Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প847 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সুপারমেন – সমরেশ মজুমদার

    সুপারমেন – সমরেশ মজুমদার

    ওপরে নীল আকাশ, সেখানে চতুর্দশীর চাঁদ। দু’-তিনটে সাদা মেঘের নৌকোর শরীরে চাঁদটা সাঁটা, তাই তার আলো বেশ হালকা। অবশ্য তাতেই পাহাড়টাতে চিনতে কোনওরকম অসুবিধে হচ্ছে না। বেশ খাড়াই পাহাড়, যার খাঁজে খাঁজে অন্ধকার। পাহাড়টা এমন ন্যাড়া যে, সবুজ রংটা ওর শরীর থেকে উধাও। পেট বরাবর একটা বিশাল পাথর বেরিয়ে এসেছে চাতালের আদলে, ঠিক ঝুল-বারান্দা। সেখানেই চাঁদ যেন টর্চের আলো ফেলে রেখেছে। পাহাড়ের নীচে কী আছে বোঝা যাচ্ছে না, কারণ সেটা চোখের আড়ালে।

    ক্রমশ পাহাড়টা আরও বড় হয়ে গেল। এখন চোখের সামনে জুড়ে আছে ওই চাতালটা। পাহাড়ের অন্য অংশ আর দেখা যাচ্ছে না। চাতালটার বুকে ছড়ানো রয়েছে বড় বড় পাথর। তার একদিকে জ্যোৎস্নায় চকচকে, অন্যদিকে অন্ধকার। কোনও শব্দ নেই, কোনও প্রাণের অস্তিত্ব নেই। রাত বলেই হয়তো পাখিরাও দেখা দিচ্ছে না। হঠাৎ একটি পাথরের আড়ালের অন্ধকার নড়ে উঠল। তারপর সেখান থেকে সন্তর্পণে বেরিয়ে এল একটি লম্বা মানুষ। চাঁদের আলো তার চকচকে কালো পোশাকে জমে গেল। পা থেকে কাঁধ পর্যন্ত শরীর আঁকড়ে থাকা কালো পোশাক, শুধু কাঁধের পেছন থেকে আর একটা কালো কাপড় পেখমের মতো ছড়ানো। লোকটার মাথায় একটা কালো রবারের মতো কিছু যা তার চুল এবং ঘাড়কে চেপে রেখেছে। কিন্তু তার কপালের শুরু থেকে চিবুক পর্যন্ত উন্মুক্ত। ফলে বোঝা যাচ্ছে ওর মুখ বেশ মিষ্টি, বিশেষ করে হাসিটা। গায়ের রং যে অত্যন্ত গৌর, তা ওই মুখেই মালুম হয়। চোখ টানা টানা, হাসির সঙ্গে চমৎকার মানিয়ে গেছে। কিন্তু লোকটা যখন কয়েক পা হেঁটে উন্মুক্ত চাতালে এল, তখন বোঝা গেল এতক্ষণ ও সন্ত্রস্ত ছিল। এখনও হাবভাবে তার রেশ রয়েছে। যেন তার শত্রুর উপস্থিতি আশঙ্কা করছিল সে। কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে চাঁদের দিকে তাকাতেই লোকটার সুন্দর মুখ আরও সুন্দর হয়ে উঠল।

    হঠাৎ দুটো হাত দু’দিকে ছড়িয়ে লোকটা চিৎকার করে উঠল, “কোথায় সে? আমি তাকে চাই। এই দুটো হাত দিয়ে তাকে ছিঁড়ে টুকরো করে ফেলব। কোথায় সে?”

    শব্দগুলো পাহাড়ের শরীরে আছড়ে পড়তেই কয়েকগুণ হয়ে ফিরে এল। লোকটা তার প্রসারিত একটি হাত চাঁদের দিকে নিয়ে গেল। “তুমি! কেন যে চিরটাকাল কৃষ্ণপক্ষ হয় না!”

    তখনও চাঁদের কোনও পরিবর্তন ছিল না। শুধু মেঘের নৌকোগুলো যেন গায়ে গায়ে সরে এল। জ্যোৎস্নায় মাখামাখি চাতালটায় লোকটা অত্যন্ত ক্ষিপ্ত ভঙ্গিতে কয়েকবার পায়চারি করে নিয়ে আচম্বিতে এক হাঁটু ভেঙে নিচু হল। তার দুটি মুষ্টিবদ্ধ হাত সামনে নিয়ে চিৎকার করে উঠতেই একটা বিশাল কালো পাখি উড়ে এল শূন্য থেকে। ডানায় শব্দ হতেই লোকটা হিংস্র চোখে তাকাল। আর ওই মুহূর্তে দেখা গেল, ওর সুন্দর মুখ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। গৌরবর্ণ চামড়া, টানা হাসি হাসি চোখের বদলে কয়েকটা শুকনো হাড়ে গড়া মুখ দেখা গেল, যার দুই চোখের বদলে অন্ধকার। লোকটার মুষ্টিবদ্ধ হাতের ওপর পাখি নরম পায়ে বসতেই ওর জাত জানা গেল। ওই কুৎসিত চেহারা একমাত্র শকুনেরাই অর্জন করেছে।

    “কোথায় সে? দেখেছিস?”

    ন্যাড়া মাথার পাখিটা শরীর দোলাল। না, সে দেখেনি।

    সঙ্গে সঙ্গে তাকে আছড়ে ফেলল লোকটা শূন্যে। “অপদার্থ! যা, যেমন করেই হোক তার হদিশ নিয়ে আয়। তাকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত আমার শান্তি নেই। দূর হ, দূর হ আমার সামনে থেকে।” ক্রীতদাসের মতো পাখিটা ডানায় সাঁতার কেটে অন্ধকার থেকে অন্ধকারে চলে গেল সন্ধানে।

    লোকটা সেই যাওয়া দেখল। তার চোখের বদলে নরকের অন্ধকার। মুখের গহ্বরে জিহ্বার বদলে চিতার অগ্নিশিখা। অথচ যেই সে দুটো হাত তার দুই গালে আদরের ভঙ্গিতে বোলাল, অমনি সেই সুন্দর কন্দর্পকান্তি মুখ ফিরে এল। আবার সুন্দর করে হাসল লোকটা। তারপর পায়ে পায়ে চলে এল চাতালের ধারে।

    এইবার দেখা গেল নীচের খাদ কত গভীর। তাল তাল অন্ধকার সেখানে স্তুপ করে রাখা। লোকটা সেদিকে তাকিয়ে আবার হাসল। তারপর চকিতে চাঁদের দিকে ঘুরে চিৎকার করে উঠল, “তোমরা শুধু সামনেটাই ধুয়ে দিতে পারো, কিন্তু পেছনটা? পেছনটা আমার অধিকারে। সেখানে তোমাদের কোনও কায়দা চলবে না। অতএব এই পৃথিবীর অর্ধেক আমার। কিন্তু আমি এবার পুরোটা চাই। সে কোথায়?” তারপর নিচু গলায়, যেন নিজেকেই শোনাল, “আমি যেমন তাকে খুঁজছি, সে-ও তো আমাকে। অতএব দেখা হবেই।” তারপর দুটো হাত শূন্যে বাড়িয়ে লোকটা ঝাঁপিয়ে পড়ল চাতাল থেকে, ঠিক শকুনের মতো নীচে নেমে যেতে লাগল সে।

    পাহাড়ের নীচেও কোনও গাছপালা নেই। ছোট বড় প্রচুর পাথর ডিঙিয়ে হঠাৎই বালির রাজত্ব শুরু। দিগন্তে ছড়ানো শুধু বালি আর বালি, দু’-একটা কাঁটাঝোপ আর মাঝে মাঝে এমন ন্যাড়া পাহাড়। দূর বহুদূর থেকে বয়ে আসা বাতাস সেই বালি তুলে নিয়ে এলোপাথাড়ি ছুটে এসে পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খায়, এবং ফিরে যায়। বালিতে শরীরের অর্ধেক গোঁজা, একটা বিশাল পাথরের গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল লোকটা। তার চোখ এবং কান সতর্ক। কিন্তু এর শরীরে হালকা নীল-রঙা পোশাক। পা-আঁটা প্যান্ট, কোমরে চামড়ার বন্ধনী, লম্বা-হাতা হালকা নীলশার্টের প্রান্ত সেই বন্ধনীর নীচে। মাথায় কোনও আড়াল নেই। মানুষটির গায়ের রং শ্যামলা, চোখ-মুখ সাধারণ মানুষের মতো। শুধু তার শরীর ছিপছিপে এবং চোয়ালের গঠনে বোঝা যায়, ওর চরিত্রে দৃঢ়তা আছে। কাঁধের পেছন থেকে ঝালরের মতো একটা কাপড় তারও।

    লোকটি সতর্ক চোখে বাতাসের যাওয়া-আসা দেখল। জ্যোৎস্নায় সন্দেহজনক কিছু নেই। ঠিক এইসময় সে বাতাসে সামান্য শব্দ পেতেই পাথরের আড়ালে সরে এল। জ্যোৎস্নায় ছায়া ফেলে শকুনটা একটা পাক দিল। তার নাক ঘ্রাণ পাচ্ছে, অথচ চোখে কিছু ঠেকছে না। ক্রমশ পাকগুলো ছোট হয়ে এল। লক্ষ্যবস্তুর সন্ধানে তার কুৎসিত মাথাটা চারপাশে নড়ছে।

    শেষপর্যন্ত নিঃশব্দে শকুনটা এসে সেই পাথরের ওপর বসল, যার পেছনে নীলবসন মানুষটি লুকিয়ে রয়েছে। শকুনের ভঙ্গিতে বেশ ঘাপটিমারা ভাব, যেন দর্শন পাওয়ামাত্র সে উড়ে যাবে খবর দিতে। লোকটি নিশ্বাস বন্ধ করে পাখিটাকে দেখছিল। একটা সাধারণ পাখি এরকম সন্দেহজনক আচরণ করবে কেন? সে তার কোমরবন্ধনী খুলে আচমকা আঘাত করতেই শকুন তীব্র চিৎকার করে উড়ে যেতে চাইল, কিন্তু পরিবর্তে পাথরের ওপর থেকে বালিতে গড়িয়ে পড়ল। কিন্তু সে প্রাণহীন হয়নি, কারণ তার চোখ হিংস্র এবং সে দুই পায়ের আঁচড়ে বালির ঝড় তোলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু তার ডানা অসাড় হয়ে যাওয়ায় সে স্থির হয়ে চেয়ে রইল একসময়। লোকটি ঝুঁকে দেখল শকুনের শরীর থেকে যে ধারা বের হচ্ছে, তার রং কালো।

    নীলবসনের চোয়াল আরও শক্ত হল। কিন্তু সে শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল, “তুমি মরতে চাও?”

    সঙ্গে সঙ্গে শকুনের মাথাটা যেন কুঁকড়ে উঠল, দৃষ্টিতে বোঝা গেল প্রাণ বড় আদরের।

    নীলবসন হাসল, “রক্ত যার কালো, তার বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই। কিন্তু তবু তোমাকে আমি সুযোগ দিচ্ছি। সে কোথায়?”

    শকুনের বাকশক্তি নেই। সে অসহায়ভাবে ডানা ঝাপটাতে লাগল। যার অর্থ, সে শক্তিহীন। পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য তার নেই। নীলবসন দেখল ওই দুরবস্থাতেও শকুনের চোখে হিংস্র হাসি। সে তার চামড়ায় মোড়া পা তুলল শকুনটাকে হত্যা করার জন্যে, কিন্তু তারপরেই মত পরিবর্তন করল। একটি আহত প্রাণীকে হত্যা করার মধ্যে কোনও বীরত্ব নেই।

    তখন চাঁদ ঠিক মাথার ওপরে। মেঘের নৌকোগুলো উধাও। চারধারে তকতকে জ্যোৎস্না। নীলবসন সামান্য লাফানোর ভঙ্গি করতেই তার দেহ ওপরে উঠে যেতে লাগল। অনেক ওপরে উঠে সে চাতালটাকে দেখতে পেল। শূন্য চাতালে কয়েকটা ছোট বড় পাথর ছড়ানো। সেখানে চাঁদ-সাদা রং। নীলবসন সেই চাতালে নেমে এল। সতর্ক চোখে সে চারপাশ দেখে নিয়ে চাঁদের মুখোমুখি হল। “আমি বাতাসে তার ঘ্রাণ পাচ্ছি। তার প্রতিনিধিকে খানিক আগে দেখে এসেছি। এই নিস্তব্ধ চরাচরে তোমার দৃষ্টির আড়ালে কেউ যেতে পারে না। সুতরাং তুমিই বলতে পারো সে কোথায়!”

    তখনও চাঁদের কোনও পরিবর্তন হল না। নীলবসন আক্ষেপে তার ডান হাত তুলতেই চাতালে ছায়া পড়ল। চকিতে ঘুরে দাঁড়াল সে। এই বিশাল চাতালে তার নিজের দীর্ঘ ছায়া লুটিয়ে আছে। দু’পা সরতেই ছায়াটাও সরে এল। তার মানে চাঁদ সর্বত্রগামী নয়। সে পাথরগুলোর দিকে তাকাল। ওদের পেছনে জ্যোৎস্না যাচ্ছে না। অতএব ওই আড়ালে কেউ লুকিয়ে থাকলে চাঁদের চোখে পড়বে না। পৃথিবীর অর্ধেকটা আলোকিত, অর্ধেক অন্ধকার। নীলবসন নিজের কোমরে হাত দিয়েই চমকে উঠল। তার কোমরবন্ধনী? তৎক্ষণাৎ মনে পড়ে গেল, পাখিটাকে আহত করে ওটাকে সে পাথরের ওপরেই ফেলে এসেছে।

    আর দেরি করল না নীলবসন। চাতালের প্রান্তে গিয়ে সে দুটো হাত সামনে প্রসারিত করে শূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়তেই তার শরীর পাখির মতো নীচে নেমে যেতে লাগল। ধুধু বালির ওপর দাঁড়িয়ে সে মুখ তুলতেই কৃষ্ণবসনকে দেখতে পেল। বালির প্রান্তে পাহাড়ের তলায় কৃষ্ণবসন, তার অন্ধকারের চোখ জ্বলছে। মুখে কয়েকটা হাড়ের বাঁধন। কৃষ্ণবসনের ডান হাতে আহত শকুন আর বাঁ হাতে ফেলে-আসা কোমরবন্ধনী। চোখাচোখি হতেই প্রচণ্ড গর্জন করে কৃষ্ণবসন শকুনটাকে ছুড়ে দিল নীলবসনের দিকে।

    আচমকা চোখের সামনে সমুদ্রের ঢেউ উঠে এল। ঢেউয়ের ওপর একটি শীতল পানীয় বোতলে ভাসছে। পৃথিবীর সবরকম কানফাটানো সংগীত বেজে যাচ্ছে দৃশ্যটির সঙ্গে। এতক্ষণ দু’হাতে আঁকড়ে থাকা রবারের বড় বলটা আচম্বিতে ছুড়ে দিল কালোশার্ট নীলশার্টের দিকে। টিভির পর্দায় দৃশ্যান্তর হওয়ামাত্র নীলশার্ট সতর্ক ছিল, কিন্তু বলের গতি এত দ্রুত যে, সে মাথা সরাতে পারল না। কপালের ওপরে সেটা স্পর্শ করেই ওপরে উঠে গেল। সুন্দর সাজানো ঘরের মাঝখানের ছাদ থেকে পুরনো দিনের ঝাড়লণ্ঠনের আদলে বিজলি বাতি ঝুলছিল। বলটা সেই কাচের ভিড়ে আঘাত করতেই ঝনঝন শব্দ বাজল। কোনওরকম ভাঙচুর না করে বলটা ফিরে আসতেই কালোশার্ট সেটাকে লুফে নিয়ে একটু লাফিয়ে দুটো পা ফাঁক করে চিৎকার করল, “আমি হি-ম্যান। আমি তোমাকে হত্যা করব।”

    নীলশার্ট কপালে হাত ঝুলিয়ে বিজ্ঞের মতো মাথা নাড়ল, “কী করে! তোমার গায়ে কালোশার্ট। ওটা ব্যাড ম্যানেরা পরে থাকে।”

    কালোশার্ট চকিতে নিজের জামা দেখে নিয়ে বলল, “ঠিক আছে, এসো, জামা দুটো পালটাপালটি করে নিই।”

    “অসম্ভব।” নীলশার্ট এক পা এগিয়ে এল, “আমি হি-ম্যান, আমি তোমাকে হত্যা করব।” তারপর চকিতে টিভি’র দিকে ফিরে সেইরকম গলায় চিৎকার করল, “তোমার দৃষ্টির আড়ালে কেউ যেতে পারে না। অতএব তুমিই বলতে পারো সে কোথায়!”

    সঙ্গে সঙ্গে কালোশার্ট চিৎকার করে উঠল, “কোথায় সে? আমি তাকে চাই। এই দুটো হাত দিয়ে তাকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলব। কোথায় সে?”

    সামনের পর্দায় তখন একটা অক্টোপাশ তার সবকটা শুঁড় দিয়ে পানীয়ের বোতলটা আঁকড়ে টেনে এনেছে মুখের কাছে। তারপর সমুদ্রের ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে সেই রঙিন পানীয় ঢেলে দিল গলায়। সঙ্গে সঙ্গে অজস্র বাজনার সঙ্গে একটি অদৃশ্য কণ্ঠ বলে উঠল, “জল, সর্বত্র জল, শুধু আমাদেরটাই পানীয়।”

    দুই দর্শকের মুখ বিকৃত হল। ওরা জানে এখন মিনিট কয়েক এইসব বিজ্ঞাপন চলবে। নীলশার্ট প্রচণ্ড গতিতে ছুটে এল কালোশার্টের দিকে। তারপর ঢিসুম করে একটি ঘুসি চালাতেই কালোশার্ট উলটে পড়ল সোফায়। বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে নীলশার্ট বলল, “কোথায় সে? আমি তাকে হত্যা করব।”

    কালোশার্টের খুব কষ্ট হচ্ছিল। তার চোখে জল বেরিয়ে এলেও সে বলল, “তুমি একটা গাধা! একটা প্যাঁচা! একটা ব্যাং!”

    নীলশার্ট ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “কেন?”

    “তোমার গায়ে নীলশার্ট। তুমি আগে মার খাবে। দমাদম মার। খেতে খেতে শেষ পর্যন্ত বেল্টটা ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে মারতে পারবে। আজ আমি খতম হব। কিন্তু প্রথমে আমি মারব। সেটাই রুল।” বলতে বলতে উঠে দাড়াল কালোশার্ট।

    নীলশার্টের মনে পড়েছে। অতএব সে মার খেতে লাগল। নীলশার্ট পালাতে লাগল। ঘরের এ-কোণ থেকে ওই কোণে। বাইরের দরজায় তালা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। নীলশার্ট পাশের ঘরে ঢুকল আত্মরক্ষার জন্যে। সঙ্গে সঙ্গে খাটের ওপর লাফিয়ে উঠল কালোশার্ট। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ল নীলের ওপর। দুটো শরীর ধড়াম করে আছড়ে পড়ল মেঝেতে।

    নীলশার্ট ককিয়ে উঠল। তার কোমরে প্রচণ্ড যন্ত্রণা সত্ত্বেও সে মুখে কিছু বলল না। এই অবস্থায় নীলবসন কখনও কাঁদেনি। তাকে অন্তত পাঁচ মিনিট নির্মমভাবে মারবে ওই কৃষ্ণবসন। তারপর তার পালা। যে মার সে খেয়েছে, তার ডাবল মারতে পারবে। কিন্তু প্রথম পাঁচটা মিনিট যে সহ্য করা মুশকিল। কালোশার্ট তখন টেবিলের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছে। সেখান থেকে সে ঝাঁপ দেবে নীলশার্টের ওপর, যেমন করে কৃষ্ণবসন পাহাড়ের ওপর থেকে সাঁ করে নেমে আসে। নীলশার্ট উঠে বসার চেষ্টা করল। কিন্তু ঠিক তখনই তার ঘাড়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে কালোশার্ট চিৎকার করে উঠল, “এই পৃথিবীর পুরো দখল চাই আমি। আকাশ থেকে চন্দ্রসূর্য মুছে যাক।” তারপর ঢিসুম করে আর একটা ঘুসি।

    সেই বালক-হাতের ঘুসিতে তেমন জোর ছিল না। কিন্তু নীলশার্টের মনে হল আজ কালোশার্ট তাকে খুব বেশি মারছে। সে কোনওরকমে উঠে জানলার কাছে ছুটে গেল। তারপর পাল্লা খুলে উঠে বসে চেঁচাল, “পাঁচ মিনিট হয়ে গিয়েছে।”

    কালোশার্টের হাতে তখন একটা চামড়ার বেল্ট। সে মাথা নাড়ল, “না, তিন মিনিট, এখনও দু’ মিনিট বাকি।” এই বলে সে চামড়ার বেল্টটা শূন্যে নাড়াতে লাগল, যেমন করে ক্রুদ্ধ সাপ লেজ নাড়ে।

    নীলশার্ট আর পারল না। সে ভয়ে লাফিয়ে পড়ল বাইরের বাগানে। তারপর আত্মরক্ষা করতে ছুটে গেল বাগানের কোণে। সেখানে জঞ্জাল ফেলার খালি ড্রাম পড়ে আছে। আজ বাড়ি থেকে বের হবার আগে মা বাবা ওটা খালি করিয়ে গেছেন। নীলশার্ট টুক করে সেই ড্রামের মধ্যে ঢুকে বসে রইল উবু হয়ে। এইসময় কালোশার্ট বেরিয়ে এল জানলায়। তারপর চিৎকার করল, “কোথায় সে?” তার হাতের বেল্ট বাতাসে আস্ফালিত হচ্ছিল। সে আরও দু’বার চিৎকার করল। কিন্তু তার গলার স্বর ক্রমশ নরম হয়ে আসছিল। নীলশার্টকে সে কোথাও দেখতে পাচ্ছিল না। তার হিসেবমতন পাঁচ মিনিট হয়ে গিয়েছে। এবার তার মার খাওয়ার পালা। কী নির্মম সেই মার। প্রতিদিন বাবা-মা কাছাকাছি থাকায় সেই নির্মম প্রহারের সময় তাঁরা ছুটে এসে রক্ষা করেন। নীলশার্টকে শাস্তির ভয় দেখান। তাই নীলশার্ট এখন জামা বদল করতে চায়। প্রথম মারটা সে মারতে চায়। কিন্তু কালোশার্ট কিছুতেই রাজি হয়নি এতকাল। আজ বাড়িতে বাবা নেই, আজ তাকে কে বাঁচাবে। টিভিতে নীলবসন যখন পালটা মার মারে, কালোশার্ট সে-দৃশ্য কল্পনা করে শিউরে উঠল।

    চট করে জানলা বন্ধ করে সে আশ্বস্ত হল। এখন সে ঘরের ভেতরে, বাইরে নীলশার্ট। দরজায় তালা। এখন তার মার খাওয়ার সময়, কিন্তু নীলশার্ট তো ভেতরে ঢুকতেই পারবে না। সে খুশি হল। তারপরেই খেয়াল হল এই বাড়িটায় এখন সে একা। সে চিৎকার করল, “এই পৃথিবীটা এখন আমার। অর্ধেকটা নয়। পুরোটা।”

    এইসময় ঢিসুম শব্দটা কানে ছিটকে আসতেই কালোশার্ট টিভির ঘরে ছুটে এল। সেখানে চাঁদের আলোর নীচে কৃষ্ণবসনকে দু’হাতে তুলে নীলবসন আছাড় মারল। “পৃথিবীটা তোর? খুব লোভ? তোর ওই কালো মনটাকে আমি খতম করবই।” তারপর দড়াম করে ছুড়ে দিল মহাশূন্যে। কৃষ্ণবসনের শরীর ভাসতে ভাসতে পৃথিবীর বাইরে চলে যেতে নীলবসন দর্শকের দিকে তাকিয়ে হাসল, “পৃথিবীর কালো দূর হোক।”

    সেই হাসির দিকে তাকিয়ে কালোশার্ট শিউরে উঠল। চটপট নিজের জামা খুলে ফেলতে বেশ আরাম মনে হল। তারপরেই খেয়াল হল, নীলশার্ট তো বদলা নিতে এল না। ঘরে ঢুকতে না পারলেও তার চিৎকার শোনা যেত! কী হল তার?

    কালোশার্টটাকে সোফার নীচে চালান করে খালি গায়ে সে জানলা খুলে বাগানে বেরিয়ে এল। পাখির ডাক ছাড়া কোনও শব্দ নেই। সমস্ত বাগান খুঁজে সে ড্রামটার কাছে এল। তারপর সন্তর্পণে ভেতরে উঁকি মেরে ডাকল, “বাপি!”

    কোনওরকমে মুখটা ওপরে উঠল, “আমাকে আর মারিস না। আমি শার্ট খুলে ফেলেছি।”

    ঊর্ধ্বাঙ্গ বিবস্ত্র, বালক কাঁপতে কাঁপতে উঠে দেখল কালোশার্ট নেই। তার যমজভ্রাতা জিজ্ঞেস করল, “তুই আমাকে মারবি না? পাঁচ মিনিট হয়ে গিয়েছে।”

    “কী করে মারব? তোর গায়ে তো কালোশার্ট নেই।”

    জানলা গলে ওরা আবার ফিরে এল ঘরে। একজন খুব কাহিল, অন্যজন নার্ভাস। টিভির সামনে বসতেই দেখল ঝড় উঠেছে। শোঁ শোঁ করে বালির ঝড় উঠছে। আকাশ অন্ধকার। চাঁদের দেখা নেই। সেই শীর্ণ আলোয় দেখা গেল একটা শকুন আবার আকাশে ডানা মেলল।

    আর তখনই একজনের চোখে পড়ল সোফার নীচে ঢুকিয়ে রাখা কালোশার্টের একটা প্রান্ত বাইরে বেরিয়ে এসেছে। সন্তর্পণে সঙ্গীকে লুকিয়ে সে গোড়ালি দিয়ে কালোশার্টটাকে আরও ভেতরে ঠেলে দিল। যাতে না দেখা যায়। তারপর ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তোর কষ্ট হচ্ছে?”

    ১৩৯১

    অলংকরণ: প্রণবেশ মাইতি

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }