Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৬ (ষষ্ঠ খণ্ড)

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প504 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.৫ কার্য্যোদ্ধার

    পঞ্চম পরিচ্ছেদ – কার্য্যোদ্ধার

    দূরে-এক স্থানে লুক্কায়িত হইয়া মেটা দেখিলেন যে, জাহাজ ছাড়িয়া গেল। তখন সে হাপ ছাড়িয়া বাঁচিল। তাহা হইলে খুনের কথা এখনও জাহাজে প্রকাশ পায় নাই। অন্ততঃ নয়টা পৰ্য্যন্ত কেহ মৃতব্যক্তির অনুসন্ধান করিবে না, ততক্ষণ জাহাজ অনেক দূরে চলিয়া যাইবে, সে সময়ে কাপ্তেন এতদূর ফিরিয়া আসিতে কোন মতেই সম্মত হইবেন না, সুতরাং তাহার আর কোন সন্দেহ নাই।

    প্রকৃতপক্ষে তাহাই ঘটিল, জাহাজ ফিরিল না।

    মেটা জাহাজে বোম্বে ফিরিয়া যাওয়া নিরাপদ বিবেচনা করিল না; সে তাহার দাড়ী-গোঁফ সমুদ্রে ফেলিয়া দিল। সঙ্গে টাকা ছিল, পার্শী-পোষাক সংগ্রহ করিল, তৎপরে স্থলপথে বোম্বে রওনা হইল।

    যাহা হউক, সে অবশেষে বোম্বে গিয়া উপনীত হইল। জাহাজে সে বাক্সের মধ্যে যে দৃশ্য দেখিয়াছিল, তাহাতে তাহার আর কিছুই বুঝিতে বাকী রহিল না।

    যে লোকটাকে ভুলক্রমে সে খুন করিয়াছিল, নিশ্চয়ই সে আবার কোনক্রমে হরকিষণ দাসকে খুন করিয়াছিল।

    মেটার মত লোকেরও প্রাণ শিহরিয়া উঠিল। নিশ্চয়ই তাহার হত্যাকারী তাহারই দেহ টুকরা টুকরা করিয়া বাক্সে লইয়া যাইতেছিল, নিশ্চয়ই সে-ই তাহার নোট চুরি করিয়াছিল, কিন্তু মেটা ভাবিল, সে নোট তাহার নিকট যে নাই, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই, নিশ্চয়ই লোকটা এখানে কোন লোকের নিকটে নোটগুলি ভাঙাইবার জন্য রাখিয়া সে হরকিষণের দেহ কোন গতিকে বিদায় করিবার জন্য পোরবন্দর যাইতেছিল।

    তাহা হইলে নোট বোম্বেতেই আছে। এই নোটের নম্বর হরকিষণ দাস জানিত, আর মেটা জানে। এখন হরকিষণ দাস আর নাই, এই নোট এখন চোরের হাতে পড়িয়াছে, সুতরাং ইহার নম্বর বন্ধ করিয়া দিলে, ইহা আর কেহ ভাঙাইতে পারিবে না।

    মেটা ভাবিল, “যেদিক দিয়া হউক, নোট আবার আমার হাতে আসিবে। ভাঙাইতে আসিলে ধরা পড়িলে নোট আমিই পাইব, কারণ নোট যে আমি হরকিষণ দাসকে দিয়াছিলাম, তাহা সে আর আমি ব্যতীত অন্য কেহ জানে না। তাহার মামীর বিষয় যাহারা কিনিয়াছে, তাহারা এ নোট আমাকেই দিয়াছিল? যেদিক দিয়া হউক, নোট যায় কোথায়? চোর যখন দেখিবে, তাহার নোট ভাঙাইবার কোন উপায় নাই, যখন তাহার সঙ্গীর খুনের কথা জানিতে পারিবে, তখন আমার নিকট হইতে কিছু লইয়া নোটগুলি ফেরৎ দিবার চেষ্টা করিবে—আমি ইহাতে সম্মত আছি।”

    এইরূপ নানা কথা মেটা মনে মনে আন্দোলন করিল; কিন্তু কি করিবে, তাহা স্থির করিতে পারিল না।

    তাহারই ন্যায় আর একজন বোম্বে সহরে দিবারাত্র ভাবিয়া ভাবিয়া উন্মত্তপ্রায় হইয়া উঠিয়াছিল। সে দন্ত-চিকিৎসক জামসেদজী।

    তাহার কনিষ্ঠ ভ্রাতা বলিয়া গিয়াছিল, সে পোরবন্দরে পৌঁছিয়াই তাহাকে পত্র লিখিবে; কিন্তু জাহাজ অনেক দিন পৌঁছিয়া গিয়াছে; কিন্তু তাহার কোন পত্র এ পর্যন্ত আসে নাই। তাহার ডাক্তার ভ্রাতার ন্যায় তাহার হৃদয়ে তেমন বল ছিল না — তাহার সর্ব্বাঙ্গ দিবারাত্রি কম্পিত হইতে লাগিল।

    নোটগুলি সম্বন্ধে যাহা করিতে হইবে, তাহা তাহার ভাই বলিয়া গিয়াছিল; কিন্তু জামসেদজী সাহস করিয়া কিছুই করিতে পারিল না; ডাক্তার যাইবার সময় নোটগুলি লুকাইয়া রাখিয়াছিল, নোটগুলি এখনও সেইখানেই আছে।

    এদিকে মেটা অনেক ভাবিয়া-চিন্তিয়া নোটবন্ধ করাই স্থির করিল, ইহাতে ভয়ের কারণ যথেষ্ট আছে খুনের সহিত এই লাখ টাকার নোট জড়িত; কিন্তু ভয় করিলে কোন কাজই এ সংসারে হয় না, যথাসময়ে সে নোট বন্ধ করিবার জন্য পত্র লিখিল।

    ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ – এ রমণী কে

    যে জাহাজের কথা আমরা বলিতেছি, যে জাহাজ হইতে একটু পূর্বে মেটা পলাইয়াছে, সহসা সেই জাহাজের একপ্রান্ত হইতে শব্দ হইল, “মানুষ জলে পড়িয়াছে।”

    সত্য সত্যই একজন জলে পড়িয়াছে। একটি বালিকা জাহাজের রেলে বুক দিয়া সমুদ্রবক্ষে তরঙ্গলীলা দেখিতেছিল, ঝোঁক সামলাইতে না পারিয়া একেবারে সমুদ্রে পড়িয়াছে। নিকটে তাহার মা বুক চাপড়াইয়া চীৎকার করিয়া কাঁদিতেছে।

    তাহার পর মুহূর্ত্তেই আবার এক চীৎকারধ্বনি উঠিল, এবার একটি পুরুষ সত্বরহস্তে জামা জুতা খুলিয়া ফেলিয়া প্রায় বালিকার সঙ্গে সঙ্গেই সমুদ্রে ঝম্পপ্রদান করিয়াছেন।

    বলা বাহুল্য, ইহাতে জাহাজে একটা মহা হুলুস্থুল পড়িয়া গেল। কাপ্তেন জাহাজ থামাইয়া ফেলিলেন, নিমেষমধ্যে একখানা নৌকা নামাইয়া দেওয়া হইল। পাঁচ-সাতজন বলবান নাবিক সবলে দাঁড় টানিয়া সেইদিকে চলিল।

    যিনি পরে ঝাঁপ দিয়া সমুদ্রবক্ষে পড়িয়াছিলেন—তিনি বালিকা জলমগ্ন হইবার পূর্ব্বেই গিয়া তাহাকে ধরিয়াছিলেন, তাহাকে তখনই তুলিয়া লইয়া সাঁতার দিতেছিলেন। নৌকা গিয়া তাঁহাদের উভয়কেই তুলিয়া লইল।

    নিমজ্জনে তাঁহাদের দুইজনের কাহারও অধিক অনিষ্ট হয় নাই। জননী কন্যাকে পাইয়া তাহাকে লইয়া কাঁদিতে লাগিল। জাহাজ সুদ্ধ লোক সেই পরোপকারী যুবকের যথেষ্ট প্রশংসা করিতে লাগিল।

    তিনি অত্যন্ত ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছিলেন; নিকটবর্ত্তী একজনকে বলিলেন, “আমার বাক্সে কাপড় জামা আছে, আনিয়া দাও।”

    সকলেই তখন এই পরোপকারী যুবকের সেবা ও আদেশ পালন করিতে ব্যস্ত, একজন তাঁহার জন্য কাপড় ও জামা আনিতে ছুটিল। তাঁহাকে লইয়া জাহাজ সুদ্ধ লোক বোধহয় সমস্ত দিন ব্যস্ত হইয়া থাকিত; কিন্তু এই সময়ে জাহাজে আর এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটায় তাঁহার কথা তখন একদম চাপা পড়িয়া গেল।

    বেলা দশটা বাজে, তখন একটা কেবিনে একজন শয়ন করিয়া আছে, উঠে না দেখিয়া একজন খানসামা গিয়া তাহাকে ডাকিল। পুনঃ পুনঃ ডাকায় তাহার কোন উত্তর না পাইয়া সে গিয়া মশারি সরাইল, তৎপরে এক লম্ফে বাহিরে আসিয়া বলিল, “আত্মহত্যা আত্মহত্যা!”

    দেখিতে দেখিতে জাহাজময় এই সংবাদ প্রচার হইয়া গেল! সকলের মুখেই আত্মহত্যা!

    কিন্তু জাহাজের ডাক্তার মৃতদেহ দেখিয়া ঘাড় নাড়িলেন। কাপ্তেন বলিলেন, “কি, আত্মহত্যা নয় কি?”

    “না, খুন।”

    “খুন!”

    “হ্যাঁ।”

    “আর কে এ কেবিনে ছিল। সে লোক কোথায়? খোঁজ তাকে।”

    তখন একজন বলিল, “সে মারভি দেখিতে গিয়াছিল, তাহার পর ফিরিয়াছিল কিনা বলিতে পারি না।”

    তখন অনুসন্ধান আরম্ভ হইল, জাহাজে সে নাই। সে মারভি গিয়াছিল, ফিরে নাই। কাপ্তেন বলিলেন, “তাহা হইলে সে পলাইয়াছে–এখন আর উপায় নাই, আমি এখন কিছুতেই এখান হইতে আর মারভি ফিরিয়া যাইতে পারি না।”

    ডাক্তার বলিলেন, “তাহা হইলে খুনীকে পলাইবার যথেষ্ট সময় দেওয়া হয় না কি?”

    “তাহা কি করিব? এখান হইতে ফেরা সম্পূর্ণ অসম্ভব। পোর বন্দরে গিয়া পুলিসের হাতে কেস দেওয়া যাইবে, এখন যাহা যাহা হইয়াছে, ডাক্তার তুমি তাহার একটা রিপোর্ট লিখিয়া রাখ। কতকক্ষণ মরেছে, বলিয়া বোধ হয়।”

    “দশ-বার ঘন্টা।”

    “আমরা সন্ধ্যার সময়ে পোর-বন্দরে পৌঁছিব–ততক্ষণ যেমন আছে, তেমনই থাক, কেবিনের দরজা বন্ধ করিয়া শীলমোহর করিয়া রাখ।”

    তাহাই হইল। দুই মৃতদেহ সেই কেবিনে বন্ধ রহিল। তবে জাহাজের লোকেরা কেবল একটি মৃতদেহের কথাই জানিতে পারিল।

    পোর-বন্দরে জাহাজ পৌঁছিলে কাপ্তেন জাহাজ হইতে কাহাকেও নামিতে দিলেন না। পুলিসকে সংবাদ পাঠাইলেন।

    পুলিস অনতিবিলম্বে আসিয়া অনুসন্ধান আরম্ভ করিল; কিন্তু জাহাজস্থ কাহারও উপরে কোন সন্দেহ করিবার কিছু নাই দেখিয়া সকলকে নামিতে অনুমতি দিল। তখন তাহারা হুড়ামুড়ি করিয়া জাহাজ হইতে নামিতে আরম্ভ করিল।

    একটি স্ত্রীলোক ঘাটে দাঁড়াইয়া ব্যাকুলভাবে যাত্রীদিগকে দেখিতেছিল; কিন্তু সকলে চলিয়া গেল, সে যাহার জন্য অপেক্ষা করিতেছিল; বোধ হয়, তাহাকে দেখিতে পাইল না; কিন্তু সে তবুও নড়িল না। একজন কর্ম্মচারীর দৃষ্টি তাহার উপরে পড়িল, সে তাহার নিকটে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “কাহারও জন্য অপেক্ষা করিতেছ?”

    “সব যাত্রী কি নামিয়াছে?”

    “হ্যাঁ, তবে দুই-একজন আছে।”

    “তাহা হইলে আমি যাহার জন্য অপেক্ষা করিতেছি তিনি এখনও জাহাজে আছেন?”

    “না।”

    “কেন?”

    “তুমি যাঁহার অপেক্ষা করিতেছ, তাঁহার নাম কি?”

    “হরকিষণ দাস, তিনি কি তখনও জাহাজে আছেন?”

    “এখানে অপেক্ষা কর, আমি অনুসন্ধান করিয়া আসিয়া বলিতেছি।”

    এই বলিয়া সে ছুটিয়া কাপ্তেনের নিকটে গিয়া বলিল, “একটি স্ত্রীলোক —”

    “কি হইয়াছে?”

    “সে একজন যাত্রীর জন্য আসিয়াছে।”

    “বল, সকলেই নামিয়া গিয়াছে।”

    “সে হরকিষণ দাসকে চায়।”

    “কি—কি?”

    “হরকিক্ষণ দাস।”

    পুলিস-কৰ্ম্মচারী তথায় বসিয়াছিলেন। তিনি সত্বর উঠিয়া বলিলেন, “কোথায় সে?”

    “এইদিকে আসুন।”

    পুলিস-কৰ্ম্মচারী সেই স্ত্রীলোকটির নিকট আসিয়া বলিলেন, “আপনি একজন যাত্রীর জন্য আসিয়াছেন?”

    “হাঁ, হরকিষণ দাস। তিনি কি এখনও জাহাজে আছেন?”

    “দেখুন—একটা কথা –”

    “আপনি কে?”

    “আমি পুলিসের লোক।”

    “পুলিস! সব প্রকাশ হয়ে পড়েছে সে গ্রেপ্তার হয়েছে?”

    পুলিস-কৰ্ম্মচারী চক্ষু বিস্ফারিত করিয়া ভাবিলেন, “তাহা হইলে কেবল খুন নয়, আরও গভীর রহস্য আছে।”

    রমনীও তাহার ভুল বুঝিল, সামলাইয়া লইবার জন্য বলিল, “তিনি — তিনি কি এখনও জাহাজে আছেন?”

    “হাঁ।”

    “আমি তাঁহার সঙ্গে দেখা করিতে পারি কি?”

    “আপনি তাঁহার কেহ হন?”

    “স্ত্রী।”

    “আসুন।”

    এই বলিয়া তিনি তাহাকে লইয়া জাহাজের মধ্যে আসিলেন।

    রমণী ব্যগ্রভাবে জিজ্ঞাসা করিল, “কই তিনি?”

    “ব্যস্ত হইবেন না “তাহা আমি জানি “তাঁহার মৃতদেহ—”

    “কি—কি—”

    আপনার স্বামী এই জাহাজে বোম্বাই হইতে চড়িয়াছিলেন—” এখনও তিনি কি জাহাজে রহিয়াছেন? কোথায় আছেন?”

    “তিনি মারা গিয়াছেন।”

    “মারা গিয়াছেন!”

    এই বলিয়া রমণী বসিয়া পড়িল—মূৰ্চ্ছিতপ্রায় হইল, পুলিস-কৰ্ম্মচারী তাহার মুখে-চোখে জল দিয়া বলিলেন, “অধীর হইতে নাই–মরণ-বাঁচন সকলেরই আছে, একটু স্থির হইয়াছেন? মৃতদেহ দেখিতে চাহেন — ভাল — দেখা আবশ্যক, সনাক্ত হওয়া চাই। আসুন, এইদিকে, এই ঘরে–ঐখানে আছে।”

    সপ্তম পরিচ্ছেদ – তুসলী বাঈ

    রমণী কেবল একদৃষ্টে মৃতদেহ দেখিল, তৎপরে পাগলের ন্যায় হাসিয়া উঠিল, তৎপরেই ক্রন্দন করিয়া উঠিয়া মূৰ্চ্ছিতা হইয়া ভূপতিতা হইল।

    সে তাহার স্বামিকেই মৃত দেখিবে ভাবিয়াছিল, কিন্তু দেখিল, আর এক ব্যক্তি। যখন তাহার জ্ঞান হইল, তখন সে দেখিল, সে ডেকের উপরে শয়ন করিয়া আছে। রাত্রি হইয়াছে, তাহার নিকটে কেহ নাই, জাহাজের মধ্যে মধ্যে আলো জ্বলিতেছে? সে নড়িল না, এখন কি করা উচিত, তাহাই সে ভাবিতে লাগিল। একটা কিছু ভয়ানক হইয়াছে! তাহার স্বামীর নাম ধরিয়া কেহ এই জাহাজে আসিতেছিল, কে তাহাকেই বা খুন করিল! সে তাহার স্বামীর সকল কথাই জানিত। তাহাই তাহার এত ভয়।

    হরকিষণ দাস যথার্থই চাষা ছিলেন, নাম-সই ব্যতীত তাহার আর অধিক বিদ্যা ছিল না। তাহার চিঠিপত্র লিখিবার জন্য, তাহার হিসাব-পত্র কাজ-কর্ম্ম দেখিবার জন্য সে গোপালরাম দাস নামে এক শিক্ষিত যুবককে মাহিনা দিয়া রাখিয়াছিলেন। গোপালরাম ও তাহার স্ত্রী তুলসী বাঈ তাঁহার বাড়ীতেই থাকিত।

    যখন মেটা, হরকিষণ দাসের মামীর মৃত্যু-সংবাদ ও তাঁহার সম্পত্তির কথা জানাইয়া পত্র লিখিল, তখন অনেক ভাবিয়া-চিন্তিয়া গোপাল দাস সে পত্র গোপন করিয়া ফেলিল সে পত্রের কথা হরকিষণ দাসকে কিছুই বলিল না। রাত্রে তুলসী বাঈর সহিত পরামর্শ আঁটিতে লাগিল, সেও তাহাতেই সায় দিল। লাখ টাকা! অনায়াসেই বড় লোক হইতে পারা যাইবে, হরকিষণ দাস ইহার বিন্দু-বিসর্গ জানিতে পারিবে না। আর কিরূপেই বা জানিবে?

    উভয়ে এই পরামর্শ স্থির করিয়া গোপাল দাস মনিবের নিকট হইতে ছুটি লইল। তাহার পর সে হরকিষণ দাস নাম লইয়া বোম্বাই রওনা হইল।

    তুলসী বাঈ এ সমস্তই জানিত। গোপালরাম দাস বোম্বাই হইতে তাহাকে দুই-তিনখানা পত্র লিখিয়াছিল। শেষ পত্রে সে লিখিয়াছিল, “কাজ উদ্ধার হইয়াছে, কল্যকার জাহাজে রওনা হইব।” তাহাই তুলসী বাঈ জানিতে পারিয়াছিল যে, গোপাল দাস মনিবের নাম হইয়া এই জাহাজে আসিবে, তাহাই সে-ও একদিনের ছুটি লইয়া পোর-বন্দরে আসিয়াছিল। এখন জাহাজে গোপাল দাস আসে নাই, তাহার নাম ধরিয়া আর একজন আসিয়াছে, সে-ও খুন হইয়াছে, এরূপ অবস্থায় বিশেষ সাবধান হওয়া উচিত।

    জাহাজস্থ সকলে জানিয়াছে যে, সে তাহার স্বামীকে মৃত দেখিয়া মূৰ্চ্ছিত হইয়া পড়িয়াছিল, এখন সে কি বলিবে? মৃত ব্যক্তিকে তাহার স্বামী বলিয়া সনাক্ত করিতে পারে না, করিলে টিকিবে না। অনুসন্ধানে সকলই বাহির হইয়া পড়িবে। অনুসন্ধান হইলে সেও তাহার স্বামী যে কি কাণ্ড করিয়াছে, তাহাও সব প্রকাশ হইয়া পড়িবে। এখন উপায়?

    তুলসী বাঈ মূৰ্চ্ছা যাইবার অজুহাতে জাহাজের ডেকের উপরে বসিয়া বহুক্ষণ ধরিয়া ভাবিতে লাগিল, এখন কি করা উচিত। সহসা সে কি একটা মলব ঠিক করিয়া সবেগে উঠিয়া বসিল। পলায়নই উচিত; নতুবা পুলিসের হাতে পড়িলে সকল কথাই প্রকাশ হইয়া পড়িবে।

    যখন সকলে ভাবিতেছিল যে, সে অজ্ঞান হইয়া আছে, সেই সময়ে তুলসী বাঈ ধীরে ধীরে নিঃশব্দে চারিদিকে চাহিতে চাহিতে জাহাজ হইতে নামিয়া পলাইল। তাহার সৌভাগ্য ক্রমে কেহই তাহাকে দেখিতে পাইল না। সে শহরে অন্তর্হিত হইল। তুলসী বাঈ জাহাজ হইতে পলাইয়া সেই রাত্রেই তাহার মনিবের বাড়ীতে উপস্থিত হইল। হরকিষণ দাস ঠিক পোর-বন্দর সহরে বাস করিতেন না; সহর হইতে প্রায় পাঁচ ক্রোশ দূরে তাঁহার বাড়ী। তাঁহার বাড়ীর চারিদিকেই বিস্তৃত শস্যক্ষেত্র, এ সমস্তই তাঁহার—অনেক লোকজন লইয়াই তাঁহার কাজ-কারবার।

    সংসারে তাঁহার সম্বল একমাত্র কন্যা হিঙ্গল বাঈ। বহুদিন হইল, হরকিষণ দাসের স্ত্রীবিয়োগ হইয়াছে, তিনি পিতা হইয়া মাতৃস্নেহ ঢালিয়া হিঙ্গনকে মানুষ করিয়াছেন। হিঙ্গনের এখন প্রায় ষোড়শ বৎসর বয়স হইয়াছে। হিঙ্গন সর্ব্বাঙ্গ সুন্দরী—ঝলমলে রূপ; যে একবার তাহাকে দেখে, সহসা অন্যদিকে চক্ষু ফিরাইতে পারে না লাবণ্যপ্রবাহে তাহার সর্ব্বাঙ্গ অভিসিক্ত। তাহার বয়স ষোড়শ হইলেও অতি শৈশবের অম্লান লাবণ্যটুকু যেন তাহাকে এখনও পরিত্যাগ করিতে পারে নাই; মুখখানিতে তাহা যেন এখনও ফুটিয়া আছে। সেই চাঞ্চল্যপূর্ণ শৈশবের ন্যায় এখনও তাহার চক্ষু কথায় কথায় হাস্যচ্ছটায় নাচিয়া উঠে। এখনও তাহার বিবাহ হয় নাই। মনের মত পাত্র না পাওয়াই তাহার বিবাহ না হইবার কারণ, বিশেষতঃ হরকিক্ষণ দাস তাহাকে ছাড়িতেও সম্পূর্ণ সম্মত নহেন। গুজরাটে সাধারণতঃ ইহাপেক্ষা কম বয়সে কোন বালিকার বিবাহ হয় না, হরকিষণ দাস তাহার কন্যাকে এখনও ক্ষুদ্র বালিকা মনে করিয়া থাকেন।

    তুলসী বাঈ পলাইলে জাহাজের লোকেরা তাহার অনেক অনুসন্ধান করিল; কিন্তু কোথাও তাহার কোন সন্ধান পাইল না। পর দিবস পুলিস মৃতদেহ ও তাহার বাক্স দুইটি লইয়া গেল। তখন বাক্স খুলিয়া তাহারা আর একজনের খণ্ড বিখণ্ড মৃতদেহ দেখিতে পাইয়া মহা বিস্মিত হইল। অনেক অনুসন্ধান হইল; কিন্তু এই দুই খুনের কোনও সন্ধান হইল না।

    তুলসী বাঈ ফিরিয়া হরকিষণ দাসের বাড়ী আসিল। তাহার সঙ্গে সঙ্গে আর একজন লোকও হরকিষণ দাসের বাড়ীতে আসিলেন। ইনিও এই জাহাজে বোম্বাই হইতে পোর-বন্দরে আসিয়াছিলেন।

    ইহার নাম জয়বন্ত লালজী ভাই—ইনি যুবক, সুপুরুষ, সুশিক্ষিত; কিন্তু হইলে কি হয়, তাঁহার ন্যায় অলসপ্রকৃতি এ সংসারে দ্বিতীয় দেখিতে পাওয়া যায় না। তিনি কিছুতেই কোন কাজ-কর্ম্ম করিতে চাহিতেন না। বোম্বাই থাকিলে আরও অকর্ম্মণ্য হইয়া যাইবে ভাবিয়া, তাঁহার আত্মীয়স্বজন তাঁহাকে বোম্বাই হইতে বিদায় করাই শ্রেয়ঃ মনে করিলেন। হরকিষণ দাস তাঁহাদের নিকটে পরিচিত ছিলেন। দূরে পোর-বন্দরে চাষবাসে গেলে জয়বন্ত আর অলসভাবে থাকিতে পারিবেন না ভাবিয়া, তাঁহারা হরকিষণ দাসের নামে এক পত্র দিয়া তাঁহাকে পোর-বন্দরে পাঠাইয়া দিলেন।

    জয়বন্তের পিতামাতা জীবিত নাই, আত্মীয়স্বজন এতদিন তাঁহার ভরণপোষণ, শিক্ষার খরচ-পত্র চালাইয়াছিলেন, তাঁহার পিতার এক পয়সাও ছিল না, সুতরাং তাঁহারা তাঁহাকে বিদায় করিয়া দিয়া অনেকটা নিশ্চিন্ত হইলেন।

    জয়বন্ত ইহাতে বড় দুঃখিত হইলেন না। নানা দেশ দেখিবার ইচ্ছা তাঁহার বরাবরই ছিল, তিনি পোর-বন্দরে যাইবার প্রস্তাবে দুঃখিত না হইয়া বরং মনে মনে সন্তুষ্ট হইলেন।

    তাঁহার যাহা কিছু সম্বল ছিল, তাহা সমস্তই একটা বাক্সের মধ্যে পুরিয়া জাহাজে আসিয়া, পথে তিনি একটা সৎকার্য্য করিয়া যাত্রীদিগের নিকটে ধন্যবাদার্হ হইয়াছিলেন। চলন্ত জাহাজ হইতে বালিকা পড়িয়া গেলে, তিনিই কেবল সমুদ্রবক্ষে লম্ফ দিয়া পড়িয়া তাহার প্রাণরক্ষা করিয়াছিলেন। পাঠক তাহা অবগত আছেন।

    যাহা হউক, যথাসময়ে তিনি হরকিষণ দাসের বাড়ীতে উপস্থিত হইলেন। তখন অন্য কোন কাজ হাতে ছিল না। তুলসী বাঈর স্বামী লইয়া গিয়াছিল, হরকিষণ দাস তাঁহাকে তাহারই কাজে নিযুক্ত করিলেন।

    অষ্টম পরিচ্ছেদ – হিঙ্গন বাঈ

    দুই মাস কাটিয়া গিয়াছে।

    একদিন হরকিষণ দাস কন্যাকে ডাকিলেন, “হিঙ্গন, এদিকে এস।”

    “কি বাবা?” বলিয়া বায়ুপ্রবাহে একখণ্ড ক্ষুদ্র পুষ্পের মত ছুটিয়া আসিয়া হিঙ্গন বাঈ পিতৃসম্মুখে দাঁড়াইল।

    পিতা বলিলেন, “বসো আমার কাছে।”

    হিঙ্গন আসিয়া তাঁহার সম্মুখে বসিল। সে পিতার মুখের দিকে চাহিয়া বলিলেন, “বাবা, আমি জানি, তুমি আজ আমাকে বকিবে।”

    হরকিষণ দাস স্নেহ-কোমল হাস্যে হিঙ্গনের মুখের দিকে চাহিলেন; চাহিয়া বলিলেন, “বকিব, কিসে জানিলে?”

    “তোমার ঐ রকম মুখ দেখিলেই আমার বড় ভয় হয়।”

    “না, আমি বকিব না।”

    “আমি জানি, বাবা আমায় বকে না।”

    “তবে অন্য কথা আছে।”

    “কি কথা, বাবা?”

    “বিশেষ কথা।”

    “আমি কি করিয়াছি, বাবা?”

    “এখনও কিছু কর নাই; কিন্তু ভবিষ্যতে করিতে পার, তাহাতে তোমাকে চিরজীবনের মত দুঃখী হইতে হইবে।”

    “কি বাবা?”

    “জয়বন্ত এখানে প্রায় দুই মাস আসিয়াছে—সে ইহার মধ্যে তোমায় ভালবাসে, তাহা দেখিতে পাও। তাহাতে তাহার দোষ নাই, তোমায় যে দেখিবে, সে-ই ভালবাসিবে।”

    “বাবা!”

    “সে ভালবাসুক, তাহাতে কিছু আসে-যায় না, তুমি কি তাহাকে ভালবাস?”

    হিঙ্গনের মুখ লজ্জায় কর্ণমূল পৰ্য্যন্ত লাল হইয়া গেল। হিঙ্গন অবনত নেত্রে পিতার পদপ্রতি চাহিয়া বলিল, “তিনি লোক ভাল –”

    “বাহিরে দেখিতে ভাল লোক সন্দেহ নাই — লেখাপড়া জানে — বোম্বাই সহরে শেখা ― সে সব স্বীকার করি; কিন্তু কেবল উপরে চাকিচক্য থাকিলেই জিনিষ ভাল হয় না।”

    “বাবা, এখানে কথা কহিবার মত লোক কে আছে—তাই কথা কই?”

    “তা হতে পারে।”

    “তুমি আমাকে লেখাপড়া শিখাইয়াছ, এখানে যাহারা আছে, তাহারা কেবল চাষবাসই জানে, আর কিছুই জানে না।”

    “তা স্বীকার করি।”

    “ইনি শিক্ষিত—”

    (বাধা দিয়া) “সব স্বীকার করি, তবে ইহার সিকি পয়সাও নাই।”

    “নাই থাকুক।”

    “সংসারে টাকাই সব।”

    “তা হতে পারে, কিন্তু আমি তা মনে করি না।”

    “হাঁ, বুঝিয়াছি।”

    “কি বুঝিয়াছ, বাবা?”

    “না, কিছু নয়। তুমি জয়বন্তকে পছন্দ কর।”

    হিঙ্গনের মুখ আবার সেইরূপ লাল হইয়া উঠিল, সে নতনেত্রে ভূমি নিরীক্ষণ করিতে লাগিল। কোন উত্তর দিল না।

    হিঙ্গনকে অধোমুখে নীরব থাকিতে দেখিয়া হরকিষণ দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিলেন। তিনি কন্যাকে প্রাণ অপেক্ষাও ভালবাসিতেন। কোন বড়লোকের পুত্রের সহিত তাহার বিবাহ দিবার ইচ্ছা করিয়াছিলেন। হিঙ্গনের ভাব দেখিয়া তাঁহার সে ইচ্ছা হৃদয়ে মিলাইয়া গেল।

    হিঙ্গন বলিল, “বাবা, তুমিও ত তাঁহাকে খুব ভালবাস?”

    “হাঁ, কিন্তু এই দুই ভালবাসায় অনেক প্রভেদ আছে, বেটি।” হিঙ্গন কোন কথা কহিল না। লজ্জায় রক্তিম মুখখানি নত করিল।

    হরকিষণ দাস বলিলেন, “বোম্বাই হইতে আমার কোন পরিচিত লোক জয়বন্তকে আমার নিকটে পাঠাইয়া দিয়াছে। জয়বন্তের এক পয়সাও নাই, সেখানে বসে অলস হইয়া যাইতেছিল, তাহাই তাহারা তাহাকে আমার নিকটে কাজ-কৰ্ম্ম শিখিতে পাঠাইয়াছে—যদি সে এখানে কিছু রোজগার করিতে পারে।”

    “ভালই ত — তিনি এখানে পরিশ্রম করিতেছেন।”

    হরকিষণ দাস হতাশ হইলেন। তিনি বুঝিলেন যে, তিনি ভাল করিতে গিয়া মন্দ করিতেছেন। তিনি যতই জয়বন্তকে দরিদ্র-সন্তান প্রতিপন্ন করিতে চেষ্টা করিতেছেন, হিঙ্গন ততই তাঁহার দোষভাগটা গুণের দিকে টানিয়া লইয়া যাইতেছে।

    হরকিষণ অবশেষে স্পষ্ট বলিলেন, “হিঙ্গন, তুমি এখন কত সুখে আছ, তোমার কোন অভাব নাই? মনে কর, জয়বন্তের মত একজন গরীবের সঙ্গে তোমার বিবাহ হইলে তোমার কি ভয়ানক কষ্ট হইবে?

    “বাবা, গরীব যে চিরকালই সেই রকম গরীব থাকিবে, ইহার এমন মানে কি আছে?”

    “পরের কথা পরে আছে।”

    “তা হতে পারে, এখানে তিনি খুব পরিশ্রম করিতেছেন।”

    “তাও স্বীকার করি, কিন্তু এখান হইতে গিয়া সে মাসে কি রোজগার করিতে পারে — খুব বেশি পঞ্চাশ টাকা।”

    “এ বাবা, তোমার অন্যায় কথা। কোন্ মানুষের কখন কি হয়, কে বলিতে পারে?”

    “গোপালরাম ছুটি লইয়া গিয়াছে বলিয়াই তাহাকে তাহার কাজ দিতে পারিয়াছি, না হইলে ইহাকে লইয়া আমি কি করিতাম?”

    “তিনি ভালই কাজ করিয়াছেন।”

    “গোপালরাম ফিরিয়া আসিলে আমি কি করিব, জানি না। আমার মনে হয়, এ এখানে না আসিলেই ভাল ছিল।”

    হরকিষণ দাস আর কিছু বলিলেন না; কন্যাকে অন্য কাজে পাঠাইয়া দিলেন। তিনি মনে মনে বলিলেন, “গোপালরাম ফিরিয়া আসিলে বাঁচি, সে ফিরিয়া আসিলেই ইহাকে বিদায় করি। কি আপদে পড়িলাম।”

    হায় গোপালরাম! তাহার খণ্ড-বিখণ্ড দেহ পুলিস অনেকক্ষণ পোর-বন্দরে জ্বালাইয়া দিয়াছে।

    নবম পরিচ্ছেদ – রমণী না রাক্ষসী

    প্রায় তিন মাস গত হইল, তুলসী বাঈ স্বামীর কোন সন্ধান পাইল না। সে স্বামীকে অত্যন্ত ভালবাসিত, তাহার জন্য উন্মত্ত হইয়া উঠিল। অথচ সে তাহার মনের কথা কাহাকেই খুলিয়া বলিতে পারিতেছে না। তাহার হৃদয়ের যন্ত্রণা অসহনীয় হইয়া উঠিয়াছে; তথাপি মুখ ফুটিয়া কিছু বলিবার যো নাই।

    তাহার মনে ক্রমে ধারণা হইয়াছে যে, তাহার স্বামী আর জীবিত নাই, জীবিত থাকিলে সে যেখানেই থাকিবে, নিশ্চয়ই তাহাকে সংবাদ দিবে। ট কার জন্যই তাহার প্রাণ গিয়াছে। স্বামী লিখিয়াছিল যে, সে লাখ টাকা হস্তগত করিয়াছে। নিশ্চয়ই অন্য কেহ তাহা জানিতে পারিয়া, তাহাকে খুন করিয়া সে টাকা আত্মসাৎ করিয়াছে। সে কে? তাহার নাম ধরিয়া আর একজন লোক জাহাজে আসিতেছিল; কিন্তু তাহাকেও কে খুন করিয়া পলাইয়াছে।

    সে জানিত, যুবক জয়বন্ত সেই জাহাজে আসিয়াছিলেন, কিন্তু ভয়ে তাঁহাকে তাহার কোন কথা জিজ্ঞাসা করিতে সাহস হয় নাই। সে যতই এই সকল কথা ভাবিতে লাগিল, ততই তাহার মাথা খারাপ হইয়া যাইতে লাগিল। ক্রমে সে উন্মাদিনীর মত হইল।

    সে একদিন জয়বন্তের একখানি কাপড় দেখিয়াই প্রকৃত উন্মত্তা হইয়া গেল। সে কাপড়খানি দেখিয়া চমকিত হইয়া উঠিল, পুনঃ পুনঃ কাপড়খানি দেখিতে লাগিল, তাহার পর মনে মনে বলিল, “এ আমার স্বামীর কাপড়, এই আমার নিজের হাতের চিহ্ন দেওয়া রহিয়াছে। ও! এতদিনে বুঝিয়াছি, এই জয়বন্তই আমার স্বামীকে খুন করিয়াছে; নতুবা তাহার কাপড় এ জয়বন্তটা পাইবে কিরূপে?”

    এ বিশ্বাস তাহার হৃদয়ে দৃঢ় হইল। এত দৃঢ় হইল যে, তাহার মন হইতে আর সমস্ত কথাই একেবারে বিলুপ্ত হইয়া গেল। তখন সে মনে মনে জয়বন্তকে কিরূপে হত্যা করিবে; তাহাই দিবারাত্রি ভাবিতে লাগিল। রাত্রে তাহার ঘুম হইত না, সে সমস্ত রাত্রি মনে মনে এই বিষয় লইয়া তোলাপাড় করিত। শেষে সে একটা উপায় স্থির করিল। একদিন সে জয়বন্তকে নিৰ্জ্জনে ডাকিয়া বলিল, “তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে।”

    জয়বন্ত বলিলেন, “কি কথা?”

    তুলসী বলিল, “অত চেঁচিয়ে নয়—আস্তে।”

    স্বর-নীচু করিয়া জয়বন্ত একটু বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “কেন—কি হইয়াছে?”

    “হিঙ্গল তোমায় বলিয়াছে (নীরবে)—”

    (সাগ্রহে) “কি বলিয়াছে?”

    “পড়ো গোয়ালের পাশে কুয়াতলায় তোমায় ডাকিতেছে।”

    “পড়ো গোয়ালঘর! সেখানে সে কি করিতেছে?”

    “তা আমি জানি না বাপু, তোমার ইচ্ছা হয় যাও, না হয় না যাও।”

    “না, রাগ কর কেন? আমি এখনই যাইতেছে।”

    “এ কথা কাহাকে বলিতে সে বারণ করিয়াছে।”

    “কাহাকেও বলিব না ভয় নাই, “বলিয়া সত্বরপদে জয়বন্ত গোয়াল ঘরের দিকে চলিলেন।

    এই গোয়ালঘরে এখন গরু থাকিত না—এটা পড়িয়া ভগ্নপ্রায় হইয়াছে। বড় কেহ সেইদিকে যাইত না। সেখানে একটা পুরাতন কূপ আছে বটে; কিন্তু সেটাও ভাঙিয়া গিয়াছে, তাহাতে জল আছে কিনা, তাহারও বিশেষ সন্দেহ আছে।

    জয়বন্ত এ স্থান জানিতেন মাত্র, কিন্তু কখন এদিকে আসেন নাই। এখানে এই নির্জ্জন স্থানে হিঙ্গন আসিয়াছে, ভাবিয়া তিনি বিস্মিত হইলেন! তিনি জানিতেন, হিঙ্গন বাড়ী ছাড়িয়া কখন বেশী দূরে যাইত না।

    প্রেম সৰ্ব্বদাই অন্ধ। জয়বন্ত এ সম্বন্ধে অধিক কোন আলোচনা করিলেন না। হরকিষণ দাস পাছে জানিতে পারেন বলিয়া, তিনি এদিকে-ওদিকে কিয়ৎক্ষণ ঘুরিয়া দূরবর্তী সেই পড়ো গোয়ালঘরের দিকে চলিলেন। কোনদিকে কেহ নাই, চারিদিকে তিনি চাহিয়া দেখিলেন, কোন দিকে কাহাকে দেখিতে পাইলেন না। এদিকে কখনই কেহ আসিত না।

    গোয়ালঘরটি পড়িয়া প্রকাণ্ড আবর্জ্জনা-স্তূপের মত হইয়া আছে; একপার্শ্বে একটি কূপ আছে, কুপের চারিপাশবত্তী প্রাচীর ভাঙিয়া গিয়াছে। জয়বন্ত সেখানে কাহাকেও না দেখিয়া বিস্মিত হইলেন; ভাবিলেন, “তবে কি আমার দেরি হইয়াছে আমার দেরি হওয়ায় হিঙ্গন বাড়ী ফিরিয়া গিয়াছে? নতুবা তাহাকে অবশ্যই এখানে দেখিতে পাইতাম। তুলসী বাঈ কি মিথ্যাকথা বলিল? ইহাতে তাহার স্বার্থ কি?”

    তিনি কূপের পার্শ্বে দাঁড়াইয়া এইরূপ ভাবিতেছিলেন; সহসা গোয়ালঘরের ভগ্ন স্তূপের অপর পার্শ্ব হইতে কে তীরবেগে আসিয়া তাঁহাকে পশ্চাৎ হইতে প্রচণ্ডবেগে এক ধাক্কা মারিল। তিনি অন্যমনস্ক ছিলেন, আত্মরক্ষায় সমর্থ হইলেন না, একেবারে কূপের মধ্যে সশব্দে নিক্ষিপ্ত হইলেন।

    তাঁহার পরম সৌভাগ্য, সে সময় কূপের মধ্যে অৰ্দ্ধ কদমাক্ত জল ছিল; নতুবা তিনি হত না হইলেও হাত পা ভাঙিতেন। কাদা ও জলে পড়িয়া তিনি সেযাত্রা রক্ষা পাইলেন। কিন্তু এই ভয়াবহ ব্যাপারটায় তিনি কিয়ৎক্ষণের জন্য স্তম্ভিত হইয়া গেলেন; প্রায় সংজ্ঞাশূন্য হইলেন। ক্ষণপরে উপরে কাহার কন্ঠস্বরে তাঁহার চেতনা হইল।

    তিনি উপরের দিকে চাহিয়া দেখিলেন, তিনি অন্ততঃ তিরিশ-চল্লিশ হাত নীচে পড়িয়াছেন। তিনি যেখানে রহিয়াছেন, সে স্থানে ঘোর অন্ধকার—কিছুই দেখিবার উপায় নাই। তবে উপরে চাহিয়া দেখিলেন, সেখানে দিনশেষের ম্লান আলো দেখা যাইতেছে।

    আবার সেই কন্ঠস্বর, প্রথমে তিনি কে কি বলিতেছে, বুঝিতে পারিলেন না; পরে বুঝিলেন, কে ডাকিতেছে, “জয়বন্ত!”

    তিনি চীৎকার করিয়া বলিলেন, “কে তুমি? তুমি যেই হও, শীঘ্র একটা দড়ী ফেলিয়া দাও — আমার প্রাণরক্ষা কর, উপরে উঠিয়া সব—”

    তাঁহার কথা শেষ হইতে-না-হইতে কে উপরে একবার অট্টহাস্য করিয়া উঠিল। তৎপরে কঠিনকণ্ঠে বলিতে লাগিল, “জয়বন্ত, তুমি জাহাজে আমার স্বামীকে খুন করিয়াছিলেন, সেইজন্য আমি তোমার প্রাণ লইলাম। ঐখানে থাক ধীরে ধীরে মর, অনাহারে—না খাইয়া ধীরে ধীরে সুখের মরণ মর — থাক – থাক – থাক এইখানে চিরজীবনের মত।”

    জয়বন্ত তাহার স্বর আর শুনিতে পাইলেন না। বুঝিলেন, এ স্বর তুলসী বাঈ এর – রাক্ষসী তাঁহাকে মৃত্যুমুখে রাখিয়া প্রস্থান করিল।

    তিনি বুঝিলেন, এখান হইতে সহস্র চীৎকার করিলেও কেহ তাঁহার স্বর শুনিতে পাইবে না। বিশেষতঃ এদিকে কেহ আসে না। তাঁহার রক্ষা পাইবার আর কোন উপায় নাই। তিনি উপর হইতে চল্লিশ হাত নীচে কূপের ভিতরে রহিয়াছেন, কিরূপে উঠিবেন? উঠিবার কোন উপায় নাই। তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ হইতে স্বেদশ্রুতি হইতে লাগিল। এ বয়সে এ অবস্থায় কে মরিতে চাহে? তাঁহার বিবেচনাশক্তি লোপ পাইল। তিনি বহুক্ষণ সেই কদম ও জলের মধ্যে স্তম্ভিত হইয়া বসিয়া রহিলেন।

    জয়বন্ত আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় যেন একেবারে হতভম্ব হইয়া গেলেন, ভাবিয়া কিছুই ঠিক করিতে পারিলেন না; তথাপি ভাবিতে লাগিলেন, “তুলসী বাঈ বলিয়াছে, জাহাজে তাহার স্বামীকে আমি খুন করিয়াছি—কি ভয়ানক দোষারোপ! কিন্তু জাহাজে প্রকৃতই খুন হইয়াছে, তাহা হইলে জাহাজে তাহার স্বামীই খুন হইয়াছে, দেখিতেছি। কিন্তু কে তোমার স্বামী? দুইজন খুন হইয়াছে। যাহার গলা কাটা—বা যাহার খণ্ড-বিখণ্ড মৃতদেহ বাক্সের মধ্যে পাওয়া গিয়াছে? তাহা হইলে তুলসী বাঈর স্বামী গোপালরাম সম্বন্ধে কোন গুরুতর রহস্য আছে আচ্ছা থাক, যদি আমি এ যাত্রা বাঁচিতে পারি, তবে এসব বিষয় আলোচনা করিবার অনেক অবসর পাইব; কিন্তু বাঁচিবার আশা আর কই? দেখিতেছি, অনাহারে এইখানে মরিতে হইবে।”

    তাঁহার সর্ব্বাঙ্গ কাঁপিয়া উঠিল, তাঁহার চোখে বিশ্বের প্রলয়ান্ধকার ঘনাইয়া আসিতে লাগিল। হায় — এইরূপ অসহায় অবস্থায় অনাহারে তাঁহাকে মরিতে হইবে, সে মৃত্যু কি ভীষণ

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
    Next Article বাঙ্গালীর বীরত্ব – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }