Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৬ (ষষ্ঠ খণ্ড)

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প504 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সতী শোভনা

    প্রথম পরিচ্ছেদ – ডাক্তারবাবুর কথা

    বেলা দ্বিপ্রহর। আহারাদি শেষে একটু বিশ্রাম করিব মনে করিতেছিলাম বটে, কিন্তু কার্যত ঘটিয়া উঠিল না। বাহির হইতে সংবাদ আসিল, কে একটি ভদ্রলোক বহির্বাটিতে আমার জন্য অপেক্ষা করিতেছেন – বিশেষ আবশ্যক, এখনই দেখা করিতে হইবে।

    আমি বাহিরে আসিয়া তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিলাম। আগন্তুকের বয়ঃক্রম সপ্তবিংশতি বৎসর; বর্ণ গৌর। মুখমণ্ডল সুন্দর হইলেও এক্ষণে যন্ত্রণাবিবর্ণীকৃত। গঠন ঈষদ্দীর্ঘ। একখানি রেশমী রুমালে দক্ষিণ হস্ত বক্ষের উপর ঝুলাইয়া গলদেশে বাঁধা। আমাকে দেখিয়াই, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলিয়া সেই যুবক ক্ষীণতর স্বরে বলিলেন, ‘মহাশয়ের নাম কি কালীকৃষ্ণবাবু?’

    ‘হাঁ, আমারই নাম।’

    ‘ক্ষমা করিবেন, আমি কখন আপনাকে দেখি নাই। লোকের মুখের আপনার অনেক সুখ্যাতি শুনিয়াছি।’

    দেখিলাম, তিনি তখন দাঁড়াইয়া কাঁপিতেছেন; পদদ্বয় যেন তাঁহার দেহভার আর বহন করিতে পারিতেছে না; যন্ত্রণায় প্রাণ বাহির হইয়া যাইতেছে। প্রথম একটু একটু যন্ত্রণা কখন হইত; কখন হইত না; কিন্তু এখন বড় ভয়ানক দাঁড়িয়েছে – এক মুহূর্তের জন্য আমি স্থির হইতে পারিতেছি না। দিন দিন যাতনা বাড়িয়া উঠিতেছে; আর আমি সহ্য করিতে পারি না; কে যেন একখণ্ড জ্বলন্ত অঙ্গার হাতের উপর চাপিয়া ধরিয়াছে – এমনই যন্ত্রণা। আপনি যদি অনুগ্রহ করিয়া কাটিয়া দেন, বড়ই উপকৃত হই; এমন কি আর এক ঘণ্টা যদি এই যন্ত্রণা আমাকে ভোগ করিতে হয় – আমি পাগল হইয়া যাইব।’

    আমি তাঁহাকে বুঝাইয়া বলিলাম, প্রথমে অস্ত্র করিবার কোন আবশ্যক নাই, প্রলেপাদির দ্বারা যাহাতে তাঁহার যন্ত্রণা দূর হয় করিব।

    যুবক এবার একটু জোরে জোরে বলিলেন, ‘না, না ডাক্তারবাবু, প্রলেপ-প্রয়োগে ইহার কিছু হইবে না; আপনি অস্ত্র করিয়া দিন, নতুবা এ যন্ত্রণ যাইবে না; যেখানে যন্ত্রণা হইতেছে সেখানকার মাংস কাটিয়া তুলিয়া ফেলুন।’

    হাতের কোনখানে তেমন যন্ত্রণা হইতেছে আমি দেখিতে চাহিলাম। ধীরে ধীরে তিনি রুমাল হইতে হাত বাহিরে করিলেন; বাহির করিয়া ধীরে ধীরে আমার টেবিলের উপর অতি সন্তর্পণে রাখিলেন। বলিলেন, ‘ডাক্তার মহাশয়, আপনি পরীক্ষা করিয়া যাহাই বুঝুন, আপনি কাটিয়া দিন। আমাকে কতদূর যাতনা ভোগ করিতে হইতেছে কথায় আপনাকে কি করিয়া বুঝাইব?’

    আমি তাঁহার হাতখানি ধীরে ধীরে তুলিলাম। যন্ত্রাদির সাহায্যে বিশেষ করিয়া দেখিতে লাগিলাম। কোন রোগের কোন প্রমাণই পাইলাম না। তাঁহার হাতে আর আমার হাতে কোন পার্থক্য নাই – নীরোগ। আর তত গ্রাহ্য না করিয়া আমি তাঁহার হাত ছাড়িয়া দিলাম, সশব্দে তাঁহার সেই হাতখানি টেবিলের উপর পড়িয়া গেল।

    যুবক উৎকট যন্ত্রণায় বিকট চিৎকার করিয়া তখন কাঁদিয়া উঠিলেন। বাম হাত ধীরে ধীরে ডান হাত তুলিলেন। তাঁহার ভাবে বোধ হইল, তিনি বস্তুতই অতিশয় যন্ত্রণা ভোগ করিতেছেন।

    আমি বলিলাম, ‘ঠিক কোন স্থানে যন্ত্রণা হইতেছে আমাকে দেখাইয়া দিন।’

    ‘এইখানে।’ বলিয়া তিনি অঙ্গুলি নির্দেশ করতলের উপরিভাগে – যেখানে দুইটি স্থূল শিরা একত্রে মিশিয়াছে – দেখাইলেন। আমি ধীরে ধীরে সেই স্থান টিপিয়া দেখিতে লাগিলাম, ইহাতে তখন তাঁহার সর্বাঙ্গ কম্পিত হইতেছিল।

    আমি বলিলাম, ‘ইহাতেও কি আপনার যন্ত্রণা হইতেছে?’

    তিনি কোন উত্তর করিলেন না। দেখিলাম, তাঁহার চক্ষু দুটি অশ্রুজলে ভরিয়া গিয়াছে। ভাবিয়া পাইলাম না কি এমন যন্ত্রণা!

    আমি। কি আশ্চর্য! আমি তো কিছুই দেখিতে পাইতেছি না।

    তিনি। তবে এ যন্ত্রণা কেন হইতেছে? ইচ্ছা হইতেছে দেয়ালে ঠুকিয়া নিজের মাথা নিজে ভঙ্গিয়া ফেলি – মরিয়া যাই – যন্ত্রণার অবসান হোক।

    আমি magnifying glass দিয়া বিশেষ করিয়া তন্নির্দিষ্ট স্থান পরীক্ষা করিলাম, কিছুই নয়। বলিলাম, ‘কই, কিছুই দেখিতেছি না। আপনার হাতের অন্যান্য স্থান যেমন এটুকুও তেমনি।’

    ‘আমার বোধ হইতেছে ওখানটা লাল হইয়াছে।’

    ‘কই?’ যুবক তখন পকেট হইতে একটা wooden pencil বাহির করিয়া ধীরে ধীরে অস্পষ্ট রেখায় হাতের সেইখানে একটি আধুলির মতন গোল করিয়া ক্ষুদ্র চিহ্ন করিলেন।

    আমি তাঁহার দিকে চাহিয়া দেখিতে লাগিলাম। ভাবিলাম, বোধ হয় একটু না একটু পাগলের ছিট আছে। বলিলাম, ‘আপনি কিছুদিন এখানে অপেক্ষা করুন, আরোগ্য লাভ করিতে পারিবেন।’

    যুবক। থাকিতে পারিব না। এমন মনে করিবেন না যে আমি পাগল। এখানে থাকিলে আপনি এমন কি উপায় স্থির করিয়াছেন যে আমি নিশ্চয় নীরোগ হইব? আর কোন উপায় নাই। যেটুকু আমি পেন্সিল দিয়া দাগ করিয়াছি, আপনি কাটিয়া ফেলুন – এ উৎকট যন্ত্রণা হইতে নিষ্কৃতি পাই।

    আমি। আমি পারিব না।

    যুবক। কেন?

    আমি। অস্ত্র করিবার কিছুই দেখিতেছি না। আপনি যে স্থান দাগ কাটিয়া দেখাইতেছেন ঠিক আমার হাতের ন্যায় – রোগের তো কিছুই দেখিতেছি না।

    যুবক।। আপনি কি মনে করিতেছেন আমি পাগল না আপনার সহিত বিদ্রূপ করিতে আসিয়াছি। এই নিন, আপনার পারিশ্রমিক নিন, ‘ঐটুকু বেশ করিয়া কাটিয়া দিন; আমি আপনার সহিত ছেলেমানুষী করিতে আসি নাই।’

    পকেট হইতে তিনি একখানি একশত টাকার নোট বাহির করিয়া টেবিলের উপর রাখিলেন।

    আমি। আমি এখনও বলিতেছি, আমি পারিব না।

    যুবক।। কেন পারিবেন না?

    আমি। না, ইহা আমার দ্বারা হইবে না। আমার এ কার্যে আমাকে সাধারণের নিকট নিন্দাভোগ করিতে হইবে। সকলেই আপনাকে শুধু পাগল ভাবিবে না, আমাকেও বদ্ধ পাগল বলিয়া জানিবে।

    যুবক। বেশ, না পারেন, আর একটি আমার সামান্য কথা রাখুন, আমি আপনা আপনি ঐটুকু কাটিয়া ফেলিতেছি। বাঁ হাতে যদিও সুবিধা মত কাটিতে পারিব না, তাহাতে ক্ষতি নাই। তাই হোক, আপনি ঔষধাদি দিয়া বাঁধিতে দিবেন।

    পকেট হইতে তিনি একখানি শাণিত ছুরিকা বাহির করিলেন। আমি অবাক হইয়া তাঁহার দিকে চাহিয়া রহিলাম। পর মুহূর্তে দক্ষিণ হাতের নির্দিষ্ট স্থানে তিনি সেই ছুরি বিদ্ধ করিলেন; অজস্র ধারে রক্ত বাহির হইল। সেই একগুঁয়ে যুবককে আমি বলিলাম, ‘যদি একান্তই কাটিতে হইবে – আমি কাটিযা দিতেছি।’

    বাঁ হাতে তাঁহার দক্ষিণ হাত ধরিয়া, তাঁহার হাত হইতে ছুরিখানি লইয়া বলিলাম, ‘মুখ ফিরিয়া দাঁড়ান, রক্ত দেখিয়া অনেকে জ্ঞানশূন্য হইয়া পড়ে।’

    তিনি বলিলেন, ‘কোন আবশ্যক নাই, আমি তো আপন ইচ্ছায় আপনাকে অস্ত্র করিবার নিমিত্ত পীড়াপীড়ি করিতেছি।’

    আমি তাঁহার কথামত সেই নির্দিষ্ট অংশের মাংসখণ্ড কাটিয়া তুলিলাম। প্রবল বেগে রক্তস্রোত বহিতে লাগিল। স্থিরদৃষ্টে তিনি সকলই দেখিতেছিলেন। কাটিবার সময় মুখে যন্ত্রণার কোন চিহ্ন দেখা যায় নাই – হাত কাঁপে নাই – নড়ে নাই। যখন মাংসখণ্ড কাটিয়া পৃথক করা হইল, তখন তাঁহার বদনবিবর ও নাসারন্ধ্র দিয়া একটি অতি তৃপ্তির দীর্ঘ নিশ্বাস সশব্দে বহিল। সেই সঙ্গে বলিলেন, ‘আঃ বাঁচিলাম।’

    ‘এখন আর কোন যন্ত্রণা নাই?’

    ‘না – কিছু না – সকল যন্ত্রণা গিয়াছে। ঐ মাংসখণ্ডের সঙ্গেই সকল যন্ত্রণা উবিয়া গিয়াছে। আঃ বাঁচিলাম, আর এই রক্তপাত কিছুই নহে, আর একদিনের কথা মনে হইলে ইহা তার কাছে অতি সামান্য। যত রক্ত বাহির হইতেছে ততই যেন আমার শরীর সুস্থ হইতেছে; যত বাহির হইতে পারে হোক, লাভ বই ক্ষতি নাই?’

    যতক্ষণ রক্ত ছুটিতে লাগিল, ততক্ষণ যুবক আনন্দোৎফুল্ল নয়নে তাহা দেখিতে লাগিলেন। যত শীঘ্র পারিলাম আমি ঔষধাদির দ্বারায় রক্ত বন্ধ করিয়া, ক্ষতস্থান বাঁধিয়া দিলাম।

    ইতিমধ্যে তাঁহার যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখভাব সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হইল। যেন তিনি নূতন জীবন পাইলেন। তাঁহার সেই অতি ম্লান নয়নদ্বয় আনন্দোদ্ভাসিত হইয়াছে। ললাটদেশ আর কুঞ্চিত নহে; যেন তিনি আর তিনি নহেন।

    যুবক বলিলেন, ‘মহাশয়, আপনাকে শত শত ধন্যবাদ। আপনার কৃপায় আমি সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করিয়াছি। যৎকিঞ্চিত আপনাকে পারিশ্রমিক স্বরূপ দিলাম; কিন্তু আপনি আজ আমার যে উপকার করিলেন তাহার কাছে উহা কিছুই নহে। আপনার ঋণ অপরিশোধ্য; চিরজীবন আপনার নিকট কৃতজ্ঞ রহিলাম।’

    আমি তাঁহার প্রদত্ত একশত টাকার নোট গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিলাম। তিনিও কোনমতে তাহা ফিরাইয়া লইতে চাহেন না। শেষে অমাকে তাঁহার সেই পীড়াপীড়িতে বিরক্ত হইতে দেখিয়া বলিলেন, ‘আপনি যদি একান্তই না গ্রহণ করেন, কোন দাতব্য চিকিৎসালয়ে দান করিযা বাধিত করিবেন।’ বলিয়া চলিয়া গেলেন।

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ – ডাক্তারবাবুর কথা – ক্রমশ

    এক সপ্তাহ কাটিয়া গেল, আর সেই অপরিচিত রোগীটির দেখা পাইলাম না। দ্বিতীয় সপ্তাহ অতিবাহিত হইল তথাপি সংবাদ নাই। দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে একদিন প্রাতঃকালে আমি আপনার শয়ন-প্রকোষ্ঠে বসিয়া একখানি সংবাদপত্র পাঠ করিতেছি, এমন সময় দ্বারবান আসিয়া সংবাদ দিল, আবার নাকি সেই রোগশূন্য রোগী, উন্মত্তপ্রায় যুবক আসিয়াছেন।

    তাঁহার কাণ্ডকারখানায় আমার মনে অতিশয় কৌতূহল হইয়াছিল; তখনই বহির্বাটিতে গিয়া তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিলাম। প্রথমবার যেমনভাবে তাঁহাকে দেখিয়াছিলাম, এবারও তাহাই দেখিলাম। সেইরূপে সেই দক্ষিণ হস্ত সেই রেশমী রোমালে গলদেশে বাঁধা রহিয়াছে। সেইরূপ মুখমণ্ডল মলিন, যন্ত্রণাক্লিষ্ট, ম্লান। ললাট কুঞ্চিত, চক্ষু কালিমালেপিত নিষ্প্রভ; তাহার সেইরূপ ভাব দেখিয়া স্তম্ভিত হৃদয়ে আমি জিজ্ঞাসিলাম, ‘আবার কি হইয়াছে?’

    যুবক উত্তর করিলেন, ‘ঠিক কাটা হয় নাই।’ স্বর অতি ক্ষীণ – অতি মৃদু, আগেকার চেয়ে এখন যাতনা আরও বাড়িয়াছে, কিছুতেই আর সহ্য হইতেছে না। ইচ্ছা ছিল আর আপনাকে কষ্ট দিব না; মনে করিয়াছিলাম এই যন্ত্রণা হয়তো মাথায় কিংবা বুকে উঠিবে, তাহা হইলে যন্ত্রণাময় জীবনের সঙ্গে এ যন্ত্রণা ঘুচিয়া যাইবে। কই, তাহা হইল না, যেখানকার যন্ত্রণা ঠিক সেইখানে আছে, এক তিল নড়ে নাই। আমার মুখের দিকে ভাল করিয়া চাহিয়া দেখুন, তাহা হইলেই ঠিক বুঝিতে পারিবেন, আমার কত যন্ত্রণা হইতেছে।’

    যুবকের বর্ণ গৌর হইলেও কে যেন সত্য সত্যই তাহার সর্বাঙ্গে কালি মাড়িয়া দিয়াছে। ললাট ঘর্মবিন্দুতে পূর্ণ হইয়া গিয়াছে। যন্ত্রণায় মধ্যে মধ্যে তাহার শ্বাস রুদ্ধ হইযা যাইতেছে। ক্ষতস্থানের বাঁধন অতি সন্তর্পণে খুলিয়া ফেলিলাম। দেখিলাম ক্ষতস্থান নূতন মাংসে প্রায় পূর্ণ হইয়া আসিয়াছে; আশ্চর্যের কিছুই দেখিলাম না। হাত টিপিয়া নাড়ী দেখিলাম, অতি দ্রুত কিন্তু জ্বরের তো কোন প্রমাণই নাই।

    আমি বিস্মিত হইয়া বলিলাম, ‘এমন আশ্চর্য ব্যাপার আমি কখন দেখি নাই।’

    ‘বড়ই আশ্চর্য কাণ্ড – বড় ভয়ানক; যাহাতে আমি এ দারুণ যন্ত্রণা হইতে শীঘ্র নিষ্কৃতি পাই তাহাই করুন, কি হইয়াছে কি না হইয়াছে দেখিবার কোন আবশ্যক নাই। এ ভীষণ যন্ত্রণা হইতে আমাকে নিস্তার করুন। এবারে বেশি গভীর করিয়া কাটিয়া দিন; বোধহয় তাহা হইলেই আমি সুস্থ হইতে পারিব।’

    আমি এবার তাঁহার কথামত পূর্বাপেক্ষা গভীর করিয়া সেই স্থানে কাটিয়া দিলাম। মুখের দিকে চাহিয়া দেখিলাম, তখন তাঁহার সে বিবর্ণীকৃত মুখমণ্ডলে আর কোন যন্ত্রণাব্যঞ্জন চিহ্ন নাই। ক্ষতস্থান দিয়া প্রবল বেগে রক্ত ছুটিতেছে; স্থির, সফুল্লনেত্রে তিনি তাহাই দেখিতেছেন।

    তখনই আমি রক্ত বন্ধ করিয়া ক্ষতস্থান বাঁধিয়া দিলাম। তিনি যাইবার সময় দুই একবার জোরে জোরে আশ্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, ‘এখন আর আমার কোন কষ্ট হইতেছে না। বেশ সুস্থ হইয়াছি।’

    তৃতীয় পরিচ্ছদ – পত্র – প্রথমাংশ

    এ কথা আমি সহব্যবসায়ী বন্ধুদিগের দুই-চারিজনকে জানাইলাম। তাঁহারা শুনিয়া চমৎকৃত হইলেন। কি রোগ বুঝিয়া উঠিতে পারিলেন না।

    প্রায় মাসাতীতকাল পরে একদিন আমি সেই যুবকের লিখিত একখানি পত্র পাইলাম। পত্রখানি বেশ বড় – অতি ছোট ছোট অক্ষরে ঘেঁষাঘেঁষি লাইনে লেখা। নিম্নে নিজের যে নাম লিখিয়াছেন তাহা যদি তাঁহার স্বাক্ষর হয়, বুঝিলাম, তাহা হইলে তাঁহার হস্তে আর সেরূপ যন্ত্রণা নাই। নতুবা লেখনী ধারণ করা তাঁহার পক্ষে দুঃসাধ্য হইত।

    পত্রখানি এইরূপ: –

    ডাক্তার মহাশয়!

    এতদিনে বুঝিতে পারিয়াছি আপনি কিংবা চিকিৎসা-শাস্ত্রে এমন কোন বিধান নাই, যাহা আমার এ যন্ত্রণার কারণ নিরূপণ করিতে পারে। উঃ! এ যন্ত্রণা কি প্রাণান্তকর!

    আজ আমি আপনার নিকট আমার এ যন্ত্রণার মূল কারণ প্রকাশ করিব। গত সপ্তাহে আবার আমার হাতে ঠিক সেই স্থানে সেইরূপ দারুণ যন্ত্রণা আরম্ভ হয়। সে যন্ত্রণা সহ্য করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য হইয়া উঠিল। আপনাকে একদণ্ড পত্র লিখিব মনে মনে স্থির করিলাম, কিন্তু লেখনী চালনা করিবার ক্ষমতা আমার নাই। ভাবিয়া চিন্তিয়া এক উপায় স্থির করিলাম,, সেই যন্ত্রণাময় ক্ষতস্থানে আম আমি জ্বলন্ত অঙ্গার স্থাপন করিলাম। আপনারা যেরূপ poultice বাঁধেন, সেইরূপে লোহার তার দিয়া সেই জ্বলন্ত অঙ্গারখণ্ড সেই ক্ষতস্থানে চাপিয়া বাঁধিলাম। যতক্ষণ সেই অগ্নি নিভে নাই ততক্ষণ আমি কোন যন্ত্রণা অনুভব করি নাই। তুলনায় সে যন্ত্রণার কাছে, অগ্নিদাহের যন্ত্রণা কিছুই নহে। এরূপ না করিলে কখনই আমি একটি কথাও আপনাকে আজ লিখিয়া জানাইতে পারিতাম না। ছয় মাস পূর্বের কথা বলিতেছি; তখন আমার সুখের সীমা ছিল না। আমার মাসিক যে আয় ছিল তাহাতে আমার বেশ সুখ স্বচ্ছন্দে দিনাতিবাহিত হইত।

    দুই বৎসর পূর্বে আমি আমাদিগের কোন দরিদ্র প্রতিবেশীর একটি সুন্দরী, সুশীলা, কন্যাকে বিবাহ করি; তাহার স্বভাব চরিত্রের কথা ঠিক বর্ণনা করিতে পারিলে উপন্যাসের গাথা স্বরূপ হইয়া পড়ে। তাঁহার নাম শোভনা। আমাকে একদণ্ড ছাড়িয়া সে থাকিতে পারিত না। একদণ্ড যদি আমাকে আমি তাহার চক্ষুর অন্তরালে রাখিতাম, তাহার সেই মুখমণ্ডল মলিন হইয়া যাইত। নয়ন সজল হইত, সাত পাঁচ ভাবিয়া কেমন এক রকম হইয়া পড়িত। যদি কোনদিন বাটি ফিরিতে অনেক রাত হইত, হতভাগিনী আমার জন্য, এই পিশাচের জন্য জাগিয়া বসিয়া থাকিত – ঘুমাইত না – আমার অপেক্ষায় বসিয়া কাঁদিত। এখন বেশ বুঝিতেছি তাহার সেই অগাধ ভালবাসা এ পৃথিবীর ছিল না।

    এমন কি আমাকে ছাড়িয়া শোভনা পিতৃগৃহেও যাইতে চাইত না। আমি বরং বিশেষ করিয়া, বলিয়া কহিয়া মধ্যে মধ্যে দেখাশুনা করিয়া আসিতে বলিতাম। কথা ঠেলিতে পারিত না, যাইত; কিন্তু এক বেলার অধিক থাকিতেও পরিত না।

    আপনি বলিবেন, কোন স্ত্রী তাহার স্বামীকে যতদূর ভালবাসিতে হয় বাসে না? আমিও তাহা স্বীকার করিয়া লইতেছি; কিন্তু, কোন স্বামী এমন ভালবাসা পাইয়া সুখী হয় না। তেমন প্রগাঢ় ভালবাসা কোন স্বামীর সহ্য হয় না, তাই সেটুকু সে সাধ করিয়া নিজে নষ্ট করে? আমি, আমি, আমি সেই নরাধম স্বামী। আমিই সেই নরপ্রেত। – হায়, হায়~ অমরাবতীতে নন্দন-কাননের পারিজাততলে, রত্নবেদীতে বসিয়া সাধ্বী-সতী ইন্দ্রাণী শচীর স্বহস্তে গাঁথা পারিজাত মালা নির্মাল্য স্বরূপ কি জানি কোন ভ্রমক্রমে বুঝি এ নরপিশাচের গলায় আসিয়া পড়িয়াছিল। সে অপার্থিব স্বর্গীয় সামগ্রীর আদর আমি কি বুঝিব, তাই অতি শীঘ্র দিব্য গন্ধ পারিজাত সম্ভার শতখণ্ডে ছিঁড়িয়াছি।

    চতুর্থ পরিচ্ছেদ – পত্র মধ্যাংশ

    মানুষ কি পাগল! সেই জন্য বুঝি অতি সুখের ভিতর হইতে কোথায় দুঃখ আছে সাধ করিয়া আপনা হইতে তাহাই আগে টানিয়া বাহির করিতে চায়! কি জানি একদিন কোন শয়তানের কি মোহমন্ত্র কুক্ষণে আমার কর্ণে পশিল।

    আমার স্ত্রীর আলাহিদা একটি বাক্স ছিল, কখন সে সেই বাক্সের চাবি দিতে ভুলিত না, কি সেই চাবি কখন ভুলিয়া ফেলিয়া রাখিত না; এই দুই বিষয়ে সে সদা সাবধান থাকিত। এত সতর্কতার কারণ কি?

    এত সতর্কতার কারণ কি? ইহাই আমার হৃদয়ের মধ্যে সর্বদা তখন আন্দোলিত হইতে লাগিল। এই এক চিন্তায় আমায় যতদূর অস্থির করিয়া তুলিতে হয় তুলিল। আমি পাগলের মত হইয়া পড়িলাম।

    মনের ভিতর দারুণ সংশয়, দারুণ দুর্ভাবনা, দারুণ অবিশ্বাস। তাহার সেই অপার্থিব ভালবাসা, সেই অসীম অনুরাগ, সেই স্বর্গীয় পবিত্রতা কিছুরই উপর আর বিশ্বাস করিতে পারিলাম না। সকলই যেন ভণ্ডামি বলিয়া বোধ হইতে লাগিল।

    সেই সরলতা মাখা দৃষ্টি, সেই মুখমণ্ডলের অকলঙ্ক ভাব, আবেশময় প্রেমালিঙ্গন, সে সকলে যেন কে বিষ মাখাইয়া কি এক বিষের আগুন জ্বালাইয়া দিল।

    একদিন শোভনার একটি বাল্যসখী আসিয়া নিমন্ত্রণ করিয়া তাহাকে নিজের বাটিতে লইয়া যাইবার জন্য বড় জেদাজেদি আরম্ভ করিল। এখনও তাহাদের মধ্যে পরস্পরের বড় ভালবাসা ছিল। কিন্তু শোভনা আমাকে ছাড়িয়া তাহার সহিত কিছুতেই যাইতে চাহে না। তখন শোভনার সেই বাল্যসখী আমাকে আসিয়া ধরিয়া বসিল; আমি শোভনাকে তাহার সঙ্গে যাইতে বলিলাম। শোভনা আমার কথা কখন ঠেলিত না – যাইতে চাহিল। শোভনার বাল্যসখী – বাল্যবিধবা।

    সেই দিন যাইবার সময় শোভনা যথায় চাবি লুকাইয়া রাখিল আমি দূরে থাকিয়া গোপনে দেখিলাম। সে চলিয়া গেলে আমি সেই চাবি বাহির করিলাম। তাড়াতাড়ি সেই বাক্স খুলিয়া ফেলিলাম, আমার অন্তরাত্মা কাঁপিতে লাগিল। হাত হইতে চাবি ভূতলে পড়িয়া গেল। হৃদয় দৃঢ় করিযা আমি সকল জিনিস উল্টাইয়া পাল্টাইয়া তন্ন তন্ন করিয়া দেখিতে লাগিলাম। পাছে সে আসিয়া বুঝিতে পারে তাহার অসাক্ষাতে আমি তাহার বাক্স খুলিয়াছিলাম সেইজন্য আবার যথাকার যে সামগ্রী পূর্ববৎ সাজাইয়া রাখিতে লাগিলাম।

    এটা ওটা তুলিতে রাখিতে দেখিতে পাইলাম, বাক্সের এক কোণে একতাড়া পত্র রহিয়াছে; তাড়াতাড়ি টানিয়া বাহির করিলাম। বুকের ভিতর তুমুল ঝটিকা বহিতে লাগিল। নিশ্বাস রুদ্ধ হইয়া গেল, রুদ্ধশ্বাসে, কম্পিত করে, সশঙ্ক হ্রদয়ে পত্রগুলি পড়িতে গেলাম; তখন বুকের ভিতর যেন বিদ্যুদগ্নি ঝকিয়া ঝকিয়া মস্তকে প্রবেশ করিল। কি ভয়ানক! এ সকল যে প্রেমপত্র।

    পত্রগুলি জরির কাজ করা গোলাপী রঙের একটুকরা ফিতায় বাঁধা ছিল – খুলিলাম। পড়িতে যাই – পারি না, সাহসে কুলায় না। কোথা হইতে কোন পিশাচ যেন তখন হাঁকিয়া হাঁকিয়া আমার কানে কানে বলিয়া দিল, ‘ভীরু। পড়িয়া দেখ – সকলই বুঝিতে পারিবে।’

    কেহ তথায় ছিল না; এমন কি ভিত্তি গাত্রে এমন একখানি দর্পণও ছিল না – যাহাতে আমারই নিজের মূর্তি প্রতিবিম্বিত হইয়া সে সময়ে আমাকে একবারের জন্যও লজ্জিত করে – ধিক্কার দেয়। একে একে সকল পত্রই আমি পড়িলাম। প্রত্যেকখানিরই নিম্নে আমার একজন বন্ধুর নাম স্বাক্ষর দেখিলাম। পত্রগুলি সাবধানে রাখিবার জন্য প্রত্যেক পত্রেই যথেষ্ট করিয়া সাবধান করা হইয়াছে।

    তখন আমার মনের অবস্থা কিরূপ হইয়াছিল, কে জানিবে? সর্বাঙ্গে বিষদাহের যন্ত্রণা হইতে লাগিল। পাঠশেষে পত্রগুলি তেমনি করিয়া আবার বাঁধিয়া ফেলিলাম; যে স্থানে ছিল তেমনি করিয়া আবার রাখিয়া দিলাম। কম্পিত হস্তে বাক্স রুদ্ধ করিলাম।

    পঞ্চম পরিচ্ছেদ – পত্র শেষাংশ

    শোভনার ফিরিতে সন্ধ্যা হইল।

    সর্বাগ্রে শোভনা আমার নিকট ছুটিয়া আসিল; যেন সে আমাকে কতদিন দেখে নাই, তই আমার মুখপানে কতক্ষণ অবাক হইয়া চাহিয়া রহিল। আমাকে দেখিয়া সে যেন কত সুখী হইল। আমি তখন আপনার মনোভাব একেবারে গোপন করিয় অন্যান্য দিবসের ন্যায় কথোপকথন করিতে লাগিলাম। কিন্তু এদিকে প্রাণের ভিতর বিষের হল্কা ছুটিতেছিল; সে তাহা বুঝিতে পারে নাই।

    রাত এগারটার পর উভয়ে শয়ন করিলাম। আমার চক্ষে নিদ্রা নাই – হ্রদয়ে শান্তি নাই; শয্যা কণ্টকাকীর্ণ বোধ হইতে লাগিল। সেই কণ্টক শয্যায়, জ্বালাময় অবস্থায় রাত একটা বাজাইলাম – চক্ষে নিদ্রা নাই। নিদ্রা? সে আশা বৃথা।

    আর আমি থাকিতে পারিলাম না; যত রাত বাড়িতে লাগিল ততই সে অন্তর্দাহ সেই সঙ্গে আরও বাড়িতে লাগিল – ক্রমে অসহ্য হইয়া উঠিল। যখন রাত দুইটা সেই কণ্টকশয্যা ত্যাজিয়া উঠিলাম। উঠিয়া আগে প্রদীপ জ্বালিলাম। দেখিলাম, শোভনা নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাইতেছে। দুগ্ধশ্বেত উপাধানে তাহার সেই সুন্দর মুখমণ্ডল পরম শোভাময়। শুভ্র মেঘখণ্ডের বুকে যেন কোন দেবীমূর্তি চিত্রিত রহিয়াছে। বুঝিলাম না – বুঝিতে পারিলাম না – চেষ্টাও করিলাম না। প্রকৃতির এমন নির্দোষ সৌন্দর্যরাশির মধ্যে নরকের পাপের ছায়া কোথা হইতে আসিয়া মিশিল! স্থির করিলাম, শোভনাকে সেই রাত্রেই হত্যা করিব; তাহার সেই নিদ্রিত অবস্থায় তাহাকে হত্যা করিবার জন্য শাণিত ছুরিকা বাহির করিলাম। বাহির করিয়া তাহার সেই কমলকোমল কণ্ঠে বসাইতে গেলাম। হাত কাঁপিয়া কাঁপিয়া চুরিখানা গৃহতলে পড়িয়া গেল। একবার ভাবিলাম, কেমন করিয়া সেই নবনীকোমল কণ্ঠে শাণিত ছুরিকা বিদ্ধ করিব। যাহাকে এতদিন নিজের অপেক্ষা অধিক ভালবাসিয়া আসিয়াছি, যাহার সুখ বিধানের একদিন প্রাণপণ করিতে পারিয়াছি আজ তাহাকে কেমন করিয়া এ সংসার হইতে বিদায় করিব? তখন আবার সেই পিশাচের মোহমন্ত্রে মোহিত হইলাম – সে যেন আমার চক্ষের সম্মুখে দাঁড়াইয়া বিদ্রূপের মৃদু হাস হাসিতে হাসিতে বলিল, ‘কাপুরুষ, সাহস নাই।’ সেই কথা গম্ভীর নাদে তখন হৃদয়ের কন্দরে কন্দরে ছুটিতে লাগিল। আমার বিকৃত মস্তিষ্ক আরও বিকৃত করিয়া তুলিল। তখন অতি সাহসে বুক বাঁধিযা আবার সেই শোণিত-তৃষ্ণার্ত লৌহময় নির্দয় ছুরি দৃঢ় মুষ্টিতে তুলিয়া লইলাম। দৃঢ় মুষ্টিতে ধরিয়া অকম্পিত করে নিদ্রিতা শোভনার সেই নিদ্রা চিরনিদ্রায় পরিণত করিবার জন্য তাহার বক্ষে আমূল বিদ্ধ করিলাম। সঙ্গে সঙ্গেই অজস্রধারে রক্ত ছুটিতে লাগিল – স্থির দৃষ্টিতে তাহাই আমি দেখিতে লাগিলাম। দেখিলাম, তখন একবার যন্ত্রণায় শোভনা ছটফট করিয়া উঠিল। চক্ষুরুন্মীলন করিয়া স্থির দৃষ্টিতে অনেকক্ষণ আমার দিকে চাহিয়া রহিল। কিন্তু সে দৃষ্টিতে ক্রোধের কোন চিহ্ন ছিল না। তাহার দৃষ্টিতে কখনও ক্রোধব্যঞ্জক চিহ্ন দেখি নাই – আজিও দেখিতে পাইলাম না। দেখিতে দেখিতে শোভনার প্রাণবায়ু বহির্গত হইয়া গেল। তখন আমার হাতের উপর শোভনার একবিন্দু রক্ত পড়িয়াছিল। কোথায় পড়িয়াছিল তাহা আপনি জানেন। সে রাত্রে আমি সে রক্তবিন্দু দেখিতে পাই নাই, পরদিন দেখিলাম, একবিন্দু রক্ত আমার হাতের উপর শুকাইয়া রহিয়াছে।ব

    যে কৌশলে আমি নিজের অপরাধ গোপন করিয়াছিলাম তাহা আপনাকে জানাইতে চাহি না। আইনের হাত এড়াইলাম বটে, কিন্তু ঈশ্বর যে উপরে রহিয়াছেন সে কথা তখন মনে পড়ে নাই।

    ক্রমে শোভনাকে ভুলিতে আরম্ভ করিলাম। তাহার উপর আমার সেই অতি নিষ্ঠুরতার জন্য কখন কখন মন যে অত্যন্ত ব্যাকুল না হইয়াছিল তাহা নহে, কিন্তু সেই আমাকে নিষ্ঠুর করিয়াছিল ভাবিয়া মন স্থির করিতে চেষ্টা করিতাম। প্রাণে এমন একটা দারুণ আঘাত না লাগিলে কেহ কি এমন করিয়া নিজের স্ত্রীর গলায় শাণিত ছুরি বসাইতে পারে?

    কয়েক দিবস পরে একদিন অপরাহ্ণে শোভনার সেই বিধবা বাল্যসখী আমার সঙ্গে দেখা করিল। আমাকে শোকার্ত ভাবিয়া কত বকিল, কত বুঝাইল, আমি তাহার সে সকল কথার একটি বর্ণও হৃদয়ঙ্গম করিয়া উঠিতে পারি নাই। কর্ণপাতও করি নাই। সান্ত্বনায় আমার প্রয়োজন? আমি দুঃখিত নহি – শোকার্ত নহি – কাতর নহি।

    তাহার পর সে একথা ওকথা অনেক কথার পর আমার হাত ধরইয়া, একটু থতমত খাইযা, জড়িত স্বরে, কম্পিত কণ্ঠে বলিল, ‘আমি জানি, তুমি কখনই কাহারও কাছে প্রকাশ করিবে না। আমার কটি লুকানো কথা এখন তোমার কাছে না বলিলে নয়, তাহাই বলিতে হইতেছে। তুমি হয়তো আমাকে মনে মনে ঘৃণা করিবে। কি করিব? মানুষের মন বশ মানিবার নহে। কতকগুলি গুপ্তপত্র আমি নিজের কাছে রাখিবার কোন সুবিধা না পাইয়া শোভনার নিকট রাখিয়াছিলাম। সে পত্রগুলি যদি তুমি খুঁজিয়া বাহির করিয়া আমাকে দাও – বড় উপকার করিবে।’

    তাহার কথা শুনিয়া তখন আমার আপাদমস্তক কাঁপিতে লাগিল। মস্তকে আকাশ ভাঙ্গিয়া পড়িল। মনের গতি ঠিক রাখিতে না পারিয়া তাড়াতাড়ি জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘সে সকল প্রেমপত্রে কি লেখা আছে?’

    ক্রোধে বিধবার চক্ষু জ্বলিয়া উঠিল। বলিল, ‘পত্রে কি লেখা আছে কি না তাহা তোমার জানিবার আবশ্যক কি? ছি ছি রমেশ, তোমার অপেক্ষা তোমার স্ত্রীর হৃদয় শতগুনে মহৎ ছিল। যখন তাহাকে আমি পত্রগুলি রাখিতে দিয়াছিলাম, পত্রে কি লেখা আছে কি না, ভুলিয়াও সে একবার সে কথা জিজ্ঞাসা করে নাই। শোভনা দিব্যি করিয়াছিল সে কখনই আমার গচ্ছিত পত্র পাঠ করিবে না। সে যে আমার পত্রের একটি বর্ণ পাঠ করে নাই এ আমি নিশ্চয় বলিতে পারি। তাহাকে আমি ভাল রকম চিনিতাম, শোভনার ন্যায় অমন সরল স্বভাবের স্ত্রীলোক এ জগতে দুর্লভ।’

    আমি। কিরূপে আমি তোমার পত্রগুলি চিনিয়া বাহির করিব?

    সে। জরির কাজ করা গোলাপী রঙের ফিতায় পত্রগুলি একসঙ্গে বাঁধা আছে।

    আমি। খুঁজিয়া দেখিতেছি।

    কোথায় সে পত্রের তাড়া ছিল আমার নিকট অবিদিত নহে। তথাপি আমি এদিক ওদিক অনর্থক অনুসন্ধান করিয়া যেন সে পত্রগুলির বিষয় কিছুই জানি না এইরূপ ভান করিয়া কতক্ষণ পরে পত্রগুলি বাহির করিয়া তাহার হস্তে দিয়া বলিলাম, ‘এই পত্রগুলি কি তোমার?’

    ‘হাঁ – হাঁ এই বটে; যেমন আমি পত্রগুলি বাঁধিয়া শোভনার হাতে দিয়াছিলাম ঠিক তেমনিই আছে।’

    আমি আর তাহার দিকে মুখ তুলিয়া চাহিতে পারিলাম না; পাছে সে আমার মুখ চোখের ভাব দেখিয়া বুঝিতে পারে যে সেই সকল পত্র খুলিয়া পাঠ করিয়াছিলাম। আর আমি সেখানে দাঁড়াইতে পারিলাম না, মাথা যেন কেমন ভারী হইয়া উঠিল – ঘুরিতে লাগিল। শয্যায় গিয়া শয়ন করিলাম। আপনার হাতে মাথার চুল ছিঁড়িতে লাহিলাম, বক্ষে করাঘাত করিয়া প্রাণের ভিতর যে হাহাকার পড়িযা গিয়াছিল, তাহা দমন করিতে চেষ্টা করিতে লাগিলাম। তখন বিধবা চলিয়া গিয়াছে।

    সেই থেকে এই যন্ত্রণার আরম্ভ। যদিও তখন সেই রক্তবিন্দু শুকাইয়া উঠিয়া গিয়াছিল – বাহিরের যন্ত্রণার কোন চিহ্ন প্রকাশ্হ পায় নাই। তথাপি সেই রক্তবিন্দু যেখানে লাগিয়াছিল সেখানে ভীষণ যন্ত্রণা হইতে লাগিল। বোধ হইল কে যেন গলিত সীসক ঢালিয়া দিয়াছে। প্রতি দণ্ডে যন্ত্রণা ভীষণ হইতে ভীষণতর হইতে লাগিল। সহস্র চেষ্টায় ঘুমাইতে পারিতাম না। তেমন দারুণ যন্ত্রণা বুঝি পৃথিবীর্তে আর নাই। এ যন্ত্রণার কথা আমি কাহারও নিকট প্রকাশ করিতে ভরসা করিতাম না – কে বিশ্বাস করিবে? আমি কিরূপ যন্ত্রণা ভোগ করিতেছিলাম আপনি তাহা অবগত আছেন। দুইবার সে প্রাণান্তক যন্ত্রণা হইতে আমাকে নিস্তার করিয়াছেন। কিন্তু যতই সেই ক্ষতস্থান শুকাইয়া আসে ততই যন্ত্রণার বৃদ্ধি হইতে থাকে। দারুণ যাতনায় একহন আমাকে বড়ই অস্থির করিয়া তুলিয়াছে। সহ্য করিবার ক্ষমতাও আর নাই – বোধ হইতেছে এক দণ্ডের মধ্যেই আমাকে ইহলোক ত্যাগ করিতে হইবে। এই আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হইতেছে বুঝিয়া মনে মনে আমি সুখী। আশা আছে ইহলোকে পাপের প্রায়শ্চিত্ত হইয়া গেলে পরলোকে শোভনা আমাকে মার্জনা করিলেও করিতে পারে। আপনি আমার যে উপকার করিয়াছেন তজ্জন্য আপনাকে সহস্র ধন্যবাদ দিতেছি। কৃতজ্ঞের নমস্কার জানিবেন। ইতি –

    শ্রীরমেশচন্দ্র বসু

    দুই তিন দিন পরে কয়েকখানি সংবাদপত্রে দেখিলাম যে রমেশচন্দ্র বসু নামক এক ব্যক্তি নিজের মাথা দেয়ালে বারম্বার আঘাত করিয়া আত্মহত্যা করিয়াছেন। তন্মধ্যে কেহ কেহ লিখিয়াছেন, পত্নীশোকই রমেশ বসুর আত্মহত্যার একমাত্র কারণ। যাঁহারা একটু সন্ধান রাখিয়াছিলেন, তাঁহারা, দুরারোগ্য ক্ষতরোগের যন্ত্রনাই আত্মহত্যার একমাত্র কারণ বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন। যাঁহারা তাঁহাকে বিশেষরূপে চিনিতেন তাঁহারা প্রকৃত সংবাদই লিখিয়াছিলেন যে, তিনি পাগল হইয়া গিয়াছিলেন, দুরারোগ্য ক্ষতরোগ সেই ক্ষিপ্তাবস্থার একমাত্র খেয়াল ব্যতীত আর কিছুই নহে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
    Next Article বাঙ্গালীর বীরত্ব – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }