Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৬ (ষষ্ঠ খণ্ড)

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প504 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রতীজ্ঞা পালন – ৩৫

    ৩৫

    এদিকে রামকান্তও প্রাতে তাহার জিনিস-পত্রের বাক্স লইয়া বাহির হইয়াছিল। সে তাহার দ্রব্যাদি দুই এক স্থানে দুই-একটা বিক্রয় করিয়া প্রায় বেলা দ্বিপ্রহরের সময়ে শ্যামসুন্দরের বাগান বাড়ীর দ্বারে আসরি উপস্থিত হইল। সেখানে আসিয়া দেখিল, দুরে গোবিন্দরাম যাইতেছেন, রামকান্ত সে সময়ে তাঁহার সহিত দেখা করা যুক্তিসঙ্গত বিবেচনা করিল না। ভাবিল, “গুরুদেব কতদূর কি করিয়াছেন, তাহা সন্ধ্যার সময়ে দেখা হইলেই জানিতে পারা যাইবে।”

    রামকান্ত ধীরে ধীরে বাগানের ভিতরে প্রবেশ করিয়া চাকরদের ঘরের দিকে চলিল। বাড়ীর পশ্চাদভাগে ভৃত্যদের থাকিবার ঘর রামকান্ত সেইদিকে গেল। সেই গৃহের নিকটে আসিয়া কাহকেই দেখিতে পাইল না। সেদিকে কেহ আছে বলিয়া তাহার বোধ হইল না; তথাপি সে তাহার উপস্থিতি জ্ঞাপন করিবার জন্য গলার শব্দ করিল, তৎপরে হস্তস্থ যষ্টি দ্বারা দ্বারে আঘাত করিতে লাগিল। তখন ভিতর হইতে স্ত্রীকণ্ঠে ক্রুদ্ধভাবে কে বলিয়া উঠিল, “কে রে?”

    রামকান্ত বলিল, “ওগো আমি বাক্সওয়ালা, কিছু জিনিস বেচতে এসেছি।”

    সহসা দ্বার খুলিয়া গেল। একটি স্ত্রীলোক বাহিরে আসিল। রামকান্ত এরূপ স্ত্রীমুর্ত্তি আর কখনও দেখে নাই। যদি ডাকিনী বলিয়া সংসারে কিছু থাকে, তাহা হইলে এইখানেই তাহার আবির্ভাব হইয়াছে। মাগীটা কঠোরস্বরে বলিল, “কে তুমি—কি চাও?” রামকান্ত বিনয়নম্রস্বরে বলিল, “আপনি কিছু জিনিস কিনবেন বলে এসেছি, আপনার নাম গ্রামে অনেক শুনিয়াছি—বড় আশা করে এসেছি।”

    মাগীটা তিক্তস্বরে বলিল, “আমরা কিছুই কিনি না—আমাদের কোন জিনিস দরকার নাই।”

    রামকান্ত কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইল, এরূপ স্ত্রীলোকের হাতে পড়িতে হইবে, সে তাহা আগে ভাবে নাই। তবে কি সমস্ত কাৰ্য্যই পন্ড হইল? ক্ষণপরে মস্তক মুণ্ডয়ন করিতে করিতে বলিল, “বড়—বলিতেছিলাম— বড়-বড়ই আশা করে—”

    মাগীটা ধমকাইয়া বলিয়া উঠিল, “আরে যা, দূর হ—এখনই—এখনই—”

    রামকান্ত বলিল, “আমি—আমি সব জিনিসই খুব সস্তায় বিক্রী করি, আর আমি জিনিস বেচতে আসি নি—আমার জল-পিপাসায় প্রাণ যায়—একটু জল দিলে প্রাণটা বাঁচে।”

    “এ কি জলছত্র পেয়েছ নাকি?”

    এই দুই প্রহরে, রোদে কাঠ ফাটিতেছে, কোথায় যাই—কাছে কাহারও বাড়ী নাই, আমি পয়সা দিতে রাজি আছি,”বলিয়া রামকান্ত তাহার কোমর হইতে লম্বা থলীটা সশব্দে বাহির করিল। স্ত্রীলোকটি লোলুপনেত্রে সেই থলীর দিকে চাহিল। থলীটা নাড়া পাওয়ায় দুই একবার তন্মধ্যস্থিত টাকাগুলি ঝম ঝম করিয়া উঠিল। স্ত্রীলোকটি বলিল, “হাঁ, প্রায় তিনশত টাকা আছে, যা কিছু বিক্রী হয়ে গেছে, তাই এত টাকা জমেছে; কাল কলিকাতায় গিয়ে আবার গস্ত করে বাহির হইব—আপনাদের এখানে যদি আমাকে আজ রাতটা থাকতে দেন—দেখুন, পায়ের অবস্থা, আর পা চলে না।”

    স্ত্রীলোকটা নিমেষের জন্য কি ভাবিল; তাহার পর বলিল, “আমরা এখানে কাহাকেও থাকতে দিই না—তবে দেখছি, তুমি চলতে পার না।”

    সুবিধা বুঝিয়া রামকান্ত ব্যগ্রভাবে বলিয়া উঠিল, “দেখুন না পায়ের অবস্থা, একবারেই চলতে পারছি না।”

    “দেখেছি।”

    “আর বেচবার মত বেশী কিছু নাই, আজ একটু জিরুতে পারলে শরীরটা অনেক ভাল হবে, তখন সকালেই কলিকাতায় চলে যাব।”

    “ভাল তাই হবে—তবে বাবু যেন তোমাকে দেখতে না পান।”

    “বাবু আবার কে, তিনি কোথায় থাকেন?”

    “তিনি আমাদের মনিব—ঐ বাড়ীতে থাকেন, তিনি বাজে লোকজন মোটে দেখতে পারেন না।”

    “বটে, আমি তবে ওদিকে মোটেই যাব না। এখন একটু জল পেলে যে হয়—তৃষ্ণায় প্রাণ যায়।”

    “যাও বাপু, ঐ ঘরে গিয়ে বসো—এখনই জল এনে দিই”, বলিয়া মাগীটা হাত নাড়িয়া সম্মুখস্থ একটি ঘর দেখাইয়া দিল। সেটা একটা ভাঙা ঘর, বোধ হয়, এক সময়ে আস্তাবল ছিল। রামকান্ত সেই ঘরের দিকে চলিল। বলা বাহুল্য, সে চক্ষু মুদিত করিয়া যাইতেছিল না—চারিদিকে বিশেষ লক্ষ্য করিয়া দেখিতেছিল। যাইতে যাইতে রামকান্ত একটা ব্যাপার দেখিয়া বিস্মিত হইল। দেখিল যে, বড় বাড়ীটির ত্রিতলের ছাদে একজন লোক দাঁড়াইয়া একটা দূরবীক্ষণ দিয়া কলিকাতার পথের দিক লক্ষ্য করিয়া দেখিতেছে। দেখিয়া বুঝিয়াছিল যে, এই লোকটা লুকাইয়া দূর হইতে এই উচ্চস্থান হইতে কাহাকে লক্ষ্য করিতেছে। অবশ্যই ইহার গূঢ়তর অভিপ্রায় আছে।”

    রামকান্ত বেশ বুঝিতে পারিল যে, এ বাড়ীতে থাকিতে না পারিলে এখানকার কোন সন্ধান পাইব না, সেইজন্য সে অন্য কিছু আর ভাবিল না; সেই ভাঙা ঘরের ভিতরে প্রবেশ করিল। দেখিল, সেখানে একখানা অর্দ্ধভগ্ন তক্তাপোষ পড়িয়া আছে, তাহার উপর একখানা অর্দ্ধচ্ছিন্ন পুরাতন কম্বল।

    রামকান্ত তাহার বাক্সটা এক পাশে রাখিয়া বিশ্রামের জন্য শুইয়া পড়িল। সকাল হইতে রৌদ্রে ঘুরিয়া সে অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়াও পড়িয়াছিল। বিশ্রামেও শান্তি লাভ হইল না, সেই অদ্ভুত প্রকৃতি মাগীটার কথা ভাবিতে লাগিল, মাগীটা তাহাকে প্রথমে দূর দূর করিয়াছিল, তখনই আবার তাহার টাকার থলী দেখিয়া অন্যভাব ধরিল কেন? সে একেবারে তাহাকে এখানে রাত্রিযাপন করিতে অনুমতি দিল, নিশ্চয়ই ইহার কোন মতলব আছে। যাহাই মতলব থাক, রামকান্ত কিয়ৎক্ষণ এই বাড়ীতে থাকিবে বলিয়াই অসিয়াছিল, এত শীঘ্র ও এত সহজে যে, তাহার এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হইবে, ইহা সে কখনও ভাবে নাই।

    ৩৬

    কিয়ৎক্ষণ পর সেই মাগী রামকান্তকে জল আনিয়া দিল। তৎপরে বলিল, “এইখানে শুয়ে থাক, বাহিরে যেও না, বাবু দেখলে অনর্থ করবে।”

    রামকান্ত বলিল, “না, আমি বাহিরে যাব না, দরকার কি।”

    রামকান্ত অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত, প্রায় এক ঘটি জল খাইয়া ফেলিল, তৎপরে মুখ বিকৃতি করিয়া বলিল, “জলটা এমন বিস্বাদ কেন? বিশ্রী।”

    সে বলিল, “আমরা কুয়ার জল খাই।”

    “সেইজন্যই এমন?”

    “হাঁ, এই জল ঢেলে দিচ্ছি, ঘটিটা মেজে দাও—তুমি মুসলমান, আমি তোমাকে স্থান দিয়েছি, বাবু জানলে অনর্থ করবে।”

    “এই যে মেজে দিই, তবে সন্ধ্যার সময় কিছু মিষ্টি এনে খাব—আপনাদের কষ্ট পেতে হবে না।”

    সে কথার উত্তর না দিয়া স্ত্রীলোকটি চলিয়া গেল। রামকান্ত আবার শুইয়া পড়িল।

    কিয়ৎক্ষণ পরে তাহার বড় ঘুম আসিতে লাগিল। সে মনে মনে বলিল, “কি আপদ! আমি কি এখানে ঘুমাইতে এসেছি? গুরুদেব কি বলিবেন? কোথায় সব সন্ধান লইব, না দুই চোখ ভাঙিয়া ঘুম আসিতেছে।” রামকান্ত দুই হাতে সবলে চক্ষু মার্জিত করিল, তৎপরে কষ্টে চাহিবার চেষ্টা পাইয়া বলিল, “কি মুস্কিল! চোখে যে কম দেখিতেছি।”

    সহসা একটা কথা তাহার মনে পড়িয়া গেল; তখনই সে লম্ফ দিয়া উঠিবার চেষ্টা পাইল; কিন্তু পারিল না। তখন তাঁহার সর্ব্বশরীর অবসন্ন হইয়া আসিতেছিল।

    রামকান্ত বলিয়া উঠিল, “কি ভয়ানক! কি সৰ্ব্বনাশ! মাগী আমাকে জলের সঙ্গে বিষ খাওয়াইয়াছে; ঠিক বিষ নয়, ধুতুরার বীচীর গুঁড়া খাওয়াইয়াছে, আমাকে অজ্ঞান করিবার উদ্দেশ্য—তার পর—তার পর–কি সর্ব্বনাশ, টাকাগুলি চুরি করিয়া লইবে, টাকা যায় যাক, গুরুদেবের কাজ মাটি করিলাম! বিষ হইলেই ভাল ছিল, আমার মরাই উচিত!”

    রামকান্ত উঠিবার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা পাইতে লাগিল, কিন্তু ক্রমশঃ তাহার সৰ্ব্বাঙ্গ অবসন্ন হইয়া আসিতেছিল, উঠিতে পারিল না। তখন চিৎকার করিবার চেষ্টা পাইল, কিন্তু তাহার জিহ্বা শুষ্ক ও অবশ হইয়া গিয়াছিল। কথা কহিতেই পারিল না। নীরবে পড়িয়া রহিল।

    কিন্তু তাহার মানসিক শক্তি এ অবস্থায়ও বেশ প্রখর ছিল। সে ক্ষণপরে একবার বেশ শুনিতে পাইল যে, দুইজনে পাশের একটি ঘরে অনুচ্চস্বরে কথা কহিতেছে। কন্ঠস্বরে বেশ বুঝিতে পারিল, সেই দুইজনের একজন পুরুষ—একজন স্ত্রীলোক; স্ত্রীলোকটি সেই আশ্রয়দাত্রী ভয়ঙ্করী, পুরুষটি কে বুঝিতে পারিল না; ভাবিল, যে ব্যক্তি ত্রিতলের ছাদে দূরবীন দেখিতেছিল, সেই-ই হইবে। হয় ত সেই এই বাড়ীর মালিক

    পুরুষ বলিল, “এতক্ষণ তাহার আসা উচিত ছিল। বড় জালাতন করছে।”

    স্ত্রীলোক বলিল, “কাজ শেষ করবে, তার পর গাড়ী করে কলিকাতা থেকে আসবে—দেরি ত হবেই।”

    “এবারও যদি না পারে? অপদার্থ অকর্ম্মার কতদিন আশায় আশায় থাকব।”

    “এ আমাদের খাওয়াচ্ছে—এর নিন্দা করো না।”

    “নিন্দা ত করব না, কবে তার টাকা যে পাব, তার কোন ঠিকানা নাই—এই আজ কাল করে কত দিন গেল।”

    “যাক, এক সময়ে পাওয়া ত যাবে –”

    “তার পর আমাদেরই—তাদের রেলের উপর রাত্রে শুইয়ে আসতে হবে।”

    “কেন, রেলের আবার কেন?”

    “কেন? সকলেই মকে করবে যে, তারা রেল গাড়ী চাপা পড়েছে।”

    “এখান থেকে যত শীঘ্র যেতে পারলে হয়।”

    “কত দিনে দেবে—বেটাকে আমার বিশ্বাস হয় না।”

    “না—না—তা ঠিক নয়, দেবে বস কি।”

    “আর দিয়েছে।”

    “আজ ত কিছু হবে।”

    “কি সে?”

    “বাক্সওয়ালার বেটার কাছে তিনশ টাকা আছে।”

    “বটে, তার পর?”

    “জলের সঙ্গে সেই গুঁড়া খাইয়েছি, বেটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।”

    “তবে এই সময়ে—আর দেরি নয়, বেটা এসে পড়লে এ কাজটা ফেঁসে যাবে।”

    “দেখে এসো।”

    “আর দেখে কি হবে, কাজ সেরে দাও।”

    রামকান্ত সকল কথা বেশ শুনিতে পাইল, তাহার টাকা লইবার জন্য সেই মাগীটা নিশ্চয়ই তাহাকে জলের সহিত কিছু খাওয়াইয়াছে—যাহা ভাবিয়াছিল, তাহাই ঘটিল। এখন উপায়? তাহার উঠিবার ক্ষমতা নাই, নড়িবার ক্ষমতা নাই, হাত পা সরাইবারও ক্ষমতা নাই। কি সর্ব্বনাশ! চিৎকার করিায়া কাহাকে ডাকিবে, এমন ক্ষমতাও তাহার নাই। ইহারা কি তাহার প্রাণনাশ করিবে? এতদিনে এই দূরাত্মাদিগের হাতে কি প্রাণটা গেল? এমন বিপদ্ কি কখনও কাহার ঘটিয়াছে? তাহার জ্ঞান আছে, অথচ ক্ষমতা নাই—কি ভয়ানক! অসহায় ভাবে দুরাত্মাদের হাতে মরিতে হইবে। সহসা এই সময়ে কিসের একটা শব্দ হইল। বোধ হইল, যেন কে একটা বড় চাকা ঘুরাইতেছে। রামকান্ত বুঝিতে পারিল, সে যে তক্তাপোষের উপর শয়ন করিয়া আছে, তাহা নড়িতেছে; ক্ষণপরে তক্তোপোশের একদিক, উপর উঠিতে লাগিল। পরক্ষণে তাহার বোধ হইল, যেন তক্তোপোষখানা একেবারে উল্টাইয়া গেল—সে পড়িয়া গেল; কোথায় পড়িল, তাহা বুঝিতে পারিল না;বোধ হইল, যেন আকাশ হইতে নীচের দিকে যাইতেছে।

    ৩৭

    সেই সময়ে তাহার জ্ঞান লোপ পাইল। সে কোমল মৃত্তিকার উপর সবেগে পতিত হইল, তৎপরে তাহার আর কোন জ্ঞান থাকিল না।

    যখন তাহার জ্ঞান হইল, তখন সে দেখিল যে, নরম কদমের উপর মুখ গুঁজড়াইয়া পড়িয়াছে, সৰ্ব্বাঙ্গ কৰ্দ্দমাক্ত হইয়াছে; কিন্তু এখন আগেকার সেই অবসন্নতার অনেক হ্রাস হইয়াছে; ইচ্ছামত হাত পা সঞ্চালন করিতে পারিতেছে, উঠিয়া বসিতেও পারা যায়। মনে মনে বুঝিতে পারিল, অনেকক্ষণ তরল কদমের মধ্যে পড়িয়া থাকায় সেই বিষাক্ত গুঁড়ার প্রকোপটা কমিয়া গিয়াছে এবং এই কদমে আরও একটা উপকার হইয়াছে, উচ্চস্থানে হইতে সে স্খলিত হইয়া পড়িলেও তাহার শরীরে কোন স্থানে তেমন আঘাত লাগে নাই।

    রামকান্ত কতক্ষণ এখানে অজ্ঞান অবস্থায় ছিল, তাহাও স্থির করিতে পারিল না; কোথায় পড়িয়াছে, তাহাও বুঝিতে পারিল না; চারিদিকে অন্ধকার—কিছুই দেখা যায় না। সে আপাততঃ নীরব থাকাই যুক্তি-সঙ্গত মনে করিল। ভাবিল, উপরের তাহারা যদি জানিতে পারে যে, আমি মরি নাই, বাঁচিয়া আছি, তাহা হইলে অন্য উপায়ে আমাকে হত্যা করিবে, সুতরাং কোন শব্দ করা উচিত নয়। রামকান্ত কিয়ৎক্ষণ নীরবে রহিল, সে যে গৃহমধ্যে পতিত হইয়াছিল, তথায় আর কিছু আছে কিনা, তাহাই জানিবার জন্য ব্যগ্র হইল।

    প্রথম হইতেই তাহার মনে হইতেছিল, যেন কি একটা শব্দ গৃহমধ্যে হইতেছে। যেন কাহার নিশ্বাস পড়িতেছিল, অথবা যেন কোন সর্প তথায় বাহিরে হইয়াছে।

    রামকান্ত ভাবিল, “শেষে এই অন্ধকূপের মধ্যে বিখোরে প্রাণটা গেল! আমার আগেই সাবধান হওয়া উচিত ছিল—ইহারা আমাকে যাহা খাইতে দিয়াছিল, তাহা না খাওয়াই উচিত ছিল। আমি গাধা, প্রকান্ড গাধা বলিয়াই ইহাদের সন্দেহ করি নাই। যাহা হউক, বোধ হয় ভোর হইয়াছে, ঘরে একটু একটু আলো আসিতেছে, উপরে তাহা হইলে একটা জানালা কি কোন রকম খোলা জায়েগা আছে, না হইলে আলো আসিবে কোথা থেকে? আলো হইলে কোথায় আছি, দেখিতে পাইব; ইহারা ভাবিয়াছে, আমি মরিয়াছি—এখনও আশা আছে, তবে আশা ছাড়িব কেন?” এই সময়ে অতিশয় বিস্ময়ের সহিত “এ কে!” বলিয়া সত্বর উঠিয়া বসিল।

    রামকান্ত এবার স্পষ্ট মনুষ্যের নিশ্বাসের শব্দ শুনিতে পাইল; তাহার বোধ হইল, সেখানে এক কোণে ছায়ামুর্ত্তির মত যেন কে বসিয়া আছে, তাহারই নিশ্বাসের শব্দ এতক্ষণ শুনিতে পাওয়া যাইতেছিল।

    এখন তাহার সম্পূর্ণ জ্ঞান হইয়াছে, তাহার আর সে অবসন্নতা নাই। মনে পড়িল, তাহার পকেটে দিয়াশালাই আছে, সে সত্বর পকেটে হাত দিল। পকেট হইতে দিয়াশলাই বাহির করিয়া জ্বালিল।

    তখন সেই আলোকে তাহাকে দেখিয়া রামকান্ত অস্ফুট চীৎকার করিয়া উঠিল। সে দেখিয়া বিস্মিত হইয়া কিয়ৎক্ষণ স্তম্ভিতপ্রায় রহিল। কে? তাহারা যাহাকে অনুসন্ধান করিতেছিল, সেই এখানে এরূপ ভাবে রহিয়াছে, লীলাকেও এই পাষণ্ডগণ এইখানেই লুকাইয়া রাখিয়াছে।

    লীলা তাহাকে চিনিতে পারিল না, ভয়ে এককোনে সরিয়া গেল। রামকান্ত আর একবার দিয়াশলাই জ্বালিল; দেখিল, তাহার আহারের জন্য কতকগুলি মুড়ি, একটা ভাঁড় ও এক কলসী জলও সেখানে রহিয়াছে। রামকান্ত বলিল, “তাহা হইলে এই অন্ধকূপ ইহাদের কয়েদখানা, এখানে আটকাইয়া রাখিবার ব্যবস্থা—এই অন্ধকূপের মধ্যে ফেলিয়া মারিবার ইচ্ছা ইহাদের নয়। এখন তাহা হইলে আটকাইয়া রাখিবে, প্রয়োজন মত ব্যবস্থা করিবে।”

    রাত্রে সেই মাগী ও আর একটা লোক যে কথাবাৰ্ত্তা কহিতেছিল, তাহা এখন তাহার স্পষ্ট মনে পড়িল ইহারা বলিয়াছিল যে, এইখানে কাহাদের হত্যা করিয়া পরে রেল লাইনে ফেলিয়া আসিবে; লোকে ভাবিবে, তাহারা রেলে চাপা পড়িয়াছে। একজন ত লীলা—অপরটি কে? সম্ভবতঃ সে-ই নিজে—না, তাহা হইতে পারে না তাহার মনে পড়িল, ইহারা কাহার প্রতিক্ষা করিতেছিল, কাহাকে এখানে কে লইয়া আসিবে তাহাই বলিতেছিল—সে কে?

    রামকান্তের মনে মুহুর্ত্তের জন্য এই সকল কথা উদিত হইল। সে এ সকল কথা মন হইতে দূর করিয়া ভাবিল, “যাহা হউক, লীলাকে পাইয়াছি, যেমন করিয়া হউক ইহাকে রক্ষা করিতে হইবে, এখন ত স্পষ্ট বুঝিতে পারা যাইতেছে যে, গুরুদেব যাহা ভাবিয়াছেন, তাহাই ঠিক—নরেন্দ্রভূষণবাবুর টাকার জন্যই এ সকল কাণ্ড, বিনোদিনী খুন হইয়াছে, এই টাকার জন্য—লীলাকেও ইহারা খুন করিবার জন্য এখানে আটকাইয়া রাখিয়াছে; সুহাসিনীকেও নিশ্চয়ই এখানে আনিবার জন্য চেষ্টা করিয়াছিল–হয় ত তাহারা তাহাকে এখানে আনিতেছে—খুব সম্ভব তাহাই। এখন এই মাগী আমার টাকার লোভে আমাকে হত্যা করিতে না চাহিলে আমি এ ঘরে আসিতে পারিতাম না-লীলারও সন্ধান পাইতাম না। যাক্ এখনও যখন আমি মরি নাই, তখন শীঘ্র মরিব না, যেমন করিয়া হউক, এখান হইতে যাইতে হইবে–লীলাকেও রক্ষা করিতে হইবে; তবে কিরূপে যে এখান হইতে বাহির হইতে পারিব, তাহা ত এখন ভাবিয়া পাইতেছি না, দেখা যাক্।”

    ৩৮

    রামকান্ত উঠিয়া লীলার নিকটে আসিল, লীলা ভয় পাইয়া আরও কোণের দিকে সরিয়া গেল। রামকান্ত বলিল, “ভয় করিয়ো না, চিনিতে পারিতেছ না—আমি তোমাকে লইয়া যাইব বলিয়া, তোমার বাবার নিকট হইতে আসিয়াছি।”

    লীলা ব্যাকুলভাবে তাহার মুখের দিকে চাহিয়া রহিল। কোন কথা কহিল না। রামকান্ত বলিল, “সেই দমদমায় তোমার বাবার সঙ্গে আমাকে দেখিয়াছিলে—মনে পড়ে না?”

    এইবার লীলার মনে পড়িল। সে ছুটিয়া রামকান্তের নিকটে আসিয়া দুইহাতে তাহার গলা জড়াইয়া ধরিল। এই সময়ে উর্দ্ধে দ্বার নাড়িবার শব্দ হইল। রামকান্ত লীলার কানে কানে বলিল, “শুয়ে পড়—এরা উপরের দরজা খুলিতেছে—দেখাও, যেন ঘুমাইয়া আছ; আমিও যেন মরিয়া গিয়াছি, এই রকম ভাবে পড়িয়া থাকি।”

    এই বলিয়া রামকান্ত অন্য দিকে গিয়া নিমীলিত নেত্রে শুইয়া পড়িল।

    তাহার শয়নের সঙ্গে সঙ্গে উপর হইতে দড়ি দিয়া একটা লন্ঠত কেহ নীচে ঝুলাইয়া দিল। কেহ উপর হইতে এই লণ্ঠনের আলোক গৃহমধ্যে কি হইতেছে দেখিল; রামকান্তের কথা মত লীলাও ইতিমধ্যে শুইয়া পড়িয়াছিল, সুতরাং উপর হইতে যাহারা লন্ঠন নামাইয়া দিয়াছিল, তাহারা দেখিল যে, একজন লোক ঠিক মড়ার মত পড়িয়া আছে—লীলাও মৃতবৎ শায়িত। উপর হইতে কে বলিল, “ও দুটার কাজ এতক্ষণ শেষ হয়ে গেছে—এখন এটাকেও নামিয়ে দাও।”

    রামকান্ত এক চক্ষু অর্দ্ধউন্মিলীত করিয়া দেখিল, উপর হইতে কাহার দেহ নামিয়া আসিতেছে। দেহটার হাত পা, মুখ কাপড়ে বাঁধা—দড়ী দিয়া ঝুলয়ইয়া দিতেছে। কাহার দেহ সে মৃত না জিবীত, তাহার কিছুই জানিতে পারিল না।

    রামকান্ত উঠিতে সাহস করিল না—নিস্পন্দভাবে পূর্ব্ববৎ পড়িয়া রহিল। পরক্ষণে শব্দে বুঝিল, দেহটা তাহার নিকটেই পড়িয়াছে, লন্ঠন উঠিয়া গিয়াছে, উপরের দরজাও বন্ধ হইয়াছে—বোধ হয়, কাহারা তখন সেই দ্বারের উপরে কোন গুরুতর দ্রব্য রাখিতেছে। এ সাবধানতার প্রয়োজন ছিল না, গৃহতল হইতে এই দ্বার বহু উচ্চে, সুতরাং রামকান্ত বা কাহারও এই দ্বারের নিকটে আসিবার সম্ভবনা ছিল না।

    রামকান্ত কিয়ৎক্ষণ নীরবে পড়িয়া রহিল। সাবধানের মার নাই; ভাবিল, যদি কেহ এখনও উপরে থাকে—কিন্তু অনেকক্ষণ নিস্তব্ধ থাকিয়াও সে আর কোন শব্দ করিল শুনিতে পাইল না। তখন ভাবিল, “ইহারা ইহারা আমাদের সকলকেই মৃত স্থির করিয়াছে, সুতরাং, আর এখন আসিবে না; বোধ হয় রেল লাইনে মৃতদেহ ফেলিবার আশা ত্যাগ করিয়াছে—যাহা হউক, এখন দেখা যাক, আবার কাহাকে ইহারা এই অন্ধকূপে নামাইয়া দিল।”

    রামকান্ত আবার দিয়াশলাই জ্বালিল। সেই দেহের নিকটস্থ হইয়া দেখিল, কাপড় দিয়া তাহার মুখ বাঁধা, সুতরাং কোন শব্দ করিবার উপায় নাই। হাত ও পা সুদৃঢ়ভাবে রজ্জুদ্বারা আবদ্ধ; রামকান্ত তাহার মুখ ভাল করিয়া দেখিতে পাইল না, তথাপি মনে হইল, এ মুখ যেন পরিচিত, কোথায় সে একবার দেখিয়াছে—তাহার পর সহসা বিদ্যুদ্বিকাশের ন্যায় চকিতে মনে পড়িয়া গেল—এ যে সেই বরাহনগরের সুহাসিনী।

    রামকান্ত কাল বিলম্ব না করিয়া সুহাসিনীর মুখের বন্ধন খুলিয়া দিল; তখন সে দেখিল যে, সুহাসিনী মরে নাই, নিসংজ্ঞ অবস্থায় রহিয়াছে।

    সুহাসিনী ধীরে ধীরে চক্ষুউন্মীলন করিল; অতি মৃদুস্বরে বলিল, “আমি কোথায়?”

    রামকান্ত বলিল, “পাষন্ডগণ তোমাকে আর ঐ ছোট মেয়েটাকে হত্যা করিবার চেষ্টায় আছে—ভয় নাই, আমি তোমাদের রক্ষা করিব।”

    “আপনি কে?” আপনাকে কোথায় দেখিয়াছি বলিয়া বোধ হয়।”

    “এখান হইতে বাহির হইলে সকল বলিব—এখন এইমাত্র জান যে, আমি গোবিন্দরামের লোক।” সুহাসিনী বিস্মিতভাবে বলিল, “গোবিন্দরাম!”

    “হাঁ, সুরেন্দ্রনাথের পিতা; নিশ্চয়ই—ইহারা তাহার নাম করিয়া তোমাকে ভুলাইয়া বাড়ীর বাহির করিয়া আনিয়াছিল।”

    “হাঁ, আপনি ঠিক বলিয়াছেন। আমি ইহাদের কথা বিশ্বাস করিয়া ভাল করি নাই।”

    “বুঝিয়াছি, তাহার পর তোমার হাত পা মুখ বাঁধিয়া এখানে আনিয়াছে।”

    “হাঁ, তাহাই ঠিক।”

    “পাছে এখানে কেহ আ___লিয়া এই দুরাত্মাদের একজন ভূত সাজিয়া বাগানে চারিদিকে বেড়ায়—এ কৃতান্ত ব্যতীত আর কাহারও কাজ নয়।”

    “সে কে?”

    “একবার এখান হইতে বাহির হইতে পারিলে সব বলিব—তবে কিরূপে বাহির হইব, তাহা জানি না, যেমন করিয়া হউক, একটা উপায় করিতেছি।”

    “এই মেয়েটাকে রক্ষা করুন।”

    “ইহাকে যদি রক্ষা করিতে পারি, তাহা হইলে তোমাকেও রক্ষা করিব—সঙ্গে সঙ্গে আমাকেও রক্ষা করিব।”

    ৩৯

    রামকান্ত একথা বলিল বটে, কিন্তু কিরূপে যে এ কার্য্যেদ্ধার হইবে, তাহা কিছুই ভাবিয়া স্থির করিতে পারিল না; এবং সুহাসিনীকে তাহার মনের ভাব প্রকাশ করি—করিয়া বলাও যুক্তিসঙ্গত বিবেচনা করিল না। ভাবিল, “আমরা যে মরিয়াছি, তাহা ইহারা কখনই ভাবে নাই। যদি আমি একা হইতাম, তাহা হইলে ইহারা আমার দিকে চাহিত না—আমি এই অন্ধকূপে অনাহারে মরিয়া যাইতাম। তবে ইহারা দুইজন রহিয়াছে, ইহাদের হত্যা করিবার জন্যই এখানে আনিয়াছে, ইহারা বাঁচিয়া থাকিতে নরেন্দ্রভূষণের টাকা হস্তগত হইবে না, সুতরাং ইহাদের শীঘ্রই হত্যা করিবে। তবে কিরূপে হত্যা করিবে—সে হইতেছে কথা।” সহসা তাহার মনে হইল যে, নিশ্চয়ই কৃতান্ত জানে না যে, আমি এখানে আসিয়াছি, এ সেই বদজাত্ মাগীটা আমার টাকাটা লইবার জন্যই আমাকে এখানে ফেলিয়াছে—যাহাই হউক, আর সময় নষ্ট কার কর্তব্য নহে—রামকান্ত উঠিল। তখন বাহিরে বোধ হয়, বেশ বেলা হইয়াছে, গৃহমধ্যে আর তত অন্ধকার নাই। এখন সব বেশ স্পষ্ট দেখা যায়, বিশেষতঃ সে অনেকক্ষণ অন্ধকারে থাকায় অন্ধকারেও বেশ দেখিতে পাইতেছিল।

    রামকান্ত দেখিল, পূর্ব্বে গৃহমধ্যে কেবল কদম ছিল,এখন একটু জল জমিয়াছে। জল দেখিয়া রামকান্তের হৃদয় আরও দমিয়া গেল।

    কি ভয়ানক! নিশ্চয়ই এই গৃহে জোয়ারের জল আসে, তাহাই এখানে এত কদম—ইহারা জলে ডুবাইয়া মারিবার জন্যই তিনজনকে এই গৃহে আটকাইয়া রাখিয়াছে। এখন হইতেই ক্রমশঃ ঘরে চল ঢুকিতেছে। উপরে চাহিয়া রামকান্ত বুঝিতে পারিল যে পূর্ণজোয়ারে এই ঘর জলে পরিপূর্ণ হইয়া যায়, উপর পর্যন্ত জলের দাগ রহিয়াছে, এখন উপায়?

    রামকান্ত মনে মনে বলিল, “বেটারা ভাবিয়াছে যে, আমি পড়িয়া খোঁড়া হইয়াছি, জলে সাঁতার দিতে পারি না—তাহার পর সুহাসিনী, তাহার হাত পা বাঁধা আছে—আর লীলা সে ত সাঁতার জানে না, সুতরাং তিনজনেই জলের মধ্যে থাকিবে। সংসারে বদমাইসগণ যাহা করিতে চাহে, তাহা সকল সময়ে ঘটে না, ইহাই পরমসৌভাগ্য; নতুবা কাহারই নিস্তার ছিল না।”

    গৃহটির চারিদিক দেখিয়াই রামকান্ত মনে মনে একটা বিষয় স্থির করিয়া লইয়াছিল। সে দেখিল, উপরে প্রায় ছাদের নীচে একটা ছোট জানালা আছে, ঐখানে উপস্থিত হইতে পারিলে অনায়াসে বাহির হইতে পারা যায়, কিন্তু জানালাটি অনেক উচ্চে, সেখানে উঠিবার কোন উপায় নাই। ভাবিল, “তবে এক উপায় হইতে পাবে—যখন জোয়ারের জলে ঘর পূর্ণ হইয়া যইেবে, তখন সাঁতার দিয়া ঐ জানালা ধরা যাইতে পারে; জানালার কাঠের গরাদ ভাঙিতে কতক্ষণ? খুব সম্ভব, ঐ জানালাটি গঙ্গার দিকে—না-ই হউক, যে কোনখানে হউক যাইতে পারিব—একবার এই অন্ধকূপ হইতে বাহির হইতে পারিলে দেখা যাইবে—বেটারা রামকান্তকে চিনে নাই।”

    রামকান্ত সুহাসিনীর দিকে ফিরিয়া বলিল, “তুমি মা, সাঁতার জান?”

    সুহাসিনী বিস্মিত হইয়া বলিল, “জানি, কেন?”

    রামকান্ত বলিল, “দেখিতেছ না—এই ঘরে জল আসিতেছে।”

    ভয়বিহ্বলা সুহাসিনী ইহা পূর্ব্বে লক্ষ্য করে নাই, এখন পায়ের উপর জল জমিতে দেখিয়া সভয়ে বলিয়া উঠিল, হাঁ, তাই ত!”

    “ভয় নাই, এই জলই আমাদিগকে রক্ষা করিবে।”

    “কেমন করে?”

    “ঐ উপরের জানালাটি ব্যতীত আমাদের এখান হইতে বাহির হইয়া যাইবার কোন উপায় নাই।”

    “তবে কি হইবে?”

    “জল ঘরে আসিলে সাঁতার দিয়া আমরা ঐ জানালা ধরিব, গরাদ ভাঙিয়া ইহার গিতর দিয়া বাহির হইতে পারিব।”

    “যদি তাহারা বাহিরে থাকে?”

    “রামকান্তের বয়স হইলেও এখনও বদমাইসদের দুই দশটাকে কাবু করিবার শক্তি রাখে।”

    সুহাসিনী আর কথা কহিল না—রামকান্ত গৃহতলস্থ জল দেখাইয়া দিয়া বলিল, “এখন খুব জোয়ার আসিয়াছে—হু হু করিয়া ঘরে জল আসিতেছে।” সুহাসিনী লীলাকে দেখাইয়া বলিল, “এ মেয়েটি ত সাঁতার দিতে পারিবে না?”

    রামকান্ত লীলার নিকটস্থ বলিল, “কোন চিন্তা নাই আমি ইহার কোলে লইয়া সাঁতার দিব। এ মেয়েটি সম্পর্কে তোমার ভগিনী! এ কাহার কন্যা?”

    “গোপালের—এইজন্যই তোমাদের দুইজনকে খুন করিতে চায়।”

    “কে কেন?”

    “সব পরে বলিব, এখন প্রাণে বাঁচিয়া এখান হইতে বাহির হইতে পারিলে হয়।”

    “তবে এই সেই লীলা—আমি সব শুনিয়াছি।”

    ‘পরে সমস্তই বলিব—এখন সাঁতার দিতে চেষ্টা কর।”

    এই সময়ে জল প্রায় কটিদেশ পৰ্য্যন্ত উঠিয়াছিল। রামকান্ত লীলাকে ক্রোড়ে তুলিয়া লইল।

    ক্রমে জল আরও বাড়িতে লাগিল। তখন রামকান্ত সুহাসিনীকে সন্তরণ করিবার জন্য ইঙ্গিত করিয়া লীলাকে স্কন্ধে তুলিয়া লইল। তৎপরে সন্তরণ আরম্ভ করিল। সুহাসিনীকে বলিল, “জানালার দিকে এস—কোন ভয় নাই।”

    সুহাসিনীও সন্তরণে সুদক্ষ ছিল, সে-ও রামকান্তের পশ্চাতে পশ্চাতে জানালার দিকে চলিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
    Next Article বাঙ্গালীর বীরত্ব – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }