Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প847 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রেতাত্মার উপত্যকা – ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য

    প্রেতাত্মার উপত্যকা – ক্ষিতীন্দ্রনারায়ণ ভট্টাচার্য

    কঙ্কাবতী আর রঙ্কুলাল দুই পিঠোপিঠি ভাইবোন। ছোটবেলা থেকেই ওরা কথায় কথায় মারামারি করত, আবার আধ ঘণ্টা পরেই গলাগলি ভাব। রঙ্কুলালই আগে এসে কথা বলত। কারণ, দিদিকে না হলে তার একদণ্ডও চলে না। যেমন, আধ ঘণ্টা পরেই হয়তো এসে বলত ‘কেন মিছেমিছি আমাকে চটিয়ে দিস? জানিস তো রাগ চণ্ডাল। আর আমরা, ছেলেরা তো একটু মারকুট্টে হয়েই থাকি। তা তোর লাগেনি তো?’ তারপর ফিসফিস করে বলত ‘দিদা তেঁতুলের আচার বানাচ্ছে, আমি দেখে এসেছি। দুপুরে যখন রোদে দেবে তখন মজাসে এক খাবলা তুলে নিয়ে আসব। ওঃ!’ বলেই জিভ দিয়ে ঠোঁটটা একটু চেটে নিত।

    ব্যস, আচারের নাম শুনে কঙ্কাবতী মুহূর্তে গলে জল। বিষ্ণু যেমন নারদের গান শুনে জল হয়েছিলেন প্রায় সেই রকমই আর কী! তারপর ঠোঁটে তর্জনী ঠেকিয়ে চুপ করবাব ইশারা করে ফিসফিস করে বলত, ‘হ্যাঁ, দুপুরে, দিদা ঘুমুলে। এখন তো গরমের ছুটি। তোরও ইস্কুল নেই, আমারও নেই।’

    এ-সব ওদের ছেলেবেলাকার কাহিনী। এখন ওরা দু’জনেই বড় হয়েছে। শুধু বয়সে নয়, বিদ্যেতেও। লেখাপড়ায় দু’জনেই তুখোড়। দু’জনেই ইউনিভার্সিটিতে প্রোফেসারি করছে। তবে ওদের বিষয় এক নয়। রঙ্কুলাল পড়ায় ফিজিক্স অর্থাৎ পদার্থবিজ্ঞান, আর কঙ্কাবতী পড়ায় জুওলজি অর্থাৎ প্রাণীবিজ্ঞান। শুধু পড়ায়ই না, দু’জনেই নিজের নিজের বিষয়ে গবেষণা করে দেশবিদেশে নাম করেছে। প্রায়ই ওদের ডাক পড়ে দূর-দূরান্তরের বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দিতে। ইউরোপের নানা দেশে, আমেরিকায়, কানাডায়, এমনকী দক্ষিণ আমেরিকার অনেক ছোটখাটো রাজ্যেও। আর, মজা, বেশির ভাগ সময়েই ওরা দু’জনে প্রায় একই সঙ্গে এবং একই জায়গায় গিয়ে হাজির হয়। এক জায়গায় না হলেও অন্তত কাছাকাছি জায়গায়, যাতে বক্তৃতা শেষ হলে দু’জনে একসঙ্গে আশপাশের জায়গাগুলো বেড়িয়ে আসতে পারে।

    এই রকমই সেবার ওদের ডাক পড়েছিল উরুগুয়ে ইউনিভার্সিটিতে।

    নতুন ইউনিভার্সিটি। উরুগুয়ের কর্তৃপক্ষ লক্ষ করেছিলেন যে খেলাধুলায়—বিশেষ করে ফুটবল খেলায় ওঁদের ছেলেদের যেমন নামডাক, লেখাপড়ায় তেমনটা হয়নি। দেশকে বড় করতে হলে সবদিক দিয়েই তো তাকে তুলতে হবে। হলই বা সমস্ত দেশটা এই এত্তটুকু, বাহাত্তর হাজার বর্গমাইলের সামান্য একটু বেশি। সমস্ত দেশের জনসংখ্যা একত্র করলে কলকাতা শহরের অর্ধেকও হবে না। কিন্তু তাতে হয়েছে কী? তাই রাজধানী মন্টেভিডিও শহরে তাঁরা একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন এবং প্রায়ই দেশবিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞদের এনে সেখানে বক্তৃতার ব্যবস্থা করছেন। এই সূত্রেই এবার ডাক পড়েছে রঙ্কুলাল আর কঙ্কাবতীর। দু’জনকেই অন্তত পক্ষে গোটা দশেক করে বক্তৃতা দিতে হবে।

    যথাসময়ে নীল আকাশে পাখা মেলে ওদের প্লেন ভেসে চলল এবং যথাসময়ে মন্টেভিডিওর এয়ারপোর্টে নেমেও পড়ল।

    নতুন জায়গা। এর আগে ওরা এ-সব অঞ্চলে আর আসেনি। সমুদ্রের ধারে আধুনিক কেতায় সাজানো গোছানো সুন্দর শহর। ইউনিভার্সিটির বাড়িটিও সমুদ্রের পাড় ঘেঁষে তৈরি হয়েছে। ক্লাস করতে করতেই সর্বদা সমুদ্র চোখে পড়ে। এ-সব জায়গায় বসে পড়াশোনা করতেও যেমন ভাল লাগে, পড়াতেও তেমনি।

    দেখতে দেখতে রঙ্কুলাল আর কঙ্কাবতী দু’জনেরই দশ-দশটা বক্তৃতা দেওয়া শেষ হল। সবাই তারিফ করল ওদের বক্তৃতার, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীরা। ওরা অবশ্য বক্তৃতা দিয়েছিল ইংরেজিতেই, কিন্তু সে-সব বক্তৃতা সঙ্গে সঙ্গে দোভাষীদের দিয়ে অনুবাদ করিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় বুঝতে কারও কোনও অসুবিধা হয়নি। তারপর দিন-দুই ধরে চলল খানাপিনা এবং এটা-ওটা-সেটা। উরুগুয়ে ইউনিভার্সিটি দরাজ হাতে ওদের বেশ মোটা অঙ্কের একটা করে সম্মানদক্ষিণাও দিয়ে দিলেন।

    রঙ্কুলাল বলল, “দিদি, দেশে ফিরবার আগে এ-দেশটা একটু ঘুরে দেখবি না?”

    “নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই, দেখব না মানে? আবার কবে এদেশে আসব তার ঠিক নেই। একেবারেই আসব কি না কে জানে!”

    স্থানীয় ট্যুরিস্ট অফিসই সব ব্যবস্থা করে দিলেন। ওদের ছাত্রছাত্রীরা, যারা ইতিমধ্যেই ওদের ভক্ত হয়ে পড়েছিল, তাদেরও কেউ কেউ বলল, “আমরাও আপনাদের সঙ্গে যাব।” ওদের মধ্যে দু’-চারজন বেশ ইংরেজি বলতে পারত। কিন্তু সকলের জায়গা তো হবে না। কঙ্কাবতী বলল, “দু’জন যেতে পারো। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে।” আর-একটি মেয়ে বেশ চালাক-চতুর। সে বলল, “আমি ঠিক জায়গা করে নেব। আমি তো বেশ রোগা!” তারপর একটি ছেলেকে দেখিয়ে বলল, “ওর মতো হোঁতকা নই। তা ছাড়া, আমি ইংরেজিও জানি। আপনাদের সাহায্য করতে পারব।”

    রঙ্কুলাল বলল, “নিয়ে নাও দিদি, ওকেও। স্থানীয় ভাষা না জানার অসুবিধেটা যে সময় সময় কীরকম বিপজ্জনক হয় তা সেবার কর্ণাটকের ভেতরকার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম। শহরে তেমন অসুবিধে না হলেও একটু ভেতরে গিয়ে দেখি সেখানকার লোকেরা কেউ না বোঝে ইংরেজি, না হিন্দি। বোঝে শুধু স্থানীয় ভাষা। অগত্যা ইশারা-টিশারায় মনের কথা প্রকাশ করতে হয়েছিল। সে-এক ভয়াবহ ব্যাপার।” বলেই রঙ্কুলাল তার স্বভাবসিদ্ধ হাসিমুখে ঘাড়টা একটু দুলিয়ে নিল। তারপর বলল, “হ্যাঁ, ও-ও চলুক।”

    শেষ পর্যন্ত তাই ঠিক হল। ট্যুরিস্ট অফিস থেকে পাওয়া গেল একখানা বড় গাড়ি।

    সমুদ্রের ধার দিয়ে সুন্দর বাঁধানো রাস্তা। ধারে ধারে ছোট ছোট পাহাড়, বোধহয় চুনা পাথরের। সেগুলিকে পাশ কাটাবার জন্য রাস্তা মাঝে মাঝে এঁকেবেঁকে চলেছে সাপের মতো। মোটর ছুটেছে দ্রুতবেগে। সবারই চুল উড়ছে বাতাসে। ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় মন-মেজাজও সবার ভাল।

    হঠাৎ সেই রোগা ছাত্রীটি, তার নাম রেজিনা, ড্রাইভারকে কী বলল। ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে দিল।

    কঙ্কাবতী জিজ্ঞেস করল, “গাড়ি থামালে কেন?”

    “আসুন, একটু কফি খেয়ে নিই। এখানকার কফি খুব নামকরা। আপনাদের ভাল লাগবে, শরীরটাও তাজা লাগবে। সামনেই ওই যে একটা স্টল রয়েছে।”

    সত্যি, দু’-চার কিলোমিটার পর পরই রাস্তার ধারে সাজানো গোছানো একটা করে স্টল ওদের চোখে পড়ছিল। ওখানে চা, কফি ও অন্যান্য পানীয় তো আছেই, তা ছাড়াও কিছু চকোলেট জাতীয় খাবার সাজানো আছে, সাজানো আছে হরেকরকম ম্যাগাজিন আর খবরের কাগজ।

    শেষের দুটি অবশ্য ওদের কাজে লাগবে না। কেননা, ওখানকার ভাষা এখনও ওদের কাছে প্রায় দুর্বোধ। তবে দু’-চারটে সাধারণ কথা ওরা এর মধ্যেই শিখে নিয়েছে।

    দেখা গেল, সঙ্গী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রেজিনাই সবচেয়ে চটপটে। চোখেমুখে কথা বলে বটে, কিন্তু ওই সবচেয়ে কাজের।

    সবাই এক কাপ করে কফি খেয়ে আবার গাড়িতে গিয়ে বসল। সত্যি, রেজিনা ঠিকই বলেছিল, কফি খেয়ে শরীর-মন দুটোই বেশ তরতাজা লাগছে।

    ড্রাইভার এবার গাড়ি ঘুরিয়ে সমুদ্র থেকে দূরে আর-একটা রাস্তা ধরেছিল। রেজিনা বলল, “গাড়ি ঘোরাচ্ছেন কেন? আমরা তো সেই দু’হাজার বছর আগেকার রেড ইন্ডিয়ান সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাচ্ছি, যা নাকি সম্প্রতি মাটি খুঁড়ে বার করা হয়েছে।” তারপর কঙ্কাবতীদের দিকে ফিরে বলল, “দেখলে আপনারা সত্যিই অবাক হয়ে যাবেন। অনেকটা মায়া-সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের মতো। আপনাদের ইন্ডিয়াতেও শুনেছি মহেঞ্জোদরোতে এরকম পাওয়া গেছে! তবে তা বোধহয় আরও অনেক পুরনো।”

    রঙ্কুলাল সুযোগ পেয়ে মহেঞ্জোদারো সম্বন্ধে একটু জ্ঞানদান করার চেষ্টা করতে যাচ্ছিল, কঙ্কাবতী ধমক দিয়ে বলল, “এখন থাম তো! দেখ, সমুদ্র কেমন থেকে থেকে রং পালটাচ্ছে! ও কী, জলের মধ্যে ওটা কী মাথা উঁচু করে রয়েছে?”

    উত্তর দিল ফের রেজিনাই, “ও একটা স্পঞ্জের স্তূপ। এখানকার সমুদ্রের জলে প্রচুর স্পঞ্জ দেখা যায়। অনেক সময় সমুদ্রের পাড় ঘেঁষেও জমে থাকে ওগুলি জলের ওপর মাথা বার করে।”

    কঙ্কাবতী বিজ্ঞের মতো বলল, “হ্যাঁ, স্পঞ্জ তো নানা আকৃতির হতে পারে। আসলে কিন্তু ওরাও একরকম সামুদ্রিক প্রাণী, কিন্তু নড়াচড়া করতে পারে না। ওদের সারা গায়ে অসংখ্য ছিদ্র। তার ভিতর দিয়ে সমুদ্রের জল ক্রমাগত ঢুকছে আর বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই জলে থাকে নানারকম খুদে খুদে সামুদ্রিক পোকা, সেই পোকাগুলিই হচ্ছে ওদের খাদ্য। সমুদ্রের স্রোতই সরবরাহ করার ভার নিয়েছে সেই খাদ্য। নইলে নড়তে-চড়তে না-পারা এই প্রাণীগুলির কী অবস্থাই না হত!”

    রঙ্কুলাল বিজ্ঞের মতো বলল, “বিধাতার কী অদ্ভুত বিধান! এই স্পঞ্জগুলির জল শুষে নেবার ক্ষমতাও দারুণ। আমরা তো এতদিন আঙুল ভেজাবার জন্য টেবিলে এইসব স্পঞ্জই ব্যবহার করে এসেছি। তবে সেগুলোর মধ্যে তখন প্রাণ থাকে না এই যা। কিন্তু ঠিক রবারের মতো। টিপলে আঙুল বসে যায়, আবার আঙুল ছেড়ে দিলেই সেই আগের চেহারা। ইংরেজিতে তোমরা যাকে বলো ‘ইলাস্টিসিটি’, ঠিক তাই। অদ্ভুত এদের ইলাস্টিসিটি।”

    কঙ্কাবতী হেসে বলল, “বাংলায় আমরা একে বলি স্থিতিস্থাপকতা। কিন্তু সে-ভাষা তো আর তোমরা বুঝবে না!”

    “কী বললেন? স্‌-সটিটিস্‌স্‌…” রেজিনা হেসে বলল, “আমরা ওটা উচ্চারণই করতে পারব না।”

    তাকে বাধা দিয়ে এবার একটি ছাত্র প্রশ্ন করল, “আচ্ছা, ইলাস্টিক হওয়ারও তো একটা লিমিট, মানে সীমা বা মাত্রা আছে। কোনও জিনিসই তো সম্পূর্ণ ইলাস্টিক হতে পারে না!”

    কঙ্কাবতী বলল, “হ্যাঁ, তাই তো জানি। তবে সম্পূর্ণ ইলাস্টিক হলে কী অসম্ভব কাণ্ড ঘটতে পারে তার একটা মজার গল্প আছে।

    “এক বিজ্ঞানী নানা গবেষণার পর এমন একটা জিনিস তৈরি করলেন যা নাকি সত্যি-সত্যিই নিখুঁত ইলাস্টিক। সেই জিনিসটা দিয়ে একজোড়া জুতোর ‘সোল’ তৈরি করালেন তিনি। তারপর পরীক্ষার জন্য নিজেই সেই জুতো পরে আমেরিকার একটা তিরিশতলা বাড়ির জানলা দিয়ে লাফিয়ে পড়লেন নীচে, রাস্তায়। কিন্তু, যেহেতু তাঁর জুতোর তলাটা নিখুঁত ইলাস্টিক জিনিস দিয়ে তৈরি, তাই রাস্তায় নামা মাত্র সেটা তাঁকে আবার ঠেলে তুলে দিল তিরিশতলা উঁচুতে। সেখানে উঠেই আবার তিনি আপনা আপনি নেমে এলেন রাস্তায়, সঙ্গে সঙ্গে আবার তাঁকে ঠেলে তুলে দিল সেই তিরিশতলার মাথায়। এইভাবে ক্রমাগত চলতে লাগল ওঠা আর নামা। দেখতে দেখতে রাস্তায় ভিড় জমে গেল, কিন্তু কেউ তাঁর ওঠা-নামা থামাতে পারল না।”

    “শেষটা কী হল তা হলে? ভদ্রলোক উদ্ধার পেলেন কী করে?”

    “সে আর বোলো না। কয়েকদিন ধরে এই ব্যাপার চলতে লাগল। শেষে—”

    রঙ্কুলাল কথাটা শেষ করল, “সে এক ট্র্যাজেডি। উপায়ান্তর না দেখে শেষ পর্যন্ত ওই বিজ্ঞানীকে গুলি করতে হল। গুলি খেয়ে তিনি কাত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। জুতোর তলাটা আর তখন রাস্তার সংস্পর্শে রইল না। ফলে, তিনি লাফানো থেকে নিষ্কৃতি পেলেন।”

    “কিন্তু গুলি খেয়ে প্রাণে বাঁচলেন কি?”

    “তা কি আর কেউ বাঁচে?” কঙ্কাবতী গম্ভীরভাবে জবাব দিল।

    মোটর এদিকে ছুটে চলেছে সমানে। হঠাৎ ড্রাইভার গাড়িটাকে তীব্রবেগে বাঁ দিকে ঘুরিয়ে দিল, সমুদ্রের ধার দিয়ে যে রাস্তা চলে গেছে তারই থেকে বেরিয়ে-আসা অন্য একটা রাস্তায়।

    রঙ্কুলালের জিজ্ঞাসাসূচক দৃষ্টি দেখেই রেজিনা ড্রাইভারকে প্রশ্ন করল, “হঠাৎ গাড়িটা ওই রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলেন যে?”

    ড্রাইভার উত্তরে কী যেন বলল। রেজিনা মন দিয়ে শুনল, তারপর রঙ্কুলালদের বুঝিয়ে দিল ব্যাপারটা। “ওদিকে গেলে ওই পাহাড়গুলোর ভেতর দিয়ে যেতে হবে। কিন্তু সে রাস্তা একদম বন্ধ। আসলে কী জানেন, ওখানে একটা উপত্যকার মতো অদ্ভুত একটা জায়গা আছে। চারদিকে এমন উঁচু উঁচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা যে, ভিতরে ঢোকা অসম্ভব। আর ও জায়গাটার নামও প্রেতাত্মার উপত্যকা। লোকে বলে ওটা সত্যি সত্যি ভূতের আস্তানা। ওখানে দিবারাত্র ভূতের কান্না, হাসি আর কত কী তর্জন-গর্জন শোনা যায়। দিনের বেলা ততটা নয়; কিন্তু রাতের দিকে, যখন সমুদ্র ছাড়া আর সব চুপচাপ, তখন সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়েও ওইসব শব্দ প্রচণ্ডভাবে বেড়ে যায়। বহু বহু বছর ধরে এইরকম চলছে। আমরা ছোটবেলা থেকে এর গল্প শুনে আসছি, আমাদের বাবা-মায়েরাও, এমনকী দাদু-দিদারাও। কিন্তু কেউ কখনও এ-তল্লাটে আসেনি। আর, সত্যি বলতে কী, কেউ কখনও এদিকে আসতেও চায় না। কার দায় পড়েছে শখ করে জেনেশুনে বিপদের মধ্যে মাথা গলাতে? তাই ড্রাইভার গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য পথ ধরেছে। ওটা এড়িয়ে গিয়ে পরে আবার সমুদ্রতীরের নিশ্চিন্ত পথ ধরবে।”

    “উঁহু!” সজোরে চেঁচিয়ে উঠে ড্রাইভারের কাঁধে হাত দিয়ে গাড়ি থামিয়ে দিল রঙ্কুলাল। বলল, “কখনও ভূত দেখিনি। একেবারে ভূতের রাজ্যে এসে স্বচক্ষে ভূত না দেখে যাচ্ছি না। গাড়ি ঘোরাতে বলো। আমরা ওই প্রেতের উপত্যকা দেখে যাব।”

    ড্রাইভারের আতঙ্কিত মুখের দিকে তাকিয়ে কঙ্কাবতী বলল, “ওরা বোধহয় ভয় পাচ্ছে। গাড়িটা না হয় এখানেই থাকুক। চল, আমি আর তুই ঘুরে দেখে আসি জায়গাটা।” রেজিনার দিকে ফিরে বলল, “তোমরা ওই সামনের স্টলে গিয়ে বোসো। বরং আর একবার চা কি কফিটফি যা হয় খেয়ে নাও, গল্পগুজব করো। আমাদের হয়তো খুব দেরি হবে না। খুব বড় জায়গা বলে তো মনে হচ্ছে না। ধরো, ঘণ্টাখানেক? তবে পায়ে হেঁটে যাব তো, একটু এদিক-ওদিকও হতে পারে। আমাদের দেরি দেখলে ফেলে চলে যেয়ো না যেন আবার!”

    রেজিনার মুখে আতঙ্কের ছায়া ঘনিয়ে উঠল। “না, তা যাব না। কিন্তু আপনারা কি সত্যি ফিরতে পারবেন? ওখানে কয়েকশো বছরের মধ্যে কোনও জীবন্ত মানুষ গেছে বলে শুনিনি। গিয়ে থাকলেও তারা আর ফেরেনি। তা ছাড়া ভেতরে ঢুকবার রাস্তাও নাকি নেই!”

    “সে আমরা ঠিক খুঁজে বার করে নেব। কিংবা, দরকার হলে, কিছুটা পাহাড় টপকেই চলে যাব। আমাদের দু’জনেরই পাহাড়ে চড়ার ট্রেনিং নেওয়া আছে।”

    রঙ্কুলাল কোনও ব্যাপারে জেদ ধরলে তাকে যে থামানো যায় না তা কঙ্কাবতীর অজানা নয়। সে গাড়ি থেকে নেমে পড়ল। রঙ্কুলালকে ডেকে বলল, “আয় রঙ্কু, আয়! আর ওই ঝোলানো ব্যাগটাও সঙ্গে নে। কী জানি, কখন কী দরকার হয়।”

    ব্যাগ বলতে ওদের বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের ছোট একটা মিনি ল্যাবরেটারি। গ্যাস মাস্ক থেকে শুরু করে অক্সিজেনের বোতল আর এটা-ওটা-সেটা। তবে খুব ভারী নয়। দু’জনে পালা করে বয়ে নিয়ে যেতে পারবে অনায়াসেই। সকলের আপত্তি অগ্রাহ্য করে ওরা হাঁটতে শুরু করল। গাড়িটা ধীরে ধীরে একটু দূরের একটা স্টলের কাছে গিয়ে দাঁড়াল।

    সত্যি, এ-এক আশ্চর্য জায়গা। এমনটা ওরা কখনও দেখেনি। এলাকাটা দুর্ভেদ্য প্রাচীরের মতো পাহাড় দিয়ে ঘেরা। কোথাও ঢুকবার কোনও পথ আছে বলে মনে হল না। কিন্তু মনে হল, ভেতর থেকে কিছু অস্পষ্ট আওয়াজ যেন ভেসে আসছে। কখনও আর্তনাদ, কখনও অট্টহাসি, কখনও আবার করুণ কান্নার স্বর।

    রঙ্কুলাল জোর দিয়ে বলল, “নিশ্চয় ভিতরে ঢুকবার কোনও-না-কোনও পথ আছে। এ তো প্রাকৃতিক ব্যাপার, কেউ বানায়নি। কাজেই নিশ্চিদ্র এ-কথা আমি মানতে রাজি নই। একটু খুঁজে দেখতে হবে। তা ছাড়া ভেতরের ফাঁকা জায়গাটাকে উপত্যকা বলা হলেও মনে হচ্ছে খুবই ছোট। লম্বায় একশো মিটার বা ওইরকম, চওড়াও তার কাছাকাছি।”

    আশ্চর্য, একটু খুঁজতেই দেখা গেল দুটো পাহাড়ের জোড়ের মুখে কয়েকটা বড় বড় গাছ ঘন-সন্নিবিষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখলেই বোঝা যায় গাছগুলির বয়সও নেহাত কম নয়। কিন্তু গাছ যখন গজিয়েছে, তখন একটা ফাটলও নিশ্চয়ই আছে। বোধহয় গাছের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে।

    দু’জনেই গাছে উঠতে ওস্তাদ। রঙ্কুলাল ব্যাগটা পিঠে ঝুলিয়ে তরতর করে উঠে পড়ল একটা গাছে। পেছন পেছন কঙ্কাবতীও।

    সত্যি, যা ভেবেছিল তা-ই। গাছের আড়ালে চাপা রয়েছে একটা সরু ফাটল। চেষ্টা করলে কাত হয়ে তার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া যায়। খানিকটা কসরত করে ওরাও ঢুকে গেল সেই ফাটলে, তারপর গাছ বেয়েই নেমে পড়ল সেই ফাঁকা উপত্যকায়।

    তারপরেই ভয়ে ওদের মুখ শুকিয়ে গেল। যে-আওয়াজটা বাইরে থেকে এতক্ষণ অস্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল, এবার তা-ই শোনা যেতে লাগল বিকটভাবে। কী অদ্ভুত শব্দ! যেন একসঙ্গে হাজারটা লোক চেঁচামেচি করছে। কখনও হাসির শব্দ, কখনও গোঙানি। তারই মধ্যে চলেছে দুর্বোধ ভাষায় চিৎকার, শাসানি, বহুলোকের একসঙ্গে ঝগড়া।

    “দিদি, ভয় পাচ্ছিস?” ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করল রঙ্কুলাল।

    “না, ভয় কীসের!” ভয়ার্তকণ্ঠে বলল কঙ্কাবতী। তারপরেই হঠাৎ যেন প্রচণ্ড একটা দম নিয়ে বলল, “কিন্তু শব্দই শোনা যাচ্ছে শুধু। বোধহয় পায়ের দুপদুপ আওয়াজও আছে তার মধ্যে, কিন্তু চোখে তো কিছুই দেখতে পাচ্ছি না! নিশ্চয় একটা রহস্য আছে এর মধ্যে।”

    রঙ্কুও যেন এবার একটু দম নিয়ে বলল, “সেইটিই তো উদ্ধার করতে হবে। কী নাম বলল যেন এ-জায়গাটার? গোস্ট ভ্যালি, অর্থাৎ প্রেতাত্মার উপত্যকা? তুই কি প্রেতাত্মা মানিস?”

    কঙ্কাবতীও ততক্ষণে একটু সামলে নিয়েছে। এবার বিজ্ঞের মতো বলল, “বিজ্ঞানীরা কখনও হাতেনাতে প্রমাণ না পেলে কিছু মানে না।”

    “হ্যাঁ, আজ দেখা যাবে পরখ করে। প্রেতাত্মাদের কণ্ঠস্বর ছাড়া তাদের উপস্থিতির আর কোনও পরিচয় তো পাচ্ছি না। ওরা কি রাত না হলে বার হয় না?”

    ততক্ষণে দু’জনের মনেই বেশ সাহস এসে গেছে। প্রথম দিকের আচমকা ভয়ের ভাবটা কেটে গেছে। ওরা ঘুরে ঘুরে সমস্ত জায়গাটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করে দিয়েছে।

    ভেতরটা একদম জনশূন্য। কিন্তু বেশ বোঝা গেল চিরকাল এমনটা ছিল না। ইতস্তত ছড়ানো বেশ কিছু পরিত্যক্ত বাড়ির ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ল ওদের। কবে, কতদিন আগে এখানে লোকবসতি ছিল কে জানে! তবে বহুদিন যে কেউ এখানে ঢোকেনি তা স্পষ্ট বোঝা গেল। এক জায়গায় দেখা গেল বেশ কিছু উঁচু-উঁচু নারকেলজাতীয় গাছ, যা সমুদ্রের আশপাশে আপনি গজায়।

    “দেখ, দেখ, দিদি, ওই বাড়িটার ভাঙা বারান্দায় ওগুলি কী পড়ে আছে! বেশ কয়েকটা খুব মরচে-ধরা তির আর লম্বা লম্বা পাখির পালক, যা রেড ইন্ডিয়ানরা আজও মাথায় পরে। তা হলে এ-জায়গাটায় একসময় রেড ইন্ডিয়ানদেবই আস্তানা ছিল বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু কোথায় গেল ওরা? কেনই বা গেল?”

    এ-দিকে সেই রহস্যজনক শব্দ কিন্তু সমানে শোনা যাচ্ছে।

    কঙ্কাবতী বলল, “হাসিকান্না, গোঙানি ছাড়া আর যে-সব গোঙানি শুনছিস ওগুলি বোধহয় সেই রেড ইন্ডিয়ানদেরই ভাষা। অর্থাৎ, ভূত হলে ওবা সব রেড ইন্ডিয়ান ভূত।”

    ওদের দু’জনকেও কিন্তু একটু জোর দিয়ে কথা বলতে হচ্ছিল। নইলে ওই শব্দের মধ্যে কেউ কারও কথা শুনবে কী করে?

    রঙ্কুলাল বলল, “সময় নষ্ট করে লাভ নেই, চল, ওই পাহাড়ের দেওয়ালটার কাছে যাই, যদি কিছু হদিশ মেলে।”

    দু’জনে এগিয়ে এল একটা উঁচু পাহাড়ের দেওয়ালের পাশে। রঙ্কু বলল, “দেখ, এখানে মাটিতে কী ভীষণ বালি জমে আছে। সমুদ্রের বালি। তা হলে এক সময় সমুদ্রের জল হয়তো এখানে ঢুকে গিয়ে জায়গাটা ভাসিয়ে দেয়। লোকেদের পালানোর একটা কারণও হতে পারে। সমুদ্র এখন সরে গেছে, কিন্তু লোকজন কেউ আর ফিরে আসেনি।”

    পাহাড় দেখে ওরা আরও অবাক। পাহাড়ের সারা গা জুড়ে কীসের যেন একটা কালচে আস্তর। পাথরের নয়, অন্য কিছুর। রঙ্কুলাল কাছে গিয়ে অনেকক্ষণ পরীক্ষা করল। আঙুল দিয়ে টিপে দেখল, আঙুল সবটা বসে যাচ্ছে কিন্তু ছেড়ে দিতেই আবার যেমন-কে-তেমন। ঠিক যেন চটচটে রবারের মতো কিছু দিয়ে মোড়া। রঙ্কুলাল ব্যাগ থেকে একটা হাতুড়ি বার করল, যার একদিক বাটালির মতো, অন্যদিক হাতুড়ির মতো, ভূবিজ্ঞানীরা যে ধরনের হাতুড়ি ব্যবহার করেন। পাহাড়ের গায়ে ঠুকঠুক করে সেই হাতুড়ি চালিয়ে দেখা গেল কালো আস্তরের নীচে রয়েছে সত্যিই পাথর।

    ‘এঃ, এ তো দেখছি চুনা পাথরই বটে! সমুদ্রের ধারে ওই রকমই তো হবার কথা। কিন্তু সমস্ত পাথরের গায়ে ওইরকম কালচে রবারের মতো আস্তর এল কোত্থেকে? খুব পুরু মনে হচ্ছে। আধ মিটার তো হবেই, কোনও কোনও জায়গায় এক মিটারেরও বেশি হতে পারে।”

    “দাঁড়া, আমাকে দেখতে দে।” কঙ্কাবতী এবার ঝোলানো ব্যাগ থেকে একটা পুরু লেন্স বার করে নিয়ে আস্তরগুলো পরীক্ষা করতে লাগল। “আরে এ তো মনে হচ্ছে স্পঞ্জ। সমস্ত পাহাড়টার গা জুড়ে স্পঞ্জ এসে বাসা বেঁধেছে, তাই চটচটে রবারের মতো লাগছে। চল তো, ওই দিকটার পাহাড়গুলো দেখি।”

    সব দিকেই এক ব্যাপার। সব ক’টি পাহাড়ের গা-ই পুরু স্পঞ্জের আবরণে ঢাকা।

    কঙ্কাবতী বলল, “বুঝেছি। এ-জায়গাটায় সমুদ্রের জল ঢুকে পড়ায় লোকজন সব পালিয়েছে। সমুদ্রের জলের সঙ্গে এসেছে স্পঞ্জ। আর, স্পঞ্জের যা নিয়ম, একটা কিছু অবলম্বন পেলেই নিজেদের সেখানে আটকে রাখবে। পাহাড়গুলো পেয়ে তাদের সুবিধে হয়েছে খুব। তবে এত এত স্পঞ্জ জমতে নিশ্চয়ই কয়েকশো বছর লাগবার কথা। সেই ফাঁকে চুনা পাথরগুলোও ফাঁকে-ফোকরে ক্রমাগত জমতে জমতে জায়গাটাকে প্রায় নিশ্চিদ্র করে ফেলেছে।”

    “স্পঞ্জগুলি কিন্তু সবই মরা!” রঙ্কুলাল বলল।

    “মরা তো হবেই,” কঙ্কাবতী জবাব দিল। “সমুদ্রের জল সরে যাওয়ার পর ওদের তো আর খাবার জোটেনি! অথচ নিজেরাও যে জায়গা ছেড়ে চলে যাবে সে-শক্তিও নেই। তাই ওখানেই ধীরে ধীরে তাদের জীবনাবসান হয়েছে। পড়ে রয়েছে, শুধু রবারের মতো ইলাস্টিক মৃত শরীরগুলো।”

    হঠাৎ রঙ্কুলালের মাথায় চন করে কী যেন একটা সন্দেহ এসে ঢুকল। সে ওখানেই মাটিতে বসে পড়ে কী যেন ভাবতে লাগল গভীরভাবে—তন্ময় হয়ে। ও যখন কিছু একটা সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করে তখন ঠিক এইরকমই করে।

    “কী হল?” জিজ্ঞেস করল কঙ্কাবতী।

    রঙ্কুলাল কোনও উত্তর দিল না। সে যেন তখন বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে কী ভাবছে।

    একটু অপেক্ষা করে কঙ্কাবতী আবার বলল, “কী অমন ভাবছিস বল তো? তোকে নিয়ে আর পারা যায় না!”

    রঙ্কুলাল এবার মুখ তুলে বলল, “মনে হয় রহস্যটা বারো আনা উদ্ধার করে ফেলেছি। পাহাড়গুলো কত উঁচু দেখছিস তো? একবার চিৎকার করে বল তো, বন্দেমাতরম।”

    সঙ্গে সঙ্গে কঙ্কাবতী চেঁচিয়ে উঠল, “বন্দেমাতরম।” সেই সঙ্গে গলা মিলিয়ে রঙ্কুলালও চিৎকার করে উঠল, “বন্দেমাতরম”।

    মনে হল পাহাড়ের গায়ে গায়ে ধাক্কা খেয়ে ওই শব্দটা ফিরে এল প্রতিধ্বনি হয়ে বারে বারে, চারদিক থেকেই। থামবার নাম নেই। যদিও অন্যান্য ভৌতিক শব্দগুলি থেকে ওটা পৃথক করে খুঁজে বার করা হয়তো কঠিনই, কিন্তু সদ্য উচ্চারিত বলে শব্দটা একটু জোরেই হওয়াতে তার প্রতিধ্বনিগুলোও খুব জোরে জোরে আসতে লাগল। ওরা কান পেতে লক্ষ করল আর-সমস্ত চেঁচামেচি ছাপিয়ে বারে বারে শোনা যাচ্ছে বন্দেমাতরম—বন্দেমাতরম—বন্দেমাতরম।

    “পেয়ে গেছি—পেয়ে গেছি! ইউরেকা!” এবার যেন আরও জোরে চেঁচিয়ে উঠল রঙ্কুলাল। এবার সে-শব্দটাও প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসতে লাগল চারদিক থেকে।

    “কী পেয়ে গেছিস?” কঙ্কাবতী সাগ্রহে প্রশ্ন করল।

    “শোন বলি। আমার যা সিদ্ধান্ত তা হচ্ছে এই: এ-জায়গাটায় এক সময়ে লোকবসতি ছিল তা তো দেখাই যাচ্ছে। কতদিন আগে কে জানে! কয়েকশো বা কয়েক হাজার বছরও হতে পারে। তারপর সমুদ্রের জল এসে এ-জায়গাটায় ঢুকে পড়ল। চুনা পাথরগুলো বেশির ভাগ হয়তো আগেই ছিল, আবার নতুন করে তাদের কলেবর বাড়তে লাগল। দেখতে দেখতে জায়গাটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে দেওয়াল-ঘেরা করে ফেলল সেই পাহাড়। লোকজন, যারা জায়গার মায়া ছেড়ে যেতে চায়নি তারাও ঘরবাড়ি ফেলে পালাতে লাগল। দেখতে দেখতে জায়গাটা হয়ে গেল জনহীন, পরিত্যক্ত শ্মশানের মতো। এদিকে, এ-জায়গাটাকে তো স্পঞ্জের উপনিবেশ বলছিস। তা তো চোখেও দেখেছি। তোর অনুমানমতো সমুদ্রের জলের সঙ্গে তাই ঢেউয়ে-ঢেউয়ে রাশি রাশি জীবন্ত স্পঞ্জও ঢুকে পড়েছিল এখানে এবং চারদিকের পাহাড়ের গায়ে লেপটে নিরাপদ আশ্রয় জোগাড় করে নিয়েছিল। পাহাড়গুলোও বেশ খানিকটা করে তখন জলের তলায় চলে গিয়ে থাকবে। কতদিন এভাবে কেটেছিল কে জানে! তারপর সমুদ্রের জল সরে গেল, স্পঞ্জগুলোও খাদ্যাভাবে মরে গেল, কিন্তু তাদের দেহ পুরু আস্তরের মতো উঁচু পাহাড়গুলোর গায়ে লেপটে রইল। এই স্পঞ্জ তো রবারের মতোই ইলাস্টিক, না হয়তো তার চেয়েও অনেক বেশি। সম্পূর্ণ ইলাস্টিক না হলেও তার কাছাকাছি হতে পারে।

    “এবার আসি শব্দের কথায়। শব্দ তো বাতাসের ঢেউ। কিন্তু কোনও জায়গায় ধাক্কা খেলে তা আবার ঠিক সেইভাবে ফিরে আসতে পারে, যেভাবে তা উঠেছিল। ওকেই তো আমরা বলি প্রতিধ্বনি।

    “চলে যাবার আগে বেশ কিছুদিন ধরে এখানকার বাসিন্দারা যে-সব আওয়াজ তুলেছিল, কান্না, হাসি, গোঙানি, চিৎকার, চেঁচামেচি, সেগুলোর ঢেউ ওই পাহাড়ের গায়ে লেগে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে এসেছে বারে বারে। এ-পাহাড়ের দেওয়াল থেকে ও-পাহাড়ের দেওয়ালে, আবার সেখান থেকে অন্য পাহাড়ের দেওয়ালে, পাহাড়গুলোর গায়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইলাস্টিক স্পঞ্জের আস্তর থাকায় সেগুলো এখনও থামেনি, সমানে ঘুরে ঘুরে আসছে। পাহাড়গুলো কত উঁচু দেখেছিস তো? তাই তার উপর দিয়েও বেরিয়ে যেতে পারেনি সেই শব্দের ঢেউ। ফলে, দিনের পর দিন সে-শব্দ অবিরাম মুখরিত করে রেখেছে এই উপত্যকাকে। হয়তো আগের তুলনায় শব্দটা একটু ক্ষীণ হয়েছে, কিন্তু থামেনি। তাই নানারকম শব্দ মিশে একাকার হয়ে মনে হচ্ছে যেন একটা জগাখিচুড়ি আওয়াজ, যেন দল বেঁধে একদল অদৃশ্য প্রেতাত্মা ওই সৃষ্টিছাড়া আওয়াজ করে যাচ্ছে! লোকে তো ভয় পাবেই।”

    “কিন্তু আমরা যে ‘বন্দেমাতরম’ বললাম, সেটা ওর সঙ্গে মিশে গিয়ে তেমন জগাখিচুড়ি হল না তো?”

    “আরে, তুই নিজে একজন বিজ্ঞানী হয়ে, হলিই না হয় প্রাণীবিজ্ঞানী, এমন প্রশ্ন করছিস কেন? একটু আগেই তো বললাম, ওটা যে সদ্য-তোলা চিৎকার। ওর জোর তো আগের তুলনায় একটু বেশি হবেই। তাই আগের আওয়াজগুলো ছাপিয়ে, তেমন স্পষ্ট না হলেও বেশ শুনতে পেয়েছি। কিন্তু তার আগে স্বাভাবিক গলায় আরও আস্তে যে-সব কথা বলেছি সেগুলোরও প্রতিধ্বনি নিশ্চয়ই হয়েছে, কিন্তু ক্ষীণকণ্ঠে বলা হয়েছিল বলে পৃথকভাবে টের পাওয়া যায়নি।”

    কঙ্কাবতী ভাইয়ের পিঠ চাপড়ে বলল, “কী বুদ্ধি রে তোর! আমার ভাই না হলে এমন মাথা কারও খেলে?”

    “যা, বাজে বকিস না। কিন্তু আমাদের তো আবার মন্টেভিডিওয় গিয়ে আর একবার বক্তৃতা না দিলে চলবে না। প্রেতাত্মার উপত্যকার সমস্ত রহস্য ফাঁস না করে দিয়ে তো এখান থেকে যাওয়া চলে না। কাল মন্টেভিডিওয় গিয়ে আমার বক্তব্য অন্তত একটা সাংবাদিক বৈঠক ডেকে বলতেই হবে। তারপর এখানকার বিজ্ঞানীরাও এসে একবার পরীক্ষা করে দেখুন। ওঁদের অন্তত ভূতের ভয় থাকবে না নিশ্চয়ই?”

    কঙ্কাবতী তার ভাইয়ের মাথাটা আর-একবার নেড়ে নিয়ে হাতঘড়ির দিকে তাকাল। বলল, “এখান থেকে বেরোবার সময়ে আবার তো সেই গাছে চড়তে হবে। ভাগ্যিস একটু আঁটসাট পোশাক পরে বেরিয়েছিলাম? কিন্তু আর দেরি করা ঠিক নয়। ওরা হয়তো গাড়ি নিয়ে স্টলের কাছে বসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আর ভাবছে, এতক্ষণে উপত্যকার অশরীরী প্রেতাত্মারা আমাদের ঘাড় মটকে দিল কি না।”

    দু’জনেই খিলখিল করে হেসে উঠল।

    ১৩৯৪

    অলংকরণ: অনুপ রায়

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহতাব উদ্দিন
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026
    Our Picks

    মাহতাব উদ্দিন : জীবন ও গান

    May 18, 2026

    পরমপুরুষ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ ২ – অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত

    May 18, 2026

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }