Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প847 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কর্নেল মিত্র – বিমল মিত্র

    কর্নেল মিত্র – বিমল মিত্র

    ছোটবেলায় আমার বিশ্বাস ছিল না যে ভূত বলে কিছু আছে। বইতে ভূতের গল্প পড়েছি, দিদিমার কাছে কত রাত ভূতের গল্প শুনেছি। কিন্তু সে-গল্প পড়ে বা শুনে কখনও মনে ভয় পাইনি।

    দিদিমাকে বলতুম—দিদিমা, একটা ভূতের গল্প বলো না—

    দিদিমা বুড়ো মানুষ, সন্ধে হতে-না-হতেই ঘুমে তার চোখ দুলে আসত। তবু আমি বার বার গল্প শুনতে চাইতুম। বিশেষ করে ভূতের গল্প।

    দিদিমা বিরক্ত হত।

    বলত—না, রাত্তিরে ভূতের গল্প শুনতে নেই, ভূতে ঘাড় মটকাবে, তুই ঘুমো এখন, ঘুমিয়ে পড়—

    কিন্তু তবু আমি ছাড়তুম না। ভূতের গল্প আমার শোনা চাই। ভূতের গল্প শুনে আমি ভয় পেতুম না বটে কিন্তু শুনতে বড় ভাল লাগত। গল্পের ভূতের হাঁউ-মাঁউ-খাঁউ শব্দের সঙ্গে সঙ্গে আমার কল্পনা অনেক দূরে গিয়ে পৌঁছুত। এই পৃথিবী থেকে অনেক দূরে যেখানে লেখা-পড়া নেই, পরীক্ষায় পাশ করার ভয় নেই, বাবা-মা-মাস্টারমশাই-এর চোখ রাঙানি নেই, শুধু আছে একটা ভাঙা পোড়োবাড়ি আর তার ভেতরে কয়েকটা ভূত আর পেত্নী। এই ভূত-পেত্নীদের জগতের স্বপ্ন দেখতেই আমার ভাল লাগত।

    তারপর একটু যখন বড় হলুম তখন ভূত-পেত্নীর জগত থেকে একেবারে বাস্তব জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এ বাস্তব জগতে মাস্টারমশাইয়ের বেত খেতে হয়, পড়া না-পারলে কানমলা খেতে হয়। আর তারপরে পরীক্ষায় ফেল করার দুঃখ-লজ্জা তো আছেই।

    এখন যেমন পরীক্ষায় ফেল করলে লজ্জা হয় না তখন কিন্তু তা ছিল না। যেবার পরীক্ষায় ফেল করেছিলুম বাবা সমস্ত দিন আমাকে একটা ঘরের মধ্যে তালা-চাবি বন্ধ করে রেখে দিয়েছিলেন। ভাত তো দূরের কথা, এক ফোঁটা জল পর্যন্ত খেতে পাইনি।

    সন্ধেবেলা বাবা দরজা খুলে দিতেন। বলতেন— এবার ভাল করে লেখাপড়া করবি তো?

    বলতুম—হ্যাঁ করব—

    পরীক্ষায় আর ফেল করবি না তো?

    বলতুম—না—

    তবে নিজের হাতে দু’কান মোল—

    আমি নিজের হাতে কান মলতুম। বাবার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব এই প্রতিজ্ঞাও করতুম। তবু সব বছরে প্রতিজ্ঞা রাখতে পারতুম না। কতবার যে আমি জীবনে ফেল করেছি তার ঠিক-ঠিকানা নেই। আমার ক্লাসের ছেলেরা আমার নাম দিয়েছিল ফেলু-মাস্টার, মানে ফেল-মাস্টার।

    কিন্তু আমার বড়দা ছিল যাকে বলে সত্যিকারের ভাল ছেলে। প্রত্যেকবার বড়দা এগজামিনে ফাস্ট হত। কতবার যে মেডেল পেয়েছে, প্রাইজ পেয়েছে বড়দা তার গোনাগুনতি নেই। বাবা-মা সেই মেডেলগুলো আর প্রাইজের বইগুলো একটা কাচের আলমারিতে সাজিয়ে রেখেছিল। আত্মীয়-স্বজন পাড়া প্রতিবেশী কেউ এলেই সেগুলো সবাইকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখানো হত।

    তারা বড়দার ক্ষমতা দেখে তারিফ করত আর বড়দা’র সম্মানে আমার বাবা-মা’র বুক গর্বে দশ হাত হয়ে যেত!

    তারপর আমার দিকে দেখিয়ে বলত—আর এটি? এটি লেখা-পড়ায় কেমন?

    বাবা বলতেন—এই এর কথা বলছেন? এর। কিস্যু হবে না, এর মাথায় গোবর পোরা—

    লজ্জায়-ধিক্কারে আমার মাথা হেঁট হয়ে আসত। কিন্তু আমি কী করব? আমার মাথায় যে গোবর পোরা তার জন্যে কি আমি দায়ী?

    তা আমার কথা থাক। আমি বড়দার কথাই বলি। বড়দাকে নিয়েই আমার এই কাহিনী। বড়দাই ছিল বাবা-মা’র ভরসা, বড়দাই ছিল বাবা-মা’র একমাত্রনির্ভর-স্থল। বড়দার মতো ছেলে যাদের তাদের আর ভাবনা কী?

    বড়দা যখন কলকাতার কলেজ থেকে গরমের ছুটির সময় বাড়িতে আসত তখন তার জন্যে বাবা স্পেশাল খাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। সেদিন ঝি-চাকর কেউ বাজারে গেলে চলবে না। বাবা নিজে বাজারে যাবেন।

    কেউ যদি জিজ্ঞেস করত—এ কি মিত্তিরমশাই, আপনি যে বাজারে?

    বাবা বলতেন—আজ যে নীলু আসছে, গরমের ছুটি হয়েছে তো—

    সেদিন বাবা বড়দার জন্যে বেছে বেছে সেরা মাছ কিনবেন, সেরা আম, সেরা পটল, সেরা সব জিনিস। সকাল থেকেই বাড়িতে একেবারে রান্নার ধুম পড়ে যেত। বড়দা খেতে ভালবাসত বলে মা ভাল ভাল রান্না করত। বড়দা এলেই বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যেত। আমরা দুটি মাত্র ভাই। তার মধ্যে একজন বাপ-মায়ের আদরের দুলাল, আর, আর-একজনের জন্যে একেবারে শূন্য। আমার ভাগে সত্যিই একেবারে শূন্য।

    তা তার জন্যে কারওর দোষ নেই। কারণ আমার মাথায় যে গোবর পোরা।

    বড়দা খেতে বসলেই মা সামনে বসত, মাথার ওপর পাখাটা জোরে খুলে দেওয়া হত।

    বলত—ভাত ফেলে রাখলি কেন, ও-ভাত কটা খেয়ে নে—

    বড়দা বলত—না মা, বিলুকে দাও, ওকে তোমরা মোটে দেখছ না, ওকে তো তোমরা কেউ খেতে বলছ না। আমি আর খেতে পারব না, আমার পেট ভরে গেছে—

    বাবাও সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যেন তিনি নিজে দাঁড়িয়ে না থাকলে বড়দার অযত্ন হবে।

    বাবা বলতেন—সে কী, ইলিশ মাছ আরও দুটো দাও ওকে—

    বড়দা বলত—বা রে, আমার কি রবারের পেট, আমি তো চারটে ইলিশ মাছের পিস খেয়েছি, আর খেলে বমি হয়ে যাবে—

    —না বমি হবে না। কলেজের হোস্টেলে তোদের যা হাল, আধ পেটা খেয়ে খেয়ে তোদের পেটের নাড়ি শুকিয়ে গিয়েছে। আরও দুটো খেতে হবে, আমি নিজে গিয়ে তোমার জন্যে বাজার করে নিয়ে এসেছি, একেবারে আসল গঙ্গার ইলিশ। খাও। তারপর ল্যাংড়া আম এনেছি, তাও দাও দুটো—

    বড়দাকে এইরকম করে খাইয়ে খাইয়ে যেন বাবা-মা’র তৃপ্তি হত না। আর শুধু কি খাওয়া? বড়দা যখন ঘুমোবে তখন কেউ শব্দ করতে পারবে না। বড়দা যখন পড়বে তখন কেউ কাছে যেতে পারবে না, বড়দার যদি একদিন একটু সর্দি-কাশি হয় তো তার জন্যে শহরের সবচেয়ে বড় ডাক্তার দেখতে আসবে। বড়দার পরীক্ষার আগে মা, মা কালীর কাছে জোড়া-পাঁঠা মানত করবে। আর বড়দাও তেমনি ছেলে। কখনও কি পরীক্ষায় সেকেন্ড হতে নেই রে! বরাবর কি ফার্স্টই হতে হয়! অথচ একই বাড়িতে আমরা একই বাবা-মায়ের দুই ছেলে।

    আমি মনে মনে ভগবানকে অভিশাপ দিতুম ভগবান কেন এত একচোখো। দিতে হলে একজনকে কি এমন উজাড় করেই দিতে হয়?

    তা তারপরে দাদা বি-এস-সি পাশ করলে অনার্স নিয়ে। একেবারে ফাস্ট।

    সেদিন আমাদের বাড়িতে একেবারে লোকে লোকারণ্য। যেদিন পরীক্ষার ফলটা বেরোল সেদিন বড়দার ছবি ছাপা হল খবরের কাগজের পাতায়। বড়দার ছোট্ট জীবনী বেরোল। বাবার নামও তার সঙ্গে উল্লেখ করা হল। শহরের গণ্যমান্য সমস্ত লোককে বাড়িতে নেমন্তন্ন করা হল। লুচি, পোলাও, মাছ, মাংস, চপ, কাটলেট, সন্দেশ, রসগোল্লা, রাজভোগ, চাটনি কিছুরই আর কমতি ছিল না। সবাই খেয়ে ধন্য ধন্য করতে লাগল বড়দাকে।

    বড়দার বড় লজ্জা করতে লাগল কিন্তু গোড়া থেকেই।

    বলতে লাগল—এ আর এমন কী করেছি, প্রত্যেক বছরই তো কেউ-না-কেউ একজন ফার্স্ট হয়ই, এবার যেমন আমি ফার্স্ট হয়েছি, আসছে বছরেও আর-একজন হবে—

    ভদ্রলোকরা বলত—আসছে বছরে যারা ফার্স্ট হবে তাদের বাবা-মায়েরও এমনি আনন্দ হবে। আনন্দ করাটা কি দোষের?

    বড়দা কিন্তু তাতেও খুশি হত না।

    বলত—তার চেয়ে আপনারা আশীর্বাদ করুন যেন জীবনের শেষ পরীক্ষাতেও ফার্স্ট হতে পারি, সেই ফার্স্ট হওয়াটাই চরম ফার্স্ট হওয়া—

    কিন্তু আশ্চর্য প্রতিভা বড়দার। এম এস সি দিলে কেমিস্ট্রিতে। তাতেও ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট।

    বাবার আর মা’র আনন্দ তখন দেখে কে।

    কিন্তু শুধু পাশ করলেই হবে না। ভাল করে পাশই করো আর ফেলই করো, আসল কথাটা তো বড় চাকরি করে বেশি টাকা মাইনে পাওয়া? তুমি এম এ পাশই করো আর রাস্তার বখাটে ছেলেই হও, কত টাকা তুমি মাসে উপায় করো সেইটে দিয়েই বিচার করব তুমি জীবনের পরীক্ষায় পাশ না ফেল!

    তা ঠিক এই সময়েই যুদ্ধ রাধল। এমনভাবে যুদ্ধ বেধে যে সব কিছু ওলোট-পালট বাধিয়ে দেবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। যুদ্ধ বেধে গেল ইংরেজ আর জার্মানদের মধ্যে। সে এক মহা যুদ্ধ। বলতে গেলে সমস্ত পৃথিবীই জড়িয়ে পড়ল সে-যুদ্ধতে।

    হঠাৎ বড়দার চিঠি এল কলকাতা থেকে। বড়দা লিখেছে যে সে যুদ্ধে চাকরি পেয়েছে। প্রথমে দু’হাজার টাকা মাইনে। তারপরে চাকরিতে ভাল কাজ দেখাতে পারলে পরে মাইনে আরও বাড়বে। এমনকী পাঁচ হাজার ছ’ হাজার টাকাও হতে পারে।

    চিঠি পড়ে তো মা কেঁদে উঠল। বাবার মাথায় বজ্রাঘাত। শহরের গণ্যমান্য লোক যারা খবরটা শুনল সবাই এল।

    তারা বললে—মিত্তিরমশাই, এরই জন্য আপনি এত ভাবছেন? জানেন এই চাকরি পাবার জন্যে লক্ষ লক্ষ ছেলে হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছে। আর আপনার ছেলে সেই চাকরি পেয়েছে বলে আপনি ভয় পাচ্ছেন?

    বাবা বললেন—না, তা নয়, যুদ্ধ বলে কথা, যদি কোনও বিপদ-আপদ হয় তাই ভাবছি। যুদ্ধ মানেই তো মারামারি, অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মারামারি। কে কাদের কত লোক মারতে পারল তারই প্রতিযোগিতা—

    ভদ্রলোকরা বললে—তাদের মধ্যে কি সবাই মারা পড়ে? বরং মারা পড়ে তারা যারা আমাদের মতো লোক যুদ্ধে যায় না। বোমা তো আমাদের মাথাতেই পড়ে। নিরীহ লোকরাই যুদ্ধে বেশি মারা যায়। কারণ তাদের হাতে বন্দুক থাকে না রাইফেল থাকে না, কিছু না। তাদের বিপদই তো সবচেয়ে বেশি—

    আর একজন বললে—আর তা ছাড়া যুদ্ধ তো চিরকাল থাকবে না, বড়জোর এক বছর কি দু’বছর, তারপরে তো গভর্নমেন্ট আপনার ছেলেকে মোটা টাকার চাকরি দেবে, সেদিকটাও তো ভেবে দেখবেন আপনি—

    যুদ্ধে যাবার আগে বড়দা একবার বাড়িতে এল। মা’কে বাবাকে সব বুঝিয়ে বললে। বললে যে যুদ্ধ বেশিদিন চলবে না। যেই যুদ্ধটা থেমে যাবে সঙ্গে সঙ্গে মস্ত বড় চাকরি দেবে। এখন সরাসরি লেফটেন্যান্ট করে নিচ্ছে বড়দাকে, দু’দিন বাদেই ক্যাপ্টেন হবে, তারপরে মেজর, আর তারপরে কর্নেল।

    বাবা জিজ্ঞেস করলেন—তা তোমাকে কি জার্মানদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে নাকি?

    বড়দা আশ্বাস দিয়ে বললে—আমি যুদ্ধ করব না, যারা যুদ্ধ করবে আমি তাদের পেছনে পেছনে থাকব। ইঞ্জিনিয়ারিং স্টোর্স-এর ইনচার্জ হব আমি।

    বড়দা সরাসরি যুদ্ধে যাবে না শুনে বাবা-মা একটু আশ্বস্ত হল। আবার দু’হাজার টাকা মাইনে হবে শুনে খুব আনন্দও হল। বড়দা যাবার আগের দিন মা কালীমন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে এসে বড়দার কপালে পুজোর সিঁদুরের টিপ ছুঁইয়ে দিলে। আর মনে মনে প্রার্থনা করতে লাগল। কী প্রার্থনা করতে লাগল তা মা-ই জানে। হয়তো প্রত্যেক মা ছেলের ভালর জন্যে যে প্রার্থনা করে সেই একই প্রার্থনা কবলে। আমি তা জানতে পারলুম না।

    বড়দা যুদ্ধে গিয়ে বাড়িতে প্রত্যেক সপ্তাহেই চিঠি পাঠাত। বেশ ভাল আছে বড়দা, খুব আরামে আছে। কোনও কষ্ট হচ্ছে না। চিঠিটা পড়ে বাবা-মা খুশি হত।

    আর প্রত্যেক মাসে বাবার নামে বড়দার মাইনের টাকাটা চলে আসত। একেবারে পুরো দু’ হাজার টাকা। বাবা সে-টাকাটা বড়দার নামে ব্যাঙ্কে গিয়ে জমা রেখে দিয়ে আসতেন। আর পাড়ার প্রত্যেকটা লোককে জানিয়ে আসতেন ছেলের চিঠি আসার কথা। যারা বেশি আগ্রহী তারা আবার চিঠিটা পড়ত। পড়াত। অন্য লোকদের শোনাত।

    কখনও চিঠি আসত ফ্রান্স থেকে, কখনও বা আবার লন্ডন। আন্দাজে বুঝে নিতে হত কোথায় বড়দা আছে। কারণ মিলিটারিতে ঠিকানা দেওয়া বারণ।

    বাবাও চিঠির উত্তর দিতেন—আমরা সবাই ভাল আছি, তুমি নিজের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেবে, আর যদি কিছুদিনের ছুটি পাও তো একবার বাড়িতে আসিবে। তোমার মা তোমাকে দেখিবার জন্য বড়ই ব্যাকুল।…

    এইরকম চিঠি কিছুদিন ধরে চলল। বাবা প্রত্যেকদিন খবরের কাগজ খুলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েন। কাদের জয় হচ্ছে আর কারা হারছে এ নিয়ে গবেষণা করেন, মা’র সঙ্গে, পাড়ার লোকের সঙ্গে আলোচনা করেন। শহরের সবাই যখন চাইছে জার্মানি যুদ্ধে জিতুক, বাবা-মা তখন চাইছে ইংরেজ জিতুক। কারণ ছেলের চাকরি ইংরেজদের দলে।

    আর শুধু খবরের কাগজ নয়, রেডিয়ো শোনাও তখন প্রায় বাতিকে দাঁড়িয়ে গেছে। যখন জার্মানদের জেতার খবর আসত তখন আমাদের খারাপ লাগত, আর ইংরেজদের জেতার খবর আসত তখন আমরা খুশি হতুম।

    একদিন চিঠি এল বড়দা ক্যাপ্টেন হয়েছে। মাইনে আরও এক হাজার টাকা বেড়েছে।

    এক-একবার বড়দার চাকরিতে উন্নতি হয় আর মা, মা-কালীর মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসে। যেন ছেলের আরও উন্নতি হয় মা, ছেলে যেন আমাদের মুখোজ্জ্বল করে মা, ছেলে যেন সুস্থ শরীরে বাড়িতে ফিরে আসে!

    তা মা-কালী মা’র সে প্রার্থনা শুনল কি না কে জানে। আমরা শুধু পুজোর প্রসাদ খেলুম।

    এরপরে হঠাৎ খবর আসতে লাগল জার্মানি হারছে। ইটালি হারছে। জাপান হারছে। আমেরিকা ইংরেজদের দলে ভিড়ে পড়েছে।

    বাবা তো আনন্দে একেবারে লাফাতে লাগলেন। ইংরেজদের জয় যেন তাঁর নিজের ছেলের জয়।

    তখন জিনিসপত্রের দাম দিন দিন বাড়ছে, দেশে বোমা পড়ছে, কলকাতা শহর থেকে লোকে ভয়ে পালাচ্ছে। কত সব দুর্যোগ গেল সে ক’বছর। কিন্তু বড়দা’র দৌলতে আমাদের সংসারে তখন কোনও অভাব অভিযোগ নেই, বড়দার মাইনের অজস্র টাকা ব্যাঙ্কে জমে গেছে।

    সেই যুদ্ধের শেষের দিকে যখন ইংরেজদের জয়-জয়কার, তখন একদিন বড়দার একখানা চিঠি এল। তাতে বড়দা লিখেছে—আমি পনেরো দিনের ছুটিতে দেশে যাচ্ছি। আসছে মাসের দশই সন্ধের ট্রেনে আমি বাড়িতে পৌছুব। স্টেশন থেকে আমাদের মিলিটারি গাড়িতে সোজা বাড়ি পৌছুব, ট্রেন যদি ঠিক সময়ে পৌঁছয় তো রাত ন’টার মধ্যেই আমি পৌঁছুব—

    চিঠিটা পড়ে খানিকক্ষণ কারও মুখেই কোনও কথা বেরোল না। আনন্দে মানুষ অনেক সময় বোধহয় বাবাও হয়ে যায়। আমার বাবা-মা’র অবস্থাও বোধহয় সেইরকম হয়ে গিয়েছিল।

    যখন অনেকক্ষণ সময় কেটে গেল তখন বাবা বললেন—আজ হল সাতুই, আর নীলু আসবে দশুই—আর তিন দিন বাকি—

    তিনটে দিন। তিনটে দিন যেন তখন আমাদের কল্পনায় তিন বছর মনে হল। সেই তিনটে দিন যেন আর কাটতে চায় না। বড়দা আসবে! বড়দা এত বছর পরে বাড়ি আসবে। এ যেন হাতে চাদ পাওয়ার মতো ঘটনা। নীলু এলে বাবা যে কী করবেন তারই প্ল্যান করতে লাগলেন। নীলু যা যা খেতে ভালবাসে সেইসব জিনিসের তালিকা তৈরি হল।

    তপসে মাছ ভাজা। তপসে মাছ ভাজা খেতে নীলু বড় ভালবাসত।

    আর কী খেতে ভালবাসত গো?

    মা বললে—ল্যাংড়া আম—

    বাবা বললেন—ল্যাংড়া আম এখন কোথায় পাব?

    মা বললে—সরভাজা, সরপুরিয়া—

    কিন্তু সে-সব এখন কোথায় পাব?

    ল্যাংড়া আম তখন বাজারে পাওয়া যায় না। আমের সময় চলে গিয়েছে। কিন্তু চেষ্টা করলে কী না পাওয়া যায়। এখনও তিন দিন সময় আছে! এই তিন দিনের মধ্যে কলকাতায় চলে গেলে সবই পাওয়া যাবে। কলকাতা শহরে পয়সা ফেললে কী না পাওয়া যায়? চেষ্টা করলে সেখানে ঘোড়ার দুধও পাওয়া যায়।

    তা বাবা আর দেরি করলেন না। ন’ তারিখে সকালবেলার ট্রেনেই কলকাতায় চলে গেলেন। সেখানে এক দিনে সব কেনাকাটা করে দশ তারিখে সকালবেলাই এসে পৌঁছলেন। ল্যাংড়া আম, তপসে মাছ, সরপুরিয়া, সরভাজা। আর তার সঙ্গে কিসমিস, পেস্তা, বাদাম, আঙুর, আপেল, কমলালেবু। সবগুলোই দামি জিনিস।

    সকাল থেকেই রান্নার আয়োজন চলল। পাড়ার যার সঙ্গে দেখা হয় তাকেই বলেন—জানেন চাটুজ্জেমশাই, আমার নীলু আসছে আজ রাত্তিরে—

    —নীলু আসছে?

    —হ্যাঁ, এখন সে কর্নেল। কর্নেল নীলরতন মিত্র। আমার ছেলে কর্নেল হয়েছে। জানেন তো?

    চাটুজ্জেমশাই, গাঙ্গুলিমশাই, বোসমশাই সবাইকেই বাবা খবরটা দিলেন। আমিও খবর দিলুম আমার সব বন্ধুদের। সবাইকেই বললুম—আমার বড়দা আসছে ছুটিতে, এখন কর্নেল হয়েছে—

    নিজেদের ঐশ্বর্যের কথা যদি লোককে জানাতেই না পারলুম তো কীসের আনন্দ। আসলে পাড়ার লোকরা কিন্তু খবরটা শুনে খুব খুশিই হল। আমার বাবা ছিলেন সকলের প্রিয়। মিত্তিরমশাই-এর কিছু ভাল হলে সবারই আনন্দ হত।

    মা তো সেদিন সকাল থেকেই ব্যস্ত। বড়দা কোন ঘরে শোবে, কী খাবে, কীরকম দেখতে হয়েছে তাকে এইসব কথাই হতে লাগল বাবা-মা’র মধ্যে! শুধু তো সাধারণ ছেলে নয় নীলু, কর্নেল ছেলে। সুতরাং তার খাতিরই আলাদা। খোকা এলে তাকে সকলের বাড়িতে বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে। চাটুজ্জেমশাই-এর বাড়িতে আগে যেতে হবে। বাবা। বলবেন—চাটুজ্জেমশাইকে প্রণাম করো, জ্যাঠামশাই-এর আশীর্বাদেই তুমি এত বড় হয়েছ—

    চাটুজ্জেমশাই জিজ্ঞেস করবেন—বেশ বেশ খুব ভাল, ভাল থাকো বাবা, আরও বড় হও, আশীর্বাদ করছি তুমি রাজা হও, আমাদের দেশের মুখোজ্জ্বল করো—

    তারপর নিয়ে যাবেন মুখুজ্জেমশাই-এর বাড়িতে। এমনি করে সব বাড়িতে গিয়ে বড়দাকে দিয়ে সকলের পায়ের ধুলো নেওয়াবেন।

    কত পরিকল্পনা বাবার। মা রান্না করছিল আর বাবা তাঁর এইসব পরিকল্পনার কথা আলোচনা করছিলেন।

    একবার বললেন—মাংসতে যেন ঝাল দিয়ো না বেশি বুঝলে, নীলু আবার ঝাল খেতে পারে না—

    মা বললে—সে তোমাকে বলতে হবেনা, সে আমি জানি—

    —আর দ্যাখো একটা ভুল হয়ে গেল।

    —কী?

    বাবা বললেন—খোকা যে আনারস খেতে ভালবাসে—আনারসের কথা তো একেবারেই মনে ছিল না।

    বলে আবার বাজারে ছুটলেন। এইরকম এক-একটা জিনিসের কথা মনে পড়ে আর সেইটে আনতে ছোটেন। সারাদিন কেবল এই-ই চলল। বাবারও বিশ্রাম নেই, মা’রও বিশ্রাম নেই। যখন সব কাজ শেষ হল তখন ঘড়িতে সন্ধে সাতটা।

    বাবা ঘড়ির দিকে চেয়ে দেখলেন—এইবার বোধহয় কলকাতায় এসে পৌঁছেছে—

    তারপর ঘড়িতে আটটা বাজল। বাবা বললেন—এতক্ষণে বোধহয় রানাঘাট পৌঁছেছে, আর এক ঘণ্টার রাস্তা।

    রানাঘাট থেকে বাজিতপুরে পৌঁছতে এক ঘণ্টা সময় লাগবে। পিচের রাস্তা। জিপ গাড়িতে করে আসবে লিখেছে একেবারে হু হু করে এসে পৌঁছুবে। রান্নাবান্না সব তৈরি। মুখুজ্জেমশাই, চাটুজ্জেমশাই, গাঙ্গুলিমশাই, সব বাবার বন্ধুরাও বাড়িতে এলেন। নীলুকে দেখবেন। নীলুকে আশীর্বাদ করবেন। সবাই ঘড়ি দেখছেন।

    আটটা বাজল ঘড়িতে। ন’টা। এইবার আসার সময় হল। বাবা সদর দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। মিলিটারি গাড়ি হু হু করে চলে আসবে। এ তো ট্যাক্সি নয়, বাসও নয় যে থেমে থেমে আসবে। মিলিটারি গাড়িকে থামাবে এমন ক্ষমতা পুলিশেরও নেই। আর গাড়িতে যে আসছে সে-ও যে সে লোক নয়, কর্নেল। একেবারে মাথা! সকলের হেড।

    কিন্তু কোথায় কী? চারদিকে অন্ধকার। ঝাঁ-ঝাঁ অন্ধকার। কোথাও কিছু দেখা যায় না।

    চাটুজ্জেমশাই বললেন—অত ভাবছেন কেন মিত্তিরমশাই, ট্রেন হয়তো কলকাতায় দেরি করে পোঁছেছে—

    তা হবে। বাবা ভাবলেন, তা হবে। রেলের তো ব্যাপার সব। আজকাল যুদ্ধের সময় সব কাজ কি আর ঠিকমতো চলছে। হয়তো ট্রেনই দেরি করে আসছে!

    শেষকালে রাত দশটাও বাজল। চাটুজ্জেমশাই, মুখুজ্জেমশাই, গাঙ্গুলিমশাই একে একে সবাই চলে গেলেন। আজ থাক। হয়তো মাঝ রাত্রে এসে পৌঁছবে ছেলে। কাল সকালবেলাই আবার না-হয় আসব। তখন দেখে যাব নীলুকে। আশীর্বাদ করে যাব তাকে।

    মা বললে—আরও কিছুক্ষণ দেখা যাক—এখনও আসবার সময় আছে, সে না এলে খাব না—

    বাবা বললেন—তা হলে বিলুকে খেতে দাও, ওর ঘুম পাচ্ছে, ও খেয়ে নিয়ে ঘুমোতে যাক, নীলু এলে ওকে ডেকে তুলবোখন—

    আমি বললুম—না, আমার ঘুম পাচ্ছে না, আমি এখন খাব না, বড়দা এলে তখন একসঙ্গে খাব—

    তখন এগারোটা বাজল ঘড়িতে। সারা পাড়াটা নিঝুম হয়ে এল। আমরা তিনজন, আমি বাবা আর মা, তিনজনেই বড়দার আশায় জেগে বসে রইলুম। কোথায় হঠাৎ কিছু শব্দ হয় আর আমরা আনন্দে চমকে উঠি। ভাবি ওই বুঝি বড়দা এল।

    কিন্তু না, একটা বেড়াল ছাদ থেকে ভাঁড়ার-ঘরের টিনের চালের ওপর লাফিয়ে পড়েছিল, ওটা তারই শব্দ।

    কিন্তু আর কতক্ষণ বসে থাকব। বাবার মুখটা ক্রমেই গম্ভীর হয়ে আসছে। মা’র চোখ দুটো ছল ছল করতে শুরু করেছে।

    বাবা মা’কে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন—তুমি অত ভাবছ কেন, নীলু আসবে ঠিক, তুমি ভেবো না। মিলিটারি না? হুট করে আসব বললেই কি আর আসতে পারে? কাজকর্ম সব অন্য লোকদের বুঝিয়ে তবে তো আসবে! আর এখনই তো তার ঘাড়ে বেশি দায়িত্ব। এখন তো জাপানিরা যুদ্ধে হেরে গেছে। তোমার ছেলে কি সোজা ছেলে ভেবেছ? ব্রিটিশ রাজত্বটাই তো এখন নীলুর ওপর নির্ভর করছে, বলতে গেলে সে-ই তো সব একলা চালাচ্ছে—

    বলতে বলতে হঠাৎ কী একটা যেন শব্দ হল।

    আমরা আবার চমকে উঠলাম। ভাবলাম আবার হয়তো আর একটা বেড়াল লাফিয়ে পড়েছে ভাঁড়ার-ঘরের টিনের চালের ওপর!

    কিন্তু না, হঠাৎ দেখি বড়দা।

    —খোকা, তুই এলি? কী করে এলি? আমরা তো কই গাড়ির শব্দ পেলুম না।

    বড়দা হো হো করে ঘর ফাটিয়ে হেসে উঠল।

    হাসি থামিয়ে বললে—আমি তো খিড়কির পাঁচিল লাফিয়ে ঢুকেছি—

    —কেন রে? সদর-দরজা তো খুলে রেখেছিলুম, খিড়কির পাঁচিল ডিঙিয়ে এলি কেন?

    বড়দা বললে—তোমাদের চমকে দেবার জন্যে! যুদ্ধে গিয়ে আমাদের এরকম কত বাড়ির পাঁচিল ডিঙোতে হয়েছে, এসব অভ্যেস হয়ে গেছে আমার—

    —কিন্তু গাড়ির শব্দ শুনতে পেলুম না তো কই?

    বড়দা বললে—গাড়িটা মোড়ের মাথায় ছেড়ে দিলুম। ওকে আবার এক্ষুনি কলকাতায় ফিরতে হবে, সেখানে অনেক জরুরি কাজ আছে আমাদের, আমি এটুকু হেঁটেই এলুম।

    বাবা উঠলেন। বললেন—থাক থাক, এখন আর কথা নয়, তুমি জামাকাপড় বদলে নাও, চান করবার গরম জল তৈরি, তারপর খেতে খেতে গল্প করা যাবে—

    মা’র দিকে চেয়ে বললেন—দাও আমাদের সকলকে খেতে দাও—

    আমি বড়দার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে দেখছিলুম। কী চমৎকার দেখতে হয়েছে বড়দাকে। ফরসা রং ছিল গায়ের, এখন তামাটে হয়ে গেছে। কিন্তু কী মজবুত শরীর, কী স্বাস্থ্য। মাথার চুলগুলো ছোট করে ছাঁটা। গায়ে খাকি পোশাক। বুকে কতগুলো মেডেল, দু’কাঁধে কতগুলো স্টার। বড়দাকে দেখে আমার খুব গর্ব হচ্ছিল। আমারই তো বড়দা। আপন মায়ের পেটের বড়ভাই।

    বড়দা আমার দিকে চেয়ে হঠাৎ বললে—কী রে বিলু, তুই কত বড় হয়েছিস? লেখা-পড়া করছিস তো মন দিয়ে? খুব মন দিয়ে লেখাপড়া করবি, আর ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করবি, শরীরটাকে ফিট রাখবি। এরকম রোগা কেন তুই?

    বলে আমার বুকে একটা ঘুসি মারলে।

    মা বললে—নাও, অনেক রাত হয়ে গেল, তুই চান করে নে, খেতে খেতে গল্প করবি, এখন ওঠ—উঠে পড়—

    বড়দা বাথরুমে গিয়ে চান করতে ঢুকল। ততক্ষণে মা আমাদের সকলের খাবার দিয়ে দিয়েছে। আমরা সবাই একসঙ্গে বসে বসে খেতে লাগলুম। বড়দা কত গল্প করতে লাগল। কোথায় প্যারিস, কোথায় লন্ডন, কোথায় ইতালি, আফ্রিকা। সব জায়গায় কী কী ঘটেছে, সেখানে গিয়ে কী কী দেখেছে তার গল্প বলতে লাগল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। কখন কবে কী বিপদের মধ্যে পড়েছে, কী করে হাজার হাজার জার্মানকে মেরেছে তারই গল্প। কী করে বর্মা মালয় সিঙ্গাপুর দখল করেছে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব বলতে লাগল।

    মা বললে—ওরে, গল্প এখন থাক, আগে খেয়ে নে, কাল সকালে উঠে যত খুশি গল্প করিস, শুনব। ওদিকে রাত বারোটা বেজে গেছে তা জানিস?

    কিন্তু বড়দা কি আর থামে? এত বছর পরে বাড়িতে এসেছে, এত বছর পর ছুটি পেয়েছে। যত গল্প মনে জমে ছিল সব বলতে লাগল।

    শেষকালে যখন রাত একটা তখন বাবা বললেন—না না, আর নয় খোকা, তুমি শুয়ে পড়ো গিয়ে, তোমার ঘরে বিছানা করা আছে, সারাদিন খাটুনি গেছে, এখন ঘুমোও গে যাও—

    বড়দা ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল। তারপর মা নিজেও খেয়ে নিলে। আমিও বাবার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লুম। তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছি আর আমার জ্ঞান নেই—

    হঠাৎ সদর দরজার কড়া নাড়ার শব্দে আমরা সবাই ধড়মড় করে জেগে উঠেছি।

    বাবা জিজ্ঞেস করলেন—কে?

    —টেলিগ্রাম!

    মা’ও অবাক হয়ে গেছে। মা’ও শুনতে পেয়েছে শব্দটা! বাবা মা আমি তিনজনেই জেগে উঠে সদর দরজায় গিয়ে হাজির হয়েছি। রাত তখন বোধহয় তিনটে। সেই অত রাত্রেই কার টেলিগ্রাম? নিশ্চয়ই খোকার! হয়তো খোকার ছুটি বাতিল হয়ে গিয়েছে। হয়তো ওপরওয়ালা সাহেব খোকাকে জরুরি তলব দিয়ে ডেকে পাঠিয়েছে। হয়তো যুদ্ধের কোনও জায়গায় জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

    বাবার হাত কাঁপছিল। বাবা টেলিগ্রামের রসিদে সই করে খামটা নিয়ে খুলে ফেললেন।

    না, এ তো বাবার নামেই টেলিগ্রাম। এসেছে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম থেকে। তাতে লেখা আছে—আপনার ছেলে কর্নেল মিত্র বর্মার রণক্ষেত্রে ব্রিটিশ-সাম্রাজ্য রক্ষার জন্যে যুদ্ধ করতে গিয়ে সম্মানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছে—

    মা পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। জিজ্ঞেস করলে—কীসের টেলিগ্রাম গো, কে পাঠিয়েছে—

    বাবার গলা দিয়ে আর্তনাদের মতো যেন একটা আওয়াজ বেরোল—ওগো, খোকা নেই—

    —নেই মানে? নেই মানে কী? কী বলছ তুমি?

    —কিন্তু খোকা যে ও-ঘরে ঘুমোচ্ছে।

    বাবা তাড়াতাড়ি বাড়ির ভেতরে এসে বড়দার শোবার ঘরে ঢুকলেন। তাঁর সঙ্গে মা-ও এল, আমিও এলুম।

    কিন্তু কোথায় বড়দা? ঘরটা যে ফাঁকা, বড়দা যে আমাদের সঙ্গে এতক্ষণ কথা বললে, আমরা যে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করলুম। তারপরে যে বড়দা ঘরে শুতে গেল। তা হলে কোথায় গেল সে? তা হলে রাত্রে কে এসেছিল? কার সঙ্গে এত কথা বললুম? সবই কি ভৌতিক কাণ্ড?

    বাবা আর মা তখন সেখানেই অজ্ঞান অবস্থায় মূৰ্ছা গেল।

    এ সেই কতকাল আগেকার ঘটনা। তারপরে কত মাস কেটে গেছে, কত বছর কেটে গেছে। কত বইতে ভূতের গল্প পড়েছি, কত ভূতের গল্পও বন্ধুর মুখে শুনেছি। কখনও তা বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়নি। কিন্তু আমার নিজের জীবনের ছোটবেলাকার এই ঘটনাটার রহস্য আজও ভেদ করতে পারিনি, এখনও বুদ্ধি যুক্তি-বিজ্ঞান দিয়ে এই অলৌকিক ঘটনার কোনও ব্যাখ্যা করতে পারিনি।

    ১৩৮১

    অলংকরণ: মদন সরকার

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }