Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প847 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    খুড়ো-ভাইপো – বাণী বসু

    খুড়ো-ভাইপো – বাণী বসু

    ঠিক মাঝরাত্তিরে পটকার মা পটকাকে ডেকে তুলল। পটকেশ্বরের তো ঘুমোলেই বিশ্বভুবন বিস্মরণ! বাঁ কাতে ঠেললে সে ডান কাতে ফেরে, ডান কাতে ঠেললে বাঁ কাতে। গায়ে জল ছিটোলে সে লেপের তলায় সেঁধোয় আর কাতুকুতু দিলে কুকুর কুণ্ডলী হয়ে যায়। মোট কথা, পটকার সঙ্গে পেরে ওঠা অর্থাৎ পটকার ঘুমের সঙ্গে পেরে ওঠা শুধু তার মায়ের কেন, ভগবানের মায়েরও কম্মো না। কিন্তু আপাতত পটকার মায়ের প্রাণের দায়। বারোটার কাঁটা ছাড়িয়ে যায়-যায়। ন্যাড়া ঠাকুরপোর কাছে মান থাকে না। আজ এক হপ্তা ধরে ঠিক হয়ে আছে অমাবস্যার রাতে নেড়ু ওস্তাদের কাছে পটকার হাতেখড়ি। তার জন্য বলে কত হাঙ্গামা, কত পুজো! কত মানত!

    বেশি চেঁচাবার তো জো নেই। মাটির দেওয়াল ভেদ করে আওয়াজ ওদিকে গেলেই হল। শেষকালে পটকার মা ইনিয়েবিনিয়ে কাঁদতে থাকে। পটকার বাপের আমলে তার হাতে থাকত নাকি ঝাঁক-ঝাঁক সোনার বেঁকি চুড়ি। গলায় মটরমালা। শান্তিপুরের ডুরে শাড়ি পরে সে তখন কানা উঁচু কাঁসার থালায় করে সীতেশাল চালের ভাত মাছের মুড়ো তেল কাঁটার রগরগে ছ্যাঁচড়া, থকথকে কলাইয়ের ডাল আর আধ হাত গলদা চিংড়ির হাঁড়ি-কাবাব খেয়ে মনের সুখে ঢেকুর তুলেছে। আর আজ দ্যাখো। পরনে ত্যানা, কণ্ঠার গর্তে এক পো করে তেল ধরে। সারা দিনমান কেলেমুখো মেটে হাঁড়িতে বোকড়া-বোকড়া র‍্যাশন সেদ্দ হচ্ছে। কাঁচা সর্ষের তেল, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, আর কলমি শাকের ঝোল দিয়ে সেই ভাত ধরে দিয়েছিল বলে এই আজই তোঁ পটকা রাগ করে থাঁলা ছুঁড়ে ফেঁলে দিঁয়েছে—এঁ-এঁ।

    মায়া-কান্না এই পর্যন্ত গড়াবার পর পটকা এক লাফে লেপ, তোশক, বালিশ, কম্বলের জঙ্গল থেকে বরাহ অবতারের মতো দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বেরিয়ে আসে।

    পটকার মা সেদিকে একবার আড়ে তাকিয়ে আবার গান ধরে, “তবে কি আমি ছিল ছিরিযুক্ত নফরচন্দ পরামানিকের ইস্তিরি, ছিরিমান পটকেশ্বরের একমাত্তর মাতাঠাকুরানি হয়ে নোকের বাড়ি বাসন মেজে খাব?”

    পটকা হেঁড়ে গলায় চেঁচায়, “তুমি চুপ করবে? রাত ক’টা হল খ্যাল আছে?”

    পটকার মা এবার কান্না ছেড়ে নিজমূর্তি ধরে। নীলধ্বজের রানি জনার চেয়ে সে নফরচন্দ্রের নফরানি, কীসে কম যায়!

    “বলি সে খেয়াল তোর আছে রে হতভাগা? কাজে বেরোবার সময় যে বয়ে যায়! গতকাল তিন কেজির কুমড়োখানা বলি দিয়ে যে মা ছিনতাই-কালীর পুজো দিলুম, সে কি নাকে তেল দিয়ে এমনি অমাবস্যের রাতটা মাটি করার জন্যে? দোরের পাশে এখনও মাটির কলসে ডাব, আমপাতা সব শুকুচ্ছে যে রে!”

    এতক্ষণে পটকার হুঁশ হয়। মা কী বলছে আর কেনই বা বলছে। হাতঘড়িটার দিকে তাকিয়ে সে ডান হাতের কড়ে আঙুলটা কানের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে আচ্ছা করে ঝাঁকায়। হাত-পায়ের বিশখানা আঙুল মট-মট করে মটকায়, তারপর বম-বম করে খানিকটা গালবাদ্য করে নেয়। অর্থাৎ কিনা পটকা ঘুম ছাড়াচ্ছে। নিজের ঘুমের কাছে পটকা নিজেই জব্দ। নইলে তার কি এ-জ্ঞান নেই যে, ব্যবসাপত্তরের বেলা বয়ে যাচ্ছে! তার কি আর সাধ যায় না মায়ের পরনে শান্তিপুরের মিহি শাড়ি দেখতে? গলদা চিংড়ি হাঁড়িকাবাব খেতে? সে কি ছেলেমানুষ? কিন্তু ওই যে বললুম, নিজের ঘুমের কাছে পটকা নিজেই জব্দ।

    নানারকম কায়দা কসরত করে, পটাপট কয়েকটা ডিগবাজি খেয়ে পটকা যখন উঠে দাঁড়ায়, তখন তার মাথার চুল একেবারে খাড়া, চোখ দুটো জ্বলছে, নাকের পাটা ফোঁস-ফোঁস করে ফুলছে। হাফ শার্টের তলায় ছত্রিশ ইঞ্চি ছাতিটাও ঢেঁকিতে পাড় দেওয়ার মতো উঠছে, নামছে, উঠছে, নামছে। সাক্ষাৎ-মা ছিনতাই-কালীর সেবক। বুকে একটা কিল মেরে পটকা বলল, “কই, এবার সাজ-গেঞ্জাম সব বার করো তো দেখি! সাজিয়ে দাও, দেখি কেমন বীরের মা, মহাবীরের ইস্তি। রণং দেহি, যুদ্ধং রেডি।”

    মা খুশিমুখে বলল, “এই তো চাই! নফরচন্দরের ব্যাটা পটকেশ্বরের কি মাঝ রাত্তিরে বাবুয়ানি করা চলে?”

    তাক্তাপোশের তলা থেকে পেটা লোহার তোরঙ্গ বেরোয়। মনের সুখে পটকার মা সাজায় পটকাকে। সে এক মহাভারত ব্যাপার। জনা প্রবীরকে সাজাচ্ছে, না চিত্রাঙ্গদা বীর বভ্রুবাহনকে! ব্যাপারটা একই। সেও রণং দেহি, এ-ও যুদ্ধং রেডি।

    গায়ের সঙ্গে চামড়ার মতো সেঁটে থাকা কালো নাইলনের হাফ-পেন্টুল, তেল বুলিয়ে-বুলিয়ে মাছি-পিছলনো গা, বেল্টের সঙ্গে গোঁজা গুপ্তি: লাঠিক্কে লাঠি, ছুরিক্কে ছুরি। কোমরে জড়ানো দড়ির মই যত উঁচু হোক তরতর করে উঠে যাবে, পকেটে নাইলনের দড়ি, বাঁধো ছাঁদো, পিঠটান দাও। কালো মোজার ভাঁজে ধারালো ব্লেড, কুচ করে গলাও কাটবে, পকেটও কাটবে। পায়ে রবারের জুতো। তাতে নকল হিল, ছাপ দেখে কে ধরবে ধরো এখন। শেষমেশ বাঁ কপালের কোণে পটকার মা একটা ভুসো কালির ফোঁটা দিয়ে দিল। এমন রূপে-গুণে পুত্তুর তার। নজর না লাগে!

    বর্বন রোডের মোড়ে খুড়োর সঙ্গে মোলাকাত হওয়ার কথা। চারদিক নিশুত, নিঝঝুম। অত বড় হাওড়ার পুল আর উড়াল দিনের বেলায় যেগুলো লোকে-লশকরে, গাড়িতে জুড়িতে ঝমঝম করে, তারা যেন অমাবস্যের তারার আলোয় অজগর সাপের ভূতের মতো শুয়ে আছে। গিলে খাবে নাকি রে বাবা? চলতে-চলতে পটকার গা ছমছম, মাথা চনচন। আসলে পটকার এতদিন যা কিছু কেরামতি, ওই দিনের বেলাতেই। বাসে-ট্রামে, কি ট্রেনের ভিড়ে। বা আজকাল কি লোকে পকেটে কিছু রাখছে? মেয়েগুলো ঘুরছে দ্যাখো ন্যাড়া বোঁচা। কানে একটা ঝুমকো দুল দিবি, গলায় চিকমিকে হার দিবি, হাতে বেশ মোটা বালা, তবে তো মানাবে? তা না দ্যাখো ধিঙ্গি সব খালি গলা খালি কানে ঘুরছে। যদি-বা পরছে পেতল, দস্তা, কাঠ, গালা, মাটি, কী নয়? ম্যা গো! কাজে-কাজেই পটকাকে বাধ্য হয়ে রাতের কারবারে নাড়া বাঁধতে হয়। ন্যাড়াখুডোর কাছে।

    বর্বন রোডের বাড়িগুলোর গায়ে ভুতুড়ে গন্ধ। জনমনিষ্যি যেন কোনও কালে বাস করেনি। সেই বাড়ির ছায়ায় ছায়ায়ই এগোতে হয় পটকেশ্বরকে, যেন সে আর মানুষ নেই। জায়গায়-জায়গায় আলো জ্বেলে-জ্বেলে রাতকে দিন করে রেখেছে ব্যাটারা। অথচ তা সত্ত্বেও চারদিক কী ছমছমে। কিন্তু কোথায় খুড়ো? এদিক-ওদিক হাতড়ে খুড়োকে খুঁজতে থাকে পটকা। কে জানে হয়তো খুড়োও তারই মতো ছায়ায়-ছায়ায়। হয়তো-বা এও এক পরীক্ষে। আঁধার কোণে ভূত পেরেত আর কুটুম এড়িয়ে খুড়োকে খুঁজে পেলেই হয়তো গোটাগুটি রেতো কারবারের পারমিটখানা খুড়ো তুলে দেবে পটকেশ্বরের হাতে।

    কোথায় খুড়ো? অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে-করে পাশের একটা সরু গলি দিয়ে পটকা শুট করে বড়বাজারের দিকটায় কেটে পড়ল। খুড়োর খবর, বড়বাজারের কোনও বাড়ির তিনতলায় আজ বিস্তর চোরাই সোনা আসবে। পাহারা দিতে কেউ নেই, একটা বোবা-কালা লোক ছাড়া। দুটো ঘরের মাঝে সরু প্যাসেজ। সেই প্যাসেজের একপাশে ডাঁই করা পুরনো প্যাকিং বাক্স, চটের বোরা। তারই মধ্যে লুকনো আছে গাদা-গাদা সোনা। আজ বাদে কালই আবার পাচার হয়ে যাবে। খুড়ো যদি না আসে? এমন মওকা বৃথা যেতে দেবে না পটকা। যেটুকু নিশেন আছে তাতে করেই গন্ধে-গন্ধে ঠিক সে পৌঁছে যাবে। কিন্তু নিশেন মতো গলিতে পৌঁছে নাক উঁচু করে সোনার গন্ধ শুঁকতে গিয়ে পটকা দিশে পেল না। সোনার গন্ধ হবে বেশ চকোসা-চকোসা। সে-গন্ধ নুকনো ছুপনো থাকবে না পটকার মতো তিন পুরুষের মহৎ শিল্পী বংশের ওয়ারিশানের কাছে। কোথায় সোনা? এ তো গুচ্ছের আরশুলোর পাখা, বেড়ালের লোম আর ইঁদুরের নাদির বিটকেল গন্ধ। তবে কি খুড়ো তাকে ভাঁওতা দিল? বাপের অদ্দিনের স্যাঙাৎ এমনি তঞ্চকের কাজ করবে? খুড়িতে আর পটকার মায়েতে যে সেই ছোটকাল থেকে ‘ভুসোকালি’ পাতানো আছে! সে-সময়ে পটকাদের ফ্যামিলির খুব রবরবা। ফোঁস করে নিশ্বেস পড়ে গেল পটকার। সেই খুড়ো কি শেষপর্যন্ত? কথাই তো ছিল সোনা পেলে তিন ভাগ নেবে খুড়ো এক ভাগ পটকা। কেননা খুড়ো খবর এনেছে। তা তাই তা-ই সই। পটকার এখন বয়সকাল। কত রোজগার করবে। ওদিকে খুড়োর দিন তো ফুরিয়ে এল। দাঁত পড়ে গালে গর্ত, চোখ কোটরে। যদিও সেই চোখেই এখনও শ্যেনের ঠাহর। সেই দাঁতে এখনও নেকড়ের ধার। ওই দাঁত দিয়ে খুড়ো নাইলনের দড়ি ইস্তক কেটে বেরিয়ে যেতে পারে। ও-সব হল গিয়ে সেকালের তাকত।

    নাঃ, এখনও খুড়োর দেখা নেই। এই পেরথম দিনটাতেই শুভ কাজে খুঁত থেকে গেল? বিদ্যে-দিগ্‌গজ পণ্ডিতে হাতেখড়ি না করালে কি আর ঠিকঠাক পণ্ডিত হওয়ার জো আছে? মহাত্মা গান্ধী রোড সুনসান। একবারটি গলা বাড়িয়ে দেখে নিল পটকা। অর্ধেক আলো ইলেকট্রিক কোম্পানির দয়ায় জ্বলছে না। পটকা ঘোরাফেরা করছে যেন ছায়ারও ছায়া। সড়াত সাঁত। নিজের ওস্তাদিতে নিজেই মুগ্ধ হয়ে যাচ্ছে সে। নেড়ি কুকুরগুলো একবার ঘেউ-ঘেউ করে ডুকরে উঠেছিল, কিন্তু পটকার একটা বিশেষ শিস জানা আছে। সাপুড়ের যেমন সাপের মন্তর, নিশিটুকুমেরও তেমনই-তেমনই এই শিস। ঠাকুর্দা বাপকে, বাপ ছেলেকে, ছেলে নাতিকে শিখিয়ে যায়। শিখিয়ে-শিখিয়ে এমন হয়েছে যে, নাতির ছেলের বেলায় আর শেখাতে হয় না। বোল ফোটবার আগেই মুখে শিস ফোটে। যাই হোক, কুকুরদের শান্ত-দান্ত করে ছায়ায়-ছায়ায় পটকা এগোতে লাগল। খুড়োর নিশেন যদি ভুলও হয়, সোনার গলি সে শুঁকে-শুঁকে খুঁজে বার করবেই। ভালই হবে তখন আর ভাগাভাগি হবে না। সবটাই পটকার একার।

    এমন সময় দূর থেকে একটা ছুন ছুন ছুন ছুন করে মিষ্টি শব্দ ভেসে আসতে শুনে নিজের জায়গায় স্থির হয়ে গেল পটকা। ক্রমেই এগিয়ে আসছে শব্দটা। মেয়েদের ঘুন্টি-দেওয়া নূপুরের শব্দ। নতুন বিয়ে হওয়া বর-কনে আসছে একজোড়া। বর পরেছে চাপা সিল্কের পাজামা। তার ওপর জরিদার আচকান, মাথায় পাগ। বউ পরেছে ঝকমকে কালো শাড়ি। হাতে সোনালি হ্যান্ডেলওলা ভ্যানিটি ব্যাগ। আর কী গয়না! কী গয়না!

    বউয়ের কান থেকে ঝুলছে কানবালা, গলায় লম্বা সীতেহার, কোমর পেঁচিয়ে রয়েছে চন্দ্রহার, হাতভর্তি ঝমর ঝমর চুড়িবালা। বরটার দু’ হাতেও বোধহয় আটখানা আংটি। গলায় লম্বা সোনার মফচেন। দূর থেকে দেখেই ঠিক চিনেছে পটকা। এ-সব নিখাদ গিনিগোল। কোনও ভুল নেই। বর-বউ দুটোর কি মাথাখারাপ? এমনি ভর রাত্তিরে তাল-তাল সোনা পরে হাওয়া খেতে বেরিয়েছে? অবশ্য বলাও যায় না, এক-একটা রামবোকা আদুরে বউ আছে বটে, গুচ্ছের খানিক গয়না না হলে বিয়ে বাড়ি যাবে না। এরকম বউয়ের দুর্দশা ট্রেনে দেখেছে পটকা। মাঝ রাস্তাতেই খেল খতম। একখানা ভোজালি কি পাইপগান ঠেকিয়ে এক কামরা লোকের চোখের সামনে থেকে পটাপট সব খুলে খুলে নিয়ে ট্রেনের ইস্পিড কমতেই এক লাফে সব উধাও। এ তো হামেশা হচ্ছে! পটকারা খেতে পাবে না, জাতব্যবসা লাটে উঠবে, আর তোমরা সোনাদানায় গা মুড়ে নেমন্তন্ন খেয়ে বেড়াবে, সেটি হচ্ছে না।

    চটপট পটকা রেডি হয়ে যায়। রাস্তার এ-মুড়ো থেকে ও-মুড়ো পর্যন্ত আড়াআড়ি সে দড়িটা খাটিয়ে ফেলে। ব্যস, যুদ্ধং রেডি। গল্প করতে-করতে আসছে তো! খেয়াল করবে না। দড়িতে ধাক্কা খেয়ে দড়াম করে আছড়ে পড়বে। আর তখনই শুরু হবে পটকার খেল। কান, কোমর আর গলার জিনিসগুলো একটানেই খুলে নেবে। তারপর ছোরা দেখিয়ে বাকিগুলো খুলিয়ে নিতে হবে—এই আর কী! রুটিন কাজ! এর জন্য হাতেখড়ি-টড়ির দরকার হয় না।

    ও কী! বর বউ দুটো গল্প করতে করতে দিব্যি দড়ি পার হয়ে গেল যে! পটকা নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। পড়িমরি করে পেছন পেছন ছুটে, হাতে গুপ্তি বাগিয়ে পেছন থেকে লোকটার পিঠে ভোজালি ঠেকিয়ে সে কর্কশ গলায় বলল, “বেশি চালাকি করবে না, ওপরে হাত তোলো।” ও মা কোথায় কী! দেখে, লোকটা সামনে থেকে পেছনে চলে গেছে আর মেয়েটা যেন কিছুই হয়নি এমনি করে এগিয়ে চলেছে। মেয়েটা পালায় দেখে পটকা সাঁই-সাঁই করে এবার তার দিকে ছোটে, ক্যাঁক করে ধরবে একেবারে। ও মা! কোথায় মেয়ে। তার দু’ হাতের মধ্যেটা ফাঁকা। কোথা থেকে খিলখিল করে কেমন একটা বিশ্রী হাসি ভেসে আসছে। পেছনে ফিরতেই পটকার বুক হিম হয়ে গেল। মেয়েটা শূন্যে শুয়ে আছে। সেই কালো বেনারসি, চিকমিক করছে গয়না সারা গায়ে। শুয়ে-শুয়ে ভাসছে আর খিলখিল করে রক্ত-জল-করা হাসি হাসছে।

    এতক্ষণ পটকা সব সহ্য করে যাচ্ছিল, কিন্তু এইবার সে আর পারল না। যতই মা ছিনতাই-কালীর সেবক হোক, সে মানুষ বই তো নয়! ভূ-ভূ করতে-করতে পটকা দৌড় দেয় আর তার পেছনে সেই পেতনি ধেয়ে আসে, লোকটাও আসছে সমানে, একটা চকমকে মুণ্ডিওলা লাঠি না কী আবার পটকার দিকে তাক করে ধরেছে। নিজের খাটানো দড়িতে পা জড়িয়ে নিজেই চিতপটাং হয়ে যায় পটকা। তারপর অজ্ঞান।

    জ্ঞান ফিরতে পটকা জীবনে এই প্রথম শ্বশুরবাড়ি দেখল। ওপরে ফোকরওলা, সামনে গরাদ-দেওয়া বিচ্ছিরি বদখত একখানা ঘর, তাতে অমন দশ-এগারোজন ষণ্ডা, পুঁচকে, মোটকা, বাঁটকুল, সিড়িঙ্গে, হোঁতকা সব ডোরা-ডোরা জামা পরে শুয়ে-বসে রয়েছে। পটকা চোখ পিট পিট করতেই একজন মুখের ওপর ঝুঁকে পড়ে কালিঝুলিগুলো হাত দিয়ে মুছতে লাগল।

    “এ কী! এ যে আমাদের নেড়ু ওস্তাদের ভাইপো। একেবারে আনপড় কারিগর তো নয়? কী বাপ! নফর চন্দরের নাম ডোবালি যে! নিজের দড়িতে নিজেই পটকান! ছ্যা ছ্যা ছা!” পটকার কালিঝুলি মুখের মধ্যে চোখের ঢেলা বেরিয়ে রয়েছে। সে বলল, “ভূ-ভূ।” সঙ্গে-সঙ্গে শ্বশুরঘর অট্টহাসিতে ভরে গেল। হো হো, হা হা, হো হো, হা হা।

    কে যেন বললে, “তুই ভূত। একেবারে গো-ভূতের ছানা।”

    আর-একজন বললে, “রগড়টা তুমিই ওকে সমঝিয়ে দাও না ভাই ভজনলাল।”

    তরমুজের মতো গালওলা এক ব্যক্তি বলল, “আরে বুদ্ধু, জাদুগরনে তুঝে ভেড়ুয়া বনায়া রে! তুকে ভেলকি দেখাল তো সাথ-সাথ তু ভি দৌড় করলি! ক্যা শরম কি বাত রে!”

    ছোট-বাজার থানার ভেতরে তখন ও-সির ঘরে টেবিলের ওপর রাবড়ি, জিলাবি, লাড্ডু, সামোসা সব রেডি। ওসি বলছেন, “আরে গুপ্তা সাব, ভেলকি যা দেখিয়েছেন এ-থানায় জবর তামাশা হল। হাসি-খুশির মওকা তো আমাদের কমই মিলে। তা আমাদের ভেলকিটা টুক এক্সপ্লেন করে দিন। চোট্টা পাকড়ে দিলেন, মিঠা মুখ ভি একটু করতেই হবে!”

    জাদুকর ইন্দ্রগুপ্ত বললেন, “আমরা তো সোজা বিয়েবাড়ি থেকে আসছি মিশ্রজি। মাফ করুন এবারের মতন।”

    “চায় তো পিবেন জরুর। পিতে পিতে তামাশাটা খুলিয়ে বলুন।”

    ইন্দ্রগুপ্ত হেসে বললেন, “আসলে কদমতলায় আমাদের একটা ছোটখাটো শো ছিল। বন্ধুর বাড়ি। বন্ধুর বউভাতের নেমন্তন্নেই গিয়েছিলাম। বন্ধু বলেছিল, হঠাৎ একটা ভেলকি দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দিতে। কিন্তু ম্যাজিশিয়ান হিসেবে নয়, সাধারণ অতিথি হিসেবেই দেখাতে হবে। স্টেজ থাকবে না। কোনও ব্যবস্থা থাকবে না। কাজে-কাজেই আমরা একটু রেডি হয়েই গিয়েছিলাম। ড্রাইভার ছাড়া কেউ সঙ্গে ছিলও না। ম্যাজিকের যা কিছু সরঞ্জাম পোশাকের পকেটে আর হাতের কায়দায়।”

    জাদুকরের স্ত্রী জ্যোৎস্না এইখানে ফিকফিক করে হাসতে লাগল।

    ইন্দ্রগুপ্ত বললেন, “ম্যাজিক ওখানে খুব জমে গেল। কেউ ছাড়তে চায় না। তারপর সাড়ে বারোটা নাগাদ যদি-বা ছাড়া পেলাম, হাওড়া ব্রিজ পার হতে না হতেই গাড়ি ব্রেক-ডাউন। ড্রাইভারকে বললুম, “বাবা তুমি গ্যারাজ-ট্যারাজ দ্যাখো, আমরা হাঁটতে-হাঁটতে চলে যাচ্ছি।” যাব তো সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ। রাত্তিরবেলা, ট্রাফিক নেই, কিছু নেই। দিব্যি পৌঁছে যাব। গায়ে গয়না রয়েছে বিস্তর, তাই চোখ-কান খোলা রেখে হাঁটছি, হঠাৎ দেখি একটা ছায়া সড়াত করে সরে গেল। ছোকরা একপাশে সরে গেল। ঠাওর করে দেখি একগাছি দড়ি রাস্তার এপার-ওপার বাঁধা। ছোকরা একপাশে অন্ধকারের সঙ্গে মিশে গুঁড়ি মেরে বসে রয়েছে। আরে বাবা, এ-সব দড়ি-ফড়ি নিয়ে কারবার তো আমাদেরও। কাজেই কাছে পৌঁছতেই কুক। আর বাকিটুকু তো স্রেফ ফুট ওয়ার্ক।

    ‘আপনাদেরও তা হলে আমাদের লাইনের বহুত কুছু শিখতে হয়, বলুন।”

    “তা তো হয়ই। হাত-সাফাই, পা-সাফাই,” হাসতে-হাসতে বললেন ইন্দ্রগুপ্ত।

    “তারপর?”

    “তারপর তো সব সোজা। যেই ছোকরা জ্যোৎস্নার পেছনে ছুটেছে, আমি দড়িটা গিঁট দিয়ে বেঁধে আস্তে-আস্তে এগিয়েছি। আর পকেট থেকে আমার ম্যাজিকের বেলুন-পুতুল গ্যাস দিয়ে ফুলিয়ে কালো সুতো দিয়ে নাচাচ্ছি। ওই খেলা দেখিয়েই তো বিয়েবাড়ির আসর জমিয়ে এসেছি। ভেনট্রিলোকুইজম জানেন তো? সেই কায়দায় মেয়ে গলায় খিলখিল করে হাসতেই ছোকরা মুখ ফিরিয়েছে, জ্যোৎস্না ঢুকেছে গলির ভেতরে। ওর ফুট ওয়ার্কও তো নেহাত ফ্যালনা নয়। শূন্যে ওই দৃশ্য দেখে আর হাসি শুনেই ছোকরার হয়ে গেছে। তার পর নিজের দড়িতে নিজেই কুপোকাত!”

    জ্যোৎস্না বলল, “আর-এক ওস্তাদকেও পাকড়াও করেছেন শুনলাম! এরা সব বলছিল।”

    মিশ্রজি বললেন, “ওই তো, মক্কেল আসছেন। আপনার গাড়ির বুটে মেলা চাঁদির বাঁট নিয়ে বসে ছিল। সোচছিল কি ছোটা বাজার এরিয়া এমনি করেই পার হয়ে যাবেন।”

    শ্রীল শ্রীযুক্ত ন্যাড়াচন্দরকে এই সময়ে ধাক্কা দিতে-দিতে এনে ফেলল কনস্টেবলরা। শ্রীঘরের দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ন্যাড়া এ-মহলে চেনা মুখ। সে হাজতে নিক্ষিপ্ত হতেই চারদিক থেকে সংবর্ধনার কলরব উঠতে থাকে। প্রশ্নোত্তরের আকারে। একজন প্রশ্ন করছে। সবাই উত্তর দিচ্ছে।

    “সসুরাল কিসকা?”

    “নেড়ু ওস্তাদকা।”

    “উও কিধর?”

    “অভভি আতা।”

    “আতা কিঁউ?”

    “দহেজ লেনে।”

    “কোঁতকা খায়া?”

    “কোই বাত নহি।”

    এর পর সমস্বরে সবাই চেঁচাতে থাকে:

    নেড়ুবাবা পার করে গা।

    বোম বোম নেড়ু বোম।

    নেড়ু ওস্তাদ

    জিন্দাবাদ।।

    এত অভ্যর্থনাতেও কেন কে জানে অন্যান্যবারের মতো নেড়ুর মুখে হাসি ফোটে না। সে আড়চোখে ভাইপোকে নজর করে। তারপর কেমন ভ্যাবাচাকা কাঁচুমাচু মুখে ভাইপোর দিকে পেছন ফিরে বসে থাকে। কে জানে কী হয়েছে খুড়ো-ভাইপোর মধ্যে?

    ১৪০১

    অলংকরণ: সুব্রত চৌধুরী

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }