Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৬ (ষষ্ঠ খণ্ড)

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প504 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছদ্মবেশী – ১০

    দশম পরিচ্ছেদ

    রবিারের ঘটনা এইরূপ :–

    আমি সন্ধ্যার পর হীরাবাঈ এর বাড়ীতে গিয়া উপস্থিত হইলাম। একটি গলির মধ্যে–বড় রাস্তা হইতে তিন চারিখানা বাড়ীর পরেই হীরাবাঈ-এর বাড়ী। বাড়ীখানি ছোট—নীচে দুইটি ও উপরিতলে দুইটি মাত্র ঘর।

    হীরাবাঈ ব্যগ্রভাবে আমার অপেক্ষা করিতেছিল। আমাকে দেখিয়াই সে তাড়াতাড়ি আসিয়া উপরের একটি ঘরে লইয়া গেল। ঘরের এক পার্শ্বে একখানা চেয়ার ছিল, আমি সেই চেয়ারখানা টানিয়া উপবেশন করিলাম।

    হীরাবাঈ বলিল, “আপনার সেই হত্যাকারী এখনই আসিয়া উপস্থিত হইবে, আপনি প্রস্তুত হইয়া আসিয়াছেন ত?”

    আমি তাহার প্রশ্নের উত্তরে পকেট হইতে এক জোড়া উজ্জ্বল হাতকড়ি বাহির করিয়া দেখাইলাম।

    দেখিয়া হীরাবাঈ সন্তুষ্ট হইল। ক্ষণপরে বলিল, “পালনজী দায়রা সোপর্দ হইয়াছে।”

    আমি বলিলাম, “হাঁ—তাহা ত হইবারই কথা। কিন্তু তিনি ত আত্ম-সমর্থনের কোন চেষ্টাই করিতেছেন না।”

    হীরাবাঈ দৃঢ়স্বরে বলিল, “তাঁহাকে আর কিছুই করিতে হইবে না –আমি তাঁহার পক্ষ সমর্থন করিব। তাঁহার জন্য আমার আর কোন আশঙ্কা নাই, তিনি আমার বিপন্ন দাদাকে রক্ষা করিয়াছেন, আমিও তাঁহাকে এই বিপদ হইতে নিশ্চয় রক্ষা করিব।” বলিতে বলিতে কি এক আশ্চর্য্য দীপ্তিতে তাহার বিশালায়ত চক্ষুদ্বয় উদ্ভাসিত হইয়া উঠিল।

    আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “কিছু সন্ধান-সুলভ পাইয়াছ?”

    হীরাবাঈ বলিল, “কিছু কি? —অনেক–অনেক। চুপ করুন –ঠিক হইয়াছে। একখানা গাড়ী আসিয়া বুঝি গলির মোড়ে এইমাত্র লাগিল। আপনার হত্যাকারী আসিয়াছেন এখন আপনি এক কাজ করুন এই পাশের ঘরে লুকাইয়া থাকুন, যখন আমি বাহিরে আসিবার জন্য আপনাকে ইঙ্গিত করিব বাহিরে আসিবেন।”

    কি জানি কি খেয়াল হীরাবাঈ-এর মাথায় চাপিয়াছে—বুঝিতে পারিলাম না। কতকটা বিস্মিত, কতকটা বা চিন্তিতভাবে তাহার কথামত পাশের ঘরে ঢুকিলাম। পরক্ষণে বাহিরের সিঁড়ীতে কাহার উচ্চ পদশব্দ শুনিলাম। পদ-শব্দকারী শব্দ করিতে করিতে আমি যে ঘরে পূর্ব্বে বসিয়াছিলাম, সেই ঘরে প্রবেশ করিলেন। লোকটি কে?

    তাহার পর যেরূপ শব্দ শুনিলাম, তাহাতে বুঝিতে পারিলাম, আমি পূর্ব্বে যে চেয়ারখানায় বসিয়াছিলাম তিনি সেইখানা অধিকার করিলেন। বসিয়া বলিলেন, “কি ব্যাপার হীরা, এ অধীনকে হঠাৎ স্মরণ হইল কেন?”

    কন্ঠস্বর যেন পরিচিত কিন্তু বড় জড়ানো বোধহয়, দস্তুর মত মদের মুখে। হীরাবাঈ-এর কাণ্ডকারখানা দেখিয়া মনটা স্থির ছিল না—স্বরটা চেনা-চেনা ঠেকিলেও ঠিক ঠাওর করিতে পারিলাম না। হীরাবাঈ প্রত্যুত্তরে তাঁহাকে বলিল, “বড় দায়ে পড়িয়াই আপনার শরণ লইতে হইয়াছে। পালনজীর উদ্ধারের একটা উপায় আপনাকে করিতে হইবে। এ সময়ে আপনি সাহায্য না করিলে আর উপায় নাই।” আগন্তুক বিস্মিতভাবে বলিলেন, “আমি কিরূপে তোমাকে সাহায্য করিব, বুঝিতে পারিতেছি না। করা উচিত—কিন্তু কোন উপায় নাই—আমার ক্ষমতার বহির্ভূত।”

    হীরাবাঈ কহিল, “আমার ত তাহা মনে হয় নায়—”

    মধ্যপথে বাধা দিয়া আগন্তুক বলিলেন, “না, প্রিয়তমে না, ইহাতে আমার কোন হাত নাই।”

    হীরাবাঈ বলিল, “আমি মুখেই আপনার প্রিয়তমা—যদি আপনি আমাকে আন্তরিক ভালবাসিতেন তাহা হইলে এমন একটা বিপদে উপকার করিতে কখনই কুণ্ঠিত হইতেন না।”

    একটু উত্তেজিত কন্ঠে আগন্তুক বলিয়া উঠিলেন, “কি আশ্চর্য্য! তুমি কি আমাকে এমনই নির্ব্বোধ মনে করিয়াছ যে, আমি পালনজীকে উদ্ধার করিয়া তোমাদের বিবাহের পথটা পরিষ্কার করিয়া দিব শেষে তুমি পালনজীকে লইয়া সুখে ঘর-কন্না করিবে, আর আমি দূর হইতে তোমাদের মিলন-সুখ দেখিয়া কৃতার্থ হইব? কি ভ্রম! তা হয় না—প্রাণাধিকা হীরা, তা হয় না এমন নির্ব্বোধ এ জগতে কেহ নাই। আমি তোমাকে প্রাণের অধিক ভালবাসি কত ভালবাসি, তা কি জান না হীরা — আমি তোমাকে বিবাহ —”

    বাধা দিয়া হীরাবাঈ কহিল, “এত শীঘ্র বিবাহ-প্রস্তাব করিলে লোকে বলিবে কি?”

    জড়িত কণ্ঠে তিনি বলিলেন, “লোকের কথায় আমি কান দিই না হীরা— তোমাকে আমি বড় ভালবাসি–তোমাকে আমি–তোমাকে আমি মাথায় করিয়া রাখিব।”

    এ শোক-তাপপূর্ণ জগতে এমন প্রেমিক লোকটাকে দেখিবার জন্য মনটা হঠাৎ বড় কৌতূহলী হইয়া উঠিল—আর থাকিতে পারিলাম না। আমি যে ঘরে লুক্কায়িত ছিলাম, সেই ঘরের কবাট একটু ফাঁক করিয়া দেখিলাম—যাহা দেখিলাম, তাহা আমাকে বিস্ময়বিহ্বল করিয়া তুলিল—লোকটা কি ভয়ানক! কন্ঠস্বর শুনিয়া পূৰ্ব্বেই একটা মোটামুটি অনুমান করিতে পারিয়াছিলাম, তাই রক্ষা, নতুবা সে বিস্ময় এখন দমন করা আমার সাধ্যাতীত হইত—হয়ত একটা অব্যক্ত চীৎকার নতুবা একটা কিছু করিয়া ফেলিতাম।

    আগন্তুক মাণিকজী স্বয়ং।

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    হীরাবাঈ সপরিহাসে কহিল, “আপনি না মানুষ? আপনার স্ত্রীর সেই অগাধ ভালবাসা এত শীঘ্ৰ কিরূপে বিস্মৃত হইলেন?”

    মাণিকজী বলিলেন, “তাহার কথা ছাড়িয়া দাও হীরা– তাহার কথা ছাড়িয়া দাও — যে মরিয়াছে তাহার সকলই ফুরাইয়াছে। তবে আর এখন তাহার কথা কেন?”

    হীরাবাঈ কহিল, “শুনিয়াছি, আপনি তাহাকে বড় ভালবাসিতেন।”

    বাধা দিয়া মাণিকজী বলিয় উঠিলেন, “কস্মিনকালেও না—আমি একমাত্র তোমাকেই ভালবাসি; যে মুহূর্তে তোমায় দেখিয়াছি, সেই মুহূর্ত হইতে তোমাকে ভালবাসি। আমার স্ত্রী খুন হইয়াছে, সেই খুনের অপরাধে পালনজী কারাগারে আর কোন বাধাবিঘ্ন নাই, এখন আমি অনায়াসেই তোমাকে বিবাহ করিতে পারি।”

    হীরাবাঈ বলিল, “তা পারেন, কিন্তু আপনি যেমন অনায়াসে আমাকে বিবাহ করিতে পারেন, আমি যে ঠিক তেমনই অনায়াসে পারিব, আপনি কিরূপে তাহা জানিলেন? ভাল কথা, যদি আমি আপনাকে বিবাহ করি, যদি আমি —”

    মাণিকজী হো হো করিয়া অকারণ একটা বিকট হাসি হাসিয়া বলিলেন, “মন্দ নয়! বিবাহের প্রস্তাবের মুখেই একেবারে ‘যদি’ গণকে আনিয়া উপস্থিত করিলে। যদি তুমি আমায় বিবাহ কর কি? নিশ্চয় তুমি করিবে।” বলিয়া সবেগে উঠিয়া দাঁড়াইয়া হীরাবাঈ-এর হাত ধরিলেন।

    হীরাবাঈ কোনরূপ চাঞ্চল্য প্রকাশ না করিয়া ধীরভাবে বলিল, “আমি আপনাকে বিবাহ করিলে, আপনি পালনজীর মুক্তির উপায় করিয়া দিবেন, বলুন?”

    মাণিকজী বলিলেন, “না, তাহা আমি কিছুতেই পারিব না। তাহার বিরুদ্ধে যে সকল প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে—বড়ই সাংঘাতিক।”

    হীরাবাঈ বলিল, “কিন্তু আপনি ত তাঁহাকে নিরপরাধ বলিয়া জানেন?”

    মাণিকজী বলিলেন, “না-না এমন অন্যায় আমি জানিব কেন– আমার একান্ত বিশ্বাস, দস্যু পালনজীই আমার স্ত্রীকে খুন করিয়াছে।”

    হীরাবাঈ এর চক্ষু জ্বলিয়া উঠিল। সে বলিল, “কি পাপিষ্ঠ! তোমার কি একান্ত বিশ্বাস, পালনজী তোমার স্ত্রীকে খুন করিয়াছেন?” বলিয়া সবেগে মাণিকজীর হাত হইতে নিজেকে মুক্ত করিয়া সরিয়া দাঁড়াইল। তাহার পর বস্ত্রাভ্যন্তর হইতে সেই পাথরের পুতুলটা বাহির করিয়া, মাণিকজীর নাসিকার নিকটে ধরিয়া বলিল, “পিশাচ! তুমি কি বলিতে চাও, যখন পালনজী তোমার স্ত্রীর বুকে ছুরিকাঘাত করেন, তখন তিনিই এই পাথরের পুতুলটা সেখানে ফেলিয়া আসিয়াছিলেন?”

    মাণিকজী সেই পাথরের পুতুলটা দেখিয়া সভয়ে টলিতে টলিতে দুই পদ পশ্চাতে হটিয়া গিয়া বলিলেন, “না-না—তা আমি জানি না এ পাথরের পুতুল আমি পূৰ্ব্বে কখনও দেখি নাই।”

    হীরাবাঈ তীব্রকন্ঠে বলিয়া উঠিল, “নরাধম! এখনও অস্বীকার করিতেছ, এখনও স্মরণ করিয়া দেখ–মনে পড়ে, যেদিন তোমার স্ত্রী খুন হয়, সেইদিন তুমি এই সহরে ডাক্তার তোরাবজী ম্যাকনজীর বাড়ীতে সান্ধ্য-সম্মেলনে যোগ দিতে আসিয়াছিলেন? মনে পড়ে, সেইখানে সেই রাত্রে ডাক্তার তোরাবজীর সিলোন হইতে প্রত্যাগত এক বন্ধুও উপস্থিত ছিলেন? মনে পড়ে তাঁহার নিকট হইতে কে এই পাথরের পুতুলটা তকন চাহিয়া লইয়াছিল?”

    মাণিকজী বলিলেন, “আমিই লইয়াছিলাম, তাহাতে হইয়াছে কি?”

    হীরাবাঈ উচ্চকন্ঠে বলিয়া উডিল, “মুর্খ! যাহা হইয়াছে বলিতেছি। এই পুতুলটা তখন তুমি তাঁহার নিকট হইতে লইয়া পকেটে রাখিয়া দাও, তাহার পর তোমার মাথায় একটা বিকট খেয়াল চাপায়, তুমি সেখান হইতে সকলের অজ্ঞাতসারে সরিয়া পড়িয়া পুনরায় বেন্দোরাতে যাইয়া উপস্থিত হও। নিজের বাড়ীতে গিয়া তোমার স্ত্রীর সহিত দেখা কর। তাহার পর তুমি পশুর মত—পশুতেও এমন নৃশংস কাজ করে না তুমি তোমার সেই সরলা স্ত্রীকে খুন কর; দেরাজ হইতে বাকী টাকা বাহির করিয়া লও; গৃহ-সামগ্রী তছরূপ কর, কাজ শেষ করিয়া পুনরায় ডাক্তার তোরাবজীর বাড়ীতে আসিয়া সান্ধ্য-সম্মেলনে যোগ দাও। কিন্তু যখন তুমি তোমার সেই হতভাগিনী স্ত্রীকে খুন কর, তখন যে এই পাথরের পুতুলটা, তোমার পাপের যথোচিত দণ্ডবিধান করিবার জন্য তোমার বুকপকেট হইতে পড়িয়া গিয়াছিল, তাহা জানিতে পার নাই। আর রক্ষা নাই, এখন পিশাচ, নিজের পাপের সমুচিত প্রায়শ্চিত্ত করিবার জন্য প্রস্তুত হও। বলিতে বলিতে হীরাবাঈ রোষদীপ্ত নেত্রে সেই পাথরের পুতুলটা সম্মুখে তুলিয়া ধরিয়া ধীরে ধীরে মাণিকজীর দিকে অগ্রসর হইতে লাগিল। মাণিকজীও সেই ভয়ঙ্করী মূর্তি দেখিয়া সভয়ে ক্রমশঃ পশ্চাতে হটিয়া আসিতে লাগিলেন।

    আমি যেখানে দাঁড়াইয়াছিলাম, ক্ৰমে মাণিকজী সেইখানে আসিয়া পড়িলেন। এখন সুযোগ ত্যাগ করা উচিত নয় মনে করিয়া আমি গুপ্তস্থান হইতে বাহির হইয়া পশ্চাদ্দিক হইতে তাঁহাকে চাপিয়া ধরিলাম। পলাইবার চেষ্টায় তিনি বল প্রকাশ করিতে লাগিলেন। তাঁহার সে চেষ্টা বৃথা হইল—খানিকটা ধস্তাধস্তির পর এক জোড়া সুচিক্কণ অয়ঙ্কঙ্কণে তাঁহার উভয় হস্তের মণিবন্ধ সুশোভিত হইল।

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    গৃহতলে লুটাইতে লুটাইতে মাণিকজী উচ্চকণ্ঠে চীৎকার করিয়া উঠিল, “মিথ্যা কথা আমি ইহার কিছুই জানি না ভয়ানক মিথ্যা কথা।”

    আমিও তাহার অপেক্ষা দুই তিন পর্দা উচ্চসুরে হাঁকিয়া বলিয়া উঠিলাম, “আগাগোড়া সত্য, সত্য হইলেও তোমার পক্ষে ভয়ানক। পাপিষ্ঠ! এখন আমি বেশ বুঝিতে পারিতেছি, তুমি নিজেই স্ত্রীহন্তা। চুপ কর, চীৎকার করিলেই মরিবে।” বলিয়া পকেট হইতে পিস্তল বাহির করিলাম।

    যখন আমি মাণিকজীকে আক্রমণ করি, সেই সময়ে তাহার বুকপকেট হইতে তাহার পকেটবুকখানা পড়িয়া গিয়াছিল, এবং তন্মধ্য হইতে কতকগুলো কাগজ-পত্র গৃহতলে ছড়াইয়া পড়িয়াছিল। সেই সকল ছড়ান কাগজপত্র হইতে হীরাবাঈ একখানা শুষ্করক্তের দাগ লাগা কাগজ তাড়াতাড়ি তুলিয়া লইয়া দেখিতে দেখিতে বলিল, “এই সেই চিঠি, পালনজী মিথ্যাবাদী নহেন। মাণিকজী স্ত্রীর নামে এই চিঠি লিখিয়া পালনজীকে টাকা আনিতে পাঠাইয়াছিলেন। এই ত ইহাতে সেই পাঁচ শত টাকার উল্লেখ রহিয়াছে, দেখিতেছি।”

    মাণিকজী বুঝিতে পারিল, চারিদিক হইতে সে অত্যন্ত কঠিন ভাবে জড়াইয়া পড়িতেছে, অস্বীকার করিয়া আর কোন লাভ নাই। তখন সে ভগ্নকণ্ঠে বলিতে লাগিল, “হায়। এত চেষ্টা সব ব্যর্থ হইয়া গেল। হাঁ হীরা, আমিই মিরিয়মকে খুন করিয়াছি। করিয়াছি — তেমাারই জন্য; তোমারই জন্য আমি স্ত্রীহন্তা। তোমায় ভালবাসিয়া আমার সব গেল, আমিও মরিতে বসিয়াছি। আমার স্ত্রী আমার চক্ষুঃশূল ছিল কেবল তাহার পৈতৃক সম্পত্তির লোভে আমি তাহাকে বিবাহ করিয়াছিলাম, অর্থলোভে জোর করিয়া মুখে ভালবাসা দেখাইতাম, পালনজী তোমার প্রেমাকাঙ্ক্ষী। মনে করিয়াছিলাম, এক শরে দুই পাখী মারিব, তাহা ত হইল না। মানুষ গড়ে বিধাতা ভাঙে; মনের আশা মনেই রহিয়া গেল। পালনজী যখন টাকা চায়, তখনই আমার মাথায় এই এক-ঢিল দুই-পাখী মারিবার মতলবটা উপস্থিত হয়। আমি পালনজীকে ওই পত্রখানা লিখিয়া দিয়া ডাক্তার তোরাবজীর বাড়ীতে চলিয়া যাই। সেইখানে দুইচারিজনের সহিত দেখা সাক্ষাৎ করিয়া পুনরায় নিজের বাড়ীতে চলিয়া আসি। আসিয়া আমার স্ত্রীর মুখে শুনিলাম, পালনজী তাহার নিকট হইতে টাকা লইয়া গিয়াছে। আর যায় কোথা, এমন সুযোগ কি ত্যাগ করা যায়, আমি দেরাজেরভিতর ঘরের জিনিষ পত্র সমুদয় তছরূপ করিলাম, দেরাজের ভিতরকার জিনিষগুলোও তছরূপ করিয়া রাখিলাম দেখিলে যাহাতে সহজে লোকের মনে ধারণা হয়, খুন একটা চুরি-ডাকাতি হইয়া গিয়াছে, ঘরটা এরূপ ভাবে বিপর্যস্ত করিয়া ফেলিলাম। ঘন্টাখানেকের মধ্যে সব কাজ শেষ করিয়া পুনরায় ডাক্তার তেরাবজীর বাড়ীতে গিয়া সান্ধ্যসম্মেলনীতে যোগ দিলাম। তেরাবাজীও আমার প্রতি কোন সন্দেহ করিতে পারিলেন না; তিনি মনে করিলেন, সেইখানে তাঁহারই বাড়ীতে কোথাও আমি ছিলাম। আমি নিজের নিদোষতা সপ্রমাণ করিবার জন্য বেশ আটঘাট বাঁধিয়া রাখিয়াছিলাম; কিন্তু এই পত্রখানা পকেটে না তুলিয়া তখন‍ই যদি পুড়াইয়া ফেলিতাম আর এই পাথরের পুতুলটা যদি আমার অজ্ঞাতসারে বুকপকেট হইতে না পড়িয়া যাইত তাহা হইলে আমাকে আর পায় কে? অনায়াসে পালনজীকে ফাঁসীর দড়ীতে ঝুলাইয়া, তোমার অতুল সৌন্দর্য্য উপভোগ করিতে পারিতাম। হায়! ঐ পাথরের নির্জীব পুতুলটা আমার সকল সাধে বাদ সাধিল।”

    আমি হীরাবাঈ এর মুখের দিকে প্রশংসমান নেত্রে চাহিয়া বলিলাম, “তুমি যে উদ্দেশ্যে ফাঁদ পাতিয়াছিলে, তাহা সফল হইয়াছে; এখন বল দেখি, কিরূপে তুমি জানিতে পারিলে, মাণিকজী নিজে তাঁহার স্ত্রীর হত্যাকারী?”

    হীরাবাঈ বলিল, “আপনি যখন সেদিন আপনার বাড়ীতে আমার কাছে এই পাথরের পুতুলটার কথা উত্থাপন করেন, তখনই আমার মনে কেমন একটা খটকা লাগে; সেইজন্যই আমি তখন আপনার নিকট হইতে এই পুতুলটা চাহিয়া লই। আপনার মুখ হইতে যেরূপ শুনিলাম, তাহাতে আমি অনেকটা অনুমান করিয়া লইতে পারিলাম যে, মাণিকজী এই খুন-রহস্যের মধ্যে কিছু-না-কিছু ভাবে জড়িত আছেই। আপনি বলিয়াছেন, সেই খুনের রাত্রে মাণিকজী এখানে ডাক্তার তোরাবজীর বাড়ীতে আসিয়াছিলেন। আমি তাঁহাকে জানি, তাঁহারই চিকিৎসায় আমি একবার দুরারোগ্য কঠিন রোগ হইতে রক্ষা পাই। তিনি আমাকে নিজের সহোদরের ন্যায় স্নেহ করেন। আমি সেইদিনই বৈকালে তাঁহার সহিত দেখা করিলাম। পাথরের পুতুলটা দেখাইলাম। তিনি দেখিয়াই চিনিতে পারিলেন; বলিলেন, সন্ধ্যা-সম্মেলনীর রাত্রে তাঁহারই একজন বন্ধু মাণিকজীকে এই পাথরের পুতুলটা দিয়াছিলেন; আমি ডাক্তার মহাশয়ের সেই বন্ধুর ঠিকানা জানিয়া লইয়া গিয়া তাঁহার সহিত দেখা করিলাম। তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করায় তিনিও বলিলেন, মাণিকজী তাঁহার নিকটেই এই পুতুলটা চাহিয়া লইয়াছিল। আমার সন্দেহ ঘুচিল—মানিকজীকে খুনী বলিয়া বুঝিতে পারিলাম; মাণিকজীকে এখানে আসিবার জন্য পত্র লিখিলাম। তাহার পর যাহা ঘটিয়াছে সমুদয় আপনি জানেন, আর কি জানিবার আছে, মাণিকজী যে দোষী, তাহার প্রকৃষ্ট প্রমাণ তাহারই স্বহস্তলিখিত এই পত্র, আর অপরাধী নিজের অপরাধ নিজমুখেই এখন স্বীকার করিতেছে। আপনি যাহা বলিয়াছেন তাহা ঠিক, এই পাথরের পুতুলটা আপনার নিকট হইতে না পাইলে আমি কখনই মাণিকজীকে এত সহজে হত্যাকারী বলিয়া সপ্রমাণ করিয়া পালনজীকে মৃত্যুমুখ হইতে কিছুতেই রক্ষা করিতে পারিতাম না।

    আমি বলিলাম, “তাহা ঠিক, কিন্তু দৈবের সহায়তা ভিন্ন এত শীঘ্র কার্য্যোদ্ধার হইত না। যদি দৈবক্রমে খুন করিবার সময় এই পাথরের পুতুলটা মাণিকজীর অজ্ঞাতসারে পকেট হইতে না পড়িয়া যাইত, তাহা হইলে হয় ত আজ ‘উদোর বোঝা বুদোর ঘাড়ে’লইয়া পালনজীকে ফাঁসীকাঠে ঝুলিতে হইত। আমার মতে শতকরা নব্বই এরূপ মোকদ্দমা দৈবের সহায়তায় নিরাকরণ হইয়া থাকে।”

    মাণিকজী বলিল, “আমাকে আর কেন ধরাশয্যায় রাখিয়া কষ্ট দিতেছেন, আমার গন্তব্য স্থানে আমাকে লইয়া চলুন।”

    অনন্তর আমি মাণিকজীকে লইয়া হাজতে পুরিলাম। পালনজী মুক্তি পাইলেন। বিচারে মাণিকজীর প্রতি প্রাণদণ্ডাজ্ঞা হইল।

    হতভাগ্য ফাঁসীর রজ্জুতে স্বকৃত পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিল।

    হীরাবাঈ এখন সচ্চরিত্র পালনজীর পরিণীতা পত্নী। আর এই পাথরের পুতুল—আমি সেই মোকদ্দমার স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ রাখিয়া দিয়াছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
    Next Article বাঙ্গালীর বীরত্ব – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }