Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৬ (ষষ্ঠ খণ্ড)

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প504 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রতীজ্ঞা পালন – ২৫

    ২৫

    এদিকে গোবিন্দরাম সন্ধ্যার কিছু পূর্ব্বে পুত্রের গৃহসান্নিধ্যে আসিয়া উপস্থিত হইলেন; দ্বারে পাহারা ছিল। ‘হুকুম নাই”, বলিয়া তাহারা তাঁহাকে বাড়ীতে প্রবেশ করিতে দিল না। তিন বলিলেন, “ভালই হইল, যদি হাবা সুরেন্দ্রনাথকে চিনিতে পারে—চোখের উপর সে দৃশ্য দেখিয়া হয় ত সহ্য করিতে পারিব না; তাহা অপেক্ষা সব চুকিয়া যাক্, পরে সাহেবের কাছে সব শুনিব।”

    এইরূপ ভাবিয়া তিনি এক বৃক্ষতলে দাঁড়াইলেন, সেখান হইতে সুরেন্দ্রনাথের গৃহদ্বার তো দেখিতে পাওয়া যায়।

    তিনি দেখিলেন, সন্ধ্যার প্রাক্কালে সাহেব ও অক্ষয়কুমার সুরেন্দ্রনাথকে লইয়া আসিলেন। তাঁহারা তিনজনে বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করিলেন।

    সন্ধ্যার সময়ে সবেগে আর একখানা গাড়ী আসিল। তন্মধ্যে হইতে কয়েকজন নামিয়া বাড়ীর ভিতর চলিয়া গেল; তখন অন্ধকার হইয়াছিল,তিনি সেখান হইতে তাহাদের চিনিতে পারিলেন না। কিয়ৎক্ষণ পরেই আবার বাড়ীর ভিতর হইতে জনকয়েক আসিয়া গাড়ীতে উঠিল; একখানা গাড়ী চলিয়া গেল।

    তাহার পর গোবিন্দরাম দেখিলেন—পোষাক ও টুপি দেখিয়া চিনিলেন যে, এবার সাহেব বাহির হইয়া আসিয়াছেন; তাহা হইলে কাজ হইয়া গিয়াছে; কি হইয়াছে, জানিবার জন্য তিনি ছুটিয়া সাহেবের নিকটে আসিলেন। ব্যগ্রভাবে জিজ্ঞাসা করিলেন, “কি হইল?”

    সাহেব ভ্রূকুটি করিয়া মাথা নাড়িয়া বলিলেন, “আপনি কি তাহা অনুমান করিতে পারেন নাই?”

    সাহেবের কন্ঠস্বরে একান্ত বিস্মিত হইয়া গোবিন্দরাম বলিলেন, “না, কেমন করিয়া জানিব? দ্বিতীয় গাড়ীখানাতে কৃতান্ত বাবু নিশ্চয়ই হাবাকে আনিয়াছিলেন।”

    সাহেব বলিলেন, “হাবা আসে নাই। সে পলাইয়াছে—কি কেহ তাহাকে চুরি করিয়া লইয়া গিয়াছে।”

    “সে কি! কে তাহাকে লইয়া গিয়াছে?”

    “আপনি সে কথাটা আমাদের বলিলে আমরা বাধিত হইব।”

    “আমি! আমি কিরূপে বলিব?”

    “তবে রামকান্ত বলিবে।”

    “সে কখনও জানিয়া শুনিয়া তাহাকে পালাইতে দিবে না।”

    “মহাশয়, আপনার নিকটে গোপন করিব না—আপনাকেই আমরা সন্দেহ করিয়াছি।”

    “আমাকে! কেন?”

    “হাবার সহিত আপনার ছেলের দেখা হইবার সমস্ত বন্দোবস্ত স্থির হইয়া গিয়াছে—এমন সময়ে হাবা পলাইল, ইহাতে কি মনে হয়? কাহার স্বার্থে হাবাকে সরাইয়া দেওয়া? আপনি ও আপনার গুণবান পুত্র জানিতেন যে, হাবা তাহাকে দেখিলেই চিনিতে পারিবে, তাহাই হাবাকে সরাইয়া দেওয়া হইয়াছে। এখন আপনি কি বলিতে চাহেন?”

    “আপনি কি বলিতেছেন, আমি কিছুই বুঝিতে পারিতেছিনা। ইহাই যদি হইবে তবে আমি হাবাকে তাহার কাছে আনিবার জন্য আপনাকে এত জেদ করিব কেন?”

    “তাহা আপনি ভাল জানেন।”

    “তাহা হইলে আপনি আমাকে এ বিষয়ে দোষী মনে করিতেছেন?”

    “আমি কাহাকেও দোষী মনে করি না; আমি এতদিন আপনাকে বন্ধুভাবে দেখিয়াছি—সে সম্বন্ধ আজ হইতে বিনষ্ট হইল—যান”, বলিয়া সাহেব গাড়ীতে গিয়া উঠিলেন। গাড়ী চলিয়া গেল।

    গোবিন্দরাম কিয়ৎক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ়ের ন্যায় অধম্মুখে তথায় নীরবে দাঁড়াইয়া রহিলেন। জীবনে তাহার কখনও এরূপ অবস্থা হয় নাই; তাঁহার বোধ হইল, যেন এ বৃদ্ধ বয়সে তাঁহার পদতল হইতে পৃথিবী সরিয়া যাইতেছে।

    গোবিন্দরাম গৃহে ফিরিলেন। কি করিবেন সমস্ত রাত্রি তাহাই চিন্তা করিলেন; ভাবিলেন, “ইহার ভিতরে স্পষ্টতঃই একটা গুরুতর রহস্য আছে—আমার প্রাণ থাকিতে আমি বিশ্বাস করিতে পারিব না যে, সুরেন্দ্র এই ভয়াবহ কাজ করিয়াছে। অসম্ভব—অসম্বব! তবে কে এরূপে হাবাকে সরাইল? যদি হাবা সুরেন্দ্রনাথকে চিনিতে না পারিত, তাহা হইলে পুলিস তাহাকে ছাড়িয়া দিতে বাধ্য হইত; তখন হাবা কোথাকার, কাহার লোক পুলিস তাহারই সন্ধান করিত—এইজন্যই হাবাকে সরাইয়াছে। হয় ত সুরেন্দ্র ফাঁসী যাক, এই ইচ্ছায় ইহাকে লুকাইয়া ফেলিয়াছে। এত রহস্য ভেদ করিলাম, আর এ রহস্য ভেদ করিতে পারিব না? বয়স হইয়াছে—বৃদ্ধ হইয়াছি, ডিটেকটিভগিরি বহুকাল ছাড়িয়া দিয়াছি, তবুও এখনও অকর্ম্মণ্য হই নাই। সুরেন্দ্র জন্য আমাকে এ কাজে আবার নামিতে হইবে। দেখি, কতদূর কি করিতে পারি; এখন ত কিছুই ভাবিয়া স্থির করিতে পারিতেছিনা। তবে সুরেন্দ্র যে এ কাজ করে নাই—ইহা নিশ্চয়; কিন্তু সে কোন কথা খুলিয়া বলিতেছে না, যত গোলযোগ ওইখানে। তাহার বিরুদ্ধে পুলিসে যে প্রমাণ পাইয়াছে, সে সম্বন্ধেও কিছু বলিতেছে না। কেনই বা সে এরূপ করিতেছে?” সমস্ত রাত্রি গোবিন্দরাম এ বিষয় লইয়া আলোচনা করিলেন, কিন্তু কিছুই ভাবিয়া স্থির করিতে পারিলেন না—যে লোক কত শত জটিল রহস্যের উদ্ভেদ করিয়াছেন, তিনি আজ কি উপায়ে নিজের পুত্রকে রক্ষা করিবেন, তাহা স্থির করিতে পারিলেন না—আপনার লোক বিপন্ন হইলে সুবিজ্ঞ ব্যক্তিও হতবুদ্ধি হয়

    সকাল হইয়া গিয়াছে। গোবিন্দরাম সমস্ত রাত্রি জাগরণে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হইয়া পড়িয়াছেন; তাঁহার মস্তিষ্ক সুশীতল করিবার জন্য বাড়ীর বাহিরে আসিয়া পদচারণ করিতে লাগিলেন। এই সময়ে এক ব্যক্তি আসিয়া তাঁহাকে প্রনাম করিল।

    গোবিন্দরাম দাঁড়াইলেন। সে আবার প্রনাম করিল; তখন গোবিন্দরাম তাঁহার দিকে চাহিয়া বলিলেন, “কে—রামকান্ত?”

    রামকান্তকে দেখিলে চিনিতে পারা যায় না, তাহার পরিধানে অত্যন্ত মলিন বসন, মাথার চুলগুলিও অত্যন্ত অপরিষ্কার, তাহার মুখ অত্যন্ত বিশুষ্ক—তাহাকে দেখিয়া গোবিন্দরাম বিস্মিত হইলেন। রামকান্ত কথা কহে না দেখিয়া গোবিন্দরাম বলিলেন, “রামকান্ত ব্যাপার কি—কি হইয়াছে?”

    রামকান্ত বলিল, “আর কি হইবে! এইবার পাঁচটা ছেলে-পুলে নিয়ে অনাহারে মরিতে হইবে।”

    “কেন, কি হইয়াছে?”

    “আমাকে তাড়াইয়া দিয়াছে—এতদিনের চাকরী হইতে ডিসমিস্ হইলামপেনসও গেল। এখন আপনিই আমার ভরসা; আপনার ছেলেকে গ্রেপ্তার করিয়াছিলাম বলিয়া আপনি রাগ করিয়াছেন।”

    “রাগ করিব কেন? তোমার কর্ত্তব্য তুমি করিয়াছিলে।”

    “আমি যাহা করিয়াছি, কোন রকমে কি আমার দ্বারা সে অপরাধের মোচন হয় না?”

    “হাঁ, হয়।”

    “বলুন—বলুন—আমি এখনই তাহা করিব।”

    “সুরেন্দ্র যে নির্দোষী তাহা সপ্রমাণ করিতে পারিলে—তুমি যাহা করিয়াছ, সে ত্রুটির সংশোধন হয়।”

    “নিশ্চয় করিব—আমি এখন বেশ বুঝিয়াছি যে, তিনি কখনও এই ভয়ানক কাজ করেন নাই; অন্য কেহ করিয়াছে, সেই আমাদের চোখে ধুলা দিয়া হাবাকে লইয়া গিয়াছে।”

    “হাঁ, আমারও তাহাই সন্দেহ; তাহা হইলে তুমি আমার সঙ্গে কাজ করিতে প্রস্তুত আছ? তুমি পুলিসে যাহা পাইতে তাহার ডাবল মাইনা আমার কাছ পাইবে।”

    “এ কথা আবার আমাকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন! ভগবান আমাকে আপনার কাছে পাঠাইয়াছিলেন, তাহাই আশ্রয় পহিলাম।”

    “ভাল, তাহা হইলে আজ হইতে তুমি কাজে বহাল হইলে। আমার ছেলের সম্বন্ধে পুলিসে কি কি প্রমাণ পাইয়াছে,শুনিতে চাই।”

    “শ্যামকান্তের কাছে যাহা শুনিয়াছি, তাহাই বলিতেছি।”

    “শ্যামকান্ত তাহলে ডিসমিস্ হয় নাই?”

    “না, তাহার একমাসের মাহিনা জরিমানা হইয়াছে মাত্র।”

    “কি কি প্রমাণ পাইয়াছি, শুনি।”

    “সুরেন্দ্রবাবুর বাড়ীতে একটা লাঠী পাওয়া গিয়াছে—সেই লাঠীতে রক্তের দাগ আছে; সুতরাং এই লাঠিতে তিনি জমিদারকে খুন করিয়াছেন; তাহার পর তাঁহার হাতে লেখা একখানা চিঠিও পাওয়া গিয়াছে—স্ত্রীলোকটিকে সুরেন্দ্র বাবু শাসাইয়া পত্র লিখিয়াছিলেন।”

    গোবিন্দরাম এ কথায় কোন উত্তর না দিয়া বলিলেন, “যখন হাবাকে লইয়া যায়, তখন তোমরা উপস্থিত ছিলে; জানই ত যে, আমি তাহাকে সরাই নাই। কাহার প্রতি তোমার সন্দেহ হয়?”

    “কাহার উপরে যে আমার সন্দেহ হয়, তাহা আমি ঠিক বলিতে পারি না। সাহেব আমার কথা ত একেবারেই শুনিলেন না –তিনি কৃতান্তকে মাথায় তুলিয়াছেন। আশ্চর্য্যের বিষয় যে, এরকম ভাবে কৃতান্ত গাধা হইল—তাহার উপর—”

    “যাক, এ সকল কথা, এখন আমার সঙ্গে একত্রে কাজ করিতে সম্মত হইলে?”

    “হাঁ, আগেও বলিয়াছি, আপনি মরিতে বলিলেও মরিব।”

    “তাহা হইলে প্রথমে আমার সঙ্গে তোমাকে যাইতে হইবে।”

    “অনেক দিনের জন্য?”

    “এখন বলতে পারি না।”

    “কোথায় যাইবেন?”

    “কোন কথা জিজ্ঞাসা করিয়ো না, কোন কথা জিজ্ঞাসা করিতে পারিবে না, এই কড়ারে যদি সম্মত হও, তবে—”

    মধ্যে পথে বাধা দিয়া রামকান্ত ব্যগ্রভাবে বলিল, “আপনি যাহা বলিলেন, তাহাই করিব—কোন কথা কহিব না।”

    গোবিন্দরাম গম্ভীরভাবে বলিলেন, “কোথায় যাইব, এখন বলিতে পারি না; তবে সুরেন্দ্রকে নিদোষী সপ্রমাণ করিবার জন্য যাহা করা প্রয়োজন, তাহাই করিতে হইবে। তুমি যে আমার সহিত একত্রে কাজ করিতেছ, ইহা যেন কেহ জানিতে না পারে—সাবধান! অনেক রাত্রে আমার সঙ্গে গোপনে দেখা করিবে।”

    রামকান্ত সেইরূপই কার্য্য করিবে বলিয়া বিদায় হইল।

    ২৬

    দুইমাস অতীত হইয়া গিয়াছে। গোবিন্দরাম আর কলিকাতায় নাই—কোথায় গিয়াছেন, তাহা কেহ জানে না। কৃতান্তকুমার বলিয়াছেন যে, তিনি হাবাকে লইয়া গিয়া তাহারই কাছে আছেন। পাছে, পুলিসে তাহার কোন সন্ধান পায়, এই ভয়ে নিজেই তাহার কাছে আছেন।

    পুলিসের সাহেব কতকটা এইরূপ বিশ্বাস করিয়াছেন। গোবিন্দরামেরা সন্ধানে চারিদিকে সুদক্ষ গোয়েন্দা পাঠাইয়াছেন, কিন্তু তাহার এ পর্যন্ত্য তাঁহার কোন সন্ধান পায় নাই। তবে সকলেই ইহাতে বিস্মিত হইয়াছেন; গোবিন্দরাম যে পুত্রকে বিপদে ফেলিয়া বিদেশে গিয়া নিশ্চিন্তে বসিয়া থাকিবেন, ইহা কখনই সম্ভপর নহে। তিনি যে একটা কিছু করিতেছেন, তাহাতে কাহারই কোন সন্দেহ নাই।

    সুহাসিনীর মাকে তাঁহার কথা জিজ্ঞাসা করা হইয়াছিল; তিনি বলিয়াছিলেন যে, তিনি কিছুই জানেন না, গোবিন্দরাম কোথায় গিয়াছেন, তাহা তাহাকে কিছুই বলিয়া যায় নাই।

    দুই মাস অতীত হইল, গোবিন্দরাম নিরুদ্দেশ হইয়াছেন। সুরেন্দ্রনাথ দায়রায় প্রেরিত হইয়াছেন, তাঁহার বিচার আরম্ভ হইয়াছে।

    দুই মাস জেলে থাকিয়া সুরেন্দ্রনাথের সে আকৃতি আর নাই—তিনি শীর্ণকায় হইয়া গিয়াছেন। দুই মাসের মধ্যে পিতার কোন সংবাদ না পাইয়া তিনি আরও ম্রিয়মান হইয়া পড়িয়াছেন।

    একজন বিখ্যাত কৌসিলী তাঁহার সহিত জেলে দেখা করিয়াছিলেন। তাঁহার নিকট সুরেন্দ্রনাথ শুনিলেন যে, তিনি তাঁহার পক্ষ সমর্থন করিবেন; কে তাহাকে নিযুক্ত করিয়াছেন, তাহা তিনি কিছুতেই প্রকাশ করিলেন না—সুরেন্দ্রনাথ পিতার কথা তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেন যে, তাঁহার কোন সংবাদই তিনি রাখেন না।

    আদালত লোকে লোকারণ্য হইয়াছে। সুরেন্দ্রনাথ ম্লানমুখে কাঠগড়ায় দাঁড়াইয়া রহিয়াছেন। জুরিগণ নিজ নিজ স্থানে উপবিষ্ট হইয়াছেন—লাল পোষাক পরিধান করিয়া জজ গম্ভীরভাবে চারিদিক চাহিয়া দেখিতেছেন।

    ক্ষণপরে উকিল উঠিয়া মোকদ্দমা আরম্ভ করিলেন। তিনি বলিলেন, “দুই মাস পূর্ব্বে একদিন রাত্রি একটার সময়ে দুইজন পাহারাওয়ালা হাতীবাগানের রাস্তায় একব্যাক্তিকে ধৃত করে, সে একটা টিনের বাক্স মাথায় করিয়া লইয়া যাইতেছিল। তাহাকে থানার আনিয়া এই বাক্স খুলিলে তন্মধ্যে একটি সুন্দরী যুবতী স্ত্রীলোকের মৃতদেহ দেখিতে পাওয়া যায়। ঐ মৃতদেহের বক্ষে একখানা ছোরা আমূলবিদ্ধ রহিয়াছে। ঐ ছোরার নিন্মে একখানা তাস—ইস্কাবনের টেক্কা ছিল। যে লোকটা ধরা পড়িয়াছিল, পরে জানা যায় যে, সে হাবা ও কালা—তাহার নিকট কিছুই জানিবার সম্ভবনা নাই। তবুও পুলিস কৌশল করিয়া তাহাকে ছাড়িয়া দিলে সে বাগবাজারে একটা বাড়ীতে আসিল, তখন জানিতে পারা গেল যে, স্ত্রীলোকটি এই বাড়ীতেই বাস করিত; আরও জানিতে পারা গেল যে, এ বাড়ীতে আরও একটা খুন হইয়াছে—তাহার মৃতদেহ বাড়ীতেই পড়িয়া আছে। অনুসন্ধানে জানা গিয়াছে, মৃতদেহ পুরুষটি একজন জমিদার-নাম সুধামাধব রায়; স্ত্রীলোকটি তাহারই রক্ষিতা ছিল—নাম বিনোদিনী। বাড়ী হইতে কোন দ্রব্যাদি অপহূত হয় নাই, সুতরাং বোঝা যাইতেছে যে, অর্থলোভে কেহ এই দুইজনকে খুন করে নাই—রাগ, ঈর্ষা, প্রতিহিংসাই এই খুনের কারণ।

    আসামী নিজে উকীল, শিক্ষিত ভদ্রবংশজাত—শীঘ্রই একজন ধনীর কন্যাকে বিবাহ করিবেন—তিনি একরূপ দৈব্য সাহায্যেই ধৃত হইয়াছেন, বলিলে অত্যুক্তি হয় না। তাঁহার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়াছে;—প্রথমতঃ, তাঁহার পকেট হইতে একখানা পকেট-বইএকজন চোর তুলিয়া লয়, তাহাতে এই বিনোদিনীর একখানা ফটো ছবি ছিল—ছবিতে স্ত্রীলোকের হস্তাক্ষরে লিখিত আছে, “ভুলো না আমায় “ সুতরাং বোঝা যাইতেছে যে, এই বিনোদিনীর সহিত আসামীর প্রণয় ছিল। তাহার পর মৃতদেহে যে তাস পাওয়া গিয়াছে, ঠিক সেইরূপ তাস আসামীর বাড়ীতে পাওয়া গিয়াছে, তাহার ভিতরেও একখানা তাস নাই—যেখানা নাই, সেখানা ইস্কাবনের টেক্কা।

    আসামী খুনের পর দিবস রাত্রে বাগবাজারের সেই বাড়ীতে আসিয়াছিলেন, ডিটেকটিভ অক্ষয়বাবু ও রামকান্ত ইহাকে দেখিয়া চিনিতে পারিয়াছেন। দুঃখের বিষয়, আমরা রামকান্তকে দিয়া সাক্ষ দিতে পারিব না, কারণ রামকান্ত পুলিস হইতে ডিসমিস্ হইয়া যে কোথায় গিয়াছে, তাহার কোন সন্ধান নাই। আসামীর বাড়ীতে একটা মোটা লাঠী পাওয়া গিয়াছে, উহাতে রক্তচিহ্ন আছে। ডাক্তার পরীক্ষা করিয়া বলিয়াছেন যে, এইরূপ লাঠীর আঘাতেই সুধামাধব রায়ের মৃত্যু হইয়াছে। বাগবাজারের এই বাড়ীতে একখানা চিঠির খাম পাওয়া গিয়াছে—তাহা আসামীর হাতের লেখা বলিয়া বুঝিতে পারা যাইতেছে; ইহাতেও আরও সপ্রমাণ হইতেছে যে, এই বিনোদিনীর সহিত আসামীর প্রণয় ছিল; সুতরাং আসামীর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে; কিন্তু আসামী কোন কথা বলিতেছে না, কেবল বলিতেছেন, তিনি নিদোষী। এ অবস্থায় জুরিগণ বিবেচনা করিবেন যে, আসামী দোষী না নির্দোষী। এখন আমি একে একে সাক্ষিগণকে ডাকিব, আর অধিক আমার কিছু বলিবার নাই।”

    সাক্ষীর জবানবন্দী হইল; উভয় পক্ষের কৌন্সিলিদ্বয় দীর্ঘ বক্তৃতা করিলেন, জজও তাঁহার মতামত প্রকাশ করিলেন। তৎপরে জুরিগণ পরামর্শ করিবার জন্য উঠিয়া গেলেন।

    সকলেই বঝুয়াছিলেন যে, আসামীর রক্ষা পাইবার আর উপায় নাই। একজন মুসলমান ভদ্রলোক বরাবর অতি মনোযোগের সহিত এই মোকদ্দমা শুনিতেছিলেন। জুরিগণ উঠিয়া গেলে তিনি পার্শ্বস্থ এক ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনি কিরূপ বুঝিতেছেন?”

    তিনি বলিলেন, “আর বুঝিবার কি আছে—নিশ্চয়ই লোকটার ফাঁসী হইবে।”

    “আমার বোধ হয়, এ খুন করে নাই।”

    “আর ‘করে নাই!’প্রমাণ ত শুনিলেন—লোকটা কিছু না বলাতেই ইহার ফাঁসী হইবে–সব খুলিয়া বলিলে হয় ত দ্বীপান্তর হইত।”

    এই সময়ে জুরিগণ প্রত্যগমণ করায় সকলে ব্যগ্রভাবে তাঁহাদের দিকে চাহিল। সকলে তাঁহাদের মত জানিবার জন্য ব্যাকুল হইল। চারিদিক নীরব-নিস্তব্ধ।

    জজ, জুরিগণের মতামত জানিবার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তাঁহাদের মধ্যে একজন উঠিয়া বলিলেন, “আমরা সকলে একমত হইয়াছি।”

    জজ জিজ্ঞাসা করিলেন, “বলুন, আসামী দোষী না নির্দোষী।”

    “দোষী।”

    মুহূর্ত্তের জন্য আসামীর মুখ বিবর্ণ হইয়া গেল; কিন্তু তিনি অবিচলিতভাবে সেইরূপ দাঁড়াইয়া রহিলেন।

    জজ বলিলেন, “আসামী তোমার কিছু বলিবার আছে?”

    সুরেন্দ্রনাথ দৃঢ়স্বরে বলিলেন, “না, আমার কিছুই বলিবার নাই।”

    জজ ফাঁসীর হুকুম প্রদান করিলেন। প্রহরীরা আসামীকে জেলের দিকে লইয়া চলিল।

    সুরেন্দ্রনাথ যাইতেছিলেন, সেই সময়ে কে যেন তাঁহার পার্শ্বে বলিলেন, “ভয় নাই, আমি তোমাকে বাঁচাইব।”

    সুরেন্দ্রনাথ চমকিত হইয়া ফিরিলেন; দখিলেন, একজন মুসলমান ভদ্রলোক তাঁহার পার্শ্বে দাঁড়াইয়া রহিয়াছেন। তিনিই কি এই কথা তাঁহাকে বলিলেন? কিন্তু অঁহার মুখের দিকে চাহিয়া বোধ হইল না যে, তিনি কোন কথা কহিয়াছেন। সুরেন্দ্রনাথ কিছু স্থির করিতে পারিলেন না। প্রহরিদিগের সহিত জেলে প্ৰস্থান করিলেন।

    ২৭

    সুরেন্দ্রনাথের ফাঁসীর হুকুম হওয়ায় পুলিসে কৃতান্তকুমারের মান অতিশয় বাড়িয়া গিয়াছে। তিনি যে এ মোকদ্দমা সম্বদ্ধে অধিক কিছু করিয়াছিলেন, বলিয়া বোধ হয় না; তবুও সুরেন্দ্রনাথ দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সকলেই তাঁহার প্রশংসা করিতে লাগিল।

    পরদিবস মুসলমান ভদ্রলোকটি অনুন্ধান করিয়া কৃতান্তকুমারের সহিত দেখা করিলেন। তাঁহাকে দেখিয়া কৃতান্তকুমার বিস্মিত হইলেন; বলিলেন, “আপনাকে সুরেন্দ্রনাথের মোকদ্দমায় দেখিয়াছিলাম না?”

    তিনি বলিলেন, “হাঁ, সেইজন্যই আপনার নিকটে আসিয়াছি।”

    “কেন, সুরেন্দ্রনাথকে কি আপনি চিনিতেন?”

    “না, আপনি এ খুনের তদন্ত করিয়াছিলেন, ইহাতেই বুঝিয়াছি, আপনি সুদক্ষ লোক—আমার একটু অনুসন্ধানের কাজ আছে—তবে প্রথমে নিজের পরিচয় দেওয়া আবশ্যক।”

    “বলুন, কি কাজ আছে।”

    “বলিতেছি, আমার নাম জাফর আলি খাঁ, অযোধ্যায় বাড়ী, কিছু জমিদারীও আছে, তাহাই লোকে আমাকে নবাব বলে। একটি লোকের সন্ধানে আমি কলিকাতায় আসিয়াছি; আপনি সুদক্ষ লোক—আপনি তাঁহার সন্ধান করিয়া দিতে পারিবেন; অবশ্য ইহার জন্য আপনি যাহা চাহিবেন, তাহাই দিব।”

    “বলুন, কে সে লোক।”

    “তাঁহার নাম নরেন্দ্রভূষণ, বহুকাল আগে তিনি অযোধ্যায় ছিলেন।”

    “হাঁ, তিনি সেখানেই মারা যান।”

    বিস্মিতভাবে জাফর আলি বলিলেন, “আপনি তাঁহাকে চিনেন?

    “কৃতান্তকুমার বলিলেন, “আপনি ইহাতে বিস্মিত হইতেছেন কেন?”

    জাফর আলি বলিলেন, “হাঁ, হইবারই কথা।

    কৃতান্তকুমার বলিলেন, “আমি ইহার সম্বন্ধে একটু সন্ধান রাখি—ইনি অনেক টাকা রাখিয়া গিয়াছেন।”

    “তবে তিনি অনেক টাকা রাখিয়া গিয়াছেন?”

    “হাঁ, তাঁহার ওয়ারিসানরা কোথায় আছে, তাহা কেন জানে না?”

    “তবে তাঁহারা বড়লোক?”

    কৃতান্তকুমার কহিলেন, “কিরূপে বলিব, তাঁহারা কে কোথায় আছে, এ পর্যন্ত্য সে সন্ধান হয় নাই। নরেন্দ্রনাথবাবুর সন্তানাদি ছিল না, চারি ভগিনী ছিল—তাহাদের নিশ্চয়ই সন্তানাদি হইয়াছে; কিন্তু ইহাদের কে কোথায় আছে, তাহার সন্ধান হয় নাই। কয়েকবার সরকার হইতে ইহাদের সন্ধান হইয়াছে; আমার উপরেও ইহাদের সন্ধানের ভার পড়িয়াছিল, আমার তত সময় না থাকায় আমি আর একজনের উপর সন্ধানের ভার দিয়াছি। কিন্তু আপনি এ সন্ধান করিতেছেন কেন?”

    নবাব বলিলেন, “তিনি এক সময়ে আমার পিতার প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন। তাঁহার জীবিত কালে আমরা কৃতজ্ঞতা দেখাতে পারি নাই, তাহাই ভাবিয়াছি, তাঁহার ওয়ারিসানদের কিছু টাকা দিয়া উপকার করিব—আমারও সন্তানাদি নাই।”

    মুহুর্ত্তের জন্য কৃতান্তকুমারের মুখ যেন হর্ষে উৎফুল্ল হইল। তিনি মনোভাব গোপন করিয়া বলিলেন, “যদি আপনি নরেন্দ্রভূষণ বাবুর ওয়ারিসানদের যথার্থই অনুসন্ধান করিতে চাহেন, তাহা হইলে আমি যে লোককে এই সন্ধানের ভার দিয়াছি, আপনার কাছে সেই লোকটিকে পাঠিয়া দিতে পারি।”

    নবাব জাফর আলি ব্যগ্রভাবে বলিলেন, “তাহা হইলে বড় উপকার করা হয়; আমি জানিতাম, আপনার দ্বারা কাজ হইবে।”

    “এ অতি সামান্য কাজ, তবে যে লোকটার কথা বলিতেছি, তাহার পারিশ্রমিক দিতে হইবে।”

    “টাকার আমার অভাব নাই, তিনি যাহা চাহিবেন, তাহাই দিব।”

    “তাহা হইলে কালই তাঁহাকে আপনার কাছে পাঠাইয়া দিব—এখানে আপনি কোথায় আছেন?”

    “কুলটোলায় বাড়ী ভাড়া লইয়াছি।”

    “বেশ, কাল সে লোক আপনার কাছে যাইবে।”

    “দেখিবেন—ভুলিবেন না, মোকদ্দমায় বুঝিয়াছিলাম, আপনি সুদক্ষ লোক, আপনার দ্বারাই আমার কার্য্যেদ্ধার হইবে।”

    “এ ত সামান্য কাজ; আপনি বিদেশী লোক—আপনার সাহায্যে করা ত আমাদের কৰ্ত্তব্য।”

    “তাহা হইলে আর আপনার সময় নষ্ট করিব না।”

    নবাব বিদায় লইয়া উঠিলেন। বাহিরে তাঁহার গাড়ী ছিল, সঙ্গের আরদালী গাড়ীর দরজা খুলিয়া দিল, নবাব ধীর পদবিক্ষেপে গাড়ীতে উঠিলেন। তিনি পুনঃ পুনঃ কৃতান্তবাবুকে সেলাম করিয়া চলিয়া গেলেন। বোধ হয়, আমাদের বলিতে হইবে না যে, এ নবাব আর কেহ নহেন, স্বয়ং গোবিন্দরাম-আর তাহার আরদালী—সেই রামকান্ত।

    গোবিন্দরাম ছদ্মবেশে সিদ্ধহস্ত ছিলেন। তিনি নিজ চেহারার এতই পরিবর্ত্তন করিয়া নবাব জাফর আলি খাঁ হইয়াছিলেন যে, কেহই তাঁহাকে চিনিতে পারে নাই। এমন কি তাঁহার পুত্র সুরেন্দ্রনাথও আদালতে তাঁহাকে চিনিতে পারেন নাই। রামকান্তও পুরা আরদালী হইয়াছিল। গোবিন্দরামের কায়দাকরণে তাহারও ছদ্মবেশ বড় চমৎকার হইয়াছিল, এমন কি, তীক্ষ্ণদৃষ্টি কৃতান্তকুমারও তাহাকে চিনিতে পারিলেন না।

    উভয়ে বাসায় ফিরিয়া আসিলে রামকান্ত বলিলেন, “গুরুদেব, তাহা হইলে আমাদের এই কৃতান্ত কুমারের উপরেই আপাততঃ নজর রাখিতে হইতেছে।”

    গোবিন্দরাম বলিলেন, “হাঁ, তবে এখনও আমি এ বিষয়ে নিশ্চিত হইতে পারি নাই—ইহার সঙ্গে একটু মেশামেশি করিতে হইবে। আমাদের ছদ্মবেশ ধরিতে পারে নাই।”

    “আজ পারে নাই—পরে ধরিতে পারিলেও পারে।”

    “সম্ভব কম—আমার বিশ্বাস, এই নরেন্দ্রভূষনের টাকার সহিত কৃতান্ত জড়িত আছে। আমার কাছে একটা লোক পাঠাইবে বলিয়াছে। দেখা যাক্, কতদূর কি হয়। প্রথমে এই নরেন্দ্রভূষনের ওয়ারিসানদের সন্ধান লইতে হইবে। এখন সুরেন্দ্রনাথের খবর কি পাইলে?”

    “বেশী কিছুই না। তিনি ছোটলাট সাহেবের নিকট দরখাস্ত করিয়াছেন; সুতরাং একমাসের মধ্যে তাঁহার ফাঁসী হইবে না।”

    “তাহা হইলে আমাদের আরও একমাস সময় আছে।”

    “হাঁ, একমাসে যে আমরা কি করিতে পারিব, তাহা ত বুঝিতেছি না।”

    “ভগবান আমাদের সহায়।”

    “বাগবাজারে আরও একজন লোক যে যাওয়া-আসা করিত, তাহা মুদী বলিয়াছে—এই লোকটাকে খুঁজিয়া বাহির করিতে পারিলে কতক কাজ হইতে পারে।”

    “ইহাকে পাইবার ভরসা খুব কম।”

    “তাহা হইলে উপায়?”

    “কৃতান্তকুমারের উপর আমাদের সন্দেহ হইয়াছে। এ যেন খুন করিয়াছে, এ কথা আমি বলি না; তবে এ যে হাবাকে ইচ্ছা করিয়া পলাইতে দিয়াছিল; ইহা ঠিক।”

    “আমারও সেই সন্দেহ।”

    “তাহার পর এ নরেন্দ্রভূষণের ওয়ারিসানদের সন্ধান করিবার জন্য ব্যস্ত–হয় ত সে তাহাদের কাহারও কাহারও সন্ধান পাইয়াছে—দেখি, কৃতান্ত যে লোকটাকে পাঠাইবে বলিয়াছে, সে কি বলে।”

    “আমাকে এখন কি করিতে বলেন?”

    “উপস্থিত কিছুই নয়, এ লোকটা আসিলে তাহার উপর তোমাকে বিশেষ নজর রাখিতে হইবে।”

    “যাহা হুকুম করিবেন, তাহাই করিব।”

    “এখনও একমাস সময় আছে।”

    “ভগবান করুন, এই এক মাসের মধ্যেই আমরা যেন প্রকৃত খুনীকে ধরিতে পারি।”

    “দেখি কতদূর কি হয়।”

    ২৮

    পরদিবস প্রাতে একটি বৃদ্ধলোক নবাবের সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিলেন। নবাবের ছদ্মবেশে গোন্দিরাম তাঁহার প্রতীক্ষা করিতেছিলেন।

    তিনি আসিয়া বলিলেন, “কৃতান্ত বাবু আপনার কাছে আমাকে পাঠাইলেন, আমার নাম, শ্রী ঘনশ্যাম দত্ত।”

    নবাব বলিলেন, “আসুন—বসুন।”

    ঘনশ্যাম বসিয়া বলিলেন, “কৃতান্তবাবু আমাকে সকল কথা বলিয়াছেন, বহুদিন হইতে এ কাজ করিয়া আমি এ বিষয়ে পাকা হইয়া গিয়াছি, তাহাতেই আশা করি, শীঘ্রই নরেন্দ্রভূষণবাবুর ওয়ারিসানগণকে খুঁজিয়া বাহির করিতে পারিব।”

    “কৃতান্ত বাবু আপনার কথা আমাকে বলিয়াছেন।”

    “হাঁ, তবে কাজের কথাটা সর্ব্বপ্রথমেই হওয়া ভাল।”

    “হাঁ, বলুন কি চাহেন।”

    “এ অনুসন্ধানের জন্য যে খরচ-পত্র হইবে তাহা আপকনাকে দিতে হইবে।”

    “তাহা ত নিশ্চয়ই—এই এক শত টাকা এখন লউন, পরে যখন যেমন প্রয়োজন হইবে, লইবেন।”

    নবাব দশখানি নোট ঘনশ্যামের হাতে দিলেন। ঘনশ্যাম অতি সাবধানে নোটগুলি গুনিয়া পকেটে পুরিলেন; পরে ধীরে ধীরে বলিলেন, “একটা কথা মিটিল; এখন দ্বিতীয় কথা—আমার পারিশ্রমিক।”

    “বলুন, কি চান?”

    “পাঁচ শত টাকা আমাকে দিতে হইবে। আর সন্ধান করিয়া যদি তাহাদের বাহির করিতে পারি, তাহা হইলে আমাকে হাজার টাকা পুরস্কার দিতে হইবে।”

    “তাহাই দিব—আমার টাকার অভাব নাই—আমি মনে করিয়াছিলাম, আপনি আরও অধিক চাহিবেন।”

    “আমি সে প্রকৃতির লোক নই—অন্যায় কথা আমি কখনও বলি না।”

    “তাহা দেখিতেছি, ইহাতে আপনার প্রতি বিশেষ সন্তুষ্ট হইলাম। কতদিনে আপনার নিকটে সন্ধান পাইব, মনে করেন?”

    “তাহা ঠিক বলিতে পারি না, তবে শীঘ্রই কোন-না-কোন সন্ধান পাইবেন—একটা কথা–”

    নবাব সত্বর উঠিয়া বলিলেন, “বসুন, এখনই আসিতেছি।”

    তিনি বাহিরে আসিয়া আরদালীবেশী রামকান্তকে ইঙ্গিত করিলেন। রামকান্ত ছুটিয়া নিকটস্থ হইলে

    গোবিন্দরাম বলিলেন, “কে আসিয়াছে মনে কর?”

    “কেন কে? কৃতান্তবাবু ইহাকে পাঠাইয়াছেন।”

    “হাঁ, পাঠাইয়াছেন বটে—স্বয়ংই আসিয়াছেন।”

    “রামকান্ত নিতান্ত বিস্মিত হইয়া বলিলেন, “বলেন কি! এ যে বেজায় বুড়ো লোক।”

    “বুড়ো সাজিয়াছে—কৃতান্ত ছদ্মবেশে সিদ্ধহস্ত—তবে গোবিন্দরামের চোখে ধূলি দেওয়া বড় সহজ নয়। আমি দেখিয়াই চিনিয়াছি—অপর কাহারও সাধ্য নাই যে, ইহাকে চিনে।”

    “আমাদের চিনিতে পারে নাই ত?”

    “না, তুমি বেশ বদলাইয়া ফেল, ততক্ষণ আমি ইহাকে কথায় কথায় বসাইয়া রাখিব, তাহার পর গুপ্তভাবে ইহার সঙ্গে সঙ্গে যাও—দেখ এ কোথায় যায়। খুব সম্ভব, বাড়ী যাইবে না, অন্য কোনখানে যাইবে।”

    “আচ্ছা দেখা যাক”, বলিয়া রামকান্ত বেশ পরিবর্ত্তন করিতে গেল। গোবিন্দরামও বৃদ্ধের কাছে ফিরিয়া আসিলেন; বলিলেন, “আপনি কি বলিতে যাইতেছিলেন?”

    বৃদ্ধ বলিলেন, “কৃতান্ত বাবুর কাছে আপনার মহৎ উদ্দেশ্যের বিষয় সকলই শুনিয়াছি, এখন কথা হইতেছে যে, নরেন্দ্রভূষনের অনেক ওয়ারিসান থাকিতে পারেন–তাঁহারা তাঁহার সমস্ত টাকাই পাইবেন—এ সত্ত্বেও আপনি তাঁহাদের সকলকে টাকা দিতে চাহেন?”

    “হাঁ, আমি আমার কৃতজ্ঞতা দেখাতে চাই।”

    “খুব মহৎ উদ্দেশ্য। আবার হয় ত নরেন্দ্রভূষন বাবুর মেবল একমাত্র ওয়ারিসানই এখন জীবিত আছেন।”

    “তাহা হইলে কেবল তাঁহাকেই সমস্ত দিব।”

    “খুব মহৎ উদ্দেশ্য। এখন আমি সকল বুঝিয়া লইলাম, আর কিছু জিজ্ঞাসার নাই। এখন বিদায় হইতে পারি?”

    “হাঁ, কতদিনে সংবাদ পাইব?”

    “যত শীঘ্র পারি, সংবাদ দিব।”

    ঘনশ্যাম বিদায় হইলেন। দূরে থাকিয়া রামকান্ত তাঁহার অনুসরণ করিল।

    গোবিন্দরাম যাহা ভাবিয়াছিলেন, ঠিক তাহাই ঘটিল। ঘনশ্যাম বাড়ীর দিকে না গিয়া বরাবর বড়বাজারের দিকে চলিলেন। মেছুয়া বাজারে আসিয়া তিনি একখানা ভাড়াটিয়া গাড়ী ডাকিলেন। তিনি গাড়ীতে উঠিয়া বসিবামাত্র গাড়ী হাঁকাইয়া দিল।

    রামকান্ত বলিয়া উঠিল, “কি বিপদ! কাছে আর একখানা ও যে গাড়ী নাই—গুরুদেব বলিলেবন কি? চোখে ধূলা দিয়া পালাল যে দেখিতেছি—যা থাকে কপালে, গাড়ীর সঙ্গ ছাড়া হইব না—ছটিতেই হইল।” কিন্তু রাজপথে গাড়ীর পশ্চাতে ছুটিলে লোকে ভাবিবে কি? হয় ত চোর বলিয়া তাহারা তাকে ধরিয়া ফেলিবে–পায়ে ছুটিয়া গাড়ীর সঙ্গে সঙ্গে থাকাও সহজ নহে। তবুও রামকান্ত হতাশ হইল না। সে প্রাণপণে গাড়ীর পশ্চাতে ছুটিতে লাগিল।

    ২৯

    ঘনশ্যামের গাড়ী চিৎপুর দিয়া বরাবর উত্তর দিকে যাইতেছিল—বিডন-উদ্যান পার হইয়া গেল; সৌভাগ্যক্রমে রামকান্ত এইখানে একখানা গাড়ী পাইল। গাড়ীতে উঠিয়া কোচম্যানের কানে কানে কি বলিল—কোচম্যান তৎক্ষণাৎ গাড়ী হাঁকাইয়া দিল।

    তখন এক গাড়ীর পশ্চাতে আর এক গাড়ী সমভাবে ছুটিতে লাগিল; গাড়ী দুইখানা ক্রমে শোভাবাজার আসিল। রামকান্ত ভবিল, “বেটা কি বাগবাজারের সেই বাড়ীতেই যাইতেছে নাকি? দেখা যাক্, কোথায় যায়।”

    গাড়ী কলিকাতা ছাড়াইয়া দমদমা স্টেশনের দিকে চলিল। এমন সময়ে রামকান্তের কোচম্যান বলিল, “আগকার গাড়ী স্টেশনে যাইতেছে।”

    রামকান্ত বলিল, “তবে এখানে গাড়ী থামাও, আমি এখান হইতে হাঁটিয়া যাইব—আমার জন্য এইখানে অপেক্ষা কর।”

    রামকান্ত গাড়ী হইতে নামিয়া দেখিল যে, ঘনশ্যাম স্টেশনে প্রবেশ করিল—সে-ও সত্বর তাঁহার পশ্চাতে চলিল।

    এইবার সে আর একজনকে স্টেশনে দেখিয়া বিস্মিত হইল; দেখিল, বাগবাজারে সেই মুদি বাক্স-পেটরা লইয়া দাঁড়াইয়া আছে। মুদি তাহাকে চিনিতে পারিল না।

    রামকান্ত মুদীর পাশ দিয়া যাইতেছিল, সহসা মুদী একরুপ বিষ্ময়সূচক শব্দ করিয়া উঠিল; রামকান্ত তাহার দিকে চাহিল।

    মুদী আপনা-আপনি বলিয়া উঠিল, “এই যে, সেই ঝি মাগী! এ কোথায় যাইতেছে—এত গয়না গাটি কোথায় পাইল?

    রামকান্ত এই কথা শুনিয়া দাঁড়াইল; দেখিল, যথার্থই একটি স্ত্রীলোক গাড়ীতে উঠিবার জন্য প্লাটফর্মের দিকে যাইতেছে, ঘনশ্যাম তাহার পশ্চাতে যাইতেছে।

    ইতিমধ্যে গাড়ী আসিয়া পৌঁছিয়াছিল। রামকান্ত টিকিট ঘরে গিয়া ব্যগ্রভাবে বলিল, “একখানা টিকিট?”

    টিকিটবাবু বিরক্ত ভাবে বলিলেন, “বাপু, এতক্ষণ কি ঘুমাইতেছিলে? কোথায়—কোন ক্লাস?”

    রামকান্ত কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়া বলিল, “যে ক্লাস হউক।”

    “আরে কোথাকার টিকিট তাই বল না।”

    তাড়াতাড়ি রামকান্তের মাথা খারাপ হইয়া গিয়াছিল; বলিল, “ঐ যে যে লোকটি এইমাত্র টিকিট লইলেন, তিনি যেখানে যাইবেন।”

    টিকিটবাবু রোষভরে টিকিট দ্বার বন্ধ করিয়া দিলেন।

    রামকান্ত উন্মত্তের ন্যায় দ্বারে আঘাত করায় তিনি ভিতর হইতে বলিয়া উঠিলেন, “বেশী চালাকী করিয়ো না, এখনই পুলিসের জিম্মা করিয়া দিব।”

    এই সময়ে গাড়ী ছাড়িয়া দিল। এত কষ্ট করিয়া এতদূর ঘনশ্যামের পশ্চাতে পশ্চাতে আসিয়া তাহাকে হারাইতে হইল! তাহার চোখের উপর সে রেলে উঠিয়া চলিয়া গেল—কোথায় গেল, তাহা সে কিছুই জানিতে পারিল না; গোবিন্দরাম শুনিলে কি বলিবেন? আর উপায় নাই—ঘনশ্যাম কোথাকার টিকিট লইয়াছিল, তাহা জানিবার কোন উপায় নাই—টিকিট-বাবু তাড়াতাড়ি টিকিট দিয়াছেন, কে কোনখানা লইল কিরূপে জানিবেন? তবে রামকান্ত অনুসন্ধানে জানিল যে, এ গাড়ী নৈহাটি পর্যন্ত্য যাইবে, সুতরাং ঘনশ্যাম নৈহাটির অধিক যাইতে পারিবে না।

    এই বার সেই মুদীর কথা তাহার মনে হইল; তবে ঘনশ্যাম এই স্ত্রীলোকের সহিত মিলিত হইয়া একত্রে কোন স্থানে গেল। ভাবিল, “সেই ঝি—তাহা হইলে নিশ্চয়ই সেই মৃত স্ত্রীলোকের দাসী—খুনের দিন হইতে সে নিরুদ্দেশ হইয়াছে, সুতরাং সে সনশ্চয়ই কে খুন করিয়াছে জানে; সম্ভবতঃ সে এই খুনের সহায়তা করিয়াছিল, তাহাই পালাইয়াছে। আমি কি গাধা—দুইজনকে হাতে পাইয়াও পলাইতে দিলাম—এখন উপায়?”

    রামকান্ত এই সকল ভাবিয়া নিজের উপর নিতান্ত ক্রুদ্ধ হইল। রামকান্ত তখন মুদীর সন্ধানে গেল। সে দেখিয়াছিল যে, মুদী গাড়ীতে উঠে নাই—বোধ হয়, পরের গাড়ীর অপেক্ষায় বসিয়া আছে, নৈহাটি হইতে সে আরও দূরে যাইবে। যথার্থ তাহাই, মুদী দেশে যাইতেছিল, তাহার গাড়ী আসিবার দেরি আছে বলিয়া সে তাহার মাল-পত্র লইয়া একাধারে বসিয়াছিল।

    রামকান্ত তাহার নিকটে আসিয়া বসিল; বলিল, “তুমি কতদূর যাইবে?”

    “কুষ্ঠিয়া যাইব।”

    “তোমায় যেন কোথায়ে দেখিছি বলিয়া বোধ হয়, কলিকাতায় থাক?”

    “হাঁ, বাগবাজারে আমার একখানা মুদীর দোকান আছে।”

    “বাগবাজারে! যেখানে খুন হইয়াছিল?”

    “হাঁ, আমার দোকানের সম্মুখেই খুন হইয়াছিল। মাগীটা এইমাত্র গাড়ীতে এল।”

    “কোন মাগী”

    “তুমি সেই খুনের বিষয় বুঝি কিছুই জান না?”

    “না, বিশেষ কিছু জানি না—মেবল শুনিয়াছিলাম, বাগবাজারে দুইটা খুন হইয়াছে।”

    “হাঁ, একটি মেয়েমানুষ সেই বাড়ীটায় থাক্তি—তাহার একজন ঝি ছিল, মেয়ে মানুষটি খুন হইলে সেই দিন থেকে সেই ঝিটাও কোথায় পালিয়ে যায়—আজ তাহাকে এই স্টেশনে দেখিলাম।”

    “হয় ত তোমার ভুল হইয়াছে।”

    “ভুল হইবে কেন? তাহাকে কতবার সেই বাড়ীতে দেখিয়াছি, তবে ইহার অবস্থা ফিরিয়াছে বলিয়া বোধ হয়—অনেক গহনা গায়ে দিয়াছে—”

    “তাহা হইলে এই ঝিটা জানে, কে খুন করিয়াছে?”

    “তাহা ত আদালতে ঠিক হইয়া গিয়াছে, যে খুন করিয়াছিল, তাহার ফাঁসীর হুকুম হইয়া গিয়াছে।”

    “হাঁ, ভাল কথা মনে পড়িয়াছে— তোমর সঙ্গে আলাপ হইয়া ভালই হইল।”

    “কেন?”

    ‘যে লোকটির ফাঁসীর হুকুম হইয়াছে, তাহার বাপের কাছে আমি কাজ করিতাম। তিনি বলেন যে, তাঁহার ছেলে খুন করনে নাই—অন্য লোক খুন করিয়াছে।”

    “এই তুমি বলিলে খুনের বিষয় কিছু জান না।”

    “সব জানিতাম না, তিনি সব আমাকে এখন বলেনও নাই। তবে দুই পয়সা রোজগার করিবার একটা উপায় আছে।”

    “কি রকমে?”

    “তুমি অনায়াসে কিছু পাইতে পার।”

    ‘কেমন করে?”

    “তিনি এই ঝিটাকে খুজিতেছেন, তুমি ইহাকে চেন—আজও তাহাকে দেখিয়াছ—সে নিশ্চয়ই আবার কলিকাতায় ফিরিবে, তুমি ইচ্ছা করিলে ইহাকে ধরাইয়া দিতে পার। ইহার জন্য তুমি যাহা চাও, তাহাই তিনি দিতে পারিবেন। কেবল ইডাই নহে, যদি তুমি এই স্ত্রীলোকের সন্ধান দিতে পার, তাহা হইলে তিনি তোমার হাজার টাকা পুরস্কার দিবেন।”

    “হাজার টাকা?”

    “হাঁ গো হাঁ, তিনি খুব বড়লোক।”

    “তাই ত, কি করিব ভাবিতেছি।”

    “এমন সুবিধা কি কেহ কখনও ছাড়ে?”

    “দেশে রওনা হইয়াছি।”

    “দুই মাস পরে দেশে গেলেই বা ক্ষতি কি?

    “সত্যসত্য দিবে তা

    “নিশ্চয়ই, বল ত আমি এখনই তোমাকে তাঁহার কাছে লইয়া যাইতে পারি।

    মুদী কোন কথা না কহিয়া ভাবিতে লাগিল। টাকার লোভ বড় লোভ—সে কি করিবে সহসা স্থির করিয়া উঠিতে পারিল না। রামকান্তত বলিল, “কি বল, আমার সঙ্গে যাইবে? এমন সুবিধা ছাড়িয়ো না। হাতের লক্ষী পায়ে ঠেলিতে নাই।”

    মুদী চিন্তিতমনে বলিল, “হাঁ, তোমার মতেই মত—তবে বাড়ী রওনা হইয়াছি, আমার বাড়ী কুষ্ঠিয়া—আমি তিন দিনের মধ্যেই ফিরিয়া আসিব, তিন দিনে আর কোন গোল হইবে না।”

    তিন দিন কি, তিন ঘন্টাও এখন নষ্ট করা উচিত নয়, তবে যদি এ লোকটা নিতান্ত রাজী না হয়, তাহার উপায় কি? অধিক পীড়াপীড়ি করিলে পাছে সে ভয় পাইয়া বিগড়াইয়া যায়, এই ভয়ে রামকান্ত তাহার কথায় সম্মত হইতে বাধ্য হইল; বলিল, “একান্ত যদি যাইতে চাও–যাও, কিন্তু তিন দিনের বেশী দেরী করিলে এ কাজ ফসকাইয়া যাইবে,বাপু।”

    মুদী বলিল, “আমি কথা দিয়া যাইতেছি, নিশ্চয়ই আসিব। তিন দিনের একদিনও বেশী দেরি করিব না।”

    “তবে তাহাই, এই কথাই থাকিল।”

    “হাঁ, কোথায় তোমার সঙ্গে দেখা করিব?”

    “আমি তোমার দোকানে যাইব, আমার থাকিবার কোন স্থিরতা নাই।”

    “আমার গাড়ীর আর দেরি নাই।”

    “যাও ভুলো না।”

    “না, ভুলিব কেন! আমার দুই পয়সা হইবে?”

    মুদী টিকিট কিনিতে চলিল; অগত্যা রামকান্ত স্টেশনের বাহিরে আসিল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
    Next Article বাঙ্গালীর বীরত্ব – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }