Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এক পাতা গল্প596 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    বাইরের আলো

    সারাদিন অসংখ্য কাজ। পর পর সব ছক-বাঁধা কাজ ঠিক হয়ে আছে আগে থেকেই। এমনকি দুপুরে খাওয়ার অবসর পর্যন্ত নেই, লাঞ্চের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে একজনের সঙ্গে, সেখানেও কাজের কথা হবে।

    দাড়ি কামাবার যন্ত্রটাতে ঘরর ঘরর করে আওয়াজ হচ্ছে, তবু মনীশ দ্রুত চিন্তা করে যাচ্ছে যে, এর মধ্যে কোনো কাজটা আজ বাদ দেওয়া যায় কিনা। আজ ইন্দ্রাণী আসবে, মনীশের কি উচিত নয়, এয়ারপোর্টে গিয়ে তাকে নিয়ে আসা? প্রথম বিদেশে আসছে, এয়ারপোর্টে একটা চেনা মুখ দেখলে ভালো লাগে।

    কিন্তু কী করে যাবে মনীশ? শিকাগো এখান থেকে একশো আশি মাইল দূর। যাওয়া-আসায় অন্তত পাঁচ ঘন্টা ছিনিয়ে নেওয়া একেবারে অসম্ভব।

    আর ভেবে লাভ নেই, মনীশ মন ঠিক করে ফেলল। কলেজ থেকে মনীশ ভেঙ্কটকে পাঠিয়ে দেবে গাড়ি দিয়ে। সে নিয়ে আসবে ইন্দ্রাণীদের কোনো অসুবিধে হবে না।

    ইন্দ্রাণীরা এখানে আসছে কেন? ইন্দ্রাণীর স্বামীর কী একটা অফিসের কাজ পড়েছে ভ্যাঙ্কুবারে। ইন্দ্রাণীও আসবে সঙ্গে। সরকারি কাজ, শুধু সোজাসুজি ভ্যাঙ্কুবার যাওয়া-আসার ভাড়া দেবে। মাঝখানে ওরা একটু বেড়িয়ে নিতে চায়। মা চিঠি লিখেছিলেন মনীশকে, ইন্দ্রাণীরা তোর ওদিকেই কাছাকাছি যাচ্ছে, তোর ওখানে একদিনের জন্য থাকতে চায়, তোর কি অসুবিধে হবে?

    কাছাকাছি। মায়ের ধারণা, এরোপ্লেনে করে যারাই ভারতের বাইরে আসে, তারাই তাঁর ছেলের কাছাকাছি যায়। কোথায় ভ্যাঙ্কুবার আর কোথায় সিডার র‌্যাপিডস! তবু মনীশ তো আর আপত্তি করতে পারবে না। সে সংক্ষেপে লিখে দিয়েছিল, আসতে পারে।

    এরপর সব দিনক্ষণ জানিয়ে ইন্দ্রাণী নিজে লেখেনি, লিখেছিল তার স্বামী। ইংরেজিতে! গত এগারো বছরে একটাও চিঠি লেখেনি ইন্দ্রাণী।

    রান্নাঘরে গিয়ে ডিম আর সসেজ ভেজে নিল তাড়াতাড়ি। তারপর ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়ল মনীশ। ফ্রিজ প্রায় খালি, কিছু খাবার-দাবারও আনিয়ে রাখতে হবে। আজ এসব দায়িত্বও দিতে হবে ভেঙ্কটকে। ভেঙ্কট ছেলেটি ভালো, খুব কথা শোনে।

    গাড়ির ওপর বরফ জমে আছে। কাচেও বরফের আস্তরণ। ভেতরে ঢুকে মনীশ হিটার চালু করে দিল। ভেঙ্কটকে তুলে নিয়ে প্রথমে কলেজে যেতে হবে। পর পর তিনটি ক্লাস, তারপর প্রফেসার ফ্রিডম্যানের সঙ্গে লাঞ্চ, তারপর ফ্যাকাল্টি মিটিং তারপর যেতে হবে সেইনস শহরে, সেখানে একটা সেমিনার আছে, ফিরে এসেই সাড়ে ছটায় নোবেল লরিয়েট ড. ভ্যান অ্যালেনের রিসেপশান, আটটার সময় ডিন অব দ্য ফ্যাকাল্টি ড. এঙ্গেল কী একটা কাজের কথার জন্য তাঁর বাড়িতে ডেকেছেন…। ইন্দ্রাণীরা পাঁচটার মধ্যে এখানে পৌঁছে যাবে।

    সস্তার বাড়ি ভাড়ার জন্য ভেঙ্কট থাকে শহর থেকে খানিকটা দূরে। মনীশ ব্যস্ততার প্রতিমূর্তি হিসেবে দুরন্ত গতিতে তার থান্ডারবার্ড গাড়িটা চালাচ্ছে। মাত্র কয়েকদিন আগে বরফ পড়া শুরু হয়েছে, সব গাছের পাতা এখনো ঝরেনি, এখনও রাস্তার দু-পাশের মেপল গাছ থেকে টুপটাপ করে খসে পড়ছে পাতা। একটুখানি দূরত্বের মধ্যেই মনীশ পর পর, তিনটি মরা পাখি দেখতে পেল। অনেকটা ছাতারে ধরনের পাখি, এরা শীতের শুরুতেই এক এক করে মরে। এরা বোধহয় বেশিদূর উড়ে যেতে পারে না।

    একটা বড়ো গাছের তলায় মনীশ হঠাৎ গাড়িটা থামাল। হাত থেকে গ্লাভস খুলে ফেলে ধরাল একটা সিগারেট। মনটা আজ বড়ো চঞ্চল হয়ে আছে। দেশ থেকে মাঝে মাঝেই তো এরকম দু-একজন আসে। সুপ্রিমকোর্টে একটা মামলা হয়ে যাবার পর এখন ভারতের যে-কেউ টিকিট কেটে বিদেশের যে-কোনো জায়গায় বেড়াতে যেতে পারে। যাদের টাকা আছে তারা অনেকেই এখন এক মাস দেড় মাসের জন্য হুড়োহুড়ি করে পৃথিবীর অর্ধেকটা ঘুরে দেখে যায়। তবে ফরেন এক্সচেঞ্জের কড়াকড়ির জন্য তাদের হাতে যেহেতু বেশি টাকা থাকে না, তাই বিদেশে যে-কোনো সূত্রে কোনো আত্মীয়স্বজন বা বন্ধু-পরিজন খোঁজে। মনীশের কাছেও আগে এসেছে চার-পাঁচ জন, এদের দু-এক জনের জন্য বেশ বিরক্তিই বোধ করেছে মনীশ। নিছক বাঙালি দেখামাত্রই খুশি হয়ে ওঠার মতন মনোবৃত্তি অনেক দিন আগেই হারিয়ে গেছে মনীশের।

    আজ যদি তার অসুখ হত? মনীশ ভাবল অসুস্থ হয়ে পড়লে তো সে আজ কোনো কাজেই যেতে পারত না। বাড়ি ফিরে গিয়ে মনীশ টেলিফোনে সবাইকে জানিয়ে দেবে? কেউ অবিশ্বাস করবে না। এমনকি সে কতখানি অসুস্থ, সে খোঁজও নিতে আসবে না কেউ। এদেশে সেরকম নিয়ম নেই। কিন্তু সত্যিকারের অসুস্থ হওয়া আর অসুখের ভান করার মধ্যে অনেক তফাত। বাজে লোকরা ওসব করে। গত দশ বছরের মধ্যে এরকম কিছু একদিনও করেনি। তার স্বভাব পালটে গেছে। সে পারবে না।

    মনীশ আবার গাড়িতে স্টার্ট দিল এবং একটু পরেই সারাদিনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    সন্ধে সাড়ে ছটার সময় উডস্টক হোটেলের রিসেপশানে একগাদা লোকের মধ্যে দেঁতো হাসি হেসে কথা বলতে বলতে হঠাৎ এক সময় মনীশের মনে হল, ইন্দ্রাণীরা এতক্ষণ নিশ্চয় তার বাড়িতে এসে বসে আছে। কী রকম চেহারা হয়েছে ইন্দ্রাণীর, তা এক্ষুনি দেখতে ইচ্ছে করে মনীশের। ইন্দ্রাণী অনেক বদলে গেছে। দশ-এগারো বছরে সবাই বদলায়।

    কিন্তু এক্ষুনি তো যাবার উপায় নেই। ভেঙ্কটকে বলে রাখা আছে, ওদের খাবার-টাবারের সব ব্যবস্থা করে দেবে। কাল শুক্রবার, কাল দুপুর তিনটের পর থেকে মনীশের আর কোনো কাজ নেই। শনি রবি তো পুরো ছুটি। ইন্দ্রাণীরা কতদিন থাকবে কে জানে!

    মনীশ ছুটি পেল রাত দশটায়। খানিক আগে ঝুরঝুর করে বরফ পড়তে শুরু করেছে। একদম হাওয়া নেই, থমথমে আবহাওয়া, এতেই বোঝা যায় রাত্রে প্রচুর তুষারপাত হবে। এই শুরু হয়ে গেল, এখন চলবে তিন-চার মাস।

    রাস্তা-ঘাট নির্জন, মনীশ ট্যাক্সিতে হু-হু করে বাড়ি ফিরে এল। তার বাড়িটা প্রায় অন্ধকার। টর্চের আলো নেভান, বসবার ঘরের আলো নেভান, শুধু একটা ঘরে আলো জ্বলছে।

    মনীশ একটু হাসল। যারা নতুন আসে, তারা প্রত্যেকেই এরকম করে। আলো নিভিয়ে রেখে খরচ বাঁচাতে চায়। ভারতীয় অভ্যেস। মনীশ তার শোওয়ার ঘর ছাড়া আর সব ক-টি ঘরে আলো জ্বালিয়ে রাখে সারারাত। সবাই রাখে। একে একে আলো জ্বালতে জ্বালতে ভেতরে ঢুকল মনীশ। বসবার ঘরে ঢুকে ওভারকোটটা খোলামাত্র তার শীত করতে লাগল। সেন্ট্রাল হিটিংও চালায়নি নাকি? ভেঙ্কটকে তো সব বলে দিয়েছিল মনীশ।

    গেস্ট রুমটায় ইন্দ্রাণীদের জন্য বিছানা-টিছানা পেতে সব বন্দোবস্ত করে গিয়েছিল। শুধু সেই ঘরটায় আলো জ্বলছে। ওরা ঘুমিয়ে পড়ল নাকি এর মধ্যে। দরজা বন্ধ।

    একটু পরেই খুট করে দরজা খুলে গেল। বেরিয়ে এল ইন্দ্রাণী। সোয়েটার, কোট সবকিছু পরা। মনীশ তখন টেবিলের ওপর থেকে খবরের কাগজগুলো সরাচ্ছিল, শব্দ পেয়ে ঘুরে দাঁড়াল।

    না। মনীশের বুক কাঁপল না। বুক অনেক কঠিন হয়ে গেছে। ইন্দ্রাণীর চেহারা খুব একটা বদলায়নি, সামান্য একটু মোটা হয়েছে, চোখ-মুখের সেই ধারালো ভাবটা আর নেই। তার ফলে তাকে এখন বেশ লাবণ্যময়ী মনে হয়।

    একটু হেসে মনীশ জিজ্ঞেস করল, কেমন আছ? কোনো অসুবিধা হয়নি তো।

    ইন্দ্রাণী এক পা এগিয়ে এসে বলল, এ কি চেহারা হয়েছে তোমার! প্রথমে চিনতেই পারিনি।

    মনীশ বলল, কই, আমার চেহারা তো বদলায়নি তেমন। কয়েকটা চুল পেকেছে শুধু।

    ইন্দ্রাণী বলল, মোটেই না, তোমার চোয়াল দুটো আগে এত চওড়া মতন ছিল না, কাঁধ দুটো উঁচু হয়ে গেছে, তুমি অনেক লম্বা হয়ে গেছ।

    মনীশ বলল, বাঃ, এই বয়েসে আবার কেউ লম্বা হয় নাকি? তোমার স্বামী কোথায়? ঘুমিয়ে পড়েছেন?

    না, ডাকছি।

    ইন্দ্রাণীর স্বামী প্রবীর ঘোষ বেরিয়ে এল একটা ড্রেসিং গাউন পরে। মনীশের চেয়ে বয়েসে সামান্য ছোটো মনে হয়, মাঝারি ধরনের চেহারা, মুখখানা বেশ ভালো মানুষ ভালো মানুষ ধরনের।

    ইন্দ্রাণীর স্বামীকে আগে দেখেনি মনীশ। ইন্দ্রাণীর বিয়ের এক মাস আগে চলে আসে এদেশে। তখন অবশ্য ঠিক ছিল পোস্ট ডক্টরেট রিসার্চ করে তিন বছর বাদেই সে দেশে ফিরে যাবে। তারপর দশ বছর কেটে গেছে মনীশের আর ফেরা হয়নি।

    আর কেউ জানে না শুধু ইন্দ্রাণীই বুঝেছিল যে মনীশ ইচ্ছে করেই তাড়াহুড়ো করে ইন্দ্রাণীর বিয়ের আগে চলে এসেছিল। সেই জন্যই ইন্দ্রাণী কি তার স্বামীকে দেখাতে নিয়ে এসেছে?

    প্রবীরের সঙ্গে আলাপ-পরিচয় হল। প্রথমে কিছু ভদ্রতার কথা। প্লেন দেরি করেনি তো? ভেঙ্কট ঠিক সময়ে গিয়েছিল? খাওয়া হয়ে গেছে? মনীশ খুব দুঃখিত যে সে এয়ারপোর্টে যেতে পারেনি।

    ইন্দ্রাণী জিজ্ঞেস করল, মনীশদা, তুমি খাবে না?

    পার্টিতে টুকিটাকি খাবার খেয়েছে মনীশ। পুরো ডিনার খায়নি। তার আর কিছু খাবার ইচ্ছেও নেই। সারাদিন ঘোরাঘুরি আর এত লোকের সঙ্গে কথাবার্তা বলে সে ক্লান্ত বোধ করছে।

    কাবার্ড থেকে একটা ব্র্যান্ডির বোতল আর কয়েকটা গ্লাস বার করে মনীশ জিজ্ঞেস করল প্রবীরকে, আপনি কি ব্র্যান্ডি খাবেন? কিংবা অন্য কিছু? আমার কাছে আছে—

    প্রবীর ইন্দ্রাণীর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, আমি খাব?

    ইন্দ্রাণী মনীশের দিকে চেয় বলল, না, ও খাবে না। ওর সহ্য হয় না।

    মনীশ শুধু নিজের গেলাসে ঢেলে একটা ছোটো চুমুক দিল। দেশ থেকে তার আত্মীয়-স্বজন এসেছে বলে যতখানি উৎসাহিত হয়ে ওঠা উচিত ছিল, ততটা হতে পারছে না। পাছে ওরা কিছু মনে করে, তাই মনীশ নকল উৎসাহ দেখিয়ে বলল, তোমরা কিছুদিন থাকছ তো? কাল বিকেল থেকে আমার ছুটি আছে, গাড়ি নিয়ে কোথাও বেড়াতে বেরিয়ে পড়া যাবে। আমি তো ভেবেছিলাম, আজই তোমাদের নিয়ে বাইরে কোথাও খেতে যাব, কিন্তু একটু বেশি রাত হয়ে গেল।

    তবু এখনও যাওয়া যায়—

    প্রবীর বলল, আর খাওয়া! আপনার বোন তো কিছুই খেতে চাইছে না, প্লেনে চড়ার জন্য এখনও নাকি গা গুলোচ্ছে।

    বোন? কথাটা মনীশের কানে খট করে লাগল। হ্যাঁ, সকলেই অবশ্য বলবে যে ইন্দ্রাণী তার বোন। বেশ কাছাকাছি একটা সম্পর্ক আছে। তার মায়ের খুড়তুতো বোনের মেয়ে। শুধু মনীশই এই সম্পর্কটা মানতে চায়নি। সে কোনোদিন দেখেনি তার মায়ের কাকাকে। অল্প বয়সে তিনি মারা যান। ইন্দ্রাণীদের বাড়ি মজঃফরপুরে। কলকাতায় এম এ পড়তে এসেছিল ইন্দ্রাণী, একটা হোস্টেলে থাকত, কী একটা গোলমালে হোস্টেলটা বন্ধ হয়ে যায়, তখন মনীশের মা ইন্দ্রাণীকে তাঁদের বাড়িতে এনে রেখেছিলেন কয়েক মাস। ঠিক ভাই-বোন নয়, অনেকটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়েছিল, ইন্দ্রাণীর সঙ্গে মনীশের। সে পর্যন্ত ঠিক ছিল। কিন্তু ইন্দ্রাণীর যখন বিয়ের ঠিক হল, তখন মনীশ আপত্তি জানায়। ইন্দ্রাণী অন্য কারুর হয়ে যাবে, এটা সে কিছুতেই মানতে পারছিল না। মনীশের সঙ্গে ইন্দ্রাণীর বিয়ে যেন একটা অসম্ভব প্রস্তাব, এমনকি ইন্দ্রাণী পর্যন্ত রাজি হয়নি।

    সে কতদিন আগেকার কথা। এখন সেই অভিমানের সামান্য চিহ্নও মনীশের বুকের মধ্যে জমা নেই।

    ইন্দ্রাণী বলল, আমরা কাল বিকেলেই চলে যাব।

    মনীশ অবাক হয়ে বলল, কাল বিকেলেই?

    প্রবীর বলল, শনিবার ভ্যাঙ্কুবারে আমার মিটিং। রবিবার একটা কেবলস ফ্যাক্টরি দেখতে যেতে হবে। সোমবার কন্ট্রাক্ট সাইন হবার কথা।

    মনীশ বলল, মাত্র একদিনের জন্য এখানে এলেন? কিছুই তো দেখা হবে না!

    প্রবীর বলল, সরকারি কাজ, এ তো ঠিক বেড়াতে আসা নয়। ফেরার পথে আপনার বোনকে একটু বিলেত প্যারিস ঘুরিয়ে নিয়ে যাব। নিউ ইয়র্কেও দুদিন থাকার কথা আছে।

    তারপর প্রবীর একটা ছোটো কাশি দিয়ে বলল, আপনার সঙ্গে একটা দরকারি কথা ছিল!

    মনীশ জানে এবার প্রবীর কোন দরকারি কথা বলবে। সবাই ওই একটাই কথা বলে।

    প্রবীর বললে, আপনি তো দেশে কিছু টাকা পাঠান। সেই টাকাটা আমরা দেশে পে করে দেবো। তার বদলে আপনি যদি কিছু ডলার দিতে পারেন আমাদের, জানেনই তো, মেয়েদের কিছু কেনাকাটার শখ থাকে।

    মনীশ জিজ্ঞেস করল, কত?

    প্রবীর বলল, এই আড়াইশো তিনশো ডলার। চারশো পেলে আরও ভালো হয়। মনীশ খানিকটা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল, সেটা এমন কিছু ব্যাপার নয়। কাল সকালেই ব্যবস্থা করে দেবো।

    শুধু মনীশকে দেখার জন্যই ইন্দ্রাণী এত দূর ছুটে আসেনি। এসেছে স্বার্থের কারণে।

    ইন্দ্রাণী কথা ঘোরাবার জন্য বলল, তোমার বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। খুব সুন্দর বাড়ি। এত বড়ো বাড়িতে তুমি একা থাক?

    মনীশ বলল, এদেশে চাকর-বাকর পাওয়া যায় না, আর কে থাকবে?

    ইন্দ্রাণী আর প্রবীর চোখাচোখি করল।

    মনীশ বলল, আগে একটা কুকুর রেখেছিলাম। তা আমি সারাদিন বাড়ি থাকি না, ওকে ঠিকমতন খাবার দেওয়া হয় না, তাই অন্য একজনকে দিয়ে দিয়েছি কুকুরটা।

    ইন্দ্রাণী উঠে গিয়ে জানলার কাছে দাঁড়াল। ফ্যাকাসে আলোয় দেখা যায় অবিরল তুষারপাত। পথঘাট এর মধ্যেই সাদা হয়ে গেছে।

    ইন্দ্রাণী বলল, কী সুন্দর, না? ইচ্ছে করে এই বরফের মধ্যে ছুটোছুটি করতে। কখনও এমন বরফ পড়া দেখিনি।

    মনীশ বলল, যাও না। ভালো লাগবে।

    প্রবীর বলল, ওর দারুণ সর্দি হয়েছে। আর ঠান্ডা লাগলে নিউমোনিয়া হয়ে যাবে। মনীশ হাসতে হাসতে বলল, গায়ে বরফ লাগলে সর্দি সেরে যায়।

    ইন্দ্রাণী ঘুরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, সত্যি?

    মনীশ বলল, সত্যি। যারা প্রথম প্রথম আসে, অনবরত ঠান্ডা-গরমে তাদের সর্দি লেগে যায়। ঘরের মধ্যে গরম, বাইরে ঠান্ডা। মাঝে মাঝে একটু ঠান্ডা লাগিয়ে সহ্য করিয়ে নিতে হয় শরীরটাকে।

    ইন্দ্রাণী বলল, চল না, আমরা তাহলে বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি।

    মনীশ প্রবীরের দিকে তাকিয়ে বলল, চলুন।

    প্রবীর বলল, ওরে বাবা, আমি যাব না। আমার একদম ঠান্ডা সহ্য হয় না। আপনারা ঘুরে আসুন না।

    ইন্দ্রাণী বলল, ও ভয়ানক শীত-কাতুরে। ও থাক, চল আমরা একটু বেড়িয়ে আসি!

    প্রবীর বলল, তাই যান।

    মনীশ এক চুমুকে গেলাসের ব্র্যান্ডিটা শেষ করে উঠে দাঁড়িয়ে প্রবীরের কনুই ছুঁয়ে বলল, আরে মশাই, চলুন চলুন, ভালো লাগবে। দেখবেন, বরফের মধ্যে বেশি শীত করে না। কাছেই সিডার নদী, দেখবেন জমে গিয়ে বরফ হয়ে গেছে। প্রবীর মিনমিন করে বলল, আমি ওভারকোট আনিনি।

    ইন্দ্রাণী বললে, ও না যেতে চায়, থাক না। জোর করে লাভ নেই। চলো আমরা ঘুরে আসি।

    মনীশ বলল, আমার একটা একস্ট্রা ওভারকোট আছে, ওকে দিচ্ছি। আর ইন্দ্রাণী, তোমাদের ঘরের ওয়ার্ডরোবে দেখো একটা লাল রঙের কোট আছে। সেটা তোমার হয়ে যাবে।

    ইন্দ্রাণী কোটটা নিয়ে এসে বলল, এটা কার? এটা তো মনে হচ্ছে মেয়েদের।

    মনীশ সংক্ষেপে বলল, ওটা ছিল আমার স্ত্রীর। নিয়ে যায়নি।

    ইন্দ্রাণী আর প্রবীর আবার চোখাচোখি করল।

    ইন্দ্রাণী জিজ্ঞেস করল, তোমার স্ত্রী…সে এখন কোথায়?

    মনীশ সংক্ষেপে জানাল, সে এখন ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকে, দেড় বছর আগে তার সঙ্গে আমার ডিভোর্স হয়ে গেছে। চলো যাওয়া যাক।

    দেশে এই নিয়ে ফিসফাস চলছিল অনেক দিন, মনীশ একটা মেমকে নিয়ে থাকে। তাই দেশে ফেরার দিকে তার মন নেই। মনীশ অবশ্য এক চিঠিতে লিন্ডা নামের সেই মেয়েটিকে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিল। কেউ ঠিক বিশ্বাস করেনি। আত্মীয়-স্বজন কেউ দেখল না, সে আবার কী রকম বিয়ে? যাক, মেয়েটা তাহলে ঘাড় থেকে নেমে গেছে।

    ইন্দ্রাণী জিজ্ঞেস করল, মনীশদা, মাসিমা তোমাকে জিজ্ঞেস করতে বলেছেন, তুমি আর বিয়ে করবে কি না?

    মনীশ বলল, তুমি বুঝি আমার মায়ের চর হয়ে এখানে এসেছ? ফিরে গিয়ে রিপোর্ট করবে?

    ইন্দ্রাণী বলল, ও মা, চর আবার কী? মাসিমা বলেছেন তুমি চার-পাঁচ লাইনের বেশি চিঠি লেখো না।

    প্রথমে বড়ো দরজা তারপর জালের দরজাটা খুলে ফেলে মনীশ বলল, এসো।

    তারপর প্রবীরকে জিজ্ঞেস করল, গাড়িতে যাবেন, না হেঁটে? হাঁটলেই বেশি মজা লাগবে।

    ইন্দ্রাণী বলল, হেঁটেই যাব।

    বাইরে পা দিয়েই সে খুশিতে উচ্ছল হয়ে উঠল। সামনে ছোটো বাগানটাতে সে দৌড়ে গিয়ে বললে, ওমা, গায়ে কী সুন্দর বরফ পড়ছে, কিন্তু ভিজে যাচ্ছে না তো কিছু, ফুলের পাপড়ির মতন।

    আজ চাঁদ ওঠার কথা, কিন্তু চাঁদ দেখা যায় না। সারা আকাশ জুড়ে রয়েছে কিছুটা আবছা আলো। উইলো গাছগুলোর ডালে এমনভাবে বরফ জমে আছে যেন মনে হয় থোকা থোকা সাদা ফুল। চতুর্দিক একদম নিস্তব্ধ। বরফ পড়ার সময় কোনো শব্দ শোনা যায় না।

    ওরা হাঁটতে লাগল সিডার নদীর দিকে। ইন্দ্রাণী একেবারে ছেলেমানুষের মতন হয়ে গেছে। মাঝে মাঝেই রাস্তা থেকে তুলে নিচ্ছে পেঁজা বরফ। হাতের মুঠোতে নিয়ে গোল বল তৈরি করছে। তারপর সেগুলো ছুড়ে দিচ্ছে গাছের দিকে। একটা বল সে সোজা মনীশের মুখের ওপর ছুড়ে মেরে বলল, তুমি ভীষণ গম্ভীর আর অন্যরকম হয়ে গেছ।

    হেসে, কোনো কথা না বলে গা থেকে বরফের গুঁড়োগুলো ঝেড়ে ফেলল মনীশ। প্রবীর একটু পিছিয়ে পড়েছে। তার জন্য অপেক্ষা করল। প্রবীর কাছে আসতেই সে পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বার করে বলল, নিন।

    প্রবীর বলল, আমি ঠান্ডায় পকেট থেকে হাত বের করতেই পারছি না। আপনি খান।

    প্রবীরের অবস্থা সত্যিই কাহিল। সুতরাং, আর বেশিক্ষণ বেড়ানো চলে না। যাওয়া হল না নদী পর্যন্ত।

    ইন্দ্রাণী বলল, এই জন্যই তো বলেছিলাম, ওকে থেকে যেতে। ও ফিরে যাক না, মনীশদা চলো, তুমি আর আমি নদীটা দেখে আসি।

    মনীশ বলল, উনি একা একা থাকবেন কেন? কাল সকালে গাড়িতে তোমাদের চট করে ঘুরিয়ে আনব এখন!

    ফিরে এসে মনীশ নিজের গেলাসে আবার একটা ব্র্যান্ডি ঢালল। প্রবীরকে বলল, আপনিও একটু খেয়ে নিলে পারতেন। ঠান্ডাটা কেটে যেত।

    প্রবীর ইন্দ্রাণীকে জিজ্ঞেস করল, খাবো?

    ইন্দ্রাণী বলল, আচ্ছা একটুখানি খাও, একটুখানি।

    তখন উৎসাহিত হয়ে প্রবীর বলল, তুমিও একটু খাও না, সর্দি হয়েছে, ভালো লাগবে।

    লাল রঙের কোর্টটা গা থেকে খুলে ফেলে ইন্দ্রাণী বলল, এটা কিন্তু আমার গায়ে বেশ ফিট করে গেছে। তোমার বউ বুঝি আমার মতন লম্বা ছিল?

    মনীশ বলল, তুমি ওটা নিয়ে যেতে পারো। এখানে তো কোনো কাজে লাগে না। তোমার কাজে লাগবে, ক্যানাডায় বেশ শীত।

    ইন্দ্রাণী বলল, ও তোমার জিনিসগুলো দিতে ভুলে গেছি।

    দৌড়ে সে ঘরের মধ্যে চলে গেল। ফিরে এল তিন-চারটে প্যাকেট নিয়ে। তার মা পাঠিয়েছেন দু তিন রকম আচার আর পাঁপড়। ছখানা গেঞ্জি (ও দেশে গেঞ্জির নাকি খুব দাম!) আরও টুকিটাকি কিছু জিনিসপত্র। একটা প্যাকেটে একটা র-সিল্কের ঝলমলে শার্ট।

    ইন্দ্রাণী বলল, শার্টটা আমি তোমার জন্য এনেছি।

    মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখলেও গোপনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নতুন কিছু নয়, সবাই আনে। যারাই দেশ থেকে এসে একদিন দু-দিনের জন্য তার এখানে এসে থাকে, ডলার চায়, তারাই উপহার আনে একটা করে শার্ট। আশ্চর্য, সবাই র-সিল্কের শার্ট আনে কেন? ওই রকমের জামা কতদিন পরবে?

    দেশে থাকতে মনীশ খুব ঝাল খেতে ভালোবাসত। এখন তার খানিকটা আলসারের মতো দেখা দিয়েছে বলে সে আর ঝাল খেতে পারে না। মা সে কথা জানেন না, এখনও লোকজন এলেই তার হাতে ঝাল আচার পাঠাবেন। গেঞ্জি পরার রেওয়াজই নেই এদেশে। স্নেহের দান, তবু অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকে।

    খুব সুন্দর হয়েছে শার্টটা, মনীশ বলল।

    প্রবীর বেশ তৃপ্ত হল কথাটা শুনে। একটা উদ্যত হাই চেপে সে বলল, ইন্দ্রাণী অনেক দোকান ঘুরে এটা কিনেছে। কিছুতেই ওর পছন্দই হয় না।

    ইন্দ্রাণী বলল, একবার পরে দেখো না, মাপ ঠিক হয়েছে কিনা।

    মনীশ খানিকটা ত্রস্তভাবে বলল, হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক হবে নিশ্চয়ই, এইতো কলারের মাপ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

    ইন্দ্রাণী তবু বলল, একবার পরেই দেখো না বাবা! আমরাও একটু দেখি!

    এখন ওদের সামনে নিজের জামা-টামা খুলে তারপর মনীশকে এই জামা পরতে হবে? একটা বিশ্রী বোকা বোকা ব্যাপার। সে খানিকটা জোর দিয়ে বলল, কাল সকালে পরে দেখাব।

    কাল সকালে কখন তোমাকে বেরুতে হবে?

    আমাকে ঠিক সাড়ে আটটার মধ্যে বেরুতেই হয়। তবে কাল তিনটের মধ্যে ফ্রি হয়ে যাব।

    ততক্ষণে আমাদের এয়ারপোর্টে যাবার সময় হয়ে যাবে। তোমার সঙ্গে তো তাহলে গল্পই করা হবে না একদম। এতদুর থেকে এলাম—

    মনীশ চুপ করে রইল। কিন্তু মনে মনে বলল, তোমরা তো আমার সঙ্গে গল্প করতে আসনি। এসেছই মাত্র একদিনের সময় নিয়ে। বড়ো বড়ো শহরের তুলনায় এ জায়গাটা প্রায় একটা গন্ডগ্রাম, এখানে কেউ বেড়াতে আসে না, আসে শুধু কয়েক ঘন্টার জন্য বিশ্রাম নিতে আর কিছু ডলারের সন্ধানে।

    মনীশদা, তুমি কখন ঘুমোও?

    ঠিক নেই, কোনো কোনো দিন দুটো আড়াইটে বেজে যায়।

    আজ আমরা অনেকক্ষণ গল্প করবো।

    তোমরা আজ ক্লান্ত, তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ো বরং, সারাদিন প্লেনে এসেছ।

    আমি একটুও ক্লান্ত হইনি। একটু গা বমি করছিল, এখন কেটে গেছে।

    প্রবীরবাবুর ঘুম পেয়ে গেছে।

    প্রবীরের সত্যই ঘন ঘন হাই উঠছে। তবু সে সোজা হয়ে উঠে বসে বলল, আমি আরও জেগে থাকতে পারি, কিন্তু মনীশবাবু সারাদিন খেটেখুটে এসেছেন। ওরই এখন বিশ্রাম দরকার।

    ইন্দ্রাণী ঝঙ্কার দিয়ে বলল, বসে বসে গল্প করতে আবার পরিশ্রম হয় নাকি? তোমার ঘুম পেয়েছে, তুমি বরং শুয়ে পড়ো গিয়ে। মনীশদার সঙ্গে আমার অনেক কথা আছে।

    মনীশ সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, আজ তোমরা শুয়েই পড়ো। এতখানি প্লেন জার্নির একটা স্ট্রেন আছে। কাল সকাল সকাল যদি উঠতে পারো, গাড়িতে তোমাদের এক চক্কর ঘুরিয়ে আনতে পারি। অবশ্য দেখবার বিশেষ কিছু নেই।

    ইন্দ্রাণীর ফরসা মুখে একটা লালচে ভাব এল। সে ঘরটার চারদিকে তাকিয়ে বলল, তোমার এই বাড়িটার সবই ভালো, কিন্তু এই পর্দাগুলো কার পছন্দ, তোমার না তোমার বউয়ের?

    মনীশ হেসে বললেন আমার—কেন?

    ইন্দ্রাণী বলল, আমি হলে অন্য পর্দা লাগাতাম। এই সবুজ রংটা একদম মানায় না।

    মনীশ বললে, আমার পছন্দ খুব খারাপ সবাই বলে। গুড নাইট, কাল সকালে দেখা হবে।

    মনীশ নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল। দরজার কাছে গিয়ে বলল, বাইরের আলো সারারাত জ্বালাই থাকে। তোমাদের অসুবিধে হলে অবশ্য নিভিয়ে দিতে পারো।

    ঘরে ঢুকেই প্রবীর দ্রুত পোশাক বদলে গরম কম্বলের তলায় ঢুকে পড়ল। মুখটুকু শুধু বার করে বলল, ভুল করে যেন জানলা খুলে ফেলো না। তাহলে মারা যাব!

    ইন্দ্রাণী ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তার হাতে সেই লাল কোটটা—সেটা সে বিরক্তির সঙ্গে ছুড়ে দিল একপাশে। তার আগেকার বউয়ের ব্যবহার করা কোট মনীশদা তাকে দিয়ে দিতে চায়। ইন্দ্রাণী মোটেই ওটা নেবে না।

    এই ঘরে ড্রেসিং টেবিল কেন? এটাই কি লিন্ডার ঘর ছিল? এই বিছানায় সে শুত?

    মনীশদা আজকাল বড্ড কম কথা বলে। আগে মোটেই এরকম ছিল না। ঘন্টার পর ঘন্টা দুজনে গল্প করে কাটিয়েছে। বিদেশে এসে মানুষ বড্ড বদলে যায়। শুধু কাজ আর কাজ। আমরা এসেছি, তবু একদিন সে ছুটি নিতে পারল না? এত কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা রোজগার করে হবে কী?

    অন্যমনস্কভাবে চুল আঁচড়ে যাচ্ছে তো আঁচড়েই যাচ্ছে ইন্দ্রাণী। অনেক কথা মনে পড়ছে। বিদেশে আসার কথা উঠলেই ইন্দ্রাণী মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিল, অন্তত একদিনের জন্যে হলেও মনীশদার এখানে আসবেই। একবার তাকে দেখে যাবে। মনীশদা রাগ করেছিল তার ওপর, কিন্তু ইন্দ্রাণীও যে কতটা দুঃখ চেপে রেখেছিল, তা কি মনীশদা বোঝেনি? মেয়েদের পক্ষে সংস্কার ভাঙা কি সোজা কথা? বিদেশে কাজিনদের মধ্যে আকছার প্রেম হয়, বিয়ে হয়, কিন্তু আমাদের দেশে…।

    মুখে এখন ক্রিম ঘষছে ইন্দ্রাণী। এক সময় সে নাক ডাকার শব্দ শুনতে পেল। প্রবীরের এই স্বভাব, শোওয়া মাত্র ঘুম। নতুন জায়গায় এসেও তার ঘুমের অসুবিধে হয় না! ইন্দ্রাণীর সহজে ঘুম আসবে না।

    আরও কিছুক্ষণ পরে পোশাক বদলে, আলো নিভিয়ে সে জানলার পাশে দাঁড়াল। কাচের মধ্য দিয়ে বাইরের বরফ পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে মন কেমন করে।

    ইন্দ্রাণী বাইরে বেরিয়ে এসে মনীশের ঘরের দরজার সামনে একটু দাঁড়াল। তার বুক কাঁপছে। কিন্তু হাত বাড়িয়ে আস্তে দরজাটা ঠেলবার পর সেটা খুলে যেতেই সে খুশি হয়ে উঠল। সে জানত।

    ঘরে ঢুকে দেখল, মস্ত বড়ো খাটের একধারে পাশ ফিরে শুয়ে আছে মনীশ। মাথার কাছে একটা টেবল-ল্যাম্প জ্বালা।

    পা টিপে টিপে ইন্দ্রাণী মনীশের কাছে এসে দাঁড়াল। তারপর সে অবাক হল। মনীশের চোখ বোজা, মনীশ ঘুমিয়ে পড়েছে।

    মনীশ ঘুমিয়ে পড়েছে? এইটুকু সময়ের মধ্যে? এই যে সে বলল, কোনো কোনো দিন দুটো-আড়াইটে পর্যন্ত জাগে! আর আজই সে ঘুমিয়ে পড়ল, এ কি সম্ভব?

    অনেকদিন আগে, ইন্দ্রাণীর বিয়ের আগে, যখন সে মনীশদের বাড়িতে থেকে এম এ পরীক্ষা দিচ্ছিল, সেই সময় সে একদিন রাত একটার সময় মনীশের ঘরে ঢুকেছিল, হাতে অনেকগুলো জানলার পর্দা। মনীশেরও তখন রাত জেগে পড়াশোনা করার স্বভাব ছিল। ইন্দ্রাণীকে দেখে অবাক হয়েছিল মনীশ, খুশিও হয়েছিল। ইন্দ্রাণী বলেছিল, তোমার জানলার পর্দা কাচা হয়েছিল আজ, লাগিয়ে দেওয়া হয়নি, তাই লাগিয়ে দিতে এলাম।

    পর্দা লাগাতে, এত রাত্রে?

    তড়াক করে চেয়ার ছেড়ে ওঠে এসে ইন্দ্রাণীকে জোর করে কোলে তুলে মনীশ নিয়ে গিয়েছিল বিছানায়।

    আজও শুতে যাবার আগে সেই পর্দার কথা উল্লেখ করে ইন্দ্রাণী ভেবেছিল, মনীশ ঠিক বুঝতে পারবে। মনীশ ভুলে গেছে সেদিনের কথা? ইন্দ্রাণী সব মনে রেখেছে, আর মনীশ ভুলে যাবে? যে দেশে এমন সুন্দর বরফ পড়ে, যে দেশে বরফ-রঙা শরীরের মেয়েদের সঙ্গে যখন তখন বিয়ে আর ডিভোর্স হয়, সে দেশে থাকলে বুঝি এইসব স্মৃতি আর মনে পড়ে না?

    ইন্দ্রাণী ঘরটার চারপাশে তাকাল। বইয়ের র‌্যাক, দরজার দু-পাশে দুটো জম-কালো স্ট্যান্ড ল্যাম্প, একটা সুন্দর ছোট্ট গোল টেবিল, দেয়ালে দুটি বাঁধানো আঁকা ছবি। ইন্দ্রাণী হলে গোল টেবিলটা খাটের ওপাশে না রেখে এপাশে সরিয়ে দিত, ছবি দুটো জানলার পাশ থেকে সরিয়ে এনে দিত মাঝখানে।

    কিন্তু এসব ভেবে লাভ কী? তার তো কোনো অধিকার নেই।

    সে মৃদু গলায় ডাকল, মনীশদা!

    মনীশ চোখ খুলল না।

    ইন্দ্রাণী হাত বাড়িয়ে মনীশের গায়ে ধাক্কা দিতে যাচ্ছিল, কিন্তু সরিয়ে নিল। সে আর কত নীচে নামবে? জেগে উঠে যদি মনীশ তাকে অপমান করে?

    সে তো কতবার চেষ্টা করেছে, মনীশের সঙ্গে একটু নির্জনে কথা বলার। প্রবীরকে বাড়িতে রেখে তারা দুজনে একটু বাইরে বেড়িয়ে আসতে পারত না? প্রবীর কিছু মনে করত না। সবাই তো জানে, মনীশ তার ভাই। কিন্তু মনীশদা ইচ্ছে করে প্রত্যেকবার তাকে এড়িয়ে গেছে। এত গাঢ় ঘুমও তো মনীশের আগে কখনও ছিল না।

    আস্তে আস্তে ইন্দ্রাণী বেরিয়ে এল ঘর থেকে। তার পাঁচ ও সাত বছরের দুটি ছেলে-মেয়েকে রেখে এসেছে নিজের মায়ের কাছে। কলকাতায় যোধপুর পার্কে জমি কিনে রেখেছে প্রবীর। সেখানে তাদের নতুন বাড়ি হবে। ইন্দ্রাণীর ভবিষ্যৎ জীবনটা ছক-বাঁধা হয়ে গেছে। আর কিছু বদলাবার উপায় নেই।

    নিজেদের ঘরে এসে আলো জ্বালতেই দেখল, নাক ডাকা বন্ধ করে দু-চোখ মেলে প্রবীর স্পষ্ট তাকিয়ে আছে।

    ইন্দ্রাণীর শরীরটা একবার কেঁপে উঠল। সে কিছু অন্যায় করেনি, প্রবীর কি তা বুঝতে পারবে। প্রবীর কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই সে বলল, বাইরের আলোটা বড়ো চোখে লাগছিল, তাই ভাবলাম নিভিয়ে দিয়ে আসি।

    প্রবীর বলল, কিন্তু নেভাতে ভুলে গেছ। যাও নিভিয়ে দিয়ে এস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    Related Articles

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    আমাদের মহাভারত – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    March 20, 2026
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বর্ণলতা

    March 27, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    স্বপ্নের নেশা

    March 27, 2025
    উপন্যাস সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    সোনার কাঠির স্পর্শ

    March 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    अनीश दास
    मौलाना शाह वलीउल्लाह
    रेवरेंड के. के. जी. सरकार
    অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমরেন্দ্র চক্রবর্তী
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অরিন্দম দেবনাথ
    অর্পিতা সরকার
    অশোককুমার মিত্র
    অসম্পূর্ণ বই
    আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    কৌশিক সামন্ত
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোপেন্দ্র বসু
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যজ্যোতি মজুমদার
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণু শর্মা
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    রেভারেণ্ড কে. কে. জি. সরকার
    লীলা মজুমদার
    লেইল লোনডেস
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শঙ্কর চ্যাটার্জী
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শাক্যজিৎ ভট্টাচাৰ্য্য
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সম্পাদনা : শৈলেন্দ্র হালদার
    সরদার ফজলুল করিম
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সায়ন্তনী পূততুন্ড
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026
    Our Picks

    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রেমের গল্প – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    পঁচিশটি গল্প – শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়

    May 16, 2026

    সেরা ৪৫ – সায়ক আমান

    May 16, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }