Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প847 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হিসাব – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    হিসাব – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    এবার পতিতপাবন রুদ্র উঠলেন।

    বিধানসভা একেবারে চুপ। পিছনের দিকে জন চারেক সদস্য নিদ্রা যাচ্ছিলেন। তাঁদের নাকের আওয়াজও বন্ধ হয়ে গেল।

    এক একটি প্রশ্ন যেন এক একটি তির। যাঁর উদ্দেশে নিক্ষিপ্ত হয়, তাকে একেবারে কাহিল করে ফেলে। উত্তর দেবার মতন আর শক্তি থাকে না। কেবল তোতলাতে থাকেন। ধরাশায়ী হতে বিলম্ব হয় না।

    যে-কোনও ব্যাপার পতিতপাবনবাবুর একেবারে নখদর্পণে। কী অগাধ পাণ্ডিত্য ভাবলে অবাক হতে হয়। কোচবিহারের স্বল্পখ্যাত এক জেলায় ক’জন লোকের একটা চোখ নেই, মেদিনীপুর শহরে ক’টা নলকূপের হাতল উলটো লাগানো হয়েছে, রায়গঞ্জ সাবডিভিশনে ক’টা গোরুর অপুষ্টির জন্য শিং ওঠেনি, সব তাঁর মুখস্থ। কোনও কাগজপত্র উলটে দেখবার প্রয়োজন হয় না, মুখে মুখে ফিরিস্তি দিয়ে যান।

    তাই সরকার পক্ষের সবাই পতিতপাবনবাবুকে রীতিমতো সমীহ করেন। ভাষণ দেবার সময় আড়চোখে পতিতপাবনবাবুকে লক্ষ করেন। বেফাঁস কিছু বললেই সর্বনাশ। তাঁর হাতে নিস্তার নেই।

    কাজেই পতিতপাবনবাবু উঠে দাঁড়াতেই মুখ্যমন্ত্রীও একটু বিচলিত হলেন।

    পতিতপাবনবাবু দাঁড়িয়ে একবার মুখ্যমন্ত্রীর দিকে দেখলেন, জরিপ করার ভঙ্গিতে। তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, আপনার সরকার কি অবহিত আছেন, এ বছর সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা মাত্র দু’হাজার তিনশো ছাপ্পান্ন, অথচ গত বছর এই সময়ে বাঘের সংখ্যা ছিল তিন হাজার একশো তেইশ। অবশ্য বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর দুশো তেরোটি বাঘ সে দেশে চলে গেছে। বাকি বাঘ মারা গেছে অনেক কারণে। শিকারিরা মেরেছে ত্রিশটা, বিষাক্ত কাঁটায় কেটে গিয়ে গ্যাংগ্রিন হয়ে মারা গেছে তিনশো বাইশ,পানীয় জলের অভাবে মারা গেছে কুড়ি। আত্মহত্যা করেছে গোটা ষোলো। বাঘের জন্য আপনাদের দরদের অন্ত নেই। সিংহের কাছ থেকে পশুরাজ খেতাব কেড়ে নিয়ে আপনারা বাঘকে দিয়েছেন। অবশ্য এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আমাদের অজানা নয়। ইংরাজদের মতো আপনারাও ভেদনীতি চালাচ্ছেন। সিংহ আর বাঘের মধ্যে বৈরিতা সৃষ্টি করাই আপনাদের আসল মতলব। বাঘ বাঁচাবার জন্য আপনারা কী করছেন জানাবেন কি?

    মুখ্যমন্ত্রী চশমা খুলে নিয়ে চাদরে মুছলেন। এ ধরনের প্রশ্নের জন্য সময় দরকার। আগে থেকে নোটিস দিয়ে রাখতে হয়। তবু কিছু একটা বলতে না পারলে ইজ্জত থাকে না।

    হঠাৎ কথাটা মনে পড়ে গেল। এ প্রশ্ন আপনি পশুমন্ত্রীকে করবেন।

    ভ্রূ কুঁচকে পতিতপাবনবাবু বললেন, কিন্তু আপনি তো মুখ্যমন্ত্রী। সব মন্ত্রীই আপনার তাঁবে।

    তা হলেও, সুষ্ঠু কাজের জন্য বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্ব বিভিন্ন মন্ত্রীদের ওপর দেওয়া হয়।

    সরকারের চিফ হুইপ উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করলেন, আমি প্রবলভাবে, উঃ—

    চিপ হুইপ বসে পড়লেন। দু’পায়েই বাত। আজ আবার পূর্ণিমা। আগে চিনির কারবার ছিল বহুকষ্টে খদ্দেরের জিপে এসে পৌঁছেছেন। এখন মনে হচ্ছে না-আসাই উচিত ছিল।

    পাশের ভদ্রলোকটি ঝুঁকে পড়ে বললেন, দাদা, রশুন খাচ্ছেন না?

    বিমর্ষকণ্ঠে চিফ হুইপ উত্তর দিলেন, চেষ্টা খুব করেছি ভাই, কিন্তু পেটে রাখতে পারি না। তোমার কথামতো ভোরবেলা গায়ত্রী জপ করেই একটা রশুন মুখে পুরেছিলাম, বিকালে চাঁপদানীর মাঠে যখন বক্তৃতা দেবার জন্য মুখ খুলেছি, সেই রশুন ছিটকে সামনের এক ভদ্রলোকের মাথায় গিয়ে পড়ল। আমারও বরাত, ভদ্রলোকের মাথায় আব ছিল, তাতেই লাগল। আমার বক্তৃতার জোর জানো তো, রশুনও একটু জোরেই বেরিয়ে গিয়েছিল। অন্যসময় কিছুই হত না, কিন্তু ভদ্রলোক আমার বিপক্ষদলের লোক। সেই আঘাতেই চেঁচামেচি করে মূৰ্ছা গিয়ে বিশ্রী কাণ্ড। তাঁর দলের লোকেরা আমাকে ঘিরে দাঁড়াল। কোনও রকমে উদ্ধার পেয়েছি। সেই থেকে রশুন আর খাই না।

    বেশ তা হলে পশুমন্ত্রীই আমার কথার উত্তর দিন।

    পশুমন্ত্রী জর্দা দিয়ে পান চিবোচ্ছিলেন। তিনি পাকা লোক। বহুবার মন্ত্রিত্ব করেছেন। সব দপ্তর ঘুরে এখানে এসে ঠেকেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি উঠে দাঁড়ালেন।

    পশুমন্ত্রীর ধারে কাছে কেউ বসতে চান না। সর্বদাই তাঁর মুখে পান ভর্তি। বক্তৃতা দেবার সময়ে পানের রস ফোয়ারার মতন ছোটে। ফলে, আশপাশের সবাই যখন বেরিয়ে আসেন, মনে হয় হোলি খেলে ফিরলেন।

    মাননীয় সদস্য খুব বুদ্ধিমানের মতনই প্রশ্ন করেছেন, তবে তিনি নিশ্চয় স্বীকার করবেন এ ধরনের প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য দপ্তর আছে, তাঁরা অনুসন্ধান করে এক সপ্তাহের মধ্যে সব কিছু জানিয়ে দেবেন। মাননীয় সদস্য অনুগ্রহ করে যেন প্রশ্নের একটি কপি অধ্যক্ষের কাছে পৌঁছে দেন।

    বিধানসভা সেদিনের মতন শেষ।

    পশুমন্ত্রী বিভাগীয় সচিবকে ফোন করলেন: মিস্টার সেনগুপ্ত, আপনি বাঘের এই হিসাবটা পাঁচ দিনের মধ্যে আমাকে পাঠিয়ে দেবেন। অত্যন্ত জরুরি।

    ঠিক আছে স্যর। প্রশ্নটা লিখে নিই। মিস্টার সেনগুপ্ত প্রশ্নটা লিখেই বেল টিপলেন। বেয়ারা আসতে বললেন, লাহিড়ি সাব।

    সহকারী সচিব লাহিড়ি ওঠবার ব্যবস্থা করছিলেন। তিন দিন পরে জামাইষষ্ঠী। তাঁর সব সুদ্ধ সাত মেয়ে। সাত জামাই ভারতবর্ষের নানা দেশে ছড়ানো। আজ বিকাল থেকে সব আসতে আরম্ভ করবে। ছেলে নেই, কাজেই সব কিছুর ভার তাঁর ওপর। বিরক্ত মুখে বললেন, জ্বালালে। এই অসময়ে আবার ডাক কেন? তারপর উঠে সচিবের ঘরে ঢুকলেন।

    বাঘের প্রশ্ন পেয়ে তাঁর চোখ কপালে উঠল। বললেন, কী ব্যাপার বলুন তো? বাঘের এত হিসাব নিকাশ কেন? এরপর কি তাদেরও ভোট দেবার অধিকার হবে? সে-রকম কোনও আইন আসছে?

    জানি না মশাই। জানেন তো, আমরা একেবারে সৈনিকদের মতন। হুকুম তামিল করাই আমাদের কাজ। দেখুন, কী করতে পারেন। আর সময়ও নেই।

    লাহিড়ি প্রশ্ন নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।

    এরপর লাহিড়ির কামরায় সুপারিন্টেন্ডেন্ট রামতনু ধাড়ার ডাক পড়ল। রামতনুবাবু নৈহাটি থেকে যাওয়া আসা করেন। একটু দেরিতে অফিসে আসেন, কিন্তু থাকেন রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভিড়ের জন্য তার আগে আর ট্রেনে উঠতে পারেন না। বসে বসে একলা একলা বাঘবন্দি খেলেন।

    লাহিড়ির কথা শুনে চমকে উঠলেন, আবার বাঘ?

    আবার বাঘ মানে? এর আগে আবার কবে তোমায় বাঘ দেখালাম?

    রামতনুবাবু সামলে নিলেন: না স্যর, বলছি, চার দিনের মধ্যে এত বড় হিসাব কি করা যাবে? এ তো আর আন্দাজে দেওয়া যায় না।

    আন্দাজে দেওয়া যায় না?

    সেটা কি ঠিক হবে? আপনার মনে আছে, বছর দুয়েক আগে এই ধরনের একটা প্রশ্ন এসেছিল। পতিতপাবন রুদ্রেরই প্রশ্ন। পার্ক স্ট্রিটের মোড় থেকে টালিগঞ্জ ব্রিজ পর্যন্ত জলের পাইপ আর টেলিফোনের লাইনের জন্য ক’জায়গায় গর্ত খোঁড়া হয়েছে। আপনি বললেন, সময় নেই, আন্দাজে একটা লিখে দাও। দিলাম লিখে, দু’শো পঁয়ত্রিশ। তাই নিয়ে বিধানসভায় হুলুস্থূল কাণ্ড। রাতারাতি লোক নিয়ে আমি নিজে বের হয়েছিলাম। গুনে দেখলাম দু’শো বত্রিশটা গর্ত। বাকি তিনটে গর্ত লোক দিয়ে খুঁড়ে তবে শান্তি।

    লাহিড়ি বিরক্তকণ্ঠে বললেন, যা হোক একটা কিছু করো রামতনু। আমি আর ভাবতে পারছি না। আমার বাড়িতেই সাতটা বাঘের আমদানি হচ্ছে।

    বাড়িতে বাঘ? রামতনুবাবু বিস্মিত হলেন।

    আরে জামাইষষ্ঠী না? সাত জামাই আসছে।

    পরের দিন অফিসে এসেই রামতনুবাবু সেকশন-ইন-চার্জ অবিনাশ রায়কে তলব করলেন। খুব করিতকর্মা লোক অবিনাশ। নিজে কাজ করে না, কিন্তু পরের কাছ থেকে ঠিক কাজ আদায় করে নেয়। রামতনুবাবুর বিশেষ প্রিয়পাত্র।

    শোনো অবিনাশ, বোসো। বাঘের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও।

    অবিনাশ অবাক হল। বলেন কী, নৈহাটিতে বাঘ? হবে না, মিউনিসিপ্যালিটিগুলো অকর্মণ্য হয়ে উঠেছে। কিছু পরিষ্কার করবে না। চারদিকে আগাছা আর জঙ্গল বাড়ছে। জঙ্গল থাকলেই বাঘ থাকবে, এ তো জানা কথা। একটা কাজ করুন না, রেশনের আটা সিন্নির মতন মেখে বাড়ির দরজায় রেখে দিন না।

    রেশনের আটা?

    হ্যাঁ, যা আটা দিচ্ছে, বাঘের বাপও হজম করতে পারবে না। লিভারের দফা শেষ হয়ে যাবে।

    আরে না, না, নৈহাটিতে বাঘ নয়, বিধানসভায় বাঘ।

    বিধানসভায়? সে কী? চিড়িয়াখানা থেকে এতদূর এসেছে নিজেদের অবস্থা জানাতে?

    দুর, সে-সব কিছু নয়। কথাটা ভালকরে শোনোই না।

    রামতনুবাবু প্রশ্নটা অবিনাশের দিকে এগিয়ে দিলেন, এর একটা ব্যবস্থা করো।

    অবিনাশ কাগজটার ওপর একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলল, ঠিক আছে। সরেজমিনে তদারক করার জন্য কারও যাওয়া দরকার।

    যা ভাল বোঝো করো। মোট কথা তিন দিনের মধ্যে আমার উত্তর চাই।

    অবিনাশ সেকশনে ফিরে এল।

    সেকশনের সব চেয়ে নিরীহ কেরানি অখিল সমাজদার। কোনওদিকে দেখে না। ঘাড় হেঁট করে নিজের কাজ করে যায়। তবে এক দিনের কাজ তিন দিনে করে। বুদ্ধি তেমন শাণিত নয়।

    অবিনাশ তাকে ডেকে পাঠাল: তোমার শ্বশুরবাড়ি তো সন্দেশখালি, তাই না?

    অখিল মাথা নিচু করে টেবিলে আঁচড় কাটতে লাগল।

    সামনে জামাইষষ্ঠী। দু’দিনের জন্য শ্বশুরবাড়ি ঘুরে এসো।

    অখিল আশ্চর্য হল। এর আগে দরখাস্ত করেছিল, কিন্তু অবিনাশ ধমকে উঠেছে, সবাই শ্বশুরবাড়ি গেলে, আমি সেকশন চালাব কী করে?

    তুমি আজ বিকালেই চলে যাও। বরং একটু সকাল সকাল অফিস থেকে উঠে পড়ো। সন্দেশখালি যাওয়াও তো খুব ঝামেলা। ট্রেন, লঞ্চ, তারপর কিছুটা হাঁটতেও হবে।

    এবারও অখিল ঘাড় নাড়ল।

    আর নাও, এই হিসাবটা করে আনবে।

    অবিনাশ প্রশ্নটা অখিলের দিকে এগিয়ে দিল।

    এতক্ষণ পরে অখিল বলল, হিসাব?

    হ্যাঁ, বাঘের একটা ছোট হিসাব আছে। তোমাদের সঙ্গে বাঘের তো খুব দহরম-মহরম। প্রায় মোলাকাত হয়। অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না।

    ওপরে পাখা ঘুরছে, তবুও অখিলের সর্বাঙ্গ ঘর্মাক্ত হয়ে উঠল। এই বাঘের ভয়ে অখিল শ্বশুরবাড়ি যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছে।

    বছর খানেক আগে এক কাণ্ড হয়েছিল। বিকালে অখিল বেড়াতে বেরিয়েছিল। কিছু দূর গিয়ে পথ হারিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে যখন পথের সন্ধান পেয়েছিল, তখন সন্ধ্যা নেমেছে।

    চারদিকে চাপ চাপ কুয়াশা। বাড়ির কাছে এক অর্জুনগাছের তলায় অখিলের খুড়শ্বশুর। বাসন্তী রঙের র‍্যাপার গায়ে জড়িয়ে।

    আশ্চর্য কাণ্ড। ভদ্রলোক হাঁপানির রোগী। আর এভাবে ঠান্ডায় বসে আছেন!

    কাছে গিয়ে অখিল জিজ্ঞাসা করেছিল, খুড়োমশাই, এই কুয়াশায় আপনি বাইরে কেন? আমার জন্য নাকি?

    খুড়শ্বশুর উত্তর দিয়েছিলেন, হুঁম।

    হাঁপানির জন্য ভাল করে কথাও বলতে পারছেন না।

    অখিল আরও এগিয়ে গিয়ে বলেছিল, এই তো আমি এসে গেছি, এবার বাড়ি চলুন।

    অখিলের বোধ হয় ইচ্ছা ছিল, খুড়োমশায়ের হাত ধরে বাড়িতে নিয়ে আসবে, কিন্তু পারেনি। ওরে বাবা রে, খেলে রে, বলে বিদ্যুদবেগে ছুটতে আরম্ভ করেছিল।

    পায়ের একটা পাম্পশু পরের দিন পাওয়া গিয়েছিল, আর কাঁটা গাছে লেগে দামি শাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন।

    অফিসে এসে অখিল গল্পটা করেছিল। সেই থেকে অবিনাশ অখিলকে ডাকে, বাঘেরও অখাদ্য।

    অখিল যাবার মুখে অবিনাশ আবার ডাকল, শোনো, বাঘের হিসাবটা শুধু তুমি নিয়ে আসবে। তাদের বাঁচাবার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তোমার কোনও খোঁজ করবার দরকার নেই। সে সম্বন্ধে মন্ত্রীমশাই যা ভাল বুঝবেন, করবেন। বুঝেছ?

    কী বুঝল অখিলই জানে, কিন্তু সে ঘাড় নাড়ল।

    অখিল যখন সন্দেশখালি পৌঁছল, তখন রাত আটটা।

    তার শ্বশুর বেশ বড়লোক। মাছের ভেড়ি আছে, ধান জমি, মধুর ব্যবসা। গোটা ছয়েক নৌকা। নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের গভীরে চলে যান। মধু সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। চুপি চুপি অর্জুন আর কেওড়া কাঠ কেটে নৌকা বোঝাই করেন।

    অখিল শ্বশুরকে ধরল। আমি কিন্তু সরকারি কাজে এসেছি।

    শ্বশুরমশাই বারান্দায় মাদুর পেতে বসেছিলেন। পুরুতমশাই দক্ষিণরায়ের পাঁচালি শোনাচ্ছিলেন। পুরুতমশাইকে থামিয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, সরকারি কাজ মানে?

    পাঞ্জাবির পকেট থেকে কাগজটা বের করে অখিল বলল, এই বাঘের হিসাবটা নিয়ে যেতে হবে। মন্ত্রীমশাই চেয়েছেন।

    তাক থেকে চশমা পেড়ে নিয়ে চোখে দিয়ে শ্বশুরমশাই কাগজটা পড়লেন, তারপর বললেন, কঠিন হিসাব। তুমি কাগজটা রমজান আলিকে দিয়ে দাও। কাল ভোরে ওর দল সুন্দরবনের মধ্যে যাচ্ছে, একটা হিসাব নিয়ে আসবে। তবে সুন্দরবন তো আর একটুখানি এলাকা নয়, বিরাট জায়গা। বাঘ সব জায়গায় ছড়িয়ে আছে। গড়পড়তা একটা হিসাব নিয়ে আসতে পারবে।

    অখিল মাথা নাড়ল: না, আমাকেও রমজান আলির সঙ্গে যেতে হবে। অন্য কারও ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করলে চলবে না। সেকশন-ইন-চার্জের হুকুম, নিজে সব কিছু দেখে আসতে হবে।

    শ্বশুরমশাই অবাক। সে কী? বাঘেদের মধ্যে জামাইষষ্ঠীর রেওয়াজ আছে বলে জানা নেই। তোমাকে জামাই বলে খাতির করবে তাও মনে হয় না। তার ওপর সুন্দরবনে তুলো আর সূর্যমুখীর চাষের জন্য অনেকটা জঙ্গল সাফ করাতে বাঘগুলো তেতে আছে। মানুষ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়ে।

    অখিল নাছোড়বান্দা। কাজ ধীরে সুস্থে করে বটে, কিন্তু কাজে ফাঁকি দেয় না।

    শ্বশুরমশাই অগত্যা সব ব্যবস্থা করে দিলেন।

    নৌকার মাঝখানে অখিল। দু’পাশে দু’জন বন্দুক হাতে। চারপাশ ঘিরে অন্য লোক। তাদের হাতে লাঠি, শড়কি, বল্লম।

    নৌকায় অন্য লোকেরা বলল, আপনার মন্ত্রীমশাইকে জিজ্ঞাসা করবেন, মানুষকে ছেড়ে বাঘের এত খোঁজ কেন? আমাদের সুখদুঃখের খোঁজও একটু দেবেন কত্তা। খাদ্য পাই না, পরনের কাপড় নেই—

    হাত নেড়ে অখিল তাদের থামিয়ে দিল: আরে এসব খোঁজ মন্ত্রীরা নেবেন কেন? বিরোধী দলের সদস্যরা জানতে চান। আমরা আর কী করব!

    নৌকা যখন ঘাটে বাঁধা হল, তখন দুপুর।

    দু’জন মাঝিমাল্লা ছাড়া সবাই নেমে গেল।

    রমজান আলি বলল, রসুন জামাইবাবু, আমরা মধু নিয়ে বিকালের আগেই ফিরব। মধু আনব, সেই সঙ্গে বাঘের হিসাব।

    সবাই জঙ্গলের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    বেশ কড়া রোদ। অখিল ছইয়ের তলায় আশ্রয় নিল।

    পাটাতনের ওপর মাঝিরা রান্না শুরু করল। তারপর রোদের তেজ কমতে, অখিল বাইরে এসে বসল। হরিণ, শেয়াল, নানা রঙের পাখি জল খেয়ে যাচ্ছে। নৌকা থেকে একটু দূরে। একটু আগে মাঝি আর মাল্লারাও নেমে গেছে। যাবার সময় বলে গেছে, শুকনো গাছের ডাল ভেঙে এখনই আসছি জামাইবাবু।

    নৌকায় অখিল একেবারে একলা। হঠাৎ দেখল হরিণ আর অন্য জন্তুরা তিরবেগে বনের মধ্যে পালিয়ে গেল।

    কী হল? এমন ভয় পেল কেন?

    এদিকে মুখ ঘুরিয়েই অখিল কাঠ হয়ে গেল। ওপাশের চড়া থেকে লাফিয়ে জলে পড়ে একটা বাঘ সাঁতরে এপারে আসছে। শুধু তার মুখটা দেখা যাচ্ছে। বিরাট হাঁড়ির মতন মুখ। জ্বল জ্বল করে দুটো চোখ জ্বলছে। নৌকা লক্ষ্য করেই এগিয়ে আসছে। হয়তো সাঁতরে এপারে আসাই তার উদ্দেশ্য ছিল, কিন্তু নৌকার ওপর এমন তৈরি ‘ডিনার’ দেখে গতি পরিবর্তন করেছে।

    নৌকা ভীষণ বেগে দুলতে লাগল। নৌকার অবশ্য দোষ নেই। অখিলের অবস্থা ম্যালেরিয়াগ্রস্ত রোগীর মতন। ঠক ঠক করে তার দেহ কাঁপছে। কাজেই নৌকাও কাঁপছে।

    সর্বনাশ, কী হবে! বেশ কাছে এসে পড়েছে!

    আর কালবিলম্ব না করে অখিল ডাঙার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    এক হাঁটু কাদা। বহুকষ্টে কাদা ভেঙে জমির ওপর উঠল।

    অখিল দ্রুতপায়ে সামনের গাছের গোড়ায় এসে দাঁড়াল। ঝাঁকড়া আসশ্যাওড়া গাছ। অখিল জীবনে কোনও দিন গাছে ওঠেনি। গাছে ওঠার চেষ্টাও করেনি, কিন্তু তার যখন জ্ঞান হল, দেখল সে গাছের প্রায় মগডালে বসে আছে।

    এদিকে ফিরে দেখল, বাঘ নৌকার ওপর। ঠিক যেখানে অখিল বসেছিল। সূর্যের আলো এসে বাঘের মুখে পড়েছে। সে আলোয় দেখা গেল, বাঘের মুখ খুব বিষণ্ণ। মনে যেন দারুণ অশান্তি। অখিলের দিকে কোনও নজর নেই।

    নিরুপায় অখিল চুপচাপ বসে রইল।

    মাঝিমাল্লাদেরও দেখা নেই। অবশ্য নৌকার আরোহী বদল হয়েছে দেখলে তারাও আর ধারে কাছে আসবে না।

    কিন্তু অন্য লোকগুলোই বা ফিরছে না কেন? বাঘের হিসাব নিতে গিয়ে তারাও কি সব হিসাবের বাইরে চলে গেল!

    বাঘটা উঠে দাঁড়াল। করুণদৃষ্টিতে একবার জঙ্গলের দিকে দেখল তারপর জলের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আর উঠল না।

    কম্পিত বুকে অখিল অনেকক্ষণ অপেক্ষা করল। না, বাঘ উঠল না।

    বোঝা গেল আত্মহত্যা করেছে। অন্য লোকে বললে অখিল হয়তো বিশ্বাস করত না, কিন্তু নিজের চোখকে অবিশ্বাস করবে কী করে!

    বেশ অন্ধকার চারদিকে। ঝোপে ঝোপে জোনাকি জ্বলছে। সবগুলো হয়তো জোনাকি নয়, কিছু কিছু বন্য জন্তুর চোখও রয়েছে।

    মাটির ওপর দ্রুত ধাবমান কতকগুলো ছায়া।

    এই সময় গাছ থেকে নামা নিরাপদ নয়। একা নৌকায় থাকাও রীতিমতো বিপজ্জনক। তা ছাড়া, অখিল কীভাবে উঠেছে নিজেই জানে না, নামতে পারবে এমন ভরসা কম।

    সে ডাল আঁকড়ে বসে রইল।

    কিন্তু বেশিক্ষণ চুপচাপ বসে থাকা সম্ভব হল না। দলে দলে মশা এসে আক্রমণ শুরু করল। মশা নয়, ডাঁশ। যেখানে বসে, প্রায় সিকি লিটার রক্ত তুলে নেয়।

    মারবার উপায় নেই। শব্দ হলেই নীচের বন্য জন্তুরা আকৃষ্ট হবে। গাছে চড়তে পারে সুন্দরবনে এমন জন্তু কমতি নেই। উঠে পড়লেই হল।

    সুতরাং অখিল নিঃশব্দে, বিনা প্রতিবাদে নির্যাতন সহ্য করে গেল। মনে মনে ভাবল ব্লাড ব্যাংকে রক্ত দিচ্ছে।

    এক সময়ে ভোর হল। গাছে গাছে পাখির ডাক।

    একটু পরেই ঝোপের পাশ থেকে মাঝিমাল্লারা বেরিয়ে গাছতলায় এসে দাঁড়াল।

    একজন বলল, ও জামাইবাবু, আপনি! আমরা ভেবেছি চিতাবাঘ গাছের ওপর ওত পেতে বসে আছে। তলা দিয়ে গেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাই আমরা সারা রাত আর এক গাছে বসে কাটালাম।

    অখিল চটে লাল। জলজ্যান্ত মানুষ আমাকে চিতাবাঘ ভাবলে কী করে?

    অন্ধকারে শুধু কাঠামোটা দেখা যাচ্ছে। তার ওপর ওই ল্যাজ।

    ল্যাজ? আমার ল্যাজ? মানে?

    ওই দেখুন না।

    অখিল চোখ ঘুরিয়ে দেখল।

    তার কাছাটা খুলে ল্যাজের মতন দুলছে। গাছে ওঠবার সময় কখন খুলে গেছে।

    এবার নেমে আসুন জামাইবাবু।

    একটু নেমেই অখিল থেমে গেল। কিছুতেই নামতে পারছে না। পা দুটো ঠক ঠক করে কাঁপছে।

    মাঝিদের মধ্যে যে ছোকরা সে চটপট করে গাছে উঠে জাপটে ধরে অখিলকে নামাল।

    ভাল করে তাকে দেখেই সবাই অবাক। একজন বলল, একী গো জামাইবাবু, মনে হচ্ছে কোথা থেকে হাওয়া বদল করে এসেছ। এক রাতে শরীর এত ভাল হল কী করে?

    অখিল বুঝতে পারল এ-সব ডাঁশের কারসাজি। শরীর ফুলিয়ে ডবল করে দিয়েছে।

    সবাই নৌকায় গিয়ে উঠল।

    মাঝিদের একজন আয়না নিয়ে অখিলের সামনে ধরল।

    দুটো চোখ দেখার উপায় নেই। গাল ফুলে চোখ ঢেকে দিয়েছে। গায়ের রংও একটু লালচে। পাঞ্জাবিটা রীতিমতো টাইট।

    অখিল জিজ্ঞাসা করল, আর সকলে আসছে না কেন? কাল বিকালে আসবার কথা!

    কেউ বিশেষ উদ্বিগ্ন হল না। বলল, দক্ষিণরায়ের হিসাব নিয়ে ফিরবে তো। একটু দেরি হবেই। আজ এসে পড়বে।

    অখিল এদিক ওদিক দেখে আবার প্রশ্ন করল, আচ্ছা, বাঘ আত্মহত্যা করে?

    অখিলের কথা কানে যেতেই সবাই চোখ বন্ধ করে কানে আঙুল দিল। এক সঙ্গে বলল, জয় বাবা দক্ষিণরায় অপরাধ নেবেন না। জামাইবাবু এ এলাকায় ওসব নাম করবেন না। দক্ষিণরায় বলবেন। হ্যাঁ, ওঁরা আত্মহত্যা করেন বইকী। একবার মনে আছে কাঠ কাটতে জঙ্গলে গেছি, হঠাৎ দক্ষিণরায় একটা হরিণ লক্ষ্য করে লাফ দিল, কিন্তু ধরতে পারল না। হরিণ পালাল। দক্ষিণরায়ের বাপ খেপে লাল। গরর গরর করে সে কী তর্জন। আমি গাছের ওপর বসে কাঁপছি আর সব দেখছি। ব্যস, ছেলের অভিমান। বাপ সরে যেতেই মাথা নিচু করে জলের ধারে এসে দাঁড়াল, তারপরই ঝপাং। এ জন্তুর তুলনা হয় না জামাইবাবু। বড় অভিমানী।

    অখিল ভাবতে লাগল, তা হলে ওই বাঘটারও এ রকম কিছু একটা হয়ে থাকবে। অভিমানে আত্মহত্যা।

    দুপুরবেলা সবাই নৌকার ওপর বসে, হঠাৎ ঝোপের আড়াল থেকে হই হই শব্দ।

    সন্দেহ নেই, বাঘ বেরিয়েছে। লোকেরা তাড়িয়ে এদিকে নিয়ে আসছে।

    অখিল আর তিলমাত্র বিলম্ব না করে ছইয়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল। ডাঁশের কল্যাণে তার চেহারাটাও বেশ পুষ্ট হয়েছে। বাঘের নজর একবার তার ওপর পড়লে আর অন্য কাউকে পছন্দ হবে না।

    অখিল দুর্গানাম জপ করতে লাগল।

    পাটাতনের ওপর থেকে কে একজন বলল, জামাইবাবু, বেরিয়ে আসুন, ওরা সবাই ফিরছে।

    আস্তে আস্তে অখিল বেরিয়ে এল।

    রমজান আলির দল আসছে। মাচায় কাকে ঝুলিয়ে।

    বাঘ মেরে আনছে নাকি! তাই এত দেরি।

    কাছে আসতে দেখা গেল, একটা কাঠের পিড়েতে একজন অতিবৃদ্ধ বসে। চৌদোলার মতন তাকে ঝুলিয়ে আনছে।

    অখিল জিজ্ঞাসা করল, লোকটি কে?

    দক্ষিণরায়ের মন্দিরের পুরুতমশাই ত্রিলোচন ঠাকুর। দক্ষিণরায়ের দল ওঁর কথায় ওঠে বসে। এ এলাকা ওঁরই রাজত্ব। রমজান আলি ওঁকে নিয়ে এসেছে হিসাব দেবার জন্য। সব কিছু ওঁর নখদর্পণে।

    ত্রিলোচন ঠাকুর নৌকায় উঠতেই প্রণামের হুড়োহুড়ি পড়ে গেল।

    রমজান আলি বলল, নিন জামাইবাবু, হিসাব নিন।

    ত্রিলোচন ঠাকুর হাসলেন। তোমার হিসাব তো বাবা ঠিক নয়। তিন বছরের পুরনো হিসাব। ঠিক হিসাব লিখে নাও। মোট বাঘের সংখ্যা তিন হাজার একশো দশ। গত বছরে বরং কমই ছিল। এবার বাঘ বাড়ার আসল কারণ অনেকগুলো ডবল যমজ বাচ্ছা হয়েছে। তা ছাড়া নিজেদের মধ্যে মারামারি অনেক কমে গেছে। এ অঞ্চলেও সভা হচ্ছে। গরম গরম বক্তৃতা। দেশে ভাই ভাইয়ে খুনোখুনির কথা সব বক্তাই বলে। সবই বাঘেদের কানে আসে। তারা বুঝতে পেরেছে, নিজেদের ভিতর মারপিট নিছক ‘মানবিক’ ব্যাপার, পশুর জগতে চলে না। চলা উচিত নয়। তাই নিজেদের মধ্যে আর কামড়াকামড়ি করে না। যে দু’শো তেরোটি বাঘ বাংলাদেশে ফিরে গেছে, তারা সে দেশেরই বাঘ। গোলমালের সময় এদেশে চলে এসেছিল, গোলমাল থামতে নিজের দেশে চলে গেছে। গ্যাংগ্রিনে কেউ মারা যায়নি। বাঘের গ্যাংগ্রিন ঠিক হয় না। লিভারের অসুখে কিছু মারা গেছে, কিছু গেছে যক্ষ্মায়। কলকারখানার দূষিত ধোঁয়ায়।

    কৌতূহলী অখিল জিজ্ঞাসা করে ফেলল, এরা কি আত্মহত্যা করে নিজেদের পারিবারিক কারণে?

    ত্রিলোচন ঠাকুর উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। আত্মহত্যা করে বই কী। আলবত করে। কিন্তু নিজেদের ব্যাপারে নয়। আমাদের জন্য।

    অখিল চমকে উঠল: আমাদের জন্য? তার মানে?

    মানে অতি সরল। বিদেশি শাসক এ দেশ থেকে সরে গেল, তবু আমাদের শ্বেতপ্রীতি কমল না। সাদা রং দেখলে এখনও আমরা ভক্তিতে ডগমগ হয়ে যাই। তাই চিড়িয়াখানায় পর্যন্ত সাদা বাঘকে আলাদা সম্মান দেখানো হয়। বেশি মূল্যের দর্শনী। রাজকীয় থাকার ব্যবস্থা। এসব কি ভেবেছ বাঘেদের কানে যায় না? ছি, ছি, লজ্জায় তারা প্রাণ রাখবে কী করে!

    অখিল চুপ করে রইল। এর চেয়ে নিখুঁত হিসাব সে কল্পনাও করেনি। এবার অফিসে তার উন্নতি অবধারিত।

    কাগজে সব হিসাব লিখে নিয়ে কাগজটা অখিল পাঞ্জাবির পকেটে রেখে দিল।

    ত্রিলোচন ঠাকুর যাবার সময় বললেন, দাও পাঁচটা টাকা। মন্দিরে পূজা দিতে হবে।

    বিনা বাক্যব্যয়ে অখিল পাঁচ টাকা দিয়ে দিল।

    ত্রিলোচন ঠাকুর চৌদোলায় চড়ে চলে গেলেন। তাঁর সাগরেদরা নিয়ে গেল।

    নৌকা সন্দেশখালির দিকে ফিরল।

    অখিলেব মন খুশিতে ভরপুর। এত কঠিন একটা কাজ এত সহজে সমাধা হবে ভাবতেও পারেনি। গুন গুন করে অখিল গান গাইতে শুরু করল।

    ফুরফুর বাতাস বইছে। এখনও পুরো অন্ধকার নামেনি। লোকেরা পাটাতনের ওপর বসে গল্পগুজব করছে।

    হঠাৎ অখিলের মনে হল কে যেন তার পাঞ্জাবি ধরে টানছে। প্রথমে মনে করল বোধ হয় নৌকার পেরেকে আটকে গেছে। কিন্তু না, টানটা বেশ জোর।

    মুখ ফিরিয়ে দেখেই অখিল চিৎকার করে উঠল, বাঘ! বাঘ!

    সবাই ছুটে এল। এখানে মাঝগাঙে আবার বাঘ কোথায়। তা ছাড়া জামাইবাবু দক্ষিণরায় না বলে বাঘ বলছেন কেন? বিপদ একটা নির্ঘাৎ বাধাবেন। এখনও ওঁদের এলাকা পার হইনি। কই কোথায় দক্ষিণরায়?

    জলের মধ্যে।

    সে কী? সবাই অবাক।

    অখিল মোটেই ভুল দেখেনি। বিরাট মুখ। আগের দিন যেমন দেখেছিল। জ্বলজ্বলে দুটো চোখ।

    আশ্চর্য, বাঘটা কি এতক্ষণ ডুবসাঁতার দিয়ে ছিল? কিংবা ডুব দিয়ে পাড়ে উঠে ঝোপের মধ্যে গা ঢাকা দিয়ে বসেছিল। তারপর নৌকার সঙ্গে সাঁতরাতে শুরু করেছে।

    বাঘটা আবার ডুব দিয়েছে। তাকে কোথাও দেখা গেল না।

    রমজান আলি হেসে বলল, জামাইবাবু খোয়াব দেখেছেন।

    নিজের পাঞ্জাবির পকেটের দিকে চোখ পড়তেই অখিল হাঁউমাঁউ করে চেঁচিয়ে উঠল। সর্বনাশ, আমার পকেট!

    পকেট নেই। বাঘ দাঁত দিয়ে চিবিয়ে কেটে নিয়েছে। সেই সঙ্গে হিসাবও উধাও।

    অখিল মাথা চাপড়াতে শুরু করল। এত মেহনত সব মাটি।

    নৌকা সন্দেশখালি পৌঁছাল। অখিল শ্বশুরের কাছে সব বলল।

    শ্বশুর বললেন, ওই হিসাবটা নেবার জন্য তোমার সঙ্গ নিয়েছিল বোঝা গেল। যাক, হিসাবের ওপর দিয়ে গেছে। হিসাব একটা তৈরি করা যাবে। জামাই গেলে, জামাই তৈরি করা সম্ভব হত না।

    অখিল আন্দাজে একটা হিসাব তৈরি করে নিল।

    কলকাতায় আসবার জন্য যখন সে নৌকায় উঠছে, তখন খবরটা কানে এল। শ্বশুরই বললেন। ত্রিলোচন ঠাকুরকে দক্ষিণরায়ের দল পথেই শেষ করে দিয়েছে। গোপন হিসাব ফাঁস করে দেবার জন্য।

    ১৩৮০

    অলংকরণ: শুভাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অঁতোয়ান দ্য সাঁত-এক্সুপেরি
    অনন্যা পাল
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অনীশ দেব
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক দত্ত
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুর রহমান আল-আরিফি
    আবদুল হালিম
    আব্দুল মালেক আলী আল-কুলাইব
    আব্দুল হামীদ ফাইযী
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভট্টাচার্য
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বাণ রায়
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পরিমল ভট্টাচার্য
    পরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিয়োদর দস্তইয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাসরুর আরেফিন
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    মোহিত কামাল
    রকিব হাসান
    রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
    রণদীপ নন্দী
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রশীদ করীম
    রাজর্ষি দাশ ভৌমিক
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রাফিক হারিরি
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শওকত আলী
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শহীদুল্লা কায়সার
    শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাহীন আখতার
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শৈবাল মিত্ৰ
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রীপারাবত
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্তোষকুমার ঘোষ
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সন্মাত্রানন্দ
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমীরণ গুহ
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সরোজকুমার রায়চৌধুরী
    সাগরময় ঘোষ
    সাদাত হোসাইন
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুণ্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুপ্রতিম সরকার
    সুব্রত গুহ
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সেলিনা হোসেন
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৈয়দ শামসুল হক
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বপ্নময় চক্রবর্তী
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হরিশংকর জলদাস
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026
    Our Picks

    কলিকাতায় নবকুমার – সমরেশ মজুমদার

    August 14, 2026

    ছাতিম – স্মরণজিৎ চক্রবর্তী

    August 14, 2026

    স্মৃতিগন্ধা – সাদাত হোসাইন

    August 12, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }