিশি বের করা হয়েছে। লম্বা দম নিয়ে শিশিটা থেকে দু’ফোঁটা তরল খুলিটার শূন্য দুই অক্ষিকোটরে ফেলল সে। বিচ্ছিরি একটা শব্দ হলো। নির্নিমেষ দৃষ্টিতে সেদিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল সে, তারপর চেপে রাখা নিঃশ্বাসটা সশব্দে ছাড়ল।

    বেশ খানিকটা সময় নিয়ে আলতো করে চোখ মুদল নিতাই; পরক্ষণেই অনুচ্চ স্বরে মন্ত্র জপতে শুরু করল। মন্ত্রের ভাষাটা প্রাচীন, চেনা কোন ভাষার সঙ্গে বিন্দুমাত্র মিলও নেই।

    ধীরে-ধীরে বাড়তে লাগল তার গলার আওয়াজ; দূর থেকে দূরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল ভরাট কণ্ঠের উত্তাপ।

    নড়বড়ে ঘরটাকে ঘিরে থাকা বাতাসে তীব্র আলোড়ন উঠল। গোত্তা মেরে নেমে আসা সাঁঝের আঁধারও যেন অদৃশ্য দেয়ালে বাধা পেয়ে থমকে দাঁড়াল।

    একঘেয়ে অপার্থিব কণ্ঠে অশরীরীদেরকে ডেকে চলেছে নিতাই ফকির!

    অল্পক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে গেল। ঝোড়ো হাওয়ায় ভর করে একের পর এক এসে হাজির হতে লাগল ধোঁয়াটে ছায়ারা! যেন হ্যামিলিনের বংশীবাদকের বাঁশির টানে ছুটে এসেছে ইঁদুরের পাল!

    ছোট্ট কুঁড়েটাতে যখন আর তিল ধারণের জায়গাও রইল না, তখনই কেবল মন্ত্ৰ জপায় ক্ষান্ত দিল নিতাই ফকির। রক্তবর্ণ চোখে ফিরে তাকাল তাকে ঘিরে থাকা কায়াহীনদের দিকে।

    তার অগ্নিঝরা দৃষ্টির সামনে রীতিমত কুঁকড়ে গেল দলটা; মৃদু একটা গুঞ্জন উঠল জটলায়। নিতাইয়ের কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে ওরা।

    নিতান্ত বাধ্য হয়েই আজ এখানে সমবেত হতে হয়েছে ওদের, কেউই স্বেচ্ছায় আসেনি। অন্যের মর্জিমাফিক চলতে কারই বা ভাল লাগে? অশরীরীরাও যে তীব্র অনুভূতিপ্রবণ, ক’জনই বা জানে সেটা!

    দীর্ঘ সময় নিয়ে চারপাশে নজর বুলাল নিতাই ফকির। চোখ জোড়া ভাঁটার মত জ্বলছে তার; হাপরের মত ওঠানামা করছে শীর্ণ পাঁজর।

    আচমকা বাম হাত বাড়িয়ে খপ্ করে একটা ধূসর ছায়াকে চেপে ধরল সে। তার হাতের মুঠোয় গুঙিয়ে উঠল ওটা, দ্রুত পিছিয়ে গেল অন্যরা।

    মাছি তাড়ানোর ভঙ্গিতে ডান হাতটা দোলাল নিতাই ফকির; আপাতত অন্য কাউকে আর দরকার নেই তার।

    হাত নাড়াতে যা দেরি, চোখের পলকে একযোগে বাতাসে মিলিয়ে গেল সবক’টা ছায়া। বেমালুম গায়েব হয়ে যাবে ওরা; ফের নিতাই ফকির না ডাকলে, এই তল্লাটে ওদের টিকিটিরও সন্ধান মিলবে না আর।

    মুঠোবন্দি অবয়বটার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে কী যেন বলল নিতাই ফকির। সমঝদারের ভঙ্গিতে মাথা দোলাল ওটা।

    মুক্তি পাওয়া মাত্রই একছুটে হারিয়ে গেল বাইরের অন্ধকারে। কাঁধে অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করতে চলেছে।

    দরজার চৌকাঠে হেলান দিয়ে বসল পরিশ্রান্ত নিতাই ফকির।

    বীজ বপন করা হয়ে গেছে; এখন শুধু ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা।

    .

    দুই

    কৃষ্ণপক্ষ চলছে। আকাশে ঝুলে থাকা ক্ষয়া চাঁদকে সঙ্গ দিচ্ছে উজ্জ্বল কিছু তারা। দুধের সরের মত মিহি কুয়াশা ঝরছে বিরামহীন।

    শনের বনে আছড়ে পড়া বাতাসের আর্তনাদ পিলে চমকে দেয়। তার সাথে যদি যোগ হয় দলছুট শেয়ালের হাঁক, তাহলে তো সোনায় সোহাগা।

    ভেজা আইলের ওপর দিয়ে জোর কদমে হেঁটে চলেছে কালু লাঠিয়াল, পিছন থেকে তাকে ছায়ার মত অনুসরণ করছে নিতাই ফকির। কয়েক কদম পরপরই ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরে তাকাচ্ছে কালু, তারপর আবারও পা বাড়াচ্ছে সামনে। মন মেজাজ ভাল নেই তার; চেহারা ভরা আষাঢ়ের আকাশের মতই গুমট।

    নিতাইকে দু’চোখে দেখতে পারে না সে। আর আজ কিনা তাকেই জামাই আদর করে চেয়ারম্যান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে! কপালের ফের বুঝি একেই বলে।

    না নিয়ে অবশ্য উপায়ও ছিল না। সন্ধ্যার পরপরই আচমকা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে চেয়ারম্যানের ছোট মেয়ে চৈতালি।

    আলগা বাতাসের লক্ষণগুলো বুঝতে বেগ পেতে হয়নি কারও। তাই একান্ত বাধ্য হয়েই নিতাই ফকিরকে নিতে নিজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লাঠিয়াল, কালুকে পাঠিয়েছে নরেন চেয়ারম্যান।

    আশপাশে দশ গাঁয়ে নিতাই ফকিরের মত কামেল গুণিন আর দ্বিতীয়টি নেই। তাই সুবোধ বালকের মত নিজের পছন্দ-অপছন্দের তালিকাটা আপাতত শিকেয় তুলে রাখতে হয়েছে তাকে। ইতিপূর্বে কখনওই আর চেয়ারম্যান বাড়িতে ডাক পায়নি নিতাই ফকির।

    চরম অস্বস্তি নিয়ে আবারও পিছন ফিরে তাকাল কালু। সঙ্গের অদ্ভুতুড়ে লোকটাকে একবিন্দুও বিশ্বাস করে না সে। সারাক্ষণ অশুভ একটা বলয় ঘিরে থাকে লোকটাকে; কাছাকাছি হলেই গা শিউরে ওঠে। ব্যক্ত করা যায় না; কিন্তু বুকে ঠিকই কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়।

    একটা অভিশপ্ত জায়গায় একা-একা থাকে। দিনরাত কী যে করে, ভগবানই জানেন! কোত্থেকে এসেছে, কেন এসেছে, জিজ্ঞেস করলেও বলে না। নির্ঘাত কোন বদ মতলব নিয়েই চম্পকনগরে এসে হাজির হয়েছে ব্যাটা। ভূত-প্রেত নিয়ে কারবার কি আর ভালমানুষে করে? ভাবতেই তো গায়ে কাঁটা দেয়।

    কালুর সঙ্গে চোখাচোখি হতেই তাকে দাঁত কেলানো একটা বিটকেলে হাসি উপহার দিল নিতাই ফকির। জানে, হাসিটা নির্বোধ লাঠিয়ালের পিত্তি জ্বালিয়ে দেবে।

    হলোও তাই।

    রাগে চাঁদিতে আগুন ধরার উপক্রম হলো কালুর। পাকা বাঁশের তেলতেলে লাঠিটার ওপর তার চেপে বসা আঙুলগুলো নিমিষেই রক্তশূন্য হয়ে উঠল I

    দেবে নাকি হারামজাদার মাথা বরাবর একটা ঘা বসিয়ে? এক আঘাতেই কম্ম কাবার হয়ে যাবে, দ্বিতীয়বার লাঠি তোলার ফুরসত মিলবে না। তল্লাটের সেরা পালোয়ান কালু। তার লাঠির বাড়ি খেয়ে যমের দুয়ার থেকে বেঁচে ফেরার কোন নজির নেই।

    বহু কষ্টে নিজের ওপর জোর খাটিয়ে ছলকে ওঠা রাগটাকে দমন করল কালু। আচমকা চৈতালির পবিত্র মুখখানা ভেসে উঠেছে তার মনের পর্দায়। এই মুহূর্তে নিতাই ফকিরকে প্রাণে মেরে ফেললে, চৈতালিকেও হয়তো আর বাঁচানো যাবে না। আপাতত হিসেবটা তোলা থাকুক। পরে একসময় কড়ায় গণ্ডায় মিটিয়ে নেয়া যাবে।

    কালুর বেহাল দশাটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করল নিতাই ফকির। মুখ টিপে হাসল খানিকক্ষণ।

    বিশালদেহী পালোয়ানের মনের কথাগুলো বুঝতে মোটেও বেগ পেতে হচ্ছে না তাকে, সবকিছু তার কাছে ভরদুপুরের দিবালোকের মতই ফকফকা পরিষ্কার।

    তবে ও নিয়ে মোটেও দুশ্চিন্তায় ভুগছে না সে; উল্টো পুরো ব্যাপারটায় ভীষণ আমোদ পাচ্ছে। বলদটাকে আরও খানিকটা বাজিয়ে দেখলে কেমন হয়?

    গলা খাঁকারি দিল নিতাই ফকির। হালকা গলায় বলল, ‘তুমি আমারে এত অপছন্দ কর ক্যান, কালু?’

    ক্ষণিকের জন্য থমকে গেল কালুর সম্মুখগতি, পরক্ষণেই অবশ্য নিজেকে সামলে নিল সে। ‘আফনেরে আমি অপছন্দ করুম ক্যান? অপছন্দ করি না।’

    হো-হো করে হেসে উঠল নিতাই, সশব্দে থুতু ফেলল পাশের সরিষা খেতে। ‘কর, কর। মুখে স্বীকার যাও আর না যাও, তুমি যে আমারে দেখবার পার না, হেইডা আমি জানি।’

    জবাব দিল না কালু, নীরবে পথ চলতে লাগল।

    তবে এত সহজে তাকে নিস্তার দেয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছেও নেই নিতাই ফকিরের। আবারও মুখ খুলল সে, ‘আমারে দেখলেই তোমার মুখ-চোখ কিরাম জানি শক্ত হইয়া যায়। কারণডা কী?’

    ‘আমার চেহারাই এমুন,’ বিরস কণ্ঠে বলল কালু। পথ চলা থামায়নি। ‘ভগবান তো আর সবতেরে এক রহম কইরা বানায় নাই।’

    ‘তোমার চেহারা কিন্তুক খারাপ না। বেহুদা ভগবানের দোষ দিতাসো ক্যান?’ দরাজ গলায় বলল নিতাই ফকির। ‘কেবল আমার সামনে আইলেই তোমার খোমাড়া ফাইলার তলার মতন কালা হইয়া যায়। ব্যাপার কিছু মাথায় আহে না।’

    চুপ করে রইল কালু; কী জবাব দেবে? মিথ্যে কিছু বলেনি নিতাই ফকির। মনের ভাব গোপন করার কায়দা-কানুন কমই জানে কালু।

    ‘চেয়ারম্যান সাবের বাইত্তে তো আচার-অনুষ্ঠান লাইগাই থাকে বারো মাস। তুমিই তো হগলতেরে দাওয়াত দেও। ঠিক না?’ শীতল স্বরে বলে উঠল নিতাই; কণ্ঠের আমুদে ভাবটা নেই আর। ‘কই, আমি তো কুনুদিন কুনু নিমন্তন্ন পাইলাম না?’

    পুরোপুরি ঘাবড়ে গেল কালু, দু’চোখে অন্ধকার দেখছে সে। কথার মারপ্যাচে তাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করবে গুণিন, এটা সে কস্মিনকালেও ভাবেনি। তা নাহলে জবাবটা নির্ঘাত চেয়ারম্যান সাহেবের কাছ থেকে জেনে আসত সে। তাহলে আর এখন এভাবে ফেঁসে যেতে হত না তাকে।

    একটা জুতসই জবাবের আশায় মরিয়া হয়ে স্মৃতির ঝাঁপি হাতড়ে বেড়াল কালু। নিজের স্বল্পবুদ্ধির জন্য এই প্রথম ভীষণ আফসোস হচ্ছে তার।

    শেষটায় অনেকটা যন্ত্রচালিতের মত বলে উঠল, ‘আমি হইলাম গিয়া হুকুমের গোলাম। হুকুম দেয়ার মালিক তো আর আমি না।’

    বিস্ফারিত নেত্রে কয়েক মুহূর্ত কালুর দিকে তাকিয়ে রইল নিতাই ফকির, পরক্ষণেই হেসে উঠল গলা ফাটিয়ে। ‘তুমি তো দেখতাসি দার্শনিক হইয়া গেসো, কালু! তাজ্জব কারবার!’

    মুখ ব্যাদান করে তার দিকে তাকিয়ে রইল কালু। দার্শনিক বলতে ঠিক কী বুঝিয়েছে তান্ত্রিক, ব্যাপারটা সে পুরোপুরি বোঝেনি। কথাটা ভাল নাকি মন্দ?

    যা হয় হোক; এসব তত্ত্ব কথার ধার ধারে না কালু লাঠিয়াল। যার জীবন চলে পেশি-শক্তি আর লাঠির জোরে, বাঁকা কথার মানে বোঝার দরকার নেই তার!

    হাসি থামা মাত্রই আবারও গম্ভীর হয়ে গেল নিতাই ফকির। ভারিক্কি গলায় বলল, ‘আমারে ক্যান যে তোমাগো পছন্দ হয় না, বিষয়ডা হাছাই আমার মাথায় আহে না, কালু। আমি তোমাগো উপকার ছাড়া অপকার করি নাই কুনুদিন। কাউরে জিনে আছর করলে হেইডা ছাড়াই, আলগা বাতাসও খেদাই। এর কুনু দাম নাই তোমাগো কাছে?’

    অপ্রত্যাশিতভাবে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠল কালু পালোয়ান। হাঁটা থামিয়ে ঝট্ করে ঘুরে দাঁড়াল। নিতাই ফকিরের আধহাত তফাতে এসে ক্রোধান্বিত গলায় বলল, ‘আফনে আসার আগে এই চম্পকনগরে কুনু ঝামেলা আছিল না। কাউরে কুনুদিন জিনে ধরে নাই। আলগা বাতাস লইয়াও কাউর কুনু দুচ্চিন্তা আছিল না। আফনে গেরামে আসার পর থাইকাই বেবাক হাঙ্গামা শুরু হইসে। আফনেই যে সব নষ্টের গোড়া, হেই কথা হগলেই জানে।’

    ভীষণ চমকে উঠল নিতাই ফকির। গ্রামের চাষাভুষারা যে গোটা ব্যাপারটাকে এভাবে দেখে, এটা তার কল্পনাতেও আসেনি কখনও। জবাব না দিয়ে চুপ করে রইল সে; কালুর পেট থেকে আরও খানিকটা কথা বের করা দরকার।

    তাকে অবশ্য বাড়তি কোন কৌশল খাটাতে হলো না। আপনমনেই তোতাপাখির মত বকবক করে চলল কালু। রোখ চেপে গেছে তার; ঠিকরে পড়ছে কণ্ঠের ঝাঁঝ। ‘আফনে আইসা বসত গাড়সেন ওই ভুতুইড়া তালতলায়। জিন- পেন্ডুনিগুলারে তাগো আস্তানা থাইকা খেদাইসেন। হের লাইগাই অরা অহন পুরা গেরামে ছড়াইয়া গেসে। আফনের ঝাল আমাগো উপরে ঝাড়তাসে।’

    স্বস্তির নিঃশ্বাসটা সশব্দেই ফেলল নিতাই ফকির। যতটা আশঙ্কা করেছিল, পরিস্থিতি মোটেও ততটা গুরুতর নয়। আসল রহস্য এখনও গুপ্তই আছে। অযথাই তাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল খচ্চরটা।

    তবে আপাতত মুখে কুলুপ এঁটে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। হাতির বাচ্চাটাকে আজ আর বেশি খেপানোটা উচিত হবে না। মাথায় আগুন চড়ে গেছে ব্যাটার; এখন অযথা ঘাঁটাতে গেলে ব্যাপারটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। আপাতত খুনোখুনি করার কোন মানে হয় না। কী দরকার অহেতুক খাল কেটে কুমির আনার?

    বাকি পথটুকু কোনরকম উচ্চবাচ্য ছাড়াই নিরাপদে পাড়ি দিল ওরা।

    মাঝে অবশ্য আচমকা জলা থেকে উঠে আসা একটা তাগড়া মেছোবাঘের সামনে পড়তে হয়েছিল ওদের! তবে নিতাইয়ের ওপর চোখ পড়া মাত্রই আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হয়েছিল ওটার। কালবিলম্ব না করে তড়িৎ গতিতে পাশের কাশবনে সেঁধিয়ে গিয়েছিল চারপেয়ে জানোয়ারটা।

    প্রথম সাক্ষাৎ হলেও, নিতাই ফকিরকে ঠিকঠাক চিনে নিতে এক লহমার বেশি লাগেনি বেচারার!

    .

    তিন

    প্রফুল্লচিত্তে চেয়ারম্যান বাড়ির টানা বারান্দায় বসে আছে নিতাই ফকির। পাশে রাখা একটা জলচৌকির ওপর শোভা পাচ্ছে কাঁধের সার্বক্ষণিক ঝোলাটা।

    সামনে রাখা নাস্তার পিরিচগুলো ছুঁয়েও দেখেনি সে। তীব্র ক্ষুধার সময় এসব সাধারণ খাবার মুখে রোচে না তার।

    পাশেই একটা বেতের চেয়ারে গোমড়া মুখে বসে আছে নরেন চেয়ারম্যান। মেয়ের দুশ্চিন্তায় শ্যামবরণ মুখখানা হাঁড়ির তলার মত কালো হয়ে আছে তার। বার-বার কী যেন বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নিচ্ছে সে; গুণিনকে তাগাদা দিতে সঙ্কোচ হচ্ছে।

    সেদিকে অবশ্য বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপও নেই নিতাই ফকিরের; চেয়ারম্যানের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না সে।

    ক্ষমতাবান মানুষজনকে উপেক্ষা করার মধ্যে পৈশাচিক একটা আনন্দ আছে। নিজেকে সেই সুখ থেকে কিছুতেই বঞ্চিত করতে রাজি নয় নিতাই।

    কামলা শ্রেণীর কিছু লোক ইতিউতি হাঁটাচলা করছে। তাদের উপরেই ঘোরাফেরা করছে তান্ত্রিকের নজর। এদের প্রায় প্রত্যেকেরই স্বাস্থ্য ভাল; ত্বকে বাড়তি একটা তেলতেলে ভাব আছে। হলফ করে বলা যায়, চেয়ারম্যান বাড়িতে খেয়ে-পরে বেশ সুখেই আছে ওরা।

    অন্তরের অন্তস্তলে ঈর্ষার একটা ছাইচাপা আগুনের অস্তিত্ব টের পেল নিতাই; বুক চিরে বেরিয়ে এল একটা দীর্ঘশ্বাস। বিমর্ষ মুখে আলতো করে মাথা নাড়ল সে; ঘাড় ঘুরিয়ে ফিরে তাকাল চেয়ারম্যানের দিকে।

    ‘সমস্যা কার?’

    ‘আমার ছোট মাইয়া, চৈতালির,’ আমতা-আমতা করে বলল নরেন চেয়ারম্যান।

    ‘কী হইসে, বিস্তারিত খুইলা কন।’

    ‘সারাদিন মাইয়াডা ভালই আছিল। সন্ধ্যার পর হঠাৎ কইরা কেমুন জানি হইয়া গেল! কী থাইকা যে কী হইল, কিচ্ছুই বুঝলাম না। রসুই ঘরে অর মায়ের লগে খাড়াইয়া-খাড়াইয়া কথা কইতাসিল। দুম্ কইরা মাথা ঘুরান দিয়া পইড়া গেল! মাটিতে পড়ার পর কতক্ষণ এক নাগাড়ে গড়াগড়ি করল। ইচ্ছামতন চিল্লাইল। শেষমেশ আমার কইলজার টুকরাডার মুখ দিয়া ফেনা বাহির হইয়া গেসিল, ফকির সাব…’ বলতে-বলতে গলা ধরে এল তার। সাময়িক বিরতি দিয়ে আবারও মুখ খুলল সে, ‘এরপর শুরু হইল পাগলামি। হায়, ভগবান! যারে সামনে পাইসে, তারেই মারসে। কিল-ঘুষি-লাথি কিছুই বাদ দেয় নাই। এমনকী কয়েকজনরে কামড়াইয়া রক্তও বাহির কইরা ফালাইসে! অর মা-বইনের কথা আর কী কমু, আমারেও ছাড়ে নাই সে! শেষ পর্যন্ত আর দিশ-মিশ না পাইয়া আফনের লাইগা লোক পাঠাইসি।’

    গম্ভীর ভঙ্গিতে মাথা দোলাল নিতাই ফকির। ‘মাইয়া কই অহন?’

    ‘অর ঘরেই আছে। তালা মাইরা থুইসি।’

    মেরুদণ্ড টানটান করে বসল নিতাই। ‘কাঁচা বয়স। এই বয়সে কী দরকার আছিল সন্ধ্যাবেলায় চুল ছাইড়া পুকুর ঘাড়ে যাওনের?

    ‘পুকুর পাড়ে তো সে খুব একটা যায় না…’ বলতে গিয়ে বাধা পেল নরেন চেয়ারম্যান।

    রীতিমত খেঁকিয়ে উঠল নিতাই ফকির, ‘আফনে সারাদিন থাহেন বিচার-সালিশ লইয়া ব্যস্ত। মাইয়ার খবর আফনে জানবেন ক্যামনে? মাইয়ার মা’য় কই? তারে ডাকেন।’

    ডাকতে হলো না। চৈতালির মা, হেমা, পর্দার আড়ালেই ছিল; ওদের কথোপকথনের সবটুকুই কানে গেছে তার। গুটি গুটি পায়ে বারান্দায় এসে দাঁড়াল মহিলা!

    একে চেয়ারম্যানের স্ত্রী, তায় আবার অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে; স্বভাবতই অন্য দশ জন সাধারণ গ্রাম্য মহিলার তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক হেমা। চলাফেরায়ও বেশ সাবলীল সে; পরপুরুষের সামনে আসা নিয়ে খুব একটা জড়তা নেই তার ভিতরে। আর যেখানে নিজের মেয়ের জীবন বিপন্ন, সেখানে জড়তার কারণে আত্মগোপন করে থাকার তো প্রশ্নই আসে না।

    তবে নিতাই ফকিরের সঙ্গে চোখাচোখি হওয়া মাত্রই তার মনে হলো, কাজটা করা মোটেও ঠিক হয়নি! আলাপচারিতাটা আড়াল থেকে চালালেই ভাল ছিল। লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা ওই চোখ দুটো কি মানুষের নাকি পিশাচের? মানুষের চোখ বুঝি এমনও হয়!

    সর্বাঙ্গ ঢাকা থাকা সত্ত্বেও লোকটার সর্বগ্রাসী দৃষ্টির সামনে নিজেকে নগ্ন মনে হলো হেমার। অস্ফুট শব্দ করে নিজের অজান্তেই সভয়ে এক কদম পিছিয়ে গেল সে।

    জিভ বের করে নিজের শুকনো ঠোঁট জোড়া আচ্ছামতন চেটে নিল নিতাই। ইত্যবসরে একাধিকবার মহিলার পা থেকে মাথা পর্যন্ত নজর বুলিয়ে নিয়েছে সে।

    পেটানো দেহ, চমৎকার গড়ন; দেখলেই ভীষণ লোভ লাগে।

    মনে-মনে নিজেকে অশ্রাব্য কিছু গালি দিল নিতাই। মেয়ের পিছনে না লাগিয়ে প্রেতটাকে মায়ের পিছনে লেলিয়ে দেয়া উচিত ছিল তার। তাহলে ফূর্তি খানিকটা বেশি মিলত।

    তবে আফসোসের কিছু নেই। এবারে করা হয়নি বলে ভবিষ্যতেও আর কখনও করা যাবে না, এমন কোন মাথার দিব্যি দেয়নি কেউ! এই খেলা এখানেই শেষ নয়; অনন্তকাল ধরে চলবে।

    নিতাই কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই কথা বলে উঠল হেমা। ‘চৈতালি আইজ সারাদিন ঘরেই আছিল, পুকুর পাড়ে যায় নাই। অর চুলও খোলা আছিল না; আমি নিজে তেল দিয়া খোঁপা বাইন্ধা দিসি।’

    নিজের চেয়ারে খানিকটা নড়েচড়ে বসল তান্ত্রিক। ভারী গলায় বলল, ‘আফনে সত্য কইতাসেন তো? মিথ্যা কইলে কিন্তুক বিপদ হইতে পারে।’

    নিস্পৃহ দৃষ্টিতে নিতাইয়ের দিকে তাকাল হেমা, একবারের জন্যও চোখের পলক ফেলছে না। ‘সত্য কইতাসি। মিছা কথা কওনের কী আছে এইখানে?’

    তাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না গুণিন, হাতের ইশারায় যেতে বলল।

    ঝড়ের বেগে প্রস্থান করল হেমা। লোকটার কুৎসিত দৃষ্টির সামনে রীতিমত গা জ্বালা করছিল তার।

    .

    চার

    চৈতালির ঘরটা অন্ধকার। কোনার দিকে অল্প আঁচে একটা দিয়াড়ি জ্বলছে, এছাড়া অন্য কোন আলো নেই বিশাল ঘরটায়। দরজা-জানালার কবাটগুলো বন্ধ। ভিতরের বাতাস ভারী হয়ে আছে ধূপের কড়া গন্ধে।

    খাটের ওপর চিত হয়ে শুয়ে বেঘোরে ঘুমুচ্ছে যুবতী মেয়েটা। নিতাই ফকিরের আরকের ফল; কয়েক ঢোক পেটে পড়লে মদ্দা হাতিও ঘুমিয়ে কাদা হতে দিশ পায় না।

    ঘরে ঢুকে ধীর পায়ে খাটের দিকে এগিয়ে গেল নিতাই ফকির। শ্বাসের তালে- তালে ওঠানামা করছে মেয়েটার উন্নত বুক; মন্ত্রমুগ্ধের মত দৃশ্যটা খানিকক্ষণ গিলল সে। নিজে সে শক্তসমর্থ একজন পুরুষ মানুষ; রিপুর তাড়না এখনও কমেনি তার। এখনই মেয়েটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার ইচ্ছেটা পরিহার করতে নিজের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধ করতে হলো তাকে।

    অন্ধকার জগতের বাসিন্দা সে। ক্ষমতা বজায় রাখতে তাকেও কিছু অলিখিত বিধি-নিষেধ মেনে চলতে হয়। চাইলেই যা খুশি করার সুযোগ নেই। নয়তো ভয়াবহ অনর্থ ঘটে যাবে।

    চকিতে গত মাসের একটা ঘটনা মনে পড়ে গেল তার।

    শিকার হিসেবে ধনবানরা আদর্শ হয়। তাদের কাছ থেকে অন্ন সংস্থান করাটাই সবচাইতে সহজ। ঝুঁকির পরিমাণও তুলনামূলক কম। এসব তত্ত্ব মাথায় রেখেই বিষ্ণু পালের স্ত্রী মালতীর পিছনে অশরীরী লেলিয়ে দিয়েছিল নিতাই।

    বাজারে ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ নামডাক আছে বিষ্ণু পালের। ক’খানা ফটকা ব্যবসায় টাকা খাটিয়ে স্বল্প সময়েই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে সে। তাকে নিশানা করতে একবারের বেশি দু’বার ভাবতে হয়নি নিতাইকে।

    কিন্তু বিষ্ণুর বউটা যে এতটা সুন্দরী হবে, এটা নিতাই ভাবতেও পারেনি। নিজের কামনা দমনে সেদিনের মত কষ্ট আর কখনও করতে হয়নি তাকে!

    মালতীর নধর দেহটা স্মৃতির পর্দায় ভেসে উঠতেই হাসি ফুটল নিতাইয়ের মুখে; দু’চোখে দানা বাঁধল রাজ্যের লোভ। ক’দিন পর আবারও একবার বিষ্ণু পালের বাড়িতে হানা দিলে কেমন হয়?

    .

    নরেন চেয়ারম্যান আর হেমা হতবিহ্বল হয়ে বসে আছে বারান্দায়। দু’জনে করুণ চোখে বার-বার ফিরে তাকাচ্ছে চৈতালির ঘরের বন্ধ দরজার দিকে।

    কী হচ্ছে ঘরের ভিতরে?

    তাদের আদরের মেয়েটার সাথে কী করছে নিতাই ফকির?

    হেমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই মুখ নামিয়ে নিল নরেন। কাজটা স্ত্রীর অমতে করতে হয়েছে বলে খানিকটা অনুতপ্ত। ওই বদ তান্ত্রিকের হাতে নিজের কন্যাকে সঁপে দেয়ার ইচ্ছে তো তারও ছিল না। কিন্তু এই দুঃসময়ে আর কী-ই বা করার ছিল?

    তবে চৈতালির সঙ্গে নোংরা কিছু করার চেষ্টা করলে, আজ এখানে, এই চেয়ারম্যান বাড়িতেই মারা পড়বে গুণিন। কালুর লাঠিয়াল বাহিনীকে সেরকমই নির্দেশ দেয়া আছে।

    দাঁতে দাঁত চেপে আবারও মেয়ের ঘরের দিকে তাকাল নরেন। করছেটা কী ওই হারামজাদা?

    ঠিক তখনই অপার্থিব চিৎকারটা শুনতে পেল সবাই!

    ভয়ঙ্কর হিংস্র একটা গর্জন! যেন হাজারটা বাঘের টুটি চেপে ধরেছে কেউ, আর সবক’টা বাঘ একযোগে হুঙ্কার ছাড়তে চাইছে! সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে অসহ্য একটা গোঙানি আর বিরামহীন হিস্ হিস্ শব্দ। আর যা-ই হোক, কোন মানুষের পক্ষে অমন আওয়াজ করা সম্ভব নয়!

    তীব্র আতঙ্কে স্বামীর হাত আঁকড়ে ধরল হেমা; সারা শরীর ক্রমাগত কাঁপছে তার। বাহুতে নখ দেবে গিয়ে যে প্রচণ্ড ব্যথা পাচ্ছে নরেন, সেদিকে বিন্দুমাত্র খেয়ালও নেই তার।

    আচমকা এক ঝলক দমকা হাওয়া এসে আছড়ে পড়ল ঘরের চালায়। পট্-পট্ করে নিভে গেল বারান্দার সবক’টা হারিকেন!

    ‘ও, মা গো! অইডা কী? অইডা কী?’ তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠল একজন বুড়োমতন কাজের মহিলা। পরক্ষণেই হাত পা ছড়িয়ে মূর্ছা গেল সে।

    উত্তেজনায় দৌড়ে গিয়ে উঠনে দাঁড়াল কালু; উদ্ভ্রান্তের মত এদিক-ওদিকে তাকাচ্ছে। তার দলের অন্য কেউ অবশ্য তার সঙ্গী হলো না; ওরা বারান্দায় দাঁড়িয়েই সম্মিলিতভাবে ইষ্টনাম জপ করা শুরু করল।

    ততক্ষণে প্রায় সবাই-ই দেখতে পেয়েছে ওটাকে। চৈতালির ঘর থেকে বেরিয়ে, শূন্যে ভর করে, ভেসে ভেসে দূরে সরে যাচ্ছে একটা ধূসর ছায়া! প্রতি মুহূর্তেই পাল্টে যাচ্ছে ছায়াটার আকৃতি!

    আচমকা আরেক পশলা ঝোড়ো হাওয়া প্রবল আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ল ওটার ওপরে! পরমুহূর্তেই সবার চোখের সামনে থেকে বেমালুম গায়েব হয়ে গেল ছায়াটা। কোথাও আর ওটাকে দেখা গেল না।

    এই হৈ-হট্টগোলের মাঝে কখন যে ভয়ঙ্কর আর্তনাদটা থেমে গেছে, কেউই সেটা খেয়াল করেনি। এখন আচমকা চারপাশ নীরব হয়ে যাওয়ায়, যে যার জায়গায় স্থাণুর মত দাঁড়িয়ে রইল বাড়ির বাসিন্দারা। কী করবে, কেউই ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।

    ঠিক তখনই চৈতালির ঘরের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এল নিতাই ফকির সারা শরীর ঘামে ভিজে জবজব করছে।

    দ্রুত পায়ে হেঁটে এসে চেয়ারম্যানের পাশের খালি চেয়ারটায় বসল সে। তারপর মুখ তুলে তাকাল নরেনের দিকে। ‘আফনের মাইয়া ভালা হইয়া গেছে। সব সমস্যা খতম।

    আর শোনার অপেক্ষা করল না হেমা, সবেগে ছুটে গেল চৈতালির ঘরের দিকে।

    অপ্রকৃতিস্থের মত ঠায় বসে রইল নরেন চেয়ারম্যান। চোখেমুখে ফুটে উঠেছে একরাশ কৃতজ্ঞতা। অবাধে গড়িয়ে পড়া তার দু’ফোঁটা অশ্রুতে কতখানি ভালবাসা নিহিত আছে, সেটা পরিমাপ করার সাধ্য নেই কারও!

    দাঁত কেলিয়ে হাসল নিতাই, ভেজা ঠোঁটে জিভ বুলাল। ‘কিছুদিন কিন্তুক দুব্বল থাকবে মাইয়াডা। যা একখান ধকল গেল! এই সময় অরে ভাল-মন্দ খাইতে দিতে হইবে। দুধ-ডিম, মাংস; শিঙি-মাগুরের ঝোল। এগুলান খাইলে শইল্যে রক্ত হয়। রক্ত তো বেবাকতেরই দরকার। কিপ্টামি করন যাইবে না কিন্তুক। নাইলে বিরাট ক্ষতি হইয়া যাইবার পারে।’

    সজোরে মাথা নাড়ল নরেন চেয়ারম্যান। হাতের চেটো দিয়ে চোখ মুছল। ‘কী কন এগুলা! কিপ্টামি করুম ক্যান আমি! ভগবান কি আমারে কিছু কম দিসে নাকি? যা-যা কইসেন, সবই আমি খাওয়ামু আমার মাইয়ারে।’

    ‘হের লাইগাই তো ট্যাকা-পয়সাওয়ালা মালদার পার্টিই আমার পছন্দ…’ অনুচ্চ স্বরে বিড়বিড় করল নিতাই।

    ‘কিছু কইলেন নাকি, ফকির সাব?’ বুঝতে না পেরে জানতে চাইল নরেন।

    ‘নাহ্। কইতাসিলাম যে, মাইয়াডারে আমি একটা মাদুলি পরাইয়া দিসি। মন্ত্র পরা মাদুলি; রক্ষাকবচ। ওইডা এক মাস গলায় রাখতে হইবে, খোলা যাইবে না। এমুনকী গোসলের সময়ও খোলা যাইবে না। তাইলে আবারও আলগা বাতাসটা ফেরত আইবার পারে। আবার যদি ফেরত আহে, ওইডারে খেদানো কিন্তুক খুবই কঠিন হইবে।’

    আতঙ্ক ভর করল চেয়ারম্যানের চেহারায়। ‘না, না। খুলবে ক্যান? খুলবে না। আফনে যেমনে কইবেন, হেমনেই চলবে হে। হেইডা নিয়া দুইকথা হইবে না।’

    না খুললেই ভাল; মনে-মনে বলল নিতাই ফকির। তাহলে আর গলার দগদগে ক্ষতটা চোখে পড়বে না কারও। দিন পনেরোর মধ্যেই দাগ দুটো মিলিয়ে যাওয়ার কথা; সবার ক্ষেত্রে তা-ই হয়। তবুও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এক মাস রাখতে বলা।

    ‘আফনে কিন্তুক আজকে এইখানে খাইয়া যাইবেন। মানা করতে পারবেন না,’ আর্দ্র গলায় বলে উঠল নরেন চেয়ারম্যান। নিতাইয়ের ডান হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় তুলে নিয়েছে সে।

    মুচকি হাসল গুণিন।

    তাজা রক্ত পেটে পড়েছে আজ। মুখের স্বাদটা নষ্ট হবে, এমন কিছু আর আগামী কয়েকদিন খাবে না সে। উষ্ণ রক্তের সাথে পৃথিবীর অন্য সব খাবারের কোন তুলনাই চলে না। একবার যে এর স্বাদ পেয়ে যায়, বাকি সমস্ত খাবার তার কাছে পানসে লাগে!

    ‘হেইডা পরে দেখা যাইবে। আফনে অহন মাইয়াডার কাছে যান। অরে প্রাণ ভইরা আদর করেন।’

    তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়াল নরেন, পা বাড়াল চৈতালির ঘরের দিকে। কন্যার কাছে যাওয়ার জন্য সেই তখন থেকেই প্রাণ আইঢাই করছিল তার। তান্ত্রিককে একা রেখে যাওয়াটা শোভন হবে না বলে যেতে পারছিল না।

    উঠন থেকে পায়ে-পায়ে নিতাই ফকিরের সামনে এসে দাঁড়াল কালু। চৈতালিকে সুস্থ করে তোলায়, আদতেই গুণিনের প্রতি কৃতজ্ঞ বোধ করছে সরলমনা বিশালদেহী মানুষটা।

    তাকে আপাদমস্তক নিরীখ করল তান্ত্রিক। দিব্য চোখে দেখতে পেল, কালুর প্রকাণ্ড দেহটার শিরা-ধমনীতে তীব্র বেগে ছুটে চলছে উষ্ণ রক্তের স্রোত! কয়েকবার করে পান করলেও যে ভাণ্ডার সহসা নিঃশেষ হবে না!

    আবারও ঠোঁট চাটল নিতাই ফকির।

    বহু কষ্টে কালুর ওপর থেকে নজর সরিয়ে উঠে দাঁড়াল

    ভ্যাম্পায়ার হওয়ার কত যে জ্বালা, কেবল ভ্যাম্পায়াররাই সেটা জানে!

    .

    তৌফির হাসান উর রাকিব

    ***

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleকাঞ্চন-মূল্য – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    Next Article সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    Related Articles

    তৌফির হাসান উর রাকিব

    হাতকাটা তান্ত্রিক – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    August 25, 2025
    তৌফির হাসান উর রাকিব

    অন্ধকারের গল্প – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    August 25, 2025
    তৌফির হাসান উর রাকিব

    ট্যাবু – তৌফির হাসান উর রাকিব

    August 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Our Picks

    ধূসর আতঙ্ক – অনীশ দাস অপু সম্পাদিত

    April 24, 2026

    সমুদ্র কন্যা – আশাপূর্ণা দেবী

    April 24, 2026

    নিশিডাকিনী – তৌফির হাসান উর রাকিব সম্পাদিত

    April 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }