Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৬ (ষষ্ঠ খণ্ড)

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প504 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছদ্মবেশী – ৫

    পঞ্চম পরিচ্ছেদ

    আমি মাণিকজীর নিকট যেরূপ শুনিলাম, তাহাতে পালনজীর উপরেই সর্বাগ্রে সন্দেহটা বদ্ধমূল হয়। কাল রাত্রে দেরাজের মধ্যে দুই হাজার টাকা রাখিয়াছেন এবং বাড়ী অরক্ষিত অবস্থায় পড়িয়া আছে, এ কথা মাণিকজী কেবল পালনজীকেই বলিয়াছিলেন। অথচ সেই রাত্রের মধ্যেই পালনজীর টাকা চাই-ই, রাত্রের মধ্যে যেরূপে হউক তাঁহাকে পাঁচ শত টাকা সংগ্রহ করিতেই হইবে, একথা পালনজী নিজে, মাণিকজীকে বলিয়াছেন। অভাবে স্বভাবও নষ্ট হয় এরূপ স্থলে অবশেষে অনন্যোপায় হইয়া পালনজীকে চৌর্য্যবৃত্তি অবলম্বন করিতে হইয়াছিল—সেই সময়ে মিরিয়ম বাঈ তাঁহার উদ্দেশ্য সাধনের অন্তরায় হওয়ায় হতভাগ্য পালনজীকে একটি ক্ষুদ্র অপরাধ গোপন অথবা সাধন করিবার জন্য বাধ্য হইয়া তদপেক্ষা এক বৃহত্তর অপরাধে অপরাধী হইতে হইয়াছে। ইহাই সহজে সকলের মনে আগে উদয় হয়; মাণিকজীরও যে না হইয়াছে, তাহা নহে; তথাপি তাঁহার উপর মাণিকজীর অগাধ বিশ্বাস; তিনি ত প্রথমে পালনজীর কথা আমার কাছে একেবারে চাপিয়া যাইবার চেষ্টা করিতেছিলেন, আমি পীড়া-পীড়ি করিয়া না ধরিলে, হয় ত তাহা তিনি করিতেনও।

    আপাততঃ যাহাতে এই হত্যাকাণ্ডের ভিতরের কোন কথা কোন সংবাদপত্রে বাহির না হয়, সে দিকে বিশেষ মনোযোগ রাখা যুক্তিযুক্ত বোধ করিলাম। সম্পাদকগণ এই সকল কাহিনী শব্দালঙ্কারে সাজাইয়া তাঁহাদিকের গ্রাহক বর্গের ক্ষুন্নিবৃত্তি করিয়া থাকেন বটে, কিন্তু তাঁহাদের এই সামান্য স্বার্থের জন্য আমাদিগকে এক এক সময় বাইশ হাত জলে গিয়া পড়িতে হয়। পলাতক আসামীগণ তাহাদিগের তখন কোন পথ অবলম্বনীয়, তাহা ঠিক করিয়া লইবার বেশ একটি সুবিধা পায়, এবং তাহা হইতেই সাধ্যানুসারে সতর্ক হয়।

    পাথরের পুতুলটাও আমার একটা বড় চিন্তার বিষয় হইল। অজ্ঞাতসারে হত্যাকারীর বুক-পকেট হইতেই যে পাথরের পুতুলটা পড়িয়া গিয়াছে, ইহা নিশ্চয়। এই ধরণের পুতুল আমাদের এখানে বড় একটা দেখিতে পাওয়া যায় না, সিলোনেই পাওয়া যায়। হয় হত্যাকারী কাল সিলোন হইতে কোন জাহাজে এখানে আসিয়া পৌঁছিয়াছে না হয় সিলোন হইতে প্রত্যাগত কোন বন্ধুর নিকট হইতে ইহা সে পাইয়া থাকিবে; যে কোন প্রকারেই হউক কাল এই পুতুলটা তাহার হস্তগত হইয়াছিল। নতুবা দুই দিন হইতে যে, সে আধসের ওজনের এত বড় একটা পাথরের পুতুল বুক-পকেটে বহিয়া ঘুরিয়া বেড়াইবে, ইহা কখনই সম্ভবপর নহে। যাহা হউক একবার বেন্দোরায় গিয়া ইহার সন্ধান লইতে হইবে। ইহাছাড়া হত্যাকারীকে সন্ধান করিয়া বাহির করিবার আরও একটা সূত্র রহিয়াছে—মাণিকজীর সেই অপহৃত নোটগুলি। ভাবিয়া দেখিলাম, আগে নোটগুলিরই সন্ধান লওয়া ঠিক। হত্যাকারীর লক্ষ্যে উদ্যত আমার এই দুইটি শরের দুইটিই যে ব্যর্থ যাইবে, এরূপ আমি মনে করি না।

    বাড়ীতে আসিয়া আহারাদি করিয়া নোটগুলির সন্ধানে পুনরায় বেলা দুইটার পর বাহির হইয়া পড়িলাম। উদ্দেশ্য সফল হইল বেলা তিনটার পর সংবাদ পাইলাম, সেইদিনই বেলা দশটার সময় মাণিকজীর অপহৃত বিশখানি নোটের পাঁচখানি নোট একটি ব্যাঙ্কে জমা পড়িয়াছে। কি আশ্চর্য্য! হত্যাকারী লোকটা কি এমনই কাঁচা—একটা বালকের যে বুদ্ধিটুকু থাকা সম্ভব সেটুকুও কি তাহার মস্তিষ্কে নাই! তাহার পর যখন জানিতে পারিলাম, সেই পাঁচখানি নোট সেইখানকার একজন প্রতিষ্ঠা পত্র ব্যবহারাজীবী জমা দিয়াছেন, তখন নোটগুলি পাইয়া আমার যতখানি আনন্দিত হওয়া উচিত আমাকে তাহার দশগুণ বিস্মিত হইতে হইল। এমন একটা খুনের মামলায় তাঁহার ন্যায় একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির কি সংসক্তি থাকিতে পারে, কিছুই ভাবিয়া পাইলাম না। তাঁহার নাম দাদাভাই নবরজী।

    ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

    বোম্বে সহরে দাদাভাই নবরজীর মান-সম্ভ্রম খুব। সাক্ষাৎ সম্বন্ধে তাঁহার সহিত আমার পরিচয় না থাকিলেও তাঁহার নাম ও গুণগ্রাম আমার অবিদিত ছিল না। আমি বেলা পাঁচটার পর তাঁহার বাড়ীতে যাইয়া তাঁহার সহিত দেখা করিলাম। তিনি আমাকে অভ্যর্থনা করিয়া তাঁহার ড্রইংরুমে লইয়া গিয়া বসাইলেন। আমি হত্যা সম্বন্ধে কোন কথার উল্লেখ না করিয়া সেই পাঁচখানি নোটের কথাই আগে উত্থাপন করিলাম। আমার মুখে নোটের কথা শুনিয়া তিনি কোনরূপ চাঞ্চল্য প্রকাশ করিলেন না। বলিলেন, “আমি যে পাঁচখানি নোট ব্যাঙ্কে জমা দিয়াছি, তাহাতে কোন গোল থাকিতে পারে এমন আমার বোধ হয় না।”

    আমি বলিলাম, “আপনি যাহা বোধ করিতেছেন, তাহা ঠিক নহে। নোটগুলির ভিতরে একটা বিশেষ গোলযোগ আছে, নতুবা এমন অসময়ে আমি আপনাকে বিরক্ত করিতে আসিতাম না।”

    “আচ্ছা, দেখিতেছি”, বলিয়া তিনি টেবিলের উপরিস্থিত কলিংবেলে বারত্রয় আঘাত করিলেন। তৎক্ষণাৎ একজন ভৃত্য তাঁহার সম্মুখে দাখিল হইল। তিনি ভৃত্যকে বলিলেন, “ফামজীকে এখানে একবার আসিতে বল।”

    ভৃত্য চলিয়া গেল।

    দাদাভাই আমাকে বলিলেন, “তাই ত ফামজী আবার আমাকে বিপদে ফেলিল, দেখিতেছি। মনে করিয়াছিলাম, কথাটা চাপিয়া যাইব অনেক দিন হইতে লোকটা আমার কাছে রহিয়াছে, একটা মায়া পড়িয়া গিয়াছে। কিন্তু আর সহ্য করা যায় না। যাহা হউক, কথাটা আপনি আর কাহারও কাছে প্রকাশ করিবেন না।”

    আমি বলিলাম, “কথাটা কি না শুনিলে, তাহা আমি এখন কিরূপে বলিব; তবে যদি আবশ্যক না হয়, তাহাই হইবে। আমি একজন ডিটেকটিভ—কেবল কৌতূহল চরিতার্থ করিবার জন্য আমি আপনার কাছে আসি নাই, কার্য্যোদ্ধারের জন্য যাহা কিছু আবশ্যক—তাহা আমাকে বাধ্য হইয়া করিতেই হইবে।”

    তিনি কি বলিতে যাইতেছিলেন, এমন সময়ে দ্বার ঠেলিয়া একটি যুবক সেই প্রকোষ্ঠে ধীরে ধীরে প্রবেশ করিল। যুবকটি দেখিতে যেমন দীর্ঘ, তেমনই কৃশ এবং মুখমণ্ডলে সঙ্কোচ ও উদ্বেগের চিহ্ন স্পষ্ট প্রকটিত। তাহারই নাম ফামজী। একবার সঙ্কুচিত দৃষ্টিতে আমার দিকে চাহিয়া দাদাভাই নবরজীর মুখের দিকে চাহিয়া রহিল।

    দাদাভাই বলিলেন, “দেখ ফামজী, ইনি একজন পুলিস-কৰ্ম্মচারী, তুমি আজ সকালে আমাকে যে পাঁচখানি নোট দিয়াছ, ইনি বলিতেছেন, সে নোটগুলির ভিতরে একটা গোলযোগ আছে।”

    ফামজী একটু ইতস্ততঃ করিয়া জড়িতকণ্ঠে বলিল, “না-না মিথ্যা কথা। কোন গোল নাই।” বলিতে

    বলিতে ফামজীর মুখমণ্ডল আরক্ত তৎক্ষণাৎ আবার মলিন হইয়া গেল।

    আমি তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “এই নোটগুলি আপনি কোথায় পাইয়াছিলেন?”

    ফামজী বলিল, “আমার ভগিনী আমাকে দিয়াছেন।”

    “কখন দিয়াছেন?”

    “আজ প্রত্যুষে।”

    “কতগুলি নোট পাইয়াছেন?”

    “আপনার ভগিনীর নিকট হইতে কোন্ প্রয়োজনে আপনি এই পাঁচশত টাকা লইয়াছেন?” ফামজী কোন উত্তর করিলেন না। দীননেন্ত্রে দাদাভাই নবরজীর মুখের দিকে চাহিলেন। দাদাভাই বলিলেন, “ফামজী, আমার মুখের দিকে চাহিয়া আর কোন ফলনাই। কোন্ প্রয়োজনে টাকা আনিয়াছ, বল। আর সত্যই যদি তুমি একটা পাপ লুকাইতে গিয়া আর একটা পাপ করিয়া থাক, তাহা হইলে এবার তুমি মরিলে, এবার আর আমার হাত নাই।”

    ক্ষুব্ধভাবে ফামজী বলিয়া উঠিলেন, “না-না, আমি আর কোন অপরাধ করি নাই।” তাহার পর আমার দিকে ফিরিয়া কহিলেন, “দেখুন মহাশয়, আমি হইার একজন কর্ম্মচারী মুহুরীর কাজ করিয়া থাকি। দিনকতক জুয়াখেলা ধরিয়াছিলাম; তাহাতে আমি পাঁচশত টাকার দেনদার হইয়া পড়ি। কোনরূপে সে টাকা পরিশোধ করিতে না পারায়—আমার দুম্মতি হইয়াছিল, তাই এমন সদাশয় মনিবের পাঁচশত টাকা তহবীল তছরূপ করি। ইনি কাল তাহা জানিতে পারিয়া আমাকে সেই টাকা তখনই দাখিল করিতে বলেন, আর ঐ টাকা ফিরিয়া পাইলে ক্ষমা করিয়া কাজে বহাল রাখিতে সম্মত হন। আমি আর কোন উপায় না পাইয়া আমার ভগিনীকে নিজের বিপদের কথা জানাই। আমার ভগিনীর আর্থিক অবস্থা ভাল নহে; তাহা না হইলেও সে আমাকে বিপন্ন দেখিয়া পাঁচশত টাকা দিতে স্বীকার করে। কিন্তু নিজের হাতে টাকা না থাকায় পালনজী পেষ্টনজীর নিকটে টাকা চাহে, পালনজী তাহাকে অর্থ সাহায্য করিতে সম্মত হন, কাল রাত্রেই তিনি আমার ভগিনীকে পাঁচশত টাকা আনিয়া দেন। আমি সেই টাকা আমার ভগিনীর নিকট হইতে আজ সকালে আনিয়া আমার মনিবকে দিই। ইনি টাকাটা পাইয়াই ব্যাঙ্কে জমা দিয়াছেন। ইহাতে গোলযোগের কিছু ত দেখি না।”

    আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “পালনজীর সহিত আপনাদের কি সম্পর্ক?”

    ফামজী বলিলেন, “আমার ভগিনীকে তিনি বিবাহ করিবেন।”

    “আপনার ভগিনীর নাম কি?

    “হীরাবাঈ।”

    “তিনি কোথায় থাকেন?”

    “গোকুলদাসের হাসপাতালের দক্ষিণ দিককার একটা গলিতে থাকেন।”

    অদ্যাপি যে রহস্য আবৃত ও মলিন ছিল, ফামজীর কথাগুলি যেন তাহা ধুইয়া মুছিয়া ঝকঝকে তকতকে করিয়া তুলিল। এতক্ষণে বেশ বুঝিতে পারিলাম, পালনজীই অর্থের জন্য মিরিয়ম বাঈকে নিশ্চয় খুন করিয়াছে—আর সন্দেহ করিবার কিছুই নাই। কি আশ্চর্য্য! লোকটা কি এমনই অপদার্থ—একটা স্ত্রীলোকের মন রাখিতে গিয়া অনায়াসে এমন একটা ভয়ানক কাজ করিয়া ফেলিল! মনে মনে স্থির করিলাম, হীরাবাঈ এর সহিত এখন দেখা করিবার আর আবশ্যকতা নাই; হতভাগ্য পালনজীকে একেবারে গ্রেপ্তার করাই ঠিক। আমি ঠিক পথই ধরিয়াছি। পালনজীর কানে এই সকল কথা যাহাতে আগে না ওঠে, সেজন্য আমি দাদাভাই ও তাঁহার মুহুরীকে কোন কথা কাহারও নিকট প্রকাশ করিতে নিষেধ করিয়া দিলাম। বিশেষতঃ ফামজীর মুখে যদি তাহার ভগিনী হীরাবাঈ এই সকল কথা শুনিতে পায়, সে আগে হইতেই তাহার প্রণয়ী পালনজীকে সতর্ক করিয়া দিবে।

    আমি দাদাভাই ও ফামজীকে বলিলাম, “দেখুন অন্ততঃ অনুগ্রহপূর্বক চব্বিশ ঘন্টার জন্য আপনারা এই কথাটা কাহাকেও বলিবেন না― পরে আপনারা সকলই জানিতে পারিবেন। যেজন্য আপনাদিগকে এই সকল কথা জিজ্ঞাসা করিলাম, সে অনেক কথা—বলিতে অনেক সময় লাগিবে—আমি আর এখানে বিলম্ব করিতে পারিতেছি না তাহা না হইলে হয় ত আমার মুখেই আপনারা সব শুনিতে পাইতেন।”

    ব্যগ্রভাবে ফামজী জিজ্ঞাসা করিল, “আমার ভগিনীর কি কোন বিপদের সম্ভাবনা আছে?”

    আমি বলিলাম, “না না—কিছু না।”

    ফামজী আমার কথা কানে না তুলিয়া হতাশ ভাবে বলিল, “আমার ভগিনীই — ”

    আমি বাধা দিয়া বলিলাম, “আঃ! কেন আপনি ব্যাকুল হইতেছেন? আমার কথায় বিশ্বাস করুন, আপনার কি আপনার ভগিনীর কোন বিপদ ঘটিবে না সেজন্য আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করিব—চিন্তিত হইবেন না। আমার কথা যেন স্মরণ থাকে, আপাততঃ ঘুণাক্ষরে এ সকল কথা যেন কাহারও কানে না উঠে।”

    দাদাভাই ও ফামজী উভয়েই আমার কথায় সম্মত হইলেন।

    সপ্তম পরিচ্ছেদ

    পরদিন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হইতে পালনজীর নামে একখানা ওয়ারেন্ট বাহির করিয়া লইলাম। পালনজীর বিরুদ্ধে যে সকল প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে, তাহা তাঁহাকে ফাঁসী কাঠে তুলিয়া দিবার পক্ষে খুবই বলবৎ। বিশেষতঃ মাণিকজীর অপহৃত নোটগুলির মধ্য হইতে যখন পাঁচখানি নোট পালনজীর হাত দিয়া বাহির হইয়াছে—তখন ত এ কেসটা দিবালোকের ন্যায় একেবারে পরিষ্কার হইয়া গিয়াছে—তবে একটা কথা হইতেছে—সেই পাথরের পুতুল, সেটা যদি পালনজীর বলিয়া এখন প্রমান করিতে পারি, তাহা হইলে আর কোন গোলযোগ থাকে না।

    ওয়ারেন্ট বাহির করিয়া আমি পালনজীর বাড়ীতে গিয়া উপস্থিত হইলাম, এবং আমার শুভাগমনের কারণ বিজ্ঞপ্তি করিলাম। পালনজী অতিমাত্র বিস্ময়ের সহিত তাহা শুনিলেন। কিছুতেই তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করিলেন না সেধার দিয়াই গেলেন না সকল কথাই উড়াইয়া দিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন যেন একেবারেই কিছুই জানেন না। তিনি যে নিজের অপরাধ স্বীকার করিবেন না, ইহা আমি আগে হইতেই জানিতাম। কিন্তু তিনি যে এরূপভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করিবেন, এরূপ আশা করি নাই।

    পালনজী বলিলেন—একান্ত উদ্বিগ্নভাবেই বলিলেন, “আপনার ভ্রম হইয়াছে, আপনি কিসে আমাকে দোষী স্থির করিতেছেন—বুঝিতে পারিতেছি না; আমি কেন মিরিয়ম বাঈকে খুন করিব? কোন কারণ নাই। এই খুনের সংবাদটা শুনিয়া বোধ করি—আমার ন্যায় আর কেহ এত অধিক বিস্মিত হয় নাই। এমন কি প্রথমে আমি ইহা বিশ্বাস করিতে পারি নাই।”

    “আপনি খুনের রাত্রে মাণিকজীর বাড়ীতে গিয়াছিলেন?”

    “গিয়াছিলাম। কেন আমি তাহা এখন আপনার নিকটে অস্বীকার করিতে যাইব? বিশেষতঃ যখন আমি নিজেকে নিরপরাধ বলিয়া জানি—তখন ত কোন কথা গোপন করিবার কোন আবশ্যকতা দেখি না।”

    “দেখুন, আমি আপনাকে সতর্ক করিয়া দিতেছি, এখন আপনি মুখ দিয়া যে কথা বাহির করিবেন, পরে তাহাই আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ রূপে গণ্য হইবে। যাহা বলিবেন, বুঝিয়া বলিবেন।

    “সেজন্য আমি ভাবি না—আমি আত্মপক্ষ সমর্থন করিতে পারিব। আমি খুনের রাত্রে বন্ধু মাণিকজীর নিকটে পাঁচশত টাকা চাহিয়াছিলাম; সেই টাকা—”

    “—হীরাবাঈকে দিবার জন্য?”

    চমকিত ভাবে পালনজী আমার মুখের দিকে চাহিলেন। ব্যাকুলকন্ঠে বলিলেন, “কিরূপে আপনি ইহা জানিতে পারিলেন?”

    আমি বলিলাম, “হীরাবাঈ এর ভ্রাতার নিকটে আমি শুনিয়াছি। আপনি যে পাঁচখানি নোট পাঠাইয়া দিয়াছিলেন, দাদাভাই তাহা ব্যাঙ্কে জমা করিয়া দেন। এত শীঘ্র সেই নোটগুলি বাহির করা আপনার ঠিক হয় নাই—বড়ই কাঁচা বুদ্ধির কাজটা করিয়া ফেলিয়াছেন; অপরাধ গোপন করিবার জন্য আপনার বিধিমত সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আর সতর্ক হইবেনই বা কি—আপনাকে বাধ্য হইয়াই টাকাগুলি এত শীঘ্র বাহির করিয়া দিতে হইয়াছে—নতুবা হীরাবাঈ-এর ভ্রাতা শ্রীমান্ ফামজীকে যে শীঘরে গমন করিতে হয়।”

    অত্যন্ত ভয়ানক ভাবে উত্তেজিত হইয়া পালনজী বলিয়া উঠিলেন, “আপনি ভদ্রলোকের সম্মান রাখিয়া কথা কহিবেন। আমি এখনও বলিতেছি—আমি খুন করি নাই—আমি আপনারই ন্যায় নিরাপরধ। আমি হীরাবাঈ-এর অনুরোধে, তাহার ভ্রাতাকে কোন একটা বিপদ হইতে রক্ষা করিবার জন্য আমার বন্ধু মাণিকজীর নিকট হইতে পাঁচশত টাকা মাত্র কর্জ্জ করি।”

    “কিন্তু আপনার সেই বন্ধুই বলিতেছেন, আপনাকে তিনি টাকা দেন নাই।”

    অগ্নিসৃষ্ট বারুদের ন্যায় পালনজী যেন দপ্ করিয়া জ্বলিয়া উঠিলেন। দৃঢ়স্বরে বলিলেন, “তাহা হইলে তিনি ঘোরতর মিথ্যাবাদী—মিথ্যা কথা বলিয়াছেন। বেন্দোরা ষ্টেশনে তাঁহার সহিত আমার দেখা হয়। আমি তাঁহার নিকটে পাঁচশত টাকা চাহিবা মাত্র তিনি টাকা দিতে চাহিলেন, কিন্তু তাহার নিকটে বেশি টাকা না থাকায় দিতে পারিলেন না। আমাকে বলিলেন, তাঁহার টাকা মজুত আছে পরে যখনই আমি চাহিব, তখনই পাইব। এদিকে আমার সেইরাত্রে টাকার দরকার, আমি তখনই তাঁহার বাড়ীতে গিয়া তাঁহার স্ত্রীর নিকট হইতে টাকাগুলি পাইতে পারি, এই মর্ম্মে একখানি পত্র লিখিয়া দিবার জন্য তাঁহাকে অনুরোধ করিলাম।”

    “কিন্তু আপনার এই অনুরোধ তিনি রাখিতে পারেন নাই?”

    “না না, সে কি কথা, তিনি তখনই আমাকে পাঁচশত টাকার উল্লেখ করিয়া তাঁহার স্ত্রীর নামে একখানা পত্র লিখিয়া দিলেন। আমি সেই পত্ৰ লইয়া তখনই মাণিকজীর বাড়ীতে গেলাম। স্বামীর পত্র পাইয়া মিরিয়ম বাঈ আমাকে পাঁচশত টাকা দিলেন, তখন রাত প্রায় নয়টা। আমি সেই টাকা হীরাবাঈকে সেই রাত্রেই আনিয়া দিই।”

    আমি সন্দিগ্ধভাবে বলিলাম, “আপনার ন্যায় এরূপ ভাবে আর কাহাকেও কখন আত্মরক্ষা সমর্থনের চেষ্টা করিতে দেখি নাই। আপনি যাহা বলিতেছেন, মাণিকজী সে কথা একেবারে অস্বীকার করিতেছেন, তিনি বলিতেছেন, আপনাকে সে রাত্রে তিনি টাকা কি কোন পত্র দেন নাই।”

    আমি তাঁহার সহিত উপহাস করিতেছি মনে করিয়া পালনজী অত্যন্ত কঠিনভাবে আমার মুখের দিকে চাহিলেন। তাঁহার ভাব দেখিয়া এরূপ বোধ হইল, যেন তিনি আমার কথা বিশ্বাস করিতে পারিতেছেন না। ক্ষণপরে তিনি একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়া বলিলেন, “আশ্চর্য্য! তিনি কি বলিতেছেন, আমাকে পত্ৰ লিখিয়া দেন নাই?”

    “না। সে পত্র কি আপনি আমাকে দেখাইতে পারেন?”

    “না, আমি তাহা মিরিয়ম বাঈকে দিয়াছিলাম।”

    “কই, সে পত্র এখনও পাওয়া যাইতেছে না। আপনার কথা সত্য হইলে, সে পত্র এতক্ষণে আমারই হস্তগত হইত। বিশেষতঃ সে পত্রখানা মিরিয়ম বাঈ-এর নষ্ট করিবার কোন কারণ দেখিতেছি না।

    “আপনি কি আমার কথা বিশ্বাস করিতেছেন না?”

    “বিশ্বাস করিবার ত কোন কারণই খুঁজিয়া পাইতেছি না; মাণিকজী বলিতেছেন, আপনাকে সে রাত্রে তিনি টাকা দেন নাই, অথচ তাঁহার অপহৃত নোটগুলির পাঁচখানি নোট আপাততঃ আপনার নিকটে পাওয়া যাইতেছে; এরূপ স্থলে আপনার কথায় কিরূপে আমার বিশ্বাস হইতে পারে?”

    “সত্যই কি এখন মাণিকজী বলিতেছেন, আমাকে তিনি টাকা দেন নাই?”

    “না, তিনি আপনাকে টাকা দেন নাই।”

    অত্যন্ত হতাশভাবে পালনজী বলিলেন, “তবে তিনি নিশ্চয়ই পাগল হইয়া গিয়াছেন; তিনি আমার পরম বন্ধু, আমারই বিরুদ্ধে তিনি এমন ভয়ানক মিথ্যাকথা কিরূপে বলিতেছেন!”

    আমি আর অনর্থক বাগ্বিতণ্ডায় সময়ের অপব্যয় করা যুক্তিযুক্ত নয় ভাবিয়া তাঁহাকে বলিলাম, “আর তর্কে প্রয়োজন নাই, তর্ক করিতে আপনার কাছে আসি নাই। পুনর্ব্বার আপনাকে স্মরণ করাইয়া দিতেছি, আমার কাছে এখন আপনি যাহা কিছু বলিবেন, তাহা পরে আপনার বিরুদ্ধে প্রমাণ রূপে ব্যবহৃত হইতে পারে। বাহিরে গাড়ী দাঁড়াইয়া আছে, এখন আপনাকে আমার সঙ্গে থানায় যাইতে হইবে।’

    “তাহাই হউক”, বলিয়া পালনজী সবেগে উঠিয়া দাঁড়াইলেন। এবং আমার সঙ্গে বাহিরে আসিয়া গাড়ীতে উঠিলেন।

    গাড়ী থানা অভিমুখে ছুটিল।

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    মিরিয়ম বাঈ-এর হত্যাপরাধে পালনজী ধৃত হইয়াছেন, এই সংবাদটি যেন দেখিতে দেখিতে কোথা হইতে একেবারে সহরের চারিদিকে ছড়াইয়া পড়িল। বেন্দোরা ও তন্নিকটবর্ত্তী স্থান সমূহের সকল লোকের মুখে আজ পালনজীর কথা, সঙ্গে সঙ্গে আমার কার্য্যকুশলতার বিবিধ প্রশংসা। যেন চারিদিক ব্যাপিয়া একটা মহা হৈ-চৈ পড়িয়া গেল; যেখানে দুইজন লোক একত্র হইয়াছে, সেইখানে কেবল ওই একই কথা। পরদিন প্রাতে সমস্ত দৈনিক সংবাদপত্রে এই সংবাদটি অলঙ্কৃত ও অতিরঞ্জিত হইয়া বাহির হইল; সম্পাদক-লেখনীর মুখেও আমার প্রশংসা ধরে না। এমন অনেক ডিটেকটিভ আছেন, যাঁহারা এই সকল প্রশংসায় খুব খুসী হইতে পারিতেন, কিন্তু আমি ইহাতে আদৌ সন্তুষ্ট হইতে পারিলাম না; কারণ পালনজীকে সেরূপ দৃঢ়ভাবে নিজের নির্দোষিতা সপ্রমাণ করিতে দেখিয়া আমাকে একটু চিন্তিত হইতে হইয়াছিল। এক-একবার সমস্ত সন্দেহ ঠেলিয়া মনে হইতেছিল, হয়ত লোকটা দোষী নহে। কিন্তু তাঁহার বিরুদ্ধে যে সকল প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে, তাহা খুবই অকাট্য। পালনজী নিজমুখেই স্বীকার করিতেছেন, খুনের রাত্রে তিনি মাণিকজীর বাড়ীতে গিয়াছিলেন, স্বীকার করিতেছেন, তাঁহারই হাত হইতে সেই অপহৃত পাঁচখানি নোট বাহির হইয়াছে; তবে একটা কথা হইতেছে, মাণিকজী তাঁহাকে একখানা পত্র দিয়াছিলেন সে পত্রখানি এখন পাওয়া যাইতেছে না; আমার বোধ হয়, পত্রের কথাটা একেবারে মিথ্যা, পালনজী বড় বুদ্ধির খেলা খেলিয়াছেন, সকল কথা স্বীকার করিয়া একটা কথাতে সকল দিক বজায় রাখিবার চেষ্টা করিতেছেন। তিনি যে দুইটি কথা স্বীকার করিতেছেন, তাহা তিনি স্বীকার না করিলেও প্রমাণের বড় অভাব ছিল না, কারণ একটু চেষ্টাতেই যেরূপ নোটগুলির কথা জানিতে পারা গেল, তেমনি আর একটু চেষ্টা করিলেই জানিতে পারা যাইত যে, সেই খুনের রাত্রে মাণিকজীর বাড়ীতে পালনজী প্রবেশ করিয়াছিলেন।

    পালনজী হত্যাপরাধে ধৃত হইয়াছেন শুনিয়া, মাণিকজী মহা উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিয়াছিলেন। পালনজীর উপর তাঁহার অগাধ বিশ্বাস; প্রথমে তিনি পালনজীকে কিছুতেই দোষী বলিয়া বিশ্বাস করিতে চাহেন না; তাহার পর যখন তিনি আমার মুখে পুস্খানুপুঙ্খরূপে সমুদয় বিষয় শুনিলেন, তখন আর আমার কথায় বিশ্বাস না করিয়া থাকিতে পারিলেন না। বলিলেন, “পালনজীকে আমি বরাবরই সচ্চরিত্র বলিয়া জানিতাম, সে যে সামান্য টাকার জন্য এমন একটা ভয়ানক কাজ করিবে, ইহা স্বপ্নের অগোচর। হায়, আমি যদি তখনই তাহাকে নিজের সঙ্গে লইয়া বাড়ীতে গিয়া টাকা দিতাম, তাহা হইলে আমার হতভাগিনী স্ত্রীর জীবন রক্ষা পাইত, আর পালনজীকেও ফাঁসীকাঠে ঝুলিতে হইত না!”

    আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “পালনজী এখন যেরূপ ভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করিতেছেন, তাহাতে আপনি কি বোধ করেন?”

    মাণিকজী বলিলেন, “মিথ্যা কথা, উহার একটি বর্ণও সত্য নহে। আমি তাহাকে টাকার জন্য আমার বাড়ীতে যাইতেও বলি নাই কোন পত্রও দিই নাই। যখন আমার ধারণা রহিয়াছে, বাড়ীতে কেহই নাই, তখন কেনই বা আমি তাহাকে এরূপ পত্র দিতে যাইব?”

    আমি বলিলাম, “সে রাত্রে আপনি সহরে সান্ধ্যসম্মেলনে না গিয়া নিজের বাড়ীতে ফিরিলে এমন একটা ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটিত না।”

    মাণিকজী সম্মহিতসূচক ভাবে মাথা নাড়িয়া বলিলেন, “হাঁ, এখন তাহাই মনে হইতেছে। এমন হইবে জানিলে আমি কখনই সেদিন সহরে যাইতাম না। আমার পরম বন্ধু ডাক্তার তোরাবজী ম্যাকনজীর বাড়ীতে আমার সান্ধ্য-সম্মেলনের নিমন্ত্রণ ছিল; তাহার সহিত আমার বিশেষ সখ্যতা, যদি আমি না যাই, সেজন্য তিনি নিজে আসিয়া আমাকে বিশেষ অনুরোধ করিয়া যান, সুতরাং আমাকে বাধ্য হইয়া তাঁহার বাটিতে যাইতে হয়।”

    আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনি সেই পাথরের পুতুলটি কখনও পালনজীর নিকটে দেখিয়াছিলেন কি?”

    মাণিকজী বলিলেন, “না, কখনও দেখি নাই। এ কথা আপনি জিজ্ঞাসা করিতেছেন কেন?”

    আমি বলিলাম, “যদি এই পাথরের পুতুল পালনজী না হয়, তাহা হইলে তিনি নিশ্চয়ই নিরপরাধ। আপনি আমার কথা শুনিয়া বিস্মিত হইবেন না, ইহাতে বিস্ময়ের কিছুই নাই; আমি খুব সাহস করিয়া, বলিতে পারি, এই পাথরের পুতুলটি যাহার সেই ব্যক্তিই আপনার স্ত্রীর হত্যাকারী।”

    নবম পরিচ্ছেদ

    মাণিকজীর নিকট হইতে বাড়ী ফিরিয়া আসিয়া ভৃত্যের মুখে শুনিলাম, একটি স্ত্রীলোক আমার সহিত দেখা করিতে আসিয়াছে এবং উপরিতলের একটা ঘরে অপেক্ষা করিতেছে। আমি তাহার সহিত দেখা করিবার জন্য তাড়াতাড়ি উপরে গেলাম। গিয়া দেখিলাম, তাহার বয়স বেশি নহে। নিরুপমা সুন্দরী, লোকাতীত রূপলাবণ্যে তাহার সর্ব্বাঙ্গ ঝলমল করিতেছে। ইতিপূর্ব্বে তাহাকে আর কখনও দেখি নাই। এই প্ৰথম দেখিলাম, তথাপি যেন মনে হইতে লাগিল, তাহাকে ইহার আগে আর কোথায় দেখিয়াছি। তাহার পর একটু ভাবিয়া দেখিতে নিজের ভ্রম বুঝিতে পারিলাম, বস্তুতই তাহাকে আগে আর কোথায় দেখি নাই, ইহার মুখমণ্ডলের সহিত দাদাভাই নবরজীর মুহুরী ফামজীর মুখের অনেকটা সাদৃশ্য আছে; ইহাতেই আমি একটা অনুমান করিয়া লইতে পারিলাম। তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “তোমারই নাম কি হীরাবাঈ?”

    “হাঁ, আমিই হীরাবাঈ—পালনজীর সম্বন্ধে আমি আপনাকে দুই-একটা কথা বলিতে আসিয়াছি।” বলিয়া হীরাবাঈ দীননয়নে আমার মুখের দিকে চাহিল।

    আমি তাহার সেই কাতর দৃষ্টিতেই তাহার মনের ভাব অনেকটা বুঝিতে পারিয়া বলিলাম, “পালনজীকে আর রক্ষা করিবার কোন উপায় নাই।”

    হীরাবাঈ ব্যাকুলভাবে কহিল, “না, তাহা বলিলে হইবে না— পালনজীকে রক্ষা করিবার জন্য একটা-না-একটা কিছু আপনাকে করিতেই হইবে।”

    আমি বলিলাম, “পালনজী এই খুনের অপরাধে যেরূপ জড়াইয়া পড়িয়াছেন, তাহাতে—”

    হীরাবাঈ বাধা দিয়া বলিল, “আপনি কি তাঁহাকে দোষী মনে করিতেছেন?”

    আমি বলিলাম, “তাঁহার বিরুদ্ধে যে সকল অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে, তাহাতে তাঁহাকে দোষী ভিন্ন আর কি মনে করিতে পারি?”

    হীরাবাঈ ক্ষুব্ধভাবে বলিয়া উঠিল, “আমি প্রমাণের কোন কথা শুনিতে চাই না আমি তাঁহাকে যতদূর জানিয়াছি-চিনিয়াছি-বুঝিয়াছি—তাহাতে আমি সহস্র প্রমাণ পাইলেও, তিনি যে এমন একটা ভয়ানক হত্যাপরাধে অপরাধী, এ কথা কিছুতেই বিশ্বাস করিতে পারি না। অপরাধ লইবেন না—আপনি তাঁহাকে জানেন না—তাই, আপনি তাঁহাকে ভুল বুঝিয়াছেন। আপনি আমার কথায় বিশ্বাস করুন, তিনি আপনার-আমার মত একান্ত নিরপরাধ।

    আমি বলিলাম, “আমি পালনজীকে না জানিতে পারি, কিন্তু তাঁহার বন্ধু মাণিকজী অনেক দিন হইতে তাঁহাকে জানেন, তিনিও এখন পালনণীকে দোষী মনে করিতেছেন।”

    ঘৃণাভরে অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া হীরাবাঈ বলিল, “মাণিকজী! হাঁ—ঠিক বটে! তিনি ত পালনজীকেই এখন দোষী মনে করিবেন।”

    আমি বলিলাম, “মাণিকজীর উপরে তুমি অন্যায় দোষারোপ করিতেছ। বিশ্বাস না করিবার কোন উপায় থাকিলে তিনি পালনজীকে কখনই দোষী মনে করিতে পারিতেন না। পালনজী হত্যাপরাধে ধৃত হওয়ায় বরং তিনি অধিকতর দুঃখিত।”

    হীরাবাঈ ক্ষণকাল নীরবে কি ভাবিল। তাহার পর বলিল, “আপনি আমার কথায় বিশ্বাস করিলেন না; ভাল, যাহাতে আপনার চক্ষুকর্ণের বিবাদ মিটে, এবার আমি তাহাই করিব। আমার বাড়ীতে অনুগ্রহপূৰ্ব্বক আপনাকে একবার যাইতে হইবে পালনজী দোষী কি নির্দোষী তাহা আপনাকে দেখাইয়া দিব।”

    আমি বলিলাম, “তুমি নিজের ভুল নিজে বুঝিতে পারিতেছ না। বৃথা চেষ্টা করিবে।”

    হীরাবাঈ দৃঢ়স্বরে বলিল, “পরে তাহা দেখা যাইবে পালনজীকে রক্ষা করিবার জন্য জীবনপণে আমি একবার চেষ্টা করিয়া দেখিব—দেখি তাঁহার জন্য আমি এই ক্ষুদ্র নারী-বুদ্ধিতে কিছু করিয়া উঠিতে পারি কি না। আমি নিশ্চয় জানি, পালনজী নিৰ্দ্দো আর কিছু নয়, কেবল ঘটনাচক্রে এরূপ ভাবে জড়াইয়া পড়িয়াছেন—কখনই তিনি খুন করেন নাই! তাঁহাকে এই ভয়ানক বিপদের মুখ হইতে রক্ষা করিবার কোন উপায়ই কি আর নাই? আপনি কি এ দুঃসময়ে আমাকে কোন সাহায্য করিতে পারেন না?”

    আমি বলিলাম, “সাধ্যমত সাহায্য করিতে প্ৰস্তুত আছি।”

    হীরাবাঈ বলিল, “আপনাকে ধন্যবাদ! আপনি এই খুন সম্বন্ধে যাহা কিছু জানেন, বলুন। আমি পালনজীকে রক্ষা করিবার জন্য আমার শরীরের শেষ রক্ত বিন্দুটি পর্য্যন্ত ব্যয় করিব—ইহার বেশি আরও যদি কিছু করিতে হয়, তাহাও করিব– লজ্জা ভয় রাখিব না মান অপমান দেখিব না,—নিজের জীবনের দিকেও চাহিব না।”

    তখন আমি এই খুনের মোকদ্দমা সম্বন্ধে এ পর্য্যন্ত যাহা কিছু করিয়াছি, সমুদয় হীরাবাঈকে বলিতে লাগিলাম, এবং সেই পাথরের পুতুলটি তাহাকে দিলাম। হীরাবাঈ অত্যন্ত মনোযোগের সহিত সব শুনিল, আমার বলা শেষ হইলেও সে দুই তিন মিনিট ধরিয়া অনন্যমনে কি ভাবিল। তাহার পর পুতুল লইয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল, “আপনি আগামী রবিবার আমার বাড়ীতে সন্ধ্যার পর যাইবেন, সেইখানে যাহাতে আপনার চক্ষুকর্ণের বিবাদ মিটাইতে পারি, তাহার ব্যবস্থা আমি ঠিক করিয়া রাখিব, আপনিও মানিকজীকে গ্রেপ্তার করিবার জন্য প্রস্তুত হইয়া যাইবেন বলিয়া আনয়ন অবগুন্ঠন টানিয়া দিল।

    আমি বলিলাম, “তাহাই হইবে।”

    পরক্ষণে হীরাবাঈ ঘরের বাহির হইয়া গেল।

    হীরাবাঈ চোখের দৃষ্টির ভাবে আমি বেশ বুঝিতে পারিলাম, পালনজীকে রক্ষা করিবার জন্য একটা কিছু গুরুতর মতলব তাহার মাথায় প্রবেশ করিয়াছে। নিজেকে বুদ্ধিমান বলিয়া আমার নিজের একটা খুব ধারণা ছিল, তাহার পর রবিবার দিন হীরাবাঈ-এর বাটীতে গিয়া যেরূপ দেখলাম, তাহাতে আমার সে ধারণা একেবারে তিরোহিত হইয়া গেল। বুঝিলাম, হীরাবাঈ-এর তুলনায় আমি একটা নির্বুদ্ধি। হীরাবাঈ সেদিন এরূপ ভাবে নিজের কার্য্যোদ্ধার করিল যে, তাহার কৌশলকে শতবার ধন্যবাদ দিতে হয়, এমন আমি আর কখনও দেখি নাই সেদিন যাহা দেখিলাম, তাহা আমার চিরকাল স্মরণ থাকিবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
    Next Article বাঙ্গালীর বীরত্ব – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }