Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৬ (ষষ্ঠ খণ্ড)

    পাঁচকড়ি দে এক পাতা গল্প504 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রতীজ্ঞা পালন – ১

    ১

    আজ কলিকাতার যা অবস্থা,ত্রিশ বৎসর পূর্বে সে অবস্থা ছিল না। তখন কলিকাতায় রাজপথের দুইপার্শ্বে দুর্গন্ধ, পঙ্কিল, গভীর নদমা ছিল; সেই নৰ্দ্দমায় কোটী কোটী মশক পালিত হইত। এখনকার মত তখন সকল রাস্তায় সমুজ্জ্বল গ্যাসালোক ছিল না, যে সময়ের কথা বলা হইতেছে, সে সময়ে গ্যাস কেবল কলিকাতায় নতুন আসিয়াছে; অধিকাংশ রাস্তায় কেরোসিন তেলের আলোক, তাহাতে পথিকের বড় সুবিধা হইত না।

    এখন যেখানে প্রকান্ড অট্টালিকামালা শোভা পাইতেছে, তখন সেখানটা হয় উদ্যান, কি একটি জঙ্গল অধিকার করিয়াছিল। হাতীবাগান,জোড়াবাগান, বাদুড়বাগান,সিংহের বাগান,বিবির বাগান সত্য সত্যিই ছিল। সেই সময়ে একদিন আষাড় মাসের গভীর রাত্রে হাতীবাগানের পথিমধ্যে দুইজন পাহারাওয়ালা কথোপকথন করিতেছিল। রাত্রি নিস্তব্ধ, তাহাতে একটু পূৰ্ব্বেই খুব এক পশলা বৃষ্টি হইয়া গিয়াছে। পথিমধ্যে স্থানে স্থানে জল জমিয়াছে—পার্শ্বস্থ নৰ্দ্দমা দিয়া কল কল রবে জলস্রোত ছুটিয়াছে। এত অন্ধকার যে, কোন দিকে কিছুই দেখা যায় না। কেরোসিনের আলোগুলির অধিকাংশই প্রবল ঝটিকাবেগে নিভিয়া গিয়াছে। কেবল দূরে দূরে দুই একটি অলোস্তিমিত ভাবে জ্বলিতেছিল—তাহাতে আলো না হইয়া চারিদিকে অন্ধকার আরও ঘনীভূত হইয়াছে। তবে মধ্যে মধ্যে বিদ্যুৎ চমকিত হইতেছে—তাহাতেই পথ কিঞ্চিৎ দেখা যাইতেছে—সেই চকিত বিদ্যুতের আলোকে রাস্তার জল চক মক্ করিয়া উঠিতেছে। পথে জনমানব নাই—কুকুর শৃগাল পর্যন্ত এই দুৰ্য্যোগে যে যেখানে পাইয়াছে, আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছে; এ দুর্যোগে এত রাত্রে কে এ সময় বাহির হইবে? কেবল দুইজন পাহারাওয়ালা একটি আলোকস্তম্ভের নিকট দাঁড়াইয়াছিল।

    ইহারা দুইজনে দুইদিক হইতে পাহারা দিতে দিতে আসিয়া এই স্থানে মিলিত হইয়াছিল। একাকী নির্জন পথে ঘোর অন্ধকারে, বিশেঃষত এই দুর্যোগে ঘুরিয়া বেড়াইতে ক্লেশানুভব করিয়াই ইহারাই পরস্পর সম্মুখীন হইয়া দাঁড়াইয়া কথোপকথন করিতেছিল।

    উভয়েরই মস্তকে বৃহৎ তালপাতার ছাতা ছিল, হাতে পুলিশের লন্ঠন ছিল—তখনও টিপ টিপ করিয়া বৃষ্টি পড়িতেছিল, সুতরাং ছাতা মাথায় দিয়া উভয়ে দাঁড়াইয়াছিল। কিন্তু এত প্রবলবেগে বায়ু বহিতে ছিল যে, তাহারা অতি সবলে ছাতি ধরিয়াছিল,তবুও ছাতি হাত হইতে মধ্যে মধ্যে উল্টাইয়া যাইতেছিল। একজন বলিল, “দেশে অন্নের সংস্থান থাকিলে, কে এ চাকরী করিতে আসে? এমন দুর্যোগে—এমন রাত্রি ভাই আর কখনও দেখিয়াছ?”

    অপরে বলিল, “অন্নের সংস্থান থাকিলে স্ত্রী-পরিবার ছাড়িয়া কে এই শহরে বিঘোরে মরিতে আসে—পেটের দায়ে সব করিতে হয়।”

    এই ত প্রায় একটা বাজে—একটা কাক পক্ষী দেখিলাম না—মানুষের কথা ত দুরে থাক।” এই দুর্যোগে—এই রাত্রে কাহার মরণ হইয়াছে যে,বাহির হইবে। আমরা আছি পেটের দায়ে।”

    এই সময় অপরে তাহার হাত টিপিল। কিছু একটা হইয়াছে ভাবিয়া সে কথাবন্ধ করিল। তখন উভয়ে উৎকর্ণ হইয়া শুনিতে লাগিল। তাহারা উভয়েই সুস্পষ্ট কাহার পদশব্দ শুনিতে পাইল। তাহারা বুঝিল, এক ব্যক্তি দ্রুতপদে সেইদিকে আসিতেছে। এত রাত্রে, এই দুর্যোগে কে আসে দেখিবার জন্য তাহারা কৌতূহলাক্ৰান্ত হইল; যেদিক হইতে পদশব্দ আসিতেছিল, সেই দিকে উভয়ে নিজ নিজ লন্ঠনের আলো নিক্ষেপ করিল।

    ক্রমে পদশব্দ নিকটবর্ত্তী হইল। ক্রমে পদশব্দকারী তাহাদের প্রায় সম্মুখীন হইল। সেই সময়ে তাহারা দেখিল, একটি ভদ্রলোক সত্বরপদে চলিয়াছেন, তাঁহার মাথায় ছাতা,গায়ে রেশমী চাদর, বেশ পরিপরটি —দেখিলেই ভদ্রলোক বলিয়া বুঝিতে পারা যায়। বৃষ্টির ঝাপটা হইতে কোন রকমে মাথাটা বাঁচাইবার জন্য তিনি ছাতা এত নীচু করিয়া চলিতেছেন যে, পাহারাওলাদ্বয় তাহার মুখ দেখিতে পাইল না। তাহার চলনে, পরিচ্ছদে, ভাবে কোন সন্দেহের কারণ নাই দেখিয়া পাহারাওলাদ্বয় তাঁহাকে কিছু বলিল না—তাঁহাকে চলিয়া যাইতে দিল। অনর্থক ভদ্রলোককে কি বলিয়া ধরিবে?

    একজন বলিল, “বাবু আমোদ করিতেছিলেন—এখানেই কাছে কোনখানে বোধহয়, বাবুর বিবি সাহেবের আস্তানা।”

    অপরে প্রতিবন্ধক দিয়া বলিল, “চুপ, আর একজন কে আসিতেছে।” যথার্থই সেই নির্জন রাত্রে আর এক ব্যক্তির পদশব্দ তাহারা শুনিতে পাইল।

    যে ভদ্রলোকটি পূর্ব্বে আসিয়াছিলেন, তিনি সত্বরপদে দৃষ্টির বহির্ভূত হইয়া গেলেন; তৎপরেই অন্য ব্যক্তি পাহারাওলাদিগের নিকটবর্ত্তী হইল। তাহারা দেখিল, তাহার বেশ সাধারণ মুটে-মুজুরের ন্যায়। গায়ে কোন বস্ত্ৰ নাই—পায়ে জুতাও নাই। সে একটা বড় টিনের বাক্স মাথায় করিয়া চলিয়াছে। বাক্সটি যে খুব ভারী, তাহা তাহার ভাব দেখিলেই বুঝিতে পারা যায়।

    এত রাত্রে এই ভদ্রলোককে এইরূপ একটা প্রকান্ড বাক্স একাকী লইয়া যাইতে দেখিয়া,পাহারাওলাদ্বয়ের সন্দেহ হইল। একজন অপরকে বলিল, “এ বেটা দেখিতেছি,বাক্সটা কাহারও বাড়ী হইতে না বলিয়া সংগ্রহ করিয়াছে। ভাবিয়াছে, এত রাত্রে—এই দুর্যোগে আমরা নাক ডাকাইয়া ঘুমাইতেছি।”

    অপরে বলিল, “দেখা যাক, কি বলে।”

    উভয়ে রাস্তার মধ্যেস্থলে গিয়া সেই লোকটার সম্মুখে দাঁড়াইল। একজন তাহার মুখের উপর লন্ঠেনের আলো ফেলিয়া বলিল, “কি হে বাপু, তোমার বাক্সটি কোথায় লইয়া যাইতেছ?”

    লোকটি দাঁড়াইল। বিস্মিতভাবে পাহারাওলাদ্বয়ের দিকে চাহিল; কিন্তু কোন কথা কহিল না।

    একজন পাহারাওলা তাহাকে ধাক্কা দিয়া বলিল, “বাপু, তোমার এ বাক্সে কি আছে?”

    অপর পাহারাওলা বলিল, “কাপড়—গিন্নির পোষাক—তাহা হইলে বাপু তোমার গিন্নির পোষাকগুলি লোহার তৈরী। এ বাক্সটা যদি দেড় মন ভারী না হয়,তাহা হইলে আমার নাম সদানন্দ পাঁড়ে নয়।”

    মুটেটা ইহাতেও কোন কথা কহিল না; উভয়ের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করিয়া চাহিয়া রহিল।

    যে ব্যক্তি অগ্রে গিয়াছিল, সে নিশ্চয়ই পাহারাওলাদিগের কথাবার্তা শুনিতে পাইয়াছিল। যাহাই হোউক, তাহাকে আর দেখেতে পাওয়া গেল না। পাহারাওলা দুইটিও এই ব্যক্তিকে লইয়া মহা ব্যস্ত হইয়া পড়িয়াছিল। তখন তাহাদের তাহার বিষয় ভাবিবার সময় ছিল না।

    মুটে কোন কথা কহে না দেখিয়া পাহারাওলা বলিল, “বটে, বদজাতি—কথা কহিবে না? আচ্ছা থাক—থানায় গেলে তুমি না কথা কও, তোমার বাবা কথা কহিবে।”

    এই বলিয়া তাহারা দুইজনে তাহার দুই হাত ধরিয়া,তাহাকে টানিয়া থানার দিকে লইয়া চলিল। মুটে তখনও কোন কথা কহিল না, নীরবে তাহাদের সঙ্গে চলিল।

    এই সময়ে একটু দূরে একখানা গাড়ীর শব্দ হইল। বোধ হইল, যেন একখানা গাড়ী প্রবলবেগে অপরদিকে চলিয়া গেল। থানা বহুদূরে নহে। থানায় আসিয়া পাহারাওলাদ্বয় তাহাদের আসামীকে একটা ঘরের ভিতর লইয়া আসিল; তথায় একজন স্থূলকায় ব্যক্তি অৰ্দ্ধশায়িত ছিলেন। তিনি উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, “কি ব্যাপার, সঙ্গে এ আবার কে রে?”

    একজন পাহারাওলা বলিল, “এই লোকটা হাতীবাগানের রাস্তায় এই রাত্রে এই বাক্সটা লইয়া যাইতেছিল; নিশ্চয়ই কোনখান থেকে বাক্সটা চুরি করিয়াছে।”

    স্থূলকায় ব্যক্তি সেই থানার দারোগা। দারোগা বলিলেন, “ও কি বলে?”

    “কিছুই বলে না—জিজ্ঞেস করিলেও কথা কহে না।

    “বটে, দেখি কথা কহে কি না?”

    এই বলিয়া দারোগা সাহেব উঠিয়া দাঁড়াইলেন। রোষষায়িত লোচনে বলিলেন, “বাপু হে, এটা শশুর বাড়ী নয়, এখানে চালাকী চলিবে না। বল দেখি বাপু, বাক্সটা কোথায় পাইয়াছ?”

    লোকটা কোন কথা না কহিয়া কেবল কপালে দুই হাত দিল। ইতিপূৰ্ব্বে সেই বাক্সটা পাহারাওয়ালাদ্বয় ধরাধরি করিয়া তাহার মস্তক হইতে গৃহতলে নামাইয়া রাখিয়াছিল।

    দারোগা বলিলেন, “বাপু, তুমি বলিতে চাও—তুমি কালা ও হাবা। বিশ বৎসর পুলিশে আছি— অনেক দেখিয়াছি, অনেক শুনিয়াছি। যাও বেটাকে গারদে রাখ; কাল সকলে দেখা যাইবে।”

    মুটে ইহাতেও কোন কথা কহিল না। পাহারাওয়ালাদ্বয় বিরক্ত হইয়া সবলে তাহাকে ধাক্কা মারিতে মারিতে গারদ ঘরে লইয়া চলিল।

    তখন দারোগা, আর যাহারা গৃহমধ্যে ছিল, তাহাদের বলিলেন, “বাক্সটা খুলিয়া ফেল দেখি—শালা কি চুরি করিয়াছে দেখা যাক্।”

    বাটালী ও হাতুড়ী দিয়া শীঘ্রই বাক্সটা খুলিয়া ফেলা হইল

    তৎপরে স্বয়ং দারোগা সাহেব ডালাটা তুলিয়া ধরিলেন। এবং প্রজ্জ্বলিত বাতিটা সম্মুখে লইয়া বাক্সের ভিতরটা দেখিলেন। দেখিয়াই ভয় ও বিস্ময়ে কেমন একরকম হইয়া বলিয়া উঠিলেন, “কি ভয়ানক!” বাক্সের ভিতরে একটি বিলসিতযৌবনা নবীনার মৃতদেহ!

    ২

    দারোগা সাহেব নিজের মুখেই প্রকাশ যে, তিনি বিশ বৎসর পুলিসে চাকরী করিতেছেন; সুতরাং এমন ভয়ানক দৃশ্য তিনি অনেকবারই দেখিয়াছেন; তবুও তাঁহার মুখ পাংশুবর্ণ হইয়া গেল। বাক্সের ভিতর কি আছে দেখিবার জন্য সকলে ব্যগ্রভাবে বাক্সের নিকট আসিল।

    দারোগা বলিলেন, “আমি আগে ভাবিয়াছিলাম, বেটা চোর—তাহা নয়, খুনী।”

    কেহই মৃতদেহ স্পর্শ করিতে সাহস করিল না, হাঁ করিয়া বিস্মিতভাবে মৃতদেহের দিকে চাহিয়া রহিল। মৃতদেহটি একটি পরমরুপবতী যুবতীর। বয়স অষ্টাদশ বৎসরের অধিক হইবে না। একখানি সুন্দর ফিরোজা রঙের রেশমী কাপড়ে তাহার ক্ষীণ কটিদেশ বেষ্টিত। হাতে দুগাছা সোনার বালা,গলায় একছড়া নেকলেস। যুবতী অৰ্দ্ধনিমীলিতনয়নে চাহিয়া আছে—যেন সে সেই বাক্সের চতুপার্শ্বস্থ লোকদিগকে দেখিতেছে। মুখখানি এত সুন্দর,তখনও যেন তাহার নধর অধরে মৃদুমন্দ হাসিটি ফুটিয়া রহিয়াছে।

    একজন বলিল,”কে বলিবে মারিয়াছে—যেন ঘুমাইতেছে।”

    আর একজন বলিল, “হাঁ, চিরজীবনের মত।”

    এমন কোমলাঙ্গী পরমরুপলাবণ্যসম্পন্না স্ত্রীলোককে কে নৃশংস খুন করিল, ভাবিয়া সেই পুলিস- প্রহরিগণও হৃদয়ে অত্যন্ত বেদনা অনুভব করিল।

    দারোগা ধীরে ধীরে বলিলেন, “ছোরাখানা এখনও বুকে রহিয়াছে।” যথার্থই সুন্দরীর পরিহিত রেশমী বস্ত্রাভ্যন্তরে বুকের উপর একখানি ছোরার বাঁট দেখা যাইতেছে—ছোরার বাঁটটি হস্তিদন্তনিম্মিত। ছোরাখানিও ছোট, ঠিক বুকের মাঝখানে বিদ্ধ হইয়াছে—তাহাই রমনীর মৃত্যু মুহূর্তের মধ্যে হইয়াছে। বোধ হয়, সে কষ্ট অনুভব করিবার সময়ও পায় নাই—এখনও মুখখানিতে হাসিটা লাগিয়া রহিয়াছে।

    ছোরাখানি এখনও বিদ্ধ থাকায় শরীরস্থ রক্তও অধিক নিঃসৃত হইতে পারে নাই—বস্ত্রে নাম মাত্র রক্ত লাগিয়াছে।

    দারোগা সাহেব গম্ভীরভাবে বলিলেন, “এখন বুঝেতেছি, বেটা কেন কোন কথা কহে নাই; কাল কথা হইবে। মৃতদেহ দেখিলে কি বলে দেখা যাক—দেরী করা কর্ত্তব্য নয়।”

    এই সময়ে একজনকে মৃতদেহ স্পর্শ করিতে উদ্যত দেখিয়া, দারোগা বলিয়া উঠিলেন, “উঁ— হুঁ—না—হাত দিয়ো না হে—গুরুতর ব্যাপার। ইনস্পেক্টর সাহেবকে না বলিয়া আমি কিছুই করিতে পারি না—বাক্স যেমন আছে, তেমনই থাক—কেহ হাত দিয়ো না। আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, খুনীকে আমরা লাশশুদ্ধ ধরিতে পারিয়াছি।”

    ইনস্পেক্টর সাহেবকে সংবাদ পাঠাইয়া দারোগা বলিলেন, “আমাদের পরম সৌভাগ্য যে,আজ গারদ ঘরে আর কেহ নাই; না হইলে কে জানিত যে,লোকটা কাহাকে দিয়া কাল বাহিরে সংবাদ পাঠাইত। তবুও একজন যাও,দেখিয়া আইস,সে কি করিতেছে—পাহারায় যে আছে, তাহাকেও ইহার উপর বিশেষ নজর রাখিতে বলিবে।”

    কিয়ৎক্ষণ পরে সেই লোক ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “দারোগা সাহেব, লোকটা কি করিতেছে, আপনি মনে করেন?”

    “কেন কি হইয়াছে?”

    “নাক ডাকাইয়া ঘুমাইতেছে?”

    “সব বদমাইসী।”

    “ড়, থশডশ নয়—যথার্থই ঘুমাইতেছে। আমি ধাক্কা মারিয়া দেখিয়াছি।”

    “তাই ত–হয় ত—না—নিশ্চয়ই অনেক দূর হইতে বাক্সটা আনিয়াছে, তাই ঘুমাইয়া পড়িয়াছে।”

    “এ রকম প্রায় দেখা যায় না—খুন করিয়া থানায় আসিয়া এ রকম ঘুম—”

    “যা হোক, তুমি মধ্যে মধ্যে গারদে গিয়া দেখিবে, এ কি করে।”

    হুকুম মত দশ মিনিট অন্তর এক-একজন গিয়া তাহাকে দেখিতে লাগিল;কিন্তু দেখিল,সে যথার্থই নিশ্চিন্তমনে নিদ্রা যাইতেছে।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ইনস্পেক্টর সাহেব আসিলেন। দারোগার নিকটে সকল শুনিয়া বলিলেন, “যেমন বাক্সটা আছে,তেমনই থাক—এ সব গুরুতর বিষয়। ডিপুটি কমিসনার সাহেবাকে এখনই সংবাদ দিতেছি।” অতি প্রত্যুষেই কমিসনার সাহেব সরকারী ডাক্তারকে সঙ্গে লইয়া থানায় উপস্থিত হইলেন। তিনি সমস্ত শুনিয়া বলিলেন,”লোকটা লাস দেখিয়াছে?”

    ইনস্পেক্টর বলিলেন, “না, আপনার অপেক্ষায় কিছুই করি নাই।”

    “ভালই করিয়াছেন। এ সব গুরুতর বিষয়ে বিশেষ সাবধনতা আবশ্যক। দেখি,বাক্সটা।”

    দুইজন বাক্সটা টানিয়া আনিয়া সাহেবের সম্মুখে রাখিল। তিনি বলিলেন, “এখান হইতে কথা কহিলে আসামী গারদে কিছু শুনিতে পাইবে বলিয়া, বোধ হয়?”

    “না, কিছুই শুনিতে পাইবে না।”

    ভাল, তাহার কালা হইবার বিষয় আমি বিশ্বাস করি না।” বলিয়া তিনি টিনের বাক্সটি বিশেষরূপে পরীক্ষা করিয়া দেখিতে লাগিলেন।

    বাক্সটি বিশেষরূপে পরীক্ষা করিয়া সাহেব বলিলেন, “এ বাক্সটা কেবল সুন্দর তাহা নহে—ইহা মূল্যবান, অনেক টাকা দাম, বিলাতী। পরে দেখা যাইবে, কাহারা এরূপ বাক্স বিক্রয় করে।” তৎপরে ডাক্তারের দিকে ফিরিয়া বলিলেন, “এবার মৃতদেহটা আপনি দেখুন—এখন বিশেষ কিছু দেখিবার আবশ্যক নাই—ব্যবচ্ছেদের সময় ভাল করিয়া দেখিবেন। আমি ইহা যেমন আছে, বাক্সশুদ্ধ পাঠাইয়া দিতেছি।”

    ডাক্তার মৃতদেহ দেখিয়া বলিলেন, “বেশ বুঝিতে পারা যাইতেছে, কেহ ইহাকে হঠাৎ ছোরা মারিয়াছিল; এত জোরে মারিয়াছিল যে, প্রায় বাঁট পর্যন্ত বসিয়া গিয়াছে। এ কি! ছোরা একখানা তাস ভেদ করিয়া গিয়েছে যে! তাসখানা ইহার বুকে এখনও সংলগ্ন রহিয়াছে, সেইজন্য বেশি রক্ত পড়ে নাই।”

    সাহেব বলিলেন, “কি তাস?”

    সাহেব বলিলেন, “ইস্কাবনের টেক্কা।”

    ৩

    এই অত্যাশ্চৰ্য্য কথা শুনিয়া সকলে বিস্মিত হইয়া বাক্সের নিকটস্থ ও কৌতূহলাক্রান্ত হইয়া মৃতদেহের দিকে চাহিতে লাগিল।

    খুনী খুন করিবার সময় প্রায়ই কোন নিদর্শন রাখিয়া যায় না। ইহা সত্য হইলেও প্রকৃতই মৃতদেহের বুকে একখানি ইস্কাবনের টেক্কা রহিয়াছে। ছোরা সেই তাসখানা ভেদ করিয়া রমণীর বুকে আমূল বিদ্ধ হইয়াছে।

    তাসখানি পুরু, চক্‌চকে—পশ্চাদ্ভাগ ও চতুষ্প্রান্ত সবর্ণরঞ্জিত; দেখিলেই বুঝিতে পারা যায় যে, ইহা দামী তাসের একখানা— সাধারণতঃ বড় লোক ব্যতীত কেহ এরূপ তাস ব্যবহার করে না।

    সকলেই বিস্মিত হইয়া ভাবিলেন, “এ তাসের অর্থ কি?”

    ডিপুটি-কমিসনার সাহেব তাসখানি দেখিয়া বলিলেন, “যথার্থই একখানা তাস রহিয়াছে বটে। দিন দিন কত দেখিতে হয়—একদিন আগে এ কথা কেহ আমাকে বলিলে, আমি হাসিয়া উড়াইয়া দিতাম। ডাক্তারবাবু, আপনি এ সম্বন্ধে কি মনে করেন?”

    ডাক্তার বলিলেন, “ডাক্তারী হিসেবে বলিতে হয় যে, স্ত্রীলোকটি নিদ্ৰীত অবস্থায় খুন হইয়াছে। এ নিশ্চয়ই ঘুমাইয়াছিল, সেই সময়ে খুনী ইহার বুকে তাসখানি রাখিয়া তাহার উপর ছোরা মারিয়াছিল।”

    সাহেব বলিলেন, “ইহাও হইতে পারে যে, খুনী প্রথমে ছোরা তাসখানা বিদ্ধ করিয়া লইয়াছিল, রক্ত চারিদিকে ফিনকি দিয়া না পড়ে তাহার জন্যই হয় ত এরূপ করিয়াছিল।”

    “হাঁ, ইহাও সম্ভব।”

    “সম্ভবের আলাচনা ক্রমে করা যাইবে। এটা সাধারণ খুন নহে,সুতরাং বিশেষ সতর্কতার সহিত ইহার সন্ধান করিতে হইবে; এই তাসকে প্রথমে সূত্র হিসাবে ধরিয়া অনেক সন্ধান পাওয়া যাইতে পারে।”

    “হয় ত ভুলপথ ধরাইবার জন্য খুনী ইচ্ছা করিয়া ইহার বুকে তাসখানি রাখিয়াছিল।”

    “ইহাও হইতে পারে। যাহা হউক, আমি প্রথমে সেই মুটেটাকে জিজ্ঞাসা করিব; আমার বিশ্বাস, সে মুটেই হইবে। যাও, সেই লোকটাকে এইখানে লইয়া আইস।” তাহার পর তিনি ডাক্তারের দিকে ফিরিয়া বলিলেন, “একটু পরেই মৃতদেহ পরীক্ষার জন্য পাঠাইব।”

    ডাক্তার বলিলেন, “পরীক্ষার নতুন কিছু যে প্রকাশ পাইবে বলিয়া বোধ হয় না; এখন আপনার অনুসন্ধানের উপরই সকল নির্ভর করিতেছে।”

    কিয়ৎক্ষণ পরে সেই লাস-বাহককে সাহেবের সম্মুখে উপস্থিত করা হইল। সে গাঢ় নিদ্রায় নিমগ্ন হইয়াছিল যে, তাহাকে জাগ্রত করা সহজ হয় নাই। সে চক্ষু মুছিতে মুছিতে আসিয়া সাহেবের সম্মুখে দাঁড়াইল। সাহেব প্রথমে তাহার আপদমস্তক তীক্ষ্ণদৃষ্টিপাতে বিশেষরূপে লক্ষ্য করিতে লাগিলেন। কিন্তু সে অবিচলিত ভাবে দাঁড়াইয়া রহিল—কেবল মুখে ঈষৎ বিরক্ততা প্রকাশ করিল।

    তাহাকে বিশেষরূপে লক্ষ্য করিয়া সাহেব বলিলেন, “এ লোকটা খুন করে নাই—ইহার হাত মুটের মত, মাথায় যে সৰ্ব্বদা মোট বহে, তাহাও স্পষ্ট দেখা যাইতেছে। সে যে এরূপ সুন্দরী স্ত্রীলোককে খুন করিবে, তাহা সম্ভবপর নহে। বিশেষতঃ এই তাস—ইহার মাথায় এ সকল ফন্দী আসিতে পারে না। তবে এটা স্থির, যে খুন করিয়াছে, তাহাকে এ জানে, নিশ্চয়ই তাহাকে ধরাইয়া দিবে।”

    তিনি আবার কিয়ৎক্ষণ তাহার দিকে চাহিয়া থাকিয়া বলিলেন, “এই বাক্সের ভিতর কি আছে, তুমি জান?”

    তিনি ভাবিয়াছিলেন, হঠাৎ তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলে সেও একটা কিছু বলিয়া ফেলিবে; কিন্তু সে কোন কথা কহিল না, তাঁহার মুখের দিকে কেবল চাহিয়া রহিল।

    সাহেব বিরক্ত হইয়া বলিলেন, “তোমার মলব চুপ করিয়া থাকা। হাঁ, মলব বড় মন্দ নহে—তবে তোমাকে এ চালাকী ছাড়িতে হইবে। দিন কত জেলে থাকিলে তোমার দিব্য জ্ঞানলাভ হইবে। সত্যকথা খুলিয়া বলাই তোমার পক্ষে এখন সৎপরামর্শ। আমার বিশ্বাস, তুমি নির্দোষী—কেবল ঘটনাচক্রে এই বিপদে পড়িয়াছ। কে তোমাকে এই বাক্সটা লইয়া যাইতে দিয়াছিল, বলিলেই আমি তোমাকে এখনই ছাড়িয়া দিব।”

    লোকটা কোন উত্তর দিল না। বিষণ্ণভাবে নিজের মুখে ও কান হাত দিল। সাহেব বলিলেন, “তুমি বলিতে চাও,তুমি হাবা আর কালা। আচ্ছা দেখা যাক।”

    তখন তিনি হাত মুখ নাড়িয়া বাক্স দেখাইয়া নানারূপ সঙ্কেতে তাহাকে বুঝাইতে চেষ্টা পাইলেন; কিন্তু তাহাতেও সে কোন ভাব প্রকাশ করিল না।

    সাহেব বলিলেন, “তুমি যতদুর হাবা ও কালা, তাহা বুঝিয়াছি।” এই বলিয়া তিনি নিন্মলিখিত দুইটা লাইন অপরের দ্বারা বাঙ্গালায় লিখাইয়া তাহার সম্মুখে ধরিলেন;-

    “তুমি কথা না কহিলে নিজেকে দোষী স্বীকার করিতেছ—ইহাতে তোমার ফাঁসী অবধারিত হইবে।”

    মুটে কাগজের দিকে চাহিল,তৎপরে আবার বিষণ্নভাবে ঘাড় নাড়িল। সাহেব হতাশ হইলেন। একব্যক্তিকে ডাকিয়া কানে কানে কি বলিলেন। তৎপরে মুটের দিকে চাহিয়া বলিলেন, “না, এ লোকটা নির্দোষী — ইহাকে ছাড়িয়া দাও।”

    দুইজন কনেস্টবল ইহার দুই পার্শ্বে দাঁড়াইয়াছিল, তাহারা ইঙ্গিত পাইবামাত্র সরিয়া দাঁড়াইল। কিন্তু মুটে তথাপি নড়িল না।

    সাহেব বলিলেন, “তোমায় ছাড়িয়া দিলাম, তুমি এখন যাইতে পার।”

    তবুও সে নড়িল না।

    তখন সাহেব দূরস্থ এক ব্যক্তিকে কি ইঙ্গিত করিলেন। সে তৎক্ষণাৎ মুটের পশ্চাতে গিয়া পিস্তলে একটা ফাঁকা আওয়াজ করিল।

    এরূপ নিকটে সহসা বন্দুকের শব্দ হইলে এমন লোক কেহ নাই যে, চমকাইয়া না উঠে; কিন্তু সে লোকটা ইহাতেও চমকিত হইল না, কেবল বারুদের ধুম নাসিকায় প্রবেশ করায়, কোথা হইতে ধূম আসিল দেখিবার জন্য সে একবার মুখ সেইদিকে ফিরাইল।

    সাহেব বলিলেন, “এ যথার্থই হাবা ও কালা। দেখিতেছি, লোকটা অনেক ভোগাইবে।” তৎপরে তিনি হুকুম দিলেন, “ইহাকে সাবধানে গারদে রাখ। মৃতদেহটা পরীক্ষার জন্য পাঠাইয়া দাও। এ লোকটাকে ডিটেকটিভদের হাতে দিতে হইবে। তবে একবার আমি গোবিন্দরামের সহিত পরামর্শ করিব। যদি কেহ এ রহস্যভেদ করিতে পারেন ত তিনিই পারিবেন। তাঁহার উপর আমার খুব বিশ্বাস আছে।”

    ৪

    গোবিন্দরামের এখন বয়স হইয়াছে। তিনি এখন বৃদ্ধ। ডিটেকটিভ কার্য্যে বেশ দুই পয়সা উপার্জন করিয়া এখন মানিকতলার নিকটে একটি সুন্দর বাগান-বাটিতে নির্জনে বাস করেন। আর ডিটেকটিভদের কাজ করেন না; লোকজনের সঙ্গে মিশামিশি—দেখা-সাক্ষাৎ পর্যন্ত ছাড়িয়া দিয়াছেন।

    তাঁহার স্ত্রী বহুকাল স্বর্গারোহণ করিয়াছেন। তাঁহার কেবলমাত্র এক পুত্র ছিল; এইটাই তাহার সংসারের একমাত্র বন্ধন। পুত্র উকিল হইয়াছেন, দেখিতে সুপুরুষ, অল্প বয়স—আটাশ বৎসরের বেশি হইবে না; এখনও বিবাহ করেন নাই বটে, কিন্তু বিবাহ স্থির হইয়া গিয়াছে—দুই মাস পরে শুভদিনে শুভলগ্নে তাঁহার বিবাহ হইবে। গোবিন্দরামের পুত্রের নাম সুরেন্দ্রনাথ।

    তাঁহার ওকালতীর সুবিধা হইবে বলিয়া গোবিন্দরাম পুত্রকে নিজের কাছে রাখেন নাই। এখনও পুত্রের সমস্ত ব্যয়ভার তিনি নিজে বহন করিতেছেন। সুরেন্দ্রনাথ বহুবাজারে একটি ক্ষুদ্র বাটি সুসজ্জিত করিয়া তথায় বাস করিতেছেন। দিন দিন তাঁহার পসারও বৃদ্ধি পাইতেছে।

    প্রত্যহই তিনি অন্ততঃ একবার পিতার সহিত দেখা করিতেন। রবিবার রাত্রে পিতার সহিত একত্রে আহার করিতেন।

    যেদিন রাত্রে বাক্সের মধ্যে মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল, সেইদিন সুরেন্দ্রনাথ পিতার সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিয়াছিলেন।

    আজ তাহাকে বিমর্ষ ও মুখ বিশুষ্ক দেখিয়া গোবিন্দরাম জিজ্ঞাসা করিলেন, “সুরেন, আজ তোমার মুখ এমন শুক্‌ন কেন?”

    এ প্রশ্নে সুরেন্দ্রনাথ যেন একটু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইলেন। বলিলেন, “কই না, কিছু হয় নাই—তবে একটু সদি লাগিয়াছে।”

    “তাহা হইলে আজ এখানেই থাক—ডাক্তার বাবুকে ডাকাইয়া পাঠাই। একটা ফ্ল্যানেলের জামা গায়ে দাও।”

    “না বাবা, আমায় সামান্য সর্দি লাগিয়াছে মাত্ৰ।“

    এই সময়ে ভৃত্য আসিয়া গোবিন্দরামের হাতে এক টুকরা কাগজ দিল। তিনি সেটা দেখিয়া দাঁড়াইয়া উঠিলেন। উঠিয়া পুত্রকে বলিলেন, “একটি ভদ্রলোক দেখা করিতে আসিয়াছেন; তুমি এইখানে খবরের কাগজ পড়, আমি এখনই আসিতেছি।”

    এই বলিয়া গোবিন্দরাম অন্য গৃহে প্রস্থান করিলেন।

    পুলিশ-সাহেব স্বয়ং তাঁহার নিকট আসিয়াছেন, বহুদিন পুলিশের সহিত তাঁহার কোন সম্বন্ধ ছিল না; সাহেবকে সমাদরে বসাইয়া গোবিন্দরাম বলিলেন, “কিজন্য এ অনুগ্রহ করিয়াছেন। কিছু কি নতুন ব্যাপার ঘটিয়াছে?”

    সাহেব বলিলেন, “হাঁ, একেবারেই নতুন। তাহাই আপনার সঙ্গে পরামর্শ করিতে আসিলাম।”

    “আপনারা আমাকে যথেষ্ট অনুগ্রহ করেন?”

    সাহেব খুন সম্বন্ধে সমস্ত কথা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে গোবিন্দরামকে বলিলেন; কিছুই গোপন করিলেন না। গোবিন্দরাম শুনিয়া বলিলেন, “আর কিছু নাই?”

    “না, লোকটা এখন হাজতে আছে; কোন কথাই কহে না। মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করিয়াও কিছু জানিতে পারা যায় নাই; কেবল এইমাত্র—আহারের পর দুই ঘন্টার মধ্যে তাহার মৃত্যু হইয়াছে।”

    “বিশেষ রহস্যপূর্ণ ব্যাপার সন্দেহ নাই।”

    “আপনিই কেবল এ রহস্যভেদ করিতে পারিবেন।”

    “কিরূপে বলিব—যেরূপ শুনিলাম, তাহাতে একটি মাত্র সূত্র কেবল দেখিতেছি।”

    “এই ইস্কাবনের টেক্কা?”

    “হাঁ, ইহা কতকটা হইলেও হইতে পারে, আবার না হইলেও হইতে পারে। হয় ত খুনী ইহার দ্বারা কেবল আপনাদের চোখে ধাঁধা দিতে চায়; যখন স্ত্রীলোকটি কে জানিতে পারা যাইবে, তখন এ তাসখানা কাজে আসিতে পারে।”

    “হাঁ, স্ত্রীলোকটি যে কে, এইটি জানাই প্রথম প্রয়োজন। এখনও কিছুই জানিতে পারা যায় নাই; তবে ফটোগ্রাফ তোলা হইয়াছে—থানায় থানায় দরজায় ঐ ফটোগ্রাফ টাঙাইয়া দেওয়া হইবে। তাহা হইলে কেহ-না-কেহ ইহাকে চিনিতে পারিবে।”

    “আমি হইলে ঠিক এরূপ করিতাম না।”

    “কেন?”

    ‘এত তাড়াতাড়ি ফটো বাহির করিতাম না; আবশ্যক হইলে পরে করিতাম।”

    “তাহা হইলে আপনি কিরূপে অনুসন্ধান আরম্ভ করিতেন?”

    “আমার বিশ্বাস, লোকটা যথার্থই হাবা ও কালা; সে কেবল বাক্সটা বহিয়া লইয়া যাইতেছিল। খুব সম্ভব, এ জানে না, বাক্সে কি ছিল।”

    “আমারও কতকটা ঐ রকম মত; তবে এ যে খুনের বিষয় একেবারেই জানিত না, তাহা আমি বিশ্বাস করি না।”

    ‘সে খুনীর লোক হইতে পারে—তবে খুন সম্বন্ধে কিছু না জানিতেও পারে; দেখা যাক্ আলোচনা করিয়া। রাত্রি একটার সময়ে একজন লোক দ্রুতপদে হাতীবাগানের রাস্তা দিয়া যায়; তাহার একটু পরেই এই লোকটা বাক্স মাথায় করিয়া সেইখানে আসে;পাহারাওয়ালারা তাহাকে ধরে, অপর ব্যক্তি সত্বরপদে চলিয়া যায়; ইহাতে বেশ বুঝিতে।

    পারা যায়, নিকটে তাহার জন্য একখানা গাড়ী অপেক্ষা করিতেছিল। সে সেই গাড়ীতে চড়িয়া চলিয়া যায়। পাহারাওয়ালাদের উচিত ছিল, সেই লোকটাকে আগে ধরা।”

    “হাঁ, তাহা ঠিক—তবে এখন গতানুশোচনা বৃথা।”

    “না, পাহারাওয়ালাদের অপরাধ নাই, তাহারা কেমন করিয়া জানিবে যে, বাক্সের ভিতর এমন একটা মৃতদেহ আছে। এই ভাল যে, তাহারা এ লোকটাকে চলিয়া যেতে দেয় নাই—তাহা হইলে দুজনেই লাসটা লইয়া সরিয়া পড়িত।”

    “এই তাসের অর্থ কি?”

    “আপনাদের চক্ষে ধূলি দিবার চেষ্টা।”

    “নিশ্চয়ই খুনটা নিকটস্থ কোন বাড়ীতে হইয়াছে; গাড়ীখানা বাড়ীর দরজায় না আনিয়া, একটা মুটের মাথায় মৃতদেহ চাপাইয়া লইয়া যাওয়া কি খুনী নিরাপদ মনে করিয়াছিল?”

    “নিশ্চয়ই, মুটেটা কালো ও হাবা। সে ধরা পড়িলে, সে কিছুই বলিতে পারিবে না; প্রকৃতপক্ষে তাহাই হইয়াছে।”

    “হাঁ, ঠিক তাই ঘটিয়াছে।”

    “খুনটা যে কারণে হউক, আমরা তাহার উদ্দেশ্যের বিষয় এখন কিছুই জানি না। আমার অনুমান, খুনী রাত্রে এই স্ত্রীলোকের বাড়ীতে আসে, হাবাকে দরজায় রাখিয়া যায়—স্ত্রীলোকটি ঘুমাইতেছিল, তাহাকে খুন করিয়া তাহারই বাক্সের মধ্যে তাহাকে বন্ধ করে। তাহার পর বাক্সটা আনিয়া দরজায় হাবাকে দেয়। হাবা বাক্সটা লইয়া চলিতে থাকে—আগে আগে খুনী যায়। নিকটেই গাড়ী ছিল, হাবা ধরা না পড়িলে সেই বাক্সটা গাড়ীতে তুলিত; তাহার পর সহরের বাহিরে কোনখানে গিয়া লাসটা ফেলিয়া আসিত।”

    “কতক এই রকমই বোধ হইতেছে। কিন্তু এখন কোন সূত্র ধরিয়া কাজ করিলে খুনী ধরা পড়িবে, তাহাই কথা হইতেছে।”

    “সূত্র ত আপনাদের হাতেই আছে।”

    “কিসে—কি সূত্র আমরা পাইয়াছি?”

    “কেন হাবা।”

    “সে কথা কহিতে পারে না, তাহার নিকট কিছুই জানিবার সম্ভবনা নাই।”

    “আছে, এই হাবা আকাশ হইতে একেবারে কলিকাতায় পড়ে নাই—সে কোন স্থানে নিশ্চয়ই বাস করিত। সে কোথায় থাকিত, সন্ধান পাইলেই জানা যাইবে, সে কে—কাহার নিকট থাকিত, সুতরাং এই হাবা যে কে, ইহাই প্রথমে জানা আবশ্যক।”

    “ইহা সহজ নয়।”

    “কঠিনও নয়—এই হাবার নিকট কি পাওয়া গিয়াছে?”

    “ইহার ট্যাকে তিনটা সিকী, একটা দুয়ানী আর একখানা বড় কয়লা পাওয়া গিয়াছে।”

    গোবিন্দরাম ধীরে ধীরে বলিলেন, “কয়লা! হাঁ, কয়লাটা পরে আমাদের অনেক কাজে লাগিবে। এখন আমার পরামর্শ যে, যত শীঘ্র পারেন, ইহাকে ছাড়িয়া দিন।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপাঁচকড়ি দে রচনাবলী ৩ (তৃতীয় খণ্ড)
    Next Article বাঙ্গালীর বীরত্ব – পাঁচকড়ি দে

    Related Articles

    পাঁচকড়ি দে

    নীলবসনা সুন্দরী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবিনী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যাকারী কে – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    গোবিন্দরাম – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    মায়াবী – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    পাঁচকড়ি দে

    হত্যা-রহস্য – পাঁচকড়ি দে

    September 10, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }