Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    পৌলোমী সেনগুপ্ত এক পাতা গল্প847 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    রাত যখন বারোটা – অশোক বসু

    রাত যখন বারোটা – অশোক বসু

    বাইরে চাকরি করি। পুজোর ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলাম। আমার সহপাঠী বন্ধু শৈলেন সম্প্রতি একটা সেকেন্ড-হ্যান্ড গাড়ি কিনেছে। একদিন সে যখন বলল, “চল দেবেশ, গোরুমারা ফরেস্টে দারুণ একটা প্লেজার-ট্রিপ দিয়ে আসি,” আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম। শৈলেনের সঙ্গে বনবিভাগের চিঠি তো ছিলই, তা ছাড়া গোরুমারার নতুন রেঞ্জার নাকি শৈলেনের খুব জানাশোনা লোক। আমরা দু’ বন্ধু হই-হই করে বেরিয়ে পড়লাম।

    ঠিক ছিল, দিনের আলো থাকতে-থাকতেই আমরা গোরুমারায় পৌঁছে যাব। কিন্তু ঠিক সময়ে কেন, সে-দিনই পৌঁছতে পারলাম না। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়েই আকাশে অল্প-অল্প মেঘ ছিল। তিস্তা-ব্রিজ পার হতেই সেই মেঘ ঘন কালো হয়ে সমস্ত আকাশে ছড়িয়ে গেল। আরও কিছুদূর যেতেই ঝোড়ো হাওয়া উঠল, হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি। লাটাগুড়ি ফরেস্টে ঢোকবার মুখেই দেখা গেল একটা প্রকাণ্ড পাকুড়গাছ রাস্তার ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে। যাওয়া-আসার রাস্তা বন্ধ। শৈলেন গাড়ির ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল।

    বললাম, “এখন উপায় কী?”

    শৈলেন হতাশ মুখে মাথা নাড়ল, “আপাতত নো উপায়। লোকজন এসে গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে সেই সকাল। পাশ কাটিয়ে যাব, তারও উপায় নেই। দেখছিস না, রাস্তার দু’পাশেই ডিপ ড্রেন।”

    “তার মানে ব্যাক টু দি প্যাভিলিয়ন, শৈলেন?”

    শৈলেন ভুরু কুঁচকে গাড়ির জানলার বাইরে আকাশ দেখল। মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হচ্ছে না। মেঘলা-অন্ধকারে মনে হচ্ছে সন্ধে, কিন্তু হাত-ঘড়ির কাঁটায় এখন বিকেল পাঁচটার একটুও বেশি নয়। এখানে জঙ্গলের ধারে লোকবসতি নেই। চারধারে নির্জনতা থমথম করছে।

    গাড়ি ফের স্টার্ট দিয়ে ঘুরিয়ে নিল শৈলেন। বলল, “অকারণ তেল অপচয় করে বাড়ি ফিরব না। চল, আজ রাতটা লাটাগুড়িতে বিষ্ণুদার বাড়িতে কাটিয়ে কাল সকালে গোরুমারা যাব।”

    ফিরতে পথে আরেক বিপত্তি। কিছু দূরে গিয়েই ইঞ্জিন বিকল হয়ে গাড়ি থেমে গেল। বনেট খুলে শৈলেন টর্চের আলোয় অনেক চেষ্টা করেও গাড়ি চালু করতে পারল না। ইতিমধ্যে মেঘ কেটে গিয়ে আকাশ একটু-একটু পরিষ্কার হচ্ছে। আধখানা চাঁদ ভাসছে আকাশে। চাঁদের আলোয় দেখা গেল, জনহীন দু’পাশে শুধু ফাঁকা মাঠ। গভীর জঙ্গল পেরোতে হয় বলে রাত্রিবেলায় হয়তো এ-রাস্তায় গাড়ি চলাচল করে না। আমাদের গাড়ি খারাপ হওয়ার পর এ-পর্যন্ত একটাও গাড়ি আসেনি এ-রাস্তায় এলে হয়তো ড্রাইভারের সাহায্য নিতে পারত শৈলেন। সত্যি বলতে কী, এ-ব্যাপারে সাহায্য করার মতো আমার কিছুই জানা ছিল না।

    বনেট নামিয়ে দিয়ে শৈলেন বলল, “আমার মেকানিজম শেষ। সারারাত এই রাস্তায় গাড়ির মধ্যে বসে থাকতে হবে।”

    চাঁদের আলোয় ফাঁকা মাঠের ওপারে জঙ্গলের গা-ঘেঁষে একটা দোতলা বাড়ি আমার চোখে পড়েছিল। বললাম, “ওটা কার বাড়ি রে শৈলেন? ওই যে দেখা যাচ্ছে, ধবধবে সাদা, দোতলা…”

    শৈলেন বাড়িটা দেখল। তারপর বলল, “দি আইডিয়া! গাড়িটা আজ রাতের মতো এইখানেই থাকুক। চল, আমরা জমিদারবাহাদুরের আতিথ্য গ্রহণ করি আজকের রাতের জন্যে। এক্সকারশন না হোক, অ্যাডভেঞ্চার তো হবে।”

    শৈলেন জানলার কাচ তুলে দিয়ে গাড়ি লক করে দিল। সুটকেসটা হাতে নিল। পাকা রাস্তার বাঁ ধারে নেমে একটা কাঁচা রাস্তা পেয়ে গেলাম। একটু পরে যখন বাড়িটার কাছে পৌঁছে গেলাম, তখনও জানি না এ-বাড়িতে আসাটা শৈলেন অ্যাডভেঞ্চার বলছে কেন। বাড়িটা দেখে কিন্তু শৈলেনের কথাটা আবার মনে পড়ল আমার। জঙ্গল-পরিকীর্ণ জনহীন মাঠের ধাৱে ভাঙা চাঁদের মায়াবী আলোয় নিঃসঙ্গ বাড়িটা দেখেই কেন যেন আমার বুকের মধ্যে ছ্যাঁত করে উঠল। বাড়িটা নিঃসন্দেহে বহু কালের পুরনো। এখানে কোনও মানুষের থাকার কথাও নয়। তবু আমার মনে হচ্ছিল, কী যেন আছে, কী যেন হয় এখানে।

    বারান্দায় উঠে শৈলেন টর্চ জ্বালিয়ে এদিক-ওদিক দেখল। চারদিকেই বহুদিনের গজিয়ে-ওঠা আগাছার ঝোপজঙ্গল, বাড়ির পলেস্তারা-খসা। নোনা-দেয়ালের শ্যাওলা-ধরা ইঁট বেরিয়ে এসেছে। নির্জন, নিস্তব্ধ। টর্চ নিভিয়ে দিয়ে শৈলেন বলল, “এ বাড়িটার দারুণ বদনাম আছে। অনেককাল আগে জমিদার বীরেশ্বর দেব বানিয়েছিলেন। তখন অবশ্য এখানে বড়সড় একটা গ্রাম ছিল। ফরেস্টও অনেক দূরে ছিল। এখন কিছুই নেই, আছে শুধু এই পোড়োবাড়িটা, আর বাড়িটাকে নিয়ে আজগুবি গল্পগাছা।”

    আমি সরে এসে শৈলেনের গা ঘেঁষে দাঁড়ালাম। দোতলার সিঁড়িতে অস্পষ্ট আলোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কেউ যেন নেমে আসছে ওপর থেকে। একটু পরেই তাঁকে দেখা গেল। জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে এক লম্বা, রোগা, অতিবৃদ্ধ মানুষ। বয়েসের ভারে ঈষৎ কুঁজো। সারা মুখে শুভ্র দাড়িগোঁফ। পরনে ধুতি আর সাদা ফতুয়া। বৃদ্ধ সিঁড়ি দিয়ে নেমে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখ কোটরগত এবং দৃষ্টি নিশ্চল। আমাদের দেখেও তাঁর লোলচর্মমণ্ডিত মুখে কৌতূহল কিংবা জিজ্ঞাসার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই। যেন বরফের এক ভাবলেশহীন হিমশীতল মূর্তি অপেক্ষা করে আছে আমাদের কথা শোনার জন্য। আমার শরীর শিরশির করে উঠল। সত্যি বলতে কী, আমি একটু ভিতুগোছেরই লোক।

    বৃদ্ধকে দেখে প্রথমটা একটু চুপ করে থাকলেও একটু পরে গলা পরিষ্কার করে নিয়ে বলল, “আমরা একটু অসুবিধায় পড়ে এখানে এসেছি। মানে, আমাদের গাড়িটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেছে তো, তাই ভাবলাম বৃষ্টি-বাদলের রাতটুকু—”

    “বলুন”, বৃদ্ধ যেন কথা বললেন না, তাঁর নিস্পন্দ দুটি ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে অন্য কারও অপার্থিব কণ্ঠস্বর ভেসে এল।

    শৈলেন আড়চোখে আমাকে একবার দেখে নিয়ে বলল, “রাতটুকু কোনও রকমে কাটিয়ে, মানে এ-বাড়িতে কেউ থাকে না তো—”

    “থাকে,” বৃদ্ধ সেই একইভাবে গমগমে গলায় বললেন, “জমিদার বীরেশ্বর দেব এ-বাড়িতে থাকেন।”

    শৈলেন দারুণ অবাক গলায় বলল, “সে কী! জমিদার বীরেশ্বর দেব তো—”

    বৃদ্ধ বললেন, “তিনি প্রতিদিন রাতে এ-বাড়িতে আসেন। ওপরের কোনও ঘরে আপনারা থাকতে পারবেন না। কিন্তু অতিথি ফিরে যাওয়া জমিদারবাড়ির নিয়ম নয়। আপনারা নীচের তলার অতিথিশালায় থাকবেন। ডান দিকের শেষ ঘরটা।”

    শৈলেন আমার দিকে তাকাল। আমি দেখলাম শৈলেনের সাহসী চোখেও প্রশ্ন। আমার কাছে জানতে চাইছে, কী করা যায়! ভয়ে তখন আমার জমে যাওয়ার অবস্থা। কিন্তু এখন চলে যাওয়ারও কোনও উপায় নেই। আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে। চাঁদ ঢেকে গেছে মেঘের আড়ালে। তুমুল হাওয়া বইছে। আমি ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে থাকলাম শৈলেনের দিকে।

    টর্চ জ্বালিয়ে শৈলেন বোধহয় অতিথিশালাটা দেখতে চাইল। সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধ বলে উঠলেন, “একটা কথা। রাত বারোটার পর কোনওমতেই টর্চ জ্বালবেন না। তখন কর্তাবাবু আসেন। উনি আলো পছন্দ করেন না।”

    বৃদ্ধের হাতের মোমের আলো হাওয়ার ঝাপটায় নিভে নিভে আসছিল। তাঁর পাণ্ডুর, নীরক্ত মুখে মোমের শিখার আলোছায়া কাঁপছিল। আবার ওপরে উঠবেন বলে পেছন ফিরে সিঁড়িতে পা বাড়াতেই শৈলেন আচমকা প্রশ্ন করল, “আপনি, আপনি কে?”

    বৃদ্ধ থেমে গেলেন। সিঁড়ির দিকে মুখ করে এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে বললেন, “আমি নিশানাথ। আশি বছর ধরে আমি এ-বাড়ি দেখাশোনা করছি।”

    “আ-শি ব-ছ-র!” শৈলেনের সবিস্ময় প্রশ্ন।

    “হ্যাঁ, আশি বছর। আপনারা বিশ্রাম করুন এখন।”

    বৃদ্ধ আর দাঁড়ালেন না। সিঁড়ি দিয়ে আস্তে-আস্তে ওপরে উঠে গেলেন। একরাশ হিমেল কুয়াশা যেন তাঁকে আমাদের চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে দিল শূন্যে।

    সেই দিকে একটুক্ষণ তাকিয়ে থেকে একটা হতাশ নিশ্বাস ফেলে শৈলেন বলল, “যত সব বোগাস। চল, অতিথিশালাটা দেখে নিই আগে।”

    টর্চের আলো ফেলে দেখা গেল অতিথিশালাটা থাকার পক্ষে খুব একটা অনুপযুক্ত নয়। ঘরে একটা তক্তাপোশ পাতা আছে, তাতে কোনও বিছানাপত্র নেই। অবশ্যি সুটকেসে চাদর আছে। তক্তাপোশ পেতে নেওয়া যাবে।

    আমি বললাম, “চল শৈলেন, এখানে থাকার দরকার নেই। ভুতুড়ে ব্যাপার-ট্যাপার মনে হচ্ছে।”

    শৈলেন তক্তাপোশের ওপর বসে পড়ে বলল, “ধুস! যত সব বাজে ব্যাপার। বুড়োটা একটা বদ্ধপাগল। বলে কি না আশি বছর এ-বাড়ি দেখাশোনা করছে। তা হলে ওর বয়েস এখন কত? একশো? আর জমিদার বীরেশ্বর দেব? সে তো কবেই মরে ভূত হয়ে গেছে।”

    “মরে ভূত হয়ে গেছে,” আমি কাঁপা-কাঁপা গলায় বললাম, “রাত বারোটার সময় তা হলে কে আসে?”

    শৈলেন কোনও উত্তর দিল না। ঠিক সেই সময় কানে এল অনেক দূরে কোথাও একটা কুকুর কান্নার গলায় একটানা ডেকেই চলেছে। শোঁ-শোঁ করে শব্দ হচ্ছে হাওয়ার। এক অজানা ভয়ে আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল।

    শৈলেন জানলার বাইরে তাকিয়ে বলল, “তা ছাড়া, ইচ্ছে থাকলেও এখন যাওয়া যাবে না। রাতটুকু এখানেই থাকতে হবে।”

    অন্ধকার ঘরের মধ্যে তক্তপোশের ওপর দু’জনে পাশাপাশি বসে থাকলাম। একটু আগেই ঘড়ি দেখেছি টর্চ জ্বালিয়ে। রাত দশটা। বাইরে দুর্যোগের রাত। মেঘ ডাকছে, জানলা দিয়ে বিদ্যুতের আলো ঝাঁপিয়ে আসছে ঘরের ভেতর। আশেপাশে মানুষজন, ঘরবাড়ি নেই বোধহয়। আসবার সময় সে-রকম কিছু চোখেও পড়েনি৷ বৃদ্ধ নিশানাথেরও কোনও সাড়াশব্দ পাচ্ছি না। শুধু নিশানাথ নন, জীবনের কোনও চিহ্নই নেই যেন কোথাও। শৈলেন যেন নিজের সঙ্গেই বোঝাপড়া করে নিতে নিতে বলল, “পাগল ছাড়া কী! লোকটা দেখাশোনা করছে এমন একটা ভাঙা বাড়ি, যে বাড়িতে লোক নেই, জন নেই, ত্রিসীমানার মধ্যেও কেউ থাকে না। পাগল ছাড়া এমন উদ্ভট চিন্তা কারও থাকতে পারে?”

    কিন্তু নিশানাথ যে পাগল নয়, কিছুক্ষণ পরেই তার প্রমাণ পাওয়া গেল। ঘড়িতে সময় দেখলাম। রাত বারোটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি। তখন বৃষ্টি থেমে গেছে, হাওয়া দিচ্ছে না। চারদিকে ছমছম করছে নিস্তব্ধ নিশুতি রাত। হঠাৎ শুনলাম ওপর তলার কোনও ঘরে গভীর গম্ভীর শব্দে ঢং ঢং করে রাত বারোটা বাজছে। এখানে এই জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত বাড়িতে ঘড়ি! তখনই মনে হল, ওপর তলায় কেউ যেন কথা বলছে। কে যেন চেয়ার কিংবা টেবিল টেনে নিয়ে গেল। একটু পরেই শুনলাম হা হা করে হেসে উঠল কেউ।

    এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস আমার গায়ের ওপর দিয়ে বয়ে গেল। আমি শৈলেনের হাত চেপে ধরে ভয়-পাওয়া গলায় বললাম, “জমিদার বীরেশ্বর দেব এসেছেন।”

    শৈলেন হাত ছাড়িয়ে নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “অ্যাবসার্ড, অ্যাবসার্ড! এ সমস্ত জিনিস আমি বিশ্বাস করি না।”

    আমি বললাম, “শৈলেন, দেয়ার আর মোর থিংস ইন হেভেন অ্যান্ড আর্থ…।”

    শৈলেন চিরকালই ডাকাবুকো বেপরোয়া ধরনের ছেলে। সুটকেস খুলে তার রিভলভারটা হাতে নিয়ে বলল, “আমি নিজের চোখে দেখব, উইথ মাই ওপেন আইজ, তারপরে বিশ্বাস করব।” বলতে বলতে সে এক হাতে টর্চ আর অন্য হাতে লোডেড রিভলভার নিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। আমিও তার পেছন-পেছন দৌড়লাম। বন্ধুকে তো আর বিপদের মুখে একলা পাঠাতে পারি না।।

    অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে-উঠতে আতর আর অম্বুরি তামাকের সুগন্ধ নাকে আসছিল। জমিদারের প্রেতাত্মা কি মৌতাতে বসেছে? আমার হাত-পা অবশ হয়ে আসছিল। তবু আমি সিঁড়ি ভাঙছিলাম। আমার আগে-আগে শৈলেন।

    আমি শৈলেনকে ডাকছি। শৈলেন শুনছে না। ওপরে বারান্দায় উঠেই সে সামনের ঘরে ঢুকে গেল। ঘরের দরজা খোলা। আমিও গেলাম পেছন-পেছন।

    ঘরে ঢুকেই ভয়ে আতঙ্কে আমার রক্ত জল হয়ে গেল।

    শৈলেন কিন্তু বরাবরই দুঃসাহসী আর সংস্কারমুক্ত মানুষ। জানলা দিয়ে চাঁদের আলো ঢুকেছে ঘরে। সেই আবছা আলো-অন্ধকারে, দেখলাম, শ্বেতবস্ত্ৰ-পরিহিত এক নিশ্চল মূর্তি। জমিদার বীরেশ্বর দেব? জানলা দিয়ে হু-হু করে হাওয়া এসে আমাকে যেন উড়িয়ে নিতে চাইল।

    এক মুহূর্ত মাত্র। তারপরেই শৈলেনের হাতের টর্চের তীব্র আলো ঝাঁপিয়ে পড়ল মূর্তির মুখে। শৈলেনের অন্য হাতের রিভলভারের মুখও তার দিকে তাক করা। মূর্তিটা যেন ভীষণ চমকে উঠে আলোর দিকে তাকাল। কিন্তু এ কী! ভীষণ আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, জমিদার বীরেশ্বর দেব নন, বনেদি কায়দায় চেয়ারে বসে বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে আছেন শ্বেত-শ্মশ্রুমণ্ডিত সেই বৃদ্ধ। নিশানাথ। হাতে গড়গড়ার নল। তাঁর মুখে একসঙ্গে ফুটে উঠেছে ভয়, বিরক্তি, ক্রোধ আর বিস্ময়। মূহূর্তকাল তাকিয়ে থেকেই তিনি হতচেতন হয়ে ঢলে পড়লেন চেয়ারে।

    নিশানাথের জ্ঞান ফিরেছিল অনেক পরে। আমরা হাজার চেষ্টা করেও তাঁর মুখ থেকে একটা কথাও বের করতে পারিনি। হতবুদ্ধির মতো বড়-বড় চোখে ফ্যালফ্যাল করে শুধু তাকিয়ে ছিলেন আমাদের দিকে।

    পরের দিন গোরুমারার ফরেস্ট বাংলোয় বসে চা খেতে-খেতে শৈলেন বলেছিল, “নিশানাথ ভূত ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভূতগ্রস্ত মানুষ। লৌকিক আর অলৌকিক জগতের সীমারেখার মাঝখানে দাঁড়িয়ে তিনি দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করতেন। দিনের বেলায় তিনি নিশানাথ, রাত বারোটা বাজলেই তিনি নিজেকে জমিদার বীরেশ্বর দেব মনে করতেন। এক বিচিত্র ধারণা নিয়ে নিশানাথ দিনের পর দিন নির্জন জঙ্গুলে জায়গায় ওই আদ্যিকালের পোড়ো-বাড়িতে নিঃসঙ্গ জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। দিনের ঘটনা যেমন রাতে তিনি ভুলে যেতেন, রাতের ঘটনাও দিনের আলোতে তাঁর একটুও মনে থাকত না। নিশানাথ সত্যি সত্যি বিশ্বাস করতেন, রাতে কর্তাবাবু বীরেশ্বর দেব আসেন। কিন্তু ওই বাড়ির ঘড়িতে রাত বারোটার ঘণ্টা বাজলেই তিনি নিজেই যে বীরেশ্বর দেবের চরিত্রের অভিনেতা হয়ে যেতেন, তা তিনি নিজেই জানতেন না। টর্চের জোরদার আলো তাঁকে অবচেতন মনের রহস্যলোক থেকে টেনে এনেছিল চরম বাস্তবে, যেটা তাঁর দুর্বল মন সহ্য করতে পারেনি। ডাক্তার জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইডের গল্প তো জানিস। অনেকটা সেইরকম, মালটিপ্‌ল পারসোনালিটির লোক ছিলেন নিশানাথ।”

    কিন্তু বিজ্ঞান কী বলে, আমার শুনতে ইচ্ছে করছিল না। আমি তখন জানলা দিয়ে গভীর গহন জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। নিশানাথ এখন পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক বাড়িতে আছেন। আমি আর শৈলেনই ব্যবস্থা করে এসেছি। এখন সকাল। সকাল শেষ হয়ে দুপুর হবে, দুপুরের পর বিকেল। তারপরে সন্ধে। তারপরে রাত্রি। তারপরে এক সময় চারপাশে নিঝুম, নিস্তব্ধ হলে রাত বারোটা বাজবে জমিদারবাড়ির দেওয়াল-ঘড়িতে। তখন?

    তখন কী করবেন নিশানাথ?

    ১৩৯২

    অলংকরণ: প্রবীর সেন

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    Related Articles

    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 18, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    পৌলোমী সেনগুপ্ত

    আনন্দমেলা হাসির গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত

    September 17, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }